SLST History Chapter 1

ইতিহাস MCQ: দিল্লি সুলতানি ও বিজয়নগর সাম্রাজ্য

দিল্লি সুলতানি, দাস বংশ, খলজি ও তুঘলক বংশ, প্রশাসনিক কাঠামো এবং বিজয়নগর সাম্রাজ্য

প্রশ্ন ১: সুলতানি শাসনের সময়কালে ‘খলিফা’ উপাধিটি কে গ্রহণ করেন?

  • a) কুতুবউদ্দিন আইবক
  • b) ইলতুৎমিশ
  • c) গিয়াসউদ্দিন বলবন
  • d) আলাউদ্দিন খলজি

সঠিক উত্তর: b) ইলতুৎমিশ

ব্যাখ্যা: ইলতুৎমিশই প্রথম সুলতান যিনি বাগদাদের খলিফার কাছ থেকে স্বীকৃতি লাভ করেন এবং ‘নাসির আমির উল মুমিনিন’ (বিশ্বাসের নেতার সাহায্যকারী) উপাধি গ্রহণ করেন, যা তার শাসনকে বৈধতা দান করে। কুতুবউদ্দিন আইবক নিজেকে ‘মালিক’ বা ‘সিপাহসালার’ হিসেবে পরিচয় দিতেন। বলবন একজন শক্তিশালী শাসক ছিলেন কিন্তু খলিফা উপাধি গ্রহণ করেননি। আলাউদ্দিন খলজি অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিলেন, কিন্তু তিনি খলিফা উপাধি নেননি, বরং ‘সিকান্দার-ই-সানি’ (দ্বিতীয় আলেকজান্ডার) উপাধি গ্রহণ করেন।

প্রশ্ন ২: দাস বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

  • a) কুতুবউদ্দিন আইবক
  • b) ইলতুৎমিশ
  • c) গিয়াসউদ্দিন বলবন
  • d) নাসিরউদ্দিন মাহমুদ

সঠিক উত্তর: a) কুতুবউদ্দিন আইবক

ব্যাখ্যা: কুতুবউদ্দিন আইবক ছিলেন মুহাম্মদ ঘোরীর অন্যতম সেনাপতি। ঘোরীর মৃত্যুর পর তিনি স্বাধীনভাবে শাসনকার্য পরিচালনা শুরু করেন এবং ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে দাস বংশের প্রতিষ্ঠা করেন। যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সুলতানি উপাধি গ্রহণ করেননি, তাকেই দাস বংশের প্রথম শাসক হিসেবে ধরা হয়।

প্রশ্ন ৩: ‘রেশনিং ব্যবস্থা’ (rationing system) কে চালু করেন?

  • a) ফিরোজ শাহ তুঘলক
  • b) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  • c) আলাউদ্দিন খলজি
  • d) গিয়াসউদ্দিন তুঘলক

সঠিক উত্তর: c) আলাউদ্দিন খলজি

ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি সামরিক ব্যয় মেটাতে এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করেন, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল রেশনিং ব্যবস্থা। তিনি বিভিন্ন পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দেন এবং কালোবাজারি রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

প্রশ্ন ৪: ‘তুঘলকনামা’ কে রচনা করেন?

  • a) জিয়াউদ্দিন বারানি
  • b) আমির খসরু
  • c) ইবন বতুতা
  • d) হাসান নিজামী

সঠিক উত্তর: b) আমির খসরু

ব্যাখ্যা: আমির খসরু ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি, সঙ্গীতজ্ঞ এবং ঐতিহাসিক। তিনি মুহাম্মদ বিন তুঘলক সহ বেশ কয়েকজন সুলতানের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন। ‘তুঘলকনামা’ ছাড়াও তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে ‘খাজাইন-উল-ফুতুহ’, ‘নূহ সিপাহার’, ‘আশিকি’ ইত্যাদি।

প্রশ্ন ৫: ‘সরাই-ই-আদল’ (Sara-i-Adl) কী ছিল?

  • a) বিচার বিভাগীয় আদালত
  • b) শস্য বাজার
  • c) বস্ত্র বাজার
  • d) দাসদের বাজার

সঠিক উত্তর: c) বস্ত্র বাজার

ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজির বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ‘সরাই-ই-আদল’। এটি ছিল একটি সরকারী বাজার, যেখানে শুধুমাত্র নির্ধারিত মূল্যে কাপড় এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বিক্রি করা যেত।

প্রশ্ন ৬: কোন সুলতান ‘দাগ’ (ঘোড়ার গায়ে চিহ্ন) এবং ‘চেহরা’ (সৈন্যদের বিবরণ) প্রথা চালু করেন?

  • a) গিয়াসউদ্দিন বলবন
  • b) আলাউদ্দিন খলজি
  • c) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  • d) ফিরোজ শাহ তুঘলক

সঠিক উত্তর: b) আলাউদ্দিন খলজি

ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত সেনাবাহিনী গড়ে তোলার জন্য এই দুটি প্রথা চালু করেন। ‘দাগ’ প্রথা ঘোড়া পরিবর্তনের দুর্নীতি রোধ করত এবং ‘চেহরা’ প্রথা সৈন্যদের পরিচয় নিশ্চিত করত।

প্রশ্ন ৭: দিল্লি থেকে দেবগিরিতে (দৌলতাবাদ) রাজধানী স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত কোন সুলতান গ্রহণ করেন?

  • a) আলাউদ্দিন খলজি
  • b) গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
  • c) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  • d) ফিরোজ শাহ তুঘলক

সঠিক উত্তর: c) মুহাম্মদ বিন তুঘলক

ব্যাখ্যা: মুহাম্মদ বিন তুঘলক ১৩২৭ খ্রিস্টাব্দে দিল্লি থেকে দেবগিরিতে (যার নামকরণ করেন দৌলতাবাদ) রাজধানী স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। এর উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ ভারত নিয়ন্ত্রণ করা এবং মঙ্গোল আক্রমণ থেকে দিল্লিকে রক্ষা করা। তবে এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয় এবং তাকে পুনরায় দিল্লিতে রাজধানী ফিরিয়ে আনতে হয়।

প্রশ্ন ৮: ‘সিয়াহী-ই-শামস’ (Siyahi-i-Shams) নামে একটি নতুন মুদ্রা কে চালু করেন?

  • a) ইলতুৎমিশ
  • b) গিয়াসউদ্দিন বলবন
  • c) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  • d) ফিরোজ শাহ তুঘলক

সঠিক উত্তর: c) মুহাম্মদ বিন তুঘলক

ব্যাখ্যা: মুহাম্মদ বিন তুঘলক তাঁর পরীক্ষামূলক নীতিগুলির অংশ হিসেবে বিভিন্ন মুদ্রার প্রচলন করেন। ‘সিয়াহী-ই-শামস’ ছিল একটি প্রতীকী মুদ্রা, যা তিনি প্রচলিত করেন। তাঁর টোকেন মুদ্রা (তামার মুদ্রা) চালু করার সিদ্ধান্তও ছিল তাঁর অন্যতম বিতর্কিত নীতি।

প্রশ্ন ৯: দাস বংশের কোন সুলতান নিজেকে ‘জিল-ই-ইলাহি’ (আল্লাহর ছায়া) বলে ঘোষণা করেন?

  • a) কুতুবউদ্দিন আইবক
  • b) ইলতুৎমিশ
  • c) গিয়াসউদ্দিন বলবন
  • d) নাসিরউদ্দিন মাহমুদ

সঠিক উত্তর: c) গিয়াসউদ্দিন বলবন

ব্যাখ্যা: গিয়াসউদ্দিন বলবন একজন শক্তিশালী ও নিরঙ্কুশ শাসক ছিলেন। তিনি রাজতন্ত্রের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে চেয়েছিলেন এবং নিজেকে ‘জিল-ই-ইলাহি’ (আল্লাহর ছায়া) এবং ‘নিয়াবত-ই-খুদাই’ (আল্লাহর প্রতিনিধি) বলে ঘোষণা করেন।

প্রশ্ন ১০: ‘আমির-ই-কোহি’ (Amir-i-Kohi) নামক কৃষি বিভাগ কে প্রতিষ্ঠা করেন?

  • a) আলাউদ্দিন খলজি
  • b) গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
  • c) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  • d) ফিরোজ শাহ তুঘলক

সঠিক উত্তর: c) মুহাম্মদ বিন তুঘলক

ব্যাখ্যা: মুহাম্মদ বিন তুঘলক কৃষির উন্নতি এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ‘আমির-ই-কোহি’ নামে একটি নতুন বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। এই বিভাগের প্রধান কাজ ছিল পতিত জমিকে আবাদি জমিতে পরিণত করা এবং কৃষকদের ঋণ প্রদান করা।

প্রশ্ন ১১: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

  • a) কৃষ্ণদেব রায়
  • b) হরিহর ও বুক্কা
  • c) দেব রায় প্রথম
  • d) সালুভ নরসিংহ

সঠিক উত্তর: b) হরিহর ও বুক্কা

ব্যাখ্যা: হরিহর ও বুক্কা নামক দুই ভাই ১৩৩৬ খ্রিস্টাব্দে তুঙ্গভদ্রা নদীর তীরে বিজয়নগর সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন। তারা প্রথমে কাকাতিয়াদের অধীনে এবং পরে কোয়সলাদের অধীনে কাজ করেছিলেন।

প্রশ্ন ১২: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কোন বংশের রাজারা ‘অষ্টদিগগজ’ (Ashtadiggajas) নামে পরিচিত আটজন পন্ডিতের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন?

  • a) সঙ্গম বংশ
  • b) সালুভ বংশ
  • c) তুলুভ বংশ
  • d) আরাভিদু বংশ

সঠিক উত্তর: c) তুলুভ বংশ

ব্যাখ্যা: তুলুভ বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা কৃষ্ণদেব রায়ের দরবারে আটজন মহান তেলুগু কবি ও পণ্ডিতের একটি গোষ্ঠী ছিল, যারা ‘অষ্টদিগগজ’ নামে পরিচিত ছিলেন। তেঁনালি রামা ছিলেন এই আটজনের মধ্যে অন্যতম।

প্রশ্ন ১৩: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের রাজাদের প্রচলিত মুদ্রা কি নামে পরিচিত ছিল?

  • a) দিনার
  • b) রুপি
  • c) প্যাগোডা
  • d) তঙ্কা

সঠিক উত্তর: c) প্যাগোডা

ব্যাখ্যা: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের রাজাদের প্রধান মুদ্রা ছিল ‘প্যাগোডা’ বা ‘বরাহ’। এটি ছিল একটি স্বর্ণমুদ্রা, যা তাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রতীক ছিল।

প্রশ্ন ১৪: ‘হাম্পি’ (Hampi) কোন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল?

  • a) বাহমনি সাম্রাজ্য
  • b) বিজয়নগর সাম্রাজ্য
  • c) চালুক্য সাম্রাজ্য
  • d) পল্লব সাম্রাজ্য

সঠিক উত্তর: b) বিজয়নগর সাম্রাজ্য

ব্যাখ্যা: হাম্পি ছিল বিজয়নগর সাম্রাজ্যের রাজধানী। এর ধ্বংসাবশেষ বর্তমানে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত এবং এটি বিজয়নগরের স্থাপত্য ও শিল্পের এক বিশাল নিদর্শন।

প্রশ্ন ১৫: তালাইকোটার যুদ্ধ (Battle of Talikota) কত সালে সংঘটিত হয়?

  • a) ১৫৬৫
  • b) ১৫৫৬
  • c) ১৫২৯
  • d) ১৫৩৮

সঠিক উত্তর: a) ১৫৬৫

ব্যাখ্যা: ১৫৬৫ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত তালাইকোটার যুদ্ধ বিজয়নগর সাম্রাজ্যের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই যুদ্ধে দাক্ষিণাত্যের সুলতানদের সম্মিলিত বাহিনীর কাছে বিজয়নগর সাম্রাজ্য পরাজিত হয়, যা সাম্রাজ্যের পতনের সূচনা করে।

প্রশ্ন ১৬: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কোন রাজা ‘আন্ধ্র ভোজ’ (Andhra Bhoja) নামে পরিচিত ছিলেন?

  • a) দেব রায় দ্বিতীয়
  • b) কৃষ্ণদেব রায়
  • c) হরিহর প্রথম
  • d) বুক্কা প্রথম

সঠিক উত্তর: b) কৃষ্ণদেব রায়

ব্যাখ্যা: কৃষ্ণদেব রায় ছিলেন বিজয়নগর সাম্রাজ্যের তুলুভ বংশের একজন মহান শাসক। তিনি শিল্প, সাহিত্য ও স্থাপত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং তাঁর রাজত্বকালে বিজয়নগর সাম্রাজ্য উন্নতির শিখরে পৌঁছেছিল। তার সাহিত্যপ্রীতির জন্য তাকে ‘আন্ধ্র ভোজ’ বলা হয়।

প্রশ্ন ১৭: দিল্লি সুলতানি যুগে সামরিক বিভাগের প্রধানকে কী বলা হত?

  • a) ওয়াজির
  • b) আরিজ-ই-মামালিক
  • c) দিওয়ান-ই-ইনশা
  • d) দিওয়ান-ই-রিসালত

সঠিক উত্তর: b) আরিজ-ই-মামালিক

ব্যাখ্যা: ‘আরিজ-ই-মামালিক’ ছিলেন সুলতানি আমলে সামরিক বিভাগের (দিওয়ান-ই-আর্জ) প্রধান। তার কাজ ছিল সৈন্য নিয়োগ, তাদের প্রশিক্ষণ, রসদ সরবরাহ এবং ঘোড়ার পরিচর্যা করা।

প্রশ্ন ১৮: ‘দিওয়ান-ই-খয়রাত’ (Diwan-i-Khairat) নামক দাতব্য বিভাগ কে প্রতিষ্ঠা করেন?

  • a) আলাউদ্দিন খলজি
  • b) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  • c) ফিরোজ শাহ তুঘলক
  • d) সিকান্দার লোদি

সঠিক উত্তর: c) ফিরোজ শাহ তুঘলক

ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলক ছিলেন একজন জনকল্যাণমূলক সুলতান। তিনি দরিদ্র মুসলিম নারীদের বিবাহ এবং দরিদ্রদের সাহায্য করার জন্য ‘দিওয়ান-ই-খয়রাত’ নামক একটি দাতব্য বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রশ্ন ১৯: কোন সুলতান ‘ইকতা’ (Iqta) প্রথার প্রচলন করেন?

  • a) কুতুবউদ্দিন আইবক
  • b) ইলতুৎমিশ
  • c) গিয়াসউদ্দিন বলবন
  • d) আলাউদ্দিন খলজি

সঠিক উত্তর: b) ইলতুৎমিশ

ব্যাখ্যা: ইলতুৎমিশ ভারতে ইকতা প্রথার প্রচলন করেন। ইকতা ছিল একটি ভূমি বরাদ্দ ব্যবস্থা, যেখানে সামরিক বা বেসামরিক কর্মকর্তাদের তাদের সেবার বিনিময়ে রাজস্ব আদায়ের অধিকার সহ একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল প্রদান করা হত। এই প্রথা সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক ও সামরিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করেছিল।

প্রশ্ন ২০: ‘বিজয়নগর সাম্রাজ্য’ এবং ‘বাহমনি সাম্রাজ্য’-এর মধ্যে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণ কী ছিল?

  • a) বাণিজ্যিক পথ নিয়ন্ত্রণ
  • b) ধর্মীয় পার্থক্য
  • c) কৃষ্ণ-তুঙ্গভদ্রা দোয়াব অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ
  • d) সাংস্কৃতিক পার্থক্য

সঠিক উত্তর: c) কৃষ্ণ-তুঙ্গভদ্রা দোয়াব অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ

ব্যাখ্যা: বিজয়নগর এবং বাহমনি সাম্রাজ্যের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের মূল কারণ ছিল কৃষ্ণ-তুঙ্গভদ্রা দোয়াব অঞ্চল, যা অত্যন্ত উর্বর এবং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই অঞ্চলের অধিকার নিয়ে উভয় সাম্রাজ্যের মধ্যে প্রায়ই যুদ্ধ হত।

প্রশ্ন ২১: কোন সুলতান ‘রক্ত ও লৌহ নীতি’ (Policy of Blood and Iron) গ্রহণ করেন?

  • a) কুতুবউদ্দিন আইবক
  • b) ইলতুৎমিশ
  • c) গিয়াসউদ্দিন বলবন
  • d) আলাউদ্দিন খলজি

সঠিক উত্তর: c) গিয়াসউদ্দিন বলবন

ব্যাখ্যা: গিয়াসউদ্দিন বলবন তার সাম্রাজ্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং মঙ্গোল আক্রমণ প্রতিহত করতে ‘রক্ত ও লৌহ নীতি’ গ্রহণ করেন। এই নীতি অনুসারে, বিদ্রোহ দমনে এবং শত্রুদের পরাজিত করতে তিনি অত্যন্ত কঠোর ও নির্মম পদ্ধতি অবলম্বন করেন।

প্রশ্ন ২২: খলজি বিপ্লব কাকে ক্ষমতাচ্যুত করে?

  • a) দাস বংশ
  • b) সৈয়দ বংশ
  • c) লোদি বংশ
  • d) তুঘলক বংশ

সঠিক উত্তর: a) দাস বংশ

ব্যাখ্যা: ১২৯০ খ্রিস্টাব্দে জালালউদ্দিন খলজি দাস বংশের শেষ শাসক কায়ুমার্সকে ক্ষমতাচ্যুত করে খলজি বংশের প্রতিষ্ঠা করেন। এই ঘটনাকে ‘খলজি বিপ্লব’ বলা হয়, কারণ এর মাধ্যমে তুর্কি অভিজাতদের ক্ষমতা কমে যায় এবং নতুন ধরনের অভিজাতদের উত্থান ঘটে।

প্রশ্ন ২৩: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কোন রাজা পর্তুগিজদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন?

  • a) হরিহর প্রথম
  • b) বুক্কা প্রথম
  • c) কৃষ্ণদেব রায়
  • d) দেব রায় দ্বিতীয়

সঠিক উত্তর: c) কৃষ্ণদেব রায়

ব্যাখ্যা: কৃষ্ণদেব রায়ের রাজত্বকালে পর্তুগিজরা বিজয়নগরে এসেছিল। তিনি পর্তুগিজদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করেন, যা তাদের বাণিজ্য এবং সামরিক প্রয়োজনে সাহায্য করেছিল।

প্রশ্ন ২৪: দিল্লি সুলতানির প্রশাসনিক কাঠামোয় ‘দিওয়ান-ই-ইনশা’ (Diwan-i-Insha) কোন বিভাগের সাথে সম্পর্কিত ছিল?

  • a) অর্থ বিভাগ
  • b) সামরিক বিভাগ
  • c) চিঠিপত্র ও যোগাযোগ বিভাগ
  • d) বিচার বিভাগ

সঠিক উত্তর: c) চিঠিপত্র ও যোগাযোগ বিভাগ

ব্যাখ্যা: ‘দিওয়ান-ই-ইনশা’ ছিল সুলতানি আমলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিভাগ। এটি সরকারি চিঠিপত্র, ফরমান এবং অন্যান্য দাপ্তরিক যোগাযোগ পরিচালনার দায়িত্বে ছিল।

প্রশ্ন ২৫: ফিরোজ শাহ তুঘলক কোন করটি চালু করেন যা উলেমাদের অনুমোদন পেয়েছিল?

  • a) খারাজ
  • b) জিজিয়া
  • c) জাকাত
  • d) সেচ কর (হক-ই-শিরব)

সঠিক উত্তর: d) সেচ কর (হক-ই-শিরব)

ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলক কৃষির উন্নতি এবং সেচ ব্যবস্থার প্রসারে বিশেষভাবে আগ্রহী ছিলেন। তিনি খাল খনন করেন এবং এর জন্য কৃষকদের উপর ‘হক-ই-শিরব’ বা সেচ কর চালু করেন, যা উলেমাদের দ্বারা অনুমোদিত হয়েছিল।

প্রশ্ন ২৬: আলাউদ্দিন খলজির বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য কী ছিল?

  • a) রাজস্ব বৃদ্ধি
  • b) জনগণের কল্যাণ
  • c) শক্তিশালী সেনাবাহিনী বজায় রাখা
  • d) শিল্পকে উৎসাহিত করা

সঠিক উত্তর: c) শক্তিশালী সেনাবাহিনী বজায় রাখা

ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজির বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য ছিল কম খরচে একটি বিশাল ও শক্তিশালী সেনাবাহিনী বজায় রাখা। সৈন্যদের বেতন কম রেখেও যাতে তারা জীবনযাপন করতে পারে, তার জন্য তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করেন।

প্রশ্ন ২৭: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের স্থাপত্যে কোন বৈশিষ্ট্যটি বিশেষভাবে দেখা যায়?

  • a) শিখর
  • b) গম্বুজ
  • c) মণ্ডপ ও গোপুরম
  • d) মিনার

সঠিক উত্তর: c) মণ্ডপ ও গোপুরম

ব্যাখ্যা: বিজয়নগর স্থাপত্যের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হল বিশাল ‘মণ্ডপ’ (স্তম্ভযুক্ত হল) এবং উঁচু ‘গোপুরম’ (মন্দির প্রবেশদ্বার)। এই দুটি উপাদান তাদের মন্দির স্থাপত্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

প্রশ্ন ২৮: দিল্লি সুলতানি শাসনের পতনের জন্য মূলত দায়ী কে ছিলেন?

  • a) তৈমুর লং-এর আক্রমণ
  • b) আঞ্চলিক শক্তির উত্থান
  • c) অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব
  • d) উপরোক্ত সবকটি

সঠিক উত্তর: d) উপরোক্ত সবকটি

ব্যাখ্যা: দিল্লি সুলতানি শাসনের পতনের জন্য একাধিক কারণ দায়ী ছিল। তৈমুর লং-এর আক্রমণ সুলতানির মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়, আঞ্চলিক রাজ্যগুলির (যেমন বিজয়নগর ও বাহমনি) উত্থান কেন্দ্রীয় ক্ষমতাকে দুর্বল করে এবং সুলতানদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কলহ ও দুর্বল শাসন পতনকে ত্বরান্বিত করে।

প্রশ্ন ২৯: কোন সুলতান ‘সৈয়দ-উস-সালাতিন’ (Syed-us-Salatin) উপাধি গ্রহণ করেন?

  • a) গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
  • b) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  • c) ফিরোজ শাহ তুঘলক
  • d) খিজির খান

সঠিক উত্তর: c) ফিরোজ শাহ তুঘলক

ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলক নিজেকে একজন ধার্মিক ও জনকল্যাণমূলক শাসক হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছিলেন। তিনি ‘সৈয়দ-উস-সালাতিন’ উপাধি গ্রহণ করেন, যার অর্থ হল ‘সুলতানদের প্রধান’।

প্রশ্ন ৩০: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় ‘নাইয়াংকারা প্রথা’ (Nayankara system) কী ছিল?

  • a) এক ধরনের ভূমি কর
  • b) সামরিক প্রধানদের ভূমি অনুদান
  • c) বিচার ব্যবস্থা
  • d) গ্রাম পঞ্চায়েত ব্যবস্থা

সঠিক উত্তর: b) সামরিক প্রধানদের ভূমি অনুদান

ব্যাখ্যা: নাইয়াংকারা প্রথা ছিল বিজয়নগর সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা। এই প্রথা অনুসারে, সামরিক প্রধানদের (নায়েক) তাদের সেবার বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভূমি অনুদান করা হত, যা থেকে তারা রাজস্ব আদায় করত এবং সামরিক বাহিনী রক্ষণাবেক্ষণ করত। এটি অনেকটা উত্তর ভারতের ইকতা প্রথার অনুরূপ ছিল।

প্রশ্ন ৩১: ইলতুৎমিশ কর্তৃক গঠিত চল্লিশ চক্রের (Chahalgani) উদ্দেশ্য কী ছিল?

  • a) সাধারণ জনগণের কল্যাণ সাধন
  • b) সুলতানকে প্রশাসনিক কাজে সহায়তা করা
  • c) অভিজাতদের ক্ষমতা খর্ব করা
  • d) সুলতানের ক্ষমতাকে শক্তিশালী করা

সঠিক উত্তর: d) সুলতানের ক্ষমতাকে শক্তিশালী করা

ব্যাখ্যা: চল্লিশ চক্র বা ‘তুর্কি-ই-চাহালগানি’ ছিল ইলতুৎমিশ কর্তৃক গঠিত চল্লিশজন তুর্কি অভিজাতের একটি দল। এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল সুলতানের ক্ষমতাকে শক্তিশালী করা এবং তাকে প্রশাসনিক ও সামরিক বিষয়ে সহায়তা করা। তবে ইলতুৎমিশের মৃত্যুর পর এই চক্রই ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে এবং পরবর্তী সুলতানদের ক্ষমতা খর্ব করতে শুরু করে।

প্রশ্ন ৩২: কোন সুলতান একটি নতুন বিভাগ ‘দিওয়ান-ই-ইস্তিহক’ (Diwan-i-Istihqaq) প্রতিষ্ঠা করেন যা পেনশনের সাথে সম্পর্কিত ছিল?

  • a) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  • b) ফিরোজ শাহ তুঘলক
  • c) আলাউদ্দিন খলজি
  • d) গিয়াসউদ্দিন বলবন

সঠিক উত্তর: b) ফিরোজ শাহ তুঘলক

ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলক তার জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য পরিচিত। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারীদের জন্য পেনশন ব্যবস্থা চালু করেন এবং এর তদারকির জন্য ‘দিওয়ান-ই-ইস্তিহক’ নামক একটি নতুন বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রশ্ন ৩৩: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘মুকদ্দাম’ (Muqaddam) কে ছিলেন?

  • a) প্রধান বিচারক
  • b) গ্রামের প্রধান
  • c) সামরিক সেনাপতি
  • d) অর্থ বিভাগের প্রধান

সঠিক উত্তর: b) গ্রামের প্রধান

ব্যাখ্যা: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘মুকদ্দাম’ ছিলেন গ্রামের প্রধান বা গ্রাম প্রধানের পদাধিকারী। তিনি গ্রামের রাজস্ব আদায় এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য দায়ী ছিলেন।

প্রশ্ন ৩৪: ‘তারিখ-ই-ফিরোজশাহী’ (Tarikh-i-Firoz Shahi) গ্রন্থটি কে রচনা করেন?

  • a) আমির খসরু
  • b) ইবন বতুতা
  • c) জিয়াউদ্দিন বারানি
  • d) ইয়াহিয়া বিন আহমদ সিরহিন্দি

সঠিক উত্তর: c) জিয়াউদ্দিন বারানি

ব্যাখ্যা: জিয়াউদ্দিন বারানি ছিলেন একজন বিখ্যাত ঐতিহাসিক এবং মুহাম্মদ বিন তুঘলক ও ফিরোজ শাহ তুঘলকের সমসাময়িক। ‘তারিখ-ই-ফিরোজশাহী’ তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রচনা, যা গিয়াসউদ্দিন বলবন থেকে ফিরোজ শাহ তুঘলকের রাজত্বের একটি বিশদ বিবরণ প্রদান করে।

প্রশ্ন ৩৫: দাস বংশের কোন সুলতান নিজেকে ‘নিয়াবত-ই-খুদাই’ (আল্লাহর প্রতিনিধি) বলে ঘোষণা করেন?

  • a) কুতুবউদ্দিন আইবক
  • b) ইলতুৎমিশ
  • c) গিয়াসউদ্দিন বলবন
  • d) নাসিরউদ্দিন মাহমুদ

সঠিক উত্তর: c) গিয়াসউদ্দিন বলবন

ব্যাখ্যা: গিয়াসউদ্দিন বলবন রাজতন্ত্রের মর্যাদা ও ক্ষমতা সুদৃঢ় করতে চেয়েছিলেন। তিনি নিজেকে ঈশ্বরের প্রতিনিধি (‘নিয়াবত-ই-খুদাই’) এবং ঈশ্বরের ছায়া (‘জিল-ই-ইলাহি’) হিসেবে ঘোষণা করে তার ঐশ্বরিক অধিকারের উপর জোর দেন।

প্রশ্ন ৩৬: বিজয়নগর সাম্রাজ্যে ‘অমরনায়ক’ (Amaranayaka) প্রথা কী ছিল?

  • a) একটি ধর্মীয় উৎসব
  • b) সামরিক কর্মকর্তাদের ভূমি অনুদান ব্যবস্থা
  • c) এক ধরনের বাণিজ্য কর
  • d) গ্রামের বিচার ব্যবস্থা

সঠিক উত্তর: b) সামরিক কর্মকর্তাদের ভূমি অনুদান ব্যবস্থা

ব্যাখ্যা: অমরনায়ক প্রথা ছিল বিজয়নগর সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সামরিক ব্যবস্থা। এই প্রথা অনুসারে, সামরিক প্রধানদের (‘নায়ক’ বা ‘অমরনায়ক’) নির্দিষ্ট পরিমাণ ভূমি অনুদান করা হত, যা থেকে তারা রাজস্ব আদায় করত এবং সামরিক বাহিনী রক্ষণাবেক্ষণ করত। এটি অনেকটা দিল্লির ইকতা ব্যবস্থার অনুরূপ ছিল।

প্রশ্ন ৩৭: কোন বিজয়নগর রাজা ‘গজবেটকারা’ (Gajabetekara) উপাধি গ্রহণ করেন, যার অর্থ “হাতি শিকারী”?

  • a) কৃষ্ণদেব রায়
  • b) দেব রায় প্রথম
  • c) দেব রায় দ্বিতীয়
  • d) অচ্যুতা রায়

সঠিক উত্তর: c) দেব রায় দ্বিতীয়

ব্যাখ্যা: দেব রায় দ্বিতীয় সঙ্গম বংশের একজন উল্লেখযোগ্য শাসক ছিলেন। তিনি ‘গজবেটকারা’ বা “হাতি শিকারী” উপাধি গ্রহণ করেন, যা তার সামরিক সক্ষমতা এবং শক্তিশালী সেনাবাহিনীর প্রতীক ছিল।

প্রশ্ন ৩৮: দিল্লি সুলতানির কোন সুলতান সর্বপ্রথম স্থায়ী সেনাবাহিনী গড়ে তোলেন?

  • a) গিয়াসউদ্দিন বলবন
  • b) আলাউদ্দিন খলজি
  • c) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  • d) ফিরোজ শাহ তুঘলক

সঠিক উত্তর: b) আলাউদ্দিন খলজি

ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজিই প্রথম সুলতান যিনি একটি বিশাল এবং স্থায়ী সেনাবাহিনী গড়ে তোলেন, যা সরাসরি সুলতানের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তিনি সৈন্যদের নগদ বেতন দিতেন এবং তাদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য ‘দাগ’ ও ‘চেহরা’ প্রথা চালু করেন।

প্রশ্ন ৩৯: ‘দিওয়ান-ই-বান্দাগান’ (Diwan-i-Bandagan) নামক দাস বিভাগ কে প্রতিষ্ঠা করেন?

  • a) আলাউদ্দিন খলজি
  • b) গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
  • c) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  • d) ফিরোজ শাহ তুঘলক

সঠিক উত্তর: d) ফিরোজ শাহ তুঘলক

ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলক দাসদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন এবং তাদের কল্যাণের জন্য অনেক কাজ করেছিলেন। তার আমলে বিপুল সংখ্যক দাস ছিল এবং তাদের দেখভালের জন্য তিনি ‘দিওয়ান-ই-বান্দাগান’ নামক একটি পৃথক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রশ্ন ৪০: ইবন বতুতা কোন সুলতানের রাজত্বকালে ভারতে এসেছিলেন?

  • a) আলাউদ্দিন খলজি
  • b) গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
  • c) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  • d) ফিরোজ শাহ তুঘলক

সঠিক উত্তর: c) মুহাম্মদ বিন তুঘলক

ব্যাখ্যা: মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ও পরিব্রাজক ইবন বতুতা মুহাম্মদ বিন তুঘলকের রাজত্বকালে (১৩৩৩ খ্রিস্টাব্দে) ভারতে আসেন এবং প্রায় ১৪ বছর অবস্থান করেন। তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী ‘কিতাব-উর-রাহলা’ তৎকালীন ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবন সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য প্রদান করে।

প্রশ্ন ৪১: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কোন নদী তীরে গড়ে উঠেছিল?

  • a) কাবেরী
  • b) গোদাবরী
  • c) তুঙ্গভদ্রা
  • d) কৃষ্ণা

সঠিক উত্তর: c) তুঙ্গভদ্রা

ব্যাখ্যা: বিজয়নগর সাম্রাজ্য তুঙ্গভদ্রা নদীর দক্ষিণ তীরে গড়ে উঠেছিল, যা সাম্রাজ্যের কৃষি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য ছিল।

প্রশ্ন ৪২: দিল্লি সুলতানি আমলে কৃষকদের থেকে আদায় করা ভূমির রাজস্বকে কী বলা হত?

  • a) জাকাত
  • b) খামস
  • c) খারাজ
  • d) জিজিয়া

সঠিক উত্তর: c) খারাজ

ব্যাখ্যা: ‘খারাজ’ ছিল ইসলামি আইনের অধীনে অমুসলিমদের থেকে আদায় করা ভূমি কর, যা দিল্লি সুলতানি আমলে কৃষকদের থেকে নেওয়া হত। এটি সুলতানদের আয়ের প্রধান উৎস ছিল।

প্রশ্ন ৪৩: ‘কুতুব মিনার’-এর নির্মাণ কাজ কে সম্পন্ন করেন?

  • a) কুতুবউদ্দিন আইবক
  • b) ইলতুৎমিশ
  • c) ফিরোজ শাহ তুঘলক
  • d) আলাউদ্দিন খলজি

সঠিক উত্তর: b) ইলতুৎমিশ

ব্যাখ্যা: কুতুব মিনার-এর নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন কুতুবউদ্দিন আইবক, কিন্তু তিনি শুধুমাত্র এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং প্রথম তলার কাজ সম্পন্ন করতে পারেন। তার মৃত্যুর পর ইলতুৎমিশ মিনারের বাকি অংশ (দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলা) নির্মাণ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীকালে ফিরোজ শাহ তুঘলক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উপরের তলাগুলি সংস্কার করেন।

প্রশ্ন ৪৪: কোন সুলতান উলেমাদের ক্ষমতা খর্ব করার চেষ্টা করেন এবং শরিয়ত আইন প্রয়োগে তাদের প্রভাব কমান?

  • a) ইলতুৎমিশ
  • b) গিয়াসউদ্দিন বলবন
  • c) আলাউদ্দিন খলজি
  • d) ফিরোজ শাহ তুঘলক

সঠিক উত্তর: c) আলাউদ্দিন খলজি

ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি একজন শক্তিশালী ও স্বাধীনচেতা শাসক ছিলেন। তিনি উলেমাদের রাষ্ট্রীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা কমাতে চেয়েছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে শরিয়তের চেয়ে বাস্তবতাকে বেশি গুরুত্ব দেন।

প্রশ্ন ৪৫: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কোন শাসককে ‘অভিনব ভোজ’ (Abhinava Bhoja) উপাধি দেওয়া হয়েছিল?

  • a) হরিহর প্রথম
  • b) বুক্কা প্রথম
  • c) কৃষ্ণদেব রায়
  • d) দেব রায় দ্বিতীয়

সঠিক উত্তর: c) কৃষ্ণদেব রায়

ব্যাখ্যা: কৃষ্ণদেব রায় ছিলেন একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী শাসক। তাঁর সাহিত্য ও শিল্পকলার প্রতি গভীর অনুরাগের জন্য তাঁকে ‘আন্ধ্র ভোজ’ এবং ‘অভিনব ভোজ’ উভয় উপাধি দেওয়া হয়েছিল।

প্রশ্ন ৪৬: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘আমিল’ (Amil) নামক পদাধিকারী কী কাজ করতেন?

  • a) রাজস্ব আদায়কারী
  • b) সামরিক কর্মকর্তা
  • c) বিচারক
  • d) বাজার পরিদর্শক

সঠিক উত্তর: a) রাজস্ব আদায়কারী

ব্যাখ্যা: ‘আমিল’ বা ‘আমিলদার’ ছিলেন সুলতানি আমলের একজন গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় রাজস্ব কর্মকর্তা। তার প্রধান কাজ ছিল কৃষকদের কাছ থেকে ভূমি রাজস্ব আদায় করা।

প্রশ্ন ৪৭: কোন সুলতান ‘কৃষি ঋণ’ (Taqavi loans) প্রবর্তন করেন?

  • a) আলাউদ্দিন খলজি
  • b) গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
  • c) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  • d) ফিরোজ শাহ তুঘলক

সঠিক উত্তর: c) মুহাম্মদ বিন তুঘলক

ব্যাখ্যা: মুহাম্মদ বিন তুঘলক কৃষি উন্নতির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন। এর মধ্যে একটি ছিল কৃষকদের ‘তাকাভি ঋণ’ প্রদান করা, যা তাদের কৃষি সরঞ্জাম কেনা এবং চাষাবাদে সহায়তা করত।

প্রশ্ন ৪৮: বিজয়নগরের ‘মহাম নবমী ডিব্বা’ (Mahanavami Dibba) কী ছিল?

  • a) একটি বিশাল মন্দির
  • b) একটি প্রশাসনিক ভবন
  • c) রাজকীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে উৎসব অনুষ্ঠিত হত
  • d) একটি সামরিক দুর্গ

সঠিক উত্তর: c) রাজকীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে উৎসব অনুষ্ঠিত হত

ব্যাখ্যা: মহাম নবমী ডিব্বা ছিল বিজয়নগর সাম্রাজ্যের একটি বিশাল রাজকীয় প্ল্যাটফর্ম, যেখানে প্রতি বছর মহাম নবমী উৎসব (বর্তমানে দশেরা) মহা ধুমধামের সাথে পালিত হত। এখান থেকে রাজা সামরিক কুচকাওয়াজ এবং অন্যান্য অনুষ্ঠান দেখতেন।

প্রশ্ন ৪৯: দাস বংশের কোন সুলতান বাগদাদের খলিফার কাছ থেকে ‘মনসুর’ (Mansur) লাভ করেন?

  • a) কুতুবউদ্দিন আইবক
  • b) ইলতুৎমিশ
  • c) গিয়াসউদ্দিন বলবন
  • d) নাসিরউদ্দিন মাহমুদ

সঠিক উত্তর: b) ইলতুৎমিশ

ব্যাখ্যা: ইলতুৎমিশ ১২২৯ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফার কাছ থেকে ‘মনসুর’ বা বিনিয়োগের একটি প্রতীকী পোশাক লাভ করেন। এটি ভারতে তার সুলতানি শাসনের বৈধতা প্রদান করে এবং তাকে দিল্লি সুলতানির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে চিহ্নিত করে।

প্রশ্ন ৫০: ‘তালাইকোটার যুদ্ধ’-এর সময় বিজয়নগর সাম্রাজ্যের শাসক কে ছিলেন?

  • a) কৃষ্ণদেব রায়
  • b) অচ্যুতা রায়
  • c) সদাশিব রায়
  • d) তিরুমল দেব রায়

সঠিক উত্তর: c) সদাশিব রায়

ব্যাখ্যা: তালাইকোটার যুদ্ধের সময় (১৫৬৫ খ্রিস্টাব্দ) বিজয়নগর সাম্রাজ্যের প্রকৃত শাসক ছিলেন সদাশিব রায়, যদিও তার ক্ষমতা অনেকটাই তার মন্ত্রী রামরায়ের হাতে ছিল। রামরায়ই দাক্ষিণাত্যের সুলতানদের জোটের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

প্রশ্ন ৫১: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘খামস’ (Khams) কী ছিল?

  • a) আমদানি শুল্ক
  • b) যুদ্ধলব্ধ দ্রব্যের ভাগ
  • c) সেচ কর
  • d) বাণিজ্য কর

সঠিক উত্তর: b) যুদ্ধলব্ধ দ্রব্যের ভাগ

ব্যাখ্যা: ‘খামস’ ছিল যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বা লুঠের একটি অংশ, যা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা পড়ত। ইসলামি আইন অনুযায়ী, এর এক-পঞ্চমাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা পড়ত এবং বাকি চার-পঞ্চমাংশ সৈন্যদের মধ্যে বিতরণ করা হত। যদিও আলাউদ্দিন খলজি এবং মুহাম্মদ বিন তুঘলক এই অনুপাত পরিবর্তন করেছিলেন।

প্রশ্ন ৫২: ফিরোজ শাহ তুঘলকের নির্মিত বিখ্যাত শহরের মধ্যে কোনটি ছিল?

  • a) আগ্রা
  • b) ফিরোজাবাদ
  • c) জৌনপুর
  • d) ফতেহপুর সিক্রি

সঠিক উত্তর: b) ফিরোজাবাদ

ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলক বহু নতুন শহর নির্মাণ করেন, যার মধ্যে ফিরোজাবাদ (বর্তমান দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা এলাকা), জৌনপুর, হিসার ফিরোজা এবং ফতেহাবাদ উল্লেখযোগ্য। (নোট: জৌনপুরও সঠিক, তবে ফিরোজাবাদ তার নিজের নামে ছিল)

প্রশ্ন ৫৩: কোন তুঘলক সুলতান টোকেন মুদ্রা (Token Currency) চালু করেন?

  • a) গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
  • b) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  • c) ফিরোজ শাহ তুঘলক
  • d) নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ তুঘলক

সঠিক উত্তর: b) মুহাম্মদ বিন তুঘলক

ব্যাখ্যা: মুহাম্মদ বিন তুঘলক ১৩৩০-৩৩ খ্রিস্টাব্দে প্রতীকী তামার মুদ্রা চালু করেন। এটি ছিল তাঁর অন্যতম বিতর্কিত ও ব্যর্থ অর্থনৈতিক পরীক্ষা, যা শেষ পর্যন্ত মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

প্রশ্ন ৫৪: আলাউদ্দিন খলজির সেনাপতি, যিনি দাক্ষিণাত্য অভিযান পরিচালনা করেন, তার নাম কী?

  • a) উলুগ খান
  • b) নুসরাত খান
  • c) মালিক কাফুর
  • d) আলপ খান

সঠিক উত্তর: c) মালিক কাফুর

ব্যাখ্যা: মালিক কাফুর ছিলেন আলাউদ্দিন খলজির বিশ্বস্ত ও অত্যন্ত দক্ষ সেনাপতি। তিনি আলাউদ্দিনের নির্দেশে দাক্ষিণাত্যের বিভিন্ন রাজ্যে (যেমন দেবগিরি, ওয়ারাঙ্গল, দ্বারসমুদ্র এবং মাদুরাই) সফল সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন।

প্রশ্ন ৫৫: বিজয়নগর সাম্রাজ্যে ‘অম্বল-ই-মহারাণী’ (Ambal-i-Maharani) কী ছিল?

  • a) রানীর পোশাক
  • b) একটি নির্দিষ্ট মন্দির
  • c) রানীর রাজস্বের উৎস
  • d) একটি প্রশাসনিক পদ

সঠিক উত্তর: c) রানীর রাজস্বের উৎস

ব্যাখ্যা: বিজয়নগর সাম্রাজ্যে ‘অম্বল-ই-মহারাণী’ ছিল রানীর ব্যক্তিগত রাজস্বের উৎস। এটি ইঙ্গিত করে যে, রাজপরিবারের নারীদেরও অর্থনৈতিক ক্ষমতা ছিল।

প্রশ্ন ৫৬: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘দিওয়ান-ই-কাজা’ (Diwan-i-Qaza) কোন বিভাগের সাথে সম্পর্কিত ছিল?

  • a) সামরিক বিভাগ
  • b) বিচার বিভাগ
  • c) অর্থ বিভাগ
  • d) দাতব্য বিভাগ

সঠিক উত্তর: b) বিচার বিভাগ

ব্যাখ্যা: ‘দিওয়ান-ই-কাজা’ ছিল সুলতানি আমলের বিচার বিভাগ। এর প্রধান ছিলেন ‘কাজী-উল-কুজ্জাত’ (Qazi-ul-Quzzat), যিনি প্রধান বিচারক হিসেবে কাজ করতেন।

প্রশ্ন ৫৭: গিয়াসউদ্দিন বলবন কত সালে সিংহাসনে আরোহণ করেন?

  • a) ১২০৬
  • b) ১২৩৬
  • c) ১২৬৬
  • d) ১২৯০

সঠিক উত্তর: c) ১২৬৬

ব্যাখ্যা: গিয়াসউদ্দিন বলবন ১২৬৬ খ্রিস্টাব্দে নাসিরউদ্দিন মাহমুদের মৃত্যুর পর দিল্লির সুলতান হিসেবে সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি একজন শক্তিশালী শাসক ছিলেন এবং দাস বংশের ক্ষমতাকে সুদৃঢ় করেন।

প্রশ্ন ৫৮: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘জিজিয়া’ (Jizya) কী ছিল?

  • a) মুসলিমদের উপর ধার্য কর
  • b) অমুসলিমদের উপর ধার্য ধর্মীয় কর
  • c) বাণিজ্য কর
  • d) সম্পত্তির কর

সঠিক উত্তর: b) অমুসলিমদের উপর ধার্য ধর্মীয় কর

ব্যাখ্যা: ‘জিজিয়া’ ছিল অমুসলিম নাগরিকদের উপর ধার্য একটি মাথাপিছু কর, যা তাদের মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাস করার অধিকার এবং সামরিক পরিষেবা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার বিনিময়ে দিতে হত।

প্রশ্ন ৫৯: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কোন রাজবংশ স্বল্প সময়ের জন্য রাজত্ব করেছিল?

  • a) সঙ্গম বংশ
  • b) সালুভ বংশ
  • c) তুলুভ বংশ
  • d) আরাভিদু বংশ

সঠিক উত্তর: b) সালুভ বংশ

ব্যাখ্যা: সালুভ বংশ ছিল বিজয়নগর সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় রাজবংশ, যা সঙ্গম বংশের পতনের পর মাত্র ২০ বছর (১৪৮৫-১৫০৫ খ্রিস্টাব্দ) রাজত্ব করেছিল। এটি ছিল একটি সামরিক অভ্যুত্থানের ফল।

প্রশ্ন ৬০: কোন সুলতান ‘লোহা ও রক্ত’ নীতি প্রয়োগ করে চোর, ডাকাত ও বিদ্রোহ দমনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন?

  • a) ইলতুৎমিশ
  • b) গিয়াসউদ্দিন বলবন
  • c) আলাউদ্দিন খলজি
  • d) ফিরোজ শাহ তুঘলক

সঠিক উত্তর: b) গিয়াসউদ্দিন বলবন

ব্যাখ্যা: গিয়াসউদ্দিন বলবন তার ক্ষমতা সুদৃঢ় করতে এবং সাম্রাজ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ‘রক্ত ও লৌহ নীতি’ গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে তিনি বিদ্রোহ দমন, মঙ্গোল আক্রমণ প্রতিরোধ এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেন।

প্রশ্ন ৬১: মুহাম্মদ ঘোরীর মৃত্যুর পর কে নিজেকে ‘মালিক’ এবং ‘সিপাহসালার’ উপাধিতে সন্তুষ্ট রাখেন এবং সুলতানি উপাধি গ্রহণ করেননি?

  • a) ইলতুৎমিশ
  • b) কুতুবউদ্দিন আইবক
  • c) নাসিরউদ্দিন মাহমুদ
  • d) গিয়াসউদ্দিন বলবন

সঠিক উত্তর: b) কুতুবউদ্দিন আইবক

ব্যাখ্যা: কুতুবউদ্দিন আইবক ছিলেন মুহাম্মদ ঘোরীর বিশ্বস্ত সেনাপতি। ঘোরীর মৃত্যুর পর তিনি স্বাধীনভাবে শাসন করলেও, আনুগত্যের নিদর্শন হিসেবে নিজেকে ‘মালিক’ (Master) এবং ‘সিপাহসালার’ (Commander-in-chief) উপাধিতেই সীমাবদ্ধ রাখেন। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সুলতান হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করেননি।

প্রশ্ন ৬২: আলাউদ্দিন খলজি কর্তৃক চালু করা ‘বাজার নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?

  • a) জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি
  • b) নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা
  • c) সামরিক ব্যয়ভার কমানো এবং শক্তিশালী সেনাবাহিনী রক্ষণাবেক্ষণ
  • d) বণিকদের একচেটিয়া ব্যবসা রোধ করা

সঠিক উত্তর: c) সামরিক ব্যয়ভার কমানো এবং শক্তিশালী সেনাবাহিনী রক্ষণাবেক্ষণ

ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজির বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য ছিল তার বিশাল সেনাবাহিনীকে কম খরচে পরিচালনা করা। সৈন্যদের জন্য নির্দিষ্ট ও নিম্নমূল্যে খাদ্যশস্য এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে তিনি সামরিক ব্যয়ভার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হন।

প্রশ্ন ৬৩: কোন সুলতান একটি নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থা ‘খুত’ (Khut) এবং ‘চৌধুরী’ (Chaudhary) নামক স্থানীয় জমিদারদের ক্ষমতা পুনর্বহাল করেন?

  • a) আলাউদ্দিন খলজি
  • b) গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
  • c) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  • d) ফিরোজ শাহ তুঘলক

সঠিক উত্তর: b) গিয়াসউদ্দিন তুঘলক

ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি ‘খুত’ (গ্রামের প্রধান) এবং ‘চৌধুরী’ (রাজস্ব সংগ্রাহক) দের ক্ষমতা এবং সুযোগ-সুবিধা হ্রাস করেছিলেন। তবে গিয়াসউদ্দিন তুঘলক ক্ষমতায় এসে তাদের ক্ষমতা পুনর্বহাল করেন এবং রাজস্ব আদায়ে তাদের গুরুত্ব স্বীকার করেন।

প্রশ্ন ৬৪: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কোন রাজা ‘আমুত্যমাল্যদ’ (Amuktamalyada) নামক তেলুগু মহাকাব্য রচনা করেন?

  • a) হরিহর প্রথম
  • b) বুক্কা প্রথম
  • c) কৃষ্ণদেব রায়
  • d) দেব রায় দ্বিতীয়

সঠিক উত্তর: c) কৃষ্ণদেব রায়

ব্যাখ্যা: কৃষ্ণদেব রায় শুধুমাত্র একজন মহান যোদ্ধা এবং শাসক ছিলেন না, তিনি একজন বিদ্বান ব্যক্তি এবং সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকও ছিলেন। তিনি নিজেই তেলুগু ভাষায় ‘আমুত্যমাল্যদ’ নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাকাব্য রচনা করেন, যা তার সাহিত্যিক প্রতিভার প্রমাণ।

প্রশ্ন ৬৫: ‘তারিখ-ই-মুবারকশাহী’ (Tarikh-i-Mubarak Shahi) গ্রন্থটি কে রচনা করেন?

  • a) জিয়াউদ্দিন বারানি
  • b) আমির খসরু
  • c) ইয়াহিয়া বিন আহমদ সিরহিন্দি
  • d) শামস-ই-সিরাজ আফিফ

সঠিক উত্তর: c) ইয়াহিয়া বিন আহমদ সিরহিন্দি

ব্যাখ্যা: ইয়াহিয়া বিন আহমদ সিরহিন্দি ছিলেন সৈয়দ বংশের সুলতান মুবারক শাহের সমসাময়িক। তার ‘তারিখ-ই-মুবারকশাহী’ গ্রন্থটি মুহাম্মদ ঘোরী থেকে সৈয়দ বংশের রাজত্বকাল পর্যন্ত দিল্লি সুলতানির একটি ধারাবাহিক ইতিহাস প্রদান করে।

প্রশ্ন ৬৬: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘দিওয়ান-ই-আর্জ’ (Diwan-i-Arz) কোন বিভাগের সাথে সম্পর্কিত ছিল?

  • a) রাজস্ব বিভাগ
  • b) সামরিক বিভাগ
  • c) বিচার বিভাগ
  • d) ধর্মীয় বিষয় বিভাগ

সঠিক উত্তর: b) সামরিক বিভাগ

ব্যাখ্যা: ‘দিওয়ান-ই-আর্জ’ ছিল দিল্লি সুলতানির সামরিক বিভাগ। এই বিভাগের প্রধানকে ‘আরিজ-ই-মামালিক’ বলা হত, যিনি সৈন্য নিয়োগ, বেতন প্রদান, এবং সামরিক বাহিনীর দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন।

প্রশ্ন ৬৭: মুহাম্মদ বিন তুঘলকের কোন পরীক্ষাটি ‘প্রতীকী মুদ্রা’ (Token Currency) নামে পরিচিত ছিল?

  • a) খোরাসান অভিযান
  • b) দোয়াব অঞ্চলে কর বৃদ্ধি
  • c) রাজধানী স্থানান্তর
  • d) তামা ও ব্রোঞ্জের মুদ্রা প্রচলন

সঠিক উত্তর: d) তামা ও ব্রোঞ্জের মুদ্রা প্রচলন

ব্যাখ্যা: মুহাম্মদ বিন তুঘলকের সবচেয়ে সাহসী এবং ব্যর্থ পরীক্ষাগুলির মধ্যে একটি ছিল প্রতীকী মুদ্রা প্রচলন। তিনি সোনা ও রূপার মুদ্রার পরিবর্তে তামা ও ব্রোঞ্জের তৈরি প্রতীকী মুদ্রা চালু করেন, যার মূল্য সোনা ও রূপার মুদ্রার সমান ছিল। তবে জাল মুদ্রার ব্যাপক প্রচলনের কারণে এই পরীক্ষা বিপর্যয়কর প্রমাণিত হয়।

প্রশ্ন ৬৮: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কোন বংশকে ‘দ্বিতীয় সাম্রাজ্য নির্মাতা’ বলা হয়?

  • a) সঙ্গম বংশ
  • b) সালুভ বংশ
  • c) তুলুভ বংশ
  • d) আরাভিদু বংশ

সঠিক উত্তর: d) আরাভিদু বংশ

ব্যাখ্যা: তালাইকোটার যুদ্ধের পর বিজয়নগর সাম্রাজ্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আরাভিদু বংশের রাজারা, বিশেষত তিরুমল দেব রায়, সাম্রাজ্যকে পুনর্গঠিত করার চেষ্টা করেন এবং অনেক ঐতিহাসিক এই কারণে তাদের ‘দ্বিতীয় সাম্রাজ্য নির্মাতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রশ্ন ৬৯: কোন সুলতান মঙ্গোল আক্রমণ থেকে দিল্লিকে রক্ষা করার জন্য ‘সিড়ি দুর্গ’ (Siri Fort) নির্মাণ করেন?

  • a) কুতুবউদ্দিন আইবক
  • b) ইলতুৎমিশ
  • c) আলাউদ্দিন খলজি
  • d) গিয়াসউদ্দিন তুঘলক

সঠিক উত্তর: c) আলাউদ্দিন খলজি

ব্যাখ্যা: মঙ্গোল আক্রমণের তীব্রতা মোকাবিলায় আলাউদ্দিন খলজি দিল্লির বাইরে একটি নতুন দুর্গ, ‘সিড়ি দুর্গ’ নির্মাণ করেন। এই দুর্গটি সৈন্যদের আবাসস্থল এবং প্রতিরক্ষার জন্য ব্যবহৃত হত।

প্রশ্ন ৭০: ‘ফুতুহ-উস-সালাতিন’ (Futuh-us-Salatin) গ্রন্থটি কে রচনা করেন?

  • a) ইবন বতুতা
  • b) ইসামি
  • c) জিয়াউদ্দিন বারানি
  • d) আমির খসরু

সঠিক উত্তর: b) ইসামি

ব্যাখ্যা: ইসামি ছিলেন একজন ঐতিহাসিক যিনি বাহমনি সাম্রাজ্যের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন। তাঁর ‘ফুতুহ-উস-সালাতিন’ (কিংবদন্তি সুলতানদের জয়) গ্রন্থটি গজনীর মাহমুদ থেকে মুহাম্মদ বিন তুঘলকের রাজত্বকাল পর্যন্ত ভারতীয় মুসলিম শাসকদের একটি কাব্যিক ইতিহাস।

প্রশ্ন ৭১: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘শিহনা-ই-মান্ডি’ (Shihna-i-Mandi) কে ছিলেন?

  • a) সেনাপ্রধান
  • b) বাজার পরিদর্শক
  • c) বিচারক
  • d) প্রাদেশিক গভর্নর

সঠিক উত্তর: b) বাজার পরিদর্শক

ব্যাখ্যা: ‘শিহনা-ই-মান্ডি’ ছিলেন আলাউদ্দিন খলজির বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। তার প্রধান কাজ ছিল বাজারের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা, পরিমাপ ও ওজন সঠিকভাবে আছে কিনা তা নিশ্চিত করা এবং কালোবাজারি ও মজুদদারি রোধ করা।

প্রশ্ন ৭২: কোন সুলতান ‘দিওয়ান-ই-বুকোফ’ (Diwan-i-Waqoof) নামক একটি নতুন বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন?

  • a) আলাউদ্দিন খলজি
  • b) ফিরোজ শাহ তুঘলক
  • c) জালালউদ্দিন খলজি
  • d) মুহাম্মদ বিন তুঘলক

সঠিক উত্তর: c) জালালউদ্দিন খলজি

ব্যাখ্যা: জালালউদ্দিন খলজি ছিলেন খলজি বংশের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ‘দিওয়ান-ই-বুকোফ’ নামক একটি নতুন বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন, যার কাজ ছিল আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা করা এবং ব্যয়ের বিশদ বিবরণ রাখা।

প্রশ্ন ৭৩: বিজয়নগর সাম্রাজ্যে বিদেশী পর্যটকদের মধ্যে কে পারস্য থেকে এসেছিলেন?

  • a) নিকোলো কন্টি
  • b) আব্দুর রাজ্জাক
  • c) ডোমিঙ্গো পেস
  • d) বারবোসা

সঠিক উত্তর: b) আব্দুর রাজ্জাক

ব্যাখ্যা: আব্দুর রাজ্জাক ছিলেন পারস্যের একজন দূত, যিনি দেব রায় দ্বিতীয়ের রাজত্বকালে বিজয়নগর সাম্রাজ্য ভ্রমণ করেন। তাঁর ভ্রমণ বিবরণী তৎকালীন বিজয়নগরের সম্পদ ও সংস্কৃতির মূল্যবান বর্ণনা প্রদান করে।

প্রশ্ন ৭৪: ‘কুতুব মিনার’ কোন সূফী সাধকের স্মৃতিতে নির্মিত হয়েছিল?

  • a) খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী
  • b) শেখ নিজামুদ্দিন আউলিয়া
  • c) কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকি
  • d) বাবা ফরিদ

সঠিক উত্তর: c) কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকি

ব্যাখ্যা: কুতুব মিনারটি বিখ্যাত সূফী সাধক কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকির স্মৃতিতে নির্মিত হয়েছিল। কুতুবউদ্দিন আইবক তার নামেই মিনারটির নামকরণ করেন।

প্রশ্ন ৭৫: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘সর-ই-জান্দার’ (Sar-i-Jandar) কে ছিলেন?

  • a) রাজকীয় দেহরক্ষী বাহিনীর প্রধান
  • b) অশ্বারোহী বাহিনীর প্রধান
  • c) নৌবাহিনীর প্রধান
  • d) গুপ্তচর বিভাগের প্রধান

সঠিক উত্তর: a) রাজকীয় দেহরক্ষী বাহিনীর প্রধান

ব্যাখ্যা: ‘সর-ই-জান্দার’ ছিলেন সুলতানের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী বাহিনীর প্রধান এবং সুলতানের অত্যন্ত বিশ্বস্ত একজন কর্মকর্তা।

প্রশ্ন ৭৬: গিয়াসউদ্দিন বলবন কর্তৃক চালু করা ‘সিজদা’ (Sijda) এবং ‘পাবোস’ (Paibos) প্রথা কীসের প্রতীক ছিল?

  • a) জনগণের প্রতি আনুগত্য
  • b) সুলতানের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ও ঐশ্বরিক মর্যাদা
  • c) ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান
  • d) সাংস্কৃতিক বিনিময়

সঠিক উত্তর: b) সুলতানের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ও ঐশ্বরিক মর্যাদা

ব্যাখ্যা: বলবন রাজতন্ত্রের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে চেয়েছিলেন। তিনি ‘সিজদা’ (ভূমিষ্ঠ হয়ে সুলতানকে সেলাম) এবং ‘পাবোস’ (সুলতানের পা চুম্বন) প্রথা চালু করেন, যা সুলতানের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা এবং তাঁর ঐশ্বরিক মর্যাদার প্রতীক ছিল।

প্রশ্ন ৭৭: কোন বিজয়নগর রাজা বাহমনি সালতানাতকে বিভক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন?

  • a) হরিহর প্রথম
  • b) বুক্কা প্রথম
  • c) কৃষ্ণদেব রায়
  • d) দেব রায় প্রথম

সঠিক উত্তর: c) কৃষ্ণদেব রায়

ব্যাখ্যা: কৃষ্ণদেব রায় বাহমনি সালতানাতের উপর সফলভাবে চাপ সৃষ্টি করেন এবং শেষ পর্যন্ত এটিকে পাঁচটি পৃথক সুলতানাতে (বিজাপুর, গোলকুন্ডা, আহমদনগর, বেরার এবং বিদার) বিভক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

প্রশ্ন ৭৮: মুহাম্মদ বিন তুঘলকের কোন অভিযানকে ‘কারাচিল অভিযান’ (Qarachil Expedition) বলা হয়?

  • a) চীন অভিযান
  • b) খুরাসান অভিযান
  • c) হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে সামরিক অভিযান
  • d) দাক্ষিণাত্য অভিযান

সঠিক উত্তর: c) হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে সামরিক অভিযান

ব্যাখ্যা: মুহাম্মদ বিন তুঘলক হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে (বর্তমান হিমাচল প্রদেশের কাংড়া অঞ্চল) ‘কারাচিল অভিযান’ পরিচালনা করেন। এই অভিযানটি বিপর্যয়কর প্রমাণিত হয় এবং সুলতানের সামরিক ক্ষমতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

প্রশ্ন ৭৯: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘মুনহিয়ান’ (Munhiyan) কারা ছিল?

  • a) দূত
  • b) গুপ্তচর
  • c) কর সংগ্রাহক
  • d) বিচারক

সঠিক উত্তর: b) গুপ্তচর

ব্যাখ্যা: ‘মুনহিয়ান’ ছিল সুলতানি আমলের গুপ্তচর ব্যবস্থা। সুলতানরা বিভিন্ন স্থান থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং বিদ্রোহ দমনের জন্য এই গুপ্তচরদের ব্যবহার করতেন। গিয়াসউদ্দিন বলবন এই ব্যবস্থাটিকে অত্যন্ত কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছিলেন।

প্রশ্ন ৮০: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কোন শহরকে ‘গঙ্গা নদীর দক্ষিণ তীরের কাশি’ বলা হত?

  • a) হাম্পি
  • b) শ্রী রঙ্গম
  • c) কান্নুর
  • d) শ্রীরঙ্গপত্তনম

সঠিক উত্তর: b) শ্রী রঙ্গম

ব্যাখ্যা: শ্রী রঙ্গম ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র, যা বিজয়নগর সাম্রাজ্যে ‘দক্ষিণ ভারতের কাশি’ নামে পরিচিত ছিল। এটি কাবেরী নদীর তীরে অবস্থিত একটি বিখ্যাত বৈষ্ণব তীর্থস্থান।

প্রশ্ন ৮১: আলাউদ্দিন খলজি তার রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবে, ‘মুস্তখরজ’ (Mustakharaj) নামক পদটি কে তৈরি করেন?

  • a) কর ফাঁকি রোধকারী কর্মকর্তা
  • b) সামরিক বাহিনীর প্রধান
  • c) বাজার নিয়ন্ত্রক
  • d) বিচারক

সঠিক উত্তর: a) কর ফাঁকি রোধকারী কর্মকর্তা

ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি রাজস্ব ব্যবস্থার দুর্নীতি ও অপচয় রোধ করার জন্য ‘মুস্তখরজ’ নামক একটি নতুন পদ তৈরি করেন। এই কর্মকর্তার প্রধান কাজ ছিল রাজস্ব আদায়ে ত্রুটি এবং কর ফাঁকি খুঁজে বের করে তা আদায় করা।

প্রশ্ন ৮২: কোন সুলতান ‘হক-ই-শিরব’ (Haq-i-Shirb) নামে একটি নতুন সেচ কর চালু করেন?

  • a) আলাউদ্দিন খলজি
  • b) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  • c) ফিরোজ শাহ তুঘলক
  • d) গিয়াসউদ্দিন তুঘলক

সঠিক উত্তর: c) ফিরোজ শাহ তুঘলক

ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলক ছিলেন একজন জনকল্যাণমূলক শাসক যিনি সেচ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করেন। তিনি নতুন খাল খনন করে কৃষকদের জন্য সেচ সুবিধা প্রদান করেন এবং এর বিনিময়ে ‘হক-ই-শিরব’ বা সেচ কর আরোপ করেন।

প্রশ্ন ৮৩: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের ‘বিঠ্ঠল স্বামী মন্দির’ (Vittala Swami Temple) কোন দেবতার উৎসর্গীকৃত?

  • a) শিব
  • b) বিষ্ণু
  • c) ব্রহ্মা
  • d) গণেশ

সঠিক উত্তর: b) বিষ্ণু

ব্যাখ্যা: হাম্পিতে অবস্থিত বিঠ্ঠল স্বামী মন্দিরটি ভগবান বিষ্ণুর একটি অবতার বিঠ্ঠলকে উৎসর্গীকৃত। এটি বিজয়নগর স্থাপত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন, যেখানে সঙ্গীত স্তম্ভ এবং পাথরের রথ দেখা যায়।

প্রশ্ন ৮৪: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘দিওয়ান-ই-রিসালত’ (Diwan-i-Risalat) কোন বিভাগের সাথে সম্পর্কিত ছিল?

  • a) অর্থ বিভাগ
  • b) সামরিক বিভাগ
  • c) পররাষ্ট্র ও ধর্মীয় বিষয় বিভাগ
  • d) চিঠিপত্র বিভাগ

সঠিক উত্তর: c) পররাষ্ট্র ও ধর্মীয় বিষয় বিভাগ

ব্যাখ্যা: ‘দিওয়ান-ই-রিসালত’ ছিল সুলতানি আমলে পররাষ্ট্র বিষয়ক এবং ধর্মীয় অনুদান সংক্রান্ত কার্যাবলীর জন্য দায়ী একটি বিভাগ। এর প্রধানকে ‘সদর-উস-সুদুর’ বলা হত।

প্রশ্ন ৮৫: কোন সুলতান ‘ইকতা’ ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার চেষ্টা করেন এবং জমিকে সরাসরি রাজকীয় নিয়ন্ত্রণে আনেন?

  • a) ইলতুৎমিশ
  • b) গিয়াসউদ্দিন বলবন
  • c) আলাউদ্দিন খলজি
  • d) ফিরোজ শাহ তুঘলক

সঠিক উত্তর: c) আলাউদ্দিন খলজি

ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি তার শক্তিশালী সেনাবাহিনী বজায় রাখতে এবং অভিজাতদের ক্ষমতা কমাতে ইকতা ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি ইকতাদারিদের কাছ থেকে জমি ফিরিয়ে নিয়ে তা সরাসরি রাজকীয় প্রশাসনের অধীনে নিয়ে আসেন এবং সৈন্যদের নগদ বেতন দিতে শুরু করেন। তবে এটি স্থায়ীভাবে বিলুপ্ত হয়নি।

প্রশ্ন ৮৬: মুহাম্মদ বিন তুঘলক তার রাজধানী দিল্লি থেকে দেবগিরিতে স্থানান্তরের কারণ কী ছিল?

  • a) উন্নত জলবায়ু
  • b) মঙ্গোল আক্রমণ থেকে রক্ষা
  • c) দক্ষিণ ভারতের উপর নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি
  • d) উপরোক্ত সবকটি

সঠিক উত্তর: d) উপরোক্ত সবকটি

ব্যাখ্যা: মুহাম্মদ বিন তুঘলকের দেবগিরিতে রাজধানী স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের পিছনে একাধিক কারণ ছিল। তিনি দক্ষিণ ভারতের উপর আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করতে চেয়েছিলেন, দিল্লিকে মঙ্গোল আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে চেয়েছিলেন এবং একটি কেন্দ্রীয় ভৌগোলিক অবস্থান থেকে সাম্রাজ্য পরিচালনা করতে চেয়েছিলেন।

প্রশ্ন ৮৭: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কোন রাজা ‘আंध्रপিতামহ’ (Andhrapitamaha) নামে পরিচিত ছিলেন?

  • a) দেব রায় প্রথম
  • b) কৃষ্ণদেব রায়
  • c) দেব রায় দ্বিতীয়
  • d) অচ্যুতা রায়

সঠিক উত্তর: b) কৃষ্ণদেব রায়

ব্যাখ্যা: কৃষ্ণদেব রায়কে ‘আন্ধ্রপিতামহ’ (তেলুগু সাহিত্য ও সংস্কৃতির জনক) বলা হয়, কারণ তার রাজত্বকালে তেলুগু সাহিত্য ও সংস্কৃতি অভূতপূর্ব বিকাশ লাভ করে।

প্রশ্ন ৮৮: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘মাজলিস-ই-খাস’ (Majlis-i-Khas) কী ছিল?

  • a) সুলতানের ব্যক্তিগত পরিষদ
  • b) প্রধান দরবার হল
  • c) সামরিক সভা
  • d) বিচারিক আদালত

সঠিক উত্তর: a) সুলতানের ব্যক্তিগত পরিষদ

ব্যাখ্যা: ‘মাজলিস-ই-খাস’ ছিল সুলতানের ব্যক্তিগত উপদেষ্টা পরিষদ। এখানে সুলতান তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বিষয়ে আলোচনা করতেন।

প্রশ্ন ৮৯: কোন সুলতান উলেমাদের দ্বারা অনুমোদিত চারটি প্রধান করের (খারাজ, খামস, জিজিয়া, জাকাত) উপর গুরুত্ব আরোপ করেন?

  • a) আলাউদ্দিন খলজি
  • b) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  • c) ফিরোজ শাহ তুঘলক
  • d) গিয়াসউদ্দিন তুঘলক

সঠিক উত্তর: c) ফিরোজ শাহ তুঘলক

ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলক একজন গোঁড়া মুসলমান শাসক ছিলেন। তিনি ইসলামিক আইন (শরিয়ত) অনুযায়ী শাসন করতে চেয়েছিলেন এবং তাই চারটি প্রধান কর (খারাজ – ভূমি কর, খামস – যুদ্ধলব্ধ সম্পদ, জিজিয়া – অমুসলিমদের উপর ধার্য, জাকাত – মুসলিমদের উপর ধার্য ধর্মীয় কর) ছাড়া অন্য কোন কর আদায় নিষিদ্ধ করেন।

প্রশ্ন ৯০: দাস বংশের কোন সুলতান পোলো (চৌগান) খেলতে গিয়ে মারা যান?

  • a) কুতুবউদ্দিন আইবক
  • b) ইলতুৎমিশ
  • c) নাসিরউদ্দিন মাহমুদ
  • d) গিয়াসউদ্দিন বলবন

সঠিক উত্তর: a) কুতুবউদ্দিন আইবক

ব্যাখ্যা: কুতুবউদ্দিন আইবক ১২১০ খ্রিস্টাব্দে লাহোরে পোলো (চৌগান) খেলতে গিয়ে ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে মারা যান।

প্রশ্ন ৯১: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের পতনের পর ‘আরাভিদু বংশ’ তাদের রাজধানী কোথায় স্থানান্তরিত করে?

  • a) হাম্পি
  • b) পেনুকোন্ডা
  • c) শ্রীরঙ্গপত্তনম
  • d) চন্দ্রগিরি

সঠিক উত্তর: b) পেনুকোন্ডা

ব্যাখ্যা: তালাইকোটার যুদ্ধের পর হাম্পির ব্যাপক ক্ষতি হয়। আরাভিদু বংশের রাজারা বিজয়নগর সাম্রাজ্যের অবশিষ্টাংশ পুনর্গঠিত করার জন্য পেনুকোন্ডাকে তাদের নতুন রাজধানী হিসেবে স্থাপন করেন।

প্রশ্ন ৯২: আলাউদ্দিন খলজির রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবে, কোন জমিগুলোকে সরাসরি সরকারের অধীনে আনা হয়?

  • a) ইকতা জমি
  • b) ওয়াকফ জমি (ধর্মীয় দান)
  • c) মিল্ক জমি (ব্যক্তিগত দান)
  • d) উপরোক্ত সবকটি

সঠিক উত্তর: d) উপরোক্ত সবকটি

ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি রাষ্ট্রীয় আয় বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন। তিনি ইকতা, ওয়াকফ এবং মিল্ক – এই তিন ধরনের জমিকে সরাসরি খালসা (সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন) ভূমিতে রূপান্তরিত করেন, যার ফলে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব বৃদ্ধি পায়।

প্রশ্ন ৯৩: ‘দাগ’ এবং ‘চেহরা’ প্রথার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?

  • a) দুর্নীতি দমন
  • b) সামরিক দক্ষতা বৃদ্ধি
  • c) সৈন্যদের ব্যক্তিগত পরিচয় নিশ্চিত করা
  • d) উপরোক্ত সবকটি

সঠিক উত্তর: d) উপরোক্ত সবকটি

ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি কর্তৃক চালু করা ‘দাগ’ (ঘোড়ার গায়ে চিহ্ন) এবং ‘চেহরা’ (সৈন্যদের বিবরণ) প্রথার মাধ্যমে সামরিক দুর্নীতি (যেমন ঘোড়া পরিবর্তন বা ভুয়া সৈন্য দেখানো) দমন করা, সামরিক বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং সৈন্যদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছিল।

প্রশ্ন ৯৪: মুহাম্মদ বিন তুঘলক কর্তৃক চালু করা ‘দেওয়ান-ই-কোহি’ বিভাগের প্রধান কাজ কী ছিল?

  • a) বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ
  • b) বিচার পরিচালনা
  • c) কৃষি উন্নয়ন
  • d) সামরিক প্রশাসন

সঠিক উত্তর: c) কৃষি উন্নয়ন

ব্যাখ্যা: ‘দেওয়ান-ই-কোহি’ ছিল একটি নতুন কৃষি বিভাগ যা মুহাম্মদ বিন তুঘলক প্রতিষ্ঠা করেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল পতিত জমিকে আবাদি জমিতে পরিণত করা, কৃষকদের ঋণ প্রদান করা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা।

প্রশ্ন ৯৫: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘বারিদ’ (Barid) কারা ছিল?

  • a) বিচারক
  • b) গুপ্তচর
  • c) কর সংগ্রাহক
  • d) প্রদেশের গভর্নর

সঠিক উত্তর: b) গুপ্তচর

ব্যাখ্যা: ‘বারিদ’ ছিল সুলতানি আমলের সরকারি সংবাদবাহক এবং গুপ্তচর। তারা বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সুলতানের কাছে তথ্য সংগ্রহ করে পাঠাতো। এই ব্যবস্থা সুলতানকে সাম্রাজ্যের খবর পেতে এবং বিদ্রোহ দমনে সাহায্য করত।

প্রশ্ন ৯৬: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কোন রাজা ‘আন্ধ্র ভোজ’ (Andhra Bhoja) নামে পরিচিত ছিলেন?

  • a) দেব রায় প্রথম
  • b) কৃষ্ণদেব রায়
  • c) দেব রায় দ্বিতীয়
  • d) অচ্যুতা রায়

সঠিক উত্তর: b) কৃষ্ণদেব রায়

ব্যাখ্যা: কৃষ্ণদেব রায় ছিলেন বিজয়নগরের তুলুভ বংশের একজন মহান শাসক। সাহিত্য, শিল্পকলা এবং স্থাপত্যের প্রতি তাঁর পৃষ্ঠপোষকতার জন্য তাঁকে ‘আন্ধ্র ভোজ’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল।

প্রশ্ন ৯৭: ফিরোজ শাহ তুঘলক কোন দুইটি নতুন শহর প্রতিষ্ঠা করেন যা তার নামে পরিচিত?

  • a) দিল্লি ও আগ্রা
  • b) ফিরোজাবাদ ও জৌনপুর
  • c) আগ্রা ও লাহোর
  • d) ফতেহপুর সিক্রি ও আজমীর

সঠিক উত্তর: b) ফিরোজাবাদ ও জৌনপুর

ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলক একজন মহান নগর পরিকল্পনাবিদ ছিলেন। তিনি তার নামে ‘ফিরোজাবাদ’ (বর্তমান দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা এলাকা) এবং তার চাচাতো ভাই মুহাম্মদ বিন তুঘলকের (আসল নাম জুনা খান) নামে ‘জৌনপুর’ শহর প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রশ্ন ৯৮: দাস বংশের কোন সুলতান ‘সুলতানি-ই-চাহালগানি’ (Turkan-i-Chahalgani) বা চল্লিশ চক্রের ক্ষমতা ভেঙে দেন?

  • a) কুতুবউদ্দিন আইবক
  • b) ইলতুৎমিশ
  • c) গিয়াসউদ্দিন বলবন
  • d) নাসিরউদ্দিন মাহমুদ

সঠিক উত্তর: c) গিয়াসউদ্দিন বলবন

ব্যাখ্যা: ইলতুৎমিশ কর্তৃক গঠিত চল্লিশ চক্র তার মৃত্যুর পর অত্যন্ত ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে এবং পরবর্তী সুলতানদের উপর প্রভাব বিস্তার করে। গিয়াসউদ্দিন বলবন ক্ষমতায় এসে এই চল্লিশ চক্রের ক্ষমতা ভেঙে দেন এবং তাদের সদস্যদের কঠোর হস্তে দমন করেন যাতে সুলতানের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ থাকে।

প্রশ্ন ৯৯: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় ‘আয়াগার ব্যবস্থা’ (Aygara system) কী ছিল?

  • a) গ্রামের স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা
  • b) সামরিক বাহিনীর পুনর্গঠন
  • c) রাজস্ব সংগ্রহের পদ্ধতি
  • d) বিচার ব্যবস্থা

সঠিক উত্তর: a) গ্রামের স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা

ব্যাখ্যা: আয়াগার ব্যবস্থা ছিল বিজয়নগর সাম্রাজ্যের গ্রামীণ প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এই ব্যবস্থায় ১২ জন কর্মচারী (‘আয়গার’) নিয়ে গঠিত একটি কমিটি গ্রামের স্বায়ত্তশাসন এবং প্রশাসন পরিচালনা করত। এই কর্মচারীরা তাদের সেবার বিনিময়ে কর-মুক্ত ভূমি ভোগ করত।

প্রশ্ন ১০০: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘খালসা’ (Khalisa) জমি কী ছিল?

  • a) ইকতা ভূমি
  • b) সরাসরি সুলতানের নিয়ন্ত্রণে থাকা জমি
  • c) ধর্মীয় উদ্দেশ্যে দান করা জমি
  • d) সামরিক কর্মকর্তাদের জমি

সঠিক উত্তর: b) সরাসরি সুলতানের নিয়ন্ত্রণে থাকা জমি

ব্যাখ্যা: ‘খালসা’ জমি ছিল সরাসরি সুলতানের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূমি, যেখান থেকে আদায়কৃত রাজস্ব সরাসরি রাজকোষে জমা পড়ত। আলাউদ্দিন খলজি তার আয় বাড়ানোর জন্য অনেক ইকতা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত অনুদানকে খালসা জমিতে রূপান্তরিত করেন।

প্রশ্ন ১০১: সুলতানি শাসনকালে ‘বান্দাগান’ (Bandagan) কাদের বলা হত?

  • a) রাজকীয় পরিবার
  • b) বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সামরিক দাস
  • c) উচ্চপদস্থ কর্মচারী
  • d) রাজস্ব আদায়কারী

সঠিক উত্তর: b) বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সামরিক দাস

ব্যাখ্যা: ‘বান্দাগান’ ছিল তুর্কিদের মধ্যে প্রচলিত একটি বিশেষ ধরনের সামরিক দাস ব্যবস্থা। এই দাসদের অল্প বয়স থেকে কিনে এনে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হত এবং সামরিক ও প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করা হত। কুতুবউদ্দিন আইবক এবং ইলতুৎমিশ ছিলেন এই ‘বান্দাগান’ প্রথার অন্যতম উদাহরণ।

প্রশ্ন ১০২: কোন সুলতানের রাজত্বকালে তৈমুর লং ভারত আক্রমণ করেন?

  • a) আলাউদ্দিন খলজি
  • b) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  • c) ফিরোজ শাহ তুঘলক
  • d) নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ তুঘলক

সঠিক উত্তর: d) নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ তুঘলক

ব্যাখ্যা: ১৩৯৮ খ্রিস্টাব্দে তৈমুর লং ভারত আক্রমণ করেন। সে সময় দিল্লির সুলতান ছিলেন তুঘলক বংশের শেষ দুর্বল শাসক নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ তুঘলক। তৈমুরের আক্রমণ দিল্লি সুলতানির মেরুদণ্ড ভেঙে দেয় এবং এর পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রশ্ন ১০৩: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কোন বিখ্যাত ইতালীয় পর্যটক ‘দেব রায় প্রথম’-এর রাজত্বকালে বিজয়নগর ভ্রমণ করেন?

  • a) নিকোলো কন্টি
  • b) ডোমিঙ্গো পেস
  • c) ফার্নাও নুনীজ
  • d) বারবোসা

সঠিক উত্তর: a) নিকোলো কন্টি

ব্যাখ্যা: ইতালীয় পর্যটক নিকোলো কন্টি দেব রায় প্রথমের রাজত্বকালে (১৪২০-১৪২১ খ্রিস্টাব্দে) বিজয়নগর সাম্রাজ্য ভ্রমণ করেন। তাঁর ভ্রমণকাহিনী বিজয়নগরের সম্পদ, বিশাল সেনাবাহিনী এবং উৎসব সম্পর্কে মূল্যবান বিবরণ প্রদান করে।

প্রশ্ন ১০৪: আলাউদ্দিন খলজির বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অধীনে ‘দিওয়ান-ই-রিয়াসত’ (Diwan-i-Riyasat) কী ছিল?

  • a) বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা
  • b) গোয়েন্দা সংস্থা
  • c) বিচারিক সংস্থা
  • d) সামরিক প্রশাসন

সঠিক উত্তর: a) বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা

ব্যাখ্যা: ‘দিওয়ান-ই-রিয়াসত’ ছিল আলাউদ্দিন খলজির বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রধান অধিদপ্তর। এর প্রধান দায়িত্ব ছিল বাজারের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, বণিকদের তালিকাভুক্তি এবং সমস্ত লেনদেনের তদারকি করা।

প্রশ্ন ১০৫: ‘তারিখ-ই-ফিরোজশাহী’ ছাড়াও জিয়াউদ্দিন বারানির অপর একটি বিখ্যাত রচনা কোনটি?

  • a) কিতাব-উর-রাহলা
  • b) ফতোয়া-ই-জাহান্দারী
  • c) তুঘলকনামা
  • d) খাজাইন-উল-ফুতুহ

সঠিক উত্তর: b) ফতোয়া-ই-জাহান্দারী

ব্যাখ্যা: ‘ফতোয়া-ই-জাহান্দারী’ ছিল জিয়াউদ্দিন বারানির একটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা, যেখানে তিনি মুসলিম শাসকদের জন্য আদর্শ রাষ্ট্রনীতি এবং শাসনের নিয়মাবলী নিয়ে আলোচনা করেছেন।

প্রশ্ন ১০৬: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘সর-ই-হাজার’ (Sar-i-Hazar) কে ছিলেন?

  • a) এক হাজার সৈন্যের সেনাপতি
  • b) প্রধান মন্ত্রী
  • c) কোষাধ্যক্ষ
  • d) প্রাদেশিক গভর্নর

সঠিক উত্তর: a) এক হাজার সৈন্যের সেনাপতি

ব্যাখ্যা: ‘সর-ই-হাজার’ ছিলেন সামরিক প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা, যিনি এক হাজার সৈন্যের নেতৃত্ব দিতেন। এটি সামরিক পদক্রমের একটি অংশ ছিল।

প্রশ্ন ১০৭: বিজয়নগর সাম্রাজ্যে ‘কুদীরয়’ (Kudīrai) কী ছিল?

  • a) এক ধরনের কর
  • b) ঘোড়া
  • c) সামরিক পোশাক
  • d) মন্দির

সঠিক উত্তর: b) ঘোড়া

ব্যাখ্যা: ‘কুদীরয়’ ছিল বিজয়নগর সাম্রাজ্যে ঘোড়ার জন্য ব্যবহৃত একটি স্থানীয় শব্দ। বিজয়নগরের সামরিক শক্তির জন্য ঘোড়ার গুরুত্ব অপরিসীম ছিল এবং তারা আরব ও পর্তুগিজদের কাছ থেকে উন্নত জাতের ঘোড়া আমদানি করত।

প্রশ্ন ১০৮: ফিরোজ শাহ তুঘলক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘দার-উল-শাফা’ (Dar-ul-Shafa) কী ছিল?

  • a) দাতব্য চিকিৎসালয়
  • b) মাদ্রাসা
  • c) ডাকঘর
  • d) সেতু

সঠিক উত্তর: a) দাতব্য চিকিৎসালয়

ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলক জনকল্যাণমূলক অনেক কাজ করেন। ‘দার-উল-শাফা’ ছিল তাঁর প্রতিষ্ঠিত একটি দাতব্য চিকিৎসালয়, যেখানে দরিদ্র ও অসুস্থদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হত।

প্রশ্ন ১০৯: কোন সুলতান ‘নিজামুদ্দিন আউলিয়া’ নামক সূফী সাধকের সমসাময়িক ছিলেন?

  • a) আলাউদ্দিন খলজি
  • b) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  • c) ফিরোজ শাহ তুঘলক
  • d) উপরোক্ত সবকটি

সঠিক উত্তর: d) উপরোক্ত সবকটি

ব্যাখ্যা: নিজামুদ্দিন আউলিয়া ছিলেন একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী সূফী সাধক, যিনি গিয়াসউদ্দিন বলবন থেকে ফিরোজ শাহ তুঘলক পর্যন্ত বেশ কয়েকজন সুলতানের রাজত্বকাল দেখেছেন। তিনি আলাউদ্দিন খলজি, গিয়াসউদ্দিন তুঘলক, এবং মুহাম্মদ বিন তুঘলকের সমসাময়িক ছিলেন।

প্রশ্ন ১১০: আলাউদ্দিন খলজি কাকে ‘উলুগ খান’ উপাধি দিয়েছিলেন?

  • a) মালিক কাফুর
  • b) জাফর খান
  • c) আলপ খান
  • d) তার ভাই আলফ খান

সঠিক উত্তর: d) তার ভাই আলফ খান

ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি তার ভাই এবং প্রধান সেনাপতি আলফ খানকে ‘উলুগ খান’ উপাধি দিয়েছিলেন। তিনি আলাউদ্দিনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

প্রশ্ন ১১১: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কোন রাজবংশকে ‘পুনর্গঠনকারী’ রাজবংশ বলা হয়?

  • a) সঙ্গম বংশ
  • b) সালুভ বংশ
  • c) তুলুভ বংশ
  • d) আরাভিদু বংশ

সঠিক উত্তর: d) আরাভিদু বংশ

ব্যাখ্যা: তালাইকোটার যুদ্ধের পর বিজয়নগর সাম্রাজ্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আরাভিদু বংশের রাজারা, বিশেষত তিরুমল দেব রায়, সাম্রাজ্যকে পুনর্গঠিত করার এবং এর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

প্রশ্ন ১১২: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘ওয়াজির’ (Wazir) কে ছিলেন?

  • a) প্রধান বিচারপতি
  • b) প্রধান সেনাপতি
  • c) প্রধানমন্ত্রী এবং রাজস্ব বিভাগের প্রধান
  • d) ধর্মীয় নেতা

সঠিক উত্তর: c) প্রধানমন্ত্রী এবং রাজস্ব বিভাগের প্রধান

ব্যাখ্যা: ‘ওয়াজির’ ছিলেন সুলতানি আমলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক কর্মকর্তা, যিনি প্রধানমন্ত্রী এবং রাজস্ব বিভাগের (দিওয়ান-ই-উজারত) প্রধান হিসেবে কাজ করতেন। তিনি সুলতানের পরে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।

প্রশ্ন ১১৩: মুহাম্মদ বিন তুঘলকের ‘দেওয়ান-ই-আমির কোহি’ বিভাগের প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?

  • a) সেনাবাহিনীর রসদ সরবরাহ
  • b) কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি
  • c) বৈদেশিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ
  • d) ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা

সঠিক উত্তর: b) কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি

ব্যাখ্যা: মুহাম্মদ বিন তুঘলক কৃষির উন্নতি এবং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ‘দেওয়ান-ই-আমির কোহি’ (কৃষি বিভাগ) প্রতিষ্ঠা করেন। এর লক্ষ্য ছিল পতিত জমি আবাদ করা এবং কৃষকদের সহায়তা প্রদান করা।

প্রশ্ন ১১৪: গিয়াসউদ্দিন বলবন তার পুত্র বুগরা খানকে কী উপাধি দিয়েছিলেন?

  • a) খান-ই-আজম
  • b) খান-ই-খানান
  • c) উলুগ খান
  • d) মালিক কাফুর

সঠিক উত্তর: b) খান-ই-খানান

ব্যাখ্যা: গিয়াসউদ্দিন বলবন তার পুত্র বুগরা খানকে ‘খান-ই-খানান’ (খানদের খান) উপাধি দিয়েছিলেন, যা ছিল একটি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন পদ।

প্রশ্ন ১১৫: ‘সৈয়দ বংশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

  • a) খিজির খান
  • b) মুবারক শাহ
  • c) মুহাম্মদ শাহ
  • d) আলাউদ্দিন আলম শাহ

সঠিক উত্তর: a) খিজির খান

ব্যাখ্যা: তৈমুর লং-এর আক্রমণের পর দিল্লি সুলতানির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে খিজির খান ১৪১৪ খ্রিস্টাব্দে সৈয়দ বংশের প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি তৈমুরের প্রতিনিধি হিসেবে শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।

প্রশ্ন ১১৬: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের পতনের পর ‘আরাভিদু বংশ’ তাদের রাজধানী কোথায় স্থানান্তরিত করে?

  • a) হাম্পি
  • b) পেনুকোন্ডা
  • c) শ্রীরঙ্গপত্তনম
  • d) চন্দ্রগিরি

সঠিক উত্তর: b) পেনুকোন্ডা

ব্যাখ্যা: তালাইকোটার যুদ্ধের পর হাম্পি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। আরাভিদু বংশের রাজারা তাদের রাজধানী পেনুকোন্ডায় স্থানান্তরিত করেন এবং সেখান থেকে সাম্রাজ্যের অবশিষ্টাংশ শাসন করার চেষ্টা করেন।

প্রশ্ন ১১৭: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘কাজী-উল-কুজ্জাত’ (Qazi-ul-Quzzat) কে ছিলেন?

  • a) প্রধান বিচারক
  • b) প্রধান ধর্মীয় নেতা
  • c) প্রধান কোষাধ্যক্ষ
  • d) প্রধান সামরিক প্রকৌশলী

সঠিক উত্তর: a) প্রধান বিচারক

ব্যাখ্যা: ‘কাজী-উল-কুজ্জাত’ ছিলেন সুলতানি আমলের বিচার বিভাগের প্রধান এবং সর্বোচ্চ বিচারক। তিনি শরিয়ত আইন অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনা করতেন।

প্রশ্ন ১১৮: আলাউদ্দিন খলজি কর্তৃক প্রবর্তিত ‘দিওয়ান-ই-মুস্তখরজ’ (Diwan-i-Mustakharaj) বিভাগটির প্রধান কাজ কী ছিল?

  • a) সেনাবাহিনীর বেতন প্রদান
  • b) রাজস্ব আদায়ে অনিয়ম রোধ করা
  • c) বাজার নিয়ন্ত্রণ
  • d) বিচার ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ

সঠিক উত্তর: b) রাজস্ব আদায়ে অনিয়ম রোধ করা

ব্যাখ্যা: ‘দিওয়ান-ই-মুস্তখরজ’ ছিল আলাউদ্দিন খলজির রাজস্ব সংস্কারের একটি অংশ। এই বিভাগের কাজ ছিল রাজস্ব আদায়ে যে কোন ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা বকেয়া খুঁজে বের করা এবং তা আদায় করা।

প্রশ্ন ১১৯: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের রাজাদের দ্বারা নির্মিত বিখ্যাত ‘হাজার রাম মন্দির’ (Hazara Rama Temple) কোথায় অবস্থিত?

  • a) শ্রীরঙ্গম
  • b) তিরুপতি
  • c) হাম্পি
  • d) মাদুরাই

সঠিক উত্তর: c) হাম্পি

ব্যাখ্যা: হাম্পিতে অবস্থিত হাজার রাম মন্দিরটি ছিল বিজয়নগরের রাজপরিবারের ব্যক্তিগত মন্দির। এর দেয়ালে রামায়ণের বিভিন্ন দৃশ্যের সূক্ষ্ম কারুকার্য খোদাই করা আছে।

প্রশ্ন ১২০: মুহাম্মদ বিন তুঘলকের কোন পদক্ষেপটি ‘দোয়াব অঞ্চলে কর বৃদ্ধি’ নামে পরিচিত?

  • a) কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কর বৃদ্ধি
  • b) মঙ্গোল আক্রমণের খরচ মেটাতে কর বৃদ্ধি
  • c) রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত কর আরোপ
  • d) কৃষকদের উপর সেচ কর আরোপ

সঠিক উত্তর: c) রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত কর আরোপ

ব্যাখ্যা: মুহাম্মদ বিন তুঘলক দোয়াব (গঙ্গা ও যমুনা নদীর মধ্যবর্তী উর্বর অঞ্চল) অঞ্চলে রাজস্ব বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত কর আরোপ করেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত সেই সময় ওই অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ চলছিল, যার ফলে এই পদক্ষেপ কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে এবং শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

প্রশ্ন ১২১: কোন সুলতান সর্বপ্রথম দিল্লির সিংহাসনে বসেন?

  • a) কুতুবউদ্দিন আইবক
  • b) ইলতুৎমিশ
  • c) আরাম শাহ
  • d) গিয়াসউদ্দিন বলবন

সঠিক উত্তর: b) ইলতুৎমিশ

ব্যাখ্যা: কুতুবউদ্দিন আইবক লাহোর থেকে শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। ইলতুৎমিশই প্রথম সুলতান যিনি ১২১১ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সিংহাসনে বসেন এবং দিল্লিকে তার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন।

প্রশ্ন ১২২: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কোন রাজবংশকে ‘উদ্ধারকারী’ রাজবংশ বলা হয়?

  • a) সঙ্গম বংশ
  • b) সালুভ বংশ
  • c) তুলুভ বংশ
  • d) আরাভিদু বংশ

সঠিক উত্তর: c) তুলুভ বংশ

ব্যাখ্যা: তুলুভ বংশের রাজারা, বিশেষত কৃষ্ণদেব রায়, বিজয়নগর সাম্রাজ্যের গৌরব পুনরুদ্ধার করেছিলেন এবং সাম্রাজ্যকে তার উন্নতির শিখরে নিয়ে গিয়েছিলেন। এই কারণে তাদের ‘উদ্ধারকারী’ রাজবংশ বলা হয়।

প্রশ্ন ১২৩: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘মুহতাসিব’ (Muhtasib) কে ছিলেন?

  • a) বাজার নিয়ন্ত্রক
  • b) রাজস্ব আদায়কারী
  • c) জননৈতিকতার রক্ষক
  • d) সামরিক সেনাপতি

সঠিক উত্তর: c) জননৈতিকতার রক্ষক

ব্যাখ্যা: ‘মুহতাসিব’ ছিলেন সুলতানি আমলের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা, যার প্রধান কাজ ছিল জননীতি, নৈতিকতা এবং শরিয়ত আইন প্রয়োগ করা। তিনি বাজারে পরিমাপ ও ওজন সঠিকভাবে আছে কিনা তাও তদারকি করতেন।

প্রশ্ন ১২৪: আলাউদ্দিন খলজির সময়কালে ‘খোরাজ’ (Kharaj) করের হার কত ছিল?

  • a) উৎপাদিত ফসলের ১/৪ অংশ
  • b) উৎপাদিত ফসলের ১/৩ অংশ
  • c) উৎপাদিত ফসলের ১/২ অংশ
  • d) উৎপাদিত ফসলের ২/৩ অংশ

সঠিক উত্তর: c) উৎপাদিত ফসলের ১/২ অংশ

ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি তার রাজস্ব বাড়ানোর জন্য ‘খারাজ’ (ভূমি কর)-এর হার বৃদ্ধি করে উৎপাদিত ফসলের ৫০% (১/২ অংশ) নির্ধারণ করেন, যা ছিল অত্যন্ত উচ্চ।

প্রশ্ন ১২৫: ফিরোজ শাহ তুঘলকের দ্বারা নির্মিত বিখ্যাত ‘আফগানপুর’ (Afghânpur) দুর্গটি কী জন্য পরিচিত ছিল?

  • a) একটি সামরিক ঘাঁটি
  • b) একটি সেচ ব্যবস্থা
  • c) গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের সমাধি
  • d) একটি নতুন শহর

সঠিক উত্তর: c) গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের সমাধি

ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলক তার পিতা গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের জন্য ‘আফগানপুর’ নামক একটি দুর্গ এবং সমাধিসৌধ নির্মাণ করেন, যা দিল্লির কাছাকাছি অবস্থিত।

প্রশ্ন ১২৬: বিজয়নগর সাম্রাজ্যে কোন ধর্মের প্রভাব ছিল না?

  • a) হিন্দু ধর্ম
  • b) জৈন ধর্ম
  • c) ইসলাম ধর্ম
  • d) শিখ ধর্ম

সঠিক উত্তর: d) শিখ ধর্ম

ব্যাখ্যা: বিজয়নগর সাম্রাজ্য মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বী হলেও, জৈন ও ইসলাম ধর্মের প্রভাবও লক্ষ্য করা যায়। বাহমনি সুলতানি এবং অন্যান্য মুসলিম রাজ্যের সাথে যোগাযোগের কারণে ইসলাম ধর্মের প্রভাব ছিল। তবে শিখ ধর্মের উত্থান উত্তর ভারতে এবং বিজয়নগরের সময়কালের পরে হওয়ায় এর কোনো প্রভাব ছিল না।

প্রশ্ন ১২৭: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘দিওয়ান-ই-খাজাইন’ (Diwan-i-Khazain) কোন বিভাগের সাথে সম্পর্কিত ছিল?

  • a) বিচার বিভাগ
  • b) কোষাগার বা অর্থ বিভাগ
  • c) সামরিক বিভাগ
  • d) চিঠিপত্র বিভাগ

সঠিক উত্তর: b) কোষাগার বা অর্থ বিভাগ

ব্যাখ্যা: ‘দিওয়ান-ই-খাজাইন’ ছিল সুলতানি আমলের কোষাগার বা অর্থ বিভাগ। এর প্রধান কাজ ছিল রাজস্ব সংগ্রহ, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থ সংরক্ষণ করা।

প্রশ্ন ১২৮: কোন সুলতান ‘কুব্বত-উল-ইসলাম মসজিদ’ (Quwwat-ul-Islam Mosque) নির্মাণ করেন?

  • a) কুতুবউদ্দিন আইবক
  • b) ইলতুৎমিশ
  • c) আলাউদ্দিন খলজি
  • d) ফিরোজ শাহ তুঘলক

সঠিক উত্তর: a) কুতুবউদ্দিন আইবক

ব্যাখ্যা: কুতুবউদ্দিন আইবক ছিলেন ‘কুব্বত-উল-ইসলাম মসজিদ’-এর প্রতিষ্ঠাতা, যা ছিল দিল্লিতে নির্মিত প্রথম মসজিদ এবং ভারতের প্রাচীনতম মসজিদগুলির মধ্যে অন্যতম। এটি দিল্লিতে ইসলামি স্থাপত্যের সূচনা করে।

প্রশ্ন ১২৯: মুহাম্মদ বিন তুঘলকের ‘খুরাসান অভিযান’-এর মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?

  • a) মধ্য এশিয়া জয় করা
  • b) আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণ করা
  • c) মঙ্গোলদের প্রতিরোধ করা
  • d) পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলির সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন

সঠিক উত্তর: a) মধ্য এশিয়া জয় করা

ব্যাখ্যা: মুহাম্মদ বিন তুঘলক একটি বিশাল সেনাবাহিনী গঠন করে খুরাসান (মধ্য এশিয়া) জয়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা করেন। তবে এই অভিযান শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি এবং এর জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়।

প্রশ্ন ১৩০: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কোন রাজা পর্তুগিজদের কাছ থেকে অস্ত্র ও ঘোড়া আমদানি করতেন?

  • a) হরিহর প্রথম
  • b) বুক্কা প্রথম
  • c) কৃষ্ণদেব রায়
  • d) দেব রায় দ্বিতীয়

সঠিক উত্তর: c) কৃষ্ণদেব রায়

ব্যাখ্যা: কৃষ্ণদেব রায় সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য পর্তুগিজদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। তিনি তাদের কাছ থেকে উন্নত জাতের ঘোড়া এবং আগ্নেয়াস্ত্র আমদানি করতেন, যা তার সামরিক সাফল্য অর্জনে সহায়তা করেছিল।

প্রশ্ন ১৩১: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘মাসাহাত’ (Masahat) কী ছিল?

  • a) জমির পরিমাপের ভিত্তিতে রাজস্ব নির্ধারণ
  • b) উৎপাদিত ফসলের ভিত্তিতে রাজস্ব নির্ধারণ
  • c) গ্রামভিত্তিক কর
  • d) বাণিজ্য কর

সঠিক উত্তর: a) জমির পরিমাপের ভিত্তিতে রাজস্ব নির্ধারণ

ব্যাখ্যা: ‘মাসাহাত’ ছিল একটি রাজস্ব নির্ধারণ পদ্ধতি, যেখানে জমির পরিমাপের ভিত্তিতে কর ধার্য করা হত। আলাউদ্দিন খলজি এই পদ্ধতিটি চালু করেন এবং এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ক্ষমতা কমে যায়।

প্রশ্ন ১৩২: ফিরোজ শাহ তুঘলকের আমলে ‘হক-ই-শিরব’ করের পরিমাণ কত ছিল?

  • a) উৎপাদিত ফসলের ১/৫ অংশ
  • b) উৎপাদিত ফসলের ১/১০ অংশ
  • c) উৎপাদিত ফসলের ১/৪ অংশ
  • d) উৎপাদিত ফসলের ১/৮ অংশ

সঠিক উত্তর: b) উৎপাদিত ফসলের ১/১০ অংশ

ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলক দ্বারা আরোপিত ‘হক-ই-শিরব’ বা সেচ করের পরিমাণ ছিল উৎপাদিত ফসলের ১/১০ অংশ। এই কর খাল বা সেচ ব্যবস্থার জল ব্যবহারকারীদের উপর ধার্য করা হত।

প্রশ্ন ১৩৩: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের ‘বিঠ্ঠল স্বামী মন্দির’-এর বিখ্যাত ‘সঙ্গীত স্তম্ভ’ (Musical Pillars) কী জন্য পরিচিত?

  • a) এতে পাথরের মধ্যে জল প্রবাহিত হয়
  • b) এতে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের ছবি খোদাই করা আছে
  • c) এতে আঘাত করলে সঙ্গীতের সুর উৎপন্ন হয়
  • d) এটি মন্দিরের প্রবেশদ্বার

সঠিক উত্তর: c) এতে আঘাত করলে সঙ্গীতের সুর উৎপন্ন হয়

ব্যাখ্যা: হাম্পির বিঠ্ঠল স্বামী মন্দিরের সঙ্গীত স্তম্ভগুলি একটি অসাধারণ স্থাপত্যিক বিস্ময়। এই স্তম্ভগুলিতে আঘাত করলে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের মতো শব্দ উৎপন্ন হয়, যা প্রাচীন ভারতীয় স্থাপত্যের উন্নত জ্ঞানকে প্রমাণ করে।

প্রশ্ন ১৩৪: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘ইকতা’ ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে নগদ বেতন প্রথা কে চালু করেন?

  • a) গিয়াসউদ্দিন বলবন
  • b) আলাউদ্দিন খলজি
  • c) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  • d) ফিরোজ শাহ তুঘলক

সঠিক উত্তর: b) আলাউদ্দিন খলজি

ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি তার শক্তিশালী ও বিশাল সেনাবাহিনীর জন্য ‘ইকতা’ ব্যবস্থার পরিবর্তে সৈন্যদের সরাসরি নগদ বেতন প্রদান শুরু করেন। এটি তার সামরিক সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

প্রশ্ন ১৩৫: কোন ঐতিহাসিক বিজয়নগর সাম্রাজ্যকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে ধনী শহর’ বলে বর্ণনা করেছেন?

  • a) ইবন বতুতা
  • b) নিকোলো কন্টি
  • c) আব্দুর রাজ্জাক
  • d) ডোমিঙ্গো পেস

সঠিক উত্তর: d) ডোমিঙ্গো পেস

ব্যাখ্যা: পর্তুগিজ পর্যটক ডোমিঙ্গো পেস, কৃষ্ণদেব রায়ের রাজত্বকালে বিজয়নগর ভ্রমণ করেন। তাঁর ভ্রমণকাহিনীতে তিনি বিজয়নগরকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে ধনী শহর’ এবং এর রাজাকে অত্যন্ত শক্তিশালী বলে বর্ণনা করেছেন।

প্রশ্ন ১৩৬: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘কুনুত’ (Khunut) কী ছিল?

  • a) ভূমি কর
  • b) সাম্রাজ্যের বাইরের শত্রুদের থেকে আদায় করা রাজস্ব
  • c) বিশেষ করে ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ভূমি
  • d) যুদ্ধের লুঠের অংশ

সঠিক উত্তর: b) সাম্রাজ্যের বাইরের শত্রুদের থেকে আদায় করা রাজস্ব

ব্যাখ্যা: ‘কুনুত’ ছিল সাম্রাজ্যের বাইরের বা বিজিত অঞ্চল থেকে আদায় করা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব, যা বিজিত অঞ্চলের শাসকরা দিল্লির সুলতানকে প্রদান করত।

প্রশ্ন ১৩৭: ফিরোজ শাহ তুঘলক কর্তৃক নির্মিত বিখ্যাত ‘তাজ মহল’ (Taj Mahal) এর পূর্বসূরি বলা হয় কোন সমাধিসৌধকে?

  • a) গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের সমাধি
  • b) ইলতুৎমিশের সমাধি
  • c) বালবনের সমাধি
  • d) সিকান্দার লোদির সমাধি

সঠিক উত্তর: a) গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের সমাধি

ব্যাখ্যা: গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের সমাধিটি একটি দৃঢ় ও বিশাল কাঠামো, যা ফিরোজ শাহ তুঘলক কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল। এর স্থাপত্যশৈলী পরবর্তীকালে মুঘল স্থাপত্যের, বিশেষ করে তাজমহলের মতো নির্মাণশৈলীর ভিত্তি স্থাপন করে বলে মনে করা হয়।

প্রশ্ন ১৩৮: মুহাম্মদ বিন তুঘলকের রাজত্বকালে দক্ষিণ ভারতে প্রতিষ্ঠিত দুটি প্রধান স্বাধীন রাজ্য কোনটি?

  • a) দিল্লি সুলতানি এবং গুজরাট সালতানাত
  • b) বাহমনি সাম্রাজ্য এবং বিজয়নগর সাম্রাজ্য
  • c) বেঙ্গল সালতানাত এবং কাশ্মীর সালতানাত
  • d) মালওয়া সালতানাত এবং খানদেশ সালতানাত

সঠিক উত্তর: b) বাহমনি সাম্রাজ্য এবং বিজয়নগর সাম্রাজ্য

ব্যাখ্যা: মুহাম্মদ বিন তুঘলকের কেন্দ্রীয় শাসনের দুর্বলতা এবং দাক্ষিণাত্যের বিদ্রোহের সুযোগ নিয়ে ১৩৩৬ খ্রিস্টাব্দে বিজয়নগর সাম্রাজ্য এবং ১৩৪৭ খ্রিস্টাব্দে বাহমনি সাম্রাজ্য স্বাধীন রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

প্রশ্ন ১৩৯: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘নকদি’ (Naqdi) কী ছিল?

  • a) সৈন্যদের নগদ বেতন
  • b) ভূমি কর
  • c) বাণিজ্য কর
  • d) বিশেষ উপাধি

সঠিক উত্তর: a) সৈন্যদের নগদ বেতন

ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি কর্তৃক চালু করা সামরিক সংস্কারের অংশ হিসেবে, সৈন্যদের ‘নকদি’ বা নগদ বেতন প্রদান করা হত, ইকতা ব্যবস্থার পরিবর্তে।

প্রশ্ন ১৪০: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কোন বংশের রাজারা নিজেদেরকে ‘কর্ণাটক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাতা’ (Karnataka Rajya Rama Ramana) বলে অভিহিত করতেন?

  • a) সঙ্গম বংশ
  • b) সালুভ বংশ
  • c) তুলুভ বংশ
  • d) আরাভিদু বংশ

সঠিক উত্তর: a) সঙ্গম বংশ

ব্যাখ্যা: সঙ্গম বংশের রাজারা, যেমন বুক্কা প্রথম, নিজেদেরকে ‘কর্ণাটক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাতা’ (Karnataka Rajya Rama Ramana) বলে অভিহিত করতেন, যা কর্ণাটকের উপর তাদের কর্তৃত্ব এবং তাদের সাম্রাজ্যের ব্যাপ্তি নির্দেশ করে।

প্রশ্ন ১৪১: সুলতানি শাসনকালে ‘বান্দাগান-ই-খাস’ (Bandagan-i-Khas) কাদের বলা হত?

  • a) সুলতানের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী
  • b) বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সামরিক দাস
  • c) প্রদেশের গভর্নর
  • d) রাজস্ব আদায়কারী

সঠিক উত্তর: b) বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সামরিক দাস

ব্যাখ্যা: ‘বান্দাগান-ই-খাস’ ছিল সুলতানের ব্যক্তিগত, বিশেষভাবে বিশ্বস্ত এবং প্রশিক্ষিত সামরিক দাসদের একটি দল, যাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও প্রশাসনিক পদে নিয়োগ করা হত।

প্রশ্ন ১৪২: কোন সুলতান ‘আল-সুলতান জিল্লুল্লাহ ফিল-আর্দ’ (Al-Sultan Zillullah fil-Ard) উপাধি গ্রহণ করেন, যার অর্থ “সুলতান পৃথিবীতে আল্লাহর ছায়া”?

  • a) ইলতুৎমিশ
  • b) গিয়াসউদ্দিন বলবন
  • c) আলাউদ্দিন খলজি
  • d) মুহাম্মদ বিন তুঘলক

সঠিক উত্তর: b) গিয়াসউদ্দিন বলবন

ব্যাখ্যা: গিয়াসউদ্দিন বলবন রাজতন্ত্রের মর্যাদা ও ঐশ্বরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য এই উপাধিটি গ্রহণ করেন, যা তার নিরঙ্কুশ ক্ষমতাকে সমর্থন করত।

প্রশ্ন ১৪৩: ফিরোজ শাহ তুঘলক কর্তৃক নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেচ খাল কোনটি?

  • a) যমুনা খাল
  • b) গঙ্গা খাল
  • c) নর্মদা খাল
  • d) কাবেরী খাল

সঠিক উত্তর: a) যমুনা খাল

ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলক ছিলেন একজন মহান সেচ প্রকৌশলী। তিনি কৃষির উন্নতির জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাল খনন করেন, যার মধ্যে যমুনা নদী থেকে হিসার পর্যন্ত বিস্তৃত খালটি অন্যতম।

প্রশ্ন ১৪৪: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের শাসকগণ নিজেদেরকে কী উপাধিতে ভূষিত করতেন?

  • a) সুলতান
  • b) রায়
  • c) বাদশা
  • d) শাহেনশাহ

সঠিক উত্তর: b) রায়

ব্যাখ্যা: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের শাসকগণ সাধারণত ‘রায়’ উপাধি ব্যবহার করতেন, যেমন হরিহর রায়, বুক্কা রায়, কৃষ্ণদেব রায় ইত্যাদি।

প্রশ্ন ১৪৫: কোন সুলতান ‘খিলকা’ (Khil’at) লাভ করেন, যা খলিফার অনুমোদনপত্র হিসেবে বিবেচিত হত?

  • a) কুতুবউদ্দিন আইবক
  • b) ইলতুৎমিশ
  • c) গিয়াসউদ্দিন বলবন
  • d) আলাউদ্দিন খলজি

সঠিক উত্তর: b) ইলতুৎমিশ

ব্যাখ্যা: ১২২৯ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফার কাছ থেকে ইলতুৎমিশ ‘খিলকা’ (সম্মানসূচক পোশাক) লাভ করেন, যা ভারতে তার সার্বভৌমত্বের বৈধতা প্রদান করে এবং তাকে দিল্লি সুলতানির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

প্রশ্ন ১৪৬: ‘ফতুহাত-ই-ফিরোজশাহী’ (Futuhāt-i-Firoz Shahi) নামক আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থটি কে রচনা করেন?

  • a) জিয়াউদ্দিন বারানি
  • b) শামস-ই-সিরাজ আফিফ
  • c) ফিরোজ শাহ তুঘলক নিজে
  • d) ইয়াহিয়া বিন আহমদ সিরহিন্দি

সঠিক উত্তর: c) ফিরোজ শাহ তুঘলক নিজে

ব্যাখ্যা: ‘ফতুহাত-ই-ফিরোজশাহী’ ছিল ফিরোজ শাহ তুঘলকের একটি সংক্ষিপ্ত আত্মজীবনীমূলক রচনা, যেখানে তিনি তার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ, ধর্মীয় নীতি এবং প্রশাসনিক সংস্কার সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন।

প্রশ্ন ১৪৭: বিজয়নগরের স্বর্ণমুদ্রা ‘বরাহ’ (Varaha) কোন ধাতুর তৈরি ছিল?

  • a) রূপা
  • b) তামা
  • c) সোনা
  • d) ব্রোঞ্জ

সঠিক উত্তর: c) সোনা

ব্যাখ্যা: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের প্রধান মুদ্রা ছিল ‘বরাহ’ বা ‘প্যাগোডা’, যা সোনা দিয়ে তৈরি হত। এই মুদ্রার প্রচলন সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রতীক ছিল।

প্রশ্ন ১৪৮: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘দিওয়ান-ই-উজারত’ (Diwan-i-Wizarat) কোন বিভাগের সাথে সম্পর্কিত ছিল?

  • a) সামরিক বিভাগ
  • b) বিচার বিভাগ
  • c) অর্থ বিভাগ
  • d) ধর্মীয় বিষয় বিভাগ

সঠিক উত্তর: c) অর্থ বিভাগ

ব্যাখ্যা: ‘দিওয়ান-ই-উজারত’ ছিল সুলতানি আমলের প্রধান অর্থ বিভাগ, যার প্রধান ছিলেন ‘ওয়াজির’। এই বিভাগ রাজস্ব সংগ্রহ, বাজেট তৈরি এবং সাম্রাজ্যের আর্থিক বিষয়গুলি পরিচালনা করত।

প্রশ্ন ১৪৯: মুহাম্মদ বিন তুঘলক কর্তৃক চালু করা টোকেন মুদ্রার ধাতু কী ছিল?

  • a) রূপা
  • b) তামা এবং ব্রোঞ্জ
  • c) সোনা
  • d) দস্তা

সঠিক উত্তর: b) তামা এবং ব্রোঞ্জ

ব্যাখ্যা: মুহাম্মদ বিন তুঘলক তার টোকেন মুদ্রা চালু করার সময় তামা এবং ব্রোঞ্জের মতো কম মূল্যবান ধাতু ব্যবহার করেছিলেন, যার প্রতীকী মূল্য সোনার মুদ্রার সমান ছিল।

প্রশ্ন ১৫০: দাস বংশের কোন সুলতান ‘চালিশা’ বা চল্লিশ চক্রের ক্ষমতাকে দমন করেন?

  • a) ইলতুৎমিশ
  • b) আরাম শাহ
  • c) নাসিরউদ্দিন মাহমুদ
  • d) গিয়াসউদ্দিন বলবন

সঠিক উত্তর: d) গিয়াসউদ্দিন বলবন

ব্যাখ্যা: গিয়াসউদ্দিন বলবন ছিলেন একজন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ শাসক। তিনি ইলতুৎমিশ কর্তৃক গঠিত ক্ষমতাশালী চল্লিশ চক্রের (তুর্কি-ই-চাহালগানি) প্রভাব ও ক্ষমতা দমন করে সুলতানের ক্ষমতাকে সুদৃঢ় করেন।

প্রশ্ন ১৫১: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কোন রাজা ‘আভারাচিতা’ (Avarachita) উপাধি গ্রহণ করেন?

  • a) কৃষ্ণদেব রায়
  • b) দেব রায় প্রথম
  • c) দেব রায় দ্বিতীয়
  • d) অচ্যুতা রায়

সঠিক উত্তর: c) দেব রায় দ্বিতীয়

ব্যাখ্যা: দেব রায় দ্বিতীয় সঙ্গম বংশের একজন শক্তিশালী শাসক ছিলেন। তাঁর সামরিক সাফল্যের জন্য তাঁকে ‘গজবেটকারা’ (হাতি শিকারী) এবং ‘আভারাচিতা’ (যার উপর কেউ চড়াও হতে পারেনি) উপাধি দেওয়া হয়েছিল।

প্রশ্ন ১৫২: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘খুত’ (Khut) এবং ‘মুকাদ্দাম’ (Muqaddam) কারা ছিলেন?

  • a) সামরিক কর্মকর্তা
  • b) বিচারক
  • c) গ্রামের স্থানীয় প্রধান
  • d) ধর্মীয় নেতা

সঠিক উত্তর: c) গ্রামের স্থানীয় প্রধান

ব্যাখ্যা: ‘খুত’ এবং ‘মুকাদ্দাম’ ছিলেন গ্রামের প্রধান বা স্থানীয় জমিদার, যারা দিল্লি সুলতানি আমলে গ্রামের রাজস্ব আদায় এবং স্থানীয় প্রশাসনিক কাজ দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন।

প্রশ্ন ১৫৩: আলাউদ্দিন খলজি কর্তৃক চালু করা ‘দাগ’ এবং ‘চেহরা’ প্রথা কীসের সাথে সম্পর্কিত ছিল?

  • a) রাজস্ব সংগ্রহ
  • b) সামরিক প্রশাসন
  • c) বিচার ব্যবস্থা
  • d) বাজার নিয়ন্ত্রণ

সঠিক উত্তর: b) সামরিক প্রশাসন

ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি একটি শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত সেনাবাহিনী গঠনের জন্য ‘দাগ’ (ঘোড়ার গায়ে চিহ্ন) এবং ‘চেহরা’ (সৈন্যদের ব্যক্তিগত বিবরণ) প্রথা চালু করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল সামরিক বাহিনীর দুর্নীতি রোধ করা এবং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা।

প্রশ্ন ১৫৪: মুহাম্মদ বিন তুঘলক দ্বারা নির্মিত একটি প্রধান শহর কোনটি?

  • a) ফিরোজাবাদ
  • b) জাহানপনাহ
  • c) তুঘলকাবাদ
  • d) ফতেহপুর সিক্রি

সঠিক উত্তর: b) জাহানপনাহ

ব্যাখ্যা: মুহাম্মদ বিন তুঘলক ‘জাহানপনাহ’ নামক একটি নতুন শহর নির্মাণ করেন, যা ছিল দিল্লি শহরের চারটি প্রাচীন শহরের একটি অংশ। এর উদ্দেশ্য ছিল শহরটিকে মঙ্গোল আক্রমণ থেকে রক্ষা করা।

প্রশ্ন ১৫৫: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘দিওয়ান-ই-আমিরি’ (Diwan-i-Amiri) কী ছিল?

  • a) রাজকীয় কোষাগার
  • b) সামরিক বাহিনীর প্রধান দফতর
  • c) রাজকীয় অতিথিশালা
  • d) কৃষির সাথে সম্পর্কিত বিভাগ

সঠিক উত্তর: d) কৃষির সাথে সম্পর্কিত বিভাগ

ব্যাখ্যা: ‘দিওয়ান-ই-আমিরি’ ছিল মুহাম্মদ বিন তুঘলক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘দিওয়ান-ই-কোহি’ বিভাগেরই আরেকটি নাম, যা কৃষি উন্নয়ন এবং পতিত জমি আবাদের জন্য গঠিত হয়েছিল।

প্রশ্ন ১৫৬: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের একটি প্রধান সামরিক বৈশিষ্ট্য কোনটি ছিল?

  • a) শক্তিশালী নৌবাহিনী
  • b) অশ্বারোহী বাহিনীর উপর নির্ভরতা
  • c) হাতির উপর নির্ভরতা
  • d) দুর্গ নির্মাণে দক্ষতা

সঠিক উত্তর: d) দুর্গ নির্মাণে দক্ষতা

ব্যাখ্যা: বিজয়নগর সাম্রাজ্য তাদের শক্তিশালী দুর্গগুলির জন্য বিখ্যাত ছিল। সাম্রাজ্যের প্রতিরক্ষায় দুর্গ নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।

প্রশ্ন ১৫৭: সুলতানি আমলে ‘শামসী ইদগাহ’ (Shamsi Idgah) কে নির্মাণ করেন?

  • a) কুতুবউদ্দিন আইবক
  • b) ইলতুৎমিশ
  • c) ফিরোজ শাহ তুঘলক
  • d) আলাউদ্দিন খলজি

সঠিক উত্তর: b) ইলতুৎমিশ

ব্যাখ্যা: ইলতুৎমিশ তার রাজত্বকালে দিল্লিতে ‘শামসী ইদগাহ’ নির্মাণ করেন, যা ছিল মুসলিমদের ঈদের নামাজ পড়ার জন্য একটি খোলা ময়দান।

প্রশ্ন ১৫৮: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘কুনওয়ার’ (Kunwar) কী ছিল?

  • a) রাজপুত্র
  • b) করের ধরন
  • c) একটি সামরিক পদ
  • d) একটি বিচারিক পদ

সঠিক উত্তর: c) একটি সামরিক পদ

ব্যাখ্যা: ‘কুনওয়ার’ ছিল সুলতানি আমলের একটি সামরিক পদ, যা সম্ভবত ছোট সামরিক দলের প্রধান বা স্থানীয় সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য ব্যবহৃত হত।

প্রশ্ন ১৫৯: কোন ঐতিহাসিক বলেছেন যে, “আলাউদ্দিন খলজির বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছিল একটি অলৌকিক ঘটনা”?

  • a) ইবন বতুতা
  • b) জিয়াউদ্দিন বারানি
  • c) আমির খসরু
  • d) শামস-ই-সিরাজ আফিফ

সঠিক উত্তর: b) জিয়াউদ্দিন বারানি

ব্যাখ্যা: জিয়াউদ্দিন বারানি তার ‘তারিখ-ই-ফিরোজশাহী’ গ্রন্থে আলাউদ্দিন খলজির বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন এবং এর সাফল্যের জন্য এটিকে একটি ‘অলৌকিক ঘটনা’ বলে অভিহিত করেছেন।

প্রশ্ন ১৬০: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের পতন মূলত কোন নদীর তীরে সংঘটিত যুদ্ধের ফল?

  • a) কাবেরী
  • b) তুঙ্গভদ্রা
  • c) কৃষ্ণা
  • d) রাক্ষস তাংড়ি

সঠিক উত্তর: d) রাক্ষস তাংড়ি

ব্যাখ্যা: তালাইকোটার যুদ্ধ ১৫৬৫ খ্রিস্টাব্দে রাক্ষস তাংড়ি নামক স্থানে সংঘটিত হয়েছিল (এটি রাক্ষস এবং তাংড়ি নামক দুটি গ্রামের মধ্যবর্তী স্থান)। এই যুদ্ধ বিজয়নগর সাম্রাজ্যের পতনের প্রধান কারণ ছিল।

প্রশ্ন ১৬১: ফিরোজ শাহ তুঘলক কর্তৃক স্থাপিত ‘দিওয়ান-ই-ইস্তিখারা’ (Diwan-i-Istikhara) কীসের সাথে সম্পর্কিত ছিল?

  • a) বেকারদের কর্মসংস্থান
  • b) দাতব্য চিকিৎসালয়
  • c) ক্রীতদাসদের কল্যাণ
  • d) ধর্মীয় শিক্ষা

সঠিক উত্তর: a) বেকারদের কর্মসংস্থান

ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলক তার জনকল্যাণমূলক নীতির অংশ হিসেবে বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য একটি পৃথক বিভাগ, ‘দিওয়ান-ই-ইস্তিখারা’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা কর্মপ্রার্থীদের কাজের সন্ধান দিতে সাহায্য করত।

প্রশ্ন ১৬২: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘খালিসা’ (Khalisa) কী ছিল?

  • a) সামরিক ক্যাম্প
  • b) সরাসরি সুলতানের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূমি
  • c) ধর্মীয় উদ্দেশ্যে দান করা ভূমি
  • d) প্রদেশের রাজধানী

সঠিক উত্তর: b) সরাসরি সুলতানের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূমি

ব্যাখ্যা: ‘খালিসা’ ছিল সেই সমস্ত ভূমি, যার রাজস্ব সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের কোষাগারে জমা পড়ত। এটি সুলতানের আয়ের একটি প্রধান উৎস ছিল।

প্রশ্ন ১৬৩: বিজয়নগর সাম্রাজ্যে ‘কালাভাদি’ (Kalavadi) কী ছিল?

  • a) এক ধরনের নৃত্য
  • b) সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
  • c) এক ধরনের কর
  • d) মন্দির উপাসনা

সঠিক উত্তর: a) এক ধরনের নৃত্য

ব্যাখ্যা: ‘কালাভাদি’ ছিল বিজয়নগর সাম্রাজ্যে প্রচলিত এক ধরনের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যকলা, যা মন্দিরের উৎসব এবং রাজকীয় অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হত।

প্রশ্ন ১৬৪: কোন সুলতান দিল্লির নিকটবর্তী ‘তুঘলকাবাদ’ শহর নির্মাণ করেন?

  • a) আলাউদ্দিন খলজি
  • b) গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
  • c) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  • d) ফিরোজ শাহ তুঘলক

সঠিক উত্তর: b) গিয়াসউদ্দিন তুঘলক

ব্যাখ্যা: গিয়াসউদ্দিন তুঘলক তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি দিল্লির কাছে ‘তুঘলকাবাদ’ নামক একটি শক্তিশালী দুর্গ শহর নির্মাণ করেন, যা তার সামরিক সক্ষমতা এবং দৃঢ়তার প্রতীক ছিল।

প্রশ্ন ১৬৫: ইলতুৎমিশ কর্তৃক প্রবর্তিত রৌপ্য মুদ্রার নাম কী ছিল?

  • a) দিনার
  • b) তঙ্কা
  • c) জিতল
  • d) রুপি

সঠিক উত্তর: b) তঙ্কা

ব্যাখ্যা: ইলতুৎমিশ ছিলেন প্রথম সুলতান যিনি আরবি পদ্ধতিতে খাঁটি রৌপ্য মুদ্রা ‘তঙ্কা’ এবং তামার মুদ্রা ‘জিতল’ চালু করেন। এই মুদ্রাগুলি সুলতানি আমলের মুদ্রা ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করে।

প্রশ্ন ১৬৬: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কোন রাজা ‘ধর্মসেতু’ (Dharmasetu) উপাধি গ্রহণ করেন?

  • a) কৃষ্ণদেব রায়
  • b) হরিহর প্রথম
  • c) বুক্কা প্রথম
  • d) দেব রায় দ্বিতীয়

সঠিক উত্তর: c) বুক্কা প্রথম

ব্যাখ্যা: বুক্কা প্রথম সঙ্গম বংশের একজন গুরুত্বপূর্ণ শাসক ছিলেন। তিনি হিন্দুধর্মের রক্ষক হিসেবে নিজেকে ‘ধর্মসেতু’ (ধর্মের সেতু) উপাধিতে ভূষিত করেন, কারণ তিনি হিন্দু ধর্মের পুনরুজ্জীবন এবং এর প্রচারের জন্য কাজ করেছিলেন।

প্রশ্ন ১৬৭: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘আরজি’ (Arzi) কী ছিল?

  • a) একটি আবেদনপত্র
  • b) একটি প্রশাসনিক পদ
  • c) একটি কর
  • d) একটি সামরিক পদ

সঠিক উত্তর: a) একটি আবেদনপত্র

ব্যাখ্যা: ‘আরজি’ ছিল সুলতানের কাছে পেশ করা একটি লিখিত আবেদনপত্র বা পিটিশন।

প্রশ্ন ১৬৮: আলাউদ্দিন খলজির বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অধীনে ‘শহনা-ই-মন্ডি’ (Shahna-i-Mandi) কী কাজ করত?

  • a) শস্য বাজার তত্ত্বাবধান
  • b) বস্ত্র বাজার তত্ত্বাবধান
  • c) দাস বাজার তত্ত্বাবধান
  • d) উপরোক্ত সবকটি

সঠিক উত্তর: a) শস্য বাজার তত্ত্বাবধান

ব্যাখ্যা: ‘শহনা-ই-মন্ডি’ ছিলেন বাজারের একজন সুপারিনটেনডেন্ট, যার প্রধান দায়িত্ব ছিল আলাউদ্দিন খলজির বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অধীনে শস্যের বাজার তত্ত্বাবধান করা এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা।

প্রশ্ন ১৬৯: মুহাম্মদ বিন তুঘলকের মৃত্যুর পর কে দিল্লির সুলতান হন?

  • a) গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
  • b) ফিরোজ শাহ তুঘলক
  • c) নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ তুঘলক
  • d) খিজির খান

সঠিক উত্তর: b) ফিরোজ শাহ তুঘলক

ব্যাখ্যা: মুহাম্মদ বিন তুঘলকের মৃত্যুর পর তার চাচাতো ভাই ফিরোজ শাহ তুঘলক ১৩৫১ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সুলতান হন।

প্রশ্ন ১৭০: বিজয়নগর সাম্রাজ্যে ‘তালারি’ (Talari) কী ছিল?

  • a) গ্রামের প্রধান
  • b) গ্রামের হিসাবরক্ষক
  • c) গ্রামের প্রহরী
  • d) গ্রামের বিচারক

সঠিক উত্তর: c) গ্রামের প্রহরী

ব্যাখ্যা: ‘তালারি’ ছিল বিজয়নগর সাম্রাজ্যের গ্রামীণ প্রশাসনের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মচারী, যিনি গ্রামের নিরাপত্তা এবং প্রহরায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি আয়াগার ব্যবস্থার অংশ ছিলেন।

প্রশ্ন ১৭১: কোন সুলতান নিজেকে ‘সিকান্দার-ই-সানি’ (দ্বিতীয় আলেকজান্ডার) বলে ঘোষণা করেন?

  • a) ইলতুৎমিশ
  • b) গিয়াসউদ্দিন বলবন
  • c) আলাউদ্দিন খলজি
  • d) মুহাম্মদ বিন তুঘলক

সঠিক উত্তর: c) আলাউদ্দিন খলজি

ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি ছিলেন অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী। তিনি বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন দেখতেন এবং এই কারণে নিজেকে ‘সিকান্দার-ই-সানি’ বা ‘দ্বিতীয় আলেকজান্ডার’ উপাধি দিয়েছিলেন।

প্রশ্ন ১৭২: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘উলুগ খান’ উপাধিটি কোন শাসক গ্রহণ করেছিলেন?

  • a) গিয়াসউদ্দিন বলবন
  • b) আলাউদ্দিন খলজি
  • c) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  • d) ফিরোজ শাহ তুঘলক

সঠিক উত্তর: a) গিয়াসউদ্দিন বলবন

ব্যাখ্যা: গিয়াসউদ্দিন বলবন সুলতান হওয়ার আগে নাসিরউদ্দিন মাহমুদ কর্তৃক ‘উলুগ খান’ উপাধি লাভ করেন এবং ওয়াজিরের দায়িত্ব পালন করেন।

প্রশ্ন ১৭৩: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কোন বিখ্যাত পর্তুগিজ পর্যটক ঘোড়া ব্যবসায়ের উপর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন?

  • a) নিকোলো কন্টি
  • b) আব্দুর রাজ্জাক
  • c) ডোমিঙ্গো পেস
  • d) ফার্নাও নুনীজ

সঠিক উত্তর: d) ফার্নাও নুনীজ

ব্যাখ্যা: পর্তুগিজ পর্যটক ফার্নাও নুনীজ অচ্যুতা রায়ের রাজত্বকালে বিজয়নগর ভ্রমণ করেন। তার বিবরণীতে তিনি বিজয়নগরের ঘোড়া ব্যবসা, সেনাবাহিনীর সংগঠন এবং মহানবমী উৎসব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন।

প্রশ্ন ১৭৪: ফিরোজ শাহ তুঘলক দ্বারা নির্মিত ‘কোটলা ফিরোজ শাহ’ (Kotla Firoz Shah) কোথায় অবস্থিত?

  • a) আগ্রা
  • b) লাহোর
  • c) দিল্লি
  • d) ফতেহপুর সিক্রি

সঠিক উত্তর: c) দিল্লি

ব্যাখ্যা: ‘কোটলা ফিরোজ শাহ’ হল ফিরোজ শাহ তুঘলক দ্বারা নির্মিত ‘ফিরোজাবাদ’ শহরের একটি অংশ, যা বর্তমানে দিল্লির একটি ঐতিহাসিক স্থান। এটি একটি বিশাল দুর্গ এবং রাজকীয় প্রাসাদ কমপ্লেক্স ছিল।

প্রশ্ন ১৭৫: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘খান’ (Khan) কী ছিল?

  • a) সুলতানের উপাধি
  • b) উচ্চ সামরিক ও প্রশাসনিক পদ
  • c) রাজস্বের প্রকার
  • d) একটি মুদ্রা

সঠিক উত্তর: b) উচ্চ সামরিক ও প্রশাসনিক পদ

ব্যাখ্যা: ‘খান’ ছিল সুলতানি আমলে একটি উচ্চ সামরিক ও প্রশাসনিক পদ, যা অভিজাতদের দেওয়া হত। এটি সাধারণত সামরিক প্রধান বা প্রদেশের গভর্নরদের জন্য ব্যবহৃত হত।

প্রশ্ন ১৭৬: আলাউদ্দিন খলজির সময়কালে কোন ধরনের কর ‘ঘরি’ (Ghari) নামে পরিচিত ছিল?

  • a) গৃহ কর
  • b) চারণভূমি কর
  • c) বাণিজ্য কর
  • d) সেচ কর

সঠিক উত্তর: a) গৃহ কর

ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি কর্তৃক প্রবর্তিত ‘ঘরি’ ছিল গৃহ কর, যা প্রতিটি বাড়ির উপর ধার্য করা হত। এটি রাজস্ব আদায়ের একটি নতুন উপায় ছিল।

প্রশ্ন ১৭৭: মুহাম্মদ বিন তুঘলকের সময়কালে ‘মুরিশ’ (Moorish) পর্যটক কে ছিলেন?

  • a) মার্কো পোলো
  • b) ইবন বতুতা
  • c) র্যালফ ফিচ
  • d) ফ্রান্সিস বার্নিয়ার

সঠিক উত্তর: b) ইবন বতুতা

ব্যাখ্যা: ইবন বতুতা ছিলেন মরক্কোর একজন পর্যটক, যিনি ১৪ শতকে মুহাম্মদ বিন তুঘলকের রাজত্বকালে ভারতে এসেছিলেন এবং দীর্ঘকাল অবস্থান করেন। তাকে ‘মুরিশ’ পর্যটক বলা হয় কারণ তিনি উত্তর আফ্রিকার মুরিশ অঞ্চল থেকে এসেছিলেন।

প্রশ্ন ১৭৮: বিজয়নগর সাম্রাজ্যে ‘আয়গার ব্যবস্থা’ কীসের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল?

  • a) সামন্ততন্ত্র
  • b) রাজকীয় ডিক্রি
  • c) গ্রামীণ স্বায়ত্তশাসন
  • d) ধর্মীয় আইন

সঠিক উত্তর: c) গ্রামীণ স্বায়ত্তশাসন

ব্যাখ্যা: আয়গার ব্যবস্থা ছিল বিজয়নগর সাম্রাজ্যের গ্রামীণ প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এতে গ্রামের কার্যাবলী পরিচালনার জন্য স্থানীয় কর্মকর্তাদের একটি গোষ্ঠী (আয়গার) গ্রামকে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করত।

প্রশ্ন ১৭৯: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘দিওয়ান-ই-কাজা’ (Diwan-i-Qaza) কোন ধর্মীয় আইন প্রয়োগ করত?

  • a) হিন্দু আইন
  • b) বৌদ্ধ আইন
  • c) শরিয়ত আইন
  • d) সাধারণ আইন

সঠিক উত্তর: c) শরিয়ত আইন

ব্যাখ্যা: ‘দিওয়ান-ই-কাজা’ ছিল বিচার বিভাগ, যা ইসলামিক শরিয়ত আইন অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনা করত। ‘কাজী-উল-কুজ্জাত’ ছিলেন এই বিভাগের প্রধান।

প্রশ্ন ১৮০: আলাউদ্দিন খলজি দ্বারা নির্মিত বিখ্যাত ‘আলাই দরওয়াজা’ (Alai Darwaza) কোথায় অবস্থিত?

  • a) আগ্রা
  • b) দিল্লি (কুতুব কমপ্লেক্স)
  • c) লাহোর
  • d) ফতেহপুর সিক্রি

সঠিক উত্তর: b) দিল্লি (কুতুব কমপ্লেক্স)

ব্যাখ্যা: ‘আলাই দরওয়াজা’ কুতুব কমপ্লেক্সের একটি সুন্দর প্রবেশদ্বার, যা আলাউদ্দিন খলজি কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল। এটি ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্যের একটি চমৎকার উদাহরণ।

প্রশ্ন ১৮১: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘ফৌজদার’ (Faujdar) কে ছিলেন?

  • a) সামরিক প্রধান এবং এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষক
  • b) প্রধান বিচারক
  • c) রাজস্ব আদায়কারী
  • d) বাজার পরিদর্শক

সঠিক উত্তর: a) সামরিক প্রধান এবং এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষক

ব্যাখ্যা: ‘ফৌজদার’ ছিলেন সুলতানি আমলে একটি প্রদেশের বা জেলার প্রধান সামরিক কর্মকর্তা, যিনি তার এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামরিক প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন।

প্রশ্ন ১৮২: আলাউদ্দিন খলজির সামরিক সংস্কারের অংশ হিসেবে, তিনি সৈন্যদের জন্য কী ধরনের বেতন ব্যবস্থা চালু করেন?

  • a) ইকতা ভূমি অনুদান
  • b) শুধুমাত্র শস্যে বেতন
  • c) নগদ বেতন
  • d) সামরিক পোশাক এবং অস্ত্র

সঠিক উত্তর: c) নগদ বেতন

ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি ছিলেন প্রথম সুলতান যিনি তার বিশাল সেনাবাহিনীকে সরাসরি নগদ বেতন প্রদান শুরু করেন, যা ইকতা ব্যবস্থার বিপরীতে ছিল এবং সামরিক বাহিনীকে সুলতানের প্রতি সরাসরি নির্ভরশীল করে তুলেছিল।

প্রশ্ন ১৮৩: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের ‘কিশানদেও রায়’ (Kishanadev Raya) কোন নামে বেশি পরিচিত?

  • a) দেব রায় প্রথম
  • b) কৃষ্ণদেব রায়
  • c) অচ্যুতা রায়
  • d) সদাশিব রায়

সঠিক উত্তর: b) কৃষ্ণদেব রায়

ব্যাখ্যা: ‘কিশানদেও রায়’ নামটি ‘কৃষ্ণদেব রায়’-এর একটি প্রচলিত রূপ। তিনি ছিলেন বিজয়নগর সাম্রাজ্যের তুলুভ বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক।

প্রশ্ন ১৮৪: মুহাম্মদ বিন তুঘলকের কোন পরীক্ষাটি ‘দোয়াব অঞ্চলে কর বৃদ্ধি’ নামে পরিচিত ছিল?

  • a) রাজধানী স্থানান্তর
  • b) প্রতীকী মুদ্রা প্রচলন
  • c) গঙ্গা-যমুনা দোয়াব অঞ্চলে অতিরিক্ত কর আরোপ
  • d) খুরাসান অভিযান

সঠিক উত্তর: c) গঙ্গা-যমুনা দোয়াব অঞ্চলে অতিরিক্ত কর আরোপ

ব্যাখ্যা: মুহাম্মদ বিন তুঘলক রাজকোষ পূরণের জন্য গঙ্গা-যমুনা দোয়াব অঞ্চলের উর্বর কৃষিজমিতে অতিরিক্ত কর আরোপ করেন। তবে এই সময়ে দুর্ভিক্ষ হওয়ায় তার এই পদক্ষেপ ব্যর্থ হয় এবং কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে।

প্রশ্ন ১৮৫: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘আমির-ই-কোহি’ (Amir-i-Kohi) বিভাগের মূল কাজ কী ছিল?

  • a) সেনাবাহিনীর ঘোড়া রক্ষণাবেক্ষণ
  • b) কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি
  • c) রাস্তা নির্মাণ
  • d) বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ

সঠিক উত্তর: b) কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি

ব্যাখ্যা: ‘আমির-ই-কোহি’ ছিল মুহাম্মদ বিন তুঘলক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি বিশেষ কৃষি বিভাগ, যার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পতিত জমিকে আবাদি জমিতে পরিণত করা এবং কৃষকদের সহায়তা করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা।

প্রশ্ন ১৮৬: ফিরোজ শাহ তুঘলক দ্বারা নির্মিত ‘হিসার ফিরোজা’ (Hisar Firoza) শহরটি কোথায় অবস্থিত?

  • a) পাঞ্জাব
  • b) হরিয়ানা
  • c) উত্তর প্রদেশ
  • d) রাজস্থান

সঠিক উত্তর: b) হরিয়ানা

ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলক বেশ কয়েকটি নতুন শহর নির্মাণ করেন, যার মধ্যে হরিয়ানা রাজ্যের ‘হিসার ফিরোজা’ অন্যতম। এই শহরটি তার নামানুসারেই নামকরণ করা হয়েছিল।

প্রশ্ন ১৮৭: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের শাসক কৃষ্ণদেব রায় কোন ভাষায় ‘আমুত্যমাল্যদ’ রচনা করেন?

  • a) কন্নড়
  • b) তামিল
  • c) তেলুগু
  • d) সংস্কৃত

সঠিক উত্তর: c) তেলুগু

ব্যাখ্যা: কৃষ্ণদেব রায় নিজেই একজন সাহিত্যিক ছিলেন এবং তেলুগু ভাষায় ‘আমুত্যমাল্যদ’ নামক একটি মহাকাব্য রচনা করেন। এটি তেলুগু সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রশ্ন ১৮৮: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘নিয়াবত’ (Niyabat) কী ছিল?

  • a) ওয়াজিরের উপাধি
  • b) সুলতানের প্রতিনিধি
  • c) একটি কর ব্যবস্থা
  • d) একটি সামরিক পদ

সঠিক উত্তর: b) সুলতানের প্রতিনিধি

ব্যাখ্যা: ‘নিয়াবত’ শব্দটি সুলতানের প্রতিনিধি বা ভারপ্রাপ্ত শাসককে বোঝাতে ব্যবহৃত হত, বিশেষত যখন সুলতানের অনুপস্থিতি বা দুর্বলতা দেখা দিত। গিয়াসউদ্দিন বলবন ক্ষমতা গ্রহণের আগে নাসিরউদ্দিন মাহমুদের অধীনে ‘নিয়াবত’ হিসেবে কাজ করেছিলেন।

প্রশ্ন ১৮৯: ‘তুঘলকনামা’ গ্রন্থটি কোন সুলতানের রাজত্বকালে রচিত হয়েছিল?

  • a) গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
  • b) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  • c) ফিরোজ শাহ তুঘলক
  • d) নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ তুঘলক

সঠিক উত্তর: a) গিয়াসউদ্দিন তুঘলক

ব্যাখ্যা: আমির খসরু রচিত ‘তুঘলকনামা’ গ্রন্থটি গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের সিংহাসনে আরোহণ এবং তার প্রাথমিক রাজত্বকাল সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা দেয়।

প্রশ্ন ১৯০: বিজয়নগর সাম্রাজ্যে ‘গ্রাম’ (Grama) কীসের একক ছিল?

  • a) রাজস্ব সংগ্রহ
  • b) প্রশাসনিক ব্যবস্থা
  • c) সামরিক বিভাগ
  • d) মন্দির উপাসনা

সঠিক উত্তর: b) প্রশাসনিক ব্যবস্থা

ব্যাখ্যা: বিজয়নগর সাম্রাজ্যে ‘গ্রাম’ ছিল প্রশাসনের ক্ষুদ্রতম একক। গ্রামের নিজস্ব স্বায়ত্তশাসন ছিল এবং ‘আয়গার ব্যবস্থা’র মাধ্যমে এর প্রশাসনিক কাজ পরিচালিত হত।

প্রশ্ন ১৯১: আলাউদ্দিন খলজির সময়কালে ‘দাগ’ এবং ‘চেহরা’ প্রথার প্রধান সুবিধা কী ছিল?

  • a) কৃষকদের উপর কর কমানো
  • b) সামরিক বাহিনীর দক্ষতা ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধি
  • c) বাণিজ্য সহজ করা
  • d) ধর্মীয় স্বাধীনতা বৃদ্ধি

সঠিক উত্তর: b) সামরিক বাহিনীর দক্ষতা ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধি

ব্যাখ্যা: ‘দাগ’ (ঘোড়ার গায়ে চিহ্নিতকরণ) এবং ‘চেহরা’ (সৈন্যদের ব্যক্তিগত বিবরণ নথিভুক্তকরণ) প্রথা সামরিক বাহিনীর মধ্যে দুর্নীতি হ্রাস করে এবং তাদের দক্ষতা ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

প্রশ্ন ১৯২: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘নক্কাস’ (Naqqash) কারা ছিল?

  • a) চিত্রশিল্পী
  • b) ভাস্কর
  • c) লিপিকার
  • d) মুদ্রার নকশাকার

সঠিক উত্তর: a) চিত্রশিল্পী

ব্যাখ্যা: ‘নক্কাস’ ছিলেন সুলতানি আমলে একজন চিত্রশিল্পী বা অলঙ্করণকারী, যারা পাণ্ডুলিপি বা ভবনের অলঙ্করণের কাজে নিযুক্ত ছিলেন।

প্রশ্ন ১৯৩: মুহাম্মদ বিন তুঘলক কোন বিদ্রোহ দমনের জন্য শেষ পর্যন্ত সিন্ধু প্রদেশে মারা যান?

  • a) কামরানের বিদ্রোহ
  • b) তাগিদের বিদ্রোহ
  • c) কিসলু খানের বিদ্রোহ
  • d) বাহমনি বিদ্রোহ

সঠিক উত্তর: b) তাগিদের বিদ্রোহ

ব্যাখ্যা: মুহাম্মদ বিন তুঘলক গুজরাটে তাগিদের বিদ্রোহ দমনের জন্য অভিযান চালান এবং এর সূত্র ধরে সিন্ধু প্রদেশের থাট্টার কাছে মারা যান।

প্রশ্ন ১৯৪: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কোন বিখ্যাত মন্দিরটি ‘পাথরের রথ’ (Stone Chariot) এর জন্য পরিচিত?

  • a) হাজার রাম মন্দির
  • b) বিঠ্ঠল স্বামী মন্দির
  • c) বিরুপাক্ষ মন্দির
  • d) কৃষ্ণ মন্দির

সঠিক উত্তর: b) বিঠ্ঠল স্বামী মন্দির

ব্যাখ্যা: হাম্পির বিঠ্ঠল স্বামী মন্দিরটি তার স্থাপত্যের জন্য অত্যন্ত বিখ্যাত, এবং এর চত্বরে অবস্থিত বিশাল ‘পাথরের রথ’ (Stone Chariot) এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

প্রশ্ন ১৯৫: ফিরোজ শাহ তুঘলক কর্তৃক স্থাপিত ‘দিওয়ান-ই-কাজার-ই-আদল’ (Diwan-i-Qaza-i-Adl) কী ছিল?

  • a) রাজকীয় বিচার আদালত
  • b) দাতব্য বিভাগ
  • c) অর্থ বিভাগ
  • d) নতুন রাজস্ব বিভাগ

সঠিক উত্তর: a) রাজকীয় বিচার আদালত

ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলক শরিয়ত আইনের উপর ভিত্তি করে বিচার ব্যবস্থা সুসংহত করেন এবং ‘দিওয়ান-ই-কাজার-ই-আদল’ নামক একটি রাজকীয় বিচার আদালত প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রশ্ন ১৯৬: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘খলজি বিপ্লব’ কত সালে সংঘটিত হয়?

  • a) ১২০৬ খ্রিস্টাব্দ
  • b) ১২৯০ খ্রিস্টাব্দ
  • c) ১৩২০ খ্রিস্টাব্দ
  • d) ১৩৯৮ খ্রিস্টাব্দ

সঠিক উত্তর: b) ১২৯০ খ্রিস্টাব্দ

ব্যাখ্যা: ১২৯০ খ্রিস্টাব্দে জালালউদ্দিন খলজি দাস বংশের শেষ শাসক কায়ুমার্সকে ক্ষমতাচ্যুত করে খলজি বংশের প্রতিষ্ঠা করেন। এই ঘটনাকে ‘খলজি বিপ্লব’ বলা হয়, কারণ এটি দিল্লির ক্ষমতা কাঠামোতে একটি বড় পরিবর্তন এনেছিল।

প্রশ্ন ১৯৭: বিজয়নগর সাম্রাজ্যে ‘মহানবমী ডিব্বা’ কোন উৎসবের সাথে জড়িত ছিল?

  • a) নবরাত্রি/দশেরা
  • b) দীপাবলি
  • c) হোলি
  • d) সংক্রান্তি

সঠিক উত্তর: a) নবরাত্রি/দশেরা

ব্যাখ্যা: ‘মহানবমী ডিব্বা’ ছিল বিজয়নগরের একটি বিশাল রাজকীয় প্ল্যাটফর্ম, যেখানে প্রতি বছর নবরাত্রি বা দশেরা উৎসব মহা আড়ম্বরের সাথে পালিত হত। এই উৎসব সামরিক শক্তি ও রাজকীয় কর্তৃত্ব প্রদর্শনের একটি মাধ্যম ছিল।

প্রশ্ন ১৯৮: দিল্লি সুলতানি আমলে ‘সুলতান-উল-আজম’ (Sultan-ul-Azam) উপাধিটি কে গ্রহণ করেন?

  • a) কুতুবউদ্দিন আইবক
  • b) ইলতুৎমিশ
  • c) গিয়াসউদ্দিন বলবন
  • d) আলাউদ্দিন খলজি

সঠিক উত্তর: b) ইলতুৎমিশ

ব্যাখ্যা: ইলতুৎমিশ, খলিফার কাছ থেকে স্বীকৃতি লাভের পর নিজেকে ‘সুলতান-উল-আজম’ (মহান সুলতান) উপাধি দিয়েছিলেন, যা তার সার্বভৌম ক্ষমতাকে বৈধতা দেয়।

প্রশ্ন ১৯৯: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের শেষ রাজবংশ কোনটি ছিল?

  • a) সঙ্গম বংশ
  • b) সালুভ বংশ
  • c) তুলুভ বংশ
  • d) আরাভিদু বংশ

সঠিক উত্তর: d) আরাভিদু বংশ

ব্যাখ্যা: আরাভিদু বংশ ছিল বিজয়নগর সাম্রাজ্যের চতুর্থ এবং শেষ রাজবংশ। তালাইকোটার যুদ্ধের পর এই বংশের রাজারা সাম্রাজ্যের অবশিষ্টাংশকে দীর্ঘকাল ধরে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন।

প্রশ্ন ২০০: ফিরোজ শাহ তুঘলকের আমলে ‘জাকাত’ (Zakat) করের পরিমাণ কত ছিল?

  • a) সম্পদের ১/৪ অংশ
  • b) সম্পদের ১/৮ অংশ
  • c) সম্পদের ১/১০ অংশ
  • d) সম্পদের ২.৫%

সঠিক উত্তর: d) সম্পদের ২.৫%

ব্যাখ্যা: ‘জাকাত’ ছিল মুসলিমদের উপর ধার্য একটি বাধ্যতামূলক ধর্মীয় কর, যা তাদের সম্পদের ২.৫% হারে নেওয়া হত এবং এটি দরিদ্র ও অসহায়দের কল্যাণে ব্যবহৃত হত। ফিরোজ শাহ তুঘলক শরিয়ত আইন কঠোরভাবে অনুসরণ করতেন।

Scroll to Top