গুরুত্ব: ‘বেতাল পঞ্চবিংশতি’ (১৮৪৭) বিদ্যাসাগরের প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ। এটি হিন্দি ‘বৈতাল পচীসী’ অবলম্বনে রচিত হলেও, এর গদ্যশৈলী বাংলা গদ্যের বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রশ্ন ২: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন প্রবন্ধ গ্রন্থটি বাংলা সমালোচনা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন হিসেবে ধরা হয়?
(ক) লোকরহস্য
(খ) কমলাকান্তের দপ্তর
(গ) বিজ্ঞানরহস্য
(ঘ) কৃষ্ণচরিত্র
সঠিক উত্তর: (ক) লোকরহস্য
গুরুত্ব: ‘লোকরহস্য’ (১৮৭৪) বঙ্কিমচন্দ্রের ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক প্রবন্ধ সংকলন। এতে তৎকালীন সমাজ ও ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন অসঙ্গতি তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ ও হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। এটিকে কেউ কেউ বাংলা সমালোচনা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচনা করেন।
প্রশ্ন ৩: ‘আত্মশক্তি’ প্রবন্ধটি কার লেখা?
(ক) প্রমথ চৌধুরী
(খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
(ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: (খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গুরুত্ব: ‘আত্মশক্তি’ (১৯০৫) রবীন্দ্রনাথের একটি বিখ্যাত প্রবন্ধ। এই প্রবন্ধে তিনি আত্মনির্ভরশীলতা, স্বাদেশিকতা এবং জাতির আত্মিক জাগরণের উপর জোর দিয়েছেন।
প্রশ্ন ৪: বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তনে কার অবদান অনস্বীকার্য?
(ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(গ) প্রমথ চৌধুরী
(ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর: (গ) প্রমথ চৌধুরী
গুরুত্ব: প্রমথ চৌধুরী (ছদ্মনাম: বীরবল) বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির অন্যতম প্রধান প্রবর্তক। তার ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা এবং তার প্রবন্ধগুলি চলিত রীতির প্রসারে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
প্রশ্ন ৫: ‘ভাষার ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থটি কার লেখা?
(ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
(খ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
(গ) জগদীশচন্দ্র বসু
(ঘ) বিনয় ঘোষ
সঠিক উত্তর: (খ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
গুরুত্ব: সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের ‘The Origin and Development of the Bengali Language’ (ODBL) (১৯২৬) এর বাংলা সারসংক্ষেপ হিসেবে এই গ্রন্থটি পরিচিত। এটি বাংলা ভাষার ঐতিহাসিক বিবর্তন ও গঠন সম্পর্কে একটি বিস্তারিত ও গভীর আলোচনা।
প্রশ্ন ৬: ‘পঞ্চতন্ত্র’ কার একটি উল্লেখযোগ্য রম্যরচনা সংকলন?
(ক) জগদীশচন্দ্র বসু
(খ) বিনয় ঘোষ
(গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
(ঘ) প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর: (গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
গুরুত্ব: সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ (১৯৫২) একটি ভ্রমণ ও রম্য রচনা সংকলন, যেখানে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, গভীর জ্ঞান এবং অতুলনীয় রসবোধের পরিচয় পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ৭: ‘অব্যক্ত’ প্রবন্ধ সংকলনটি কার লেখা?
(ক) জগদীশচন্দ্র বসু
(খ) বিনয় ঘোষ
(গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু
গুরুত্ব: স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর ‘অব্যক্ত’ (১৯২১) প্রবন্ধ সংকলনে বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলিকে সহজ ও সরল ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। এটি বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান রচনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
প্রশ্ন ৮: ‘বাংলার বিদ্বৎসমাজ’ গ্রন্থটি কার লেখা?
(ক) প্রমথ চৌধুরী
(খ) বিনয় ঘোষ
(গ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
(ঘ) সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর: (খ) বিনয় ঘোষ
গুরুত্ব: বিনয় ঘোষের ‘বাংলার বিদ্বৎসমাজ’ (১৯৭৩) গ্রন্থটি বাংলার বুদ্ধিজীবী সমাজের উৎপত্তি, বিকাশ ও ভূমিকা সম্পর্কে একটি গভীর বিশ্লেষণমূলক আলোচনা।
প্রশ্ন ৯: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কোন গ্রন্থটি বিধবা বিবাহ প্রচলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
(ক) বর্ণপরিচয়
(খ) সীতার বনবাস
(গ) বহুবিবাহ রহিতকরণ উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক বিচার
(ঘ) বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব
সঠিক উত্তর: (ঘ) বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব
ব্যাখ্যা: এই প্রবন্ধটি (১৮৫৫) বিদ্যাসাগরের সমাজ সংস্কারমূলক চিন্তাভাবনার পরিচয় দেয় এবং তৎকালীন সমাজে বিধবা বিবাহের সপক্ষে জনমত গঠনে সহায়তা করে।
প্রশ্ন ১০: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কমলাকান্তের দপ্তর’ প্রবন্ধ সংকলনটির প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
(ক) বিজ্ঞান বিষয়ক আলোচনা
(খ) আফিমের নেশায় বুঁদ কমলাকান্তের জবানিতে সমাজ ও জীবনের সরস সমালোচনা
(গ) সাহিত্য সমালোচনা
(ঘ) ধর্মতত্ত্ব
সঠিক উত্তর: (খ) আফিমের নেশায় বুঁদ কমলাকান্তের জবানিতে সমাজ ও জীবনের সরস সমালোচনা
ব্যাখ্যা: ‘কমলাকান্তের দপ্তর’ (১৮৭৫) বঙ্কিমচন্দ্রের এক অনবদ্য সৃষ্টি, যেখানে কমলাকান্ত নামক চরিত্রের মাধ্যমে ব্যঙ্গ ও কৌতুকের আবরণে গভীর জীবনদর্শন ও সমাজ-সমালোচনা করা হয়েছে।
প্রশ্ন ১১: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কালান্তর’ প্রবন্ধ সংকলনে মূলত কোন বিষয় আলোচিত হয়েছে?
(ক) সাহিত্য সমালোচনা
(খ) শিক্ষাচিন্তা
(গ) সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তা
(ঘ) ধর্মতত্ত্ব
সঠিক উত্তর: (গ) সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তা
ব্যাখ্যা: ‘কালান্তর’ (১৯৩৭) রবীন্দ্র-চিন্তায় সামাজিক ও রাজনৈতিক বিবর্তনের ধারাপথ নির্দেশ করে, যেখানে তিনি জাতীয়তাবাদ, বিশ্বপ্রেম ও আধুনিক সমাজের সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন।
প্রশ্ন ১২: বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষারীতি প্রচলনে প্রমথ চৌধুরীর কোন পত্রিকাটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে?
(ক) সাধনা
(খ) ভারতী
(গ) সবুজপত্র
(ঘ) বঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর: (গ) সবুজপত্র
ব্যাখ্যা: ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় এবং বাংলা গদ্যে চলিত ভাষারীতিকে প্রতিষ্ঠিত করতে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখে।
প্রশ্ন ১৩: সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের ‘বাঙ্গালা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা’ গ্রন্থটি মূলত কোন দিকটির উপর আলোকপাত করে?
(ক) বাংলা ভাষার আধুনিক ব্যবহার
(খ) বাংলা ভাষার ঐতিহাসিক ও তুলনামূলক ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
(গ) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ
(ঘ) বাংলা ভাষার উপভাষা
সঠিক উত্তর: (খ) বাংলা ভাষার ঐতিহাসিক ও তুলনামূলক ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
ব্যাখ্যা: ‘বাঙ্গালা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা’ (১৯২৯) বাংলা ভাষার বিজ্ঞানসম্মত আলোচনার পথিকৃৎ গ্রন্থ, যা বাংলা ভাষাতত্ত্বে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। এটি তার বিখ্যাত ইংরেজি গ্রন্থ ODBL-এর ভাবাদর্শে রচিত।
প্রশ্ন ১৪: সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘দেশে বিদেশে’ গ্রন্থটি কোন ধরনের রচনা?
(ক) উপন্যাস
(খ) ভ্রমণকাহিনী
(গ) ছোটগল্প
(ঘ) রম্যরচনা
সঠিক উত্তর: (খ) ভ্রমণকাহিনী
ব্যাখ্যা: ‘দেশে বিদেশে’ (১৯৪৯) লেখকের আফগানিস্তান ভ্রমণের এক সরস ও জ্ঞানগর্ভ বিবরণ, যা বাংলা ভ্রমণসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
(খ) এটি পশ্চিমবঙ্গের লোকসংস্কৃতি ও সমাজতত্ত্বের বিস্তারিত আলোচনা করে
(গ) এটি পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক অর্থনীতির বিশ্লেষণ করে
(ঘ) এটি পশ্চিমবঙ্গের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ণনা করে
সঠিক উত্তর: (খ) এটি পশ্চিমবঙ্গের লোকসংস্কৃতি ও সমাজতত্ত্বের বিস্তারিত আলোচনা করে
ব্যাখ্যা: ‘পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি’ (১৯৫৭) বাংলা সংস্কৃতির এক সামগ্রিক ও গভীর বিশ্লেষণ, যা পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের উপর আলোকপাত করে।
প্রশ্ন ১৬: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কোন গ্রন্থটি একটি আদর্শ নীতিশিক্ষামূলক গ্রন্থ হিসেবে পরিচিত?
(ক) বেতাল পঞ্চবিংশতি
(খ) শকুন্তলা
(গ) আখ্যান মঞ্জরী
(ঘ) চরিতাবলী
সঠিক উত্তর: (ঘ) চরিতাবলী
ব্যাখ্যা: ‘চরিতাবলী’ (১৮৫৬) বিদ্যাসাগরের একটি উল্লেখযোগ্য নীতিশিক্ষামূলক গ্রন্থ, যেখানে তিনি বিভিন্ন মহান ব্যক্তির জীবনীর মাধ্যমে নীতি ও আদর্শ তুলে ধরেছেন।
প্রশ্ন ১৭: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
(ক) কেবল রাজনৈতিক আলোচনা
(খ) সাহিত্য, বিজ্ঞান ও সমাজ ভাবনাকে একত্রিত করা
(গ) ধর্মীয় কুসংস্কারের সমালোচনা
(ঘ) সংবাদ পরিবেশন
সঠিক উত্তর: (খ) সাহিত্য, বিজ্ঞান ও সমাজ ভাবনাকে একত্রিত করা
ব্যাখ্যা: ‘বঙ্গদর্শন’ (১৮৭২) পত্রিকা বাংলা নবজাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যেখানে সাহিত্য, বিজ্ঞান, দর্শন ও সমাজচিন্তা নিয়ে উচ্চমানের প্রবন্ধ প্রকাশিত হত।
প্রশ্ন ১৮: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শিক্ষার হেরফের’ প্রবন্ধটি কোন বিষয় নিয়ে লেখা?
(ক) কৃষি শিক্ষা
(খ) বিদেশী শিক্ষার প্রভাব
(গ) মাতৃভাষায় শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার
(ঘ) নারী শিক্ষা
সঠিক উত্তর: (গ) মাতৃভাষায় শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার
ব্যাখ্যা: এই প্রবন্ধে (১৮৯২) রবীন্দ্রনাথ প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে মাতৃভাষায় শিক্ষার গুরুত্ব এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে জীবনমুখী করার আহ্বান জানান।
প্রশ্ন ১৯: প্রমথ চৌধুরীর কোন প্রবন্ধ ‘সবুজপত্র’-এর ভাবাদর্শের মুখপত্র হিসেবে বিবেচিত?
(ক) আমাদের শিক্ষা
(খ) যৌবনে দাও রাজটীকা
(গ) রায়তের কথা
(ঘ) ভারতবর্ষ
সঠিক উত্তর: (খ) যৌবনে দাও রাজটীকা
ব্যাখ্যা: এই প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী আধুনিকতা, তারুণ্যের শক্তি ও যুক্তিবাদী চিন্তার জয়গান গেয়েছেন, যা ‘সবুজপত্র’ আন্দোলনের মূল সুরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
(খ) এটি ভারতের বিভিন্ন ভাষার উৎপত্তি ও তাদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে
(গ) এটি ভারতীয় সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক ও তার বৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা করে
(ঘ) এটি ভারতের ধর্মীয় বিভাজন নিয়ে বিশ্লেষণ করে
সঠিক উত্তর: (গ) এটি ভারতীয় সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক ও তার বৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা করে
ব্যাখ্যা: ‘ভারত-সংস্কৃতি’ (১৯৪৪) গ্রন্থটি ভারতের ভাষাগত, নৃতাত্ত্বিক, ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কৃতির বৈচিত্র্য এবং তার অন্তর্নিহিত ঐক্য নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।
প্রশ্ন ২১: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ‘ভ্রান্তিবিলাস’ কোন ইংরেজি সাহিত্যের অনুবাদ?
(ক) হ্যামলেট
(খ) ম্যাকবেথ
(গ) কমেডি অফ এররস
(ঘ) রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট
সঠিক উত্তর: (গ) কমেডি অফ এররস
ব্যাখ্যা: ‘ভ্রান্তিবিলাস’ (১৮৬৯) শেক্সপিয়রের ‘কমেডি অফ এররস’ নাটকের একটি সফল গদ্য অনুবাদ, যা বিদ্যাসাগরের অনুবাদশৈলীর নৈপুণ্য ও বাংলা গদ্যের সাবলীলতা বৃদ্ধি করে।
প্রশ্ন ২২: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সভ্যতার সংকট’ প্রবন্ধটি কোন প্রেক্ষাপটে রচিত?
(ক) প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে
(খ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এবং কবির জীবনের অন্তিম পর্যায়ে
(গ) স্বদেশী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে
(ঘ) ভারত ছাড়ো আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে
সঠিক উত্তর: (খ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এবং কবির জীবনের অন্তিম পর্যায়ে
ব্যাখ্যা: ‘সভ্যতার সংকট’ (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথের জীবনের শেষ ভাষণ, যেখানে তিনি সাম্রাজ্যবাদী সভ্যতার সংকট ও মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
প্রশ্ন ২৩: প্রমথ চৌধুরীর ‘বীরবলের হালখাতা’ কী ধরনের রচনা?
(ক) উপন্যাস
(খ) রম্যরচনা ও প্রবন্ধ সংকলন
(গ) কাব্যগ্রন্থ
(ঘ) নাটক
সঠিক উত্তর: (খ) রম্যরচনা ও প্রবন্ধ সংকলন
ব্যাখ্যা: ‘বীরবলের হালখাতা’ (১৯১৭) প্রমথ চৌধুরীর (বীরবল) স্বকীয় শৈলীতে রচিত বিভিন্ন প্রবন্ধ ও রম্যরচনার সংকলন, যা চলিত রীতির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন ২৪: সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘চাচা কাহিনী’-র প্রধান চরিত্র কে?
(ক) লেখক স্বয়ং
(খ) চাচা
(গ) এক কাল্পনিক পণ্ডিত ব্যক্তি
(ঘ) এক ঐতিহাসিক চরিত্র
সঠিক উত্তর: (খ) চাচা
ব্যাখ্যা: ‘চাচা কাহিনী’ (১৯৫২) মুজতবা আলীর একটি জনপ্রিয় রম্যরচনা, যেখানে ‘চাচা’ নামক এক রসিক ও অভিজ্ঞ চরিত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন সরস গল্প বলা হয়েছে।
প্রশ্ন ২৫: রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর ‘জিজ্ঞাসা’ গ্রন্থটির প্রধান বিষয়বস্তু কী?
(ক) ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান
(খ) দর্শন, বিজ্ঞান এবং সমাজ সম্পর্কিত গভীর জিজ্ঞাসামূলক প্রবন্ধ
(গ) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস
(ঘ) রাজনৈতিক মতাদর্শ
সঠিক উত্তর: (খ) দর্শন, বিজ্ঞান এবং সমাজ সম্পর্কিত গভীর জিজ্ঞাসামূলক প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা: ‘জিজ্ঞাসা’ (১৯০৪) গ্রন্থে রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী দর্শন, বিজ্ঞান, সমাজ ও শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন এবং সেগুলির যুক্তিনিষ্ঠ আলোচনা করেছেন।
প্রশ্ন ২৬: স্বামী বিবেকানন্দের ‘পরিব্রাজক’ গ্রন্থটি কোন ধরনের রচনা?
(ক) ধর্মীয় উপদেশ সংকলন
(খ) ভ্রমণকাহিনী
(গ) কাব্যগ্রন্থ
(ঘ) দার্শনিক প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর: (খ) ভ্রমণকাহিনী
ব্যাখ্যা: ‘পরিব্রাজক’ (১৯০৫) স্বামী বিবেকানন্দের ভ্রমণ অভিজ্ঞতার একটি প্রাঞ্জল বিবরণ, যেখানে তিনি তার যাত্রাপথের নানা ঘটনা ও উপলব্ধি তুলে ধরেছেন।
প্রশ্ন ২৭: অক্ষয়কুমার দত্তের ‘চারুপাঠ’ গ্রন্থটি মূলত কাদের জন্য রচিত হয়েছিল?
(ক) বয়স্ক পাঠক
(খ) নারীসমাজ
(গ) শিশু ও কিশোরদের জন্য পাঠ্যপুস্তক হিসেবে
(ঘ) গবেষক
সঠিক উত্তর: (গ) শিশু ও কিশোরদের জন্য পাঠ্যপুস্তক হিসেবে
ব্যাখ্যা: ‘চারুপাঠ’ (তিন খণ্ডে ১৮৫৩, ১৮৫৪, ১৮৫৯) অক্ষয়কুমার দত্ত রচিত একটি নীতিশিক্ষা ও জ্ঞানমূলক পাঠ্যপুস্তক, যা তৎকালীন শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রশ্ন ২৮: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কৃত ‘চর্যাপদ’ কোন ভাষার আদি নিদর্শন?
(ক) সংস্কৃত
(খ) পালি
(গ) বাংলা
(ঘ) মৈথিলী
সঠিক উত্তর: (গ) বাংলা
ব্যাখ্যা: মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবার থেকে ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ বা চর্যাপদ আবিষ্কার করেন, যা বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত।
প্রশ্ন ২৯: ‘আলালের ঘরের দুলাল’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
(ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
(খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
(ঘ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
সঠিক উত্তর: (গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা: প্যারীচাঁদ মিত্র (টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে) রচিত ‘আলালের ঘরের দুলাল’ (১৮৫৮) বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে বিবেচিত। এটি চলিত ভাষায় রচিত প্রথম দিকের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
প্রশ্ন ৩০: ‘হুতোম প্যাঁচার নক্সা’ কার লেখা?
(ক) প্যারীচাঁদ মিত্র
(খ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
(গ) দীনবন্ধু মিত্র
(ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর: (খ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা: কালীপ্রসন্ন সিংহ ‘হুতোম প্যাঁচা’ ছদ্মনামে ‘হুতোম প্যাঁচার নক্সা’ (১৮৬২) রচনা করেন। এটি উনিশ শতকের কলকাতার সমাজ জীবনের এক ব্যঙ্গাত্মক চিত্র।
কাব্য সাহিত্য
প্রশ্ন ৩১: বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক কে?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(খ) কাজী নজরুল ইসলাম
(গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
(ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর: (গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
গুরুত্ব: মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তন করে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। তার ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’ (১৮৬০) এই ছন্দে রচিত প্রথম কাব্য।
প্রশ্ন ৩২: বাংলা সাহিত্যে ‘ভোরের পাখি’ নামে কে পরিচিত?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
(গ) যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
(ঘ) বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর: (খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
গুরুত্ব: বিহারীলাল চক্রবর্তী (১৮৩৫-১৮৯৪) ‘ভোরের পাখি’ নামে পরিচিত। তিনি বাংলা গীতিকবিতার ধারার পথিকৃৎ। তার ‘সারদামঙ্গল’ (১৮৭৯) কাব্যগ্রন্থটি বাংলা গীতিকবিতার এক অনবদ্য সৃষ্টি।
প্রশ্ন ৩৩: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
(ক) ১৯০১
(খ) ১৯০৫
(গ) ১৯১০
(ঘ) ১৯১৩
সঠিক উত্তর: (গ) ১৯১০
গুরুত্ব: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতাঞ্জলি’ (বাংলা) ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয়। এর ইংরেজি অনুবাদ ‘Song Offerings’ (১৯১২) তাকে ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার এনে দেয়।
প্রশ্ন ৩৪: ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি কার লেখা?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(খ) কাজী নজরুল ইসলাম
(গ) জীবনানন্দ দাশ
(ঘ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: (খ) কাজী নজরুল ইসলাম
গুরুত্ব: কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ (১৯২২) কবিতাটি তার কাব্যপ্রতিভার এক জ্বলন্ত উদাহরণ এবং এটি ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
প্রশ্ন ৩৫: ‘মরুশিখা’ কাব্যগ্রন্থটি কার লেখা?
(ক) যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
(খ) বুদ্ধদেব বসু
(গ) জীবনানন্দ দাশ
(ঘ) বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর: (ক) যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
গুরুত্ব: যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত (১৮৮৭-১৯৫৪) বাংলা সাহিত্যে ‘দুঃখবাদী কবি’ হিসেবে পরিচিত। তার ‘মরুশিখা’ (১৯২৭) কাব্যগ্রন্থটি তার জীবনদর্শন ও হতাশার কাব্যিক প্রকাশ।
প্রশ্ন ৩৬: ‘কঙ্কাবতী’ কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
(ক) জীবনানন্দ দাশ
(খ) বুদ্ধদেব বসু
(গ) বিষ্ণু দে
(ঘ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: (খ) বুদ্ধদেব বসু
গুরুত্ব: বুদ্ধদেব বসুর ‘কঙ্কাবতী’ (১৯৩৭) কাব্যগ্রন্থটি তার প্রথম দিকের উল্লেখযোগ্য রচনা। তার কাব্যে আধুনিকতা, নাগরিক জীবন এবং মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা ফুটে ওঠে।
প্রশ্ন ৩৭: ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থটি কার লেখা?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(খ) কাজী নজরুল ইসলাম
(গ) জীবনানন্দ দাশ
(ঘ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: (গ) জীবনানন্দ দাশ
গুরুত্ব: জীবনানন্দ দাশের ‘রূপসী বাংলা’ (মৃত্যুপরবর্তী প্রকাশ: ১৯৫৭) কাব্যগ্রন্থটি বাংলার প্রকৃতি ও সৌন্দর্যকে এক নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরে।
গুরুত্ব: বিষ্ণু দের ‘স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ’ (১৯৬৩) কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি ১৯৭১ সালে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করেন।
প্রশ্ন ৩৯: ‘পদাতিক’ কাব্যগ্রন্থটি কার লেখা?
(ক) শক্তি চট্টোপাধ্যায়
(খ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
(গ) জীবনানন্দ দাশ
(ঘ) বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর: (খ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
গুরুত্ব: সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘পদাতিক’ (১৯৪০) কাব্যগ্রন্থটি তার প্রথম দিকের উল্লেখযোগ্য রচনা। তার কাব্যে সাধারণ মানুষের জীবন, সংগ্রাম এবং সমাজতান্ত্রিক ভাবনার প্রতিফলন দেখা যায়।
গুরুত্ব: শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ‘হে প্রেম, হে নৈঃশব্দ্য’ (১৯৬১) কাব্যগ্রন্থটি তার কাব্যশৈলীর এক অনন্য উদাহরণ। তার কাব্যে প্রেম, একাকীত্ব, জীবন ও মৃত্যুর এক গভীর অনুভূতি ফুটে ওঠে।
প্রশ্ন ৪১: মাইকেল মধুসূদন দত্তের কোন কাব্যগ্রন্থটি অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম সার্থক প্রয়োগ হিসেবে বিবেচিত?
(ক) তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
(খ) বীরাঙ্গনা কাব্য
(গ) মেঘনাদবধ কাব্য
(ঘ) ব্রজাঙ্গনা কাব্য
সঠিক উত্তর: (গ) মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা: ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ (১৮৬১) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য এবং অমিত্রাক্ষর ছন্দের সফল প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলা কাব্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ অমিত্রাক্ষরে রচিত প্রথম কাব্য হলেও ‘মেঘনাদবধ’ এই ছন্দের সার্থকতম প্রয়োগ।
প্রশ্ন ৪২: ‘গীতাঞ্জলি’ (Song Offerings) কাব্যগ্রন্থের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে নোবেল পুরস্কার পান?
(ক) ১৯১০
(খ) ১৯১১
(গ) ১৯১২
(ঘ) ১৯১৩
সঠিক উত্তর: (ঘ) ১৯১৩
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ব-অনূদিত ‘গীতাঞ্জলি’ (Song Offerings) ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয় এবং এর জন্য তিনি ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
প্রশ্ন ৪৩: কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
(ক) প্রকৃতি ও প্রেমের সার্থক বর্ণনা
(খ) বিদ্রোহ ও সাম্যবাদের জয়গান
(গ) আধ্যাত্মিক ও মরমীভাবের প্রকাশ
(ঘ) আধুনিক নগরজীবনের প্রতিফলন
সঠিক উত্তর: (খ) বিদ্রোহ ও সাম্যবাদের জয়গান
ব্যাখ্যা: ‘অগ্নিবীণা’ (১৯২২) নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং এটি তার বিদ্রোহী সত্তা, সাম্যবাদ ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক। ‘বিদ্রোহী’ কবিতা এই গ্রন্থের অন্তর্গত।
প্রশ্ন ৪৪: বুদ্ধদেব বসুর ‘বন্দীর বন্দনা’ কাব্যগ্রন্থটির গুরুত্ব কী?
(ক) এটি আধুনিক বাংলা কাব্যের প্রথম সংকলন
(খ) এটি প্রেম ও বিদ্রোহের সমন্বয় ঘটায়
(গ) এটি বাংলা সাহিত্যে আধুনিক কবিতার নতুন আঙ্গিক ও ভাবনার সূত্রপাত ঘটায়
(ঘ) এটি প্রকৃতির সৌন্দর্যকে নতুনভাবে উপস্থাপন করে
সঠিক উত্তর: (গ) এটি বাংলা সাহিত্যে আধুনিক কবিতার নতুন আঙ্গিক ও ভাবনার সূত্রপাত ঘটায়
ব্যাখ্যা: ‘বন্দীর বন্দনা’ (১৯৩০) বুদ্ধদেব বসুর প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা আধুনিক কাব্যে এক নতুন ধারা প্রবর্তন করে, যেখানে নতুন আঙ্গিক ও ভাবনার প্রকাশ ঘটে।
প্রশ্ন ৪৫: জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থটি প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?
(ক) ১৯৩০
(খ) ১৯৩৫
(গ) ১৯৪২
(ঘ) ১৯৫২
সঠিক উত্তর: (গ) ১৯৪২
ব্যাখ্যা: ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৪২ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। এটি জীবনানন্দ দাশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ, যা তার নিসর্গ প্রেম, নির্জনতা, ইতিহাস চেতনা এবং মৃত্যুভাবনার স্বাক্ষর বহন করে।
প্রশ্ন ৪৬: মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ কোন ধরনের কাব্য?
(ক) সনেট সংকলন
(খ) পত্রকাব্য
(গ) গীতিকাব্য
(ঘ) মহাকাব্য
সঠিক উত্তর: (খ) পত্রকাব্য
ব্যাখ্যা: ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ (১৮৬২) হল মাইকেলের পত্রাকারে রচিত কাব্য, যেখানে পৌরাণিক নারীদের (যেমন দুঃশলা, কৈকেয়ী, শকুন্তলা) মুখ দিয়ে তাদের দুঃখ, ক্রোধ ও ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে।
প্রশ্ন ৪৭: বিহারীলাল চক্রবর্তীর ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যগ্রন্থটির গুরুত্ব কী?
(ক) এটি বাংলা সাহিত্যে মঙ্গলকাব্যের ধারায় এক নতুন মাত্রা যোগ করে
(খ) এটি বাংলা গীতিকাব্যের এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন এবং রবীন্দ্রনাথকে প্রভাবিত করেছিল
(গ) এটি ঐতিহাসিক ঘটনার ভিত্তিতে রচিত
(ঘ) এটি সমাজ সংস্কারমূলক কাব্য
সঠিক উত্তর: (খ) এটি বাংলা গীতিকাব্যের এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন এবং রবীন্দ্রনাথকে প্রভাবিত করেছিল
ব্যাখ্যা: ‘সারদামঙ্গল’ (১৮৭৯) বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থগুলির অন্যতম, যেখানে প্রকৃতি ও আধ্যাত্মিকতার এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্য দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন।
প্রশ্ন ৪৮: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যগ্রন্থটি জীবনের শেষ পর্যায়ের সৃষ্টি এবং গভীর দার্শনিক ভাবনায় পূর্ণ?
(ক) পুনশ্চ
(খ) শেষ লেখা
(গ) পত্রপুট
(ঘ) রোগশয্যায়
সঠিক উত্তর: (খ) শেষ লেখা
ব্যাখ্যা: ‘শেষ লেখা’ (১৯৪১, মরণোত্তর প্রকাশিত) রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর অব্যবহিত পূর্বে রচিত কবিতাগুলির সংকলন, যেখানে তার জীবনের শেষ মুহূর্তের উপলব্ধি ও দার্শনিক ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে।
প্রশ্ন ৪৯: কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিষের বাঁশি’ কাব্যগ্রন্থের প্রধান বিষয়বস্তু কী?
(ক) প্রেম ও প্রকৃতি
(খ) পরাধীন ভারতের মুক্তি ও বিদ্রোহের আকাঙ্ক্ষা
(গ) আধ্যাত্মিক সাধনা
(ঘ) গ্রামীণ জীবনের ছবি
সঠিক উত্তর: (খ) পরাধীন ভারতের মুক্তি ও বিদ্রোহের আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা: ‘বিষের বাঁশি’ (১৯২৪) নজরুল ইসলামের আরেকটি বিদ্রোহী কাব্যগ্রন্থ, যা ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল। এটি পরাধীনতার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
প্রশ্ন ৫০: যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সায়ং’ কাব্যগ্রন্থের বৈশিষ্ট্য কী?
(ক) হাস্যরস ও প্রহসন
(খ) মানব জীবনের হতাশা ও নৈরাশ্য
(গ) প্রকৃতি প্রেম
(ঘ) দেশাত্মবোধ
সঠিক উত্তর: (খ) মানব জীবনের হতাশা ও নৈরাশ্য
ব্যাখ্যা: যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত দুঃখবাদী কবি হিসেবে পরিচিত, এবং ‘সায়ং’ (১৯৪০) তার সেই দুঃখবাদী চেতনার প্রতিফলন, যেখানে জীবনের অনিত্যতা ও বিষণ্ণতা ফুটে উঠেছে।
প্রশ্ন ৫১: মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ বাংলা সাহিত্যে কীসের সূচনা করে?
(ক) মহাকাব্য
(খ) গীতিকাব্য
(গ) সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা
(ঘ) পত্রকাব্য
সঠিক উত্তর: (গ) সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা
ব্যাখ্যা: ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ (১৮৬৬) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট সংকলন, যার মাধ্যমে মধুসূদন এই নতুন কাব্য আঙ্গিকটি বাংলায় প্রবর্তন করেন।
প্রশ্ন ৫২: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বলাকা’ কাব্যগ্রন্থের মূল সুর কী?
(ক) প্রকৃতির স্থির সৌন্দর্য
(খ) গতির তত্ত্ব ও জীবনের চলমানতা
(গ) আধ্যাত্মিক প্রশান্তি
(ঘ) ব্যক্তিগত প্রেম ও বিরহ
সঠিক উত্তর: (খ) গতির তত্ত্ব ও জীবনের চলমানতা
ব্যাখ্যা: ‘বলাকা’ (১৯১৬) কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ গতির বন্দনা করেছেন এবং জীবনের পরিবর্তনশীলতা ও অসীম সম্ভাবনার কথা বলেছেন, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রশ্ন ৫৩: কাজী নজরুল ইসলামের ‘সঞ্চিতা’ কী ধরনের গ্রন্থ?
(ক) উপন্যাস
(খ) প্রবন্ধ সংকলন
(গ) নির্বাচিত কাব্য সংকলন
(ঘ) নাটক
সঠিক উত্তর: (গ) নির্বাচিত কাব্য সংকলন
ব্যাখ্যা: ‘সঞ্চিতা’ (১৯২৮) কাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচিত কবিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন, যা তার কাব্যপ্রতিভার বিভিন্ন দিককে তুলে ধরে।
প্রশ্ন ৫৪: জীবনানন্দ দাশের ‘মহাপৃথিবী’ কাব্যগ্রন্থটির বৈশিষ্ট্য কী?
(ক) আধুনিক নগর জীবনের প্রতিফলন
(খ) নির্জনতা, মৃত্যুচিন্তা ও ইতিহাস চেতনা
(গ) সামাজিক বিপ্লব
(ঘ) গ্রামীণ সমাজের সরল ছবি
সঠিক উত্তর: (খ) নির্জনতা, মৃত্যুচিন্তা ও ইতিহাস চেতনা
ব্যাখ্যা: ‘মহাপৃথিবী’ (১৯৪৪) জীবনানন্দ দাশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ, যেখানে তার একাকীত্ব, মৃত্যুচেতনা এবং ইতিহাস ও সময়ের গভীর বোধের প্রকাশ দেখা যায়।
প্রশ্ন ৫৫: বিষ্ণু দের ‘নাম রেখেছি কোমল গান্ধার’ কাব্যগ্রন্থের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
(ক) গ্রামীণ জীবনের চিত্র
(খ) ইতিহাস, পুরাণ এবং সমকালীন জীবনের সমন্বয়ে মানবতাবাদী চেতনা
(গ) অতিবাস্তববাদী চিত্রকল্প
(ঘ) প্রকৃতির শান্ত রূপের বর্ণনা
সঠিক উত্তর: (খ) ইতিহাস, পুরাণ এবং সমকালীন জীবনের সমন্বয়ে মানবতাবাদী চেতনা
ব্যাখ্যা: ‘নাম রেখেছি কোমল গান্ধার’ (১৯৭৫) কাব্যগ্রন্থে বিষ্ণু দে ইতিহাস, পুরাণ, শিল্পকলা ও সমকালীন জীবনকে একসূত্রে গেঁথেছেন এবং গভীর মানবতাবোধের পরিচয় দিয়েছেন। এই গ্রন্থের জন্য তিনি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান।
প্রশ্ন ৫৬: ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের রচয়িতা কে?
(ক) বিদ্যাপতি
(খ) চণ্ডীদাস
(গ) বড়ু চণ্ডীদাস
(ঘ) জ্ঞানদাস
সঠিক উত্তর: (গ) বড়ু চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা: ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্য বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের আদি নিদর্শনগুলির অন্যতম। এটি বড়ু চণ্ডীদাস কর্তৃক রচিত এবং বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ এটি আবিষ্কার ও সম্পাদনা করেন।
প্রশ্ন ৫৭: ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য কার লেখা?
(ক) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
(খ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
(গ) বিজয়গুপ্ত
(ঘ) দ্বিজ মাধব
সঠিক উত্তর: (খ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা: ‘অন্নদামঙ্গল’ (আনুমানিক ১৭৫২) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের শ্রেষ্ঠ কীর্তি এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের এক উল্লেখযোগ্য মঙ্গলকাব্য। এটি মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সভাকবি থাকাকালীন রচিত।
প্রশ্ন ৫৮: ‘চর্যাপদ’ কোন যুগের সাহিত্যের নিদর্শন?
(ক) আধুনিক যুগ
(খ) মধ্যযুগ
(গ) প্রাচীন যুগ
(ঘ) অন্ধকার যুগ
সঠিক উত্তর: (গ) প্রাচীন যুগ
ব্যাখ্যা: চর্যাপদ হলো বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, যা আনুমানিক খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত হয়েছিল।
ব্যাখ্যা: ‘সাতটি তারার তিমির’ (১৯৪৮) জীবনানন্দ দাশের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ, যেখানে তার স্বতন্ত্র কাব্যভাষা, চিত্রকল্প এবং বিষণ্ণতার সুর আরও পরিপক্কতা লাভ করে।
প্রশ্ন ৬০: ‘উলঙ্গ রাজা’ কাব্যগ্রন্থটি কার লেখা?
(ক) শঙ্খ ঘোষ
(খ) শক্তি চট্টোপাধ্যায়
(গ) নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
(ঘ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: (গ) নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা: ‘উলঙ্গ রাজা’ (১৯৭১) নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, যার জন্য তিনি ১৯৭৪ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। এই কাব্যের নাম কবিতাটি বিশেষভাবে পরিচিত।
ব্যাখ্যা: ‘বাবরের প্রার্থনা’ (১৯৭৬) শঙ্খ ঘোষের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যের জন্য তিনি ১৯৭৭ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান।
প্রশ্ন ৬২: ‘পূর্বাপর’ কার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ?
(ক) বুদ্ধদেব বসু
(খ) নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
(গ) শঙ্খ ঘোষ
(ঘ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: (ঘ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: ‘পূর্বাপর’ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ, যেখানে তিনি তার জীবন ও সাহিত্যিক অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন।
প্রশ্ন ৬৩: ‘কড়ি ও কোমল’ কাব্যগ্রন্থটি কার?
(ক) কাজী নজরুল ইসলাম
(খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
(ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর: (খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা: ‘কড়ি ও কোমল’ (১৮৮৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যে মানবপ্রেম ও সৌন্দর্যচেতনার স্ফূরণ দেখা যায়।
প্রশ্ন ৬৪: ‘মঙ্গলকাব্য’ ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি কে?
(ক) চণ্ডীদাস
(খ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
(গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
(ঘ) বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর: (গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা: মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তার রচিত ‘চণ্ডীমঙ্গল’ বা ‘অভয়ামঙ্গল’ মঙ্গলকাব্য ধারার এক শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
প্রশ্ন ৬৫: ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের রচয়িতা কে?
(ক) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
(খ) দ্বিজ মাধব
(গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
(ঘ) কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ
সঠিক উত্তর: (গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা: ‘চণ্ডীমঙ্গল’ (যা ‘অভয়ামঙ্গল’ বা ‘অম্বিকামঙ্গল’ নামেও পরিচিত) মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ রচনা এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি।
প্রশ্ন ৬৬: ‘নীললোহিত’ কার ছদ্মনাম?
(ক) সমরেশ বসু
(খ) শক্তি চট্টোপাধ্যায়
(গ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
(ঘ) শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: (গ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ‘নীললোহিত’ ছদ্মনামে বহু জনপ্রিয় উপন্যাস ও ভ্রমণকাহিনী রচনা করেছেন।
প্রশ্ন ৬৭: ‘বিদ্যাপতি’ কোন ভাষার কবি ছিলেন?
(ক) বাংলা
(খ) মৈথিলী
(গ) সংস্কৃত
(ঘ) হিন্দি
সঠিক উত্তর: (খ) মৈথিলী
ব্যাখ্যা: বিদ্যাপতি ছিলেন মধ্যযুগের মৈথিলী ভাষার একজন বিখ্যাত কবি। তবে তার পদাবলি বাংলা সাহিত্যেও গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে এবং বৈষ্ণব পদাবলির অংশ হিসেবে পঠিত হয়।
প্রশ্ন ৬৮: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
(ক) ১৭৫৭
(খ) ১৮০০
(গ) ১৮০১
(ঘ) ১৮৫৭
সঠিক উত্তর: (খ) ১৮০০
ব্যাখ্যা: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ১৮০০ সালের ৪ঠা মে (মতান্তরে ১০ই জুলাই) কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলা গদ্যের বিকাশে এই কলেজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
প্রশ্ন ৬৯: ‘সবুজপত্র’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(খ) প্রমথ চৌধুরী
(গ) কাজী নজরুল ইসলাম
(ঘ) বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর: (খ) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা: ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত একটি প্রভাবশালী সাময়িকপত্র, যা বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রচলন ও প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
প্রশ্ন ৭০: ‘কল্লোল’ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না নিম্নলিখিত কোন সাহিত্যিক?
(ক) অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
(খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
(গ) বুদ্ধদেব বসু
(ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: (ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: ‘কল্লোল’ (১৯২৩) ছিল একটি আধুনিক সাহিত্য পত্রিকা, যার সঙ্গে অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, প্রেমেন্দ্র মিত্র, বুদ্ধদেব বসু প্রমুখ তরুণ সাহিত্যিকরা যুক্ত ছিলেন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর লেখক।
কথা সাহিত্য (উপন্যাস, ছোটগল্প)
প্রশ্ন ৭১: বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস কোনটি?
(ক) দুর্গেশনন্দিনী
(খ) কপালকুণ্ডলা
(গ) বিষবৃক্ষ
(ঘ) আলালের ঘরের দুলাল
সঠিক উত্তর: (ক) দুর্গেশনন্দিনী
গুরুত্ব: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দুর্গেশনন্দিনী’ (১৮৬৫) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস হিসেবে পরিচিত। ‘আলালের ঘরের দুলাল’ কে প্রথম উপন্যাস ধরা হলেও, গঠনশৈলী ও শিল্পগুণে ‘দুর্গেশনন্দিনী’ অধিক সার্থক।
প্রশ্ন ৭২: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প কোনটি?
(ক) ছুটি
(খ) দেনাপাওনা
(গ) ভিখারিনী
(ঘ) পোস্টমাস্টার
সঠিক উত্তর: (গ) ভিখারিনী
গুরুত্ব: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প ‘ভিখারিনী’ (১৮৭৪, ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত)। এটি তার ছোটগল্প রচনার সূচনা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন ৭৩: ‘দেবদাস’ উপন্যাসটি কার লেখা?
(ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(ঘ) তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: (গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
গুরুত্ব: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেবদাস’ (১৯১৭) উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় এবং বহুলপঠিত প্রেমের উপন্যাস।
প্রশ্ন ৭৪: ‘গণদেবতা’ উপন্যাসটি কার লেখা?
(ক) তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
(খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
(গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
(ঘ) পরশুরাম
সঠিক উত্তর: (ক) তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
গুরুত্ব: তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘গণদেবতা’ (১৯৪২) উপন্যাসটি গ্রাম বাংলার জীবন, সামাজিক পরিবর্তন এবং মানুষের সংগ্রামকে বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরে। এই উপন্যাসের জন্য তিনি ১৯৪৭ সালে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করেন (যুগ্মভাবে ‘পঞ্চগ্রাম’-এর সাথে)।
গুরুত্ব: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ (১৯৩৬) উপন্যাসটি মানব মনের জটিলতা, নিয়তি এবং সামাজিক পরিবর্তনের এক বাস্তবসম্মত চিত্র।
প্রশ্ন ৭৬: ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসটি কার লেখা?
(ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
(খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
(গ) আশাপূর্ণা দেবী
(ঘ) লীলা মজুমদার
সঠিক উত্তর: (খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
গুরুত্ব: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালী’ (১৯২৯) উপন্যাসটি গ্রাম বাংলার জীবন, প্রকৃতি এবং অপু ও দুর্গার শৈশবের স্মৃতি নিয়ে রচিত এক অসাধারণ সৃষ্টি।
প্রশ্ন ৭৭: ‘গড্ডলিকা’ গল্পসংকলনটি কার লেখা?
(ক) প্রেমেন্দ্র মিত্র
(খ) পরশুরাম
(গ) বনফুল
(ঘ) সতীনাথ ভাদুড়ী
সঠিক উত্তর: (খ) পরশুরাম
গুরুত্ব: পরশুরাম (রাজশেখর বসু) এর ‘গড্ডলিকা’ (১৯২৪) গল্পসংকলনটি তার তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ, সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ এবং হাস্যরসের পরিচয় বহন করে।
গুরুত্ব: প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ একটি বিখ্যাত ছোটগল্প, যা তার রোমান্টিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অসাধারণ বর্ণনাভঙ্গীর পরিচয় দেয়। এটি ‘বেনামী বন্দর’ (১৯৩০) গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত।
প্রশ্ন ৭৯: ‘অগ্নিগর্ভ’ উপন্যাসটি কার লেখা?
(ক) আশাপূর্ণা দেবী
(খ) মহাশ্বেতা দেবী
(গ) সতীনাথ ভাদুড়ী
(ঘ) সমরেশ বসু
সঠিক উত্তর: (ঘ) সমরেশ বসু
গুরুত্ব: সমরেশ বসুর ‘অগ্নিগর্ভ’ (১৯৭৮) উপন্যাসটি একটি রাজনৈতিক উপন্যাস, যেখানে নকশাল আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।
প্রশ্ন ৮০: ‘প্রাইমাসের পুনর্জন্ম’ কার একটি বিখ্যাত রম্যরচনা?
(ক) আশাপূর্ণা দেবী
(খ) লীলা মজুমদার
(গ) বনফুল
(ঘ) মহাশ্বেতা দেবী
সঠিক উত্তর: (গ) বনফুল
গুরুত্ব: বনফুল (বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়) এর ‘প্রাইমাসের পুনর্জন্ম’ একটি রম্য রচনা, যেখানে তার সূক্ষ্ম হাস্যরস এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ৮১: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
(ক) সামাজিক রোম্যান্স ও পারিবারিক সংঘাত
(খ) ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেশপ্রেম ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
(গ) নারী স্বাধীনতার প্রশ্ন উত্থাপন
(ঘ) গ্রামীণ জীবনের সরল চিত্র
সঠিক উত্তর: (খ) ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেশপ্রেম ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা: ‘আনন্দমঠ’ (১৮৮২) বাংলা সাহিত্যের প্রথম রাজনৈতিক উপন্যাস এবং ‘বন্দে মাতরম’ গানটি এই উপন্যাসের অংশ, যা ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রতীক হয়ে ওঠে। এটি ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত।
প্রশ্ন ৮২: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গল্পগুচ্ছ’-এর অন্তর্গত একটি বিখ্যাত গল্প কোনটি?
(ক) দেনাপাওনা
(খ) ল্যাবরেটরি
(গ) চতুরঙ্গ
(ঘ) ঘরে বাইরে
সঠিক উত্তর: (ক) দেনাপাওনা
ব্যাখ্যা: ‘গল্পগুচ্ছ’ রবীন্দ্রনাথের অসাধারণ ছোটগল্পের সংকলন। ‘দেনাপাওনা’ (১৮৯১) এই সংকলনের একটি বিখ্যাত গল্প, যেখানে যৌতুক প্রথার নির্মম চিত্র ফুটে উঠেছে।
প্রশ্ন ৮৩: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘শ্রীকান্ত’ উপন্যাসটির প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
(ক) নারীমুক্তি ও সামাজিক বিদ্রোহ
(খ) প্রেম ও আত্মানুসন্ধানের এক দীর্ঘযাত্রা
(গ) গ্রামীণ সমাজের সংস্কার
(ঘ) ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনা
সঠিক উত্তর: (খ) প্রেম ও আত্মানুসন্ধানের এক দীর্ঘযাত্রা
ব্যাখ্যা: ‘শ্রীকান্ত’ (চার খণ্ডে ১৯১৭-১৯৩৩) শরৎচন্দ্রের আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস, যেখানে শ্রীকান্তের বিচিত্র অভিজ্ঞতা ও নানা চরিত্রের সঙ্গে তার সম্পর্কের মাধ্যমে এক ব্যাপক জীবনের চিত্র ফুটে উঠেছে।
(খ) রাঢ় বাংলার কাহার সম্প্রদায়ের জীবন, লোকবিশ্বাস ও সামাজিক পরিবর্তন
(গ) রাজনৈতিক আন্দোলন
(ঘ) উচ্চবিত্তের পারিবারিক জীবন
সঠিক উত্তর: (খ) রাঢ় বাংলার কাহার সম্প্রদায়ের জীবন, লোকবিশ্বাস ও সামাজিক পরিবর্তন
ব্যাখ্যা: ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’ (১৯৪৭) রাঢ় বাংলার কাহার সম্প্রদায়ের জীবন, তাদের লোককথা, সংস্কার এবং আধুনিকতার সঙ্গে সংঘাতের এক গভীর ও বিস্তৃত চিত্র।
প্রশ্ন ৮৫: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসের গুরুত্ব কী?
(ক) এটি শহুরে মধ্যবিত্তের জীবনযাপন তুলে ধরে
(খ) এটি পদ্মাপারের জেলে সম্প্রদায়ের জীবন, সংগ্রাম ও আঞ্চলিকতাকে ফুটিয়ে তোলে
(গ) এটি কৃষকদের বিদ্রোহের কাহিনী
(ঘ) এটি ঐতিহাসিক ঘটনা অবলম্বনে রচিত
সঠিক উত্তর: (খ) এটি পদ্মাপারের জেলে সম্প্রদায়ের জীবন, সংগ্রাম ও আঞ্চলিকতাকে ফুটিয়ে তোলে
ব্যাখ্যা: ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ (১৯৩৬) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ উপন্যাসগুলির অন্যতম, যেখানে পদ্মাপাড়ের দরিদ্র জেলেদের জীবন, প্রকৃতি ও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের এক বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
প্রশ্ন ৮৬: ‘পরশুরাম’ কার ছদ্মনাম?
(ক) বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
(খ) রাজশেখর বসু
(গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
(ঘ) অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
সঠিক উত্তর: (খ) রাজশেখর বসু
ব্যাখ্যা: ‘পরশুরাম’ রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম। তার ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক ছোটগল্পগুলি (‘গড্ডলিকা’, ‘কজ্জলী’ ইত্যাদি) বাংলা সাহিত্যে এক স্বতন্ত্র স্থান দখল করে আছে।
প্রশ্ন ৮৭: বনফুল (বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়) কোন ধরনের ছোটগল্প রচনার জন্য বিশেষভাবে খ্যাত?
(ক) দীর্ঘ ও জটিল কাহিনী
(খ) অতি সংক্ষিপ্ত বা ‘অণুগল্প’
(গ) ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
(ঘ) রাজনৈতিক ব্যঙ্গ
সঠিক উত্তর: (খ) অতি সংক্ষিপ্ত বা ‘অণুগল্প’
ব্যাখ্যা: বনফুল তার অতি সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর ব্যঞ্জনাময় ছোটগল্প রচনার জন্য বাংলা সাহিত্যে এক নতুন ধারার প্রবর্তন করেন। এগুলি ‘অণুগল্প’ নামেও পরিচিত।
প্রশ্ন ৮৮: আশাপূর্ণা দেবীর কোন উপন্যাসত্রয়ী বাঙালি নারীর জীবন ও মুক্তিকে কেন্দ্র করে রচিত এবং জ্ঞানপীঠ পুরস্কার প্রাপ্ত?
(ক) অগ্নিপরীক্ষা, বালুচরী, মায়াজাল
(খ) প্রথম প্রতিশ্রুতি, সুবর্ণলতা, বকুলকথা
(গ) নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে, অলৌকিক, ভিন্ন স্বাদের গল্প
(ঘ) শৃঙ্খলিতা, সমুদ্র নীল আকাশ নীল, ছাড়পত্র
সঠিক উত্তর: (খ) প্রথম প্রতিশ্রুতি, সুবর্ণলতা, বকুলকথা
ব্যাখ্যা: এই উপন্যাসত্রয়ী (‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ – ১৯৬৪, ‘সুবর্ণলতা’ – ১৯৬৬, ‘বকুলকথা’ – ১৯৭৪) বাঙালি নারীর ক্রমবিকাশ ও আত্মপ্রতিষ্ঠার এক মহাকাব্যিক আখ্যান। ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’-র জন্য তিনি ১৯৭৬ সালে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পান।
(খ) নকশাল আন্দোলন ও তার প্রেক্ষাপটে এক মায়ের যন্ত্রণা ও উপলব্ধি
(গ) পারিবারিক কলহ
(ঘ) নারী শিক্ষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর: (খ) নকশাল আন্দোলন ও তার প্রেক্ষাপটে এক মায়ের যন্ত্রণা ও উপলব্ধি
ব্যাখ্যা: ‘হাজার চুরাশির মা’ (১৯৭৪) উপন্যাসটি সত্তরের দশকের উত্তাল নকশাল আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত, যেখানে এক মায়ের (সুজাতা) মৃত নকশালপন্থী ছেলের (ব্রতী, লাশ নম্বর ১০৮৪) পরিচয়ের সূত্র ধরে তার যন্ত্রণা, আত্মানুসন্ধান ও আন্দোলনের মানবিক দিকটি উঠে এসেছে।
প্রশ্ন ৯০: ‘লীলা মজুমদার’ প্রধানত কোন ধরনের সাহিত্য রচনার জন্য বিখ্যাত?
(ক) ঐতিহাসিক উপন্যাস
(খ) রাজনৈতিক প্রবন্ধ
(গ) শিশু ও কিশোর সাহিত্য
(ঘ) মনস্তাত্ত্বিক নাটক
সঠিক উত্তর: (গ) শিশু ও কিশোর সাহিত্য
ব্যাখ্যা: লীলা মজুমদার বাংলা শিশু ও কিশোর সাহিত্যের এক অবিস্মরণীয় নাম। ‘পদিপিসীর বর্মী বাক্স’, ‘হলদে পাখির পালক’, ‘টং লিং’ তার উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি।
ব্যাখ্যা: ‘কপালকুণ্ডলা’ (১৮৬৬) উপন্যাসে নবকুমার তার সঙ্গীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সমুদ্রতীরে এক কাপালিকের আশ্রয়ে কপালকুণ্ডলার দেখা পায়।
প্রশ্ন ৯২: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের নায়িকার নাম কী?
(ক) কেতকী
(খ) শোভনলাল
(গ) লাবণ্য
(ঘ) এলা
সঠিক উত্তর: (গ) লাবণ্য
ব্যাখ্যা: ‘শেষের কবিতা’ (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথের একটি বিখ্যাত রোমান্টিক উপন্যাস। এর প্রধান দুই চরিত্র হলো অমিত রায় ও লাবণ্য দত্ত।
প্রশ্ন ৯৩: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পল্লীসমাজ’ উপন্যাসের প্রধান দুটি বিবাদমান চরিত্র কারা?
(ক) রমেশ ও রমা
(খ) দেবদাস ও পার্বতী
(গ) শ্রীকান্ত ও রাজলক্ষ্মী
(ঘ) মহিম ও সুরেশ
সঠিক উত্তর: (ক) রমেশ ও রমা
ব্যাখ্যা: ‘পল্লীসমাজ’ (১৯১৬) শরৎচন্দ্রের গ্রামীণ পটভূমিতে রচিত একটি শক্তিশালী উপন্যাস, যেখানে গ্রামের উন্নতি নিয়ে আদর্শবাদী রমেশ এবং রক্ষণশীল সমাজের প্রতিনিধি রমার মধ্যেকার সংঘাত ও প্রেম ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
প্রশ্ন ৯৪: তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আরোগ্য নিকেতন’ উপন্যাসের মূল চরিত্র জীবন মশাই কোন ধরনের চিকিৎসক ছিলেন?
(ক) অ্যালোপ্যাথিক
(খ) হোমিওপ্যাথিক
(গ) কবিরাজ বা আয়ুর্বেদিক
(ঘ) ইউনানি
সঠিক উত্তর: (গ) কবিরাজ বা আয়ুর্বেদিক
ব্যাখ্যা: ‘আরোগ্য নিকেতন’ (১৯৫৩) উপন্যাসে জীবন মশাই ছিলেন একজন প্রবীণ ও দূরদর্শী কবিরাজ। এই উপন্যাসের জন্য তারাশংকর ১৯৫৫ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার ও ১৯৫৬ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান।
প্রশ্ন ৯৫: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দিবারাত্রির কাব্য’ উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র কে?
(ক) সুপ্রিয়া
(খ) মালতী
(গ) হেরম্ব
(ঘ) আনন্দ
সঠিক উত্তর: (ক) সুপ্রিয়া (অন্যান্য বিকল্প: আনন্দ, মালতী)
ব্যাখ্যা: ‘দিবারাত্রির কাব্য’ (১৯৩৫) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাসগুলির অন্যতম, যেখানে হেরম্ব এবং তার জীবনের বিভিন্ন নারী চরিত্র (যেমন সুপ্রিয়া, আনন্দ) এর মধ্যেকার জটিল মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্ক দেখানো হয়েছে।
প্রশ্ন ৯৬: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চাঁদের পাহাড়’ উপন্যাসের শংকর কোন দেশে অ্যাডভেঞ্চারে গিয়েছিল?
(ক) ব্রাজিল
(খ) আফ্রিকা
(গ) অস্ট্রেলিয়া
(ঘ) মায়ানমার
সঠিক উত্তর: (খ) আফ্রিকা
ব্যাখ্যা: ‘চাঁদের পাহাড়’ (১৯৩৭) বিভূতিভূষণের একটি জনপ্রিয় কিশোর অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস, যেখানে শংকর নামক এক বাঙালি যুবকের আফ্রিকার রোডেশিয়া ও উগান্ডার জঙ্গলে হিরের খনির সন্ধানে দুঃসাহসিক অভিযান বর্ণিত হয়েছে।
প্রশ্ন ৯৭: ‘পরশুরাম’-এর (রাজশেখর বসু) ‘কজ্জলী’ কী ধরনের রচনা?
(ক) হাস্যরসাত্মক গল্প সংকলন
(খ) রহস্য উপন্যাস
(গ) প্রবন্ধ
(ঘ) ভ্রমণ কাহিনী
সঠিক উত্তর: (ক) হাস্যরসাত্মক গল্প সংকলন
ব্যাখ্যা: ‘কজ্জলী’ (১৯২৭) পরশুরামের আরেকটি জনপ্রিয় ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক গল্পের সংকলন, যা ‘গড্ডলিকা’-র মতোই সমাদৃত।
প্রশ্ন ৯৮: প্রেমেন্দ্র মিত্র সৃষ্ট বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্রের নাম কী?
(ক) কিরীটী রায়
(খ) ব্যোমকেশ বক্সী
(গ) পরাশর বর্মা
(ঘ) কর্নেল নীলাদ্রি সরকার
সঠিক উত্তর: (গ) পরাশর বর্মা
ব্যাখ্যা: প্রেমেন্দ্র মিত্রের সৃষ্ট জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র হলো পরাশর বর্মা। তিনি যুক্তিনিষ্ঠ এবং পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার অধিকারী।
প্রশ্ন ৯৯: বনফুলের (বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়) ‘স্থাবর’ উপন্যাসটির প্রধান উপজীব্য কী?
(ক) প্রকৃতির স্থিরতা
(খ) এক পরিবারের বিভিন্ন প্রজন্মের কাহিনী ও পরিবর্তনশীল জীবন
(গ) সামাজিক স্থবিরতা
(ঘ) একটি নির্দিষ্ট স্থানের অপরিবর্তনীয়তা
সঠিক উত্তর: (খ) এক পরিবারের বিভিন্ন প্রজন্মের কাহিনী ও পরিবর্তনশীল জীবন
ব্যাখ্যা: ‘স্থাবর’ (১৯৫১) বনফুলের একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস, যেখানে একটি পরিবারের বংশপরম্পরায় জীবনযাত্রা, মূল্যবোধের পরিবর্তন ও সময়ের প্রভাব চিত্রিত হয়েছে।
সঠিক উত্তর: (খ) বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে মুন্ডা বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা: ‘অরণ্যের অধিকার’ (১৯৭৭) মহাশ্বেতা দেবীর একটি বিখ্যাত ঐতিহাসিক উপন্যাস। এটি উনিশ শতকের শেষভাগে বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে সংঘটিত মুন্ডা বিদ্রোহ এবং আদিবাসীদের জল-জঙ্গল-জমির অধিকারের লড়াইকে কেন্দ্র করে রচিত। এই গ্রন্থের জন্য তিনি ১৯৭৯ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান।
প্রশ্ন ১০১: ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসটি কার লেখা?
(ক) তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
(খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
(গ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
(ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: (গ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
ব্যাখ্যা: ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ (১৯৫৬) অদ্বৈত মল্লবর্মণের একমাত্র উপন্যাস এবং বাংলা সাহিত্যের এক কালজয়ী সৃষ্টি। এটি তিতাস নদীর তীরবর্তী মালো সম্প্রদায়ের জীবনচিত্র ও তাদের বিলীয়মান সংস্কৃতির করুণ আলেখ্য।
প্রশ্ন ১০২: ‘কবি’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র নিতাই কোন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিল?
(ক) শিক্ষকতা
(খ) ঝুমুর দলের কবিয়াল
(গ) কৃষিকাজ
(ঘ) চিকিৎসা
সঠিক উত্তর: (খ) ঝুমুর দলের কবিয়াল
ব্যাখ্যা: তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কবি’ (১৯৪২) উপন্যাসের প্রধান চরিত্র নিতাইচরণ প্রথমে একজন গ্রাম্য কবিয়াল ও পরে ঝুমুর দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতের সম্মুখীন হয়।
প্রশ্ন ১০৩: ‘আরণ্যক’ উপন্যাসে সত্যচরণ কোন অঞ্চলে কাজ করতে গিয়েছিল?
(ক) ছোটনাগপুর মালভূমি
(খ) ভাগলপুরের নিকটবর্তী অরণ্য অঞ্চল (বর্তমান বিহার/ঝাড়খণ্ড)
(গ) সুন্দরবন
(ঘ) তরাই অঞ্চল
সঠিক উত্তর: (খ) ভাগলপুরের নিকটবর্তী অরণ্য অঞ্চল (বর্তমান বিহার/ঝাড়খণ্ড)
ব্যাখ্যা: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আরণ্যক’ (১৯৩৯) উপন্যাসে সত্যচরণ ভাগলপুর জেলার লবটুলিয়া ও নাঢ়া বইহার অঞ্চলের জঙ্গলে জমিদারের কাছারিতে ম্যানেজারের চাকরি করতে গিয়েছিল।
ব্যাখ্যা: ‘কেরী সাহেবের মুন্সী’ (১৯৫৯) প্রমথনাথ বিশীর একটি বিখ্যাত ঐতিহাসিক উপন্যাস। এটি উনিশ শতকের প্রারম্ভে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রেক্ষাপটে উইলিয়াম কেরী ও তার মুন্সী রামরাম বসুর জীবন অবলম্বনে রচিত।
প্রশ্ন ১০৫: ‘বিবর’ উপন্যাসটি কার লেখা?
(ক) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
(খ) শক্তি চট্টোপাধ্যায়
(গ) সমরেশ বসু
(ঘ) বুদ্ধদেব গুহ
সঠিক উত্তর: (গ) সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা: ‘বিবর’ (১৯৬৫) সমরেশ বসুর একটি বিতর্কিত ও বহুল আলোচিত উপন্যাস। এটি আধুনিক নগরজীবনের অবক্ষয়, ব্যক্তির বিচ্ছিন্নতা ও অস্তিত্বের সংকটকে কেন্দ্র করে রচিত।
প্রশ্ন ১০৬: ‘কালকূট’ কার ছদ্মনাম?
(ক) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
(খ) সমরেশ বসু
(গ) শক্তি চট্টোপাধ্যায়
(ঘ) বুদ্ধদেব গুহ
সঠিক উত্তর: (খ) সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা: সমরেশ বসু ‘কালকূট’ ছদ্মনামে বেশ কিছু জনপ্রিয় উপন্যাস রচনা করেছেন, যেমন ‘অমৃত কুম্ভের সন্ধানে’, ‘কোথায় পাব তারে’ ইত্যাদি।
প্রশ্ন ১০৭: ‘উত্তম পুরুষ’ উপন্যাসটি কার লেখা?
(ক) শওকত ওসমান
(খ) রশীদ করীম
(গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
(ঘ) আবু রুশদ
সঠিক উত্তর: (খ) রশীদ করীম
ব্যাখ্যা: ‘উত্তম পুরুষ’ (১৯৬১) রশীদ করীমের একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। এটি আধুনিক জীবন, প্রেম ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের চিত্রায়ণ।
ব্যাখ্যা: ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ (১৯৫৫) আবু ইসহাকের একটি বিখ্যাত উপন্যাস। এটি গ্রামীণ জীবনের দারিদ্র্য, কুসংস্কার ও নারীর সংগ্রামের এক মর্মস্পর্শী চিত্র।
প্রশ্ন ১০৯: ‘সারেং বৌ’ উপন্যাসটি কার লেখা?
(ক) জহির রায়হান
(খ) শহীদুল্লা কায়সার
(গ) শওকত ওসমান
(ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর: (খ) শহীদুল্লা কায়সার
ব্যাখ্যা: ‘সারেং বৌ’ (১৯৬২) শহীদুল্লা কায়সারের একটি জনপ্রিয় উপন্যাস। এটি উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রাম এবং নবিতুন নামক এক নারীর দৃঢ়তার কাহিনী।
প্রশ্ন ১১০: ‘একাত্তরের দিনগুলি’ কার লেখা?
(ক) সেলিনা হোসেন
(খ) জাহানারা ইমাম
(গ) সুফিয়া কামাল
(ঘ) রিজিয়া রহমান
সঠিক উত্তর: (খ) জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা: ‘একাত্তরের দিনগুলি’ (১৯৮৬) জাহানারা ইমামের লেখা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার এক মর্মস্পর্শী দিনলিপি।
প্রশ্ন ১১১: ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ কার আত্মজীবনী?
(ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
(খ) মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
(গ) আবুল মনসুর আহমদ
(ঘ) হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী
সঠিক উত্তর: (গ) আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা: ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ (১৯৬৯) আবুল মনসুর আহমদের বিখ্যাত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ, যেখানে তিনি ব্রিটিশ আমল থেকে পাকিস্তান আমলের রাজনৈতিক ঘটনাবলী ও তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।
প্রশ্ন ১১২: ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কে?
(ক) হোসেন মিয়া
(খ) কুবের
(গ) শীতলবাবু
(ঘ) রসুল
সঠিক উত্তর: (খ) কুবের
ব্যাখ্যা: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো কুবের মাঝি। তার জীবনের সংগ্রাম, প্রেম এবং হোসেন মিয়ার ময়নাদ্বীপে যাত্রা উপন্যাসের মূল আখ্যান।
প্রশ্ন ১১৩: ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের অপু চরিত্রের বোনের নাম কী?
(ক) সরলা
(খ) বিমলা
(গ) দুর্গা
(ঘ) অমলা
সঠিক উত্তর: (গ) দুর্গা
ব্যাখ্যা: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের অপু চরিত্রের বড় বোনের নাম দুর্গা। অপু ও দুর্গার শৈশবের দিনগুলি উপন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রশ্ন ১১৪: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসের নাম কী?
(ক) দেবদাস
(খ) চরিত্রহীন
(গ) শ্রীকান্ত
(ঘ) গৃহদাহ
সঠিক উত্তর: (গ) শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা: ‘শ্রীকান্ত’ (চার খণ্ডে প্রকাশিত) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত উপন্যাস, যাকে তার আত্মজীবনীমূলক রচনা হিসেবে গণ্য করা হয়।
প্রশ্ন ১১৫: ‘রামের সুমতি’ গল্পটি কার লেখা?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: (গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: ‘রামের সুমতি’ (১৯১৪) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি জনপ্রিয় ছোটগল্প, যেখানে রামলাল নামক এক দুরন্ত কিশোর এবং তার বৌদি নারায়নীর স্নেহপূর্ণ সম্পর্ক চিত্রিত হয়েছে।
প্রশ্ন ১১৬: ‘মহেশ’ ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র কে?
(ক) আমিন মিয়া
(খ) তর্করত্ন
(গ) গফুর
(ঘ) মানিক
সঠিক উত্তর: (গ) গফুর
ব্যাখ্যা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘মহেশ’ (১৯২২) ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র দরিদ্র কৃষক গফুর এবং তার আদরের ষাঁড় মহেশ। গল্পটি গ্রামীণ সমাজের শোষণ ও মানবিকতার এক করুণ চিত্র।
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কাবুলিওয়ালা’ (১৮৯২) গল্পের কথক, যিনি মিনির বাবা, তিনি একজন লেখক ছিলেন।
প্রশ্ন ১১৮: তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় কোন সাহিত্যিক উপাধিতে ভূষিত হন?
(ক) সাহিত্য সম্রাট
(খ) কাব্যভারতী
(গ) সাহিত্য রত্ন
(ঘ) রায়বাহাদুর (সাহিত্যকর্মের জন্য নয়)
সঠিক উত্তর: (ঘ) রায়বাহাদুর (সাহিত্যকর্মের জন্য নয়)
ব্যাখ্যা: তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাহিত্যকর্মের জন্য বিভিন্ন পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছে, যেমন জ্ঞানপীঠ, সাহিত্য অকাদেমি, রবীন্দ্র পুরস্কার। ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি দিয়েছিল, তবে এটি সরাসরি সাহিত্যিক উপাধি হিসেবে ততটা পরিচিত নয়। তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধিও পেয়েছিলেন। বিকল্পগুলি দেখে সবচেয়ে কম উপযুক্তটি বাদ দেওয়া যেতে পারে বা প্রশ্নটিকে আরও নির্দিষ্ট করা যেতে পারে। তবে সাধারণভাবে, তাকে কোনো বিশেষ সাহিত্যিক সম্রাট বা কাব্যভারতী জাতীয় উপাধি দেওয়া হয়নি। (এই প্রশ্নের বিকল্পগুলি সামান্য বিভ্রান্তিকর হতে পারে, তাই ব্যাখ্যাটি গুরুত্বপূর্ণ।)
প্রশ্ন ১১৯: ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ উপন্যাসের জন্য আশাপূর্ণা দেবী কোন বছর জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পান?
(ক) ১৯৭৫
(খ) ১৯৭৬
(গ) ১৯৭৭
(ঘ) ১৯৭৮
সঠিক উত্তর: (খ) ১৯৭৬
ব্যাখ্যা: আশাপূর্ণা দেবী তার ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ (১৯৬৪) উপন্যাসের জন্য ১৯৭৬ সালে ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার জ্ঞানপীঠ লাভ করেন।
প্রশ্ন ১২০: জ্ঞানপীঠ পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথম বাঙালি সাহিত্যিক কে?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(খ) তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
(গ) বিষ্ণু দে
(ঘ) আশাপূর্ণা দেবী
সঠিক উত্তর: (খ) তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৬৬ সালে (পুরস্কার প্রদানের তৃতীয় বছরে) তার ‘গণদেবতা’ উপন্যাসের জন্য জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করেন। তিনিই প্রথম বাঙালি সাহিত্যিক যিনি এই সম্মান পান।
প্রশ্ন ১২১: শঙ্খ ঘোষ কত সালে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পান?
(ক) ২০১১
(খ) ২০১৪
(গ) ২০১৬
(ঘ) ২০১৮
সঠিক উত্তর: (গ) ২০১৬
ব্যাখ্যা: কবি শঙ্খ ঘোষ ২০১৬ সালে ভারতীয় সাহিত্যের সর্বোচ্চ সম্মান জ্ঞানপীঠ পুরস্কারে ভূষিত হন।
প্রশ্ন ১২২: ‘রায়গুণাকর’ কার উপাধি ছিল?
(ক) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
(খ) ভারতচন্দ্র
(গ) রামপ্রসাদ সেন
(ঘ) কৃত্তিবাস ওঝা
সঠিক উত্তর: (খ) ভারতচন্দ্র
ব্যাখ্যা: মধ্যযুগের কবি ভারতচন্দ্র নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সভাকবি ছিলেন এবং তিনিই ভারতচন্দ্রকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
প্রশ্ন ১২৩: ‘তোতা কাহিনী’ কার লেখা?
(ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
(খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(গ) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
(ঘ) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর: (খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা: ‘তোতা কাহিনী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি রূপকধর্মী গল্প। এটি ‘লিপিকা’ (১৯২২) গল্পগ্রন্থে সংকলিত। গল্পটি প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে।
প্রশ্ন ১২৪: ‘সধবার একাদশী’ প্রহসনের প্রধান চরিত্র কে?
(ক) নিমচাঁদ দত্ত
(খ) অটলবিহারী
(গ) কেনারাম
(ঘ) কাঞ্চন
সঠিক উত্তর: (ক) নিমচাঁদ দত্ত
ব্যাখ্যা: দীনবন্ধু মিত্রের ‘সধবার একাদশী’ (১৮৬৬) প্রহসনের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো নিমচাঁদ দত্ত। এই চরিত্রের মাধ্যমে তৎকালীন নব্যশিক্ষিত বাঙালি সমাজের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অধঃপতনকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।
প্রশ্ন ১২৫: ‘বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়’ সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?
(ক) সবুজপত্র
(খ) ভারতী
(গ) বঙ্গদর্শন
(ঘ) প্রবাসী
সঠিক উত্তর: (গ) বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭২ সালে ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকা প্রতিষ্ঠা ও সম্পাদনা করেন। এটি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে নবজাগরণের সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নাটক
প্রশ্ন ১২৬: বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক কমেডি নাটক কোনটি?
(ক) শর্মিষ্ঠা
(খ) নীলদর্পণ
(গ) সধবার একাদশী
(ঘ) বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
সঠিক উত্তর: (ঘ) বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
গুরুত্ব: মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ (১৮৬০) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক প্রহসন (যা কমেডির সমতুল্য)। এটি তৎকালীন সমাজের ভণ্ডামি ও অসঙ্গতিকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের মাধ্যমে তুলে ধরে।
প্রশ্ন ১২৭: দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটকটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
(ক) ১৮৫৮
(খ) ১৮৫৯
(গ) ১৮৬০
(ঘ) ১৮৬১
সঠিক উত্তর: (গ) ১৮৬০
গুরুত্ব: দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ (১৮৬০) নাটকটি নীলকর সাহেবদের অত্যাচার ও নীলচাষীদের দুর্দশার এক বাস্তবসম্মত চিত্র। এটি বাংলার নীল বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত।
প্রশ্ন ১২৮: মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘শর্মিষ্ঠা’ নাটকটি কী ধরনের নাটক?
(ক) প্রহসন
(খ) ঐতিহাসিক নাটক
(গ) পৌরাণিক নাটক
(ঘ) সামাজিক নাটক
সঠিক উত্তর: (গ) পৌরাণিক নাটক
ব্যাখ্যা: ‘শর্মিষ্ঠা’ (১৮৫৯) মধুসূদনের প্রথম মৌলিক নাটক এবং এটি মহাভারতের যযাতি-দেবযানী-শর্মিষ্ঠার পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে রচিত।
প্রশ্ন ১২৯: গিরিশচন্দ্র ঘোষকে বাংলা নাটকের কোন ক্ষেত্রে ‘গুরু’ বা ‘পিতা’ বলা হয়?
(ক) প্রহসন রচনা
(খ) ঐতিহাসিক নাটক রচনা
(গ) বাংলা থিয়েটার ও নাট্যাভিনয়ের উন্নতি
(ঘ) সামাজিক নাটক রচনা
সঠিক উত্তর: (গ) বাংলা থিয়েটার ও নাট্যাভিনয়ের উন্নতি
ব্যাখ্যা: গিরিশচন্দ্র ঘোষ ছিলেন একাধারে নট, নাট্যকার এবং নাট্যপরিচালক। তিনি বাংলা পেশাদার থিয়েটারের উন্নতিতে অসামান্য অবদান রেখেছেন, যার জন্য তাকে ‘বাংলা থিয়েটারের জনক’ বা ‘গুরু’ হিসেবে সম্মান করা হয়।
প্রশ্ন ১৩০: দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘শাহজাহান’ নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
(ক) পারিবারিক কলহ
(খ) ঐতিহাসিক ঘটনা, দেশপ্রেম ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব
(গ) সামাজিক সমস্যা
(ঘ) প্রেম ও রোম্যান্স
সঠিক উত্তর: (খ) ঐতিহাসিক ঘটনা, দেশপ্রেম ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা: ‘শাহজাহান’ (১৯০৯) দ্বিজেন্দ্রলালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক নাটক, যেখানে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের জীবনের ট্র্যাজেডি, পুত্রদের ক্ষমতার লোভ ও দেশপ্রেম সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
প্রশ্ন ১৩১: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রক্তকরবী’ নাটকটির মূল উপজীব্য কী?
(ক) গ্রামীণ জীবনের সরলতা
(খ) যন্ত্রসভ্যতা, শোষণ এবং প্রাণের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা
(গ) ঐতিহাসিক ঘটনা
(ঘ) পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা
সঠিক উত্তর: (খ) যন্ত্রসভ্যতা, শোষণ এবং প্রাণের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা: ‘রক্তকরবী’ (১৯২৬) রবীন্দ্রনাথের একটি রূপক-সাংকেতিক নাটক। যক্ষপুরীর রাজা ও তার স্বর্ণ আহরণের যান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নন্দিনী চরিত্রটি প্রাণের প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়।
প্রশ্ন ১৩২: ‘নবান্ন’ নাটকটি কার লেখা?
(ক) তুলসী লাহিড়ী
(খ) বিজন ভট্টাচার্য
(গ) শম্ভু মিত্র
(ঘ) উৎপল দত্ত
সঠিক উত্তর: (খ) বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা: ‘নবান্ন’ (১৯৪৪) বিজন ভট্টাচার্যের লেখা একটি বিখ্যাত নাটক। এটি তেতাল্লিশের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত এবং গণনাট্য সংঘের প্রযোজনায় অভিনীত হয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
প্রশ্ন ১৩৩: ‘ছেঁড়া তার’ নাটকটির রচয়িতা কে?
(ক) বিজন ভট্টাচার্য
(খ) শম্ভু মিত্র
(গ) তুলসী লাহিড়ী
(ঘ) মন্মথ রায়
সঠিক উত্তর: (গ) তুলসী লাহিড়ী
ব্যাখ্যা: ‘ছেঁড়া তার’ (১৯৫০) তুলসী লাহিড়ীর একটি উল্লেখযোগ্য সামাজিক নাটক। এটি দেশভাগ পরবর্তী সময়ের উদ্বাস্তু সমস্যা ও মানবিক সংকটকে কেন্দ্র করে রচিত।
প্রশ্ন ১৩৪: ‘রক্তকরবী’ নাটকের রাজার আড়ালে থাকা শক্তির প্রতীক কী?
(ক) মানবিকতা
(খ) প্রেম
(গ) যান্ত্রিকতা ও শোষণ
(ঘ) প্রকৃতি
সঠিক উত্তর: (গ) যান্ত্রিকতা ও শোষণ
ব্যাখ্যা: ‘রক্তকরবী’ নাটকের রাজা পর্দার আড়ালে থাকেন এবং তিনি যান্ত্রিক সভ্যতা, শোষণ ও অমানবিকতার প্রতীক।
প্রশ্ন ১৩৫: ‘কলকাতার হ্যামলেট’ নামে কে পরিচিত ছিলেন?
(ক) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
(খ) শিশিরকুমার ভাদুড়ী
(গ) শম্ভু মিত্র
(ঘ) উৎপল দত্ত
সঠিক উত্তর: (খ) শিশিরকুমার ভাদুড়ী
ব্যাখ্যা: শিশিরকুমার ভাদুড়ী ছিলেন বাংলা থিয়েটারের একজন কিংবদন্তী অভিনেতা ও পরিচালক। হ্যামলেট চরিত্রে তার অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছিল, যার জন্য তাকে ‘কলকাতার হ্যামলেট’ বলা হতো।
প্রশ্ন ১৩৬: ‘যযাতি ও দেবযানী’ নাটকটি কার লেখা?
(ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
(খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
(গ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
(ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর: (গ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা: ‘যযাতি ও দেবযানী’ গিরিশচন্দ্র ঘোষের একটি পৌরাণিক নাটক। তিনি বহু পৌরাণিক, ঐতিহাসিক ও সামাজিক নাটক রচনা করেছেন।
প্রশ্ন ১৩৭: ‘প্রফুল্ল’ নাটকটির রচয়িতা কে?
(ক) দীনবন্ধু মিত্র
(খ) অমৃতলাল বসু
(গ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
(ঘ) ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ
সঠিক উত্তর: (গ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা: ‘প্রফুল্ল’ (১৮৮৯) গিরিশচন্দ্র ঘোষের একটি বিখ্যাত সামাজিক নাটক। এটি মদ্যপানের কুফল এবং পারিবারিক অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরে।
সঠিক উত্তর: (গ) মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ও অসীমের প্রতি আকর্ষণ
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ (১৯১২) নাটকের অমল একটি বালক চরিত্র, যে অসুস্থতার কারণে ঘরে বন্দী। তার মধ্যে বাইরের জগতের প্রতি, অসীমের প্রতি তীব্র আকর্ষণ এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে।
ব্যাখ্যা: ‘নূরলদীনের সারাজীবন’ (১৯৮২) সৈয়দ শামসুল হকের একটি বিখ্যাত কাব্যনাট্য। এটি কৃষক নেতা নূরলদীনের ঐতিহাসিক বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত।
প্রশ্ন ১৪০: ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ কাব্যনাট্যের রচয়িতা কে?
(ক) মমতাজউদদীন আহমদ
(খ) আবদুল্লাহ আল মামুন
(গ) সৈয়দ শামসুল হক
(ঘ) সেলিম আল দীন
সঠিক উত্তর: (গ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা: ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ (১৯৭৬) সৈয়দ শামসুল হকের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যনাট্য। এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত।
প্রশ্ন ১৪১: ‘এবং ইন্দ্রজিৎ’ নাটকটি কার লেখা?
(ক) শম্ভু মিত্র
(খ) উৎপল দত্ত
(গ) বাদল সরকার
(ঘ) মোহিত চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: (গ) বাদল সরকার
ব্যাখ্যা: ‘এবং ইন্দ্রজিৎ’ (১৯৬৫) বাদল সরকারের একটি বিখ্যাত অ্যাবসার্ড নাটক। এটি আধুনিক জীবনের অর্থহীনতা ও অস্তিত্বের সংকটকে তুলে ধরে।
প্রশ্ন ১৪২: ‘বিসর্জন’ নাটকটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাহিনীর নাট্যরূপ?
(ক) একটি ছোটগল্প
(খ) ‘বউঠাকুরাণীর হাট’ উপন্যাস
(গ) ‘রাজর্ষি’ উপন্যাস
(ঘ) একটি ঐতিহাসিক ঘটনা
সঠিক উত্তর: (গ) ‘রাজর্ষি’ উপন্যাস
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বিসর্জন’ (১৮৯০) নাটকটি তার ‘রাজর্ষি’ (১৮৮৭) উপন্যাসের কাহিনী অবলম্বনে রচিত। এটি গোমতীতীরে ত্রিপুরার রাজপরিবারের ঘটনা নিয়ে লেখা।
প্রশ্ন ১৪৩: ‘কারাগার’ নাটকটি কার রচনা?
(ক) কাজী নজরুল ইসলাম
(খ) মন্মথ রায়
(গ) শচীন সেনগুপ্ত
(ঘ) তুলসী লাহিড়ী
সঠিক উত্তর: (খ) মন্মথ রায়
ব্যাখ্যা: ‘কারাগার’ (১৯৩০) মন্মথ রায়ের একটি বিখ্যাত ঐতিহাসিক নাটক। এটি কংস ও শ্রীকৃষ্ণের পৌরাণিক কাহিনীর আধারে ব্রিটিশবিরোধী চেতনা সঞ্চারিত করে।
প্রশ্ন ১৪৪: ‘কেরানির জীবন’ নাটকটির রচয়িতা কে?
(ক) উৎপল দত্ত
(খ) শম্ভু মিত্র
(গ) বিজন ভট্টাচার্য
(ঘ) অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: (ক) উৎপল দত্ত
ব্যাখ্যা: ‘কেরানির জীবন’ উৎপল দত্তের একটি উল্লেখযোগ্য নাটক, যা নিম্ন-মধ্যবিত্ত কেরানি জীবনের একঘেয়েমি ও হতাশাকে তুলে ধরে।
প্রশ্ন ১৪৫: ‘চাঁদ বণিকের পালা’ নাটকটি কার লেখা?
(ক) সেলিম আল দীন
(খ) শম্ভু মিত্র
(গ) উৎপল দত্ত
(ঘ) বাদল সরকার
সঠিক উত্তর: (খ) শম্ভু মিত্র
ব্যাখ্যা: ‘চাঁদ বণিকের পালা’ (১৯৭৮) শম্ভু মিত্রের একটি বিখ্যাত নাটক। এটি মনসামঙ্গল কাব্যের চাঁদ সওদাগরের কাহিনী অবলম্বনে রচিত।
প্রশ্ন ১৪৬: ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকটি কার লেখা?
(ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
(খ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
(গ) শচীন সেনগুপ্ত
(ঘ) ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ
সঠিক উত্তর: (গ) শচীন সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা: ‘সিরাজদ্দৌলা’ (১৯৩৮) শচীন সেনগুপ্তের একটি বিখ্যাত ঐতিহাসিক নাটক। এটি নবাব সিরাজদ্দৌলার জীবনের悲剧 ও পলাশীর যুদ্ধের পটভূমিতে রচিত।
ব্যাখ্যা: দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘সাজাহান’ নাটকে ঔরংজেব চরিত্রটি তার ভাইদের প্রতি নিষ্ঠুরতা, পিতাকে বন্দী করা এবং সিংহাসনের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে চিত্রিত হয়েছে।
প্রশ্ন ১৪৮: ‘টিনের তলোয়ার’ নাটকটি কার রচনা?
(ক) বিজন ভট্টাচার্য
(খ) উৎপল দত্ত
(গ) শম্ভু মিত্র
(ঘ) বাদল সরকার
সঠিক উত্তর: (খ) উৎপল দত্ত
ব্যাখ্যা: ‘টিনের তলোয়ার’ (১৯৭১) উৎপল দত্তের একটি বিখ্যাত নাটক। এটি উনিশ শতকের বাংলা থিয়েটারের প্রেক্ষাপটে রচিত এবং এতে ব্রিটিশবিরোধী চেতনাও প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রশ্ন ১৪৯: ‘অচলায়তন’ নাটকটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন ধরনের রচনা?
(ক) ঐতিহাসিক নাটক
(খ) সামাজিক নাটক
(গ) রূপক-সাংকেতিক নাটক
(ঘ) প্রহসন
সঠিক উত্তর: (গ) রূপক-সাংকেতিক নাটক
ব্যাখ্যা: ‘অচলায়তন’ (১৯১২) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রূপক-সাংকেতিক নাটক। এটি অন্ধ গোঁড়ামি, কুসংস্কার ও প্রাণহীন আচার-সর্বস্বতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের নাটক।
প্রশ্ন ১৫০: ‘কবর’ নাটকটির রচয়িতা কে?
(ক) মুনীর চৌধুরী
(খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
(গ) আনিস চৌধুরী
(ঘ) জসীমউদ্দীন
সঠিক উত্তর: (ক) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা: ‘কবর’ (১৯৫৩) মুনীর চৌধুরীর একটি বিখ্যাত একাঙ্কিকা নাটক। এটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত এবং জেলে বসে তিনি এটি রচনা করেন।
মিশ্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
প্রশ্ন ১৫১: ‘সধবার একাদশী’ প্রহসনের প্রধান চরিত্র অটলবিহারী কোন শ্রেণীর প্রতিনিধি?
(ক) রক্ষণশীল সমাজপতি
(খ) উচ্ছৃঙ্খল নব্য ইয়ং বেঙ্গল
(গ) নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ
(ঘ) দরিদ্র কৃষক
সঠিক উত্তর: (খ) উচ্ছৃঙ্খল নব্য ইয়ং বেঙ্গল (তবে প্রধান চরিত্র নিমচাঁদ, অটল পার্শ্বচরিত্র)
ব্যাখ্যা: দীনবন্ধু মিত্রের ‘সধবার একাদশী’-তে অটলবিহারী এবং বিশেষত নিমচাঁদ দত্ত তৎকালীন ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত, মদ্যপ ও উচ্ছৃঙ্খল ইয়ং বেঙ্গল বা নব্যবঙ্গীয় সমাজের প্রতিনিধি। (উল্লেখ্য, নিমচাঁদই এখানে প্রধান চরিত্র)
প্রশ্ন ১৫২: ‘ঠাকুমার ঝুলি’ কার অনবদ্য সৃষ্টি?
(ক) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
(খ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
(গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(ঘ) সুকুমার রায়
সঠিক উত্তর: (খ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
ব্যাখ্যা: ‘ঠাকুমার ঝুলি’ (১৯০৭) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের সংগৃহীত ও সম্পাদিত বাংলা রূপকথার এক অসাধারণ সংকলন, যা বাংলা শিশুসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।
প্রশ্ন ১৫৩: ‘আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাসে ব্যবহৃত আলালী ভাষা বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) সংস্কৃতবহুল সাধু ভাষা
(খ) আঞ্চলিক কথ্য ভাষার মিশ্রণ
(গ) আরবি-ফারসি শব্দবহুল ভাষা
(ঘ) ইংরেজি মিশ্রিত বাংলা
সঠিক উত্তর: (খ) আঞ্চলিক কথ্য ভাষার মিশ্রণ
ব্যাখ্যা: প্যারীচাঁদ মিত্র ‘আলালের ঘরের দুলাল’-এ যে সহজ সরল ও কথ্য ভাষারীতি ব্যবহার করেছিলেন, তাই ‘আলালী ভাষা’ নামে পরিচিত। এটি সাধু ভাষার বিপরীতে চলিত ভাষার প্রাথমিক রূপ।
ব্যাখ্যা: নারায়ণ দেবনাথ ছিলেন বাংলা কমিকসের এক কিংবদন্তী শিল্পী। হাঁদা ভোঁদা, বাঁটুল দি গ্রেট, নন্টে ফন্টে তার অমর সৃষ্টি।
প্রশ্ন ১৫৫: ‘ফেলুদা’ সিরিজের স্রষ্টা কে?
(ক) প্রেমেন্দ্র মিত্র
(খ) নারায়ণ সান্যাল
(গ) সত্যজিৎ রায়
(ঘ) শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: (গ) সত্যজিৎ রায়
ব্যাখ্যা: ‘ফেলুদা’ বা প্রদোষচন্দ্র মিত্র বাংলা সাহিত্যের এক জনপ্রিয় কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র। এই চরিত্রের স্রষ্টা বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী সত্যজিৎ রায়।
প্রশ্ন ১৫৬: ‘ব্যোমকেশ বক্সী’ চরিত্রটি কার সৃষ্টি?
(ক) সত্যজিৎ রায়
(খ) নীহাররঞ্জন গুপ্ত
(গ) শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
(ঘ) হেমেন্দ্রকুমার রায়
সঠিক উত্তর: (গ) শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: ‘ব্যোমকেশ বক্সী’ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র, যার স্রষ্টা শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যোমকেশ নিজেকে ‘সত্যান্বেষী’ বলতেন।
প্রশ্ন ১৫৭: ‘কাকাবাবু’ সিরিজের রচয়িতা কে?
(ক) বুদ্ধদেব গুহ
(খ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
(গ) শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
(ঘ) সমরেশ মজুমদার
সঠিক উত্তর: (খ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: ‘কাকাবাবু’ বা রাজা রায়চৌধুরী বাংলা কিশোর সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় চরিত্র। এই অ্যাডভেঞ্চার সিরিজের রচয়িতা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।
প্রশ্ন ১৫৮: ‘পাগলা দাশু’ চরিত্রটির স্রষ্টা কে?
(ক) শিবরাম চক্রবর্তী
(খ) সুকুমার রায়
(গ) লীলা মজুমদার
(ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর: (খ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা: ‘পাগলা দাশু’ সুকুমার রায়ের সৃষ্টি একটি বিখ্যাত হাস্যরসাত্মক চরিত্র। দাশু তার অদ্ভুত কাণ্ডকারখানার জন্য পরিচিত।
প্রশ্ন ১৫৯: ‘লালসালু’ উপন্যাসটি কার লেখা?
(ক) শওকত ওসমান
(খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
(গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
(ঘ) আবু ইসহাক
সঠিক উত্তর: (খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা: ‘লালসালু’ (১৯৪৮) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি বিখ্যাত উপন্যাস। এটি গ্রামীণ সমাজে ধর্মকে ব্যবহার করে ভণ্ডামি ও শোষণের চিত্র তুলে ধরে।
প্রশ্ন ১৬০: ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
(ক) জহির রায়হান
(খ) সেলিনা হোসেন
(গ) হুমায়ূন আহমেদ
(ঘ) হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর: (ক) জহির রায়হান
ব্যাখ্যা: ‘হাজার বছর ধরে’ (১৯৬৪) জহির রায়হানের একটি বিখ্যাত উপন্যাস। এটি গ্রামীণ জীবনের পটভূমিতে রচিত এবং এতে গ্রামীণ মানুষের প্রেম, সংস্কার ও জীবন সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে।
প্রশ্ন ১৬১: ‘সন্দেশ’ পত্রিকাটি প্রথম কে সম্পাদনা করেন?
(ক) সুকুমার রায়
(খ) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
(গ) সত্যজিৎ রায়
(ঘ) লীলা মজুমদার
সঠিক উত্তর: (খ) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
ব্যাখ্যা: ‘সন্দেশ’ (১৯১৩) বাংলা শিশুসাহিত্যের একটি বিখ্যাত পত্রিকা। এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। পরবর্তীতে সুকুমার রায় ও সত্যজিৎ রায়ও এই পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
প্রশ্ন ১৬২: ‘আবোল তাবোল’ কার লেখা?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(খ) কাজী নজরুল ইসলাম
(গ) সুকুমার রায়
(ঘ) জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর: (গ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা: ‘আবোল তাবোল’ (১৯২৩) সুকুমার রায়ের ননসেন্স ছড়ার এক অমর সংকলন। এটি বাংলা শিশুসাহিত্যের এক ক্লাসিক গ্রন্থ।
প্রশ্ন ১৬৩: ‘বিষাদ-সিন্ধু’ কার অমর সৃষ্টি?
(ক) কায়কোবাদ
(খ) মীর মশাররফ হোসেন
(গ) ইসমাইল হোসেন সিরাজী
(ঘ) শেখ ফজলল করিম
সঠিক উত্তর: (খ) মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা: ‘বিষাদ-সিন্ধু’ (১৮৮৫-১৮৯১) মীর মশাররফ হোসেনের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি। এটি কারবালার শোকাবহ ঘটনা অবলম্বনে রচিত এক মহাকাব্যিক উপন্যাস।
প্রশ্ন ১৬৪: ‘পদিপিসীর বর্মী বাক্স’ কার লেখা?
(ক) আশাপূর্ণা দেবী
(খ) মহাশ্বেতা দেবী
(গ) লীলা মজুমদার
(ঘ) নবনীতা দেবসেন
সঠিক উত্তর: (গ) লীলা মজুমদার
ব্যাখ্যা: ‘পদিপিসীর বর্মী বাক্স’ (১৯৫৩) লীলা মজুমদারের একটি জনপ্রিয় শিশুতোষ উপন্যাস। এটি হাস্যরস, রহস্য ও অ্যাডভেঞ্চারে পূর্ণ।
প্রশ্ন ১৬৫: ‘হযরত মুহম্মদের (সঃ) জীবনী’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
(ক) মীর মশাররফ হোসেন
(খ) শেখ ফজলল করিম
(গ) ইয়াকুব আলী চৌধুরী
(ঘ) কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর: (খ) শেখ ফজলল করিম (পূর্ণাঙ্গ জীবনীর জন্য পরিচিত নন, তবে তিনি ইসলামী ভাবধারার লেখক)
ব্যাখ্যা: হযরত মুহম্মদের (সঃ) জীবনী অনেকেই লিখেছেন। তবে ইসলামী সাহিত্যের প্রেক্ষাপটে শেখ ফজলল করিম একজন পরিচিত নাম। (এই প্রশ্নের জন্য আরও সুনির্দিষ্ট বিকল্প বা তথ্য প্রয়োজন হতে পারে, কারণ একাধিক লেখক এই বিষয়ে লিখেছেন। উদাহরণস্বরূপ, ইয়াকুব আলী চৌধুরীর ‘নূরনবী’ বা মীর মশাররফ হোসেনের ‘মৌলুদ শরীফ’ প্রাসঙ্গিক। তবে এখানে শেখ ফজলল করিমকে বিকল্প হিসেবে ধরা হয়েছে।)
প্রশ্ন ১৬৬: ‘খেলারাম খেলে যা’ উপন্যাসটি কার লেখা?
(ক) হুমায়ূন আহমেদ
(খ) সৈয়দ শামসুল হক
(গ) হাসান আজিজুল হক
(ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর: (খ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা: ‘খেলারাম খেলে যা’ (১৯৭৩) সৈয়দ শামসুল হকের একটি বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত উপন্যাস।
প্রশ্ন ১৬৭: ‘চিলেকোঠার সেপাই’ কার লেখা?
(ক) শওকত আলী
(খ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
(গ) মাহমুদুল হক
(ঘ) রশীদ হায়দার
সঠিক উত্তর: (খ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা: ‘চিলেকোঠার সেপাই’ (১৯৮৭) আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের একটি বিখ্যাত উপন্যাস। এটি ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে ঢাকার পুরনো শহরের জীবনচিত্র তুলে ধরে।
প্রশ্ন ১৬৮: ‘খোয়াবনামা’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
(ক) হাসান আজিজুল হক
(খ) সেলিনা হোসেন
(গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
(ঘ) ইমদাদুল হক মিলন
সঠিক উত্তর: (গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা: ‘খোয়াবনামা’ (১৯৯৬) আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের দ্বিতীয় এবং শেষ পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস। এটি তেভাগা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত এবং এতে লোককথা ও মিথের ব্যবহার লক্ষণীয়।
প্রশ্ন ১৬৯: ‘আগুনপাখি’ উপন্যাসটি কার লেখা?
(ক) সেলিনা হোসেন
(খ) হাসান আজিজুল হক
(গ) রিজিয়া রহমান
(ঘ) রাবেয়া খাতুন
সঠিক উত্তর: (খ) হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা: ‘আগুনপাখি’ (২০০৬) হাসান আজিজুল হকের একটি বিখ্যাত উপন্যাস। এটি দেশভাগ এবং তার পরবর্তী সময়ের প্রেক্ষাপটে এক গ্রামীণ নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা।
প্রশ্ন ১৭০: ‘নন্দিত নরকে’ কার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস?
(ক) ইমদাদুল হক মিলন
(খ) হুমায়ূন আহমেদ
(গ) আনিসুল হক
(ঘ) মুহম্মদ জাফর ইকবাল
সঠিক উত্তর: (খ) হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা: ‘নন্দিত নরকে’ (১৯৭২) হুমায়ূন আহমেদের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। এটি বাংলা সাহিত্যে তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।
প্রশ্ন ১৭১: ‘হিমু’ চরিত্রটির স্রষ্টা কে?
(ক) মুহম্মদ জাফর ইকবাল
(খ) আনিসুল হক
(গ) হুমায়ূন আহমেদ
(ঘ) ইমদাদুল হক মিলন
সঠিক উত্তর: (গ) হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা: ‘হিমু’ বা হিমালয় হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় কাল্পনিক চরিত্র। হিমু হলুদ পাঞ্জাবি পরে খালি পায়ে ঘুরে বেড়ায় এবং তার আচরণ রহস্যময়।
প্রশ্ন ১৭২: ‘মিসির আলি’ কোন লেখকের সৃষ্ট চরিত্র?
(ক) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
(খ) শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
(গ) হুমায়ূন আহমেদ
(ঘ) সমরেশ মজুমদার
সঠিক উত্তর: (গ) হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা: ‘মিসির আলি’ হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্ট আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের একজন খণ্ডকালীন অধ্যাপক এবং রহস্যময় ঘটনার যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা দিতে পছন্দ করেন।
ব্যাখ্যা: ‘দীপু নাম্বার টু’ মুহম্মদ জাফর ইকবালের একটি জনপ্রিয় কিশোর উপন্যাস। এটি দীপু নামের এক কিশোরের স্কুল জীবন, বন্ধুত্ব ও অ্যাডভেঞ্চারের কাহিনী।
প্রশ্ন ১৭৪: ‘লোটা কম্বল’ কার আত্মজীবনীমূলক রচনা?
(ক) আবুল মনসুর আহমদ
(খ) সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
(গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
(ঘ) নীরদচন্দ্র চৌধুরী
সঠিক উত্তর: (খ) সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: ‘লোটা কম্বল’ সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত আত্মজীবনীমূলক রম্যরচনা। এটি তার সন্ন্যাস জীবনের অভিজ্ঞতার সরস বিবরণ।
প্রশ্ন ১৭৫: ‘ন হন্যতে’ উপন্যাসটি কার লেখা?
(ক) আশাপূর্ণা দেবী
(খ) মৈত্রেয়ী দেবী
(গ) মহাশ্বেতা দেবী
(ঘ) নবনীতা দেবসেন
সঠিক উত্তর: (খ) মৈত্রেয়ী দেবী
ব্যাখ্যা: ‘ন হন্যতে’ (১৯৭৪) মৈত্রেয়ী দেবীর একটি বিখ্যাত আত্মজৈবনিক উপন্যাস। এটি রোমানিয়ান দার্শনিক মিরচা এলিয়াদের সঙ্গে তার সম্পর্কের পটভূমিতে রচিত। এই উপন্যাসের জন্য তিনি ১৯৭৬ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান।
প্রশ্ন ১৭৬: ‘যদ্যপি আমার গুরু’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
(ক) আহমদ ছফা
(খ) হুমায়ুন আজাদ
(গ) সলিমুল্লাহ খান
(ঘ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সঠিক উত্তর: (ক) আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা: ‘যদ্যপি আমার গুরু’ (১৯৯৮) আহমদ ছফার একটি স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ। এতে তিনি তার শিক্ষক অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের সান্নিধ্য ও তার কাছ থেকে পাওয়া জ্ঞান ও প্রজ্ঞার কথা তুলে ধরেছেন।
ব্যাখ্যা: ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ (২০০৩) হুমায়ুন আজাদের একটি আলোচিত ও বিতর্কিত উপন্যাস। এটি মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ।
প্রশ্ন ১৭৮: ‘কালবেলা’ উপন্যাসটি কোন লেখকের ‘কালত্রয়ী’ উপন্যাসের অংশ?
(ক) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
(খ) সমরেশ মজুমদার
(গ) শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
(ঘ) বুদ্ধদেব গুহ
সঠিক উত্তর: (খ) সমরেশ মজুমদার
ব্যাখ্যা: ‘কালবেলা’ (১৯৮১-৮২) সমরেশ মজুমদারের বিখ্যাত ‘কালত্রয়ী’ (উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষ) উপন্যাসের দ্বিতীয় পর্ব। এটি সত্তরের দশকের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, বিশেষ করে নকশাল আন্দোলন এবং অনিমেষ ও মাধবীলতার জীবনকে কেন্দ্র করে রচিত।
প্রশ্ন ১৭৯: ‘পার্থিব’ উপন্যাসটি কার লেখা?
(ক) বুদ্ধদেব গুহ
(খ) বিমল কর
(গ) শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
(ঘ) সমরেশ বসু
সঠিক উত্তর: (গ) শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: ‘পার্থিব’ (১৯৮১) শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের একটি জনপ্রিয় উপন্যাস। এটি একটি বৃহৎ পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের জীবন, তাদের সম্পর্ক ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের চিত্রায়ণ।
প্রশ্ন ১৮০: ‘মাধুকরী’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
(ক) বুদ্ধদেব গুহ
(খ) বিমল কর
(গ) অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়
(ঘ) দেবেশ রায়
সঠিক উত্তর: (ক) বুদ্ধদেব গুহ
ব্যাখ্যা: ‘মাধুকরী’ (১৯৮৬) বুদ্ধদেব গুহের একটি বিখ্যাত উপন্যাস। এটি পৃথু ঘোষ নামক এক চরিত্রের অরণ্যচারী জীবন, প্রকৃতি প্রেম এবং আত্মানুসন্ধানের কাহিনী।
ব্যাখ্যা: ‘তিস্তা পারের বৃত্তান্ত’ (১৯৮৮) দেবেশ রায়ের একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। এই উপন্যাসের জন্য তিনি ১৯৯০ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান।
প্রশ্ন ১৮২: ‘অলীক মানুষ’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
(ক) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
(খ) সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
(গ) আবুল বাশার
(ঘ) সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: (খ) সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
ব্যাখ্যা: ‘অলীক মানুষ’ (১৯৮৮) সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের একটি বিখ্যাত উপন্যাস। এটি উনিশ শতকের শেষ দিকের মুসলিম সমাজের প্রেক্ষাপটে শফিউজ্জামান বা শশী নামক এক চরিত্রের জীবন ও তার আধ্যাত্মিক যাত্রার কাহিনী। এই উপন্যাসের জন্য তিনি ১৯৯৪ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান।
প্রশ্ন ১৮৩: ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ উপন্যাসটি কার লেখা?
(ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
(খ) শওকত ওসমান
(গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
(ঘ) রশীদ করীম
সঠিক উত্তর: (ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা: ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ (১৯৬৮) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। এটি অস্তিত্ববাদ ও আধুনিক মানুষের বিচ্ছিন্নতাবোধের চিত্রায়ণ।
প্রশ্ন ১৮৪: ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটির লেখক কে?
(ক) আনোয়ার পাশা
(খ) শওকত ওসমান
(গ) জহির রায়হান
(ঘ) হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর: (ক) আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা: ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ (১৯৭৩, মরণোত্তর প্রকাশিত) আনোয়ার পাশার লেখা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি অসামান্য উপন্যাস। এটি মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাস হিসেবেও পরিচিত।
প্রশ্ন ১৮৫: ‘ওঙ্কার’ উপন্যাসটি কার লেখা?
(ক) আহমদ ছফা
(খ) হুমায়ুন আজাদ
(গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
(ঘ) সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর: (ক) আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা: ‘ওঙ্কার’ (১৯৭৫) আহমদ ছফার একটি প্রতীকী উপন্যাস। এটি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে এক বোবা মেয়ের কথা বলার আকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে বাঙালি জাতির আত্মপরিচয় ও জাগরণের প্রতীক।
প্রশ্ন ১৮৬: ‘নীল দংশন’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
(ক) সৈয়দ শামসুল হক
(খ) হাসান আজিজুল হক
(গ) শওকত আলী
(ঘ) মাহমুদুল হক
সঠিক উত্তর: (ক) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা: ‘নীল দংশন’ (১৯৮১) সৈয়দ শামসুল হকের একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। এটি একজন বুদ্ধিজীবীর দৃষ্টিকোণ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা ও মনস্তাত্ত্বিক অভিঘাত তুলে ধরে।
প্রশ্ন ১৮৭: ‘নিশি কুটুম্ব’ উপন্যাসটি কার লেখা?
(ক) মনোজ বসু
(খ) তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
(গ) বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
(ঘ) প্রবোধকুমার সান্যাল
সঠিক উত্তর: (ক) মনোজ বসু
ব্যাখ্যা: ‘নিশি কুটুম্ব’ (১৯৬৩) মনোজ বসুর একটি বিখ্যাত উপন্যাস। এটি চোর ও ডাকাতদের জীবনযাত্রা এবং তাদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে লেখা। এই উপন্যাসের জন্য তিনি ১৯৬৫ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান।
প্রশ্ন ১৮৮: ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কে?
(ক) বদরুন
(খ) সুধাংশু
(গ) ওসমান
(ঘ) জালাল
সঠিক উত্তর: (খ) সুধাংশু
ব্যাখ্যা: হুমায়ুন আজাদের ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র সুধাংশু, যে মৌলবাদী শক্তির দ্বারা নির্যাতিত হয়।
প্রশ্ন ১৮৯: ‘শঙ্খনীল কারাগার’ উপন্যাসটি কার লেখা?
(ক) হুমায়ূন আহমেদ
(খ) ইমদাদুল হক মিলন
(গ) সেলিনা হোসেন
(ঘ) নাসরীন জাহান
সঠিক উত্তর: (ক) হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা: ‘শঙ্খনীল কারাগার’ (১৯৭৩) হুমায়ূন আহমেদের প্রথম দিকের একটি জনপ্রিয় উপন্যাস। এটি একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের স্বপ্ন, হতাশা ও বন্ধনের গল্প।
ব্যাখ্যা: ‘আবু ইব্রাহিমের মৃত্যু’ (১৯৯৯) শহীদুল জহিরের একটি বিখ্যাত ছোটগল্প। এটি তার ‘ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প’ (২০০১) সংকলনে অন্তর্ভুক্ত। গল্পটি জাদুবাস্তবতার নিপুণ প্রয়োগে সমৃদ্ধ।
প্রশ্ন ১৯১: ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ কার লেখা প্রবন্ধ গ্রন্থ?
(ক) আহমদ ছফা
(খ) হুমায়ুন আজাদ
(গ) বদরুদ্দীন উমর
(ঘ) আনু মুহাম্মদ
সঠিক উত্তর: (ক) আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা: ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ আহমদ ছফার একটি উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ গ্রন্থ, যেখানে তিনি সমকালীন সমাজ ও রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা করেছেন।
প্রশ্ন ১৯২: ‘গঙ্গা’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
(ক) সমরেশ বসু
(খ) প্রবোধকুমার সান্যাল
(গ) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
(ঘ) গৌরকিশোর ঘোষ
সঠিক উত্তর: (ক) সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা: ‘গঙ্গা’ (১৯৫৭) সমরেশ বসুর একটি বিখ্যাত উপন্যাস। এটি গঙ্গার তীরবর্তী জেলে সম্প্রদায়ের জীবন সংগ্রাম, প্রেম ও লোকবিশ্বাসের এক সজীব চিত্র।
প্রশ্ন ১৯৩: ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ কার প্রথম কাব্যগ্রন্থ?
(ক) শক্তি চট্টোপাধ্যায়
(খ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
(গ) নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
(ঘ) শঙ্খ ঘোষ
সঠিক উত্তর: (ক) শক্তি চট্টোপাধ্যায় (এই তথ্যটি ভুল। শক্তির প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘হে প্রেম হে নৈঃশব্দ্য’ (১৯৬১)। ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘আমার বাংলা’ গ্রন্থের একটি বিখ্যাত কবিতার লাইন। প্রশ্নটি বিভ্রান্তিকর, তাই সঠিক তথ্য দেওয়া হলো।)
ব্যাখ্যা: শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো ‘হে প্রেম হে নৈঃশব্দ্য’ (১৯৬১)। ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ একটি জনপ্রিয় কবিতার লাইন, যা সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘আমার বাংলা’ গ্রন্থের একটি কবিতার অংশ। প্রশ্নটি যদি কাব্যগ্রন্থের নাম হিসেবে ধরা হয় তবে এটি ভুল। (সঠিক তথ্য: সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘আমার বাংলা’ কাব্যে “ফুল ফুটুক না ফুটুক, আজ বসন্ত। / শান-বাঁধানো ফুটপাথে পাথরে পা ডুবিয়ে এক কাঠখোট্টা গাছ / কচি কচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে হাসছে। / ফুল ফুটুক না ফুটুক, আজ বসন্ত। / আলোয়-আলোময় এই হেলে-পড়া দুপুর / ঝিরিঝিরি বাতাসে মাথানাড়ানিয়া সব গাছ। / জল পড়ে পাতা নড়ে।”)
প্রশ্ন ১৯৪: ‘জাগরী’ উপন্যাসের জন্য সতীনাথ ভাদুড়ী কোন পুরস্কার পান?
(ক) সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার
(খ) রবীন্দ্র পুরস্কার
(গ) জ্ঞানপীঠ পুরস্কার
(ঘ) আনন্দ পুরস্কার
সঠিক উত্তর: (খ) রবীন্দ্র পুরস্কার
ব্যাখ্যা: সতীনাথ ভাদুড়ী তার ‘জাগরী’ (১৯৪৫) উপন্যাসের জন্য ১৯৫০ সালে প্রথম ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ লাভ করেন। উপন্যাসটি ভারত ছাড়ো আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত।
প্রশ্ন ১৯৫: ‘উত্তরাধিকার’ উপন্যাসটি কার লেখা?
(ক) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
(খ) সমরেশ মজুমদার
(গ) শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
(ঘ) অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: (খ) সমরেশ মজুমদার
ব্যাখ্যা: ‘উত্তরাধিকার’ (১৯৭৫) সমরেশ মজুমদারের বিখ্যাত ‘কালত্রয়ী’ (উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষ) উপন্যাসের প্রথম পর্ব। এটি উত্তরবঙ্গের চা বাগান অঞ্চলের পটভূমিতে অনিমেষ ও তার পরিবারের কাহিনী।
প্রশ্ন ১৯৬: ‘দ্বিতীয় অঙ্ক’ কার লেখা একটি বিখ্যাত নাটক?
ব্যাখ্যা: অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় লুইজি পিরানদেল্লোর ‘সিক্স ক্যারেক্টারস ইন সার্চ অফ অ্যান অথর’ নাটকটির সফল বাংলা রূপান্তর করেন ‘ছ’টি চরিত্র’ নামে। ‘দ্বিতীয় অঙ্ক’ নামে তার সরাসরি কোনো বিখ্যাত নাটক নেই, তবে তার নাট্যকর্ম বাংলা থিয়েটারে গুরুত্বপূর্ণ। (এই প্রশ্নটির জন্য আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য বা বিকল্প প্রয়োজন হতে পারে।)
প্রশ্ন ১৯৭: ‘আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কে?
(ক) ঠকচাচা
(খ) মতিলাল
(গ) বেণী বাবু
(ঘ) বাঞ্ছারাম
সঠিক উত্তর: (খ) মতিলাল
ব্যাখ্যা: প্যারীচাঁদ মিত্রের ‘আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলো বাবুরাম বাবুর উচ্ছৃঙ্খল পুত্র মতিলাল, যে কিনা আদরে নষ্ট হয়ে যায়। ঠকচাচা এই উপন্যাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
প্রশ্ন ১৯৮: ‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’ কাব্যের রচয়িতা কে?
(ক) মালাধর বসু
(খ) কৃত্তিবাস ওঝা
(গ) কাশীরাম দাস
(ঘ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর: (ক) মালাধর বসু
ব্যাখ্যা: ‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’ (১৪৭৩-১৪৮০) মালাধর বসুর লেখা একটি গুরুত্বপূর্ণ আখ্যানকাব্য। এটি ভাগবতের দশম ও একাদশ স্কন্ধের কাহিনি অবলম্বনে রচিত। তিনি ‘গুণরাজ খান’ উপাধিতে ভূষিত হন।
প্রশ্ন ১৯৯: ‘দত্তা’ উপন্যাসটি কার লেখা?
(ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(ঘ) তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: (গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: ‘দত্তা’ (১৯১৮) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি জনপ্রিয় সামাজিক উপন্যাস। এর প্রধান চরিত্র বিজয়া, নরেন এবং রাসবিহারী।
প্রশ্ন ২০০: ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসে অমিত রায়ের বন্ধু বা সহচর চরিত্রটির নাম কী?
(ক) কেতকী
(খ) শোভনলাল
(গ) অবনীশ
(ঘ) নীরদ
সঠিক উত্তর: (খ) শোভনলাল (তবে শোভনলাল লাবণ্যর প্রতি আকৃষ্ট ছিল। অমিতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা সহচর হিসেবে নির্দিষ্টভাবে কেউ তেমনভাবে চিত্রিত হয়নি, তবে কেতকীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। প্রশ্নটি আরও স্পষ্ট হতে পারত।)
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসে শোভনলাল লাবণ্যর প্রতি আকৃষ্ট ছিল। অমিত রায়ের জীবনে কেতকী একটি গুরুত্বপূর্ণ নারী চরিত্র। অমিতের বন্ধু হিসেবে কোনো একক চরিত্র প্রধানভাবে চিত্রিত হয়নি, তবে তার সামাজিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন চরিত্র ছিল।
slst bengali mcq
আপনি কি WB SSC SLSTএর পরিক্ষার্থী ssc slst bengali syllabus দেখেছেন তাহলে slst bengali practice set দেখুন এবং slst bengali question paper গুলো কেমন হবে ভাবুন তাই slst bengali notes তৈরি করুন এবূং slst bengali mock test দিন slst bengali question গুলো ভালো ভাবে Details এ পড়ুন wb slst bengali mock test Practice করুন