Interview Question Set 5

WB Primary TET Interview – Advanced Situational & Philosophical Questions
১. আপনার নিজের প্রাথমিক স্কুল জীবনের এমন একটি জিনিসের কথা বলুন যা আপনি আপনার ছাত্রছাত্রীদের জন্য পরিবর্তন করতে চাইবেন।

উত্তর দেওয়ার কৌশল: এই প্রশ্নটি আপনার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে উন্নত করার সদিচ্ছা যাচাই করে।

নমুনা উত্তর: “আমার প্রাথমিক স্কুল জীবনে মুখস্থবিদ্যার ওপর খুব জোর দেওয়া হতো, প্রশ্ন করার খুব বেশি সুযোগ ছিল না। আমি এই জিনিসটা পরিবর্তন করতে চাইব। আমি আমার শ্রেণিকক্ষে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করব যেখানে ছাত্রছাত্রীরা নির্ভয়ে প্রশ্ন করতে পারে এবং তাদের নিজস্ব মতামত প্রকাশ করতে পারে। আমি চাই তারা যেন ‘কেন’ এবং ‘কীভাবে’ এই প্রশ্নগুলো করতে শেখে, যাতে তাদের মধ্যে অনুসন্ধিৎসা এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা (critical thinking) গড়ে ওঠে।”

২. ‘শিক্ষা দেওয়া’ (Teaching) এবং ‘শিখতে সাহায্য করা’ (Facilitating Learning) – এই দুটির মধ্যে কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে আপনি মনে করেন?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: আধুনিক শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষার প্রতি আপনার ধারণা স্পষ্ট করুন।

নমুনা উত্তর: “আমি মনে করি ‘শিখতে সাহায্য করা’ বা Facilitating Learning বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ‘শিক্ষা দেওয়া’ বলতে অনেক সময় একমুখী প্রক্রিয়া বোঝায়, যেখানে শিক্ষক বলেন এবং ছাত্ররা শোনে। কিন্তু ‘শিখতে সাহায্য করা’ মানে হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে ছাত্রছাত্রীরা নিজেরাই সক্রিয়ভাবে আবিষ্কারের মাধ্যমে শেখে। এখানে শিক্ষক একজন পথপ্রদর্শক বা সহায়কের ভূমিকা পালন করেন। এটি শিশুদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলে এবং তাদের শেখাটা দীর্ঘস্থায়ী হয়।”

৩. আপনি কীভাবে বিদ্যালয়ের কার্যকলাপে স্থানীয় সম্প্রদায়কে (Local Community) যুক্ত করতে পারেন?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: বিদ্যালয়কে সমাজের একটি অংশ হিসেবে দেখার ক্ষমতা প্রকাশ করুন।

নমুনা উত্তর: “আমি বিভিন্ন উপায়ে স্থানীয় সম্প্রদায়কে যুক্ত করতে পারি। যেমন, বিদ্যালয়ের বার্ষিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পী বা গুণীজনদের আমন্ত্রণ জানাতে পারি। ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’ বা ‘বিদ্যালয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান’-এর মতো অনুষ্ঠানে আমি স্থানীয় বাসিন্দা এবং অভিভাবকদের অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানাব। এছাড়া, স্থানীয় কোনো পেশার মানুষ (যেমন – কুমোর, তাঁতি) -কে বিদ্যালয়ে এনে ছাত্রছাত্রীদের সামনে তাঁদের কাজের הדגמה (demonstration) করার ব্যবস্থা করতে পারি। এতে ছাত্রছাত্রীরা তাদের পারিপার্শ্বিক সমাজ সম্পর্কে শিখবে।”

৪. একজন ছাত্র মিড-ডে-মিলের খাবার খেতে চাইছে না কারণ সে বাড়ি থেকে টিফিন এনেছে। আপনি কী করবেন?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: আপনার উত্তরে সংবেদনশীলতা, নিয়মকানুন এবং সামাজিকতার উপর গুরুত্ব দিন।

নমুনা উত্তর: “আমি শিশুটির উপর জোর করব না। তবে আমি তাকে মিড-ডে-মিলের গুরুত্ব বোঝাব। আমি তাকে বলব যে সকলের সাথে একসাথে বসে খাওয়ার মধ্যে একটা আনন্দ আছে এবং এটি আমাদের মধ্যে একতা বাড়ায়। আমি তাকে তার বাড়ির টিফিনের পাশাপাশি অন্তত অল্প পরিমাণে মিড-ডে-মিলের খাবার খাওয়ার জন্য অনুরোধ করতে পারি। আমি তার অভিভাবকদের সাথেও কথা বলে মিড-ডে-মিলের উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করব, যাতে তারা বাড়ি থেকে টিফিন না পাঠান।”

৫. প্রাথমিক স্তরে শিশুদের ‘গুড টাচ’ এবং ‘ব্যাড টাচ’ সম্পর্কে সচেতন করা কতটা জরুরি? আপনি কীভাবে এই সংবেদনশীল বিষয়টি শেখাবেন?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: আপনার সচেতনতা, দায়িত্ববোধ এবং বিষয়টি সহজভাবে উপস্থাপন করার দক্ষতা তুলে ধরুন।

নমুনা উত্তর: “এটি অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। শিশুদের সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতন করা শিক্ষকের অন্যতম দায়িত্ব। আমি বিষয়টি খুব সহজ এবং শিশুবান্ধব উপায়ে শেখাব। আমি ছবি, কার্টুন বা গল্পের মাধ্যমে বোঝাব কোন স্পর্শগুলো ভালো (যেমন – মায়ের আদর, বাবার মাথায় হাত বোলানো) এবং কোনগুলো খারাপ বা অস্বস্তিকর। আমি তাদের শেখাব যে, যদি কারো স্পর্শে খারাপ লাগে, তবে সাথে সাথে যেন তারা ‘না’ বলে এবং দৌড়ে গিয়ে বাবা-মা বা শিক্ষককে জানায়। মূল লক্ষ্য হবে, ভয় না দেখিয়ে তাদের সচেতন এবং সাহসী করে তোলা।”

৬. কোনো একজন ছাত্র পড়াশোনায় ভালো কিন্তু অত্যন্ত অন্তর্মুখী এবং অন্য কারো সাথে মেশে না। আপনি কীভাবে তার সামাজিক দক্ষতার (Social Skills) বিকাশ ঘটাবেন?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: শিশুর স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দিয়ে ধীরে ধীরে তাকে সাহায্য করার পরিকল্পনা বলুন।

নমুনা উত্তর: “আমি তার পড়াশোনার দক্ষতার প্রশংসা করে তার আত্মবিশ্বাস বাড়াব। আমি তাকে ছোট ছোট দলগত কাজে যুক্ত করব, যেখানে তার দায়িত্ব হবে তথ্যের যোগান দেওয়া বা লেখালেখির কাজ করা, যা সে একা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। আমি তাকে ক্লাসের মনিটর বা লাইব্রেরির বই বিতরণের মতো ছোট দায়িত্ব দেব, যাতে স্বাভাবিকভাবেই অন্যদের সাথে তার কথা বলতে হয়। আমি লক্ষ্য রাখব অন্য ছাত্ররা যেন তাকে কোনোভাবে বিরক্ত না করে। আমার লক্ষ্য হবে, চাপ সৃষ্টি না করে তাকে ধীরে ধীরে অন্যদের সাথে মিশতে সাহায্য করা।”

৭. শিক্ষকতা পেশার কোন দিকটা আপনার কাছে ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে কঠিন বলে মনে হয়?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: সততার সাথে একটি বাস্তবসম্মত চ্যালেঞ্জের কথা বলুন এবং দেখান যে আপনি তা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।

নমুনা উত্তর: “আমার মনে হয়, ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে কঠিন দিকটি হলো আবেগীয়ভাবে নিজেকে সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখা। অনেক সময় কোনো ছাত্রের পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সমস্যায় আমি নিজেও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তে পারি। কিন্তু শিক্ষক হিসেবে আমাকে আবেগ সরিয়ে রেখে পেশাদারিত্বের সাথে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং একই সাথে নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রেখে তাদের সঠিক পথ দেখানো—এই ভারসাম্য রক্ষা করাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে।”

৮. অভিভাবক সভায় (Parent-Teacher Meeting) একজন অভিভাবক যদি তার সন্তানের কোনো উন্নতি হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন, আপনার প্রথম প্রতিক্রিয়া কী হবে?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: আপনার প্রতিরক্ষামূলক না হয়ে, সহযোগিতামূলক মনোভাব প্রকাশ করুন।

নমুনা উত্তর: “আমার প্রথম প্রতিক্রিয়া হবে মনোযোগ দিয়ে তাঁর কথা শোনা এবং তাঁর উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া। আমি আত্মপক্ষ সমর্থনে ব্যস্ত না হয়ে, তাঁর সাথে একমত হব যে আমাদের উভয়েরই লক্ষ্য শিশুটির উন্নতি। আমি ক্লাসে শিশুটির পারফরম্যান্সের সুনির্দিষ্ট উদাহরণ (যেমন – সে কোন বিষয়ে ভালো, কোথায় সমস্যা) তুলে ধরব এবং অভিভাবকের কাছ থেকেও বাড়িতে তার আচরণ সম্পর্কে জানতে চাইব। এরপর আমরা একসাথে আলোচনা করে একটি পরিকল্পনা তৈরি করব, যেখানে স্কুল এবং বাড়ি—উভয় তরফেই কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

৯. একজন অভিভাবক আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে একটি দামী উপহার দিতে চাইলেন। আপনি কি তা গ্রহণ করবেন? কেন?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: আপনার নীতিবোধ এবং পেশাদারিত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরুন।

নমুনা উত্তর: “আমি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে এবং ধন্যবাদ জানিয়ে উপহারটি নিতে অস্বীকার করব। আমি তাঁকে বোঝাব যে, তাঁর সন্তানের উন্নতিই আমার কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার। একজন শিক্ষক হিসেবে ছাত্রছাত্রীদের যত্ন নেওয়া আমার কর্তব্য, এর জন্য কোনো উপহারের প্রয়োজন নেই। আমি তাঁকে বলতে পারি, ‘আপনার এই ভাবনা আমাকে সম্মানিত করেছে, কিন্তু আমি এটি গ্রহণ করতে পারব না। আপনার সন্তানের মুখের হাসিই আমার জন্য যথেষ্ট।’ এটি আমার পেশাগত নীতি ও সততার পরিপন্থী।”

১০. আপনার ক্লাসরুম পরিচালনার মূল মন্ত্র বা দর্শন কী হবে?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: একটি সংক্ষিপ্ত, ইতিবাচক এবং শিশুকেন্দ্রিক দর্শন তুলে ধরুন।

নমুনা উত্তর: “আমার ক্লাসরুম পরিচালনার মূল মন্ত্র হবে ‘ভয় নয়, ভালোবাসা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা’ (Fear-free, loving, and respectful environment)। আমি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই যেখানে প্রতিটি শিশু নিজেকে নিরাপদ মনে করবে, প্রশ্ন করতে ভয় পাবে না এবং একে অপরকে সম্মান করতে শিখবে। আমার বিশ্বাস, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার পরিবেশে শিশুরা সবচেয়ে ভালোভাবে শিখতে পারে।”

১১. “শিক্ষা হলো আচরণে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা” – উক্তিটির সাথে আপনি কতটা একমত? উদাহরণ দিন।

উত্তর দেওয়ার কৌশল: শিক্ষার প্রায়োগিক দিকটির উপর জোর দিন।

নমুনা উত্তর: “আমি এই উক্তিটির সাথে সম্পূর্ণরূপে একমত। শিক্ষা শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, তার মাধ্যমে আমাদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসাই আসল। যেমন, পরিবেশ দূষণের কারণগুলো জানা হলো তথ্য, কিন্তু সেই জ্ঞান থেকে যখন একজন শিশু রাস্তায় আবর্জনা ফেলা বন্ধ করে দেয় বা জলের অপচয় করে না, তখন সেটিই হয় তার আচরণে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এবং শিক্ষার প্রকৃত সাফল্য।”

১২. একজন ছাত্র ক্রমাগত ক্লাসে আসতে দেরি করে। কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে চুপ করে থাকে। আপনি কীভাবে আসল কারণ খুঁজে বের করবেন?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: আপনার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং সমস্যা সমাধানের বিভিন্ন পথের কথা বলুন।

নমুনা উত্তর: “আমি প্রথমেই তাকে বকাবকি করব না। আমি তার সাথে একা, دوستانهভাবে কথা বলে ভরসা দেওয়ার চেষ্টা করব। সে চুপ থাকলে আমি তার নিকটতম বন্ধুদের সাথে কথা বলে কিছু জানার চেষ্টা করতে পারি। আমি লক্ষ্য করব তার শারীরিক বা মানসিক কোনো সমস্যা আছে কিনা (যেমন – ক্লান্ত দেখাচ্ছে কিনা)। সবশেষে, আমি তার অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ করে বাড়ির পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব। হয়তো তার কোনো পারিবারিক সমস্যা বা দায়িত্ব থাকতে পারে।”

১৩. আপনার মতে, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত—বন্ধুত্বপূর্ণ নাকি দূরত্ব বজায় রেখে?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: একটি ভারসাম্যপূর্ণ উত্তর দিন যেখানে স্নেহ এবং শ্রদ্ধা দুটোই থাকবে।

নমুনা উত্তর: “আমার মতে, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক হওয়া উচিত বন্ধুত্বপূর্ণ কিন্তু শ্রদ্ধাপূর্ণ। সম্পর্কটি এমন হবে যেখানে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষককে ভয় না পেয়ে বন্ধু বা পথপ্রদর্শক হিসেবে দেখবে এবং নির্দ্বিধায় তাদের সমস্যার কথা বলতে পারবে। কিন্তু এর সাথে একটি শ্রদ্ধার সীমারেখাও থাকবে, যা শিক্ষকের মর্যাদা এবং শ্রেণিকক্ষের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। অতিরিক্ত বন্ধুত্ব বা অতিরিক্ত দূরত্ব—কোনোটিই কাম্য নয়।”

১৪. একজন শিক্ষক হিসেবে আপনি সময়ের সাথে নিজেকে কীভাবে প্রাসঙ্গিক (Relevant) রাখবেন?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: আপনার lifelong learning বা আজীবন শেখার মানসিকতা তুলে ধরুন।

নমুনা উত্তর: “সময় এবং শিক্ষাব্যবস্থা দুটোই পরিবর্তনশীল। নিজেকে প্রাসঙ্গিক রাখতে আমি ক্রমাগত শিখতে থাকব। আমি নতুন শিক্ষণ পদ্ধতি, শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার ইত্যাদি সম্পর্কে নিয়মিত পড়াশোনা করব। আমি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করব। আমি আমার ছাত্রছাত্রীদের থেকেও শিখব—তাদের জগৎ, তাদের আগ্রহ এবং তাদের চিন্তাভাবনা বোঝার চেষ্টা করব। এই निरंतर শেখার মানসিকতাই আমাকে সময়ের সাথে প্রাসঙ্গিক থাকতে সাহায্য করবে।”

১৫. আপনার মতে, প্রাথমিক স্তরে ‘পরীক্ষা’ তুলে দিয়ে শুধু ‘মূল্যায়ন’ রাখা উচিত?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: পরীক্ষা এবং মূল্যায়নের মধ্যেকার ধারণাগত পার্থক্য তুলে ধরুন।

নমুনা উত্তর: “হ্যাঁ, আমি মনে করি প্রাথমিক স্তরে প্রথাগত, চাপ সৃষ্টিকারী ‘পরীক্ষা’ তুলে দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন ও সার্বিক ‘মূল্যায়ন’ (CCE) ব্যবস্থা চালু রাখা উচিত। ‘পরীক্ষা’ শব্দটি শিশুদের মনে ভীতি তৈরি করে। অন্যদিকে, ‘মূল্যায়ন’ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া যা শিশুর সার্বিক বিকাশের চিত্র তুলে ধরে—তার পড়াশোনা, খেলাধুলা, আচরণ, সৃজনশীলতা সবকিছুই এর অন্তর্ভুক্ত। মূল্যায়নের উদ্দেশ্য শিশুকে পাশ বা ফেল করানো নয়, তার শেখার ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে তাকে সাহায্য করা।”

১৬. স্কুলের ছুটির পর আপনি বাড়ি যাচ্ছেন, দেখলেন আপনার ক্লাসের একজন ছাত্র রাস্তায় একা একা কাঁদছে। আপনি কী করবেন?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: আপনার দায়িত্ববোধ এবং মানবিকতার পরিচয় দিন।

নমুনা উত্তর: “আমি অবশ্যই তাকে এড়িয়ে চলে যাব না। আমি তার কাছে গিয়ে স্নেহের সাথে কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করব। সে যদি বাড়ি ফিরতে না পারে বা কোনো বিপদে পড়ে, আমি তার বাড়ির ঠিকানা বা বাবা-মায়ের ফোন নম্বর জানার চেষ্টা করব। প্রয়োজনে আমি তাকে সাথে নিয়ে তার বাড়িতে পৌঁছে দেব বা তার অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের আসতে বলব। কোনো অবস্থাতেই আমি তাকে একা কান্নারত অবস্থায় রাস্তায় ছেড়ে আসব না।”

১৭. একজন ছাত্রের হাতের লেখা খুব খারাপ। আপনি কীভাবে তাকে সাহায্য করবেন?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: একটি গঠনমূলক এবং ধৈর্যশীল পদ্ধতির কথা বলুন।

নমুনা উত্তর: “আমি তাকে বকাবকি না করে, এর পেছনের কারণ খোঁজার চেষ্টা করব। হতে পারে সে পেন্সিল ঠিকমতো ধরতে পারছে না (fine motor skills-এর সমস্যা) বা তার মনোযোগের অভাব রয়েছে। আমি তাকে কিছু মজাদার অনুশীলন দেব, যেমন – বিন্দু জুড়ে অক্ষর তৈরি করা বা স্লেটে লেখা। আমি তাকে সুন্দর হাতের লেখার জন্য ছোট ছোট পুরস্কার বা প্রশংসা করে উৎসাহিত করব। আমি ধৈর্য রাখব কারণ হাতের লেখা ভালো হতে সময় লাগে।”

১৮. আপনি কি মনে করেন যে শিক্ষকদের একটি নির্দিষ্ট ড্রেস কোড বা ইউনিফর্ম থাকা উচিত?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: একটি যুক্তিসঙ্গত এবং ভারসাম্যপূর্ণ মতামত দিন।

নমুনা উত্তর: “নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম থাকা বা না থাকা নিয়ে ভিন্ন মত থাকতে পারে। তবে আমি মনে করি, শিক্ষকদের পোশাক অবশ্যই শালীন, পরিচ্ছন্ন এবং পেশার মর্যাদার সাথে মানানসই হওয়া উচিত। ইউনিফর্ম থাকলে একটি সমতা এবং পেশাদারিত্বের পরিচয় ফুটে ওঠে। তবে ইউনিফর্ম না থাকলেও, শিক্ষকের রুচিশীল এবং মার্জিত পোশাক ছাত্রছাত্রীদের সামনে একটি ইতিবাচক আদর্শ তৈরি করে। মূল বিষয় হলো পোশাকের শালীনতা বজায় রাখা।”

১৯. আপনার জীবনের কোন অভিজ্ঞতা আপনাকে একজন ভালো শিক্ষক হতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করবে?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: একটি ব্যক্তিগত, সৎ এবং প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতার কথা বলুন।

নমুনা উত্তর: “আমার ছোটবেলায় আমি গণিতে খুব দুর্বল ছিলাম এবং বিষয়টি খুব ভয় পেতাম। তখন আমার একজন শিক্ষক আমাকে ভয় না দেখিয়ে, খুব ধৈর্য ধরে খেলার ছলে বিষয়টি বোঝাতে শুরু করেন। তাঁর উৎসাহ এবং বোঝানোর পদ্ধতির কারণে আমার ভয় কেটে যায় এবং আমি বিষয়টি ভালোবাসতে শুরু করি। এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে যে, সঠিক পদ্ধতি এবং সহানুভূতির সাথে শেখালে যেকোনো শিশুই শিখতে পারে। এই উপলব্ধিই আমাকে একজন ধৈর্যশীল এবং ছাত্রদরদী শিক্ষক হতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করবে।”

২০. এই ইন্টারভিউর পর আমাদের আপনাকে নিয়ে কী ভাবা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: আপনার মূল শক্তি এবং পেশার প্রতি আপনার আবেগকে সংক্ষেপে তুলে ধরে একটি ইতিবাচক সমাপ্তি টানুন।

নমুনা উত্তর: “আমি আশা করি এই ইন্টারভিউর পর আপনারা আমাকে এমন একজন প্রার্থী হিসেবে ভাববেন, যার শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং প্রশিক্ষণই নেই, বরং শিক্ষকতা পেশার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা এবং শিশুদের মন বোঝার আন্তরিক ইচ্ছা রয়েছে। আমি শুধু চাকরি করতে আসিনি, আমি এসেছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভালোবাসার সাথে গড়ে তুলতে।”

Scroll to Top