প্রথম পর্ব: সুলতানি শাসনের ভাঙন ও বাবরের আগমন (প্রশ্ন ১-৫০)
প্রশ্ন ১: সুলতানি শাসনের ভাঙনের পেছনে কোন কারণটি প্রধান ছিল?
a) মঙ্গোল আক্রমণ
b) প্রাদেশিক শাসনকর্তাদের বিদ্রোহ
c) ইলতুৎমিশের দুর্বলতা
d) ফিরোজ শাহ তুঘলকের কঠোর নীতি
সঠিক উত্তর: b) প্রাদেশিক শাসনকর্তাদের বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলকের মৃত্যুর পর সুলতানি শাসনের কেন্দ্রীয় শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন প্রাদেশিক শাসনকর্তারা স্বাধীনতা ঘোষণা করতে শুরু করেন, যা সুলতানি সাম্রাজ্যের ভাঙনকে ত্বরান্বিত করে। মঙ্গোল আক্রমণ একটি কারণ হলেও, অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহই প্রধান ভাঙনের কারণ ছিল।
প্রশ্ন ২: তৈমুরের ভারত আক্রমণের (১৩৯৮ খ্রি.) প্রধান ফলাফল কী ছিল?
a) তুঘলক বংশের পুনরুত্থান
b) দিল্লির সুলতানি শাসনের চূড়ান্ত অবসান
c) দিল্লির ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং সৈয়দ বংশের উত্থান হয়।
d) বাংলায় স্বাধীন সুলতানি প্রতিষ্ঠা
সঠিক উত্তর: c) দিল্লির ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং সৈয়দ বংশের উত্থান হয়।
ব্যাখ্যা: তৈমুরের আক্রমণে দিল্লির ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায় এবং এর ফলে তুঘলক বংশের পতন ঘটে। এরপর সৈয়দ বংশের অধীনে একটি দুর্বল সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রশ্ন ৩: লোদী বংশের শেষ সুলতান কে ছিলেন, যাকে বাবর পানিপথের প্রথম যুদ্ধে পরাজিত করেন?
a) সিকান্দার লোদী
b) ইব্রাহিম লোদী
c) বাহলুল লোদী
d) দৌলত খান লোদী
সঠিক উত্তর: b) ইব্রাহিম লোদী
ব্যাখ্যা: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবর ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন।
প্রশ্ন ৪: বাবরের ভারত আক্রমণের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
a) শুধুমাত্র ধন-সম্পদ লুণ্ঠন
b) তৈমুরের সাম্রাজ্যের গৌরব পুনরুদ্ধার
c) মধ্য এশিয়ায় তাঁর হারানো রাজ্য পুনরুদ্ধার
d) ধর্ম প্রচার
সঠিক উত্তর: b) তৈমুরের সাম্রাজ্যের গৌরব পুনরুদ্ধার
ব্যাখ্যা: বাবর তৈমুরের বংশধর হওয়ায় ভারতে একটি বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে তৈমুরের হারানো গৌরব ও সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করতে চেয়েছিলেন, যদিও প্রাথমিকভাবে তিনি মধ্য এশিয়ায় নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পারেননি।
প্রশ্ন ৫: বাবর ভারতে প্রথম কোন যুদ্ধ কৌশলটি সফলভাবে প্রয়োগ করেছিলেন?
a) গেরিলা যুদ্ধ
b) তুলুগমা (Tulughma) যুদ্ধ পদ্ধতি
c) দীর্ঘ অবরোধ
d) হস্তিবাহিনী ব্যবহার
সঠিক উত্তর: b) তুলুগমা (Tulughma) যুদ্ধ পদ্ধতি
ব্যাখ্যা: বাবর পানিপথের প্রথম যুদ্ধে তুলুগমা (পার্শ্বীয় আক্রমণের কৌশল) এবং গোলন্দাজ বাহিনী (আর্টিলারি) সফলভাবে ব্যবহার করেছিলেন, যা তার বিজয়ের অন্যতম কারণ ছিল।
প্রশ্ন ৬: বাবরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থটির নাম কী?
a) আইন-ই-আকবরী
b) তুজুক-ই-বাবরী (বাবরনামা)
c) শাহনামা
d) আকবরনামা
সঠিক উত্তর: b) তুজুক-ই-বাবরী (বাবরনামা)
ব্যাখ্যা: বাবর তাঁর আত্মজীবনী তুর্কি ভাষায় রচনা করেন, যা ‘তুজুক-ই-বাবরী’ বা ‘বাবরনামা’ নামে পরিচিত। এটি তাঁর ভারত অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
প্রশ্ন ৭: কোন যুদ্ধে বাবর ‘গাজী’ উপাধি ধারণ করেন?
a) পানিপথের প্রথম যুদ্ধ (১৫২৬)
b) খানুয়ার যুদ্ধ (১৫২৭)
c) চান্দেরীর যুদ্ধ (১৫২৮)
d) ঘরঘরা যুদ্ধ (১৫২৯)
সঠিক উত্তর: b) খানুয়ার যুদ্ধ (১৫২৭)
ব্যাখ্যা: ১৫২৭ খ্রিস্টাব্দে মেওয়ারের রানা সংগ্রাম সিংহকে পরাজিত করার পর বাবর ‘গাজী’ উপাধি ধারণ করেন, কারণ এই যুদ্ধকে তিনি জেহাদ হিসেবে দেখেছিলেন।
প্রশ্ন ৮: তৈমুরের ভারত আক্রমণের সময় দিল্লির সুলতান কে ছিলেন?
a) ফিরোজ শাহ তুঘলক
b) নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ তুঘলক
c) ইব্রাহিম লোদী
d) বাহলুল লোদী
সঠিক উত্তর: b) নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ তুঘলক
ব্যাখ্যা: ১৩৯৮ খ্রিস্টাব্দে তৈমুর যখন ভারত আক্রমণ করেন, তখন তুঘলক বংশের শেষ দুর্বল সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ তুঘলক দিল্লির সিংহাসনে আসীন ছিলেন।
প্রশ্ন ৯: পানিপথের প্রথম যুদ্ধের (১৫২৬ খ্রি.) তাৎক্ষণিক ফলাফল কী ছিল?
a) লোদী বংশের ক্ষমতা সুদৃঢ় হয়
b) ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা
c) আফগানদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়
d) বাংলা স্বাধীন রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে
সঠিক উত্তর: b) ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা: পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করার মাধ্যমে বাবর ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন, যা ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন যুগের সূচনা করে।
প্রশ্ন ১০: বাবরের ভারত আক্রমণের সময় উত্তর ভারতের কোন রাজপুত শাসক সবচেয়ে শক্তিশালী ছিলেন?
a) রানা প্রতাপ সিংহ
b) রানা সংগ্রাম সিংহ (সঙ্গ)
c) পৃথ্বীরাজ চৌহান
d) উদয় সিংহ
সঠিক উত্তর: b) রানা সংগ্রাম সিংহ (সঙ্গ)
ব্যাখ্যা: বাবরের ভারত আক্রমণের সময় মেওয়ারের রানা সংগ্রাম সিংহ উত্তর ভারতের একজন অত্যন্ত শক্তিশালী রাজপুত শাসক ছিলেন এবং তিনি বাবরকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিলেন।
প্রশ্ন ১১: সৈয়দ বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
a) খিজির খান
b) মুবারক শাহ
c) মহম্মদ শাহ
d) আলাউদ্দিন আলম শাহ
সঠিক উত্তর: a) খিজির খান
ব্যাখ্যা: তৈমুরের ভারত আক্রমণের পর দিল্লির সুলতানি শাসনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে খিজির খান সৈয়দ বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রশ্ন ১২: লোদী বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
a) ইব্রাহিম লোদী
b) সিকান্দার লোদী
c) বাহলুল লোদী
d) দৌলত খান লোদী
সঠিক উত্তর: c) বাহলুল লোদী
ব্যাখ্যা: ১৪৫১ খ্রিস্টাব্দে বাহলুল লোদী দিল্লির সিংহাসন দখল করে লোদী বংশের প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল দিল্লির প্রথম আফগান রাজবংশ।
প্রশ্ন ১৩: বাবরের ভারত আক্রমণের সময় উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত রক্ষা করার জন্য কোন দুর্গটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
a) রণথম্ভোর
b) কালিঞ্জর
c) লাহোর দুর্গ
d) ভাটিন্ডা
সঠিক উত্তর: c) লাহোর দুর্গ
ব্যাখ্যা: বাবরের ভারত আক্রমণের সময় লাহোর দুর্গটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল কারণ এটি উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ভারতে প্রবেশের একটি প্রধান পথকে নিয়ন্ত্রণ করত।
প্রশ্ন ১৪: বাবরের কোন পুত্র হুমায়ুনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন এবং পরে ক্ষমা লাভ করেন?
a) কামরান
b) আসকারি
c) হিন্দাল
d) এদের কেউই নয়
সঠিক উত্তর: a) কামরান
ব্যাখ্যা: কামরান মির্জা, বাবরের দ্বিতীয় পুত্র এবং হুমায়ুনের ভাই, কাবুলের শাসক ছিলেন এবং ভারতের কিছু অংশের দাবিদার ছিলেন। তিনি হুমায়ুনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং হুমায়ুন তাকে কয়েকবার ক্ষমা করলেও, শেষ পর্যন্ত তাকে অন্ধ করে মক্কায় পাঠিয়ে দেন।
প্রশ্ন ১৫: বাবরের বিজয়ের ফলে ভারতে মুঘল শাসনের গুরুত্ব কী ছিল?
a) সুলতানি শাসনের ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়
b) মধ্য এশিয়া থেকে নতুন সংস্কৃতি ও প্রযুক্তি ভারতে প্রবেশ করে
c) ভারতে মারাঠাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়
d) রাজপুতদের সম্পূর্ণ বশ্যতা স্বীকার
সঠিক উত্তর: b) মধ্য এশিয়া থেকে নতুন সংস্কৃতি ও প্রযুক্তি ভারতে প্রবেশ করে
ব্যাখ্যা: বাবরের বিজয়ের ফলে ভারতে একটি নতুন সাম্রাজ্য (মুঘল) প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর সাথে মধ্য এশিয়া থেকে নতুন যুদ্ধ কৌশল (যেমন বন্দুক ও কামান), স্থাপত্য শৈলী, শিল্পকলা এবং প্রশাসনিক ধারণার প্রবেশ ঘটে, যা ভারতের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
প্রশ্ন ১৬: তৈমুরের ভারত আক্রমণের সময় দিল্লির সুলতানরা কোন তুঘলক বংশের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন?
a) প্রথম তুঘলক
b) শেষ দিকের তুঘলক
c) ইলবেরী তুঘলক
d) এদের কেউই নয়
সঠিক উত্তর: b) শেষ দিকের তুঘলক
ব্যাখ্যা: তৈমুরের আক্রমণের সময় দিল্লি শাসন করছিলেন নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ তুঘলক, যিনি ছিলেন তুঘলক বংশের শেষ দিকের একজন দুর্বল শাসক।
প্রশ্ন ১৭: বাবর যখন ভারত আক্রমণ করেন, তখন বাংলার স্বাধীন সুলতান কে ছিলেন?
a) আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
b) নুসরত শাহ
c) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
d) শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
সঠিক উত্তর: b) নুসরত শাহ
ব্যাখ্যা: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে বাবরের আক্রমণের সময় বাংলার শাসক ছিলেন নুসরত শাহ, যিনি ছিলেন হোসেন শাহী বংশের একজন শক্তিশালী সুলতান। বাবর তার বিরুদ্ধে ঘরঘরা যুদ্ধ করেছিলেন।
প্রশ্ন ১৮: পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবরের জয়ের মূল কারণ কী ছিল?
a) বিশাল সৈন্যবাহিনী
b) ইব্রাহিম লোদীর দুর্বল নেতৃত্ব, গোলন্দাজ বাহিনী ও তুলুগমা পদ্ধতি
c) রাজপুতদের সমর্থন
d) আফগানদের অনৈক্য
সঠিক উত্তর: b) ইব্রাহিম লোদীর দুর্বল নেতৃত্ব, গোলন্দাজ বাহিনী ও তুলুগমা পদ্ধতি
ব্যাখ্যা: ইব্রাহিম লোদীর অদক্ষ নেতৃত্ব, বাবরের উন্নত রণকৌশল (তুলুগমা পদ্ধতি) এবং কামান ও গোলন্দাজ বাহিনীর ব্যবহার বাবরের বিজয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল।
প্রশ্ন ১৯: বাবর কোন ভাষার কবি ছিলেন?
a) ফার্সি
b) আরবি
c) তুর্কি (চাগাতাই)
d) উর্দু
সঠিক উত্তর: c) তুর্কি (চাগাতাই)
ব্যাখ্যা: বাবর চাগাতাই তুর্কি ভাষার একজন বিদগ্ধ কবি ও লেখক ছিলেন। তার আত্মজীবনী ‘তুজুক-ই-বাবরী’ এই ভাষাতেই লেখা।
প্রশ্ন ২০: খানুয়ার যুদ্ধের (১৫২৭ খ্রি.) পর বাবরের সবচেয়ে বড় সামরিক হুমকি কে ছিলেন?
a) ইব্রাহিম লোদী
b) মেওয়ারের রানা সংগ্রাম সিংহ
c) বাংলার নুসরত শাহ
d) বিহারের আফগান প্রধানরা
সঠিক উত্তর: d) বিহারের আফগান প্রধানরা
ব্যাখ্যা: খানুয়ার যুদ্ধে রানা সংগ্রাম সিংহ পরাজিত হওয়ার পর, বাবরের জন্য সবচেয়ে বড় সামরিক হুমকি হয়ে দাঁড়ান বিহারের আফগান প্রধানরা, বিশেষ করে শের শাহ শূর ও অন্যান্য আফগান সর্দাররা, যাদেরকে তিনি ঘরঘরা যুদ্ধে পরাজিত করেন।
প্রশ্ন ২১: ভারতে তার অভিযানের জন্য বাবর মূলত কাদের আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন?
a) রাজপুত রাজা রানা সংগ্রাম সিংহ
b) দৌলত খান লোদী এবং রানা সংগ্রাম সিংহ
c) ইব্রাহিম লোদী
d) শুধুমাত্র স্থানীয় আফগান সর্দাররা
সঠিক উত্তর: b) দৌলত খান লোদী এবং রানা সংগ্রাম সিংহ
ব্যাখ্যা: পাঞ্জাবের আফগান শাসক দৌলত খান লোদী এবং মেওয়ারের রানা সংগ্রাম সিংহ উভয়েই ইব্রাহিম লোদীকে দুর্বল করার জন্য বাবরকে ভারত আক্রমণের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
প্রশ্ন ২২: বাবর কোন যুদ্ধে জয়লাভের পর ‘কলন্দর’ উপাধি গ্রহণ করেন?
a) পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
b) খানুয়ার যুদ্ধ
c) চান্দেরীর যুদ্ধ
d) ঘরঘরা যুদ্ধ
সঠিক উত্তর: a) পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
ব্যাখ্যা: পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বিজয়ের পর বাবর প্রজাদের মধ্যে প্রচুর ধনসম্পদ বিতরণ করেন, যার ফলে তিনি ‘কলন্দর’ (উদার) উপাধি লাভ করেন।
প্রশ্ন ২৩: বাবরের বিজয়ের ফলে ভারতে কোন নতুন স্থাপত্য শৈলী প্রবেশ করে?
a) পারসিক-তুর্কি স্থাপত্য
b) হিন্দু স্থাপত্য
c) দ্রাবিড় স্থাপত্য
d) গ্রিক স্থাপত্য
সঠিক উত্তর: a) পারসিক-তুর্কি স্থাপত্য
ব্যাখ্যা: বাবরের আগমনের সাথে সাথে ভারতে পারসিক-তুর্কি স্থাপত্য শৈলীর প্রভাব বৃদ্ধি পায়, যা পরবর্তী মুঘল স্থাপত্যের ভিত্তি স্থাপন করে।
প্রশ্ন ২৪: দিল্লির সুলতানি শাসনের ভাঙনের পেছনে কোন বিদেশী শক্তির আক্রমণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক ছিল?
a) পর্তুগিজ
b) তুর্কি
c) মঙ্গোল (তৈমুর)
d) পারসি
সঠিক উত্তর: c) মঙ্গোল (তৈমুর)
ব্যাখ্যা: ১৩৯৮ খ্রিস্টাব্দে তৈমুরের আক্রমণ দিল্লির সুলতানি শাসনের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয় এবং এর চূড়ান্ত ভাঙনকে ত্বরান্বিত করে।
প্রশ্ন ২৫: লোদী সুলতানদের মধ্যে কে আগ্রা শহর প্রতিষ্ঠা করেন?
a) বাহলুল লোদী
b) সিকান্দার লোদী
c) ইব্রাহিম লোদী
d) দৌলত খান লোদী
সঠিক উত্তর: b) সিকান্দার লোদী
ব্যাখ্যা: ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে সিকান্দার লোদী আগ্রা শহর প্রতিষ্ঠা করেন এবং এটিকে তার রাজধানী হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেন।
প্রশ্ন ২৬: তৈমুরের আক্রমণের পর দিল্লির সুলতানি সাম্রাজ্য মূলত কী ধরনের রাজ্যে পরিণত হয়?
a) একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় রাজ্য
b) অসংখ্য ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত
c) একটি মঙ্গোল প্রদেশ
d) একটি রাজপুত রাজ্য
সঠিক উত্তর: b) অসংখ্য ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত
ব্যাখ্যা: তৈমুরের বিধ্বংসী আক্রমণের পর দিল্লির সুলতানি সাম্রাজ্য চূড়ান্তভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অসংখ্য স্বাধীন বা প্রায় স্বাধীন ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত হয়ে যায়, যেমন জৌনপুর, মালওয়া, গুজরাট, বাংলা, কাশ্মীর ইত্যাদি।
প্রশ্ন ২৭: পানিপথের প্রথম যুদ্ধকে ভারতীয় ইতিহাসের একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বলা হয় কেন?
a) এটি রাজপুতদের ক্ষমতা শেষ করে
b) এটি প্রথমবার কামানের ব্যবহার দেখেছিল
c) এটি ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের সূচনা করে এবং দিল্লির সুলতানি শাসনের অবসান ঘটায়
d) এটি একটি নতুন সামরিক কৌশল প্রবর্তন করে
সঠিক উত্তর: c) এটি ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের সূচনা করে এবং দিল্লির সুলতানি শাসনের অবসান ঘটায়
ব্যাখ্যা: পানিপথের প্রথম যুদ্ধ ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে লোদী সুলতান ইব্রাহিম লোদীর পরাজয় এবং বাবরের বিজয়ের মাধ্যমে ভারতে ৫০০ বছরেরও বেশি সময়ের দিল্লির সুলতানি শাসনের অবসান ঘটায় এবং নতুন মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করে, যা ভারতীয় ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করে দেয়।
প্রশ্ন ২৮: বাবর কোন বিজয়ের পর নিজেকে ‘বাদশাহ’ ঘোষণা করেন?
a) কাবুল বিজয়
b) ফারগানা বিজয়
c) পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
d) কান্দাহার বিজয়
সঠিক উত্তর: c) পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
ব্যাখ্যা: পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে ভারত জয়ের পর বাবর নিজেকে ‘বাদশাহ’ বা সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করেন, যা তার সার্বভৌমত্বের প্রতীক ছিল।
প্রশ্ন ২৯: বাবর কোন সমরনায়কের বংশধর ছিলেন?
a) চেঙ্গিস খান এবং তৈমুর
b) তৈমুর এবং নাদির শাহ
c) চেঙ্গিস খান এবং বায়েজিদ ইয়েল
d) তৈমুর এবং বায়েজিদ ইয়েল
সঠিক উত্তর: a) চেঙ্গিস খান এবং তৈমুর
ব্যাখ্যা: বাবর তার পিতার দিক থেকে তৈমুরের পঞ্চম এবং মাতার দিক থেকে চেঙ্গিস খানের ত্রয়োদশ বংশধর ছিলেন, যা তাকে মধ্য এশিয়ার দুটি শক্তিশালী রাজবংশের উত্তরাধিকারী করে তুলেছিল।
প্রশ্ন ৩০: দিল্লির সুলতানি শাসনের ভাঙনের যুগে বিজয়নগর সাম্রাজ্য কোন অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
a) উত্তর ভারত
b) দাক্ষিণাত্য
c) পূর্ব ভারত
d) পশ্চিম ভারত
সঠিক উত্তর: b) দাক্ষিণাত্য
ব্যাখ্যা: ১৩৩৬ খ্রিস্টাব্দে হরিহর ও বুক্কা কর্তৃক দাক্ষিণাত্যে বিজয়নগর সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়, যা দিল্লির সুলতানি শাসনের দুর্বলতার সুযোগে গড়ে ওঠে।
প্রশ্ন ৩১: বাবরের ভারত বিজয়ের পর কোন অঞ্চলে তার শাসন প্রতিষ্ঠা করেন?
a) শুধুমাত্র দিল্লি ও আগ্রা
b) দিল্লি, আগ্রা, পাঞ্জাব ও পূর্বের কিছু অঞ্চল
c) সমগ্র উত্তর ভারত
d) দাক্ষিণাত্য
সঠিক উত্তর: b) দিল্লি, আগ্রা, পাঞ্জাব ও পূর্বের কিছু অঞ্চল
ব্যাখ্যা: বাবরের বিজয়ের ফলে দিল্লি, আগ্রা, পাঞ্জাব এবং পূর্বের কিছু অঞ্চল (যেমন বিহারের কিছু অংশ) মুঘল সাম্রাজ্যের অধীনে আসে, যদিও তার শাসনকাল সংক্ষিপ্ত ছিল।
প্রশ্ন ৩২: লোদী বংশের সময়কালে আফগানদের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
a) ঐক্যবদ্ধ শাসন
b) উপজাতীয় সংহতি ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
c) পারসিক সংস্কৃতির প্রভাব
d) শক্তিশালী নৌবাহিনী
সঠিক উত্তর: b) উপজাতীয় সংহতি ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
ব্যাখ্যা: লোদী আফগানরা ছিল মূলত উপজাতীয় গোষ্ঠীর সমন্বয়, যেখানে সুলতানের ক্ষমতা দুর্বল ছিল এবং সর্দারদের হাতে ব্যাপক ক্ষমতা ছিল, যা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের দিকে নিয়ে গিয়েছিল।
প্রশ্ন ৩৩: বাবর কোন সালে মারা যান?
a) ১৫২৮ খ্রিষ্টাব্দ
b) ১৫২৯ খ্রিষ্টাব্দ
c) ১৫৩০ খ্রিষ্টাব্দ
d) ১৫৩১ খ্রিষ্টাব্দ
সঠিক উত্তর: c) ১৫৩০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা: বাবর ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে আগ্রায় মারা যান, মাত্র চার বছর ভারতে শাসন করার পর।
প্রশ্ন ৩৪: তৈমুরের ভারত আক্রমণের একটি অন্যতম ফলাফল কী ছিল?
a) ভারতের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি
b) দিল্লিতে একটি নতুন শক্তিশালী রাজবংশের উত্থান
c) দিল্লির সুলতানি শাসনের চূড়ান্ত দুর্বলতা ও প্রাদেশিক রাজ্যের উত্থান
d) ভারতে তুর্কিদের আগমন
সঠিক উত্তর: c) দিল্লির সুলতানি শাসনের চূড়ান্ত দুর্বলতা ও প্রাদেশিক রাজ্যের উত্থান
ব্যাখ্যা: তৈমুরের আক্রমণ দিল্লির সুলতানি শাসনের কেন্দ্রীয় কর্তৃত্বকে ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে অসংখ্য আঞ্চলিক শক্তির উত্থান ঘটে এবং সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে।
প্রশ্ন ৩৫: বাবরের ভারত আক্রমণের সময় উত্তর ভারতের কোন রাজবংশ দিল্লি শাসন করছিল?
a) তুঘলক বংশ
b) সৈয়দ বংশ
c) লোদী বংশ
d) খলজি বংশ
সঠিক উত্তর: c) লোদী বংশ
ব্যাখ্যা: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধের সময় লোদী বংশের ইব্রাহিম লোদী ছিলেন দিল্লির সুলতান।
প্রশ্ন ৩৬: বাবর কোন সালে ‘ঘরঘরা যুদ্ধ’ জয় করেন?
a) ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দ
b) ১৫২৭ খ্রিষ্টাব্দ
c) ১৫২৮ খ্রিষ্টাব্দ
d) ১৫২৯ খ্রিষ্টাব্দ
সঠিক উত্তর: d) ১৫২৯ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা: ১৫২৯ খ্রিস্টাব্দে বাবর ঘারঘরা (গোগরা) নদীর তীরে আফগান সর্দারদের এবং বাংলার সুলতান নুসরত শাহের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেন।
প্রশ্ন ৩৭: চান্দেরীর যুদ্ধ (১৫২৮ খ্রি.) কাদের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল?
a) বাবর ও ইব্রাহিম লোদী
b) বাবর ও রানা সংগ্রাম সিংহ
c) বাবর ও মেদিনী রায়
d) বাবর ও নুসরত শাহ
সঠিক উত্তর: c) বাবর ও মেদিনী রায়
ব্যাখ্যা: ১৫২৮ খ্রিস্টাব্দে বাবর চান্দেরীর রাজপুত শাসক মেদিনী রায়কে পরাজিত করেন, যা উত্তর ভারতে তার ক্ষমতাকে আরও সুদৃঢ় করে।
প্রশ্ন ৩৮: বাবরের মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স কত ছিল?
a) ৪০ বছর
b) ৪২ বছর
c) ৪৭ বছর
d) ৫০ বছর
সঠিক উত্তর: c) ৪৭ বছর
ব্যাখ্যা: বাবর ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে ৪৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন, মাত্র চার বছর ভারতে শাসন করার পর।
প্রশ্ন ৩৯: বাবর তার সাম্রাজ্যকে কাদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছিলেন?
a) তার সেনাপতিদের মধ্যে
b) তার পুত্রদের মধ্যে
c) তার আফগান মিত্রদের মধ্যে
d) ভাগ করেননি
সঠিক উত্তর: b) তার পুত্রদের মধ্যে
ব্যাখ্যা: বাবর তার সাম্রাজ্য তার চার পুত্র—হুমায়ুন, কামরান, আসকারি ও হিন্দালের মধ্যে ভাগ করে দিয়ে যান, যা পরবর্তীকালে হুমায়ুনের জন্য সমস্যার কারণ হয়েছিল।
প্রশ্ন ৪০: সুলতানি শাসনের পতনের যুগে কোন সুলতান ‘শাহ-ই-বেখবর’ নামে পরিচিত ছিলেন?
a) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
b) আলাউদ্দিন আলম শাহ
c) বাহাদুর শাহ (গুজরাট)
d) নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ
সঠিক উত্তর: d) নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ
ব্যাখ্যা: তুঘলক বংশের শেষ সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ এতটাই দুর্বল ও অকর্মণ্য ছিলেন যে তার সম্পর্কে বলা হত, ‘শাহেনশাহ-ই-আলম, আজ দিল্লি তা পালাম’ (জগতের সম্রাট, যার রাজত্ব দিল্লি থেকে পালাম পর্যন্ত)।
প্রশ্ন ৪১: পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবরের গোলন্দাজ বাহিনীর নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?
a) বৈরাম খান
b) উস্তাদ আলি কুলী ও মুস্তাফা রুমি
c) মীর বাকি
d) আসকারি মির্জা
সঠিক উত্তর: b) উস্তাদ আলি কুলী ও মুস্তাফা রুমি
ব্যাখ্যা: উস্তাদ আলি কুলী এবং মুস্তাফা রুমি ছিলেন বাবরের দুজন দক্ষ অটোমান গোলন্দাজ বিশেষজ্ঞ, যারা পানিপথের যুদ্ধে বাবরের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
প্রশ্ন ৪২: লোদী বংশের শাসকরা জাতিতে কী ছিলেন?
a) তুর্কি
b) পারসিক
c) আফগান
d) মঙ্গোল
সঠিক উত্তর: c) আফগান
ব্যাখ্যা: লোদী বংশ ছিল দিল্লির সুলতানিতে প্রথম আফগান রাজবংশ, যা বাহলুল লোদী প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রশ্ন ৪৩: বাবরের কোন পুত্র হুমায়ুনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা করেছিলেন এবং পরে অন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল?
a) হিন্দাল
b) আসকারি
c) কামরান
d) সুলেমান মির্জা
সঠিক উত্তর: c) কামরান
ব্যাখ্যা: বাবরের জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং হুমায়ুনের ভাই কামরান ছিলেন হুমায়ুনের শাসনের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। তিনি বহুবার বিদ্রোহ করেন এবং শেষ পর্যন্ত হুমায়ুন তাকে অন্ধ করে মক্কায় পাঠিয়ে দেন।
প্রশ্ন ৪৪: বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন কোন যুদ্ধে আফগানদের কাছে প্রাথমিকভাবে পরাজিত হন?
a) পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
b) খানুয়ার যুদ্ধ
c) চৌসার যুদ্ধ
d) ঘরঘরা যুদ্ধ
সঠিক উত্তর: c) চৌসার যুদ্ধ
ব্যাখ্যা: ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে শের শাহের কাছে হুমায়ুন পরাজিত হন, যা তার জন্য একটি গুরুতর বিপর্যয় ছিল।
প্রশ্ন ৪৫: বাবরের সমাধি কোথায় অবস্থিত?
a) দিল্লি
b) আগ্রা
c) লাহোর
d) কাবুল
সঠিক উত্তর: d) কাবুল
ব্যাখ্যা: বাবরকে প্রথমে আগ্রায় সমাধিস্থ করা হলেও, তার ইচ্ছানুযায়ী পরে তার দেহ কাবুলের একটি উদ্যানে (বাগ-ই-বাবর) স্থানান্তরিত করা হয়।
প্রশ্ন ৪৬: ‘তুজুক-ই-বাবরী’ গ্রন্থটি কে ফারসি ভাষায় অনুবাদ করেন?
a) আবুল ফজল
b) ফৈজি
c) আব্দুল রহিম খান-ই-খানা
d) বৈরাম খান
সঠিক উত্তর: c) আব্দুল রহিম খান-ই-খানা
ব্যাখ্যা: আকবরের নবরত্নদের অন্যতম আব্দুল রহিম খান-ই-খানা চাগাতাই তুর্কি ভাষায় লেখা ‘তুজুক-ই-বাবরী’ গ্রন্থটি ফারসি ভাষায় ‘বাবরনামা’ নামে অনুবাদ করেন।
প্রশ্ন ৪৭: সুলতানি শাসনের পতনের যুগে জৌনপুরে কোন স্বাধীন রাজবংশ গড়ে উঠেছিল?
a) হোসেন শাহী বংশ
b) ইলিয়াস শাহী বংশ
c) শার্কি বংশ
d) ফারুকি বংশ
সঠিক উত্তর: c) শার্কি বংশ
ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলকের মৃত্যুর পর তার একজন খোজা মালিক সারওয়ার জৌনপুরে শার্কি বংশ প্রতিষ্ঠা করেন, যা ‘পূর্বের সিরাজ’ নামে পরিচিত ছিল।
প্রশ্ন ৪৮: ইব্রাহিম লোদীর বিরুদ্ধে বাবরের অভিযানের মূল কারণ কী ছিল?
a) শুধুমাত্র ধর্মীয় কারণ
b) দৌলত খান লোদীর আমন্ত্রণ ও ভারতে সাম্রাজ্য স্থাপনের আকাঙ্ক্ষা
c) তৈমুরের প্রতিশোধ
d) রাজপুতদের উস্কানি
সঠিক উত্তর: b) দৌলত খান লোদীর আমন্ত্রণ ও ভারতে সাম্রাজ্য স্থাপনের আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা: পাঞ্জাবের গভর্নর দৌলত খান লোদীর আমন্ত্রণ এবং বাবরের নিজের ভারতে একটি স্থায়ী সাম্রাজ্য স্থাপনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল তার ভারত অভিযানের মূল কারণ।
প্রশ্ন ৪৯: বাবর কোন মধ্য এশীয় শহর পুনরুদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়ে ভারতের দিকে মনোনিবেশ করেন?
a) সমরখন্দ
b) বুখারা
c) ফারগানা
d) উপরের সবগুলি
সঠিক উত্তর: d) উপরের সবগুলি
ব্যাখ্যা: বাবর বারবার তার পৈতৃক রাজ্য ফারগানা এবং তৈমুরের রাজধানী সমরখন্দ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। মধ্য এশিয়ায় ব্যর্থতা তাকে ভারতের দিকে তার ভাগ্য পরীক্ষার জন্য অনুপ্রাণিত করে।
প্রশ্ন ৫০: খানুয়ার যুদ্ধ বাবরের জন্য কেন পানিপথের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
a) এটি আফগানদের শক্তি ধ্বংস করে
b) এটি ভারতে মুঘল শাসনকে সুনিশ্চিত করে এবং রাজপুতদের হুমকি দূর করে
c) এটি বাংলা জয়ের পথ খুলে দেয়
d) এটি একটি সহজ বিজয় ছিল
সঠিক উত্তর: b) এটি ভারতে মুঘল শাসনকে সুনিশ্চিত করে এবং রাজপুতদের হুমকি দূর করে
ব্যাখ্যা: রানা সংগ্রাম সিংহের নেতৃত্বে রাজপুতরা ছিল উত্তর ভারতে বাবরের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। খানুয়ার যুদ্ধে তাদের পরাজয় ভারতে মুঘল শাসনকে প্রকৃত অর্থে সুপ্রতিষ্ঠিত ও নিরাপদ করে, যা পানিপথের যুদ্ধের চেয়েও কৌশলগতভাবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
দ্বিতীয় পর্ব: হুমায়ুন ও শের শাহ (মুঘল-আফগান প্রতিযোগিতা) (প্রশ্ন ৫১-১০০)
প্রশ্ন ৫১: শের শাহ শূর-এর আসল নাম কী ছিল?
a) ফরিদ খান
b) জামাল খান
c) আজম খান
d) সলিম খান
সঠিক উত্তর: a) ফরিদ খান
ব্যাখ্যা: শের শাহ শূর-এর আসল নাম ছিল ফরিদ খান। তিনি বাঘকে হত্যা করার জন্য ‘শের খান’ উপাধি লাভ করেন এবং পরে ‘শের শাহ’ হন।
প্রশ্ন ৫২: চৌসার যুদ্ধে (১৫৩৯ খ্রি.) শের শাহ কাকে পরাজিত করেন?
a) বাবর
b) আকবর
c) হুমায়ুন
d) ইব্রাহিম লোদী
সঠিক উত্তর: c) হুমায়ুন
ব্যাখ্যা: ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে শের শাহ হুমায়ুনকে পরাজিত করেন, যা হুমায়ুনের জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল এবং শের শাহের ক্ষমতাকে সুদৃঢ় করে।
প্রশ্ন ৫৩: কনৌজের যুদ্ধ (১৫৪০ খ্রি.) অন্য কী নামে পরিচিত?
a) বিলগ্রামের যুদ্ধ
b) চৌসার যুদ্ধ
c) পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ
d) তরাইনের যুদ্ধ
সঠিক উত্তর: a) বিলগ্রামের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা: কনৌজের যুদ্ধ বিলগ্রামের যুদ্ধ নামেও পরিচিত। এই যুদ্ধে শের শাহ চূড়ান্তভাবে হুমায়ুনকে পরাজিত করেন এবং হুমায়ুনকে ভারত থেকে পালাতে বাধ্য করেন, যার ফলে ভারতে শূর বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রশ্ন ৫৪: শের শাহের প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
a) সামরিক শাসন
b) কঠোর বিচার ব্যবস্থা এবং ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার
c) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
d) ধর্মীয় সহনশীলতা
সঠিক উত্তর: b) কঠোর বিচার ব্যবস্থা এবং ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার
ব্যাখ্যা: শের শাহ তাঁর দক্ষ ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা (যেমন পাট্টা ও কবুলিয়ত প্রবর্তন) এবং কঠোর বিচার ব্যবস্থার জন্য বিখ্যাত ছিলেন, যা মুঘল সম্রাট আকবরও পরে গ্রহণ করেন।
প্রশ্ন ৫৫: শের শাহ কোন বিখ্যাত সড়কটি নির্মাণ করেন?
a) গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড
b) আগ্রা রোড
c) রাজপথ
d) শের শাহ সুরি মার্গ
সঠিক উত্তর: a) গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড
ব্যাখ্যা: শের শাহ বাংলায় সোনারগাঁও থেকে পাঞ্জাবের পেশোয়ার পর্যন্ত বিস্তৃত সুদীর্ঘ সড়ক পথ ‘গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড’ (পূর্বনাম সরক-ই-আজম) নির্মাণ করেন, যা বাণিজ্য ও যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
প্রশ্ন ৫৬: হুমায়ুন কোন যুদ্ধের পর ভারত থেকে পালিয়ে পারস্যে আশ্রয় গ্রহণ করেন?
a) খানুয়ার যুদ্ধ
b) চৌসার যুদ্ধ
c) কনৌজের (বিলগ্রামের) যুদ্ধ
d) পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ
সঠিক উত্তর: c) কনৌজের (বিলগ্রামের) যুদ্ধ
ব্যাখ্যা: ১৫৪০ খ্রিস্টাব্দে কনৌজের (বিলগ্রামের) যুদ্ধে শের শাহের কাছে চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়ে হুমায়ুনকে ভারত ত্যাগ করে পারস্যে আশ্রয় নিতে হয়।
প্রশ্ন ৫৭: শের শাহের মৃত্যুর পর শূর বংশের পতন দ্রুত ঘটেছিল, কারণ –
a) মুঘলদের আক্রমণ
b) উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব
c) প্রজাদের বিদ্রোহ
d) মারাঠাদের উত্থান
সঠিক উত্তর: b) উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা: শের শাহের মৃত্যুর পর তাঁর দুর্বল উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শূর বংশের পতনকে ত্বরান্বিত করে, যা হুমায়ুনকে ভারতে ফিরে আসার সুযোগ করে দেয়।
প্রশ্ন ৫৮: বাবরের মৃত্যুর পর কে মুঘল সিংহাসনে আরোহণ করেন?
a) আকবর
b) হুমায়ুন
c) শের শাহ
d) জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর: b) হুমায়ুন
ব্যাখ্যা: ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে বাবরের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র হুমায়ুন মুঘল সিংহাসনে আরোহণ করেন।
প্রশ্ন ৫৯: হুমায়ুনের প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ কী ছিল?
a) সাম্রাজ্যের বিশালতা
b) আফগানদের বিরোধিতা ও ভাইদের অবিশ্বাস
c) আর্থিক সংকট
d) রাজপুতদের বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর: b) আফগানদের বিরোধিতা ও ভাইদের অবিশ্বাস
ব্যাখ্যা: হুমায়ুন তাঁর পিতার রেখে যাওয়া সাম্রাজ্যের বিশালতা এবং নবীনত্বের পাশাপাশি শক্তিশালী আফগান প্রতিপক্ষ (যেমন শের শাহ) এবং নিজ ভাইদের (কামরান, হিন্দাল, আসকারি) বিদ্রোহ ও অসহযোগিতার মতো গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন।
প্রশ্ন ৬০: শের শাহ শূর তার রাজধানী কোথায় স্থাপন করেছিলেন?
a) আগ্রা
b) দিল্লি
c) সাসারাম (বিহার)
d) কানোজ
সঠিক উত্তর: b) দিল্লি
ব্যাখ্যা: হুমায়ুনকে পরাজিত করার পর শের শাহ দিল্লির নিয়ন্ত্রণ নেন এবং সেখানেই তার রাজধানী স্থাপন করেন, যদিও তার জন্মভূমি বিহারের সাসারাম তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
প্রশ্ন ৬১: শের শাহের মুদ্রা ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন আনা হয়েছিল?
a) সোনার মোহর চালু করেন
b) রূপার টাকা (রুপিয়া) ও তামার দাম প্রবর্তন করেন
c) শুধুমাত্র তামার মুদ্রা ব্যবহার
d) দিল্লির সুলতানদের মুদ্রা ব্যবস্থা বজায় রাখেন
সঠিক উত্তর: b) রূপার টাকা (রুপিয়া) ও তামার দাম প্রবর্তন করেন
ব্যাখ্যা: শের শাহ একটি সুসংগঠিত মুদ্রা ব্যবস্থা চালু করেন, যেখানে রূপার মুদ্রা ‘রুপিয়া’ এবং তামার মুদ্রা ‘দাম’ প্রবর্তন করা হয়, যা ব্রিটিশ আমল পর্যন্ত প্রচলিত ছিল।
প্রশ্ন ৬২: শের শাহের বিচার ব্যবস্থা কীরূপ ছিল?
a) দুর্বল ও অকার্যকর
b) কঠোর ও নিরপেক্ষ
c) ধর্মীয় আইনের উপর ভিত্তি করে
d) স্থানীয় প্রধানদের দ্বারা পরিচালিত
সঠিক উত্তর: b) কঠোর ও নিরপেক্ষ
ব্যাখ্যা: শের শাহের বিচার ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত কঠোর এবং নিরপেক্ষ। তিনি সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কঠোর হাতে অপরাধ দমন করতেন।
প্রশ্ন ৬৩: কোন দুর্গটি শের শাহের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল এবং তাঁর স্থাপত্যের একটি উদাহরণ?
a) আগ্রা ফোর্ট
b) পুরানা কিলা (দিল্লি)
c) লাল কেল্লা
d) গোলকোন্ডা ফোর্ট
সঠিক উত্তর: b) পুরানা কিলা (দিল্লি)
ব্যাখ্যা: দিল্লির পুরানা কিলা (পুরনো কেল্লা) শের শাহ কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল, যা তাঁর স্থাপত্য শিল্পের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
প্রশ্ন ৬৪: হুমায়ুন কত সালে ভারতে ফিরে আসেন এবং মুঘল সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করেন?
a) ১৫৪০ খ্রিষ্টাব্দে
b) ১৫৫৫ খ্রিষ্টাব্দে
c) ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে
d) ১৫৬৮ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর: b) ১৫৫৫ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা: দীর্ঘ ১৫ বছর নির্বাসনে থাকার পর, ১৫৫৫ খ্রিস্টাব্দে হুমায়ুন আফগানদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এবং মাছিয়াওয়ারার যুদ্ধ ও স্যারহিন্দের যুদ্ধে শূর বংশের সিকান্দার শূরকে পরাজিত করে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করেন।
প্রশ্ন ৬৫: শের শাহ শূর তার সাম্রাজ্যকে কোন নদীর তীরে সুরক্ষিত করেছিলেন?
a) সিন্ধু নদ
b) শতদ্রু নদ
c) বিতস্তা (ঝিলাম) নদ
d) যমুনা নদ
সঠিক উত্তর: a) সিন্ধু নদ
ব্যাখ্যা: শের শাহ তার সাম্রাজ্যকে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে সম্ভাব্য মুঘল বা অন্য কোনো আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য সিন্ধু নদের তীরে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন।
প্রশ্ন ৬৬: শের শাহের ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল –
a) ইজারাদারি প্রথা
b) পাট্টা ও কবুলিয়ত
c) মনসবদারি
d) জমিদারী প্রথা
সঠিক উত্তর: b) পাট্টা ও কবুলিয়ত
ব্যাখ্যা: শের শাহ ‘পাট্টা’ (কৃষকদের জমির অধিকার সংক্রান্ত নথি) এবং ‘কবুলিয়ত’ (কৃষকদের রাজস্ব পরিশোধের অঙ্গীকারপত্র) প্রবর্তন করেন, যা তার ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থাকে অধিক স্বচ্ছ ও কার্যকর করে তোলে।
প্রশ্ন ৬৭: শের শাহের সাম্রাজ্যে নির্মিত সরাইখানাগুলির (Inn) প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
a) শুধু পথিকদের বিশ্রাম
b) ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগের সুবিধা
c) সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার
d) শুধুমাত্র ধর্মীয় যাত্রীদের জন্য
সঠিক উত্তর: b) ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগের সুবিধা
ব্যাখ্যা: শের শাহ তার নির্মিত সড়কগুলির পাশে অসংখ্য সরাইখানা নির্মাণ করেন, যা কেবল পথিকদের বিশ্রামের স্থান ছিল না, বরং ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সুগম করতেও সহায়ক ছিল।
প্রশ্ন ৬৮: হুমায়ুন যখন ভারতে ফিরে আসেন, তখন শূর বংশের শাসনকর্তা কে ছিলেন?
a) ইসলাম শাহ শূর
b) আদিল শাহ শূর
c) সিকান্দার শূর
d) ইব্রাহিম শূর
সঠিক উত্তর: c) সিকান্দার শূর
ব্যাখ্যা: ১৫৫৫ খ্রিস্টাব্দে হুমায়ুন যখন ভারতে ফিরে আসেন, তখন শূর বংশের শেষ শক্তিশালী শাসক ছিলেন সিকান্দার শূর, যাকে হুমায়ুন স্যারহিন্দের যুদ্ধে পরাজিত করেন।
প্রশ্ন ৬৯: শের শাহের সাম্রাজ্যের রাজস্বের প্রধান উৎস কী ছিল?
a) বাণিজ্য শুল্ক
b) ভূমি রাজস্ব
c) যুদ্ধলব্ধ ধন
d) জিজিয়া কর
সঠিক উত্তর: b) ভূমি রাজস্ব
ব্যাখ্যা: শের শাহের সাম্রাজ্যের আয়ের প্রধান উৎস ছিল ভূমি রাজস্ব। তার উন্নত ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা, যেমন পাট্টা ও কবুলিয়ত, রাজস্ব সংগ্রহকে আরও দক্ষ করে তোলে।
প্রশ্ন ৭০: শের শাহের তৈরি ‘দাগ’ এবং ‘চেহরা’ প্রথার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
a) কৃষকদের চিহ্নিত করা
b) সৈন্যদের ও ঘোড়া চিহ্নিত করে দুর্নীতি রোধ
c) বণিকদের ওপর নজরদারি
d) সরকারি কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করা
সঠিক উত্তর: b) সৈন্যদের ও ঘোড়া চিহ্নিত করে দুর্নীতি রোধ
ব্যাখ্যা: ‘দাগ’ (ঘোড়া চিহ্নিতকরণ) এবং ‘চেহরা’ (সৈন্যদের শারীরিক বিবরণ লিপিবদ্ধকরণ) প্রথার মাধ্যমে শের শাহ সামরিক ব্যবস্থায় দুর্নীতি রোধ করতে চেয়েছিলেন।
প্রশ্ন ৭১: শের শাহের আমলে নির্মিত সড়কগুলি কী নামে পরিচিত ছিল?
a) রাজপথ
b) সরক-ই-আজম
c) সড়ক-ই-শের
d) শাহী সড়ক
সঠিক উত্তর: b) সরক-ই-আজম
ব্যাখ্যা: শের শাহ কর্তৃক নির্মিত দীর্ঘ সড়কগুলিকে ‘সরক-ই-আজম’ বলা হতো, যার মধ্যে গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড অন্যতম।
প্রশ্ন ৭২: শের শাহের সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা কে ছিলেন?
a) ওয়াজির
b) দিওয়ান-ই-আশরাফ
c) খান-ই-সামান
d) কাজি
সঠিক উত্তর: b) দিওয়ান-ই-আশরাফ
ব্যাখ্যা: শের শাহের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ছিলেন ‘দিওয়ান-ই-আশরাফ’, যিনি ভূমি রাজস্ব সংগ্রহ এবং হিসাবরক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন।
প্রশ্ন ৭৩: শের শাহের সাম্রাজ্যের শেষ সীমা কোনটি ছিল?
a) পাঞ্জাব থেকে বাংলা
b) সিন্ধু থেকে বাংলা
c) কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী
d) গুজরাট থেকে অসম
সঠিক উত্তর: b) সিন্ধু থেকে বাংলা
ব্যাখ্যা: শের শাহের সাম্রাজ্য পশ্চিমে সিন্ধু থেকে পূর্বে বাংলা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, যা তার সামরিক ও প্রশাসনিক দক্ষতার প্রমাণ।
প্রশ্ন ৭৪: হুমায়ুন কোন বিখ্যাত স্থাপত্যবিদদের সহায়তায় তার সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করেন?
a) ভারতীয় স্থাপত্যবিদ
b) পারসিক স্থাপত্যবিদ
c) আফগান স্থাপত্যবিদ
d) ইউরোপীয় স্থাপত্যবিদ
সঠিক উত্তর: b) পারসিক স্থাপত্যবিদ
ব্যাখ্যা: হুমায়ুন পারস্যে নির্বাসিত থাকাকালীন পারসিক সংস্কৃতি, শিল্প ও স্থাপত্য দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হন এবং ভারতে ফিরে আসার পর পারসিক স্থাপত্যবিদদের নিয়ে আসেন।
প্রশ্ন ৭৫: শের শাহের সাম্রাজ্যের ডাক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কী বলা হতো?
a) কাসিদ
b) দাক চৌকি
c) হুলক
d) পরওয়ানা
সঠিক উত্তর: b) দাক চৌকি
ব্যাখ্যা: শের শাহ একটি দক্ষ ডাক ব্যবস্থা চালু করেন, যা ‘দাক চৌকি’ নামে পরিচিত ছিল। এর মাধ্যমে দ্রুত বার্তা আদান-প্রদান করা যেত।
প্রশ্ন ৭৬: শের শাহ শূর কোথায় মারা যান?
a) দিল্লি
b) আগ্রা
c) কালিঞ্জর দুর্গ
d) সাসারাম
সঠিক উত্তর: c) কালিঞ্জর দুর্গ
ব্যাখ্যা: ১৫৪৫ খ্রিস্টাব্দে কালিঞ্জর দুর্গ অবরোধকালে একটি বিস্ফোরক দুর্ঘটনাজনিত কারণে শের শাহ শূর মারা যান। তাঁর সমাধি বিহারের সাসারামে অবস্থিত।
প্রশ্ন ৭৭: ভারতের ইতিহাসে ‘পথের পথিকৃৎ’ (Forerunner) হিসেবে কোন শাসককে বিবেচনা করা হয়?
a) বাবর
b) শের শাহ শূর
c) আকবর
d) আলাউদ্দিন খলজি
সঠিক উত্তর: b) শের শাহ শূর
ব্যাখ্যা: শের শাহ শূরকে আকবরের পূর্বসূরি বা ‘পথের পথিকৃৎ’ বলা হয়, কারণ আকবর তাঁর প্রশাসনিক ও রাজস্ব সংস্কারের অনেক ধারণা শের শাহের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলেন।
প্রশ্ন ৭৮: শের শাহ শূর তার কর্মজীবনের শুরুতে কার অধীনে চাকরি করতেন?
a) ইব্রাহিম লোদী
b) বাহর খান লোহানি
c) হুমায়ুন
d) রানা সংগ্রাম সিংহ
সঠিক উত্তর: b) বাহর খান লোহানি
ব্যাখ্যা: শের শাহ (ফরিদ খান) বিহারের আফগান শাসক বাহর খান লোহানির অধীনে কাজ শুরু করেন এবং তার দক্ষতা ও সাহসিকতার জন্য ‘শের খান’ উপাধি লাভ করেন।
প্রশ্ন ৭৯: চৌসার যুদ্ধের (১৫৩৯ খ্রি.) তাৎপর্য কী ছিল?
a) মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা
b) হুমায়ুনের চূড়ান্ত বিজয়
c) শের শাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মুঘলদের জন্য একটি বড় ধাক্কা
d) বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা
সঠিক উত্তর: c) শের শাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মুঘলদের জন্য একটি বড় ধাক্কা
ব্যাখ্যা: চৌসার যুদ্ধে হুমায়ুনের পরাজয় শের শাহের ক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করে এবং মুঘলদের জন্য এটি ছিল একটি গুরুতর সামরিক বিপর্যয়।
ব্যাখ্যা: শের শাহের রাজস্ব ব্যবস্থায় ‘রায়’ ছিল বিভিন্ন ধরনের শস্যের গড় ফলনের হার, যার ভিত্তিতে রাজস্ব নির্ধারণ করা হতো।
প্রশ্ন ৮১: শের শাহের সময়কালে ‘সরাই’গুলি (Inn) কী নামে পরিচিত ছিল?
a) মুসাফিরখানা
b) শাহী কোঠি
c) ধর্মশালা
d) এইগুলি সাধারণ নাম ছিল না, প্রতিটি সরাই-এর নিজস্ব নাম ছিল।
সঠিক উত্তর: a) মুসাফিরখানা
ব্যাখ্যা: শের শাহ নির্মিত সরাইখানাগুলি ‘মুসাফিরখানা’ বা পথিকদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হত এবং এগুলি যোগাযোগ ও বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।
প্রশ্ন ৮২: হুমায়ুন কোন বিখ্যাত পণ্ডিতের সহায়তায় ভারতে ফিরে আসতে সক্ষম হন?
a) আবুল ফজল
b) বৈরাম খান
c) পারস্যের শাহ তাহমাস্প
d) উস্তাদ আলি কুলী
সঠিক উত্তর: c) পারস্যের শাহ তাহমাস্প
ব্যাখ্যা: হুমায়ুন নির্বাসিত থাকাকালীন পারস্যের সাফাভিদ শাসক শাহ তাহমাস্পের সামরিক ও আর্থিক সহায়তায় শক্তি সঞ্চয় করে ভারতে ফিরে আসার সুযোগ পান।
প্রশ্ন ৮৩: শের শাহ কাকে পরাজিত করে ‘সুলতান-উল-আদিল’ উপাধি ধারণ করেন?
a) হুমায়ুনকে চৌসার যুদ্ধে
b) হুমায়ুনকে কনৌজের যুদ্ধে
c) মেদিনি রায়কে
d) মালবের শাসককে
সঠিক উত্তর: b) হুমায়ুনকে কনৌজের যুদ্ধে
ব্যাখ্যা: ১৫৪০ খ্রিস্টাব্দে কনৌজের (বিলগ্রামের) যুদ্ধে হুমায়ুনকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে শের শাহ শূর নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন এবং ‘সুলতান-উল-আদিল’ উপাধি গ্রহণ করেন।
ব্যাখ্যা: শের শাহের ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থায় জমির পরিমাপের জন্য ‘গজ-ই-সিকান্দারী’ বা ‘সাড়ে সতর হাত’ দৈর্ঘ্যের রড ব্যবহার করা হত।
প্রশ্ন ৮৫: শের শাহের সাম্রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক একক কী ছিল?
a) সুবা
b) সরকার (জেলা)
c) পরগনা
d) গ্রাম
সঠিক উত্তর: b) সরকার (জেলা)
ব্যাখ্যা: শের শাহ তার সাম্রাজ্যকে সরকার (জেলা)-এ বিভক্ত করেন এবং প্রতিটি সরকারে একজন শিকদার-ই-শিকদারান (প্রধান সামরিক কর্মকর্তা) ও একজন মুনসিফ-ই-মুনসিফান (প্রধান বিচার ও রাজস্ব কর্মকর্তা) নিয়োগ করেন।
প্রশ্ন ৮৬: হুমায়ুন কোন বিখ্যাত লাইব্রেরির সিঁড়ি থেকে পড়ে মারা যান?
a) শের মণ্ডল
b) দ্বীন-পানাহ
c) ফতেহপুর সিক্রি লাইব্রেরি
d) আগ্রা লাইব্রেরি
সঠিক উত্তর: a) শের মণ্ডল
ব্যাখ্যা: হুমায়ুন দিল্লির পুরাতন কেল্লার অভ্যন্তরে অবস্থিত তার ব্যক্তিগত লাইব্রেরি ‘শের মণ্ডল’-এর সিঁড়ি থেকে পড়ে ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে মারা যান।
প্রশ্ন ৮৭: মুঘল-আফগান প্রতিযোগিতায় আফগানদের পরাজয়ের প্রধান কারণ কী ছিল?
a) সামরিক দুর্বলতা
b) কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অভাব ও অনৈক্য
c) জনসমর্থনের অভাব
d) অর্থনৈতিক সংকট
সঠিক উত্তর: b) কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অভাব ও অনৈক্য
ব্যাখ্যা: শের শাহের মৃত্যুর পর আফগানদের মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অভাব এবং তাদের নিজেদের মধ্যে অনৈক্যই মুঘলদের (হুমায়ুন ও আকবর) কাছে তাদের চূড়ান্ত পরাজয়ের প্রধান কারণ ছিল।
প্রশ্ন ৮৮: শের শাহ কাকে ‘হজরত-ই-আলা’ উপাধি দিয়েছিলেন?
a) নিজেকে
b) তার ধর্মগুরুকে
c) তার পিতা হাসান খানকে
d) তার কোনো সেনাপতিকে
সঠিক উত্তর: a) নিজেকে
ব্যাখ্যা: শের শাহ শূর কনৌজের যুদ্ধে জয়লাভের পর এবং নিজেকে স্বাধীন সুলতান হিসেবে ঘোষণা করার পর ‘হজরত-ই-আলা’ এবং ‘সুলতান-উল-আদিল’ উপাধি ধারণ করেন।
প্রশ্ন ৮৯: শের শাহের সময়কালে ‘সাড়ে সতর হাত’ এর দৈর্ঘ্য কত ছিল?
a) ৪১ ইঞ্চি
b) ৩২ ইঞ্চি
c) ৩৯ ইঞ্চি
d) ৪২ ইঞ্চি
সঠিক উত্তর: b) ৩২ ইঞ্চি
ব্যাখ্যা: ‘সাড়ে সতর হাত’ বা ‘সিকান্দারী গজ’ ছিল প্রায় ৩২ ইঞ্চির সমান, যা ভূমি পরিমাপের একটি প্রমাণ একক হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
প্রশ্ন ৯০: শের শাহের সাম্রাজ্যের সময় ‘কানুনগো’ কারা ছিলেন?
a) আইন প্রণেতা
b) স্থানীয় ভূমি রেকর্ড রক্ষক
c) বিচারক
d) ডাক বিভাগের কর্মকর্তা
সঠিক উত্তর: b) স্থানীয় ভূমি রেকর্ড রক্ষক
ব্যাখ্যা: ‘কানুনগো’রা ছিলেন স্থানীয় ভূমি রেকর্ড রক্ষক এবং রাজস্ব বিষয়ক তথ্য সংগ্রহকারী কর্মকর্তা, যারা শের শাহের ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।
প্রশ্ন ৯১: শের শাহের কর্মজীবনের কোন সময়ে ‘শের খান’ উপাধি লাভ করেন?
a) হুমায়ুনকে পরাজিত করার পর
b) একাই একটি বাঘ হত্যা করার পর
c) বিহারের শাসনকর্তা হওয়ার পর
d) গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড নির্মাণের পর
সঠিক উত্তর: b) একাই একটি বাঘ হত্যা করার পর
ব্যাখ্যা: ফরিদ খান (শের শাহের আসল নাম) বিহারের শাসক বাহর খান লোহানির অধীনে চাকরি করার সময় একাই একটি বাঘ হত্যা করার পর ‘শের খান’ উপাধি লাভ করেন।
প্রশ্ন ৯২: হুমায়ুন কত বছর ভারতে নির্বাসিত জীবন যাপন করেন?
a) ১০ বছর
b) ১৫ বছর
c) ২০ বছর
d) ২৫ বছর
সঠিক উত্তর: b) ১৫ বছর
ব্যাখ্যা: ১৫৪০ খ্রিস্টাব্দে কনৌজের যুদ্ধে শের শাহের কাছে পরাজিত হওয়ার পর হুমায়ুন প্রায় ১৫ বছর (১৫৪০-১৫৫৫) ভারতে নির্বাসিত জীবন যাপন করেন।
প্রশ্ন ৯৩: হুমায়ুন কোন সালে মুঘল সিংহাসন পুনরুদ্ধার করেন?
a) ১৫৪৫ খ্রিষ্টাব্দে
b) ১৫৫০ খ্রিষ্টাব্দে
c) ১৫৫৫ খ্রিষ্টাব্দে
d) ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর: c) ১৫৫৫ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা: দীর্ঘ ১৫ বছর নির্বাসনে থাকার পর, ১৫৫৫ খ্রিস্টাব্দে হুমায়ুন আফগানদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এবং স্যারহিন্দের যুদ্ধে সিকান্দার শূরকে পরাজিত করে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করেন।
প্রশ্ন ৯৪: শের শাহ কোন বিখ্যাত সড়কপথটি সংস্কার ও প্রসারিত করেন?
a) সিল্ক রোড
b) গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড
c) ন্যাশনাল হাইওয়ে
d) রাজপুতনা রোড
সঠিক উত্তর: b) গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড
ব্যাখ্যা: শের শাহ বাংলায় সোনারগাঁও থেকে পাঞ্জাবের পেশোয়ার পর্যন্ত বিস্তৃত সুদীর্ঘ সড়ক পথ ‘গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড’ (তখন ‘সরক-ই-আজম’ নামে পরিচিত) সংস্কার ও প্রসারিত করেন।
প্রশ্ন ৯৫: ‘হুমায়ুননামা’ কে রচনা করেন?
a) হুমায়ুন
b) বাবর
c) গুলবদন বেগম
d) জাহানারা বেগম
সঠিক উত্তর: c) গুলবদন বেগম
ব্যাখ্যা: হুমায়ুনের বোন গুলবদন বেগম ‘হুমায়ুননামা’ রচনা করেন, যা হুমায়ুনের রাজত্বকাল এবং সেই সময়ের সামাজিক অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
প্রশ্ন ৯৬: শের শাহের নির্মিত রোটাসগড় দুর্গ কোথায় অবস্থিত?
a) বিহার
b) বাংলা
c) পাঞ্জাব (বর্তমান পাকিস্তান)
d) রাজস্থান
সঠিক উত্তর: c) পাঞ্জাব (বর্তমান পাকিস্তান)
ব্যাখ্যা: শের শাহ উত্তর-পশ্চিম সীমান্তকে সুরক্ষিত করার জন্য পাঞ্জাবের ঝিলামের কাছে বিশাল রোটাসগড় দুর্গ নির্মাণ করেন, যা বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থিত।
প্রশ্ন ৯৭: হুমায়ুনের নির্বাসিত জীবনের সময় আকবরের জন্ম কোথায় হয়েছিল?
a) কাবুল
b) কান্দাহার
c) অমরকোট (সিন্ধু)
d) পারস্য
সঠিক উত্তর: c) অমরকোট (সিন্ধু)
ব্যাখ্যা: হুমায়ুনের নির্বাসিত জীবনের সময় ১৫৪২ খ্রিস্টাব্দে সিন্ধুর অমরকোটের রাজপুত রাজা বীরসালের প্রাসাদে আকবরের জন্ম হয়।
প্রশ্ন ৯৮: কোন ঐতিহাসিক বলেছিলেন যে, শের শাহ “আকবরের পূর্বসূরি”?
a) ইরফান হাবিব
b) যদুনাথ সরকার
c) ভি.এ. স্মিথ
d) সতীশ চন্দ্র
সঠিক উত্তর: c) ভি.এ. স্মিথ
ব্যাখ্যা: ঐতিহাসিক ভি.এ. স্মিথ (Vincent Arthur Smith) শের শাহকে আকবরের ‘পূর্বসূরি’ (Forerunner) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, কারণ আকবর তার প্রশাসনিক ও রাজস্ব সংস্কারের অনেক ধারণা শের শাহের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলেন।
প্রশ্ন ৯৯: শের শাহের গুপ্তচর ব্যবস্থাকে কী বলা হতো?
a) মুন্সিফ
b) বারীদ-ই-মামালিক
c) শিকদার
d) ওয়াজির
সঠিক উত্তর: b) বারীদ-ই-মামালিক
ব্যাখ্যা: শের শাহ একটি অত্যন্ত দক্ষ গুপ্তচর ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন, যা ‘বারীদ-ই-মামালিক’ নামে পরিচিত ছিল। এটি তাকে সাম্রাজ্যের সকল খবর দ্রুত পেতে এবং বিদ্রোহ দমন করতে সাহায্য করত।
প্রশ্ন ১০০: মুঘল-আফগান প্রতিযোগিতায় আফগানদের চূড়ান্ত পরাজয় কোন যুদ্ধের মাধ্যমে হয়?
a) কনৌজের যুদ্ধ
b) চৌসার যুদ্ধ
c) মাছিয়াওয়ারার ও স্যারহিন্দের যুদ্ধ
d) পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ
সঠিক উত্তর: d) পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা: যদিও হুমায়ুন স্যারহিন্দের যুদ্ধে আফগানদের পরাজিত করে সিংহাসন পুনরুদ্ধার করেন, কিন্তু হিমুর নেতৃত্বে আফগানদের ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা চলমান ছিল। পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে (১৫৫৬) হিমুর পরাজয় ও মৃত্যুর মাধ্যমে মুঘল-আফগান প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয় এবং মুঘল শাসন সুনিশ্চিত হয়।
তৃতীয় পর্ব: আকবরের সময় মুঘল সাম্রাজ্যের সংহতি ও বিস্তার (প্রশ্ন ১০১-১৫০)
প্রশ্ন ১০১: পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ (১৫৫৬ খ্রি.) কাদের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল?
a) বাবর ও ইব্রাহিম লোদী
b) আকবর ও হিমু
c) হুমায়ুন ও শের শাহ
d) ঔরঙ্গজেব ও মারাঠারা
সঠিক উত্তর: b) আকবর ও হিমু
ব্যাখ্যা: ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে আকবর (তাঁর অভিভাবক বৈরাম খানের নেতৃত্বে) এবং হিন্দু সেনাপতি হিমুর মধ্যে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যেখানে হিমু পরাজিত ও নিহত হন, যা মুঘল সাম্রাজ্যের পুনরুত্থানকে নিশ্চিত করে।
প্রশ্ন ১০২: আকবরের অভিভাবক কে ছিলেন, যিনি পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন?
a) আবুল ফজল
b) বৈরাম খান
c) রাজা টোডরমল
d) মান সিংহ
সঠিক উত্তর: b) বৈরাম খান
ব্যাখ্যা: আকবর নাবালক থাকাকালীন বৈরাম খান তাঁর অভিভাবক এবং প্রধান সেনাপতি ছিলেন। পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে তাঁর নেতৃত্বই মুঘলদের বিজয়ে সহায়ক হয়েছিল।
প্রশ্ন ১০৩: আকবর কোন ধর্মীয় নীতি প্রবর্তন করেছিলেন যা তাঁর সাম্রাজ্যের সংহতিতে সাহায্য করেছিল?
a) ইসলাম ধর্মকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসেবে ঘোষণা
b) জিজিয়া কর পুনঃপ্রবর্তন
c) দীন-ই-ইলাহী
d) সুন্নি ইসলাম প্রতিষ্ঠা
সঠিক উত্তর: c) দীন-ই-ইলাহী
ব্যাখ্যা: আকবর ‘দীন-ই-ইলাহী’ নামক একটি সমন্বয়বাদী ধর্মীয় নীতি প্রবর্তন করেন, যা সকল ধর্মের প্রতি সহনশীলতা এবং ঐক্যের বার্তা দিত। এটি তাঁর সাম্রাজ্যের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংহতি স্থাপনে সহায়ক হয়েছিল।
প্রশ্ন ১০৪: আকবর তার সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য কোন নীতি গ্রহণ করেছিলেন?
a) শুধুমাত্র সামরিক অভিযান
b) সামরিক অভিযান, বৈবাহিক সম্পর্ক এবং মিত্রতা স্থাপন
c) ধর্মীয় প্রচার
d) অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা
সঠিক উত্তর: b) সামরিক অভিযান, বৈবাহিক সম্পর্ক এবং মিত্রতা স্থাপন
ব্যাখ্যা: আকবর তাঁর সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য কেবল সামরিক অভিযান নয়, রাজপুতদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন এবং মিত্রতা গড়ে তোলার নীতিও গ্রহণ করেছিলেন, যা তাঁর সাম্রাজ্যকে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করে তোলে।
প্রশ্ন ১০৫: আকবরের ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কারক কে ছিলেন?
a) বৈরাম খান
b) মান সিংহ
c) রাজা টোডরমল
d) আবুল ফজল
সঠিক উত্তর: c) রাজা টোডরমল
ব্যাখ্যা: আকবরের অর্থমন্ত্রী রাজা টোডরমল ‘জাবতি’ বা ‘দহসালা’ নামক একটি উন্নত ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন, যা কৃষকদের এবং সরকারের উভয় পক্ষের জন্যই উপকারী ছিল।
প্রশ্ন ১০৬: ‘ফতেহপুর সিক্রি’ শহরটি কে নির্মাণ করেন?
a) বাবর
b) হুমায়ুন
c) আকবর
d) শাহজাহান
সঠিক উত্তর: c) আকবর
ব্যাখ্যা: আকবর তাঁর ধর্মীয় গুরু শেখ সেলিম চিশতির প্রতি সম্মান জানাতে এবং গুজরাট বিজয়ের স্মারক হিসেবে ফতেহপুর সিক্রি শহরটি নির্মাণ করেন, যেখানে বুলন্দ দরওয়াজা অবস্থিত।
প্রশ্ন ১০৭: আকবরের সময়কার মুঘল সাম্রাজ্যের সংহতির ক্ষেত্রে ‘মনসবদারী’ ব্যবস্থার ভূমিকা কী ছিল?
a) সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
b) প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা
c) রাজস্ব সংগ্রহ পদ্ধতি উন্নত করা
d) উপরের সবগুলি
সঠিক উত্তর: d) উপরের সবগুলি
ব্যাখ্যা: মনসবদারী ব্যবস্থা ছিল আকবরের সামরিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার মেরুদণ্ড। এটি পদের শ্রেণিবিন্যাস, বেতন নির্ধারণ এবং সামরিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সাম্রাজ্যের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রশ্ন ১০৮: হলদিঘাটের যুদ্ধ (১৫৭৬ খ্রি.) কাদের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল?
a) আকবর ও শের শাহ
b) আকবর ও রানা সংগ্রাম সিংহ
c) আকবর ও রানা প্রতাপ সিংহ
d) বাবর ও ইব্রাহিম লোদী
সঠিক উত্তর: c) আকবর ও রানা প্রতাপ সিংহ
ব্যাখ্যা: ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে আকবরের সেনাপতি মান সিংহ এবং মেওয়ারের রানা প্রতাপ সিংহের মধ্যে হলদিঘাটের যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে রানা প্রতাপ পরাজিত হলেও মুঘলদের বশ্যতা স্বীকার করেননি।
প্রশ্ন ১০৯: আকবরের সময়কালে শিল্প ও স্থাপত্যের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ কোনটি?
a) কুতুব মিনার
b) তাজমহল
c) ফতেহপুর সিক্রির বুলন্দ দরওয়াজা
d) লাল কেল্লা
সঠিক উত্তর: c) ফতেহপুর সিক্রির বুলন্দ দরওয়াজা
ব্যাখ্যা: ফতেহপুর সিক্রির বুলন্দ দরওয়াজা, আকবরের গুজরাট বিজয়ের স্মারক হিসেবে নির্মিত, আকবরের সময়কালের স্থাপত্য শিল্পের এক দারুণ উদাহরণ।
প্রশ্ন ১১০: আকবরের ধর্মনীতিতে ‘ইবাদতখানা’র গুরুত্ব কী ছিল?
a) শুধুমাত্র মুসলিম ধর্মীয় আলোচনা
b) বিভিন্ন ধর্মের পণ্ডিতদের মধ্যে আলোচনা ও বিতর্ক
c) শুধুমাত্র সুফি সাধকদের সমাবেশ
d) সামরিক পরিকল্পনা আলোচনা
সঠিক উত্তর: b) বিভিন্ন ধর্মের পণ্ডিতদের মধ্যে আলোচনা ও বিতর্ক
ব্যাখ্যা: আকবর ফতেহপুর সিক্রিতে ‘ইবাদতখানা’ নির্মাণ করেন, যেখানে তিনি বিভিন্ন ধর্মের (ইসলাম, হিন্দু, খ্রিস্টান, জৈন, পারসি) পণ্ডিতদের মধ্যে আলোচনা ও বিতর্কের আয়োজন করতেন, যা তাঁর ধর্মীয় সহনশীলতার পরিচায়ক।
প্রশ্ন ১১১: কোন মুঘল সম্রাট ‘সুলহ-ই-কুল’ (সর্বজনীন শান্তি) নীতি প্রবর্তন করেন?
a) বাবর
b) হুমায়ুন
c) আকবর
d) শাহজাহান
সঠিক উত্তর: c) আকবর
ব্যাখ্যা: আকবর ‘সুলহ-ই-কুল’ (সর্বজনীন শান্তি) নীতি প্রবর্তন করেন, যা বোঝায় যে সমস্ত ধর্ম এবং মতাদর্শের প্রতি সহনশীলতা ও সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। এটি তাঁর সাম্রাজ্যের সংহতি ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছিল।
প্রশ্ন ১১২: আকবর তার সাম্রাজ্যকে কতগুলি সুবায় (প্রদেশে) বিভক্ত করেছিলেন?
a) ১০টি
b) ১২টি
c) ১৫টি
d) ২০টি
সঠিক উত্তর: c) ১৫টি
ব্যাখ্যা: আকবর তার বিশাল সাম্রাজ্যকে প্রথমে ১২টি সুবায় বিভক্ত করেন এবং পরে সাম্রাজ্য বিস্তারের সাথে সাথে এর সংখ্যা ১৫-তে উন্নীত হয়।
প্রশ্ন ১১৩: আকবরের দরবারে ‘নবরত্ন’ নামে পরিচিত ছিলেন কারা?
a) নয়জন সেনাপতি
b) নয়জন মন্ত্রী
c) শিল্প, সাহিত্য ও বিজ্ঞানের নয়জন প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব
d) নয়জন ধর্মীয় নেতা
সঠিক উত্তর: c) শিল্প, সাহিত্য ও বিজ্ঞানের নয়জন প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব
ব্যাখ্যা: আকবরের দরবারে সাহিত্য, সঙ্গীত, দর্শন, এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে নয়জন প্রখ্যাত জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি ছিলেন, যাদের ‘নবরত্ন’ বলা হতো। এদের মধ্যে আবুল ফজল, টোডরমল, তানসেন, বীরবল প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
প্রশ্ন ১১৪: আকবর কর্তৃক প্রবর্তিত ‘জাবতি’ বা ‘দহসালা’ ব্যবস্থা কীসের সাথে সম্পর্কিত ছিল?
a) বিচার ব্যবস্থা
b) সামরিক সংগঠন
c) ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা
d) মুদ্রা ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর: c) ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা: ‘জাবতি’ বা ‘দহসালা’ ছিল আকবরের ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার একটি উন্নত পদ্ধতি, যেখানে গত দশ বছরের গড় উৎপাদনের ভিত্তিতে রাজস্ব নির্ধারণ করা হতো, যা কৃষকদের জন্য আরও ন্যায্য ছিল।
প্রশ্ন ১১৫: আকবরের বিজয়ের ক্রমের মধ্যে কোন অঞ্চলটি সবচেয়ে পরে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল?
a) মালওয়া
b) গুজরাট
c) বাংলা
d) কাশ্মীর
সঠিক উত্তর: d) কাশ্মীর
ব্যাখ্যা: যদিও আকবর বিভিন্ন সময়ে একাধিক অঞ্চল জয় করেন, তাঁর শেষ দিকের গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ের মধ্যে ছিল কাশ্মীর (১৫৮৬ খ্রি.) এবং দাক্ষিণাত্যের কিছু অংশ।
প্রশ্ন ১১৬: আকবরের রাজ্যাভিষেক কত সালে হয়েছিল?
a) ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে
b) ১৫৪০ খ্রিষ্টাব্দে
c) ১৫৫৫ খ্রিষ্টাব্দে
d) ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর: d) ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা: ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে হুমায়ুনের আকস্মিক মৃত্যুর পর, আকবর মাত্র ১৩ বছর বয়সে পাঞ্জাবের কালানৌরে মুঘল সিংহাসনে আরোহণ করেন।
প্রশ্ন ১১৭: পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে (১৫৫৬ খ্রি.) হিমু কে ছিলেন?
a) শূর বংশের শেষ শাসক
b) একজন রাজপুত সেনাপতি
c) আদিল শাহ সুরির সেনাপতি
d) বাংলা সুলতানের মন্ত্রী
সঠিক উত্তর: c) আদিল শাহ সুরির সেনাপতি
ব্যাখ্যা: হিমু ছিলেন আদিল শাহ সুরির একজন হিন্দু সেনাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী, যিনি নিজেকে ‘রাজা বিক্রমাদিত্য’ উপাধি দিয়েছিলেন এবং পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে মুঘলদের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন ১১৮: আকবর কখন জিজিয়া কর বাতিল করেন?
a) ১৫৬০ খ্রিষ্টাব্দে
b) ১৫৬৪ খ্রিষ্টাব্দে
c) ১৫৭৫ খ্রিষ্টাব্দে
d) ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর: b) ১৫৬৪ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা: আকবর ১৫৬৪ খ্রিস্টাব্দে অমুসলিমদের উপর ধার্য ‘জিজিয়া’ কর বাতিল করেন, যা তাঁর ধর্মনিরপেক্ষ এবং সহনশীল নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল।
প্রশ্ন ১১৯: ‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
a) আবুল ফজল
b) ফৈজি
c) তানসেন
d) বীরবল
সঠিক উত্তর: a) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা: আবুল ফজল ছিলেন আকবরের একজন বিশিষ্ট নবরত্ন এবং ঐতিহাসিক। তিনি ‘আকবরনামা’ (আকবরের রাজত্বকালের ইতিহাস) এবং এর তৃতীয় খণ্ড ‘আইন-ই-আকবরী’ রচনা করেন, যা আকবরের প্রশাসন ও সামাজিক অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ দেয়।
প্রশ্ন ১২০: আকবরের ধর্মীয় আলোচনা কেন্দ্র ‘ইবাদতখানা’ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
a) ১৫৬৪ খ্রিষ্টাব্দে
b) ১৫৭৫ খ্রিষ্টাব্দে
c) ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে
d) ১৫৮৫ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর: b) ১৫৭৫ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা: আকবর ১৫৭৫ খ্রিস্টাব্দে ফতেহপুর সিক্রিতে ‘ইবাদতখানা’ স্থাপন করেন, যেখানে তিনি বিভিন্ন ধর্মের পণ্ডিতদের সাথে ধর্মীয় বিতর্কের আয়োজন করতেন।
প্রশ্ন ১২১: আকবর কর্তৃক প্রবর্তিত ‘মহজরনামা’ (Decree of Infallibility) কী ছিল?
a) একটি নতুন ভূমি আইন
b) ধর্মীয় বিষয়ে আকবরের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা
c) একটি নতুন মুদ্রা ব্যবস্থা
d) সামরিক সংস্কার
সঠিক উত্তর: b) ধর্মীয় বিষয়ে আকবরের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা: ১৫৭৯ খ্রিস্টাব্দে আকবর ‘মহজরনামা’ জারি করেন, যার দ্বারা তিনি ধর্মীয় বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষমতা লাভ করেন। এটি উলেমাদের (ধর্মীয় পণ্ডিত) ক্ষমতাকে খর্ব করে এবং আকবরের ধর্মনিরপেক্ষ শাসনের পথ প্রশস্ত করে।
প্রশ্ন ১২২: আকবরের গুজরাট বিজয় কত সালে হয়েছিল?
a) ১৫৬২ খ্রিষ্টাব্দে
b) ১৫৭২ খ্রিষ্টাব্দে
c) ১৫৭৬ খ্রিষ্টাব্দে
d) ১৫৮৫ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর: b) ১৫৭২ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা: আকবর ১৫৭২ খ্রিস্টাব্দে গুজরাট জয় করেন, যা মুঘল সাম্রাজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এবং কৌশলগত বিজয় ছিল।
প্রশ্ন ১২৩: আকবর কোন প্রদেশের জয়ের পর বুলন্দ দরওয়াজা নির্মাণ করেন?
a) বাংলা
b) মালওয়া
c) গুজরাট
d) কাশ্মীর
সঠিক উত্তর: c) গুজরাট
ব্যাখ্যা: আকবর গুজরাট বিজয়ের স্মারক হিসেবে ফতেহপুর সিক্রিতে সুবিশাল বুলন্দ দরওয়াজা (বিজয়ের তোরণ) নির্মাণ করেন।
প্রশ্ন ১২৪: আকবরের সময়কালে বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠায় কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন?
a) রাজা মান সিংহ
b) বৈরাম খান
c) টোডরমল
d) আবুল ফজল
সঠিক উত্তর: a) রাজা মান সিংহ
ব্যাখ্যা: আকবরের অন্যতম বিশ্বস্ত সেনাপতি এবং নবরত্ন রাজা মান সিংহ বাংলা ও বিহারে আফগানদের দমন করে মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
প্রশ্ন ১২৫: আকবরের দাক্ষিণাত্য নীতিতে কোন সাম্রাজ্যটি বিশেষভাবে লক্ষ্য ছিল?
a) বিজয়নগর সাম্রাজ্য
b) বাহমনি সাম্রাজ্য
c) আহমদনগর
d) গোলকোন্ডা
সঠিক উত্তর: c) আহমদনগর
ব্যাখ্যা: আকবর দাক্ষিণাত্য নীতি গ্রহণ করেন এবং আহমদনগর ছিল তাঁর প্রধান লক্ষ্যগুলির মধ্যে একটি। চাঁদ বিবি ছিলেন আহমদনগরের একজন গুরুত্বপূর্ণ শাসক যিনি মুঘলদের প্রতিরোধ করেছিলেন।
প্রশ্ন ১২৬: আকবর কর্তৃক প্রবর্তিত নতুন রাজস্ব ব্যবস্থাকে কী বলা হত?
a) জায়গীরদারি
b) খালিসা
c) জাবতি (বা দহসালা)
d) পাট্টা
সঠিক উত্তর: c) জাবতি (বা দহসালা)
ব্যাখ্যা: আকবর রাজা টোডরমলের সহায়তায় ‘জাবতি’ বা ‘দহসালা’ নামক একটি উন্নত ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা চালু করেন, যা ছিল তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রশাসনিক সংস্কার।
প্রশ্ন ১২৭: আকবরের মৃত্যুর পর কে মুঘল সিংহাসনে বসেন?
a) শাহজাহান
b) জাহাঙ্গীর
c) ঔরঙ্গজেব
d) হুমায়ুন
সঠিক উত্তর: b) জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা: ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দে আকবরের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সেলিম ‘জাহাঙ্গীর’ উপাধি ধারণ করে মুঘল সিংহাসনে আরোহণ করেন।
প্রশ্ন ১২৮: আকবরের ধর্মনীতির মূল মন্ত্র কী ছিল?
a) কট্টর ইসলামীকরণ
b) সর্বধর্ম সমন্বয় (সুলহ-ই-কুল)
c) খ্রিস্টান ধর্মের প্রচার
d) সুফিবাদের প্রসার
সঠিক উত্তর: b) সর্বধর্ম সমন্বয় (সুলহ-ই-কুল)
ব্যাখ্যা: আকবর ‘সুলহ-ই-কুল’ বা সর্বধর্ম সমন্বয় নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল সাম্রাজ্যের বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে শান্তি ও সহাবস্থান প্রতিষ্ঠা করা।
প্রশ্ন ১২৯: আকবরের সময় মুঘল সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ সামরিক পদ কোনটি ছিল?
a) সুবেদার
b) মনসবদার
c) খান-ই-খানান
d) মীর বকশি
সঠিক উত্তর: b) মনসবদার
ব্যাখ্যা: মনসবদারী ব্যবস্থা ছিল আকবরের সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের মূল ভিত্তি। মনসবদারদের ‘জাত’ ও ‘সওয়ার’ অনুসারে সামরিক ও প্রশাসনিক পদমর্যাদা নির্ধারিত হতো।
প্রশ্ন ১৩০: আকবরের সময়ে কোন রাজপুত রাজ্য মুঘলদের সাথে দীর্ঘ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল?
a) আম্বর
b) মারওয়ার
c) মেওয়ার
d) বুন্দি
সঠিক উত্তর: c) মেওয়ার
ব্যাখ্যা: মেওয়ারের রানা প্রতাপ সিংহ আকবরের বশ্যতা স্বীকার না করে দীর্ঘকাল ধরে মুঘলদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে গিয়েছিলেন।
প্রশ্ন ১৩১: আকবরের বিজিত দাক্ষিণাত্য অঞ্চলের নাম কী ছিল?
a) বেরার, খান্দেশ এবং আহমদনগরের কিছু অংশ
b) বিজয়নগর ও বাহমনি সাম্রাজ্য
c) গোলকোন্ডা ও বিজাপুর
d) উপরের সবগুলি
সঠিক উত্তর: a) বেরার, খান্দেশ এবং আহমদনগরের কিছু অংশ
ব্যাখ্যা: আকবর তার দাক্ষিণাত্য অভিযানে বেরার, খান্দেশ এবং আহমদনগরের কিছু অংশ মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।
প্রশ্ন ১৩২: আকবর কর্তৃক প্রবর্তিত ‘দাগ’ ও ‘চেহরা’ প্রথা কীসের সাথে সম্পর্কিত ছিল?
a) রাজস্ব সংগ্রহ
b) মুদ্রা ব্যবস্থা
c) সামরিক ব্যবস্থা
d) বিচার ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর: c) সামরিক ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা: আকবর তার সামরিক ব্যবস্থায় ঘোড়া চিহ্নিত করার জন্য ‘দাগ’ এবং সৈন্যদের বিবরণ লেখার জন্য ‘চেহরা’ প্রথা চালু করেন, যা সামরিক শৃঙ্খলা ও দুর্নীতি দমনে সহায়ক ছিল।
প্রশ্ন ১৩৩: আকবরের ‘নবরত্ন’দের মধ্যে কে একজন বিখ্যাত হিন্দী কবি ছিলেন?
a) রাজা টোডরমল
b) আব্দুল রহিম খান-ই-খানা
c) বীরবল
d) তানসেন
সঠিক উত্তর: b) আব্দুল রহিম খান-ই-খানা
ব্যাখ্যা: আব্দুল রহিম খান-ই-খানা ছিলেন আকবরের একজন নবরত্ন এবং একজন বিখ্যাত হিন্দী কবি, যিনি তার দোহাগুলোর জন্য পরিচিত।
প্রশ্ন ১৩৪: আকবরের সময়কালে মুঘল সাম্রাজ্যের রাজধানী কোথায় ছিল?
a) দিল্লি
b) ফতেহপুর সিক্রি
c) আগ্রা
d) লাহোর
সঠিক উত্তর: c) আগ্রা
ব্যাখ্যা: আকবরের রাজত্বের বেশিরভাগ সময় আগ্রা মুঘল সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল, যদিও কিছু সময়ের জন্য ফতেহপুর সিক্রি এবং পরে লাহোরকেও রাজধানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
প্রশ্ন ১৩৫: আকবরের ‘দীন-ই-ইলাহী’ কত সালে প্রবর্তিত হয়েছিল?
a) ১৫৭৫ খ্রিষ্টাব্দে
b) ১৫৭৯ খ্রিষ্টাব্দে
c) ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে
d) ১৫৮৫ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর: c) ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা: আকবর ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে ‘দীন-ই-ইলাহী’ নামক একটি নতুন ধর্মীয় ধারণা প্রবর্তন করেন, যা মূলত বিভিন্ন ধর্মের ভালো দিকগুলির সমন্বয় ছিল।
প্রশ্ন ১৩৬: আকবরের রাজসভার বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ কে ছিলেন?
a) তানসেন
b) ফৈজি
c) বীরবল
d) আবুল ফজল
সঠিক উত্তর: a) তানসেন
ব্যাখ্যা: তানসেন ছিলেন আকবরের নবরত্নদের অন্যতম এবং মুঘল দরবারের একজন কিংবদন্তী সঙ্গীতজ্ঞ।
প্রশ্ন ১৩৭: আকবর কর্তৃক প্রবর্তিত ‘মনসবদারী’ ব্যবস্থায় ‘জাত’ ও ‘সওয়ার’ কী বোঝাত?
a) জাত – পদমর্যাদা, সওয়ার – অশ্বারোহী সৈন্য সংখ্যা
b) জাত – অশ্বারোহী সৈন্য সংখ্যা, সওয়ার – পদমর্যাদা
c) জাত – জায়গীর, সওয়ার – রাজস্ব
d) জাত – বংশ, সওয়ার – অঞ্চল
সঠিক উত্তর: a) জাত – পদমর্যাদা, সওয়ার – অশ্বারোহী সৈন্য সংখ্যা
ব্যাখ্যা: মনসবদারী ব্যবস্থায় ‘জাত’ একজন মনসবদারের ব্যক্তিগত পদমর্যাদা ও বেতনের পরিমাণ বোঝাত, আর ‘সওয়ার’ বোঝাত তাকে কত সংখ্যক অশ্বারোহী সৈন্য রাখতে হবে।
প্রশ্ন ১৩৮: আকবরের রাজপুত নীতির মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
a) রাজপুতদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা
b) রাজপুতদের মুঘল সাম্রাজ্যের অনুগত মিত্র বানানো
c) রাজপুতদের ধর্মান্তরিত করা
d) রাজপুতদের সামরিক শক্তি খর্ব করা
সঠিক উত্তর: b) রাজপুতদের মুঘল সাম্রাজ্যের অনুগত মিত্র বানানো
ব্যাখ্যা: আকবর সামরিক শক্তি প্রয়োগের পাশাপাশি বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন এবং উচ্চ পদে নিয়োগের মাধ্যমে রাজপুতদের মুঘল সাম্রাজ্যের বিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যা সাম্রাজ্যের সংহতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
প্রশ্ন ১৩৯: আকবর কাকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দিয়েছিলেন?
a) তানসেন
b) বীরবল
c) টোডরমল
d) ফৈজি
সঠিক উত্তর: b) বীরবল
ব্যাখ্যা: বীরবল (মহেশ দাস) ছিলেন আকবরের নবরত্নদের একজন এবং একজন জ্ঞানী ও রসিক ব্যক্তি। আকবর তাকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন ১৪০: আকবরের ‘ফৌজদার’ এর প্রধান কাজ কী ছিল?
a) রাজস্ব সংগ্রহ
b) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামরিক দায়িত্ব পালন
c) বিচারকার্য পরিচালনা
d) ধর্মীয় উপদেশ দান
সঠিক উত্তর: b) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামরিক দায়িত্ব পালন
ব্যাখ্যা: আকবরের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ‘ফৌজদার’ ছিলেন জেলার প্রধান সামরিক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা।
প্রশ্ন ১৪১: আকবরের রাজত্বের শেষ দিকে মুঘল সাম্রাজ্যের অংশ ছিল না কোনটি?
a) কাবুল
b) কান্দাহার
c) বিজাপুর
d) বাংলা
সঠিক উত্তর: c) বিজাপুর
ব্যাখ্যা: আকবর দাক্ষিণাত্যের কিছু অংশ জয় করলেও, বিজাপুর তার সরাসরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এটি তার পুত্র জাহাঙ্গীরের সময়কালে মুঘলদের লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।
প্রশ্ন ১৪২: আকবরের সময় ‘দিওয়ান’ পদের প্রধান দায়িত্ব কী ছিল?
a) সামরিক প্রশাসন
b) রাজস্ব ও আর্থিক প্রশাসন
c) বিচার প্রশাসন
d) ধর্মীয় বিষয়ক
সঠিক উত্তর: b) রাজস্ব ও আর্থিক প্রশাসন
ব্যাখ্যা: ‘দিওয়ান’ ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের প্রধান অর্থ ও রাজস্ব বিষয়ক কর্মকর্তা। রাজা টোডরমল আকবরের দিওয়ান ছিলেন।
প্রশ্ন ১৪৩: আকবরের ‘সুলহ-ই-কুল’ নীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন কোন সুফি চিন্তাবিদ?
a) শেখ সেলিম চিশতি
b) শেখ নিজামুদ্দিন আউলিয়া
c) শেখ আহমদ সিরহিন্দি
d) শেখ মুজাদ্দিদ আলফ-ই-সানি
সঠিক উত্তর: a) শেখ সেলিম চিশতি
ব্যাখ্যা: আকবর শেখ সেলিম চিশতি সহ উদারপন্থী সুফি সাধকদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন, যারা ‘সুলহ-ই-কুল’ (সর্বজনীন শান্তি) ধারণার সমর্থক ছিলেন।
প্রশ্ন ১৪৪: ফতেহপুর সিক্রির প্রধান প্রবেশদ্বার কোনটি?
a) দেওয়ান-ই-আম
b) বুলন্দ দরওয়াজা
c) জামা মসজিদ
d) পঞ্চ মহল
সঠিক উত্তর: b) বুলন্দ দরওয়াজা
ব্যাখ্যা: ফতেহপুর সিক্রির মূল প্রবেশদ্বার হলো বুলন্দ দরওয়াজা, যা আকবরের গুজরাট বিজয়ের স্মারক হিসেবে নির্মিত হয়েছিল।
প্রশ্ন ১৪৫: আকবরের সময়কালের ভূমি জরিপ পদ্ধতির নাম কী ছিল?
a) ইক্তাদারি
b) জাবতি
c) জায়গীরদারি
d) সায়ুরগাল
সঠিক উত্তর: b) জাবতি
ব্যাখ্যা: আকবর প্রবর্তিত ভূমি জরিপ এবং রাজস্ব নির্ধারণ পদ্ধতির নাম ছিল ‘জাবতি’ বা ‘দহসালা’।
প্রশ্ন ১৪৬: আকবর কোন রাজপুত রাজ্য জয় করার পর চিত্তর দুর্গ দখল করেন?
a) রণথম্ভোর
b) মারওয়ার
c) মেওয়ার
d) বুন্দি
সঠিক উত্তর: c) মেওয়ার
ব্যাখ্যা: ১৫৬৮ খ্রিস্টাব্দে আকবর মেওয়ারের রাজপুতদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে চিত্তর দুর্গ দখল করেন।
প্রশ্ন ১৪৭: মুঘল আমলে ‘খালিসা’ জমি বলতে কী বোঝানো হতো?
a) জায়গীর জমি
b) সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা জমি
c) ওয়াকফ জমি
d) জমিদারদের জমি
সঠিক উত্তর: b) সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা জমি
ব্যাখ্যা: ‘খালিসা’ জমি ছিল সেই জমি যা সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং যার রাজস্ব সরাসরি কেন্দ্রীয় কোষাগারে জমা পড়তো।
প্রশ্ন ১৪৮: আকবরের দরবারের কোন নবরত্ন মূলত একজন অর্থ-প্রশাসক ছিলেন?
a) রাজা টোডরমল
b) বীরবল
c) তানসেন
d) আবুল ফজল
সঠিক উত্তর: a) রাজা টোডরমল
ব্যাখ্যা: রাজা টোডরমল ছিলেন আকবরের অর্থমন্ত্রী এবং তার ভূমি রাজস্ব সংস্কারের (জাবতি বা দহসালা) স্থপতি।
প্রশ্ন ১৪৯: মুঘল সাম্রাজ্যের সংহতি ও সাম্রাজ্য বিস্তারের ক্ষেত্রে আকবরের কোন নীতিটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
a) শুধুমাত্র সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
b) ধর্মীয় সহনশীলতা ও রাজপুতদের সহযোগিতা লাভ
c) নতুন বাণিজ্যিক রুট তৈরি করা
d) শিল্প ও স্থাপত্যের প্রসার
সঠিক উত্তর: b) ধর্মীয় সহনশীলতা ও রাজপুতদের সহযোগিতা লাভ
ব্যাখ্যা: আকবরের ধর্মীয় সহনশীলতার নীতি (সুলহ-ই-কুল) এবং রাজপুতদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন (বৈবাহিক ও উচ্চ পদে নিয়োগ) মুঘল সাম্রাজ্যের সংহতি ও বিস্তারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
প্রশ্ন ১৫০: আকবর কোন ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিতেন, যা তার ধর্মীয় সহনশীলতার পরিচায়ক?
a) ঈদ
b) দিওয়ালি
c) হোলি
d) উপরের সবগুলি
সঠিক উত্তর: d) উপরের সবগুলি
ব্যাখ্যা: আকবর বিভিন্ন ধর্মের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখাতেন এবং মুসলিমদের ঈদ ছাড়াও হিন্দুদের দিওয়ালি ও হোলি, খ্রিস্টানদের ক্রিসমাস সহ অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিতেন।
চতুর্থ পর্ব: বিবিধ ও গভীর বিশ্লেষণ (প্রশ্ন ১৫১-২০০)
প্রশ্ন ১৫১: আকবর কর্তৃক প্রবর্তিত ‘করোরী’ পদে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মূল দায়িত্ব কী ছিল?
a) শুধুমাত্র সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া
b) এক কোটি দাম রাজস্ব সংগ্রহ করা
c) বিচারকার্য পরিচালনা করা
d) রাস্তা নির্মাণ করা
সঠিক উত্তর: b) এক কোটি দাম রাজস্ব সংগ্রহ করা
ব্যাখ্যা: ‘করোরী’ নামক কর্মকর্তারা এক ‘করোর দাম’ রাজস্ব সংগ্রহের দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন, যা আকবরের রাজস্ব প্রশাসনের একটি নতুন পদ ছিল।
প্রশ্ন ১৫২: আকবরের সময়কালকে ‘দ্বিতীয় মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা’ বলা হয় কেন?
a) তিনি একটি নতুন বংশ প্রতিষ্ঠা করেন
b) তিনি সাম্রাজ্যকে সংহত ও সুসংগঠিত করেন
c) তিনি প্রথমবার দাক্ষিণাত্য জয় করেন
d) তিনি নতুন ধর্ম প্রবর্তন করেন
সঠিক উত্তর: b) তিনি সাম্রাজ্যকে সংহত ও সুসংগঠিত করেন
ব্যাখ্যা: আকবর তার সামরিক বিজয়, প্রশাসনিক সংস্কার এবং ধর্মনিরপেক্ষ নীতির মাধ্যমে মুঘল সাম্রাজ্যকে সুসংহত ও সুসংগঠিত করেন, যা এর স্থায়িত্ব ও দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের ভিত্তি স্থাপন করে, তাই তাকে ‘দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাতা’ বলা হয়।
সঠিক উত্তর: b) অমুসলিমদের উপর ধার্য এক ধরনের মাথা পিছু কর
ব্যাখ্যা: জিজিয়া ছিল অমুসলিম প্রজাদের উপর ধার্য এক ধরনের মাথা পিছু কর, যা সামরিক সেবার বিনিময়ে নেওয়া হত বলে মনে করা হতো। আকবর ১৫৬৪ খ্রিস্টাব্দে এটি বাতিল করেন।
প্রশ্ন ১৫৪: আকবরের সময়ে ‘ইবাদতখানা’ তৈরির প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
a) শুধুমাত্র সুফি সাধকদের জন্য উপাসনা কক্ষ
b) বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনার জন্য একটি মঞ্চ তৈরি করা
c) রাজনৈতিক মিটিংয়ের জন্য
d) সামরিক পরামর্শের জন্য
সঠিক উত্তর: b) বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনার জন্য একটি মঞ্চ তৈরি করা
ব্যাখ্যা: আকবর ইবাদতখানায় বিভিন্ন ধর্মের পণ্ডিতদের মধ্যে আলোচনা ও বিতর্ক আয়োজন করতেন, যার মাধ্যমে তিনি ধর্মীয় সত্য অনুসন্ধান করতে চেয়েছিলেন।
প্রশ্ন ১৫৫: আকবরের ‘নবরত্ন’দের মধ্যে কোন ব্যক্তি একজন বিখ্যাত হাস্যরসপ্রিয় উপদেষ্টা ছিলেন?
a) তানসেন
b) বীরবল
c) টোডরমল
d) ফৈজি
সঠিক উত্তর: b) বীরবল
ব্যাখ্যা: বীরবল তার বুদ্ধিমত্তা এবং হাস্যরসের জন্য পরিচিত ছিলেন এবং আকবরের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।
প্রশ্ন ১৫৬: আকবরের শেষ সামরিক অভিযান কোনটি ছিল?
a) গুজরাট বিজয়
b) বাংলা বিজয়
c) আসিরগড় দুর্গ বিজয়
d) কাশ্মীর বিজয়
সঠিক উত্তর: c) আসিরগড় দুর্গ বিজয়
ব্যাখ্যা: আকবরের শেষ সামরিক অভিযান ছিল ১৬০১ খ্রিস্টাব্দে দাক্ষিণাত্যের খান্দেশের আসিরগড় দুর্গ বিজয়।
প্রশ্ন ১৫৭: আকবরের সময়কালে ‘জায়গীর’ বলতে কী বোঝানো হতো?
a) একটি সামরিক পদ
b) সরকারি কর্মকর্তাদের বেতনের পরিবর্তে নির্দিষ্ট অঞ্চলের রাজস্ব আদায়ের অধিকার
c) ভূমি রাজস্বের একটি প্রকার
d) একটি উপাধি
সঠিক উত্তর: b) সরকারি কর্মকর্তাদের বেতনের পরিবর্তে নির্দিষ্ট অঞ্চলের রাজস্ব আদায়ের অধিকার
ব্যাখ্যা: জায়গীর ছিল এক প্রকার ভূখণ্ড যা সরকারি কর্মকর্তাদের বেতনের পরিবর্তে দেওয়া হতো, যার থেকে তারা রাজস্ব সংগ্রহ করতে পারত।
প্রশ্ন ১৫৮: আকবরের ধর্মনীতির চূড়ান্ত লক্ষ্য কী ছিল?
a) শুধুমাত্র মুসলিমদের ঐক্য প্রতিষ্ঠা
b) সাম্রাজ্যে ধর্মীয় ভেদাভেদ দূর করে একটি ঐক্যবদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠা
c) নতুন ধর্ম বাধ্যতামূলক করা
d) ইসলামকে শ্রেষ্ঠ ধর্ম হিসেবে প্রমাণ করা
সঠিক উত্তর: b) সাম্রাজ্যে ধর্মীয় ভেদাভেদ দূর করে একটি ঐক্যবদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা: আকবর তার ‘সুলহ-ই-কুল’ এবং ‘দীন-ই-ইলাহী’ নীতির মাধ্যমে সাম্রাজ্যে ধর্মীয় বিভেদ দূর করে একটি ঐক্যবদ্ধ এবং সহনশীল সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।
প্রশ্ন ১৫৯: মুঘল সাম্রাজ্যের সংহতিতে ‘মীর বকশি’ এবং ‘দিওয়ান’ পদের গুরুত্ব কী ছিল?
a) তারা স্থানীয় প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন
b) তারা সামরিক ও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেন
c) তারা ধর্মীয় বিষয় দেখভাল করতেন
d) তারা শুধুমাত্র বিচার কার্য পরিচালনা করতেন
সঠিক উত্তর: b) তারা সামরিক ও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেন
ব্যাখ্যা: মীর বকশি সামরিক প্রশাসনের প্রধান এবং দিওয়ান আর্থিক প্রশাসনের প্রধান হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে সাম্রাজ্যের সামরিক ও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেন, যা সংহতির জন্য অপরিহার্য ছিল।
প্রশ্ন ১৬০: আকবরের কোন নীতিটি রাজপুতদের মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতি অনুগত থাকতে উৎসাহিত করেছিল?
a) তাদের উপর কঠোর কর আরোপ
b) তাদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা
c) তাদের উচ্চ পদে নিয়োগ এবং বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন
d) তাদের সামরিক শক্তি হ্রাস করা
সঠিক উত্তর: c) তাদের উচ্চ পদে নিয়োগ এবং বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন
ব্যাখ্যা: আকবরের রাজপুত নীতি, যেখানে তাদের উচ্চ সামরিক ও প্রশাসনিক পদে নিয়োগ করা হয়েছিল এবং বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছিল, রাজপুতদের মুঘল সাম্রাজ্যের অনুগত মিত্র হতে উৎসাহিত করেছিল।
প্রশ্ন ১৬১: আকবরের ‘ফতেহপুর সিক্রি’ ত্যাগের একটি প্রধান কারণ কী ছিল?
a) জল সংকটের কারণে
b) বিদেশী আক্রমণের কারণে
c) রাজনৈতিক অস্থিরতা
d) ব্যক্তিগত পছন্দ
সঠিক উত্তর: a) জল সংকটের কারণে
ব্যাখ্যা: ফতেহপুর সিক্রিতে জলের গুরুতর অভাব ছিল, যা আকবরকে এই শহর ত্যাগ করে লাহোর এবং পরে আগ্রা থেকে শাসন পরিচালনা করতে বাধ্য করে।
প্রশ্ন ১৬২: আকবরের প্রধান শিক্ষক কে ছিলেন?
a) বৈরাম খান
b) আবুল ফজল
c) আব্দুল লতিফ
d) ফৈজি
সঠিক উত্তর: c) আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা: আকবরের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা খুব কমই ছিল, কিন্তু তিনি আব্দুল লতিফ নামক একজন উদারপন্থী পণ্ডিতের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন, যিনি আকবরকে সহনশীলতা ও বিভিন্ন ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধার পাঠ দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন ১৬৩: আকবরের কোন নীতিটি ‘রাজপুত নীতি’ নামে পরিচিত?
a) কঠোরভাবে রাজপুতদের দমন
b) রাজপুতদের সঙ্গে মিত্রতা ও সমন্বয় সাধন
c) রাজপুতদের ধর্ম পরিবর্তন করানো
d) রাজপুতদের সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা
সঠিক উত্তর: b) রাজপুতদের সঙ্গে মিত্রতা ও সমন্বয় সাধন
ব্যাখ্যা: আকবর তার বিচক্ষণ রাজপুত নীতির মাধ্যমে (বৈবাহিক সম্পর্ক, উচ্চ পদে নিয়োগ, ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান) রাজপুতদের মুঘল সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ও স্তম্ভে পরিণত করেন।
প্রশ্ন ১৬৪: আকবরের সময় ‘দীন-ই-ইলাহী’তে যোগদানকারী একমাত্র হিন্দু নবরত্ন কে ছিলেন?
a) রাজা মান সিংহ
b) রাজা টোডরমল
c) বীরবল
d) রাজা ভগবন্ত দাস
সঠিক উত্তর: c) বীরবল
ব্যাখ্যা: বীরবল ছিলেন ‘দীন-ই-ইলাহী’তে যোগদানকারী একমাত্র হিন্দু নবরত্ন।
প্রশ্ন ১৬৫: আকবরের ধর্মীয় আলোচনা ‘ইবাদতখানা’ কত সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়?
a) ১৫৭৫ খ্রিষ্টাব্দে
b) ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে
c) ১৫৮৫ খ্রিষ্টাব্দে
d) ১৫৯১ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর: b) ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা: ১৫৭৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত ইবাদতখানা ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে বন্ধ করে দেওয়া হয়, কারণ ধর্মীয় পণ্ডিতদের মধ্যে বিতর্ক ফলপ্রসূ না হয়ে তিক্ত হয়ে উঠছিল। এরপর আকবর ‘দীন-ই-ইলাহী’ প্রবর্তন করেন।
সঠিক উত্তর: b) কৃষকদের জমির মালিকানা সংক্রান্ত নথি
ব্যাখ্যা: ‘পাট্টা’ ছিল সরকারের পক্ষ থেকে কৃষককে দেওয়া একটি লিখিত নথি, যেখানে তার জমির পরিমাণ এবং তার উপর ধার্য রাজস্বের বিবরণ লিপিবদ্ধ থাকত, যা কৃষকদের জমির অধিকার নিশ্চিত করত।
প্রশ্ন ১৬৭: আকবরের কোন উপদেষ্টা ‘আকবরনামা’ রচনার সাথে যুক্ত ছিলেন না?
a) আবুল ফজল
b) ফৈজি
c) বীরবল
d) টোডরমল
সঠিক উত্তর: c) বীরবল
ব্যাখ্যা: ‘আকবরনামা’ রচনা করেন আবুল ফজল। ফৈজি ছিলেন তার ভাই এবং একজন কবি। বীরবল এবং টোডরমল প্রশাসনিক ও সামরিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন, কিন্তু গ্রন্থ রচনার সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না।
b) সমস্ত ধর্মের প্রতি সহনশীলতা ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা
c) নতুন ধর্ম দীন-ই-ইলাহী বাধ্যতামূলক করা
d) হিন্দু ধর্মীয় সংস্কার
সঠিক উত্তর: b) সমস্ত ধর্মের প্রতি সহনশীলতা ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা
ব্যাখ্যা: আকবরের ধর্মনীতির চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ‘সুলহ-ই-কুল’ (সর্বজনীন শান্তি) নীতি, যার মাধ্যমে তিনি সমস্ত ধর্মের প্রতি সহনশীলতা এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেন, কোনো বিশেষ ধর্মকে বাধ্যতামূলক করেননি।
প্রশ্ন ১৬৯: মুঘল সাম্রাজ্যের সংহতির ক্ষেত্রে আকবরের কোন অবদানটি সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল?
a) বিশাল সংখ্যক রাজপুতদের ধর্মান্তরিত করা
b) একটি দক্ষ ও কেন্দ্রীভূত প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা
c) শুধুমাত্র সামরিক বিজয়ের উপর জোর দেওয়া
d) আঞ্চলিক স্বাধীন রাজ্যগুলোকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা
সঠিক উত্তর: b) একটি দক্ষ ও কেন্দ্রীভূত প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা
ব্যাখ্যা: আকবরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল একটি সুসংহত এবং কেন্দ্রীভূত প্রশাসন ব্যবস্থা (যেমন মনসবদারী, রাজস্ব সংস্কার) গড়ে তোলা, যা সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব ও সংহতি নিশ্চিত করেছিল।
প্রশ্ন ১৭০: আকবর কোন ধর্মীয় গোষ্ঠী থেকে ‘জাওয়াহির’ (গহনা) কর বাতিল করেন?
a) বৌদ্ধ
b) জৈন
c) খ্রিস্টান
d) পারসি
সঠিক উত্তর: b) জৈন
ব্যাখ্যা: আকবর জৈন ধর্মাবলম্বীদের উপর ধার্য ‘জাওয়াহির’ (তীর্থযাত্রার সময় ধার্য কর) কর বাতিল করেন, যা তার উদার ধর্মীয় নীতিরই অংশ ছিল।
প্রশ্ন ১৭১: আকবর কোন সালে সিন্ধু জয় করেন?
a) ১৫৭২ খ্রিষ্টাব্দে
b) ১৫৯০ খ্রিষ্টাব্দে
c) ১৫৯১ খ্রিষ্টাব্দে
d) ১৫৯৪ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর: b) ১৫৯০ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা: আকবর ১৫৯০ খ্রিস্টাব্দে সিন্ধু প্রদেশ জয় করেন, যা তার সাম্রাজ্যকে আরও পশ্চিমে প্রসারিত করে।
প্রশ্ন ১৭২: আকবরের সময়কালের ‘মীর বকশি’ পদের প্রধান কাজ কী ছিল?
a) সামরিক নিয়োগ ও বেতন সংক্রান্ত বিষয়াদি দেখা
b) সাম্রাজ্যের প্রধান বিচারপতি
c) ধর্মীয় বিষয়ের তত্ত্বাবধায়ক
d) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা
সঠিক উত্তর: a) সামরিক নিয়োগ ও বেতন সংক্রান্ত বিষয়াদি দেখা
ব্যাখ্যা: ‘মীর বকশি’ ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের প্রধান সামরিক পে-মাস্টার জেনারেল, যিনি সামরিক নিয়োগ, পদোন্নতি, বেতন এবং সৈন্যদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন।
প্রশ্ন ১৭৩: আকবরের সময়কালে ‘আওরাঙ্গজেব’ শব্দটি কী বোঝাত?
a) একটি দুর্গ
b) একটি শহর
c) সৈন্যদের ক্যাম্প বা প্রশাসনিক সদর দফতর
d) একটি মুদ্রা
সঠিক উত্তর: c) সৈন্যদের ক্যাম্প বা প্রশাসনিক সদর দফতর
ব্যাখ্যা: আকবরের সময়কালে ‘আওরাঙ্গজেব’ বলতে সাধারণত একটি অস্থায়ী সামরিক শিবির বা প্রশাসনিক সদর দফতরকে বোঝানো হতো। (উল্লেখ্য, পরবর্তীতে আওরঙ্গজেব একজন মুঘল সম্রাট ছিলেন, কিন্তু শব্দটি সামরিক অর্থেও ব্যবহৃত হত)।
প্রশ্ন ১৭৪: আকবর কর্তৃক প্রবর্তিত ‘দীন-ই-ইলাহী’তে কতজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত ছিলেন?
a) ১২ জন
b) ১৮ জন
c) ২৩ জন
d) এটি একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্যের ধর্ম ছিল না।
সঠিক উত্তর: b) ১৮ জন
ব্যাখ্যা: আকবরের ‘দীন-ই-ইলাহী’তে প্রাথমিকভাবে মাত্র ১৮ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি যোগদান করেছিলেন, যা এর সীমিত জনপ্রিয়তা নির্দেশ করে।
প্রশ্ন ১৭৫: আকবরের রাজত্বের শেষ দিকে মুঘল সাম্রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজপুত মিত্র কে ছিলেন?
a) রানা প্রতাপ সিংহ
b) রাজা টোডরমল
c) রাজা মান সিংহ
d) রাজা ভগবন্ত দাস
সঠিক উত্তর: c) রাজা মান সিংহ
ব্যাখ্যা: রাজা মান সিংহ, আম্বরের কচ্ছওয়াহ রাজপুতদের নেতা, আকবরের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও শক্তিশালী সেনাপতি ও মিত্র ছিলেন, যিনি আকবরের সাম্রাজ্য বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
প্রশ্ন ১৭৬: আকবর কোন সালে ‘জাবতি’ বা ‘দহসালা’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন?
a) ১৫৬৪ খ্রিষ্টাব্দে
b) ১৫৭৫ খ্রিষ্টাব্দে
c) ১৫৮০ খ্রিষ্টাব্দে
d) ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর: c) ১৫৮০ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা: আকবর তার অর্থমন্ত্রী রাজা টোডরমলের সহায়তায় ১৫৮০ খ্রিস্টাব্দে ‘দহসালা’ বা ‘জাবতি’ নামক নতুন ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
প্রশ্ন ১৭৭: আকবরের কোন নীতিটি ‘রাজপুত নীতি’ নামে পরিচিত?
a) কঠোরভাবে রাজপুতদের দমন
b) রাজপুতদের সঙ্গে মিত্রতা ও সমন্বয় সাধন
c) রাজপুতদের ধর্ম পরিবর্তন করানো
d) রাজপুতদের সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা
সঠিক উত্তর: b) রাজপুতদের সঙ্গে মিত্রতা ও সমন্বয় সাধন
ব্যাখ্যা: আকবর তার বিচক্ষণ রাজপুত নীতির মাধ্যমে (বৈবাহিক সম্পর্ক, উচ্চ পদে নিয়োগ, ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান) রাজপুতদের মুঘল সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ও স্তম্ভে পরিণত করেন।
প্রশ্ন ১৭৮: আকবরের সময় ‘আকবরনামা’ কে রচনা করেন?
a) বীরবল
b) ফৈজি
c) আবুল ফজল
d) তানসেন
সঠিক উত্তর: c) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা: আকবরের রাজসভার ঐতিহাসিক আবুল ফজল ‘আকবরনামা’ রচনা করেন, যা তিনটি খণ্ডে বিভক্ত। এর তৃতীয় খণ্ডটি ‘আইন-ই-আকবরী’ নামে পরিচিত।
প্রশ্ন ১৭৯: আকবরের সময়কালে পর্তুগিজরা কোন অঞ্চলে তাদের ঘাঁটি স্থাপন করেছিল?
a) বাংলা
b) গোয়া
c) মালাবার উপকূল
d) সুরাট
সঠিক উত্তর: b) গোয়া
ব্যাখ্যা: আকবরের সময়কালে পর্তুগিজরা ভারতের পশ্চিম উপকূলে, বিশেষ করে গোয়ায় তাদের শক্তিশালী বাণিজ্যিক ও সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছিল।
প্রশ্ন ১৮০: ফতেহপুর সিক্রির কোন স্থাপত্যটি বিভিন্ন ধর্মের স্থাপত্যশৈলীর মিশ্রণে তৈরি?
a) বুলন্দ দরওয়াজা
b) জামা মসজিদ
c) পঞ্চ মহল
d) সেলিম চিশতির মাজার
সঠিক উত্তর: c) পঞ্চ মহল
ব্যাখ্যা: পঞ্চ মহল একটি পাঁচতলা বিশিষ্ট ভবন যা বৌদ্ধ বিহারের স্থাপত্যশৈলী দ্বারা অনুপ্রাণিত এবং এটি আকবরের ধর্মীয় সমন্বয়ের নীতির একটি স্থাপত্যিক উদাহরণ।
প্রশ্ন ১৮১: আকবর তার সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক সুবিধার জন্য প্রদেশগুলিকে কীসে বিভক্ত করেছিলেন?
a) ইকতা
b) সরকার
c) পরগনা
d) গ্রাম
সঠিক উত্তর: b) সরকার
ব্যাখ্যা: আকবর তার সাম্রাজ্যের সুবা বা প্রদেশগুলিকে ‘সরকার’ (জেলা) এ বিভক্ত করেন, এবং প্রতিটি সরকারকে আবার ‘পরগনা’তে বিভক্ত করা হয়।
প্রশ্ন ১৮২: আকবরের সময়কালে ‘সদর-উস-সুদুর’ পদের দায়িত্ব কী ছিল?
a) প্রধান সেনাপতি
b) প্রধান বিচারপতি
c) ধর্মীয় বিষয় ও দাতব্য কাজের প্রধান
d) রাজকীয় পরিবারের প্রধান
সঠিক উত্তর: c) ধর্মীয় বিষয় ও দাতব্য কাজের প্রধান
ব্যাখ্যা: সদর-উস-সুদুর ছিলেন ধর্মীয় বিষয়, ইসলামী আইন এবং দাতব্য কাজের জন্য দায়ী প্রধান কর্মকর্তা।
প্রশ্ন ১৮৩: হলদিঘাটের যুদ্ধে মুঘল বাহিনীর সেনাপতি কে ছিলেন?
a) আকবর নিজে
b) বৈরাম খান
c) রাজা মান সিংহ
d) টোডরমল
সঠিক উত্তর: c) রাজা মান সিংহ
ব্যাখ্যা: ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দের হলদিঘাটের যুদ্ধে রানা প্রতাপ সিংহের বিরুদ্ধে মুঘল বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আকবরের বিশ্বস্ত সেনাপতি রাজা মান সিংহ।
প্রশ্ন ১৮৪: আকবর কোন শিখ গুরুর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং তাকে জমি দান করেছিলেন?
a) গুরু নানক
b) গুরু অঙ্গদ
c) গুরু অমর দাস
d) গুরু রাম দাস
সঠিক উত্তর: d) গুরু রাম দাস
ব্যাখ্যা: আকবর চতুর্থ শিখ গুরু রাম দাসের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাকে একটি জমি দান করেন, যেখানে পরবর্তীকালে অমৃতসরের স্বর্ণ মন্দির নির্মিত হয়।
প্রশ্ন ১৮৫: আকবরের সময় ‘কোতোয়াল’ এর প্রধান দায়িত্ব কী ছিল?
a) গ্রামের রাজস্ব সংগ্রহ
b) শহরের আইন-শৃঙ্খলা ও পৌর প্রশাসন
c) দুর্গের প্রধান
d) নৌবাহিনীর প্রধান
সঠিক উত্তর: b) শহরের আইন-শৃঙ্খলা ও পৌর প্রশাসন
ব্যাখ্যা: কোতোয়াল ছিলেন শহরের প্রধান পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ পৌর প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন।
প্রশ্ন ১৮৬: ‘আকবরনামা’ কোন ভাষায় রচিত হয়েছিল?
a) তুর্কি
b) আরবি
c) ফার্সি
d) উর্দু
সঠিক উত্তর: c) ফার্সি
ব্যাখ্যা: আবুল ফজল কর্তৃক রচিত ‘আকবরনামা’ ফারসি ভাষায় লেখা হয়েছিল, যা মুঘল দরবারের সরকারি ভাষা ছিল।
প্রশ্ন ১৮৭: আকবর কোন সালে তীর্থযাত্রা কর বাতিল করেন?
a) ১৫৬২ খ্রিষ্টাব্দে
b) ১৫৬৩ খ্রিষ্টাব্দে
c) ১৫৬৪ খ্রিষ্টাব্দে
d) ১৫৬৫ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর: b) ১৫৬৩ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা: আকবর ১৫৬৩ খ্রিস্টাব্দে অমুসলিমদের উপর ধার্য তীর্থযাত্রা কর বাতিল করেন। এর এক বছর পর ১৫৬৪ সালে তিনি জিজিয়া কর বাতিল করেন।
প্রশ্ন ১৮৮: আকবরের কোন নবরত্ন ‘খান-ই-খানান’ উপাধি পেয়েছিলেন?
a) বৈরাম খান
b) আব্দুল রহিম
c) আবুল ফজল
d) রাজা মান সিংহ
সঠিক উত্তর: b) আব্দুল রহিম
ব্যাখ্যা: বৈরাম খানের পুত্র আব্দুল রহিম তার পাণ্ডিত্য ও সামরিক দক্ষতার জন্য আকবরের কাছ থেকে ‘খান-ই-খানান’ উপাধি লাভ করেন।
প্রশ্ন ১৮৯: আকবরের রাজত্বকালে কোন ইউরোপীয় বণিকরা প্রথম ভারতে আসে?
a) ডাচ
b) ফরাসি
c) ব্রিটিশ (ইংরেজ)
d) দিনেমার
সঠিক উত্তর: c) ব্রিটিশ (ইংরেজ)
ব্যাখ্যা: আকবরের রাজত্বের শেষ দিকে (১৬০০ খ্রি.) ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয় এবং জন মিলডেনহল-এর মতো ইংরেজ বণিকরা ভারতে আসেন। যদিও পর্তুগিজরা তার আগেই ভারতে এসেছিল।
প্রশ্ন ১৯০: আকবরের সময় ‘পরগনা’র প্রধান কর্মকর্তা কে ছিলেন?
a) ফৌজদার
b) শিকদার
c) কোতোয়াল
d) কানুনগো
সঠিক উত্তর: b) শিকদার
ব্যাখ্যা: পরগনার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন শিকদার, যিনি আইন-শৃঙ্খলা এবং সাধারণ প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন।
প্রশ্ন ১৯১: ‘আইন-ই-আকবরী’ অনুসারে আকবরের সাম্রাজ্যে মোট কতগুলি সরকার (জেলা) ছিল?
a) ৫০
b) ৭৫
c) ১০৫
d) ১২০
সঠিক উত্তর: c) ১০৫
ব্যাখ্যা: আবুল ফজলের ‘আইন-ই-আকবরী’ অনুসারে, আকবরের ১৫টি সুবাকে মোট ১০৫টি সরকার বা জেলায় বিভক্ত করা হয়েছিল।
প্রশ্ন ১৯২: আকবরের কোন স্ত্রী খ্রিস্টান ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন বলে মনে করা হয়?
a) যোধা বাঈ (হরকা বাঈ)
b) রুকাইয়া বেগম
c) সলিমা সুলতান বেগম
d) মরিয়ম-উজ-জামানি
সঠিক উত্তর: d) মরিয়ম-উজ-জামানি
ব্যাখ্যা: যদিও হরকা বাঈকেই ‘মরিয়ম-উজ-জামানি’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন যে আকবরের একজন স্ত্রী ছিলেন পর্তুগিজ খ্রিস্টান, যার নাম ছিল মারিয়া মাসকারেনহাস। তবে এই বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে।
প্রশ্ন ১৯৩: আকবরের সময় কোন মুঘল চিত্রकलाর একটি স্বতন্ত্র ধারা তৈরি হয়েছিল?
a) কাংড়া চিত্রকলা
b) মুঘল মিনিয়েচার পেইন্টিং
c) মধুবনী চিত্রকলা
d) পাহাড়ি চিত্রকলা
সঠিক উত্তর: b) মুঘল মিনিয়েচার পেইন্টিং
ব্যাখ্যা: আকবরের পৃষ্ঠপোষকতায় ভারতীয় এবং পারসিক চিত্রকলার সংমিশ্রণে মুঘল মিনিয়েচার পেইন্টিং-এর একটি স্বতন্ত্র এবং সমৃদ্ধ ধারা গড়ে ওঠে।
প্রশ্ন ১৯৪: আকবরের কোন সেনাপতি দাক্ষিণাত্যে আহমদনগরের বিরুদ্ধে অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন?
a) রাজা মান সিংহ
b) টোডরমল
c) আব্দুল রহিম খান-ই-খানা
d) বৈরাম খান
সঠিক উত্তর: c) আব্দুল রহিম খান-ই-খানা
ব্যাখ্যা: আব্দুল রহিম খান-ই-খানা আকবরের দাক্ষিণাত্য অভিযানে, বিশেষ করে আহমদনগরের বিরুদ্ধে, একজন প্রধান সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রশ্ন ১৯৫: আকবরের কোন পুত্র তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন?
a) মুরাদ
b) দানিয়াল
c) সেলিম (জাহাঙ্গীর)
d) এদের কেউই নন
সঠিক উত্তর: c) সেলিম (জাহাঙ্গীর)
ব্যাখ্যা: আকবরের জীবনের শেষ দিকে তার পুত্র সেলিম (যিনি পরে জাহাঙ্গীর নামে পরিচিত হন) পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং এলাহাবাদে একটি স্বাধীন দরবার স্থাপন করেন।
প্রশ্ন ১৯৬: আকবরের সময় ‘दस्तूर-उल-अमल’ কী ছিল?
a) একটি ধর্মীয় আইন
b) একটি সামরিক নির্দেশিকা
c) রাজস্ব হার এবং প্রশাসনিক নিয়মের তালিকা
d) একটি বাণিজ্য চুক্তি
সঠিক উত্তর: c) রাজস্ব হার এবং প্রশাসনিক নিয়মের তালিকা
ব্যাখ্যা: ‘दस्तूर-उल-अमल’ ছিল বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত রাজস্বের হার এবং অন্যান্য প্রশাসনিক নিয়মকানুনের একটি তালিকা, যা রাজস্ব কর্মকর্তাদের জন্য নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করত।
প্রশ্ন ১৯৭: আকবরের ‘নবরত্ন’ ফৈজি কোন বিষয়ে বিখ্যাত ছিলেন?
a) সঙ্গীত
b) চিত্রকলা
c) কবিতা ও পাণ্ডিত্য
d) সামরিক কৌশল
সঠিক উত্তর: c) কবিতা ও পাণ্ডিত্য
ব্যাখ্যা: ফৈজি, আবুল ফজলের ভাই, আকবরের রাজসভার একজন সভাকবি (মালিক-উস-শুয়ারা) ছিলেন এবং তিনি তার ফারসি কবিতা ও পাণ্ডিত্যের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তিনি মহাভারতের ফারসি অনুবাদেও সাহায্য করেন।
প্রশ্ন ১৯৮: আকবরের সময়কালে বাংলার বারো ভূঁইয়াদের দমন করতে কোন মুঘল সেনাপতি প্রধান ভূমিকা পালন করেন?
a) টোডরমল
b) বৈরাম খান
c) শাহবাজ খান
d) রাজা মান সিংহ
সঠিক উত্তর: d) রাজা মান সিংহ
ব্যাখ্যা: রাজা মান সিংহ বাংলার সুবেদার থাকাকালীন ঈশা খান সহ বারো ভূঁইয়াদের বিদ্রোহ দমন করে বাংলায় মুঘল শাসনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে প্রধান ভূমিকা পালন করেন।
প্রশ্ন ১৯৯: আকবরের কোন কাজটি তার সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক সংহতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
a) নতুন মুদ্রা চালু
b) একটি একক ও মানসম্মত রাজস্ব ব্যবস্থা (দহসালা) প্রবর্তন
c) বাণিজ্য শুল্ক হ্রাস
d) নতুন শহর নির্মাণ
সঠিক উত্তর: b) একটি একক ও মানসম্মত রাজস্ব ব্যবস্থা (দহসালা) প্রবর্তন
ব্যাখ্যা: দহসালা ব্যবস্থা একটি বৈজ্ঞানিক ও মানসম্মত ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা ছিল যা সাম্রাজ্যের সর্বত্র একটি স্থিতিশীল এবং অনুমানযোগ্য আয়ের উৎস তৈরি করে, যা অর্থনৈতিক সংহতির জন্য অপরিহার্য ছিল।
প্রশ্ন ২০০: আকবরের কোন পদক্ষেপটি মুঘল সাম্রাজ্যকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল?
a) দীন-ই-ইলাহী প্রবর্তন
b) ইবাদতখানা নির্মাণ
c) জিজিয়া কর বাতিল করা
d) রাজপুতদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক
সঠিক উত্তর: c) জিজিয়া কর বাতিল করা
ব্যাখ্যা: জিজিয়া কর ছিল অমুসলিমদের উপর ধার্য একটি বৈষম্যমূলক কর। ১৫৬৪ খ্রিস্টাব্দে এটি বাতিল করার মাধ্যমে আকবর প্রমাণ করেন যে তার রাষ্ট্রে সমস্ত প্রজাই সমান, যা মুঘল সাম্রাজ্যকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত করার পথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল।