History Chapter 10

ইতিহাস MCQ (উপনিবেশবাদ ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ)

ইতিহাস MCQ সমগ্র

১. উপনিবেশবাদ বলতে কী বোঝায়?

  • (A) দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য
  • (B) এক দেশের অন্য দেশের ওপর শাসন ক্ষমতা
  • (C) দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব
  • (D) দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা

উত্তর: (B) এক দেশের অন্য দেশের ওপর শাসন ক্ষমতা

বিবরণ: উপনিবেশবাদ হল একটি দেশের অন্য দেশের ভূখণ্ড দখল করে শাসন করা ও সেখানে তাদের স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করা।

২. আফ্রিকা উপনিবেশ করার জন্য প্রধানত কোন শক্তিগুলো লড়াই করেছিল?

  • (A) ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি
  • (B) রাশিয়া, জাপান, আমেরিকা
  • (C) চীন, ভারত, স্পেন
  • (D) ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিলি

উত্তর: (A) ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি

বিবরণ: আফ্রিকা মহাদেশে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম ও অন্যান্য ইউরোপীয় শক্তির মধ্যে উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা হয়েছিল।

৩. জার্মানির বিশ্ব-রাজনীতিতে ‘বিশ্ব-রাজ্য’ হওয়ার প্রধান লক্ষ্য কী ছিল?

  • (A) শান্তি রক্ষা
  • (B) সমগ্র বিশ্বের শাসন
  • (C) বিশ্বে সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার
  • (D) ধর্মীয় বিস্তার

উত্তর: (C) বিশ্বে সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার

বিবরণ: জার্মানি চেয়েছিল বিশ্বে সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করতে, যা ‘ওয়েলটপলিটিক’ নামে পরিচিত।

৪. ত্রিশক্তি মৈত্রী (Triple Entente) কোন দেশগুলোর মধ্যে গঠিত হয়েছিল?

  • (A) ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, রাশিয়া
  • (B) জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি, ইতালি
  • (C) আমেরিকা, ইংল্যান্ড, জাপান
  • (D) ফ্রান্স, স্পেন, পোল্যান্ড

উত্তর: (A) ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, রাশিয়া

বিবরণ: ১৯০৭ সালে ত্রিশক্তি মৈত্রী গঠিত হয় ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও রাশিয়ার মধ্যে, যা ছিল জার্মানির ত্রিশক্তি আঁতাতের বিরোধী।

৫. ত্রিশক্তি আঁতাত (Triple Alliance) এর দেশগুলো ছিল:

  • (A) জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি, ইতালি
  • (B) ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, রাশিয়া
  • (C) জার্মানি, ফ্রান্স, রাশিয়া
  • (D) আমেরিকা, জার্মানি, জাপান

উত্তর: (A) জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি, ইতালি

বিবরণ: ১৮৮২ সালে ত্রিশক্তি আঁতাত গঠিত হয় জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও ইতালির মধ্যে। এই জোটটি কেন্দ্রীয় শক্তি (Central Powers) নামেও পরিচিত ছিল।

৬. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার মূল কারণ কী ছিল?

  • (A) উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ
  • (B) ধর্মীয় বিবাদ
  • (C) অর্থনৈতিক সঙ্কট
  • (D) জলবায়ু পরিবর্তন

উত্তর: (A) উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ

বিবরণ: উপনিবেশবাদ, সাম্রাজ্যবাদের দ্বন্দ্ব, উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং সামরিক প্রতিযোগিতা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মূল কারণ ছিল।

৭. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ বা আশু কারণ কোনটি?

  • (A) সারাজেভোর হত্যাকাণ্ড
  • (B) ব্রিটেনের জাহাজ ধ্বংস
  • (C) জার্মানির ফ্রান্স আক্রমণ
  • (D) রুশ বিপ্লব

উত্তর: (A) সারাজেভোর হত্যাকাণ্ড

বিবরণ: ১৯১৪ সালের ২৮ জুন সারাজেভোতে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির যুবরাজ আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্ডিনান্ডের হত্যাকাণ্ড প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সরাসরি কারণ ছিল।

৮. কোন দেশটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করেছিল?

  • (A) যুক্তরাজ্য
  • (B) আমেরিকা
  • (C) জার্মানি
  • (D) রাশিয়া

উত্তর: (B) আমেরিকা

বিবরণ: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরুতে আমেরিকা নিরপেক্ষ ছিল, পরে ১৯১৭ সালে জার্মানির সাবমেরিন আক্রমণ ও জিমারম্যান টেলিগ্রামের কারণে মৈত্রী শক্তির পক্ষে যোগ দেয়।

৯. ১৯১৯ সালের প্যারিস শান্তি সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?

  • (A) প্যারিস
  • (B) ভার্সাই
  • (C) লন্ডন
  • (D) জেনেভা

উত্তর: (A) প্যারিস

বিবরণ: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৯ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে শান্তি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিজয়ী শক্তিগুলো পরাজিত দেশগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ করে।

১০. ১৯১৯ সালের শান্তি সম্মেলনের মাধ্যমে কোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?

  • (A) ভার্সাই চুক্তি
  • (B) ট্রিটি অফ লন্ডন
  • (C) ব্রেস্ট-লিটভস্ক চুক্তি
  • (D) রাপাল্লো চুক্তি

উত্তর: (A) ভার্সাই চুক্তি

বিবরণ: প্যারিস শান্তি সম্মেলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ছিল ভার্সাই চুক্তি, যা জার্মানির ওপর চাপানো হয়েছিল।

১১. ভার্সাই চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল:

  • (A) জার্মানিকে বিশ্বযুদ্ধে দায়ী ঘোষণা করা
  • (B) জার্মানিকে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রাখতে দেওয়া
  • (C) জার্মানির কোনো দায় ছিল না
  • (D) জার্মানিকে নতুন দেশ দেওয়া

উত্তর: (A) জার্মানিকে বিশ্বযুদ্ধে দায়ী ঘোষণা করা

বিবরণ: ভার্সাই চুক্তির ২৩১ নং ধারা অনুযায়ী জার্মানিকে পুরোপুরি যুদ্ধের জন্য দায়ী করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণ চাপানো হয়।

১২. আফ্রিকা উপনিবেশ করার সময় কোন দেশ সবচেয়ে বড় ভূমি দখল করেছিল?

  • (A) ফ্রান্স
  • (B) জার্মানি
  • (C) ব্রিটেন
  • (D) বেলজিয়াম

উত্তর: (C) ব্রিটেন

বিবরণ: আফ্রিকার বৃহত্তম উপনিবেশকর্তা ছিল ব্রিটেন। ‘কেপ টু কায়রো’ নীতির মাধ্যমে তারা উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত বিশাল এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনেছিল। ফ্রান্স দ্বিতীয় বৃহত্তম ছিল।

১৩. জার্মানি কোন বছর ত্রিশক্তি আঁতাত গঠনে অংশ নেয়?

  • (A) ১৮৮২
  • (B) ১৯০৭
  • (C) ১৯১৪
  • (D) ১৯২০

উত্তর: (A) ১৮৮২

বিবরণ: জার্মানি ১৮৮২ সালে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও ইতালির সাথে ত্রিশক্তি আঁতাত (Triple Alliance) গঠন করে।

১৪. ত্রিশক্তি মৈত্রী গঠনের উদ্দেশ্য ছিল:

  • (A) জার্মানির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা
  • (B) নতুন উপনিবেশ দখল
  • (C) যুদ্ধ শুরু করা
  • (D) অর্থনৈতিক সংহতি

উত্তর: (A) জার্মানির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা

বিবরণ: ত্রিশক্তি মৈত্রির মূল লক্ষ্য ছিল জার্মানির ক্রমবর্ধমান সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাবকে প্রতিহত করা এবং ইউরোপে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখা।

১৫. ১৯১৪ সালে কোন দুই দেশের মধ্যে প্রথম যুদ্ধ শুরু হয়?

  • (A) অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও সার্বিয়া
  • (B) জার্মানি ও ফ্রান্স
  • (C) রাশিয়া ও জার্মানি
  • (D) ইংল্যান্ড ও জার্মানি

উত্তর: (A) অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও সার্বিয়া

বিবরণ: সারাজেভো হত্যাকাণ্ডের এক মাস পর, ১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করে।

১৬. ১৯১৯ সালের শান্তি সম্মেলনে কোন দেশের প্রতিনিধিরা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন?

  • (A) উইলসন (আমেরিকা), ক্লেমেন্সো (ফ্রান্স), লয়েড জর্জ (ইংল্যান্ড)
  • (B) হিটলার, মুসোলিনি, স্ট্যালিন
  • (C) নেপোলিয়ন, ম্যাককার্থি, লিংকন
  • (D) চার্চিল, রুজভেল্ট, স্ট্যালিন

উত্তর: (A) উইলসন (আমেরিকা), ক্লেমেন্সো (ফ্রান্স), লয়েড জর্জ (ইংল্যান্ড)

বিবরণ: শান্তি সম্মেলনে প্রধান তিন নেতা বা ‘The Big Three’ ছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন, ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী জর্জেস ক্লেমেন্সো ও ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড লয়েড জর্জ।

১৭. উপনিবেশবাদী দেশগুলো আফ্রিকায় দখলের জন্য কোন সম্মেলন করেছিল?

  • (A) বেলজিয়াম সম্মেলন
  • (B) বার্লিন সম্মেলন
  • (C) প্যারিস সম্মেলন
  • (D) লন্ডন সম্মেলন

উত্তর: (B) বার্লিন সম্মেলন

বিবরণ: ১৮৮৪-৮৫ সালে বার্লিন সম্মেলনে ইউরোপীয় শক্তিগুলো আফ্রিকাকে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করার নিয়ম নির্ধারণ করে, যা ‘আফ্রিকার দৌড়’ (Scramble for Africa) কে ত্বরান্বিত করে।

১৮. জার্মানির ‘ওয়েলটপলিটিক’ (Weltpolitik) বা বিশ্ব-রাজনীতির মূল নীতি কী ছিল?

  • (A) শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান
  • (B) বিশ্বজোড়া সাম্রাজ্যবাদ
  • (C) ধর্মীয় বিস্তার
  • (D) আন্তর্জাতিক বাণিজ্য

উত্তর: (B) বিশ্বজোড়া সাম্রাজ্যবাদ

বিবরণ: কাইজার দ্বিতীয় উইলহেল্মের নেতৃত্বে জার্মানি বিশ্বে সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের জন্য বিশ্বজোড়া সাম্রাজ্যবাদী নীতি অনুসরণ করেছিল।

১৯. ত্রিশক্তি আঁতাতের দেশগুলোর মধ্যে কোন দেশ প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পক্ষ পরিবর্তন করে?

  • (A) ইতালি
  • (B) জার্মানি
  • (C) অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি
  • (D) তুরস্ক

উত্তর: (A) ইতালি

বিবরণ: ইতালি প্রথমে ত্রিশক্তি আঁতাতে থাকলেও, ১৯১৫ সালে লন্ডনের গোপন চুক্তির মাধ্যমে ভূখণ্ড লাভের আশায় মৈত্রী শক্তির পক্ষে যোগ দেয়।

২০. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে কোন দেশ মৈত্রী শক্তির পক্ষে যোগ দেয়?

  • (A) আমেরিকা
  • (B) জাপান
  • (C) ভারত
  • (D) স্পেন

উত্তর: (A) আমেরিকা

বিবরণ: ১৯১৭ সালে আমেরিকা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মৈত্রী শক্তির পক্ষে যোগ দেয়, যা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

২১. আফ্রিকা উপনিবেশের জন্য কোন দেশটির ভূমি সবচেয়ে কম ছিল?

  • (A) ফ্রান্স
  • (B) জার্মানি
  • (C) ইংল্যান্ড
  • (D) বেলজিয়াম

উত্তর: (B) জার্মানি

বিবরণ: জার্মানি দেরিতে উপনিবেশ দখলে যোগ দেওয়ায় ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের তুলনায় আফ্রিকায় তাদের উপনিবেশের পরিমাণ কম ছিল।

২২. ভার্সাই চুক্তি অনুযায়ী জার্মানির কোন অঞ্চলটিকে অসামরিকীকরণ করা হয়?

  • (A) আলসেস-লোরেন
  • (B) রাইনল্যান্ড
  • (C) সারল্যান্ড
  • (D) বাভারিয়া

উত্তর: (B) রাইনল্যান্ড

বিবরণ: জার্মানিকে রাইনল্যান্ড অঞ্চল অসামরিকীকরণ করতে হয়েছিল, অর্থাৎ সেখানে কোনো সৈন্য বা সামরিক স্থাপনা রাখা নিষিদ্ধ ছিল।

২৩. আফ্রিকায় ‘কঙ্গো’ কোন দেশের ব্যক্তিগত উপনিবেশ ছিল?

  • (A) বেলজিয়াম
  • (B) ইংল্যান্ড
  • (C) ফ্রান্স
  • (D) জার্মানি

উত্তর: (A) বেলজিয়াম

বিবরণ: কঙ্গো ফ্রি স্টেট ছিল বেলজিয়ামের রাজা দ্বিতীয় লিওপোল্ডের ব্যক্তিগত সম্পত্তি, যেখানে রাবার সংগ্রহের জন্য চরম অত্যাচার চালানো হয়।

২৪. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রধান শক্তি বিভাজন কী ছিল?

  • (A) মৈত্রী শক্তি ও কেন্দ্রীয় শক্তি
  • (B) উত্তর ও দক্ষিণ শক্তি
  • (C) পূর্ব ও পশ্চিম শক্তি
  • (D) ধনী ও দরিদ্র শক্তি

উত্তর: (A) মৈত্রী শক্তি ও কেন্দ্রীয় শক্তি

বিবরণ: মৈত্রী শক্তি (Allied Powers) ও কেন্দ্রীয় শক্তি (Central Powers)-এর মধ্যে প্রধান সংঘাত ছিল।

২৫. ১৯১৯-এর শান্তি সম্মেলনের ফলে কোন নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়?

  • (A) জাতিসংঘ (United Nations)
  • (B) লিগ অব নেশনস (League of Nations)
  • (C) ইউরোপীয় ইউনিয়ন
  • (D) ন্যাটো

উত্তর: (B) লিগ অব নেশনস (League of Nations)

বিবরণ: ভবিষ্যৎ যুদ্ধ এড়াতে এবং বিশ্বশান্তি রক্ষার লক্ষ্যে ১৯২০ সালে লিগ অব নেশনস প্রতিষ্ঠা করা হয়।

২৬. আফ্রিকা উপনিবেশের সময় ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রধান সংঘর্ষের কারণ ছিল:

  • (A) সামরিক আধিপত্য
  • (B) ধর্মীয় দ্বন্দ্ব
  • (C) প্রাকৃতিক সম্পদ দখল
  • (D) ভাষাগত পার্থক্য

উত্তর: (C) প্রাকৃতিক সম্পদ দখল

বিবরণ: আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন সোনা, হীরা, রাবার, তামা ইত্যাদি দখল করে নিজেদের শিল্প ও অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করাই ছিল ইউরোপীয় দেশগুলোর মূল উদ্দেশ্য।

২৭. জার্মানির আফ্রিকায় প্রধান উপনিবেশ কোনটি ছিল?

  • (A) নাইজেরিয়া
  • (B) জার্মান পূর্ব আফ্রিকা (তাঙ্গানাইকা)
  • (C) ইথিওপিয়া
  • (D) মিশর

উত্তর: (B) জার্মান পূর্ব আফ্রিকা (তাঙ্গানাইকা)

বিবরণ: জার্মানি তাঙ্গানাইকা (বর্তমান তানজানিয়া), রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকা (নামিবিয়া) ও ক্যামেরুন দখল করেছিল।

২৮. ত্রিশক্তি মৈত্রী ও আঁতাতের মধ্যে সংঘাতের মূল কারণ ছিল:

  • (A) উপনিবেশ ও সামরিক প্রতিযোগিতা
  • (B) ধর্মীয় মতবিরোধ
  • (C) অর্থনৈতিক মন্দা
  • (D) সামাজিক বিরোধ

উত্তর: (A) উপনিবেশ ও সামরিক প্রতিযোগিতা

বিবরণ: দুটি প্রতিপক্ষ সামরিক জোটের মধ্যে উপনিবেশ নিয়ে লড়াই এবং নৌ ও স্থলবাহিনী বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে।

২৯. ভার্সাই চুক্তির ফলে জার্মানির ওপর আরোপিত ‘যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ’ কী ছিল?

  • (A) যুদ্ধের দায়ভার হিসেবে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিতে বাধ্য করা
  • (B) নতুন উপনিবেশ দেওয়া
  • (C) সামরিক বাহিনী বৃদ্ধি
  • (D) লিগ অব নেশনসে যোগদান

উত্তর: (A) যুদ্ধের দায়ভার হিসেবে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিতে বাধ্য করা

বিবরণ: ভার্সাই চুক্তিতে জার্মানিকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে বিজয়ী দেশগুলোকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে বাধ্য করা হয়।

৩০. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর আফ্রিকার জার্মান উপনিবেশের কী হয়েছিল?

  • (A) ইউরোপীয় দেশগুলোকে ম্যান্ডেট সিস্টেমে দেওয়া হয়
  • (B) আফ্রিকান দেশগুলোকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়
  • (C) আমেরিকাকে দেওয়া হয়
  • (D) লিগ অব নেশনস সরাসরি শাসন করে

উত্তর: (A) ইউরোপীয় দেশগুলোকে ম্যান্ডেট সিস্টেমে দেওয়া হয়

বিবরণ: যুদ্ধশেষে আফ্রিকার জার্মান উপনিবেশগুলো লিগ অব নেশনসের ম্যান্ডেট সিস্টেমের মাধ্যমে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো বিজয়ী ইউরোপীয় শক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

৩১. উপনিবেশবাদী শক্তিগুলো আফ্রিকায় দখলের সময় কোন প্রক্রিয়ায় জমি ভাগাভাগি করেছিল?

  • (A) যুদ্ধ করে
  • (B) শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে
  • (C) মানচিত্রের উপর সরলরেখা টেনে
  • (D) জাতিসংঘের মাধ্যমে

উত্তর: (C) মানচিত্রের উপর সরলরেখা টেনে

বিবরণ: বার্লিন সম্মেলনে ইউরোপীয় শক্তিগুলো আফ্রিকার মানচিত্রের উপর কৃত্রিমভাবে সরলরেখা টেনে সীমানা নির্ধারণ করেছিল, যা সেখানকার জাতিগত ও সাংস্কৃতিক সীমানাকে উপেক্ষা করে।

৩২. জার্মানির বিশ্ব-রাজনীতির প্রধান প্রতিবন্ধকতা ছিল:

  • (A) ব্রিটেনের নৌ-শক্তি
  • (B) আমেরিকার নিরপেক্ষতা
  • (C) আফ্রিকার প্রতিরোধ
  • (D) অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ

উত্তর: (A) ব্রিটেনের নৌ-শক্তি

বিবরণ: জার্মানির বিশ্বশক্তি হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল ব্রিটেনের বিশাল ও শক্তিশালী নৌবাহিনী, যা বিশ্বজুড়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে রক্ষা করত।

৩৩. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম ফলাফল ছিল:

  • (A) উপনিবেশবাদ বৃদ্ধি
  • (B) ইউরোপের চারটি সাম্রাজ্যের পতন
  • (C) বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা
  • (D) আমেরিকার দুর্বলতা

উত্তর: (B) ইউরোপের চারটি সাম্রাজ্যের পতন

বিবরণ: যুদ্ধের পর জার্মান, অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান, অটোমান এবং রুশ সাম্রাজ্যের পতন ঘটে এবং ইউরোপের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে যায়।

৩৪. ১৯১৯ সালের প্যারিস শান্তি সম্মেলনের প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?

  • (A) স্থায়ী বিশ্বশান্তি স্থাপন
  • (B) জার্মানিকে শাস্তি প্রদান
  • (C) নতুন জোট গঠন
  • (D) উপরের সবগুলোই

উত্তর: (D) উপরের সবগুলোই

বিবরণ: সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, তবে এর পাশাপাশি ফ্রান্স ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলো জার্মানিকে কঠোর শাস্তি দিতে চেয়েছিল।

৩৫. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির প্রধান শত্রু দেশ কোনটি ছিল?

  • (A) রাশিয়া
  • (B) ইংল্যান্ড
  • (C) ফ্রান্স
  • (D) সবগুলোই

উত্তর: (D) সবগুলোই

বিবরণ: জার্মানি দুই ফ্রন্টে যুদ্ধ করে। পশ্চিমে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড এবং পূর্বে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালায়।

৩৬. আফ্রিকার কোন দেশ জার্মানির উপনিবেশ ছিল না?

  • (A) ক্যামেরুন
  • (B) তাঙ্গানাইকা
  • (C) নাইজেরিয়া
  • (D) টোগোল্যান্ড

উত্তর: (C) নাইজেরিয়া

বিবরণ: নাইজেরিয়া ব্রিটেনের অধীনে ছিল, জার্মানির উপনিবেশ ছিল না।

৩৭. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় কোন মতাদর্শ স্লাভিক জাতিদের একত্রিত করেছিল?

  • (A) সর্ব-জার্মানবাদ (Pan-Germanism)
  • (B) সর্ব-স্লাভবাদ (Pan-Slavism)
  • (C) সমাজতন্ত্র
  • (D) সাম্রাজ্যবাদ

উত্তর: (B) সর্ব-স্লাভবাদ (Pan-Slavism)

বিবরণ: রাশিয়া ও সার্বিয়া এই মতাদর্শের ভিত্তিতে বলকান অঞ্চলের স্লাভ জাতিদের অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেছিল।

৩৮. আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্ডিনান্ডকে কে হত্যা করেছিল?

  • (A) গাভ্রিলো প্রিন্সিপ
  • (B) অটো ভন বিসমার্ক
  • (C) কাইজার উইলহেল্ম
  • (D) লেনিন

উত্তর: (A) গাভ্রিলো প্রিন্সিপ

বিবরণ: বসনীয়-সার্ব ছাত্র গাভ্রিলো প্রিন্সিপ, ‘ব্ল্যাক হ্যান্ড’ নামক একটি সার্ব জাতীয়তাবাদী গুপ্ত সংগঠনের সদস্য, এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটান।

৩৯. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির নৌবাহিনীর প্রধান কৌশল কী ছিল?

  • (A) মুক্ত সমুদ্র অভিযান
  • (B) необাঁধ সাবমেরিন যুদ্ধ (Unrestricted Submarine Warfare)
  • (C) বন্দর দখল
  • (D) সামুদ্রিক যুদ্ধ এড়ানো

উত্তর: (B) необাঁধ সাবমেরিন যুদ্ধ (Unrestricted Submarine Warfare)

বিবরণ: জার্মানি ইউ-বোট (সাবমেরিন) ব্যবহার করে শত্রু দেশের সামরিক ও বেসামরিক জাহাজ ডুবিয়ে দিত, যা আমেরিকার যুদ্ধে যোগদানের অন্যতম কারণ ছিল।

৪০. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে কোন নতুন প্রযুক্তি প্রথমবারের মতো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়?

  • (A) কামান
  • (B) রাইফেল
  • (C) ট্যাংক ও বিষাক্ত গ্যাস
  • (D) যুদ্ধজাহাজ

উত্তর: (C) ট্যাংক ও বিষাক্ত গ্যাস

বিবরণ: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে প্রথমবারের মতো ট্যাংক, বিষাক্ত গ্যাস, এবং যুদ্ধবিমান ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, যা যুদ্ধের ভয়াবহতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

৪১. দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘বুয়র যুদ্ধ’ কাদের মধ্যে হয়েছিল?

  • (A) ব্রিটিশ ও বুয়ার (ডাচ কৃষক)
  • (B) জার্মান ও ফরাসি
  • (C) জুলু উপজাতি ও ব্রিটিশ
  • (D) ব্রিটিশ ও পর্তুগিজ

উত্তর: (A) ব্রিটিশ ও বুয়ার (ডাচ কৃষক)

বিবরণ: দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রান্সভাল ও অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের বুয়াররা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার জন্য লড়েছিল।

৪২. মরক্কো সংকট কোন দুই দেশের মধ্যে ঔপনিবেশিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফল?

  • (A) ব্রিটেন ও ফ্রান্স
  • (B) ফ্রান্স ও জার্মানি
  • (C) স্পেন ও পর্তুগাল
  • (D) ইতালি ও জার্মানি

উত্তর: (B) ফ্রান্স ও জার্মানি

বিবরণ: ১৯০৫ এবং ১৯১১ সালে মরক্কোর উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে তীব্র সংকট তৈরি হয়, যা ইউরোপীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি করে।

৪৩. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ‘ট্রেঞ্চ ওয়ারফেয়ার’ বা খाइयोंয়ের যুদ্ধ কোন ফ্রন্টে প্রধানত দেখা যায়?

  • (A) পূর্ব ফ্রন্ট
  • (B) পশ্চিম ফ্রন্ট
  • (C) ইতালীয় ফ্রন্ট
  • (D) বলকান ফ্রন্ট

উত্তর: (B) পশ্চিম ফ্রন্ট

বিবরণ: পশ্চিম ফ্রন্টে (ফ্রান্স ও বেলজিয়াম) উভয় পক্ষই দীর্ঘ পরিখা বা ট্রেঞ্চ খুঁড়ে মাসের পর মাস অবস্থান করত, যেখানে সামান্য অগ্রগতির জন্য লক্ষ লক্ষ সৈন্যের মৃত্যু হত।

৪৪. লিগ অব নেশনস কেন ব্যর্থ হয়েছিল?

  • (A) এর নিজস্ব কোনো সেনাবাহিনী ছিল না
  • (B) আমেরিকা এর সদস্য ছিল না
  • (C) প্রধান শক্তিগুলো এর সিদ্ধান্ত মানত না
  • (D) উপরের সবগুলোই

উত্তর: (D) উপরের সবগুলোই

বিবরণ: আমেরিকার عدم যোগদান, সামরিক শক্তির অভাব এবং জার্মানি, ইতালি ও জাপানের মতো আগ্রাসী দেশগুলোকে থামাতে না পারার কারণে লিগ অব নেশনস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ রোধ করতে ব্যর্থ হয়।

৪৫. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর উড্রো উইলসনের বিখ্যাত ‘চোদ্দ দফা নীতি’ (Fourteen Points) এর মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?

  • (A) জার্মানিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা
  • (B) একটি ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা
  • (C) উপনিবেশগুলোকে ভাগ করে নেওয়া
  • (D) আমেরিকার আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা

উত্তর: (B) একটি ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা

বিবরণ: উইলসনের চোদ্দ দফার মধ্যে ছিল জাতিসমূহের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, মুক্ত বাণিজ্য এবং ভবিষ্যৎ সংঘাত এড়াতে লিগ অব নেশনস প্রতিষ্ঠা।

৪৬. ব্রিটিশদের ‘কেপ টু কায়রো’ নীতি কী বোঝায়?

  • (A) একটি বাণিজ্য চুক্তি
  • (B) দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউন থেকে মিশরের কায়রো পর্যন্ত একটি অবিচ্ছিন্ন ব্রিটিশ উপনিবেশ স্থাপন
  • (C) একটি সামরিক অভিযান
  • (D) একটি রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প

উত্তর: (B) দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউন থেকে মিশরের কায়রো পর্যন্ত একটি অবিচ্ছিন্ন ব্রিটিশ উপনিবেশ স্থাপন

বিবরণ: সেসিল রোডসের এই নীতির উদ্দেশ্য ছিল আফ্রিকা মহাদেশ জুড়ে ব্রিটিশ প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।

৪৭. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে আরব বিদ্রোহে কোন ব্রিটিশ অফিসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন?

  • (A) উইনস্টন চার্চিল
  • (B) লর্ড কিচেনার
  • (C) টি. ই. লরেন্স (লরেন্স অফ অ্যারাবিয়া)
  • (D) ফিল্ড মার্শাল হেগ

উত্তর: (C) টি. ই. লরেন্স (লরেন্স অফ অ্যারাবিয়া)

বিবরণ: টি. ই. লরেন্স আরব উপজাতিগুলোকে অটোমান শাসনের বিরুদ্ধে متحد করতে এবং গেরিলা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে সহায়তা করেছিলেন।

৪৮. ‘ফাশোডা সংকট’ (১৮৯৮) কোন দুই দেশের মধ্যে আফ্রিকার আধিপত্য নিয়ে হয়েছিল?

  • (A) ব্রিটেন ও জার্মানি
  • (B) ফ্রান্স ও বেলজিয়াম
  • (C) ব্রিটেন ও ফ্রান্স
  • (D) জার্মানি ও পর্তুগাল

উত্তর: (C) ব্রিটেন ও ফ্রান্স

বিবরণ: সুদানের ফাশোডায় ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক বাহিনী মুখোমুখি হলে একটি যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়, যদিও শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স পিছু হটে।

৪৯. ভার্সাই চুক্তির ফলে কোন নতুন দেশটি পোল্যান্ডকে সমুদ্রের সাথে যুক্ত করার জন্য তৈরি হয়েছিল?

  • (A) চেকোস্লোভাকিয়া
  • (B) পোলিশ করিডোর
  • (C) যুগোস্লাভিয়া
  • (D) লিথুয়ানিয়া

উত্তর: (B) পোলিশ করিডোর

বিবরণ: জার্মানির ভূমি বিভক্ত করে পোল্যান্ডকে বাল্টিক সাগরের সাথে একটি পথ (করিডোর) দেওয়া হয়, যা জার্মানির মূল ভূখণ্ড থেকে পূর্ব প্রুশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

৫০. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় রাশিয়ায় কোন বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল?

  • (A) ফরাসি বিপ্লব
  • (B) শিল্প বিপ্লব
  • (C) বলশেভিক বিপ্লব (১৯১৭)
  • (D) গৌরবময় বিপ্লব

উত্তর: (C) বলশেভিক বিপ্লব (১৯১৭)

বিবরণ: যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট ও গণঅসন্তোষের ফলে ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় জারতন্ত্রের পতন ঘটে এবং লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিকরা ক্ষমতা দখল করে।

৫১. ‘শ্বেতাঙ্গদের বোঝা’ (White Man’s Burden) ধারণাটি কীসের সাথে সম্পর্কিত?

  • (A) দাসপ্রথা বিলোপ
  • (B) উপনিবেশবাদের ন্যায্যতা প্রতিপাদন
  • (C) বিশ্ব শান্তি রক্ষা
  • (D) ধর্মীয় সহনশীলতা

উত্তর: (B) উপনিবেশবাদের ন্যায্যতা প্রতিপাদন

বিবরণ: রুডইয়ার্ড কিপলিং-এর এই ধারণা অনুযায়ী, অ-ইউরোপীয় ‘অসভ্য’ জাতিদের সভ্য করার দায়িত্ব শ্বেতাঙ্গদের উপর বর্তায়, যা সাম্রাজ্যবাদকে একটি নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে।

৫২. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির কোন মিত্রশক্তি প্রথম আত্মসমর্পণ করে?

  • (A) অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি
  • (B) অটোমান সাম্রাজ্য
  • (C) বুলগেরিয়া
  • (D) ইতালি

উত্তর: (C) বুলগেরিয়া

বিবরণ: ১৯১৮ সালের সেপ্টেম্বরে বুলগেরিয়া প্রথম কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে মৈত্রী শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করে, যা কেন্দ্রীয় শক্তির পতনের সূচনা করে।

৫৩. কোন চুক্তির মাধ্যমে ১৯১৭ সালে রাশিয়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়?

  • (A) ভার্সাই চুক্তি
  • (B) ব্রেস্ট-লিটভস্ক চুক্তি
  • (C) লন্ডন চুক্তি
  • (D) নিউলি চুক্তি

উত্তর: (B) ব্রেস্ট-লিটভস্ক চুক্তি

বিবরণ: ১৯১৮ সালের মার্চ মাসে বলশেভিক সরকার জার্মানির সাথে এই চুক্তি স্বাক্ষর করে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসে, যার ফলে রাশিয়া বিশাল ভূখণ্ড হারায়।

৫৪. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?

  • (A) উইনস্টন চার্চিল
  • (B) ডেভিড লয়েড জর্জ
  • (C) নেভিল চেম্বারলেইন
  • (D) হার্বার্ট হেনরি অ্যাসকুইথ

উত্তর: (B) ডেভিড লয়েড জর্জ

বিবরণ: যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ডেভিড লয়েড জর্জ ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং প্যারিস শান্তি সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যুদ্ধের শুরুতে অ্যাসকুইথ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

৫৫. ‘লুসিটানিয়া’ নামক যাত্রীবাহী জাহাজটি কোন দেশের সাবমেরিন ডুবিয়ে দেয়?

  • (A) ব্রিটেন
  • (B) ফ্রান্স
  • (C) জার্মানি
  • (D) রাশিয়া

উত্তর: (C) জার্মানি

বিবরণ: ১৯১৫ সালে জার্মান ইউ-বোট ব্রিটিশ জাহাজ লুসিটানিয়া ডুবিয়ে দিলে বহু আমেরিকান নাগরিকসহ ১২০০-র বেশি যাত্রী মারা যায়, যা আমেরিকায় তীব্র জার্মানি-বিরোধী মনোভাব তৈরি করে।

৫৬. ভার্সাই চুক্তি জার্মানির উপর কোন ধরনের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেছিল?

  • (A) রাজতন্ত্র
  • (B) ভাইমার প্রজাতন্ত্র
  • (C) সমাজতান্ত্রিক সরকার
  • (D) ফ্যাসিবাদী সরকার

উত্তর: (B) ভাইমার প্রজাতন্ত্র

বিবরণ: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর কাইজার দ্বিতীয় উইলহেল্মের পতনের পর জার্মানিতে একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ভাইমার প্রজাতন্ত্র নামে পরিচিত।

৫৭. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে অটোমান সাম্রাজ্যের অঞ্চলগুলো কীভাবে ভাগ করা হয়েছিল?

  • (A) আরব দেশগুলোকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়
  • (B) ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে ম্যান্ডেট হিসেবে ভাগ করা হয়
  • (C) আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে দেওয়া হয়
  • (D) তুরস্কের অধীনেই থাকে

উত্তর: (B) ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে ম্যান্ডেট হিসেবে ভাগ করা হয়

বিবরণ: সাইকস-পিকো চুক্তি অনুযায়ী, ইরাক, প্যালেস্টাইন, সিরিয়া, লেবানন ইত্যাদি অঞ্চল লিগ অব নেশনসের ম্যান্ডেট হিসেবে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণে আসে।

৫৮. ‘নো-ম্যানস-ল্যান্ড’ (No Man’s Land) বলতে কী বোঝায়?

  • (A) একটি নিরপেক্ষ দেশ
  • (B) দুই প্রতিপক্ষ পরিখার মধ্যবর্তী বিপজ্জনক এলাকা
  • (C) একটি জনবসতিহীন দ্বীপ
  • (D) অসামরিকীকৃত অঞ্চল

উত্তর: (B) দুই প্রতিপক্ষ পরিখার মধ্যবর্তী বিপজ্জনক এলাকা

বিবরণ: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ট্রেঞ্চ ওয়ারফেয়ারে দুই পক্ষের পরিখার মাঝের কাঁটাতার ও গোলাবর্ষণে জর্জরিত এলাকাকে ‘নো-ম্যানস-ল্যান্ড’ বলা হত, যা পার হওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব।

৫৯. জার্মানির কোন চ্যান্সেলর ত্রিশক্তি আঁতাত গঠনের মূল কারিগর ছিলেন?

  • (A) কাইজার দ্বিতীয় উইলহেল্ম
  • (B) অটো ভন বিসমার্ক
  • (C) থিওবল্ড ফন বেথম্যান-হলওয়েগ
  • (D) অ্যাডলফ হিটলার

উত্তর: (B) অটো ভন বিসমার্ক

বিবরণ: ফ্রান্সকে একঘরে করে রাখার জন্য এবং জার্মানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য চ্যান্সেলর বিসমার্ক ১৮৮২ সালে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও ইতালির সাথে এই জোট গঠন করেন।

৬০. আফ্রিকার কোন সম্পদ রাজা দ্বিতীয় লিওপোল্ডের কঙ্গো দখলের প্রধান কারণ ছিল?

  • (A) সোনা ও হীরা
  • (B) রাবার ও হাতির দাঁত
  • (C) তামা ও টিন
  • (D) তেল ও গ্যাস

উত্তর: (B) রাবার ও হাতির দাঁত

বিবরণ: শিল্প বিপ্লবের ফলে রাবারের চাহিদা বাড়লে, কঙ্গোর রাবার সম্পদ আহরণের জন্য রাজা লিওপোল্ড স্থানীয় জনগণের উপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালান।

৬১. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ‘কেন্দ্রীয় শক্তি’র অন্তর্ভুক্ত ছিল না কোন দেশ?

  • (A) জার্মানি
  • (B) অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি
  • (C) জাপান
  • (D) অটোমান সাম্রাজ্য

উত্তর: (C) জাপান

বিবরণ: জাপান প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মৈত্রী শক্তির পক্ষে যোগ দিয়েছিল এবং এশিয়ায় জার্মানির উপনিবেশগুলো দখল করেছিল।

৬২. ভার্সাই চুক্তির কোন দিকটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীজ বপন করেছিল বলে মনে করা হয়?

  • (A) জার্মানির উপর চাপানো কঠোর ও অপমানজনক শর্ত
  • (B) লিগ অব নেশনস গঠন
  • (C) নতুন রাষ্ট্র সৃষ্টি
  • (D) উপনিবেশ ভাগাভাগি

উত্তর: (A) জার্মানির উপর চাপানো কঠোর ও অপমানজনক শর্ত

বিবরণ: যুদ্ধাপরাধের দায়, বিপুল ক্ষতিপূরণ এবং সামরিক সীমাবদ্ধতা জার্মানিতে তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিশোধের भावना তৈরি করে, যা হিটলারের ক্ষমতারোহণের পথ প্রশস্ত করে।

৬৩. ১৯০৪ সালের ‘Entente Cordiale’ বা ‘আন্তরিক চুক্তি’ কোন দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?

  • (A) ফ্রান্স ও রাশিয়া
  • (B) ব্রিটেন ও রাশিয়া
  • (C) ব্রিটেন ও ফ্রান্স
  • (D) জার্মানি ও রাশিয়া

উত্তর: (C) ব্রিটেন ও ফ্রান্স

বিবরণ: এই চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেন ও ফ্রান্স তাদের ঔপনিবেশিক বিবাদগুলো (বিশেষ করে মিশর ও মরক্কো নিয়ে) মিটিয়ে ফেলে এবং ত্রিশক্তি মৈত্রী গঠনের পথ প্রশস্ত করে।

৬৪. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কোন যুদ্ধটি ‘ট্যাক্সির যুদ্ধ’ নামে পরিচিত?

  • (A) ভার্দুনের যুদ্ধ
  • (B) সোমের যুদ্ধ
  • (C) মার্নের যুদ্ধ
  • (D) গ্যালিপোলির যুদ্ধ

উত্তর: (C) মার্নের যুদ্ধ

বিবরণ: ১৯১৪ সালে জার্মান বাহিনীকে প্যারিস দখল থেকে আটকাতে ফরাসি সরকার প্রায় ৬০০ ট্যাক্সি ব্যবহার করে দ্রুত সৈন্য পাঠিয়েছিল। এই ঘটনা মার্নের প্রথম যুদ্ধ নামে পরিচিত।

৬৫. অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সার্বিয়াকে যে চরমপত্র (Ultimatum) দিয়েছিল, তার প্রধান দাবি কী ছিল?

  • (A) সার্বিয়াকে অস্ট্রিয়ার অংশ হতে হবে
  • (B) হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অস্ট্রীয় কর্মকর্তাদের সার্বিয়ায় প্রবেশের অনুমতি
  • (C) সার্বিয়াকে বিপুল ক্ষতিপূরণ দিতে হবে
  • (D) সার্বিয়ান রাজাকে পদত্যাগ করতে হবে

উত্তর: (B) হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অস্ট্রীয় কর্মকর্তাদের সার্বিয়ায় প্রবেশের অনুমতি

বিবরণ: অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি এমন কিছু শর্ত দিয়েছিল যা সার্বিয়ার সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করে, বিশেষ করে তাদের নিজস্ব তদন্তকারী দলকে সার্বিয়ায় পাঠানোর দাবিটি সার্বিয়া প্রত্যাখ্যান করে।

৬৬. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকার বৈদেশিক নীতি কী ছিল?

  • (A) সাম্রাজ্যবাদ
  • (B) বিচ্ছিন্নতাবাদ (Isolationism)
  • (C) বিশ্বজুড়ে হস্তক্ষেপ
  • (D) সাম্যবাদ

উত্তর: (B) বিচ্ছিন্নতাবাদ (Isolationism)

বিবরণ: যুদ্ধের পর আমেরিকান জনগণ ও সেনেট ইউরোপীয় রাজনীতি থেকে নিজেদের দূরে রাখতে চেয়েছিল, যার ফলে তারা লিগ অব নেশনসে যোগ দেয়নি।

৬৭. ১৯১৮ সালের ১১ই নভেম্বর কী ঘটেছিল?

  • (A) ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়
  • (B) জার্মানি আত্মসমর্পণ করে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে
  • (C) আমেরিকা যুদ্ধে যোগ দেয়
  • (D) রুশ বিপ্লব শুরু হয়

উত্তর: (B) জার্মানি আত্মসমর্পণ করে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে

বিবরণ: ১৯১৮ সালের ১১ই নভেম্বর, সকাল ১১টায় জার্মানি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে (Armistice) স্বাক্ষর করার মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের লড়াইয়ের অবসান ঘটে।

৬৮. আফ্রিকার ‘হেরেরো ও নামা’ গণহত্যা কোন ঔপনিবেশিক শক্তি ঘটিয়েছিল?

  • (A) ব্রিটেন
  • (B) ফ্রান্স
  • (C) বেলজিয়াম
  • (D) জার্মানি

উত্তর: (D) জার্মানি

বিবরণ: ১৯০৪-১৯০৮ সালের মধ্যে জার্মান দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকায় (বর্তমান নামিবিয়া) জার্মান ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে হেরেরো ও নামা উপজাতির লক্ষাধিক মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

৬৯. জার্মানির ‘শ্লিফেন পরিকল্পনা’ ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ কী ছিল?

  • (A) রাশিয়ার দ্রুত mobilisation
  • (B) বেলজিয়ামের অপ্রত্যাশিত প্রতিরোধ
  • (C) ফ্রান্সের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা
  • (D) উপরের সবগুলোই

উত্তর: (D) উপরের সবগুলোই

বিবরণ: পরিকল্পনাটি রাশিয়ার ধীরগতির প্রস্তুতির উপর নির্ভরশীল ছিল, কিন্তু রাশিয়া দ্রুত সৈন্য সমাবেশ করে। বেলজিয়ামের প্রতিরোধ জার্মানির গতি কমিয়ে দেয় এবং ফরাসিরা প্যারিসকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়।

৭০. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ভারতীয় সৈন্যদের প্রধানত কোন ফ্রন্টে পাঠানো হয়েছিল?

  • (A) শুধুমাত্র ইউরোপে
  • (B) শুধুমাত্র আফ্রিকায়
  • (C) ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকা
  • (D) শুধুমাত্র এশিয়ায়

উত্তর: (C) ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকা

বিবরণ: ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অংশ হিসেবে, লক্ষ লক্ষ ভারতীয় সৈন্যকে পশ্চিম ফ্রন্ট, মেসোপটেমিয়া (ইরাক), প্যালেস্টাইন এবং পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছিল।

৭১. উড্রো উইলসনের ‘চোদ্দ দফা’র মধ্যে কোন বিষয়টি জাতিসমূহের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের সাথে সম্পর্কিত?

  • (A) মুক্ত বাণিজ্য
  • (B) জাতিগত সীমানা অনুযায়ী রাষ্ট্র গঠন
  • (C) সামরিক নিরস্ত্রীকরণ
  • (D) গোপন চুক্তির অবসান

উত্তর: (B) জাতিগত সীমানা অনুযায়ী রাষ্ট্র গঠন

বিবরণ: এই নীতির মূল কথা ছিল যে, কোনো নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে তাদের নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী সরকার গঠন ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার দেওয়া উচিত।

৭২. গ্যালিপোলির যুদ্ধ (১৯১৫) কোন দুই শক্তির মধ্যে হয়েছিল?

  • (A) জার্মানি ও রাশিয়া
  • (B) ব্রিটেন-ফ্রান্স ও অটোমান সাম্রাজ্য
  • (C) অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও ইতালি
  • (D) আমেরিকা ও জার্মানি

উত্তর: (B) ব্রিটেন-ফ্রান্স ও অটোমান সাম্রাজ্য

বিবরণ: মৈত্রী শক্তি দার্দানেলিস প্রণালী দখল করে রাশিয়াকে সরবরাহের পথ খুলে দিতে চেয়েছিল, কিন্তু অটোমানদের শক্তিশালী প্রতিরোধের মুখে তারা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।

৭৩. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর কোন দেশটি তার সমস্ত উপনিবেশ হারায়?

  • (A) ব্রিটেন
  • (B) ফ্রান্স
  • (C) জার্মানি
  • (D) বেলজিয়াম

উত্তর: (C) জার্মানি

বিবরণ: ভার্সাই চুক্তি অনুযায়ী জার্মানিকে আফ্রিকা ও এশিয়ায় তার সমস্ত ঔপনিবেশিক সম্পত্তি বিজয়ী শক্তিগুলোর হাতে তুলে দিতে বাধ্য করা হয়।

৭৪. জার্মানির নৌ-আইন (Naval Laws) কোন দেশের সাথে নৌ-প্রতিযোগিতা উস্কে দিয়েছিল?

  • (A) ফ্রান্স
  • (B) রাশিয়া
  • (C) আমেরিকা
  • (B) ব্রিটেন

উত্তর: (B) ব্রিটেন

বিবরণ: অ্যাডমিরাল টির্পিটসের অধীনে জার্মানির নৌ-আইনগুলো একটি বিশাল নৌবহর তৈরির লক্ষ্য নিয়েছিল, যা সরাসরি ব্রিটেনের নৌ-আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করে এবং দুই দেশের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

৭৫. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় নারীদের ভূমিকা কী ছিল?

  • (A) শুধুমাত্র ঘরে বসে থাকা
  • (B) যুদ্ধক্ষেত্রে পুরুষদের পরিবর্তে কারখানা ও কৃষিক্ষেত্রে কাজ করা
  • (C) যুদ্ধে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা
  • (D) শুধুমাত্র নার্স হিসেবে কাজ করা

উত্তর: (B) যুদ্ধক্ষেত্রে পুরুষদের পরিবর্তে কারখানা ও কৃষিক্ষেত্রে কাজ করা

বিবরণ: লক্ষ লক্ষ পুরুষ যুদ্ধে যাওয়ায়, নারীরা যুদ্ধাস্ত্র কারখানা, কৃষি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় শিল্পে কাজ করে দেশের অর্থনীতি সচল রাখে। নার্স হিসেবেও তাদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

৭৬. ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ বা ‘ফাঁকা চেক’ বলতে জার্মানির কোন পদক্ষেপকে বোঝানো হয়?

  • (A) সার্বিয়াকে আর্থিক সহায়তা
  • (B) অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরিকে নিঃশর্ত সমর্থনের প্রতিশ্রুতি
  • (C) রাশিয়াকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব
  • (D) বেলজিয়ামকে নিরপেক্ষ থাকার অনুরোধ

উত্তর: (B) অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরিকে নিঃশর্ত সমর্থনের প্রতিশ্রুতি

বিবরণ: সারাজেভো হত্যাকাণ্ডের পর জার্মানি তার মিত্র অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরিকে জানায় যে সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপ নিলে জার্মানি তাদের পূর্ণ সমর্থন দেবে। এই প্রতিশ্রুতিই ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ নামে পরিচিত।

৭৭. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ কোনটি?

  • (A) মার্নের যুদ্ধ
  • (B) সোমের যুদ্ধ
  • (C) ভার্দুনের যুদ্ধ
  • (D) গ্যালিপোলির যুদ্ধ

উত্তর: (B) সোমের যুদ্ধ

বিবরণ: ১৯১৬ সালের এই যুদ্ধে প্রায় দশ লক্ষেরও বেশি সৈন্য হতাহত হয়েছিল। শুধুমাত্র প্রথম দিনেই ব্রিটিশ বাহিনী প্রায় ৬০,০০০ সৈন্য হারায়।

৭৮. ভার্সাই চুক্তির ফলে সৃষ্ট কোন দেশটি বিভিন্ন স্লাভিক জাতিকে নিয়ে গঠিত হয়েছিল?

  • (A) পোল্যান্ড
  • (B) চেকোস্লোভাকিয়া
  • (C) যুগোস্লাভিয়া
  • (D) হাঙ্গেরি
  • উত্তর: (C) যুগোস্লাভিয়া

    বিবরণ: যুগোস্লাভিয়া (অর্থ “দক্ষিণ স্লাভদের দেশ”) সার্ব, ক্রোয়াট, স্লোভেন এবং অন্যান্য দক্ষিণ স্লাভিক জাতিদের একত্রিত করে তৈরি করা হয়েছিল।

    ৭৯. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে কোন দেশ প্রথম বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার করে?

    • (A) ব্রিটেন
    • (B) ফ্রান্স
    • (C) জার্মানি
    • (D) রাশিয়া

    উত্তর: (C) জার্মানি

    বিবরণ: ১৯১৫ সালে ইপ্রেসের দ্বিতীয় যুদ্ধে জার্মানি প্রথমবারের মতো ক্লোরিন গ্যাস ব্যবহার করে, যা যুদ্ধের ইতিহাসে একটি নতুন এবং ভয়াবহ অধ্যায়ের সূচনা করে।

    ৮০. আমেরিকার কোন প্রেসিডেন্ট প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ক্ষমতায় ছিলেন?

    • (A) থিওডোর রুজভেল্ট
    • (B) উড্রো উইলসন
    • (C) ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট
    • (D) হার্বার্ট হুভার

    উত্তর: (B) উড্রো উইলসন

    বিবরণ: উড্রো উইলসন ১৯১৩ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার অংশগ্রহণ এবং প্যারিস শান্তি সম্মেলনে নেতৃত্ব দেন।

    ৮১. কোন চুক্তির মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অটোমান সাম্রাজ্যকে বিভক্ত করা হয়?

    • (A) ভার্সাই চুক্তি
    • (B) সেন্ট-জার্মেই চুক্তি
    • (C) সেভ্রে চুক্তি
    • (D) ট্রিয়ানন চুক্তি

    উত্তর: (C) সেভ্রে চুক্তি

    বিবরণ: ১৯২০ সালের সেভ্রে চুক্তির মাধ্যমে অটোমান সাম্রাজ্যকে বিলুপ্ত করে তার অঞ্চলগুলো মৈত্রী শক্তির মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়, যদিও পরে তুর্কি জাতীয়তাবাদীরা এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে।

    ৮২. জার্মানির কোন অঞ্চলটি ১৫ বছরের জন্য লিগ অব নেশনসের শাসনাধীনে রাখা হয়েছিল?

    • (A) রাইনল্যান্ড
    • (B) সারল্যান্ড
    • (C) আলসেস-লোরেন
    • (D) সাইলেসিয়া

    উত্তর: (B) সারল্যান্ড

    বিবরণ: সারল্যান্ডের কয়লা খনিগুলো ফ্রান্সকে দেওয়া হয় এবং অঞ্চলটি ১৫ বছরের জন্য লিগ অব নেশনসের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়, যার পর গণভোটের মাধ্যমে এর ভাগ্য নির্ধারণের কথা ছিল।

    ৮৩. আফ্রিকার ‘মাজিমাজি বিদ্রোহ’ কোন ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে হয়েছিল?

    • (A) ব্রিটেন
    • (B) ফ্রান্স
    • (C) পর্তুগাল
    • (D) জার্মানি

    উত্তর: (D) জার্মানি

    বিবরণ: ১৯০৫-১৯০৭ সালে জার্মান পূর্ব আফ্রিকায় (তাঙ্গানাইকা) স্থানীয় জনগণ জার্মানদের জোরপূর্বক তুলা চাষের বিরুদ্ধে এই সশস্ত্র বিদ্রোহ করে।

    ৮৪. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অর্থনৈতিক ফলাফল কী ছিল?

    • (A) ইউরোপীয় দেশগুলো ব্যাপকভাবে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে
    • (B) আমেরিকা বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়
    • (C) বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়
    • (D) উপরের সবগুলোই

    উত্তর: (D) উপরের সবগুলোই

    বিবরণ: যুদ্ধের বিপুল খরচের কারণে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলো আমেরিকার কাছে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে, এবং আমেরিকা বিশ্বের প্রধান ঋণদাতা ও অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়।

    ৮৫. ‘Anschluss’ বা ‘আনschluss’ শব্দটি কীসের সাথে সম্পর্কিত?

    • (A) জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার একত্রীকরণ
    • (B) জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যে চুক্তি
    • (C) ফ্রান্স ও রাশিয়ার মৈত্রী
    • (D) ইতালি ও জার্মানির জোট

    উত্তর: (A) জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার একত্রীকরণ

    বিবরণ: ভার্সাই চুক্তিতে জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার একত্রীকরণ (Anschluss) নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, যদিও হিটলার ১৯৩৮ সালে এই শর্ত লঙ্ঘন করে অস্ট্রিয়া দখল করেন।

    ২০০. ভার্সাই চুক্তিকে ‘Diktat’ বা ‘চাপানো শান্তি’ বলা হয় কেন?

    • (A) কারণ এটি জার্মানিতে স্বাক্ষরিত হয়নি
    • (B) কারণ জার্মানিকে আলোচনায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি, শুধু স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়েছিল
    • (C) কারণ চুক্তিটি খুব দীর্ঘ ছিল
    • (D) কারণ চুক্তিটি গোপনে করা হয়েছিল

    উত্তর: (B) কারণ জার্মানিকে আলোচনায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি, শুধু স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়েছিল

    বিবরণ: পরাজিত জার্মানিকে শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়ায় কোনো ভূমিকা রাখতে দেওয়া হয়নি। তাদের সামনে একটি তৈরি করা চুক্তি উপস্থাপন করে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়, তাই জার্মানরা একে একটি ‘চাপানো শান্তি’ বা ‘Diktat’ বলে মনে করত।

    Scroll to Top