ভারতের ইতিহাস: ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও জাতীয়তাবাদের উন্মেষ (২০০টি MCQ)
ভারতের ইতিহাস: ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রতিরোধ ও জাতীয়তাবাদের উন্মেষ (২০০টি MCQ)
প্রশ্ন ১: ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র কোথায় ছিল?
ক. পাটনা
খ. কলকাতা
গ. ঢাকা
ঘ. লখনউ
সঠিক উত্তর: ক. পাটনা
বিস্তারিত উত্তর: ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিল পাটনা। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সৈয়দ আহমেদ বেরেলভি এবং তাঁর অনুসারীরা। এটি ছিল একটি পুনরুজ্জীবনবাদী ইসলামি আন্দোলন যা ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাবাপন্ন ছিল।
প্রশ্ন ২: ফরাজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
ক. সৈয়দ আহমেদ বেরেলভি
খ. তিতুমীর
গ. হাজী শরিয়তউল্লাহ
ঘ. দুদুমিয়াঁ
সঠিক উত্তর: গ. হাজী শরিয়তউল্লাহ
বিস্তারিত উত্তর: ফরাজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হাজী শরিয়তউল্লাহ। এই আন্দোলন মূলত পূর্ববঙ্গের কৃষকদের মধ্যে শুরু হয়েছিল এবং এটি ইসলামি সংস্কারের পাশাপাশি ব্রিটিশ শাসন ও জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদী আন্দোলন ছিল।
প্রশ্ন ৩: তিতুমীর কোন বিদ্রোহের সাথে যুক্ত ছিলেন?
ক. ওয়াহাবি আন্দোলন
খ. ফরাজি আন্দোলন
গ. বারাসাত বিদ্রোহ
ঘ. সাঁওতাল বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর: গ. বারাসাত বিদ্রোহ
বিস্তারিত উত্তর: তিতুমীর (আসল নাম মীর নিসার আলী) বারাসাত বিদ্রোহের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি মূলত ওয়াহাবি ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচারে বিরুদ্ধে এবং ব্রিটিশ শাসনের বিরোধিতা করে এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন ৪: ওয়াহাবি আন্দোলনের মূল লক্ষ্য কী ছিল?
ক. হিন্দু-মুসলিম ঐক্য স্থাপন
খ. ভারতে ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠা
গ. ইসলামকে শুদ্ধ করা ও ব্রিটিশ শাসন উৎখাত
ঘ. পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রচার
সঠিক উত্তর: গ. ইসলামকে শুদ্ধ করা ও ব্রিটিশ শাসন উৎখাত
বিস্তারিত উত্তর: ওয়াহাবি আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামি সমাজকে কুসংস্কারমুক্ত করে শুদ্ধ করা এবং একই সাথে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বিরোধিতা করা ও একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।
প্রশ্ন ৫: কোন অঞ্চলের কৃষকরা ফরাজি আন্দোলন দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছিল?
ক. পাঞ্জাব
খ. পূর্ববঙ্গ
গ. দক্ষিণ ভারত
ঘ. পশ্চিম ভারত
সঠিক উত্তর: খ. পূর্ববঙ্গ
বিস্তারিত উত্তর: ফরাজি আন্দোলন মূলত পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশ) কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। হাজী শরিয়তউল্লাহ এবং তাঁর পুত্র দুদুমিয়াঁ এই অঞ্চলে কৃষকদের অধিকার রক্ষা ও ব্রিটিশ ও জমিদারদের শোষণ থেকে মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেন।
প্রশ্ন ৬: সাঁওতাল বিদ্রোহ কত সালে হয়েছিল?
ক. ১৮৪৫
খ. ১৮৫৫-৫৬
গ. ১৮৬৭
ঘ. ১৮৭২
সঠিক উত্তর: খ. ১৮৫৫-৫৬
বিস্তারিত উত্তর: সাঁওতাল বিদ্রোহ ১৮৫৫-৫৬ সালে সংঘটিত হয়েছিল। এটি ছিল ব্রিটিশ শাসন, জমিদার ও মহাজনদের শোষণ এবং ঔপনিবেশিক বন নীতির বিরুদ্ধে সাঁওতাল উপজাতিদের একটি শক্তিশালী বিদ্রোহ।
প্রশ্ন ৭: সাঁওতাল বিদ্রোহের দুই প্রধান নেতা কে ছিলেন?
ক. সিধু ও কানু
খ. বিরসা মুন্ডা ও তিলকা মাঝি
গ. শম্ভুনাথ ও রঘুনাথ
ঘ. গঙ্গানারায়ণ ও চুনু মাণিক
সঠিক উত্তর: ক. সিধু ও কানু
বিস্তারিত উত্তর: সাঁওতাল বিদ্রোহের দুই প্রধান নেতা ছিলেন সিধু ও কানু। তাঁদের নেতৃত্বে সাঁওতালরা তাদের জমি, জীবনযাত্রা এবং সম্মান রক্ষার জন্য অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল।
প্রশ্ন ৮: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের প্রথম শহীদ কে ছিলেন?
ক. রানী লক্ষ্মীবাই
খ. মঙ্গল পাণ্ডে
গ. বাহাদুর শাহ জাফর
ঘ. নানা সাহেব
সঠিক উত্তর: খ. মঙ্গল পাণ্ডে
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের প্রথম শহীদ ছিলেন মঙ্গল পাণ্ডে। তিনি ব্যারাকপুরের সিপাহী হিসেবে নতুন এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজ নিয়ে আপত্তি জানান এবং ব্রিটিশ অফিসারদের আক্রমণ করেন, যার ফলে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়।
প্রশ্ন ৯: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
ক. লর্ড ডালহৌসি
খ. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
গ. লর্ড ক্যানিং
ঘ. লর্ড লিটন
সঠিক উত্তর: গ. লর্ড ক্যানিং
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের সময় লর্ড ক্যানিং ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন। এই বিদ্রোহের পরেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ রাজের হাতে চলে যায়।
প্রশ্ন ১০: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে ‘ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ’ কে আখ্যা দিয়েছিলেন?
ক. মহাত্মা গান্ধী
খ. জওহরলাল নেহেরু
গ. বি. ডি. সাভারকর
ঘ. বাল গঙ্গাধর তিলক
সঠিক উত্তর: গ. বি. ডি. সাভারকর
বিস্তারিত উত্তর: বিনায়ক দামোদর সাভারকর তাঁর “The Indian War of Independence of 1857” নামক গ্রন্থে এই বিদ্রোহকে ‘ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
প্রশ্ন ১১: রাজা রামমোহন রায় কত সালে ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন?
ক. ১৮১৫
খ. ১৮২৮
গ. ১৮২৯
ঘ. ১৮৩৩
সঠিক উত্তর: খ. ১৮২৮
বিস্তারিত উত্তর: রাজা রামমোহন রায় ১৮২৮ সালে ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল একটি একেশ্বরবাদী আন্দোলন যার লক্ষ্য ছিল হিন্দুধর্মের সংস্কার সাধন করা এবং মূর্তি পূজা ও সতীদাহ প্রথার মতো কুসংস্কার দূর করা।
প্রশ্ন ১২: সতীদাহ প্রথা রদ করতে কোন গভর্নর জেনারেলকে রামমোহন রায় সহযোগিতা করেছিলেন?
ক. লর্ড কর্নওয়ালিস
খ. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
গ. লর্ড ডালহৌসি
ঘ. লর্ড কার্জন
সঠিক উত্তর: খ. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
বিস্তারিত উত্তর: রাজা রামমোহন রায়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের সহযোগিতায় ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা আইন করে রদ করা হয়।
প্রশ্ন ১৩: ‘ইয়ং বেঙ্গল’ গোষ্ঠীর নেতা কে ছিলেন?
ক. রাজা রামমোহন রায়
খ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
গ. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ঘ. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর: গ. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
বিস্তারিত উত্তর: হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ছিলেন হিন্দু কলেজের একজন তরুণ অধ্যাপক এবং ‘ইয়ং বেঙ্গল’ আন্দোলনের প্রধান নেতা। তিনি তাঁর ছাত্রদের মধ্যে স্বাধীন চিন্তা, যুক্তি ও জিজ্ঞাসু মনোভাব গড়ে তুলতে উৎসাহিত করেছিলেন।
প্রশ্ন ১৪: বিধবাবিবাহ প্রচলনে কার অবদান অনস্বীকার্য?
ক. রাজা রামমোহন রায়
খ. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
গ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ঘ. স্বামী বিবেকানন্দ
সঠিক উত্তর: গ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
বিস্তারিত উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন বিধবাবিবাহ প্রচলনের জন্য একজন অগ্রণী সংস্কারক। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ ১৮৫৬ সালে বিধবাবিবাহ আইন পাস হয়।
প্রশ্ন ১৫: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
ক. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
খ. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
গ. সংস্কৃত কলেজ
ঘ. প্রেসিডেন্সি কলেজ
সঠিক উত্তর: গ. সংস্কৃত কলেজ
বিস্তারিত উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন এবং তিনি এই প্রতিষ্ঠানে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও আধুনিক জ্ঞানের প্রবর্তন করেছিলেন।
প্রশ্ন ১৬: ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ‘অগ্রদূত’ কাকে বলা হয়?
ক. দাদাভাই নওরোজী
খ. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
গ. রাজা রামমোহন রায়
ঘ. বাল গঙ্গাধর তিলক
সঠিক উত্তর: গ. রাজা রামমোহন রায়
বিস্তারিত উত্তর: রাজা রামমোহন রায়কে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ‘অগ্রদূত’ বা ‘জনক’ বলা হয়। তিনি ভারতে আধুনিক চিন্তাধারা, যুক্তিবাদ এবং জাতীয় চেতনার উন্মেষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
প্রশ্ন ১৭: ভারত সভা (Indian Association) কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক. ১৮৭৫
খ. ১৮৭৬
গ. ১৮৮০
ঘ. ১৮৮৫
সঠিক উত্তর: খ. ১৮৭৬
বিস্তারিত উত্তর: ভারত সভা (Indian Association) ১৮৭৬ সালে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আনন্দমোহন বসু কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ছিল ভারতীয়দের রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাক্-কংগ্রেস সংগঠন।
প্রশ্ন ১৮: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক. ১৮৭৫
খ. ১৮৮০
গ. ১৮৮৫
ঘ. ১৮৯০
সঠিক উত্তর: গ. ১৮৮৫
বিস্তারিত উত্তর: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৮৮৫ সালের ২৮শে ডিসেম্বর বোম্বাইয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ সিভিল সার্ভেন্ট অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম।
প্রশ্ন ১৯: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
ক. কলকাতা
খ. বোম্বাই (মুম্বাই)
গ. মাদ্রাজ (চেন্নাই)
ঘ. এলাহাবাদ (প্রয়াগরাজ)
সঠিক উত্তর: খ. বোম্বাই (মুম্বাই)
বিস্তারিত উত্তর: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন ১৮৮৫ সালের ২৮ থেকে ৩১শে ডিসেম্বর বোম্বাইয়ের গোকুলদাস তেজপাল সংস্কৃত কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
প্রশ্ন ২০: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?
ক. এ. ও. হিউম
খ. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
গ. উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ঘ. দাদাভাই নওরোজী
সঠিক উত্তর: গ. উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
বিস্তারিত উত্তর: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম সভাপতি ছিলেন উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রশ্ন ২১: ‘ড্রেন অফ ওয়েলথ’ তত্ত্বটি কে দিয়েছিলেন?
ক. মহাত্মা গান্ধী
খ. দাদাভাই নওরোজী
গ. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
ঘ. বাল গঙ্গাধর তিলক
সঠিক উত্তর: খ. দাদাভাই নওরোজী
বিস্তারিত উত্তর: দাদাভাই নওরোজী ‘ড্রেন অফ ওয়েলথ’ (সম্পদ নিষ্কাশন) তত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন। তিনি তাঁর “Poverty and Un-British Rule in India” নামক গ্রন্থে দেখিয়েছিলেন কিভাবে ব্রিটিশ শাসন ভারতের সম্পদকে ব্রিটেনে পাচার করছে।
প্রশ্ন ২২: প্রাক্-কংগ্রেস সংগঠনগুলির প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
ক. শুধুমাত্র ধর্মীয় সংস্কার
খ. সশস্ত্র বিদ্রোহ
গ. রাজনৈতিক অধিকার আদায় ও জনমত গঠন
ঘ. ব্রিটিশ সরকারের সমর্থন
সঠিক উত্তর: গ. রাজনৈতিক অধিকার আদায় ও জনমত গঠন
বিস্তারিত উত্তর: প্রাক্-কংগ্রেস সংগঠনগুলির মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয়দের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা, জনমত গঠন করা এবং ব্রিটিশ সরকারের কাছে ভারতীয়দের দাবি-দাওয়া তুলে ধরা।
প্রশ্ন ২৩: ইস্ট ইন্ডিয়া অ্যাসোসিয়েশন কে প্রতিষ্ঠা করেন?
ক. গোপাল কৃষ্ণ গোখলে
খ. ফিরোজশাহ মেহতা
গ. দাদাভাই নওরোজী
ঘ. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: গ. দাদাভাই নওরোজী
বিস্তারিত উত্তর: দাদাভাই নওরোজী ১৮৬৬ সালে লন্ডনে ইস্ট ইন্ডিয়া অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশদের কাছে ভারতের সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরা।
প্রশ্ন ২৪: কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সময় ভারতের ভাইসরয় কে ছিলেন?
ক. লর্ড রিপন
খ. লর্ড ডাফরিন
গ. লর্ড কার্জন
ঘ. লর্ড মিন্টো
সঠিক উত্তর: খ. লর্ড ডাফরিন
বিস্তারিত উত্তর: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সময় (১৮৮৫ সাল) লর্ড ডাফরিন ভারতের ভাইসরয় ছিলেন।
প্রশ্ন ২৫: প্রাথমিক কংগ্রেসের নেতারা কোন পদ্ধতি অনুসরণ করতেন?
ক. চরমপন্থার মাধ্যমে আন্দোলন
খ. আবেদন-নিবেদন ও সাংবিধানিক পথ
গ. অহিংস অসহযোগ
ঘ. বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদ
সঠিক উত্তর: খ. আবেদন-নিবেদন ও সাংবিধানিক পথ
বিস্তারিত উত্তর: প্রাথমিক কংগ্রেসের নেতারা ছিলেন মূলত উদারপন্থী বা নরমপন্থী। তাঁরা ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন, নিবেদন, স্মারকলিপি প্রদান এবং সাংবিধানিক আলোচনার মাধ্যমে ভারতীয়দের দাবি আদায়ের চেষ্টা করতেন।
প্রশ্ন ২৬: কলকাতা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
ক. ওয়ারেন হেস্টিংস
খ. লর্ড কর্নওয়ালিস
গ. লর্ড ওয়েলেসলি
ঘ. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
সঠিক উত্তর: ক. ওয়ারেন হেস্টিংস
বিস্তারিত উত্তর: ১৭৮১ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস কলকাতা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠা করেন, যা ছিল ভারতে ব্রিটিশদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে অন্যতম।
প্রশ্ন ২৭: ডিরোজিওর অনুগামীরা কী নামে পরিচিত ছিল?
ক. আর্য সমাজ
খ. ইয়ং বেঙ্গল
গ. ফরাজি
ঘ. ব্রাহ্মসমাজ
সঠিক উত্তর: খ. ইয়ং বেঙ্গল
বিস্তারিত উত্তর: হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর অনুগামীরা ‘ইয়ং বেঙ্গল’ নামে পরিচিত ছিল। তারা প্রচলিত সামাজিক ও ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং যুক্তিবাদের উপর জোর দেয়।
প্রশ্ন ২৮: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের একটি তাৎক্ষণিক কারণ কী ছিল?
ক. জমিদারদের শোষণ
খ. বিধবা বিবাহ আইন
গ. এনফিল্ড রাইফেলের টোটা
ঘ. সমুদ্র পারাপার আইন
সঠিক উত্তর: গ. এনফিল্ড রাইফেলের টোটা
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের একটি তাৎক্ষণিক কারণ ছিল এনফিল্ড রাইফেলের নতুন কার্তুজ, যা গরু ও শূকরের চর্বি দিয়ে গ্রিজ করা আছে বলে গুজব ছড়িয়েছিল। এটি সিপাহীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছিল।
প্রশ্ন ২৯: সাঁওতাল বিদ্রোহের মূল কারণ কী ছিল?
ক. ধর্মীয় গোঁড়ামি
খ. রাজনৈতিক অধিকারের অভাব
গ. মহাজন ও জমিদারদের শোষণ এবং ব্রিটিশের ভূমি নীতি
ঘ. শিল্পায়ন
সঠিক উত্তর: গ. মহাজন ও জমিদারদের শোষণ এবং ব্রিটিশের ভূমি নীতি
বিস্তারিত উত্তর: সাঁওতাল বিদ্রোহের মূল কারণ ছিল মহাজন ও জমিদারদের অত্যধিক শোষণ, জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং ব্রিটিশ সরকারের নতুন ভূমি রাজস্ব নীতি যা সাঁওতালদের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করেছিল।
প্রশ্ন ৩০: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসকে ‘সেফটি ভালভ’ তত্ত্বের মাধ্যমে কে বর্ণনা করেছিলেন?
ক. লর্ড কার্জন
খ. লর্ড ডাফরিন
গ. এ. ও. হিউম
ঘ. লালা লাজপত রায়
সঠিক উত্তর: গ. এ. ও. হিউম
বিস্তারিত উত্তর: অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম, যিনি কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, তিনিই এই তত্ত্বটি দেন যে, কংগ্রেস একটি ‘সেফটি ভালভ’ হিসেবে কাজ করবে, যা ভারতীয়দের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষকে শান্তিপূর্ণভাবে প্রকাশ করার সুযোগ দেবে এবং এর ফলে একটি বড় মাপের বিদ্রোহ এড়ানো যাবে। পরে লালা লাজপত রায় এই তত্ত্বের সমালোচনা করেন।
প্রশ্ন ৩১: ওয়াহাবি আন্দোলনকে ভারতে কে জনপ্রিয় করে তোলেন?
ক. হাজী শরিয়তউল্লাহ
খ. সৈয়দ আহমেদ বেরেলভি
গ. তিতুমীর
ঘ. দুদুমিয়াঁ
সঠিক উত্তর: খ. সৈয়দ আহমেদ বেরেলভি
বিস্তারিত উত্তর: সৈয়দ আহমেদ বেরেলভি (রায়বেরেলি) ওয়াহাবি আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রচারক ছিলেন এবং তিনি ভারতে এই আন্দোলনকে জনপ্রিয় করে তোলেন। তিনি পাঞ্জাবে শিখদের বিরুদ্ধে এবং ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে জিহাদের ডাক দেন।
প্রশ্ন ৩২: ফরাজি আন্দোলন কোন শতকে শুরু হয়েছিল?
ক. ১৭শ শতক
খ. ১৮শ শতক
গ. ১৯শ শতক
ঘ. ২০শ শতক
সঠিক উত্তর: গ. ১৯শ শতক
বিস্তারিত উত্তর: ফরাজি আন্দোলন উনিশ শতকের প্রথম দিকে (প্রায় ১৮১৮ সালে) হাজী শরিয়তউল্লাহ কর্তৃক শুরু হয়েছিল।
প্রশ্ন ৩৩: তিতুমীরের বিদ্রোহের প্রধান কারণ কী ছিল?
ক. নীলচাষিদের শোষণ
খ. জমিদার ও ব্রিটিশের শোষণ
গ. ধর্মীয় সংঘাত
ঘ. পাশ্চাত্য শিক্ষার বিরোধিতা
সঠিক উত্তর: খ. জমিদার ও ব্রিটিশের শোষণ
বিস্তারিত উত্তর: তিতুমীরের বিদ্রোহের প্রধান কারণ ছিল স্থানীয় জমিদারদের অত্যাচার, বিশেষ করে তাদের দ্বারা মুসলমানদের উপর চাপানো ‘দাড়ির খাজনা’ এবং ব্রিটিশ সরকারের নীতির কারণে কৃষকদের দুর্দশা।
প্রশ্ন ৩৪: ওয়াহাবি আন্দোলনের মূল অনুপ্রেরণা কোথা থেকে এসেছিল?
ক. তুরস্ক
খ. পারস্য
গ. আরব উপদ্বীপ
ঘ. আফগানিস্তান
সঠিক উত্তর: গ. আরব উপদ্বীপ
বিস্তারিত উত্তর: ওয়াহাবি আন্দোলন আরব উপদ্বীপের ১৭শ শতকের ইসলামি সংস্কারক মোহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাবের চিন্তাধারা দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিল। এটি ভারতে সৈয়দ আহমেদ বেরেলভি কর্তৃক প্রচারিত হয়।
প্রশ্ন ৩৫: ফরাজি আন্দোলনের দ্বিতীয় প্রধান নেতা কে ছিলেন?
ক. সৈয়দ আহমেদ বেরেলভি
খ. মীর নিসার আলী
গ. দুদুমিয়াঁ
ঘ. সৈয়দ মীর নিসার আলী
সঠিক উত্তর: গ. দুদুমিয়াঁ
বিস্তারিত উত্তর: ফরাজি আন্দোলনের দ্বিতীয় প্রধান নেতা ছিলেন হাজী শরিয়তউল্লাহর পুত্র মুহম্মদ মোহসিনউদ্দিন আহমদ, যিনি দুদুমিয়াঁ নামে পরিচিত। তিনি কৃষকদের মধ্যে এই আন্দোলনকে আরও ছড়িয়ে দেন।
প্রশ্ন ৩৬: সাঁওতাল বিদ্রোহের মূল ভূখণ্ড কোনটি ছিল?
ক. ছোটনাগপুর
খ. রাজমহল পাহাড়ের দামিন-ই-কোহ
গ. মালভূমি অঞ্চল
ঘ. দাক্ষিণাত্য
সঠিক উত্তর: খ. রাজমহল পাহাড়ের দামিন-ই-কোহ
বিস্তারিত উত্তর: সাঁওতাল বিদ্রোহ মূলত রাজমহল পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ‘দামিন-ই-কোহ’ (পাহাড়ের স্কার্ট) নামক অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত ছিল, যেখানে সাঁওতালরা তাদের জমিকে আবাদযোগ্য করে তুলেছিল।
প্রশ্ন ৩৭: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহে কানপুরের নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?
ক. কুনওয়ার সিং
খ. নানা সাহেব
গ. তাঁতিয়া টোপি
ঘ. বেগম হযরত মহল
সঠিক উত্তর: খ. নানা সাহেব
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহে নানা সাহেব (পেশওয়া দ্বিতীয় বাজিরাও-এর দত্তক পুত্র) কানপুরে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন ৩৮: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের সময় মুঘল সম্রাট কে ছিলেন?
ক. আকবর শাহ দ্বিতীয়
খ. বাহাদুর শাহ জাফর (দ্বিতীয়)
গ. শাহ আলম দ্বিতীয়
ঘ. ফারুকসিয়ার
সঠিক উত্তর: খ. বাহাদুর শাহ জাফর (দ্বিতীয়)
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের সময় বাহাদুর শাহ জাফর ছিলেন শেষ মুঘল সম্রাট। বিদ্রোহীরা তাকে নিজেদের নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
প্রশ্ন ৩৯: ‘সিপাহী বিদ্রোহ’ শব্দটি কে ব্যবহার করেছিলেন?
ক. ইংরেজ ঐতিহাসিকগণ
খ. ভারতীয় জাতীয়তাবাদীগণ
গ. ভি. ডি. সাভারকর
ঘ. মহাত্মা গান্ধী
সঠিক উত্তর: ক. ইংরেজ ঐতিহাসিকগণ
বিস্তারিত উত্তর: ব্রিটিশ ঐতিহাসিকগণ ও কর্মকর্তারা এই বিদ্রোহকে মূলত ‘সিপাহী বিদ্রোহ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কারণ তাদের মতে এটি কেবলমাত্র কিছু অসন্তুষ্ট সিপাহীর বিদ্রোহ ছিল।
প্রশ্ন ৪০: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার কী ধরনের পরিবর্তন আনে?
ক. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন জারি রাখে
খ. ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ রাজের হাতে তুলে নেয়
গ. ভারতীয়দের আরও বেশি ক্ষমতা দেয়
ঘ. সামরিক বাহিনীর আকার কমিয়ে দেয়
সঠিক উত্তর: খ. ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ রাজের হাতে তুলে নেয়
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর ১৮৫৮ সালের ভারত শাসন আইন দ্বারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ রাজের হাতে (সেক্রেটারি অফ স্টেট ফর ইন্ডিয়া-এর মাধ্যমে) চলে যায়।
প্রশ্ন ৪১: রাজা রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধি কে দিয়েছিলেন?
ক. মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর শাহ
খ. ব্রিটিশ সরকার
গ. উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
ঘ. লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর: ক. মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর শাহ
বিস্তারিত উত্তর: মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর শাহ রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধি দিয়েছিলেন এবং তাকে তাঁর পেনশনের দাবি নিয়ে লন্ডনে পাঠানোর জন্য দূত হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন।
প্রশ্ন ৪২: ‘তত্ত্ববোধিনী সভা’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
ক. রামমোহন রায়
খ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
গ. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঘ. কেশবচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর: গ. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিস্তারিত উত্তর: দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৩৯ সালে ‘তত্ত্ববোধিনী সভা’ প্রতিষ্ঠা করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল উপনিষদের জ্ঞান প্রচার করা এবং ব্রাহ্মসমাজের আদর্শকে আরও প্রসারিত করা।
প্রশ্ন ৪৩: ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের মূল লক্ষ্য কী ছিল?
ক. ধর্মীয় পুনরুজ্জীবন
খ. পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তার ও সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যুক্তিবাদের প্রচার
গ. ব্রিটিশ সরকারের বিরোধিতা
ঘ. হিন্দু ধর্মকে পুনর্গঠিত করা
সঠিক উত্তর: খ. পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তার ও সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যুক্তিবাদের প্রচার
বিস্তারিত উত্তর: ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন ছিল একটি বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন যা যুক্তিবাদ, মানবতাবাদ এবং স্বাধীনতার উপর জোর দিয়েছিল। তারা সামাজিক কুসংস্কার, বিশেষ করে বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ এবং জাতিভেদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল।
প্রশ্ন ৪৪: ‘বর্ণপরিচয়’ গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
ক. রামমোহন রায়
খ. ডিরোজিও
গ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ঘ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: গ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
বিস্তারিত উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত ছিলেন এবং তিনি শিশুদের বাংলা শেখানোর জন্য ‘বর্ণপরিচয়’ নামক বইটি রচনা করেন, যা আজও বাংলা বর্ণমালা শেখার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।
প্রশ্ন ৪৫: কোন সমাজ সংস্কারক স্ত্রী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন?
ক. রামমোহন রায়
খ. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
গ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ঘ. স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী
সঠিক উত্তর: গ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
বিস্তারিত উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর স্ত্রী শিক্ষার প্রসারে অসামান্য অবদান রাখেন। তিনি বাংলায় মেয়েদের জন্য বহু বিদ্যালয় স্থাপন করেন এবং নারী শিক্ষার পক্ষে জোরদার প্রচার চালান।
প্রশ্ন ৪৬: ‘ভারত সভা’ (Indian Association) প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
ক. ভারতীয়দের মধ্যে ঐক্য স্থাপন
খ. স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের দাবি
গ. সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ভারতীয়দের প্রবেশের সুযোগ বৃদ্ধি
ঘ. উপরের সবগুলি
সঠিক উত্তর: ঘ. উপরের সবগুলি
বিস্তারিত উত্তর: ভারত সভা ছিল একটি অত্যন্ত সক্রিয় প্রাক্-কংগ্রেস সংগঠন, যার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয়দের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য স্থাপন করা, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ভারতীয়দের প্রবেশের বয়সসীমা কমানো ও সুযোগ বৃদ্ধি করা, এবং স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের জন্য আন্দোলন করা।
প্রশ্ন ৪৭: ‘ল্যান্ডহোল্ডার্স সোসাইটি’ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক. ১৮২৯
খ. ১৮৩৮
গ. ১৮৫১
ঘ. ১৮৬৬
সঠিক উত্তর: খ. ১৮৩৮
বিস্তারিত উত্তর: ‘ল্যান্ডহোল্ডার্স সোসাইটি’ ১৮৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ছিল ভারতের প্রথম সংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, যার উদ্দেশ্য ছিল জমিদারদের স্বার্থ রক্ষা করা।
প্রশ্ন ৪৮: ‘পুনা সার্বজনিক সভা’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
ক. গোপাল কৃষ্ণ গোখলে
খ. মহাদেব গোবিন্দ রানাডে
গ. বাল গঙ্গাধর তিলক
ঘ. দাদাভাই নওরোজী
সঠিক উত্তর: খ. মহাদেব গোবিন্দ রানাডে
বিস্তারিত উত্তর: মহাদেব গোবিন্দ রানাডে এবং অন্যান্যরা ১৮৬৭ সালে ‘পুনা সার্বজনিক সভা’ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল মহারাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংগঠন।
প্রশ্ন ৪৯: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন থেকে কতজন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেছিলেন?
ক. ৫০ জন
খ. ৭২ জন
গ. ১০০ জন
ঘ. ১২০ জন
সঠিক উত্তর: খ. ৭২ জন
বিস্তারিত উত্তর: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ৭২ জন প্রতিনিধি যোগদান করেছিলেন।
প্রশ্ন ৫০: প্রাথমিক কংগ্রেসের নেতাদের কী নামে পরিচিতি ছিল?
ক. চরমপন্থী
খ. বিপ্লবী
গ. নরমপন্থী (Moderates)
ঘ. সমাজতান্ত্রিক
সঠিক উত্তর: গ. নরমপন্থী (Moderates)
বিস্তারিত উত্তর: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম ২০ বছর (১৮৮৫-১৯০৫) এর নেতারা ‘নরমপন্থী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, কারণ তারা সাংবিধানিক এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংস্কারের পক্ষে ছিলেন।
প্রশ্ন ৫১: দাদাভাই নওরোজী কতবার ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হয়েছিলেন?
ক. একবার
খ. দুইবার
গ. তিনবার
ঘ. চারবার
সঠিক উত্তর: গ. তিনবার
বিস্তারিত উত্তর: দাদাভাই নওরোজী ১৮৮৬, ১৮৯৩ এবং ১৯০৬ সালে মোট তিনবার ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হয়েছিলেন।
প্রশ্ন ৫২: কোন আইন দ্বারা ভারতে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে?
ক. পিট ইন্ডিয়া আইন, ১৭৮৪
খ. চার্টার অ্যাক্ট, ১৮৩৩
গ. ভারত শাসন আইন, ১৮৫৮
ঘ. রেগুলেটিং অ্যাক্ট, ১৭৭৩
সঠিক উত্তর: গ. ভারত শাসন আইন, ১৮৫৮
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৫৮ সালের ভারত শাসন আইন দ্বারা ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ সরকারের অধীনে চলে যায়।
প্রশ্ন ৫৩: ১৮৭৮ সালের ‘ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট’ কে জারি করেন?
ক. লর্ড রিপন
খ. লর্ড লিটন
গ. লর্ড ডাফরিন
ঘ. লর্ড ক্যানিং
সঠিক উত্তর: খ. লর্ড লিটন
বিস্তারিত উত্তর: লর্ড লিটন ১৮৭৮ সালে ‘ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট’ জারি করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় ভাষার সংবাদপত্রগুলির উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা এবং ব্রিটিশ-বিরোধী লেখা দমন করা।
প্রশ্ন ৫৪: অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম কে ছিলেন?
ক. একজন আইনজীবী
খ. একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ সিভিল সার্ভেন্ট
গ. একজন ব্যবসায়ী
ঘ. একজন সাংবাদিক
সঠিক উত্তর: খ. একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ সিভিল সার্ভেন্ট
বিস্তারিত উত্তর: এ. ও. হিউম ছিলেন একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ সিভিল সার্ভেন্ট যিনি ভারতীয়দের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেছিলেন।
প্রশ্ন ৫৫: প্রাথমিক কংগ্রেসের নেতারা কোন দেশের সাংবিধানিক মডেল দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন?
ক. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
খ. ফ্রান্স
গ. ব্রিটেন
ঘ. জার্মানি
সঠিক উত্তর: গ. ব্রিটেন
বিস্তারিত উত্তর: প্রাথমিক কংগ্রেসের নেতারা ব্রিটিশ উদারনীতিবাদ এবং ব্রিটিশ সাংবিধানিক মডেল দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন। তারা ব্রিটিশ বিচার ব্যবস্থা এবং সংসদীয় পদ্ধতির প্রতি আস্থা রাখতেন।
প্রশ্ন ৫৬: কোন রাজনৈতিক দল ‘ভারত সভা’র সঙ্গে একীভূত হয়েছিল?
ক. ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন
খ. ন্যাশনাল কনফারেন্স
গ. পুনা সার্বজনিক সভা
ঘ. মাদ্রাজ মহাজন সভা
সঠিক উত্তর: খ. ন্যাশনাল কনফারেন্স
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৮৬ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশনে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল কনফারেন্স’ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হয়।
প্রশ্ন ৫৭: সাঁওতাল বিদ্রোহকে দমনের পর ব্রিটিশ সরকার কোন পদক্ষেপ নেয়?
ক. সাঁওতালদের আরও জমি প্রদান করে
খ. সাঁওতালদের জন্য একটি নতুন জেলা ‘সাঁওতাল পরগনা’ গঠন করে
গ. সাঁওতালদের উপর নতুন কর আরোপ করে
ঘ. সাঁওতালদের গ্রাম থেকে উচ্ছেদ করে
সঠিক উত্তর: খ. সাঁওতালদের জন্য একটি নতুন জেলা ‘সাঁওতাল পরগনা’ গঠন করে
বিস্তারিত উত্তর: সাঁওতাল বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার সাঁওতালদের ক্ষোভ প্রশমিত করার জন্য সাঁওতাল পরগনা নামক একটি স্বতন্ত্র জেলা গঠন করে এবং কিছু আইনি সুরক্ষা প্রদান করে।
প্রশ্ন ৫৮: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহকে ‘জাতীয় বিদ্রোহ’ কে বলেছিলেন?
ক. জন লরেন্স
খ. ডিজরায়েলি
গ. টি. আর. হোমস
ঘ. ভি. ডি. সাভারকর
সঠিক উত্তর: খ. ডিজরায়েলি
বিস্তারিত উত্তর: ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ বেঞ্জামিন ডিজরায়েলি (পরে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী) ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ‘জাতীয় বিদ্রোহ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
প্রশ্ন ৫৯: রামমোহন রায়কে ‘ভারতীয় নবজাগরণের জনক’ কে বলেছেন?
ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ. জওহরলাল নেহেরু
গ. মহাত্মা গান্ধী
ঘ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিস্তারিত উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাজা রামমোহন রায়কে ‘ভারতীয় নবজাগরণের জনক’ এবং ‘ভারতপথিক’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
প্রশ্ন ৬০: কোন প্রাক্-কংগ্রেস সংগঠনটি জমিদারদের স্বার্থ রক্ষার জন্য গঠিত হয়েছিল?
ক. ভারত সভা
খ. ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন
গ. ল্যান্ডহোল্ডার্স সোসাইটি
ঘ. পুনা সার্বজনিক সভা
সঠিক উত্তর: গ. ল্যান্ডহোল্ডার্স সোসাইটি
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ল্যান্ডহোল্ডার্স সোসাইটি ছিল মূলত জমিদারদের স্বার্থ রক্ষার জন্য গঠিত একটি সংগঠন।
প্রশ্ন ৬১: কোন বিদ্রোহকে “ফরাজি বিদ্রোহ” নামেও অভিহিত করা হয়?
ক. সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
খ. ফকির বিদ্রোহ
গ. দুদুমিয়াঁর নেতৃত্বাধীন কৃষকদের আন্দোলন
ঘ. নীল বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর: গ. দুদুমিয়াঁর নেতৃত্বাধীন কৃষকদের আন্দোলন
বিস্তারিত উত্তর: হাজী শরিয়তউল্লাহর পুত্র দুদুমিয়াঁর নেতৃত্বে ফরাজি আন্দোলন পূর্ববঙ্গের কৃষকদের অধিকার আদায়ের জন্য একটি জোরালো বিদ্রোহে রূপ নেয়, যা “ফরাজি বিদ্রোহ” নামেও পরিচিত।
প্রশ্ন ৬২: তিতুমীরের প্রকৃত নাম কী ছিল?
ক. সৈয়দ আহমদ
খ. মীর নিসার আলী
গ. হাজী শরিয়তউল্লাহ
ঘ. দুদুমিয়াঁ
সঠিক উত্তর: খ. মীর নিসার আলী
বিস্তারিত উত্তর: তিতুমীরের প্রকৃত নাম ছিল মীর নিসার আলী। তিনি মূলত ওয়াহাবি মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বারাসাত বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন।
প্রশ্ন ৬৩: ওয়াহাবি আন্দোলনের মূল স্লোগান কী ছিল?
ক. “স্বরাজ আমাদের জন্মগত অধিকার”
খ. “ইনকিলাব জিন্দাবাদ”
গ. “দার-উল-ইসলাম” প্রতিষ্ঠা
ঘ. “বন্দে মাতরম”
সঠিক উত্তর: গ. “দার-উল-ইসলাম” প্রতিষ্ঠা
বিস্তারিত উত্তর: ওয়াহাবি আন্দোলনের একটি অন্যতম লক্ষ্য ছিল ভারতে ‘দার-উল-হার্ব’ (কাফেরদের দেশ) থেকে ‘দার-উল-ইসলাম’ (ইসলামের দেশ) প্রতিষ্ঠা করা, অর্থাৎ ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।
প্রশ্ন ৬৪: ফরাজি আন্দোলন প্রথম কোথায় শুরু হয়?
ক. ঢাকা
খ. ফরিদপুর
গ. চব্বিশ পরগনা
ঘ. মুর্শিদাবাদ
সঠিক উত্তর: খ. ফরিদপুর
বিস্তারিত উত্তর: ফরাজি আন্দোলন হাজী শরিয়তউল্লাহ কর্তৃক মূলত পূর্ববঙ্গের ফরিদপুর জেলায় শুরু হয়েছিল।
প্রশ্ন ৬৫: তিতুমীর বাঁশের কেল্লা কোথায় নির্মাণ করেছিলেন?
ক. বারাসাত
খ. নারিকেলবেড়িয়া
গ. বসিরহাট
ঘ. হাওড়া
সঠিক উত্তর: খ. নারিকেলবেড়িয়া
বিস্তারিত উত্তর: তিতুমীর তার অনুগামীদের নিয়ে চব্বিশ পরগনার নারিকেলবেড়িয়া গ্রামে একটি সুদৃঢ় বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেছিলেন, যা ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন ৬৬: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহে লখনউতে কে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন?
ক. রানী লক্ষ্মীবাই
খ. বেগম হযরত মহল
গ. কুনওয়ার সিং
ঘ. নানা সাহেব
সঠিক উত্তর: খ. বেগম হযরত মহল
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহে লখনউতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অযোধ্যার বেগম হযরত মহল। তিনি তার নাবালক পুত্রকে সিংহাসনে বসিয়ে নিজে শাসনভার গ্রহণ করেন।
প্রশ্ন ৬৭: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের সময় বিলেতের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
ক. উইনস্টন চার্চিল
খ. বেঞ্জামিন ডিজরায়েলি
গ. লর্ড পামারস্টোন
ঘ. উইলিয়াম পিট
সঠিক উত্তর: গ. লর্ড পামারস্টোন
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের সময় লর্ড পামারস্টোন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
প্রশ্ন ৬৮: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহে বিহারে কে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন?
ক. নানা সাহেব
খ. কুনওয়ার সিং
গ. মঙ্গল পাণ্ডে
ঘ. মৌলবী আহমদউল্লাহ শাহ
সঠিক উত্তর: খ. কুনওয়ার সিং
বিস্তারিত উত্তর: বিহারের জগদীশপুরের জমিদার কুনওয়ার সিং ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং বিহারে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন।
প্রশ্ন ৬৯: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের সময় দিল্লীতে বিদ্রোহ দমনের দায়িত্বে কে ছিলেন?
ক. জন নিকলসন
খ. উইলিয়াম হিউ রোজ
গ. হেনরি হ্যাভলক
ঘ. জেমস আউটরাম
সঠিক উত্তর: ক. জন নিকলসন
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ দমনের সময় দিল্লীতে ব্রিটিশ বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন জন নিকলসন। যদিও তিনি বিদ্রোহ দমনে সফল হন, তবে এই যুদ্ধে তিনি গুরুতর আহত হন এবং মারা যান।
প্রশ্ন ৭০: রামমোহন রায় তার কোন পত্রিকার মাধ্যমে সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে জনমত গঠন করেন?
ক. সংবাদ কৌমুদী
খ. সমাচার দর্পণ
গ. মিরাট-উল-আখবার
ঘ. তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা
সঠিক উত্তর: ক. সংবাদ কৌমুদী
বিস্তারিত উত্তর: রামমোহন রায় ১৮২১ সালে প্রকাশিত তার বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা সংবাদ কৌমুদী-এর মাধ্যমে সতীদাহ প্রথা এবং অন্যান্য সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা ও জনমত গঠন শুরু করেন।
প্রশ্ন ৭১: ‘ইয়ং বেঙ্গল’ আন্দোলনের সঙ্গে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বিশেষভাবে যুক্ত ছিল?
ক. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
খ. কলকাতা মাদ্রাসা
গ. হিন্দু কলেজ
ঘ. প্রেসিডেন্সি কলেজ
সঠিক উত্তর: গ. হিন্দু কলেজ
বিস্তারিত উত্তর: ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের মূল কেন্দ্র ছিল হিন্দু কলেজ, যেখানে হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও অধ্যাপক ছিলেন এবং তার ছাত্রদের মধ্যে স্বাধীন চিন্তাধারা ও যুক্তিবাদী মনোভাবের জন্ম দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন ৭২: বিদ্যাসাগর কোন বাঙালি ম্যাগাজিনের সম্পাদক ছিলেন?
ক. তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা
খ. সোমপ্রকাশ
গ. সংবাদ প্রভাকর
ঘ. বঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর: খ. সোমপ্রকাশ
বিস্তারিত উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সোমপ্রকাশ নামক সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন, যা সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করত এবং বিধবাবিবাহের মতো সংস্কারের পক্ষে জনমত তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।
প্রশ্ন ৭৩: রামমোহন রায় কত সালে মারা যান?
ক. ১৮২৮
খ. ১৮৩৩
গ. ১৮৩৫
ঘ. ১৮৩৯
সঠিক উত্তর: খ. ১৮৩৩
বিস্তারিত উত্তর: রাজা রামমোহন রায় ১৮৩৩ সালে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে মারা যান।
প্রশ্ন ৭৪: বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় কত সালে বিধবাবিবাহ আইন পাস হয়?
ক. ১৮৫০
খ. ১৮৫৬
গ. ১৮৬০
ঘ. ১৮৬৫
সঠিক উত্তর: খ. ১৮৫৬
বিস্তারিত উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ ১৮৫৬ সালের ২৬শে জুলাই বিধবাবিবাহ আইন (Hindu Widows’ Remarriage Act, 1856) পাস হয়।
প্রশ্ন ৭৫: ‘ভারতমাতার চিত্র’ কে অঙ্কন করেন?
ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ. অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গ. নন্দলাল বসু
ঘ. যামিনী রায়
সঠিক উত্তর: খ. অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিস্তারিত উত্তর: অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতমাতার একটি প্রতীকী চিত্র অঙ্কন করেন, যা ভারতীয় জাতীয়তাবাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন ৭৬: ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক. ১৮৪৩
খ. ১৮৫১
গ. ১৮৬৬
ঘ. ১৮৭৬
সঠিক উত্তর: খ. ১৮৫১
বিস্তারিত উত্তর: ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ১৮৫১ সালে কলকাতা শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংগঠন যা জমিদারদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি জনস্বার্থের বিষয় নিয়েও আলোচনা করত।
প্রশ্ন ৭৭: কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা কোন তাত্ত্বিক ধারণার ওপর ভিত্তি করে হয়েছিল?
ক. চরমপন্থী জাতীয়তাবাদ
খ. সেফটি ভালভ তত্ত্ব
গ. সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব
ঘ. গণআন্দোলন
সঠিক উত্তর: খ. সেফটি ভালভ তত্ত্ব
বিস্তারিত উত্তর: কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা এ. ও. হিউম এবং তৎকালীন ব্রিটিশ কর্মকর্তারা মনে করতেন যে, ভারতীয়দের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষকে একটি নিয়মতান্ত্রিক পথে প্রবাহিত করার জন্য কংগ্রেস একটি ‘সেফটি ভালভ’ হিসেবে কাজ করবে।
প্রশ্ন ৭৮: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন কোথায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল কিন্তু পরে বোম্বাইয়ে স্থানান্তরিত হয়?
ক. কলকাতা
খ. পুনা
গ. মাদ্রাজ
ঘ. এলাহাবাদ
সঠিক উত্তর: খ. পুনা
বিস্তারিত উত্তর: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন পুনায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পুনায় প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে শেষ মুহূর্তে এটি বোম্বাইয়ে স্থানান্তরিত করা হয়।
প্রশ্ন ৭৯: প্রাথমিক কংগ্রেসের নেতাদের প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার কী ছিল?
ক. ধর্মঘট ও অসহযোগ
খ. আবেদন, নিবেদন ও যুক্তিপূর্ণ আলোচনা
গ. সশস্ত্র প্রতিরোধ
ঘ. বয়কট
সঠিক উত্তর: খ. আবেদন, নিবেদন ও যুক্তিপূর্ণ আলোচনা
বিস্তারিত উত্তর: প্রাথমিক কংগ্রেসের নরমপন্থী নেতারা ব্রিটিশ শাসনের প্রতি অনুগত থেকে আবেদন, স্মারকলিপি প্রদান, প্রতিনিধিদল প্রেরণ এবং যুক্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে ভারতীয়দের দাবি আদায়ের চেষ্টা করতেন।
প্রশ্ন ৮০: দাদাভাই নওরোজীকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
ক. ভারতের লৌহমানব
খ. ভারতের গ্র্যান্ড ওল্ড ম্যান
গ. ভারতের নেপোলিয়ন
ঘ. ভারতের গ্ল্যাডস্টোন
সঠিক উত্তর: খ. ভারতের গ্র্যান্ড ওল্ড ম্যান
বিস্তারিত উত্তর: দাদাভাই নওরোজীকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে ‘ভারতের গ্র্যান্ড ওল্ড ম্যান’ বা ‘ভারতের মহান বৃদ্ধ’ নামে অভিহিত করা হয়।
প্রশ্ন ৮১: কোন ভাইসরয় ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদের উন্মেষে পরোক্ষভাবে সাহায্য করেছিলেন?
ক. লর্ড রিপন
খ. লর্ড লিটন
গ. লর্ড ডাফরিন
ঘ. লর্ড ক্যানিং
সঠিক উত্তর: খ. লর্ড লিটন
বিস্তারিত উত্তর: লর্ড লিটনের প্রতিক্রিয়াশীল নীতি যেমন – ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট (১৮৭৮), আর্মস অ্যাক্ট (১৮৭৮) এবং দ্বিতীয় ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধ, ভারতীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করে এবং জাতীয়তাবাদের উন্মেষে পরোক্ষভাবে সাহায্য করে।
প্রশ্ন ৮২: মাদ্রাজ মহাজন সভা কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক. ১৮৮০
খ. ১৮৮২
গ. ১৮৮৪
ঘ. ১৮৮৬
সঠিক উত্তর: গ. ১৮৮৪
বিস্তারিত উত্তর: মাদ্রাজ মহাজন সভা ১৮৮৪ সালে এস. রামাস্বামী মুদলিয়ার, পি. আনন্দচারলু এবং এম. ভিরারাঘবাচারিয়ারের মতো নেতাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ছিল দক্ষিণ ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাক্-কংগ্রেস সংগঠন।
প্রশ্ন ৮৩: কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও আরও কোন গুরুত্বপূর্ণ নেতা উপস্থিত ছিলেন?
ক. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
খ. দাদাভাই নওরোজী
গ. গোপাল কৃষ্ণ গোখলে
ঘ. বাল গঙ্গাধর তিলক
সঠিক উত্তর: খ. দাদাভাই নওরোজী
বিস্তারিত উত্তর: প্রথম অধিবেশনে দাদাভাই নওরোজী, ফিরোজশাহ মেহতা, দিনশা ওয়াচা, উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ গুরুত্বপূর্ণ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় তার নিজের ‘ন্যাশনাল কনফারেন্স’ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় প্রথম অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না।
প্রশ্ন ৮৪: প্রাথমিক কংগ্রেসের নেতারা ব্রিটিশ শাসনের প্রতি কী ধরনের মনোভাব পোষণ করতেন?
ক. সম্পূর্ণ বিরোধী
খ. ব্রিটিশ শাসনের অবসান চাইতেন
গ. ব্রিটিশ ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা রাখতেন
ঘ. বিপ্লবী মনোভাবাপন্ন ছিলেন
সঠিক উত্তর: গ. ব্রিটিশ ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা রাখতেন
বিস্তারিত উত্তর: প্রাথমিক কংগ্রেসের নেতারা ব্রিটিশ শাসনের প্রতি আনুগত্য দেখাতেন এবং ব্রিটিশ ন্যায়বিচার ও উদারনীতির প্রতি তাদের আস্থা ছিল। তারা মনে করতেন, ব্রিটিশরা ভারতীয়দের সমস্যাগুলো জানলে সেগুলোর সমাধান করবে।
প্রশ্ন ৮৫: কোন পত্রিকাটি ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে?
ক. হিন্দু প্যাট্রিয়ট
খ. অমৃতবাজার পত্রিকা
গ. সঞ্জীবনী
ঘ. উপরের সবগুলি
সঠিক উত্তর: ঘ. উপরের সবগুলি
বিস্তারিত উত্তর: হিন্দু প্যাট্রিয়ট, অমৃতবাজার পত্রিকা, সঞ্জীবনী ইত্যাদি ভারতীয় ভাষার সংবাদপত্রগুলো ব্রিটিশ নীতির সমালোচনা করে এবং ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রশ্ন ৮৬: ইলবার্ট বিল বিতর্ক কত সালে হয়েছিল?
ক. ১৮৭৮
খ. ১৮৮২
গ. ১৮৮৩-৮৪
ঘ. ১৮৮৫
সঠিক উত্তর: গ. ১৮৮৩-৮৪
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৮৩-৮৪ সালে লর্ড রিপনের সময় ইলবার্ট বিল বিতর্ক হয়েছিল। এই বিল ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয়দের বিচার করার ক্ষমতা দিতে চেয়েছিল, যা ইউরোপীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিরোধের জন্ম দেয় এবং ভারতীয়দের মধ্যে ঐক্য ও জাতীয়তাবাদের অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
প্রশ্ন ৮৭: কোন প্রাক্-কংগ্রেস সংগঠনটি কলকাতা কেন্দ্রিক ছিল?
ক. পুনা সার্বজনিক সভা
খ. মাদ্রাজ মহাজন সভা
গ. ভারত সভা (Indian Association)
ঘ. বোম্বাই প্রেসিডেন্সি অ্যাসোসিয়েশন
সঠিক উত্তর: গ. ভারত সভা (Indian Association)
বিস্তারিত উত্তর: ভারত সভা (Indian Association) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আনন্দমোহন বসুর নেতৃত্বে ১৮৭৬ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
প্রশ্ন ৮৮: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি কে ছিলেন?
ক. বদরুদ্দিন তৈয়বজি
খ. মৌলানা আবুল কালাম আজাদ
গ. সৈয়দ আহমদ খান
ঘ. মুহম্মদ আলী জিন্নাহ
সঠিক উত্তর: ক. বদরুদ্দিন তৈয়বজি
বিস্তারিত উত্তর: বদরুদ্দিন তৈয়বজি ১৮৮৭ সালে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের তৃতীয় অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন, যিনি ছিলেন কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি।
প্রশ্ন ৮৯: প্রাথমিক কংগ্রেসের নেতাদের মধ্যে কে ‘ম্যানচেস্টার লিবারেলিজম’-এর অনুসারী ছিলেন?
ক. বাল গঙ্গাধর তিলক
খ. লালা লাজপত রায়
গ. গোপাল কৃষ্ণ গোখলে
ঘ. বিপিনচন্দ্র পাল
সঠিক উত্তর: গ. গোপাল কৃষ্ণ গোখলে
বিস্তারিত উত্তর: গোপাল কৃষ্ণ গোখলে ছিলেন একজন নরমপন্থী নেতা এবং তিনি ব্রিটিশ ‘ম্যানচেস্টার লিবারেলিজম’ অর্থাৎ অবাধ বাণিজ্য ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মতো উদারনৈতিক অর্থনৈতিক ধারণার সমর্থক ছিলেন।
প্রশ্ন ৯০: কোন বিদ্রোহকে “ফরাজি ওয়াহাবি” বিদ্রোহ হিসেবেও পরিচিত?
ক. সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহ
খ. সাঁওতাল বিদ্রোহ
গ. তিতুমীরের বিদ্রোহ
ঘ. নীল বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর: গ. তিতুমীরের বিদ্রোহ
বিস্তারিত উত্তর: তিতুমীরের বিদ্রোহকে অনেক সময় “ফরাজি ওয়াহাবি” বিদ্রোহ হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়, কারণ এটি ওয়াহাবি ও ফরাজি আন্দোলনের সমন্বিত প্রভাব এবং একই ধরনের ইসলামি সংস্কারবাদী ও ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাবাপন্ন ছিল।
প্রশ্ন ৯১: ১৮৩০-৩১ সালের তিতুমীরের বিদ্রোহ কোন এলাকার জমিদারদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল?
ক. নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ
খ. চব্বিশ পরগনা ও নদিয়া
গ. ঢাকা ও চট্টগ্রাম
ঘ. দিনাজপুর ও রংপুর
সঠিক উত্তর: খ. চব্বিশ পরগনা ও নদিয়া
বিস্তারিত উত্তর: তিতুমীরের বিদ্রোহ মূলত চব্বিশ পরগনা এবং নদিয়া জেলার জমিদারদের (যেমন কৃষ্ণদেব রায়) শোষণ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল।
প্রশ্ন ৯২: ফরাজি আন্দোলন মূলত কোন সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রভাব ফেলেছিল?
ক. হিন্দু কৃষক
খ. মুসলিম কৃষক
গ. খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী
ঘ. উপজাতি সম্প্রদায়
সঠিক উত্তর: খ. মুসলিম কৃষক
বিস্তারিত উত্তর: ফরাজি আন্দোলন প্রধানত পূর্ববঙ্গের দরিদ্র মুসলিম কৃষকদের মধ্যে বিস্তার লাভ করেছিল, যারা স্থানীয় জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচারে জর্জরিত ছিল।
প্রশ্ন ৯৩: ওয়াহাবি আন্দোলনের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
ক. পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রচার
খ. ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আনুগত্য
গ. জিহাদের উপর গুরুত্ব আরোপ
ঘ. হিন্দু-মুসলিম ঐক্য
সঠিক উত্তর: গ. জিহাদের উপর গুরুত্ব আরোপ
বিস্তারিত উত্তর: ওয়াহাবি আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল ‘জিহাদ’-এর ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া, যা ব্রিটিশ শাসন এবং অন্যান্য অ-ইসলামিক শক্তিগুলির বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের ডাক দিত।
প্রশ্ন ৯৪: ব্রিটিশরা তিতুমীরের বিদ্রোহ দমনের জন্য কাকে পাঠিয়েছিল?
ক. লর্ড বেন্টিঙ্ক
খ. উইলিয়াম হান্টার
গ. লর্ড ডালহৌসি
ঘ. টমাস উইলকিন্স
সঠিক উত্তর: ক. লর্ড বেন্টিঙ্ক
বিস্তারিত উত্তর: তিতুমীরের বিদ্রোহ এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল যে, তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ককে স্বয়ং একজন সেনাপতিকে সৈন্যবাহিনী সহকারে পাঠাতে হয়েছিল বিদ্রোহ দমনের জন্য।
প্রশ্ন ৯৫: সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রতীক কী ছিল?
ক. পদ্ম ও রুটি
খ. তীর ও ধনুক
গ. মশাল
ঘ. পতাকা
সঠিক উত্তর: খ. তীর ও ধনুক
বিস্তারিত উত্তর: সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রতীক ছিল তীর ও ধনুক, যা তাদের ঐতিহ্যবাহী অস্ত্র এবং প্রতিরোধের প্রতীক ছিল।
প্রশ্ন ৯৬: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহকে ‘সভ্যতা ও বর্বতার সংগ্রাম’ কে বলেছিলেন?
ক. টি. আর. হোমস
খ. জে. আর. সিলি
গ. লর্ড ক্যানিং
ঘ. জন লরেন্স
সঠিক উত্তর: ক. টি. আর. হোমস
বিস্তারিত উত্তর: ব্রিটিশ ঐতিহাসিক টি. আর. হোমস ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে ‘সভ্যতা ও বর্বতার সংগ্রাম’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।
প্রশ্ন ৯৭: কোন ব্রিটিশ আইন দ্বারা সামরিক বাহিনীতে ‘সাধারণ সেবা নিয়োগ আইন’ (General Service Enlistment Act) চালু করা হয়েছিল?
ক. ১৮৩৫ সালের আইন
খ. ১৮৫৬ সালের আইন
গ. ১৮৫৮ সালের আইন
ঘ. ১৮৬১ সালের আইন
সঠিক উত্তর: খ. ১৮৫৬ সালের আইন
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৫৬ সালের ‘সাধারণ সেবা নিয়োগ আইন’ ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর সৈন্যদের জন্য সমুদ্রপথে যুদ্ধের নির্দেশ মানা বাধ্যতামূলক করে, যা অনেক সিপাহীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছিল এবং ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের একটি কারণ ছিল।
প্রশ্ন ৯৮: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের সময় বেরেলিতে কে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন?
ক. মৌলবী আহমদউল্লাহ শাহ
খ. খান বাহাদুর খান
গ. রানি লক্ষ্মীবাই
ঘ. নানা সাহেব
সঠিক উত্তর: খ. খান বাহাদুর খান
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহে বেরেলিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন খান বাহাদুর খান।
প্রশ্ন ৯৯: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহকে ‘জাতীয় বিদ্রোহ’ কে বলেছিলেন?
ক. জন লরেন্স
খ. বেঞ্জামিন ডিজরায়েলি
গ. ভি. ডি. সাভারকর
ঘ. সায়েদ আহমেদ খান
সঠিক উত্তর: খ. বেঞ্জামিন ডিজরায়েলি
বিস্তারিত উত্তর: ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ বেঞ্জামিন ডিজরায়েলি, যিনি পরে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে হাউস অফ কমন্সে ‘জাতীয় বিদ্রোহ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
প্রশ্ন ১০০: রামমোহন রায় ‘আত্মীয় সভা’ কত সালে প্রতিষ্ঠা করেন?
ক. ১৮১০
খ. ১৮১৫
গ. ১৮২০
ঘ. ১৮২৫
সঠিক উত্তর: খ. ১৮১৫
বিস্তারিত উত্তর: রাজা রামমোহন রায় ১৮১৫ সালে কলকাতায় ‘আত্মীয় সভা’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা ছিল তাঁর সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
প্রশ্ন ১০১: বিদ্যাসাগর কোন শিক্ষা সংস্কারের জন্য পরিচিত?
ক. শুধুমাত্র উচ্চশিক্ষার সংস্কার
খ. নারী শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার
গ. কারিগরি শিক্ষার প্রসার
ঘ. সংস্কৃত শিক্ষার অবসান
সঠিক উত্তর: খ. নারী শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার
বিস্তারিত উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর নারী শিক্ষার প্রসারে (যেমন বেথুন স্কুল) এবং প্রাথমিক শিক্ষার সংস্কারে (যেমন মডেল স্কুল স্থাপন, বর্ণপরিচয় রচনা) অসামান্য অবদান রাখেন।
প্রশ্ন ১০২: ‘ইয়ং বেঙ্গল’ আন্দোলনের প্রধান দুর্বলতা কী ছিল?
ক. ব্রিটিশ সরকারের সমর্থন
খ. শুধুমাত্র কলকাতা ও ইংরেজি শিক্ষিতদের মধ্যে সীমাবদ্ধতা
গ. ধর্মীয় গোঁড়ামি
ঘ. কৃষকদের সমর্থন লাভ
সঠিক উত্তর: খ. শুধুমাত্র কলকাতা ও ইংরেজি শিক্ষিতদের মধ্যে সীমাবদ্ধতা
বিস্তারিত উত্তর: ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন মূলত কলকাতা এবং ইংরেজি শিক্ষিত বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, যার কারণে এটি বৃহত্তর জনগণের মধ্যে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি।
প্রশ্ন ১০৩: রামমোহন রায় কোন বিদেশি ভাষা জানতেন না?
ক. ইংরেজি
খ. আরবি
গ. ল্যাটিন
ঘ. গ্রিক
সঠিক উত্তর: গ. ল্যাটিন
বিস্তারিত উত্তর: রাজা রামমোহন রায় ইংরেজি, আরবি, ফারসি, হিব্রু, গ্রিক, সংস্কৃত, বাংলা এবং হিন্দিসহ একাধিক ভাষায় পারদর্শী ছিলেন, তবে ল্যাটিন ভাষায় তার জ্ঞান ছিল না।
প্রশ্ন ১০৪: বিদ্যাসাগরকে ‘বাংলার জননী’ কে বলেছিলেন?
ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ. সিস্টার নিবেদিতা
গ. স্বামী বিবেকানন্দ
ঘ. মহাত্মা গান্ধী
সঠিক উত্তর: খ. সিস্টার নিবেদিতা
বিস্তারিত উত্তর: সিস্টার নিবেদিতা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে তাঁর জনসেবা এবং বিশেষ করে নারী শিক্ষার প্রতি তার অবদানের জন্য ‘বাংলার জননী’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
প্রশ্ন ১০৫: ‘ভারত সভা’ (Indian Association) প্রতিষ্ঠার প্রধান সংগঠক কে ছিলেন?
ক. এ. ও. হিউম
খ. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
গ. দাদাভাই নওরোজী
ঘ. উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: খ. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
বিস্তারিত উত্তর: সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালে আনন্দমোহন বসুর সাথে মিলিত হয়ে ‘ভারত সভা’ (Indian Association) প্রতিষ্ঠা করেন, যা ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রশ্ন ১০৬: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন কোন শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
ক. কলকাতা
খ. মাদ্রাজ
গ. বোম্বাই
ঘ. এলাহাবাদ
সঠিক উত্তর: গ. বোম্বাই
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৮৫ সালের ২৮শে ডিসেম্বর ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন বোম্বাইয়ের গোকুলদাস তেজপাল সংস্কৃত কলেজে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশ্ন ১০৭: প্রাথমিক কংগ্রেসের নেতাদের প্রধান দাবি কী ছিল?
ক. সম্পূর্ণ স্বাধীনতা
খ. স্বায়ত্তশাসন
গ. আইনসভায় ভারতীয়দের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি ও সিভিল সার্ভিসে সুযোগ
ঘ. সামরিক বাহিনীর ভারতীয়করণ
সঠিক উত্তর: গ. আইনসভায় ভারতীয়দের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি ও সিভিল সার্ভিসে সুযোগ
বিস্তারিত উত্তর: প্রাথমিক কংগ্রেসের নরমপন্থী নেতারা আইনসভায় ভারতীয়দের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, সিভিল সার্ভিসে ভারতীয়দের জন্য আরও বেশি সুযোগ এবং প্রশাসনকে আরও বেশি জবাবদিহি করার দাবি জানাতেন।
প্রশ্ন ১০৮: ‘সেফটি ভালভ’ তত্ত্বের সমালোচক কে ছিলেন?
ক. গোপাল কৃষ্ণ গোখলে
খ. দাদাভাই নওরোজী
গ. লালা লাজপত রায়
ঘ. ফিরোজশাহ মেহতা
সঠিক উত্তর: গ. লালা লাজপত রায়
বিস্তারিত উত্তর: লালা লাজপত রায় সহ পরবর্তীকালের চরমপন্থী নেতারা ‘সেফটি ভালভ’ তত্ত্বের তীব্র সমালোচনা করেন এবং এটিকে ব্রিটিশদের একটি কৌশল বলে অভিহিত করেন।
প্রশ্ন ১০৯: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা কোন ভাইসরয়ের সময় হয়েছিল?
ক. লর্ড রিপন
খ. লর্ড ডাফরিন
গ. লর্ড কার্জন
ঘ. লর্ড লিটন
সঠিক উত্তর: খ. লর্ড ডাফরিন
বিস্তারিত উত্তর: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় যখন লর্ড ডাফরিন ভারতের ভাইসরয় ছিলেন।
প্রশ্ন ১১০: কোন শহরকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়েছিল?
ক. বোম্বাই
খ. মাদ্রাজ
গ. কলকাতা
ঘ. দিল্লী
সঠিক উত্তর: গ. কলকাতা
বিস্তারিত উত্তর: ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ১৮৫১ সালে কলকাতা শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা তৎকালীন সময়ে বাংলার জমিদার ও বুদ্ধিজীবীদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করত।
প্রশ্ন ১১১: ১৮৮৬ সালে অনুষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশনের সভাপতি কে ছিলেন?
ক. উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
খ. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
গ. দাদাভাই নওরোজী
ঘ. বদরুদ্দিন তৈয়বজি
সঠিক উত্তর: গ. দাদাভাই নওরোজী
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৮৬ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন দাদাভাই নওরোজী।
প্রশ্ন ১১২: ‘ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট’ কত সালে প্রত্যাহার করা হয়েছিল?
ক. ১৮৭৯
খ. ১৮৮০
গ. ১৮৮২
ঘ. ১৮৮৪
সঠিক উত্তর: গ. ১৮৮২
বিস্তারিত উত্তর: উদারপন্থী ভাইসরয় লর্ড রিপন ১৮৮২ সালে বিতর্কিত ‘ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট’ প্রত্যাহার করেন, যা ভারতীয় জনমতকে সন্তুষ্ট করেছিল।
প্রশ্ন ১১৩: কোন আইন দ্বারা ভারতীয়দের সিভিল সার্ভিসে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছিল?
ক. চার্টার অ্যাক্ট ১৮১৩
খ. চার্টার অ্যাক্ট ১৮৩৩
গ. চার্টার অ্যাক্ট ১৮৫৩
ঘ. ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসেস অ্যাক্ট ১৮৬১
সঠিক উত্তর: গ. চার্টার অ্যাক্ট ১৮৫৩
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৫৩ সালের চার্টার অ্যাক্ট দ্বারা সিভিল সার্ভিসে প্রতিযোগিতা পরীক্ষা চালু করা হয় এবং ভারতীয়দের জন্য প্রবেশাধিকারের সুযোগ তৈরি হয়, যদিও পরীক্ষাগুলি ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে ভারতীয়দের অংশগ্রহণ কঠিন ছিল।
প্রশ্ন ১১৪: প্রাথমিক কংগ্রেসের নেতাদের মধ্যে কে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য হয়েছিলেন?
ক. গোপাল কৃষ্ণ গোখলে
খ. ফিরোজশাহ মেহতা
গ. দাদাভাই নওরোজী
ঘ. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: গ. দাদাভাই নওরোজী
বিস্তারিত উত্তর: দাদাভাই নওরোজী ১৮৯২ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অফ কমন্সের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন (ফিনসবারি সেন্ট্রাল আসন থেকে)।
প্রশ্ন ১১৫: কংগ্রেসের প্রথম নারী সভাপতি কে ছিলেন?
ক. সরোজিনী নাইডু
খ. অ্যানি বেসান্ত
গ. নেলী সেনগুপ্তা
ঘ. কদম্বিনী গাঙ্গুলি
সঠিক উত্তর: খ. অ্যানি বেসান্ত
বিস্তারিত উত্তর: অ্যানি বেসান্ত ১৯১৭ সালে কলকাতা অধিবেশনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম নারী সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। (ভারতীয় প্রথম নারী সভাপতি ছিলেন সরোজিনী নাইডু, ১৯২৫)।
প্রশ্ন ১১৬: কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনগুলিতে সাধারণত কী ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হত?
ক. সশস্ত্র বিদ্রোহের পরিকল্পনা
খ. সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাব
গ. ধর্মীয় বিতর্ক
ঘ. অর্থনৈতিক যুদ্ধ কৌশল
সঠিক উত্তর: খ. সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাব
বিস্তারিত উত্তর: কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনগুলিতে আইনসভায় ভারতীয়দের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, সিভিল সার্ভিসে সুযোগ বৃদ্ধি, প্রশাসনিক সংস্কার, সামরিক ব্যয় হ্রাস এবং কৃষকদের সমস্যার মতো সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হত।
প্রশ্ন ১১৭: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের সময় झांसीতে কে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন?
ক. বেগম হযরত মহল
খ. রানি লক্ষ্মীবাই
গ. জিনাত মহল
ঘ. আহল্যাবাই হোলকার
সঠিক উত্তর: খ. রানি লক্ষ্মীবাই
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহে ঝাঁসিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রানি লক্ষ্মীবাই, যিনি তার রাজ্য রক্ষার জন্য সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করেছিলেন।
প্রশ্ন ১১৮: রামমোহন রায় তার কোন ধর্মীয় সভার মাধ্যমে একেশ্বরবাদ প্রচার করেন?
ক. আত্মীয় সভা
খ. ব্রাহ্মসমাজ
গ. তত্ত্ববোধিনী সভা
ঘ. আর্য সমাজ
সঠিক উত্তর: খ. ব্রাহ্মসমাজ
বিস্তারিত উত্তর: ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্মসমাজের মাধ্যমে রামমোহন রায় একেশ্বরবাদ, মূর্তিপূজা বর্জন এবং হিন্দু ধর্মের সংস্কারের পক্ষে জোরালোভাবে প্রচার করেন।
প্রশ্ন ১১৯: ব্রিটিশ ইন্ডিয়া অ্যাসোসিয়েশন এবং ল্যান্ডহোল্ডার্স সোসাইটির একীকরণের ফলস্বরূপ কোন সংগঠনটি গঠিত হয়েছিল?
ক. ভারত সভা
খ. ইস্ট ইন্ডিয়া অ্যাসোসিয়েশন
গ. ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন
ঘ. বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি
সঠিক উত্তর: গ. ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৫১ সালে ল্যান্ডহোল্ডার্স সোসাইটি এবং বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটির একীকরণের মাধ্যমে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়।
প্রশ্ন ১২০: ১৮৩১ সালে বাঁশের কেল্লার যুদ্ধে তিতুমীরের প্রধান প্রতিপক্ষ কে ছিলেন?
ক. লর্ড বেন্টিঙ্ক
খ. ক্যাপ্টেন স্টুয়ার্ট
গ. কর্নেল ডাফ
ঘ. মেজর রবার্ট
সঠিক উত্তর: গ. কর্নেল ডাফ
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৩১ সালের ১৯শে নভেম্বর ব্রিটিশ সেনাবাহিনী কর্নেল ডাফের নেতৃত্বে নারিকেলবেড়িয়ার বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে। এই যুদ্ধে তিতুমীর পরাজিত ও নিহত হন।
প্রশ্ন ১২১: ওয়াহাবি আন্দোলনকে কী নামেও ডাকা হতো?
ক. ফকির আন্দোলন
খ. তরিকা-ই-মুহম্মদিয়া আন্দোলন
গ. বারাসাত আন্দোলন
ঘ. সতীদাহ বিরোধী আন্দোলন
সঠিক উত্তর: খ. তরিকা-ই-মুহম্মদিয়া আন্দোলন
বিস্তারিত উত্তর: ভারতে সৈয়দ আহমেদ বেরেলভি কর্তৃক প্রচারিত ওয়াহাবি আন্দোলনকে ‘তরিকা-ই-মুহম্মদিয়া’ আন্দোলন নামেও অভিহিত করা হতো, যার অর্থ ছিল হযরত মুহাম্মদের (স.) পথ অনুসরণ করা।
প্রশ্ন ১২২: ফরাজি আন্দোলনের সাথে জড়িত নিচের কোন ব্যক্তি বাংলার কৃষক বিদ্রোহের প্রতীক হিসেবে পরিচিত?
ক. হাজী শরিয়তউল্লাহ
খ. দুদুমিয়াঁ
গ. তিতুমীর
ঘ. সৈয়দ আহমেদ বেরেলভি
সঠিক উত্তর: খ. দুদুমিয়াঁ
বিস্তারিত উত্তর: দুদুমিয়াঁ ফরাজি আন্দোলনকে একটি শক্তিশালী কৃষক বিদ্রোহে পরিণত করেন এবং তিনি জমিদার ও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে দরিদ্র কৃষকদের সংগঠিত করায় ‘বাংলার কৃষক বিদ্রোহের প্রতীক’ হিসেবে পরিচিত।
প্রশ্ন ১২৩: ওয়াহাবি আন্দোলনের মূল বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
ক. ধর্মীয় উদারতা ও সহিষ্ণুতা
খ. সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ
গ. বিশুদ্ধ ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা ও ব্রিটিশ বিরোধীতা
ঘ. আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার
সঠিক উত্তর: গ. বিশুদ্ধ ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা ও ব্রিটিশ বিরোধীতা
বিস্তারিত উত্তর: ওয়াহাবি আন্দোলনের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল ইসলামকে এর আদি রূপে ফিরিয়ে আনা, সমস্ত কুসংস্কার দূর করা এবং ভারতে ব্রিটিশ শাসনকে উৎখাত করে একটি বিশুদ্ধ ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
প্রশ্ন ১২৪: কোন ঐতিহাসিক ফরাজি আন্দোলনকে ‘ধর্মীয় পুনরুজ্জীবনবাদী আন্দোলন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন?
ক. আর. সি. মজুমদার
খ. বিপান চন্দ্র
গ. কে. এ. নিজামী
ঘ. সুমিত সরকার
সঠিক উত্তর: গ. কে. এ. নিজামী
বিস্তারিত উত্তর: ঐতিহাসিক কে. এ. নিজামী ফরাজি আন্দোলনকে একটি ধর্মীয় পুনরুজ্জীবনবাদী আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যদিও এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিকগুলিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
প্রশ্ন ১২৫: সাঁওতাল বিদ্রোহের পর কোন বিধি চালু করা হয়েছিল?
ক. ফরাজি রেগুলেশন
খ. সাঁওতাল পরগনা টেনেন্সি অ্যাক্ট
গ. সাঁওতাল সিভিল কোড
ঘ. দামিন-ই-কোহ বিধি
সঠিক উত্তর: খ. সাঁওতাল পরগনা টেনেন্সি অ্যাক্ট
বিস্তারিত উত্তর: সাঁওতাল বিদ্রোহের পর ১৮৭৬ সালে সাঁওতাল পরগনা টেনেন্সি অ্যাক্ট (Santhal Parganas Tenancy Act) চালু করা হয়, যা সাঁওতালদের ভূমির অধিকার সুরক্ষিত করার এবং বহিরাগতদের (দিকু) অনুপ্রবেশ সীমিত করার চেষ্টা করে।
প্রশ্ন ১২৬: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহে কোন ইউরোপীয় শহর থেকে সৈন্যরা দিল্লী অবরোধ করেছিল?
ক. লখনউ
খ. কানপুর
গ. পাঞ্জাব
ঘ. মীরাট
সঠিক উত্তর: গ. পাঞ্জাব
বিস্তারিত উত্তর: পাঞ্জাব এবং সীমান্তবর্তী এলাকার শিখ ও গুর্খা সৈন্যরা ব্রিটিশদের পক্ষ নিয়ে দিল্লী অবরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
প্রশ্ন ১২৭: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে ‘নেহাত সিপাহী বিদ্রোহ’ কে বলেছিলেন?
ক. জন লরেন্স
খ. ভি. ডি. সাভারকর
গ. ডিজরায়েলি
ঘ. সুরেন্দ্রনাথ সেন
সঠিক উত্তর: ক. জন লরেন্স
বিস্তারিত উত্তর: জন লরেন্স এবং জেমস আউটরামের মতো ব্রিটিশ ঐতিহাসিক ও কর্মকর্তারা ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে নিছক একটি সিপাহী বিদ্রোহ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন, যা তাদের মতে কোন ব্যাপক জনসমর্থন পায়নি।
প্রশ্ন ১২৮: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরকে কোথায় নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল?
ক. আন্দামান
খ. রেঙ্গুন
গ. সিঙ্গাপুর
ঘ. লন্ডন
সঠিক উত্তর: খ. রেঙ্গুন
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ দমনের পর মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (বর্তমান মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন) নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি ১৮৬২ সালে মারা যান।
প্রশ্ন ১২৯: কোন ব্রিটিশ অফিসারকে ‘ঝাঁসির রানী’র অন্যতম প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা হয়?
ক. স্যার হিউ রোজ
খ. জন নিকলসন
গ. হেনরি হ্যাভলক
ঘ. জেমস আউটরাম
সঠিক উত্তর: ক. স্যার হিউ রোজ
বিস্তারিত উত্তর: স্যার হিউ রোজ ছিলেন সেই ব্রিটিশ কমান্ডার যিনি ঝাঁসি অবরোধ ও রানী লক্ষ্মীবাইয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি রানীকে “বিদ্রোহীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সাহসী নেতা” হিসেবে বর্ণনা করেন।
প্রশ্ন ১৩০: রামমোহন রায় তার কোন সাপ্তাহিক পত্রিকার মাধ্যমে খ্রিস্টান মিশনারিদের সমালোচনার জবাব দিতেন?
ক. সংবাদ কৌমুদী
খ. মিরাট-উল-আখবার
গ. সমাচার দর্পণ
ঘ. বেঙ্গল গেজেট
সঠিক উত্তর: খ. মিরাট-উল-আখবার
বিস্তারিত উত্তর: রামমোহন রায় ১৮২২ সালে প্রকাশিত তাঁর ফারসি সাপ্তাহিক পত্রিকা মিরাট-উল-আখবার-এর মাধ্যমে খ্রিস্টান মিশনারিদের দ্বারা হিন্দুধর্মের সমালোচনার জবাব দিতেন এবং নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে রক্ষা করতেন।
প্রশ্ন ১৩১: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো নির্বাচিত করা হয়েছিল?
ক. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
খ. বোম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়
গ. মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়
ঘ. অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর: ক. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
বিস্তারিত উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ফেলো নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতেও তাঁর পরোক্ষ অবদান ছিল।
প্রশ্ন ১৩২: ডিরোজিওর শিক্ষাদান পদ্ধতি কী নামে পরিচিত ছিল?
ক. ডিরোজিওবাদ
খ. ইয়ং বেঙ্গলিজম
গ. ফ্রি থট (মুক্তচিন্তা)
ঘ. উপরের কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক. ডিরোজিওবাদ
বিস্তারিত উত্তর: হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং তার ছাত্রদের মধ্যে যে প্রভাব ফেলেছিল, তা ‘ডিরোজিওবাদ’ নামে পরিচিত। এটি যুক্তিবাদ, মানবতাবাদ এবং স্বাধীন চিন্তার উপর জোর দিত।
প্রশ্ন ১৩৩: কোন পত্রিকায় প্রথম ‘ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর’ নামটি প্রকাশিত হয়?
ক. সমাচার দর্পণ
খ. সংবাদ প্রভাকর
গ. তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা
ঘ. সোমপ্রকাশ
সঠিক উত্তর: খ. সংবাদ প্রভাকর
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৩৯ সালে সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রথম ‘ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর’ নামটি ব্যবহৃত হয়, যখন তিনি সংস্কৃত কলেজ থেকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি লাভ করেন।
প্রশ্ন ১৩৪: রামমোহন রায় তার কোন বইয়ের মাধ্যমে বহুদেবতার ধারণা ও মূর্তিপূজার বিরোধিতা করেন?
ক. সংবাদ কৌমুদী
খ. তুহফাত-উল-মুওয়াহহিদিন
গ. বেদান্ত গ্রন্থ
ঘ. প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ
সঠিক উত্তর: খ. তুহফাত-উল-মুওয়াহহিদিন
বিস্তারিত উত্তর: রামমোহন রায় ১৮০৩ সালে প্রকাশিত তাঁর ফারসি গ্রন্থ তুহফাত-উল-মুওয়াহহিদিন (একেশ্বরবাদীদের জন্য উপহার) এর মাধ্যমে বহুদেবতার ধারণা এবং মূর্তিপূজার বিরোধিতা করে একেশ্বরবাদের পক্ষে যুক্তি দেন।
প্রশ্ন ১৩৫: ‘এ নেশন ইন মেকিং’ গ্রন্থটি কার লেখা?
ক. দাদাভাই নওরোজী
খ. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
গ. গোপাল কৃষ্ণ গোখলে
ঘ. বাল গঙ্গাধর তিলক
সঠিক উত্তর: খ. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
বিস্তারিত উত্তর: এ নেশন ইন মেকিং (A Nation in Making) গ্রন্থটি সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ, যেখানে তিনি ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রাথমিক পর্যায় এবং ভারত সভার কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
প্রশ্ন ১৩৬: ‘পুনা সার্বজনিক সভা’ মূলত কোন অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করত?
ক. বাংলা
খ. মাদ্রাজ
গ. মহারাষ্ট্র
ঘ. উত্তর প্রদেশ
সঠিক উত্তর: গ. মহারাষ্ট্র
বিস্তারিত উত্তর: পুনা সার্বজনিক সভা (১৮৬৭) মূলত মহারাষ্ট্র অঞ্চলের সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করত।
প্রশ্ন ১৩৭: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য কী ছিল?
ক. বিপ্লবী কার্যকলাপ পরিচালনা করা
খ. ব্রিটিশ শাসনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা
গ. ভারতীয়দের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য ও জনমত গঠন করা
ঘ. ধর্মীয় পুনর্জাগরণ ঘটানো
সঠিক উত্তর: গ. ভারতীয়দের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য ও জনমত গঠন করা
বিস্তারিত উত্তর: কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি গড়ে তোলা, তাদের রাজনৈতিক দাবি-দাওয়া ব্রিটিশ সরকারের কাছে তুলে ধরা এবং সাংবিধানিক উপায়ে স্বায়ত্তশাসনের পথ প্রশস্ত করা।
প্রশ্ন ১৩৮: কোন ভাইসরয় কংগ্রেসকে ‘অণুবীক্ষণিক সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধি’ (microscopic minority) বলে উপহাস করেছিলেন?
ক. লর্ড রিপন
খ. লর্ড ডাফরিন
গ. লর্ড কার্জন
ঘ. লর্ড মিন্টো
সঠিক উত্তর: খ. লর্ড ডাফরিন
বিস্তারিত উত্তর: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সময় ভারতের ভাইসরয় লর্ড ডাফরিন কংগ্রেসকে ‘অণুবীক্ষণিক সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধি’ বলে উপহাস করেছিলেন, যার দ্বারা তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে কংগ্রেস বৃহত্তর ভারতীয় জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না।
প্রশ্ন ১৩৯: প্রাথমিক কংগ্রেসের কোন নেতা ‘অভারতীয়করণ’ (De-Indianization) নীতির বিরোধিতা করেছিলেন?
ক. দাদাভাই নওরোজী
খ. গোপাল কৃষ্ণ গোখলে
গ. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
ঘ. উপরের সবগুলি
সঠিক উত্তর: ঘ. উপরের সবগুলি
বিস্তারিত উত্তর: প্রাথমিক কংগ্রেসের সমস্ত নরমপন্থী নেতারাই ব্রিটিশ সরকারের ‘অভারতীয়করণ’ নীতির বিরোধিতা করেছিলেন, যেখানে উচ্চপদে ভারতীয়দের নিয়োগ না করে ইউরোপীয়দের নিয়োগ করা হতো। তারা বিশ্বাস করতেন যে, ভারতীয়দের হাতে প্রশাসন থাকলে তা দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে।
প্রশ্ন ১৪০: লর্ড কার্জন কংগ্রেসকে কী হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন?
ক. একটি বিপজ্জনক বিপ্লবী সংস্থা
খ. ভারতের আশার আলো
গ. একটি ডায়িং ইনস্টিটিউশন
ঘ. একটি গঠনমূলক শক্তি
সঠিক উত্তর: গ. একটি ডায়িং ইনস্টিটিউশন
বিস্তারিত উত্তর: লর্ড কার্জন (ভাইসরয় ১৮৯৯-১৯০৫) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসকে ‘একটি ডায়িং ইনস্টিটিউশন’ (মৃত্যুমুখী প্রতিষ্ঠান) হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন এবং তিনি আশা করতেন যে, তার সময়কালেই কংগ্রেসের শান্তিপূর্ণ মৃত্যু ঘটবে।
প্রশ্ন ১৪১: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর পুনর্গঠনের জন্য কোন কমিশন গঠিত হয়েছিল?
ক. হান্টার কমিশন
খ. পিল কমিশন
গ. স্ট্র্যাচি কমিশন
ঘ. এচিসন কমিশন
সঠিক উত্তর: খ. পিল কমিশন
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় সেনাবাহিনীর পুনর্গঠন ও ভবিষ্যতে বিদ্রোহ রোধের উপায় সুপারিশ করার জন্য ১৮৫৮ সালে পিল কমিশন (Peel Commission) গঠন করে।
প্রশ্ন ১৪২: ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কে ছিলেন?
ক. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
খ. অক্ষয় কুমার দত্ত
গ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ঘ. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর: ঘ. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
বিস্তারিত উত্তর: সংবাদ প্রভাকর (১৮৩১) ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বাংলা পত্রিকা, যার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। এই পত্রিকাটি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রশ্ন ১৪৩: ‘বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি’ কত সালে গঠিত হয়?
ক. ১৮৩৮
খ. ১৮৪৩
গ. ১৮৫১
ঘ. ১৮৬৬
সঠিক উত্তর: খ. ১৮৪৩
বিস্তারিত উত্তর: বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি ১৮৪৩ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ছিল একটি প্রাথমিক রাজনৈতিক সংগঠন যার উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয়দের অধিকার ও কল্যাণ নিয়ে কাজ করা।
প্রশ্ন ১৪৪: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কোন অধিবেশনে প্রথমবার ‘স্বরাজ’ শব্দটি আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্চারিত হয়?
ক. ১৮৯৬ কলকাতা অধিবেশন
খ. ১৯০৫ বেনারস অধিবেশন
গ. ১৯০৬ কলকাতা অধিবেশন
ঘ. ১৯০৭ সুরাট অধিবেশন
সঠিক উত্তর: গ. ১৯০৬ কলকাতা অধিবেশন
বিস্তারিত উত্তর: ১৯০৬ সালের কলকাতা অধিবেশনে দাদাভাই নওরোজীর সভাপতিত্বে প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসের লক্ষ্য হিসেবে ‘স্বরাজ’ (স্বশাসন) শব্দটি উচ্চারিত হয়, যদিও এর অর্থ নিয়ে নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের মধ্যে মতবিরোধ ছিল।
প্রশ্ন ১৪৫: ওয়াহাবি আন্দোলনের একজন অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক কে ছিলেন, যিনি এটিকে একটি গণআন্দোলনে পরিণত করতে সাহায্য করেছিলেন?
ক. হাজী শরিয়তউল্লাহ
খ. শাহ ওয়ালিউল্লাহ
গ. সৈয়দ আহমেদ বেরেলভি
ঘ. মীর নিসার আলী
সঠিক উত্তর: গ. সৈয়দ আহমেদ বেরেলভি
বিস্তারিত উত্তর: সৈয়দ আহমেদ বেরেলভি ছিলেন ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলনের একজন কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব, যিনি এটিকে একটি গণআন্দোলনের রূপ দিতে চেয়েছিলেন এবং ব্রিটিশ ও শিখদের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’-এর ডাক দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন ১৪৬: ফরাজি আন্দোলন মূলত কাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল?
ক. ব্রিটিশ সরকার ও জমিদার
খ. শিখ ও মারাঠা
গ. পর্তুগিজ ও ফরাসি
ঘ. মুঘল ও তুর্কি
সঠিক উত্তর: ক. ব্রিটিশ সরকার ও জমিদার
বিস্তারিত উত্তর: ফরাজি আন্দোলন ব্রিটিশ সরকারের শোষণমূলক নীতি এবং তাদের মদতপুষ্ট জমিদার ও মহাজনদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে দরিদ্র কৃষক ও তাঁতিদের নিয়ে পরিচালিত হয়েছিল।
প্রশ্ন ১৪৭: তিতুমীর কোন ধর্মীয় পুনরুজ্জীবনবাদী আন্দোলনের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন?
ক. ব্রাহ্মসমাজ
খ. ওয়াহাবি আন্দোলন
গ. আর্য সমাজ
ঘ. প্রার্থনা সমাজ
সঠিক উত্তর: খ. ওয়াহাবি আন্দোলন
বিস্তারিত উত্তর: তিতুমীর মক্কায় হজ করতে গিয়ে সৈয়দ আহমেদ বেরেলভির সংস্পর্শে আসেন এবং তাঁর ওয়াহাবি মতাদর্শ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হন, যা তাকে বারাসাত বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিতে অনুপ্রাণিত করে।
প্রশ্ন ১৪৮: ফরাজিদের ‘ন-কর’ নীতি কী ছিল?
ক. শুধুমাত্র ব্রিটিশদের কর দেওয়া
খ. জমিদারদের খাজনা না দেওয়া
গ. ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ না করা
ঘ. উপরের কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: খ. জমিদারদের খাজনা না দেওয়া
বিস্তারিত উত্তর: ফরাজি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নীতি ছিল ‘ন-কর’, অর্থাৎ জমিদারের খাজনা ও অন্যান্য অবৈধ কর প্রদানে অস্বীকার করা। তারা দাবি করত যে, যেহেতু ভারত ‘দার-উল-হার্ব’, তাই এখানে নামাজ পড়া উচিত নয়।
প্রশ্ন ১৪৯: ওয়াহাবি আন্দোলনের চূড়ান্ত পতন কোন দশকে হয়েছিল?
ক. ১৮৪০-এর দশক
খ. ১৮৫০-এর দশক
গ. ১৮৭০-এর দশক
ঘ. ১৮৮০-এর দশক
সঠিক উত্তর: গ. ১৮৭০-এর দশক
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৭০-এর দশকে ব্রিটিশ সরকার কঠোর দমন নীতির মাধ্যমে ওয়াহাবি আন্দোলনকে চূড়ান্তভাবে দমন করে। এ সময় অনেক ওয়াহাবি নেতাকে গ্রেফতার ও কারারুদ্ধ করা হয়।
প্রশ্ন ১৫০: সাঁওতাল বিদ্রোহকে ‘হুল’ নামেও পরিচিত। ‘হুল’ শব্দের অর্থ কী?
ক. মুক্তি
খ. বিপ্লব
গ. বিদ্রোহ
ঘ. স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর: গ. বিদ্রোহ
বিস্তারিত উত্তর: সাঁওতাল বিদ্রোহকে সাঁওতাল ভাষায় ‘হুল’ বলা হয়, যার অর্থ হল বিদ্রোহ বা সশস্ত্র অভ্যুত্থান।
প্রশ্ন ১৫১: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহে গ্বালিয়রে কে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন?
ক. নানা সাহেব
খ. তাঁতিয়া টোপি
গ. রানী লক্ষ্মীবাই
ঘ. কুনওয়ার সিং
সঠিক উত্তর: খ. তাঁতিয়া টোপি
বিস্তারিত উত্তর: তাঁতিয়া টোপি ছিলেন নানা সাহেবের প্রধান সেনাপতি এবং তিনি কানপুর ও গ্বালিয়র উভয় স্থানেই বিদ্রোহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
প্রশ্ন ১৫২: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে ‘সামন্ততান্ত্রিক প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে কে চিহ্নিত করেছেন?
ক. জন লরেন্স
খ. আর. সি. মজুমদার
গ. এস. এন. সেন
ঘ. জওহরলাল নেহেরু
সঠিক উত্তর: খ. আর. সি. মজুমদার
বিস্তারিত উত্তর: ঐতিহাসিক আর. সি. মজুমদার ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে ‘প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ’ বলতে অস্বীকার করেন এবং এটিকে একটি ‘সামন্ততান্ত্রিক প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে পুরাতন অভিজাতরা তাদের ক্ষমতা ফিরে পেতে চেয়েছিল।
প্রশ্ন ১৫৩: কোন ব্রিটিশ আইন দ্বারা ভারতে ‘ডক্ট্রিন অফ ল্যাপস’ প্রবর্তন করা হয়েছিল?
ক. চার্টার অ্যাক্ট ১৮১৩
খ. চার্টার অ্যাক্ট ১৮৩৩
গ. চার্টার অ্যাক্ট ১৮৫৩
ঘ. লর্ড ডালহৌসির প্রশাসনিক নীতি
সঠিক উত্তর: ঘ. লর্ড ডালহৌসির প্রশাসনিক নীতি
বিস্তারিত উত্তর: ‘ডক্ট্রিন অফ ল্যাপস’ (স্বত্ববিলোপ নীতি) ছিল লর্ড ডালহৌসির একটি সাম্রাজ্যবাদী নীতি, যার মাধ্যমে কোনো দেশীয় রাজ্যের শাসকের প্রাকৃতিক উত্তরাধিকারী না থাকলে সেই রাজ্যকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হতো। এটি ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের অন্যতম কারণ ছিল।
প্রশ্ন ১৫৪: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহে কোন দেশীয় রাজ্য ব্রিটিশদের প্রতি অনুগত ছিল?
ক. ঝাঁসি
খ. লখনউ
গ. গ্বালিয়র
ঘ. পাতিয়ালা
সঠিক উত্তর: ঘ. পাতিয়ালা
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের সময় পাতিয়ালা, হায়দ্রাবাদ, গোয়ালিয়র (সিন্ধিয়া পরিবার) এবং কাশ্মীরের মতো অনেক দেশীয় রাজ্য ব্রিটিশদের প্রতি অনুগত ছিল এবং তাদের বিদ্রোহ দমনে সাহায্য করেছিল।
প্রশ্ন ১৫৫: রামমোহন রায় ‘বেদান্ত কলেজ’ কত সালে প্রতিষ্ঠা করেন?
ক. ১৮২৫
খ. ১৮২৮
গ. ১৮২৯
ঘ. ১৮৩৩
সঠিক উত্তর: ক. ১৮২৫
বিস্তারিত উত্তর: রাজা রামমোহন রায় ১৮২৫ সালে কলকাতায় ‘বেদান্ত কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে ভারতীয় এবং পাশ্চাত্য উভয় শিক্ষাই প্রদান করা হতো।
প্রশ্ন ১৫৬: ‘ডিরোজিও’ কোন কলেজে অধ্যাপক ছিলেন?
ক. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
খ. প্রেসিডেন্সি কলেজ
গ. হিন্দু কলেজ
ঘ. সংস্কৃত কলেজ
সঠিক উত্তর: গ. হিন্দু কলেজ
বিস্তারিত উত্তর: হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ১৮২৬ সাল থেকে হিন্দু কলেজের অধ্যাপক ছিলেন এবং তার প্রগতিশীল চিন্তাধারা তার ছাত্রদের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
প্রশ্ন ১৫৭: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর কোন বইয়ের মাধ্যমে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন?
ক. বর্ণপরিচয়
খ. বিধবাবিবাহ
গ. বহুবিবাহ
ঘ. সীতার বনবাস
সঠিক উত্তর: গ. বহুবিবাহ
বিস্তারিত উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তার ‘বহুবিবাহ’ (১৮৭১-৭৩) নামক গ্রন্থে বহুবিবাহ প্রথার পাশাপাশি বাল্যবিবাহেরও তীব্র সমালোচনা করেন।
প্রশ্ন ১৫৮: বিদ্যাসাগরের ‘সীতার বনবাস’ গ্রন্থটি কোন পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে রচিত?
ক. রামায়ণ
খ. মহাভারত
গ. শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা
ঘ. পুরাণ
সঠিক উত্তর: ক. রামায়ণ
বিস্তারিত উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ‘সীতার বনবাস’ (১৮৬০) গ্রন্থটি রামায়ণের উত্তরকাণ্ডের কাহিনী অবলম্বনে রচিত হয়েছিল।
প্রশ্ন ১৫৯: ‘জ্ঞানান্বেষণ’ নামক একটি পত্রিকা কোন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিল?
ক. ব্রাহ্মসমাজ
খ. ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন
গ. ফরাজি আন্দোলন
ঘ. ওয়াহাবি আন্দোলন
সঠিক উত্তর: খ. ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন
বিস্তারিত উত্তর: ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের সদস্যরা ‘জ্ঞানান্বেষণ’ (১৮২৮) নামক একটি দ্বিভাষিক (বাংলা ও ইংরেজি) পত্রিকা প্রকাশ করত, যা তাদের যুক্তিবাদী ও সমাজ সংস্কারমূলক ধারণার প্রচার করত।
প্রশ্ন ১৬০: ‘ভারত সভা’ (Indian Association) এর কোন নীতির কারণে এটি ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন থেকে আলাদা ছিল?
ক. শুধুমাত্র জমিদারদের স্বার্থ রক্ষা
খ. ধর্মীয় সংস্কারের উপর জোর দেওয়া
গ. মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে কাজ করা
ঘ. সশস্ত্র বিদ্রোহের ডাক দেওয়া
সঠিক উত্তর: গ. মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে কাজ করা
বিস্তারিত উত্তর: ভারত সভা ছিল ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (যা জমিদারদের স্বার্থ রক্ষা করত) থেকে ভিন্ন, কারণ এটি মধ্যবিত্ত, পেশাদার এবং সাধারণ জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বার্থ নিয়ে কাজ করত।
প্রশ্ন ১৬১: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কোন অধিবেশনে প্রথমবার জাতীয় সঙ্গীত (বন্দেমাতরম) গাওয়া হয়েছিল?
ক. ১৮৮৫ বোম্বাই অধিবেশন
খ. ১৮৯৬ কলকাতা অধিবেশন
গ. ১৯০৬ কলকাতা অধিবেশন
ঘ. ১৯১১ কলকাতা অধিবেশন
সঠিক উত্তর: খ. ১৮৯৬ কলকাতা অধিবেশন
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৯৬ সালের কলকাতা অধিবেশনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের মঞ্চে প্রথমবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কণ্ঠে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দেমাতরম’ গানটি গাওয়া হয়েছিল।
প্রশ্ন ১৬২: প্রাথমিক কংগ্রেসের নেতারা ব্রিটিশ শাসনের কোন দিকটিকে ভারতের জন্য উপকারী মনে করতেন?
ক. সাম্রাজ্যবাদী শোষণ
খ. আধুনিক শিক্ষা ও শাসন ব্যবস্থা
গ. সামরিক আগ্রাসন
ঘ. দেশীয় শিল্পের ধ্বংস
সঠিক উত্তর: খ. আধুনিক শিক্ষা ও শাসন ব্যবস্থা
বিস্তারিত উত্তর: প্রাথমিক কংগ্রেসের নরমপন্থী নেতারা ব্রিটিশ শাসনকে “ঐশ্বরিক বিধান” (Divine Providence) হিসেবে দেখতেন এবং এর দ্বারা ভারতে আধুনিক শিক্ষা, আইন, বিচার ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রবর্তনকে ভারতের উন্নতির জন্য উপকারী বলে মনে করতেন।
প্রশ্ন ১৬৩: ‘বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
ক. দ্বারকানাথ ঠাকুর
খ. জর্জ থমসন
গ. রাজা রামমোহন রায়
ঘ. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: খ. জর্জ থমসন
বিস্তারিত উত্তর: বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি ১৮৪৩ সালে জর্জ থমসন (ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটির সভাপতি) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয়দের অধিকারের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
প্রশ্ন ১৬৪: দাদাভাই নওরোজী কত সালে ব্রিটিশ হাউস অফ কমন্স-এর সদস্য নির্বাচিত হন?
ক. ১৮৮৫
খ. ১৮৯০
গ. ১৮৯২
ঘ. ১৮৯৬
সঠিক উত্তর: গ. ১৮৯২
বিস্তারিত উত্তর: দাদাভাই নওরোজী ১৮৯২ সালে ফিনসবারি সেন্ট্রাল আসন থেকে লিবারেল পার্টির টিকিটে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অফ কমন্স-এর সদস্য নির্বাচিত হন, যা ছিল ভারতীয়দের জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।
প্রশ্ন ১৬৫: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন কাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
ক. ভারতীয় আইনজীবী ও সাংবাদিক
খ. দেশীয় রাজা ও জমিদার
গ. ব্রিটিশ সামরিক কর্মকর্তা
ঘ. উপজাতি নেতা
সঠিক উত্তর: ক. ভারতীয় আইনজীবী ও সাংবাদিক
বিস্তারিত উত্তর: কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে প্রধানত আইনবিদ, সাংবাদিক, শিক্ষক এবং ব্যবসায়ী সহ শিক্ষিত ভারতীয় পেশাদার শ্রেণীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশ্ন ১৬৬: ১৮৯২ সালের ইন্ডিয়ান কাউন্সিলস অ্যাক্টের মাধ্যমে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছিল?
ক. সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়
খ. আইনসভায় ভারতীয়দের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করা হয় (সীমিত আকারে)
গ. সিভিল সার্ভিসে ভারতীয়দের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়
ঘ. স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বিলুপ্ত করা হয়
সঠিক উত্তর: খ. আইনসভায় ভারতীয়দের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করা হয় (সীমিত আকারে)
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৯২ সালের ইন্ডিয়ান কাউন্সিলস অ্যাক্ট আইনসভায় নির্বাচিত ভারতীয় সদস্যদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে, যদিও তাদের ক্ষমতা সীমিত ছিল এবং বাজেট নিয়ে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়।
প্রশ্ন ১৬৭: কে বিশ্বাস করতেন যে ব্রিটিশ শাসন ভারতের জন্য একটি ‘দিব্য উপহার’ (Divine Dispensation)?
ক. বাল গঙ্গাধর তিলক
খ. লালা লাজপত রায়
গ. গোপাল কৃষ্ণ গোখলে
ঘ. অরবিন্দ ঘোষ
সঠিক উত্তর: গ. গোপাল কৃষ্ণ গোখলে
বিস্তারিত উত্তর: গোপাল কৃষ্ণ গোখলের মতো প্রাথমিক নরমপন্থী নেতারা বিশ্বাস করতেন যে ব্রিটিশ শাসন ভারতের জন্য একটি ‘দিব্য উপহার’ এবং এর মাধ্যমে ভারত আধুনিকতা ও গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হতে পারবে।
প্রশ্ন ১৬৮: কংগ্রেসের প্রথম ২০ বছর (১৮৮৫-১৯০৫) কোন ধরনের নেতাদের প্রাধান্য ছিল?
ক. চরমপন্থী
খ. নরমপন্থী
গ. বিপ্লবী
ঘ. সমাজতান্ত্রিক
সঠিক উত্তর: খ. নরমপন্থী
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৮৫ থেকে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত কংগ্রেসের নেতৃত্বে ছিলেন মূলত নরমপন্থী নেতারা, যারা সাংবিধানিক উপায়ে এবং ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আনুগত্য রেখে সংস্কারের জন্য আবেদন-নিবেদন নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন।
প্রশ্ন ১৬৯: ‘ইলবার্ট বিল’ কিসের সাথে সম্পর্কিত ছিল?
ক. অস্ত্র আইন
খ. বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা
গ. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
ঘ. ভূমি রাজস্ব
সঠিক উত্তর: খ. বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা
বিস্তারিত উত্তর: ইলবার্ট বিল (১৮৮৩) ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয় অভিযুক্তদের বিচার করার ক্ষমতা প্রদানের প্রস্তাব করেছিল, যা ভারতে ব্রিটিশ এবং ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়।
প্রশ্ন ১৭০: ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রাথমিক পর্যায়কে ‘ভিক্টোরিয়ান লিবারেলিজম’-এর দ্বারা প্রভাবিত বলে কে মত দেন?
ক. বিপিন চন্দ্র
খ. আর. সি. মজুমদার
গ. সুমিত সরকার
ঘ. অনিল শীল
সঠিক উত্তর: ঘ. অনিল শীল
বিস্তারিত উত্তর: ঐতিহাসিক অনিল শীল (Anil Seal) তার ‘The Emergence of Indian Nationalism’ গ্রন্থে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রাথমিক পর্যায়কে ব্রিটিশ ‘ভিক্টোরিয়ান লিবারেলিজম’ দ্বারা প্রভাবিত বলে উল্লেখ করেছেন।
প্রশ্ন ১৭১: কোন ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহকে ‘প্রথম পরিকল্পিত কৃষক বিদ্রোহ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন?
ক. সুমিত সরকার
খ. রণজিৎ গুহ
গ. কে. কে. দত্ত
ঘ. গৌতম ভদ্র
সঠিক উত্তর: গ. কে. কে. দত্ত
বিস্তারিত উত্তর: ইতিহাসবিদ কে. কে. দত্ত তার ‘The Santhal Insurrection of 1855-57’ গ্রন্থে সাঁওতাল বিদ্রোহকে বাংলার প্রথম সুসংগঠিত এবং পরিকল্পিত কৃষক বিদ্রোহগুলির মধ্যে অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রশ্ন ১৭২: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে ‘গোঁড়া হিন্দুদের ও অসন্তুষ্ট মুসলিমদের মিলিত চেষ্টা’ কে বলেছিলেন?
ক. জেমস আউটরাম
খ. সি. আর. লরেন্স
গ. টি. আর. হোমস
ঘ. জন কে
সঠিক উত্তর: ক. জেমস আউটরাম
বিস্তারিত উত্তর: স্যার জেমস আউটরাম ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে ‘গোঁড়া হিন্দুদের ও অসন্তুষ্ট মুসলিমদের মিলিত চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন, যা ধর্মীয় উদ্দেশ্য দ্বারা চালিত ছিল।
প্রশ্ন ১৭৩: ব্রাহ্মসমাজের মূল আদর্শ কী ছিল?
ক. বহুদেববাদ ও মূর্তিপূজা
খ. একেশ্বরবাদ ও সর্বজনীন ভাতৃত্ব
গ. সতীদাহ প্রথার পুনঃপ্রবর্তন
ঘ. বর্ণপ্রথাকে সমর্থন
সঠিক উত্তর: খ. একেশ্বরবাদ ও সর্বজনীন ভাতৃত্ব
বিস্তারিত উত্তর: ব্রাহ্মসমাজের মূল আদর্শ ছিল একেশ্বরবাদ, মূর্তিপূজার বিরোধিতা, সকল ধর্মের প্রতি সহনশীলতা এবং জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে মানবজাতির মধ্যে সর্বজনীন ভাতৃত্ব স্থাপন।
প্রশ্ন ১৭৪: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কোন অধিবেশনে নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের বিভেদ দেখা যায়?
ক. ১৮৮৫ বোম্বাই অধিবেশন
খ. ১৯০৬ কলকাতা অধিবেশন
গ. ১৯০৭ সুরাট অধিবেশন
ঘ. ১৯১১ কলকাতা অধিবেশন
সঠিক উত্তর: গ. ১৯০৭ সুরাট অধিবেশন
বিস্তারিত উত্তর: ১৯০৭ সালের সুরাট অধিবেশনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে নরমপন্থী ও চরমপন্থী এই দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে প্রথম বড় ধরনের বিভেদ দেখা যায়, যার ফলস্বরূপ কংগ্রেস বিভক্ত হয়ে পড়ে।
প্রশ্ন ১৭৫: ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন এবং ল্যান্ডহোল্ডার্স সোসাইটির একীকরণের ফলস্বরূপ কোন সংগঠনটি গঠিত হয়েছিল?
ক. ভারত সভা
খ. ইস্ট ইন্ডিয়া অ্যাসোসিয়েশন
গ. ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন
ঘ. বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি
সঠিক উত্তর: গ. ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৫১ সালে ল্যান্ডহোল্ডার্স সোসাইটি এবং বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটির একীকরণের মাধ্যমে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়।
প্রশ্ন ১৭৬: সাঁওতাল বিদ্রোহের পর কোন বিধি চালু করা হয়েছিল?
ক. ফরাজি রেগুলেশন
খ. সাঁওতাল পরগনা টেনেন্সি অ্যাক্ট
গ. সাঁওতাল সিভিল কোড
ঘ. দামিন-ই-কোহ বিধি
সঠিক উত্তর: খ. সাঁওতাল পরগনা টেনেন্সি অ্যাক্ট
বিস্তারিত উত্তর: সাঁওতাল বিদ্রোহের পর ১৮৭৬ সালে সাঁওতাল পরগনা টেনেন্সি অ্যাক্ট (Santhal Parganas Tenancy Act) চালু করা হয়, যা সাঁওতালদের ভূমির অধিকার সুরক্ষিত করার এবং বহিরাগতদের (দিকু) অনুপ্রবেশ সীমিত করার চেষ্টা করে।
প্রশ্ন ১৭৭: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহে কোন ইউরোপীয় শহর থেকে সৈন্যরা দিল্লী অবরোধ করেছিল?
ক. লখনউ
খ. কানপুর
গ. পাঞ্জাব
ঘ. মীরাট
সঠিক উত্তর: গ. পাঞ্জাব
বিস্তারিত উত্তর: পাঞ্জাব এবং সীমান্তবর্তী এলাকার শিখ ও গুর্খা সৈন্যরা ব্রিটিশদের পক্ষ নিয়ে দিল্লী অবরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
প্রশ্ন ১৭৮: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে ‘নেহাত সিপাহী বিদ্রোহ’ কে বলেছিলেন?
ক. জন লরেন্স
খ. ভি. ডি. সাভারকর
গ. ডিজরায়েলি
ঘ. সুরেন্দ্রনাথ সেন
সঠিক উত্তর: ক. জন লরেন্স
বিস্তারিত উত্তর: জন লরেন্স এবং জেমস আউটরামের মতো ব্রিটিশ ঐতিহাসিক ও কর্মকর্তারা ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে নিছক একটি সিপাহী বিদ্রোহ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন, যা তাদের মতে কোন ব্যাপক জনসমর্থন পায়নি।
প্রশ্ন ১৭৯: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরকে কোথায় নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল?
ক. আন্দামান
খ. রেঙ্গুন
গ. সিঙ্গাপুর
ঘ. লন্ডন
সঠিক উত্তর: খ. রেঙ্গুন
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ দমনের পর মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (বর্তমান মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন) নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি ১৮৬২ সালে মারা যান।
প্রশ্ন ১৮০: কোন ব্রিটিশ অফিসারকে ‘ঝাঁসির রানী’র অন্যতম প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা হয়?
ক. স্যার হিউ রোজ
খ. জন নিকলসন
গ. হেনরি হ্যাভলক
ঘ. জেমস আউটরাম
সঠিক উত্তর: ক. স্যার হিউ রোজ
বিস্তারিত উত্তর: স্যার হিউ রোজ ছিলেন সেই ব্রিটিশ কমান্ডার যিনি ঝাঁসি অবরোধ ও রানী লক্ষ্মীবাইয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি রানীকে “বিদ্রোহীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সাহসী নেতা” হিসেবে বর্ণনা করেন।
প্রশ্ন ১৮১: ওয়াহাবি আন্দোলনের একজন অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক কে ছিলেন, যিনি এটিকে একটি গণআন্দোলনে পরিণত করতে সাহায্য করেছিলেন?
ক. হাজী শরিয়তউল্লাহ
খ. শাহ ওয়ালিউল্লাহ
গ. সৈয়দ আহমেদ বেরেলভি
ঘ. মীর নিসার আলী
সঠিক উত্তর: গ. সৈয়দ আহমেদ বেরেলভি
বিস্তারিত উত্তর: সৈয়দ আহমেদ বেরেলভি ছিলেন ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলনের একজন কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব, যিনি এটিকে একটি গণআন্দোলনের রূপ দিতে চেয়েছিলেন এবং ব্রিটিশ ও শিখদের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’-এর ডাক দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন ১৮২: ফরাজি আন্দোলন কাদের দ্বারা সংগঠিত একটি আর্থ-ধর্মীয় আন্দোলন ছিল?
ক. বাঙালি হিন্দু জমিদার
খ. বাঙালি মুসলমান কৃষক
গ. শিখ ব্যবসায়ী
ঘ. ব্রিটিশ নীলকর
সঠিক উত্তর: খ. বাঙালি মুসলমান কৃষক
বিস্তারিত উত্তর: ফরাজি আন্দোলন মূলত পূর্ববঙ্গের দরিদ্র বাঙালি মুসলমান কৃষকদের দ্বারা সংগঠিত একটি আর্থ-ধর্মীয় আন্দোলন ছিল, যা ধর্মীয় সংস্কারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক শোষণ থেকে মুক্তির জন্য কাজ করত।
প্রশ্ন ১৮৩: তিতুমীর কোন ধরনের করের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন?
ক. লবণ কর
খ. চুন ও দাড়ির উপর ধার্য কর
গ. বাণিজ্য কর
ঘ. ভূমি কর
সঠিক উত্তর: খ. চুন ও দাড়ির উপর ধার্য কর
বিস্তারিত উত্তর: তিতুমীর জমিদারদের দ্বারা মুসলমান কৃষকদের উপর জোরপূর্বক চাপানো চুন এবং দাড়ির উপর ধার্য করা করের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন, যা তাদের ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক জীবনে প্রভাব ফেলেছিল।
প্রশ্ন ১৮৪: ওয়াহাবি আন্দোলনের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে বিদ্রোহ শুরু করেছিলেন এমন একজন নেতা কে ছিলেন?
ক. সিধু
খ. কানু
গ. তিতুমীর
ঘ. বিরসা মুন্ডা
সঠিক উত্তর: গ. তিতুমীর
বিস্তারিত উত্তর: তিতুমীর ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলনের মূল নেতা সৈয়দ আহমেদ বেরেলভির সংস্পর্শে এসে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন এবং বারাসাত অঞ্চলে তার নিজস্ব বিদ্রোহ শুরু করেন।
প্রশ্ন ১৮৫: ফরাজি আন্দোলনের চূড়ান্ত পতন কোন দশক থেকে শুরু হয়?
ক. ১৮৬০-এর দশক
খ. ১৮৭০-এর দশক
গ. ১৮৮০-এর দশক
ঘ. ১৮৯০-এর দশক
সঠিক উত্তর: খ. ১৮৭০-এর দশক
বিস্তারিত উত্তর: দুদুমিয়াঁর মৃত্যুর পর (১৮৬২) ফরাজি আন্দোলন দুর্বল হতে শুরু করে এবং ১৮৭০-এর দশক থেকে এর চূড়ান্ত পতন ঘটে।
প্রশ্ন ১৮৬: সাঁওতাল বিদ্রোহের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
ক. লর্ড ডালহৌসি
খ. লর্ড ক্যানিং
গ. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
ঘ. লর্ড লিটন
সঠিক উত্তর: ক. লর্ড ডালহৌসি
বিস্তারিত উত্তর: সাঁওতাল বিদ্রোহ (১৮৫৫-৫৬) যখন সংঘটিত হয়, তখন লর্ড ডালহৌসি ছিলেন ভারতের গভর্নর জেনারেল।
প্রশ্ন ১৮৭: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে ‘ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ নয়’ বলে কে যুক্তি দিয়েছিলেন?
ক. বি. ডি. সাভারকর
খ. আর. সি. মজুমদার
গ. জওহরলাল নেহেরু
ঘ. মহাত্মা গান্ধী
সঠিক উত্তর: খ. আর. সি. মজুমদার
বিস্তারিত উত্তর: প্রখ্যাত ভারতীয় ঐতিহাসিক আর. সি. মজুমদার তার গবেষণায় যুক্তি দিয়েছেন যে, ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে ‘ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ’ বলা যায় না, কারণ এতে জাতীয়তাবাদের ধারণা ছিল না এবং এটি ছিল বিভিন্ন স্থানীয় স্বার্থের সংমিশ্রণ।
প্রশ্ন ১৮৮: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের সময় বেরাকপুর সেনানিবাসে কোন রেজিমেন্ট কর্মরত ছিল?
ক. ৩০তম নেটিভ ইনফ্যান্ট্রি
খ. ৩৪তম নেটিভ ইনফ্যান্ট্রি
গ. ৩৮তম নেটিভ ইনফ্যান্ট্রি
ঘ. ৪০তম নেটিভ ইনফ্যান্ট্রি
সঠিক উত্তর: খ. ৩৪তম নেটিভ ইনফ্যান্ট্রি
বিস্তারিত উত্তর: মঙ্গল পাণ্ডে ৩৪তম বেঙ্গল নেটিভ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের একজন সিপাহী ছিলেন, যিনি বেরাকপুরে বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটান।
প্রশ্ন ১৮৯: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে ‘একটি ধর্মীয় যুদ্ধ’ হিসেবে কে দেখেছিলেন?
ক. এস. এন. সেন
খ. জন লরেন্স
গ. লর্ড ক্যানিং
ঘ. কার্ল মার্কস
সঠিক উত্তর: ঘ. কার্ল মার্কস
বিস্তারিত উত্তর: কার্ল মার্কস তাঁর লেখায় ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে মূলত ব্রিটিশ অর্থনৈতিক শোষণ এবং এর ফলে সৃষ্ট ধর্মীয় ও সামাজিক অসন্তোষের ফলস্বরূপ একটি ‘ধর্মীয় যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
প্রশ্ন ১৯০: সাঁওতাল বিদ্রোহের মূল কারণগুলির মধ্যে ‘দিকু’দের ভূমিকা কী ছিল?
ক. সাঁওতালদের প্রতি সহানুভূতিশীল
খ. সাঁওতালদের ভূমির মালিকানা সুরক্ষিত করত
গ. বহিরাগত মহাজন ও জমিদার হিসেবে সাঁওতালদের শোষণ করত
ঘ. সাঁওতালদের আধুনিক শিক্ষা দিত
সঠিক উত্তর: গ. বহিরাগত মহাজন ও জমিদার হিসেবে সাঁওতালদের শোষণ করত
বিস্তারিত উত্তর: ‘দিকু’ শব্দটি সাঁওতালদের দ্বারা ব্যবহৃত হতো বহিরাগত মহাজন, ব্যবসায়ী এবং জমিদারদের বোঝাতে, যারা তাদের শোষণ করত এবং তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করত, যা বিদ্রোহের একটি প্রধান কারণ ছিল।
প্রশ্ন ১৯১: রামমোহন রায়কে ‘প্রভাত নক্ষত্র’ কে বলেছিলেন?
ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ. কেশবচন্দ্র সেন
গ. মহাত্মা গান্ধী
ঘ. রাজা দ্বিতীয় আকবর শাহ
সঠিক উত্তর: খ. কেশবচন্দ্র সেন
বিস্তারিত উত্তর: কেশবচন্দ্র সেন সহ অনেক সংস্কারক রামমোহন রায়কে ‘প্রভাত নক্ষত্র’ বা ‘ভারতের নবজাগরণের অগ্রদূত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
প্রশ্ন ১৯২: ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কোন সাহিত্যিক তাদের মুখপত্র ‘পার্থেনন’ প্রকাশ করতেন?
ক. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
খ. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর ছাত্ররা
গ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ঘ. কালীপ্রসন্ন সিংহ
সঠিক উত্তর: খ. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর ছাত্ররা
বিস্তারিত উত্তর: ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের সদস্যরা ‘পার্থেনন’ (The Parthenon) নামক একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করত, যা তাদের প্রগতিশীল চিন্তাভাবনা ও সমাজের প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তাদের মতবাদ তুলে ধরত।
প্রশ্ন ১৯৩: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর কোন রচনার জন্য ‘দয়াসাগর’ উপাধি লাভ করেন?
ক. সীতার বনবাস
খ. বর্ণপরিচয়
গ. বিধবাবিবাহ আন্দোলনে অবদান
ঘ. তার জনহিতকর কাজ ও দানশীলতার জন্য
সঠিক উত্তর: ঘ. তার জনহিতকর কাজ ও দানশীলতার জন্য
বিস্তারিত উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তার অপরিসীম দয়া, দানশীলতা এবং সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য নিরন্তর কাজ করার জন্য ‘দয়াসাগর’ নামে পরিচিত ছিলেন।
প্রশ্ন ১৯৪: রামমোহন রায় কোন আন্তর্জাতিক ঘটনার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন?
ক. আমেরিকান বিপ্লব
খ. ফরাসি বিপ্লব
গ. রুশ বিপ্লব
ঘ. উপরের সবগুলি
সঠিক উত্তর: খ. ফরাসি বিপ্লব
বিস্তারিত উত্তর: রাজা রামমোহন রায় ফরাসি বিপ্লবের (১৭৮৯) স্বাধীনতা, সাম্য ও মৈত্রীর আদর্শ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং তিনি এই মূল্যবোধগুলিকে ভারতীয় সমাজে প্রয়োগ করতে চেয়েছিলেন।
প্রশ্ন ১৯৫: বিদ্যাসাগরের ‘শকুন্তলা’ গ্রন্থটি কোন সাহিত্যকর্মের অনুবাদ?
ক. রামায়ণ
খ. মহাভারত
গ. কালিদাসের অভিজ্ঞানশকুন্তলম্
ঘ. মেঘদূত
সঠিক উত্তর: গ. কালিদাসের অভিজ্ঞানশকুন্তলম্
বিস্তারিত উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৫৪ সালে কালিদাসের বিখ্যাত সংস্কৃত নাটক ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম্’-এর বঙ্গানুবাদ করেন, যা ‘শকুন্তলা’ নামে পরিচিত।
প্রশ্ন ১৯৬: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মহিলা স্নাতক (Graduate) যিনি অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন?
ক. সরোজিনী নাইডু
খ. অ্যানি বেসান্ত
গ. কদম্বিনী গাঙ্গুলি
ঘ. নেলী সেনগুপ্তা
সঠিক উত্তর: গ. কদম্বিনী গাঙ্গুলি
বিস্তারিত উত্তর: ১৮৯০ সালের কলকাতা অধিবেশনে ডঃ কদম্বিনী গাঙ্গুলি, যিনি ছিলেন ভারতের প্রথম দুই মহিলা স্নাতকদের একজন, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন ১৯৭: প্রাথমিক কংগ্রেসের নেতারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মধ্যে কী ধরনের শাসনের দাবি করতেন?
ক. প্রজাতন্ত্র
খ. স্বায়ত্তশাসন (Self-Government)
গ. সম্পূর্ণ স্বাধীনতা
ঘ. সামরিক শাসন
সঠিক উত্তর: খ. স্বায়ত্তশাসন (Self-Government)
বিস্তারিত উত্তর: প্রাথমিক কংগ্রেসের নরমপন্থী নেতারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনেই কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো ঔপনিবেশিক স্বায়ত্তশাসনের (Self-Government/Dominion Status) দাবি করতেন, যেখানে অভ্যন্তরীণ শাসন ক্ষমতা ভারতীয়দের হাতে থাকবে।
প্রশ্ন ১৯৮: কোন প্রাক্-কংগ্রেস সংগঠনটি বোম্বাই শহরে গঠিত হয়েছিল?
ক. ভারত সভা
খ. পুনা সার্বজনিক সভা
গ. বোম্বাই প্রেসিডেন্সি অ্যাসোসিয়েশন
ঘ. মাদ্রাজ মহাজন সভা
সঠিক উত্তর: গ. বোম্বাই প্রেসিডেন্সি অ্যাসোসিয়েশন
বিস্তারিত উত্তর: বোম্বাই প্রেসিডেন্সি অ্যাসোসিয়েশন ১৮৮৫ সালে ফিরোজশাহ মেহতা, বদরুদ্দিন তৈয়বজি এবং কে. টি. তেলাং-এর মতো নেতাদের দ্বারা বোম্বাইয়ে গঠিত হয়েছিল।
প্রশ্ন ১৯৯: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় সৈন্যদের মধ্যে কী ধরনের নীতি গ্রহণ করে?
ক. ভারতীয় সৈন্যদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা
খ. ইউরোপীয় সৈন্যদের তুলনায় ভারতীয় সৈন্যদের সংখ্যা কমানো
গ. বর্ণ, ধর্ম ও অঞ্চলভিত্তিক রেজিমেন্ট গঠন করা
ঘ. খ ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর: ঘ. খ ও গ উভয়ই
বিস্তারিত উত্তর: বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় সৈন্যদের সংখ্যা ইউরোপীয় সৈন্যদের তুলনায় কমিয়ে দেয় এবং ‘ভাগ করো ও শাসন করো’ নীতির অংশ হিসেবে বর্ণ, ধর্ম ও অঞ্চলভিত্তিক রেজিমেন্ট গঠন করে যাতে সৈন্যদের মধ্যে ঐক্য গড়ে না ওঠে।
প্রশ্ন ২০০: ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশে ‘লর্ড লিটনের প্রতিক্রিয়াশীল নীতি’গুলি কীভাবে সাহায্য করেছিল?
ক. ভারতীয়দের মধ্যে ব্রিটিশ শাসনের প্রতি আস্থা বাড়িয়েছিল
খ. ঐক্যবদ্ধ ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব তৈরি করেছিল
গ. ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি করেছিল
ঘ. দেশীয় শিল্পকে উৎসাহিত করেছিল
সঠিক উত্তর: খ. ঐক্যবদ্ধ ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব তৈরি করেছিল
বিস্তারিত উত্তর: লর্ড লিটনের প্রতিক্রিয়াশীল নীতি যেমন – দেশীয় অস্ত্র আইন (Arms Act), সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ (Vernacular Press Act) এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ভারতীয়দের প্রবেশের বয়স কমানো, ভারতীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করে, যা তাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে উৎসাহিত করে।