ICDS 2026 – Child Development & Nutrition MCQs (Set 5)
১. ভারতের বাল্যবিবাহ রোধ এবং কন্যাসন্তানদের সুরক্ষার উদ্দেশ্যে জাতীয় কর্মসূচি ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ (BBBP) কত সালে প্রথম চালু হয়েছিল?
A) ২০১২ সালে
B) ২০১৪ সালে
C) ২০১৫ সালে
D) ২০১৮ সালে
সঠিক উত্তর: C) ২০১৫ সালে
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ২০১৫ সালের ২২শে জানুয়ারি ভারতের হরিয়ানার পানিপথ থেকে এই যৌথ কর্মসূচিটি চালু করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য লিঙ্গবৈষম্য দূর করা, কন্যাসন্তানদের জীবন রক্ষা এবং তাদের শিক্ষার প্রসার নিশ্চিত করা।
২. কোন শিশু মনোবিজ্ঞানী তাঁর বিখ্যাত ‘পরিপক্বতা তত্ত্ব’ (Maturation Theory)-এ দাবি করেছেন যে, শিশুর বিকাশ বাহ্যিক পরিবেশের চেয়ে তার জন্মগত জৈবিক সময় সারণী (Biological Clock) দ্বারা বেশি নিয়ন্ত্রিত হয়?
A) জন ডিউই
B) আর্নল্ড গেসেল (Arnold Gesell)
C) জঁ পিঁয়াজে
D) আলবার্ট বান্দুরা
সঠিক উত্তর: B) আর্নল্ড গেসেল (Arnold Gesell)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: আর্নল্ড গেসেলের মতে, শিশুর মোটর ও শারীরিক বিকাশ মূলত তার পেশী ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক পরিপক্বতার ওপর নির্ভর করে যা বংশগতি দ্বারা পূর্বনির্ধারিত। জোরপূর্বক নির্দিষ্ট সময়ের আগে কোনো শিশুকে বিশেষ কাজ শেখানো সম্ভব নয়।
৩. মনোবিজ্ঞানী মেরি এইনসওয়ার্থ (Mary Ainsworth) শিশুর সাথে তার মায়ের মানসিক সুরক্ষার সম্পর্ক ও আসক্তি পরিমাপের জন্য কোন বিখ্যাত ল্যাবরেটরি পরীক্ষাটি নকশা করেছিলেন?
A) ববো ডল পরীক্ষা
B) অদ্ভুত পরিস্থিতি পরীক্ষা (Strange Situation Test)
C) পাজল বক্স পরীক্ষা
D) প্রজেক্টিভ টেস্ট
সঠিক উত্তর: B) অদ্ভুত পরিস্থিতি পরীক্ষা (Strange Situation Test)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: এই পরীক্ষায় মা, শিশু এবং একজন অপরিচিত ব্যক্তিকে একটি রুমে রাখা হয় এবং মা নির্দিষ্ট ব্যবধানে রুম থেকে চলে যান ও ফিরে আসেন। এর মাধ্যমে শিশু মায়ের অনুপস্থিতিতে ও উপস্থিতিতে কেমন আচরণ করে, তার ওপর ভিত্তি করে শিশুর আসক্তির ধরণ (Secure, Avoidant, Resistant) পরিমাপ করা হয়।
৪. হ্যারি হার্লো (Harry Harlow) তাঁর বিখ্যাত ‘রিসাস বানর পরীক্ষা’-র মাধ্যমে প্রমাণ করেছিলেন যে, শাবকের সুস্থ মনস্তাত্ত্বিক বিকাশের জন্য খাদ্যের চেয়ে কোনটি বেশি প্রয়োজনীয়?
A) কেবল পুষ্টিকর তরল খাদ্য
B) শারীরিক বা স্পর্শের আরাম ও স্পর্শসুখ (Contact Comfort)
C) একাকী অন্ধকার ঘরে বসবাস
D) কঠোর আচরণগত প্রশিক্ষণ
সঠিক উত্তর: B) শারীরিক বা স্পর্শের আরাম ও স্পর্শসুখ (Contact Comfort)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: হার্লো বানরের অনাথ শিশুদের তার ও নরম কাপড়ের দুটি কৃত্রিম মায়ের সাথে রাখেন। দেখা যায়, তারের মা খাবার দিলেও বানর শিশুটি বেশিরভাগ সময় নরম কাপড়ের তৈরি মায়ের গায়ে লেপ্টে থাকত। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে শিশুর আবেগীয় সুস্থতার জন্য কোল বা স্পর্শের ওম অত্যন্ত জরুরি।
৫. জঁ পিঁয়াজের জ্ঞানমূলক তত্ত্ব অনুযায়ী, যখন কোনো শিশু তার পূর্বের চেনা অভিজ্ঞতার কাঠামোয় নতুন কোনো জ্ঞান বা তথ্য সরাসরি যুক্ত করে, তখন তাকে কী বলা হয়?
A) সহযোজন (Accommodation)
B) আত্মীকরণ (Assimilation)
C) স্কিমা (Schema)
D) সাম্যাবস্থা (Equilibration)
সঠিক উত্তর: B) আত্মীকরণ (Assimilation)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: আত্মীকরণ হলো বর্তমান মানসিক স্কিমার সাহায্যে বাহ্যিক জগতের কোনো নতুন তথ্য গ্রহণ করা। যেমন একটি শিশু চার পায়ের কুকুর দেখে বিড়ালকেও প্রথমবার ভুল করে ‘কুকুর’ বলে ডাকল—এটি হলো আত্মীকরণ।
৬. নতুন অভিজ্ঞতার কারণে যখন কোনো শিশু তার মনের পুরনো ধারণার পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন পরিস্থিতি বুঝতে চেষ্টা করে, তখন তাকে পিঁয়াজের পরিভাষায় কী বলে?
A) আত্মীকরণ (Assimilation)
B) সহযোজন (Accommodation)
C) অহংকেন্দ্রিকতাবাদ
D) বস্তুর স্থায়িত্বের বোধ
সঠিক উত্তর: B) সহযোজন (Accommodation)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সহযোজন বা একমোডেশন হলো পরিবেশের নতুন চাহিদা মেটানোর জন্য পুরনো ধারণার রূপান্তর বা সংশোধন করা। যেমন—বিড়াল মিউ মিউ করে এবং কুকুর ঘেউ ঘেউ করে, এই পার্থক্যের কারণে শিশু যখন বিড়াল ও কুকুরের দুটি আলাদা স্কিমা তৈরি করে, তখন তাকে সহযোজন বলে।
৭. লেভ ভাইগটস্কির সামাজিক তত্ত্বে ‘MKO’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে—যাদের সহায়তায় শিশু অনেক কঠিন কাজ সহজে আয়ত্ত করে?
A) My Known Objectives
B) More Knowledgeable Other (অধিক জ্ঞানী অন্য ব্যক্তি)
C) Mental Kinetic Organs
D) Maternal Kinship Organization
সঠিক উত্তর: B) More Knowledgeable Other (অধিক জ্ঞানী অন্য ব্যক্তি)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: MKO হলেন এমন যে কেউ—যিনি কোনো নির্দিষ্ট কাজ বা ধারণায় শিশুর চেয়ে বেশি জ্ঞান বা দক্ষতা রাখেন। তিনি একজন শিক্ষক, অভিভাবক, সমবয়সী বা কম্পিউটার চালিত কোনো নির্দেশিকাও হতে পারেন।
৮. পার্টেনের (Parten) খেলার ক্লাসিফিকেশন অনুযায়ী, জীবনের প্রথম বছরে শিশুরা যখন একদম একা কোনো সহপাঠী ছাড়াই নিজের মনে খেলে, তাকে কী ধরনের খেলা বলে?
A) সমান্তরাল খেলা (Parallel Play)
B) একাকী খেলা (Solitary Play)
C) সহযোগী খেলা (Associative Play)
D) দলগত খেলা (Cooperative Play)
সঠিক উত্তর: B) একাকী খেলা (Solitary Play)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সোলাটারী বা একাকী খেলা হলো শৈশবের প্রথম ধাপের খেলা। এই সময়ে শিশুরা অন্যদের প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করে সম্পূর্ণ নিজের মতো করে কোনো বস্তু বা খেলনা নিয়ে একা খেলতে পছন্দ করে।
৯. ৩-৪ বছর বয়সী শিশুরা যখন দল গঠন করে এক সাথে খেলে এবং খেলনা আদান প্রদান করে, কিন্তু খেলার কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা কঠিন নিয়ম থাকে না—তাকে কী বলে?
A) একাকী খেলা (Solitary Play)
B) সহযোগী খেলা (Associative Play)
C) সমান্তরাল খেলা
D) কাল্পনিক খেলা
সঠিক উত্তর: B) সহযোগী খেলা (Associative Play)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: অ্যাসোসিয়েটিভ প্লে বা সহযোগী খেলায় শিশুরা একে অপরের সাথে কথা বলে এবং খেলনা বিনিময় করে খেলে। তবে এই খেলায় দলগত শৃঙ্খলা বা কোনো সাধারণ লক্ষ্য থাকে না যা উত্তর শৈশবে সমবায় বা দলগত খেলায় (Cooperative Play) দেখা যায়।
১০. ১৭৪৭ সালে জেমস লিন্ড (James Lind) নামক ব্রিটিশ নৌ-চিকিৎসক মাল্টিপল গ্রুপ ট্রায়াল দিয়ে লেবুর রসের সাহায্যে কোন রোগ নিরাময়ের প্রথম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি আবিষ্কার করেন?
A) বেরিবেরি রোগ
B) স্কার্ভি রোগ (Scurvy)
C) রিকেট রোগ
D) রাতকানা রোগ
সঠিক উত্তর: B) স্কার্ভি রোগ (Scurvy)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: জেমস লিন্ডের এই পরীক্ষাটিকে আধুনিক চিকিৎসার ইতিহাসের প্রথম ‘ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল’ বলা হয়। তিনি ১২ জন স্কার্ভি আক্রান্ত নাবিককে বিভিন্ন জোড়ায় ভাগ করে লেবু খাইয়ে প্রমাণ করেন যে সাইট্রাস ফল স্কার্ভি রোগের মহৌষধ (যেটি পরে ভিটামিন সি হিসেবে চিহ্নিত হয়)।
১১. রক্তে কোবাল্ট সমৃদ্ধ ভিটামিন B12-এর শোষণ ক্ষমতা পরীক্ষা করার জন্য পুষ্টিবিজ্ঞানে কোন বিশেষ পরীক্ষা বা টেস্ট ব্যবহার করা হয়?
A) উইডাল টেস্ট
B) শিলিং টেস্ট (Schilling Test)
C) রেইড টেস্ট
D) ক্রোম্যাটোগ্রাফি
সঠিক উত্তর: B) শিলিং টেস্ট (Schilling Test)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: রেডিওঅ্যাক্টিভ কোবাল্ট সমৃদ্ধ ভিটামিন B12 খাইয়ে ২৪ ঘণ্টার মূত্র সংগ্রহের মাধ্যমে মাপা হয় যে শরীর কতটা ভিটামিন B12 শোষণ করতে পারছে। পারনিসিয়াস অ্যানিমিয়া বা ভিটামিন B12 শোষণের সমস্যা নির্ণয়ে শিলিং টেস্ট অত্যন্ত নিখুঁত পরীক্ষা।
১২. থায়ামিনের তীব্র ঘাটতি থাকলে অসংলগ্ন প্রলাপ বকা, হাঁটার ভারসাম্য হারানো এবং চোখের মাংসপেশীর পক্ষাঘাতযুক্ত কোন মারাত্মক স্নায়ুবিক জটিলতা দেখা দিতে পারে?
A) আলঝেইমার রোগ
B) ওয়ার্নিকে-কোরসাকফ সিন্ড্রোম (Wernicke-Korsakoff Syndrome)
C) হান্টিংটন ডিজিজ
D) ডাউন সিন্ড্রোম
সঠিক উত্তর: B) ওয়ার্নিকে-কোরসাকফ সিন্ড্রোম (Wernicke-Korsakoff Syndrome)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: এটি থায়ামিন (B1)-এর অভাবে ঘটা একটি দ্বিমুখী স্নায়বিক ব্যাধি। এটি মূলত শরীরে কার্বোহাইড্রেট বিপাকের শক্তি উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায়। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি হারিয়ে যাওয়া এবং হাঁটার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে।
১৩. মানুষের উন্মুক্ত ত্বকে সূর্যালোক বা অতিবেগুনী রশ্মির স্পর্শে কোন বিশেষ রাসায়নিক কোলেস্টেরল ভেঙে কোলেক্যালসিফেরল বা ভিটামিন D3-তে রূপান্তরিত হয়?
A) আলফা-ক্যারোটিন
B) ৭-ডিহাইড্রোকোলেস্টেরল (7-dehydrocholesterol)
C) সোডিয়াম ক্লোরাইড
D) টোকোফেরল
সঠিক উত্তর: B) ৭-ডিহাইড্রোকোলেস্টেরল (7-dehydrocholesterol)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ৭-ডিহাইড্রোকোলেস্টেরল হলো মানুষের ত্বকে থাকা একটি প্রি-কারসর বা আদি কোলেস্টেরল উপাদান। যখন সূর্যের অতিবেগুনী বি (UVB) রশ্মি ত্বকে আপতিত হয়, তখন এই রাসায়নিকটির রূপান্তর ঘটে ভিটামিন D3-তে।
১৪. পাকস্থলীর অভ্যন্তরীণ ক্ষরণের কোন বিশেষ কোষগুলি থেকে ‘ইন্ট্রিনসিক ফ্যাক্টর’ (Intrinsic Factor) ক্ষরিত হয়—যা ভিটামিন B12 শোষণের জন্য জরুরি?
A) পেপটিক বা চিফ কোশ
B) প্যারাইটাল বা অক্সিনটিক কোশ (Parietal cells)
C) গবলেট কোশ
D) কুফার কোশ
সঠিক উত্তর: B) প্যারাইটাল বা অক্সিনটিক কোশ (Parietal cells)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: পাকস্থলীর প্যারাইটাল কোষগুলি থেকে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) এবং ইন্ট্রিনসিক ফ্যাক্টর নামক গ্লাইকোপ্রোটিন ক্ষরিত হয়। এই প্রোটিনটি ক্ষুদ্রান্ত্রে ভিটামিন B12-কে শোষণের হাত থেকে রক্ষা করে রক্তে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
১৫. গর্ভস্থ শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের জটিল ত্রুটি রুখতে চিকিৎসকেরা গর্ভাবস্থার প্রথম মাস বা গর্ভধারণের ঠিক আগে থেকেই প্রতিদিন কত ফোলেট বা ফলিক অ্যাসিড গ্রহণের পরামর্শ দেন?
A) ১০০ মাইক্রোগ্রাম (mcg)
B) ৪০০ মাইক্রোগ্রাম (mcg)
C) ১০০০ মিলিগ্রাম (mg)
D) কোনো অতিরিক্ত ফলিক অ্যাসিডের প্রয়োজন নেই
সঠিক উত্তর: B) ৪০০ মাইক্রোগ্রাম (mcg)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: গর্ভধারণের প্রথম ২৮ দিনের মধ্যে ভ্রূণের নিউরাল টিউব বা স্নায়ুনালী গঠিত হয়। তাই গর্ভবতী হওয়ার পরিকল্পনা করার সময় থেকেই হবু মায়েদের দৈনিক ৪০০ মাইক্রোগ্রাম বা ০.৪ মিলিগ্রাম ফলিক অ্যাসিড বড়ি খাওয়া অত্যন্ত আবশ্যক।
১৬. মানুষের শরীরে রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করা ভিটামিন A-এর উদ্ভিজ্জ প্রাক-রূপকে (Precursor) কী বলা হয়?
A) রেটিনল
B) বিটা-ক্যারোটিন (Beta-carotene)
C) টোকোফেরল
D) ক্যালসিফেরল
সঠিক উত্তর: B) বিটা-ক্যারোটিন (Beta-carotene)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: উদ্ভিজ্জ হলুদ-কমলা ফলমূল ও সবুজ শাকসবজিতে ক্যারোটিনয়েড রঞ্জক থাকে যার প্রধান হলো বিটা-ক্যারোটিন। আমাদের যকৃৎ বা লিভারে থাকা উৎসেচক এই বিটা-ক্যারোটিনকে ভেঙে সক্রিয় ভিটামিন A বা রেটিনলে রূপান্তরিত করে।
১৭. দস্তা বা জিংকের (Zinc) তীব্র অভাব ঘটলে শিশুদের খাবার খাওয়ার প্রতি অনীহা তৈরি হয় এবং স্বাদ নেওয়ার ক্ষমতা চরম লোপ পায়, এই স্বাদহীনতাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে কী বলে?
A) অ্যানোসমিয়া
B) হাইপোগিউসিয়া (Hypogeusia / স্বাদ হ্রাস)
C) পিকা রোগ
D) ডিসপেপসিয়া
সঠিক উত্তর: B) হাইপোগিউসিয়া (Hypogeusia / স্বাদ হ্রাস)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: জিংক আমাদের স্বাদকোরক বা টেস্ট বাডের গঠনে সাহায্য করে। শরীরে জিংক কমে গেলে স্বাদের তীব্রতা অনুভূতি লোপ পায়, যাকে হাইপোগিউসিয়া বলে। এর ফলে শিশুদের খাবারের অরুচি ও অপুষ্টির সমস্যা দেখা দেয়।
১৮. চা বা কফিতে উপস্থিত কোন ক্ষতিকর উপাদানটি আমাদের খাদ্যে থাকা লোহা বা আয়রনের সাথে যুক্ত হয়ে অদ্রবণীয় যৌগ গঠন করে লোহা শোষণে তীব্র বাধা দেয়?
A) ক্যাফেইন
B) ট্যানিন বা ফাইটেট (Tannins / Phytates)
C) গ্লাইকোজেন
D) সাইট্রিক অ্যাসিড
সঠিক উত্তর: B) ট্যানিন বা ফাইটেট (Tannins / Phytates)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: চায়ে থাকা ট্যানিন ও শস্যদানার খোসায় থাকা ফাইটেট রক্তের নন-হিম লোহার সাথে জটিল বন্ধন তৈরি করে অন্ত্রে অধঃক্ষিপ্ত হয়। এর ফলে লোহা শোষিত হতে পারে না। তাই খাওয়ার সাথে সাথেই চা বা কফি খাওয়া রক্তাল্পতার একটি বড় কারণ।
১৯. অন্ত্রে ক্যালসিয়ামের সক্রিয় শোষণের হার বহুগুণ বৃদ্ধি করতে সুষম খাদ্যের কোন উপাদানটি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে?
A) স্টার্চ
B) ল্যাকটোজ বা আম্লিক মাধ্যম (Lactose / Acidic medium)
C) ফাইবার
D) অক্সালিক অ্যাসিড
সঠিক উত্তর: B) ল্যাকটোজ বা আম্লিক মাধ্যম (Lactose / Acidic medium)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: অন্ত্রের আম্লিক বা অ্যাসিডিক পরিবেশ এবং দুধের শর্করা ল্যাকটোজ অন্ত্রের মিউকোসা স্তরের অভিস্রবণ চাপ বাড়িয়ে দেয়, যা ক্যালসিয়ামের শোষণকে সহজ ও দ্রুত করে। অন্যদিকে ফাইটেট ও অক্সালেট ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা দেয়।
২০. শিশুর জন্মের পর মায়ের পিটুইটারি গ্রন্থির অগ্রভাগ (Anterior Pituitary) থেকে নিঃসৃত কোন হরমোন স্তনগ্রন্থে মাতৃদুগ্ধ উৎপাদনের মূল উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে?
A) অক্সিটোসিন
B) প্রোল্যাকটিন (Prolactin)
C) ইস্ট্রোজেন
D) প্রজেস্টেরন
সঠিক উত্তর: B) প্রোল্যাকটিন (Prolactin)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: প্রোল্যাকটিন হলো মাতৃদুগ্ধ সংশ্লেষণের প্রধান হরমোন। প্রসবের পর এই হরমোনের ক্ষরণ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, যা স্তনগ্রন্থির অ্যালভিওলাই কোষে দুগ্ধ ক্ষরণ করতে সংকেত পাঠায়।
২১. শিশুর চোষার আকর্ষণে মায়ের মস্তিষ্কের পশ্চাৎ পিটুইটারি থেকে কোন হরমোন ক্ষরিত হয়ে স্তন নালী সঙ্কুচিত করে দুধ বাইরে বের হতে (Let-down Reflex) সাহায্য করে?
A) প্রোল্যাকটিন
B) অক্সিটোসিন (Oxytocin)
C) থাইরক্সিন
D) ভাসোপ্রেসিন
সঠিক উত্তর: B) অক্সিটোসিন (Oxytocin)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: অক্সিটোসিনকে ‘দুগ্ধ নিঃসরণ হরমোন’ বা ‘লাভ হরমোন’ বলা হয়। এটি স্তনগ্রন্থির চারপাশের মায়োএপিথেলিয়াল কোষগুলিকে সঙ্কুচিত করে জমে থাকা দুধ স্তনবৃন্তের মুখে নিয়ে আসে। মায়ের মানসিক প্রফুল্লতা ও শিশুর প্রতি ভালোবাসা এই হরমোনের ক্ষরণ বাড়ায়।
২২. মায়ের শরীর থেকে নবজাতকের শরীরে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের উল্লম্ব সংক্রমণ (Vertical transmission) রুখতে জন্মের কত সময়ের মধ্যে হেপাটাইটিস-বি টিকার প্রথম ডোজ দিতে হয়?
A) জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে (Birth Dose)
B) ৬ সপ্তাহের মধ্যে
C) ৯ মাস বয়সে
D) ১৫ মাস বয়সে
সঠিক উত্তর: A) জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে (Birth Dose)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: প্রসবের সময় মায়ের রক্তের মাধ্যমে শিশুর শরীরে হেপাটাইটিস ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াতে পারে। এটি প্রতিরোধ করতে শিশু জন্মানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উরুর পেশীতে হেপাটাইটিস-বি বার্থ ডোজ ইনজেকশন দেওয়া বাধ্যতামূলক। ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে এই বার্থ ডোজের কার্যকারিতা থাকে না।
২৩. পেন্টাভ্যালেন্ট বা টিটেনাসের মতো হিমায়িত সংবেদনশীল ভ্যাকসিনগুলি অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় জমে নষ্ট হয়ে গেছে কি না, তা কোন বিশেষ টেস্টের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়?
A) স্মিয়ার টেস্ট
B) ঝাঁকুনি পরীক্ষা বা শেক টেস্ট (Shake Test)
C) পিএইচ পরীক্ষা
D) বাষ্পীভবন পরীক্ষা
সঠিক উত্তর: B) ঝাঁকুনি পরীক্ষা বা শেক টেস্ট (Shake Test)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: কিছু ভ্যাকসিন ফ্রিজিং বা ০°C এর নিচে গেলে তার অভ্যন্তরীণ আণবিক গঠন ও কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে অধঃক্ষিপ্ত হয়। সন্দেহভাজন ভায়ালটি জোরে ঝাঁকিয়ে সমগোত্রীয় ভালো একটি ভায়ালের সাথে থিতিয়ে পড়ার হারের তুলনা করা হয়। যদি নষ্ট ভায়ালটির কণা দ্রুত নিচে জমা হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে সেটি অকার্যকর হয়ে গেছে।
২৪. শিশুদের অপুষ্টি পরিমাপ করতে মধ্যবাহুর পরিধি (MUAC) মাপার সময় বাহুর কোন সুনির্দিষ্ট অংশটি চিহ্নিত করতে হয়?
A) কনুইয়ের ঠিক ওপরে
B) কাঁধের এক্রোমিয়ন (Acromion) ও কনুইয়ের ওলেক্র্যানন (Olecranon) অস্থির মধ্যবিন্দু
C) কবজির ওপরে
D) বগলের ঠিক নিচে
সঠিক উত্তর: B) কাঁধের এক্রোমিয়ন (Acromion) ও কনুইয়ের ওলেক্র্যানন (Olecranon) অস্থির মধ্যবিন্দু
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বাহুর পরিধি মাপার সময় সঠিকতা বজায় রাখতে প্রথমে শিশুর বাঁ হাতের কাঁধের হাড়ের অগ্রভাগ (Acromion) এবং কনুইয়ের হাড়ের অগ্রভাগ (Olecranon)-এর দূরত্ব ফিতা দিয়ে মেপে তার ঠিক মাঝখানের বিন্দুটি চিহ্নিত করে সেখানে MUAC টেপ প্যাঁচানো হয়।
২৫. তীব্র অপুষ্টি আক্রান্ত শিশুর শরীরে তরল জমে পা ফুলে যাওয়া বা ইডিমা (Oedema) পরীক্ষা করার জন্য চিকিৎসকেরা কোন ক্লিনিক্যাল পদ্ধতিটি ব্যবহার করেন?
A) কেবল চোখ দিয়ে চামড়া পর্যবেক্ষণ করা
B) উভয় পায়ের পাতার উপরিভাগে বুড়ো আঙুল দিয়ে কমপক্ষে ৩ সেকেন্ড চেপে ধরে গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করা (Bilateral Pitting Pedal Oedema)
C) রক্ত পরীক্ষা করা
D) এক্স-রে করা
সঠিক উত্তর: B) উভয় পায়ের পাতার উপরিভাগে বুড়ো আঙুল দিয়ে কমপক্ষে ৩ সেকেন্ড চেপে ধরে গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করা (Bilateral Pitting Pedal Oedema)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: এটি অপুষ্টিজনিত ইডিমা পরীক্ষার গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড পদ্ধতি। যদি দুই পায়ের পাতার উপরিভাগে আলতো চাপে গর্ত তৈরি হয় এবং আঙুল সরিয়ে নেওয়ার পরেও বেশ কিছুক্ষণ সেই গর্ত থেকে যায়, তবে তাকে বাইল্যাটারাল পিটিং পেডাল ইডিমা বলে। এটি কোয়াশিওরকর এবং তীব্র অপুষ্টির একটি বড় লক্ষণ।
২৬. অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিশুদের প্রাথমিক রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া পরীক্ষা করার জন্য শরীরের কোন দৃশ্যমান অংশগুলি লালচে বা ফ্যাকাসে কি না তা পরীক্ষা করা উচিত?
A) চোখের নিচের পাতার ভেতরের অংশ (Conjunctiva), নখ, জিভ ও হাতের তালু
B) চুল ও কান
C) দাঁত ও মাড়ি
D) পিঠের ত্বক ও গোড়ালি
সঠিক উত্তর: A) চোখের নিচের পাতার ভেতরের অংশ (Conjunctiva), নখ, জিভ ও হাতের তালু
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: অ্যানিমিয়া বা লোহিত রক্তকণিকা কমে গেলে রক্ত জালক ফ্যাকাশে দেখায়। চোখের নিচের পাতার কনজাংটাইভা লালচে ভাব হারিয়ে সাদা দেখায় এবং নখ ও হাতের তালুর স্বাভাবিক লালচে আভা বিলুপ্ত হয়ে ফ্যাকাশে হয়ে যায়, যা দেখে রক্তাল্পতা অনুমান করা যায়।
২৭. ভিটামিন A-এর অভাবে চোখের কনজাংটাইভায় যে শুষ্ক ত্রিকোণাকার ও সাবানের ফেনার মতো সাদাটে দাগ বা স্পট দেখা যায়, তাকে পুষ্টিবিজ্ঞানে কী বলা হয়?
A) ছানি (Cataract)
B) বিটট স্পট (Bitot’s spots / X1B Stage)
C) কেরাটোপ্যাথি
D) গ্লুকোমা প্যাচ
সঠিক উত্তর: B) বিটট স্পট (Bitot’s spots / X1B Stage)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: চোখের সাদা অংশের কনজাংটাইভাল এপিথেলিয়াল কোষগুলি শুষ্ক ও খসখসে হয়ে কেরাটিন নামক কণা জমা করায় ত্রিকোণাকার রূপালি ধূসর দাগ তৈরি করে। একে বিখ্যাত বিজ্ঞানী পিয়েরে বিটট-এর নামানুসারে বিটট স্পট বলা হয়। এটি ভিটামিন এ-র অন্যতম সুনির্দিষ্ট লক্ষণ।
২৮. রক্তে প্রধান প্রোটিন ‘অ্যালবুমিন’ (Serum Albumin)-এর মাত্রা মারাত্মক হ্রাস পেয়ে ইডিমা হওয়া কোয়াশিওরকর ও ম্যারাসমাস অপুষ্টির মধ্যে মূল কোন জৈবরাসায়নিক পার্থক্যটি নির্দেশ করে?
A) ম্যারাসমাসে অ্যালবুমিন কমে যায়, কোয়াশিওরেকরে স্বাভাবিক থাকে
B) কোয়াশিওরেকরে অ্যালবুমিন তীব্র হ্রাস পায়, কিন্তু ম্যারাসমাসে প্রায় স্বাভাবিক থাকে
C) দুটি রোগেই অ্যালবুমিন সমহারে কমে
D) অ্যালবুমিনের সাথে এই অপুষ্টির কোনো সম্পর্ক নেই
সঠিক উত্তর: B) কোয়াশিওরেকরে অ্যালবুমিন তীব্র হ্রাস পায়, কিন্তু ম্যারাসমাসে প্রায় স্বাভাবিক থাকে
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: কোয়াশিওরকর হলো তীব্র প্রোটিনের অভাবজনিত রোগ। যকৃতে প্রোটিন তৈরি না হওয়ায় রক্তরসের অ্যালবুমিন কমে যায়, ফলে রক্তনালী থেকে জল টিস্যুতে চুইয়ে ইডিমা তৈরি করে। অন্যদিকে ম্যারাসমাস হলো সামগ্রিক ক্যালোরি ও প্রোটিন উভয়েরই অভাব, এখানে রক্তে অ্যালবুমিনের মান প্রায় স্বাভাবিক থাকে বলে ইডিমা হয় না।
২৯. ভারতের নারী ও শিশু সুরক্ষায় চালিত কেন্দ্রীয় ছাতা প্রকল্প ‘মিশন শক্তি’ (Mission Shakti)-র দুটি উপ-প্রকল্প বা বিভাগ কী কী?
A) উজ্জ্বল ও আলো
B) সম্বল ও সামর্থ্য (Sambal and Samarthya)
C) সবুজ ও সুজলা
D) কিশোরী ও বালিকা শক্তি
সঠিক উত্তর: B) সম্বল ও সামর্থ্য (Sambal and Samarthya)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: মিশন শক্তির অধীনে ‘সম্বল’ (Sambal) উপ-প্রকল্পটি মহিলাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য কাজ করে (যেমন ওয়ান স্টপ সেন্টার, হেল্পলাইন, বেটি বাঁচাও)। অন্যদিকে ‘সামর্থ্য’ (Samarthya) উপ-প্রকল্পটি মহিলাদের ক্ষমতায়ন ও পুষ্টি নিশ্চিত করে (যেমন PMMVY, জাতীয় ক্রেশ স্কিম)।
৩০. ভারতের সাধারণ রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে সমন্বিত শিশু বিকাশ সেবা (ICDS) প্রকল্প পরিচালনায় কেন্দ্র ও রাজ্যের আর্থিক খরচের অনুপাত (Sharing Ratio) কত?
A) ৫০:৫০
B) ৬০:৪০ (60:40)
C) ৯০:১০
D) ৮০:২০
সঠিক উত্তর: B) ৬০:৪০ (60:40)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সাধারণ রাজ্যগুলির জন্য আইসিডিএস স্কিম পরিচালনার সিংহভাগ খরচ কেন্দ্র বহন করে ৬০% অনুপাতে এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার ব্যয় করে বাকি ৪০% অর্থ। তবে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য এবং হিমালয় অঞ্চলের পার্বত্য রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে এই অনুপাত হলো ৯০:১০।
৩১. পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘কন্যাশ্রী প্রকল্প’ (K2)-এর অধীনস্থ যোগ্য ছাত্রীরা ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হলে এককালীন কত টাকা আর্থিক অনুদান (One-time Grant) পায়?
A) ১০,০০০ টাকা
B) ২৫,০০০ টাকা
C) ৫০,০০০ টাকা
D) ১ লক্ষ টাকা
সঠিক উত্তর: B) ২৫,০০০ টাকা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: কন্যাশ্রী প্রকল্পের দুটি ধাপ রয়েছে। বার্ষিক ১০০০ টাকা বৃত্তির পর (K1), মেয়েরা ১৮ বছর বয়স সম্পূর্ণ হলে এবং অবিবাহিত থেকে পড়াশোনা চালিয়ে গেলে এককালীন ২৫,০০০ টাকার অনুদান লাভ করে, যা K2 নামে পরিচিত। এটি মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় বিশেষভাবে সহায়তা করে।
৩২. ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিবাহের খরচ যোগাতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার চালিত বিশেষ প্রকল্পটির নাম কী?
A) রুপশ্রী প্রকল্প (Rupashree Prakalpa)
B) কন্যাশ্রী প্রকল্প
C) যুবশ্রী প্রকল্প
D) সুফল বাংলা প্রকল্প
সঠিক উত্তর: A) রুপশ্রী প্রকল্প (Rupashree Prakalpa)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১লা এপ্রিল, ২০১৮ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ সরকার রুপশ্রী প্রকল্প চালু করে। এর অধীনে যে সমস্ত পরিবারের বার্ষিক আয় ১.৫ লক্ষ টাকার নিচে, তাদের মেয়েদের বিবাহের সময়ে এককালীন ২৫,০০০ টাকার আর্থিক সাহায্য সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়।
৩৩. পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরিচালিত কোন বিশেষ স্বাস্থ্য প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের শিশুদের জন্মগত হৃদরোগের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে জটিল অস্ত্রোপচার বা চিকিৎসা করানো হয়?
A) স্বাস্থ্য সাথী
B) শিশু সাথী প্রকল্প (Shishu Sathi Scheme)
C) গতিধারা প্রকল্প
D) সবুজ সাথী
সঠিক উত্তর: B) শিশু সাথী প্রকল্প (Shishu Sathi Scheme)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকার শিশু সাথী প্রকল্প চালু করে। এর লক্ষ্য হলো শিশুদের কনজেনীটাল হার্ট ডিজিজ বা জন্মগত হার্ট ব্লকের মতো জটিল ব্যাধির জন্য সম্পূর্ণ নিখরচায় সরকারি বা বিশেষ হাসপাতালে দামি পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক সার্জারি সুনিশ্চিত করা।
৩৪. গর্ভাবস্থায় হবু মায়ের শরীরে এমন ক্ষতিকর রাসায়নিক বা ভাইরাস প্রবেশ করা—যা গর্ভস্থ ভ্রূণের অঙ্গ গঠনে মারাত্মক জন্মগত ত্রুটি ঘটায়, তাকে কী বলে?
A) প্যাথোজেন
B) টেরাটোজেন (Teratogens)
C) মিউটাজেন
D) অ্যান্টিজেন
সঠিক উত্তর: B) টেরাটোজেন (Teratogens)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: টেরাটোজেন হলো এমন কোনো বাহ্যিক উপাদান (যেমন থ্যালিডোমাইড ওষুধ, রুবেলা ভাইরাস, রেডিয়েশন, মদ) যা গর্ভাবস্থার ৩ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে (Embryonic period) ভ্রূণের অঙ্গ গঠনে মারাত্মক বিকৃতি বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
৩৫. নবজাতক শিশুকে বিছানায় সোজা দাঁড় করিয়ে পায়ের তলা সমতল স্পর্শ করালে সে অবচেতনভাবে এক পা এক পা করে হাঁটার গতি প্রকাশ করে, এই আদিম রিফ্লেক্সকে কী বলে?
A) মোরো রিফ্লেক্স
B) হাঁটার বা স্টেপিং রিফ্লেক্স (Stepping / Walking Reflex)
C) ল্যান্ডাউ রিফ্লেক্স
D) ক্রলিং রিফ্লেক্স
সঠিক উত্তর: B) হাঁটার বা স্টেপিং রিফ্লেক্স (Stepping / Walking Reflex)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: স্টেপিং রিফ্লেক্স হলো শিশুর একটি জন্মগত আদিম মোটর প্রতিক্রিয়া। জন্মের পর প্রথম ২ মাস এটি তীব্র থাকে এবং পরবর্তীতে নিজে নিজে দাঁড়ানোর বয়স আসার আগে হারিয়ে যায়। এটি শিশুর ভবিষ্যৎ হাঁটার স্নায়বিক প্রস্তুতির প্রথম সূচক।
৩৬. নবজাতকের মাথা একদিকে ঘোরালে সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই দিকের হাত সোজা প্রসারিত করে এবং অন্য হাতটি কনুইয়ের দিকে ধনুকের মতো বেঁকে যায়—এই রিফ্লেক্সকে কী বলে?
A) পামার গ্রাস্প
B) অপ্রতিসম গ্রীবা রিফ্লেক্স (Asymmetrical Tonic Neck / Fencing Reflex)
C) মোরো রিফ্লেক্স
D) প্যারাশুট রিফ্লেক্স
সঠিক উত্তর: B) অপ্রতিসম গ্রীবা রিফ্লেক্স (Asymmetrical Tonic Neck / Fencing Reflex)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: দেখতে তলোয়ার চালানোর পোজ বা ফেনসিং পোজের মতো লাগে বলে একে ‘ফেনসিং রিফ্লেক্স’-ও বলা হয়। এটি জন্মের সময় সক্রিয় থাকে এবং প্রায় ৫-৭ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়। স্নায়ুতন্ত্রের স্ব স্বাভাবিকতা যাচাইয়ের এটি অন্যতম পরীক্ষা।
৩৭. নবজাতক শিশুর ঠোঁটে বা মুখের ভেতর আঙুল বা স্তনবৃন্ত স্থাপন করলেই সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবচেতন মনে অতি তীব্রভাবে চুষতে শুরু করে—এই রিফ্লেক্সকে কী বলে?
A) সাকিং রিফ্লেক্স (Sucking Reflex)
B) রুটিন রিফ্লেক্স
C) গ্যাগ রিফ্লেক্স
D) সলোয়িং রিফ্লেক্স
সঠিক উত্তর: A) সাকিং রিফ্লেক্স (Sucking Reflex)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সাকিং বা চোষার রিফ্লেক্স শিশুর বেঁচে থাকার আদিমতম প্রবৃত্তি। রুটিন রিফ্লেক্সের মাধ্যমে খাদ্য উৎস খুঁজে নিয়ে সাকিং রিফ্লেক্সের মাধ্যমে শিশু স্তন্যপান করে ক্ষুধা নিবারণ করে। এটি জরায়ুর ভেতরে গর্ভাবস্থার ৩৬ সপ্তাহের দিকেই তৈরি হয়ে যায়।
৩৮. মোটর মাইলফলক অনুযায়ী, ১ বছর ৬ মাস (১৮ মাস) বয়সী একটি সুস্থ শিশু সাধারণত নিচে কোন কাজটি প্রথম একা করতে সমর্থ হয়?
A) এক পায়ে দাঁড়ানো
B) ৩ থেকে ৪টি খেলনা ব্লক দিয়ে একা টাওয়ার তৈরি করা এবং কমপক্ষে ১০-২০টি স্পষ্ট শব্দ বলা
C) জ্যামিতিক ত্রিভুজ আঁকা
D) দড়ি দিয়ে লাফানো
সঠিক উত্তর: B) ৩ থেকে ৪টি খেলনা ব্লক দিয়ে একা টাওয়ার তৈরি করা এবং কমপক্ষে ১০-২০টি স্পষ্ট শব্দ বলা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৮ মাস বয়সকে প্রারম্ভিক শৈশবের একটি সন্ধিক্ষণ বলা যায়। এই সময়ে শিশুর সূক্ষ্ম মোটর কন্ট্রোল উন্নত হয়, সে ৩-৪টি ব্লক সাজাতে পারে এবং তার অর্থবোধক শব্দভাণ্ডার বৃদ্ধি পেয়ে ১০ থেকে ২০টি শব্দে পৌঁছায়।
৩৯. শৈশবের ২ বছর (২৪ মাস) বয়সসীমায় পৌঁছানোর পর শিশুর মধ্যে কোন মোটর ও ভাষা বিকাশের নতুন রূপটি দেখা যায়?
A) সম্পূর্ণ একা সিঁড়ি দিয়ে ওঠা এবং দুটি শব্দ জুড়ে মনের ভাব প্রকাশ করা (যেমন “দুধ দাও”, “মা চল”)
B) অনর্গল ব্যাকরণ মেনে কথা বলা
C) সাইকেল চালানো
D) জুতো পরতে শেখা
সঠিক উত্তর: A) সম্পূর্ণ একা সিঁড়ি দিয়ে ওঠা এবং দুটি শব্দ জুড়ে মনের ভাব প্রকাশ করা (যেমন “দুধ দাও”, “মা চল”)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ২ বছর বয়সের শিশুরা দুই শব্দের ক্ষুদ্র বাক্য বলতে পারে (Telegraphic Speech) এবং বড়দের সাহায্য ছাড়াই একা হেঁটে বা দেয়াল ধরে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে পারে। এই সময়ে তারা ৬টি ব্লক দিয়ে টাওয়ার তৈরি করতেও সক্ষম হয়।
৪০. শৈশবের ৫ বছর (৬০ মাস) বয়সসীমায় পৌঁছানোর পর একজন স্বাভাবিক শিশুর কোন মোটর দক্ষতাটি সুস্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে?
A) এক পায়ে সম্পূর্ণ একা ১০ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় নিজের ভারসাম্য রক্ষা করে দাঁড়িয়ে থাকা
B) টাইপরাইটার চালানো
C) কেবল গড়াগড়ি দেওয়া
D) সাঁতার কাটতে শেখা
সঠিক উত্তর: A) এক পায়ে সম্পূর্ণ একা ১০ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় নিজের ভারসাম্য রক্ষা করে দাঁড়িয়ে থাকা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ৫ বছর বয়সে শিশুর স্থূল মোটর ক্ষমতার অভূতপূর্ব সমন্বয় ঘটে। সে দড়ি লাফাতে পারে, সিঁড়ি দিয়ে অল্টারনেট পায়ে নামতে পারে এবং এক পায়ে স্থির দাঁড়িয়ে চমৎকার ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে। এছাড়া সে পেনসিল দিয়ে জ্যামিতিক ত্রিভুজও নকল করতে পারে।
৪১. নবজাতক শিশুর দৃষ্টিশক্তির রেঞ্জ জন্মের সময় সীমাবদ্ধ থাকে। মায়ের স্তন্যপান করানোর সুবিধার্থে প্রকৃতিগতভাবে নবজাতক সাধারণত কত দূরত্বের জিনিস সবচেয়ে স্পষ্ট দেখতে পায়?
A) ১ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত
B) ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি দূরত্ব পর্যন্ত (যাতে মায়ের মুখ স্পষ্ট দেখতে পায়)
C) কোনো দৃষ্টিশক্তিই থাকে না
D) কেবল পায়ের পাতা দেখতে পায়
সঠিক উত্তর: B) ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি দূরত্ব পর্যন্ত (যাতে মায়ের মুখ স্পষ্ট দেখতে পায়)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: নবজাতকের চোখ সম্পূর্ণ গঠনশীল থাকে না। তবে জন্মের সময়ে তাদের দৃষ্টিসীমা গড়ে ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি দূরত্বের বস্তুতে সবচেয়ে সংবেদনশীল থাকে। স্তন্যপান করানোর সময় মায়ের স্তন থেকে মায়ের চোখের যে দূরত্ব—এটি ঠিক সেই দূরত্ব, যা শিশুর সাথে মায়ের প্রথম চোখে চোখ রেখে নিবিড় বন্ধন তৈরি করে।
৪২. অপুষ্টির মাত্রা সুনির্দিষ্ট করতে ‘ওয়াটারলো ক্লাসিফিকেশন’ (Waterlow Classification) মূলত কোন দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের সংমিশ্রণে অপুষ্টির প্রকারভেদ করে?
A) কেবল বয়স অনুযায়ী ওজন
B) উচ্চতা অনুযায়ী ওজন (Wasting) এবং বয়স অনুযায়ী উচ্চতা (Stunting)
C) বাহুর পরিধি ও মাথার পরিধি
D) বিএমআই ও মেদ শতাংশ
সঠিক উত্তর: B) উচ্চতা অনুযায়ী ওজন (Wasting) এবং বয়স অনুযায়ী উচ্চতা (Stunting)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৭৭ সালে জে. সি. ওয়াটারলো এই বিশ্বখ্যাত ক্লাসিফিকেশন তৈরি করেন। এর মাধ্যমে খর্বতা (Stunting – যা ক্রনিক অপুষ্টি বোঝায়) এবং শীর্ণতা (Wasting – যা সাম্প্রতিক তীব্র অপুষ্টি বোঝায়) দুটি দিককে একত্রিত করে শিশুর বৃদ্ধির ব্যাঘাতকে চমৎকারভাবে ৪টি গ্রুপে ভাগ করা যায়।
৪৩. ভারতের কোন ভৌগোলিক অঞ্চলটিকে বা কোন পার্বত্য বলয়কে এ দেশে আয়োডিন স্বল্পতা জনিত গলগণ্ড রোগপ্রবণ এলাকা বা ‘গয়টার বেল্ট’ (Goitre Belt) বলা হয়?
A) দাক্ষিণাত্যের মালভূমি অঞ্চল
B) হিমালয়ের পাদদেশ ও তরাই অঞ্চল (Sub-Himalayan region)
C) রাজস্থানের মরু অঞ্চল
D) সুন্দরবনের উপকূল এলাকা
সঠিক উত্তর: B) হিমালয়ের পাদদেশ ও তরাই অঞ্চল (Sub-Himalayan region)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: হিমালয়ের পাদদেশ ও পার্বত্য উপত্যকার মাটি বন্যা ও বৃষ্টির জলে অতি ধৌত হওয়ার কারণে সেখানকার মাটিতে আয়োডিন থাকে না। ফলে সেই মাটিতে উৎপন্ন শাকসবজি ও জলে তীব্র আয়োডিনের ঘাটতি থাকে। এই কারণে এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলটিকে ‘এনডেমিক গয়টার বেল্ট’ বলা হয়।
৪৪. প্রাপ্তবয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন ক্ষরণ তীব্রভাবে কমে গেলে কোন বিশেষ আলস্য ও মেদবহুল চর্মরোগের প্রকাশ ঘটে?
A) ক্রিটিনিজম
B) মিক্সিডিমা (Myxedema)
C) কুশিং সিন্ড্রোম
D) অ্যাক্রোমেগালি
সঠিক উত্তর: B) মিক্সিডিমা (Myxedema)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বড়দের দেহে থাইরয়েড হরমোন অতিরিক্ত কমে গেলে মেটাবলিজম মন্থর হয়ে যায়। এর ফলে ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা, ত্বক ও ঠোঁট ফোলা ও খসখসে হওয়া, অবসাদ এবং বুদ্ধি জড়তা দেখা দেয়। একে মিক্সিডিমা (Myxedema) বলা হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি হলে তাকে ‘ক্রিটিনিজম’ বলে।
৪৫. গর্ভধারণের ১ম ও ২য় সপ্তাহ হলো জাইগোট কাল এবং ৩য় থেকে ৮ম সপ্তাহ হলো ভ্রূণকাল। ৯ম সপ্তাহ থেকে জন্মকাল পর্যন্ত গর্ভস্থ শিশুর সময়কালকে কী বলা হয়?
A) প্রসবের পর পর্যায়
B) ফিটাল বা গর্ভস্থ শিশু পর্যায় (Fetal Period)
C) জাইগোটিক স্টেজ
D) প্রি-এমব্রায়োনিক কাল
সঠিক উত্তর: B) ফিটাল বা গর্ভস্থ শিশু পর্যায় (Fetal Period)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: গর্ভাবস্থার ৯ম সপ্তাহ থেকে শুরু করে শিশুর ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় পর্যন্ত কালকে ‘ফিটাস’ বা গর্ভস্থ শিশু পর্যায় বলা হয়। এই সময়ে প্রধান অঙ্গগুলির দ্রুত বৃদ্ধি, পেশীর সমন্বয় এবং শরীরের কার্যকারিতা সুসংহত হতে শুরু করে।
৪৬. শিশুরা সাধারণত কত মাস বয়সে পৌঁছালে মা বা তার নিয়মিত অভিভাবকের চোখের আড়াল হওয়াকে ভয় পায় এবং তীব্র কান্না প্রকাশ করে (Separation Anxiety)?
A) জন্মের ১৫ দিনের মাথায়
B) ১২ থেকে ১৮ মাস বয়সের মধ্যে (১ থেকে ১.৫ বছর)
C) ৪ বছর বয়সে
D) কৈশোরে প্রবেশের আগে
সঠিক উত্তর: B) ১২ থেকে ১৮ মাস বয়সের মধ্যে (১ থেকে ১.৫ বছর)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সেপারেশন অ্যাংজাইটি বা বিচ্ছিন্নতা ভীতি হলো প্রারম্ভিক শৈশবের একটি স্বাভাবিক প্রাক্ষোভিক বিকাশ। এই বয়সে শিশু বুঝতে পারে যে মা দূরে চলে যাচ্ছে কিন্তু কখন ফিরে আসবে তা সে অনুমান করতে পারে না। দেড় বছর বয়সের পর সাধারণত এটি স্বাভাবিকভাবেই বিলুপ্ত হয়ে যায়।
৪৭. ভারতে জাতীয় স্তরে শিশুদের অধিকার রক্ষা, অপব্যবহার রোধ এবং আইনি তদারকির জন্য কত সালে ‘NCPCR’ নামক বিধিবদ্ধ কমিশন গঠন করা হয়?
A) ২০০০ সালে
B) ২০০৭ সালে (NCPCR – National Commission for Protection of Child Rights)
C) ২০১২ সালে
D) ২০১৫ সালে
সঠিক উত্তর: B) ২০০৭ সালে (NCPCR – National Commission for Protection of Child Rights)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ২০০৫ সালের শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন আইনের অধীনে ২০০৭ সালের মার্চ মাসে এনসিপিসিআর (NCPCR) কমিশন গঠিত হয়। এটি ভারতের সমস্ত আইনের সাথে জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের (UNCRC) সামঞ্জস্য এবং ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করে।
৪৮. প্রাচীনকালে দীর্ঘ জলপথ পাড়ি দেওয়া নাবিকদের মাঝে টাটকা ফল ও সবজি না পাওয়ার কারণে মাড়ি ফোলা ও দাঁত ঝরে পড়ার যে মারাত্মক মড়ক দেখা যেত, তাকে কী বলা হতো?
A) রিকেট
B) নাবিকদের মহামারী বা স্কার্ভি (Sailor’s disease / Scurvy)
C) প্লেগ
D) বেরিবেরি প্লেগ
সঠিক উত্তর: B) নাবিকদের মহামারী বা স্কার্ভি (Sailor’s disease / Scurvy)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: প্রাচীনকালে যুদ্ধজাহাজ বা বাণিজ্যিক জাহাজের নাবিকেরা দীর্ঘ কয়েকমাস সুদূর মহাসাগরে কোনো টাটকা শাকসবজি খেতে পারতেন না। টিনজাত শুকনো খাবার খাওয়ার ফলে ভিটামিন সি-এর অভাবে তাদের দাঁতের মাড়ি পচে মারাত্মক স্কার্ভি হতো, যা বহু নাবিকের মৃত্যুর কারণ ছিল। এই কারণে একে একসময় ‘নাবিকদের রোগ’ও বলা হতো।
৪৯. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পুষ্টির ডেমোগ্রাফি অনুযায়ী, ‘অনূর্ধ্ব পাঁচ শিশু মৃত্যুহার’ (Under-five Mortality Rate – U5MR) বলতে মূলত কী বোঝানো হয়?
A) প্রতি ১০০০ জন জীবিত জন্ম নেওয়া শিশুর মধ্যে ৫ বছরের নিচে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা
B) প্রতি ১০০ জন শিশুর মৃত্যুর অনুপাত
C) হাসপাতালে মারা যাওয়া শিশুর বার্ষিক সংখ্যা
D) প্রসবের সময়ে মায়ের মৃত্যুর হার
সঠিক উত্তর: A) প্রতি ১০০০ জন জীবিত জন্ম নেওয়া শিশুর মধ্যে ৫ বছরের নিচে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: অনূর্ধ্ব পাঁচ শিশু মৃত্যুহার (U5MR) হলো দেশের সামগ্রিক পুষ্টি, জনস্বাস্থ্য ও উন্নয়নের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূচক। প্রতি ১০০০ জন নবজাতকের মধ্যে ঠিক কতজন শিশু তাদের ৫ম জন্মদিন স্পর্শ করার আগে পুষ্টির অভাব বা অন্য রোগে মারা যাচ্ছে—এই হার থেকে তা মাপা হয়।
৫০. অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ২ বছর বা তার বেশি বয়স সম্পন্ন শিশুদের সোজা দাঁড় করিয়ে তাদের নিখুঁত উচ্চতা (Height / Stature) মাপার জন্য খাড়া স্কেল যুক্ত কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
A) ইনফ্যান্টোমিটার
B) স্টেডিওমিটার (Stadiometer)
C) শল্য রুলার
D) অল্টিমিটার
সঠিক উত্তর: B) স্টেডিওমিটার (Stadiometer)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুরা সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই তাদের উচ্চতা মাপার জন্য দেওয়ালে খাড়াভাবে রাখা স্টেডিওমিটার বোর্ডের ওপর সোজা দাঁড় করিয়ে, মাথা সোজা বা ফ্রাঙ্কফোর্ট প্লেনে (Frankfort plane) রেখে কাঠের তক্তা মাথায় স্পর্শ করে সঠিক উচ্চতা সেন্টিমিটার এককে মাপা হয়।
Scroll to Top