সাঁওতালী ভাষা এবং ব্যাকরণ

সাঁওতালী ভাষা ও ব্যাকরণ – 100 MCQ

(ক) ভাষা এবং উপভাষা

1. সাঁওতালী ভাষার প্রধান উপভাষা কোনটি?

  • (ক) করমালি
  • (খ) মাহালি
  • (গ) লোহরি-সাঁওতালী
  • (ঘ) উপরের সবকটি

সঠিক উত্তর: (ঘ) উপরের সবকটি

ব্যাখ্যা: সাঁওতালী ভাষার একাধিক উপভাষা প্রচলিত আছে। করমালি (Karmali), মাহালি (Mahali) এবং লোহরি-সাঁওতালী (Lohari-Santali) এই সবগুলোই সাঁওতালী ভাষার গুরুত্বপূর্ণ উপভাষা, যেগুলোর মধ্যে উচ্চারণ ও শব্দ ব্যবহারে সামান্য পার্থক্য দেখা যায়।

2. ভাষাতাত্ত্বিকভাবে একটি ‘উপভাষা’ কখন ‘ভাষা’র মর্যাদা পায়?

  • (ক) যখন তার নিজস্ব লিপি থাকে
  • (খ) যখন সেটি সাহিত্য রচনায় ব্যবহৃত হয় এবং রাজনৈতিক স্বীকৃতি লাভ করে
  • (গ) যখন সেটি বলতে অনেক মানুষ থাকে
  • (ঘ) যখন সেটি অন্য ভাষা থেকে শব্দ ধার করে না

সঠিক উত্তর: (খ) যখন সেটি সাহিত্য রচনায় ব্যবহৃত হয় এবং রাজনৈতিক স্বীকৃতি লাভ করে

ব্যাখ্যা: একটি উপভাষা যখন নিজস্ব সাহিত্য সৃষ্টি করে, ব্যাকরণগতভাবে মান্যতা পায় এবং সরকারি বা রাজনৈতিকভাবে স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে, তখন সেটি ভাষার মর্যাদা পায়।

3. ভারতের কোন কোন রাজ্যে সাঁওতালী ভাষার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে?

  • (ক) পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা
  • (খ) কেরালা, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ
  • (গ) পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান
  • (ঘ) নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, মণিপুর

সঠিক উত্তর: (ক) পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা

ব্যাখ্যা: সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর মূল বসবাস পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, বিহার এবং আসাম রাজ্যে। তাই এই রাজ্যগুলিতে সাঁওতালী ভাষার প্রচলন সবচেয়ে বেশি।

4. ‘মান্য চলিত সাঁওতালী’ (Standard Santali) কোন অঞ্চলের উপভাষার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে?

  • (ক) ময়ূরভঞ্জ
  • (খ) দুমকা-সাঁওতাল পরগনা
  • (গ) পুরুলিয়া
  • (ঘ) দিনাজপুর

সঠিক উত্তর: (খ) দুমকা-সাঁওতাল পরগনা

ব্যাখ্যা: ঝাড়খণ্ডের সাঁওতাল পরগনা, বিশেষ করে দুমকা অঞ্চলের উপভাষাকেই সাধারণত মান্য চলিত সাঁওতালীর ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়। পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু এই অঞ্চলের ভাষাকে কেন্দ্র করেই অলচিকি লিপির বিকাশ ঘটান।

5. উপভাষার সৃষ্টি হয় কেন?

  • (ক) ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা
  • (খ) সামাজিক স্তরবিন্যাস
  • (গ) অন্য ভাষার প্রভাব
  • (ঘ) উপরের সবকটি কারণে

সঠিক উত্তর: (ঘ) উপরের সবকটি কারণে

ব্যাখ্যা: ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ কমে গেলে, সামাজিক বিভাজন তৈরি হলে বা প্রতিবেশী ভাষার সংস্পর্শে এলে একটি মূল ভাষার মধ্যে আঞ্চলিক বৈচিত্র্য তৈরি হয়, যা উপভাষা নামে পরিচিত।

6. সাঁওতালী ভাষার সাথে কোন উপজাতির ভাষার সাদৃশ্য রয়েছে?

  • (ক) মুন্ডারি, হো
  • (খ) গোন্ডি, কুই
  • (গ) বোড়ো, ডিমাসা
  • (ঘ) অঙ্গিকা, মৈথিলী

সঠিক উত্তর: (ক) মুন্ডারি, হো

ব্যাখ্যা: সাঁওতালী, মুন্ডারি এবং হো একই অস্ট্রো-এশিয়াটিক ভাষা পরিবারের মুন্ডা শাখার অন্তর্গত। তাই এই ভাষাগুলোর মধ্যে অনেক মিল পাওয়া যায়।

(খ) পৃথিবীর ভাষা বংশ বা শাখা

7. সাঁওতালী ভাষা কোন ভাষা বংশের অন্তর্গত?

  • (ক) ইন্দো-ইউরোপীয়
  • (খ) দ্রাবিড়
  • (গ) অস্ট্রো-এশিয়াটিক
  • (ঘ) সিনো-তিব্বতীয়

সঠিক উত্তর: (গ) অস্ট্রো-এশিয়াটিক

ব্যাখ্যা: সাঁওতালী ভাষা অস্ট্রো-এশিয়াটিক (Austro-Asiatic) নামক বৃহৎ ভাষা পরিবারের সদস্য। এই ভাষা পরিবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব ভারতে বিস্তৃত।

8. অস্ট্রো-এশিয়াটিক ভাষা বংশের প্রধান দুটি শাখা কী কী?

  • (ক) মন-খমের এবং মুন্ডা
  • (খ) ইন্দো-আর্য এবং দ্রাবিড়
  • (গ) কেনতুম এবং সতম
  • (ঘ) টিবেটো-বর্মী এবং কারেন

সঠিক উত্তর: (ক) মন-খমের এবং মুন্ডা

ব্যাখ্যা: অস্ট্রো-এশিয়াটিক ভাষা বংশ মূলত দুটি প্রধান শাখায় বিভক্ত: (১) মন-খমের (Mon-Khmer), যা কম্বোডিয়া, ভিয়েতনামের মতো দেশে প্রচলিত, এবং (২) মুন্ডা (Munda), যা মূলত ভারতে প্রচলিত। সাঁওতালী মুন্ডা শাখার অন্তর্গত।

9. সাঁওতালী অস্ট্রো-এশিয়াটিক পরিবারের কোন শাখার ভাষা?

  • (ক) মন-খমের শাখা
  • (খ) মুন্ডা শাখা
  • (গ) খাসি শাখা
  • (ঘ) নিকোবরি শাখা

সঠিক উত্তর: (খ) মুন্ডা শাখা

ব্যাখ্যা: সাঁওতালী ভাষা অস্ট্রো-এশিয়াটিক ভাষা পরিবারের মুন্ডা শাখার উত্তর মুন্ডা উপশাখার একটি ভাষা।

10. বাংলা ভাষা কোন ভাষা বংশের অন্তর্গত?

  • (ক) দ্রাবিড়
  • (খ) অস্ট্রো-এশিয়াটিক
  • (গ) ইন্দো-ইউরোপীয়
  • (ঘ) সিনো-তিব্বতীয়

সঠিক উত্তর: (গ) ইন্দো-ইউরোপীয়

ব্যাখ্যা: বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের ইন্দো-ইরানীয় শাখার ইন্দো-আর্য উপশাখার অন্তর্গত। এটি সাঁওতালী থেকে ভিন্ন একটি ভাষা বংশের ভাষা।

11. মুন্ডা ভাষার শাখাটি মূলত কোন দেশে দেখতে পাওয়া যায়?

  • (ক) চীন
  • (খ) ভারত
  • (গ) থাইল্যান্ড
  • (ঘ) মায়ানমার

সঠিক উত্তর: (খ) ভারত

ব্যাখ্যা: মুন্ডা ভাষা শাখার প্রায় সমস্ত ভাষাভাষী মানুষ ভারতে, বিশেষ করে মধ্য ও পূর্ব ভারতে বসবাস করে।

12. নিচের কোনটি মুন্ডা শাখার ভাষা নয়?

  • (ক) সাঁওতালী
  • (খ) হো
  • (গ) খাসি
  • (ঘ) মুন্ডারি

সঠিক উত্তর: (গ) খাসি

ব্যাখ্যা: খাসি ভাষাও অস্ট্রো-এশিয়াটিক পরিবারের অন্তর্গত, কিন্তু এটি মুন্ডা শাখার নয়, এটি মন-খমের শাখার একটি ভাষা। সাঁওতালী, হো, মুন্ডারি হলো মুন্ডা শাখার ভাষা।

(গ) ভাষার উৎপত্তি, বিকাশ এবং সম্বন্ধ

13. সাঁওতালী ভাষাকে ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তফসিলে (8th Schedule) অন্তর্ভুক্ত করা হয় কত সালে?

  • (ক) ২০০০
  • (খ) ২০০৩
  • (গ) ২০০৫
  • (ঘ) ১৯৯২

সঠিক উত্তর: (খ) ২০০৩

ব্যাখ্যা: ২০০৩ সালের ৯২তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সাঁওতালী ভাষাকে বোড়ো, ডোগরি এবং মৈথিলী ভাষার সাথে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

14. সাঁওতালী ভাষার বিকাশে কোন ধর্মপ্রচারক গোষ্ঠীর অবদান অনস্বীকার্য?

  • (ক) বৌদ্ধ ভিক্ষু
  • (খ) জৈন সাধু
  • (গ) খ্রিস্টান মিশনারি
  • (ঘ) মুসলিম সুফি

সঠিক উত্তর: (গ) খ্রিস্টান মিশনারি

ব্যাখ্যা: উনিশ শতকে খ্রিস্টান মিশনারিরাই প্রথম সাঁওতালী ভাষাকে রোমান হরফে লিপিবদ্ধ করে এর ব্যাকরণ ও অভিধান প্রণয়ন করেন, যা সাঁওতালী ভাষার আধুনিক বিকাশের পথ খুলে দেয়।

15. সাঁওতালী ভাষার উপর কোন প্রতিবেশী ভাষার প্রভাব সবচেয়ে বেশি?

  • (ক) বাংলা
  • (খ) হিন্দি
  • (গ) ওড়িয়া
  • (ঘ) উপরের সবকটি

সঠিক উত্তর: (ঘ) উপরের সবকটি

ব্যাখ্যা: ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশায় বসবাসকারী সাঁওতালদের ভাষায় যথাক্রমে বাংলা, হিন্দি এবং ওড়িয়া ভাষার ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়, বিশেষ করে শব্দভান্ডারে।

16. ‘হড় রড়’ কথাটির অর্থ কী?

  • (ক) দেবতার কথা
  • (খ) মানুষের কথা
  • (গ) পাখির ডাক
  • (ঘ) বনের শব্দ

সঠিক উত্তর: (খ) মানুষের কথা

ব্যাখ্যা: সাঁওতালী ভাষায় ‘হড়’ মানে মানুষ (বিশেষত সাঁওতাল) এবং ‘রড়’ মানে কথা বা ভাষা। সুতরাং, ‘হড় রড়’ বলতে সাঁওতালদের ভাষা বা মানুষের ভাষাকে বোঝানো হয়।

17. সাঁওতালী ভাষার প্রথম ব্যাকরণ কে রচনা করেন?

  • (ক) পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু
  • (খ) রেভারেন্ড জেরেমায়া ফিলিপস
  • (গ) রেভারেন্ড এল. ও. স্ক্রেফসরুড
  • (ঘ) ক্যাম্পবেল

সঠিক উত্তর: (খ) রেভারেন্ড জেরেমায়া ফিলিপস

ব্যাখ্যা: আমেরিকান ব্যাপটিস্ট মিশনারি রেভারেন্ড জেরেমায়া ফিলিপস ১৮৫২ সালে “An Introduction to the Santal Language” নামক সাঁওতালী ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচনা করেন।

18. সাঁওতালী ভাষার নিজস্ব লিপি অলচিকি ছাড়া আর কোন কোন লিপিতে লেখা হয়?

  • (ক) রোমান, বাংলা, দেবনাগরী, ওড়িয়া
  • (খ) শুধু রোমান ও বাংলা
  • (গ) শুধু দেবনাগরী
  • (ঘ) আরবি ও ফারসি

সঠিক উত্তর: (ক) রোমান, বাংলা, দেবনাগরী, ওড়িয়া

ব্যাখ্যা: অলচিকি সাঁওতালীর নিজস্ব লিপি হলেও, বিভিন্ন রাজ্যে বসবাসকারী সাঁওতালরা সেখানকার প্রধান লিপি যেমন—রোমান (মিশনারিদের দ্বারা প্রবর্তিত), বাংলা (পশ্চিমবঙ্গে), দেবনাগরী (ঝাড়খণ্ডে) এবং ওড়িয়া (ওড়িশায়) ব্যবহার করে থাকেন।

(ঘ) ধ্বনি বিজ্ঞান (Phonology)

19. সাঁওতালী ভাষায় মৌলিক স্বরবর্ণ (Vowel) কয়টি?

  • (ক) ৪টি
  • (খ) ৬টি
  • (গ) ৮টি
  • (ঘ) ১০টি

সঠিক উত্তর: (খ) ৬টি

ব্যাখ্যা: সাঁওতালী ভাষায় ৬টি মৌলিক বা মৌখিক স্বরবর্ণ (Oral Vowels) রয়েছে: অ (ɔ), আ (a), ই (i), উ (u), এ (e), ও (o)। অলচিকি লিপিতেও এই ৬টি স্বরবর্ণের জন্য অক্ষর রয়েছে।

20. সাঁওতালী ভাষার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো ‘Checked Consonants’। এর অর্থ কী?

  • (ক) মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি
  • (খ) নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি
  • (গ) কণ্ঠনালীয় রোধসহ ব্যঞ্জনধ্বনি (Glottalized consonant)
  • (ঘ) দ্বিত্ব ব্যঞ্জনধ্বনি

সঠিক উত্তর: (গ) কণ্ঠনালীয় রোধসহ ব্যঞ্জনধ্বনি (Glottalized consonant)

ব্যাখ্যা: সাঁওতালী ভাষায় এমন কিছু ব্যঞ্জনধ্বনি আছে (যেমন ক্, চ্, ট্, প্) যা শব্দের শেষে উচ্চারণের সময় কণ্ঠনালী হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। একেই ‘Checked Consonant’ বা ‘Glottal Stop’ সহ ব্যঞ্জন বলে। যেমন – দাক্ (জল)।

21. সাঁওতালী ভাষায় স্বরসঙ্গতি (Vowel Harmony) দেখা যায়। এর উদাহরণ কোনটি?

  • (ক) হড় > হপন (মানুষ > সন্তান)
  • (খ) সেতা > সিতাক্ (কুকুর > কুকুরগুলো)
  • (গ) দাঃ > দাকা (জল > ভাত)
  • (ঘ) সেন > সেনঃআ (যাওয়া > যাবে)

সঠিক উত্তর: (ক) হড় > হপন (মানুষ > সন্তান)

ব্যাখ্যা: স্বরসঙ্গতি হলো একটি স্বরের প্রভাবে অন্য স্বরের পরিবর্তন। ‘হড়’ (ɔ) থেকে ‘হপন’ (ɔ)-এ স্বরের সামঞ্জস্য রয়েছে। আরও ভালো উদাহরণ হল ক্রিয়াপদের প্রত্যয় যোগ। যেমন: ‘দল’ (dɔl – আঘাত করা) থেকে ‘দাপাল’ (dapal – পরস্পর আঘাত করা), এখানে ‘ɔ’ এর প্রভাবে ‘a’ এসেছে।

22. সাঁওতালীর কোন ধ্বনিটি বাংলা ভাষায় নেই?

  • (ক) ঞ (ñ)
  • (খ) ড় (ṛ)
  • (গ) ৎ (t̪)
  • (ঘ) 增 (ṅ) – অর্ধ ‘ঙ’

সঠিক উত্তর: (ঘ) 增 (ṅ) – অর্ধ ‘ঙ’

ব্যাখ্যা: অলচিকি লিপিতে ‘增’ (ung) অক্ষরটি একটি অর্ধ-নাসিক্য ধ্বনি (velar nasal) বোঝায় যা শব্দের শুরুতে বসতে পারে, যেমন ‘增া’ (ung-a – শ্বাসরোধ)। এই ধরনের প্রয়োগ বাংলাতে নেই।

23. সাঁওতালী ভাষায় অনুনাসিক স্বর (Nasal Vowels) আছে কি?

  • (ক) হ্যাঁ, আছে
  • (খ) না, নেই
  • (গ) শুধুমাত্র কবিতায় ব্যবহৃত হয়
  • (ঘ) শুধুমাত্র ধার করা শব্দে পাওয়া যায়

সঠিক উত্তর: (ক) হ্যাঁ, আছে

ব্যাখ্যা: সাঁওতালী ভাষায় ৬টি মৌখিক স্বরবর্ণের প্রত্যেকটির একটি অনুনাসিক রূপ আছে, যা অর্থের পার্থক্য ঘটায়। যেমন: ‘দা’ (d̪a – ডাল) এবং ‘দাঁ’ (d̪ã – দাঁত)।

24. অলচিকি লিপিতে মহাপ্রাণ (Aspirated) ধ্বনির জন্য আলাদা অক্ষর আছে কি?

  • (ক) হ্যাঁ, প্রত্যেকটির জন্য আছে
  • (খ) না, মহাপ্রাণ ধ্বনি নেই
  • (গ) না, ‘হ’ (AH) অক্ষর যোগ করে মহাপ্রাণ করা হয়
  • (ঘ) শুধুমাত্র কয়েকটি মহাপ্রাণ ধ্বনির অক্ষর আছে

সঠিক উত্তর: (গ) না, ‘হ’ (AH) অক্ষর যোগ করে মহাপ্রাণ করা হয়

ব্যাখ্যা: অলচিকি লিপিতে বাংলা বা দেবনাগরীর মতো ক, খ, গ, ঘ -এর জন্য আলাদা অক্ষর নেই। অল্পপ্রাণ ধ্বনির (ক, গ) পর ‘হ’ (অলচিকিতে ᱷ) যোগ করে মহাপ্রাণ ধ্বনি (খ, ঘ) তৈরি করা হয়। যেমন: ক + হ = খ।

(ঙ) শব্দ বিজ্ঞান (Morphology)

25. সাঁওতালী ব্যাকরণে বচন (Number) কয় প্রকার?

  • (ক) দুই প্রকার (একবচন, বহুবচন)
  • (খ) তিন প্রকার (একবচন, দ্বিবচন, বহুবচন)
  • (গ) চার প্রকার
  • (ঘ) বচনের কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই

সঠিক উত্তর: (খ) তিন প্রকার (একবচন, দ্বিবচন, বহুবচন)

ব্যাখ্যা: সাঁওতালী ভাষার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর তিনটি বচন: একবচন (Singular), দ্বিবচন (Dual – দুটি বোঝাতে) এবং বহুবচন (Plural – দুইয়ের বেশি বোঝাতে)। যেমন: হড় (একজন), হড়কিন (দুজন), হড়কো (অনেকজন)।

26. সাঁওতালী ভাষাকে কী ধরনের ভাষা বলা হয়?

  • (ক) বিশ্লেষণাত্মক (Analytic)
  • (খ) সংশ্লেষাত্মক (Synthetic)
  • (গ) প্রত্যয় সংযোগপ্রধান বা الصاقی (Agglutinative)
  • (ঘ) বহুসংশ্লেষাত্মক (Polysynthetic)

সঠিক উত্তর: (গ) প্রত্যয় সংযোগপ্রধান বা الصاقی (Agglutinative)

ব্যাখ্যা: সাঁওতালী একটি Agglutinative ভাষা। এর অর্থ হলো, মূল শব্দের সাথে একাধিক প্রত্যয় (Suffix) বা উপসর্গ (Prefix) যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ বা পদের রূপ তৈরি হয় এবং প্রতিটি প্রত্যয়ের নিজস্ব অর্থ বজায় থাকে। যেমন: দাল (আঘাত) > দাল-এৎ-কো-আ-এ (সে তাদের আঘাত করছে)।

27. সাঁওতালী ভাষায় লিঙ্গ (Gender) কীভাবে নির্ধারিত হয়?

  • (ক) শব্দের শেষে বিভক্তি যোগ করে
  • (খ) শুধুমাত্র প্রাণিবাচক শব্দের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক লিঙ্গভেদ আছে
  • (গ) সব বিশেষ্যেরই লিঙ্গ আছে
  • (ঘ) সর্বনামের রূপ পরিবর্তন করে

সঠিক উত্তর: (খ) শুধুমাত্র প্রাণিবাচক শব্দের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক লিঙ্গভেদ আছে

ব্যাখ্যা: বাংলা বা হিন্দির মতো সাঁওতালী ভাষায় জড় পদার্থের কোনো ব্যাকরণগত লিঙ্গ নেই। শুধু প্রাণিবাচক বিশেষ্যের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক লিঙ্গভেদ (Natural Gender) মানা হয়, যেমন: কোড়া (ছেলে), কুড়ি (মেয়ে)।

28. সাঁওতালী ভাষায় কর্মকারকের (Accusative Case) চিহ্ন কী?

  • (ক) -রে
  • (খ) -কে, -ঠেন
  • (গ) -রেন, -আঃ
  • (ঘ) কোনো নির্দিষ্ট চিহ্ন নেই, পদের অবস্থান দ্বারা বোঝা যায়

সঠিক উত্তর: (ঘ) কোনো নির্দিষ্ট চিহ্ন নেই, পদের অবস্থান দ্বারা বোঝা যায়

ব্যাখ্যা: সাঁওতালী ভাষায় কর্মকারকের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বিভক্তি বা প্রত্যয় নেই। বাক্যে ক্রিয়ার আগে কর্মের অবস্থান দেখেই তা বোঝা যায়। তবে প্রাণিবাচক কর্মের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে সর্বনামের মতো রূপ দেখা যায়।

29. ‘ইনৗঃ অড়াঃ’ – এই পদটিতে ‘ইনৗঃ’ কোন কারকের উদাহরণ?

  • (ক) কর্তৃকারক (Nominative)
  • (খ) সম্বন্ধ পদ (Genitive)
  • (গ) করণ কারক (Instrumental)
  • (ঘ) অপাদান কারক (Ablative)

সঠিক উত্তর: (খ) সম্বন্ধ পদ (Genitive)

ব্যাখ্যা: ‘ইনৗঃ’ (ińaḱ) অর্থ ‘আমার’। এটি ‘ইঞ’ (iń – আমি) এর সম্বন্ধ পদের রূপ। ‘ইনৗঃ অড়াঃ’ অর্থ ‘আমার বাড়ি’। এখানে ‘-আঃ’ বা ‘-রেন’ সম্বন্ধ পদের চিহ্ন।

30. সাঁওতালী ক্রিয়াপদের রূপ কিসের উপর নির্ভর করে?

  • (ক) শুধুমাত্র কর্তার বচন
  • (খ) শুধুমাত্র কাল (Tense)
  • (গ) কর্তা এবং কর্ম উভয়ের পুরুষ ও বচন
  • (ঘ) শুধুমাত্র কর্তার পুরুষ

সঠিক উত্তর: (গ) কর্তা এবং কর্ম উভয়ের পুরুষ ও বচন

ব্যাখ্যা: সাঁওতালী ক্রিয়াপদের রূপ গঠনের প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। ক্রিয়ার রূপ শুধুমাত্র কাল বা কর্তার উপর নির্ভর করে না, বরং বাক্যের কর্তা (Subject) এবং কর্ম (Object) উভয়ের পুরুষ (Person) এবং বচন (Number) অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।

31. ‘দা-দাল’ শব্দটি কোন ধরনের শব্দ?

  • (ক) যৌগিক শব্দ
  • (খ) দ্বিরুক্ত শব্দ
  • (গ) উপসর্গযুক্ত শব্দ
  • (ঘ) প্রত্যয়যুক্ত শব্দ

সঠিক উত্তর: (খ) দ্বিরুক্ত শব্দ

ব্যাখ্যা: ‘দাল’ শব্দের অর্থ মারা। ‘দা-দাল’ হলো দ্বিরুক্ত শব্দ, যা ক্রিয়ার পৌনঃপুনিকতা বা তীব্রতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয় (মারামারি করা)।

(চ) বাক্য বিজ্ঞান (Syntax)

32. সাঁওতালী বাক্যের স্বাভাবিক পদক্রম (Word Order) কী?

  • (ক) কর্তা – ক্রিয়া – কর্ম (SVO)
  • (খ) কর্তা – কর্ম – ক্রিয়া (SOV)
  • (গ) ক্রিয়া – কর্তা – কর্ম (VSO)
  • (ঘ) কর্ম – কর্তা – ক্রিয়া (OSV)

সঠিক উত্তর: (খ) কর্তা – কর্ম – ক্রিয়া (SOV)

ব্যাখ্যা: বাংলা, হিন্দি এবং ভারতের অধিকাংশ ভাষার মতোই সাঁওতালী একটি SOV (Subject-Object-Verb) ভাষা। যেমন: ইঞ (কর্তা) দাকা (কর্ম) ঞ জম-এদা (ক্রিয়া) – আমি ভাত খাচ্ছি।

33. সাঁওতালী ভাষায় অনুসর্গ (Postposition) বসে কখন?

  • (ক) বিশেষ্যের আগে
  • (খ) বিশেষ্যের পরে
  • (গ) ক্রিয়ার পরে
  • (ঘ) বাক্যের শুরুতে

সঠিক উত্তর: (খ) বিশেষ্যের পরে

ব্যাখ্যা: ইংরেজি Preposition (যেমন in, on, at) বিশেষ্যের আগে বসে। কিন্তু সাঁওতালী ভাষায় Postposition বা অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়, যা বিশেষ্য বা সর্বনামের পরে বসে। যেমন: অড়াঃ রে (বাড়িতে)। এখানে ‘রে’ হলো অনুসর্গ।

34. ‘আমদম চালাঃআ?’ – এটি কী ধরনের বাক্য?

  • (ক) নির্দেশক বাক্য (Declarative)
  • (খ) প্রশ্নবোধক বাক্য (Interrogative)
  • (গ) অনুজ্ঞাসূচক বাক্য (Imperative)
  • (ঘ) বিস্ময়সূচক বাক্য (Exclamatory)

সঠিক উত্তর: (খ) প্রশ্নবোধক বাক্য (Interrogative)

ব্যাখ্যা: বাক্যের শেষে প্রশ্নবোধক সুর এবং গঠন (‘আমদম চালাঃআ?’ – তুমি কি যাবে?) এটিকে একটি প্রশ্নবোধক বাক্য হিসেবে চিহ্নিত করে।

35. সাঁওতালী ভাষায় না-সূচক (Negative) পদ কোথায় বসে?

  • (ক) ক্রিয়ার আগে
  • (খ) ক্রিয়ার পরে
  • (গ) বাক্যের শুরুতে
  • (ঘ) বাক্যের শেষে

সঠিক উত্তর: (ক) ক্রিয়ার আগে

ব্যাখ্যা: সাঁওতালী ভাষায় না-বোধক অব্যয় (যেমন ‘বাং’, ‘আলো’) সাধারণত মূল ক্রিয়াপদের ঠিক আগে বসে। যেমন: ইঞ বাংইঞ সেঁনোআ (আমি যাব না)।

36. সাঁওতালী ভাষায় বিশেষণ (Adjective) কোথায় বসে?

  • (ক) বিশেষ্যের পরে
  • (খ) বিশেষ্যের আগে
  • (গ) ক্রিয়ার পরে
  • (ঘ) যেকোনো স্থানে বসতে পারে

সঠিক উত্তর: (খ) বিশেষ্যের আগে

ব্যাখ্যা: বাংলা বা ইংরেজির মতোই সাঁওতালী ভাষায় বিশেষণ পদ সাধারণত বিশেষ্যের আগে বসে তার গুণ বা অবস্থা প্রকাশ করে। যেমন: ‘মার‍াং অড়াঃ’ (বড় বাড়ি)। এখানে ‘মার‍াং’ হলো বিশেষণ।

37. ‘ঞেলকেদেয়াঞ’ – এই একটি পদের মধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য রয়েছে। একে কী বলা হয়?

  • (ক) যৌগিক বাক্য
  • (খ) জটিল বাক্য
  • (গ) সংক্ষিপ্ত বাক্য
  • (ঘ) বহুসংশ্লেষাত্মক প্রকৃতি (Polysynthetic nature)

সঠিক উত্তর: (ঘ) বহুসংশ্লেষাত্মক প্রকৃতি (Polysynthetic nature)

ব্যাখ্যা: ‘ঞেল-কেৎ-এ-য়া-ঞ’ (দেখা-অতীত-তাকে-কর্ম-আমি) অর্থাৎ ‘আমি তাকে দেখেছিলাম’। এখানে ক্রিয়ার সাথে কর্তা ও কর্মের সর্বনামীয় রূপ যুক্ত হয়ে একটি পদেই একটি পূর্ণ বাক্য তৈরি হয়েছে। এটি সাঁওতালী ভাষার বহুসংশ্লেষাত্মক বা Polysynthetic প্রবণতার উদাহরণ।

(ছ) অর্থ বিজ্ঞান (Semantics)

38. সাঁওতালী ভাষায় ‘দাঃ’ (dak’) শব্দের মূল অর্থ ‘জল’, কিন্তু ‘দাকা জম’ বলতে ‘ভাত খাওয়া’ বোঝায়। এটি কিসের উদাহরণ?

  • (ক) অর্থের প্রসার (Extension of meaning)
  • (খ) অর্থের রূপান্তর (Semantic shift)
  • (গ) অর্থের সংকোচ (Restriction of meaning)
  • (ঘ) সমার্থক শব্দ

সঠিক উত্তর: (খ) অর্থের রূপান্তর (Semantic shift)

ব্যাখ্যা: এখানে ‘দাঃ’ বা ‘দাকা’ (রান্না করা ভাত) শব্দটি শুধু ভাত না বুঝিয়ে পুরো খাবার বা ভোজন প্রক্রিয়াকে বোঝাচ্ছে। এটি অর্থবিজ্ঞানে অর্থের রূপান্তরের একটি উদাহরণ, যেখানে একটি শব্দ প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ভিন্ন বা ব্যাপকতর অর্থ লাভ করে।

39. ‘হড়’ (hoṛ) শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘সাঁওতাল মানুষ’ হলেও অনেক সময় সাধারণভাবে ‘মানুষ’ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এটি কিসের উদাহরণ?

  • (ক) অর্থের প্রসার
  • (খ) অর্থের সংকোচ
  • (গ) বিপরীতার্থক শব্দ
  • (ঘ) সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ

সঠিক উত্তর: (ক) অর্থের প্রসার

ব্যাখ্যা: যখন একটি শব্দ তার নির্দিষ্ট অর্থ থেকে আরও ব্যাপক বা সাধারণ অর্থে ব্যবহৃত হতে শুরু করে, তাকে অর্থের প্রসার বলে। এখানে ‘হড়’ শব্দটি সাঁওতাল গোষ্ঠীর মানুষকে বোঝানোর পাশাপাশি সকল মানুষকে বোঝাতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

40. ‘মার‍াং’ (mạṛaṅ) শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কী?

  • (ক) হপন (hopon)
  • (খ) কাটিচ (kạṭic)
  • (গ) সেঁগেল (seṅgel)
  • (ঘ) অড়াঃ (oṛaḱ)

সঠিক উত্তর: (খ) কাটিচ (kạṭic)

ব্যাখ্যা: ‘মার‍াং’ শব্দের অর্থ ‘বড়’। এর বিপরীত শব্দ হলো ‘কাটিচ’, যার অর্থ ‘ছোট’।

41. ‘সেরমা’ (serma) শব্দটি একই সাথে ‘আকাশ’ এবং ‘বছর’ বোঝাতে পারে। এটি কিসের উদাহরণ?

  • (ক) সমার্থক শব্দ (Synonym)
  • (খ) সমরূপ শব্দ বা হোমোনিম (Homonym)
  • (গ) বিপরীতার্থক শব্দ (Antonym)
  • (ঘ) দ্বিরুক্ত শব্দ

সঠিক উত্তর: (খ) সমরূপ শব্দ বা হোমোনিম (Homonym)

ব্যাখ্যা: যখন একটি শব্দের একাধিক ভিন্ন অর্থ থাকে, তাকে হোমোনিম বা সমরূপ শব্দ বলা হয়। ‘সেরমা’ শব্দটি আকাশ এবং বছর উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

42. “আম দ হঁস হাঁসিল লেকাম ঞেলঃ কানা” – এই বাক্যে ‘হঁস হাঁসিল’ (হাঁস) এর মতো দেখতে বলা হচ্ছে। এটি কোন অলঙ্কারের প্রয়োগ?

  • (ক) রূপক (Metaphor)
  • (খ) উপমা (Simile)
  • (গ) যমক (Pun)
  • (ঘ) শ্লেষ (Irony)

সঠিক উত্তর: (খ) উপমা (Simile)

ব্যাখ্যা: এখানে ‘লেকা’ (leka – মতো) শব্দটি ব্যবহার করে একজনের চেহারার সাথে হাঁসের তুলনা করা হয়েছে। ‘মতো’, ‘প্রায়’, ‘সদৃশ’ ইত্যাদি তুলনাবাচক শব্দ ব্যবহার করে দুটি ভিন্ন বস্তুর মধ্যে সাদৃশ্য দেখানো হলে তাকে উপমা অলঙ্কার বলে।

43. সাঁওতালী ভাষায় ‘সেঁগেল দাঃ’ (আগুন জল) বলতে কী বোঝায়?

  • (ক) গরম জল
  • (খ) মদ বা অ্যালকোহল
  • (গ) চোখের জল
  • (ঘ) লাভা

সঠিক উত্তর: (খ) মদ বা অ্যালকোহল

ব্যাখ্যা: এটি একটি রূপক শব্দবন্ধ বা বাগধারা (idiom)। ‘সেঁগেল’ (আগুন) এবং ‘দাঃ’ (জল) একসাথে হয়ে শক্তিশালী পানীয় বা মদকে বোঝাচ্ছে, যা পান করলে শরীরে আগুনের মতো উত্তাপ ছড়ায়।

(জ) লিপি বিচার — ব্রাহ্মী, গুপ্ত, কুটিল, কারী, অলচিকি এবং রোমান

44. সাঁওতালী ভাষার নিজস্ব লিপির নাম কী?

  • (ক) ব্রাহ্মী লিপি
  • (খ) রোমান লিপি
  • (গ) অলচিকি লিপি
  • (ঘ) কুটিল লিপি

সঠিক উত্তর: (গ) অলচিকি লিপি

ব্যাখ্যা: অলচিকি হলো সাঁওতালী ভাষার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা নিজস্ব লিপি।

45. অলচিকি লিপির স্রষ্টা কে?

  • (ক) সাধু রামচাঁদ মুর্মু
  • (খ) পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু
  • (গ) রেভারেন্ড স্ক্রেফসরুড
  • (ঘ) বিরসা মুন্ডা

সঠিক উত্তর: (খ) পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু

ব্যাখ্যা: পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু ১৯২৫ সালে সাঁওতালী ভাষার ধ্বনিতত্ত্বের উপর ভিত্তি করে অলচিকি লিপি তৈরি করেন।

46. অলচিকি লিপিতে মোট কয়টি বর্ণ আছে?

  • (ক) ২২টি
  • (খ) ৩০টি
  • (গ) ৪৪টি
  • (ঘ) ৫০টি

সঠিক উত্তর: (খ) ৩০টি

ব্যাখ্যা: অলচিকি লিপিতে মোট ৩০টি বর্ণ রয়েছে, যার মধ্যে ৬টি স্বরবর্ণ এবং ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণ।

47. ভারতের অধিকাংশ আধুনিক লিপির উৎস কোন প্রাচীন লিপি?

  • (ক) খরোষ্ঠী লিপি
  • (খ) ব্রাহ্মী লিপি
  • (গ) সিন্ধু লিপি
  • (ঘ) আরমেইক লিপি

সঠিক উত্তর: (খ) ব্রাহ্মী লিপি

ব্যাখ্যা: বাংলা, দেবনাগরী, ওড়িয়া, গুজরাটি, তামিল সহ ভারতের প্রায় সমস্ত প্রধান লিপিই প্রাচীন ব্রাহ্মী লিপি থেকে কালের বিবর্তনে উদ্ভূত হয়েছে।

48. ব্রাহ্মী লিপি থেকে কোন লিপির উদ্ভব ঘটে, যা থেকে পরবর্তীকালে বাংলা লিপির জন্ম হয়?

  • (ক) গুপ্ত লিপি
  • (খ) কুটিল লিপি
  • (গ) নাগরী লিপি
  • (ঘ) উপরের সবকটি পর্যায়ক্রমে

সঠিক উত্তর: (ঘ) উপরের সবকটি পর্যায়ক্রমে

ব্যাখ্যা: বাংলা লিপির বিবর্তনের ধারাটি হলো: ব্রাহ্মী লিপি > গুপ্ত লিপি (খ্রি. ৪র্থ-৫ম শতক) > সিদ্ধমাতৃকা বা কুটিল লিপি (খ্রি. ৬ষ্ঠ-৯ম শতক) > প্রাচীন বাংলা লিপি (খ্রি. ১০ম শতক)।

49. সাঁওতালী ভাষা লেখার জন্য প্রথম কোন লিপি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল?

  • (ক) বাংলা
  • (খ) দেবনাগরী
  • (গ) রোমান
  • (ঘ) ওড়িয়া

সঠিক উত্তর: (গ) রোমান

ব্যাখ্যা: উনিশ শতকে ইউরোপীয় খ্রিস্টান মিশনারিরা সাঁওতালী ভাষাকে লিপিবদ্ধ করার জন্য প্রথম রোমান হরফ ব্যবহার করেন এবং এর জন্য একটি লিখন-ব্যবস্থা তৈরি করেন, যা আজও প্রচলিত আছে।

50. অলচিকি লিপির বর্ণগুলির নামকরণ কিসের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে?

  • (ক) দেব-দেবীর নাম
  • (খ) প্রকৃতি ও দৈনন্দিন জীবনের বস্তুর নাম
  • (গ) রাজা-মহারাজাদের নাম
  • (ঘ) সংখ্যার নাম

সঠিক উত্তর: (খ) প্রকৃতি ও দৈনন্দিন জীবনের বস্তুর নাম

ব্যাখ্যা: অলচিকি লিপির প্রতিটি বর্ণের আকার ও নাম প্রকৃতি বা সাঁওতালদের ব্যবহৃত কোনো বস্তুর সাথে সম্পর্কিত, যা সেই বর্ণটির উচ্চারণের সাথেও যুক্ত। যেমন – ‘লা’ (LA) দেখতে লাউয়ের মতো, ‘আ’ (A) দেখতে হাঁসের ডিমের মতো।

51. যে উপভাষাটি সাহিত্য ও আনুষ্ঠানিক কাজে ব্যবহৃত হয়ে আদর্শ রূপ লাভ করে, তাকে কী বলে?

  • (ক) আঞ্চলিক ভাষা
  • (খ) কথ্য ভাষা
  • (গ) মান্য ভাষা (Standard Language)
  • (ঘ) মৃত ভাষা

সঠিক উত্তর: (গ) মান্য ভাষা (Standard Language)

ব্যাখ্যা: একটি নির্দিষ্ট উপভাষাকে যখন শিক্ষা, প্রশাসন, সাহিত্য ও গণমাধ্যমে ব্যবহার করার জন্য একটি আদর্শ বা মান্য রূপ দেওয়া হয়, তখন তাকে মান্য ভাষা বলে।

52. নেপাল ও ভুটানে প্রচলিত সাঁওতালী উপভাষাকে কী বলা হয়?

  • (ক) পূর্বী সাঁওতালী
  • (খ) সাতার
  • (গ) ঝাড়খণ্ডী সাঁওতালী
  • (ঘ) অহোম সাঁওতালী

সঠিক উত্তর: (খ) সাতার

ব্যাখ্যা: নেপাল এবং ভুটানের কিছু অংশে বসবাসকারী সাঁওতালদের কথ্য ভাষাকে ‘সাতার’ (Satar) বলা হয়, যা সাঁওতালীর একটি উপভাষা হিসেবে গণ্য।

53. পৃথিবীর বৃহত্তম ভাষা বংশ কোনটি?

  • (ক) অস্ট্রো-এশিয়াটিক
  • (খ) সিনো-তিব্বতীয়
  • (গ) আফ্রো-এশিয়াটিক
  • (ঘ) ইন্দো-ইউরোপীয়

সঠিক উত্তর: (ঘ) ইন্দো-ইউরোপীয়

ব্যাখ্যা: ভাষাভাষীর সংখ্যার দিক থেকে ইন্দো-ইউরোপীয় হলো পৃথিবীর বৃহত্তম ভাষা বংশ। ইংরেজি, হিন্দি, বাংলা, ফারসি, রুশ, জার্মান, ফরাসি ইত্যাদি এই বংশের অন্তর্গত।

54. মুন্ডা শাখাকে ভাষাতাত্ত্বিকরা কয়টি উপশাখায় ভাগ করেন?

  • (ক) দুইটি (উত্তর মুন্ডা ও দক্ষিণ মুন্ডা)
  • (খ) তিনটি
  • (গ) চারটি
  • (ঘ) কোনো উপশাখা নেই

সঠিক উত্তর: (ক) দুইটি (উত্তর মুন্ডা ও দক্ষিণ মুন্ডা)

ব্যাখ্যা: মুন্ডা শাখাকে প্রধানত উত্তর মুন্ডা (যেমন: সাঁওতালী, মুন্ডারি, হো) এবং দক্ষিণ মুন্ডা (যেমন: সোরা, গাদাবা) এই দুই উপশাখায় ভাগ করা হয়।

55. কোন সালে সাঁওতালী ভাষাকে পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় সরকারি ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়?

  • (ক) ২০০৩
  • (খ) ২০১১
  • (গ) ২০১৫
  • (ঘ) ২০১৮

সঠিক উত্তর: (খ) ২০১১

ব্যাখ্যা: ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের যেসব জেলা বা মহকুমায় সাঁওতালী ভাষাভাষী মানুষের সংখ্যা ১০ শতাংশের বেশি, সেখানে সাঁওতালীকে দ্বিতীয় সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

56. ‘হড়কোরেন মারে হাপড়ামকো রেয়াঃ কাথা’ গ্রন্থটি কে সংকলন করেন?

  • (ক) পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু
  • (খ) রেভারেন্ড এল. ও. স্ক্রেফসরুড
  • (গ) সাধু রামচাঁদ মুর্মু
  • (ঘ) নির্মল সরেন

সঠিক উত্তর: (খ) রেভারেন্ড এল. ও. স্ক্রেফসরুড

ব্যাখ্যা: এই গ্রন্থটি সাঁওতালদের সৃষ্টিতত্ত্ব, ঐতিহ্য এবং পুরাকথা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন, যা নরওয়েজিয়ান মিশনারি স্ক্রেফসরুড স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনে লিপিবদ্ধ করেন।

57. অলচিকি লিপিতে ‘অ’ ধ্বনির জন্য কোন বর্ণটি ব্যবহৃত হয়?

  • (ক) ᱚ (LA)
  • (খ) ᱟ (LAA)
  • (গ) ᱤ (LI)
  • (ঘ) ᱩ (LU)

সঠিক উত্তর: (ক) ᱚ (LA)

ব্যাখ্যা: অলচিকি লিপিতে ‘অ’ (ɔ) ধ্বনির জন্য ‘ᱚ’ (LA) বর্ণটি ব্যবহৃত হয়।

58. সাঁওতালী ভাষায় অর্ধ-স্বর (Semi-vowel) কোনগুলি?

  • (ক) ক, চ
  • (খ) য়, ও (y, w)
  • (গ) ঞ, ণ
  • (ঘ) ল, র

সঠিক উত্তর: (খ) য়, ও (y, w)

ব্যাখ্যা: ‘য়’ (y) এবং ‘ও/ব’ (w) ধ্বনি দুটি উচ্চারণের সময় স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের মাঝামাঝি বৈশিষ্ট্য দেখায়, তাই এদের অর্ধ-স্বর বলা হয়। যেমন: গোয় (goy – মৃত্যু)।

59. সাঁওতালী ভাষায় মধ্যপ্রত্যয় বা অন্তঃপ্রত্যয় (Infix) ব্যবহারের উদাহরণ কোনটি?

  • (ক) দাল > দাল-এৎ-আ
  • (খ) গল > গ-প-ল (পরস্পর কথা বলা)
  • (গ) বুগাঃ > আ-বুগাঃ
  • (ঘ) হড় > হড়-কো

সঠিক উত্তর: (খ) গল > গ-প-ল (পরস্পর কথা বলা)

ব্যাখ্যা: মধ্যপ্রত্যয় বা Infix হলো যা শব্দের মাঝখানে বসে। সাঁওতালীতে পারস্পরিক ক্রিয়া বোঝাতে ‘-p-‘ মধ্যপ্রত্যয়টি ব্যবহৃত হয়। এখানে ‘গল’ (কথা বলা) ধাতুর মাঝে ‘-p-‘ বসে ‘গপল’ (পরস্পর কথা বলা) শব্দটি তৈরি হয়েছে।

60. সাঁওতালী সর্বনামে সজীব (Animate) ও নির্জীব (Inanimate) বস্তুর জন্য আলাদা রূপ আছে কি?

  • (ক) না, নেই
  • (খ) হ্যাঁ, আছে
  • (গ) শুধুমাত্র প্রথম পুরুষে আছে
  • (ঘ) শুধুমাত্র প্রশ্নবোধক সর্বনামে আছে

সঠিক উত্তর: (খ) হ্যাঁ, আছে

ব্যাখ্যা: সাঁওতালী ভাষায় সর্বনাম ব্যবহারের সময় সেটি সজীব প্রাণী (Animate) নাকি নির্জীব বস্তু (Inanimate) তা বিচার করা হয়। যেমন: ‘চেৎ’ (cet’ – কী) নির্জীব বস্তুর জন্য এবং ‘অকয়’ (okɔe – কে) সজীব প্রাণীর জন্য ব্যবহৃত হয়।

61. সাঁওতালী ভাষায় প্রশ্ন করার জন্য কোন কোন শব্দ ব্যবহৃত হয়?

  • (ক) অকয়, অকা, চেৎ
  • (খ) তিন, তিনাঃ, চিকা
  • (গ) চেদাঃ, অকাতে
  • (ঘ) উপরের সবকটি

সঠিক উত্তর: (ঘ) উপরের সবকটি

ব্যাখ্যা: অকয় (কে), অকা (কোনটি), চেৎ (কী), তিন (কখন), তিনাঃ (কত), চিকা (কীভাবে), চেদাঃ (কেন), অকাতে (কোথায়) – এই সবগুলিই প্রশ্নবোধক শব্দ।

62. ‘আলোম রাগা’ – এই বাক্যটি কোন প্রকারের?

  • (ক) নির্দেশক (Declarative)
  • (খ) প্রশ্নবোধক (Interrogative)
  • (গ) অনুজ্ঞাসূচক (Imperative – নিষেধার্থক)
  • (ঘ) ইচ্ছাসূচক (Optative)

সঠিক উত্তর: (গ) অনুজ্ঞাসূচক (Imperative – নিষেধার্থক)

ব্যাখ্যা: ‘আলোম রাগা’ অর্থ ‘কেঁদো না’। এখানে ‘আলো-‘ উপসর্গটি দিয়ে নিষেধ করা বোঝাচ্ছে, যা অনুজ্ঞাসূচক বাক্যের একটি রূপ।

63. ‘বির’ শব্দের অর্থ ‘জঙ্গল’। তাহলে ‘বির দিশম’ বলতে কী বোঝায়?

  • (ক) জঙ্গলের দেশ বা আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল
  • (খ) শহর
  • (গ) মরুভূমি
  • (ঘ) বিদেশ

সঠিক উত্তর: (ক) জঙ্গলের দেশ বা আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল

ব্যাখ্যা: ‘বির’ (জঙ্গল) এবং ‘দিশম’ (দেশ) মিলে ‘বির দিশম’ শব্দটি তৈরি হয়েছে, যা আক্ষরিক অর্থে ‘জঙ্গলের দেশ’ এবং ভাবার্থে সাঁওতাল বা অন্যান্য আদিবাসীদের নিজস্বভূমিকে বোঝায়।

64. ‘সাসাং’ (হলুদ) শব্দটি রঙ বোঝানোর পাশাপাশি কোন অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়?

  • (ক) জন্ম
  • (খ) বিবাহ (বাপলা)
  • (গ) মৃত্যু
  • (ঘ) উৎসব

সঠিক উত্তর: (খ) বিবাহ (বাপলা)

ব্যাখ্যা: ‘সাসাং’ বা হলুদ সাঁওতাল সমাজে অত্যন্ত পবিত্র। বিবাহ বা ‘বাপলা’ অনুষ্ঠানে গায়ে হলুদ বা ‘সাসাং গসঃ’ একটি অপরিহার্য অঙ্গ। এখানে শব্দটি শুধু রঙ নয়, একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক আচারের প্রতীক।

65. কুটিল লিপি নামটি কেন হয়েছিল?

  • (ক) এটি লেখা খুব কঠিন ছিল বলে
  • (খ) এর অক্ষরগুলির মাত্রা কুটিল বা বাঁকানো ছিল বলে
  • (গ) কুটিল নামক একজন ঋষি এটি তৈরি করেন
  • (ঘ) এটি গোপন বার্তা পাঠাতে ব্যবহৃত হতো

সঠিক উত্তর: (খ) এর অক্ষরগুলির মাত্রা কুটিল বা বাঁকানো ছিল বলে

ব্যাখ্যা: সিদ্ধমাতৃকা লিপির অক্ষরগুলির মাথায় বাঁকানো বা কুটিল ধরনের চিহ্ন দেখা যেত, তাই এর অপর নাম হয়েছিল কুটিল লিপি।

66. রোমান লিপিতে সাঁওতালী লেখার সময় বিশেষ ধ্বনি বোঝানোর জন্য কী ব্যবহার করা হয়?

  • (ক) বড় হাতের অক্ষর (Capital Letters)
  • (খ) ডায়াক্রিটিক্যাল চিহ্ন (Diacritical marks)
  • (গ) সংখ্যা
  • (ঘ) বন্ধনী

সঠিক উত্তর: (খ) ডায়াক্রিটিক্যাল চিহ্ন (Diacritical marks)

ব্যাখ্যা: সাঁওতালীর কিছু ধ্বনি (যেমন: checked consonant, nasal vowels) রোমান হরফে নেই। তাই সেগুলোকে বোঝানোর জন্য অক্ষরের নিচে বা উপরে বিশেষ চিহ্ন (যেমন: ‘ , . , ˆ) ব্যবহার করা হয়, যা ডায়াক্রিটিক্যাল চিহ্ন নামে পরিচিত।

67. ভাষা কীসের দ্বারা সৃষ্টি হয়?

  • (ক) ঈশ্বরপ্রদত্ত
  • (খ) মানুষের বাক্‌যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত অর্থবোধক ধ্বনিসমষ্টি
  • (গ) ইশারা বা সংকেত
  • (ঘ) প্রকৃতির অনুকরণ

সঠিক উত্তর: (খ) মানুষের বাক্‌যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত অর্থবোধক ধ্বনিসমষ্টি

ব্যাখ্যা: ভাষা হলো একটি ব্যবস্থা যেখানে মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশের জন্য কণ্ঠনিঃসৃত অর্থপূর্ণ ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি ব্যবহার করে।

68. সাঁওতালী ভাষায় ‘বাপলা’ শব্দের অর্থ কী?

  • (ক) জন্ম
  • (খ) উৎসব
  • (গ) বিবাহ
  • (ঘ) পূজা

সঠিক উত্তর: (গ) বিবাহ

ব্যাখ্যা: সাঁওতালী সমাজে বিবাহ অনুষ্ঠানকে ‘বাপলা’ বলা হয়।

69. ‘কারী’ লিপি সম্পর্কে কোনটি সঠিক তথ্য?

  • (ক) এটি সাঁওতালদের প্রাচীনতম লিপি
  • (খ) এটি একটি আধুনিক প্রস্তাবিত লিপি
  • (গ) এটি একটি পৌরাণিক লিপি যার কোনো অস্তিত্বের প্রমাণ মেলেনি
  • (ঘ) এটি মূলত হো ভাষার জন্য ব্যবহৃত হয়

সঠিক উত্তর: (গ) এটি একটি পৌরাণিক লিপি যার কোনো অস্তিত্বের প্রমাণ মেলেনি

ব্যাখ্যা: কারী লিপি সাঁওতালদের একটি হারানো বা পৌরাণিক লিপি হিসেবে জনশ্রুতিতে প্রচলিত আছে, কিন্তু এর কোনো বাস্তব নমুনা বা ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় না।

70. সাঁওতালী ভাষার প্রথম মুদ্রিত বই কোনটি?

  • (ক) Horkoren Mare Hapramko Reak’ Katha
  • (খ) An Introduction to the Santal Language
  • (গ) Kherwal Bansa Dhorom Puthi
  • (ঘ) Bidu Chandan

সঠিক উত্তর: (খ) An Introduction to the Santal Language

ব্যাখ্যা: ১৮৫২ সালে প্রকাশিত রেভারেন্ড জেরেমায়া ফিলিপসের লেখা সাঁওতালী ভাষার ব্যাকরণ “An Introduction to the Santal Language”-কে প্রথম মুদ্রিত সাঁওতালী বই হিসেবে গণ্য করা হয়।

71. অলচিকি লিপির লিখন দিক কোনটি?

  • (ক) ডান থেকে বাম
  • (খ) বাম থেকে ডান
  • (গ) উপর থেকে নিচে
  • (ঘ) নিচ থেকে উপরে

সঠিক উত্তর: (খ) বাম থেকে ডান

ব্যাখ্যা: বাংলা, দেবনাগরী বা রোমান লিপির মতোই অলচিকি লিপি বাম দিক থেকে ডান দিকে লেখা হয়।

72. ‘বিন্তি’ কী?

  • (ক) এক প্রকার সাঁওতালী নৃত্য
  • (খ) সাঁওতালদের সৃষ্টিতত্ত্ব ও ঐতিহ্যমূলক গাথা বা মন্ত্র
  • (গ) একটি সাঁওতালী বাদ্যযন্ত্র
  • (ঘ) একটি সাঁওতালী খাবার

সঠিক উত্তর: (খ) সাঁওতালদের সৃষ্টিতত্ত্ব ও ঐতিহ্যমূলক গাথা বা মন্ত্র

ব্যাখ্যা: ‘বিন্তি’ হলো সাঁওতালদের মুখে মুখে প্রচলিত মন্ত্র বা গাথা, যা বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে (যেমন বিবাহ, পূজা) পাঠ করা হয়। এর মাধ্যমে তাদের সৃষ্টি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য স্মরণ করা হয়।

73. সাঁওতালী ক্রিয়াবিশেষণ (Adverb) সাধারণত কোথায় বসে?

  • (ক) ক্রিয়ার পরে
  • (খ) ক্রিয়ার আগে
  • (গ) বাক্যের শুরুতে
  • (ঘ) বিশেষ্যের আগে

সঠিক উত্তর: (খ) ক্রিয়ার আগে

ব্যাখ্যা: সাঁওতালী ভাষায় ক্রিয়াবিশেষণ সাধারণত মূল ক্রিয়াপদের আগে বসে ক্রিয়ার ভাব, স্থান, কাল ইত্যাদি নির্দেশ করে। যেমন: ‘এসেৎ করেয় রুয়ড়েদা’ (সে দ্রুত ফিরছে)।

74. গুপ্ত লিপি কোন সাম্রাজ্যের সময়ে প্রচলিত ছিল?

  • (ক) মৌর্য সাম্রাজ্য
  • (খ) গুপ্ত সাম্রাজ্য
  • (গ) পাল সাম্রাজ্য
  • (ঘ) সেন সাম্রাজ্য

সঠিক উত্তর: (খ) গুপ্ত সাম্রাজ্য

ব্যাখ্যা: ব্রাহ্মী লিপি থেকে উদ্ভূত এই লিপিটি উত্তর ভারতে গুপ্ত সাম্রাজ্যের (খ্রি. ৪র্থ-৬ষ্ঠ শতক) সময়ে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল।

75. ‘ জাহের থান’ কী?

  • (ক) সাঁওতালদের গ্রাম্য বিচারসভা
  • (খ) সাঁওতালদের পবিত্র উপাসনাস্থল
  • (গ) সাঁওতালদের বাজার
  • (ঘ) সাঁওতালদের শ্মশান

সঠিক উত্তর: (খ) সাঁওতালদের পবিত্র উপাসনাস্থল

ব্যাখ্যা: ‘জাহের থান’ বা ‘জাহের গাড়’ হলো প্রতিটি সাঁওতাল গ্রামের প্রান্তে অবস্থিত একটি পবিত্র শালবন, যেখানে তাদের প্রধান দেবতা মারাং বুরু এবং অন্যান্য বোঙ্গাদের পূজা করা হয়।

76. সাঁওতালী ভাষায় ‘ইঞ’, ‘আম’, ‘উনি’ – এগুলি কী ধরনের পদ?

  • (ক) বিশেষ্য
  • (খ) বিশেষণ
  • (গ) সর্বনাম
  • (ঘ) অব্যয়

সঠিক উত্তর: (গ) সর্বনাম

ব্যাখ্যা: ‘ইঞ’ (আমি), ‘আম’ (তুমি), ‘উনি’ (সে/তিনি) – এই পদগুলি বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়, তাই এগুলি সর্বনাম পদ।

77. অলচিকি লিপিতে ‘পার‍হাড’ (Pharhad) চিহ্নটি কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

  • (ক) শব্দের শেষে ব্যবহৃত হয়
  • (খ) একটি স্বরকে দীর্ঘ করার জন্য
  • (গ) একটি শব্দকে পরের শব্দ থেকে আলাদা করতে (স্পেস)
  • (ঘ) checked consonant বোঝাতে

সঠিক উত্তর: (ঘ) checked consonant বোঝাতে

ব্যাখ্যা: অলচিকি লিপিতে কোনো ব্যঞ্জনের পর ‘।’ এর মতো দেখতে ‘পার‍হাড’ চিহ্নটি ব্যবহার করে সেই ব্যঞ্জনটির কণ্ঠনালীয় রোধযুক্ত (glottalized) বা checked রূপটি বোঝানো হয়। যেমন – দাক্ (দাঃ)।

78. ‘সোহরাই’ কী?

  • (ক) একটি সাঁওতালী লোকনৃত্য
  • (খ) সাঁওতালদের সর্ববৃহৎ ফসল তোলার উৎসব
  • (গ) একটি বাদ্যযন্ত্র
  • (ঘ) একটি সাঁওতালী পদবী

সঠিক উত্তর: (খ) সাঁওতালদের সর্ববৃহৎ ফসল তোলার উৎসব

ব্যাখ্যা: সোহরাই হলো সাঁওতাল এবং অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব, যা ফসল তোলার পরে অনুষ্ঠিত হয় এবং গবাদি পশুকে সম্মান জানানো হয়।

79. সাঁওতালী ভাষায় ভবিষ্যৎ কাল (Future Tense) বোঝাতে ক্রিয়ার শেষে সাধারণত কোন প্রত্যয় যুক্ত হয়?

  • (ক) -কেৎ
  • (খ) -কান
  • (গ) -আ
  • (ঘ) -এন

সঠিক উত্তর: (গ) -আ

ব্যাখ্যা: সাঁওতালী ভাষায় ভবিষ্যৎ কাল বোঝাতে ক্রিয়ামূলের সঙ্গে ‘-আ’ প্রত্যয় যুক্ত হয়। যেমন: সেঁন (যাওয়া) > সেঁনোআ (যাবে)।

80. ‘গুরু গোমকে’ নামে কে পরিচিত?

  • (ক) সাধু রামচাঁদ মুর্মু
  • (খ) বিরসা মুন্ডা
  • (গ) সিধু-কানহু
  • (ঘ) পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু

সঠিক উত্তর: (ঘ) পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু

ব্যাখ্যা: অলচিকি লিপির স্রষ্টা এবং সাঁওতালী ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে অসামান্য অবদানের জন্য পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মুকে সাঁওতাল সমাজ শ্রদ্ধার সঙ্গে ‘গুরু গোমকে’ (মহান শিক্ষক) উপাধিতে ভূষিত করেছে।

81. সাঁওতাল পরগণার পূর্ব নাম কী ছিল?

  • (ক) দামিন-ই-কোহ
  • (খ) ছোটনাগপুর
  • (গ) জঙ্গল মহল
  • (ঘ) রাঢ়বঙ্গ

সঠিক উত্তর: (ক) দামিন-ই-কোহ

ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ আমলে রাজমহল পাহাড়ের পাদদেশের এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে ‘দামিন-ই-কোহ’ (পাহাড়ের প্রান্তদেশ) বলা হতো, যা পরবর্তীকালে সাঁওতাল বিদ্রোহের পর সাঁওতাল পরগণা নামে পরিচিত হয়।

82. “আতু” শব্দের অর্থ কী?

  • (ক) শহর
  • (খ) গ্রাম
  • (গ) নদী
  • (ঘ) পাহাড়

সঠিক উত্তর: (খ) গ্রাম

ব্যাখ্যা: সাঁওতালী ভাষায় ‘আতু’ শব্দের অর্থ হলো গ্রাম।

83. সাঁওতালী সংখ্যা গণনায় ‘মিৎ’ (mit’) বলতে কত বোঝায়?

  • (ক) দশ
  • (খ) পাঁচ
  • (গ) দুই
  • (ঘ) এক

সঠিক উত্তর: (ঘ) এক

ব্যাখ্যা: সাঁওতালী সংখ্যা গণনায় ১ = মিৎ, ২ = বার, ৩ = পে, ৪ = পুন, ৫ = মঁড়ে।

84. সাঁওতালী ভাষার প্রথম উপন্যাস কোনটি?

  • (ক) হড়মвак আতু
  • (খ) বিরসা মুন্ডা
  • (গ) কারাম বিনতি
  • (ঘ) সারি ধরম

সঠিক উত্তর: (ক) হড়মвак আতু

ব্যাখ্যা: আর. কার্সটেয়ার্স-এর লেখা ‘Harma’s Village’-এর সাঁওতালী অনুবাদ ‘হড়মвак আতু’-কে সাঁওতালী ভাষার প্রথম উপন্যাস হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হয়।

85. ‘বোঙ্গা’ শব্দের দ্বারা সাঁওতালী সংস্কৃতিতে কী বোঝানো হয়?

  • (ক) অশুভ আত্মা
  • (খ) দেবতা বা পবিত্র শক্তি
  • (গ) পূর্বপুরুষ
  • (ঘ) গ্রাম প্রধান

সঠিক উত্তর: (খ) দেবতা বা পবিত্র শক্তি

ব্যাখ্যা: ‘বোঙ্গা’ শব্দটি সাঁওতালদের ধর্মবিশ্বাসে দেবতা, আত্মা বা অলৌকিক শক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। মারাং বুরু, জাহের এরা প্রমুখ প্রধান বোঙ্গা।

86. সাঁওতালী ভাষায় দ্বিবচন (Dual number) বোঝাতে সাধারণত কোন প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়?

  • (ক) -কো
  • (খ) -কিন
  • (গ) -রেন
  • (ঘ) -তে

সঠিক উত্তর: (খ) -কিন

ব্যাখ্যা: সর্বনাম ও বিশেষ্যের সাথে ‘-কিন’ প্রত্যয় যোগ করে দ্বিবচন বোঝানো হয়। যেমন: হড় (একজন মানুষ), হড়কিন (দুজন মানুষ)।

87. সাঁওতালী ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকার নাম কী?

  • (ক) দিশম খবর
  • (খ) হড় সম্বাদ
  • (গ) ফাগুন
  • (ঘ) এভেন

সঠিক উত্তর: (ক) দিশম খবর

ব্যাখ্যা: সাঁওতালী ভাষার প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র হলো ‘দিশম খবর’, যা অলচিকি লিপিতে প্রকাশিত হয়।

88. সাঁওতালী ভাষায় করণ কারক (Instrumental Case) বোঝাতে কোন অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়?

  • (ক) -রে
  • (খ) -খোন
  • (গ) -তে, -তেৎ
  • (ঘ) -লাগিৎ

সঠিক উত্তর: (গ) -তে, -তেৎ

ব্যাখ্যা: ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’ বা ‘কর্তৃক’ অর্থ বোঝাতে বিশেষ্যের পরে ‘-তে’ বা ‘-তেৎ’ অনুসর্গ যুক্ত হয়। যেমন: ‘টাঙা তেৎ’ (কুঠার দিয়ে)।

89. ‘অল’ শব্দের অর্থ কী?

  • (ক) পড়া
  • (খ) লেখা
  • (গ) দেখা
  • (ঘ) শোনা

সঠিক উত্তর: (খ) লেখা

ব্যাখ্যা: সাঁওতালী ভাষায় ‘অল’ শব্দের অর্থ হলো লেখা। এই ‘অল’ (লেখা) এবং ‘চিকি’ (লিপি) শব্দ দুটি মিলেই ‘অলচিকি’ নামটি তৈরি হয়েছে, যার অর্থ ‘লেখার লিপি’।

90. ভারতের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সাঁওতালী ভাষায় স্নাতকোত্তর (MA) কোর্স চালু হয়?

  • (ক) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  • (খ) বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  • (গ) সিধু-কানহু-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়, পুরুলিয়া
  • (ঘ) রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়

সঠিক উত্তর: (গ) সিধু-কানহু-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়, পুরুলিয়া

ব্যাখ্যা: পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ায় অবস্থিত সিধু-কানহু-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সাঁওতালী ভাষায় পূর্ণাঙ্গ স্নাতকোত্তর কোর্স চালু হয়, যা এই ভাষার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় একটি মাইলফলক।

91. সাঁওতাল বিদ্রোহ (হুল) কত সালে হয়েছিল?

  • (ক) ১৮৫৭
  • (খ) ১৮৫৫
  • (গ) ১৯০০
  • (ঘ) ১৭৯৩

সঠিক উত্তর: (খ) ১৮৫৫

ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ শাসন ও স্থানীয় জমিদার-মহাজনদের শোষণের বিরুদ্ধে সিধু ও কানহুর নেতৃত্বে ১৮৫৫ সালে সাঁওতাল বিদ্রোহ বা ‘হুল’ সংঘটিত হয়।

92. সাঁওতালী বর্ণমালায় ‘গ’ (g) ধ্বনির জন্য কোন বর্ণটি ব্যবহৃত হয়?

  • (ক) ᱜ (AG)
  • (খ) ᱠ (OK)
  • (গ) ᱪ (UCH)
  • (ঘ) ᱫ (UD)

সঠিক উত্তর: (ক) ᱜ (AG)

ব্যাখ্যা: অলচিকি লিপিতে ‘গ’ ধ্বনির জন্য ᱜ (AG) বর্ণটি ব্যবহৃত হয়।

93. “এন” (en) শব্দটি সাঁওতালী বাক্যে কী হিসাবে কাজ করে?

  • (ক) অনুসর্গ
  • (খ) নির্দেশক
  • (গ) সংযোজক অব্যয় (এবং)
  • (ঘ) না-সূচক অব্যয়

সঠিক উত্তর: (গ) সংযোজক অব্যয় (এবং)

ব্যাখ্যা: ‘এন’ বা ‘আর’ শব্দটি দুটি পদ বা বাক্যকে যুক্ত করার জন্য ‘এবং’ (and) এর মতো সংযোজক অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

94. অলচিকি লিপি কবে ইউনিকোড (Unicode) স্ট্যান্ডার্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়?

  • (ক) ১৯৯৯
  • (খ) ২০০৩
  • (গ) ২০০৮
  • (ঘ) ২০১২

সঠিক উত্তর: (গ) ২০০৮

ব্যাখ্যা: ২০০৮ সালের এপ্রিলে ইউনিকোড সংস্করণ ৫.১-এ অলচিকি লিপিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা ডিজিটাল মাধ্যমে এই লিপির ব্যবহারকে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি দেয়।

95. ‘দং’ কী?

  • (ক) সাঁওতালী লোককথা
  • (খ) সাঁওতালী লোকগীতি
  • (গ) সাঁওতালী ধাঁধা
  • (ঘ) সাঁওতালী প্রবাদ

সঠিক উত্তর: (খ) সাঁওতালী লোকগীতি

ব্যাখ্যা: ‘দং’ হলো সাঁওতালী লোকগীতি যা বিভিন্ন পরব বা অনুষ্ঠানে নাচের সাথে গাওয়া হয়।

96. ‘বাহা পরব’ কোন ঋতুতে পালিত হয়?

  • (ক) শরৎ
  • (খ) শীত
  • (গ) বর্ষা
  • (ঘ) বসন্ত

সঠিক উত্তর: (ঘ) বসন্ত

ব্যাখ্যা: ‘বাহা’ শব্দের অর্থ ফুল। বসন্তকালে যখন গাছে গাছে নতুন ফুল ফোটে, তখন প্রকৃতির উপাসনা হিসেবে ‘বাহা পরব’ বা ফুল উৎসব পালন করা হয়।

97. সাঁওতালী ভাষার কোন বৈশিষ্ট্যটি দ্রাবিড় ভাষার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ?

  • (ক) SOV পদক্রম
  • (খ) প্রত্যয় সংযোগপ্রধান প্রকৃতি (Agglutination)
  • (গ) লিঙ্গের অনুপস্থিতি (জড় বস্তুর)
  • (ঘ) উপরের সবকটি

সঠিক উত্তর: (ঘ) উপরের সবকটি

ব্যাখ্যা: যদিও সাঁওতালী অস্ট্রো-এশিয়াটিক এবং দ্রাবিড় ভাষা ভিন্ন বংশের, দীর্ঘকাল পাশাপাশি অবস্থানের কারণে তাদের মধ্যে কিছু ভাষাগত সাদৃশ্য তৈরি হয়েছে, যেমন – SOV পদক্রম, প্রত্যয় ব্যবহারের প্রবণতা এবং জড় পদার্থের লিঙ্গহীনতা।

98. সাঁওতালী সমাজে গ্রাম-প্রধানকে কী বলা হয়?

  • (ক) নাইকে
  • (খ) মাঝি
  • (গ) পারানিক
  • (ঘ) গোডেৎ

সঠিক উত্তর: (খ) মাঝি

ব্যাখ্যা: সাঁওতালদের ঐতিহ্যবাহী গ্রাম পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় (মাঝি পারগানা মহল) গ্রাম-প্রধানকে ‘মাঝি’ বা ‘মাঝি হাড়াম’ বলা হয়।

99. ‘লাগাড়ে’ কী?

  • (ক) একটি সাঁওতালী পরব
  • (খ) এক প্রকার সাঁওতালী নাচ ও গান
  • (গ) একটি অস্ত্র
  • (ঘ) একটি পোশাক

সঠিক উত্তর: (খ) এক প্রকার সাঁওতালী নাচ ও গান

ব্যাখ্যা: ‘লাগাড়ে’ সাঁওতালদের একটি জনপ্রিয় সমবেত নৃত্য ও গীত, যা সাধারণত বিভিন্ন আনন্দ অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয়।

100. অলচিকি লিপির কোন বর্ণটি ‘চেক্’ (checked) বা অর্ধ-উচ্চারিত ধ্বনিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়?

  • (ক) ᱷ (OH)
  • (খ) ৎ (AWD)
  • (গ) ঁ (MU)
  • (ঘ) ্ (Ahad)

সঠিক উত্তর: (ঘ) ্ (Ahad)

ব্যাখ্যা: অলচিকি লিপিতে ‘অহৎ’ (Ahad) বা ‘পারহাড’ চিহ্নটি (দেখতে অনেকটা হসন্তের মতো) কোনো ব্যঞ্জনের শেষে বসে তার অর্ধ-উচ্চারিত বা checked রূপ বোঝায়। যেমন: ᱫ + ্ = ᱫ୍ (d)।

Scroll to Top