SLST History Chapter 4

মুঘল ইতিহাস – MCQ প্রশ্ন

মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস

জাহাঙ্গির ও শাহজাহানের শাসনকাল

প্রশ্ন ১: জাহাঙ্গীরের সময়ে কোন মুঘল রাজকুমারী নিজের রাজনৈতিক প্রভাবের জন্য পরিচিত ছিলেন এবং পিতার সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন?

  • ক) জাহানারা বেগম
  • খ) রওশনআরা বেগম
  • গ) নূরজাহান
  • ঘ) জিব-উন-নিসা

সঠিক উত্তর: গ) নূরজাহান

বিস্তারিত উত্তর: নূরজাহান ছিলেন জাহাঙ্গীরের প্রধান স্ত্রী এবং তাঁর শাসনকালে তিনি অত্যন্ত ক্ষমতাশালী ছিলেন। তিনি নিজের নামে মুদ্রা জারি করেছিলেন এবং প্রায়শই রাজকীয় ফরমান জারি করতেন, যা মুঘল ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ছিল অনস্বীকার্য।

প্রশ্ন ২: শাহজাহানের সময়ে নির্মিত কোন সৌধটি তার স্ত্রীর স্মরণে নির্মিত হয়েছিল এবং মুঘল স্থাপত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত?

  • ক) ফতেপুর সিক্রির বুলন্দ দরওয়াজা
  • খ) আগ্রার মতি মসজিদ
  • গ) দিল্লির জামা মসজিদ
  • ঘ) আগ্রার তাজমহল

সঠিক উত্তর: ঘ) আগ্রার তাজমহল

বিস্তারিত উত্তর: তাজমহল শাহজাহান তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী মুমতাজ মহলের স্মরণে নির্মাণ করেছিলেন। এটি মুঘল স্থাপত্যের এক অসাধারণ উদাহরণ এবং বিশ্বজুড়ে প্রেমের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

প্রশ্ন ৩: জাহাঙ্গীরের আত্মজীবনী ‘তুজুক-ই-জাহাঙ্গিরী’ কোন ভাষায় লেখা হয়েছিল?

  • ক) ফার্সি
  • খ) উর্দু
  • গ) তুর্কি
  • ঘ) আরবি

সঠিক উত্তর: ক) ফার্সি

বিস্তারিত উত্তর: ‘তুজুক-ই-জাহাঙ্গিরী’ (জাহাঙ্গীরনামা নামেও পরিচিত) ফার্সি ভাষায় লেখা হয়েছিল, যা মুঘল দরবারের সরকারি ভাষা ছিল। এটি জাহাঙ্গীরের শাসনকাল, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, প্রকৃতি এবং বিভিন্ন ঘটনার উপর আলোকপাত করে।

প্রশ্ন ৪: শাহজাহানের শাসনকালে মুঘল দরবারের প্রধান চিত্রকর কে ছিলেন?

  • ক) মনোহর
  • খ) উস্তাদ মনসুর
  • গ) গোবর্ধন
  • ঘ) মীর হাসিম

সঠিক উত্তর: ক) মনোহর

বিস্তারিত উত্তর: মনোহর ছিলেন শাহজাহানের সময়ের একজন বিশিষ্ট মুঘল চিত্রকর, যিনি প্রতিকৃতি অঙ্কন এবং দরবারের দৃশ্য চিত্রণে পারদর্শী ছিলেন।

প্রশ্ন ৫: জাহাঙ্গীরের শাসনকালে কোন ইউরোপীয় বণিক প্রথমবার ভারতে বাণিজ্য করার অনুমতি পেয়েছিলেন?

  • ক) ফ্রান্সিসকো ডি আলমেডা
  • খ) ভাস্কো দা গামা
  • গ) উইলিয়াম হকিন্স
  • ঘ) পেদ্রো আলভারেস ক্যাব্রাল

সঠিক উত্তর: গ) উইলিয়াম হকিন্স

বিস্তারিত উত্তর: ক্যাপ্টেন উইলিয়াম হকিন্স ১৬০৮ সালে জাহাঙ্গীরের দরবারে উপস্থিত হন এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হয়ে ভারতে বাণিজ্য করার অনুমতি চেয়েছিলেন। যদিও তিনি সরাসরি বাণিজ্যিক সুবিধা লাভ করতে পারেননি, তাঁর সফর ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

প্রশ্ন ৬: শাহজাহান তাঁর কোন স্থাপত্যকীর্তির জন্য “প্রিন্স অব বিল্ডার্স” (Prince of Builders) নামে পরিচিত ছিলেন?

  • ক) লাল কেল্লা
  • খ) তাজমহল
  • গ) জামা মসজিদ
  • ঘ) উপরের সবগুলি

সঠিক উত্তর: ঘ) উপরের সবগুলি

বিস্তারিত উত্তর: শাহজাহান ছিলেন মুঘল স্থাপত্যের একজন মহান পৃষ্ঠপোষক। তাজমহল, লাল কেল্লা এবং দিল্লির জামা মসজিদ সহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্যকর্ম তাঁর সময়ে নির্মিত হয়েছিল, যার জন্য তাঁকে “প্রিন্স অব বিল্ডার্স” বা “নির্মাতাদের রাজপুত্র” বলা হয়।

প্রশ্ন ৭: জাহাঙ্গীরের দরবারে কোন ইংরেজ রাষ্ট্রদূত ১৬১৫ খ্রিস্টাব্দে বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের জন্য আসেন?

  • ক) উইলিয়াম হকিন্স
  • খ) স্যার টমাস রো
  • গ) রাল্ফ ফিচ
  • ঘ) জন মিডলটন

সঠিক উত্তর: খ) স্যার টমাস রো

বিস্তারিত উত্তর: স্যার টমাস রো ১৬১৫ থেকে ১৬১৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জাহাঙ্গীরের দরবারে ছিলেন। তিনি মুঘলদের কাছ থেকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জন্য বাণিজ্য সুবিধা আদায় করতে সক্ষম হন, যা ভারতে ব্রিটিশদের ভিত্তি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রশ্ন ৮: শাহজাহানের পুত্র দারা शिको কোন ধর্মীয় গ্রন্থটি ফার্সি ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন?

  • ক) রামায়ণ
  • খ) মহাভারত
  • গ) উপনিষদ
  • ঘ) ভগবদ গীতা

সঠিক উত্তর: গ) উপনিষদ

বিস্তারিত উত্তর: দারা शिको ছিলেন একজন উদারপন্থী পণ্ডিত। তিনি হিন্দুধর্মের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং ‘সির-ই-আকবর’ (The Great Secret) নামে উপনিষদের ফার্সি অনুবাদ করেন।

প্রশ্ন ৯: জাহাঙ্গীরের সময়ে মুঘল চিত্রকলার কোন বিখ্যাত শিল্পী প্রাকৃতিক চিত্রাঙ্কনের জন্য ‘নাদির-উল-আসর’ (Wonder of the Age) উপাধি পান?

  • ক) আবুল হাসান
  • খ) মনোহর
  • গ) উস্তাদ মনসুর
  • ঘ) বিশনদাস

সঠিক উত্তর: গ) উস্তাদ মনসুর

বিস্তারিত উত্তর: উস্তাদ মনসুর ছিলেন জাহাঙ্গীরের দরবারের একজন বিখ্যাত চিত্রকর, যিনি তাঁর পশু-পাখি ও উদ্ভিদ সংক্রান্ত মিনিয়েচার পেইন্টিং-এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর এই অসামান্য দক্ষতার জন্য জাহাঙ্গীর তাঁকে ‘নাদির-উল-আসর’ উপাধি দেন।

প্রশ্ন ১০: শাহজাহান তাঁর রাজধানী আগ্রা থেকে কোথায় স্থানান্তরিত করেন এবং নতুন রাজধানীর নাম দেন শাহজাহানাবাদ?

  • ক) লাহোর
  • খ) ফতেপুর সিক্রি
  • গ) দিল্লি
  • ঘ) কাবুল

সঠিক উত্তর: গ) দিল্লি

বিস্তারিত উত্তর: শাহজাহান ১৬৪৮ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সাম্রাজ্যের রাজধানী আগ্রা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করেন। এই নতুন শহরের নাম ছিল শাহজাহানাবাদ, যা বর্তমানে পুরাতন দিল্লি নামে পরিচিত।

প্রশ্ন ১১: জাহাঙ্গীরের জ্যেষ্ঠ পুত্র খসরু বিদ্রোহ করলে কোন শিখ গুরু তাকে সমর্থন করেছিলেন, যার ফলে জাহাঙ্গীরের সাথে শিখদের সম্পর্কের অবনতি হয়?

  • ক) গুরু রামদাস
  • খ) গুরু অর্জন দেব
  • গ) গুরু হরগোবিন্দ
  • ঘ) গুরু তেজ বাহাদুর

সঠিক উত্তর: খ) গুরু অর্জন দেব

বিস্তারিত উত্তর: জাহাঙ্গীরের জ্যেষ্ঠ পুত্র খসরু বিদ্রোহ করলে পঞ্চম শিখ গুরু অর্জন দেব তাকে আশীর্বাদ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এই কারণে জাহাঙ্গীর গুরু অর্জন দেবকে মৃত্যুদণ্ড দেন, যা মুঘল-শিখ সম্পর্কের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়।

প্রশ্ন ১২: শাহজাহানের কোন স্থাপত্যকীর্তিটি ‘মুক্তার মসজিদ’ নামেও পরিচিত?

  • ক) আগ্রা ফোর্টের মতি মসজিদ
  • খ) দিল্লির জামা মসজিদ
  • গ) ফতেপুর সিক্রির জামা মসজিদ
  • ঘ) লাহোরের ওয়াজির খান মসজিদ

সঠিক উত্তর: ক) আগ্রা ফোর্টের মতি মসজিদ

বিস্তারিত উত্তর: আগ্রা ফোর্টের মধ্যে অবস্থিত মতি মসজিদ (Pearl Mosque) শাহজাহান কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল এবং এটি তার সম্পূর্ণ সাদা মার্বেলের উজ্জ্বলতার জন্য ‘মুক্তার মসজিদ’ নামে পরিচিত।

প্রশ্ন ১৩: জাহাঙ্গীরের সময়ে নির্মিত কোন সমাধিটি ভারতে প্রথম সম্পূর্ণ মার্বেল পাথরের তৈরি স্থাপত্য হিসেবে পরিচিত?

  • ক) আকবরের সমাধি
  • খ) জাহাঙ্গীরের সমাধি
  • গ) ইতমাদ-উদ-দৌলার সমাধি
  • ঘ) নূরজাহানের সমাধি

সঠিক উত্তর: গ) ইতমাদ-উদ-দৌলার সমাধি

বিস্তারিত উত্তর: নূরজাহান তার পিতা মির্জা গিয়াস বেগের (যিনি ইতমাদ-উদ-দৌলা উপাধি পেয়েছিলেন) স্মরণে এই সমাধিটি নির্মাণ করেন। এটিই ভারতে প্রথম মুঘল স্থাপত্য যা সম্পূর্ণ সাদা মার্বেল দিয়ে তৈরি এবং এতে ‘পিয়েট্রা ডুরা’ (Pietra dura) কারুকার্যের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়।

প্রশ্ন ১৪: শাহজাহানের পুত্রদের মধ্যে উত্তরাধিকার যুদ্ধে ‘ধর্মত’-এর যুদ্ধ কাদের মধ্যে হয়েছিল?

  • ক) দারা शिको বনাম শাহ সুজা
  • খ) আওরঙ্গজেব বনাম শাহ সুজা
  • গ) আওরঙ্গজেব ও মুরাদ বনাম দারা शिको-র বাহিনী
  • ঘ) দারা शिको বনাম মুরাদ বখশ

সঠিক উত্তর: গ) আওরঙ্গজেব ও মুরাদ বনাম দারা शिको-র বাহিনী

বিস্তারিত উত্তর: ১৬৫৮ সালের এপ্রিলে ধর্মত-এর যুদ্ধ হয়েছিল আওরঙ্গজেব ও মুরাদের সম্মিলিত বাহিনীর সাথে দারা शिको-র প্রেরিত বাহিনীর (যশোবন্ত সিং-এর নেতৃত্বে)। এই যুদ্ধে আওরঙ্গজেব বিজয়ী হন, যা উত্তরাধিকার যুদ্ধে তাকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যায়।

প্রশ্ন ১৫: জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে দাক্ষিণাত্যে মুঘলদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কে ছিলেন?

  • ক) বিজাপুরের সুলতান
  • খ) গোলকুন্ডার সুলতান
  • গ) আহমেদনগরের মালিক অম্বর
  • ঘ) শিবাজি

সঠিক উত্তর: গ) আহমেদনগরের মালিক অম্বর

বিস্তারিত উত্তর: জাহাঙ্গীরের সময়কালে আহমেদনগরের শক্তিশালী উজির মালিক অম্বর মুঘলদের দাক্ষিণাত্য নীতিতে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে মুঘলদের বারবার পরাজিত করেছিলেন এবং মারাঠাদের সামরিক শক্তিকে সংগঠিত করেছিলেন।

প্রশ্ন ১৬: শাহজাহানের বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন (তখত-ই-তাউস) কোন বিদেশি শাসক ভারত থেকে লুণ্ঠন করে নিয়ে যান?

  • ক) আহমদ শাহ আবদালি
  • খ) তৈমুর লং
  • গ) চেঙ্গিস খান
  • ঘ) নাদির শাহ

সঠিক উত্তর: ঘ) নাদির শাহ

বিস্তারিত উত্তর: পারস্যের শাসক নাদির শাহ ১৭৩৯ সালে ভারত আক্রমণ করেন এবং দিল্লি লুণ্ঠন করেন। তিনি মুঘলদের অমূল্য সম্পদ, যার মধ্যে বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন ও কোহিনুর হীরা ছিল, পারস্যে নিয়ে যান।

প্রশ্ন ১৭: জাহাঙ্গীর তাঁর কোন পুত্রকে ‘শাহজাহান’ উপাধি দিয়েছিলেন মেওয়ার জয়ের পর?

  • ক) খসরু
  • খ) পারভেজ
  • গ) খুররম
  • ঘ) শাহরিয়ার

সঠিক উত্তর: গ) খুররম

বিস্তারিত উত্তর: শাহজাদা খুররম মেওয়ারের রানা অমর সিং-এর বিরুদ্ধে সফল অভিযান পরিচালনা করে তাকে মুঘলদের সাথে সন্ধি করতে বাধ্য করেন। এই বিরাট সাফল্যের জন্য জাহাঙ্গীর তাঁকে ‘শাহজাহান’ (বিশ্বের রাজা) উপাধি দেন।

প্রশ্ন ১৮: শাহজাহানের সময়কালে কোন ফরাসি পর্যটক ছয়বার ভারত ভ্রমণ করেন এবং মুঘল দরবারের বিস্তারিত বিবরণ দেন?

  • ক) ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ের
  • খ) জ্যাঁ-বাপতিস্ত তাভের্নিয়ের
  • গ) নিকোলো মানুচি
  • ঘ) পিটার মুন্ডি

সঠিক উত্তর: খ) জ্যাঁ-বাপতিস্ত তাভের্নিয়ের

বিস্তারিত উত্তর: জ্যাঁ-বাপতিস্ত তাভের্নিয়ের ছিলেন একজন ফরাসি রত্ন ব্যবসায়ী এবং পর্যটক। তিনি শাহজাহানের সময়ে ছয়বার ভারত ভ্রমণ করেন এবং তাঁর ভ্রমণকাহিনীতে মুঘল সাম্রাজ্য, বিশেষ করে ময়ূর সিংহাসন এবং কোহিনুর হীরার বিস্তারিত বিবরণ লিপিবদ্ধ করেন।

প্রশ্ন ১৯: জাহাঙ্গীরের ন্যায়বিচারের শৃঙ্খল (জঞ্জির-ই-আদল) কোন ধাতু দিয়ে তৈরি ছিল?

  • ক) রূপা
  • খ) লোহা
  • গ) সোনা
  • ঘ) তামা

সঠিক উত্তর: গ) সোনা

বিস্তারিত উত্তর: ন্যায়বিচারপ্রার্থীদের জন্য জাহাঙ্গীর যে শৃঙ্খলটি স্থাপন করেছিলেন, তা خالص সোনা দিয়ে তৈরি ছিল এবং এতে ৬০টি ঘণ্টা যুক্ত ছিল। এটি প্রায় ৩০ গজ দীর্ঘ ছিল।

প্রশ্ন ২০: শাহজাহান কোন মুঘল গভর্নরকে পরাজিত করে হুগলি থেকে পর্তুগিজদের বিতাড়িত করেন?

  • ক) কাসিম খান
  • খ) মহাবত খান
  • গ) শায়েস্তা খান
  • ঘ) ইসলাম খান

সঠিক উত্তর: ক) কাসিম খান

বিস্তারিত উত্তর: শাহজাহান ১৬৩২ সালে বাংলার মুঘল গভর্নর কাসিম খানকে হুগলিতে পর্তুগিজদের দমন করার জন্য পাঠান। পর্তুগিজরা সেখানে অত্যাচার ও দাস ব্যবসা চালাচ্ছিল। কাসিম খান সফলভাবে পর্তুগিজদের দুর্গ দখল করেন এবং তাদের বিতাড়িত করেন।

প্রশ্ন ২১: জাহাঙ্গীরের সময়ে কোন ইংরেজ চিকিৎসক ভারতে আসেন এবং মুঘল দরবারে কিছু সময় কাটান?

  • ক) উইলিয়াম হার্ভে
  • খ) এডওয়ার্ড জেনার
  • গ) জন ফ্রায়ার
  • ঘ) টমাস রো

সঠিক উত্তর: ক) উইলিয়াম হার্ভে

বিস্তারিত উত্তর: রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতির আবিষ্কারক ড. উইলিয়াম হার্ভে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চিকিৎসক হিসেবে জাহাঙ্গীরের সময়ে ভারতে এসেছিলেন।

প্রশ্ন ২২: শাহজাহানের কোন কন্যা পিতার প্রতি অত্যন্ত অনুগত ছিলেন এবং তাঁর শেষ জীবনে আগ্রা দুর্গে তাঁর সেবা করেছিলেন?

  • ক) রওশনআরা বেগম
  • খ) জাহানারা বেগম
  • গ) গহরআরা বেগম
  • ঘ) জিব-উন-নিসা

সঠিক উত্তর: খ) জাহানারা বেগম

বিস্তারিত উত্তর: জাহানারা বেগম ছিলেন শাহজাহানের জ্যেষ্ঠ কন্যা। উত্তরাধিকার যুদ্ধের পর আওরঙ্গজেব যখন শাহজাহানকে আগ্রা দুর্গে বন্দী করেন, তখন জাহানারা স্বেচ্ছায় পিতার সাথে থেকে তাঁর সেবা করেন।

প্রশ্ন ২৩: “পিয়েট্রা ডুরা” (Pietra Dura) নামক কারুকার্য মুঘল স্থাপত্যে কার সময়কালে জনপ্রিয়তা লাভ করে?

  • ক) আকবর
  • খ) জাহাঙ্গীর
  • গ) শাহজাহান
  • ঘ) আওরঙ্গজেব

সঠিক উত্তর: গ) শাহজাহান

বিস্তারিত উত্তর: ‘পিয়েট্রা ডুরা’ হলো মার্বেল বা অন্যান্য পাথরের উপর মূল্যবান রত্ন খোদাই করে নকশা তৈরির একটি শিল্প। ইতমাদ-উদ-দৌলার সমাধিতে এর প্রথম ব্যাপক ব্যবহার হলেও, শাহজাহানের সময়ে তাজমহল ও অন্যান্য স্থাপত্যে এটি চরম উৎকর্ষ লাভ করে।

প্রশ্ন ২৪: জাহাঙ্গীরের কোন শখের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন?

  • ক) শিকার ও প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ
  • খ) স্থাপত্য নির্মাণ
  • গ) যুদ্ধ পরিচালনা
  • ঘ) সাহিত্য রচনা

সঠিক উত্তর: ক) শিকার ও প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ

বিস্তারিত উত্তর: জাহাঙ্গীর ছিলেন একজন শৌখিন শিকারী এবং প্রকৃতিপ্রেমী। তিনি তাঁর আত্মজীবনী ‘তুজুক-ই-জাহাঙ্গিরী’-তে বিভিন্ন পশু-পাখি ও উদ্ভিদের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন এবং চিত্রশিল্পীদের দিয়ে সেগুলির ছবি আঁকিয়েছেন।

প্রশ্ন ২৫: শাহজাহানের শাসনামলে কান্দাহার নিয়ে মুঘলদের সাথে কোন শক্তির সংঘাত হয়েছিল?

  • ক) উসমানীয় সাম্রাজ্য
  • খ) উজবেক
  • গ) সাফাভিদ সাম্রাজ্য (পারস্য)
  • ঘ) আফগান উপজাতি

সঠিক উত্তর: গ) সাফাভিদ সাম্রাজ্য (পারস্য)

বিস্তারিত উত্তর: কান্দাহার ছিল মুঘল ও পারস্যের সাফাভিদদের মধ্যে একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত শহর। শাহজাহানের সময়ে এই শহরটি নিয়ে উভয় শক্তির মধ্যে একাধিকবার সংঘাত হয় এবং শেষ পর্যন্ত মুঘলরা এর নিয়ন্ত্রণ হারায়।

ঔরঙ্গজেবের সম্প্রসারণবাদী নীতি

প্রশ্ন ৫১: আওরঙ্গজেব কোন শিখ গুরুকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে অস্বীকৃতির জন্য দিল্লিতে মৃত্যুদণ্ড দেন?

  • ক) গুরু নানক দেব
  • খ) গুরু গোবিন্দ সিং
  • গ) গুরু তেজ বাহাদুর
  • ঘ) গুরু অর্জন দেব

সঠিক উত্তর: গ) গুরু তেজ বাহাদুর

বিস্তারিত উত্তর: আওরঙ্গজেব নবম শিখ গুরু গুরু তেজ বাহাদুরকে ১৬৭৫ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। এর কারণ ছিল গুরু তেজ বাহাদুরের ইসলাম ধর্ম গ্রহণে অস্বীকৃতি এবং কাশ্মীরি পণ্ডিতদের পক্ষে তাঁর অবস্থান। এই ঘটনা শিখ-মুঘল সম্পর্কে চরম তিক্ততা সৃষ্টি করে।

প্রশ্ন ৫২: আওরঙ্গজেব দ্বারা পুনরায় আরোপিত বিতর্কিত কর কোনটি ছিল, যা অমুসলিমদের উপর ধার্য করা হতো?

  • ক) জিজিয়া
  • খ) জাবত
  • গ) যাকাত
  • ঘ) খরাজ

সঠিক উত্তর: ক) জিজিয়া

বিস্তারিত উত্তর: আওরঙ্গজেব অমুসলিমদের উপর থেকে আকবরের তুলে দেওয়া জিজিয়া কর ১৬৭৯ সালে পুনরায় আরোপ করেন। এই পদক্ষেপটি অমুসলিমদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি করেছিল এবং মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতি তাদের আনুগত্য হ্রাস করেছিল।

প্রশ্ন ৫৩: আওরঙ্গজেবের দীর্ঘস্থায়ী দাক্ষিণাত্য অভিযান মুঘল সাম্রাজ্যের উপর কী প্রভাব ফেলেছিল?

  • ক) অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি
  • খ) সাম্রাজ্যের সীমানা প্রসারিত হলেও আর্থিক ও সামরিক ক্ষয় হয়
  • গ) দাক্ষিণাত্যের সংস্কৃতির দ্রুত বিকাশ
  • ঘ) মুঘল সাম্রাজ্যের দ্রুত পতন হয়

সঠিক উত্তর: খ) সাম্রাজ্যের সীমানা প্রসারিত হলেও আর্থিক ও সামরিক ক্ষয় হয়

বিস্তারিত উত্তর: আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য অভিযান মুঘল সাম্রাজ্যের ভৌগোলিক সীমানা চরম পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধগুলি মুঘল কোষাগারকে নিঃশেষ করে দেয় এবং সামরিক শক্তিকে দুর্বল করে তোলে, যা সাম্রাজ্যের পতনের একটি অন্যতম কারণ ছিল।

প্রশ্ন ৫৪: আওরঙ্গজেব কোন দুটি শিয়া সুলতানি রাজ্য দখল করে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন?

  • ক) আহমেদনগর ও বেরার
  • খ) বিজাপুর ও গোলকুন্ডা
  • গ) বিজাপুর ও আহমেদনগর
  • ঘ) গোলকুন্ডা ও খান্দেশ

সঠিক উত্তর: খ) বিজাপুর ও গোলকুন্ডা

বিস্তারিত উত্তর: আওরঙ্গজেব বিজাপুরকে ১৬৮৬ সালে এবং গোলকুন্ডাকে ১৬৮৭ সালে মুঘল সাম্রাজ্যের সাথে সংযুক্ত করেন। এই দুটি শিয়া সুলতানি রাজ্য দখল করা ছিল তাঁর দাক্ষিণাত্য নীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

প্রশ্ন ৫৫: আওরঙ্গজেবের ধর্মীয় নীতির ফলে কোন রাজপুত রাজ্যের সাথে তাঁর দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শুরু হয়?

  • ক) অম্বার (জয়পুর)
  • খ) মারওয়ার (যোধপুর)
  • গ) মেওয়ার (উদয়পুর)
  • ঘ) বিকানের

সঠিক উত্তর: খ) মারওয়ার (যোধপুর)

বিস্তারিত উত্তর: আওরঙ্গজেবের মারওয়ারের উত্তরাধিকার বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং জিজিয়া কর আরোপের ফলে মারওয়ারের রাঠোর রাজপুতদের সাথে তাঁর দীর্ঘস্থায়ী এবং ব্যয়বহুল সংঘাত শুরু হয়, যা মুঘল সাম্রাজ্যের সামরিক ও আর্থিক শক্তিকে আরও দুর্বল করে।

মারাঠাদের সাথে সংঘাত – শিবাজি

প্রশ্ন ১০১: শিবাজির জন্মস্থান কোথায়?

  • ক) রায়গড় দুর্গ
  • খ) প্রতাপগড় দুর্গ
  • গ) শিবনেরী দুর্গ
  • ঘ) পুরন্দর দুর্গ

সঠিক উত্তর: গ) শিবনেরী দুর্গ

বিস্তারিত উত্তর: শিবাজি ১৬৩০ খ্রিস্টাব্দে (কিছু মতে ১৬২৭) পুনের কাছে শিবনেরী দুর্গে জন্মগ্রহণ করেন।

প্রশ্ন ১০২: শিবাজির শাসনকালে তার মন্ত্রিপরিষদ কী নামে পরিচিত ছিল?

  • ক) অষ্টপ্রধান
  • খ) নবরত্ন
  • গ) পঞ্চায়েত
  • ঘ) দিওয়ান

সঠিক উত্তর: ক) অষ্টপ্রধান

বিস্তারিত উত্তর: শিবাজির শাসনকালে তাঁর আটজন মন্ত্রীর একটি পরিষদ ছিল, যা ‘অষ্টপ্রধান’ নামে পরিচিত ছিল। এই মন্ত্রীরা বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সামরিক দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

প্রশ্ন ১০৩: শিবাজি কোন মুঘল সেনাপতিকে প্রতাপগড়ের যুদ্ধে পরাজিত করেন এবং হত্যা করেন?

  • ক) আফজাল খান
  • খ) শায়েস্তা খান
  • গ) জয় সিং
  • ঘ) দিলির খান

সঠিক উত্তর: ক) আফজাল খান

বিস্তারিত উত্তর: ১৬৫৯ সালে শিবাজি বিজাপুরের সেনাপতি আফজাল খানকে প্রতাপগড়ের যুদ্ধে এক দুঃসাহসিক কৌশলে হত্যা করেন। এই ঘটনা শিবাজির উত্থানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল।

প্রশ্ন ১০৪: পুরন্দরের সন্ধি কত খ্রিস্টাব্দে এবং কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?

  • ক) ১৬৬৫; শিবাজি ও আফজাল খান
  • খ) ১৬৬৫; শিবাজি ও শায়েস্তা খান
  • গ) ১৬৬৫; শিবাজি ও মির্জা রাজা জয় সিং
  • ঘ) ১৬৭০; শিবাজি ও আওরঙ্গজেব

সঠিক উত্তর: গ) ১৬৬৫; শিবাজি ও মির্জা রাজা জয় সিং

বিস্তারিত উত্তর: ১৬৬৫ সালে মুঘল সেনাপতি মির্জা রাজা জয় সিং এবং শিবাজির মধ্যে পুরন্দরের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। এই সন্ধির মাধ্যমে শিবাজি মুঘলদের কাছে কিছু দুর্গ এবং অঞ্চল সমর্পণ করতে বাধ্য হন এবং মুঘল দরবারে উপস্থিত থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রশ্ন ১০৫: শিবাজির “গেরিলা যুদ্ধ কৌশল” কী নামে পরিচিত ছিল?

  • ক) মানসবদারি
  • খ) রণনীতি
  • গ) গণিমি কাওয়া
  • ঘ) চতুরঙ্গ

সঠিক উত্তর: গ) গণিমি কাওয়া

বিস্তারিত উত্তর: শিবাজি তাঁর “গণিমি কাওয়া” বা গেরিলা যুদ্ধ কৌশলের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। এই কৌশলে ছোট ছোট দলের মাধ্যমে আকস্মিক আক্রমণ চালিয়ে শত্রুদের ব্যতিব্যস্ত করা হতো, যা সুসংগঠিত মুঘল সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল।

আওরঙ্গজেব এবং মুঘল সাম্রাজ্যের ভাঙন

প্রশ্ন ১৫১: আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মুঘল সাম্রাজ্যে কোন রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয় যা সাম্রাজ্যের ভাঙনকে ত্বরান্বিত করে?

  • ক) অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
  • খ) উত্তরাধিকার যুদ্ধ এবং মনসবদারি সংকট
  • গ) ইউরোপীয় বণিকদের পলায়ন
  • ঘ) শিল্প ও সংস্কৃতির পুনরুত্থান

সঠিক উত্তর: খ) উত্তরাধিকার যুদ্ধ এবং মনসবদারি সংকট

বিস্তারিত উত্তর: আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্রদের মধ্যে তীব্র উত্তরাধিকার যুদ্ধ শুরু হয়, যা কেন্দ্রীয় ক্ষমতাকে দুর্বল করে। একই সাথে, মনসবদারদের মধ্যে জাগিরের অভাব বা ‘জাগিরদারি সংকট’ সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে ভেঙে দেয় এবং বিদ্রোহকে উৎসাহিত করে।

প্রশ্ন ১৫২: মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের সময় কারা স্বাধীন আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল?

  • ক) পর্তুগিজরা
  • খ) মারাঠা, শিখ এবং রাজপুতরা
  • গ) তুর্কিরা
  • ঘ) মঙ্গলরা

সঠিক উত্তর: খ) মারাঠা, শিখ এবং রাজপুতরা

বিস্তারিত উত্তর: আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মারাঠা, শিখ, রাজপুত এবং জাঠদের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলি মুঘল কেন্দ্রীয় সরকারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে, যা মুঘল সাম্রাজ্যের ভাঙনকে ত্বরান্বিত করে।

প্রশ্ন ১৫৩: কোন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর পলাশীর যুদ্ধে (১৭৫৭) জয়লাভ করে বাংলায় ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠা করেন?

  • ক) ওয়ারেন হেস্টিংস
  • খ) রবার্ট ক্লাইভ
  • গ) লর্ড কর্নওয়ালিস
  • ঘ) লর্ড ডালহৌসি

সঠিক উত্তর: খ) রবার্ট ক্লাইভ

বিস্তারিত উত্তর: রবার্ট ক্লাইভ পলাশীর যুদ্ধে (১৭৫৭) নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে বাংলায় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেন, যা মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের এবং ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের উত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল।

প্রশ্ন ১৫৪: মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের সময় ভারতের কোন অংশে নাদির শাহ আক্রমণ করেন?

  • ক) দাক্ষিণাত্য
  • খ) বাংলা
  • গ) পাঞ্জাব ও দিল্লি
  • ঘ) কাশ্মীর

সঠিক উত্তর: গ) পাঞ্জাব ও দিল্লি

বিস্তারিত উত্তর: পারস্যের শাসক নাদির শাহ ১৭৩৯ সালে ভারত আক্রমণ করেন এবং কার্নালের যুদ্ধে মুঘলদের পরাজিত করে দিল্লি লুণ্ঠন করেন। এই ঘটনা মুঘল সাম্রাজ্যের দুর্বলতা চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করে এবং এর পতনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

প্রশ্ন ১৫৫: মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের জন্য ‘মনসবদারি সংকট’ বলতে কী বোঝায়?

  • ক) মনসবদারদের মধ্যে ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্ব
  • খ) যোগ্য মনসবদারের অভাব
  • গ) মনসবদারদের জন্য পর্যাপ্ত ‘জাগির’ (ভূমি) না থাকা
  • ঘ) মনসবদারদের অতিরিক্ত বেতন দাবি

সঠিক উত্তর: গ) মনসবদারদের জন্য পর্যাপ্ত ‘জাগির’ (ভূমি) না থাকা

বিস্তারিত উত্তর: মনসবদারি সংকট বলতে বোঝায় যে, আওরঙ্গজেবের শাসনকালে মনসবদারদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও তাদের বেতন প্রদানের জন্য পর্যাপ্ত ‘জাগির’ (ভূমি রাজস্ব প্রদানের অধিকার) উপলব্ধ ছিল না। এর ফলে মনসবদারদের মধ্যে অসন্তোষ এবং অরাজকতা বৃদ্ধি পায়, যা সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে দুর্বল করে।

Scroll to Top