প্রাচীন ভারতের ইতিহাস (MCQ)
সিন্ধু সভ্যতা
প্রশ্ন ১: সিন্ধু সভ্যতার প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
সঠিক উত্তর: b) উন্নত নগর পরিকল্পনা
বিস্তারিত: সিন্ধু সভ্যতার (হরপ্পা সভ্যতা নামেও পরিচিত) অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল এর সুপরিকল্পিত নগরী, যেমন হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো। এখানে সুসংবদ্ধ রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং দুর্গ দেখা যেত।
প্রশ্ন ২: সিন্ধু সভ্যতার বৃহত্তম কেন্দ্র কোনটি?
সঠিক উত্তর: b) মহেঞ্জোদারো
বিস্তারিত: মহেঞ্জোদারো ছিল সিন্ধু সভ্যতার বৃহত্তম এবং সবচেয়ে বিখ্যাত নগরী, যেখানে বৃহৎ স্নানাগার, শস্যাগার এবং উন্নত আবাসনের নিদর্শন পাওয়া গেছে।
প্রশ্ন ৩: সিন্ধু সভ্যতার মানুষের প্রধান পেশা কী ছিল?
সঠিক উত্তর: c) কৃষি
বিস্তারিত: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ মূলত কৃষিকাজ করত, যেখানে গম, বার্লি, ডাল ইত্যাদি প্রধান ফসল ছিল। তবে ব্যবসা-বাণিজ্যও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
প্রশ্ন ৪: সিন্ধু সভ্যতার পতন সম্পর্কে নিচের কোন তত্ত্বটি সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য?
সঠিক উত্তর: d) উপরের সবগুলি
বিস্তারিত: সিন্ধু সভ্যতার পতনের জন্য একাধিক কারণকে দায়ী করা হয়। আর্য আক্রমণ, সিন্ধু নদে ঘন ঘন বন্যা, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীপথের পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক সংকট সম্মিলিতভাবে এই সভ্যতার পতনে ভূমিকা রেখেছিল বলে মনে করা হয়।
প্রশ্ন ৫: হরপ্পা সভ্যতার পতনের একটি সম্ভাব্য কারণ হিসাবে কোনটিকে ধরা হয় না?
সঠিক উত্তর: c) উন্নত লোহার অস্ত্রের ব্যবহার
বিস্তারিত: সিন্ধু সভ্যতার সময়কালে লোহার ব্যবহার প্রচলিত ছিল না। আর্যদের আগমনের সাথে লোহার ব্যবহার শুরু হয়, যা এই সভ্যতার পতনের কারণ হিসেবে সরাসরি যুক্ত নয়।
প্রশ্ন ৬: সিন্ধু সভ্যতার কোন স্থানটি একটি বন্দর নগরী হিসেবে পরিচিত?
সঠিক উত্তর: c) লোথাল
বিস্তারিত: লোথাল ছিল সিন্ধু সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী, যা গুজরাটে অবস্থিত। এখানে একটি কৃত্রিম পোতাশ্রয়ের (ডকইয়ার্ড) নিদর্শন পাওয়া গেছে।
প্রশ্ন ৭: সিন্ধু সভ্যতার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলিতে প্রায়শই কোন প্রাণীটির চিত্র দেখা যায় না?
সঠিক উত্তর: c) ঘোড়া
বিস্তারিত: সিন্ধু সভ্যতার সিলমোহর ও মৃৎশিল্পে ষাঁড়, বাঘ, হাতি, গন্ডার ইত্যাদির চিত্র পাওয়া যায়। ঘোড়ার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বিরল এবং বিতর্কিত, যা আর্যদের আগমনের সাথে বেশি সম্পর্কিত।
প্রশ্ন ৮: মহেঞ্জোদারোর ‘বৃহৎ স্নানাগার’ কীসের প্রমাণ?
সঠিক উত্তর: b) ধর্মীয় ও সামাজিক সমাবেশের গুরুত্ব
বিস্তারিত: মহেঞ্জোদারোর বৃহৎ স্নানাগারটি সম্ভবত ধর্মীয় শুদ্ধিকরণ বা সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হত, যা সিন্ধু সভ্যতার মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক রীতিনীতির পরিচায়ক।
প্রশ্ন ৯: হরপ্পা সভ্যতার প্রধানত কোন ধরণের ধর্মীয় বিশ্বাস প্রচলিত ছিল?
সঠিক উত্তর: b) প্রকৃতি পূজা ও মাতৃদেবী উপাসনা
বিস্তারিত: সিন্ধু সভ্যতার মানুষেরা সম্ভবত মাতৃদেবী (Fertility Goddess), পশুপতি মহাদেব এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি (যেমন গাছ, পাথর) পূজা করত। কোনো মন্দির বা সুস্পষ্ট ধর্মীয় গ্রন্থ পাওয়া যায়নি।
প্রশ্ন ১০: সিন্ধু সভ্যতার বাড়িঘর তৈরিতে সাধারণত কী ব্যবহার করা হত?
সঠিক উত্তর: a) পোড়া ইট
বিস্তারিত: সিন্ধু সভ্যতার নগরীগুলিতে পোড়া ইটের সুপরিকল্পিত ব্যবহার দেখা যায়, যা তাদের উন্নত স্থাপত্য জ্ঞান এবং স্থায়িত্বের প্রতি মনোযোগের ইঙ্গিত দেয়।
প্রশ্ন ১১: সিন্ধু সভ্যতার মানুষদের কোন ধাতুর ব্যবহার সম্পর্কে জানা ছিল না?
সঠিক উত্তর: d) লোহা
বিস্তারিত: সিন্ধু সভ্যতার মানুষেরা তামা, ব্রোঞ্জ, সোনা এবং রূপার ব্যবহার জানত, কিন্তু লোহার ব্যবহার তাদের অজানা ছিল। লোহার ব্যবহার পরবর্তীকালে আর্যদের আগমনের সাথে শুরু হয়।
প্রশ্ন ১২: সিন্ধু সভ্যতার সিলমোহরগুলি সাধারণত কী দিয়ে তৈরি হত?
সঠিক উত্তর: c) স্টেটাইট (Soapstone)
বিস্তারিত: সিন্ধু সভ্যতার বেশিরভাগ সিলমোহর নরম স্টেটাইট পাথর দিয়ে তৈরি। এগুলিতে বিভিন্ন পশুর চিত্র এবং একটি অপঠিত লিপি খোদাই করা আছে।
প্রশ্ন ১৩: সিন্ধু সভ্যতার লোকেরা কিসের চাষ করত না?
সঠিক উত্তর: a) ধান
বিস্তারিত: সিন্ধু সভ্যতার লোকেরা গম, বার্লি, ডাল এবং তুলার চাষ করত। ধানের চাষের খুব কম প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং এটি মূল ফসল ছিল না।
প্রশ্ন ১৪: হরপ্পা সভ্যতার অধিবাসীদের কোন প্রাণীর প্রতি বিশেষ ভক্তি ছিল বলে মনে করা হয়?
সঠিক উত্তর: b) একশৃঙ্গী ষাঁড় (Unicorn bull)
বিস্তারিত: সিন্ধু সভ্যতার সিলমোহরগুলিতে একশৃঙ্গী ষাঁড়ের চিত্র ব্যাপকভাবে দেখা যায়, যা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস বা প্রতীকী গুরুত্বের ইঙ্গিত দেয়। এটি একটি পৌরাণিক প্রাণী হতে পারে।
প্রশ্ন ১৫: সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতার প্রাচীনতম স্থানগুলির মধ্যে কোনটি বর্তমানে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে অবস্থিত?
সঠিক উত্তর: c) বনওয়ালি
বিস্তারিত: বনওয়ালি হরিয়ানা রাজ্যে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধু সভ্যতার কেন্দ্র, যেখানে উন্নত নগর পরিকল্পনা এবং কৃষি কাজের নিদর্শন পাওয়া গেছে। মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা পাকিস্তানে, এবং লোথাল গুজরাটে অবস্থিত।
প্রশ্ন ১৬: সিন্ধু সভ্যতার শহরগুলির বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ‘গ্রিড প্যাটার্ন’ বলতে কী বোঝায়?
সঠিক উত্তর: b) রাস্তাগুলি সমান্তরালভাবে এবং একে অপরের সাথে সমকোণে মিলিত হত
বিস্তারিত: হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর নগর পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত উন্নত। রাস্তাগুলি একটি গ্রিড প্যাটার্নে সমান্তরালভাবে তৈরি হয়েছিল এবং একে অপরের সাথে সমকোণে ছেদ করত, যা শহরের সুশৃঙ্খল বিন্যাসের ইঙ্গিত দেয়।
প্রশ্ন ১৭: হরপ্পা সভ্যতার নগরগুলির মধ্যে কোনটি তিনটি ভাগে বিভক্ত ছিল (দুর্গ, মধ্যম শহর, নিম্ন শহর)?
সঠিক উত্তর: c) ঢোলাভিরা
বিস্তারিত: ঢোলাভিরা ছিল সিন্ধু সভ্যতার একটি অনন্য নগরী, যা অন্যান্য স্থানের মতো দুটি ভাগে বিভক্ত না হয়ে, দুর্গ, মধ্যম শহর এবং নিম্ন শহর – এই তিনটি সুস্পষ্ট ভাগে বিভক্ত ছিল।
প্রশ্ন ১৮: সিন্ধু সভ্যতার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান চানহুদারো কোন শিল্পের জন্য বিখ্যাত?
সঠিক উত্তর: b) পুঁতি তৈরি
বিস্তারিত: চানহুদারো ছিল সিন্ধু সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প কেন্দ্র, বিশেষ করে পুঁতি (bead) তৈরির জন্য এটি বিখ্যাত ছিল। এখানে পুঁতি তৈরির কারখানার নিদর্শন পাওয়া গেছে।
প্রশ্ন ১৯: সিন্ধু সভ্যতার কোন স্থানটিতে একটি অগ্নিকুণ্ড (fire altars) পাওয়া গেছে, যা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ইঙ্গিত দেয়?
সঠিক উত্তর: c) কালিবঙ্গান
বিস্তারিত: রাজস্থানের কালিবঙ্গান প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে একাধিক অগ্নিকুণ্ডের নিদর্শন পাওয়া গেছে, যা সিন্ধু সভ্যতার মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও যজ্ঞের মতো আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি ইঙ্গিত করে।
প্রশ্ন ২০: সিন্ধু সভ্যতার লোকেদের প্রধানত কোন শহরগুলির সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিল?
সঠিক উত্তর: a) মেসোপটেমিয়া (সুমেরীয় সভ্যতা)
বিস্তারিত: সিন্ধু সভ্যতার লোকেদের মেসোপটেমিয়া (বিশেষ করে সুমেরীয় সভ্যতা) এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সাথে সক্রিয় বাণিজ্য সম্পর্ক ছিল, যার প্রমাণ সিলমোহর ও অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।
বৈদিক সভ্যতা
প্রশ্ন ২১: বৈদিক যুগের তথ্য মূলত কোথা থেকে পাওয়া যায়?
সঠিক উত্তর: c) বেদ
বিস্তারিত: বৈদিক সভ্যতা সম্পর্কে আমাদের প্রধান উৎস হল চারটি বেদ: ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ এবং অথর্ববেদ। এগুলি থেকে তাদের সমাজ, ধর্ম, অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক কাঠামো সম্পর্কে জানা যায়।
প্রশ্ন ২২: বৈদিক যুগে প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা কেমন ছিল?
সঠিক উত্তর: b) পিতৃতান্ত্রিক
বিস্তারিত: বৈদিক সমাজ মূলত পিতৃতান্ত্রিক ছিল, যেখানে পরিবারের কর্তা ছিলেন পুরুষ এবং বংশের পরিচয় পিতার দিক থেকে নির্ধারিত হত।
প্রশ্ন ২৩: বৈদিক যুগের শেষ ভাগকে কী বলা হয়?
সঠিক উত্তর: c) পরবর্তী বৈদিক যুগ
বিস্তারিত: বৈদিক যুগকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয় – ঋগবৈদিক যুগ (১৫০০-১০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) এবং পরবর্তী বৈদিক যুগ (১০০০-৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)। পরবর্তী বৈদিক যুগে সমাজ ও ধর্মের জটিলতা বৃদ্ধি পায়।
প্রশ্ন ২৪: ঋগ্বেদে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক স্তুতি কোন দেবতাকে উৎসর্গ করা হয়েছে?
সঠিক উত্তর: b) ইন্দ্র
বিস্তারিত: ঋগ্বেদে ২৫০টি স্তুতি ইন্দ্রকে উৎসর্গ করা হয়েছে, যিনি ছিলেন যুদ্ধের দেবতা এবং বজ্রের অধিপতি। তাকে ‘পুরন্দর’ (দুর্গ ধ্বংসকারী) নামেও ডাকা হত।
প্রশ্ন ২৫: বৈদিক যুগে ‘বলি’ (Bali) বলতে কী বোঝানো হত?
সঠিক উত্তর: b) স্বেচ্ছাপ্রণোদিত কর বা উপহার
বিস্তারিত: ঋগ্বৈদিক যুগে ‘বলি’ ছিল প্রজাদের দ্বারা রাজাকে প্রদত্ত একটি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত কর বা উপহার। পরবর্তী বৈদিক যুগে এটি বাধ্যতামূলক করে পরিণত হয়।
প্রশ্ন ২৬: বৈদিক সমাজের বর্ণপ্রথা কিসের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছিল?
সঠিক উত্তর: b) পেশা
বিস্তারিত: প্রাথমিকভাবে ঋগ্বৈদিক সমাজের বর্ণপ্রথা পেশার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছিল এবং এটি নমনীয় ছিল। তবে পরবর্তী বৈদিক যুগে এটি জন্মভিত্তিক ও কঠোর হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন ২৭: চারটি বেদের মধ্যে কোনটি যজ্ঞের মন্ত্র ও নিয়মাবলী নিয়ে আলোচনা করে?
সঠিক উত্তর: c) যজুর্বেদ
বিস্তারিত: যজুর্বেদ মূলত যজ্ঞের মন্ত্র, আচার-অনুষ্ঠান এবং নিয়মাবলী নিয়ে গঠিত। সামবেদে গানের মন্ত্র, ঋগ্বেদে স্তুতি এবং অথর্ববেদে জাদুবিদ্যা ও আয়ুর্বেদ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
প্রশ্ন ২৮: ঋগ্বৈদিক যুগে সামাজিক স্তরবিন্যাসকে কী বলা হত?
সঠিক উত্তর: a) বর্ণ
বিস্তারিত: ঋগ্বৈদিক যুগে সমাজকে বর্ণে বিভক্ত করা হয়েছিল, যা প্রাথমিকভাবে পেশার ভিত্তিতে ছিল (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র)। এটি পরবর্তীকালে জন্মভিত্তিক জাতিপ্রথায় পরিণত হয়।
প্রশ্ন ২৯: কোন বৈদিক গ্রন্থে প্রথম ‘সৃষ্টির রহস্য’ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়?
সঠিক উত্তর: a) ঋগ্বেদ
বিস্তারিত: ঋগ্বেদের নাসাদীয় সূক্তে (১০/১২৯) সৃষ্টির রহস্য, বিশ্বজগতের উৎপত্তি এবং পরম সত্তার ধারণা সম্পর্কে গভীর দার্শনিক আলোচনা রয়েছে।
প্রশ্ন ৩০: বৈদিক যুগের প্রধান রাজনৈতিক সংগঠন কোনটি ছিল?
সঠিক উত্তর: a) সভা ও সমিতি
বিস্তারিত: ঋগ্বৈদিক যুগে ‘সভা’ (বয়স্ক ও অভিজাতদের পরিষদ) এবং ‘সমিতি’ (সাধারণ জনগণের সমাবেশ) গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ছিল, যা রাজাকে পরামর্শ দিত।
প্রশ্ন ৩১: বৈদিক যুগে নারী সমাজের অবস্থা কেমন ছিল?
সঠিক উত্তর: d) স্বাধীনভাবে ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করত
বিস্তারিত: ঋগ্বৈদিক যুগে নারীরা তুলনামূলকভাবে স্বাধীন ছিল। তারা শিক্ষা গ্রহণ করত, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিত এবং এমনকি সভা-সমিতিতেও উপস্থিত থাকত (যেমন গার্গী, মৈত্রেয়ী)। পরবর্তী বৈদিক যুগে তাদের অবস্থা অবনতি হয়।
প্রশ্ন ৩২: বৈদিক যুগের কোন নদীটিকে ‘নদীতমা’ (নদীগুলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ) বলা হত?
সঠিক উত্তর: c) সরস্বতী
বিস্তারিত: ঋগ্বেদে সরস্বতী নদীকে অত্যন্ত পবিত্র এবং ‘নদীতমা’ (শ্রেষ্ঠ নদী) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
প্রশ্ন ৩৩: বৈদিক যুগে ‘গ্রামিণী’ কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: a) গ্রামের প্রধান
বিস্তারিত: বৈদিক যুগে গ্রামের প্রধানকে ‘গ্রামিণী’ বলা হত, যিনি গ্রামের প্রশাসনিক ও আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করতেন।
প্রশ্ন ৩৪: কোন বেদে জাদুবিদ্যা এবং ভেষজ গুণাগুণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
সঠিক উত্তর: d) অথর্ববেদ
বিস্তারিত: অথর্ববেদ জাদুবিদ্যা, মন্ত্র, রোগ নিরাময়, এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সামাজিক রীতিনীতি নিয়ে আলোচনা করে।
প্রশ্ন ৩৫: বৈদিক যুগে প্রচলিত ‘গোত্র’ ধারণার মূল অর্থ কী ছিল?
সঠিক উত্তর: b) একই পূর্বপুরুষ থেকে আসা বংশ
বিস্তারিত: ‘গোত্র’ ছিল মূলত একই পূর্বপুরুষ থেকে উদ্ভূত বংশের পরিচয়। গোত্রপ্রথা বৈদিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এবং একই গোত্রে বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল।
প্রশ্ন ৩৬: ‘গায়ত্রী মন্ত্র’ কোন দেবতার উদ্দেশ্যে রচিত?
সঠিক উত্তর: c) সাবিত্রী (সূর্য দেবতা)
বিস্তারিত: বিখ্যাত গায়ত্রী মন্ত্রটি ঋগ্বেদের তৃতীয় মণ্ডলে পাওয়া যায় এবং এটি সূর্য দেবতা সাবিত্রীকে উৎসর্গ করা হয়েছে।
প্রশ্ন ৩৭: ঋগ্বৈদিক যুগে ‘দশরাজার যুদ্ধ’ (Battle of Ten Kings) কোন নদীর তীরে সংঘটিত হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: c) পারুষ্ণী (রাভি)
বিস্তারিত: ঋগ্বেদে উল্লিখিত ‘দশরাজার যুদ্ধ’ পারুষ্ণী (আধুনিক রাভি) নদীর তীরে ভরত গোষ্ঠীর রাজা সুদাস এবং দশজন রাজার জোটের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল।
প্রশ্ন ৩৮: বৈদিক সাহিত্যে ‘উপনিষদ’ কিসের অংশ?
সঠিক উত্তর: b) বেদের শেষ অংশ এবং দার্শনিক আলোচনা
বিস্তারিত: উপনিষদগুলি হল বেদের শেষ অংশ, যা গভীর দার্শনিক আলোচনা, আত্মা, ব্রহ্ম এবং মোক্ষ সম্পর্কে জ্ঞান নিয়ে গঠিত। এগুলিকে ‘বেদান্ত’ও বলা হয়।
প্রশ্ন ৩৯: বৈদিক যুগে ব্যবহৃত ‘নিষ্ক’ (Nishka) কী ছিল?
সঠিক উত্তর: c) একটি স্বর্ণালঙ্কার, যা পরে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হত
বিস্তারিত: ‘নিষ্ক’ প্রাথমিকভাবে একটি স্বর্ণের হার বা অলঙ্কার ছিল, যা পরবর্তী বৈদিক যুগে বিনিময়ের মাধ্যম বা মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে।
প্রশ্ন ৪০: বৈদিক যুগে ‘পরিবার’ এর প্রধানকে কী বলা হত?
সঠিক উত্তর: c) কুলপতি (গৃহপতি)
বিস্তারিত: বৈদিক সমাজে পরিবারের প্রধানকে ‘কুলপতি’ বা ‘গৃহপতি’ বলা হত, যিনি পরিবারের সকল সদস্যের উপর কর্তৃত্ব রাখতেন।
ষোড়শ মহাজনপদ
প্রশ্ন ৪১: ষোড়শ মহাজনপদের সময়কাল কোনটি?
সঠিক উত্তর: b) ৬০০-৪০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
বিস্তারিত: খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে চতুর্থ শতাব্দীর মধ্যে উত্তর ভারতে ১৬টি শক্তিশালী রাজ্যের (মহাজনপদ) উদ্ভব হয়েছিল। এই সময়কালকে ভারতীয় ইতিহাসে ‘দ্বিতীয় নগরায়ণ’ও বলা হয়।
প্রশ্ন ৪২: ষোড়শ মহাজনপদের মধ্যে কোনটি সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল?
সঠিক উত্তর: c) মগধ
বিস্তারিত: ষোড়শ মহাজনপদের মধ্যে মগধ ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী এবং শেষ পর্যন্ত এটি অন্যান্য রাজ্যগুলিকে নিজেদের অধীনে এনে একটি বৃহৎ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।
প্রশ্ন ৪৩: অঙ্গ মহাজনপদের রাজধানী কোনটি ছিল?
সঠিক উত্তর: a) চম্পা
বিস্তারিত: অঙ্গ মহাজনপদের রাজধানী ছিল চম্পা। এটি বর্তমানে বিহারের ভাগলপুর অঞ্চলে অবস্থিত ছিল।
প্রশ্ন ৪৪: ষোড়শ মহাজনপদের যুগে মগধের প্রথম রাজধানী কোনটি ছিল?
সঠিক উত্তর: b) রাজগৃহ (গিরিব্রজ)
বিস্তারিত: মগধের প্রথম রাজধানী ছিল রাজগৃহ, যা গিরিব্রজ নামেও পরিচিত ছিল। পরে উদয়িন পাটলিপুত্রকে রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
প্রশ্ন ৪৫: কোন মহাজনপদটি একটি প্রজাতান্ত্রিক (গণতন্ত্র) ব্যবস্থা অনুসরণ করত?
সঠিক উত্তর: c) বজ্জি
বিস্তারিত: ষোড়শ মহাজনপদের মধ্যে বজ্জি এবং মল্ল ছিল দুটি প্রজাতান্ত্রিক রাজ্য, যেখানে শাসন ব্যবস্থা রাজতন্ত্রের পরিবর্তে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত হত।
প্রশ্ন ৪৬: মহাজনপদগুলির উত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কী ছিল?
সঠিক উত্তর: d) উপরের সবগুলি
বিস্তারিত: লোহার ব্যাপক ব্যবহার, বিশেষ করে কৃষি যন্ত্রপাতি ও অস্ত্রের ক্ষেত্রে, কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি, এবং বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের মতো নতুন ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনগুলি মহাজনপদগুলির উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রশ্ন ৪৭: কোশল মহাজনপদের রাজধানী কোনটি ছিল?
সঠিক উত্তর: b) শ্রাবস্তী
বিস্তারিত: কোশল মহাজনপদের রাজধানী ছিল শ্রাবস্তী। এটি উত্তর ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র ছিল।
প্রশ্ন ৪৮: কোন মহাজনপদটি গঙ্গার দক্ষিণ দিকে অবস্থিত ছিল?
সঠিক উত্তর: a) মগধ
বিস্তারিত: মগধ ছিল গঙ্গার দক্ষিণ দিকে অবস্থিত একটি শক্তিশালী মহাজনপদ, যা তার ভৌগোলিক অবস্থান এবং খনিজ সম্পদের কারণে দ্রুত উন্নতি লাভ করে।
প্রশ্ন ৪৯: ষোড়শ মহাজনপদগুলির মধ্যে কোনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র ছিল?
সঠিক উত্তর: d) গান্ধার (তক্ষশীলা)
বিস্তারিত: গান্ধার মহাজনপদের রাজধানী তক্ষশীলা ছিল প্রাচীন ভারতের একটি বিখ্যাত শিক্ষাকেন্দ্র, যেখানে দেশ-বিদেশ থেকে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জনের জন্য আসত।
প্রশ্ন ৫০: ষোড়শ মহাজনপদগুলির মধ্যে কোনটির অবস্থান দক্ষিণ ভারতে ছিল?
সঠিক উত্তর: c) অস্মক
বিস্তারিত: অস্মক ছিল একমাত্র মহাজনপদ যা গোদাবরী নদীর তীরে দক্ষিণ ভারতে অবস্থিত ছিল।
প্রশ্ন ৫১: কোন মহাজনপদের রাজা প্রদ্যোত ছিলেন গৌতম বুদ্ধের সমসাময়িক?
সঠিক উত্তর: a) অবন্তী
বিস্তারিত: অবন্তীর রাজা প্রদ্যোত ছিলেন গৌতম বুদ্ধের সমসাময়িক। তিনি ছিলেন একজন শক্তিশালী শাসক এবং মগধের সাথে তার প্রায়শই সংঘাত লাগত।
প্রশ্ন ৫২: ষোড়শ মহাজনপদ যুগে কারিগরি শিল্পীরা কোন সংস্থা দ্বারা সংগঠিত ছিল?
সঠিক উত্তর: c) গিল্ড (শ্রেণী)
বিস্তারিত: ষোড়শ মহাজনপদ যুগে বিভিন্ন কারিগরি ও বণিকদের ‘শ্রেণী’ বা গিল্ড ছিল, যা তাদের পেশার মান, মূল্য এবং সদস্যদের স্বার্থ রক্ষা করত।
প্রশ্ন ৫৩: কোন মহাজনপদটি একটি পাহাড়ি অঞ্চলের আশেপাশে অবস্থিত ছিল এবং মগধের বিস্তারের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল?
সঠিক উত্তর: b) অবন্তী
বিস্তারিত: অবন্তী মহাজনপদ (রাজধানী উজ্জয়িনী) বিন্ধ্য পর্বতমালার কাছে অবস্থিত ছিল এবং এর কৌশলগত অবস্থান মগধের পশ্চিমমুখী বিস্তারে বাধা সৃষ্টি করত।
প্রশ্ন ৫৪: ষোড়শ মহাজনপদগুলির মধ্যে কোনটি একটি প্রধান বাণিজ্য পথ ‘উত্তরাপথ’-এর উপর অবস্থিত ছিল?
সঠিক উত্তর: c) গান্ধার
বিস্তারিত: গান্ধার মহাজনপদ (রাজধানী তক্ষশীলা) উত্তরাপথ নামক প্রাচীন বাণিজ্য পথের উপর অবস্থিত ছিল, যা মধ্য এশিয়া ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সংযোগ স্থাপন করত।
প্রশ্ন ৫৫: কোন মহাজনপদটি তার উৎকৃষ্ট ঘোড়ার জন্য বিখ্যাত ছিল?
সঠিক উত্তর: b) কম্বোজ
বিস্তারিত: কম্বোজ মহাজনপদ, যা উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত ছিল, তার উৎকৃষ্ট জাতের ঘোড়ার জন্য প্রাচীন ভারতে বিখ্যাত ছিল।
প্রশ্ন ৫৬: নন্দ বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: b) महापদ্ম নন্দ
বিস্তারিত: মহাপদ্ম নন্দ শিশুনগ বংশের উচ্ছেদ ঘটিয়ে মগধে নন্দ বংশ প্রতিষ্ঠা করেন। তাকে ‘সর্বক্ষত্রান্তক’ বা সকল ক্ষত্রিয়ের বিনাশকারী বলা হত।
প্রশ্ন ৫৭: ষোড়শ মহাজনপদ যুগে মগধের কোন শাসক ‘শ্রেণিক’ নামে পরিচিত ছিলেন?
সঠিক উত্তর: b) বিম্বিসার
বিস্তারিত: বিম্বিসার, যিনি হর্যঙ্ক বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, তাকে ‘শ্রেণিক’ নামেও অভিহিত করা হত। তিনি মগধের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
প্রশ্ন ৫৮: মৎস্য মহাজনপদের রাজধানী কোনটি ছিল?
সঠিক উত্তর: c) বিরাটরাজার নগরী (বিরাটনগর)
বিস্তারিত: মৎস্য মহাজনপদের রাজধানী ছিল বিরাটনগর, যা বর্তমান রাজস্থানের জয়পুর অঞ্চলে অবস্থিত। মহাভারতে এর উল্লেখ পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ৫৯: পাটলিপুত্র নগরীর পত্তন কে করেন?
সঠিক উত্তর: c) উদয়িন
বিস্তারিত: হর্যঙ্ক বংশের রাজা উদয়িন গঙ্গা ও শোন নদীর সঙ্গমস্থলে পাটলিপুত্র নগরীর পত্তন করেন এবং রাজগৃহ থেকে সেখানে রাজধানী স্থানান্তর করেন।
প্রশ্ন ৬০: আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণের সময় মগধের শাসক কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: b) ধননন্দ
বিস্তারিত: খ্রিস্টপূর্ব ৩২৬ অব্দে আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণের সময় মগধের সিংহাসনে নন্দ বংশের শেষ রাজা ধননন্দ আসীন ছিলেন।
বৌদ্ধ ধর্ম ও জৈন ধর্ম
প্রশ্ন ৬১: বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: b) গৌতম বুদ্ধ
বিস্তারিত: গৌতম বুদ্ধ (সিদ্ধার্থ) খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে বৌদ্ধ ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ‘দুঃখ’ থেকে মুক্তির পথ হিসেবে আর্য সত্য এবং অষ্টাঙ্গিক মার্গ প্রচার করেন।
প্রশ্ন ৬২: গৌতম বুদ্ধ কোথায় নির্বাণ লাভ করেন?
সঠিক উত্তর: d) কুশীনগর
বিস্তারিত: গৌতম বুদ্ধ লুম্বিনীতে জন্মগ্রহণ করেন, বোধগয়ায় জ্ঞান লাভ করেন, সারনাথে প্রথম ধর্মপ্রচার করেন এবং কুশীনগরে মহাপরিনির্বাণ (মৃত্যু) লাভ করেন।
প্রশ্ন ৬৩: জৈন ধর্মের প্রথম তীর্থঙ্কর কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: c) ঋষভনাথ
বিস্তারিত: জৈন ধর্মের ২৪ জন তীর্থঙ্কর ছিলেন। এদের মধ্যে ঋষভনাথ ছিলেন প্রথম তীর্থঙ্কর এবং মহাবীর ছিলেন ২৪তম ও শেষ তীর্থঙ্কর।
প্রশ্ন ৬৪: মহাবীর কততম জৈন তীর্থঙ্কর ছিলেন?
সঠিক উত্তর: b) ২৪তম
বিস্তারিত: মহাবীর (বর্ধনমান) ছিলেন জৈন ধর্মের ২৪তম এবং শেষ তীর্থঙ্কর। তিনি জৈন ধর্মকে জনপ্রিয় করে তোলেন এবং এর মূল নীতিগুলি প্রচার করেন।
প্রশ্ন ৬৫: জৈন ধর্মের মূল ভিত্তি কী?
সঠিক উত্তর: d) উপরের সবগুলি
বিস্তারিত: জৈন ধর্মের মূল ভিত্তি অহিংসা (কোনো জীবকে আঘাত না করা), সত্য, অস্তেয় (চুরি না করা), ব্রহ্মচর্য (ইন্দ্রিয় সংযম) এবং অপরিগ্রহ (সম্পত্তি অর্জন না করা)। কঠোর তপস্যা এবং আত্মার অস্তিত্বে বিশ্বাসও এর গুরুত্বপূর্ণ দিক।
প্রশ্ন ৬৬: বৌদ্ধ ধর্মের ‘ত্রি-রত্ন’ কী কী?
সঠিক উত্তর: a) বুদ্ধ, সংঘ, ধম্ম
বিস্তারিত: বৌদ্ধ ধর্মের তিনটি মূল স্তম্ভ হলো বুদ্ধ (বুদ্ধত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি), সংঘ (বৌদ্ধ ভিক্ষু ও ভিক্ষুণীর সম্প্রদায়) এবং ধম্ম (বৌদ্ধ ধর্মীয় শিক্ষা বা নীতি)।
প্রশ্ন ৬৭: মহাবীর কোথায় নির্বাণ লাভ করেন?
সঠিক উত্তর: b) পাভা (পাওয়াপুরী)
বিস্তারিত: মহাবীর বর্তমান বিহারের রাজগৃহের কাছে পাওয়াপুরীতে (পাবা) নির্বাণ লাভ করেন।
প্রশ্ন ৬৮: জৈন ধর্মের ‘শ্বেতাম্বর’ সম্প্রদায় কী কারণে পরিচিত?
সঠিক উত্তর: a) তারা সাদা পোশাক পরিধান করে
বিস্তারিত: জৈন ধর্ম দুটি প্রধান সম্প্রদায়ে বিভক্ত: শ্বেতাম্বর (যারা সাদা পোশাক পরিধান করে) এবং দিগম্বর (যারা সম্পূর্ণ নগ্ন থাকে এবং কঠোর তপস্যায় বিশ্বাসী)।
প্রশ্ন ৬৯: গৌতম বুদ্ধের প্রথম উপদেশকে কী বলা হয়?
সঠিক উত্তর: b) ধর্মচক্র প্রবর্তন
বিস্তারিত: গৌতম বুদ্ধ সারনাথের মৃগদাবে তাঁর প্রথম পাঁচ শিষ্যকে যে উপদেশ দেন, তাকে ‘ধর্মচক্র প্রবর্তন’ বলা হয়, যার অর্থ ‘ধর্মের চাকা ঘোরানো’।
প্রশ্ন ৭০: বৌদ্ধ ধর্মের ‘অষ্টাঙ্গিক মার্গ’-এর প্রথম নীতি কোনটি?
সঠিক উত্তর: c) সম্যক দৃষ্টি
বিস্তারিত: অষ্টাঙ্গিক মার্গ হলো আটটি নীতি যা দুঃখ থেকে মুক্তির পথ দেখায়। এগুলি হলো: সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প, সম্যক বাক্য, সম্যক কর্ম, সম্যক জীবিকা, সম্যক প্রচেষ্টা, সম্যক স্মৃতি এবং সম্যক সমাধি।
প্রশ্ন ৭১: জৈন ধর্মের কোন নীতিটি মহাবীর যুক্ত করেন?
সঠিক উত্তর: d) ব্রহ্মচর্য
বিস্তারিত: মহাবীর জৈন ধর্মের পূর্ববর্তী ২৩ তীর্থঙ্করের দেওয়া চারটি নীতির সাথে ব্রহ্মচর্য (celibacy) নীতিটি যুক্ত করেন।
প্রশ্ন ৭২: বৌদ্ধ ধর্মের মূল দর্শন কী?
সঠিক উত্তর: c) দুঃখ ও তার নিবৃত্তি
বিস্তারিত: বৌদ্ধ ধর্মের মূল ভিত্তি হলো ‘চার আর্য সত্য’ – দুঃখ আছে, দুঃখের কারণ আছে, দুঃখের নিবৃত্তি সম্ভব এবং দুঃখ নিবৃত্তির পথ আছে (অষ্টাঙ্গিক মার্গ)।
প্রশ্ন ৭৩: কোন স্থানটি জৈন ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান?
সঠিক উত্তর: c) শ্রাবণবেলগোলা
বিস্তারিত: শ্রাবণবেলগোলা (কর্ণাটক) জৈনদের একটি পবিত্র তীর্থস্থান, যেখানে গোমতেশ্বর বাহুবলীর বিশাল মূর্তি স্থাপিত আছে।
প্রশ্ন ৭৪: বৌদ্ধ ধর্মের কোন সম্প্রদায় বুদ্ধকে একজন ঐশ্বরিক সত্তা হিসেবে পূজা করে?
সঠিক উত্তর: b) মহাযান
বিস্তারিত: বৌদ্ধধর্ম দুটি প্রধান সম্প্রদায়ে বিভক্ত: হীনযান (যারা বুদ্ধকে একজন শিক্ষক হিসেবে দেখে) এবং মহাযান (যারা বুদ্ধকে একজন ঐশ্বরিক সত্তা হিসেবে পূজা করে এবং বোধিসত্ত্বের ধারণায় বিশ্বাসী)।
প্রশ্ন ৭৫: বৌদ্ধ ধর্মের ‘পিটক’ সাহিত্যগুলি কোন ভাষায় রচিত?
সঠিক উত্তর: b) পালি
বিস্তারিত: বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থ ‘ত্রিপিটক’ (বিনয় পিটক, সূত্র পিটক, অভিধম্ম পিটক) পালি ভাষায় রচিত।
প্রশ্ন ৭৬: মহাবীরের প্রকৃত নাম কী ছিল?
সঠিক উত্তর: b) বর্ধমান
বিস্তারিত: মহাবীরের প্রকৃত নাম ছিল বর্ধমান। পরে তিনি ‘মহাবীর’ (মহান বীর) উপাধি লাভ করেন।
প্রশ্ন ৭৭: কোন বৌদ্ধ পরিষদ গৌতম বুদ্ধের মৃত্যুর পর প্রথমবার অনুষ্ঠিত হয়?
সঠিক উত্তর: a) প্রথম বৌদ্ধ পরিষদ
বিস্তারিত: প্রথম বৌদ্ধ পরিষদ গৌতম বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের পরপরই রাজগৃহতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তাঁর শিক্ষা ও বিনয় (সংঘের নিয়মাবলী) সংকলিত হয়।
প্রশ্ন ৭৮: বৌদ্ধ ধর্মের ‘বজ্রযান’ সম্প্রদায় কিসের সাথে সম্পর্কিত?
সঠিক উত্তর: b) তন্ত্র মন্ত্র ও জাদুবিদ্যা
বিস্তারিত: বজ্রযান হল বৌদ্ধ ধর্মের একটি শাখা, যা তন্ত্র, মন্ত্র এবং রহস্যময় আচার-অনুষ্ঠানের উপর জোর দেয়। এটি মহাযান বৌদ্ধধর্মের একটি সম্প্রসারিত রূপ।
প্রশ্ন ৭৯: জৈন ধর্মের ‘ত্রিরত্ন’ (Three Jewels) কী কী?
সঠিক উত্তর: a) সম্যক দর্শন, সম্যক জ্ঞান, সম্যক চরিত্র
বিস্তারিত: জৈন ধর্মের ‘ত্রিরত্ন’ হলো সম্যক দর্শন (সঠিক বিশ্বাস), সম্যক জ্ঞান (সঠিক জ্ঞান) এবং সম্যক চরিত্র (সঠিক আচরণ), যা মোক্ষ লাভের পথ দেখায়।
প্রশ্ন ৮০: ‘বুদ্ধ’ শব্দের অর্থ কী?
সঠিক উত্তর: b) জ্ঞানী বা আলোকিত ব্যক্তি
বিস্তারিত: ‘বুদ্ধ’ শব্দের অর্থ হল ‘যিনি জ্ঞান লাভ করেছেন’ বা ‘আলোকিত ব্যক্তি’।
মৌর্য সাম্রাজ্যের উত্থান ও পতন: অশোকের ধম্ম
প্রশ্ন ৮১: মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: b) চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
বিস্তারিত: খ্রিস্টপূর্ব ৩২২ অব্দে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য নন্দ রাজবংশের শেষ রাজা ধননন্দকে পরাজিত করে মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রশ্ন ৮২: মেগাস্থিনিসের লেখা গ্রন্থের নাম কী?
সঠিক উত্তর: b) ইন্ডিকা
বিস্তারিত: গ্রিক পরিব্রাজক মেগাস্থিনিস চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজত্বকালে ভারতে এসেছিলেন এবং ‘ইন্ডিকা’ নামক গ্রন্থে মৌর্য সাম্রাজ্যের সমাজ, সংস্কৃতি এবং শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন।
প্রশ্ন ৮৩: কলিঙ্গ যুদ্ধ কার রাজত্বকালে সংঘটিত হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: c) অশোক
বিস্তারিত: খ্রিস্টপূর্ব ২৬১ অব্দে সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে কলিঙ্গ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে অশোক বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন।
প্রশ্ন ৮৪: অশোকের ‘ধম্ম’ কীসের উপর গুরুত্ব আরোপ করে?
সঠিক উত্তর: b) ধর্মীয় সহনশীলতা ও নৈতিকতা
বিস্তারিত: অশোকের ‘ধম্ম’ ছিল এক ধরনের নৈতিক আচরণবিধি, যা সামাজিক দায়িত্ববোধ, অহিংসা, সকল ধর্মের প্রতি সহনশীলতা, গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং প্রাণী কল্যাণের উপর জোর দিত। এটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম ছিল না।
প্রশ্ন ৮৫: মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের প্রধান কারণ কোনটি?
সঠিক উত্তর: d) উপরের সবগুলি
বিস্তারিত: মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের জন্য একাধিক কারণ দায়ী ছিল, যার মধ্যে অশোকের পরবর্তী দুর্বল শাসকরা, সাম্রাজ্যের বিশালতা ও কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণহীনতা, প্রদেশের বিদ্রোহ, এবং শুঙ্গদের মতো নতুন শক্তির উত্থান অন্যতম।
প্রশ্ন ৮৬: চাণক্য (কৌটিল্য) রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ কোনটি?
সঠিক উত্তর: b) অর্থশাস্ত্র
বিস্তারিত: চাণক্য, যিনি কৌটিল্য বা বিষ্ণুগুপ্ত নামেও পরিচিত, চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি এবং সামরিক কৌশল নিয়ে ‘অর্থশাস্ত্র’ নামক একটি প্রভাবশালী গ্রন্থ রচনা করেন।
প্রশ্ন ৮৭: অশোকের শিলালিপিগুলি প্রধানত কোন লিপিতে লেখা হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: b) ব্রাহ্মী
বিস্তারিত: অশোকের অধিকাংশ শিলালিপি ব্রাহ্মী লিপিতে লেখা হয়েছে। উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলে কিছু শিলালিপি খরোষ্ঠী এবং আরামাইক লিপিতেও পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ৮৮: মৌর্য সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: b) বৃহদ্রথ
বিস্তারিত: মৌর্য সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট ছিলেন বৃহদ্রথ, যাকে তার সেনাপতি পুষ্যমিত্র শুঙ্গ হত্যা করে শুঙ্গ রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রশ্ন ৮৯: কোন স্তম্ভলিপিতে অশোক নিজেকে ‘প্রিয়দর্শী’ বলে উল্লেখ করেছেন?
সঠিক উত্তর: c) মাস্কি অনুশাসন
বিস্তারিত: মাস্কি অনুশাসনই একমাত্র শিলালিপি যেখানে অশোকের আসল নাম ‘অশোক’ উল্লিখিত আছে, এবং তিনি নিজেকে ‘প্রিয়দর্শী’ (দেবতাদের প্রিয়) বলেও উল্লেখ করেছেন।
প্রশ্ন ৯০: মৌর্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মচারী কারা ছিলেন?
সঠিক উত্তর: a) অমাত্য
বিস্তারিত: মৌর্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মচারী এবং পরামর্শদাতা ছিলেন অমাত্যরা, যারা বিভিন্ন বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করতেন।
প্রশ্ন ৯১: অশোকের শিলালিপিগুলিতে কোন ভাষার ব্যবহার দেখা যায়?
সঠিক উত্তর: b) প্রাকৃত
বিস্তারিত: অশোকের শিলালিপিগুলি মূলত প্রাকৃত ভাষায় লেখা, যদিও অঞ্চলভেদে লিপির ভিন্নতা রয়েছে (ব্রাহ্মী, খরোষ্ঠী, গ্রিক, আরামাইক)।
প্রশ্ন ৯২: মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থার প্রধানকে কী বলা হত?
সঠিক উত্তর: a) কুমার বা আর্যপুত্র
বিস্তারিত: মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রদেশগুলির প্রধান ছিলেন রাজপরিবারের সদস্যরা, যাদের ‘কুমার’ বা ‘আর্যপুত্র’ বলা হত। তারা রাজার প্রতিনিধি হিসেবে শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
প্রশ্ন ৯৩: অশোক কোন স্তম্ভে ‘চার সিংহ’ প্রতীকটি ব্যবহার করেন, যা ভারতের জাতীয় প্রতীক?
সঠিক উত্তর: c) সারনাথ স্তম্ভ
বিস্তারিত: সারনাথের অশোক স্তম্ভের শীর্ষের চার সিংহ প্রতীকটি বর্তমানে ভারতের জাতীয় প্রতীক। এটি অশোকের ধর্মীয় সাম্রাজ্যের প্রতীক ছিল।
প্রশ্ন ৯৪: মৌর্য যুগে মুদ্রা হিসাবে কী ব্যবহৃত হত?
সঠিক উত্তর: b) রৌপ্য ও তামার মুদ্রা (পন)
বিস্তারিত: মৌর্য যুগে রৌপ্য (রূপ্যরূপ) এবং তামার (তাম্ররূপ) মুদ্রা ‘পন’ নামে পরিচিত ছিল এবং এটি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।
প্রশ্ন ৯৫: অশোকের শিলালিপি আবিষ্কার করেন কে?
সঠিক উত্তর: a) জেমস প্রিন্সেপ
বিস্তারিত: জেমস প্রিন্সেপ ১৮৩৭ সালে প্রথম অশোকের ব্রাহ্মী লিপির পাঠোদ্ধার করেন, যা প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
প্রশ্ন ৯৬: মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের পর কোন রাজবংশ মগধে ক্ষমতা লাভ করে?
সঠিক উত্তর: b) শুঙ্গ বংশ
বিস্তারিত: মৌর্য সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট বৃহদ্রথকে হত্যা করে তার সেনাপতি পুষ্যমিত্র শুঙ্গ শুঙ্গ রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রশ্ন ৯৭: অশোকের ‘ধম্ম মহামাধ্য’ পদাধিকারীরা কী কাজ করতেন?
সঠিক উত্তর: c) ধম্মের নীতি প্রচার করতেন এবং জনগণের কল্যাণ সাধন করতেন
বিস্তারিত: অশোক তার ধম্মের নীতি প্রচার ও বাস্তবায়নের জন্য ‘ধম্ম মহামাধ্য’ নামক এক শ্রেণীর কর্মচারীদের নিয়োগ করেন।
প্রশ্ন ৯৮: মৌর্য সাম্রাজ্যের কোন শাসক ‘অমিত্রঘাত’ (শত্রুদের বিনাশকারী) উপাধিতে পরিচিত ছিলেন?
সঠিক উত্তর: b) বিন্দুসার
বিস্তারিত: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পুত্র এবং অশোকের পিতা বিন্দুসার ‘অমিত্রঘাত’ উপাধিতে পরিচিত ছিলেন, যা তার সামরিক ক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।
প্রশ্ন ৯৯: মৌর্য সাম্রাজ্যের সময়কালে ‘সীতা’ বলতে কী বোঝানো হত?
সঠিক উত্তর: c) রাজকীয় জমির ফসল
বিস্তারিত: মৌর্য প্রশাসনের পরিভাষায় ‘সীতা’ বলতে সরাসরি রাষ্ট্রের মালিকানাধীন কৃষি জমির ফসলকে বোঝানো হত, যা থেকে রাজস্ব সংগ্রহ করা হত।
প্রশ্ন ১০০: মৌর্য সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের ‘সন্নধাতা’ নামক আধিকারিক কী কাজ করতেন?
সঠিক উত্তর: b) প্রধান কোষাধ্যক্ষ (treasurer)
বিস্তারিত: মৌর্য প্রশাসনের ‘সন্নধাতা’ ছিলেন প্রধান কোষাধ্যক্ষ, যিনি সাম্রাজ্যের সমস্ত রাজস্ব সংগ্রহ ও বিতরণের দায়িত্বে ছিলেন।
সাম্রাজ্যবাদী গুপ্ত শাসকগণ
প্রশ্ন ১০১: কোন যুগকে ‘ভারতের স্বর্ণযুগ’ বলা হয়?
সঠিক উত্তর: b) গুপ্ত যুগ
বিস্তারিত: গুপ্ত যুগকে ভারতীয় ইতিহাসের ‘স্বর্ণযুগ’ বলা হয় কারণ এই সময়ে বিজ্ঞান, শিল্পকলা, সাহিত্য, গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা এবং দর্শনে অভাবনীয় উন্নতি ঘটেছিল।
প্রশ্ন ১০২: গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: c) শ্রীগুপ্ত
বিস্তারিত: শ্রীগুপ্তকে গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যদিও প্রথম চন্দ্রগুপ্তই এই সাম্রাজ্যকে শক্তিশালী করেছিলেন।
প্রশ্ন ১০৩: ‘ভারতের নেপোলিয়ন’ নামে কে পরিচিত ছিলেন?
সঠিক উত্তর: a) সমুদ্রগুপ্ত
বিস্তারিত: ঐতিহাসিক ভি.এ. স্মিথ সমুদ্রগুপ্তকে তার সামরিক বিজয়ের জন্য ‘ভারতের নেপোলিয়ন’ আখ্যা দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন ১০৪: দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালে ভারতে আগত চীনা পরিব্রাজক কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: c) ফা-হিয়েন
বিস্তারিত: ফা-হিয়েন ছিলেন দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালে (খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতাব্দীর শুরুতে) ভারতে আগত একজন চীনা বৌদ্ধ পরিব্রাজক, যিনি তার ভ্রমণকাহিনীতে গুপ্ত সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধি ও শান্তি সম্পর্কে লিখেছেন।
প্রশ্ন ১০৫: গুপ্ত যুগে কোন বিষয়ে ব্যাপক উন্নতি হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: c) জ্যোতির্বিদ্যা ও গণিত
বিস্তারিত: আর্যভট্ট, ব্রহ্মগুপ্তের মতো মহান পণ্ডিতদের হাত ধরে গুপ্ত যুগে জ্যোতির্বিদ্যা ও গণিতের অভাবনীয় উন্নতি হয়। শূন্যের আবিষ্কার, দশমিক পদ্ধতি এবং পৃথিবীর আহ্নিক গতির ধারণা এই যুগেই বিকশিত হয়।
প্রশ্ন ১০৬: কোন গুপ্ত শাসক ‘বিক্রমাদিত্য’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: c) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
বিস্তারিত: দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত তার সামরিক বিজয়, বিশেষ করে শকদের পরাজিত করার পর ‘বিক্রমাদিত্য’ উপাধি গ্রহণ করেন।
প্রশ্ন ১০৭: গুপ্ত যুগের প্রধান সাহিত্যিক ভাষা কী ছিল?
সঠিক উত্তর: c) সংস্কৃত
বিস্তারিত: গুপ্ত যুগ ছিল সংস্কৃত সাহিত্যের স্বর্ণযুগ। কালিদাস, বিশাখদত্ত, শূদ্রক-এর মতো অনেক বিখ্যাত সাহিত্যিক এই যুগে সংস্কৃত ভাষায় গ্রন্থ রচনা করেন।
প্রশ্ন ১০৮: কোন গুপ্ত শাসক হুন আক্রমণ প্রতিহত করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: b) স্কন্দগুপ্ত
বিস্তারিত: স্কন্দগুপ্ত সফলভাবে হুনদের আক্রমণ প্রতিহত করে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন বিলম্বিত করেছিলেন।
প্রশ্ন ১০৯: আর্যভট্ট, একজন বিখ্যাত গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী, কোন যুগে বসবাস করতেন?
সঠিক উত্তর: b) গুপ্ত যুগ
বিস্তারিত: আর্যভট্ট ছিলেন গুপ্ত যুগের একজন শ্রেষ্ঠ গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তিনি ‘আর্যভট্টীয়’ গ্রন্থ রচনা করেন এবং শূন্যের ধারণা, দশমিক পদ্ধতি, পৃথিবীর আহ্নিক গতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
প্রশ্ন ১১০: এলাহাবাদ স্তম্ভলিপি কে রচনা করেন?
সঠিক উত্তর: c) হরিসেন
বিস্তারিত: সমুদ্রগুপ্তের সভাকবি হরিসেন এলাহাবাদ স্তম্ভলিপি রচনা করেন, যেখানে সমুদ্রগুপ্তের সামরিক বিজয় ও রাজ্য বিস্তার সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ আছে।
প্রশ্ন ১১১: গুপ্ত যুগে কোন বিশ্ববিদ্যালয়টি বৌদ্ধ শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র ছিল?
সঠিক উত্তর: c) নালন্দা
বিস্তারিত: গুপ্ত যুগে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় বৌদ্ধ দর্শন ও অন্যান্য জ্ঞানচর্চার একটি আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি লাভ করে।
প্রশ্ন ১১২: গুপ্ত যুগে রচিত বিখ্যাত সংস্কৃত নাটক ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম’-এর রচয়িতা কে?
সঠিক উত্তর: b) কালিদাস
বিস্তারিত: কালিদাস ছিলেন গুপ্ত যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি ও নাট্যকার। তার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম’, ‘মেঘদূতম’, ‘রঘুবংশম’।
প্রশ্ন ১১৩: গুপ্ত শাসকদের রাজকীয় প্রতীক কী ছিল?
সঠিক উত্তর: b) গরুড়
বিস্তারিত: গুপ্ত সম্রাটরা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী ছিলেন এবং তাদের রাজকীয় প্রতীক ছিল ভগবান বিষ্ণুর বাহন গরুড়।
প্রশ্ন ১১৪: কোন গুপ্ত শাসক ‘কবিরাজ’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন?
সঠিক উত্তর: b) সমুদ্রগুপ্ত
বিস্তারিত: সমুদ্রগুপ্ত শুধুমাত্র একজন মহান যোদ্ধা ছিলেন না, তিনি একজন কবি ও সঙ্গীতজ্ঞও ছিলেন, যার মুদ্রায় তাকে বীণা বাজাতে দেখা যায়। এ কারণে তাকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল।
প্রশ্ন ১১৫: গুপ্ত যুগে কোন স্থাপত্য শৈলী চরম শিখরে পৌঁছেছিল?
সঠিক উত্তর: c) মন্দির স্থাপত্য
বিস্তারিত: গুপ্ত যুগে freestanding (দাঁড়িয়ে থাকা) পাথরের মন্দিরের নির্মাণ শুরু হয় এবং এই সময়ে মন্দির স্থাপত্যের চরম উন্নতি ঘটে। দেবগড়, সাঁচি, ভিটারগাঁও-এর মতো স্থানে এই মন্দিরের নিদর্শন দেখা যায়।
প্রশ্ন ১১৬: গুপ্ত যুগে ‘নবরত্ন’ কাদেরকে বলা হত?
সঠিক উত্তর: b) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সভাকবি ও পণ্ডিতবর্গ
বিস্তারিত: দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজসভা নয় জন বিখ্যাত পণ্ডিত ও শিল্পীর দ্বারা অলঙ্কৃত ছিল, যাদের ‘নবরত্ন’ বলা হত। এদের মধ্যে কালিদাস, বরাহমিহির, ধন্বন্তরি প্রমুখ ছিলেন।
প্রশ্ন ১১৭: গুপ্ত যুগে কোন ধাতুবিদ্যা চরম উৎকর্ষ লাভ করে?
সঠিক উত্তর: a) লোহা
বিস্তারিত: গুপ্ত যুগে লোহার ধাতুবিদ্যা অসাধারণ উন্নতি লাভ করে, যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হল দিল্লীর মেহরাউলিতে অবস্থিত অ-মরিচাযুক্ত লৌহস্তম্ভ (Iron Pillar of Mehrauli)।
প্রশ্ন ১১৮: গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের একটি অন্যতম কারণ কী ছিল?
সঠিক উত্তর: b) হুন আক্রমণ
বিস্তারিত: পঞ্চম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে মধ্য এশিয়া থেকে হুনদের বারবার আক্রমণ গুপ্ত সাম্রাজ্যের শক্তিকে দুর্বল করে দেয় এবং এর পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রশ্ন ১১৯: গুপ্ত যুগে রচিত ‘পঞ্চতন্ত্র’ গল্পসংগ্রহের রচয়িতা কে?
সঠিক উত্তর: b) বিষ্ণু শর্মা
বিস্তারিত: ‘পঞ্চতন্ত্র’ হল নীতিমূলক গল্পের একটি বিখ্যাত সংকলন, যা বিষ্ণু শর্মা কর্তৃক সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়েছিল এবং শিশুদের নীতিশিক্ষা প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হত।
প্রশ্ন ১২০: ‘মৃচ্ছকটিকম’ নাটকটি কে রচনা করেন?
সঠিক উত্তর: c) শূদ্রক
বিস্তারিত: ‘মৃচ্ছকটিকম’ (মাটির ছোট গাড়ি) একটি বিখ্যাত সংস্কৃত নাটক যা রাজা শূদ্রক রচনা করেন। এটি গুপ্ত যুগের সামাজিক জীবনের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
বাংলার পাল ও সেন রাজারা
প্রশ্ন ১২১: বাংলার পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: c) গোপাল
বিস্তারিত: অষ্টম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে গোপালকে বাংলার পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ধরা হয়। তিনি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হয়েছিলেন বলে কিংবদন্তি রয়েছে।
প্রশ্ন ১২২: বিক্রমশীলা বিহার কে স্থাপন করেন?
সঠিক উত্তর: b) ধর্মপাল
বিস্তারিত: পাল রাজা ধর্মপাল (৭৭০-৮১০ খ্রিস্টাব্দ) বাংলার জ্ঞানচর্চার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে বিক্রমশীলা মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রশ্ন ১২৩: বাংলার সেন রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: a) সামন্ত সেন
বিস্তারিত: সামন্ত সেনকে বাংলার সেন রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ধরা হয়। তবে বিজয় সেনের সময়ে সেনরা শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন ১২৪: ‘দানসাগর’ ও ‘অদ্ভুতসাগর’ গ্রন্থ দুটি কে রচনা করেন?
সঠিক উত্তর: b) বল্লাল সেন
বিস্তারিত: সেন রাজা বল্লাল সেন (১১৬০-১১৭৮ খ্রিস্টাব্দ) ছিলেন একজন পন্ডিত এবং ‘দানসাগর’ ও ‘অদ্ভুতসাগর’ নামক দুটি জ্যোতির্বিদ্যা ও স্মৃতিশাস্ত্র বিষয়ক গ্রন্থ রচনা করেন।
প্রশ্ন ১২৫: লক্ষণ সেনের রাজত্বকালে কে বাংলা আক্রমণ করেন?
সঠিক উত্তর: c) ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি
বিস্তারিত: ১২০২-১২০৩ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি আকস্মিকভাবে নবদ্বীপ আক্রমণ করে রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করেন এবং বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয়।
প্রশ্ন ১২৬: পাল বংশের কোন রাজা কনৌজ দখল করে উত্তর ভারতে একটি বড় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন?
সঠিক উত্তর: b) ধর্মপাল
বিস্তারিত: ধর্মপাল ছিলেন পাল রাজবংশের অন্যতম শক্তিশালী শাসক। তিনি কনৌজের উপর নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করেন এবং উত্তর ভারতে পাল সাম্রাজ্যের প্রভাব বিস্তার করেন।
প্রশ্ন ১২৭: সেন রাজবংশের কোন শাসক ‘কৌলিন্য প্রথা’ প্রবর্তন করেন বলে মনে করা হয়?
সঠিক উত্তর: c) বল্লাল সেন
বিস্তারিত: রাজা বল্লাল সেনকে বাংলার সমাজে ‘কৌলিন্য প্রথা’ প্রবর্তনের জন্য দায়ী করা হয়, যা সামাজিক স্তরবিন্যাস ও জাতিভেদ প্রথাকে আরও সুদৃঢ় করেছিল।
প্রশ্ন ১২৮: পাল যুগে নির্মিত বিখ্যাত বৌদ্ধবিহার কোনটি?
সঠিক উত্তর: d) উপরের সবগুলি
বিস্তারিত: পাল রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তারা নালন্দা, বিক্রমশীলা এবং ওদন্তপুরীর মতো অনেক বৌদ্ধবিহার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও সংস্কার করেন।
প্রশ্ন ১২৯: সেন বংশের শেষ শক্তিশালী শাসক কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: d) লক্ষণ সেন
বিস্তারিত: লক্ষণ সেন ছিলেন সেন বংশের শেষ শক্তিশালী শাসক, যার রাজত্বকালে বখতিয়ার খলজি বাংলা আক্রমণ করেন এবং সেন শাসনের অবসান হয়।
প্রশ্ন ১৩০: পাল যুগের শিল্পকলা ও স্থাপত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
সঠিক উত্তর: b) ব্রোঞ্জের মূর্তি ও পোড়ামাটির শিল্প
বিস্তারিত: পাল যুগে ব্রোঞ্জের বৌদ্ধ মূর্তি নির্মাণ এবং পোড়ামাটির ফলকের ব্যবহার ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয় ও উন্নত। এই শিল্পশৈলী ‘পাল শিল্পকলা’ নামে পরিচিত।
প্রশ্ন ১৩১: কোন পাল রাজা কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করেন?
সঠিক উত্তর: d) রামপাল
বিস্তারিত: মহীপালের রাজত্বকালে কৈবর্ত বিদ্রোহ শুরু হয় এবং তার মৃত্যুর পর রামপাল তার মিত্রদের সহায়তায় এই বিদ্রোহ দমন করেন। এই ঘটনার বিবরণ সন্ধ্যাকর নন্দীর ‘রামচরিতম’ কাব্যে পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ১৩২: বাংলার সেন রাজারা মূলত কোন ধর্মাবলম্বী ছিলেন?
সঠিক উত্তর: c) বৈষ্ণব ধর্ম
বিস্তারিত: সেন রাজারা মূলত বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী ছিলেন, যদিও তাদের সময়কালে শৈব ও শাক্ত ধর্মেরও প্রসার ঘটে।
প্রশ্ন ১৩৩: ‘গীতগোবিন্দম’ কাব্যের রচয়িতা জয়দেব কোন সেন রাজার সভাকবি ছিলেন?
সঠিক উত্তর: c) লক্ষণ সেন
বিস্তারিত: জয়দেব, যিনি বিখ্যাত ‘গীতগোবিন্দম’ কাব্য রচনা করেন, তিনি ছিলেন রাজা লক্ষণ সেনের সভাকবি।
প্রশ্ন ১৩৪: পাল যুগের কোন শাসক ‘পরম সৌগত’ উপাধি গ্রহণ করেন?
সঠিক উত্তর: b) ধর্মপাল
বিস্তারিত: ধর্মপাল ছিলেন একজন কট্টর বৌদ্ধ এবং বৌদ্ধ ধর্মের প্রবল পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তিনি ‘পরম সৌগত’ (Supreme Devotee of Buddha) উপাধি গ্রহণ করেন।
প্রশ্ন ১৩৫: সেন যুগের কোন সাহিত্যিক ‘পবনদূত’ কাব্যটি রচনা করেন?
সঠিক উত্তর: b) ধোয়ী
বিস্তারিত: ধোয়ী ছিলেন লক্ষণ সেনের সভাকবি এবং তিনি ‘পবনদূত’ নামক একটি কাব্য রচনা করেন, যেখানে একটি বাতাসের মাধ্যমে নায়িকার বিরহ বার্তা পাঠানো হয়।
প্রশ্ন ১৩৬: সেন রাজাদের আদি বাসস্থান কোথায় ছিল বলে মনে করা হয়?
সঠিক উত্তর: c) কর্ণাটক
বিস্তারিত: ঐতিহাসিকদের মতে, সেন রাজাদের পূর্বপুরুষরা দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক অঞ্চল থেকে বাংলায় এসেছিলেন এবং এখানে নিজেদের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রশ্ন ১৩৭: ‘রামচরিতম’ কাব্যটি কে রচনা করেন?
সঠিক উত্তর: a) সন্ধ্যাকর নন্দী
বিস্তারিত: সন্ধ্যাকর নন্দী পাল রাজা রামপালের সভাকবি ছিলেন। তিনি ‘রামচরিতম’ কাব্য রচনা করেন, যেখানে একই সাথে রামায়ণের রাম এবং রাজা রামপালের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে।
প্রশ্ন ১৩৮: পাল সাম্রাজ্য কোন ‘ত্রি-শক্তির সংগ্রাম’-এর একটি অংশ ছিল?
সঠিক উত্তর: a) পাল, প্রতিহার, রাষ্ট্রকূট
বিস্তারিত: পাল সাম্রাজ্য কনৌজ দখলের জন্য উত্তর ভারতের গুর্জর-প্রতিহার এবং দাক্ষিণাত্যের রাষ্ট্রকূটদের সাথে একটি দীর্ঘকালীন ‘ত্রি-শক্তির সংগ্রাম’-এ লিপ্ত ছিল।
প্রশ্ন ১৩৯: সেন বংশের পতনের পর বাংলায় কোন মুসলিম রাজবংশ ক্ষমতা লাভ করে?
সঠিক উত্তর: a) খলজি শাসন (ইলবারি তুর্কিদের অধীনে)
বিস্তারিত: ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি ছিলেন দিল্লির সুলতানি সাম্রাজ্যের (কুতুবুদ্দিন আইবকের অধীনে) একজন তুর্কি সেনাপতি। তার বিজয়ের মাধ্যমে বাংলায় খলজি শাসনের সূচনা হয়।
প্রশ্ন ১৪০: বাংলার পাল শাসনের অবসান ঘটানোর জন্য কোনটি দায়ী ছিল?
সঠিক উত্তর: d) উপরের সবগুলি
বিস্তারিত: পাল সাম্রাজ্যের দুর্বল উত্তরাধিকারী, কৈবর্ত বিদ্রোহের মতো অভ্যন্তরীণ সংঘাত, এবং শেষ পর্যন্ত সেন রাজবংশের উত্থান পাল শাসনের অবসান ঘটায়। এরপরই তুর্কি আক্রমণ বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করে।
বিবিধ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
প্রশ্ন ১৪১: প্রথম ভারতীয় সাম্রাজ্য কোনটি?
সঠিক উত্তর: b) মৌর্য সাম্রাজ্য
বিস্তারিত: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য নন্দ রাজবংশের পতন ঘটিয়ে খ্রিস্টপূর্ব ৩২২ অব্দে ভারতের প্রথম সুসংগঠিত এবং বৃহৎ সাম্রাজ্য মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রশ্ন ১৪২: বিখ্যাত চিকিৎসা বিজ্ঞানী চরক কোন শাসকের সভাকবি ছিলেন?
সঠিক উত্তর: b) কণিষ্ক
বিস্তারিত: চরক ছিলেন কুষাণ সম্রাট কণিষ্কের রাজসভার একজন বিখ্যাত আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক। তার লেখা ‘চরক সংহিতা’ আয়ুর্বেদের একটি মৌলিক গ্রন্থ।
প্রশ্ন ১৪৩: ‘সপ্ত সিন্ধু’ অঞ্চল বলতে কোন এলাকাকে বোঝানো হত?
সঠিক উত্তর: b) সাতটি প্রধান নদীর দ্বারা বিধৌত অঞ্চল
বিস্তারিত: সপ্ত সিন্ধু অঞ্চল বলতে সিন্ধু এবং তার পাঁচটি উপনদী (ঝিলাম, চেনাব, ইরাবতী, বিপাশা, শতদ্রু) এবং সরস্বতী নদী দ্বারা বিধৌত অঞ্চলকে বোঝানো হত। এটিই ছিল আর্যদের প্রাথমিক বসতিস্থল।
প্রশ্ন ১৪৪: ‘গণ’ বা ‘সংঘ’ দ্বারা শাসিত রাজ্যগুলিকে কী বলা হত?
সঠিক উত্তর: c) প্রজাতান্ত্রিক রাজ্য
বিস্তারিত: ‘গণ’ বা ‘সংঘ’ দ্বারা শাসিত রাজ্যগুলিকে প্রজাতান্ত্রিক বা অ-রাজতান্ত্রিক রাজ্য বলা হত, যেখানে শাসন ক্ষমতা একজন রাজা বা বংশের পরিবর্তে একাধিক ব্যক্তির হাতে থাকত (যেমন: বজ্জি, মল্ল)।
প্রশ্ন ১৪৫: ‘অষ্টাধ্যায়ী’ নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
সঠিক উত্তর: b) পাণিনি
বিস্তারিত: খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতাব্দীর ব্যাকরণবিদ পাণিনি ‘অষ্টাধ্যায়ী’ রচনা করেন, যা সংস্কৃত ভাষার ব্যাকরণের একটি প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রশ্ন ১৪৬: কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: a) কণিষ্ক
বিস্তারিত: কণিষ্ক ছিলেন কুষাণ বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক। তিনি ৭৮ খ্রিস্টাব্দে ‘শকাব্দ’ বা ‘শক’ ক্যালেন্ডার প্রবর্তন করেন এবং চতুর্থ বৌদ্ধ পরিষদের আয়োজন করেন।
প্রশ্ন ১৪৭: ‘শকাব্দ’ কে প্রবর্তন করেন?
সঠিক উত্তর: b) কণিষ্ক
বিস্তারিত: কুষাণ সম্রাট কণিষ্ক তার সিংহাসনে আরোহণের বছর ৭৮ খ্রিস্টাব্দে ‘শকাব্দ’ প্রবর্তন করেন, যা বর্তমানে ভারত সরকার কর্তৃক ব্যবহৃত জাতীয় ক্যালেন্ডার।
প্রশ্ন ১৪৮: কোন রাজবংশের সময়কালে গান্ধার শিল্পকলার বিকাশ ঘটে?
সঠিক উত্তর: c) কুষাণ
বিস্তারিত: কুষাণ যুগে ভারতীয় এবং গ্রিকো-রোমান শিল্পকলার সংমিশ্রণে গান্ধার শিল্পকলার বিকাশ ঘটে, যা মূলত বৌদ্ধ বিষয়বস্তু নিয়ে তৈরি হয়েছিল।
প্রশ্ন ১৪৯: সাতবাহন রাজাদের সরকারি ভাষা কী ছিল?
সঠিক উত্তর: c) প্রাকৃত
বিস্তারিত: সাতবাহন রাজারা তাদের সরকারি ভাষা হিসেবে প্রাকৃত ব্যবহার করতেন। তাদের শিলালিপিগুলি প্রাকৃত ভাষায় এবং ব্রাহ্মী লিপিতে লেখা।
প্রশ্ন ১৫০: হর্ষবর্ধনের রাজধানী কোথায় ছিল?
সঠিক উত্তর: b) কনৌজ
বিস্তারিত: হর্ষবর্ধন প্রথমে থানেশ্বর থেকে শাসনকার্য পরিচালনা করলেও পরে তিনি তার রাজধানী কনৌজে স্থানান্তর করেন, যা তার সাম্রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
প্রশ্ন ১৫১: হিউয়েন সাং কার রাজত্বকালে ভারতে এসেছিলেন?
সঠিক উত্তর: c) হর্ষবর্ধন
বিস্তারিত: চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং (Xuanzang) সপ্তম শতাব্দীতে হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে ভারতে আসেন এবং তার ভ্রমণকাহিনী ‘সি-ইউ-কি’-তে তৎকালীন ভারতের বিশদ বিবরণ দেন।
প্রশ্ন ১৫২: চালুক্য বংশের রাজধানী কোথায় ছিল?
সঠিক উত্তর: c) বাদামী (বাতাপি)
বিস্তারিত: বাদামীর চালুক্যদের রাজধানী ছিল বাতাপি (বর্তমান বাদামী, কর্ণাটক)। তারা দাক্ষিণাত্যের একটি শক্তিশালী রাজবংশ ছিল।
প্রশ্ন ১৫৩: পল্লব রাজাদের রাজধানী কোথায় ছিল?
সঠিক উত্তর: a) কাঞ্চীপুরম
বিস্তারিত: পল্লব রাজাদের রাজধানী ছিল কাঞ্চীপুরম (কাঞ্চী), যা দক্ষিণ ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল।
প্রশ্ন ১৫৪: মহাবালিপুরমের রথ মন্দিরগুলি কোন রাজবংশের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: b) পল্লব
বিস্তারিত: মহাবালিপুরমের বিখ্যাত রথ মন্দিরগুলি পল্লব রাজা প্রথম নরসিংহবর্মণের রাজত্বকালে নির্মিত হয়েছিল। এগুলি দ্রাবিড়ীয় স্থাপত্যের उत्कृष्ट উদাহরণ।
প্রশ্ন ১৫৫: ‘হর্ষচরিত’ কে রচনা করেন?
সঠিক উত্তর: b) বাণভট্ট
বিস্তারিত: বাণভট্ট ছিলেন হর্ষবর্ধনের সভাকবি এবং তিনি ‘হর্ষচরিত’ (হর্ষবর্ধনের জীবনী) এবং ‘কাদম্বরী’ নামক দুটি বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেন।
প্রশ্ন ১৫৬: ‘আইহোল প্রশস্তি’ কে রচনা করেন?
সঠিক উত্তর: c) রবিকীর্তি
বিস্তারিত: চালুক্য রাজা দ্বিতীয় পুলকেশীর সভাকবি রবিকীর্তি ‘আইহোল প্রশস্তি’ রচনা করেন, যেখানে হর্ষবর্ধনের উপর দ্বিতীয় পুলকেশীর বিজয়ের বিবরণ রয়েছে।
প্রশ্ন ১৫৭: কোন ভারতীয় রাজবংশকে ‘স্বর্ণমুদ্রার যুগ’ হিসেবে পরিচিত?
সঠিক উত্তর: b) গুপ্ত
বিস্তারিত: গুপ্ত যুগকে ভারতীয় ইতিহাসে ‘স্বর্ণযুগ’ বলা হয়, এবং এই সময়ে বিপুল পরিমাণে স্বর্ণমুদ্রা (দিনার) জারি করা হয়েছিল, যা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
প্রশ্ন ১৫৮: অজন্তা গুহার চিত্রকর্ম কোন রাজবংশের সময়কালের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন?
সঠিক উত্তর: b) গুপ্ত
বিস্তারিত: অজন্তা গুহার দেয়ালচিত্রগুলি মূলত গুপ্ত ও বাকাটক রাজবংশের সময়কালে অঙ্কিত হয়েছিল। এগুলি বৌদ্ধ ধর্মের জাতক কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত এবং ভারতীয় শিল্পকলার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
প্রশ্ন ১৫৯: ভারতের বাইরে কোন দেশে বৃহত্তম হিন্দু মন্দির ‘আংকরভাট’ অবস্থিত?
সঠিক উত্তর: c) কম্বোডিয়া
বিস্তারিত: কম্বোডিয়ায় অবস্থিত আংকরভাট মন্দিরটি বিশ্বের বৃহত্তম হিন্দু মন্দির। এটি খেমার সাম্রাজ্যের রাজা দ্বিতীয় সূর্যবর্মণ কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল এবং এটি ভগবান বিষ্ণুকে উৎসর্গীকৃত।
প্রশ্ন ১৬০: বিখ্যাত বৌদ্ধ দার্শনিক নাগার্জুন কোন রাজবংশের সময়কালে জীবিত ছিলেন বলে মনে করা হয়?
সঠিক উত্তর: c) সাতবাহন
বিস্তারিত: মহাযান বৌদ্ধ ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক নাগার্জুন খ্রিস্টীয় ২য় শতাব্দীতে সাতবাহন রাজবংশের সময়কালে জীবিত ছিলেন বলে মনে করা হয়।
প্রশ্ন ১৬১: কোন চোল রাজা ‘গঙ্গাইকোণ্ড চোল’ উপাধি গ্রহণ করেন?
সঠিক উত্তর: b) প্রথম রাজেন্দ্র চোল
বিস্তারিত: প্রথম রাজেন্দ্র চোল উত্তর ভারত আক্রমণ করে গঙ্গা নদী পর্যন্ত তার সাম্রাজ্য বিস্তার করেন এবং এই বিজয়ের স্মরণে ‘গঙ্গাইকোণ্ড চোল’ উপাধি গ্রহণ করেন।
প্রশ্ন ১৬২: ‘কালচক্র প্রবর্তন’ নামক বৌদ্ধ ধর্মীয় আচারের উৎপত্তি কোথায়?
সঠিক উত্তর: c) ভারত
বিস্তারিত: কালচক্র প্রবর্তন মূলত তিব্বতি বৌদ্ধধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলেও এর উৎপত্তি প্রাচীন ভারতেই, পাল রাজবংশের সময়কালে।
প্রশ্ন ১৬৩: শুঙ্গ বংশের রাজধানী কোথায় ছিল?
সঠিক উত্তর: b) বিদিশা
বিস্তারিত: পুষ্যমিত্র শুঙ্গ মৌর্যদের রাজধানী পাটলিপুত্র থেকে শাসন শুরু করলেও পরে তিনি বিদিশাকে (বর্তমান মধ্যপ্রদেশে) তার রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
প্রশ্ন ১৬৪: ইলোরার কৈলাসনাথ মন্দির কোন রাজবংশের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: b) রাষ্ট্রকূট
বিস্তারিত: ইলোরার বিখ্যাত কৈলাসনাথ মন্দিরটি রাষ্ট্রকূট রাজা প্রথম কৃষ্ণ দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। এটি একটিমাত্র শিলা খণ্ড থেকে খোদাই করা বিশ্বের বৃহত্তম মনোলিথিক স্থাপত্য।
প্রশ্ন ১৬৫: ‘মাদুরাইকোণ্ড’ উপাধি কে গ্রহণ করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: a) প্রথম পরান্তক চোল
বিস্তারিত: চোল রাজা প্রথম পরান্তক পাণ্ড্যদের রাজধানী মাদুরাই জয় করার পর ‘মাদুরাইকোণ্ড’ (মাদুরাইয়ের বিজেতা) উপাধি গ্রহণ করেন।
প্রশ্ন ১৬৬: ‘রাজতরঙ্গিনী’ গ্রন্থটি কার লেখা?
সঠিক উত্তর: c) কলহন
বিস্তারিত: কলহন রচিত ‘রাজতরঙ্গিনী’ হল কাশ্মীরের ইতিহাস নিয়ে লেখা একটি বিখ্যাত গ্রন্থ। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম ঐতিহাসিক গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রশ্ন ১৬৭: সঙ্গম যুগের প্রধান ভাষা কী ছিল?
সঠিক উত্তর: d) তামিল
বিস্তারিত: দক্ষিণ ভারতে চের, চোল ও পাণ্ড্য রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত সাহিত্য সভাকে সঙ্গম বলা হয়। এই যুগের প্রধান ভাষা ছিল তামিল এবং এই সময়ে বহু তামিল সাহিত্য রচিত হয়।
প্রশ্ন ১৬৮: ‘মনুস্মৃতি’ মূলত কীসের উপর একটি গ্রন্থ?
সঠিক উত্তর: c) আইন ও সামাজিক বিধি
বিস্তারিত: ‘মনুস্মৃতি’ প্রাচীন ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মশাস্ত্র, যেখানে সামাজিক, নৈতিক, এবং আইনগত বিধি-বিধান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
প্রশ্ন ১৬৯: সাঁচি স্তূপ কে নির্মাণ করেন?
সঠিক উত্তর: b) অশোক
বিস্তারিত: সাঁচির বিখ্যাত স্তূপটি সম্রাট অশোক দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। পরবর্তীকালে শুঙ্গ ও সাতবাহন রাজারা এর সংস্কার ও তোরণ নির্মাণ করেন।
প্রশ্ন ১৭০: ভারতের কোন প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়টি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের অন্তর্ভুক্ত?
সঠিক উত্তর: b) নালন্দা
বিস্তারিত: বিহারে অবস্থিত নালন্দা মহাবিহারের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটি ২০১৬ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষিত হয়েছে।
প্রশ্ন ১৭১: বিখ্যাত চিকিৎসা বিজ্ঞানী সুশ্রুত কিসের জন্য পরিচিত ছিলেন?
সঠিক উত্তর: b) শল্যচিকিৎসা (Surgery)
বিস্তারিত: সুশ্রুতকে ‘ভারতীয় শল্যচিকিৎসার জনক’ বলা হয়। তার লেখা ‘সুশ্রুত সংহিতা’ গ্রন্থে অস্ত্রোপচার পদ্ধতি ও যন্ত্রপাতির বিশদ বিবরণ রয়েছে।
প্রশ্ন ১৭২: কোন শাসক ‘দ্বিতীয় অশোক’ নামে পরিচিত?
সঠিক উত্তর: b) কণিষ্ক
বিস্তারিত: কুষাণ সম্রাট কণিষ্ক বৌদ্ধ ধর্মের একজন মহান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং চতুর্থ বৌদ্ধ পরিষদের আয়োজন করেন। অশোকের মতো বৌদ্ধধর্ম প্রচারে তার ভূমিকার জন্য তাকে ‘দ্বিতীয় অশোক’ বলা হয়।
প্রশ্ন ১৭৩: খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীকে ‘বিপ্লবের যুগ’ বলার কারণ কী?
সঠিক উত্তর: b) সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন
বিস্তারিত: খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে বৈদিক ধর্মের জটিলতার বিরুদ্ধে বৌদ্ধ ধর্ম ও জৈন ধর্মের মতো একাধিক নতুন ধর্মীয় ও দার্শনিক চিন্তাধারার উদ্ভব হয়, যা সামাজিক ক্ষেত্রে বিপ্লব নিয়ে আসে।
প্রশ্ন ১৭৪: সঙ্গম সাহিত্য অনুসারে, ‘করিকল’ কোন রাজবংশের বিখ্যাত রাজা ছিলেন?
সঠিক উত্তর: b) চোল
বিস্তারিত: করিকল চোল ছিলেন সঙ্গম যুগের চোল রাজবংশের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং শক্তিশালী রাজা। তিনি কাবেরী নদীর উপর একটি বাঁধ নির্মাণ করেন বলে জানা যায়।
প্রশ্ন ১৭৫: ‘মথুরা শিল্পকলা’ কোন ধর্মের দ্বারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: d) উপরের সবগুলি
বিস্তারিত: মথুরা শিল্পকলা মূলত কুষাণ যুগে বিকশিত হয়েছিল এবং এটি বৌদ্ধ, জৈন এবং হিন্দু—এই তিনটি ধর্মের মূর্তি ও শিল্পকর্ম নির্মাণের জন্য বিখ্যাত ছিল।
প্রশ্ন ১৭৬: প্রাচীন ভারতের কোন গ্রন্থটিকে ‘রাজনৈতিক দর্শনের বাইবেল’ বলা যেতে পারে?
সঠিক উত্তর: b) অর্থশাস্ত্র
বিস্তারিত: কৌটিল্যের লেখা ‘অর্থশাস্ত্র’ রাষ্ট্র পরিচালনা, কূটনীতি, প্রশাসন এবং অর্থনৈতিক নীতির উপর একটি বিশদ ও প্রভাবশালী গ্রন্থ, যা আজও প্রাসঙ্গিক।
প্রশ্ন ১৭৭: ‘বিক্রমাব্দ’ বা বিক্রম সংবৎ কে প্রবর্তন করেন বলে মনে করা হয়?
সঠিক উত্তর: c) উজ্জয়িনীর রাজা বিক্রমাদিত্য
বিস্তারিত: প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, উজ্জয়িনীর রাজা বিক্রমাদিত্য ৫৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে শকদের পরাজিত করে ‘বিক্রমাব্দ’ বা বিক্রম সংবৎ প্রবর্তন করেন।
প্রশ্ন ১৭৮: কোন রাজবংশ প্রথম ব্রাহ্মণদের ভূমি দান করার প্রথা শুরু করে?
সঠিক উত্তর: b) সাতবাহন
বিস্তারিত: সাতবাহন রাজারা প্রথম ব্রাহ্মণ ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের করমুক্ত ভূমি দান করার প্রথা শুরু করেন, যা পরবর্তীকালে ভারতীয় সামন্ততন্ত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রশ্ন ১৭৯: প্রাচীন ভারতের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে মূলত তন্ত্রবিদ্যা ও বজ্রযান বৌদ্ধধর্মের উপর জোর দেওয়া হত?
সঠিক উত্তর: c) বিক্রমশীলা
বিস্তারিত: পাল রাজা ধর্মপাল কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বিক্রমশীলা মহাবিহার মূলত বজ্রযান বৌদ্ধধর্ম এবং তন্ত্রবিদ্যার একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
প্রশ্ন ১৮০: সিন্ধু সভ্যতার কোন স্থানটি ‘লাঙ্গল দেওয়া জমি’-র জন্য পরিচিত?
সঠিক উত্তর: c) কালিবঙ্গান
বিস্তারিত: রাজস্থানের কালিবঙ্গানে প্রাক-হরপ্পা যুগের লাঙ্গল দেওয়া জমির (ploughed field) নিদর্শন পাওয়া গেছে, যা সিন্ধু সভ্যতার কৃষিকাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
প্রশ্ন ১৮১: ‘পুরোহিত রাজা’-র (Priest-King) মূর্তিটি কোন সিন্ধু সভ্যতার স্থান থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে?
সঠিক উত্তর: b) মহেঞ্জোদারো
বিস্তারিত: বিখ্যাত স্টেটাইট পাথরের ‘পুরোহিত রাজা’-র মূর্তিটি মহেঞ্জোদারো থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে। এটি সিন্ধু সভ্যতার শিল্পকলার একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন।
প্রশ্ন ১৮২: বৈদিক যুগে ‘যুদ্ধ’ বোঝাতে কোন শব্দটি ব্যবহৃত হত?
সঠিক উত্তর: b) গাভিষ্ঠি
বিস্তারিত: ঋগ্বৈদিক যুগে ‘গাভিষ্ঠি’ শব্দটি যুদ্ধ বোঝাতে ব্যবহৃত হত, যার আক্ষরিক অর্থ ‘গরুর সন্ধান’। এটি ইঙ্গিত করে যে গবাদি পশু তখন সম্পদের প্রধান উৎস ছিল এবং এর জন্য যুদ্ধ হত।
প্রশ্ন ১৮৩: তৃতীয় বৌদ্ধ পরিষদ কার পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হয়?
সঠিক উত্তর: c) অশোক
বিস্তারিত: তৃতীয় বৌদ্ধ পরিষদ সম্রাট অশোকের পৃষ্ঠপোষকতায় পাটলিপুত্রে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই পরিষদে বৌদ্ধ ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ ত্রিপিটকের চূড়ান্ত সংকলন করা হয়।
প্রশ্ন ১৮৪: কোন গুপ্ত শাসক প্রথম রৌপ্য মুদ্রা চালু করেন?
সঠিক উত্তর: c) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
বিস্তারিত: দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তই প্রথম গুপ্ত শাসক যিনি শকদের পরাজিত করার পর তাদের অনুকরণে রৌপ্য মুদ্রা চালু করেন। এর আগে গুপ্তরা মূলত স্বর্ণমুদ্রা ব্যবহার করত।
প্রশ্ন ১৮৫: চালুক্য রাজা দ্বিতীয় পুলকেশী নর্মদা নদীর তীরে কাকে পরাজিত করেন?
সঠিক উত্তর: c) হর্ষবর্ধন
বিস্তারিত: চালুক্য রাজা দ্বিতীয় পুলকেশী উত্তর ভারতের সম্রাট হর্ষবর্ধনকে নর্মদা নদীর তীরে পরাজিত করেন এবং তার দক্ষিণমুখী সাম্রাজ্য বিস্তার রোধ করেন। এই ঘটনার উল্লেখ রবিকীর্তির আইহোল প্রশস্তিতে রয়েছে।
প্রশ্ন ১৮৬: রাষ্ট্রকূট বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
সঠিক উত্তর: b) দন্তিদুর্গ
বিস্তারিত: দন্তিদুর্গ চালুক্যদের পরাজিত করে দাক্ষিণাত্যে রাষ্ট্রকূট বংশ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন।
প্রশ্ন ১৮৭: ‘তরাইনের প্রথম যুদ্ধ’ (১১৯১) কাদের মধ্যে হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: a) পৃথ্বীরাজ চৌহান ও মুহম্মদ ঘোরী
বিস্তারিত: ১১৯১ খ্রিস্টাব্দে তরাইনের প্রথম যুদ্ধে রাজপুত রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহান ঘোরীর শাসক মুহম্মদ ঘোরীকে পরাজিত করেন। তবে পরের বছর দ্বিতীয় যুদ্ধে তিনি পরাজিত হন।
প্রশ্ন ১৮৮: সিন্ধু সভ্যতার কোন স্থানে একটি বিশাল জল সংরক্ষণ ব্যবস্থার নিদর্শন পাওয়া গেছে?
সঠিক উত্তর: d) ঢোলাভিরা
বিস্তারিত: গুজরাটের ঢোলাভিরাতে একাধিক জলাধার এবং উন্নত জল সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার নিদর্শন পাওয়া গেছে, যা সেই সময়ের প্রকৌশল বিদ্যার অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেয়।
প্রশ্ন ১৮৯: ঋগ্বেদের কোন মণ্ডলে ‘পুরুষ সূক্ত’-এর উল্লেখ আছে, যেখানে প্রথমবার চার বর্ণের উৎপত্তির কথা বলা হয়েছে?
সঠিক উত্তর: d) দশম মণ্ডল
বিস্তারিত: ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের পুরুষ সূক্তে প্রথমবার আদি পুরুষের (বিরাট পুরুষ) বিভিন্ন অঙ্গ থেকে চার বর্ণের (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র) উৎপত্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশ্ন ১৯০: জৈন ধর্মের ‘সাঁথারা’ বা ‘সল্লেখনা’ প্রথা কী?
সঠিক উত্তর: b) মোক্ষ লাভের জন্য উপবাস করে স্বেচ্ছামৃত্যু
বিস্তারিত: সল্লেখনা হল জৈন ধর্মের একটি কঠোর প্রথা, যেখানে একজন ব্যক্তি মোক্ষ লাভের উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছায় খাদ্য ও পানীয় ত্যাগ করে মৃত্যুবরণ করেন।
প্রশ্ন ১৯১: কোন বিদেশী পর্যটক চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যকে ‘সান্ড্রোকোট্টাস’ বলে উল্লেখ করেছেন?
সঠিক উত্তর: d) উপরের সবগুলি
বিস্তারিত: গ্রিক ঐতিহাসিকরা যেমন স্ট্র্যাবো, প্লিনি এবং আরিয়ান চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যকে ‘সান্ড্রোকোট্টাস’ নামে উল্লেখ করেছেন। স্যার উইলিয়াম জোন্স প্রথম এই নামটি চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের সাথে শনাক্ত করেন।
প্রশ্ন ১৯২: ‘হর্ষবর্ধন’ রচিত নাটক কোনটি?
সঠিক উত্তর: d) উপরের সবগুলি
বিস্তারিত: হর্ষবর্ধন নিজে একজন পন্ডিত ও নাট্যকার ছিলেন। তিনি ‘রত্নাবলী’, ‘প্রিয়দর্শিকা’ এবং ‘নাগানন্দ’ নামক তিনটি বিখ্যাত সংস্কৃত নাটক রচনা করেন।
প্রশ্ন ১৯৩: কোন সঙ্গম যুগের মহাকাব্যকে ‘তামিল সাহিত্যের ইলিয়াড’ বলা হয়?
সঠিক উত্তর: a) শিলাপ্পাদিকারম
বিস্তারিত: ইলাঙ্গো আদিগাল রচিত ‘শিলাপ্পাদিকারম’ (নূপুরের কাহিনী) সঙ্গম যুগের একটি বিখ্যাত মহাকাব্য। এর কাহিনী ও গভীরতার জন্য এটিকে প্রায়শই ‘তামিল সাহিত্যের ইলিয়াড’ বলা হয়।
প্রশ্ন ১৯৪: চোল সাম্রাজ্যের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
সঠিক উত্তর: a) ‘উর’ এবং ‘সভা’ নামক গ্রাম পরিষদ
বিস্তারিত: চোল সাম্রাজ্য তাদের উন্নত স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার জন্য বিখ্যাত ছিল। ‘উর’ (সাধারণ গ্রাম পরিষদ) এবং ‘সভা’ বা ‘মহাসভা’ (ব্রাহ্মণদের গ্রাম পরিষদ) স্থানীয় প্রশাসন পরিচালনা করত।
প্রশ্ন ১৯৫: কোন গুপ্ত শাসক ‘মহেন্দ্রাদিত্য’ উপাধি গ্রহণ করেন?
সঠিক উত্তর: c) প্রথম কুমারগুপ্ত
বিস্তারিত: প্রথম কুমারগুপ্ত, যিনি নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে মনে করা হয়, তিনি ‘মহেন্দ্রাদিত্য’ উপাধি গ্রহণ করেন।
প্রশ্ন ১৯৬: ‘যোগ’ দর্শনের প্রবক্তা কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: c) পতঞ্জলি
বিস্তারিত: মহর্ষি পতঞ্জলি ‘যোগসূত্র’ গ্রন্থের মাধ্যমে ‘যোগ’ দর্শনের sistematize করেন। অন্যান্য দর্শনগুলো হলো: ন্যায় (গৌতম), বৈশেষিক (কনাদ), সাংখ্য (কপিল), পূর্ব মীমাংসা (জৈমিনি) এবং উত্তর মীমাংসা/বেদান্ত (ব্যাস)।
প্রশ্ন ১৯৭: ‘অশ্বমেধ যজ্ঞ’ কীসের প্রতীক ছিল?
সঠিক উত্তর: b) রাজার সার্বভৌম ক্ষমতা ও সাম্রাজ্য বিস্তার
বিস্তারিত: অশ্বমেধ যজ্ঞ ছিল একটি প্রাচীন বৈদিক প্রথা, যেখানে একজন রাজা একটি ঘোড়াকে স্বাধীনভাবে বিচরণ করতে দিতেন। ঘোড়াটি যে সকল অঞ্চলে বিনা বাধায় যেত, সেই সকল অঞ্চল রাজার অধীন বলে গণ্য হত।
প্রশ্ন ১৯৮: খজুরাহোর মন্দিরগুলি কোন রাজবংশের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: b) চন্দেল
বিস্তারিত: মধ্যপ্রদেশের খজুরাহোতে অবস্থিত বিখ্যাত মন্দিরগুলি চন্দেল রাজবংশের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। এই মন্দিরগুলি তাদের নাগর শৈলীর স্থাপত্য এবং ভাস্কর্যের জন্য বিখ্যাত।
প্রশ্ন ১৯৯: ভারতীয় ইতিহাসে কোন সময়কালকে ‘শাস্ত্রীয় যুগ’ (Classical Age) বলা হয়?
সঠিক উত্তর: c) গুপ্ত যুগ
বিস্তারিত: শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান এবং দর্শনে অসাধারণ উন্নতির কারণে গুপ্ত যুগকে প্রায়শই ভারতীয় ইতিহাসের ‘শাস্ত্রীয় যুগ’ বা ‘স্বর্ণযুগ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
প্রশ্ন ২০০: ‘তোলকাপ্পিয়াম’ কী ধরনের গ্রন্থ?
সঠিক উত্তর: c) তামিল ব্যাকরণ এবং কাব্যতত্ত্বের গ্রন্থ
বিস্তারিত: ‘তোলকাপ্পিয়াম’ হল সঙ্গম যুগের সবচেয়ে পুরানো এবং গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলির মধ্যে একটি। এটি মূলত তামিল ভাষার ব্যাকরণ, ছন্দ, এবং কাব্যতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করে।