‘সাহিত্যকথা’ (দ্বিতীয় ভাষা- একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি
বাংলা সাহিত্য MCQ
গল্প: পথের পাঁচালী (বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়)
প্রশ্ন ১: ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের লেখকের নাম কী?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
বিস্তারিত উত্তর: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৪-১৯৫০) ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। প্রকৃতি ও গ্রামীণ জীবন তাঁর উপন্যাসের প্রধান উপজীব্য। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলির মধ্যে ‘পথের পাঁচালী’, ‘অপরাজিত’, ‘আরণ্যক’ অন্যতম।
প্রশ্ন ২: অপু ও দুর্গা কোন গ্রামের বাসিন্দা ছিল?
ক) নিশ্চিন্দিপুর
খ) হরিহরপুর
গ) আমআটি
ঘ) চন্দ্রনগর
সঠিক উত্তর: ক) নিশ্চিন্দিপুর
বিস্তারিত উত্তর: উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অপু ও দুর্গা নিশ্চিন্দিপুর গ্রামের এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে বসবাস করত। এই গ্রামটি ছিল তাদের শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতিতে ভরা।
প্রশ্ন ৩: অপুর বাবার নাম কী?
ক) রামচরণ
খ) হরিহর রায়
গ) সর্বজয়া
ঘ) নীলমণি
সঠিক উত্তর: খ) হরিহর রায়
বিস্তারিত উত্তর: হরিহর রায় ছিলেন অপুর বাবা। তিনি দরিদ্র ব্রাহ্মণ হলেও সাহিত্যচর্চা ও পূজাপাঠের প্রতি তাঁর অনুরাগ ছিল। অভাব সত্ত্বেও তিনি ছেলে-মেয়েকে আনন্দ দিতে চেষ্টা করতেন।
প্রশ্ন ৪: দুর্গা অপুর থেকে বয়সে __________।
ক) ছোট
খ) বড়
গ) সমান
ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: খ) বড়
বিস্তারিত উত্তর: দুর্গা ছিল অপুর বড় দিদি। তাদের ভাই-বোনের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর ও মধুর। দুর্গা অপুকে ভালোবাসত এবং তার বিভিন্ন খেলা ও অ্যাডভেঞ্চারের সঙ্গী ছিল।
প্রশ্ন ৫: ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু কী?
ক) শহরের কোলাহলপূর্ণ জীবন
খ) গ্রামীণ বাংলার শৈশব ও প্রকৃতি
গ) সমাজের রাজনৈতিক পটভূমি
ঘ) প্রেমের জটিলতা
সঠিক উত্তর: খ) গ্রামীণ বাংলার শৈশব ও প্রকৃতি
বিস্তারিত উত্তর: এই উপন্যাসে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রামীণ বাংলার এক দরিদ্র পরিবারের জীবনযাত্রার মধ্য দিয়ে অপু ও দুর্গার শৈশব, প্রকৃতি প্রেম, অভাব-অনটন, এবং তাদের স্বপ্ন ও কল্পনার জগতকে অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহীভাবে তুলে ধরেছেন।
প্রশ্ন ৬: অপুদের বাড়ির সামনের উঠোনে কোন গাছটি ছিল?
ক) আম গাছ
খ) জাম গাছ
গ) কাঁঠাল গাছ
ঘ) পেঁপে গাছ
সঠিক উত্তর: ক) আম গাছ
বিস্তারিত উত্তর: অপুদের বাড়ির সামনের উঠোনে একটি বড় আম গাছ ছিল, যার নিচে অপু ও দুর্গা খেলাধুলা করত। এটি তাদের শৈশবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
প্রশ্ন ৭: দুর্গা কী নিয়ে খেলা করতে ভালোবাসত?
ক) পুতুল
খ) কাঁচের গুলি
গ) কড়ি
ঘ) ঢিল
সঠিক উত্তর: গ) কড়ি
বিস্তারিত উত্তর: দুর্গা কড়ি নিয়ে খেলা করতে ভালোবাসত। তার কাছে অনেক কড়ি জমানো ছিল, যা দিয়ে সে বিভিন্ন ধরনের খেলা খেলত।
প্রশ্ন ৮: অপুর প্রিয় খেলা কী ছিল?
ক) ফুটবল খেলা
খ) লুকোচুরি খেলা
গ) দিদির সাথে গল্প করা ও নতুন জিনিস আবিষ্কার করা
ঘ) ঘুড়ি ওড়ানো
সঠিক উত্তর: গ) দিদির সাথে গল্প করা ও নতুন জিনিস আবিষ্কার করা
বিস্তারিত উত্তর: অপু দুর্গার সাথে বিভিন্ন ধরনের অ্যাডভেঞ্চারে অংশ নিত, যেমন – নিশ্চিন্দিপুর গ্রাম থেকে বের হয়ে রেললাইন দেখতে যাওয়া, বা দূর অজানা গ্রামের দিকে এগিয়ে যাওয়া। দিদির সাথে গল্প করা এবং নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করা ছিল তার প্রধান আগ্রহ।
প্রশ্ন ৯: উপন্যাসে গ্রাম বাংলার কোন ঋতুর বর্ণনা বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে?
ক) শীতকাল
খ) বর্ষাকাল
গ) গ্রীষ্মকাল
ঘ) শরৎকাল
সঠিক উত্তর: খ) বর্ষাকাল
বিস্তারিত উত্তর: ‘পথের পাঁচালী’-তে বর্ষাকালের এক বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। বর্ষার সময় প্রকৃতি কীভাবে সজীব হয়ে ওঠে এবং অপু-দুর্গার জীবনে তার কী প্রভাব পড়ে, তা সুন্দরভাবে বর্ণিত হয়েছে। দুর্গার মৃত্যুও বর্ষাকালে ঘটে।
প্রশ্ন ১০: অপু প্রথম কোন জিনিসটি দেখে অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছিল?
ক) রেলগাড়ি
খ) সিনেমা হল
গ) বড় শহর
ঘ) নদী
সঠিক উত্তর: ক) রেলগাড়ি
বিস্তারিত উত্তর: অপু প্রথম যখন দূর থেকে রেলগাড়ি দেখেছিল, তখন সে অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছিল। এই রেলগাড়ি ছিল তার কাছে এক নতুন জগতের প্রবেশদ্বার।
প্রশ্ন ১১: অপুর মায়ের নাম কী?
ক) দুর্গা
খ) সর্বজয়া
গ) মালতী
ঘ) নিস্তারিণী
সঠিক উত্তর: খ) সর্বজয়া
বিস্তারিত উত্তর: সর্বজয়া ছিলেন অপু ও দুর্গার মা। তিনি ছিলেন একজন স্নেহময়ী মা, যিনি অভাবের মধ্যেও সন্তানদের সুখ-শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করতেন।
প্রশ্ন ১২: হরিহর রায় কোন কাজ করতেন?
ক) শিক্ষকতা
খ) পৌরোহিত্য
গ) ব্যবসা
ঘ) কৃষিকাজ
সঠিক উত্তর: খ) পৌরোহিত্য
বিস্তারিত উত্তর: হরিহর রায় গ্রামের দরিদ্র ব্রাহ্মণ ছিলেন এবং তিনি পৌরোহিত্য করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে তার আয় খুব বেশি ছিল না।
প্রশ্ন ১৩: অপু-দুর্গার প্রিয় খেলা কী ছিল?
ক) লুকোচুরি
খ) রান্নাবাটি
গ) ডাংগুলি
ঘ) পুতুল খেলা
সঠিক উত্তর: খ) রান্নাবাটি
বিস্তারিত উত্তর: অপু ও দুর্গা প্রায়শই তাদের বাড়ির পেছনে এবং জঙ্গলে রান্নাবাটি খেলত। এটি তাদের শৈশবের এক আনন্দময় অংশ ছিল।
প্রশ্ন ১৪: দুর্গা কোন ফল চুরি করে খেতে পছন্দ করত?
ক) আম
খ) পেয়ারা
গ) জাম
ঘ) কুল
সঠিক উত্তর: ক) আম
বিস্তারিত উত্তর: দুর্গা প্রায়শই প্রতিবেশীর বাগান থেকে কাঁচা আম চুরি করে আনত এবং অপু ও সে লুকিয়ে খেত। এটি তাদের দুরন্ত শৈশবের একটি পরিচিত চিত্র।
প্রশ্ন ১৫: অপুর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
ক) সে খুব চঞ্চল ছিল।
খ) সে খুব শান্ত ও বই পড়তে ভালোবাসত।
গ) সে খেলাধুলায় দক্ষ ছিল।
ঘ) সে খুব অল্পতেই রেগে যেত।
সঠিক উত্তর: খ) সে খুব শান্ত ও বই পড়তে ভালোবাসত।
বিস্তারিত উত্তর: অপু ছিল তার দিদি দুর্গার চেয়ে শান্ত প্রকৃতির। সে গল্পের বই পড়তে এবং নতুন জিনিস সম্পর্কে জানতে ভালোবাসত।
প্রশ্ন ১৬: অপু ও দুর্গা কোন ফুল পাড়তে ভালোবাসত?
ক) জবা
খ) বুনো ফুল (যেমন কাশফুল, অপরাজিতা)
গ) গোলাপ
ঘ) গাঁদা
সঠিক উত্তর: খ) বুনো ফুল (যেমন কাশফুল, অপরাজিতা)
বিস্তারিত উত্তর: অপু ও দুর্গা নিশ্চিন্দিপুরের প্রকৃতির সাথে নিবিড়ভাবে মিশে ছিল। তারা বুনো ফুল, বিশেষ করে কাশফুল ও অপরাজিতা ফুল পাড়তে ভালোবাসত এবং তা দিয়ে খেলাধুলা করত।
প্রশ্ন ১৭: দুর্গা অপুকে কোন খেলার ছলে ভয় দেখাতো?
ক) ভূত সেজে
খ) বাঘ সেজে
গ) সাপ সেজে
ঘ) রাক্ষস সেজে
সঠিক উত্তর: খ) বাঘ সেজে
বিস্তারিত উত্তর: দুর্গা প্রায়শই ছোট ভাই অপুকে বাঘ সেজে বা বাঘের মতো গর্জন করে ভয় দেখাতো, যা তাদের ভাইবোনের দুষ্টুমি ও ভালোবাসার সম্পর্ককে ফুটিয়ে তোলে।
প্রশ্ন ১৮: অপুর চরিত্রের একটি প্রধান দিক কী ছিল?
ক) বাস্তববাদীতা
খ) কল্পনাবিলাসিতা
গ) ভোগবাদ
ঘ) নেতৃত্বদানের প্রবণতা
সঠিক উত্তর: খ) কল্পনাবিলাসিতা
বিস্তারিত উত্তর: অপু ছিল অত্যন্ত কল্পনাবিলাসী। সে প্রকৃতির মধ্যে একাকী হেঁটে বেড়াতো এবং নিজের মনে বিভিন্ন গল্প ও জগৎ তৈরি করত।
প্রশ্ন ১৯: পথের পাঁচালী উপন্যাসে গ্রাম বাংলার কোন দিকটি তুলে ধরা হয়েছে?
ক) কৃষিকাজ ও অর্থনৈতিক উন্নতি
খ) দারিদ্র্য, প্রকৃতির সাথে মানুষের জীবনযাপন ও শৈশব
গ) সামাজিক সমস্যা ও দুর্নীতি
ঘ) শহরের প্রভাব
সঠিক উত্তর: খ) দারিদ্র্য, প্রকৃতির সাথে মানুষের জীবনযাপন ও শৈশব
বিস্তারিত উত্তর: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই উপন্যাসে গ্রাম বাংলার এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারের জীবন, তাদের অভাব-অনটন, এবং প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে বেড়ে ওঠা অপু-দুর্গার শৈশবকে চিত্রিত করেছেন।
প্রশ্ন ২০: হরিহরের পেশার জন্য তাদের পরিবারে প্রায়শই কীসের অভাব দেখা যেত?
ক) বস্ত্রের
খ) অর্থের
গ) আশ্রয়ের
ঘ) জ্ঞানের
সঠিক উত্তর: খ) অর্থের
বিস্তারিত উত্তর: হরিহরের পৌরোহিত্য থেকে আয় খুবই কম ছিল, ফলে তাদের পরিবারে প্রায়শই অর্থের অভাব দেখা যেত, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে বহু সমস্যার সৃষ্টি করত।
প্রশ্ন ২১: অপুর বাবার মৃত্যুর পর তাদের পরিবার কোথায় চলে যায়?
ক) কাশীতে
খ) কলকাতায়
গ) অন্য কোনো গ্রামে
ঘ) তাদের নিজেদের গ্রামে থাকে
সঠিক উত্তর: ক) কাশীতে
বিস্তারিত উত্তর: হরিহরের মৃত্যুর পর সর্বজয়া অপু ও দুর্গার (যদিও দুর্গা মারা যায়) অবশিষ্ট জীবন নিয়ে ভাগ্যানুসন্ধানে কাশীতে চলে যায়। এটি তাদের জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
প্রশ্ন ২২: দুর্গার মৃত্যুর কারণ কী ছিল?
ক) সাপের কামড়
খ) জ্বর
গ) ডায়রিয়া
ঘ) ডুবে যাওয়া
সঠিক উত্তর: খ) জ্বর
বিস্তারিত উত্তর: বর্ষাকালে প্রবল বৃষ্টির পর দুর্গা জ্বরে আক্রান্ত হয় এবং চিকিৎসার অভাবে তার মৃত্যু হয়। এটি উপন্যাসের এক অত্যন্ত বেদনাদায়ক মুহূর্ত।
প্রশ্ন ২৩: অপুর কোন চরিত্রটি তাকে ভবিষ্যতে এক লেখক হিসেবে পরিচিতি দেয়?
ক) তার দুরন্তপনা
খ) তার পড়াশোনার প্রতি অদম্য আগ্রহ ও কল্পনাপ্রবণতা
গ) তার প্রতিবাদী মনোভাব
ঘ) তার সামাজিকতা
সঠিক উত্তর: খ) তার পড়াশোনার প্রতি অদম্য আগ্রহ ও কল্পনাপ্রবণতা
বিস্তারিত উত্তর: অপুর বই পড়া, কল্পনা করা এবং নতুন জিনিস জানার প্রতি অদম্য আগ্রহ তাকে একজন সংবেদনশীল ও পর্যবেক্ষণশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে তোলে, যা পরবর্তীতে তাকে একজন লেখক বা শিল্পীতে পরিণত করে।
প্রশ্ন ২৪: ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের নামকরণ সার্থকতা কিসে নিহিত?
ক) একটি পথের বর্ণনা
খ) অপুর জীবনপথের পাঁচালী বা গান
গ) গ্রামের বর্ণনা
ঘ) পরিবারের বর্ণনা
সঠিক উত্তর: খ) অপুর জীবনপথের পাঁচালী বা গান
বিস্তারিত উত্তর: ‘পথের পাঁচালী’ নামকরণটি সার্থক, কারণ এটি অপু ও তার পরিবারের অনিশ্চিত জীবনপথের এক কাব্যিক বর্ণনা। তাদের জীবন যেন একটি চলমান গানের মতো, যেখানে প্রতি পদে নতুন অভিজ্ঞতা ও ঘটনা ঘটে।
প্রশ্ন ২৫: দুর্গা অপুর জন্য কী নিয়ে আসত প্রায়শই?
ক) খেলনা
খ) নতুন জামাকাপড়
গ) লুকানো আম বা অন্যান্য ফল
ঘ) বই
সঠিক উত্তর: গ) লুকানো আম বা অন্যান্য ফল
বিস্তারিত উত্তর: দুর্গা প্রায়শই প্রতিবেশীর বাগান থেকে লুকিয়ে আম বা অন্যান্য ফল নিয়ে আসত এবং অপুর সাথে ভাগ করে খেত, যা তাদের ভাইবোনের ভালোবাসার এক সুন্দর দিক ছিল।
প্রশ্ন ২৬: হরিহর রায়ের ভিটেবাড়িতে কীসের অভাব ছিল না?
ক) গাছের
খ) বইয়ের
গ) অর্থের
ঘ) আত্মীয়-স্বজনের
সঠিক উত্তর: ক) গাছের
বিস্তারিত উত্তর: হরিহর রায়ের ভিটেবাড়িতে অর্থের অভাব থাকলেও, চারপাশের প্রকৃতিতে গাছের অভাব ছিল না। তার বাড়িতে আম, কাঁঠাল ইত্যাদি গাছ ছিল, যা অপু-দুর্গার শৈশবে আনন্দ যোগাত।
প্রশ্ন ২৭: অপুর চরিত্রের কোন দিকটি তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে?
ক) তার রাগি স্বভাব
খ) তার পড়াশোনায় অনীহা
গ) তার অনুসন্ধিৎসু মন ও স্বপ্ন দেখার ক্ষমতা
ঘ) তার নিষ্ঠুরতা
সঠিক উত্তর: গ) তার অনুসন্ধিৎসু মন ও স্বপ্ন দেখার ক্ষমতা
বিস্তারিত উত্তর: অপু ছিল অত্যন্ত অনুসন্ধিৎসু ও কল্পনাবিলাসী। সে প্রকৃতির প্রতিটি কোণে নতুন কিছু আবিষ্কার করত এবং তার ছোট চোখ দিয়ে স্বপ্ন দেখত, যা তাকে সাধারণ শিশুদের থেকে আলাদা করে তোলে।
প্রশ্ন ২৮: দুর্গা অপুকে কোন নামে ডাকত?
ক) ভাইয়া
খ) অপুয়া
গ) ছোড়দা
ঘ) ছোট্টু
সঠিক উত্তর: খ) অপুয়া
বিস্তারিত উত্তর: দিদি দুর্গা স্নেহের সাথে অপুকে ‘অপুয়া’ বলে ডাকত। এই ছোট ছোট ডাকগুলি তাদের ভাইবোনের অটুট বন্ধনকে ফুটিয়ে তোলে।
প্রশ্ন ২৯: ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কোন ধরনের ভাষাশৈলী ব্যবহার করেছেন?
ক) সাধু ভাষা
খ) চলিত ভাষা ও আঞ্চলিকতার মিশ্রণ
গ) কাব্যিক ভাষা
ঘ) জটিল ও তৎসম শব্দবহুল ভাষা
সঠিক উত্তর: খ) চলিত ভাষা ও আঞ্চলিকতার মিশ্রণ
বিস্তারিত উত্তর: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই উপন্যাসে সহজ, সরল চলিত ভাষার পাশাপাশি গ্রামীণ জীবনের বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তুলতে আঞ্চলিক শব্দ ও উপমা ব্যবহার করেছেন।
প্রশ্ন ৩০: উপন্যাসে রেলগাড়ি দেখার ঘটনাটি অপুর মনে কী প্রভাব ফেলেছিল?
ক) ভয়
খ) হতাশা
গ) নতুন দিগন্ত ও বাইরের জগৎ সম্পর্কে কৌতূহল
ঘ) রাগ
সঠিক উত্তর: গ) নতুন দিগন্ত ও বাইরের জগৎ সম্পর্কে কৌতূহল
বিস্তারিত উত্তর: রেলগাড়ি দেখা ছিল অপুর কাছে এক নতুন অভিজ্ঞতা। এটি তার মনে অজানাকে জানার, বাইরের বিশাল জগৎ সম্পর্কে কৌতূহল এবং নতুন দিগন্তের স্বপ্ন তৈরি করেছিল।
প্রশ্ন ৩১: অপু ও দুর্গা কোথায় রেলগাড়ি দেখতে যেত?
ক) গ্রামের পাশে
খ) মাঠের ধারে
গ) কাশবনের ভেতর দিয়ে
ঘ) স্টেশনে
সঠিক উত্তর: গ) কাশবনের ভেতর দিয়ে
বিস্তারিত উত্তর: অপু ও দুর্গা গ্রামের পাশ দিয়ে বিস্তৃত কাশবনের ভেতর দিয়ে হেঁটে রেলগাড়ি দেখতে যেত। কাশবন তাদের কাছে ছিল রহস্যময় ও রোমাঞ্চকর এক জগৎ।
প্রশ্ন ৩২: হরিহর রায় গ্রামের বাইরে কেন গিয়েছিলেন?
ক) চাকরি খুঁজতে
খ) ব্যবসা করতে
গ) পূজা করতে
ঘ) আত্মীয়ের বাড়ি
সঠিক উত্তর: ক) চাকরি খুঁজতে
বিস্তারিত উত্তর: হরিহর রায় গ্রামের অভাবের কারণে পরিবারের ভালো ভবিষ্যতের জন্য গ্রামের বাইরে চাকরি খুঁজতে গিয়েছিলেন।
প্রশ্ন ৩৩: দুর্গা কী চুরি করত?
ক) কাপড়
খ) বাসন
গ) ফল ও অন্যান্য খাবার জিনিস
ঘ) খেলনা
সঠিক উত্তর: গ) ফল ও অন্যান্য খাবার জিনিস
বিস্তারিত উত্তর: দুর্গা প্রায়শই প্রতিবেশীর বাগান থেকে ফল এবং অন্যান্য খাবার জিনিস চুরি করত। এটি ছিল তাদের অভাবী জীবনের প্রতিচ্ছবি।
প্রশ্ন ৩৪: অপু কোন ধরনের গল্প পড়তে ভালোবাসত?
ক) ভূতের গল্প
খ) রাজার গল্প
গ) ভ্রমণ ও অ্যাডভেঞ্চারের গল্প
ঘ) প্রেমের গল্প
সঠিক উত্তর: গ) ভ্রমণ ও অ্যাডভেঞ্চারের গল্প
বিস্তারিত উত্তর: অপু ভ্রমণ ও অ্যাডভেঞ্চারের গল্প পড়তে খুব ভালোবাসত। এই ধরনের গল্পগুলো তার মনে নতুন জগৎ ও অভিজ্ঞতার প্রতি আগ্রহ তৈরি করত।
প্রশ্ন ৩৫: ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসে কোন নদীর কথা উল্লেখ আছে?
ক) গঙ্গা
খ) যমুনা
গ) ইচ্ছামতী
ঘ) কোনো নদীর নাম উল্লেখ নেই, তবে একটি নদীর বর্ণনা আছে
সঠিক উত্তর: ঘ) কোনো নদীর নাম উল্লেখ নেই, তবে একটি নদীর বর্ণনা আছে
বিস্তারিত উত্তর: এই উপন্যাসে কোনো নির্দিষ্ট নদীর নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে গ্রামের পাশে একটি নদীর (ইছামতী নদীর আদলে) বর্ণনা রয়েছে, যা অপু ও দুর্গার জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে ছিল।
প্রশ্ন ৩৬: অপুর চরিত্রটি কিসের প্রতীক?
ক) শহুরে জীবনের প্রতীক
খ) গ্রামীণ শৈশব ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার প্রতীক
গ) সমাজের দরিদ্র শ্রেণীর প্রতীক
ঘ) আধুনিকতার প্রতীক
সঠিক উত্তর: খ) গ্রামীণ শৈশব ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার প্রতীক
বিস্তারিত উত্তর: অপুর চরিত্রটি গ্রাম বাংলার নিরুপদ্রব শৈশব, প্রকৃতির সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক এবং নতুন কিছু জানার অদম্য আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
প্রশ্ন ৩৭: দুর্গা অপুকে কিসের খেলা শেখাতো?
ক) ক্রিকেট
খ) ফুটবল
গ) গাছ-গাছালি ও প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান দিয়ে তৈরি খেলা
ঘ) কম্পিউটার গেম
সঠিক উত্তর: গ) গাছ-গাছালি ও প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান দিয়ে তৈরি খেলা
বিস্তারিত উত্তর: দুর্গা ছিল প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকা একটি চরিত্র। সে অপুকে গাছপালা, ফল, ফুল এবং বুনো উপাদান দিয়ে বিভিন্ন ধরনের খেলার কৌশল শেখাতো।
প্রশ্ন ৩৮: পথের পাঁচালী উপন্যাসের মাধ্যমে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কোন বিষয়টি তুলে ধরেছেন?
ক) শহুরে জীবনের জটিলতা
খ) গ্রামীণ জীবনের সরলতা ও তার সংকট
গ) আধুনিক সভ্যতার প্রভাব
ঘ) ধনী শ্রেণীর জীবনযাত্রা
সঠিক উত্তর: খ) গ্রামীণ জীবনের সরলতা ও তার সংকট
বিস্তারিত উত্তর: এই উপন্যাসে বিভূতিভূষণ গ্রামীণ জীবনের সরলতা, নির্ভেজাল আনন্দ এবং একইসাথে অভাব, দুঃখ ও অনিশ্চয়তার মতো সংকটগুলিকেও ফুটিয়ে তুলেছেন।
প্রশ্ন ৩৯: ইন্দির ঠাকরুণের সাথে অপু-দুর্গার সম্পর্ক কেমন ছিল?
ক) শত্রুতার
খ) উদাসীনতার
গ) স্নেহ ও আবদারের
ঘ) ভয়ের
সঠিক উত্তর: গ) স্নেহ ও আবদারের
বিস্তারিত উত্তর: ইন্দির ঠাকরুণ ছিলেন অপু ও দুর্গার কাছে এক স্নেহময়ী বৃদ্ধা, যার কাছে তারা গল্প শুনত ও আবদার করত। তিনি তাদের শৈশবের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন।
প্রশ্ন ৪০: সর্বজয়া কেন ইন্দির ঠাকরুণকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল?
ক) চুরির অভিযোগে
খ) ঝগড়ার কারণে
গ) দারিদ্র্যের কারণে সংসারের বোঝা কমাতে
ঘ) অন্য কোথাও ভালো থাকার সুযোগ করে দিতে
সঠিক উত্তর: গ) দারিদ্র্যের কারণে সংসারের বোঝা কমাতে
বিস্তারিত উত্তর: সংসারের চরম দারিদ্র্যের কারণে এবং ইন্দির ঠাকরুণের প্রতি বিরক্তির কারণে সর্বজয়া একসময় তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়, যা ছিল এক কঠিন ও হৃদয়বিদারক সিদ্ধান্ত।
প্রশ্ন ৪১: অপু গ্রামের পাঠশালায় কী শিখতে গিয়েছিল?
ক) ইংরেজি
খ) অঙ্ক ও বাংলা
গ) সংস্কৃত
ঘ) বিজ্ঞান
সঠিক উত্তর: খ) অঙ্ক ও বাংলা
বিস্তারিত উত্তর: অপু গ্রামের পাঠশালায় প্রসন্ন গুরুমশাইয়ের কাছে অঙ্ক এবং বাংলা বর্ণপরিচয় ও প্রাথমিক পাঠ শিখতে গিয়েছিল।
বিস্তারিত উত্তর: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই উপন্যাসে প্রকৃতিকে একটি জীবন্ত সত্তা হিসেবে চিত্রিত করেছেন, যা অপু ও দুর্গার শৈশবকে ঘিরে রহস্যময় ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল।
প্রশ্ন ৪৩: ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের সূচনায় কোন ঋতুর বর্ণনা প্রাধান্য পেয়েছে?
ক) বর্ষা
খ) শরৎ
গ) শীত
ঘ) গ্রীষ্ম
সঠিক উত্তর: খ) শরৎ
বিস্তারিত উত্তর: ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের শুরুতে শরৎকালের মনোগ্রাহী বর্ণনা রয়েছে, বিশেষ করে কাশবনের দৃশ্য অপু ও দুর্গার আনন্দের সাথে জড়িত।
প্রশ্ন ৪৪: ইন্দির ঠাকরুণের মৃত্যুর পর অপু ও দুর্গার মনে কেমন প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?
ক) তারা খুব আনন্দিত হয়েছিল
খ) তারা গভীর দুঃখ ও শূন্যতা অনুভব করেছিল
গ) তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া হয়নি
ঘ) তারা স্বস্তি পেয়েছিল
সঠিক উত্তর: খ) তারা গভীর দুঃখ ও শূন্যতা অনুভব করেছিল
বিস্তারিত উত্তর: ইন্দির ঠাকরুণের মৃত্যু অপু ও দুর্গার শিশু মনে গভীর দুঃখ ও এক ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছিল, কারণ তিনি তাদের শৈশবের অংশ ছিলেন।
প্রশ্ন ৪৫: নিশ্চিন্দিপুরের পাশে কোন বন বা জঙ্গলের কথা উল্লেখ পাওয়া যায় যেখানে অপু-দুর্গা প্রায়শই যেত?
ক) শালবন
খ) সুন্দরবন
গ) বাঁশবাগান ও অন্যান্য জঙ্গল
ঘ) আমবাগান
সঠিক উত্তর: গ) বাঁশবাগান ও অন্যান্য জঙ্গল
বিস্তারিত উত্তর: উপন্যাসে অপুদের বাড়ির আশেপাশে বাঁশবাগান এবং অন্যান্য ছোটখাটো জঙ্গলের উল্লেখ আছে, যেখানে অপু ও দুর্গা খেলা করত এবং ফলমূল সংগ্রহ করত।
প্রশ্ন ৪৬: সর্বজয়ার চরিত্রের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
ক) চরম বিলাসিতা
খ) সংসারের প্রতি গভীর মমতা ও আত্মত্যাগ
গ) উদাসীনতা
ঘ) অন্যের প্রতি হিংসা
সঠিক উত্তর: খ) সংসারের প্রতি গভীর মমতা ও আত্মত্যাগ
বিস্তারিত উত্তর: সর্বজয়া ছিলেন একজন স্নেহময়ী মা এবং স্ত্রী, যিনি চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও সংসারের প্রতি গভীর মমতা ও আত্মত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন।
গল্প: আহ্বান (বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়)
প্রশ্ন ৪৭: ‘আহ্বান’ গল্পে বুড়ো রহমান মিঞা কোন কাজ করতেন?
ক) কৃষিকাজ
খ) ব্যবসা
গ) ফেরিওয়ালা
ঘ) মুটের কাজ
সঠিক উত্তর: ক) কৃষিকাজ
বিস্তারিত উত্তর: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আহ্বান’ গল্পে বুড়ো রহমান মিঞা ছিলেন একজন দরিদ্র কৃষক। তিনি লেখককে নিজের হাতে ফলানো লাউ উপহার দিয়েছিলেন, যা ছিল তাঁর সরলতা ও ভালোবাসার প্রতীক।
প্রশ্ন ৪৮: ‘আহ্বান’ গল্পে লেখকের সঙ্গে রহমান মিঞার সম্পর্ক কেমন ছিল?
ক) শুধুমাত্র আর্থিক সম্পর্ক
খ) প্রভু-ভৃত্যের সম্পর্ক
গ) গভীর মানবিক সম্পর্ক
ঘ) শত্রুতার সম্পর্ক
সঠিক উত্তর: গ) গভীর মানবিক সম্পর্ক
বিস্তারিত উত্তর: এই গল্পে লেখক ও রহমান মিঞার মধ্যে এক জাতিগত ভেদাভেদহীন, অকৃত্রিম মানবিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। রহমান মিঞার প্রতি লেখকের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা এবং রহমান মিঞার নিঃস্বার্থ স্নেহ এই সম্পর্কের মূল ভিত্তি ছিল।
প্রশ্ন ৪৯: ‘আহ্বান’ গল্পে রহমান মিঞা লেখককে কী উপহার দিয়েছিলেন?
ক) ফল
খ) লাউ
গ) শাকসবজি
ঘ) টাকা
সঠিক উত্তর: খ) লাউ
বিস্তারিত উত্তর: রহমান মিঞা নিজের ক্ষেতে ফলানো একটি বড় লাউ লেখককে উপহার দিয়েছিলেন। এই লাউ শুধু একটি সবজি ছিল না, এটি ছিল তাঁর ভালোবাসা ও সরলতার প্রতীক।
প্রশ্ন ৫০: ‘আহ্বান’ গল্পে লেখকের কোন অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে?
ক) ঘৃণা
খ) অবহেলা
গ) গভীর মমতা ও কৃতজ্ঞতা
ঘ) ভয়
সঠিক উত্তর: গ) গভীর মমতা ও কৃতজ্ঞতা
বিস্তারিত উত্তর: রহমান মিঞার নিঃস্বার্থ সেবা ও ভালোবাসায় লেখক গভীরভাবে আপ্লুত হয়েছিলেন। গল্পে তাঁর প্রতি লেখকের শ্রদ্ধা, মমতা এবং কৃতজ্ঞতার অনুভূতি সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রশ্ন ৫১: ‘আহ্বান’ গল্পের মূল রস কী?
ক) হাস্যরস
খ) করুণ রস
গ) শান্ত রস
ঘ) ভক্তি রস
সঠিক উত্তর: গ) শান্ত রস
বিস্তারিত উত্তর: এই গল্পে কোলাহলমুক্ত, গ্রামীণ পরিবেশে একটি নির্মল মানবিক সম্পর্কের বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে কোনো তীব্র উত্তেজনা বা দুঃখের অনুভূতি নেই, বরং এক ধরনের শান্তি ও স্নিগ্ধতা বিরাজমান, যা শান্ত রসের দ্যোতক।
প্রশ্ন ৫২: ‘আহ্বান’ গল্পে লেখক কোথায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন?
ক) একটি চায়ের দোকানে
খ) একটি বটগাছের নিচে
গ) রেলওয়ে স্টেশনে
ঘ) তার নিজের বাড়িতে
সঠিক উত্তর: খ) একটি বটগাছের নিচে
বিস্তারিত উত্তর: গল্পে লেখক একটি বটগাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, যেখানে রহমান মিঞার সাথে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ হয়।
প্রশ্ন ৫৩: রহমান মিঞা লেখককে প্রথম কী খেতে দিয়েছিলেন?
ক) আম
খ) নারকেল
গ) তরমুজ
ঘ) কাঁঠাল
সঠিক উত্তর: খ) নারকেল
বিস্তারিত উত্তর: রহমান মিঞা লেখককে প্রথমে ডাব বা কচি নারকেলের জল খেতে দিয়েছিলেন, যা তাদের সম্পর্কের প্রথম উষ্ণ মুহূর্ত ছিল।
প্রশ্ন ৫৪: লেখকের বাড়িতে কোন ধরনের ফল গাছ ছিল?
ক) পেয়ারা গাছ
খ) কামরাঙা গাছ
গ) লিচু গাছ
ঘ) আম গাছ
সঠিক উত্তর: খ) কামরাঙা গাছ
বিস্তারিত উত্তর: লেখক তার ছোটবেলার স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে তার বাড়ির কামরাঙা গাছের কথা উল্লেখ করেছেন, যা রহমান মিঞার প্রতি তাঁর এক ধরনের নস্টালজিক টান তৈরি করে।
প্রশ্ন ৫৫: রহমান মিঞা লেখকের জন্য কী ধরনের খাবার রান্না করে পাঠিয়েছিলেন?
ক) লুচি-তরকারি
খ) মাংসের তরকারি
গ) ভাত ও মাছ ভাজা
ঘ) খিচুড়ি
সঠিক উত্তর: গ) ভাত ও মাছ ভাজা
বিস্তারিত উত্তর: রহমান মিঞা আন্তরিকতা সহকারে লেখককে নিজের হাতে রান্না করা ভাত ও মাছ ভাজা পাঠিয়েছিলেন, যা লেখকের মনকে ছুঁয়ে গিয়েছিল।
প্রশ্ন ৫৬: ‘আহ্বান’ গল্পে সমাজ চেতনার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?
ক) অর্থনৈতিক বৈষম্য
খ) ধর্মীয় সম্প্রীতি
গ) জাতিভেদ প্রথা
ঘ) নারীর অধিকার
সঠিক উত্তর: খ) ধর্মীয় সম্প্রীতি
বিস্তারিত উত্তর: এই গল্পে হিন্দু-মুসলমান দুই ভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে এক গভীর, অকৃত্রিম সম্পর্ক দেখানো হয়েছে, যা ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
প্রশ্ন ৫৭: রহমান মিঞা কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন?
ক) হিন্দু
খ) খ্রিস্টান
গ) মুসলমান
ঘ) বৌদ্ধ
সঠিক উত্তর: গ) মুসলমান
বিস্তারিত উত্তর: রহমান মিঞা ছিলেন একজন মুসলমান ধর্মাবলম্বী, যিনি তার সরলতা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে লেখকের মন জয় করেছিলেন।
প্রশ্ন ৫৮: রহমান মিঞার চরিত্রের মূল বৈশিষ্ট্য কী?
ক) ধূর্ততা
খ) হিংসা
গ) সরলতা ও মানবিকতা
ঘ) লোভ
সঠিক উত্তর: গ) সরলতা ও মানবিকতা
বিস্তারিত উত্তর: রহমান মিঞা ছিলেন অত্যন্ত সরল, সৎ এবং মানবিক গুণসম্পন্ন একজন ব্যক্তি। তিনি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও যত্ন দেখাতেন।
প্রশ্ন ৫৯: লেখকের বাড়ি থেকে রহমান মিঞার গ্রাম কত দূরে ছিল?
ক) খুব কাছে
খ) দু-এক মাইল দূরে
গ) অনেক দূরে
ঘ) একই গ্রামে
সঠিক উত্তর: খ) দু-এক মাইল দূরে
বিস্তারিত উত্তর: লেখক উল্লেখ করেছেন যে, রহমান মিঞার গ্রাম তার বাড়ি থেকে প্রায় দু-এক মাইল দূরে অবস্থিত ছিল। এই দূরত্ব তাদের সম্পর্কের উষ্ণতায় কোনো বাধা ছিল না।
প্রশ্ন ৬০: রহমান মিঞা লেখককে কী নামে ডাকতেন?
ক) বাবু
খ) দাদা
গ) বাবা
ঘ) হুজুর
সঠিক উত্তর: গ) বাবা
বিস্তারিত উত্তর: রহমান মিঞা লেখককে ‘বাবা’ বলে ডাকতেন, যা তাদের সম্পর্ককে এক গভীর স্নেহ ও ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করেছিল। এটি একটি অকৃত্রিম পিতৃতুল্য স্নেহের প্রকাশ ছিল।
প্রশ্ন ৬১: এই গল্পের দ্বারা লেখক কোন বার্তা দিতে চেয়েছেন?
ক) ধর্মীয় শ্রেষ্ঠত্ব
খ) মানবিকতার ঊর্ধ্বে কোনো ধর্ম নেই
গ) সামাজিক বৈষম্য
ঘ) গ্রামীণ জীবনযাপন
সঠিক উত্তর: খ) মানবিকতার ঊর্ধ্বে কোনো ধর্ম নেই
বিস্তারিত উত্তর: এই গল্পের মূল বার্তা হলো, মানবিকতা ও ভালোবাসার কোনো ধর্ম বা জাতি নেই। রহমান মিঞার চরিত্র এই সত্যটিকেই তুলে ধরে।
প্রশ্ন ৬২: রহমান মিঞা লেখককে দেখতে এলে তিনি কী দিয়ে আপ্যায়ন করতেন?
ক) চা
খ) বিস্কুট
গ) মুড়ি ও গুড়
ঘ) মিষ্টি
সঠিক উত্তর: গ) মুড়ি ও গুড়
বিস্তারিত উত্তর: রহমান মিঞা যখন লেখককে দেখতে আসতেন, লেখক তাকে মুড়ি ও গুড় দিয়ে আপ্যায়ন করতেন। এই সাধারণ আপ্যায়ন তাদের অকৃত্রিম সম্পর্ককে আরও মধুর করে তুলত।
প্রশ্ন ৬৩: রহমান মিঞার স্ত্রীর নাম কী ছিল?
ক) রহিমা
খ) আমেনা
গ) ফাতেমা
ঘ) আয়েষা
সঠিক উত্তর: খ) আমেনা
বিস্তারিত উত্তর: রহমান মিঞার স্ত্রীর নাম ছিল আমেনা। তিনি লেখকের জন্য বিভিন্ন সময়ে খাবার তৈরি করে পাঠিয়েছিলেন, যা তাঁদের পরিবারের প্রতি লেখকের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাকে বাড়িয়ে দিয়েছিল।
প্রশ্ন ৬৪: লেখক যখন গ্রামে ফিরে আসেন, তখন রহমান মিঞা প্রথম কী প্রশ্ন করেন?
ক) তিনি কেমন আছেন
খ) তিনি কেন এসেছেন
গ) তার শরীর ভালো আছে কিনা
ঘ) শহর থেকে কী এনেছেন
সঠিক উত্তর: গ) তার শরীর ভালো আছে কিনা
বিস্তারিত উত্তর: লেখক যখন গ্রামে ফিরে আসেন, রহমান মিঞা প্রথম প্রশ্ন করেন লেখকের শরীর ভালো আছে কিনা। এটি তাঁর সরলতা ও লেখকের প্রতি গভীর চিন্তার প্রকাশ।
বিস্তারিত উত্তর: গল্পের অধিকাংশ ঘটনা শান্ত, গ্রামীণ পরিবেশে ঘটে। প্রকৃতির স্নিগ্ধতা এবং সাধারণ মানুষের সরল জীবনযাপন এই গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রশ্ন ৬৬: রহমান মিঞা কোন সময়ে লেখককে লাউ উপহার দিয়েছিলেন?
ক) সকালে
খ) দুপুরে
গ) সন্ধ্যায়
ঘ) রাতে
সঠিক উত্তর: গ) সন্ধ্যায়
বিস্তারিত উত্তর: লেখক উল্লেখ করেছেন যে, একদিন সন্ধ্যায় রহমান মিঞা একটি বড় লাউ নিয়ে তাঁর বাড়িতে এসেছিলেন।
প্রশ্ন ৬৭: লেখক যখন অসুস্থ হন, রহমান মিঞা তার জন্য কী নিয়ে এসেছিলেন?
ক) দুধ
খ) ওষুধ
গ) জল
ঘ) ফল
সঠিক উত্তর: ক) দুধ
বিস্তারিত উত্তর: লেখক যখন অসুস্থ হয়েছিলেন, রহমান মিঞা তার জন্য টাটকা দুধ নিয়ে এসেছিলেন, যা তার যত্ন ও উদ্বেগের প্রকাশ।
প্রশ্ন ৬৮: রহমান মিঞার চরিত্রটি কিসের প্রতীক?
ক) সরল গ্রাম্য মানুষের
খ) ধর্মীয় ভেদাভেদহীন মানবিকতার
গ) লোভী মানুষের
ঘ) চতুর ব্যক্তির
সঠিক উত্তর: খ) ধর্মীয় ভেদাভেদহীন মানবিকতার
বিস্তারিত উত্তর: রহমান মিঞার চরিত্রটি ধর্ম, জাতি বা আর্থিক ভেদাভেদহীন এক বিশুদ্ধ মানবিক সম্পর্কের প্রতীক, যা লেখকের প্রতি তার নিঃস্বার্থ ভালোবাসার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রশ্ন ৬৯: লেখকের গ্রামের নামকরণ কী ছিল?
ক) শিমুলডাঙ্গা
খ) নিশ্চিন্দিপুর
গ) গোয়ালপাড়া
ঘ) এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট উল্লেখ নেই
সঠিক উত্তর: ঘ) এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট উল্লেখ নেই
বিস্তারিত উত্তর: ‘আহ্বান’ গল্পে গ্রামের কোনো নির্দিষ্ট নামকরণ করা হয়নি। এটি কেবল একটি সাধারণ গ্রাম্য পরিবেশকে তুলে ধরেছে।
প্রশ্ন ৭০: ‘আহ্বান’ গল্পে কীসের মধ্য দিয়ে মানুষের মনের সংকীর্ণতা দূর হয়?
ক) শিক্ষার মাধ্যমে
খ) অর্থের মাধ্যমে
গ) ভালোবাসার মাধ্যমে
ঘ) ক্ষমতার মাধ্যমে
সঠিক উত্তর: গ) ভালোবাসার মাধ্যমে
বিস্তারিত উত্তর: এই গল্পে দেখানো হয়েছে যে, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে ভালোবাসা ও মানবিকতা দিয়ে মানুষের মনের সকল সংকীর্ণতা দূর করা সম্ভব।
প্রশ্ন ৭১: ‘আহ্বান’ গল্পে লেখকের গ্রামের প্রতি টান কেমন ছিল?
ক) কোনো টান ছিল না
খ) শুধুমাত্র শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত
গ) গভীর ও আন্তরিক, যা তাকে বারবার ফিরিয়ে আনত
ঘ) ব্যবসার সূত্রে
সঠিক উত্তর: গ) গভীর ও আন্তরিক, যা তাকে বারবার ফিরিয়ে আনত
বিস্তারিত উত্তর: লেখকের গ্রামের প্রতি এক গভীর ও আন্তরিক টান ছিল, যা শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির কোলে এবং সরল মানুষের সান্নিধ্যে তাকে শান্তি দিত।
প্রশ্ন ৭২: রহমান মিঞার মৃত্যুর পর লেখকের গ্রামের প্রতি আকর্ষণ কমে গিয়েছিল কেন?
ক) গ্রামে অন্য শত্রু তৈরি হয়েছিল
খ) রহমান মিঞার মতো আন্তরিক ও নিঃস্বার্থ মানুষের অভাব অনুভব করেছিলেন
গ) গ্রামটি আধুনিক হয়ে গিয়েছিল
ঘ) লেখকের নিজের বয়স বেড়ে গিয়েছিল
সঠিক উত্তর: খ) রহমান মিঞার মতো আন্তরিক ও নিঃস্বার্থ মানুষের অভাব অনুভব করেছিলেন
বিস্তারিত উত্তর: রহমান মিঞার মৃত্যু লেখকের মনে গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করে। তার মতো অকৃত্রিম स्नेह ও ভালোবাসার মানুষটির অভাব লেখকের গ্রামের প্রতি আকর্ষণ কিছুটা হলেও কমিয়ে দিয়েছিল।
প্রশ্ন ৭৩: রহমান মিঞা তার ক্ষেতের কোন ফসল লেখককে উপহার দিয়েছিলেন?
ক) ধান
খ) পাট
গ) লাউ
ঘ) আলু
সঠিক উত্তর: গ) লাউ
বিস্তারিত উত্তর: রহমান মিঞা তার নিজের হাতে ফলানো লাউ লেখককে উপহার দিয়েছিলেন, যা ছিল তাঁর সরলতা এবং লেখকের প্রতি ভালোবাসার প্রতীক।
প্রশ্ন ৭৪: লেখক রহমান মিঞাকে কোন ধরনের মানুষ হিসেবে দেখেছিলেন?
ক) স্বার্থপর
খ) সংকীর্ণমনা
গ) উদার ও আত্মভোলা
ঘ) ধূর্ত
সঠিক উত্তর: গ) উদার ও আত্মভোলা
বিস্তারিত উত্তর: লেখক রহমান মিঞাকে একজন উদার, পরোপকারী এবং আত্মভোলা মানুষ হিসেবে দেখেছিলেন, যিনি নিঃস্বার্থভাবে অন্যকে ভালোবাসতে জানতেন।
প্রশ্ন ৭৫: রহমান মিঞার স্ত্রীর মৃত্যুর পর লেখকের মনে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?
ক) আনন্দ
খ) হতাশা
গ) দুঃখ ও সহানুভূতি
ঘ) উদাসীনতা
সঠিক উত্তর: গ) দুঃখ ও সহানুভূতি
বিস্তারিত উত্তর: রহমান মিঞার স্ত্রীর মৃত্যুর পর লেখক তাঁর প্রতি গভীর দুঃখ ও সহানুভূতি প্রকাশ করেছিলেন, যা তাঁদের পারিবারিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।
প্রশ্ন ৭৬: রহমান মিঞা লেখকের জন্য কী ধরনের পিঠা তৈরি করে পাঠিয়েছিলেন?
ক) তেলের পিঠা
খ) দুধ পুলি
গ) পাটিসাপটা
ঘ) চিতই পিঠা
সঠিক উত্তর: ক) তেলের পিঠা
বিস্তারিত উত্তর: গল্পে উল্লেখ আছে, রহমান মিঞার স্ত্রী লেখকের জন্য তেলের পিঠা তৈরি করে পাঠিয়েছিলেন, যা তাদের আন্তরিকতার পরিচয় দেয়।
প্রশ্ন ৭৭: লেখক রহমান মিঞার বাড়িতে গিয়ে কী দেখতে পান?
ক) বিরাট অট্টালিকা
খ) সাজানো গোছানো ঘর
গ) দারিদ্র্য ও অনাড়ম্বর জীবনযাত্রা
ঘ) আধুনিক আসবাবপত্র
সঠিক উত্তর: গ) দারিদ্র্য ও অনাড়ম্বর জীবনযাত্রা
বিস্তারিত উত্তর: লেখক রহমান মিঞার বাড়িতে গিয়ে তার অত্যন্ত দরিদ্র কিন্তু পরিচ্ছন্ন ও অনাড়ম্বর জীবনযাত্রা দেখতে পান।
প্রশ্ন ৭৮: রহমান মিঞা লেখকের কাছে কীসের জন্য কৃতজ্ঞ ছিলেন?
ক) আর্থিক সাহায্যের জন্য
খ) আশ্রয় দেওয়ার জন্য
গ) লেখকের স্নেহ ও মনোযোগের জন্য
ঘ) জমিজমা দেওয়ার জন্য
সঠিক উত্তর: গ) লেখকের স্নেহ ও মনোযোগের জন্য
বিস্তারিত উত্তর: রহমান মিঞা লেখকের স্নেহ, মনোযোগ এবং তাকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ ছিলেন, কারণ এটি তার নিঃসঙ্গ জীবনে আনন্দের উৎস ছিল।
প্রশ্ন ৭৯: ‘আহ্বান’ গল্পে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কোন মানবিক মূল্যবোধকে তুলে ধরেছেন?
ক) ধর্মীয় গোঁড়ামি
খ) শ্রেণিবিভেদ
গ) অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ভালোবাসা
ঘ) স্বার্থপরতা
সঠিক উত্তর: গ) অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ভালোবাসা
বিস্তারিত উত্তর: এই গল্পে হিন্দু লেখক ও মুসলমান কৃষকের মধ্যে গড়ে ওঠা নির্মল ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং মানবিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
প্রশ্ন ৮০: লেখক কেন রহমান মিঞার কবর জিয়ারত করতে গিয়েছিলেন?
ক) সামাজিক প্রথা মানতে
খ) রহমান মিঞার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার টানে
গ) গ্রামের অন্যদের অনুরোধে
ঘ) কৌতূহলবশত
সঠিক উত্তর: খ) রহমান মিঞার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার টানে
বিস্তারিত উত্তর: রহমান মিঞার মৃত্যুর পর লেখক তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং তাদের মধ্যকার অটুট সম্পর্কের টানে তার কবর জিয়ারত করতে গিয়েছিলেন।
কবিতা: বঙ্গভাষা (মাইকেল মধুসূদন দত্ত)
প্রশ্ন ৮১: ‘বঙ্গভাষা’ কবিতাটি কার লেখা?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ঘ) জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর: গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
বিস্তারিত উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩) ছিলেন উনিশ শতকের একজন শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি ও নাট্যকার। তিনি বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তন করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে ‘মেঘনাদবধ কাব্য’, ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ প্রধান।
প্রশ্ন ৮২: ‘বঙ্গভাষা’ কবিতায় কবি কোন ভাষার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ প্রকাশ করেছেন?
ক) ইংরেজি
খ) বাংলা
গ) ফরাসি
ঘ) সংস্কৃত
সঠিক উত্তর: খ) বাংলা
বিস্তারিত উত্তর: এই কবিতায় কবি নিজের মাতৃভাষা বাংলার প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কথা বলেছেন। তিনি প্রথমে বিদেশি ভাষার প্রতি আকৃষ্ট হলেও, পরে বাংলা ভাষার প্রতি তাঁর প্রকৃত অনুরাগ উপলব্ধি করেন।
প্রশ্ন ৮৩: কবি কবিতায় কাকে ‘জননী’ বলে সম্বোধন করেছেন?
ক) স্বদেশের মাটি
খ) জন্মভূমি
গ) বঙ্গভাষা
ঘ) নিজের মা
সঠিক উত্তর: গ) বঙ্গভাষা
বিস্তারিত উত্তর: কবি বঙ্গভাষাকে ‘জননী’ রূপে কল্পনা করেছেন। তিনি মনে করেন, মাতৃভাষা মায়ের মতোই আপন, নিরাপদ আশ্রয় এবং জ্ঞান ও প্রকাশের মাধ্যম।
প্রশ্ন ৮৪: ‘বঙ্গভাষা’ কবিতায় কবি নিজের কোন ভুলের জন্য অনুতপ্ত?
ক) কবিতা না লেখা
খ) বিদেশি ভাষার প্রতি আকৃষ্ট হওয়া
গ) দেশের সেবা না করা
ঘ) অর্থ উপার্জন না করা
সঠিক উত্তর: খ) বিদেশি ভাষার প্রতি আকৃষ্ট হওয়া
বিস্তারিত উত্তর: কবি একসময় ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়েছিলেন এবং বাংলাকে অবহেলা করেছিলেন। এই কবিতায় তিনি সেই ভুলের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেছেন এবং মাতৃভাষার কাছে ফিরে আসার কথা বলেছেন।
প্রশ্ন ৮৫: ‘বঙ্গভাষা’ কবিতার মূল ভাব কী?
ক) বিদেশি ভাষার শ্রেষ্ঠত্ব
খ) মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা ও আত্মোপলব্ধি
গ) প্রকৃতিপ্রেম
ঘ) বিপ্লব ও বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর: খ) মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা ও আত্মোপলব্ধি
বিস্তারিত উত্তর: কবিতাটি কবির আত্মোপলব্ধি ও মাতৃভাষার প্রতি তাঁর গভীর প্রেমের প্রকাশ। তিনি উপলব্ধি করেন যে, নিজের ভাষা বাদ দিয়ে অন্য ভাষায় সাহিত্যচর্চা করলে তা কৃত্রিম মনে হয়।
প্রশ্ন ৮৬: কবি বিদেশি ভাষার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে কী উপাধি গ্রহণ করেছিলেন?
ক) ডক্টর
খ) লর্ড
গ) মাইকেল
ঘ) রায়বাহাদুর
সঠিক উত্তর: গ) মাইকেল
বিস্তারিত উত্তর: মধুসূদন দত্ত খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করে এবং ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে নিজের নামের সঙ্গে ‘মাইকেল’ যোগ করেন।
প্রশ্ন ৮৭: ‘বঙ্গভাষা’ কবিতায় কবি নিজেকে কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
ক) একজন দরিদ্র ভিখারীর সঙ্গে
খ) একজন জ্ঞানপাপীর সঙ্গে
গ) একজন দেশপ্রেমিকের সঙ্গে
ঘ) একজন সাধকের সঙ্গে
সঠিক উত্তর: খ) একজন জ্ঞানপাপীর সঙ্গে
বিস্তারিত উত্তর: কবি নিজেকে একজন ‘জ্ঞানপাপী’ বলেছেন, কারণ তিনি জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও মাতৃভাষাকে অবহেলা করে বিদেশি ভাষার প্রতি ঝুঁকেছিলেন। পরে তিনি তাঁর ভুল বুঝতে পারেন।
প্রশ্ন ৮৮: কবি বঙ্গভাষাকে ছেড়ে কী করতে চেয়েছিলেন?
ক) অন্য দেশে চলে যেতে
খ) ব্যবসা করতে
গ) পরের ধনে পোদ্দারি করতে
ঘ) গান গাইতে
সঠিক উত্তর: গ) পরের ধনে পোদ্দারি করতে
বিস্তারিত উত্তর: কবি যখন বিদেশি ভাষায় সাহিত্যচর্চা করতে চেয়েছিলেন, তখন তা ছিল ‘পরের ধনে পোদ্দারি’ করার মতো। অর্থাৎ, নিজের সম্পদ ছেড়ে অন্যের সম্পদে অধিকার খাটানোর চেষ্টা।
প্রশ্ন ৮৯: ‘বঙ্গভাষা’ কবিতায় কিসের ইঙ্গিত পাওয়া যায়?
ক) পুনর্জন্মের ইঙ্গিত
খ) আত্মানুসন্ধান ও আত্মশুদ্ধির ইঙ্গিত
গ) বৈপ্লবিক চিন্তার ইঙ্গিত
ঘ) আধ্যাত্মিকতার ইঙ্গিত
সঠিক উত্তর: খ) আত্মানুসন্ধান ও আত্মশুদ্ধির ইঙ্গিত
বিস্তারিত উত্তর: কবিতাটি কবির আত্মানুসন্ধান, তাঁর ভুল স্বীকার এবং মাতৃভাষার কাছে ফিরে আসার মাধ্যমে নিজের ভুল শুধরে নেওয়ার এক গভীর প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়।
প্রশ্ন ৯০: কবি শেষ পর্যন্ত কার কোলে ফিরে আসেন?
ক) জন্মভূমির কোলে
খ) নদীর কোলে
গ) মায়ের কোলে
ঘ) নিজ ভাষারূপী জননীর কোলে
সঠিক উত্তর: ঘ) নিজ ভাষারূপী জননীর কোলে
বিস্তারিত উত্তর: কবি উপলব্ধি করেন যে, মাতৃভাষাই তাঁর প্রকৃত আশ্রয়। তাই তিনি নিজ ভাষারূপী জননীর কোলে ফিরে আসার কথা বলেছেন।
প্রশ্ন ৯১: কবি বিদেশি ভাষার মোহ ত্যাগ করে কোথায় ফিরে আসেন?
ক) জন্মভূমিতে
খ) মাতৃভাষার কাছে
গ) ধর্মের কাছে
ঘ) বন্ধু-বান্ধবের কাছে
সঠিক উত্তর: খ) মাতৃভাষার কাছে
বিস্তারিত উত্তর: কবি তাঁর ভুল বুঝতে পেরে বিদেশি ভাষার মোহ ত্যাগ করে নিজ মাতৃভাষা বাংলার কাছে ফিরে আসেন।
প্রশ্ন ৯২: কবি কবিতায় কোন পাখির উল্লেখ করেছেন?
ক) ময়ূর
খ) কোকিল
গ) কাক
ঘ) শালিক
সঠিক উত্তর: খ) কোকিল
বিস্তারিত উত্তর: কবি কোকিলের উপমা ব্যবহার করে বোঝাতে চেয়েছেন, কোকিল যেমন নিজের ভাষায় গান গেয়ে আনন্দ পায়, তেমনি নিজের মাতৃভাষাতেই প্রকৃত আনন্দ ও প্রকাশ সম্ভব।
প্রশ্ন ৯৩: ‘নিজ দয়াময়ী জননী’ – এখানে ‘দয়াময়ী জননী’ কে?
ক) পৃথিবী
খ) জন্মভূমি
গ) বঙ্গভাষা
ঘ) কবির নিজের মা
সঠিক উত্তর: গ) বঙ্গভাষা
বিস্তারিত উত্তর: কবি বঙ্গভাষাকে ‘দয়াময়ী জননী’ রূপে কল্পনা করেছেন, যিনি সন্তানকে ভুল করার পর ক্ষমা করে কোলে তুলে নেন।
প্রশ্ন ৯৪: ‘সাধিতে মনের সাধ’ – এখানে ‘মনের সাধ’ কী?
ক) অর্থ উপার্জন করা
খ) খ্যাতি অর্জন করা
গ) সাহিত্যচর্চা করা
ঘ) বিশ্ব ভ্রমণ করা
সঠিক উত্তর: গ) সাহিত্যচর্চা করা
বিস্তারিত উত্তর: কবির ‘মনের সাধ’ ছিল সাহিত্যচর্চা করা, কিন্তু তিনি প্রথমে বিদেশি ভাষায় তা করতে চেয়েছিলেন।
প্রশ্ন ৯৫: ‘বঙ্গভাষা’ কবিতায় কোন রস প্রাধান্য পেয়েছে?
ক) হাস্যরস
খ) করুণ রস
গ) শান্ত রস
ঘ) আত্মোপলব্ধির রস
সঠিক উত্তর: ঘ) আত্মোপলব্ধির রস
বিস্তারিত উত্তর: কবিতাটি কবির আত্মোপলব্ধি এবং নিজের ভুলের জন্য অনুতাপের অনুভূতিতে পূর্ণ, তাই এখানে আত্মোপলব্ধির রসই প্রধান।
প্রশ্ন ৯৬: কবি বিদেশি ভাষায় সাহিত্যচর্চা করে কী লাভ করেছিলেন?
ক) অসীম খ্যাতি
খ) প্রচুর অর্থ
গ) কোনো লাভ হয়নি, বরং দুঃখ পেয়েছিলেন
ঘ) নতুন অভিজ্ঞতা
সঠিক উত্তর: গ) কোনো লাভ হয়নি, বরং দুঃখ পেয়েছিলেন
বিস্তারিত উত্তর: কবি উপলব্ধি করেছিলেন যে, বিদেশি ভাষায় সাহিত্যচর্চা করে তিনি প্রকৃত তৃপ্তি পাননি, বরং মানসিক কষ্ট পেয়েছিলেন কারণ তিনি নিজের মাতৃভাষাকে অবহেলা করেছিলেন।
প্রশ্ন ৯৭: ‘রেখো, মা, দাসেরে মনে’ – এখানে ‘দাস’ কে?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
গ) জীবনানন্দ দাশ
ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর: খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
বিস্তারিত উত্তর: কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত নিজেকে ‘দাস’ বলে উল্লেখ করেছেন, যার অর্থ তিনি মাতৃভাষার কাছে নিজেকে নিবেদিত করেছেন এবং তার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।
প্রশ্ন ৯৮: কবি বাংলা ভাষার কোন বৈশিষ্ট্যকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন?
ক) ছন্দ
খ) শব্দভাণ্ডার
গ) সরলতা ও স্বকীয়তা
ঘ) ব্যাকরণ
সঠিক উত্তর: গ) সরলতা ও স্বকীয়তা
বিস্তারিত উত্তর: কবি উপলব্ধি করেছেন যে, বাংলা ভাষার নিজস্ব সরলতা ও স্বকীয়তাই তার আসল শক্তি এবং এই ভাষাতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারেন।
প্রশ্ন ৯৯: ‘পরদেশী ভাষে’ – এখানে ‘পরদেশী ভাষা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক) সংস্কৃত ভাষা
খ) বিদেশি ভাষা, বিশেষত ইংরেজি
গ) আঞ্চলিক ভাষা
ঘ) হিন্দি ভাষা
সঠিক উত্তর: খ) বিদেশি ভাষা, বিশেষত ইংরেজি
বিস্তারিত উত্তর: কবি এখানে ইংরেজি ভাষাকে ‘পরদেশী ভাষা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যার প্রতি একসময় তাঁর বিশেষ মোহ ছিল।
প্রশ্ন ১০০: কবিতাটির মূল সুর কী?
ক) বিদ্রোহের সুর
খ) আত্মোপলব্ধি ও অনুতাপের সুর
গ) আনন্দের সুর
ঘ) হতাশার সুর
সঠিক উত্তর: খ) আত্মোপলব্ধি ও অনুতাপের সুর
বিস্তারিত উত্তর: ‘বঙ্গভাষা’ কবিতাটিতে কবির নিজের ভুল উপলব্ধি, অনুতাপ এবং মাতৃভাষার প্রতি তাঁর গভীর প্রেমের প্রকাশ ঘটেছে।
প্রশ্ন ১০১: কবি বঙ্গভাষার কাছে কী মিনতি করেছেন?
ক) তাকে ক্ষমা করতে
খ) তাকে অর্থ দিতে
গ) তাকে খ্যাতি দিতে
ঘ) তাকে রক্ষা করতে
সঠিক উত্তর: ক) তাকে ক্ষমা করতে
বিস্তারিত উত্তর: কবি নিজের ভুলের জন্য বঙ্গভাষার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী, কারণ তিনি একসময় বিদেশি ভাষার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে মাতৃভাষাকে অবহেলা করেছিলেন।
প্রশ্ন ১০২: ‘পরিশ্রমে নাহি গঞ্জিহ ব’রে’ – এই পংক্তিটির অর্থ কী?
ক) পরিশ্রম করে ফল না পেলে হতাশ হয়ো না/অবহেলা করো না।
খ) পরিশ্রম করে লাভ নেই।
গ) পরিশ্রমের ফলে কষ্ট হয় না।
ঘ) পরিশ্রমকে খারাপ ভেবো না।
সঠিক উত্তর: ক) পরিশ্রম করে ফল না পেলে হতাশ হয়ো না/অবহেলা করো না।
বিস্তারিত উত্তর: কবি বঙ্গভাষার কাছে মিনতি করছেন যে, তিনি (কবি) বিদেশি ভাষায় বৃথা পরিশ্রম করেছেন (যেমন অবজ্ঞাত হয়েছেন), সেই কারণে যেন বঙ্গভাষা তাকে (কবিকে) অবহেলা না করেন বা তিরস্কার না করেন।
প্রশ্ন ১০৩: কবি নিজেকে কোন উপাধি দিয়ে ধিক্কার দিয়েছেন?
ক) মূর্খ
খ) অকৃতজ্ঞ
গ) জ্ঞানপাপী
ঘ) বিশ্বাসঘাতক
সঠিক উত্তর: গ) জ্ঞানপাপী
বিস্তারিত উত্তর: জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও মাতৃভাষাকে অবহেলা করে বিদেশি ভাষার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার জন্য কবি নিজেকে ‘জ্ঞানপাপী’ বলে ধিক্কার দিয়েছেন।
প্রশ্ন ১০৪: ‘তবু যদি স্নেহ কর, তবে যথাযোগ্য স্থান দিও’ – এখানে ‘স্থান’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক) বাংলা সাহিত্যে কবির জন্য একটি স্বীকৃতি বা আসন
খ) মনের মধ্যে আশ্রয়
গ) সমাজে সম্মান
ঘ) একটি বাসস্থান
সঠিক উত্তর: ক) বাংলা সাহিত্যে কবির জন্য একটি স্বীকৃতি বা আসন
বিস্তারিত উত্তর: কবি মাতৃভাষার কাছে মিনতি করেছেন যে, যদি তিনি বাংলা সাহিত্যে স্থান পাওয়ার যোগ্য হন, তবে যেন তাকে সেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
প্রশ্ন ১০৫: এই কবিতায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের কোন মনোভাব সুস্পষ্ট?
ক) দেশপ্রেম
খ) ভাষা প্রেম ও আত্মোপলব্ধি
গ) বিদ্রোহ
ঘ) ঐতিহ্যপ্রীতি
সঠিক উত্তর: খ) ভাষা প্রেম ও আত্মোপলব্ধি
বিস্তারিত উত্তর: এই কবিতায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের মাতৃভাষার প্রতি গভীর প্রেম এবং নিজের ভুল উপলব্ধি করে তার কাছে ফিরে আসার এক মর্মস্পর্শী বর্ণনা রয়েছে।
প্রশ্ন ১০৬: কবি ‘বঙ্গভাষা’ কবিতায় কোন দেবীর কাছে মূলত প্রার্থনা জানিয়েছেন?
ক) দেবী সরস্বতী
খ) দেবী লক্ষ্মী
গ) বঙ্গভাষারূপী জননী বা মাতৃভাষা
ঘ) দেবী দুর্গা
সঠিক উত্তর: গ) বঙ্গভাষারূপী জননী বা মাতৃভাষা
বিস্তারিত উত্তর: কবিতায় কবি বঙ্গভাষাকে ‘জননী’ রূপে কল্পনা করে তার কাছেই ক্ষমা, আশ্রয় ও স্বীকৃতি প্রার্থনা করেছেন।
প্রশ্ন ১০৭: ‘কেলিনু শৈবালে, ভুলি কমল-কানন’ – এখানে ‘শৈবাল’ ও ‘কমল-কানন’ কিসের প্রতীক?
ক) শৈবাল = বিদেশি ভাষা, কমল-কানন = মাতৃভাষা
খ) শৈবাল = মাতৃভাষা, কমল-কানন = বিদেশি ভাষা
গ) শৈবাল = দারিদ্র্য, কমল-কানন = ঐশ্বর্য
ঘ) শৈবাল = দুঃখ, কমল-কানন = সুখ
সঠিক উত্তর: ক) শৈবাল = বিদেশি ভাষা, কমল-কানন = মাতৃভাষা
বিস্তারিত উত্তর: ‘শৈবাল’ (নিকৃষ্ট) বিদেশি ভাষার প্রতি কবির প্রাথমিক আকর্ষণ এবং ‘কমল-কানন’ (উৎকৃষ্ট) মাতৃভাষার ঐশ্বর্যকে অবহেলা করার প্রতীক।
প্রশ্ন ১০৮: মাইকেল মধুসূদন দত্ত কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
ক) ১৮২৪ সালে
খ) ১৮৩৮ সালে
গ) ১৮০১ সালে
ঘ) ১৮৫০ সালে
সঠিক উত্তর: ক) ১৮২৪ সালে
বিস্তারিত উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫শে জানুয়ারি যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রশ্ন ১০৯: ‘মধুহীন করো না গো তব মনঃ কোকনদে’ – এখানে ‘কোকনদ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক) একটি ফুল
খ) পদ্ম ফুল (রূপক অর্থে মন)
গ) মন
ঘ) হৃদয়
সঠিক উত্তর: খ) পদ্ম ফুল (রূপক অর্থে মন)
বিস্তারিত উত্তর: ‘কোকনদ’ মানে লাল পদ্ম। এখানে ‘মনঃ কোকনদ’ বলতে কবির মনকে পদ্মের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা জ্ঞান ও আনন্দের উৎস। কবি চান না তার মন মধুহীন (অর্থাৎ জ্ঞান ও ভালোবাসা শূন্য) হয়ে যাক।
প্রশ্ন ১১০: এই কবিতায় কবি নিজেকে কীভাবে উপস্থাপন করেছেন?
ক) একজন বিদ্রোহী হিসেবে
খ) একজন বিনয়ী শিষ্য হিসেবে
গ) একজন গর্বিত ব্যক্তি হিসেবে
ঘ) একজন নির্বাসিত হিসেবে
সঠিক উত্তর: খ) একজন বিনয়ী শিষ্য হিসেবে
বিস্তারিত উত্তর: কবি মাতৃভাষার কাছে নিজেকে একজন বিনয়ী শিষ্য হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যিনি তার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন এবং তার আশীর্বাদ চাইছেন।
প্রশ্ন ১১১: কবি কোন ধরনের ছন্দের প্রবর্তন করেছিলেন?
ক) অক্ষরবৃত্ত
খ) মাত্রাবৃত্ত
গ) অমিত্রাক্ষর ছন্দ
ঘ) স্বরবৃত্ত
সঠিক উত্তর: গ) অমিত্রাক্ষর ছন্দ
বিস্তারিত উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তন করে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন।
প্রশ্ন ১১২: ‘বঙ্গভাষা’ কবিতায় কবি কিসের প্রতীক হয়ে উঠেছেন?
ক) বাঙালি জাতীয়তাবাদের
খ) নবজাগরণের
গ) ভাষা প্রেমের ও মাতৃভাষার গুরুত্ব উপলব্ধির
ঘ) পাশ্চাত্য সংস্কৃতির
সঠিক উত্তর: গ) ভাষা প্রেমের ও মাতৃভাষার গুরুত্ব উপলব্ধির
বিস্তারিত উত্তর: এই কবিতাটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মাতৃভাষার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং বিদেশি ভাষার মোহ ত্যাগ করে নিজ ভাষায় ফিরে আসার এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
প্রশ্ন ১১৩: কবি নিজেকে কীভাবে সংশোধন করেছেন?
ক) নতুন করে শিক্ষা গ্রহণ করে
খ) বিদেশি ভাষা ত্যাগ করে মাতৃভাষায় ফিরে এসে
গ) রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে
ঘ) বিদেশে চলে গিয়ে
সঠিক উত্তর: খ) বিদেশি ভাষা ত্যাগ করে মাতৃভাষায় ফিরে এসে
বিস্তারিত উত্তর: কবি নিজের ভুল বুঝতে পেরে বিদেশি ভাষা ত্যাগ করে মাতৃভাষার প্রতি মনোনিবেশ করে নিজেকে সংশোধন করেছিলেন।
প্রশ্ন ১১৪: ‘হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;’ – এখানে ‘বিবিধ রতন’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক) সোনা-দানা
খ) বাংলা ভাষার সমৃদ্ধ শব্দভাণ্ডার ও সাহিত্য সম্ভার
গ) মূল্যবান পাথর
ঘ) ঐতিহাসিক নিদর্শন
সঠিক উত্তর: খ) বাংলা ভাষার সমৃদ্ধ শব্দভাণ্ডার ও সাহিত্য সম্ভার
বিস্তারিত উত্তর: ‘বিবিধ রতন’ বলতে কবি বাংলা ভাষার অফুরন্ত শব্দভাণ্ডার, সাহিত্যকর্ম এবং তার অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য ও ভাব প্রকাশের ক্ষমতাকে বুঝিয়েছেন।
প্রশ্ন ১১৫: কবি ‘বঙ্গভাষা’ কবিতায় বঙ্গভূমিকে কীসের সাথে তুলনা করেছেন?
ক) দেবালয়
খ) ভিখারিনীর ধন
গ) জননী
ঘ) রত্নখনি
সঠিক উত্তর: গ) জননী (এবং রত্নখনিও ভাবা যায়)
বিস্তারিত উত্তর: কবি প্রধানত বঙ্গভাষাকে ‘জননী’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন। তবে ‘ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন’ পংক্তিতে বঙ্গভাষাকে রত্নখনির সাথেও তুলনা করা যায়, যা তার ঐশ্বর্যকে নির্দেশ করে। তবে ‘জননী’ সম্বোধনটি অধিক প্রত্যক্ষ।
দ্বাদশ শ্রেণি
গল্প: ভারতবর্ষ (সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ)
প্রশ্ন ১১৬: ‘ভারতবর্ষ’ গল্পের লেখকের নাম কী?
ক) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
খ) সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
গ) বুদ্ধদেব গুহ
ঘ) শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: খ) সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
বিস্তারিত উত্তর: সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ (১৯৩০-২০১২) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক। তাঁর গল্প ও উপন্যাসে গ্রাম বাংলার জীবন, মানুষের সংকট ও মনস্তত্ত্বের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ দেখা যায়। তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগুলির মধ্যে ‘ভারতবর্ষ’, ‘কিশলয়’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
প্রশ্ন ১১৭: ‘ভারতবর্ষ’ গল্পে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে?
ক) ঘূর্ণিঝড় ও প্রবল বৃষ্টি
খ) খরা
গ) বন্যা
ঘ) শিলাবৃষ্টি
সঠিক উত্তর: ক) ঘূর্ণিঝড় ও প্রবল বৃষ্টি
বিস্তারিত উত্তর: গল্পের শুরুতে দেখা যায় একটি প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় এবং তার সাথে প্রবল বৃষ্টির কারণে গ্রামটি বিপর্যস্ত। এই দুর্যোগ গল্পের পটভূমি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রশ্ন ১১৮: গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র বুড়ির আসল পরিচয় কী ছিল?
ক) হিন্দু
খ) মুসলমান
গ) বৌদ্ধ
ঘ) খ্রিস্টান
সঠিক উত্তর: গ) বৌদ্ধ
বিস্তারিত উত্তর: গল্পের শেষে জানা যায়, বুড়ি প্রকৃতপক্ষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। এই তথ্যটি হিন্দু-মুসলমান বিবাদের প্রেক্ষাপটে এক গভীর ব্যঞ্জনাময় অর্থ বহন করে।
প্রশ্ন ১১৯: ‘ভারতবর্ষ’ গল্পে গ্রামের মানুষের মধ্যে কোন বিষয় নিয়ে বিবাদ দেখা যায়?
ক) জমি নিয়ে
খ) ধর্ম নিয়ে (বুড়ির মৃতদেহ সৎকার)
গ) জল নিয়ে
ঘ) রাজনীতি নিয়ে
সঠিক উত্তর: খ) ধর্ম নিয়ে (বুড়ির মৃতদেহ সৎকার)
বিস্তারিত উত্তর: গল্পের এক বুড়ির মৃতদেহ নিয়ে গ্রামের হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ধর্মীয় বিবাদ দেখা দেয়। এটি ভারতীয় সমাজের ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার এক করুণ চিত্র তুলে ধরে।
প্রশ্ন ১২০: ‘ভারতবর্ষ’ গল্পের মূল প্রতিবাদ্য বিষয় কী?
ক) নারী স্বাধীনতা
খ) ধর্মীয় গোঁড়ামি ও অসহিষ্ণুতা
গ) রাজনৈতিক অস্থিরতা
ঘ) গ্রামীণ সংস্কার
সঠিক উত্তর: খ) ধর্মীয় গোঁড়ামি ও অসহিষ্ণুতা
বিস্তারিত উত্তর: এই গল্পের মধ্য দিয়ে লেখক সমাজের ধর্মীয় গোঁড়ামি, সংকীর্ণতা এবং অহেতুক বিবাদের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, ধর্মের নামে মানুষ কীভাবে অমানবিক হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন ১২১: গল্পের শুরুতেই কোন ধরনের বাজারের চিত্র দেওয়া হয়েছে?
ক) আধুনিক শপিং মল
খ) গ্রামের চায়ের দোকান ও তার আশেপাশের বাজার
গ) পাইকারি বাজার
ঘ) মাছের বাজার
সঠিক উত্তর: খ) গ্রামের চায়ের দোকান ও তার আশেপাশের বাজার
বিস্তারিত উত্তর: গল্পের শুরুতে একটি গ্রামের চায়ের দোকান এবং তার আশেপাশে গ্রামের ছোটখাটো বাজারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ধরনের মানুষ এসে জড়ো হয়।
প্রশ্ন ১২২: বুড়িকে প্রথমে মৃত ভেবে কোথায় ফেলে রাখা হয়েছিল?
ক) নদীর ধারে
খ) শ্মশানের কাছে
গ) বাঁশঝাড়ের নিচে
ঘ) মন্দিরের কাছে
সঠিক উত্তর: গ) বাঁশঝাড়ের নিচে
বিস্তারিত উত্তর: বুড়িকে মৃত ভেবে গ্রামের লোকেরা প্রথমে বাঁশঝাড়ের নিচে ফেলে রেখেছিল, যা গল্পের মূল সংঘাতের সূত্রপাত ঘটায়।
প্রশ্ন ১২৩: বুড়ির মৃতদেহ নিয়ে বিবাদের মূল কারণ কী ছিল?
ক) আর্থিক বিষয়
খ) বুড়ির ধর্মীয় পরিচয়
গ) জমির মালিকানা
ঘ) রাজনৈতিক মতাদর্শ
সঠিক উত্তর: খ) বুড়ির ধর্মীয় পরিচয়
বিস্তারিত উত্তর: গ্রামের হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায় বুড়িকে নিজ নিজ ধর্মের বলে দাবি করে এবং তার মৃতদেহ নিয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে, যা সাম্প্রদায়িক বিভেদের এক করুণ চিত্র।
প্রশ্ন ১২৪: গল্পের শেষে বুড়ি কীভাবে সবার সামনে আবির্ভূত হয়?
ক) ঘুম থেকে উঠে
খ) ভূত সেজে
গ) হঠাৎ করে সজ্ঞানে
ঘ) অন্য গ্রাম থেকে হেঁটে এসে
সঠিক উত্তর: গ) হঠাৎ করে সজ্ঞানে
বিস্তারিত উত্তর: গল্পের চূড়ান্ত মুহূর্তে বুড়ি হঠাৎ করে সজ্ঞানে উঠে বসে এবং তার পরিচয় প্রকাশ করে, যা সবার কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল।
প্রশ্ন ১২৫: ‘ভারতবর্ষ’ গল্পে কোন বিষয়টি নিয়ে লেখক ব্যঙ্গ করেছেন?
ক) গ্রামীণ অর্থনীতি
খ) সামাজিক বিভেদ ও ধর্মীয় গোঁড়ামি
গ) শিক্ষার অভাব
ঘ) কুসংস্কার
সঠিক উত্তর: খ) সামাজিক বিভেদ ও ধর্মীয় গোঁড়ামি
বিস্তারিত উত্তর: লেখক এই গল্পের মাধ্যমে সমাজের ধর্মীয় বিভেদ, সংকীর্ণতা এবং মানুষে মানুষে কৃত্রিম বিভাজনের বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ করেছেন।
প্রশ্ন ১২৬: বুড়ি কোথায় গিয়ে মারা যায় (কথিত)?
ক) চায়ের দোকানের সামনে
খ) বাজারের মধ্যে
গ) মন্দিরের কাছে
ঘ) মসজিদ প্রাঙ্গণে
সঠিক উত্তর: ক) চায়ের দোকানের সামনে
বিস্তারিত উত্তর: গল্পে বুড়িকে চায়ের দোকানের সামনেই মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় (যদিও সে আসলে মারা যায়নি), যা নিয়ে পরবর্তীতে বিবাদ শুরু হয়।
প্রশ্ন ১২৭: বুড়ির পুনরুত্থানের ফলে গ্রামের মানুষের মধ্যে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়?
ক) আনন্দ ও উল্লাস
খ) ভয় ও বিস্ময়
গ) রাগ ও হতাশা
ঘ) উপেক্ষা
সঠিক উত্তর: খ) ভয় ও বিস্ময়
বিস্তারিত উত্তর: যখন বুড়ি হঠাৎ সজ্ঞানে উঠে বসে, তখন গ্রামের মানুষজন চরম ভয় ও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়।
প্রশ্ন ১২৮: গল্পের মূল সংঘাতটি কিসের উপর কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে?
ক) সম্পত্তির অধিকার
খ) ধর্মীয় বিভেদ
গ) ব্যক্তিগত শত্রুতা
ঘ) রাজনৈতিক ক্ষমতা
সঠিক উত্তর: খ) ধর্মীয় বিভেদ
বিস্তারিত উত্তর: বুড়ির ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে যে বিবাদ, সেটিই গল্পের মূল সংঘাত।
প্রশ্ন ১২৯: ‘ভারতবর্ষ’ গল্পে কোন বিষয়টি তীব্রভাবে সমালোচিত হয়েছে?
ক) গ্রামীণ অর্থনীতি
খ) ধর্মীয় উন্মাদনা ও কুসংস্কার
গ) নিরক্ষরতা
ঘ) অভাব
সঠিক উত্তর: খ) ধর্মীয় উন্মাদনা ও কুসংস্কার
বিস্তারিত উত্তর: গল্পের মধ্য দিয়ে লেখক ধর্মীয় উন্মাদনা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং কুসংস্কারের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
প্রশ্ন ১৩০: গল্পের শেষে বুড়ির মন্তব্যের গুরুত্ব কী?
ক) এটি গল্পের সমাপ্তি নির্দেশ করে
খ) এটি ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা দেয়
গ) এটি ভারতীয় সমাজের অন্তর্নিহিত বিভেদ ও তার অসারতা তুলে ধরে
ঘ) এটি চরিত্রগুলির পরিচয় প্রকাশ করে
সঠিক উত্তর: গ) এটি ভারতীয় সমাজের অন্তর্নিহিত বিভেদ ও তার অসারতা তুলে ধরে
বিস্তারিত উত্তর: বুড়ির শেষ মন্তব্য, “আমি তো বৌদ্ধ” — এই একটি বাক্য ভারতীয় সমাজের ধর্মীয় বিভেদ ও সংঘাতের গভীরতাকে এবং তার অসারতাকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও মর্মস্পর্শীভাবে তুলে ধরে।
প্রশ্ন ১৩১: ‘ভারতবর্ষ’ গল্পে কোন মাস ও দিনের কথা বলা হয়েছে?
ক) বৈশাখ মাসের এক সকালের কথা
খ) পৌষ মাসের এক শীতের মেঘলা দিনের কথা
গ) আষাঢ় মাসের এক বর্ষার দিনের কথা
ঘ) ফাল্গুন মাসের এক বসন্তের দিনের কথা
সঠিক উত্তর: খ) পৌষ মাসের এক শীতের মেঘলা দিনের কথা
বিস্তারিত উত্তর: গল্পের শুরুতে পৌষ মাসের এক শীতের মেঘলা দিনে চায়ের দোকানের সামনে গ্রামের মানুষের জটলা এবং বুড়ির (কথিত) মৃতদেহ নিয়ে বিবাদের কথা বলা হয়েছে।
প্রশ্ন ১৩২: গল্পের চায়ের দোকানে প্রধানত কোন ধরনের মানুষের ভিড় দেখা যায়?
ক) শহুরে শিক্ষিত লোক
খ) গ্রামের কৃষক, মজুর ও সাধারণ মানুষ
গ) ধনী ব্যবসায়ী
ঘ) বিদেশি পর্যটক
সঠিক উত্তর: খ) গ্রামের কৃষক, মজুর ও সাধারণ মানুষ
বিস্তারিত উত্তর: চায়ের দোকানটি ছিল গ্রামের সাধারণ কৃষক, মজুর এবং দিনমজুরদের আড্ডাখানা, যেখানে তারা অবসর সময়ে গল্পগুজব করত।
প্রশ্ন ১৩৩: বুড়িকে নিয়ে বিবাদের সময় গ্রামে কাদের আগমন ঘটে যারা বিবাদকে উস্কে দেয়?
ক) পুলিশ
খ) রাজনৈতিক নেতা
গ) সাংবাদিক
ঘ) গ্রামের মোড়ল ও বহিরাগত কিছু উস্কানিদাতা
সঠিক উত্তর: ঘ) গ্রামের মোড়ল ও বহিরাগত কিছু উস্কানিদাতা
বিস্তারিত উত্তর: বুড়ির মৃতদেহ নিয়ে যখন গ্রামের মানুষের মধ্যে বিবাদ চরম আকার ধারণ করে, তখন গ্রামের প্রভাবশালী মোড়ল এবং কিছু বহিরাগত মানুষ এসে বিবাদকে আরও উস্কে দেয়।
প্রশ্ন ১৩৪: ‘ভারতবর্ষ’ গল্পে লেখকের কোন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে?
ক) নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি
খ) ধর্মীয় গোঁড়ামির প্রতি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি
গ) রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব
ঘ) প্রাকৃতিক বর্ণনার প্রতি আগ্রহ
সঠিক উত্তর: খ) ধর্মীয় গোঁড়ামির প্রতি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি
বিস্তারিত উত্তর: লেখক এই গল্পের মাধ্যমে সমাজের ধর্মীয় গোঁড়ামি, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং অমানবিকতার প্রতি তীব্র সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন।
প্রশ্ন ১৩৫: গল্পের শেষে বুড়ির পুনরুত্থান কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
ক) অলৌকিক ঘটনা বোঝাতে
খ) সমাজের ঘুমন্ত বিবেকের জাগরণ ঘটাতে
গ) ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করতে
ঘ) শুধুমাত্র চমক সৃষ্টি করতে
সঠিক উত্তর: খ) সমাজের ঘুমন্ত বিবেকের জাগরণ ঘটাতে
বিস্তারিত উত্তর: বুড়ির পুনরুত্থান শুধু একটি অলৌকিক ঘটনা নয়, এটি যেন সমাজের ধর্মীয় উন্মাদনায় ঘুমিয়ে থাকা বিবেকের প্রতি এক সজাগ আহ্বান এবং সাম্প্রদায়িক বিভেদের অসারতা প্রমাণ।
প্রশ্ন ১৩৬: বুড়ির আবির্ভাব গ্রামের কোন স্থানে হয়েছিল?
ক) মেলায়
খ) বাজারে
গ) চায়ের দোকানের সামনে
ঘ) নদীর ধারে
সঠিক উত্তর: গ) চায়ের দোকানের সামনে
বিস্তারিত উত্তর: বুড়ি হঠাৎ চায়ের দোকানের সামনে এসে হাজির হয় এবং সেখানেই তার কথিত মৃত্যু ঘটে, যা গল্পের মূল পটভূমি।
প্রশ্ন ১৩৭: গল্পের কোন চরিত্রটি ধর্মীয় গোঁড়ামির প্রতীক?
ক) বুড়ি
খ) গ্রামের হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের উত্তেজিত মানুষজন
গ) চায়ের দোকানের মালিক
ঘ) গ্রামের বৃদ্ধরা
সঠিক উত্তর: খ) গ্রামের হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের উত্তেজিত মানুষজন
বিস্তারিত উত্তর: গল্পের হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের উত্তেজিত মানুষজন, যারা বুড়ির মৃতদেহ নিয়ে অহেতুক বিবাদে জড়িয়ে পড়ে, তারাই ধর্মীয় গোঁড়ামির প্রতীক।
প্রশ্ন ১৩৮: ‘ভারতবর্ষ’ গল্পে কোন ধরনের জনজীবনের চিত্র ফুটে উঠেছে?
ক) আধুনিক ও শহুরে জীবন
খ) গ্রামীণ ও সহজ-সরল জীবন, যা ধর্মীয় বিভেদে কলুষিত
গ) জটিল ও যান্ত্রিক জীবন
ঘ) অভিজাত জীবন
সঠিক উত্তর: খ) গ্রামীণ ও সহজ-সরল জীবন, যা ধর্মীয় বিভেদে কলুষিত
বিস্তারিত উত্তর: এই গল্পে গ্রামীণ বাংলার এক সাধারণ, সহজ-সরল জনজীবনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যা পরবর্তীতে ধর্মীয় বিভেদের শিকার হয় এবং তার কদর্য রূপ প্রকাশ পায়।
প্রশ্ন ۱۳۹: বুড়ির আবির্ভাবের পর গ্রামের শান্ত পরিবেশে কী ঘটে?
ক) আনন্দ উৎসব শুরু হয়
খ) ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ে
গ) এক নতুন উত্তেজনা ও ধর্মীয় বিবাদ শুরু হয়
ঘ) গ্রামের মানুষ তাকে উপেক্ষা করে
সঠিক উত্তর: গ) এক নতুন উত্তেজনা ও ধর্মীয় বিবাদ শুরু হয়
বিস্তারিত উত্তর: বুড়ির আবির্ভাব এবং তার কথিত মৃত্যু গ্রামের শান্ত পরিবেশকে এক নতুন উত্তেজনা ও ধর্মীয় বিবাদের দিকে ঠেলে দেয়।
গ) ভারতের অন্তর্নিহিত ধর্মীয় বিভেদ ও সংঘাতের বাস্তব চিত্র এবং তার অসারতা তুলে ধরা
ঘ) ভারতের ইতিহাস বর্ণনা
সঠিক উত্তর: গ) ভারতের অন্তর্নিহিত ধর্মীয় বিভেদ ও সংঘাতের বাস্তব চিত্র এবং তার অসারতা তুলে ধরা
বিস্তারিত উত্তর: ‘ভারতবর্ষ’ নামটি প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এই গল্প ভারতের ধর্মীয় গোঁড়ামি, অসহিষ্ণুতা এবং সাম্প্রদায়িক সংঘাতের এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরে, যা নামকরণের সার্থকতা প্রমাণ করে।
প্রশ্ন ১৪১: ‘ভারতবর্ষ’ গল্পে বাজারের চায়ের দোকানটি কিসের প্রতীক ছিল?
ক) গ্রামের আধুনিকতার
খ) গ্রামীণ মানুষের মিলনক্ষেত্র ও তর্ক-বিতর্কের কেন্দ্র
গ) অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির
ঘ) শুধুমাত্র চা পানের স্থান
সঠিক উত্তর: খ) গ্রামীণ মানুষের মিলনক্ষেত্র ও তর্ক-বিতর্কের কেন্দ্র
বিস্তারিত উত্তর: চায়ের দোকানটি ছিল গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের একত্র হওয়ার, গল্পগুজব করার এবং নানা বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক ও মতামত প্রকাশের একটি কেন্দ্রস্থল।
প্রশ্ন ১৪২: বুড়িকে যখন মৃত মনে করা হয়েছিল, তখন গ্রামের লোকেদের মধ্যে প্রথম তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
ক) গভীর শোক ও সমবেদনা
খ) ভয় ও আতঙ্ক
গ) কৌতূহল এবং কিছুটা উপেক্ষা
ঘ) দ্রুত সৎকারের ব্যবস্থা করা
সঠিক উত্তর: গ) কৌতূহল এবং কিছুটা উপেক্ষা
বিস্তারিত উত্তর: প্রথমে অনেকেই বুড়িকে উপেক্ষা করেছিল, পরে কৌতূহলবশত কেউ কেউ দেখতে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে গভীর শোক বা সৎকারের তাড়া দেখা যায়নি।
প্রশ্ন ১৪৩: গল্পের শেষে যখন জানা যায় বুড়ি বৌদ্ধ, তখন সাম্প্রদায়িক বিবাদে লিপ্ত মানুষদের মানসিক অবস্থা কেমন হয়েছিল?
ক) তারা আরও উত্তেজিত হয়ে পড়ে
খ) তারা স্বস্তি পায় এবং ঐক্যবদ্ধ হয়
গ) তারা হতভম্ব, লজ্জিত এবং তাদের বিবাদের অসারতা উপলব্ধি করে
ঘ) তারা বুড়িকে অবিশ্বাস করে
সঠিক উত্তর: গ) তারা হতভম্ব, লজ্জিত এবং তাদের বিবাদের অসারতা উপলব্ধি করে
বিস্তারিত উত্তর: বুড়ির আসল পরিচয় জানার পর হিন্দু-মুসলমান উভয় পক্ষই হতভম্ব ও লজ্জিত হয়ে পড়ে, কারণ তাদের এতক্ষণের ধর্মীয় বিবাদ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়।
বিস্তারিত উত্তর: ‘ক্রন্দনরতা জননীর পাশে’ কবিতাটি লিখেছেন বিখ্যাত কবি সমর সেন। তাঁর কবিতায় নাগরিক জীবনের ক্লান্তি, হতাশা ও প্রতিবাদী সুর লক্ষ করা যায়। (উল্লেখ্য, মৃণাল সেন একজন চলচ্চিত্র পরিচালক, কবি নন।)
বিস্তারিত উত্তর: এই কবিতায় ‘জননী’ বলতে কবি তাঁর স্বদেশভূমি বা জন্মভূমিকে বুঝিয়েছেন। জন্মভূমি যখন সংকটে বা বিপদে পড়ে, তখন তার এই ক্রন্দন কবির মনকে বিচলিত করে তোলে।
প্রশ্ন ১৪৬: এই কবিতায় কবি কিসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন?
ক) দারিদ্র্য
খ) সামাজিক অবিচার, অন্যায় ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস
গ) প্রাকৃতিক দুর্যোগ
ঘ) ব্যক্তিগত হতাশা
সঠিক উত্তর: খ) সামাজিক অবিচার, অন্যায় ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস
বিস্তারিত উত্তর: কবি সমাজে ঘটে চলা বিভিন্ন অবিচার, অন্যায়, রাজনৈতিক হত্যা, শোষণ এবং নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি চান না কেবল দর্শক হয়ে থাকতে, বরং প্রতিবাদী হয়ে উঠতে চেয়েছেন।
প্রশ্ন ১৪৭: ‘ক্রন্দনরতা জননীর পাশে’ কবিতায় কবির কোন মানসিকতা প্রকাশিত হয়েছে?
ক) নির্লিপ্ততা
খ) সামাজিক দায়বদ্ধতা ও প্রতিবাদী মনোভাব
গ) ভোগবাদ
ঘ) পলায়নপরতা
সঠিক উত্তর: খ) সামাজিক দায়বদ্ধতা ও প্রতিবাদী মনোভাব
বিস্তারিত উত্তর: কবি এই কবিতায় সমাজের প্রতি তাঁর গভীর দায়বদ্ধতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার এক দৃঢ় মানসিকতা প্রকাশ করেছেন। তিনি চান না নীরব দর্শক হয়ে থাকতে, বরং সক্রিয়ভাবে প্রতিবাদ করতে চেয়েছেন।
প্রশ্ন ১৪৮: ‘আমি কি তবে গান গাব?’ – এই পংক্তিটির মধ্য দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
ক) গান গাওয়ার ইচ্ছা
খ) পরিস্থিতির গুরুত্বহীনতা
গ) অস্থিরতা ও হতাশা
ঘ) চরম বিপদে শুধুমাত্র শিল্পচর্চার অসারতা ও নিষ্ক্রিয়তা
সঠিক উত্তর: ঘ) চরম বিপদে শুধুমাত্র শিল্পচর্চার অসারতা ও নিষ্ক্রিয়তা
বিস্তারিত উত্তর: কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, যখন জন্মভূমি বিপদে ক্রন্দনরত, তখন কেবল শিল্পচর্চা বা গান গাওয়া অর্থহীন যদি তা প্রতিবাদের ভাষা না হয়। এই সময় সমাজের প্রতি আরও বড় দায়িত্ব পালন করা জরুরি।
প্রশ্ন ১৪৯: ‘ক্রন্দনরতা জননীর পাশে’ কবিতায় কবি ক্রন্দনরতা জননীর পাশে কী করতে চেয়েছেন?
ক) চুপ করে বসে থাকতে
খ) অস্ত্র তুলে ধরতে (প্রতীকী অর্থে প্রতিবাদ)
গ) গান গাইতে
ঘ) কবিতা লিখতে
সঠিক উত্তর: খ) অস্ত্র তুলে ধরতে (প্রতীকী অর্থে প্রতিবাদ)
বিস্তারিত উত্তর: কবি অনুভব করেন, যখন জন্মভূমি ক্রন্দনরত, তখন কেবল নীরব দর্শক থাকা যায় না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কবি ‘অস্ত্র’ (প্রতিবাদের ভাষা, বিবেক) হাতে তুলে নিয়ে প্রতিবাদ করতে চেয়েছেন, যা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের প্রতীক।
প্রশ্ন ১৫০: কবি কাদের মৃতদেহ নদীতে ভাসতে দেখেছেন (বা সেই পরিস্থিতির উল্লেখ করেছেন)?
ক) সাধারণ মানুষের
খ) নিহত ভাইদের (রাজনৈতিক হিংসার শিকার)
গ) দেশপ্রেমিকদের
ঘ) বিপ্লবীদের
সঠিক উত্তর: খ) নিহত ভাইদের (রাজনৈতিক হিংসার শিকার)
বিস্তারিত উত্তর: কবিতায় কবি রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অন্যায়ের শিকার হয়ে নিহত ‘ভাইদের’ শবদেহের উল্লেখ করেছেন, যা তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করে এবং প্রতিবাদের জন্য উদ্বুদ্ধ করে।
প্রশ্ন ১৫১: কবিতায় ‘আমার বিবেক’ শব্দটি দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে?
ক) কবির মনের অবস্থা
খ) কবির আত্মশুদ্ধি
গ) কবির প্রতিবাদী সত্তা ও নৈতিক বোধ
ঘ) কবির জ্ঞান
সঠিক উত্তর: গ) কবির প্রতিবাদী সত্তা ও নৈতিক বোধ
বিস্তারিত উত্তর: ‘আমার বিবেক’ বলতে কবি তাঁর অন্তর্নিহিত প্রতিবাদী সত্তা এবং নৈতিক বোধকে বুঝিয়েছেন, যা তাকে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে প্রেরণা যোগায়।
প্রশ্ন ১৫২: কবিতায় বর্ণিত পরিস্থিতি কেমন?
ক) শান্ত ও স্থির
খ) ভয়ংকর, অস্থির ও নৈরাজ্যপূর্ণ
গ) আনন্দময়
ঘ) স্বাভাবিক
সঠিক উত্তর: খ) ভয়ংকর, অস্থির ও নৈরাজ্যপূর্ণ
বিস্তারিত উত্তর: কবিতায় বর্ণিত পরিস্থিতি ভয়ংকর ও অস্থির, যেখানে মানুষ হত্যা, রক্তপাত এবং সামাজিক অবিচার নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।
প্রশ্ন ১৫৩: কবি কবিতায় ‘নাকছাবি’ কোথায় পড়ে থাকতে দেখেছেন?
ক) বিছানায়
খ) রাস্তায় (রূপকার্থে, নিপীড়িত নারীর প্রতীক)
গ) যুদ্ধক্ষেত্রে
ঘ) বাড়িতে
সঠিক উত্তর: খ) রাস্তায় (রূপকার্থে, নিপীড়িত নারীর প্রতীক)
বিস্তারিত উত্তর: “মেয়েটির বিকৃত মৃতদেহ / পড়ে আছে रस्तार ধারে / তার ছেঁড়া শায়া, তার ভাঙা নাকছাবি…” – এই অংশে নাকছাবি নিপীড়িত ও ধর্ষিত নারীর প্রতীক। এখানে ‘রাস্তায়’ বলতে আক্ষরিক রাস্তার চেয়েও সমাজের প্রকাশ্য অবিচারের ক্ষেত্রকে বোঝানো হয়েছে।
প্রশ্ন ১৫৪: ‘ক্রন্দনরতা জননীর পাশে’ কবিতায় কবি কী না করতে চেয়েছেন?
ক) চুপ করে থাকতে বা নিষ্ক্রিয় থাকতে
খ) চিৎকার করতে
গ) দৌড়াতে
ঘ) পালিয়ে যেতে
সঠিক উত্তর: ক) চুপ করে থাকতে বা নিষ্ক্রিয় থাকতে
বিস্তারিত উত্তর: কবি কোনোভাবেই চুপ করে বা নিষ্ক্রিয় থাকতে চান না যখন তার জন্মভূমি বিপদে থাকে এবং অন্যায়ের শিকার হয়। তিনি সক্রিয়ভাবে প্রতিবাদ করতে চান।
প্রশ্ন ১৫৫: কবির মতে, কবিতা লেখার কারণ কী হওয়া উচিত (এই বিশেষ পরিস্থিতিতে)?
ক) খ্যাতি অর্জন
খ) মনের আনন্দ
গ) প্রতিবাদ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা
ঘ) জীবিকা নির্বাহ
সঠিক উত্তর: গ) প্রতিবাদ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা
বিস্তারিত উত্তর: কবির মতে, বর্তমান (কবিতার প্রেক্ষাপটে) পরিস্থিতিতে কবিতা শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ নয়, বরং সামাজিক অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার মাধ্যম হওয়া উচিত।
প্রশ্ন ১৫৬: এই কবিতায় কিসের ইঙ্গিত পাওয়া যায়?
ক) বিপ্লবী চেতনার
খ) শান্তিপূর্ণ সমাধানের
গ) দার্শনিক চিন্তার
ঘ) ঐতিহাসিক পটভূমির
সঠিক উত্তর: ক) বিপ্লবী চেতনার
বিস্তারিত উত্তর: কবিতাটিতে কবি অন্যায়ের বিরুদ্ধে অস্ত্র (বিবেক, বারুদ, কবিতা) হাতে তুলে নেওয়ার কথা বলে এক ধরনের বিপ্লবী চেতনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
প্রশ্ন ১৫৭: ‘আমি কি তবে ছবি আঁকব?’ – এই প্রশ্নটির অর্থ কী?
ক) ছবি আঁকার ইচ্ছা প্রকাশ
খ) বিপদের সময়ে শুধুমাত্র সৌন্দর্যচর্চা বা নিষ্ক্রিয় শিল্পের অসারতা
গ) শিল্পকলার গুরুত্ব বোঝানো
ঘ) শিল্পীর স্বাধীনতার প্রশ্ন
সঠিক উত্তর: খ) বিপদের সময়ে শুধুমাত্র সৌন্দর্যচর্চা বা নিষ্ক্রিয় শিল্পের অসারতা
বিস্তারিত উত্তর: কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, যখন জন্মভূমি ক্রন্দনরত এবং মানুষ নিপীড়িত, তখন কেবল ছবি আঁকা বা সৌন্দর্যচর্চার মতো নিষ্ক্রিয় শিল্পচর্চা অর্থহীন। তখন প্রয়োজন সক্রিয় প্রতিবাদ।
প্রশ্ন ১৫৮: কবি কেন ক্রন্দনরতা জননীর পাশে দাঁড়াতে চান?
ক) সহানুভূতি দেখানোর জন্য
খ) তাকে শান্ত করার জন্য
গ) প্রতিবাদ জানাতে ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে
ঘ) কাব্য লেখার জন্য
সঠিক উত্তর: গ) প্রতিবাদ জানাতে ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে
বিস্তারিত উত্তর: কবি কেবল সহানুভূতি দেখাতে চান না, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে প্রতিবাদ করতে এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চান।
প্রশ্ন ১৫৯: কবিতায় ‘আমার বিবেক, আমার বারুদ’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
ক) কবির ব্যক্তিগত অনুশোচনা ও বিস্ফোরক দ্রব্য
খ) কবির জাগ্রত চেতনা ও প্রতিবাদের শক্তি
গ) কবির কাব্য প্রতিভা ও আগ্নেয়াস্ত্র
ঘ) কবির ভয় ও আত্মরক্ষার উপায়
সঠিক উত্তর: খ) কবির জাগ্রত চেতনা ও প্রতিবাদের শক্তি
বিস্তারিত উত্তর: ‘বিবেক’ হল কবির জাগ্রত চেতনা যা অন্যায়কে মেনে নিতে পারে না, আর ‘বারুদ’ হল সেই চেতনার ফলস্বরূপ প্রতিবাদের বিস্ফোরক শক্তি।
বিস্তারিত উত্তর: বাদল সরকার (১৯২৫-২০১১) ছিলেন একজন বিখ্যাত নাট্যকার ও নির্দেশক। তিনি বাংলা নাটকে ‘তৃতীয় থিয়েটার’-এর প্রবর্তক। তাঁর নাটকগুলি সাধারণত সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়বস্তু নিয়ে লেখা হত। ‘এবং ইন্দ্রজিৎ’, ‘পাগলা ঘোড়া’ তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক।
প্রশ্ন ১৬২: ‘বিভাজন’ নাটকের মূল বিষয় কী?
ক) প্রেম ও বিরহ
খ) ভারত বিভাজন ও তার মানবিক প্রভাব
গ) পারিবারিক সংকট
ঘ) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
সঠিক উত্তর: খ) ভারত বিভাজন ও তার মানবিক প্রভাব
বিস্তারিত উত্তর: নাটকটি ভারত বিভাজন এবং তার ফলে সৃষ্ট উদ্বাস্তু সমস্যা, দেশভাগের যন্ত্রণা, মানবিক সম্পর্কগুলির ভাঙন ও মানুষের জীবনের ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাবকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে।
প্রশ্ন ১৬৩: নাটকের চরিত্রগুলির মধ্যে কোন ধরনের সম্পর্ক দেখানো হয়েছে?
ক) শুধুমাত্র পারিবারিক সম্পর্ক
খ) দেশভাগের যন্ত্রণায় ছিন্নভিন্ন প্রতিবেশী ও মানবিক সম্পর্ক
গ) শুধুই রাজনৈতিক সম্পর্ক
ঘ) শত্রুতার সম্পর্ক
সঠিক উত্তর: খ) দেশভাগের যন্ত্রণায় ছিন্নভিন্ন প্রতিবেশী ও মানবিক সম্পর্ক
বিস্তারিত উত্তর: নাটকে বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক, মানবিক টানাপোড়েন এবং দেশভাগের কারণে সেই সম্পর্কগুলির জটিলতা ও ভাঙনকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
প্রশ্ন ১৬৪: ‘বিভাজন’ নাটকে কোন ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতিফলন দেখা যায়?
ক) ভাষা আন্দোলন
খ) ভারত বিভাজন (১৯৪৭)
গ) সিপাহী বিদ্রোহ
ঘ) নীল বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর: খ) ভারত বিভাজন (১৯৪৭)
বিস্তারিত উত্তর: ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাজনের ফলে সৃষ্ট উদ্বাস্তু সমস্যা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং সাধারণ মানুষের জীবনে তার ভয়াবহ প্রভাব এই নাটকের মূল ঐতিহাসিক পটভূমি।
প্রশ্ন ১৬৫: ‘বিভাজন’ নাটকের মূল রস কী?
ক) হাস্যরস
খ) করুণ রস
গ) বীর রস
ঘ) শান্ত রস
সঠিক উত্তর: খ) করুণ রস
বিস্তারিত উত্তর: দেশভাগের ফলে মানুষের জীবনে যে অপরিমেয় দুঃখ, কষ্ট, বিচ্ছেদ ও যন্ত্রণা নেমে এসেছিল, তা নাটকের মূল সুর। তাই নাটকের মধ্যে করুণ রসের প্রাধান্যই বেশি।
প্রশ্ন ১৬৬: ‘বিভাজন’ নাটকে কোন ধরনের চরিত্রগুলি দেখানো হয়েছে?
ক) শুধু উচ্চবিত্তদের
খ) সমাজের বিভিন্ন স্তরের সাধারণ মানুষ, বিশেষত উদ্বাস্তু
গ) শুধু রাজনৈতিক নেতা
ঘ) শুধু ঐতিহাসিক চরিত্র
সঠিক উত্তর: খ) সমাজের বিভিন্ন স্তরের সাধারণ মানুষ, বিশেষত উদ্বাস্তু
বিস্তারিত উত্তর: নাটকে সমাজের বিভিন্ন স্তরের সাধারণ মানুষের চরিত্রগুলি দেখানো হয়েছে, যাদের জীবন ভারত বিভাজনের ফলে কীভাবে প্রভাবিত হয়েছিল এবং যারা উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছিল, তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
প্রশ্ন ১৬৭: ‘বিভাজন’ নাটকে কোন প্রধান সমস্যাটি তুলে ধরা হয়েছে?
ক) দারিদ্র্য
খ) শিক্ষা সমস্যা
গ) উদ্বাস্তু সমস্যা ও তার মানবিক সংকট
ঘ) পরিবেশ দূষণ
সঠিক উত্তর: গ) উদ্বাস্তু সমস্যা ও তার মানবিক সংকট
বিস্তারিত উত্তর: ভারত বিভাজনের ফলে সৃষ্ট উদ্বাস্তু সমস্যা এবং এই সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর যে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছিল, তাদের আশ্রয়হীনতা ও মানবিক সংকট, তা এই নাটকের প্রধান বিষয়।
প্রশ্ন ১৬৮: ‘বিভাজন’ নাটকে ব্যবহৃত ভাষা কেমন?
ক) জটিল ও কাব্যিক
খ) সহজ, সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা, আঞ্চলিকতার স্পর্শযুক্ত
গ) প্রাচীন বাংলা
ঘ) বিদেশি শব্দবহুল
সঠিক উত্তর: খ) সহজ, সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা, আঞ্চলিকতার স্পর্শযুক্ত
বিস্তারিত উত্তর: বাদল সরকারের নাটকে সাধারণত সহজ, সরল এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহৃত ভাষা ব্যবহার করা হয়, যা নাটকের বিষয়বস্তুকে আরও বাস্তবানুগ করে তোলে। ‘বিভাজন’ নাটকেও এই বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, যেখানে উদ্বাস্তু জীবনের কথ্য ভাষার প্রয়োগ ঘটেছে।
প্রশ্ন ১৬৯: ‘বিভাজন’ নাটকে বাদল সরকার কোন ধরনের থিয়েটারের আঙ্গিক ব্যবহার করেছেন?
ক) যাত্রা
খ) থিয়েটার অফ দ্য অ্যাবসার্ড
গ) তৃতীয় থিয়েটার বা অঙ্গনমঞ্চের ধারণা
ঘ) বাণিজ্যিক থিয়েটার
সঠিক উত্তর: গ) তৃতীয় থিয়েটার বা অঙ্গনমঞ্চের ধারণা
বিস্তারিত উত্তর: বাদল সরকার বাংলা নাটকে ‘তৃতীয় থিয়েটার’-এর প্রবর্তক, যা প্রচলিত বাণিজ্যিক বা গ্রুপ থিয়েটারের বাইরে গিয়ে কম খরচে, মুক্তমঞ্চে বা অঙ্গনে অভিনয় এবং দর্শক ও অভিনেতার মধ্যেকার দূরত্ব কমানোর উপর জোর দেয়। ‘বিভাজন’ নাটকেও এই আঙ্গিকের প্রভাব দেখা যায়।
প্রশ্ন ১৭০: ‘বিভাজন’ নাটকে কোন সময়কালের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে?
ক) স্বাধীনতা পূর্ববর্তী ভারত
খ) ভারত বিভাজন (১৯৪৭) ও তার পরবর্তী সময়কাল
গ) মধ্যযুগীয় ভারত
ঘ) আধুনিক ভারত
সঠিক উত্তর: খ) ভারত বিভাজন (১৯৪৭) ও তার পরবর্তী সময়কাল
বিস্তারিত উত্তর: নাটকটি ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পরবর্তী সময়ে বাস্তুহারা মানুষের জীবন ও তাদের দুর্ভোগকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে।
প্রশ্ন ১৭১: এই নাটকে কোন ধরনের সংঘাত দেখানো হয়েছে?
ক) পারিবারিক সংঘাত
খ) রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘাত এবং তার মানবিক পরিণতি
গ) ব্যক্তিগত সংঘাত
ঘ) অর্থনৈতিক সংঘাত
সঠিক উত্তর: খ) রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘাত এবং তার মানবিক পরিণতি
বিস্তারিত উত্তর: নাটকটি ভারত বিভাজনের ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘাত, সাম্প্রদায়িক বিভেদ এবং তার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে আসা মানবিক সংকট ও সম্পর্কগুলির ভাঙনকে তুলে ধরে।
প্রশ্ন ১৭২: ‘বিভাজন’ নাটকের চরিত্রগুলির মধ্যে কোনটি সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে?
ক) একজন শক্তিশালী নেতা
খ) সাধারণ, নামহীন, ভিটেমাটিহারা মানুষ
গ) একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব
ঘ) একজন দার্শনিক
সঠিক উত্তর: খ) সাধারণ, নামহীন, ভিটেমাটিহারা মানুষ
বিস্তারিত উত্তর: বাদল সরকার তার নাটকে সাধারণ, নামহীন মানুষের জীবন, তাদের কষ্ট এবং অভিজ্ঞতার উপর বেশি জোর দিয়েছেন, যারা দেশভাগের সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছিল।
প্রশ্ন ১৭৩: এই নাটকের মাধ্যমে বাদল সরকার কীসের সমালোচনা করেছেন?
ক) সরকারের নীতি
খ) যুদ্ধ
গ) দেশ বিভাজনের মতো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভয়াবহ মানবিক পরিণতি
ঘ) শিল্প ও সাহিত্য
সঠিক উত্তর: গ) দেশ বিভাজনের মতো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভয়াবহ মানবিক পরিণতি
বিস্তারিত উত্তর: বাদল সরকার এই নাটকের মধ্য দিয়ে দেশভাগের মতো একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভয়াবহ মানবিক পরিণতি এবং এর ফলে সৃষ্ট যন্ত্রণা, বিচ্ছেদ ও অস্থিরতার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
প্রশ্ন ১৭৪: ‘বিভাজন’ নাটকে চরিত্ররা দেশভাগের পর মূলত কোন ধরনের পরিবেশে বসবাস করত?
ক) বিলাসবহুল আবাসে
খ) শহরের অভিজাত এলাকায়
গ) উদ্বাস্তু শিবির বা সীমান্তবর্তী অনিশ্চিত পরিবেশে
ঘ) শান্ত ও সমৃদ্ধ গ্রামে
সঠিক উত্তর: গ) উদ্বাস্তু শিবির বা সীমান্তবর্তী অনিশ্চিত পরিবেশে
বিস্তারিত উত্তর: দেশভাগের পর ভিটেমাটিহারা মানুষজন মূলত উদ্বাস্তু শিবির, রেললাইন বা রাস্তার ধারে, অথবা সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অনিশ্চিত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছিল।
প্রশ্ন ১৭৫: নাটকের চরিত্ররা দেশভাগের ফলে কী ধরনের প্রধান মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়েছিল?
ক) শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতি
খ) পরিচয় সংকট, নিরাপত্তাহীনতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা
গ) ভাষাগত সমস্যা
ঘ) খাদ্যাভাবের চেয়েও বেশি মর্যাদাহানি
সঠিক উত্তর: খ) পরিচয় সংকট, নিরাপত্তাহীনতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা
বিস্তারিত উত্তর: দেশভাগ চরিত্রগুলির মনে গভীর পরিচয় সংকট, নিরাপত্তাহীনতা, ভিটেমাটি হারানোর বেদনা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের প্রতি চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল।
প্রশ্ন ১৭৬: বাদল সরকারের নাটকে ‘থার্ড থিয়েটার’-এর একটি মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
ক) বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন
খ) শুধুমাত্র বিনোদন প্রদান
গ) প্রচলিত মঞ্চের ধারণা ভেঙে দর্শক ও অভিনেতার মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং সামাজিক বক্তব্য তুলে ধরা
ঘ) ব্যয়বহুল সেট ও পোশাক ব্যবহার করা
সঠিক উত্তর: গ) প্রচলিত মঞ্চের ধারণা ভেঙে দর্শক ও অভিনেতার মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং সামাজিক বক্তব্য তুলে ধরা
বিস্তারিত উত্তর: বাদল সরকারের ‘থার্ড থিয়েটার’ বা ‘অঙ্গনমঞ্চ’-এর মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রসেনিয়াম মঞ্চের বাইরে বেরিয়ে এসে কম খরচে, সরাসরি দর্শকের কাছাকাছি পৌঁছে নাটকের সামাজিক বক্তব্যকে আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করা।
অতিরিক্ত প্রশ্নাবলী
পথের পাঁচালী (অতিরিক্ত)
প্রশ্ন ১৭৭: নিশ্চিন্দিপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কাল্পনিক নদীটির নাম কী, যা অপুর মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল?
ক) ভৈরব
খ) ইচ্ছামতী (লেখক এই নামে অন্য লেখায় উল্লেখ করলেও, উপন্যাসে নামহীন)
গ) জলঙ্গী
ঘ) রূপনারায়ণ
সঠিক উত্তর: খ) ইচ্ছামতী (লেখক এই নামে অন্য লেখায় উল্লেখ করলেও, উপন্যাসে নামহীন)
বিস্তারিত উত্তর: ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসে নদীটির কোনো নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে বিভূতিভূষণের অনেক লেখাতেই ইচ্ছামতী নদীর প্রসঙ্গ আসে এবং এই নদীর পারিপার্শ্বিকতা উপন্যাসের বর্ণনার সঙ্গে মেলে। অপুর জীবনে এই নদী ও তার তীরবর্তী প্রকৃতি গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
প্রশ্ন ১৭৮: দুর্গা অপুকে নিয়ে কোন গাছের তলায় বসে খেলা করত এবং বনভোজন করত?
ক) তেঁতুল গাছ
খ) বট গাছ
গ) ছাতিম গাছ
ঘ) আমলকী গাছ
সঠিক উত্তর: ঘ) আমলকী গাছ
বিস্তারিত উত্তর: উপন্যাসে এমন একাধিক গাছের উল্লেখ থাকলেও, বিশেষ করে একটি পুরনো আমলকী গাছের তলায় দুর্গা ও অপুর খেলাধুলা ও বনভোজনের দৃশ্য মনোগ্রাহীভাবে বর্ণিত হয়েছে।
প্রশ্ন ১৭৯: প্রসন্ন গুরুমশাইয়ের পাঠশালায় অপু কীসের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিল?
ক) দুষ্টুমির জন্য
খ) ভালো আবৃত্তির জন্য
গ) চুপচাপ স্বভাব ও পড়া মনে রাখার জন্য
ঘ) খেলাধুলায় পারদর্শিতার জন্য
সঠিক উত্তর: গ) চুপচাপ স্বভাব ও পড়া মনে রাখার জন্য
বিস্তারিত উত্তর: অপু পাঠশালায় সাধারণত চুপচাপ থাকত এবং তার স্মরণশক্তি ভালো ছিল, যা গুরুমশাইয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করত।
আহ্বান (অতিরিক্ত)
প্রশ্ন ১৮০: ‘আহ্বান’ গল্পে রহমান মিঞার প্রতি লেখকের শ্রদ্ধা জন্মানোর প্রধান কারণ কী?
ক) রহমান মিঞার আর্থিক সাহায্য
খ) রহমান মিঞার সামাজিক প্রতিপত্তি
গ) রহমান মিঞার নিঃস্বার্থ স্নেহ ও অকৃত্রিম আন্তরিকতা
ঘ) রহমান মিঞার ধর্মীয় জ্ঞান
সঠিক উত্তর: গ) রহমান মিঞার নিঃস্বার্থ স্নেহ ও অকৃত্রিম আন্তরিকতা
বিস্তারিত উত্তর: বুড়ো রহমান মিঞার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, সরলতা এবং লেখকের প্রতি তার অকৃত্রিম আন্তরিকতাই লেখকের মনে গভীর শ্রদ্ধা ও মমত্ববোধ জাগিয়ে তুলেছিল।
প্রশ্ন ১৮১: লেখক গ্রামের কোন জিনিসটির প্রতি বিশেষ আকর্ষণ অনুভব করতেন?
ক) আধুনিক সুযোগ-সুবিধা
খ) জনকোলাহল
গ) প্রকৃতির স্নিগ্ধতা ও সরল জীবনযাত্রা
ঘ) রাজনৈতিক কার্যকলাপ
সঠিক উত্তর: গ) প্রকৃতির স্নিগ্ধতা ও সরল জীবনযাত্রা
বিস্তারিত উত্তর: ‘আহ্বান’ গল্পে লেখক গ্রামের শান্ত, স্নিগ্ধ প্রকৃতি এবং সেখানকার মানুষের সরল, অনাড়ম্বর জীবনযাত্রার প্রতি গভীর আকর্ষণ অনুভব করতেন।
বঙ্গভাষা (অতিরিক্ত)
প্রশ্ন ১৮২: ‘বঙ্গভাষা’ কবিতায় কবি কোনটিকে ‘পরের ধনে পোদ্দারি’ বলেছেন?
ক) বিদেশি সংস্কৃতির অনুকরণ
খ) মাতৃভাষাকে অবহেলা করে বিদেশি ভাষায় সাহিত্যচর্চা
গ) অন্যের লেখা চুরি করা
ঘ) বিদেশে ব্যবসা করা
সঠিক উত্তর: খ) মাতৃভাষাকে অবহেলা করে বিদেশি ভাষায় সাহিত্যচর্চা
বিস্তারিত উত্তর: কবি মাতৃভাষা বাংলার ঐশ্বর্যকে অবহেলা করে যখন বিদেশি (ইংরেজি) ভাষায় সাহিত্য রচনার চেষ্টা করেছিলেন, সেই কাজকেই তিনি ‘পরের ধনে পোদ্দারি’ বা বৃথা আড়ম্বর বলে উল্লেখ করেছেন।
প্রশ্ন ১৮৩: কবি বঙ্গভাষাকে ‘মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি’ – এখানে ‘অবরেণ্য’ বলতে কী বুঝিয়েছেন?
ক) যা বরণ করার যোগ্য নয় (নিকৃষ্ট বিদেশি ভাষা)
খ) যা অত্যন্ত মূল্যবান (মাতৃভাষা)
গ) যা অজানা
ঘ) যা কঠিন
সঠিক উত্তর: ক) যা বরণ করার যোগ্য নয় (নিকৃষ্ট বিদেশি ভাষা)
বিস্তারিত উত্তর: ‘অবরেণ্য’ শব্দের অর্থ যা বরণীয় নয় বা নিকৃষ্ট। কবি এখানে বিদেশি ভাষাকে মাতৃভাষার তুলনায় নিকৃষ্ট জ্ঞান করে সেই ভাষায় সাহিত্যচর্চার বৃথা চেষ্টার জন্য অনুতাপ করেছেন।
ভারতবর্ষ (অতিরিক্ত)
প্রশ্ন ১৮৪: ‘ভারতবর্ষ’ গল্পে হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাদ চরমে পৌঁছালে কে তাদের থামানোর চেষ্টা করে?
ক) গ্রামের চৌকিদার
খ) এক জনৈক ডাক্তার
গ) একজন স্কুল শিক্ষক
ঘ) কোনো নির্দিষ্ট চরিত্র নয়, বরং পরিস্থিতিই মোড় নেয়
সঠিক উত্তর: ক) গ্রামের চৌকিদার
বিস্তারিত উত্তর: গল্পে দেখা যায়, হিন্দু ও মুসলমান উভয় পক্ষ যখন বুড়ির মৃতদেহ নিয়ে মারমুখী হয়ে ওঠে, তখন গ্রামের চৌকিদার তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য উদ্যোগী হয়।
প্রশ্ন ১৮৫: বুড়িকে যখন প্রথমবার মৃত অবস্থায় দেখা যায়, তখন তার পরনে কী ছিল?
ক) একটি পরিষ্কার সাদা শাড়ি
খ) একটি রঙিন ছাপা শাড়ি
গ) একটি কালো, ছেঁড়া ময়লা বস্ত্র
ঘ) কোনো বস্ত্র ছিল না
সঠিক উত্তর: গ) একটি কালো, ছেঁড়া ময়লা বস্ত্র
বিস্তারিত উত্তর: গল্পের বর্ণনানুসারে, বুড়িকে যখন প্রথমবার চায়ের দোকানের সামনে মৃতবৎ পড়ে থাকতে দেখা যায়, তখন তার পরনে ছিল একটি কালো রঙের, অত্যন্ত ময়লা এবং ছেঁড়া বস্ত্র, যা তার দুর্দশার পরিচয় বহন করে।
ক্রন্দনরতা জননীর পাশে (অতিরিক্ত)
প্রশ্ন ১৮৬: ‘ক্রন্দনরতা জননীর পাশে’ কবিতায় কবি কেন শুধু ‘লেখা’, ‘গান গাওয়া’ বা ‘ছবি আঁকা’কে যথেষ্ট মনে করেননি?
ক) কারণ তিনি এগুলোতে পারদর্শী ছিলেন না
খ) কারণ এই শিল্পমাধ্যমগুলির কোনো আবেদন নেই
গ) কারণ দেশের চরম সংকটে শুধুমাত্র নিষ্ক্রিয় শিল্পচর্চা বিবেকহীনতার পরিচায়ক
ঘ) কারণ তিনি রাজনীতিতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন
সঠিক উত্তর: গ) কারণ দেশের চরম সংকটে শুধুমাত্র নিষ্ক্রিয় শিল্পচর্চা বিবেকহীনতার পরিচায়ক
বিস্তারিত উত্তর: কবি মনে করেন, যখন জননী (দেশ) ক্রন্দনরতা, যখন ভাইয়ের মৃতদেহ পড়ে থাকে, তখন শুধুমাত্র সৌন্দর্যমূলক বা বিনোদনমূলক শিল্পচর্চা (গান, লেখা, ছবি আঁকা) অর্থহীন ও বিবেকহীনতার পরিচায়ক, যদি না তা প্রতিবাদের হাতিয়ার হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন ১৮৭: কবি কবিতায় কোন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছেন?
ক) কোনো নির্দিষ্ট ঈশ্বরের কাছে নয়
খ) দেবী কালীর কাছে
গ) ভগবান শিবের কাছে
ঘ) যিশু খ্রিস্টের কাছে
সঠিক উত্তর: ক) কোনো নির্দিষ্ট ঈশ্বরের কাছে নয়
বিস্তারিত উত্তর: কবিতায় ঈশ্বরের উল্লেখ থাকলেও, তা কোনো নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা নয়, বরং এটি কবির অন্তরের আর্তি ও নৈতিক বোধের জাগরণের প্রতীক। “ঈশ্বর شاید স্বর্গে / অথবা নরকে / কিন্তু বিবেক?” – এই পংক্তি তার প্রমাণ।
বিভাজন (অতিরিক্ত)
প্রশ্ন ১৮৮: ‘বিভাজন’ নাটকে চরিত্ররা কোন নদীর তীরে তাদের নতুন আশ্রয় খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করে?
ক) গঙ্গা
খ) পদ্মা
গ) ইচ্ছামতী বা অনুরূপ সীমান্তবর্তী কোনো নদী
ঘ) ব্রহ্মপুত্র
সঠিক উত্তর: গ) ইচ্ছামতী বা অনুরূপ সীমান্তবর্তী কোনো নদী
বিস্তারিত উত্তর: ‘বিভাজন’ নাটকে চরিত্ররা দেশভাগের পর সীমান্ত অঞ্চলের কোনো নদীর (যেমন ইচ্ছামতী) তীরে বা তার আশেপাশে উদ্বাস্তু শিবিরে আশ্রয় নেয়, যা তাদের অনিশ্চিত জীবনের প্রতীক।
প্রশ্ন ১৮৯: নাটকের শেষে চরিত্রদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী ধরনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে?
ক) তারা সকলেই ধনী ও সুখী হয়েছে
খ) তারা তাদের পুরনো বাড়িতে ফিরে গেছে
গ) তাদের সংগ্রাম ও অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে
ঘ) তারা একটি নতুন দেশ গঠন করেছে
সঠিক উত্তর: গ) তাদের সংগ্রাম ও অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে
বিস্তারিত উত্তর: ‘বিভাজন’ নাটকের শেষে চরিত্রদের জীবনে কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসে না। তাদের সংগ্রাম, অস্তিত্বের সংকট এবং ভবিষ্যৎ জীবনের অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকে, যা দেশভাগের দীর্ঘমেয়াদী যন্ত্রণাকে তুলে ধরে।
প্রশ্ন ১৯০: ‘বিভাজন’ নাটকে নাট্যকার কোন বিষয়টির ওপর আলোকপাত করতে চেয়েছেন?
ক) রাজনৈতিক নেতাদের দূরদর্শিতা
খ) দেশভাগের ফলে সাধারণ মানুষের অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট ও মানবিক বিপর্যয়
গ) অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনা
ঘ) সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চূড়ান্ত প্রতিষ্ঠা
সঠিক উত্তর: খ) দেশভাগের ফলে সাধারণ মানুষের অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট ও মানবিক বিপর্যয়
বিস্তারিত উত্তর: বাদল সরকার ‘বিভাজন’ নাটকের মাধ্যমে দেশভাগের মতো একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ, নিরীহ মানুষের জীবনে যে অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট, ভিটেমাটি হারানোর যন্ত্রণা এবং সার্বিক মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছিল, সেই মর্মান্তিক দিকটির ওপর আলোকপাত করেছেন।
নতুন অতিরিক্ত প্রশ্ন
প্রশ্ন ১৯১: ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসে অপুর দিদি দুর্গার প্রিয় খেলার সঙ্গী কে ছিল?
ক) গ্রামের অন্যান্য মেয়েরা
খ) তার ভাই অপু
গ) তার মা সর্বজয়া
ঘ) ইন্দির ঠাকরুণ
সঠিক উত্তর: খ) তার ভাই অপু
বিস্তারিত উত্তর: দুর্গার প্রধান খেলার সঙ্গী ছিল তার ছোট ভাই অপু। তাদের দুজনের শৈশব কেটেছে বনে-বাদাড়ে ঘুরে, বিভিন্ন জিনিস আবিষ্কার করে এবং নানা রকম কাল্পনিক খেলা খেলে।
প্রশ্ন ১৯২: হরিহর রায়ের সংসারে অভাবের কারণ কী ছিল?
ক) তার অলসতা
খ) তার আয়ের স্বল্পতা ও পরিবারের সদস্য সংখ্যা
গ) তার অমিতব্যয়িতা
ঘ) গ্রামের অর্থনৈতিক মন্দা
সঠিক উত্তর: খ) তার আয়ের স্বল্পতা ও পরিবারের সদস্য সংখ্যা
বিস্তারিত উত্তর: হরিহর রায় পৌরোহিত্য ও সামান্য কিছু জমি থেকে যা আয় করতেন, তা পরিবারের ভরণপোষণের জন্য যথেষ্ট ছিল না। এছাড়া সংসারে ইন্দির ঠাকরুণ থাকায় সদস্য সংখ্যাও বেশি ছিল, যা অভাবকে আরও প্রকট করে তুলেছিল।
প্রশ্ন ১৯৩: ‘আহ্বান’ গল্পে লেখক বুড়ো রহমান মিঞার কোন গুণের দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন?
ক) তার চাষবাসের দক্ষতা
খ) তার ধর্মপরায়ণতা
গ) তার নিঃস্বার্থ ও অকৃত্রিম ভালোবাসা
ঘ) তার সামাজিক প্রভাব
সঠিক উত্তর: গ) তার নিঃস্বার্থ ও অকৃত্রিম ভালোবাসা
বিস্তারিত উত্তর: রহমান মিঞার নিঃস্বার্থ, অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং আন্তরিকতাই লেখককে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছিল। এই ভালোবাসা ছিল সবরকম জাতি-ধর্মের ঊর্ধ্বে।
প্রশ্ন ১৯৪: ‘বঙ্গভাষা’ কবিতায় কবি কোনটিকে ‘রত্নরাজী’ বলেছেন?
ক) বিদেশি ভাষার মূল্যবান গ্রন্থসমূহ
খ) বাংলা ভাষার সমৃদ্ধ সাহিত্য সম্ভার
গ) রাজার কোষাগারে সঞ্চিত ধনরত্ন
ঘ) প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
সঠিক উত্তর: খ) বাংলা ভাষার সমৃদ্ধ সাহিত্য সম্ভার
বিস্তারিত উত্তর: “হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;— তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,” – এখানে ‘বিবিধ রতন’ বা ‘রত্নরাজী’ বলতে কবি বাংলা ভাষার সমৃদ্ধ সাহিত্য সম্ভার ও তার অফুরন্ত ভাবসম্পদকে বুঝিয়েছেন।
প্রশ্ন ১৯৫: ‘ভারতবর্ষ’ গল্পে বুড়ির মৃতদেহ নিয়ে টানাটানির সময় গ্রামের কোন চরিত্রটির মধ্যে কিছুটা যুক্তিবাদী আচরণের আভাস পাওয়া যায়?
ক) মোল্লাসাহেব
খ) ভট্টাচার্য মশাই
গ) গ্রামের চৌকিদার
ঘ) চায়ের দোকানের বৃদ্ধ মালিক
সঠিক উত্তর: গ) গ্রামের চৌকিদার
বিস্তারিত উত্তর: ধর্মীয় উন্মাদনায় যখন হিন্দু ও মুসলমান উভয় পক্ষই উত্তেজিত, তখন গ্রামের চৌকিদার আইন-শৃঙ্খলার কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার এবং মৃতদেহটিকে থানায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়, যা কিছুটা হলেও যুক্তিবাদী আচরণের পরিচায়ক।
প্রশ্ন ১৯৬: ‘এখন যদি না থাকি / তবে ব্যর্থ হবে এই গান / ব্যর্থ হবে এই লেখা’ – এই পংক্তিগুলিতে কবি কোন পরিস্থিতিতে শিল্পচর্চাকে ব্যর্থ মনে করেছেন?
ক) ব্যক্তিগত দুঃখের সময়
খ) খ্যাতি না পেলে
গ) যখন দেশ ও মানুষ বিপন্ন এবং শিল্পী যদি তার প্রতিবাদে সোচ্চার না হন
ঘ) পাঠক না থাকলে
সঠিক উত্তর: গ) যখন দেশ ও মানুষ বিপন্ন এবং শিল্পী যদি তার প্রতিবাদে সোচ্চার না হন
বিস্তারিত উত্তর: কবি মনে করেন, যখন স্বদেশ (‘জননী’) বিপন্ন, মানুষ অত্যাচারিত, তখন যদি শিল্পী (কবি) সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার শিল্পকর্মের মাধ্যমে (গান, লেখা) প্রতিবাদ না জানান, তবে সেই শিল্পচর্চা অর্থহীন ও ব্যর্থ।
প্রশ্ন ১৯৭: ‘বিভাজন’ নাটকে যে উদ্বাস্তু মানুষগুলির কথা বলা হয়েছে, তাদের প্রধান আকাঙ্ক্ষা কী ছিল?
ক) প্রচুর ধনসম্পদ লাভ
খ) রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল
গ) একটি নিরাপদ আশ্রয় ও ন্যূনতম মানবিক মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকা
ঘ) বিদেশে পাড়ি জমানো
সঠিক উত্তর: গ) একটি নিরাপদ আশ্রয় ও ন্যূনতম মানবিক মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকা
বিস্তারিত উত্তর: দেশভাগের ফলে সর্বস্বান্ত হওয়া উদ্বাস্তু মানুষগুলির প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল মাথা গোঁজার মতো একটি নিরাপদ আশ্রয় এবং অন্নের সংস্থান করে ন্যূনতম মানবিক মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকা।
প্রশ্ন ১৯৮: ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসে গ্রামের কোন মেলাটি অপু ও দুর্গার জীবনে বিশেষ আনন্দের উৎস ছিল?
ক) রথের মেলা
খ) চড়কের মেলা
গ) পৌষ সংক্রান্তির মেলা
ঘ) বইমেলা
সঠিক উত্তর: ক) রথের মেলা
বিস্তারিত উত্তর: উপন্যাসে রথের মেলার উল্লেখ আছে, যা অপু ও দুর্গার মতো গ্রামের শিশুদের জীবনে বিশেষ আনন্দ ও উত্তেজনার সৃষ্টি করত। মেলায় যাওয়া, নাগরদোলায় চড়া, বিভিন্ন জিনিস দেখা ও কেনা তাদের কাছে ছিল এক দারুণ অভিজ্ঞতা।
গ) অপরিচ্ছন্ন, কোলাহলপূর্ণ এবং নানান ধরনের মানুষের ভিড়ে ব্যস্ত
ঘ) জনশূন্য ও শান্ত
সঠিক উত্তর: গ) অপরিচ্ছন্ন, কোলাহলপূর্ণ এবং নানান ধরনের মানুষের ভিড়ে ব্যস্ত
বিস্তারিত উত্তর: গল্পের শুরুতে বাজারের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তাতে একটি অপরিচ্ছন্ন, কর্দমাক্ত, কোলাহলপূর্ণ পরিবেশের চিত্র ফুটে ওঠে, যেখানে বিভিন্ন ধরনের মানুষ তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে ভিড় করে।
প্রশ্ন ২০০: বাদল সরকারের ‘তৃতীয় থিয়েটার’ ভাবনার মূল প্রেরণা কী ছিল?
ক) পাশ্চাত্য নাটকের অন্ধ অনুকরণ
খ) ব্যয়বহুল ও зрелищный প্রযোজনা তৈরি
গ) থিয়েটারকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নাটক করা
ঘ) শুধুমাত্র ঐতিহ্যবাহী লোকনাট্যের পুনরুজ্জীবন
সঠিক উত্তর: গ) থিয়েটারকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নাটক করা
বিস্তারিত উত্তর: বাদল সরকারের ‘তৃতীয় থিয়েটার’ আন্দোলনের মূল প্রেরণা ছিল প্রচলিত বাণিজ্যিক থিয়েটারের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে থিয়েটারকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করা, কম খরচে meaningful নাটক তৈরি করা এবং নাটকের মাধ্যমে জোরালো সামাজিক বক্তব্য তুলে ধরা।