১. সিন্ধু সভ্যতার কোন কেন্দ্র থেকে তামার তৈরি একটি রথের (Copper Chariot) নিদর্শন পাওয়া গেছে?
সঠিক উত্তর: (B) দাইমাবাদ
বিশ্লেষণ: মহারাষ্ট্রের আহমেদনগর জেলায় অবস্থিত সিন্ধু সভ্যতার সর্বদক্ষিণের কেন্দ্র দাইমাবাদ (Daimabad) থেকে ব্রোঞ্জ বা তামার তৈরি একটি রথ এবং দুটি ষাঁড়ের মূর্তি পাওয়া গেছে।
২. সিন্ধু সভ্যতার একমাত্র কোন কেন্দ্রটি আফগানিস্তানে অবস্থিত?
সঠিক উত্তর: (A) শোরতুগাই
বিশ্লেষণ: সিন্ধু সভ্যতার উত্তরতম সীমানার কাছাকাছি আফগানিস্তানের শোরতুগাই (Shortugai) এবং মুণ্ডিগাক হলো হরপ্পান সংস্কৃতির দুটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র বা উপনিবেশ।
৩. বৈদিক যুগে ‘অসিকনী’ (Asikni) নামে কোন নদী পরিচিত ছিল?
সঠিক উত্তর: (D) চেনাব
বিশ্লেষণ: ঋগ্বেদে উল্লেখিত অসিকনী নদীটি বর্তমানে চেনাব বা চন্দ্রভাগা নামে পরিচিত। (ঝিলামের নাম ছিল বিতস্তা, শতদ্রুর সুতুদ্রি এবং বিপাশার নাম ছিল বিয়াস)।
৪. বৈদিক সাহিত্যের শেষ ভাগ ‘বেদান্ত’ (Vedanta) বলতে মূলত কোনটিকে বোঝায়?
সঠিক উত্তর: (C) উপনিষদ
বিশ্লেষণ: বেদের অন্তিম বা শেষ ভাগ হওয়ার কারণে উপনিষদগুলিকে ‘বেদান্ত’ বলা হয়। এগুলি মূলত হিন্দু দর্শনের মূল ভিত্তি এবং আধ্যাত্মিক জ্ঞানের আধার।
৫. জৈন ধর্মে ২২তম তীর্থঙ্কর কে ছিলেন, যাঁকে শ্রীকৃষ্ণের সমসাময়িক বলে মনে করা হয়?
সঠিক উত্তর: (B) নেমিনাথ (অরিস্টনেমি)
বিশ্লেষণ: জৈনদের ২২তম তীর্থঙ্কর ছিলেন নেমিনাথ বা অরিস্টনেমি। হিন্দু পুরাণ এবং জৈন ঐতিহ্য অনুসারে তিনি শ্রীকৃষ্ণের জ্ঞাতি ভাই ছিলেন। তাঁর প্রতীক হলো শঙ্খ।
৬. মৌর্য সম্রাট অশোক কোন বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়ে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: (A) উপগুপ্ত
বিশ্লেষণ: কলিঙ্গ যুদ্ধের পর অনুতপ্ত অশোক বিখ্যাত বৌদ্ধ সন্ন্যাসী উপগুপ্তের (Upagupta) সংস্পর্শে এসে বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হন।
৭. মৌর্য শাসনব্যবস্থায় ‘কণ্টকশোধন’ (Kantakashodhana) বলতে কী বোঝানো হতো?
সঠিক উত্তর: (C) ফৌজদারি আদালত
বিশ্লেষণ: কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র অনুযায়ী মৌর্য যুগে দু’ধরনের বিচারালয় ছিল— ‘ধর্মস্থীয়’ (দেওয়ানি বা Civil Court) এবং ‘কণ্টকশোধন’ (ফৌজদারি বা Criminal Court)।
৮. প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত রাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ক গ্রন্থ ‘অর্থশাস্ত্র’ (Arthashastra) কে রচনা করেন?
সঠিক উত্তর: (B) কৌটিল্য (চাণক্য)
বিশ্লেষণ: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ও গুরু চাণক্য বা কৌটিল্য (বিষ্ণুগুপ্ত) সংস্কৃত ভাষায় ‘অর্থশাস্ত্র’ রচনা করেন, যা থেকে মৌর্য প্রশাসন ও রাষ্ট্রনীতির ধারণা পাওয়া যায়।
৯. শুঙ্গ বংশের শেষ রাজা দেবভূতিকে হত্যা করে মগধে কে ‘কণ্ব বংশ’ (Kanva Dynasty) প্রতিষ্ঠা করেন?
সঠিক উত্তর: (B) বাসুদেব কণ্ব
বিশ্লেষণ: ৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে শুঙ্গ বংশের শেষ রাজা দেবভূতি তাঁর ব্রাহ্মণ মন্ত্রী বাসুদেব কণ্বের চক্রান্তে নিহত হন এবং বাসুদেব মগধে কণ্ব বংশের পত্তন করেন।
১০. প্রাচীন ভারতে প্রথম কারা ব্যাপকভাবে স্বর্ণমুদ্রার (Gold Coins) প্রচলন করেছিল?
সঠিক উত্তর: (C) ইন্দো-গ্রিকরা
বিশ্লেষণ: ভারতের ইতিহাসে ইন্দো-গ্রিক বা ব্যাক্ট্রীয় গ্রিকরাই প্রথম রাজাদের নাম ও প্রতিকৃতি সম্বলিত সোনার মুদ্রা (Gold coins) প্রচলন করেছিল। কুষাণরা সবচেয়ে খাঁটি স্বর্ণমুদ্রা চালু করে।
১১. কুষাণ সম্রাট কণিষ্কের রাজসভার প্রখ্যাত শল্যচিকিৎসক (Surgeon) কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: (B) সুশ্রুত
বিশ্লেষণ: প্রাচীন ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক এবং শল্যচিকিৎসার (Surgery) জনক সুশ্রুত কণিষ্কের সমসাময়িক ছিলেন। তিনি ‘সুশ্রুত সংহিতা’ রচনা করেন। চরক ছিলেন আয়ুর্বেদ চিকিৎসক।
১২. কোন গুপ্ত সম্রাট শকদের পরাজিত করে ‘শকারি’ উপাধি ধারণ করেন এবং গুপ্ত সাম্রাজ্যে প্রথম রৌপ্যমুদ্রা চালু করেন?
সঠিক উত্তর: (C) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
বিশ্লেষণ: গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত (বিক্রমাদিত্য) পশ্চিম ভারতের শক ক্ষত্রপদের পরাজিত করে শকারি উপাধি নেন এবং শকদের অনুকরণে রৌপ্যমুদ্রা (রূপক) প্রচলন করেন।
১৩. বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক বিশ্বকোষ ‘বৃহৎ সংহিতা’ (Brihat Samhita) কে রচনা করেন?
সঠিক উত্তর: (C) বরাহমিহির
বিশ্লেষণ: দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজসভার নবরত্নের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও গণিতজ্ঞ বরাহমিহির ‘বৃহৎ সংহিতা’ এবং ‘পঞ্চসিদ্ধান্তিকা’ গ্রন্থ দুটি রচনা করেন।
১৪. তামিলনাড়ুর মহাবলীপুরমের বিখ্যাত ‘শোর টেম্পল’ (Shore Temple) কোন পল্লব রাজা নির্মাণ করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: (B) দ্বিতীয় নরসিংহবর্মণ (রাজসিংহ)
বিশ্লেষণ: পল্লব স্থাপত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন মহাবলীপুরমের শোর টেম্পল (উপকূলীয় মন্দির) অষ্টম শতাব্দীতে রাজা দ্বিতীয় নরসিংহবর্মণ (যাঁর উপাধি ছিল রাজসিংহ) নির্মাণ করেছিলেন।
১৫. অষ্টম শতাব্দীতে বাংলায় মাৎস্যন্যায়-এর অবসানের পর পাল বংশের প্রতিষ্ঠা কে করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: (C) গোপাল
বিশ্লেষণ: শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় প্রায় এক শতাব্দী ধরে চলা অরাজকতা বা ‘মাৎস্যন্যায়’-এর অবসান ঘটিয়ে ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার প্রকৃতিপুঞ্জ (জনগণ বা নেতৃবৃন্দ) গোপালকে রাজা নির্বাচন করেন এবং পাল বংশের সূচনা হয়।
১৬. কনৌজ দখলের জন্য ত্রিশক্তি বা ত্রিপাক্ষিক সংগ্রামে (Tripartite Struggle) কোন রাষ্ট্রকূট রাজা প্রথম উত্তর ভারত আক্রমণ করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: (B) ধ্রুব
বিশ্লেষণ: অষ্টম শতাব্দীর শেষভাগে রাষ্ট্রকূট রাজা ধ্রুব (Dhruva) দাক্ষিণাত্য থেকে এসে প্রথম উত্তর ভারতে আক্রমণ চালান এবং প্রতিহার রাজা বৎসরাজ ও পাল রাজা ধর্মপালকে পরাজিত করেন।
১৭. সেন বংশের কোন রাজার সভাকবি ছিলেন ‘পবনদূত’ কাব্যের রচয়িতা ধোয়ী?
সঠিক উত্তর: (C) লক্ষ্মণ সেন
বিশ্লেষণ: সেন বংশের শেষ স্বাধীন হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজসভায় জয়দেব (গীতগোবিন্দম), ধোয়ী (পবনদূত), হলায়ুধ, উমাপতি ধর ও শরণ প্রমুখ পণ্ডিতরা বিরাজ করতেন, যাঁরা ‘পঞ্চরত্ন’ নামে পরিচিত ছিলেন।
১৮. গুজরাটের বিখ্যাত ‘মোধেরা সূর্য মন্দির’ (Sun Temple of Modhera) কোন রাজবংশের আমলে নির্মিত?
সঠিক উত্তর: (C) চালুক্য বা সোলাঙ্কি বংশ
বিশ্লেষণ: একাদশ শতাব্দীতে (১০২৬-২৭) গুজরাটের চালুক্য বা সোলাঙ্কি রাজবংশের রাজা প্রথম ভীমদেবের রাজত্বকালে পুষ্পবতী নদীর তীরে মোধেরার এই চমৎকার সূর্য মন্দিরটি নির্মিত হয়।
১৯. গজনির সুলতান মাহমুদ (Mahmud of Ghazni) মোট কতবার ভারত আক্রমণ করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: (C) ১৭ বার
বিশ্লেষণ: বিখ্যাত ঐতিহাসিক স্যার হেনরি এলিয়টের মতে, সুলতান মাহমুদ ১০০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১০২৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মোট ১৭ বার ভারত আক্রমণ ও লুণ্ঠন করেন। তাঁর সবচেয়ে বড় আক্রমণ ছিল সোমনাথ মন্দির লুণ্ঠন (১০২৫)।
২০. ৭১২ খ্রিস্টাব্দে আরবরা যখন প্রথম সফলভাবে সিন্ধু জয় করে, তখন সিন্ধুর রাজা কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: (B) রাজা দাহির
বিশ্লেষণ: ৭১২ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে আরবরা সিন্ধু আক্রমণ করে। সেই সময় সিন্ধুর ব্রাহ্মণ বংশীয় হিন্দু রাজা ছিলেন দাহির, যিনি রাওয়ারের যুদ্ধে লড়াই করে মৃত্যুবরণ করেন।
২১. দাস বংশের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবউদ্দিন আইবক ১২১০ খ্রিস্টাব্দে কীভাবে মারা যান?
সঠিক উত্তর: (C) চৌগান (Polo) খেলার সময় ঘোড়া থেকে পড়ে
বিশ্লেষণ: ১২১০ সালে লাহোরে চৌগান বা পোলো খেলার সময় ঘোড়ার পিঠ থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে কুতুবউদ্দিন আইবকের মৃত্যু হয়।
২২. দিল্লি সুলতানিতে কোন সুলতান ‘ইকতা’ (Iqta) প্রথাকে বংশানুক্রমিক করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: (D) ফিরোজ শাহ তুঘলক
বিশ্লেষণ: ইকতা প্রথা ভারতে ইলতুৎমিস প্রথম চালু করলেও, ফিরোজ শাহ তুঘলক অভিজাতদের তুষ্ট করার জন্য এই প্রথাকে বংশানুক্রমিক (Hereditary) করে দেন।
২৩. আলাউদ্দিন খলজির সেনাপতি মালিক কাফুর দাক্ষিণাত্য অভিযানে প্রথম কোন হিন্দু রাজ্য জয় করেন?
সঠিক উত্তর: (C) দেবগিরির যাদব রাজ্য
বিশ্লেষণ: ১৩০৭-০৮ সালে মালিক কাফুরের নেতৃত্বে খলজি বাহিনী প্রথম দেবগিরি আক্রমণ করে যাদব রাজা রামচন্দ্র দেবকে পরাজিত করে এবং তাঁকে দিল্লির করদ রাজ্যে পরিণত করে।
২৪. দিল্লি সুলতানির কোন সুলতান কৃষকদের সাহায্যার্থে প্রথম ‘তকাভি’ (Taqavi) বা কৃষিঋণ প্রদান করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: (C) মোহাম্মদ বিন তুঘলক
বিশ্লেষণ: মোহাম্মদ বিন তুঘলক কৃষির উন্নতির জন্য ‘দিওয়ান-ই-কোহি’ গঠন করেন এবং দোয়াব অঞ্চলে কৃষকদের বীজ, বলদ ও সেচের জন্য ‘সন্দার’ বা ‘তকাভি’ নামক কৃষিঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
২৫. ধ্বংসপ্রাপ্ত বিজয়নগর সাম্রাজ্যের নিদর্শন বর্তমানে কর্ণাটকের কোন শহরে দেখতে পাওয়া যায়?
সঠিক উত্তর: (B) হাম্পি
বিশ্লেষণ: তুঙ্গভদ্রা নদীর তীরে অবস্থিত প্রাচীন বিজয়নগরের রাজধানী ছিল বর্তমান হাম্পি (Hampi)। ১৫৬৫ সালে তালিকোটার যুদ্ধের পর এই শহরটি সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, যা বর্তমানে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট।
২৬. ১৫২৬ সালে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবর তাঁর সেনাবাহিনীতে কোন বিশেষ রণকৌশল ব্যবহার করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: (B) তুলঘুমা (Tulughma)
বিশ্লেষণ: বাবর উজবেকদের কাছ থেকে ‘তুলঘুমা’ (শত্রুকে দু’পাশ থেকে ঘিরে ফেলার কৌশল) এবং অটোমানদের কাছ থেকে ‘রুমী’ (কামান সাজানোর কৌশল) রণকৌশল শিখেছিলেন এবং পানিপথের যুদ্ধে এর সফল প্রয়োগ করেন।
২৭. ১৫৫৫ সালে কোন যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে হুমায়ুন পুনরায় দিল্লির সিংহাসন পুনরুদ্ধার করেন?
সঠিক উত্তর: (C) সিরহিন্দের যুদ্ধ (Battle of Sirhind)
বিশ্লেষণ: ১৫ বছরের নির্বাসনের পর বৈরাম খাঁর সাহায্যে হুমায়ুন ১৫৫৫ সালে সিরহিন্দের যুদ্ধে আফগান শাসক সিকান্দার শাহ সুরিকে পরাজিত করে পুনরায় দিল্লির সিংহাসন লাভ করেন।
২৮. আফগান সম্রাট শেরশাহ সুরি যে উন্নত মানের রৌপ্যমুদ্রা (Silver Coin) প্রচলন করেছিলেন, তার নাম কী ছিল?
সঠিক উত্তর: (C) রুপিয়া (Rupiya)
বিশ্লেষণ: শেরশাহ সুরি একটি সুনির্দিষ্ট মুদ্রা ব্যবস্থা চালু করেন। তাঁর প্রবর্তিত ১৭৮ গ্রেন ওজনের রৌপ্যমুদ্রার নাম ছিল ‘রুপিয়া’, যা পরবর্তী মুঘল ও ব্রিটিশ আমল পর্যন্ত ভারতের মানক মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। (তামার মুদ্রার নাম ছিল ‘দাম’)।
২৯. ১৫৭৬ সালে মেওয়ারের রানা প্রতাপ এবং মুঘলদের মধ্যে সংঘটিত হলদিঘাটের যুদ্ধে (Battle of Haldighati) মুঘল বাহিনীর প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: (C) রাজা মানসিংহ
বিশ্লেষণ: হলদিঘাটের যুদ্ধে মুঘল সম্রাট আকবর নিজে উপস্থিত ছিলেন না, তাঁর বিশাল বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অম্বরের রাজপুত রাজা মানসিংহ এবং আসফ খান।
৩০. আকবরের প্রবর্তিত ‘মনসবদারি’ (Mansabdari) প্রথায় ‘মনসব’ (Mansab) শব্দটির অর্থ কী?
সঠিক উত্তর: (C) পদ বা পদমর্যাদা (Rank/Position)
বিশ্লেষণ: আরবি শব্দ ‘মনসব’ এর অর্থ হলো পদ বা র্যাঙ্ক (Rank)। মুঘল সাম্রাজ্যের সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারীদের মর্যাদা এই মনসব দ্বারাই নির্ধারিত হতো। এর দুটি ভাগ ছিল— ‘জাট’ (Zat) এবং ‘সওয়ার’ (Sawar)।
৩১. কোন মুঘল সম্রাট সাম্রাজ্যে তামাক (Tobacco) ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: (B) জাহাঙ্গীর
বিশ্লেষণ: ১৬০৪-০৫ সাল নাগাদ পর্তুগিজরা ভারতে তামাক চাষ শুরু করে। জাহাঙ্গীরের আমলে তামাক সেবন এতই ব্যাপক আকার ধারণ করে যে, ১৬১৭ সালে তিনি একটি নির্দেশিকা জারি করে তামাক খাওয়া নিষিদ্ধ করেন।
৩২. কোন বিখ্যাত ফরাসি পর্যটক ও চিকিৎসক শাহজাহান ও ঔরঙ্গজেবের রাজত্বকালে ভারতে এসেছিলেন?
সঠিক উত্তর: (B) ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার (François Bernier)
বিশ্লেষণ: ফরাসি চিকিৎসক ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার ১৬৫৬ থেকে ১৬৬৮ সাল পর্যন্ত ভারতে ছিলেন। তিনি শাহজাহানের জ্যেষ্ঠ পুত্র দারা শিকোহের চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছেন এবং মুঘল উত্তরাধিকার যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণ লিখেছেন।
৩৩. মারাঠা সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছত্রপতি শিবাজীর রাজধানী কোথায় ছিল?
সঠিক উত্তর: (C) রায়গড়
বিশ্লেষণ: ১৬৭৪ সালে শিবাজীর রাজ্যাভিষেক হয় তাঁর দুর্ভেদ্য রায়গড় (Raigad) দুর্গে এবং এটিকেই তিনি তাঁর মারাঠা সাম্রাজ্যের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন।
৩৪. শিখদের কোন গুরু গুরুমুখী (Gurmukhi) লিপির প্রচলন করেন?
সঠিক উত্তর: (B) গুরু অঙ্গদ
বিশ্লেষণ: শিখ ধর্মের দ্বিতীয় গুরু অঙ্গদ দেব গুরু নানকের বাণীগুলিকে সংরক্ষণের জন্য পাঞ্জাবি ভাষার জন্য ‘গুরুমুখী’ (গুরুর মুখ থেকে নিসৃত) লিপির প্রমিতকরণ ও প্রচলন করেন।
৩৫. পাঞ্জাবের বিখ্যাত ‘আনন্দপুর সাহিব’ (Anandpur Sahib) শহরটি কে প্রতিষ্ঠা করেন?
সঠিক উত্তর: (B) গুরু তেগ বাহাদুর
বিশ্লেষণ: শিখদের নবম গুরু তেগ বাহাদুর ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে হিমালয়ের পাদদেশে ‘চাক নানকি’ নামে একটি শহর প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরে আনন্দপুর সাহিব নামে পরিচিত হয়। এখানেই ১৬৯৯ সালে গুরু গোবিন্দ সিং ‘খালসা’ প্রতিষ্ঠা করেন।
৩৬. ঔরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর কোন পরবর্তী মুঘল সম্রাটকে ‘শাহ-ই-বেখবর’ (Shah-i-Bekhabar) বলা হতো?
সঠিক উত্তর: (A) প্রথম বাহাদুর শাহ
বিশ্লেষণ: ঔরঙ্গজেবের পুত্র প্রথম বাহাদুর শাহ (পূর্বনাম মুয়াজ্জম) রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসনের ব্যাপারে অত্যন্ত উদাসীন ছিলেন বলে ঐতিহাসিক খাফি খাঁ তাঁকে ‘শাহ-ই-বেখবর’ বা ‘Heedless King’ আখ্যা দিয়েছিলেন।
৩৭. অষ্টাদশ শতাব্দীতে স্বাধীন অযোধ্যা (Awadh) রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: (B) সাদাত খান (বুরহান-উল-মুলক)
বিশ্লেষণ: মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের যুগে ১৭২২ সালে সাদাত খান (যাঁর উপাধি ছিল বুরহান-উল-মুলক) অযোধ্যার সুবেদার নিযুক্ত হন এবং পরে নিজেকে স্বাধীন শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
৩৮. ১৭২৪ সালে স্বাধীন হায়দ্রাবাদ (Hyderabad) রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: (A) নিজাম-উল-মুলক আসফ জাহ (চিন কুলিজ খান)
বিশ্লেষণ: মুঘল দরবারের শক্তিশালী আমির চিন কুলিজ খান (যাঁর উপাধি ছিল নিজাম-উল-মুলক আসফ জাহ) ১৭২৪ সালে দাক্ষিণাত্যে স্বাধীন হায়দ্রাবাদ রাজ্য বা আসফ জাহি রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
৩৯. নিম্নলিখিত কোন ফসলগুলি পর্তুগিজরা প্রথম ভারতে নিয়ে এসেছিল?
সঠিক উত্তর: (B) তামাক, আলু ও কাজুবাদাম
বিশ্লেষণ: ষোড়শ শতাব্দীতে পর্তুগিজ নাবিকরা দক্ষিণ আমেরিকা ও অন্যান্য জায়গা থেকে ভারতে তামাক, আলু, টমেটো, কাজুবাদাম, পেঁপে, আনারস, লঙ্কা ইত্যাদি নতুন ফসলের চাষ প্রবর্তন করে।
৪০. ১৭৫৬ সালে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা দখল করে এর নাম কী রেখেছিলেন?
সঠিক উত্তর: (C) আলিনগর
বিশ্লেষণ: ১৭৫৬ সালের ২০শে জুন সিরাজউদ্দৌলা ব্রিটিশদের বিতাড়িত করে কলকাতা দখল করেন এবং তাঁর দাদু আলিবর্দী খাঁর নামানুসারে কলকাতার নাম রাখেন ‘আলিনগর’।
৪১. লর্ড কর্নওয়ালিস প্রবর্তিত ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ (Permanent Settlement)-এর সাথে যুক্ত ‘সূর্যাস্ত আইন’ (Sunset Law) কী ছিল?
সঠিক উত্তর: (B) নির্দিষ্ট দিনের সূর্যাস্তের আগে জমিদারকে রাজস্ব জমা দিতে হতো
বিশ্লেষণ: ১৭৯৪ সালের সূর্যাস্ত আইন অনুযায়ী, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে জমিদারদের বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনের সূর্যাস্তের আগে কোম্পানির কোষাগারে রাজস্ব জমা দিতে হতো, নাহলে জমিদারি বাজেয়াপ্ত করা হতো।
৪২. কোন চার্টার আইনের (Charter Act) মাধ্যমে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভারতের সাথে একচেটিয়া বাণিজ্যের অধিকার (Trade Monopoly) অবলুপ্ত করা হয়?
সঠিক উত্তর: (B) ১৮১৩ সালের চার্টার আইন
বিশ্লেষণ: ১৮১৩ সালের চার্টার আইনের দ্বারা ভারতে কোম্পানির একচেটিয়া বাণিজ্য বাতিল করা হয় এবং সকল ব্রিটিশ ব্যবসায়ীর জন্য ভারতের দরজা খুলে দেওয়া হয় (কেবলমাত্র চা এবং চীনের সাথে বাণিজ্যে মনোপলি ছিল)।
৪৩. লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতির (Doctrine of Lapse) মাধ্যমে কবে ঝাঁসি (Jhansi) রাজ্যটি কোম্পানির সাম্রাজ্যভুক্ত করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: (C) ১৮৫৩
বিশ্লেষণ: ঝাঁসির রাজা গঙ্গাধর রাওয়ের মৃত্যুর পর লর্ড ডালহৌসি তাঁর দত্তক পুত্র দামোদর রাওয়ের উত্তরাধিকার অস্বীকার করেন এবং ১৮৫৩ সালে স্বত্ববিলোপ নীতির মাধ্যমে ঝাঁসি অধিকার করেন। এর জেরেই রানি লক্ষ্মীবাই ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহে যোগ দেন।
৪৪. ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের (Revolt of 1857) সময় আসামে কে ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন?
সঠিক উত্তর: (B) মণিরাম দেওয়ান
বিশ্লেষণ: আসামের প্রাক্তন অহোম রাজপরিবারের কন্দর্পেশ্বর সিংহকে রাজা করার উদ্দেশ্যে মণিরাম দেওয়ান (Maniram Dewan) এবং পিয়ালি বড়ুয়া সিপাহীদের সাহায্যে বিদ্রোহের পরিকল্পনা করেছিলেন। ১৮৫৮ সালে মণিরামের ফাঁসি হয়।
৪৫. ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর কোন আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে ভারতের শাসনভার সরাসরি মহারানি ভিক্টোরিয়ার হাতে তুলে দেয়?
সঠিক উত্তর: (A) ভারত শাসন আইন, ১৮৫৮ (Government of India Act 1858)
বিশ্লেষণ: বিদ্রোহের অবসানের পর ২রা আগস্ট ১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এই আইন পাস করে ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটায় এবং সরাসরি ব্রিটিশ ক্রাউন বা মহারানির শাসন শুরু হয়। ভাইসরয় পদের সৃষ্টি হয়।
৪৬. ১৮৭৮ সালে আনন্দমোহন বসু এবং শিবনাথ শাস্ত্রীর নেতৃত্বে ব্রাহ্ম সমাজ ভেঙে কোন নতুন সংগঠন তৈরি হয়?
সঠিক উত্তর: (C) সাধারণ ব্রাহ্ম সমাজ (Sadharan Brahmo Samaj)
বিশ্লেষণ: কেশবচন্দ্র সেন তাঁর নাবালিকা কন্যার বিবাহ কোচবিহারের মহারাজার সাথে দিলে তাঁর তরুণ অনুগামীরা (শিবনাথ শাস্ত্রী, আনন্দমোহন বসু প্রমুখ) ক্ষুব্ধ হয়ে ১৮৭৮ সালে ‘সাধারণ ব্রাহ্ম সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন।
৪৭. রাজা রামমোহন রায় তাঁর কোন গ্রন্থে প্রথম একেশ্বরবাদের (Monotheism) পক্ষে জোরালো যুক্তি দিয়েছিলেন?
সঠিক উত্তর: (B) তুহফাত-উল-মুওয়াহিদিন (Tuhfat-ul-Muwahhidin)
বিশ্লেষণ: ১৮০৩-০৪ সালে ফারসি ভাষায় (আরবি ভূমিকাসহ) প্রকাশিত ‘তুহফাত-উল-মুওয়াহিদিন’ বা ‘একেশ্বরবাদীদের প্রতি উপহার’ গ্রন্থে রামমোহন রায় প্রথম পৌত্তলিকতার বিরোধিতা করে একেশ্বরবাদের পক্ষে দাঁড়ান।
৪৮. মহারাষ্ট্রে নিম্নবর্ণের অধিকার রক্ষায় ‘সত্যশোধক সমাজ’-এর প্রতিষ্ঠাতা জ্যোতিবা ফুলে রচিত বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম কী?
সঠিক উত্তর: (B) গুলামগিরি (Gulamgiri)
বিশ্লেষণ: ১৮৭৩ সালে জ্যোতিরাও ফুলে (জ্যোতিবা ফুলে) ‘গুলামগিরি’ (যার অর্থ দাসত্ব) গ্রন্থটি রচনা করেন এবং এটি আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের দাসত্ব মুক্তির লড়াইয়ে অংশগ্রহণকারীদের উৎসর্গ করেন।
৪৯. সমাজ সংস্কার ও নারী শিক্ষার প্রসারে অসামান্য অবদানের জন্য কাকে ‘দক্ষিণ ভারতের বিদ্যাসাগর’ (Vidyasagar of South India) বলা হয়?
সঠিক উত্তর: (B) কান্দুকুরি বীরসালিঙ্গম পান্তুলু (K. Veeresalingam Pantulu)
বিশ্লেষণ: অন্ধ্রপ্রদেশের সমাজ সংস্কারক বীরসালিঙ্গম পান্তুলু দক্ষিণ ভারতে বিধবা বিবাহ, নারী শিক্ষা প্রসার এবং কুসংস্কার দূরীকরণে বিদ্যাসাগরের মতোই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
৫০. ১৮৩২-৩৩ সালে মেঘালয়ের খাসি (Khasi) উপজাতিদের ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহের নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?
সঠিক উত্তর: (C) উ তিরোৎ সিং (U Tirot Sing)
বিশ্লেষণ: খাসি, গারো ও জয়ন্তিয়া পাহাড়ে ব্রিটিশরা জোর করে রাস্তা বানাতে শুরু করলে খাসি উপজাতীয় সর্দার উ তিরোৎ সিংয়ের নেতৃত্বে প্রবল সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু হয়।
৫১. ১৮৭৩-৭৬ সালে বাংলার কোথায় ‘পাবনা কৃষক বিদ্রোহ’ (Pabna Peasant Uprising) সংঘটিত হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: (B) পাবনার ইউসুফশাহী পরগনায় (Yusufshahi Pargana)
বিশ্লেষণ: জমিদারদের অতিরিক্ত খাজনা ও বেআইনি কর আদায়ের প্রতিবাদে ১৮৭৩ সালে বাংলার পাবনা জেলার (বর্তমান বাংলাদেশ) ইউসুফশাহী পরগনায় কৃষকরা ‘কৃষক লিগ’ (Agrarian League) গঠন করে অহিংস ও আইনি বিদ্রোহ শুরু করে। ঈশানচন্দ্র রায় এর অন্যতম নেতা ছিলেন।
৫২. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার পূর্বে ১৮৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘মাদ্রাজ মহাজন সভা’ (Madras Mahajana Sabha)-র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: (B) জি. সুব্রহ্মণ্য আয়ার (G. Subramania Iyer)
বিশ্লেষণ: দক্ষিণ ভারতে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ১৮৮৪ সালে এম. বীররাঘবাচারিয়ার, জি. সুব্রহ্মণ্য আয়ার এবং পি. আনন্দ চার্লু মাদ্রাজ মহাজন সভা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
৫৩. ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের (INC) প্রতিষ্ঠার সময় এর প্রথম সাধারণ সম্পাদক (General Secretary) কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: (C) অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম (A. O. Hume)
বিশ্লেষণ: একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ সিভিল সার্ভেন্ট এ. ও. হিউম ছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের প্রধান রূপকার এবং প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ১৮৮৫ থেকে ১৯০৬ সাল পর্যন্ত এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
৫৪. জাতীয় কংগ্রেসের কোন অধিবেশনে (১৯১৬) চরমপন্থী ও নরমপন্থীদের মিলন এবং মুসলিম লীগের সাথে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তখন কংগ্রেসের সভাপতি কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: (B) অম্বিকাচরণ মজুমদার (Ambika Charan Majumdar)
বিশ্লেষণ: ১৯১৬ সালে লখনউ অধিবেশনে কংগ্রেসের দুই দলের পুনর্মিলন ঘটে এবং ‘লখনউ চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন অম্বিকাচরণ মজুমদার।
৫৫. ১৯০৫ সালের স্বদেশী ও বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত বিখ্যাত গান ‘আমার সোনার বাংলা’ কে রচনা করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: (C) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশ্লেষণ: বঙ্গভঙ্গের (১৯০৫) প্রতিবাদে অবিভক্ত বাংলার ঐক্যের প্রতীক হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কালজয়ী গানটি রচনা করেন। পরে ১৯৭১ সালে এটি স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয়।
৫৬. ১৯০৬ সালে বাংলায় চরমপন্থী ও বৈপ্লবিক মতবাদ প্রসারের জন্য ‘যুগান্তর’ (Jugantar) নামক বিখ্যাত পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠা কারা করেন?
সঠিক উত্তর: (A) বারীন্দ্রকুমার ঘোষ ও ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত
বিশ্লেষণ: অনুশীলন সমিতির একাংশের সদস্য, অরবিন্দ ঘোষের ভাই বারীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং স্বামী বিবেকানন্দের ভাই ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত ১৯০৬ সালে বৈপ্লবিক ‘যুগান্তর’ পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন। এই দলের নামই হয়ে যায় যুগান্তর দল।
৫৭. ১৯১২ সালে ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরের দিন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের ওপর কে বোমা নিক্ষেপ করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: (C) রাসবিহারী বসু ও বসন্ত কুমার বিশ্বাস
বিশ্লেষণ: ১৯১২ সালের ২৩শে ডিসেম্বর দিল্লির চাঁদনি চকে একটি হাতির পিঠে চড়ে যাওয়ার সময় লর্ড হার্ডিঞ্জের ওপর বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর পরিকল্পনায় বসন্ত কুমার বিশ্বাস বোমা ছোঁড়েন। হার্ডিঞ্জ আহত হলেও বেঁচে যান।
৫৮. ১৯১৭ সালে মহাত্মা গান্ধীকে চম্পারণে (বিহার) নীল চাষিদের দুর্দশা স্বচক্ষে দেখতে আসার জন্য কে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন?
সঠিক উত্তর: (B) রাজ কুমার শুক্লা (Raj Kumar Shukla)
বিশ্লেষণ: চম্পারণের তিনকাঠিয়া প্রথায় শোষিত এক কৃষক নেতা রাজ কুমার শুক্লা ১৯১৬ সালের লখনউ কংগ্রেসে গান্ধীজির সাথে দেখা করেন এবং তাঁকে চম্পারণে আসতে অনুরোধ করেন। এর ফলেই চম্পারণ সত্যাগ্রহ শুরু হয়।
৫৯. ১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কে ভাইসরয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল (Viceroy’s Executive Council) থেকে পদত্যাগ করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: (A) স্যার শঙ্করন নায়ার (Sir Shankaran Nair)
বিশ্লেষণ: অমৃতসরের মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমন ‘নাইট’ উপাধি ত্যাগ করেন, তেমনি স্যার শঙ্করন নায়ার ভাইসরয়ের কার্যনির্বাহী পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে প্রতিবাদ জানান।
৬০. ১৯১৯ সালের ২৩শে নভেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘নিখিল ভারত খিলাফত সম্মেলন’-এর (All India Khilafat Conference) সভাপতি কে নির্বাচিত হয়েছিলেন?
সঠিক উত্তর: (C) মহাত্মা গান্ধী
বিশ্লেষণ: হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের এক সুবর্ণ সুযোগ মনে করে মহাত্মা গান্ধী খিলাফত আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন দেন এবং তাঁকে ১৯১৯ সালে সর্বভারতীয় খিলাফত সম্মেলনের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
৬১. স্বরাজ্য দলের সদস্য হিসেবে ১৯২৫ সালে প্রথম ভারতীয় হিসেবে কে সেন্ট্রাল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলির (Central Legislative Assembly) সভাপতি (Speaker) নির্বাচিত হন?
সঠিক উত্তর: (C) বিঠলভাই প্যাটেল (Vithalbhai Patel)
বিশ্লেষণ: স্বরাজ্য দলের অন্যতম বড় রাজনৈতিক জয় ছিল ১৯২৫ সালে বল্লভভাই প্যাটেলের দাদা বিঠলভাই প্যাটেলের কেন্দ্রীয় আইনসভার প্রথম ভারতীয় স্পিকার বা সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়া।
৬২. ব্রিটিশ সরকার ১৯২৭ সালে কেন ‘সাইমন কমিশন’ (Simon Commission) গঠন করে ভারতে পাঠিয়েছিল?
সঠিক উত্তর: (B) ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের (Montagu-Chelmsford Reforms) পর্যালোচনা করতে
বিশ্লেষণ: ১৯১৯ সালের আইনের কার্যকারিতা দশ বছর পর পরীক্ষা করার কথা ছিল। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার নির্ধারিত সময়ের দু’বছর আগেই স্যার জন সাইমনের নেতৃত্বে এই কমিশন গঠন করে। এতে কোনো ভারতীয় সদস্য ছিল না।
৬৩. ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনের সময় তামিলনাড়ুতে লবণ সত্যাগ্রহের (বেদারণ্যম মার্চ) নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?
সঠিক উত্তর: (C) চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী (C. Rajagopalachari)
বিশ্লেষণ: গান্ধীজির ডান্ডি যাত্রার অনুকরণে দক্ষিণ ভারতে সি. রাজাগোপালাচারী ত্রিচিনোপল্লী থেকে তাঞ্জোর উপকূলের বেদারণ্যম পর্যন্ত পদযাত্রা করে লবণ আইন ভঙ্গ করেছিলেন।
৬৪. ১৯৩১ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে (Second Round Table Conference) ভারতীয় নারীদের হয়ে কে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: (B) সরোজিনী নাইডু (Sarojini Naidu)
বিশ্লেষণ: দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে কংগ্রেসের একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন মহাত্মা গান্ধী। তবে ভারতীয় মহিলাদের প্রতিনিধি হিসেবে সরোজিনী নাইডু এবং অ্যানি বেসান্তও (সরকার মনোনীত) এতে অংশ নেন।
৬৫. ১৯৩২ সালে গান্ধীজি ও আম্বেদকরের মধ্যে ‘পুনা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হওয়ার ফলে দলিতদের (Depressed Classes) জন্য প্রাদেশিক আইনসভায় সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৭১ থেকে বাড়িয়ে কত করা হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: (C) ১৪৭
বিশ্লেষণ: পুনা চুক্তির (Poona Pact) শর্ত অনুযায়ী পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার দাবি প্রত্যাহার করা হয়, তবে হিন্দু সমাজের ভেতরেই যৌথ নির্বাচন ব্যবস্থায় দলিতদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৭১ থেকে ১৪৭-এ বৃদ্ধি করা হয়।
৬৬. সুভাষচন্দ্র বসুকে ‘নেতাজি’ (Netaji) উপাধি কারা প্রদান করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: (C) জার্মানিতে অবস্থানরত ভারতীয় যুদ্ধবন্দি ও জার্মান সরকার
বিশ্লেষণ: ১৯৪১ সালে সুভাষচন্দ্র বসু যখন জার্মানিতে ফ্রি ইন্ডিয়া সেন্টার এবং ইন্ডিয়ান লিজিয়ন গঠন করেন, তখন সেখানকার ভারতীয় যুদ্ধবন্দিরা এবং জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রক তাঁকে সম্মান জানিয়ে প্রথম ‘নেতাজি’ বলে সম্বোধন করেন।
৬৭. ১৯৪২ সালের ‘ভারত ছাড়ো’ (Quit India) আন্দোলনের সময় গোপনে কংগ্রেস রেডিও (Underground Congress Radio) পরিচালনা কে করতেন?
সঠিক উত্তর: (B) উষা মেহতা (Usha Mehta)
বিশ্লেষণ: শীর্ষস্থানীয় নেতাদের গ্রেপ্তারের পর সাধারণ মানুষের কাছে আন্দোলনের বার্তা পৌঁছে দিতে রাম মনোহর লোহিয়া ও উষা মেহতা বোম্বাই থেকে একটি গোপন রেডিও স্টেশন চালু করেন যা ‘সিক্রেট কংগ্রেস রেডিও’ নামে পরিচিত।
৬৮. ১৯৪৬ সালে ভারতে আসা ‘ক্যাবিনেট মিশন’ (Cabinet Mission)-এর প্রধান কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: (C) লর্ড প্যাথিক লরেন্স (Lord Pethick-Lawrence)
বিশ্লেষণ: ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার তিন সদস্যকে নিয়ে ক্যাবিনেট মিশন গঠিত হয়। ভারতের তৎকালীন ভারত সচিব (Secretary of State for India) লর্ড প্যাথিক লরেন্স ছিলেন এই মিশনের প্রধান।
৬৯. ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন (Government of India Act 1919) ইতিহাসে অন্য কী নামে বেশি পরিচিত?
সঠিক উত্তর: (B) মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার (Montagu-Chelmsford Reforms)
বিশ্লেষণ: ভারতের তৎকালীন ভারত সচিব এডুইন মন্টেগু এবং ভাইসরয় লর্ড চেমসফোর্ডের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এই আইন পাস হয়। এতে প্রদেশগুলিতে দ্বৈত শাসন (Dyarchy) চালু করা হয়েছিল।
৭০. ১৯৩৬ সালে লখনউতে প্রতিষ্ঠিত ‘সারা ভারত কিষাণ সভা’ (All India Kisan Sabha)-র প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: (B) স্বামী সহজানন্দ সরস্বতী (Swami Sahajanand Saraswati)
বিশ্লেষণ: কৃষকদের দাবি দাওয়া নিয়ে কাজ করার জন্য ১৯৩৬ সালে সর্বভারতীয় স্তরে কিষাণ সভা গঠিত হয়। এর প্রথম সভাপতি ছিলেন বিহারের প্রখ্যাত কৃষক নেতা স্বামী সহজানন্দ সরস্বতী এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এন. জি. রাঙ্গা।
৭১. ভারতের একমাত্র ভাইসরয় কে ছিলেন যিনি ভারতের মাটিতে (আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে) একজন আততায়ীর হাতে নিহত হন?
সঠিক উত্তর: (B) লর্ড মেয়ো (Lord Mayo)
বিশ্লেষণ: ১৮৭২ সালে পোর্ট ব্লেয়ারে পরিদর্শনের সময় শের আলী আফ্রিদি নামক এক পাঠান কয়েদির ছুরিকাঘাতে ভাইসরয় লর্ড মেয়ো নিহত হন।
৭২. বিখ্যাত ‘ইন্ডিয়ান ওয়ার অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স ১৮৫৭’ (The Indian War of Independence 1857) বইটি কে রচনা করেন?
সঠিক উত্তর: (C) বিনায়ক দামোদর সাভারকর (V. D. Savarkar)
বিশ্লেষণ: ১৯০৯ সালে হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতা ভি. ডি. সাভারকর মারাঠি ভাষায় এই বইটি লেখেন (পরে ইংরেজিতে অনূদিত)। এতে তিনি ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহকে নিছক বিদ্রোহ না বলে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন। বইটি ব্রিটিশরা নিষিদ্ধ করেছিল।
৭৩. স্বাধীন ভারতের সংবিধান রচনার জন্য গঠিত গণপরিষদের (Constituent Assembly) সাংবিধানিক উপদেষ্টা (Constitutional Advisor) কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: (B) বি. এন. রাও (B. N. Rau)
বিশ্লেষণ: স্যার বেনেগাল নরসিং রাউ (বি. এন. রাও) ছিলেন একজন প্রখ্যাত আইনজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক বিচারক। তাঁকে ভারতের গণপরিষদের সাংবিধানিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। তিনি সংবিধানের প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেন।
৭৪. ১৮৯০ সালের ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে প্রথম কোন মহিলা স্নাতক (First Woman Graduate) ভাষণ দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: (A) কাদম্বিনী গাঙ্গুলী (Kadambini Ganguly)
বিশ্লেষণ: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দুজন মহিলা স্নাতকের অন্যতম কাদম্বিনী গাঙ্গুলী ছিলেন ভারতের প্রথম মহিলা চিকিৎসক। ১৮৯০ সালে কংগ্রেসের মঞ্চে তাঁর ভাষণ ছিল ভারতীয় মহিলাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের এক বড় পদক্ষেপ।
৭৫. ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ভারত যখন ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে, তখন ব্রিটিশ রাজসিংহাসনে কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: (C) রাজা ষষ্ঠ জর্জ (King George VI)
বিশ্লেষণ: ভারতের স্বাধীনতার সময় এবং প্রজাতন্ত্র হওয়ার (১৯৫০) আগে পর্যন্ত গ্রেট ব্রিটেনের রাজা ছিলেন ষষ্ঠ জর্জ। তিনি ছিলেন ভারতের শেষ ব্রিটিশ সম্রাট (Emperor of India)। ১৯৫২ সালে তাঁর মৃত্যুর পর রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ সিংহাসনে বসেন।