সংজ্ঞা (Ñutum)
প্রশ্ন ১: সাঁওতালী ভাষায় ‘সংজ্ঞা’-কে কী বলা হয়?
সঠিক উত্তর: (B) ঞুতুম (Ñutum)
ব্যাখ্যা: সাঁওতালী ভাষায় যেকোনো নাম বা সংজ্ঞাকে ‘ঞুতুম’ বলা হয়।
প্রশ্ন ২: ‘হড়’ (Hor) শব্দটি কোন প্রকারের সংজ্ঞা?
সঠিক উত্তর: (A) জাতিবাচক (Guti Ñutum)
ব্যাখ্যা: ‘হড়’ শব্দটি কোনো নির্দিষ্ট মানুষকে না বুঝিয়ে সমগ্র মানব জাতিকে বোঝায়, তাই এটি জাতিবাচক সংজ্ঞা।
প্রশ্ন ৩: ‘দামোদর’ (Damodor) কোন ধরনের ঞুতুম?
সঠিক উত্তর: (B) জাতিঞাক্ ঞুতুম (Jãtinak’ Ñutum)
ব্যাখ্যা: ‘দামোদর’ একটি নির্দিষ্ট নদীর নাম, তাই এটি ব্যক্তিবাচক বা জাতিঞাক্ ঞুতুম।
প্রশ্ন ৪: ‘সোনা’ (Sona) শব্দটি কোন প্রকারের সংজ্ঞা?
সঠিক উত্তর: (C) বস্তুবাচক (Dinis Ñutum)
ব্যাখ্যা: ‘সোনা’ একটি পদার্থ বা বস্তু, তাই এটি বস্তুবাচক বা দিনিস ঞুতুম।
প্রশ্ন ৫: ‘এসকার’ (Eskar) শব্দটি কোন ধরনের ঞুতুম?
সঠিক উত্তর: (A) গুণ ঞুতুম (Gun Ñutum)
ব্যাখ্যা: ‘এসকার’ শব্দের অর্থ একাকীত্ব, যা একটি অবস্থা বা গুণকে বোঝায়। তাই এটি গুণবাচক সংজ্ঞা।
প্রশ্ন ৬: ‘পাতড়া’ (Patra) বা সৈন্যদল কোন ধরনের ঞুতুম?
সঠিক উত্তর: (C) গাওঁতাক ঞুতুম (Gãõtak’ Ñutum)
ব্যাখ্যা: ‘পাতড়া’ বলতে একটি দলকে বা সমষ্টিকে বোঝায়। তাই এটি সমষ্টিবাচক বা গাওঁতাক ঞুতুম।
সর্বনাম (Uñum)
প্রশ্ন ৭: সাঁওতালী ভাষায় ‘সর্বনাম’-কে কী বলা হয়?
সঠিক উত্তর: (C) উঞুম
ব্যাখ্যা: সংজ্ঞার পরিবর্তে যা ব্যবহৃত হয়, তাকে সাঁওতালীতে ‘উঞুম’ বলা হয়।
প্রশ্ন ৮: ‘ইঞ’ (Iñ) শব্দটি কোন পুরুষের সর্বনাম?
সঠিক উত্তর: (A) প্রথম পুরুষ (Marang Hor)
ব্যাখ্যা: ‘ইঞ’ মানে ‘আমি’, যা উত্তম পুরুষ বা প্রথম পুরুষকে বোঝায়।
প্রশ্ন ৯: ‘আলে’ (Ale) এবং ‘আবন’ (Abon) – এই দুটি সর্বনামের মধ্যে পার্থক্য কী?
সঠিক উত্তর: (B) ‘আলে’ শ্রোতা বাদে (Exclusive), ‘আবন’ শ্রোতা সহ (Inclusive)
ব্যাখ্যা: ‘আলে’ মানে ‘আমরা’ (কিন্তু তুমি নও), আর ‘আবন’ মানে ‘আমরা’ (আমি, তুমি এবং অন্যরা সবাই)। এটি সাঁওতালী ব্যাকরণের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
প্রশ্ন ১০: ‘অকয়’ (Okoy) শব্দটি কোন প্রকারের সর্বনাম?
সঠিক উত্তর: (B) প্রশ্নবাচক (Kukli Uñum)
ব্যাখ্যা: ‘অকয়’ শব্দের অর্থ ‘কে?’, যা প্রশ্ন করতে ব্যবহৃত হয়। তাই এটি প্রশ্নবাচক সর্বনাম।
প্রশ্ন ১১: ‘উনি’ (Uni) শব্দটি কী ধরনের সর্বনাম?
সঠিক উত্তর: (B) দূরবর্তী নির্দেশক
ব্যাখ্যা: ‘উনি’ (সে/তিনি) দূরবর্তী ব্যক্তি বা প্রাণীকে নির্দেশ করে। নিকটবর্তী বোঝাতে ‘নুই’ (Nui) ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন ১২: ‘যিনি কাজ করেন, তিনিই ফল পান’ – এই বাক্যে সম্বন্ধবাচক সর্বনাম কোনটি?
সঠিক উত্তর: (C) জাঁহায়… উনি (Jãhãy… Uni)
ব্যাখ্যা: সাঁওতালীতে ‘যিনি… তিনিই’ বোঝাতে ‘জাঁহায়… উনি’ সম্বন্ধবাচক সর্বনাম জোড়া ব্যবহৃত হয়।
বচন (Lekha)
প্রশ্ন ১৩: সাঁওতালী ভাষায় বচন কয় প্রকার?
সঠিক উত্তর: (B) তিন প্রকার (একবচন, দ্বিবচন, বহুবচন)
ব্যাখ্যা: সাঁওতালী ভাষায় বচন তিন প্রকার: একবচন (Mit’ leka), দ্বিবচন (Bar leka), এবং বহুবচন (Sange leka)।
প্রশ্ন ১৪: ‘হড়কিন’ (Horkin) শব্দটির বচন কী?
সঠিক উত্তর: (B) দ্বিবচন
ব্যাখ্যা: সাঁওতালীতে ‘-কিন’ প্রত্যয় যোগ করে দ্বিবচন বোঝানো হয়। ‘হড়কিন’ মানে ‘দুজন মানুষ’।
প্রশ্ন ১৫: ‘দারে’ (Dare) শব্দটির বহুবচন রূপ কোনটি?
সঠিক উত্তর: (C) দারেকো
ব্যাখ্যা: ‘-কো’ প্রত্যয় যোগ করে বহুবচন করা হয়। তবে অপ্রাণীবাচক বিশেষ্যের ক্ষেত্রে প্রায়শই বচনচিহ্ন বসে না, কিন্তু প্রয়োজনে ‘দারেকো’ বলা যায়।
প্রশ্ন ১৬: প্রথম পুরুষের দ্বিবচন সর্বনাম কোনটি?
সঠিক উত্তর: (B) আলাং/আলিঞ (Alang/Aliñ)
ব্যাখ্যা: ‘আলাং’ বা ‘আলিঞ’ হল প্রথম পুরুষের দ্বিবচন রূপ, যার অর্থ ‘আমরা দুজন’। ‘আলাং’ শ্রোতা সহ (inclusive) এবং ‘আলিঞ’ শ্রোতা বাদে (exclusive)।
প্রশ্ন ১৭: ‘-কো’ প্রত্যয়টি কোন বচন বোঝাতে ব্যবহৃত হয়?
সঠিক উত্তর: (C) বহুবচন
ব্যাখ্যা: ‘-কো’ প্রত্যয় যোগ করে বিশেষ্য বা সর্বনামের বহুবচন রূপ তৈরি করা হয়, যেমন – হড়কো (মানুষেরা), উনকো (তারা)।
পুরুষ (Hor)
প্রশ্ন ১৮: সাঁওতালী ব্যাকরণে ‘পুরুষ’কে কী বলা হয়?
সঠিক উত্তর: (A) হড় (Hor)
ব্যাখ্যা: সাঁওতালীতে ব্যাকরণগত পুরুষকে ‘হড়’ বলা হয়। যেমন – মারাং হড় (প্রথম পুরুষ)।
প্রশ্ন ১৯: ‘আম’ (Am) শব্দটি কোন পুরুষের সর্বনাম?
সঠিক উত্তর: (B) দ্বিতীয় পুরুষ
ব্যাখ্যা: ‘আম’ মানে ‘তুমি’, যা মধ্যম পুরুষ বা দ্বিতীয় পুরুষকে বোঝায়।
প্রশ্ন ২০: ‘উনকিন’ (Unkin) শব্দটি কোন পুরুষ ও বচনের রূপ?
সঠিক উত্তর: (C) তৃতীয় পুরুষ, দ্বিবচন
ব্যাখ্যা: ‘উনকিন’ মানে ‘তারা দুজন’ (দূরবর্তী), যা তৃতীয় পুরুষ ও দ্বিবচনকে নির্দেশ করে।
প্রশ্ন ২১: ‘আপে’ (Ape) সর্বনামটির পুরুষ ও বচন কী?
সঠিক উত্তর: (B) দ্বিতীয় পুরুষ, বহুবচন
ব্যাখ্যা: ‘আপে’ মানে ‘তোমরা’, যা দ্বিতীয় পুরুষের বহুবচন রূপ।
লিঙ্গ (Jati)
প্রশ্ন ২২: সাঁওতালী ভাষায় ‘লিঙ্গ’ বোঝাতে কোন শব্দটি ব্যবহৃত হয়?
সঠিক উত্তর: (B) জাতি (Jati)
ব্যাখ্যা: সাঁওতালীতে লিঙ্গকে ‘জাতি’ বলা হয়, যেমন – কড়া জাতি (পুংলিঙ্গ), কুড়ি জাতি (স্ত্রীলিঙ্গ)।
প্রশ্ন ২৩: ‘ভেডা’ (Bheda) শব্দটির স্ত্রীলিঙ্গ কী?
সঠিক উত্তর: (B) ভিডি (Bhidi)
ব্যাখ্যা: ‘ভেডা’ (ভেড়া/Ram) এর স্ত্রীলিঙ্গ হল ‘ভিডি’ (ভেড়ী/Ewe)।
প্রশ্ন ২৪: সাঁওতালী ভাষায় অপ্রাণীবাচক বা জড় পদার্থের লিঙ্গকে কী বলা হয়?
সঠিক উত্তর: (D) জিনিস্ জাতি (Jinis Jati)
ব্যাখ্যা: জড় পদার্থ যেমন – দারে (গাছ), ধিরি (পাথর) ইত্যাদি ক্লীবলিঙ্গ বা জিনিস্ জাতির অন্তর্গত।
প্রশ্ন ২৫: ‘হপন এরা’ (Hopon era) শব্দটির পুংলিঙ্গ কী?
সঠিক উত্তর: (A) হপন কড়া (Hopon kora)
ব্যাখ্যা: ‘হপন এরা’ মানে ‘কন্যা’। এর পুংলিঙ্গ হল ‘হপন কড়া’ বা ‘পুত্র’।
প্রশ্ন ২৬: ‘গিদ্রা’ (Gidra) শব্দটি কোন লিঙ্গের উদাহরণ?
সঠিক উত্তর: (C) উভয়লিঙ্গ বা হাপন জাতি
ব্যাখ্যা: ‘গিদ্রা’ (শিশু) বলতে ছেলে বা মেয়ে উভয়কেই বোঝাতে পারে। তাই এটি উভয়লিঙ্গের (Common Gender) উদাহরণ, যাকে সাঁওতালীতে ‘হাপন জাতি’ বলা হয়।
বিশেষণ (Gunun)
প্রশ্ন ২৭: সাঁওতালী ভাষায় ‘বিশেষণ’কে কী বলা হয়?
সঠিক উত্তর: (C) গুনুন
ব্যাখ্যা: যে শব্দ বিশেষ্য বা সর্বনামের গুণ, দোষ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে সাঁওতালীতে ‘গুনুন’ বলা হয়।
প্রশ্ন ২৮: ‘মারাং’ (Marang) শব্দটি কীসের উদাহরণ?
সঠিক উত্তর: (C) বিশেষণ
ব্যাখ্যা: ‘মারাং’ শব্দের অর্থ ‘বড়’, যা একটি গুণ বা অবস্থা প্রকাশ করে। তাই এটি বিশেষণ বা গুনুন।
প্রশ্ন ২৯: ‘বেস হড়’ (Bes hor) – এখানে বিশেষণ কোনটি?
সঠিক উত্তর: (A) বেস
ব্যাখ্যা: এখানে ‘বেস’ (ভালো) শব্দটি ‘হড়’ (মানুষ) বিশেষ্যের গুণ প্রকাশ করছে। তাই ‘বেস’ হল বিশেষণ।
প্রশ্ন ৩০: ‘বারয়া’ (Barya) শব্দটি কোন ধরনের বিশেষণ?
সঠিক উত্তর: (C) সংখ্যাবাচক
ব্যাখ্যা: ‘বারয়া’ মানে ‘দুটি’, যা একটি নির্দিষ্ট সংখ্যাকে বোঝাচ্ছে। তাই এটি সংখ্যাবাচক বিশেষণ।
প্রশ্ন ৩১: ‘আডি’ (Adi) শব্দটি কী ধরনের বিশেষণ?
সঠিক উত্তর: (B) পরিমাণবাচক (Quantity)
ব্যাখ্যা: ‘আডি’ মানে ‘অনেক’ বা ‘খুব’, যা পরিমাণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যেমন: ‘আডি দাকা’ (অনেক ভাত)।
ক্রিয়া (Kãmi)
প্রশ্ন ৩২: সাঁওতালী ভাষায় ‘ক্রিয়া’কে কী বলা হয়?
সঠিক উত্তর: (C) কামি (Kãmi)
ব্যাখ্যা: কোনো কাজ করাকে সাঁওতালী ভাষায় ‘কামি’ বলা হয়।
প্রশ্ন ৩৩: ‘দাঃ-এ জড়য়দা’ (Da’-e joroyda) – এই বাক্যে ক্রিয়াটি কী?
সঠিক উত্তর: (A) সকর্মক ক্রিয়া (Sakarmi Kãmi)
ব্যাখ্যা: বাক্যটির অর্থ ‘সে জল ঢালছে’। এখানে ‘কী ঢালছে?’ প্রশ্নের উত্তর (‘জল’) পাওয়া যাচ্ছে, অর্থাৎ কর্ম আছে। তাই এটি সকর্মক ক্রিয়া।
প্রশ্ন ৩৪: ‘উনি-য় জাপিদ্ কেদা’ (Uni-y japid’ keda) – এই বাক্যের ক্রিয়াটি কী ধরনের?
সঠিক উত্তর: (B) অকর্মক
ব্যাখ্যা: বাক্যটির অর্থ ‘সে ঘুমিয়ে পড়ল’। এখানে ‘কী’ বা ‘কাকে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় না, অর্থাৎ কর্ম নেই। তাই এটি অকর্মক ক্রিয়া।
প্রশ্ন ৩৫: সাঁওতালী ক্রিয়াপদে সাধারণত কোন অংশটি শেষে যুক্ত থাকে?
সঠিক উত্তর: (D) উপরের সবগুলিই ক্রিয়ার মধ্যে নিহিত থাকে
ব্যাখ্যা: সাঁওতালী ক্রিয়া Agglutinative প্রকৃতির। ক্রিয়াপদের মধ্যেই ধাতুর সাথে কাল, কর্তা, এমনকি কর্মের চিহ্নও যুক্ত থাকে। যেমন – দালকেদিঞায় (dal-ked-iñ-a-e) = সে আমাকে মেরেছিল।
প্রশ্ন ৩৬: ‘অল’ (ol – লেখা) ধাতুর সাথে ‘-অঃ’ যোগ করলে কী ধরনের ক্রিয়া হয়?
সঠিক উত্তর: (B) আত্মবাচক ক্রিয়া (Reflexive/Passive)
ব্যাখ্যা: ‘-অঃ’ (ok’) প্রত্যয় যোগ করলে ক্রিয়াটি আত্মবাচক বা কর্মবাচ্য হয়। যেমন: ‘অলঃ’ (olok’) মানে ‘লেখা হওয়া’।
কাল (Nãg)
প্রশ্ন ৩৭: সাঁওতালী ভাষায় ‘কাল’ (Tense)-কে কী বলা হয়?
সঠিক উত্তর: (B) নাং (Nãg)
ব্যাখ্যা: ক্রিয়ার কালকে সাঁওতালী ভাষায় ‘নাং’ বলা হয়।
প্রশ্ন ৩৮: ‘সেটেরেনা’ (Seterena) ক্রিয়াপদটি কোন কালের রূপ?
সঠিক উত্তর: (B) অতীত কাল (Enan Nãg)
ব্যাখ্যা: ‘-এন’ (en) প্রত্যয়টি অকর্মক ক্রিয়ার সাধারণ অতীত কালকে বোঝায়। ‘সেটেরেনা’ মানে ‘পৌঁছাল’।
প্রশ্ন ৩৯: ‘দাঃ-এ সেনঃআ’ (Da’-e senoḱa) – বাক্যটি কোন কালের?
সঠিক উত্তর: (C) ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা: ক্রিয়াপদের শেষে ‘-আ’ (a) প্রত্যয় ভবিষ্যৎ কাল নির্দেশ করে। ‘সেনঃআ’ মানে ‘যাবে’।
প্রশ্ন ৪০: ‘জম্ কানায়’ (Jom kanay) – এই ক্রিয়ার কাল কোনটি?
সঠিক উত্তর: (B) ঘটমান বর্তমান
ব্যাখ্যা: ‘-কান’ (kan) প্রত্যয়টি ঘটমান বা চলমান অবস্থা বোঝায়। ‘জম্ কানায়’ মানে ‘খাচ্ছে’।
প্রশ্ন ৪১: পুরাঘটিত অতীত (Pluperfect) বোঝাতে কোন প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়?
সঠিক উত্তর: (B) -লেৎ (let’)
ব্যাখ্যা: ‘-লেৎ’ প্রত্যয় পুরাঘটিত অতীত বা দূরবর্তী অতীত বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যেমন: সেঁদ্রা লেদায় (সে শিকার করেছিল)। ‘-কেৎ’ সাধারণ অতীত বোঝায়।
কারক (Karok)
প্রশ্ন ৪২: ‘টাঙা তে মাক্ কেদায়’ (Tanga te mak’ kedae) – এখানে ‘টাঙা তে’ কোন কারক?
সঠিক উত্তর: (C) করণ কারক
ব্যাখ্যা: বাক্যটির অর্থ ‘কুঠার দিয়ে কাটল’। এখানে ‘-তে’ অনুসর্গটি দ্বারা/দিয়ে বোঝাচ্ছে, যা করণ কারকের চিহ্ন।
প্রশ্ন ৪৩: সাঁওতালী ভাষায় অপাদান কারকের সম্পর্ক বোঝাতে কোন অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়?
সঠিক উত্তর: (C) -খন/-খচ (khon/khoc)
ব্যাখ্যা: ‘হতে’, ‘থেকে’ বোঝাতে, যা অপাদান কারকের সম্পর্ক, ‘-খন’ বা ‘-খচ’ অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়। যেমন: আতু খল সেটেরেনা (গ্রাম থেকে এল)।
প্রশ্ন ৪৪: ‘অড়াঃ রে মেনায়া’ (Orak’ re menaya) – এই বাক্যে ‘অড়াঃ রে’ পদটি কোন কারকের উদাহরণ?
সঠিক উত্তর: (C) অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা: বাক্যটির অর্থ ‘বাড়িতে আছে’। ‘-রে’ অনুসর্গটি স্থান বা আধার বোঝাচ্ছে, যা অধিকরণ কারকের চিহ্ন।
প্রশ্ন ৪৫: নিমিত্ত কারক বোঝাতে কোন অনুসর্গ বসে?
সঠিক উত্তর: (A) -লাগিৎ (lagit’)
ব্যাখ্যা: ‘জন্য’ বা ‘নিমিত্ত’ বোঝাতে ‘-লাগিৎ’ অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়। যেমন: আম লাগিৎ (তোমার জন্য)।
প্রশ্ন ৪৬: কর্মকারকে প্রাণিবাচক পদের সঙ্গে কোন বিভক্তি বা অনুসর্গ যুক্ত হয়?
সঠিক উত্তর: (D) কোনোটিই যুক্ত হয় না, ক্রিয়ার মধ্যে নিহিত থাকে
ব্যাখ্যা: সাঁওতালীতে কর্মকারকের কোনো নির্দিষ্ট বিভক্তি নেই। কর্মটি (বিশেষ করে সর্বনাম হলে) ক্রিয়াপদের মধ্যেই একটি Infix বা প্রত্যয় হিসেবে যুক্ত থাকে। যেমন: দাল-মে-ঞা-য় (সে তোমাকে মারবে)। এখানে ‘মে’ হল কর্ম ‘তোমাকে’।
প্রত্যয় (Par प्रत्यय)
প্রশ্ন ৪৭: ‘অল’ (ol) ধাতুর সাথে ‘-ইচ্’ প্রত্যয় যোগ করলে কী হয়?
সঠিক উত্তর: (A) অলইচ্ (oloic’ – লেখক)
ব্যাখ্যা: ‘-ইচ্’ প্রত্যয়টি ক্রিয়াপদ থেকে কর্তৃবাচক বিশেষ্য তৈরি করে, যিনি কাজটি করেন তাকে বোঝায়।
প্রশ্ন ৪৮: ‘দাকা’ (daka – ভাত) শব্দের সাথে ‘-উ’ প্রত্যয় যোগ করলে কী অর্থ হয়?
সঠিক উত্তর: (B) ভাত রান্না করা
ব্যাখ্যা: বিশেষ্য পদের সাথে ‘-উ’ (u) প্রত্যয় যোগ করে নামধাতুজ ক্রিয়া গঠন করা হয়। দাকা + উ = দাকাউ (ভাত রান্না করা)।
প্রশ্ন ৪৯: ক্রিয়াপদের সাথে ‘-আন’ (an) প্রত্যয় যোগ করলে কী তৈরি হয়?
সঠিক উত্তর: (B) ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য (Verbal Noun)
ব্যাখ্যা: ‘-আন’ প্রত্যয় যোগ করে ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠন করা হয়। যেমন: সেন (যাওয়া) + আন = সেনঃআন (গমন)।
প্রশ্ন ৫০: ‘এনেচ্’ (enec’ – নাচা) ধাতুর সাথে ‘-অচ’ প্রত্যয় যোগ করলে ক্রিয়াটি কী ধরনের হয়?
সঠিক উত্তর: (B) প্রেরণার্থক (Causative)
ব্যাখ্যা: ‘-অচ’ (oco) প্রত্যয় যোগ করে প্রেরণার্থক বা প্রযোজক ক্রিয়া তৈরি করা হয়। ‘এনেচঅচ’ মানে ‘নাচানো’ (অন্যকে দিয়ে নাচানো)।
ভেনতা কাথা (Bhenţa Katha – প্রবাদ)
প্রশ্ন ৫১: ‘দারে দাল দালতে মায়াম অডোকোআ’ – এই ভেনতা কাথাটির অর্থ কী?
সঠিক উত্তর: (C) বারবার অনুরোধ করলে কঠিন হৃদয়ও গলে যায়
ব্যাখ্যা: এই প্রবাদটির ভাবার্থ হল, ক্রমাগত চেষ্টা বা অনুরোধ করলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায় বা পাষাণ হৃদয়কেও নরম করা যায়।
প্রশ্ন ৫২: ‘সাসাং আর হড় সমান গেয়া’ – প্রবাদটির অর্থ কী?
সঠিক উত্তর: (C) নিজের দোষ দেখা যায় না
ব্যাখ্যা: হলুদ যেমন নিজের রঙ দেখতে পায় না, তেমনই মানুষ নিজের দোষ দেখতে পায় না।
প্রশ্ন ৫৩: ‘আডি হড়ে সাঙ্গে লেৎড়া’ – এর ভাবার্থ কী?
সঠিক উত্তর: (B) বেশি সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
ব্যাখ্যা: এই প্রবাদটির অর্থ হল, কোনো কাজে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি লোক থাকলে কাজটি সুসম্পন্ন হওয়ার বদলে নষ্ট হয়ে যায়।
প্রশ্ন ৫৪: ‘সিম সান্দি সেঁদরা বায় বাগীয়া’ – এই ভেনতা কাথাটি কী বোঝাতে ব্যবহৃত হয়?
সঠিক উত্তর: (B) স্বভাব সহজে পরিবর্তন হয় না
ব্যাখ্যা: মোরগ যেমন তার স্বভাবগত শিকার (পোকা ধরা) ছাড়তে পারে না, তেমনই মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি বা অভ্যাস সহজে বদলায় না।
প্রশ্ন ৫৫: ‘বুরু হাসা আতো দাকা’ – প্রবাদটির অর্থ কী?
সঠিক উত্তর: (B) দেশপ্রেম বা নিজের জায়গার প্রতি টান
ব্যাখ্যা: এই প্রবাদটি নিজের জন্মভূমি, নিজের গ্রাম এবং সমাজের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রতীক।
প্রশ্ন ৫৬: ‘সেতা জিলে লবং এ এটাঃআ’ – এর ভাবার্থ কী?
সঠিক উত্তর: (B) অসম্ভব বস্তুর আকাঙ্ক্ষা করা
ব্যাখ্যা: কুকুরের মাংসে নুন খোঁজা যেমন বৃথা, তেমনই অসম্ভব বা অলীক কোনো কিছুর জন্য আশা করা নিরর্থক।
মেনকাথা (Menkatha – বাগধারা)
প্রশ্ন ৫৭: ‘বহঃ হাসো’ (bohoḱ haso) মেনকাথাটির প্রচলিত অর্থ কী?
সঠিক উত্তর: (B) দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগের কারণ
ব্যাখ্যা: আক্ষরিক অর্থ ‘মাথাব্যথা’ হলেও, বাগধারা হিসেবে এটি কোনো ঝামেলার বিষয় বা দুশ্চিন্তার কারণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন ৫৮: ‘লাচ্ হাসো’ (Lac’ haso) বাগধারাটির অর্থ কী?
সঠিক উত্তর: (B) হিংসা বা ঈর্ষা
ব্যাখ্যা: অন্যের ভালো দেখে ঈর্ষান্বিত হওয়াকে ‘লাচ্ হাসো’ বা ‘পেট ব্যথা’ বাগধারা দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
প্রশ্ন ৫৯: ‘মেৎ দাঃ জরঃ’ (Met’ da’ joro’) – এর ভাবার্থ কী?
সঠিক উত্তর: (B) কান্না করা বা দুঃখ প্রকাশ করা
ব্যাখ্যা: ‘চোখের জল ঝরা’ বাগধারাটি দুঃখ, কষ্ট বা আবেগ প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন ৬০: ‘দাঃ রে দাল’ (Da’ re dal) বাগধারাটির অর্থ কী?
সঠিক উত্তর: (C) বৃথা চেষ্টা করা
ব্যাখ্যা: জলে আঘাত করলে যেমন কোনো স্থায়ী ফল হয় না, তেমনই নিষ্ফল কোনো কাজের জন্য চেষ্টা করাকে এই বাগধারা দিয়ে বোঝানো হয়।
কুদুম (Kudum – ধাঁধা)
প্রশ্ন ৬১: ‘মিৎটান বুঢি আডিガン বহঃ এ দহ আকাৎ’ – কুদুমটির উত্তর কী?
সঠিক উত্তর: (C) জানুম জ (কুল)
ব্যাখ্যা: ধাঁধাটির অর্থ ‘এক বুড়ির মাথায় অনেক উকুন’। কুল গাছের কাঁটাগুলিকে উকুনের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
প্রশ্ন ৬২: ‘দাঃ রে জনম দাঃ রে গুজুৎ’ – এই ধাঁধার উত্তর কী?
সঠিক উত্তর: (B) লবণ
ব্যাখ্যা: লবণ জল থেকে তৈরি হয় এবং জলেই গুলে যায়। তাই বলা হয় ‘জলে জন্ম, জলেই মৃত্যু’।
প্রশ্ন ৬৩: ‘হাপে হাপেঞ চালাঃআ, গটা দিসম ইঞ দাঁড়ানা’ – কুদুমটির উত্তর কী?
সঠিক উত্তর: (B) রাস্তা
ব্যাখ্যা: ধাঁধাটির অর্থ ‘আমি চুপচাপ চলি, কিন্তু সারা দেশ ঘুরি’। রাস্তা নিজে স্থির থেকেও মানুষকে সারা দেশ ঘোরার সুযোগ করে দেয়।
প্রশ্ন ৬৪: ‘হেন্ডে গাই লাঁডা লাঁডাতেয় আতারঃ কানা’ – এর উত্তর কী?
সঠিক উত্তর: (D) তাওয়া
ব্যাখ্যা: ধাঁধার অর্থ ‘কালো গরুটি হাসতে হাসতে চরে বেড়াচ্ছে’। এখানে কালো তাওয়াকে গরুর সাথে এবং তাতে রুটি সেঁকার সময় যে সাদা আটা লাগে, তাকে হাসির সাথে তুলনা করা হয়েছে।
প্রশ্ন ৬৫: ‘সেরমা খল এ আড়গোয়েনা মিৎটাং পুন্ড্ পারিওয়া’ – কুদুমটির উত্তর কী?
সঠিক উত্তর: (C) মুড়ি
ব্যাখ্যা: ধাঁধার অর্থ ‘আকাশ থেকে একটি সাদা পায়রা নামল’। কড়াই থেকে ভাজার পর মুড়ি যখন লাফিয়ে ওঠে, তাকে আকাশ থেকে নামা পায়রার সাথে তুলনা করা হয়।
মিশ্র প্রশ্ন (Mixed Questions)
প্রশ্ন ৬৬: সাঁওতালী ক্রিয়াপদের কোন রূপটি আদেশ বা অনুরোধ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়?
সঠিক উত্তর: (B) Imperative mood (Hukum)
ব্যাখ্যা: আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞা ভাব বা Imperative Mood ব্যবহৃত হয়। যেমন: ‘দুরুঃ মে’ (বস), ‘সেঁদরা কাঃ বিন’ (আপনারা দুজন শিকার করুন)।
প্রশ্ন ৬৭: ‘রড়’ (ror – বলা) ধাতুর পারস্পরিক ক্রিয়া (Reciprocal) রূপ কোনটি?
সঠিক উত্তর: (C) রপড় (ropor)
ব্যাখ্যা: ধাতুর মধ্যে ‘-প-‘ (p) যোগ করে পারস্পরিক ক্রিয়া গঠন করা হয়, যা একে অপরের সাথে কাজটি করা বোঝায়। ‘রপড়’ মানে ‘পরস্পর কথা বলা’।
প্রশ্ন ৬৮: ‘নুই’ (Nui) এবং ‘উনি’ (Uni) সর্বনামের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
সঠিক উত্তর: (C) দূরত্বগত পার্থক্য (নিকট ও দূর)
ব্যাখ্যা: ‘নুই’ (এ/ইনি) নিকটবর্তী তৃতীয় পুরুষকে বোঝায়, আর ‘উনি’ (ও/উনি/সে/তিনি) দূরবর্তী তৃতীয় পুরুষকে বোঝায়।
প্রশ্ন ৬৯: ‘দাঃ’ (Da’) শব্দটি কী ধরনের বিশেষ্য?
সঠিক উত্তর: (A) বস্তুবাচক ও গণনা-অযোগ্য (Uncountable)
ব্যাখ্যা: ‘দাঃ’ (জল) একটি পদার্থ বা বস্তু এবং এটি সাধারণত গণনা করা যায় না, তাই এটি বস্তুবাচক এবং গণনা-অযোগ্য বিশেষ্য।
প্রশ্ন ৭০: ‘দালঅচঃ কানায়’ (dalocok’ kanay) – এই ক্রিয়ার কর্তা নিজে কাজ করছে না, অন্যকে দিয়ে করাচ্ছে। এটি কী ধরনের ক্রিয়া?
সঠিক উত্তর: (B) প্রযোজক বা প্রেরণার্থক (Causative)
ব্যাখ্যা: ‘-অচ’ প্রত্যয়টি প্রযোজক ক্রিয়া গঠন করে। ‘দালঅচঃ কানায়’ মানে ‘(সে) মার খাওয়াচ্ছে’, অর্থাৎ অন্যকে দিয়ে কাউকে মারার কাজ করাচ্ছে।
প্রশ্ন ৭১: ‘হড় হপন’ (Hor Hopon) বলতে কাদের বোঝানো হয়?
সঠিক উত্তর: (C) সাঁওতালদের
ব্যাখ্যা: ‘হড় হপন’ একটি বিশিষ্টার্থক শব্দগুচ্ছ, যা সাঁওতাল জাতি বা সাঁওতাল সন্তানকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন ৭২: ‘পি পিড়হি’ (pe pirhi) কোন ধরনের বিশেষণ?
সঠিক উত্তর: (D) সংখ্যাবাচক
ব্যাখ্যা: ‘পি’ (pe) মানে ‘তিন’। এটি একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা বোঝাচ্ছে, তাই এটি সংখ্যাবাচক বিশেষণ।
প্রশ্ন ৭৩: P.O. Bodding-এর ব্যাকরণ অনুসারে, সাঁওতালী ভাষায় ক্রিয়ার কয়টি Mood বা ভাব লক্ষ্য করা যায়?
সঠিক উত্তর: (D) সাতটি
ব্যাখ্যা: রেভারেন্ড পি. ও. বডিং তাঁর ‘A Santali Grammar for Beginners’ বইতে ক্রিয়ার সাতটি ভাবের (Moods) উল্লেখ করেছেন: Indicative, Imperative, Intentional, Subjunctive, Precative, Optative, এবং Interrogative।
প্রশ্ন ৭৪: ‘জহার’ (Johar) শব্দটি সাধারণত কী প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়?
সঠিক উত্তর: (C) অভিবাদন বা নমস্কার
ব্যাখ্যা: ‘জহার’ সাঁওতালী সংস্কৃতিতে একটি সম্মানসূচক অভিবাদন, যা নমস্কার বা সেলামের সমতুল্য।
প্রশ্ন ৭৫: ‘অক্তা’ (okta) শব্দের অর্থ কী এবং এটি কোন পদ?
সঠিক উত্তর: (B) সময়, বিশেষ্য
ব্যাখ্যা: ‘অক্তা’ বা ‘অক্ত’ শব্দের অর্থ সময় এবং এটি একটি বিশেষ্য পদ।
প্রশ্ন ৭৬: ‘সেঁদরা’ (sendra) কোন পদ?
সঠিক উত্তর: (C) উভয়ই হতে পারে
ব্যাখ্যা: ‘সেঁদরা’ শব্দটি বিশেষ্য হিসেবে ‘শিকার’ (উৎসব) এবং ক্রিয়া হিসেবে ‘শিকার করা’ উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। যেমন: সেঁদরাঞ চালাঃআ (আমি শিকারে যাব) – বিশেষ্য। সেঁদরা কেদায় (সে শিকার করল) – ক্রিয়া।
প্রশ্ন ৭৭: ‘লাতার’ (latar) শব্দটি কী ধরনের পদ?
সঠিক উত্তর: (C) অনুসর্গ বা অব্যয় (Postposition)
ব্যাখ্যা: ‘লাতার’ শব্দের অর্থ ‘নিচে’। এটি একটি স্থানবাচক অনুসর্গ যা অন্য পদের পরে বসে সম্বন্ধ স্থাপন করে। যেমন: টেবিল লাতাররে (টেবিলের নিচে)।
প্রশ্ন ৭৮: ‘আডি এডে’ (adi ede) – এই শব্দগুচ্ছের অর্থ কী?
সঠিক উত্তর: (B) খুব খারাপ
ব্যাখ্যা: ‘আডি’ মানে খুব এবং ‘এডে’ মানে খারাপ বা মন্দ। সুতরাং, ‘আডি এডে’ মানে খুব খারাপ।
প্রশ্ন ৭৯: ক্রিয়াপদের নেতিবাচক রূপ তৈরি করতে সাধারণত কোন কণা (particle) ব্যবহৃত হয়?
সঠিক উত্তর: (B) বাং (bang)
ব্যাখ্যা: সাধারণ বিবৃতিমূলক বাক্যে ক্রিয়াকে নেতিবাচক করতে ক্রিয়ার আগে ‘বাং’ বসে। যেমন: বাং-এ সেনঃআ (সে যাবে না)। ‘আলো’ অনুজ্ঞায় ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন ৮০: ‘বাখেন’ (bakhen) বলতে কী বোঝায়?
সঠিক উত্তর: (C) মন্ত্র বা স্তুতিমূলক উক্তি
ব্যাখ্যা: বিভিন্ন পূজা-পার্বণ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে দেব-দেবী বা বোঙ্গাদের উদ্দেশ্যে যে স্তুতি বা মন্ত্র উচ্চারণ করা হয়, তাকে ‘বাখেন’ বলে।
প্রশ্ন ৮১: ‘দং’ (dong) কী?
সঠিক উত্তর: (B) এক ধরনের বিয়ের গান
ব্যাখ্যা: ‘দং সেরেঞ’ হল সাঁওতালদের বিবাহ অনুষ্ঠানে গাওয়া এক বিশেষ ধরনের গান।
প্রশ্ন ৮২: ‘দাঃ মাডি’ (da’ mandi) বাগধারাটির অর্থ কী?
সঠিক উত্তর: (B) জীবনধারণ বা জীবিকা
ব্যাখ্যা: ‘দাঃ মাডি’ আক্ষরিক অর্থে জল ও ভাত হলেও, এটি জীবনধারণের ন্যূনতম প্রয়োজন বা জীবিকার সংস্থানকে বোঝায়।
প্রশ্ন ৮৩: ‘গাডা পারম’ (gada parom) – এর ভাবার্থ কী?
সঠিক উত্তর: (B) বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়া
ব্যাখ্যা: নদী পার হওয়ার মতো কঠিন কাজ সম্পন্ন করাকে বিপদ বা সংকট থেকে মুক্তি পাওয়ার সাথে তুলনা করা হয়।
প্রশ্ন ৮৪: ‘হড় কাথা’ (hor katha) বলতে কী বোঝানো হয়?
সঠিক উত্তর: (B) সাঁওতালী ভাষা
ব্যাখ্যা: সাঁওতালরা তাদের নিজেদের ভাষাকে ‘হড় কাথা’ (মানুষের কথা) বা ‘হড় রড়’ (মানুষের বুলি) বলে থাকেন।
প্রশ্ন ৮৫: ‘কাডায়া লাগিৎ লাগিৎতে হড় এ গুজুৎআ’ – ভেনতা কাথাটির অর্থ কী?
সঠিক উত্তর: (B) সামান্য কারণে বড় ক্ষতি হওয়া
ব্যাখ্যা: মহিষের মতো সামান্য একটি প্রাণী নিয়ে বিবাদের জেরে মানুষ খুন হয়ে যেতে পারে। এর ভাবার্থ হল, তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে অনেক সময় মারাত্মক পরিণাম ঘটে।
প্রশ্ন ৮৬: ‘ইঞ দ বাং, আম গে’ – এই বাক্যে কোন পদের উপর জোর দেওয়া হয়েছে?
সঠিক উত্তর: (C) আম (তুমি)
ব্যাখ্যা: ‘গে’ (ge) একটি નિपात (emphatic particle) যা পূর্ববর্তী পদের উপর জোর দেয়। এখানে ‘আম গে’ মানে ‘তুমিই’।
প্রশ্ন ৮৭: ‘সেনঃ কানা লিঞ’ (senok’ kana-liñ) – এই ক্রিয়াপদে কর্তা কোন পুরুষ ও বচনের?
সঠিক উত্তর: (A) প্রথম পুরুষ, দ্বিবচন (Exclusive)
ব্যাখ্যা: ‘-লিঞ’ (liñ) প্রত্যয়টি প্রথম পুরুষের দ্বিবচন (শ্রোতা বাদে) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। বাক্যটির অর্থ: ‘আমরা দুজন (তুমি ছাড়া) যাচ্ছি’।
প্রশ্ন ৮৮: ‘আডি লেকা’ (adi leka) – এর অর্থ কী?
সঠিক উত্তর: (B) অনেক রকম বা বিভিন্ন প্রকার
ব্যাখ্যা: ‘আডি’ মানে অনেক এবং ‘লেকা’ মানে রকম বা প্রকার। তাই ‘আডি লেকা’ মানে নানাপ্রকার বা বিভিন্ন ধরনের।
প্রশ্ন ৮৯: ‘নিতঃ’ (nitok’) শব্দটি কোন পদ?
সঠিক উত্তর: (C) ক্রিয়া বিশেষণ (Adverb of time)
ব্যাখ্যা: ‘নিতঃ’ শব্দের অর্থ ‘এখন’। এটি ক্রিয়ার সময় নির্দেশ করে, তাই এটি কালবাচক ক্রিয়া বিশেষণ।
প্রশ্ন ৯০: ‘বাহা’ (baha) শব্দটির স্ত্রীলিঙ্গ কী?
সঠিক উত্তর: (C) এর কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গান্তর হয় না
ব্যাখ্যা: ‘বাহা’ (ফুল) একটি অপ্রাণীবাচক বা জিনিস্ জাতি (Neuter Gender) বিশেষ্য। এর কোনো লিঙ্গান্তর হয় না।
প্রশ্ন ৯১: ‘মিৎ হড়’ (mit’ hor) – এখানে ‘মিৎ’ কী?
সঠিক উত্তর: (A) সংখ্যাবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা: ‘মিৎ’ বা ‘মিৎটাং’ মানে ‘এক’ বা ‘একটি’। এটি ‘হড়’ (মানুষ) বিশেষ্যের সংখ্যা নির্দেশ করছে।
প্রশ্ন ৯২: ‘লাগা সেরেঞ’ (laga seren) কোন ধরনের গান?
সঠিক উত্তর: (C) দ্রুত তালের নাচের গান
ব্যাখ্যা: ‘লাগা’ শব্দের একটি অর্থ হল দ্রুত। ‘লাগা সেরেঞ’ হল দ্রুত তালের গান, যা সাধারণত নাচের সময় গাওয়া হয়।
প্রশ্ন ৯৩: ‘দাকা জম্ হুইলেনা’ (daka jom huylena) – এই বাক্যের বাচ্য কী?
সঠিক উত্তর: (B) কর্মবাচ্য (Passive Voice)
ব্যাখ্যা: ‘হুইয়েনা’ বা ‘হুইলেনা’ (হয়েছিল) সহযোগে গঠিত বাক্যটি কর্মবাচ্যকে নির্দেশ করে, যেখানে কর্ম ‘দাকা’ (ভাত) প্রাধান্য পাচ্ছে। এর অর্থ ‘ভাত খাওয়া হয়েছিল’।
প্রশ্ন ৯৪: ‘রণড়’ (Ronor) শব্দটি কে জনপ্রিয় করেন?
সঠিক উত্তর: (C) পণ্ডিত রঘুনাথ মুরমু
ব্যাখ্যা: ‘রণড়’ শব্দের অর্থ ‘ব্যাকরণ’। পণ্ডিত রঘুনাথ মুরমু তাঁর অলচিকি লিপির সাথে সাঁওতালী ব্যাকরণের আলোচনায় এই শব্দটি ব্যবহার ও জনপ্রিয় করেন।
প্রশ্ন ৯৫: ‘উসুল’ (usul) শব্দটির বিপরীতার্থক শব্দ কী?
সঠিক উত্তর: (C) গেডেচ্ (gedec’)
ব্যাখ্যা: ‘উসুল’ শব্দের অর্থ ‘লম্বা’ বা ‘উঁচু’। এর বিপরীত শব্দ হল ‘গেডেচ্’, যার অর্থ ‘বেঁটে’ বা ‘খাটো’।
প্রশ্ন ৯৬: ‘সেঙ্গেল’ (sengel) – এই ধাঁধার একটি প্রচলিত উত্তর কী?
সঠিক উত্তর: (A) যার পেট আছে কিন্তু নাড়িভুঁড়ি নেই (লাচ্ মেনাঃআ মেনখান গিঁউ বাং)
ব্যাখ্যা: আগুন (সেঙ্গেল) সবকিছু খায় (পেট ভরে) কিন্তু তার কোনো নাড়িভুঁড়ি নেই। এটি একটি প্রচলিত কুদুম বা ধাঁধা।
প্রশ্ন ৯৭: ‘বাহা বঙ্গা’ (Baha Bonga) কোন পদ?
সঠিক উত্তর: (B) সমাসবদ্ধ পদ (বিশেষ্য)
ব্যাখ্যা: ‘বাহা’ (ফুল) এবং ‘বঙ্গা’ (দেবতা/উৎসব) মিলে ‘বাহা বঙ্গা’ বা ‘বাহা পরব’ একটি সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করেছে, যা সাঁওতালদের একটি প্রধান উৎসবকে বোঝায়।
প্রশ্ন ৯৮: ‘উনিদ অকয় কানা?’ (Unid okoy kana?) – এই বাক্যে প্রশ্নবাচক সর্বনাম কোনটি?
সঠিক উত্তর: (B) অকয়
ব্যাখ্যা: ‘অকয়’ শব্দের অর্থ ‘কে’, যা প্রশ্ন করতে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই এটি প্রশ্নবাচক সর্বনাম।
প্রশ্ন ৯৯: ‘মচা থুতিঃ’ (moca thutik’) বাগধারাটির অর্থ কী?
সঠিক উত্তর: (B) কথা বলতে না পারা বা চুপ হয়ে যাওয়া
ব্যাখ্যা: কোনো কারণে (যেমন ভয়, বিস্ময় বা যুক্তির অভাবে) কথা বন্ধ হয়ে যাওয়াকে এই বাগধারা দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
প্রশ্ন ১০০: ‘হড়ম’ (horom) শব্দটির বচন পরিবর্তন করলে কী হবে? (বহুবচন)
সঠিক উত্তর: (D) সাধারণত বচন চিহ্ন যুক্ত হয় না
ব্যাখ্যা: ‘হড়ম’ (শরীর) একটি অখণ্ড বস্তু এবং অপ্রাণীবাচক হিসেবে গণ্য হয়। তাই এর সাথে সাধারণত বহুবচন চিহ্ন ‘-কো’ যুক্ত করা হয় না, যদি না ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির শরীরের কথা বলা হয়।