বাংলার ইতিহাস: ঔপনিবেশিক শাসন (২০০টি MCQ)
অধ্যায় ১: সিরাজ-উদ-দৌলা ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সংঘাত (প্রশ্ন ১-৪০)
প্রশ্ন ১: সিরাজ-উদ-দৌলা বাংলার সিংহাসনে বসেন কত সালে?
- (ক) ১৭৫৭ সালে
- (খ) ১৭৫৬ সালে
- (গ) ১৭৫৫ সালে
- (ঘ) ১৭৫০ সালে
সঠিক উত্তর: (খ) ১৭৫৬ সালে
ব্যাখ্যা: নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পর তাঁর দৌহিত্র সিরাজ-উদ-দৌলা ১৭৫৬ সালের ১০ এপ্রিল বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন।
প্রশ্ন ২: সিরাজের সঙ্গে ইংরেজদের বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ কী ছিল?
- (ক) ‘দস্তক’-এর অপব্যবহার
- (খ) ফরাসিদের সঙ্গে সিরাজের মিত্রতা
- (গ) সিরাজের ব্যক্তিগত দুর্বলতা
- (ঘ) मराठा আক্রমণ
সঠিক উত্তর: (ক) ‘দস্তক’-এর অপব্যবহার
ব্যাখ্যা: ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাণিজ্যিক শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার জন্য ‘দস্তক’ নামক ছাড়পত্রের ব্যাপক অপব্যবহার করত। কোম্পানির কর্মচারীরা নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যবসার ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করত, যার ফলে নবাব বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতেন।
প্রশ্ন ৩: নবাবের অনুমতি ছাড়াই ইংরেজরা কোন দুর্গ নির্মাণ শুরু করেছিল?
- (ক) ফোর্ট সেন্ট জর্জ
- (খ) ফোর্ট উইলিয়াম
- (গ) ফোর্ট সেন্ট ডেভিড
- (ঘ) হুগলি দুর্গ
সঠিক উত্তর: (খ) ফোর্ট উইলিয়াম
ব্যাখ্যা: ইংরেজরা নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার অনুমতি না নিয়েই কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গটিকে সুদৃঢ় ও সংস্কার করতে শুরু করে, যা নবাবের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করার সামিল ছিল।
প্রশ্ন ৪: ‘অন্ধকূপ হত্যা’ (Black Hole Tragedy) ঘটনাটি কোথায় ঘটেছিল বলে ইংরেজরা দাবি করে?
- (ক) মুর্শিদাবাদ
- (খ) কাশিমবাজার
- (গ) কলকাতা
- (ঘ) হুগলি
সঠিক উত্তর: (গ) কলকাতা
ব্যাখ্যা: ইংরেজ ঐতিহাসিক হলওয়েলের বর্ণনা অনুযায়ী, সিরাজ কলকাতা দখলের পর ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে ফোর্ট উইলিয়ামের একটি ছোট ঘরে আটকে রাখেন, যেখানে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ১২৩ জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
প্রশ্ন ৫: সিরাজ কাকে কলকাতা আক্রমণের সময় ধনসম্পদসহ আশ্রয় দেওয়ার জন্য ইংরেজদের ওপর ক্ষুব্ধ হন?
- (ক) জগৎ শেঠ
- (খ) কৃষ্ণদাস
- (গ) রায়দুর্লভ
- (ঘ) উমিচাঁদ
সঠিক উত্তর: (খ) কৃষ্ণদাস
ব্যাখ্যা: ঢাকার দেওয়ান রাজবল্লভের পুত্র কৃষ্ণদাস প্রচুর ধনসম্পদ নিয়ে পালিয়ে গিয়ে কলকাতায় ইংরেজদের কাছে আশ্রয় নেন। সিরাজ তাকে ফেরত পাঠাতে বললে ইংরেজরা তা প্রত্যাখ্যান করে, যা নবাবকে ক্রুদ্ধ করে তোলে।
প্রশ্ন ৬: পলাশীর যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়?
- (ক) ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন
- (খ) ১৭৫৬ সালের ২৩ জুন
- (গ) ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর
- (ঘ) ১৭৫৭ সালের ২৩ জুলাই
সঠিক উত্তর: (ক) ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন
ব্যাখ্যা: পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা এবং রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর মধ্যে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা ভারতের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা।
প্রশ্ন ৭: পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পক্ষে প্রধান বিশ্বাসঘাতক কে ছিলেন?
- (ক) মোহনলাল
- (খ) মীরমদন
- (গ) মীরজাফর
- (ঘ) সিনফ্রে
সঠিক উত্তর: (গ) মীরজাফর
ব্যাখ্যা: নবাবের প্রধান সেনাপতি মীরজাফর আলী খান ইংরেজদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে এবং যুদ্ধের ময়দানে তার অধীনস্থ সৈন্যদের নিষ্ক্রিয় রেখে নবাবের পরাজয় নিশ্চিত করেন।
প্রশ্ন ৮: পলাশীর যুদ্ধে নবাবের কোন সেনাপতি বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করে মারা যান?
- (ক) মীরজাফর
- (খ) রায়দুর্লভ
- (গ) মীরমদন
- (ঘ) জগৎ শেঠ
সঠিক উত্তর: (গ) মীরমদন
ব্যাখ্যা: মীরমদন এবং মোহনলাল ছিলেন নবাবের বিশ্বস্ত সেনাপতি। পলাশীর যুদ্ধে মীরমদন বীরের মতো যুদ্ধ করতে করতে নিহত হন।
প্রশ্ন ৯: আলিনগরের সন্ধি কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?
- (ক) সিরাজ-উদ-দৌলা ও ফরাসি
- (খ) সিরাজ-উদ-দৌলা ও রবার্ট ক্লাইভ
- (গ) মীরজাফর ও রবার্ট ক্লাইভ
- (ঘ) মীরকাশিম ও ইংরেজ
সঠিক উত্তর: (খ) সিরাজ-উদ-দৌলা ও রবার্ট ক্লাইভ
ব্যাখ্যা: কলকাতা পুনর্দখলের পর রবার্ট ক্লাইভ নবাবকে একটি অপমানজনক চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। ১৭৫৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি এই সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। সিরাজ কলকাতার নতুন নাম দিয়েছিলেন ‘আলিনগর’।
প্রশ্ন ১০: পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলার নবাব কে হন?
- (ক) মীরকাশিম
- (খ) সিরাজ-উদ-দৌলা
- (গ) মীরজাফর
- (ঘ) নাজিম-উদ-দৌলা
সঠিক উত্তর: (গ) মীরজাফর
ব্যাখ্যা: ষড়যন্ত্র অনুযায়ী, পলাশীর যুদ্ধে জয়ের পর ইংরেজরা তাদের হাতের পুতুল হিসেবে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসায়।
প্রশ্ন ১১: সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত একজন влияশালী बैंकर কে ছিলেন?
- (ক) উমিচাঁদ
- (খ) রাজবল্লভ
- (গ) জগৎ শেঠ
- (ঘ) নন্দকুমার
সঠিক উত্তর: (গ) জগৎ শেঠ
ব্যাখ্যা: জগৎ শেঠ পরিবার ছিল তৎকালীন বাংলার সবচেয়ে ধনী মহাজন ও ব্যাংকার। তারা সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং ইংরেজদের আর্থিক সহায়তা দেয়।
প্রশ্ন ১২: রবার্ট ক্লাইভ কোন ষড়যন্ত্রকারীকে জাল দলিলের মাধ্যমে প্রতারণা করেন?
- (ক) মীরজাফর
- (খ) উমিচাঁদ
- (গ) রায়দুর্লভ
- (ঘ) জগৎ শেঠ
সঠিক উত্তর: (খ) উমিচাঁদ
ব্যাখ্যা: ব্যবসায়ী উমিচাঁদ ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিলে ক্লাইভ তাকে শান্ত করার জন্য একটি জাল দলিল তৈরি করেন, যেখানে তাকে বিপুল অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু আসল দলিলে তার নাম ছিল না।
প্রশ্ন ১৩: ‘দস্তক’ কী?
- (ক) এক ধরনের কর
- (খ) নবাবের দেওয়া উপাধি
- (গ) বিনাশুল্কে বাণিজ্যের ছাড়পত্র
- (ঘ) একটি সামরিক পদ
সঠিক উত্তর: (গ) বিনাশুল্কে বাণিজ্যের ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা: মুঘল সম্রাট ফারুকশিয়রের ফরমান অনুযায়ী, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় বিনাশুল্কে বাণিজ্য করার জন্য ‘দস্তক’ নামক ছাড়পত্র ব্যবহারের অধিকার পায়।
প্রশ্ন ১৪: সিরাজ-উদ-দৌলার একজন বিশ্বস্ত ফরাসি সেনাপতির নাম কী?
- (ক) ডুপ্লে
- (খ) লালি
- (গ) সিনফ্রে (M. St. Frais)
- (ঘ) বুসি
সঠিক উত্তর: (গ) সিনফ্রে (M. St. Frais)
ব্যাখ্যা: পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পক্ষে একদল ফরাসি সৈন্য যুদ্ধ করেছিল, যাদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সিনফ্রে। তারা শেষ পর্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে যুদ্ধ করে।
প্রশ্ন ১৫: সিরাজের রাজধানী কোথায় ছিল?
- (ক) ঢাকা
- (খ) কলকাতা
- (গ) মুর্শিদাবাদ
- (ঘ) পাটনা
সঠিক উত্তর: (গ) মুর্শিদাবাদ
ব্যাখ্যা: মুর্শিদকুলি খানের সময় থেকেই মুর্শিদাবাদ বাংলার নবাবদের রাজধানী ছিল। সিরাজ-উদ-দৌলাও সেখান থেকেই শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
প্রশ্ন ১৬: সিরাজের মাসি বা খালা কে ছিলেন, যিনি সিংহাসনের অন্যতম দাবিদার ছিলেন?
- (ক) আমিনা বেগম
- (খ) লুৎফুন্নিসা বেগম
- (গ) ঘসেটি বেগম
- (ঘ) আলীবর্দী বেগমের স্ত্রী
সঠিক উত্তর: (গ) ঘসেটি বেগম
ব্যাখ্যা: আলীবর্দী খানের জ্যেষ্ঠ কন্যা ঘসেটি বেগম নিঃসন্তান ছিলেন এবং তিনি শওকত জঙ্গকে সমর্থন করতেন। সিরাজের সিংহাসন আরোহণের তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান বিরোধী।
প্রশ্ন ১৭: পলাশীর যুদ্ধের সময় ইংরেজদের প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
- (ক) লর্ড কর্নওয়ালিস
- (খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
- (গ) রবার্ট ক্লাইভ
- (ঘ) হেক্টর মুনরো
সঠিক উত্তর: (গ) রবার্ট ক্লাইভ
ব্যাখ্যা: কর্নেল রবার্ট ক্লাইভ মাদ্রাজ থেকে সৈন্য নিয়ে এসে কলকাতা পুনর্দখল করেন এবং পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীকে নেতৃত্ব দেন। তার কূটনীতি ও সামরিক দক্ষতা ইংরেজদের জয়ে решаক ভূমিকা পালন করে।
প্রশ্ন ১৮: আলীবর্দী খান কাদেরকে ‘মধুচক্র’ বা মৌচাকের সাথে তুলনা করেছিলেন?
- (ক) মারাঠাদের
- (খ) ফরাসিদের
- (গ) ওলন্দাজদের
- (ঘ) ইংরেজদের
সঠিক উত্তর: (ঘ) ইংরেজদের
ব্যাখ্যা: মৃত্যুর আগে আলীবর্দী খান সিরাজকে উপদেশ দিয়েছিলেন যে, ইউরোপীয় বণিক, বিশেষ করে ইংরেজরা হলো মৌমাছির মতো। তাদের না ঘাঁটালে তারা মধু দেবে (বাণিজ্যের মাধ্যমে রাজস্ব), কিন্তু ঘাঁটালে হুল ফুটিয়ে সর্বনাশ করবে।
প্রশ্ন ১৯: পলাশীর যুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ কী ছিল?
- (ক) দস্তকের অপব্যবহার
- (খ) ইংরেজদের চন্দননগর আক্রমণ
- (গ) কৃষ্ণদাসকে আশ্রয়দান
- (ঘ) ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মাণ
সঠিক উত্তর: (খ) ইংরেজদের চন্দননগর আক্রমণ
ব্যাখ্যা: আলিনগরের সন্ধি সত্ত্বেও ক্লাইভ নবাবের নিষেধ অমান্য করে বাংলায় ফরাসিদের ঘাঁটি চন্দননগর আক্রমণ ও দখল করে নেন (মার্চ, ১৭৫৭)। এই ঘটনা নবাবকে চূড়ান্তভাবে ক্রুদ্ধ করে এবং যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করে।
প্রশ্ন ২০: সিরাজ-উদ-দৌলাকে কে হত্যা করে?
- (ক) রবার্ট ক্লাইভ
- (খ) মীরজাফরের পুত্র মিরন
- (গ) মোহাম্মদী বেগ
- (ঘ) রায়দুর্লভ
সঠিক উত্তর: (গ) মোহাম্মদী বেগ
ব্যাখ্যা: পলাশীর যুদ্ধের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় সিরাজ ধরা পড়েন। মীরজাফরের পুত্র মিরনের আদেশে মোহাম্মদী বেগ নামক এক ঘাতক তাকে হত্যা করে।
প্রশ্ন ২১: সিরাজের কলকাতা আক্রমণের পর ইংরেজরা কোথায় আশ্রয় নেয়?
- (ক) চন্দননগরে
- (খ) ফলতা দ্বীপে
- (গ) মাদ্রাজে
- (ঘ) কাশিমবাজারে
সঠিক উত্তর: (খ) ফলতা দ্বীপে
ব্যাখ্যা: ১৭৫৬ সালে সিরাজ কলকাতা দখল করলে গভর্নর ড্রেক এবং অন্যান্য ইংরেজ কর্মচারীরা পালিয়ে হুগলি নদীর মোহনার কাছে ফলতা দ্বীপে আশ্রয় গ্রহণ করেন।
প্রশ্ন ২২: ‘Clive’s Jackal’ বা ‘ক্লাইভের শেয়াল’ কাকে বলা হতো?
- (ক) মীরকাশিম
- (খ) জগৎ শেঠ
- (গ) মীরজাফর
- (ঘ) নন্দকুমার
সঠিক উত্তর: (গ) মীরজাফর
ব্যাখ্যা: বিশ্বাসঘাতকতার জন্য এবং ক্লাইভের হাতের পুতুল হিসেবে কাজ করার কারণে মীরজাফরকে ব্যঙ্গ করে ‘ক্লাইভের শেয়াল’ বলা হতো।
প্রশ্ন ২৩: পলাশীর যুদ্ধকে ‘একটি ষড়যন্ত্র, যুদ্ধ নয়’ – কে বলেছেন?
- (ক) যদুনাথ সরকার
- (খ) ঐতিহাসিক K. M. Panikkar
- (গ) রমেশচন্দ্র মজুমদার
- (ঘ) বিপান চন্দ্র
সঠিক উত্তর: (খ) ঐতিহাসিক K. M. Panikkar
ব্যাখ্যা: ঐতিহাসিক কে. এম. পানিক্কর পলাশীর ঘটনাকে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ না বলে একটি ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার ফসল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যেখানে যুদ্ধ শুরুর আগেই ফলাফল নির্ধারিত ছিল।
প্রশ্ন ২৪: ফোর্ট উইলিয়ামের গভর্নর কে ছিলেন যখন সিরাজ কলকাতা আক্রমণ করেন?
- (ক) রবার্ট ক্লাইভ
- (খ) রজার ড্রেক
- (গ) ওয়াটসন
- (ঘ) হলওয়েল
সঠিক উত্তর: (খ) রজার ড্রেক
ব্যাখ্যা: সিরাজের কলকাতা আক্রমণের সময় রজার ড্রেক ছিলেন কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামের গভর্নর। নবাবের আক্রমণের মুখে তিনি পালিয়ে যান।
প্রশ্ন ২৫: সিরাজের কোন আত্মীয় পূর্ণিয়ার শাসনকর্তা ছিলেন এবং সিংহাসনের দাবিদার ছিলেন?
- (ক) মীরজাফর
- (খ) শওকত জঙ্গ
- (গ) আলীবর্দী খান
- (ঘ) কৃষ্ণদাস
সঠিক উত্তর: (খ) শওকত জঙ্গ
ব্যাখ্যা: সিরাজের খালাতো ভাই শওকত জঙ্গ পূর্ণিয়ার শাসক ছিলেন এবং ঘসেটি বেগমের সমর্থনে তিনিও বাংলার সিংহাসন দাবি করেছিলেন। সিরাজ তাকে যুদ্ধে পরাজিত ও হত্যা করেন।
প্রশ্ন ২৬: কাশিমবাজার কুঠি দখলের ঘটনা সিরাজের কোন পদক্ষেপের অংশ ছিল?
- (ক) পলাশীর যুদ্ধের প্রস্তুতি
- (খ) কলকাতা আক্রমণের পূর্বে
- (গ) আলিনগরের সন্ধির পর
- (ঘ) বক্সারের যুদ্ধের প্রস্তুতি
সঠিক উত্তর: (খ) কলকাতা আক্রমণের পূর্বে
ব্যাখ্যা: ইংরেজদের ঔদ্ধত্যে ক্ষুব্ধ হয়ে সিরাজ প্রথমে মুর্শিদাবাদের কাছে অবস্থিত তাদের কাশিমবাজার কুঠি আক্রমণ ও দখল করেন (জুন, ১৭৫৬)। এরপর তিনি কলকাতার দিকে অগ্রসর হন।
প্রশ্ন ২৭: আলিনগরের সন্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত কী ছিল?
- (ক) নবাব ইংরেজদের ক্ষতিপূরণ দেবেন
- (খ) ইংরেজরা বাংলায় দুর্গ নির্মাণ করতে পারবে
- (গ) ইংরেজরা বাংলায় নিজেদের মুদ্রা চালু করতে পারবে
- (ঘ) উপরের সবকটি
সঠিক উত্তর: (ঘ) উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা: আলিনগরের সন্ধি ছিল সিরাজের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক। এই সন্ধির শর্ত অনুযায়ী, ইংরেজরা কলকাতা পুনর্দখলের জন্য ক্ষতিপূরণ পায়, দুর্গ নির্মাণের অধিকার পায় এবং নিজেদের মুদ্রা প্রচলনের অধিকারও লাভ করে।
প্রশ্ন ২৮: পলাশীর যুদ্ধের পর ইংরেজরা কোন অঞ্চলের জমিদারি লাভ করে?
- (ক) সমগ্র বাংলা
- (খ) ২৪ পরগনা
- (গ) বর্ধমান ও মেদিনীপুর
- (ঘ) কলকাতা, সুতানুটি ও গোবিন্দপুর
সঠিক উত্তর: (খ) ২৪ পরগনা
ব্যাখ্যা: মীরজাফর নবাব হওয়ার পুরস্কার স্বরূপ ইংরেজ কোম্পানিকে কলকাতা থেকে দক্ষিণে কুলপি পর্যন্ত অঞ্চলের জমিদারি দান করেন, যা ২৪ পরগনা নামে পরিচিত হয়।
প্রশ্ন ২৯: পলাশীর যুদ্ধকে ‘Battle of Plassey’ না বলে ‘Betrayal of Plassey’ বলা উচিত – এই মতটি কাদের?
- (ক) ব্রিটিশ ঐতিহাসিকদের
- (খ) ফরাসি ঐতিহাসিকদের
- (গ) আধুনিক ভারতীয় জাতীয়তাবাদী ঐতিহাসিকদের
- (ঘ) মুঘল दरबारের লেখকদের
সঠিক উত্তর: (গ) আধুনিক ভারতীয় জাতীয়তাবাদী ঐতিহাসিকদের
ব্যাখ্যা: অনেক ভারতীয় ঐতিহাসিক মনে করেন যে, এটি কোনো সম্মুখ সমর ছিল না, বরং এটি ছিল এক বিরাট বিশ্বাসঘাতকতা। তাই একে ‘পলাশীর বিশ্বাসঘাতকতা’ বলাই শ্রেয়।
প্রশ্ন ৩০: সিরাজের প্রতি অনুগত থেকে কোন बैंकर ষড়যন্ত্রে যোগ দিতে অস্বীকার করেন?
- (ক) জগৎ শেঠ
- (খ) উমিচাঁদ
- (গ) আমিরচাঁদ
- (ঘ) মোহনলাল
সঠিক উত্তর: (ঘ) মোহনলাল
ব্যাখ্যা: মোহনলাল ছিলেন কাশ্মীরি পণ্ডিত এবং নবাবের অত্যন্ত বিশ্বস্ত দেওয়ান ও সেনাপতি। তিনি बैंकर না হলেও, প্রশাসনিক ও সামরিক ক্ষেত্রে নবাবের অন্যতম প্রধান সমর্থক ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত অনুগত থাকেন। প্রশ্নটির গঠনে কিছুটা বিভ্রান্তি থাকলেও, প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে তিনিই সঠিক।
প্রশ্ন ৩১: ইংরেজদের বিরুদ্ধে সিরাজের প্রাথমিক সাফল্যের কারণ কী ছিল?
- (ক) ফরাসিদের সাহায্য
- (খ) উন্নত রণকৌশল
- (গ) বিশাল সৈন্যবাহিনী এবং দ্রুত পদক্ষেপ
- (ঘ) ইংরেজদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল
সঠিক উত্তর: (গ) বিশাল সৈন্যবাহিনী এবং দ্রুত পদক্ষেপ
ব্যাখ্যা: সিরাজ সিংহাসনে বসেই দ্রুত ইংরেজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। তার বিশাল বাহিনী এবং অতর্কিত আক্রমণের জন্য ইংরেজরা প্রস্তুত ছিল না, তাই কাশিমবাজার ও কলকাতা দখল করা তার পক্ষে সহজ হয়েছিল।
প্রশ্ন ৩২: সিরাজের পতনের পর বাংলায় কোন যুগের সূচনা হয়?
- (ক) স্বাধীন সুলতানি যুগ
- (খ) মুঘল শাসনের পুনঃপ্রতিষ্ঠা
- (গ) ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা বা ‘কোম্পানি রাজ’
- (ঘ) মারাঠা আধিপত্য
সঠিক উত্তর: (গ) ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা বা ‘কোম্পানি রাজ’
ব্যাখ্যা: পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত্তি স্থাপন করে।
প্রশ্ন ৩৩: হলওয়েল কে ছিলেন?
- (ক) একজন ব্রিটিশ সেনাপতি
- (খ) ফোর্ট উইলিয়ামের একজন কর্মচারী ও অন্ধকূপ হত্যার প্রচারক
- (গ) একজন ফরাসি দূত
- (ঘ) বাংলার গভর্নর
সঠিক উত্তর: (খ) ফোর্ট উইলিয়ামের একজন কর্মচারী ও অন্ধকূপ হত্যার প্রচারক
ব্যাখ্যা: জন জেফানিয়াহ হলওয়েল ছিলেন ফোর্ট উইলিয়ামের একজন কাউন্সিলর এবং সার্জন। তিনিই ‘অন্ধকূপ হত্যা’র বিবরণ লিখে ইংল্যান্ডে পাঠান এবং সিরাজের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করতে সাহায্য করেন।
প্রশ্ন ৩৪: “A transaction, not a battle” – পলাশীর যুদ্ধ সম্পর্কে এই উক্তিটি কার?
- (ক) অ্যাডমিরাল ওয়াটসন
- (খ) রবার্ট ক্লাইভ
- (গ) রজার ড্রেক
- (ঘ) পার্সিভাল স্পিয়ার
সঠিক উত্তর: (ক) অ্যাডমিরাল ওয়াটসন
ব্যাখ্যা: ষড়যন্ত্রের গভীরতা দেখে নৌ-সেনাপতি অ্যাডমিরাল ওয়াটসন ক্লাইভের তৈরি করা জাল দলিলে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেন এবং পুরো ঘটনাটিকে একটি যুদ্ধ না বলে একটি ‘লেনদেন’ বা ‘সওদা’ (transaction) হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রশ্ন ৩৫: সিরাজ-উদ-দৌলার স্ত্রীর নাম কী ছিল?
- (ক) ঘসেটি বেগম
- (খ) আমিনা বেগম
- (গ) লুৎফুন্নিসা বেগম
- (ঘ) জেব-উন-নিসা
সঠিক উত্তর: (গ) লুৎফুন্নিসা বেগম
ব্যাখ্যা: লুৎফুন্নিসা বেগম ছিলেন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার বিশ্বস্ত ও অনুগত স্ত্রী। সিরাজের মৃত্যুর পরেও তিনি তার প্রতি অনুগত ছিলেন।
প্রশ্ন ৩৬: পলাশীর যুদ্ধক্ষেত্রটি কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
- (ক) গঙ্গা
- (খ) যমুনা
- (গ) ভাগীরথী
- (ঘ) দামোদর
সঠিক উত্তর: (গ) ভাগীরথী
ব্যাখ্যা: পলাশীর আম্রকানন মুর্শিদাবাদ থেকে প্রায় ২২ মাইল দক্ষিণে ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত।
প্রশ্ন ৩৭: নবাবী আমলে বাংলার ‘রাজকোষ’ বা ‘টাকশাল’ কাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল?
- (ক) নবাবের
- (খ) দেওয়ানের
- (গ) জগৎ শেঠ পরিবারের
- (ঘ) ইংরেজদের
সঠিক উত্তর: (গ) জগৎ শেঠ পরিবারের
ব্যাখ্যা: জগৎ শেঠরা ছিলেন বংশানুক্রমিক ব্যাংকার, যারা বাংলার নবাবদের রাজকোষ ও টাকশাল নিয়ন্ত্রণ করতেন। তাদের সমর্থন যে কোনো শাসকের জন্য অপরিহার্য ছিল।
প্রশ্ন ৩৮: রবার্ট ক্লাইভ কোন কোম্পানির কর্মচারী ছিলেন?
- (ক) ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
- (খ) ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
- (গ) ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
- (ঘ) পর্তুগিজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
সঠিক উত্তর: (গ) ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
ব্যাখ্যা: রবার্ট ক্লাইভ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে একজন কেরানি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং নিজ যোগ্যতায় বাংলার গভর্নর পদে উন্নীত হন।
প্রশ্ন ৩৯: পলাশীর যুদ্ধের পর ইংরেজরা যে বিপুল অর্থ লাভ করে, তাকে কী বলা হয়?
- (ক) পলাশীর লুন্ঠন (Plunder of Plassey)
- (খ) বক্সারের কর
- (গ) দেওয়ানি লাভ
- (ঘ) नजরানা
সঠিক উত্তর: (ক) পলাশীর লুন্ঠন (Plunder of Plassey)
ব্যাখ্যা: পলাশীর যুদ্ধের পর মীরজাফরের কাছ থেকে ইংরেজ কোম্পানি ও তার কর্মচারীরা ক্ষতিপূরণ, পুরস্কার ও উপঢৌকন হিসেবে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ আদায় করে, তাকে ঐতিহাসিকরা ‘পলাশীর লুন্ঠন’ বলে অভিহিত করেছেন।
প্রশ্ন ৪০: सिराजের পতনের মূল কারণ কী ছিল?
- (ক) সামরিক দুর্বলতা
- (খ) অর্থনৈতিক সংকট
- (গ) অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতা
- (ঘ) ফরাসিদের অসহযোগিতা
সঠিক উত্তর: (গ) অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতা
ব্যাখ্যা: সিরাজের সামরিক শক্তি ইংরেজদের চেয়ে কম ছিল না। কিন্তু তার সেনাপতি মীরজাফর, অমাত্য রায়দুর্লভ এবং ধনী জগৎ শেঠদের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিশ্বাসঘাতকতাই তার পতনের মূল কারণ ছিল।
অধ্যায় ২: মীর কাশিম, ব্যক্তিগত বাণিজ্য এবং সংঘাত (প্রশ্ন ৪১-৮০)
প্রশ্ন ৪১: মীরজাফরকে সরিয়ে মীরকাশিমকে বাংলার নবাব করা হয় কত সালে?
- (ক) ১৭৫৭ সালে
- (খ) ১৭৬০ সালে
- (গ) ১৭৬৪ সালে
- (ঘ) ১৭৬৫ সালে
সঠিক উত্তর: (খ) ১৭৬০ সালে
ব্যাখ্যা: মীরজাফর ইংরেজদের ক্রমবর্ধমান আর্থিক দাবি মেটাতে ব্যর্থ হলে এবং ওলন্দাজদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করলে, ইংরেজরা তাকে সরিয়ে তার জামাতা মীরকাশিমকে নবাব পদে বসায়। এই ঘটনাকে ‘১৭৬০ সালের বিপ্লব’ বলা হয়।
প্রশ্ন ৪২: মীরকাশিম তার রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে কোথায় স্থানান্তর করেন?
- (ক) পাটনা
- (খ) কলকাতা
- (গ) মুঙ্গের
- (ঘ) ঢাকা
সঠিক উত্তর: (গ) মুঙ্গের
ব্যাখ্যা: মীরকাশিম ইংরেজদের প্রভাব ও ষড়যন্ত্র থেকে দূরে থেকে স্বাধীনভাবে শাসনকার্য পরিচালনার জন্য তার রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে বিহারের মুঙ্গেরে স্থানান্তর করেন।
প্রশ্ন ৪৩: মীরকাশিমের সঙ্গে ইংরেজদের বিরোধের প্রধান কারণ কী ছিল?
- (ক) রাজধানী স্থানান্তর
- (খ) সামরিক সংস্কার
- (গ) দস্তকের অপব্যবহার ও শুল্ক সংক্রান্ত বিবাদ
- (ঘ) ফরাসিদের সঙ্গে মিত্রতা
সঠিক উত্তর: (গ) দস্তকের অপব্যবহার ও শুল্ক সংক্রান্ত বিবাদ
ব্যাখ্যা: ইংরেজ কর্মচারীরা ব্যক্তিগত বাণিজ্যে ‘দস্তক’ ব্যবহার করে শুল্ক ফাঁকি দিচ্ছিল, ফলে দেশীয় বণিকরা অসম প্রতিযোগিতার শিকার হচ্ছিল এবং নবাবের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছিল। মীরকাশিম এর বিরোধিতা করলে সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন ৪৪: বক্সারের যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়?
- (ক) ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন
- (খ) ১৭৬০ সালের ২২ জানুয়ারি
- (গ) ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর
- (ঘ) ১৭৬৫ সালের ১২ আগস্ট
সঠিক উত্তর: (গ) ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর
ব্যাখ্যা: বক্সারের প্রান্তরে মীরকাশিমের সম্মিলিত বাহিনীর সঙ্গে ইংরেজদের এই যুদ্ধ হয়, যা পলাশীর যুদ্ধের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
প্রশ্ন ৪৫: বক্সারের যুদ্ধে মীরকাশিমের সঙ্গে কোন দুই শক্তি জোট বেঁধেছিল?
- (ক) মারাঠা ও শিখ
- (খ) অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ-দৌলা ও মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম
- (গ) হায়দ্রাবাদের নিজাম ও ফরাসি
- (ঘ) রোহিলা ও আফগান
সঠিক উত্তর: (খ) অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ-দৌলা ও মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম
ব্যাখ্যা: ইংরেজদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী জোট গঠনের জন্য মীরকাশিম অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ-দৌলা এবং তৎকালীন মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সঙ্গে মিত্রতা করেন।
প্রশ্ন ৪৬: বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর নেতৃত্ব কে দেন?
- (ক) রবার্ট ক্লাইভ
- (খ) হেক্টর মুনরো
- (গ) ওয়ারেন হেস্টিংস
- (ঘ) লর্ড কর্নওয়ালিস
সঠিক উত্তর: (খ) হেক্টর মুনরো
ব্যাখ্যা: মেজর হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে সুশৃঙ্খল ইংরেজ বাহিনী বক্সারের যুদ্ধে সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করে।
প্রশ্ন ৪৭: নবাব হওয়ার জন্য মীরকাশিম ইংরেজদের কোন কোন জেলার জমিদারি দিয়েছিলেন?
- (ক) ২৪ পরগনা
- (খ) বর্ধমান, মেদিনীপুর ও চট্টগ্রাম
- (গ) ঢাকা ও মুর্শিদাবাদ
- (ঘ) বিহার ও উড়িষ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) বর্ধমান, মেদিনীপুর ও চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা: ১৭৬০ সালের চুক্তি অনুসারে, মীরকাশিম নবাব হওয়ার বিনিময়ে বর্ধমান, মেদিনীপুর এবং চট্টগ্রাম জেলার রাজস্ব আদায়ের অধিকার ইংরেজ কোম্পানিকে ছেড়ে দেন।
প্রশ্ন ৪৮: মীরকাশিম শুল্ক সমস্যা সমাধানের জন্য কী চরম পদক্ষেপ নিয়েছিলেন?
- (ক) ইংরেজদের বাণিজ্য বন্ধ করে দেন
- (খ) সকল বণিকের জন্য শুল্ক দ্বিগুণ করেন
- (গ) শুধুমাত্র দেশীয় বণিকদের জন্য শুল্ক প্রত্যাহার করেন
- (ঘ) সকল বণিকের (দেশি ও বিদেশি) উপর থেকে বাণিজ্যিক শুল্ক তুলে দেন
সঠিক উত্তর: (ঘ) সকল বণিকের (দেশি ও বিদেশি) উপর থেকে বাণিজ্যিক শুল্ক তুলে দেন
ব্যাখ্যা: ইংরেজরা শুল্ক দিতে অস্বীকার করলে, মীরকাশিম দেশীয় বণিকদের সমান সুযোগ দেওয়ার জন্য ১৭৬২ সালে সকল বণিকের জন্য অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য শুল্ক (interim duties) সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করেন। এতে ইংরেজরা তাদের বিশেষ সুবিধা হারায় এবং ক্ষুব্ধ হয়।
প্রশ্ন ৪৯: বক্সারের যুদ্ধের পর কোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
- (ক) আলিনগরের সন্ধি
- (খ) ম্যাঙ্গালোরের সন্ধি
- (গ) এলাহাবাদের সন্ধি
- (ঘ) সুরাটের সন্ধি
সঠিক উত্তর: (গ) এলাহাবাদের সন্ধি
ব্যাখ্যা: ১৭৬৫ সালে বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ-দৌলার সঙ্গে রবার্ট ক্লাইভ এলাহাবাদের প্রথম ও দ্বিতীয় চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
প্রশ্ন ৫০: কোন যুদ্ধের ফলে ভারতে ইংরেজদের প্রকৃত সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়?
- (ক) পলাশীর যুদ্ধ
- (খ) বক্সারের যুদ্ধ
- (গ) তৃতীয় কর্নাটকের যুদ্ধ
- (ঘ) তৃতীয় ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধ
সঠিক উত্তর: (খ) বক্সারের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা: পলাশীর যুদ্ধ ছিল ষড়যন্ত্রের ফল, কিন্তু বক্সারের যুদ্ধ ছিল একটি সরাসরি সামরিক বিজয়। এই যুদ্ধে বাংলার নবাব, অযোধ্যার নবাব এবং মুঘল সম্রাটের সম্মিলিত শক্তি পরাজিত হওয়ায় উত্তর ভারতে ইংরেজদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রকৃত সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রশ্ন ৫১: মীরকাশিম ইউরোপীয় আদলে সেনাবাহিনী পুনর্গঠনের জন্য কোন ইউরোপীয় সেনাপতিকে নিয়োগ করেন?
- (ক) ডুপ্লে (ফরাসি)
- (খ) ওয়াল্টার রেইনহার্ড সামরু (জার্মান)
- (গ) ক্যাপ্টেন ডাল্টন (ইংরেজ)
- (ঘ) সিনফ্রে (ফরাসি)
সঠিক উত্তর: (খ) ওয়াল্টার রেইনহার্ড সামরু (জার্মান)
ব্যাখ্যা: মীরকাশিম তার সেনাবাহিনীকে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করার জন্য ওয়াল্টার রেইনহার্ড সামরু (Walter Reinhardt Sombre) নামক একজন জার্মান ভাগ্যান্বেষী সেনাপতিকে প্রশিক্ষণের দায়িত্বে নিয়োগ করেন।
প্রশ্ন ৫২: পাটনা হত্যাকাণ্ড (Patna Massacre) কার নির্দেশে সংঘটিত হয়?
- (ক) রবার্ট ক্লাইভ
- (খ) মীরজাফর
- (গ) মীরকাশিম
- (ঘ) হেক্টর মুনরো
সঠিক উত্তর: (গ) মীরকাশিম
ব্যাখ্যা: ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর, ক্ষুব্ধ মীরকাশিমের নির্দেশে পাটনায় বন্দি থাকা প্রায় ৫০ জন ইংরেজকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনা ‘পাটনা হত্যাকাণ্ড’ নামে পরিচিত।
প্রশ্ন ৫৩: ‘দ্বৈত শাসন’ ব্যবস্থা কে প্রবর্তন করেন?
- (ক) ওয়ারেন হেস্টিংস
- (খ) লর্ড কর্নওয়ালিস
- (গ) রবার্ট ক্লাইভ
- (ঘ) ভ্যান্সিটার্ট
সঠিক উত্তর: (গ) রবার্ট ক্লাইভ
ব্যাখ্যা: বক্সারের যুদ্ধের পর ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ বাংলায় ‘দ্বৈত শাসন’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
প্রশ্ন ৫৪: ‘দ্বৈত শাসন’ ব্যবস্থায় ‘দেত্তয়ানি’ (রাজস্ব আদায়) ক্ষমতা কার হাতে ছিল?
- (ক) নবাবের হাতে
- (খ) ইংরেজ কোম্পানির হাতে
- (গ) মুঘল সম্রাটের হাতে
- (ঘ) ফরাসিদের হাতে
সঠিক উত্তর: (খ) ইংরেজ কোম্পানির হাতে
ব্যাখ্যা: দ্বৈত শাসন ব্যবস্থায়, ‘দেওয়ানি’ অর্থাৎ রাজস্ব আদায় ও অসামরিক বিচারব্যবস্থার ক্ষমতা কোম্পানির হাতে থাকে, কিন্তু ‘নিজামত’ অর্থাৎ প্রশাসনিক দায়িত্ব ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নবাবের ওপর ন্যস্ত থাকে।
প্রশ্ন ৫৫: মীরকাশিমকে ‘বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব’ বলা হয় কেন?
- (ক) তিনি মুঘলদের অধীনতা অস্বীকার করেন
- (খ) তিনি ইংরেজদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন
- (গ) তিনি সবচেয়ে বেশি দিন রাজত্ব করেন
- (ঘ) তিনি প্রথম রাজধানী স্থানান্তর করেন
সঠিক উত্তর: (খ) তিনি ইংরেজদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন
ব্যাখ্যা: যদিও মীরকাশিম ইংরেজদের সাহায্যেই ক্ষমতায় এসেছিলেন, কিন্তু তিনিই প্রথম নবাব যিনি ইংরেজদের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে একজন প্রকৃত স্বাধীন শাসকের মতো প্রশাসন, অর্থনীতি ও সামরিক ক্ষেত্রে সংস্কার করে বাংলার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে চেয়েছিলেন।
প্রশ্ন ৫৬: বক্সারের যুদ্ধের পর কে পুনরায় বাংলার নবাব হন?
- (ক) মীরকাশিম
- (খ) নাজিম-উদ-দৌলা
- (গ) মীরজাফর
- (ঘ) মোবারক-উদ-দৌলা
সঠিক উত্তর: (গ) মীরজাফর
ব্যাখ্যা: মীরকাশিম বিদ্রোহী হলে ইংরেজরা তাকে পদচ্যুত করে পুনরায় বৃদ্ধ মীরজাফরকে নবাব পদে বসায় (১৭৬৩)। বক্সারের যুদ্ধের সময় মীরজাফরই নামেমাত্র নবাব ছিলেন, যদিও তিনি ১৭৬৫ সালের শুরুতে মারা যান।
প্রশ্ন ৫৭: এলাহাবাদের প্রথম সন্ধি (১৭৬৫) কাদের মধ্যে হয়েছিল?
- (ক) ক্লাইভ ও মীরকাশিম
- (খ) ক্লাইভ ও সুজা-উদ-দৌলা
- (গ) ক্লাইভ ও দ্বিতীয় শাহ আলম
- (ঘ) ক্লাইভ ও মীরজাফর
সঠিক উত্তর: (গ) ক্লাইভ ও দ্বিতীয় শাহ আলম
ব্যাখ্যা: ১৭৬৫ সালের ১২ আগস্ট, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সঙ্গে রবার্ট ক্লাইভের এই চুক্তি হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে।
প্রশ্ন ৫৮: কোন ঘটনার পর বাংলায় ‘কোম্পানির রাজ’ আইনত প্রতিষ্ঠিত হয়?
- (ক) পলাশীর যুদ্ধ
- (খ) মীরকাশিমের ক্ষমতা লাভ
- (গ) বক্সারের যুদ্ধ ও দেওয়ানি লাভ
- (ঘ) দ্বৈত শাসনের অবসান
সঠিক উত্তর: (গ) বক্সারের যুদ্ধ ও দেওয়ানি লাভ
ব্যাখ্যা: ১৭৬৫ সালে মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে ‘দেওয়ানি’ লাভের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আইনগতভাবে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজস্ব আদায়ের অধিকারী হয়। এটিই ‘কোম্পানি রাজ’-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা।
প্রশ্ন ৫৯: মুঙ্গেরে মীরকাশিম কী ধরনের কারখানা স্থাপন করেছিলেন?
- (ক) বস্ত্র কারখানা
- (খ) চিনি কারখানা
- (গ) অস্ত্র ও গোলাবারুদ কারখানা
- (ঘ) কাগজ কারখানা
সঠিক উত্তর: (গ) অস্ত্র ও গোলাবারুদ কারখানা
ব্যাখ্যা: ইংরেজদের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে এবং সামরিকভাবে স্বাবলম্বী হতে মীরকাশিম মুঙ্গেরে উন্নত মানের বন্দুক, কামান ও গোলাবারুদ তৈরির কারখানা স্থাপন করেন।
প্রশ্ন ৬০: দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার কুফল কী ছিল?
- (ক) নবাবের ক্ষমতা বৃদ্ধি
- (খ) কোম্পানির দায়িত্বহীন ক্ষমতাভোগ এবং চূড়ান্ত অরাজকতা
- (গ) কৃষকদের উন্নতি
- (ঘ) বাণিজ্যের প্রসার
সঠিক উত্তর: (খ) কোম্পানির দায়িত্বহীন ক্ষমতাভোগ এবং চূড়ান্ত অরাজকতা
ব্যাখ্যা: এই ব্যবস্থায় ক্ষমতা ছিল কোম্পানির হাতে, কিন্তু দায়িত্ব ছিল নবাবের। ফলে কোম্পানি প্রজাদের উপর যথেচ্ছ শোষণ চালাত, কিন্তু তার কোনো দায় নিত না। এর ফলে বাংলায় চরম প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’-এর পথ প্রশস্ত হয়।
প্রশ্ন ৬১: কোম্পানির কর্মচারীদের ব্যক্তিগত বাণিজ্যকে কী বলা হতো?
- (ক) দস্তক বাণিজ্য
- (খ) প্রাইভেট ট্রেড
- (গ) ফরমানি বাণিজ্য
- (ঘ) নিজামত বাণিজ্য
সঠিক উত্তর: (খ) প্রাইভেট ট্রেড
ব্যাখ্যা: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারীরা তাদের পদের সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে যে ব্যবসা-বাণিজ্য করত, তাকে ‘প্রাইভেট ট্রেড’ বলা হতো। তারা প্রায়শই কোম্পানির ‘দস্তক’ ব্যবহার করে এই বাণিজ্যে শুল্ক ফাঁকি দিত।
প্রশ্ন ৬২: মীরকাশিমের সঙ্গে আলোচনার জন্য ইংরেজদের পক্ষ থেকে কে পাটনায় গিয়েছিলেন?
- (ক) রবার্ট ক্লাইভ
- (খ) গভর্নর ভ্যান্সিটার্ট
- (গ) ওয়ারেন হেস্টিংস
- (ঘ) এলিস
সঠিক উত্তর: (খ) গভর্নর ভ্যান্সিটার্ট
ব্যাখ্যা: শুল্ক সংক্রান্ত বিবাদ মেটানোর জন্য তৎকালীন গভর্নর ভ্যান্সিটার্ট নিজে মুঙ্গেরে মীরকাশিমের সঙ্গে দেখা করতে যান। কিন্তু কলকাতা কাউন্সিল তার সিদ্ধান্ত অনুমোদন না করায় আলোচনা ব্যর্থ হয়।
প্রশ্ন ৬৩: বক্সারের যুদ্ধের পর মীরকাশিমের পরিণতি কী হয়েছিল?
- (ক) তিনি পুনরায় নবাব হন
- (খ) তাকে হত্যা করা হয়
- (গ) তিনি পালিয়ে যান এবং অজ্ঞাত অবস্থায় দিল্লিতে মারা যান
- (ঘ) তিনি ইংরেজদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন
সঠিক উত্তর: (গ) তিনি পালিয়ে যান এবং অজ্ঞাত অবস্থায় দিল্লিতে মারা যান
ব্যাখ্যা: বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর মীরকাশিম পালিয়ে বেড়ান এবং শেষ পর্যন্ত ১৭৭৭ সালে দিল্লির কাছে এক অজ্ঞাত ও দারিদ্র্যপূর্ণ অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
প্রশ্ন ৬৪: ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ (Great Bengal Famine) বাংলা কোন সালে হয়েছিল?
- (ক) ১১৭৬ বঙ্গাব্দ (১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ)
- (খ) ১১৭৭ বঙ্গাব্দ (১৭৭১ খ্রিস্টাব্দ)
- (গ) ১১৭৮ বঙ্গাব্দ (১৭৭২ খ্রিস্টাব্দ)
- (ঘ) ১১৭৫ বঙ্গাব্দ (১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দ)
সঠিক উত্তর: (ক) ১১৭৬ বঙ্গাব্দ (১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ)
ব্যাখ্যা: দ্বৈত শাসনের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক শোষণ ও অনাবৃষ্টির কারণে বাংলা ১১৭৬ সালে (ইংরেজি ১৭৭০ সাল) এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, যা ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ নামে পরিচিত।
প্রশ্ন ৬৫: দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান কে?
- (ক) রবার্ট ক্লাইভ
- (খ) লর্ড কর্নওয়ালিস
- (গ) ওয়ারেন হেস্টিংস
- (ঘ) লর্ড ওয়েলেসলি
সঠিক উত্তর: (গ) ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা: ১৭৭২ সালে গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত হয়ে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান এবং কোম্পানিকে সরাসরি বাংলার শাসনভার গ্রহণের নির্দেশ দেন।
প্রশ্ন ৬৬: এলাহাবাদের দ্বিতীয় সন্ধি (১৭৬৫) কাদের মধ্যে হয়েছিল?
- (ক) ক্লাইভ ও মীরকাশিম
- (খ) ক্লাইভ ও অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ-দৌলা
- (গ) ক্লাইভ ও দ্বিতীয় শাহ আলম
- (ঘ) ক্লাইভ ও মীরজাফর
সঠিক উত্তর: (খ) ক্লাইভ ও অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ-দৌলা
ব্যাখ্যা: ১৭৬৫ সালের ১৬ আগস্ট এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে সুজা-উদ-দৌলা কারা ও এলাহাবাদ জেলা দুটি মুঘল সম্রাটকে ছেড়ে দিতে এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ লক্ষ টাকা কোম্পানিকে দিতে বাধ্য হন।
প্রশ্ন ৬৭: মীরকাশিমের প্রশাসনিক সংস্কারের মধ্যে কোনটি উল্লেখযোগ্য ছিল?
- (ক) বিচার ব্যবস্থার পুনর্গঠন
- (খ) রাজস্ব বিভাগের দুর্নীতি দমন
- (গ) ‘তহশিলদার’ পদের সৃষ্টি
- (ঘ) উপরের সবকটি
সঠিক উত্তর: (ঘ) উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা: মীরকাশিম একজন সুদক্ষ শাসক ছিলেন। তিনি রাজস্ব ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজান, দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মচারীদের বরখাস্ত করেন এবং প্রশাসনকে গতিশীল করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন।
প্রশ্ন ৬৮: মীরকাশিমের সময় ইংরেজ কোম্পানির প্রধান বাণিজ্যিক ঘাঁটি কোনটি ছিল?
- (ক) মুঙ্গের
- (খ) ঢাকা
- (গ) কলকাতা
- (ঘ) পাটনা
সঠিক উত্তর: (গ) কলকাতা
ব্যাখ্যা: কলকাতা ছিল বাংলায় ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রধান কেন্দ্র এবং ফোর্ট উইলিয়াম ছিল তাদের ক্ষমতার মূল দুর্গ।
প্রশ্ন ৬৯: কোন ইংরেজ কর্মচারী পাটনায় মীরকাশিমের বিরুদ্ধে আগ্রাসী ভূমিকা পালন করেন?
- (ক) ওয়ারেন হেস্টিংস
- (খ) এলিস (Ellis)
- (গ) ভ্যান্সিটার্ট
- (ঘ) ওয়াটসন
সঠিক উত্তর: (খ) এলিস (Ellis)
ব্যাখ্যা: পাটনার কুঠির প্রধান এলিস ছিলেন অত্যন্ত উদ্ধত ও আগ্রাসী। তিনি নবাবের কর্তৃত্বকে অগ্রাহ্য করে পাটনা শহর আক্রমণ করেন, যা মীরকাশিমের সঙ্গে ইংরেজদের সরাসরি যুদ্ধের সূচনা করে।
প্রশ্ন ৭০: কাটোয়া, গিরিয়া ও উধুয়ানালার যুদ্ধ কাদের মধ্যে হয়েছিল?
- (ক) সিরাজ ও ইংরেজ
- (খ) মীরকাশিম ও ইংরেজ
- (গ) মীরজাফর ও ইংরেজ
- (ঘ) ফরাসি ও ইংরেজ
সঠিক উত্তর: (খ) মীরকাশিম ও ইংরেজ
ব্যাখ্যা: বক্সারের যুদ্ধের আগে ১৭৬৩ সালে মীরকাশিমের বাহিনীর সঙ্গে ইংরেজদের বেশ কয়েকটি খণ্ডযুদ্ধ হয়। তার মধ্যে কাটোয়া, গিরিয়া ও উধুয়ানালার যুদ্ধ উল্লেখযোগ্য। এই সব যুদ্ধেই মীরকাশিম পরাজিত হন।
প্রশ্ন ৭১: দেওয়ানি লাভের ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রধান লাভ কী হয়েছিল?
- (ক) সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি
- (খ) বাংলার রাজস্বের উপর আইনগত অধিকার স্থাপন
- (গ) নবাবকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা
- (ঘ) ফরাসিদের বিতাড়ন
সঠিক উত্তর: (খ) বাংলার রাজস্বের উপর আইনগত অধিকার স্থাপন
ব্যাখ্যা: দেওয়ানি লাভের মাধ্যমে কোম্পানি বাংলার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব সরাসরি নিজেদের কোষাগারে আনার আইনগত বৈধতা পায়। এর ফলে তাদের আর বাণিজ্য করার জন্য ইংল্যান্ড থেকে অর্থ আনার প্রয়োজন হতো না।
প্রশ্ন ৭২: ব্যক্তিগত বাণিজ্যে ‘দস্তক’-এর অপব্যবহার রোধে মীরকাশিমের কোন পদক্ষেপটি ইংরেজদের সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ করে?
- (ক) ইংরেজ বণিকদের উপর কর আরোপ
- (খ) সকলের জন্য অভ্যন্তরীণ শুল্ক প্রত্যাহার
- (গ) পাটনা কুঠি অবরোধ
- (ঘ) রাজধানী মুঙ্গেরে স্থানান্তর
সঠিক উত্তর: (খ) সকলের জন্য অভ্যন্তরীণ শুল্ক প্রত্যাহার
ব্যাখ্যা: এই পদক্ষেপের ফলে ইংরেজ বণিকরা তাদের বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা হারিয়ে ফেলে এবং দেশীয় বণিকদের সঙ্গে সমান প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হয়, যা তাদের স্বার্থে চরম আঘাত হানে।
প্রশ্ন ৭৩: ‘১৭৬০ সালের বিপ্লব’ বলতে কী বোঝায়?
- (ক) মীরকাশিমের পলায়ন
- (খ) বক্সারের যুদ্ধ
- (গ) মীরজাফরকে সরিয়ে মীরকাশিমকে ক্ষমতায় বসানো
- (ঘ) দ্বৈত শাসনের প্রবর্তন
সঠিক উত্তর: (গ) মীরজাফরকে সরিয়ে মীরকাশিমকে ক্ষমতায় বসানো
ব্যাখ্যা: ইংরেজ ঐতিহাসিকরা এই ক্ষমতা হস্তান্তরকে একটি রক্তপাতহীন ‘বিপ্লব’ বলে অভিহিত করেছেন, কারণ এর মাধ্যমে বাংলায় কোম্পানির ক্ষমতা আরও সুদৃঢ় হয়।
প্রশ্ন ৭৪: মীরকাশিমের পতনের পর বাংলায় নবাবের পদের কী পরিণতি হয়?
- (ক) পদটি বিলুপ্ত হয়
- (খ) পদটি আরও শক্তিশালী হয়
- (গ) পদটি সম্পূর্ণ ক্ষমতাহীন ও নামসর্বস্ব হয়ে পড়ে
- (ঘ) পদটি মুঘল সম্রাটের অধীনে চলে যায়
সঠিক উত্তর: (গ) পদটি সম্পূর্ণ ক্ষমতাহীন ও নামসর্বস্ব হয়ে পড়ে
ব্যাখ্যা: মীরকাশিমের পতনের পর থেকে বাংলার নবাবরা পুরোপুরি ইংরেজদের হাতের পুতুলে পরিণত হন। তাদের কোনো প্রকৃত ক্ষমতা ছিল না, তারা কেবল কোম্পানির দেওয়া বৃত্তির উপর নির্ভরশীল ছিলেন।
প্রশ্ন ৭৫: দ্বৈত শাসন ব্যবস্থায় ‘নিজামত’ বলতে কী বোঝানো হতো?
- (ক) রাজস্ব আদায়
- (খ) বিচার ব্যবস্থা
- (গ) দেশরক্ষা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব
- (ঘ) বাণিজ্য শুল্ক নির্ধারণ
সঠিক উত্তর: (গ) দেশরক্ষা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব
ব্যাখ্যা: দ্বৈত শাসনে ‘নিজামত’ বা ফৌজদারি ক্ষমতা নবাবের হাতে রাখা হয়েছিল, কিন্তু এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও সৈন্য কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকায় নবাবের এই ক্ষমতা বাস্তবে অকার্যকর ছিল।
প্রশ্ন ৭৬: মীরকাশিম কোন বিষয়ে দক্ষতা প্রদর্শনের জন্য পরিচিত ছিলেন?
- (ক) শুধুমাত্র সামরিক কৌশল
- (খ) শুধুমাত্র কূটনীতি
- (গ) সুদক্ষ প্রশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা
- (ঘ) সাহিত্য ও শিল্পকলা
সঠিক উত্তর: (গ) সুদক্ষ প্রশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা
ব্যাখ্যা: নবাবী লাভের অল্প সময়ের মধ্যেই মীরকাশিম খালি রাজকোষ পূর্ণ করেন, বকেয়া রাজস্ব আদায় করেন এবং প্রশাসনিক দুর্নীতি দমনে কঠোর হন, যা তার অসাধারণ প্রশাসনিক দক্ষতার পরিচায়ক।
প্রশ্ন ৭৭: বক্সারের যুদ্ধে সম্মিলিত বাহিনীর পরাজয়ের একটি প্রধান কারণ কী ছিল?
- (ক) সৈন্য সংখ্যার স্বল্পতা
- (খ) তিন নেতার মধ্যে সমন্বয় ও বিশ্বাসের অভাব
- (গ) অস্ত্রের অভাব
- (ঘ) প্রতিকূল আবহাওয়া
সঠিক উত্তর: (খ) তিন নেতার মধ্যে সমন্বয় ও বিশ্বাসের অভাব
ব্যাখ্যা: মীরকাশিম, সুজা-উদ-দৌলা এবং শাহ আলমের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সমন্বয়ের অভাব ছিল। সুজা-উদ-দৌলা ও শাহ আলম দুজনেই মীরকাশিমের ধনসম্পদের প্রতি লোভী ছিলেন। এই অনৈক্য তাদের পরাজয়কে ত্বরান্বিত করে।
প্রশ্ন ৭৮: ‘A state of power without responsibility’ – দ্বৈত শাসন সম্পর্কে এই উক্তিটি কার?
- (ক) কে. এম. পানিক্কর
- (খ) পার্সিভাল স্পিয়ার
- (গ) বিপান চন্দ্র
- (ঘ) রমেশচন্দ্র দত্ত
সঠিক উত্তর: (খ) পার্সিভাল স্পিয়ার
ব্যাখ্যা: ঐতিহাসিক পার্সিভাল স্পিয়ার দ্বৈত শাসনকে ‘দায়িত্বহীন ক্ষমতা’র এক নিকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে কোম্পানি সমস্ত ক্ষমতা ভোগ করত কিন্তু কোনো দায়িত্ব পালন করত না।
প্রশ্ন ৭৯: কোম্পানির ব্যক্তিগত বাণিজ্যের ফলে বাংলার কোন শ্রেণির সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছিল?
- (ক) জমিদার শ্রেণি
- (খ) কৃষক শ্রেণি
- (গ) দেশীয় বণিক শ্রেণি
- (ঘ) কারিগর শ্রেণি
সঠিক উত্তর: (গ) দেশীয় বণিক শ্রেণি
ব্যাখ্যা: ইংরেজদের বিনাশুল্কে বাণিজ্যের ফলে দেশীয় বণিকদের তাদের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতায় নামতে হয়। ফলে বাংলার নিজস্ব বাণিজ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং দেশীয় বণিকরা সর্বস্বান্ত হয়।
প্রশ্ন ৮০: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে ‘বণিকের মানদণ্ড থেকে রাজদণ্ডে’ পরিণত করতে কোন যুদ্ধটি সবচেয়ে বেশি সহায়ক ছিল?
- (ক) পলাশীর যুদ্ধ
- (খ) বক্সারের যুদ্ধ
- (গ) কর্নাটকের যুদ্ধ
- (ঘ) ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ
সঠিক উত্তর: (খ) বক্সারের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা: বক্সারের যুদ্ধের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শুধুমাত্র বাংলার নবাব নয়, বরং অযোধ্যার নবাব ও মুঘল সম্রাটের মতো শক্তিকে পরাজিত করে। এর ফলেই তারা বাণিজ্যিক সংস্থা থেকে এক রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং তাদের হাতে ‘রাজদণ্ড’ বা শাসনের ক্ষমতা চলে আসে।
অধ্যায় ৩: ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তার (প্রশ্ন ৮১-১১০)
প্রশ্ন ৮১: ‘অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি’ (Subsidiary Alliance) কে প্রবর্তন করেন?
- (ক) লর্ড কর্নওয়ালিস
- (খ) লর্ড ওয়েলেসলি
- (গ) লর্ড ডালহৌসি
- (ঘ) ওয়ারেন হেস্টিংস
সঠিক উত্তর: (খ) লর্ড ওয়েলেসলি
ব্যাখ্যা: গভর্নর-জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি (১৭৯৮-১৮০৫) ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে এই নীতি প্রয়োগ করেন। এই নীতির মাধ্যমে দেশীয় রাজ্যগুলিকে কোম্পানির অধীনে আনা হতো।
প্রশ্ন ৮২: অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি গ্রহণকারী প্রথম ভারতীয় রাজ্য কোনটি?
- (ক) মহীশূর
- (খ) অযোধ্যা
- (গ) হায়দ্রাবাদের নিজাম
- (ঘ) মারাঠা
সঠিক উত্তর: (গ) হায়দ্রাবাদের নিজাম
ব্যাখ্যা: ১৭৯৮ সালে হায়দ্রাবাদের নিজাম সর্বপ্রথম অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি গ্রহণ করে ব্রিটিশদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
প্রশ্ন ৮৩: ‘স্বত্ববিলোপ নীতি’ (Doctrine of Lapse) কে প্রবর্তন করেন?
- (ক) লর্ড ওয়েলেসলি
- (খ) লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
- (গ) লর্ড ক্যানিং
- (ঘ) লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর: (ঘ) লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা: গভর্নর-জেনারেল লর্ড ডালহৌসি (১৮৪৮-১৮৫৬) এই সাম্রাজ্যবাদী নীতি প্রয়োগ করেন। এই নীতি অনুসারে, কোনো ব্রিটিশ আশ্রিত রাজ্যের রাজার স্বাভাবিক উত্তরাধিকারী না থাকলে সেই রাজ্যটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হয়ে যাবে।
প্রশ্ন ৮৪: স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগ করে প্রথম কোন রাজ্যটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করা হয়?
- (ক) ঝাঁসি
- (খ) নাগপুর
- (গ) সাতারা
- (ঘ) সম্বলপুর
সঠিক উত্তর: (গ) সাতারা
ব্যাখ্যা: ১৮৪৮ সালে মারাঠা রাজ্য সাতারা সর্বপ্রথম স্বত্ববিলোপ নীতির শিকার হয় এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।
প্রশ্ন ৮৫: ‘কুশাসনের অজুহাতে’ (On grounds of misgovernance) কোন রাজ্যটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করা হয়?
- (ক) পাঞ্জাব
- (খ) অযোধ্যা (Awadh)
- (গ) সিন্ধু
- (ঘ) নাগপুর
সঠিক উত্তর: (খ) অযোধ্যা (Awadh)
ব্যাখ্যা: ১৮৫৬ সালে লর্ড ডালহৌসি অযোধ্যার নবাব ওয়াজিদ আলি শাহের বিরুদ্ধে কুশাসনের অভিযোগ এনে রাজ্যটিকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেন, যা সিপাহী বিদ্রোহের অন্যতম একটি কারণ ছিল।
প্রশ্ন ৮৬: ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ কয়টি হয়েছিল?
- (ক) দুটি
- (খ) তিনটি
- (গ) চারটি
- (ঘ) পাঁচটি
সঠিক উত্তর: (গ) চারটি
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশদের সঙ্গে মহীশূর রাজ্যের চারটি যুদ্ধ হয়েছিল। প্রথম দুটি হায়দার আলির সঙ্গে এবং শেষ দুটি তার পুত্র টিপু সুলতানের সঙ্গে।
প্রশ্ন ৮৭: চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধে কে নিহত হন?
- (ক) হায়দার আলি
- (খ) টিপু সুলতান
- (গ) নিজাম
- (ঘ) পেশোয়া
সঠিক উত্তর: (খ) টিপু সুলতান
ব্যাখ্যা: ১৭৯৯ সালে সেরিঙ্গাপটমের (শ্রীরঙ্গপত্তনম) যুদ্ধে ‘মহীশূরের বাঘ’ নামে পরিচিত টিপু সুলতান বীরের মতো যুদ্ধ করে নিহত হন। এর ফলে মহীশূর ব্রিটিশদের অধীনে চলে আসে।
প্রশ্ন ৮৮: কোন চুক্তির মাধ্যমে তৃতীয় ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধের অবসান হয়?
- (ক) সলবাইয়ের সন্ধি
- (খ) বেসিনের চুক্তি
- (গ) পুনা চুক্তি ও মন্দসোরের সন্ধি
- (ঘ) সুরাটের সন্ধি
সঠিক উত্তর: (গ) পুনা চুক্তি ও মন্দসোরের সন্ধি
ব্যাখ্যা: তৃতীয় ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধের (১৮১৭-১৮১৮) পর এই চুক্তিগুলির মাধ্যমে মারাঠা শক্তির চূড়ান্ত পতন ঘটে এবং পেশোয়া পদের বিলুপ্তি ঘটানো হয়।
প্রশ্ন ৮৯: রেগুলেটিং অ্যাক্ট (Regulating Act) কত সালে পাশ হয়?
- (ক) ১৭৬৫
- (খ) ১৭৭৩
- (গ) ১৭৮৪
- (ঘ) ১৭৯৩
সঠিক উত্তর: (খ) ১৭৭৩
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ১৭৭৩ সালে রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাশ করে। এই আইনবলে বাংলার গভর্নর ‘গভর্নর-জেনারেল’ পদে উন্নীত হন।
প্রশ্ন ৯০: পিটের ভারত শাসন আইন (Pitt’s India Act) কবে পাশ হয়?
- (ক) ১৭৭৩
- (খ) ১৭৮১
- (গ) ১৭৮৪
- (ঘ) ১৮১৩
সঠিক উত্তর: (গ) ১৭৮৪
ব্যাখ্যা: রেগুলেটিং অ্যাক্টের ত্রুটি দূর করতে এবং কোম্পানির উপর ব্রিটিশ সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম পিটের নামে এই আইন পাশ হয়। এর মাধ্যমে ‘বোর্ড অফ কন্ট্রোল’ গঠিত হয়।
প্রশ্ন ৯১: পাঞ্জাব ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হয় কত সালে?
- (ক) ১৮৪৫
- (খ) ১৮৪৯
- (গ) ১৮৫৬
- (ঘ) ১৮৫৭
সঠিক উত্তর: (খ) ১৮৪৯
ব্যাখ্যা: দ্বিতীয় ইঙ্গ-শিখ যুদ্ধে (১৮৪৮-৪৯) শিখদের পরাজিত করে লর্ড ডালহৌসি পাঞ্জাবকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেন।
প্রশ্ন ৯২: অমৃতসরের সন্ধি (১৮০৯) কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?
- (ক) ব্রিটিশ ও টিপু সুলতান
- (খ) ব্রিটিশ ও মারাঠা
- (গ) ব্রিটিশ ও রণজিৎ সিং
- (ঘ) ব্রিটিশ ও নিজাম
সঠিক উত্তর: (গ) ব্রিটিশ ও রণজিৎ সিং
ব্যাখ্যা: এই চুক্তির মাধ্যমে শতদ্রু নদীকে মহারাজা রণজিৎ সিং-এর শিখ রাজ্য এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সীমানা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
প্রশ্ন ৯৩: ব্রিটিশরা কোন যুদ্ধের মাধ্যমে সিন্ধু প্রদেশ দখল করে?
- (ক) প্রথম ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধ
- (খ) ইঙ্গ-শিখ যুদ্ধ
- (গ) ইঙ্গ-বার্মা যুদ্ধ
- (ঘ) এর জন্য কোনো বড় যুদ্ধ হয়নি, কূটনীতির মাধ্যমে দখল করা হয়
সঠিক উত্তর: (ক) প্রথম ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধ
ব্যাখ্যা: প্রথম ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধে (১৮৩৯-৪২) নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এবং রাশিয়ার প্রভাব খর্ব করার অজুহাতে ব্রিটিশরা ১৮৪৩ সালে সিন্ধু প্রদেশ দখল করে।
প্রশ্ন ৯৪: কোন গভর্নর-জেনারেলের সময় ‘পেণ্ডারি’ দস্যুদের দমন করা হয়?
- (ক) লর্ড ওয়েলেসলি
- (খ) লর্ড হেস্টিংস (মার্কুইস অফ হেস্টিংস)
- (গ) লর্ড বেন্টিঙ্ক
- (ঘ) লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর: (খ) লর্ড হেস্টিংস (মার্কুইস অফ হেস্টিংস)
ব্যাখ্যা: গভর্নর-জেনারেল লর্ড হেস্টিংস (১৮১৩-১৮২৩) কঠোর হস্তে মধ্য ভারতের পেণ্ডারি দস্যুদের দমন করেন, যা তৃতীয় ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটও তৈরি করে।
প্রশ্ন ৯৫: অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
- (ক) দেশীয় রাজ্যদের সামরিক সাহায্য করা
- (খ) দেশীয় রাজ্যদের আর্থিক ঋণ দেওয়া
- (গ) দেশীয় রাজ্যগুলির স্বাধীনতা হরণ করে তাদের ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে আনা
- (ঘ) ফরাসিদের বিরুদ্ধে জোট গঠন
সঠিক উত্তর: (গ) দেশীয় রাজ্যগুলির স্বাধীনতা হরণ করে তাদের ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে আনা
ব্যাখ্যা: এই নীতির আড়ালে মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশীয় রাজ্যের সামরিক ও বৈদেশিক নীতি ব্রিটিশদের হাতে তুলে নেওয়া এবং তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা।
প্রশ্ন ৯৬: সলবাইয়ের সন্ধি (১৭৮২) কোন যুদ্ধের অবসান ঘটায়?
- (ক) প্রথম ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধ
- (খ) দ্বিতীয় ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধ
- (গ) প্রথম ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ
- (ঘ) দ্বিতীয় ইঙ্গ-শিখ যুদ্ধ
সঠিক উত্তর: (ক) প্রথম ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধ
ব্যাখ্যা: দীর্ঘ ৭ বছর ধরে চলা প্রথম ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধের (১৭৭৫-১৭৮২) অবসান ঘটে সলবাইয়ের সন্ধির মাধ্যমে। এই সন্ধি প্রায় ২০ বছর ব্রিটিশ ও মারাঠাদের মধ্যে শান্তি বজায় রাখে।
প্রশ্ন ৯৭: বেসিনের চুক্তি (১৮০২) কার সঙ্গে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
- (ক) সিন্ধিয়া
- (খ) হোলকার
- (গ) পেশোয়া দ্বিতীয় বাজিরাও
- (ঘ) ভোঁসলে
সঠিক উত্তর: (গ) পেশোয়া দ্বিতীয় বাজিরাও
ব্যাখ্যা: হোলকারের কাছে পরাজিত হয়ে পেশোয়া দ্বিতীয় বাজিরাও ব্রিটিশদের সঙ্গে এই অধীনতামূলক মিত্রতার চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তি মারাঠা সর্দারদের আত্মসম্মানে আঘাত হানে এবং দ্বিতীয় ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধের সূচনা করে।
প্রশ্ন ৯৮: ভারতের প্রথম গভর্নর-জেনারেল কে ছিলেন?
- (ক) রবার্ট ক্লাইভ
- (খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
- (গ) লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
- (ঘ) লর্ড ক্যানিং
সঠিক উত্তর: (গ) লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
ব্যাখ্যা: ১৮৩৩ সালের চার্টার অ্যাক্ট অনুযায়ী, বাংলার গভর্নর-জেনারেলকে ‘ভারতের গভর্নর-জেনারেল’ পদে উন্নীত করা হয়। সেই হিসেবে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ছিলেন ভারতের প্রথম গভর্নর-জেনারেল। (উল্লেখ্য, ওয়ারেন হেস্টিংস ছিলেন বাংলার প্রথম গভর্নর-জেনারেল)।
প্রশ্ন ৯৯: ‘Ring Fence’ নীতিটি কোন শাসকের সঙ্গে যুক্ত?
- (ক) রবার্ট ক্লাইভ
- (খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
- (গ) লর্ড ওয়েলেসলি
- (ঘ) লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর: (খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা: ‘রিং ফেন্স’ বা বেষ্টনী নীতি ছিল নিজেদের রাজ্যকে সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রতিবেশী রাজ্যের সীমানাকে রক্ষা করার নীতি। ওয়ারেন হেস্টিংস মারাঠা ও মহীশূরের আক্রমণ থেকে বাংলাকে রক্ষা করার জন্য অযোধ্যাকে একটি ‘বাফার স্টেট’ বা অন্তর্বর্তী রাজ্য হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।
প্রশ্ন ১০০: ব্রিটিশরা কার কাছ থেকে দেওয়ানি লাভ করেছিল?
- (ক) বাংলার নবাব
- (খ) অযোধ্যার নবাব
- (গ) মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম
- (ঘ) মারাঠা পেশোয়া
সঠিক উত্তর: (গ) মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম
ব্যাখ্যা: বক্সারের যুদ্ধের পর ১৭৬৫ সালে এলাহাবাদের চুক্তির মাধ্যমে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি বা রাজস্ব আদায়ের অধিকার প্রদান করেন।
প্রশ্ন ১০১: স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগ করে ঝাঁসিকে কবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করা হয়?
- (ক) ১৮৪৮
- (খ) ১৮৫২
- (গ) ১৮৫৩
- (ঘ) ১৮৫৬
সঠিক উত্তর: (গ) ১৮৫৩
ব্যাখ্যা: ঝাঁসির রাজা গঙ্গাধর রাও-এর মৃত্যুর পর তার কোনো স্বাভাবিক উত্তরাধিকারী না থাকায়, লর্ড ডালহৌসি তাদের দত্তক পুত্র দামোদর রাওকে উত্তরাধিকারী হিসেবে অস্বীকার করেন এবং ১৮৫৩ সালে ঝাঁসিকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেন।
প্রশ্ন ১০২: হায়দার আলি কোন রাজ্যের শাসক ছিলেন?
- (ক) অযোধ্যা
- (খ) হায়দ্রাবাদ
- (গ) মহীশূর
- (ঘ) কর্নাটক
সঠিক উত্তর: (গ) মহীশূর
ব্যাখ্যা: হায়দার আলি একজন সাধারণ সৈনিক থেকে নিজ যোগ্যতায় দক্ষিণ ভারতের মহীশূর রাজ্যের শাসক হয়েছিলেন এবং ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।
প্রশ্ন ১০৩: ইয়ান্দাবুর সন্ধি (১৮২৬) কোন যুদ্ধের ফল?
- (ক) প্রথম ইঙ্গ-বার্মা যুদ্ধ
- (খ) দ্বিতীয় ইঙ্গ-বার্মা যুদ্ধ
- (গ) ইঙ্গ-নেপাল যুদ্ধ
- (ঘ) ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধ
সঠিক উত্তর: (ক) প্রথম ইঙ্গ-বার্মা যুদ্ধ
ব্যাখ্যা: প্রথম ইঙ্গ-বার্মা যুদ্ধের (১৮২৪-২৬) পর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার ফলে ব্রিটিশরা আসাম, মণিপুর, আরাকান এবং তেনাসেরিম লাভ করে।
প্রশ্ন ১০৪: কোন আইনের মাধ্যমে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে?
- (ক) পিটের ভারত শাসন আইন, ১৭৮৪
- (খ) চার্টার অ্যাক্ট, ১৮৫৩
- (গ) ভারত শাসন আইন, ১৮৫৮
- (ঘ) ইন্ডিয়ান কাউন্সিলস অ্যাক্ট, ১৮৬১
সঠিক উত্তর: (গ) ভারত শাসন আইন, ১৮৫৮
ব্যাখ্যা: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এই আইন পাশ করে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটায় এবং ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ রাজ বা মহারানীর হাতে তুলে নেয়।
প্রশ্ন ১০৫: ‘Policy of Masterly Inactivity’ (চাপ প্রয়োগে নিষ্ক্রিয়তা নীতি) কোন বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল?
- (ক) দেশীয় রাজ্য
- (খ) আফগানিস্তান
- (গ) পারস্য
- (ঘ) বার্মা
সঠিক উত্তর: (খ) আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা: স্যার জন লরেন্সের মতো ভাইসরয়রা আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করার এই নীতি অনুসরণ করেন, যা ‘Policy of Masterly Inactivity’ নামে পরিচিত।
প্রশ্ন ১০৬: ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারের প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
- (ক) ভারতের আধুনিকীকরণ
- (খ) ভারতে শান্তি প্রতিষ্ঠা
- (গ) রাজনৈতিক আধিপত্য স্থাপন ও অর্থনৈতিক শোষণ
- (ঘ) খ্রিস্টধর্ম প্রচার
সঠিক উত্তর: (গ) রাজনৈতিক আধিপত্য স্থাপন ও অর্থনৈতিক শোষণ
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারের মূল চালিকাশক্তি ছিল ভারতের বিশাল বাজার দখল করা, এখানকার কাঁচামাল ব্রিটেনে নিয়ে যাওয়া এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ভারতের সম্পদ শোষণ করা।
প্রশ্ন ১০৭: পেশোয়া পদের বিলুপ্তি ঘটান কোন গভর্নর-জেনারেল?
- (ক) লর্ড ওয়েলেসলি
- (খ) লর্ড হেস্টিংস
- (গ) লর্ড আমহার্স্ট
- (ঘ) লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর: (খ) লর্ড হেস্টিংস
ব্যাখ্যা: তৃতীয় ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধের পর লর্ড হেস্টিংস (মার্কুইস অফ হেস্টিংস) পেশোয়া পদের বিলুপ্তি ঘটান এবং শেষ পেশোয়া দ্বিতীয় বাজিরাওকে কানপুরের কাছে বিঠুরে নির্বাসিত করেন।
প্রশ্ন ১০৮: ব্রিটিশরা ভারতের কোন অঞ্চলকে ‘ভারতের রুটির ঝুড়ি’ বানাতে চেয়েছিল?
- (ক) বাংলা
- (খ) দক্ষিণ ভারত
- (গ) পাঞ্জাব
- (ঘ) গাঙ্গেয় সমভূমি
সঠিক উত্তর: (গ) পাঞ্জাব
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশরা পাঞ্জাবে ব্যাপক সেচ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল মূলত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের জন্য খাদ্যশস্য (বিশেষত গম) উৎপাদন করার জন্য এবং সেনাবাহিনীকে রসদ জোগানোর জন্য।
প্রশ্ন ১০৯: শ্রীরঙ্গপত্তনমের সন্ধি (১৭৯২) কোন যুদ্ধের পর স্বাক্ষরিত হয়?
- (ক) প্রথম ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ
- (খ) দ্বিতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ
- (গ) তৃতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ
- (ঘ) চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ
সঠিক উত্তর: (গ) তৃতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ
ব্যাখ্যা: এই যুদ্ধে টিপু সুলতান পরাজিত হন এবং একটি অপমানজনক চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। এই চুক্তির ফলে তাকে তার রাজ্যের অর্ধেক অংশ এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হয়।
প্রশ্ন ১১০: ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে ‘Knife of Sugar’ বা ‘চিনির ছুরি’ বলে কে অভিহিত করেছেন?
- (ক) বাল গঙ্গাধর তিলক
- (খ) দাদাভাই নওরোজি
- (গ) বিপিনচন্দ্র পাল
- (ঘ) ব্রিটিশদের দেওয়া বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রতি ইঙ্গিত করে এটি একটি সাধারণ বিশেষণ ছিল।
সঠিক উত্তর: (ঘ) ব্রিটিশদের দেওয়া বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রতি ইঙ্গিত করে এটি একটি সাধারণ বিশেষণ ছিল।
ব্যাখ্যা: অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির মতো নীতিগুলিকে প্রায়শই ‘চিনির ছুরি’ বলা হতো। কারণ এগুলি বাইরে থেকে দেখতে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সুবিধাজনক মনে হলেও, এর আসল উদ্দেশ্য ছিল ধীরে ধীরে দেশীয় রাজ্যের স্বাধীনতাকে শেষ করে দেওয়া।
অধ্যায় ৪: ঔপনিবেশিক অর্থনীতি: ভূমি রাজস্ব বন্দোবস্ত (প্রশ্ন ১১১-১৪০)
প্রশ্ন ১১১: ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ (Permanent Settlement) কে প্রবর্তন করেন?
- (ক) ওয়ারেন হেস্টিংস
- (খ) লর্ড কর্নওয়ালিস
- (গ) স্যার জন শোর
- (ঘ) লর্ড ওয়েলেসলি
সঠিক উত্তর: (খ) লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা: গভর্নর-জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ সালে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করেন।
প্রশ্ন ১১২: চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কবে চালু হয়?
- (ক) ১৭৭৩ সালে
- (খ) ১৭৮৪ সালে
- (গ) ১৭৯৩ সালে
- (ঘ) ১৮০৫ সালে
সঠিক উত্তর: (গ) ১৭৯৩ সালে
ব্যাখ্যা: ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ এই ব্যবস্থা正式ভাবে চালু করা হয়। এর আগে ১৭৯০ সালে দশসালা বন্দোবস্ত চালু করা হয়েছিল, যাকেই পরে চিরস্থায়ী করা হয়।
প্রশ্ন ১১৩: চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের অধীনে জমির মালিক কে হন?
- (ক) কৃষক (রায়ত)
- (খ) সরকার (কোম্পানি)
- (গ) জমিদার
- (ঘ) গ্রামের মোড়ল
সঠিক উত্তর: (গ) জমিদার
ব্যাখ্যা: এই ব্যবস্থায় জমিদারদের জমির স্থায়ী মালিক হিসেবে স্বীকার করা হয়। তাদের কাজ ছিল নির্দিষ্ট তারিখে সরকারকে রাজস্ব প্রদান করা এবং তারা কৃষকদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করত।
প্রশ্ন ১১৪: ‘সূর্যাস্ত আইন’ (Sunset Law) কোন ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত?
- (ক) রায়তওয়ারি ব্যবস্থা
- (খ) মহলওয়ারি ব্যবস্থা
- (গ) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
- (ঘ) ইজারাদারি ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর: (গ) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
ব্যাখ্যা: এই আইন অনুসারে, যদি কোনো জমিদার নির্দিষ্ট বছরের শেষ দিনের সূর্যাস্তের আগে সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব জমা দিতে ব্যর্থ হতেন, তাহলে তার জমিদারি নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হতো।
প্রশ্ন ১১৫: রায়তওয়ারি ব্যবস্থা (Ryotwari System) প্রধানত ভারতের কোন অঞ্চলে চালু হয়েছিল?
- (ক) বাংলা ও বিহার
- (খ) পাঞ্জাব ও উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ
- (গ) মাদ্রাজ ও বোম্বাই প্রেসিডেন্সি (দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারত)
- (ঘ) মধ্য ভারত
সঠিক উত্তর: (গ) মাদ্রাজ ও বোম্বাই প্রেসিডেন্সি (দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারত)
ব্যাখ্যা: এই ব্যবস্থা দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে জনপ্রিয় ছিল, যেখানে বড় জমিদারদের অস্তিত্ব কম ছিল।
প্রশ্ন ১১৬: রায়তওয়ারি ব্যবস্থার প্রবর্তক হিসেবে কার নাম যুক্ত?
- (ক) লর্ড কর্নওয়ালিস
- (খ) টমাস মুনরো এবং আলেকজান্ডার রীড
- (গ) হল্ট ম্যাকেঞ্জি
- (ঘ) আর. এম. বার্ড
সঠিক উত্তর: (খ) টমাস মুনরো এবং আলেকজান্ডার রীড
ব্যাখ্যা: ক্যাপ্টেন আলেকজান্ডার রীড প্রথমবার এটি চালু করেন এবং পরে মাদ্রাজ-এর গভর্নর টমাস মুনরো এই ব্যবস্থাকে ব্যাপক রূপ দেন।
প্রশ্ন ১১৭: রায়তওয়ারি ব্যবস্থায় জমির মালিক কে ছিল?
- (ক) জমিদার
- (খ) সরকার
- (গ) কৃষক বা রায়ত
- (ঘ) গ্রাম পঞ্চায়েত
সঠিক উত্তর: (গ) কৃষক বা রায়ত
ব্যাখ্যা: এই ব্যবস্থায় সরকার সরাসরি কৃষকদের (রায়ত) সঙ্গে রাজস্বের চুক্তি করত এবং কৃষকদের জমির মালিকানা স্বত্ব দেওয়া হতো, যতক্ষণ তারা নিয়মিত রাজস্ব প্রদান করত।
প্রশ্ন ১১৮: মহলওয়ারি ব্যবস্থা (Mahalwari System) কে প্রবর্তন করেন?
- (ক) টমাস মুনরো
- (খ) লর্ড কর্নওয়ালিস
- (গ) হল্ট ম্যাকেঞ্জি
- (ঘ) লর্ড বেন্টিঙ্ক
সঠিক উত্তর: (গ) হল্ট ম্যাকেঞ্জি
ব্যাখ্যা: ১৮২২ সালে হল্ট ম্যাকেঞ্জি এই ব্যবস্থার ধারণা দেন, যা পরবর্তীকালে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের সময় উত্তর ভারত ও মধ্য ভারতে প্রয়োগ করা হয়।
প্রশ্ন ১১৯: ‘মহল’ বলতে কী বোঝানো হতো?
- (ক) একটি প্রাসাদ
- (খ) একজন জমিদারের এলাকা
- (গ) একটি গ্রাম বা গ্রামের সমষ্টি (রাজস্ব ইউনিট)
- (ঘ) একটি নির্দিষ্ট কৃষিজমি
সঠিক উত্তর: (গ) একটি গ্রাম বা গ্রামের সমষ্টি (রাজস্ব ইউনিট)
ব্যাখ্যা: মহলওয়ারি ব্যবস্থায়, রাজস্ব নির্ধারণের একক ছিল ‘মহল’ বা গ্রাম সম্প্রদায়। পুরো গ্রামের হয়ে গ্রামের প্রধান বা মোড়ল সরকারের কাছে রাজস্ব জমা দিত।
প্রশ্ন ১২০: মহলওয়ারি ব্যবস্থা ভারতের কোন অঞ্চলে প্রচলিত ছিল?
- (ক) বাংলা
- (খ) মাদ্রাজ
- (গ) গাঙ্গেয় উপত্যকা, উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ, পাঞ্জাব ও মধ্য ভারত
- (ঘ) বোম্বাই
সঠিক উত্তর: (গ) গাঙ্গেয় উপত্যকা, উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ, পাঞ্জাব ও মধ্য ভারত
ব্যাখ্যা: এই ব্যবস্থাটি মূলত উত্তর ও মধ্য ভারতে প্রয়োগ করা হয়েছিল, যেখানে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা রায়তওয়ারি ব্যবস্থা উপযুক্ত ছিল না।
প্রশ্ন ১২১: চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
- (ক) কৃষকদের উন্নতি করা
- (খ) কোম্পানির জন্য একটি নির্দিষ্ট ও নিশ্চিত আয়ের উৎস তৈরি করা
- (গ) জমিদারদের ক্ষমতা খর্ব করা
- (ঘ) শিল্পের বিকাশ ঘটানো
সঠিক উত্তর: (খ) কোম্পানির জন্য একটি নির্দিষ্ট ও নিশ্চিত আয়ের উৎস তৈরি করা
ব্যাখ্যা: এর মূল লক্ষ্য ছিল প্রতি বছর নিলাম ও রাজস্ব নির্ধারণের ঝামেলা থেকে মুক্তি পেয়ে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব নিশ্চিত করা এবং জমিদারদের రూపে ব্রিটিশ শাসনের একটি অনুগত শ্রেণি তৈরি করা।
প্রশ্ন ১২২: কোন ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থায় রাজস্বের পরিমাণ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থির থাকত না এবং পর্যায়ক্রমে পরিবর্তিত হতো?
- (ক) শুধুমাত্র চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
- (খ) রায়তওয়ারি ও মহলওয়ারি ব্যবস্থা
- (গ) শুধুমাত্র মহলওয়ারি ব্যবস্থা
- (ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: (খ) রায়তওয়ারি ও মহলওয়ারি ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা: রায়তওয়ারি এবং মহলওয়ারি ব্যবস্থায় সাধারণত ২০-৩০ বছর পর পর জমির উৎপাদন ক্ষমতা জরিপ করে রাজস্বের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করা হতো, যা প্রায়শই বাড়ানো হতো। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে রাজস্বের পরিমাণ চিরদিনের জন্য স্থির ছিল।
প্রশ্ন ১২৩: ওয়ারেন হেস্টিংস প্রবর্তিত ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা কোনটি?
- (ক) দশসালা বন্দোবস্ত
- (খ) একসালা ও পাঁচসালা বন্দোবস্ত (ইজারাদারি)
- (গ) রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত
- (ঘ) মহলওয়ারি বন্দোবস্ত
সঠিক উত্তর: (খ) একসালা ও পাঁচসালা বন্দোবস্ত (ইজারাদারি)
ব্যাখ্যা: ওয়ারেন হেস্টিংস সর্বোচ্চ দরদাতাকে নির্দিষ্ট সময়ের (প্রথমে পাঁচ বছর, পরে এক বছর) জন্য জমি ইজারা দেওয়ার প্রথা চালু করেন, যা ইজারাদারি ব্যবস্থা নামে পরিচিত। এটি অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ ছিল।
প্রশ্ন ১২৪: চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে কোন নতুন শ্রেণির উদ্ভব হয়?
- (ক) অনুপস্থিত জমিদার (Absentee Landlords)
- (খ) ধনী কৃষক
- (গ) শিল্পপতি
- (ঘ) ভূমিহীন শ্রমিক
সঠিক উত্তর: (ক) অনুপস্থিত জমিদার (Absentee Landlords)
ব্যাখ্যা: অনেক পুরানো জমিদার সূর্যাস্ত আইনের কারণে জমিদারি হারান এবং শহরের ধনী ব্যবসায়ীরা জমিদারি কিনে নেন। তারা গ্রামে না থেকে শহরে বসে নায়েব-গোমস্তার মাধ্যমে খাজনা আদায় করত, এদের ‘অনুপস্থিত জমিদার’ বলা হয়।
প্রশ্ন ১২৫: ব্রিটিশ ভূমি রাজস্ব নীতির মূল লক্ষ্য কী ছিল?
- (ক) ভারতের কৃষি ব্যবস্থার উন্নতি
- (খ) কৃষকদের অধিকার রক্ষা
- (গ) যতটা সম্ভব বেশি পরিমাণে রাজস্ব আদায় করা
- (ঘ) জমিদারদের সাহায্য করা
সঠিক উত্তর: (গ) যতটা সম্ভব বেশি পরিমাণে রাজস্ব আদায় করা
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশদের সকল ভূমি রাজস্ব নীতির পিছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারত থেকে সর্বাধিক আর্থিক মুনাফা অর্জন করা এবং কোম্পানির ব্যয় নির্বাহ করা। কৃষকদের স্বার্থ প্রায় সবসময়ই উপেক্ষিত হয়েছে।
প্রশ্ন ১২৬: চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে কৃষকদের অবস্থা কেমন হয়েছিল?
- (ক) তারা জমির মালিক হয়
- (খ) তাদের আর্থিক উন্নতি হয়
- (গ) তারা জমিদারদের শোষণের শিকার হয় এবং তাদের অধিকার হারায়
- (ঘ) তারা সরকারি সুরক্ষা পায়
সঠিক উত্তর: (গ) তারা জমিদারদের শোষণের শিকার হয় এবং তাদের অধিকার হারায়
ব্যাখ্যা: এই ব্যবস্থায় কৃষকদের জমির উপর বংশানুক্রমিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। তারা কেবল জমিদারের ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল প্রজায় পরিণত হয় এবং তাদের উপর খাজনার বোঝা ক্রমাগত বাড়তে থাকে।
প্রশ্ন ১২৭: ‘পট্টা’ ও ‘কবুলিয়ত’ প্রথা কোন ব্যবস্থার অংশ ছিল?
- (ক) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
- (খ) রায়তওয়ারি ব্যবস্থা
- (গ) মহলওয়ারি ব্যবস্থা
- (ঘ) ইজারাদারি ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর: (ক) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
ব্যাখ্যা: চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে নিয়ম ছিল যে জমিদার কৃষকদের ‘পট্টা’ (জমির বিবরণ ও খাজনার পরিমাণ সম্বলিত দলিল) দেবে এবং কৃষক ‘কবুলিয়ত’ (খাজনা দেওয়ার অঙ্গীকারপত্র) দেবে। কিন্তু বাস্তবে জমিদাররা প্রায়ই পট্টা দিত না, ফলে কৃষকদের শোষণ করা সহজ হতো।
প্রশ্ন ১২৮: কোন ব্যবস্থায় সরকারের সঙ্গে কৃষকদের সরাসরি সম্পর্ক স্থাপিত হয়?
- (ক) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
- (খ) মহলওয়ারি ব্যবস্থা
- (গ) রায়তওয়ারি ব্যবস্থা
- (ঘ) ইজারাদারি ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর: (গ) রায়তওয়ারি ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা: রায়তওয়ারি ব্যবস্থায় জমিদার বা অন্য কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছিল না। সরকার সরাসরি রায়ত বা কৃষকের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করত।
প্রশ্ন ১২৯: দশসালা বন্দোবস্ত কে চালু করেন?
- (ক) ওয়ারেন হেস্টিংস
- (খ) লর্ড কর্নওয়ালিস
- (গ) জন শোর
- (ঘ) রবার্ট ক্লাইভ
সঠিক উত্তর: (খ) লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা: ১৭৯০ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস দশ বছরের জন্য একটি ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা চালু করেন, যা ‘দশসালা বন্দোবস্ত’ নামে পরিচিত। তিন বছর পর এই ব্যবস্থাটিকেই ‘চিরস্থায়ী’ বলে ঘোষণা করা হয়।
প্রশ্ন ১৩০: ব্রিটিশ শাসনে ভূমি রাজস্বের হার কেমন ছিল?
- (ক) খুব কম
- (খ) সহনীয়
- (গ) অত্যন্ত বেশি
- (ঘ) উৎপাদনের উপর নির্ভরশীল ছিল না
সঠিক উত্তর: (গ) অত্যন্ত বেশি
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশদের প্রবর্তিত সকল ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থাতেই রাজস্বের হার ছিল অত্যন্ত চড়া। রায়তওয়ারি ও মহলওয়ারি ব্যবস্থায় এটি প্রায়শই মোট উৎপাদনের ৫০% বা তার বেশি ছিল, যা কৃষকদের দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ।
প্রশ্ন ১৩১: চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের একটি সুফল (কোম্পানির দৃষ্টিকোণ থেকে) কী ছিল?
- (ক) কৃষির ব্যাপক উন্নতি
- (খ) কৃষকদের সন্তুষ্টি
- (গ) জমিদার নামে এক অনুগত শ্রেণির সৃষ্টি
- (ঘ) রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর: (গ) জমিদার নামে এক অনুগত শ্রেণির সৃষ্টি
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশরা জমিদারদের জমির মালিকানা দিয়ে তাদের ব্রিটিশ শাসনের সমর্থক ও অনুগত একটি শ্রেণিতে পরিণত করতে সক্ষম হয়। এই জমিদার শ্রেণি প্রায়শই ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিদ্রোহ দমনে সহায়তা করত।
প্রশ্ন ১৩২: চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি কী হয়েছিল?
- (ক) জমিদাররা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে
- (খ) কৃষকরা কর দেওয়া বন্ধ করে দেয়
- (গ) জমির মূল্য ও উৎপাদন বাড়লেও সরকার বর্ধিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়
- (ঘ) শিল্পের অবনতি ঘটে
সঠিক উত্তর: (গ) জমির মূল্য ও উৎপাদন বাড়লেও সরকার বর্ধিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়
ব্যাখ্যা: যেহেতু রাজস্বের পরিমাণ চিরদিনের জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল, তাই ভবিষ্যতে জমির দাম বা উৎপাদন বাড়লেও সরকারের আয় বাড়ার কোনো সুযোগ ছিল না। সমস্ত অতিরিক্ত লাভ জমিদারদের পকেটে যেত।
প্রশ্ন ১৩৩: ‘মধ্যস্বত্বভোগী’ (Intermediaries) কাদের বলা হতো?
- (ক) কৃষক ও সরকারের মাঝে থাকা বিভিন্ন স্তরের ইজারাদার
- (খ) সরাসরি কৃষক
- (গ) সরকারি কর্মচারী
- (ঘ) গ্রামের মহাজন
সঠিক উত্তর: (ক) কৃষক ও সরকারের মাঝে থাকা বিভিন্ন স্তরের ইজারাদার
ব্যাখ্যা: বিশেষত চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থায়, জমিদার এবং কৃষকের মাঝে পত্তনিদার, দর-পত্তনিদার ইত্যাদি अनेक স্তরের মধ্যস্বত্বভোগীর উদ্ভব হয়, যারা প্রত্যেকেই কৃষকের উপর শোষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিত।
প্রশ্ন ১৩৪: কোন ব্যবস্থায় গ্রাম সম্প্রদায়কে রাজস্ব প্রদানের জন্য সম্মিলিতভাবে দায়ী করা হতো?
- (ক) রায়তওয়ারি
- (খ) চিরস্থায়ী
- (গ) মহলওয়ারি
- (ঘ) ইজারাদারি
সঠিক উত্তর: (গ) মহলওয়ারি
ব্যাখ্যা: মহলওয়ারি ব্যবস্থায়, রাজস্বের জন্য কোনো ব্যক্তি কৃষক বা জমিদার দায়ী থাকত না, বরং পুরো ‘মহল’ বা গ্রাম সম্প্রদায় সম্মিলিতভাবে দায়ী থাকত।
প্রশ্ন ১৩৫: ব্রিটিশ ভূমি রাজস্ব নীতির ফলে ভারতীয় গ্রামীণ অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়েছিল?
- (ক) গ্রামীণ অর্থনীতি স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল
- (খ) কৃষকদের হাতে অর্থ এসেছিল
- (গ) গ্রামীণ ঋণের বোঝা বৃদ্ধি পায় এবং কৃষকরা মহাজনদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে
- (ঘ) কুটির শিল্পের বিকাশ ঘটে
সঠিক উত্তর: (গ) গ্রামীণ ঋণের বোঝা বৃদ্ধি পায় এবং কৃষকরা মহাজনদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে
ব্যাখ্যা: চড়া রাজস্ব মেটাতে কৃষকরা প্রায়শই স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হতো। ফসলহানি হলে বা ঋণের বোঝা বাড়লে তারা প্রায়শই তাদের জমি হারাত।
প্রশ্ন ১৩৬: চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ধারণার সঙ্গে কোন ব্রিটিশ কর্মকর্তার নাম জড়িত?
- (ক) টমাস মুনরো
- (খ) আলেকজান্ডার ডাফ
- (গ) স্যার জন শোর
- (ঘ) হল্ট ম্যাকেঞ্জি
সঠিক উত্তর: (গ) স্যার জন শোর
ব্যাখ্যা: স্যার জন শোর ছিলেন কর্নওয়ালিসের প্রধান রাজস্ব উপদেষ্টা। তিনি দশসালা বন্দোবস্তকে চিরস্থায়ী করার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছিলেন।
প্রশ্ন ১৩৭: কৃষির বাণিজ্যিকীকরণ (Commercialization of Agriculture) বলতে কী বোঝায়?
- (ক) কৃষকদের ব্যবসা করা
- (খ) নিজেদের ভোগের জন্য চাষ না করে বাজারে বিক্রির জন্য নগদ ফসল (Cash Crop) চাষ করা
- (গ) কৃষিক্ষেত্রে যন্ত্রের ব্যবহার
- (ঘ) কৃষকদের ঋণ দেওয়া
সঠিক উত্তর: (খ) নিজেদের ভোগের জন্য চাষ না করে বাজারে বিক্রির জন্য নগদ ফসল (Cash Crop) চাষ করা
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ ভূমি রাজস্ব নীতি এবং বিশ্ব বাজারের চাহিদার কারণে কৃষকরা খাদ্যশস্যের পরিবর্তে নীল, তুলা, পাট, আফিম, আখ-এর মতো নগদ ফসল চাষ করতে বাধ্য হয়েছিল।
প্রশ্ন ১৩৮: ব্রিটিশ ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার কারণে কোন প্রথাগত অধিকারটি কৃষকরা হারিয়েছিল?
- (ক) গ্রামের সাধারণ জমি, গোচারণভূমি ও বনজ সম্পদে চিরাচরিত অধিকার
- (খ) কর মকুবের আবেদন করার অধিকার
- (গ) গ্রাম পঞ্চায়েতে যোগদানের অধিকার
- (ঘ) বিনা খাজনায় জমি চাষের অধিকার
সঠিক উত্তর: (ক) গ্রামের সাধারণ জমি, গোচারণভূমি ও বনজ সম্পদে চিরাচরিত অধিকার
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশরা জমির ব্যক্তিগত মালিকানার ধারণা প্রতিষ্ঠা করে। এর ফলে গ্রামের সাধারণ সম্পত্তি (Common Property), যেমন – গোচারণভূমি, বন, জলাশয় ইত্যাদির উপর গ্রামবাসীদের প্রথাগত অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, যা তাদের জীবনযাত্রায় গভীর প্রভাব ফেলে।
প্রশ্ন ১৩৯: কোন ভূমি ব্যবস্থাকে ‘জমিদারি ব্যবস্থা’ও বলা হয়?
- (ক) রায়তওয়ারি ব্যবস্থা
- (খ) মহলওয়ারি ব্যবস্থা
- (গ) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
- (ঘ) ইজারাদারি ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর: (গ) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
ব্যাখ্যা: যেহেতু এই ব্যবস্থায় জমিদাররা ছিল প্রধান শক্তি এবং জমির মালিক, তাই একে সাধারণভাবে ‘জমিদারি ব্যবস্থা’ বা ‘জমিদারি প্রথা’ বলা হয়।
প্রশ্ন ১৪০: ব্রিটিশ ভূমি রাজস্ব নীতির চূড়ান্ত ফল কী হয়েছিল?
- (ক) ভারত কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে উন্নত হয়
- (খ) ভারতের গ্রামীণ সমাজ স্থিতিশীল হয়
- (গ) ভারতীয় কৃষকদের ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য ও ঋণের বোঝা বৃদ্ধি
- (ঘ) জমিদার শ্রেণি শক্তিশালী ও স্বাধীন হয়
সঠিক উত্তর: (গ) ভারতীয় কৃষকদের ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য ও ঋণের বোঝা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা: উচ্চ হারে রাজস্ব, মহাজনী শোষণ, কৃষির বাণিজ্যিকীকরণ এবং চিরাচরিত অধিকার হারানোর ফলে ভারতীয় কৃষকরা ক্রমশ দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হতে থাকে এবং ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ে।
অধ্যায় ৫: সম্পদের নির্গমন ও অবশিল্পায়ন (প্রশ্ন ১৪১-১৭০)
প্রশ্ন ১৪১: ‘সম্পদের নির্গমন’ বা ‘Drain of Wealth’ তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তা কে ছিলেন?
- (ক) রমেশচন্দ্র দত্ত
- (খ) দাদাভাই নওরোজি
- (গ) মহাদেব গোবিন্দ রানাডে
- (ঘ) গোপাল কৃষ্ণ গোখলে
সঠিক উত্তর: (খ) দাদাভাই নওরোজি
ব্যাখ্যা: দাদাভাই নওরোজি, ‘ভারতের মহান বৃদ্ধ’ (Grand Old Man of India), তার বিখ্যাত বই “Poverty and Un-British Rule in India”-তে প্রথম এই তত্ত্বটি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
প্রশ্ন ১৪২: ‘সম্পদের নির্গমন’ বলতে কী বোঝায়?
- (ক) ভারত থেকে ব্রিটেনে কাঁচামাল রপ্তানি
- (খ) কোনো রকম বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক প্রতিদান ছাড়াই ভারত থেকে ব্রিটেনে সম্পদ স্থানান্তর
- (গ) ব্রিটিশ কর্মচারীদের ভারতে পাঠানো
- (ঘ) ভারতীয়দের বিদেশে ভ্রমণ
সঠিক উত্তর: (খ) কোনো রকম বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক প্রতিদান ছাড়াই ভারত থেকে ব্রিটেনে সম্পদ স্থানান্তর
ব্যাখ্যা: এটি ছিল একমুখী সম্পদ প্রবাহ। ব্রিটিশরা ভারতের সম্পদ (বেতন, পেনশন, লাভ, কর ইত্যাদি রূপে) ব্রিটেনে নিয়ে যেত, কিন্তু তার বিনিময়ে ভারতকে কোনো সমমূল্যের অর্থনৈতিক সুবিধা দিত না।
প্রশ্ন ১৪৩: ‘অবশিল্পায়ন’ (De-industrialization) বলতে কী বোঝায়?
- (ক) নতুন শিল্পের অভাব
- (খ) কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়া
- (গ) দেশের ঐতিহ্যবাহী বা চিরাচরিত শিল্পের ধ্বংস বা অবনতি
- (ঘ) বিদেশি শিল্পের আগমন
সঠিক উত্তর: (গ) দেশের ঐতিহ্যবাহী বা চিরাচরিত শিল্পের ধ্বংস বা অবনতি
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ নীতির ফলে ভারতের বিখ্যাত বস্ত্র, কারুশিল্প, জাহাজ নির্মাণ ইত্যাদি ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলি ধ্বংস হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়াটিই ‘অবশিল্পায়ন’ নামে পরিচিত।
প্রশ্ন ১৪৪: অবশিল্পায়নের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ভারতের কোন শিল্প?
- (ক) লৌহ শিল্প
- (খ) চিনি শিল্প
- (গ) বস্ত্র শিল্প (Cotton Textiles)
- (ঘ) জাহাজ নির্মাণ শিল্প
সঠিক উত্তর: (গ) বস্ত্র শিল্প (Cotton Textiles)
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ মিলের সস্তা কাপড়ের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা, কাঁচামাল (তুলা) ব্রিটেনে রপ্তানি এবং ভারতীয় বস্ত্রের উপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে ভারতের বিশ্ববিখ্যাত বস্ত্র শিল্প ধ্বংস হয়ে যায়।
প্রশ্ন ১৪৫: দাদাভাই নওরোজি তার কোন গ্রন্থে সম্পদের নির্গমন তত্ত্ব ব্যাখ্যা করেন?
- (ক) The Economic History of India
- (খ) Discovery of India
- (গ) Poverty and Un-British Rule in India
- (ঘ) Essays on Indian Economics
সঠিক উত্তর: (গ) Poverty and Un-British Rule in India
ব্যাখ্যা: এই যুগান্তকারী গ্রন্থে তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে দেখিয়েছেন কীভাবে ব্রিটিশ শাসন ভারতের সম্পদ শোষণ করে ব্রিটেনকে সমৃদ্ধ করছে এবং ভারতকে দরিদ্র করে তুলছে।
প্রশ্ন ১৪৬: সম্পদের নির্গমনের একটি প্রধান মাধ্যম কী ছিল?
- (ক) ভারতীয়দের উপহার
- (খ) ‘হোম চার্জেস’ (Home Charges)
- (গ) পর্যটন ব্যয়
- (ঘ) ক্রীতদাস ব্যবসা
সঠিক উত্তর: (খ) ‘হোম চার্জেস’ (Home Charges)
ব্যাখ্যা: ‘হোম চার্জেস’ ছিল লন্ডনে অবস্থিত ভারত সচিবের দপ্তরের খরচ, ব্রিটিশ কর্মচারীদের বেতন ও পেনশন, ভারতে নেওয়া ঋণের সুদ, সামরিক খরচ ইত্যাদি, যা ভারতের রাজস্ব থেকে মেটানো হতো। এটি ছিল সম্পদ নির্গমনের একটি বড় খাত।
প্রশ্ন ১৪৭: “The Economic History of India” গ্রন্থটির লেখক কে?
- (ক) দাদাভাই নওরোজি
- (খ) মহাদেব গোবিন্দ রানাডে
- (গ) গোপাল কৃষ্ণ গোখলে
- (ঘ) রমেশচন্দ্র দত্ত
সঠিক উত্তর: (ঘ) রমেশচন্দ্র দত্ত
ব্যাখ্যা: রমেশচন্দ্র দত্ত ছিলেন একজন প্রাক্তন ICS অফিসার এবং অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ। তার এই বিখ্যাত গ্রন্থে তিনি ব্রিটিশ শাসনে ভারতের অর্থনৈতিক শোষণের একটি বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন।
প্রশ্ন ১৪৮: অবশিল্পায়নের একটি প্রধান কারণ কী ছিল?
- (ক) ভারতীয় কারিগরদের দক্ষতার অভাব
- (খ) ভারতীয় পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়া
- (গ) ব্রিটিশ সরকারের বৈষম্যমূলক শুল্ক নীতি
- (ঘ) কাঁচামালের অভাব
সঠিক উত্তর: (গ) ব্রিটিশ সরকারের বৈষম্যমূলক শুল্ক নীতি
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ সরকার ব্রিটেনে তৈরি পণ্য ভারতে প্রায় বিনাশুল্কে আমদানি করার সুযোগ দিত, কিন্তু ব্রিটেনে ভারতীয় পণ্যের উপর উচ্চ হারে আমদানি শুল্ক চাপাতো। এই বৈষম্য ভারতীয় শিল্পকে ধ্বংস করে।
প্রশ্ন ১৪৯: অবশিল্পায়নের ফলে কর্মহীন কারিগররা কী করতে বাধ্য হয়েছিল?
- (ক) নতুন শিল্প স্থাপন করতে
- (খ) বিদেশে চলে যেতে
- (গ) কৃষিকাজ বা কৃষি মজুরের কাজ করতে
- (ঘ) ব্যবসা শুরু করতে
সঠিক উত্তর: (গ) কৃষিকাজ বা কৃষি মজুরের কাজ করতে
ব্যাখ্যা: শিল্প থেকে কর্মচ্যুত হয়ে লক্ষ লক্ষ কারিগর ও শিল্পী গ্রামে ফিরে গিয়ে জমির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এর ফলে কৃষিজমির উপর চাপ বাড়ে এবং ভূমিহীন কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
প্রশ্ন ১৫০: কোন ঘটনার পর থেকে সম্পদের নির্গমন ব্যাপকভাবে শুরু হয়?
- (ক) বক্সারের যুদ্ধ
- (খ) পলাশীর যুদ্ধ
- (গ) দেওয়ানি লাভ (১৭৬৫)
- (ঘ) ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ
সঠিক উত্তর: (গ) দেওয়ানি লাভ (১৭৬৫)
ব্যাখ্যা: ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার বিপুল পরিমাণ রাজস্বের উপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ লাভ করে। এই অর্থ ব্যবহার করে তারা ভারত থেকে পণ্য কিনত এবং ব্রিটেনে রপ্তানি করত, যার জন্য তাদের আর ইংল্যান্ড থেকে সোনা বা রুপা আনতে হতো না। এটিই ছিল সম্পদ নির্গমনের প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা।
প্রশ্ন ১৫১: ব্রিটিশরা ভারতকে তাদের শিল্পপণ্যের কী হিসেবে ব্যবহার করত?
- (ক) একটি প্রতিদ্বন্দ্বী
- (খ) একটি সহযোগী
- (গ) একটি সুরক্ষিত বাজার এবং কাঁচামালের উৎস
- (ঘ) একটি গবেষণাগার
সঠিক উত্তর: (গ) একটি সুরক্ষিত বাজার এবং কাঁচামালের উৎস
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক অর্থনীতির মূল বৈশিষ্ট্য ছিল ভারতকে ব্রিটেনের শিল্প বিপ্লবের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা। ভারত থেকে সস্তায় কাঁচামাল (যেমন – তুলা, পাট, নীল) নিয়ে যাওয়া হতো এবং ব্রিটেনের কারখানায় তৈরি পণ্য ভারতের বিশাল বাজারে বিক্রি করা হতো।
প্রশ্ন ১৫২: রেলপথ স্থাপন সম্পদের নির্গমনকে কীভাবে প্রভাবিত করেছিল?
- (ক) এটি সম্পদের নির্গমন কমিয়েছিল
- (খ) এটি সম্পদের নির্গমনকে ত্বরান্বিত করেছিল
- (গ) এর কোনো প্রভাব ছিল না
- (ঘ) এটি শুধুমাত্র সামরিক কারণে তৈরি হয়েছিল
সঠিক উত্তর: (খ) এটি সম্পদের নির্গমনকে ত্বরান্বিত করেছিল
ব্যাখ্যা: রেলপথ স্থাপনের মাধ্যমে ব্রিটিশরা ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে বন্দরে নিয়ে আসা এবং বন্দরের মাধ্যমে তাদের তৈরি পণ্য দেশের অভ্যন্তরে পৌঁছে দেওয়া সহজ করে তোলে। এছাড়া, রেলপথ নির্মাণে ব্যবহৃত সমস্ত সরঞ্জাম, মূলধন এবং লাভ ব্রিটেনে চলে যেত, যা সম্পদ নির্গমনের একটি বড় মাধ্যম ছিল।
প্রশ্ন ১৫৩: কোন বিখ্যাত ভারতীয় শহর অবশিল্পায়নের ফলে গুরুত্ব হারিয়েছিল?
- (ক) বোম্বে (মুম্বাই)
- (খ) ক্যালকাটা (কলকাতা)
- (গ) মুর্শিদাবাদ, ঢাকা ও সুরাট
- (ঘ) মাদ্রাজ (চেন্নাই)
সঠিক উত্তর: (গ) মুর্শিদাবাদ, ঢাকা ও সুরাট
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ শাসনের আগে মুর্শিদাবাদ (রেশম), ঢাকা (মসলিন) এবং সুরাট (বাণিজ্য কেন্দ্র) অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী শহর ছিল। ব্রিটিশ নীতির ফলে এই শহরগুলির ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও বাণিজ্য ধ্বংস হয়ে যায় এবং সেগুলি গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে।
প্রশ্ন ১৫৪: দাদাভাই নওরোজি সম্পদের নির্গমনকে কী বলে অভিহিত করেছেন?
- (ক) একটি আশীর্বাদ
- (খ) একটি প্রয়োজনীয় মন্দ (A Necessary Evil)
- (গ) অশুভের অশুভ (Evil of all evils)
- (ঘ) একটি বাণিজ্যিক লেনদেন
সঠিক উত্তর: (গ) অশুভের অশুভ (Evil of all evils)
ব্যাখ্যা: তিনি মনে করতেন যে, ব্রিটিশ শাসনের সমস্ত খারাপ দিকের মধ্যে সম্পদের নির্গমনই ছিল সবচেয়ে ক্ষতিকর, কারণ এটি ভারতের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছিল।
প্রশ্ন ১৫৫: “Economic Drain” বা অর্থনৈতিক নির্গমন তত্ত্বকে জনপ্রিয় করার জন্য কোন সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল?
- (ক) মুসলিম লীগ
- (খ) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (প্রাথমিক পর্যায়)
- (গ) আর্য সমাজ
- (ঘ) ব্রাহ্ম সমাজ
সঠিক উত্তর: (খ) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (প্রাথমিক পর্যায়)
ব্যাখ্যা: দাদাভাই নওরোজি, রমেশচন্দ্র দত্ত, রানাডের মতো নরমপন্থী কংগ্রেস নেতারা তাদের বক্তৃতা ও লেখার মাধ্যমে ব্রিটিশদের অর্থনৈতিক শোষণের স্বরূপ উন্মোচন করেন এবং এই তত্ত্বকে ভারতীয়দের মধ্যে জনপ্রিয় করে তোলেন।
প্রশ্ন ১৫৬: ব্রিটিশ শিল্প বিপ্লবের সাফল্যের পিছনে কোন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল?
- (ক) ফরাসি বিপ্লব
- (খ) আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধ
- (গ) ভারত থেকে সম্পদের নির্গমন ও বাজার দখল
- (ঘ) জার্মানির ঐক্য
সঠিক উত্তর: (গ) ভারত থেকে সম্পদের নির্গমন ও বাজার দখল
ব্যাখ্যা: পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলা থেকে প্রাপ্ত বিপুল সম্পদ এবং পরবর্তীকালে সমগ্র ভারত থেকে শোষিত সম্পদ ব্রিটেনের শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন জুগিয়েছিল। এছাড়াও, ভারতের বিশাল বাজার তাদের শিল্পপণ্য বিক্রির জন্য অপরিহার্য ছিল।
প্রশ্ন ১৫৭: অবশিল্পায়নের সামাজিক প্রভাব কী ছিল?
- (ক) শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি
- (খ) নতুন সামাজিক শ্রেণির উদ্ভব
- (গ) ঐতিহ্যবাহী কারিগর শ্রেণির ধ্বংস এবং গ্রামীণ দারিদ্র্য বৃদ্ধি
- (ঘ) নারী শিক্ষার প্রসার
সঠিক উত্তর: (গ) ঐতিহ্যবাহী কারিগর শ্রেণির ধ্বংস এবং গ্রামীণ দারিদ্র্য বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা: অবশিল্পায়ন শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ক্ষতি করেনি, এটি সামাজিক কাঠামোকেও ভেঙে দিয়েছিল। শিল্পী ও কারিগরদের সামাজিক মর্যাদা নষ্ট হয় এবং তারা দরিদ্র কৃষকে পরিণত হয়, যা গ্রামীণ সমাজে দারিদ্র্য ও অস্থিরতা বাড়িয়ে তোলে।
প্রশ্ন ১৫৮: ব্রিটিশরা ভারতীয় অর্থনীতিকে কী ধরনের অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করেছিল?
- (ক) একটি শিল্পোন্নত অর্থনীতি
- (খ) একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনীতি
- (গ) একটি ঔপনিবেশিক অর্থনীতি (Colonial Economy)
- (ঘ) একটি সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি
সঠিক উত্তর: (গ) একটি ঔপনিবেশিক অর্থনীতি (Colonial Economy)
ব্যাখ্যা: ঔপনিবেশিক অর্থনীতি এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে উপনিবেশের (ভারতের) অর্থনীতিকে সাম্রাজ্যবাদী দেশের (ব্রিটেনের) স্বার্থে পরিচালিত করা হয়। ভারতের অর্থনীতিকে ব্রিটিশ অর্থনীতির একটি সহায়ক অর্থনীতিতে পরিণত করা হয়েছিল।
প্রশ্ন ১৫৯: বাংলার কোন বিখ্যাত পণ্যটি অবশিল্পায়নের শিকার হয়েছিল?
- (ক) চা
- (খ) পাট
- (গ) মসলিন কাপড়
- (ঘ) কয়লা
সঠিক উত্তর: (গ) মসলিন কাপড়
ব্যাখ্যা: ঢাকার মসলিন কাপড় তার সূক্ষ্মতার জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত ছিল। কিন্তু ব্রিটিশদের বৈষম্যমূলক নীতি এবং ইংল্যান্ডের সস্তা কাপড়ের আমদানির ফলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
প্রশ্ন ১৬০: সম্পদের নির্গমন ভারতের উপর কী ধরনের প্রভাব ফেলেছিল?
- (ক) ভারতে মূলধন গঠন ব্যাহত করে এবং দারিদ্র্য বাড়ায়
- (খ) ভারতে শিল্পায়নকে উৎসাহিত করে
- (গ) ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য বাড়ায়
- (ঘ) ভারতের পরিকাঠামো উন্নত করে
সঠিক উত্তর: (ক) ভারতে মূলধন গঠন ব্যাহত করে এবং দারিদ্র্য বাড়ায়
ব্যাখ্যা: যে সম্পদ ভারতে বিনিয়োগ হয়ে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগতে পারত, তা ব্রিটেনে চলে যাওয়ায় ভারতে শিল্প বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে মূলধন বিনিয়োগের সুযোগ কমে যায়। এটিই ছিল ভারতের ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্যের অন্যতম মূল কারণ।
প্রশ্ন ১৬১: কোন পণ্যের রপ্তানি ভারতের অবশিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করেছিল?
- (ক) তৈরি পোশাক
- (খ) কাঁচা তুলা
- (গ) মশলা
- (ঘ) লোহা
সঠিক উত্তর: (খ) কাঁচা তুলা
ব্যাখ্যা: ভারত থেকে বিপুল পরিমাণে কাঁচা তুলা ব্রিটেনের ম্যানচেস্টার ও ল্যাঙ্কাশায়ারের বস্ত্রকলে রপ্তানি করা হতো। এর ফলে ভারতীয় তাঁতিরা নিজেদের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল পেত না, যা তাদের শিল্পকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
প্রশ্ন ১৬২: ‘একমুখী মুক্ত বাণিজ্য নীতি’ (One-way free trade policy) কী ছিল?
- (ক) শুধুমাত্র ভারতীয়দের জন্য মুক্ত বাণিজ্য
- (খ) ব্রিটিশ পণ্যের জন্য ভারতে মুক্ত বাণিজ্য, কিন্তু ব্রিটিশ বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর উচ্চ শুল্ক
- (গ) সকল দেশের জন্য মুক্ত বাণিজ্য
- (ঘ) শুধুমাত্র ব্রিটিশদের জন্য মুক্ত বাণিজ্য
সঠিক উত্তর: (খ) ব্রিটিশ পণ্যের জন্য ভারতে মুক্ত বাণিজ্য, কিন্তু ব্রিটিশ বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর উচ্চ শুল্ক
ব্যাখ্যা: এটি ব্রিটিশদের একটি অত্যন্ত বৈষম্যমূলক নীতি ছিল। তারা নিজেদের পণ্য ভারতে অবাধে বিক্রি করত, কিন্তু ভারতীয় পণ্য যাতে তাদের বাজারে প্রতিযোগিতা করতে না পারে, তার জন্য উচ্চ শুল্কের প্রাচীর তৈরি করেছিল।
প্রশ্ন ১৬৩: সম্পদের নির্গমন তত্ত্বের সমালোচক কে ছিলেন?
- (ক) জাতীয়তাবাদী নেতারা
- (খ) ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী ঐতিহাসিকরা
- (গ) মার্ক্সবাদী ঐতিহাসিকরা
- (ঘ) সাধারণ মানুষ
সঠিক উত্তর: (খ) ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী ঐতিহাসিকরা
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ ঐতিহাসিকরা এবং কর্মকর্তারা এই তত্ত্বকে অস্বীকার করতেন। তাদের যুক্তি ছিল যে, ব্রিটিশরা ভারতে আইন-শৃঙ্খলা, রেলপথ, আধুনিক প্রশাসন এনেছে, যার মূল্য হিসেবে ‘হোম চার্জেস’ নেওয়া ন্যায়সঙ্গত ছিল।
প্রশ্ন ১৬৪: অবশিল্পায়নের ফলে ভারতের অর্থনৈতিক কাঠামো কেমন হয়?
- (ক) শিল্পভিত্তিক
- (খ) বাণিজ্যভিত্তিক
- (গ) কৃষিনির্ভর এবং অনুন্নত
- (ঘ) সেবামূলক
সঠিক উত্তর: (গ) কৃষিনির্ভর এবং অনুন্নত
ব্যাখ্যা: শিল্প ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এবং কর্মহীন মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় ভারত একটি সম্পূর্ণ কৃষিনির্ভর ও অনুন্নত অর্থনীতিতে পরিণত হয়, যা ব্রিটিশদের ঔপনিবেশিক স্বার্থেরই অনুকূল ছিল।
প্রশ্ন ১৬৫: ব্রিটিশ শাসনের আগে ভারতের রপ্তানি পণ্যের মধ্যে প্রধান কী ছিল?
- (ক) কাঁচামাল (যেমন তুলা, নীল)
- (খ) খাদ্যশস্য
- (গ) শিল্পজাত দ্রব্য (যেমন বস্ত্র, মশলা, কারুপণ্য)
- (ঘ) যন্ত্রপাতি
সঠিক উত্তর: (গ) শিল্পজাত দ্রব্য (যেমন বস্ত্র, মশলা, কারুপণ্য)
ব্যাখ্যা: প্রাক-ব্রিটিশ যুগে ভারত ছিল বিশ্বের অন্যতম প্রধান শিল্পজাত পণ্য রপ্তানিকারক দেশ। ভারতীয় বস্ত্র ও মশলার চাহিদা সারা বিশ্বে ছিল।
প্রশ্ন ১৬৬: ব্রিটিশ শাসনের সময় ভারতের রপ্তানি পণ্যের চরিত্র কেমন হয়?
- (ক) শিল্পজাত দ্রব্যের রপ্তানি বাড়ে
- (খ) ভারত শিল্পজাত দ্রব্য রপ্তানিকারক থেকে কাঁচামাল রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়
- (গ) রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়
- (ঘ) শুধুমাত্র খাদ্যশস্য রপ্তানি করা হতো
সঠিক উত্তর: (খ) ভারত শিল্পজাত দ্রব্য রপ্তানিকারক থেকে কাঁচামাল রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়
ব্যাখ্যা: অবশিল্পায়নের ফলে ভারত আর শিল্পজাত পণ্য তৈরি করতে পারত না। পরিবর্তে, এটি ব্রিটিশ শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল (তুলা, পাট, নীল, চা, কফি) রপ্তানি করত এবং ব্রিটেন থেকে তৈরি পণ্য আমদানি করত।
প্রশ্ন ১৬৭: সম্পদের নির্গমন কি শুধুমাত্র আর্থিক ছিল?
- (ক) হ্যাঁ, শুধুমাত্র অর্থ ও সোনা যেত
- (খ) না, এর সঙ্গে ‘ব্রেন ড্রেন’ বা মেধা পাচারও যুক্ত ছিল
- (গ) এটি শুধুমাত্র কাঁচামালের নির্গমন ছিল
- (ঘ) এটি শুধুমাত্র সামরিক ব্যয় ছিল
সঠিক উত্তর: (খ) না, এর সঙ্গে ‘ব্রেন ড্রেন’ বা মেধা পাচারও যুক্ত ছিল
ব্যাখ্যা: সম্পদের নির্গমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ‘ব্রেন ড্রেন’। ভারতীয়দের উচ্চ পদে নিয়োগ না করায় এবং ব্রিটিশ অফিসারদের ভারতে এনে উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ায়, ভারতের প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত মেধা বিকাশের সুযোগ রুদ্ধ হয়। অর্জিত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাও ব্রিটিশদের সাথেই ভারত থেকে চলে যেত।
প্রশ্ন ১৬৮: কার্ল মার্ক্স ভারতের অবশিল্পায়ন সম্পর্কে কী মত পোষণ করতেন?
- (ক) তিনি এটিকে ভারতের জন্য উপকারী মনে করতেন
- (খ) তিনি এটিকে একটি ঐতিহাসিক প্রয়োজন বলে মনে করতেন যা ভারতের পুরোনো সমাজকে ভেঙে নতুন সমাজ গড়তে সাহায্য করবে
- (গ) তিনি এর তীব্র বিরোধিতা করেন
- (ঘ) এই বিষয়ে তার কোনো মত ছিল না
সঠিক উত্তর: (খ) তিনি এটিকে একটি ঐতিহাসিক প্রয়োজন বলে মনে করতেন যা ভারতের পুরোনো সমাজকে ভেঙে নতুন সমাজ গড়তে সাহায্য করবে
ব্যাখ্যা: কার্ল মার্ক্স ব্রিটিশ শাসনের শোষণমূলক চরিত্রের কথা স্বীকার করলেও, তিনি মনে করতেন যে ব্রিটিশরা অজান্তেই ভারতে একটি সামাজিক বিপ্লবের সূচনা করছে। তাদের দ্বারা ঐতিহ্যবাহী ‘গ্রাম সমাজের’ ধ্বংস ভারতের সামন্ততান্ত্রিক কাঠামোকে ভেঙে দেবে এবং পুঁজিবাদের বিকাশের পথ প্রশস্ত করবে।
প্রশ্ন ১৬৯: কোন অ্যাক্টের মাধ্যমে ব্রিটিশ পণ্যকে ভারতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়?
- (ক) রেগুলেটিং অ্যাক্ট, ১৭৭৩
- (খ) পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্ট, ১৭৮৪
- (গ) চার্টার অ্যাক্ট, ১৮১৩
- (ঘ) ভারত শাসন আইন, ১৮৫৮
সঠিক উত্তর: (গ) চার্টার অ্যাক্ট, ১৮১৩
ব্যাখ্যা: এই আইনের মাধ্যমে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একচেটিয়া বাণিজ্যের অধিকার খর্ব করা হয় (চা এবং চীনের সাথে বাণিজ্য ছাড়া) এবং সমস্ত ব্রিটিশ বণিকদের জন্য ভারতের দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এর ফলে ব্রিটিশ পণ্যের আমদানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
প্রশ্ন ১৭০: সম্পদের নির্গমন এবং অবশিল্পায়নের সামগ্রিক ফল কী ছিল?
- (ক) ভারতের দ্রুত আধুনিকীকরণ
- (খ) ভারতের ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য এবং ব্রিটিশ অর্থনীতির সমৃদ্ধি
- (গ) ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন
- (ঘ) ভারতের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
সঠিক উত্তর: (খ) ভারতের ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য এবং ব্রিটিশ অর্থনীতির সমৃদ্ধি
ব্যাখ্যা: এই দুটি প্রক্রিয়া ছিল একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ভারত থেকে সম্পদ শোষণ করে এবং তার শিল্প ধ্বংস করে ব্রিটেন নিজের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করেছিল, যার প্রত্যক্ষ ফল ছিল ভারতের দীর্ঘস্থায়ী দারিদ্র্য।
অধ্যায় ৬: আধুনিক শিল্পের সীমাবদ্ধ অগ্রগতি (প্রশ্ন ১৭১-২০০)
প্রশ্ন ১৭১: ভারতে প্রথম আধুনিক বস্ত্রকল (Cotton Mill) কোথায় স্থাপিত হয়েছিল?
- (ক) কলকাতা
- (খ) বোম্বে (মুম্বাই)
- (গ) আহমেদাবাদ
- (ঘ) মাদ্রাজ (চেন্নাই)
সঠিক উত্তর: (খ) বোম্বে (মুম্বাই)
ব্যাখ্যা: ১৮৫৪ সালে কাওয়াসজি নানাভাই দাভার বোম্বেতে প্রথম সফল আধুনিক সুতির বস্ত্রকল ‘বোম্বে স্পিনিং অ্যান্ড উইভিং কোম্পানি’ স্থাপন করেন। (এর আগে ১৮১৮ সালে কলকাতায় একটি প্রচেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি)।
প্রশ্ন ১৭২: ভারতে প্রথম পাটকল (Jute Mill) কোথায় স্থাপিত হয়েছিল?
- (ক) বোম্বে
- (খ) হুগলির রিষড়ায়
- (গ) কানপুর
- (ঘ) মাদ্রাজ
সঠিক উত্তর: (খ) হুগলির রিষড়ায়
ব্যাখ্যা: ১৮৫৫ সালে জর্জ অকল্যান্ড নামে একজন স্কটল্যান্ডীয় উদ্যোগপতি কলকাতার কাছে হুগলির রিষড়ায় ভারতের প্রথম পাটকল স্থাপন করেন।
প্রশ্ন ১৭৩: টাটা আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানি (TISCO) কে প্রতিষ্ঠা করেন?
- (ক) ঘনশ্যাম দাস বিড়লা
- (খ) जमशेदजी टाटा
- (গ) কাওয়াসজি নানাভাই দাভার
- (ঘ) আরদেশির গোদরেজ
সঠিক উত্তর: (খ) जमशेदजी टाटा
ব্যাখ্যা: ভারতীয় শিল্পের পথিকৃৎ जमशेदजी নাসেরওয়ানজি টাটা ১৯০৭ সালে বিহারের (বর্তমানে ঝাড়খণ্ড) সাকচিতে (বর্তমানে जमशेदपुर) এই বিশাল লৌহ ও ইস্পাত কারখানাটি প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রশ্ন ১৭৪: ঔপনিবেশিক ভারতে আধুনিক শিল্পের অগ্রগতি সীমাবদ্ধ ছিল কেন?
- (ক) ভারতীয়দের উদ্যোগের অভাব ছিল
- (খ) কাঁচামালের অভাব ছিল
- (গ) ব্রিটিশ সরকারের বৈষম্যমূলক নীতি এবং বিদেশি পুঁজির আধিপত্য
- (ঘ) শ্রমিকের অভাব ছিল
সঠিক উত্তর: (গ) ব্রিটিশ সরকারের বৈষম্যমূলক নীতি এবং বিদেশি পুঁজির আধিপত্য
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় শিল্পকে কোনো রকম সুরক্ষা বা উৎসাহ দিত না। উল্টে, শুল্ক নীতি, মাশুল নীতি (freight policy) ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্রিটিশ শিল্পের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করত। ফলে ভারতীয় উদ্যোগপতিরা অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতেন।
প্রশ্ন ১৭৫: ভারতে আধুনিক শিল্পগুলি মূলত কোন কোন ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ ছিল?
- (ক) ভারী যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক শিল্প
- (খ) বস্ত্র, পাট, চিনি ও লৌহ-ইস্পাত
- (গ) অটোমোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স
- (ঘ) সব ধরনের শিল্প সমানভাবে গড়ে উঠেছিল
সঠিক উত্তর: (খ) বস্ত্র, পাট, চিনি ও লৌহ-ইস্পাত
ব্যাখ্যা: ঔপনিবেশিক काळात আধুনিক শিল্পের বিকাশ মূলত কয়েকটি ভোগ্যপণ্য এবং মধ্যবর্তী পণ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। মূল বা ভারী শিল্প (Capital Goods Industry) প্রায় গড়ে ওঠেনি বললেই চলে।
প্রশ্ন ১৭৬: ভারতে পাট শিল্প মূলত কাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল?
- (ক) ভারতীয় উদ্যোগপতি
- (খ) ফরাসি উদ্যোগপতি
- (গ) ব্রিটিশ (বিশেষত স্কটিশ) উদ্যোগপতি
- (ঘ) পার্সি উদ্যোগপতি
সঠিক উত্তর: (গ) ব্রিটিশ (বিশেষত স্কটিশ) উদ্যোগপতি
ব্যাখ্যা: বাংলার পাট শিল্পের প্রায় পুরোটাই ছিল বিদেশি, বিশেষ করে স্কটল্যান্ডের ডান্ডি শহরের উদ্যোগপতিদের নিয়ন্ত্রণে। তারা ‘ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন’ (IJMA) তৈরি করে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখত।
প্রশ্ন ১৭৭: ভারতের আধুনিক বস্ত্র শিল্প মূলত কাদের উদ্যোগে গড়ে উঠেছিল?
- (ক) ব্রিটিশ
- (খ) মারাঠা
- (গ) ভারতীয় (বিশেষত পার্সি ও গুজরাটি) উদ্যোগপতি
- (ঘ) বাঙালি
সঠিক উত্তর: (গ) ভারতীয় (বিশেষত পার্সি ও গুজরাটি) উদ্যোগপতি
ব্যাখ্যা: পশ্চিম ভারতের বস্ত্র শিল্প ছিল মূলত ভারতীয়দের গর্বের জায়গা। কাওয়াসজি দাভার, রনছোড়লাল ছোটোলাল, जमशेदजी টাটার মতো পার্সি ও গুজরাটি ব্যবসায়ীরা এই শিল্পের বিকাশে প্রধান ভূমিকা নেন।
প্রশ্ন ১৭৮: ভারতে রেলপথ নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
- (ক) ভারতীয় জনগণের যাতায়াতের সুবিধা
- (খ) ভারতের শিল্পায়ন ঘটানো
- (গ) ব্রিটিশ বাণিজ্যিক ও সামরিক স্বার্থ রক্ষা করা
- (ঘ) দুর্ভিক্ষ পীড়িত অঞ্চলে দ্রুত খাদ্য পাঠানো
সঠিক উত্তর: (গ) ব্রিটিশ বাণিজ্যিক ও সামরিক স্বার্থ রক্ষা করা
ব্যাখ্যা: রেলপথের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল: ১. বন্দর থেকে দেশের অভ্যন্তরে ব্রিটিশ পণ্য পাঠানো, ২. দেশের ভেতর থেকে কাঁচামাল বন্দরে নিয়ে আসা, এবং ৩. বিদ্রোহ দমনের জন্য দ্রুত সেনা পাঠানো।
প্রশ্ন ১৭৯: ‘ম্যানেজিং এজেন্সি’ (Managing Agency) ব্যবস্থা কী ছিল?
- (ক) শ্রমিকদের পরিচালনার ব্যবস্থা
- (খ) একটি ব্যবস্থা যেখানে একটি সংস্থা অন্য অনেক কোম্পানির পরিচালনা ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ করত
- (গ) সরকারি শিল্প পরিচালনার ব্যবস্থা
- (ঘ) সমবায় ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর: (খ) একটি ব্যবস্থা যেখানে একটি সংস্থা অন্য অনেক কোম্পানির পরিচালনা ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ করত
ব্যাখ্যা: এটি ছিল ঔপনিবেশিক ভারতে পুঁজি নিয়ন্ত্রণের একটি বিশেষ পদ্ধতি। কয়েকটি ব্রিটিশ ম্যানেজিং এজেন্সি (যেমন – অ্যান্ড্রু ইউল, বার্ড অ্যান্ড কোং) ভারতের চা, পাট, কয়লার মতো বহু শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ করত।
প্রশ্ন ১৮০: কোন বিশ্বযুদ্ধ ভারতীয় শিল্পকে কিছুটা বিকাশের সুযোগ করে দেয়?
- (ক) ক্রিমিয়ার যুদ্ধ
- (খ) বোয়ার যুদ্ধ
- (গ) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৯১৮)
- (ঘ) রুশ-জাপান যুদ্ধ
সঠিক উত্তর: (গ) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৯১৮)
ব্যাখ্যা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের শিল্পগুলি যুদ্ধের সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত থাকায় এবং বিদেশি পণ্যের আমদানি কমে যাওয়ায়, ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার ভারতীয় শিল্পগুলির জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়। TISCO-র মতো সংস্থাগুলি এই সময় ব্যাপকভাবে লাভবান হয়।
প্রশ্ন ১৮১: ‘স্বদেশী’ আন্দোলনের (১৯০৫-০৮) ভারতীয় শিল্পের উপর কী প্রভাব পড়েছিল?
- (ক) কোনো প্রভাব পড়েনি
- (খ) ভারতীয় শিল্পের ক্ষতি হয়েছিল
- (গ) এটি দেশীয় শিল্পের বিকাশে একটি বড় উৎসাহ জুগিয়েছিল
- (ঘ) শুধুমাত্র ব্রিটিশ শিল্পের লাভ হয়েছিল
সঠিক উত্তর: (গ) এটি দেশীয় শিল্পের বিকাশে একটি বড় উৎসাহ জুগিয়েছিল
ব্যাখ্যা: বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া স্বদেশী আন্দোলনে বিদেশি পণ্য বর্জন এবং দেশীয় পণ্য গ্রহণের ডাক দেওয়া হয়। এর ফলে অনেক নতুন দেশীয় বস্ত্রকল, সাবান কারখানা, ব্যাংক ও বীমা কোম্পানি গড়ে ওঠে।
প্রশ্ন ১৮২: ঔপনিবেশিক ভারতে ‘মূলধনী পণ্য শিল্প’ (Capital Goods Industry) গড়ে না ওঠার কারণ কী?
- (ক) প্রযুক্তির অভাব
- (খ) ব্রিটিশরা চায়নি যে ভারত শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ হোক
- (গ) কাঁচামালের অভাব
- (ঘ) ভারতীয়দের অনাগ্রহ
সঠিক উত্তর: (খ) ব্রিটিশরা চায়নি যে ভারত শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ হোক
ব্যাখ্যা: মূলধনী পণ্য (যেমন – যন্ত্রপাতি, ইঞ্জিন) শিল্প হল যেকোনো দেশের শিল্পায়নের ভিত্তি। ব্রিটিশরা সচেতনভাবে এই ধরনের শিল্প ভারতে গড়ে উঠতে দেয়নি, কারণ তাহলে ভারতকে আর যন্ত্রপাতির জন্য ব্রিটেনের উপর নির্ভরশীল থাকতে হতো না।
প্রশ্ন ১৮৩: ভারতের কোন অঞ্চলে চা শিল্পের বিকাশ ঘটেছিল?
- (ক) পাঞ্জাব ও রাজস্থান
- (খ) আসাম ও বাংলা (দার্জিলিং)
- (গ) গুজরাট ও মহারাষ্ট্র
- (ঘ) কেরালা ও কর্ণাটক
সঠিক উত্তর: (খ) আসাম ও বাংলা (দার্জিলিং)
ব্যাখ্যা: আসাম এবং বাংলার পার্বত্য অঞ্চলে চা শিল্পের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছিল। এই শিল্পটিও প্রায় সম্পূর্ণরূপে ব্রিটিশ পুঁজির নিয়ন্ত্রণে ছিল।
প্রশ্ন ১৮৪: ভারতে আধুনিক শিল্পের বিকাশে একটি প্রধান বাধা কী ছিল?
- (ক) শ্রমিকদের আন্দোলন
- (খ) উন্নত প্রযুক্তিগত শিক্ষার অভাব
- (গ) বাজারের অভাব
- (ঘ) বিদ্যুতের অভাব
সঠিক উত্তর: (খ) উন্নত প্রযুক্তিগত শিক্ষার অভাব
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ সরকার ভারতে সাধারণ শিক্ষার প্রসার ঘটালেও, কারিগরি বা প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রসারে সম্পূর্ণ উদাসীন ছিল। ফলে আধুনিক শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনিশিয়ানের অভাব ছিল।
প্রশ্ন ১৮৫: ঔপনিবেশিক ভারতে কোন শিল্পের বিকাশ হয়নি বললেই চলে?
- (ক) বস্ত্র শিল্প
- (খ) পাট শিল্প
- (গ) রাসায়নিক শিল্প
- (ঘ) চিনি শিল্প
সঠিক উত্তর: (গ) রাসায়নিক শিল্প
ব্যাখ্যা: আধুনিক শিল্পায়নের জন্য রাসায়নিক শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ঔপনিবেশিক ভারতে ভারী রাসায়নিক বা সার উৎপাদনের মতো শিল্পের প্রায় কোনো বিকাশই ঘটেনি।
প্রশ্ন ১৮৬: ‘Fiscally policy of discriminating protection’ বা ‘বৈষম্যমূলক শুল্ক সংরক্ষণ নীতি’ কবে গৃহীত হয়?
- (ক) ১৯০৫ সালে
- (খ) ১৯১৯ সালে
- (গ) ১৯২৩ সালে
- (ঘ) ১৯৩৫ সালে
সঠিক উত্তর: (গ) ১৯২৩ সালে
ব্যাখ্যা: ভারতীয়দের চাপে ব্রিটিশ সরকার এই নীতি গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে কিছু নির্দিষ্ট ভারতীয় শিল্পকে (যেমন- চিনি, কাগজ, লোহা-ইস্পাত) বিদেশি প্রতিযোগিতার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সংরক্ষণমূলক শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়। কিন্তু এর প্রয়োগ ছিল খুবই সীমিত এবং ব্রিটিশ স্বার্থকে অক্ষুণ্ণ রেখেই করা হতো।
প্রশ্ন ১৮৭: ভারতের আধুনিকায়নে রেলপথের একটি ইতিবাচক দিক কী ছিল?
- (ক) এটি সম্পদের নির্গমন বাড়িয়েছিল
- (খ) এটি দেশের বিভিন্ন অংশকে যুক্ত করে জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রসারে সাহায্য করেছিল
- (গ) এটি ব্রিটিশ পুঁজির লাভ বাড়িয়েছিল
- (ঘ) এটি ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে ধ্বংস করেছিল
সঠিক উত্তর: (খ) এটি দেশের বিভিন্ন অংশকে যুক্ত করে জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রসারে সাহায্য করেছিল
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশরা নিজেদের স্বার্থে রেলপথ তৈরি করলেও, এর একটি अनपेक्षित ফল ছিল ভারতের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ বৃদ্ধি। এর ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মধ্যে আদান-প্রদান বাড়ে এবং একটি অখণ্ড ভারতের ধারণা ও জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশে সহায়তা করে।
প্রশ্ন ১৮৮: ভারতে ব্যাংক ব্যবস্থার বিকাশ সীমিত ছিল কেন?
- (ক) ভারতীয়রা সঞ্চয় করত না
- (খ) অধিকাংশ ব্যাংক ছিল ব্রিটিশদের এবং তারা ভারতীয় শিল্পকে ঋণ দিতে আগ্রহী ছিল না
- (গ) ভারতে টাকার অভাব ছিল
- (ঘ) কোনো আইন ছিল না
সঠিক উত্তর: (খ) অধিকাংশ ব্যাংক ছিল ব্রিটিশদের এবং তারা ভারতীয় শিল্পকে ঋণ দিতে আগ্রহী ছিল না
ব্যাখ্যা: ঔপনিবেশিক ভারতে অধিকাংশ বড় ব্যাংক (প্রেসিডেন্সি ব্যাংক) ছিল ব্রিটিশ মালিকানাধীন। তারা মূলত বিদেশি বাণিজ্য এবং ব্রিটিশ সংস্থাগুলিকে ঋণ দিত। ভারতীয় উদ্যোগপতিরা পুঁজির জন্য এদের উপর তেমন নির্ভর করতে পারতেন না।
প্রশ্ন ১৮৯: ভারতীয় অর্থনীতিতে ‘Enclave’ বা ‘ছিটমহল’ বলতে কী বোঝানো হতো?
- (ক) ভারতীয়দের জন্য সংরক্ষিত এলাকা
- (খ) বিদেশি পুঁজি দ্বারা নির্মিত আধুনিক শিল্পাঞ্চল (চা, কফি বাগান) যা স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কহীন ছিল
- (গ) সামরিক ঘাঁটি
- (ঘ) দেশীয় রাজ্য
সঠিক উত্তর: (খ) বিদেশি পুঁজি দ্বারা নির্মিত আধুনিক শিল্পাঞ্চল (চা, কফি বাগান) যা স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কহীন ছিল
ব্যাখ্যা: চা, কফি, রাবার বাগান বা খনি অঞ্চলের মতো শিল্পগুলি ছিল বিদেশি মালিকানাধীন। এগুলির লাভ, প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা সবই ছিল বিদেশি। এগুলি ভারতীয় অর্থনীতির মূল স্রোতের সঙ্গে যুক্ত না হয়ে এক একটি বিচ্ছিন্ন ‘ছিটমহল’ বা দ্বীপের মতো কাজ করত।
প্রশ্ন ১৯০: ১৯ শতকে ভারতের প্রধান শিল্প শহর কোনগুলি ছিল?
- (ক) দিল্লি ও আগ্রা
- (খ) বোম্বে ও আহমেদাবাদ
- (গ) মাদ্রাজ ও কলকাতা
- (ঘ) কানপুর ও লখনউ
সঠিক উত্তর: (খ) বোম্বে ও আহমেদাবাদ
ব্যাখ্যা: বস্ত্র শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে বোম্বে (মুম্বাই) এবং আহমেদাবাদ ছিল ১৯ শতকের ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং দ্রুত উন্নয়নশীল শিল্প শহর। আহমেদাবাদকে ‘ভারতের ম্যানচেস্টার’ বলা হতো।
প্রশ্ন ১৯১: কয়লা খনি শিল্প মূলত কোন অঞ্চলে বিকশিত হয়েছিল?
- (ক) মহারাষ্ট্র
- (খ) কর্ণাটক
- (গ) বাংলা ও বিহার (ঝরিয়া, রানীগঞ্জ)
- (ঘ) তামিলনাড়ু
সঠিক উত্তর: (গ) বাংলা ও বিহার (ঝরিয়া, রানীগঞ্জ)
ব্যাখ্যা: ভারতের কয়লা খনি শিল্প মূলত বাংলা ও বিহারের পূর্বাঞ্চলে কেন্দ্রীভূত ছিল। এই শিল্পও মূলত ব্রিটিশ পুঁজির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল এবং এর প্রধান ব্যবহারকারী ছিল রেলপথ ও ব্রিটিশ শিল্প।
প্রশ্ন ১৯২: ‘Stunted industrial growth’ বা ‘বামন শিল্প বৃদ্ধি’ বলতে কী বোঝায়?
- (ক) শিল্পের দ্রুত বৃদ্ধি
- (খ) শিল্পের সুষম বৃদ্ধি
- (গ) শিল্পের অসম্পূর্ণ, ধীর এবং ভারসাম্যহীন বৃদ্ধি
- (ঘ) শিল্পের পতন
সঠিক উত্তর: (গ) শিল্পের অসম্পূর্ণ, ধীর এবং ভারসাম্যহীন বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা: ঔপনিবেশিক ভারতে শিল্পের যেটুকু বৃদ্ধি হয়েছিল, তা ছিল খুবই ধীর, অসম্পূর্ণ (কিছু বিশেষ ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ) এবং ভারসাম্যহীন (মূল শিল্পের অভাব)। এই বৈশিষ্ট্যকেই ঐতিহাসিকরা ‘stunted growth’ বলে থাকেন।
প্রশ্ন ১৯৩: TISCO-র উৎপাদন কবে শুরু হয়?
- (ক) ১৯০৭ সালে
- (খ) ১৯১০ সালে
- (গ) ১৯১১-১২ সালে
- (ঘ) ১৯১৫ সালে
সঠিক উত্তর: (গ) ১৯১১-১২ সালে
ব্যাখ্যা: ১৯০৭ সালে কোম্পানি প্রতিষ্ঠা হলেও, পিগ আয়রন উৎপাদন শুরু হয় ১৯১১ সালে এবং স্টিল উৎপাদন শুরু হয় ১৯১২ সালে।
প্রশ্ন ১৯৪: ঔপনিবেশিক সরকার কোন শিল্পের প্রতি বিশেষভাবে অনুরাগী ছিল?
- (ক) ভারতীয় বস্ত্র শিল্প
- (খ) ভারতীয় লৌহ শিল্প
- (গ) চা, কফি ও পাট শিল্প (যেখানে ব্রিটিশ পুঁজি বিনিয়োগ ছিল)
- (ঘ) চিনি শিল্প
সঠিক উত্তর: (গ) চা, কফি ও পাট শিল্প (যেখানে ব্রিটিশ পুঁজি বিনিয়োগ ছিল)
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ সরকার সেইসব শিল্পের প্রতিই বেশি নজর দিত এবং সুযোগ-সুবিধা প্রদান করত, যেগুলিতে ব্রিটিশদের বিপুল পরিমাণ পুঁজি বিনিয়োগ করা ছিল এবং যেগুলি থেকে সরাসরি ব্রিটেনে লাভ যেত।
প্রশ্ন ১৯৫: ‘Laissez-faire’ বা অবাধ বাণিজ্য নীতির প্রকৃত প্রয়োগ ভারতে কেমন ছিল?
- (ক) এটি সকলের জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল
- (খ) এটি শুধুমাত্র ভারতীয়দের জন্য ছিল
- (গ) এটি ছিল একতরফা এবং ব্রিটিশদের স্বার্থে প্রয়োগ করা হতো
- (ঘ) এটি কখনোই প্রয়োগ করা হয়নি
সঠিক উত্তর: (গ) এটি ছিল একতরফা এবং ব্রিটিশদের স্বার্থে প্রয়োগ করা হতো
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশরা তত্ত্বগতভাবে ‘অবাধ বাণিজ্য’-এর কথা বললেও, বাস্তবে তারা ভারতীয় শিল্পের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক নীতি নিত এবং শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থে এই নীতিকে ব্যবহার করত। প্রয়োজনে তারা ভারতীয় শিল্পের বিকাশে বাধাও দিত।
প্রশ্ন ১৯৬: ভারতের প্রথম সিমেন্ট কারখানা কোথায় স্থাপিত হয়?
- (ক) বোম্বে
- (খ) কলকাতা
- (গ) মাদ্রাজ (চেন্নাই)
- (ঘ) দিল্লি
সঠিক উত্তর: (গ) মাদ্রাজ (চেন্নাই)
ব্যাখ্যা: ১৯০৪ সালে মাদ্রাজের কাছে সাউথ ইন্ডিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়ালস লিমিটেড দ্বারা ভারতের প্রথম সিমেন্ট কারখানা স্থাপিত হয়েছিল।
প্রশ্ন ১৯৭: ভারতীয় শিল্পের সীমাবদ্ধ অগ্রগতির জন্য দায়ী ‘ত্রয়ী’ (Trio) কী ছিল?
- (ক) জমিদার, কৃষক, শ্রমিক
- (খ) ঔপনিবেশিক সরকার, বিদেশি পুঁজি, ম্যানেজিং এজেন্সি
- (গ) কংগ্রেস, মুসলিম লীগ, হিন্দু মহাসভা
- (ঘ) খরা, বন্যা, দুর্ভিক্ষ
সঠিক উত্তর: (খ) ঔপনিবেশিক সরকার, বিদেশি পুঁজি, ম্যানেজিং এজেন্সি
ব্যাখ্যা: এই তিনটি শক্তি একযোগে কাজ করে ভারতীয় শিল্পের বিকাশকে বাধা দিয়েছে। সরকারের বৈষম্যমূলক নীতি, বিদেশি পুঁজির একচেটিয়া আধিপত্য এবং ম্যানেজিং এজেন্সিগুলোর শোষণমূলক কার্যকলাপ ভারতীয় উদ্যোগের পথ রুদ্ধ করে রেখেছিল।
প্রশ্ন ১৯৮: কোন ভারতীয় উদ্যোগপতি জাহাজ নির্মাণ শিল্পে ব্রিটিশদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার চেষ্টা করেছিলেন?
- (ক) जमशेदजी टाटा
- (খ) ভি. ও. চিদাম্বরম পিল্লাই
- (গ) ওয়ালচাঁদ হীরাচাঁদ
- (ঘ) ঘনশ্যাম দাস বিড়লা
সঠিক উত্তর: (খ) ভি. ও. চিদাম্বরম পিল্লাই
ব্যাখ্যা: স্বদেশী আন্দোলনের সময় ভি. ও. চিদাম্বরম পিল্লাই তুতিকোরিনে ‘স্বদেশী স্টিম নেভিগেশন কোম্পানি’ প্রতিষ্ঠা করে ব্রিটিশ জাহাজ কোম্পানিগুলির একচেটিয়া ব্যবসার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিযোগিতা গড়ে তুলেছিলেন।
প্রশ্ন ১৯৯: ঔপনিবেশিক ভারতে আধুনিক শিল্পের অগ্রগতিকে ‘বিকাশের বিকৃতি’ (Distorted Development) বলা হয় কেন?
- (ক) কারণ শিল্পগুলি দেখতে সুন্দর ছিল না
- (খ) কারণ বৃদ্ধি ছিল ভারসাম্যহীন এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কহীন
- (গ) কারণ শুধুমাত্র একটি অঞ্চলে শিল্প গড়ে উঠেছিল
- (ঘ) কারণ শিল্পগুলি পরিবেশ দূষণ করত
সঠিক উত্তর: (খ) কারণ বৃদ্ধি ছিল ভারসাম্যহীন এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কহীন
ব্যাখ্যা: শিল্পের যেটুকু বিকাশ ঘটেছিল, তা ভারতের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে তেমন কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। এটি ছিল একটি খণ্ডিত ও ভারসাম্যহীন বিকাশ, যা মূলত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক স্বার্থকেই পূরণ করত।
প্রশ্ন ২০০: ঔপনিবেশিক শাসনের শেষে ভারতীয় অর্থনীতির মূল বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
- (ক) একটি সমৃদ্ধ ও শিল্পোন্নত অর্থনীতি
- (খ) একটি গতিশীল ও আধুনিক অর্থনীতি
- (গ) একটি স্থবির, অনুন্নত এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতি
- (ঘ) একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রামীণ অর্থনীতি
সঠিক উত্তর: (গ) একটি স্থবির, অনুন্নত এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতি
ব্যাখ্যা: প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের পর ভারত যখন স্বাধীনতা লাভ করে, তখন তার অর্থনীতি ছিল স্থবির, শিল্পে অনগ্রসর, কৃষির উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল এবং ব্যাপক দারিদ্র্যপীড়িত। ব্রিটিশ শোষণ ভারতের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডকে ভেঙে দিয়েছিল।