এখানে দিল্লি সুলতানির প্রতিষ্ঠা, দাস বংশ, খলজি ও তুঘলক বংশ, প্রশাসনিক ও প্রাদেশিক ব্যবস্থা, খলজি বিপ্লব এবং বিজয়নগর সাম্রাজ্যের উপর ভিত্তি করে ২০০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও তাদের বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো। প্রতিটি প্রশ্নের নিচের “উত্তর দেখুন” বোতামে ক্লিক করে সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা জানতে পারবেন।
বিভাগ ১: দিল্লি সুলতানির প্রতিষ্ঠা ও দাস বংশ
1. ভারতে দিল্লি সুলতানির প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: (খ) কুতুবউদ্দিন আইবক
ব্যাখ্যা: মহম্মদ ঘোরির মৃত্যুর পর তার সেনাপতি কুতুবউদ্দিন আইবক ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে স্বাধীন সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন, যা দিল্লি সুলতানি নামে পরিচিত। তিনি দাস বংশের প্রথম শাসক ছিলেন।
2. দিল্লির কোন সুলতানকে ‘লাখবখশ’ বা ‘লক্ষদাতা’ বলা হত?
সঠিক উত্তর: (গ) কুতুবউদ্দিন আইবক
ব্যাখ্যা: কুতুবউদ্দিন আইবক তার অপরিসীম দানশীলতার জন্য ‘লাখবখশ’ বা লক্ষদাতা নামে পরিচিত ছিলেন।
3. কুতুব মিনার নির্মাণ কাজ কে শুরু করেন?
সঠিক উত্তর: (গ) কুতুবউদ্দিন আইবক
ব্যাখ্যা: সুফি সাধক খাজা কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকির স্মরণে কুতুবউদ্দিন আইবক দিল্লিতে কুতুব মিনার নির্মাণ কাজ শুরু করেন। তবে তিনি এটি সম্পূর্ণ করতে পারেননি।
4. দিল্লি সুলতানির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কাকে বলা হয়?
সঠিক উত্তর: (গ) ইলতুৎমিশ
ব্যাখ্যা: যদিও কুতুবউদ্দিন আইবক সুলতানির প্রতিষ্ঠা করেন, ইলতুৎমিশই অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন করে, মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করে এবং খলিফার কাছ থেকে স্বীকৃতি লাভ করে সুলতানিকে একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করেন। তাই তাকেই প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
5. ‘বন্দেগান-ই-চাহালগানি’ বা চল্লিশ চক্র কে গঠন করেন?
সঠিক উত্তর: (খ) ইলতুৎমিশ
ব্যাখ্যা: সুলতান ইলতুৎমিশ তার শাসনকে সুদৃঢ় করতে ৪০ জন বিশ্বস্ত তুর্কি ক্রীতদাস অভিজাতদের নিয়ে একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী গঠন করেন, যা ‘বন্দেগান-ই-চাহালগানি’ বা চল্লিশ চক্র নামে পরিচিত ছিল।
6. ‘ইকতা’ প্রথা কে প্রবর্তন করেন?
সঠিক উত্তর: (গ) ইলতুৎমিশ
ব্যাখ্যা: ইলতুৎমিশ সাম্রাজ্যকে বিভিন্ন প্রদেশে ভাগ করে প্রত্যেক প্রদেশের শাসনভার সামরিক কর্মচারীদের হাতে দেন। এই প্রদেশগুলিকে বলা হত ‘ইকতা’ এবং এর শাসকদের বলা হত ‘ইকতাদার’ বা ‘মুক্তি’। এটি ছিল ভূমি-রাজস্ব ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
7. দিল্লি সুলতানির প্রথম ও একমাত্র মহিলা শাসক কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: (গ) সুলতানা রাজিয়া
ব্যাখ্যা: ইলতুৎমিশের কন্যা রাজিয়া ১২৩৬ থেকে ১২৪০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দিল্লির সিংহাসনে বসেন। তিনি ছিলেন দিল্লি সুলতানির ইতিহাসে একমাত্র নারী শাসক।
8. কোন সুলতান ‘চল্লিশ চক্র’-এর ক্ষমতা খর্ব করেন?
সঠিক উত্তর: (গ) গিয়াসউদ্দিন বলবন
ব্যাখ্যা: বলবন নিজে চল্লিশ চক্রের সদস্য ছিলেন এবং এর ক্ষমতা ও প্রভাব সম্পর্কে অবহিত ছিলেন। সিংহাসনে বসে তিনি সুলতানের ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করতে এই শক্তিশালী অভিজাত গোষ্ঠীর ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেন।
9. ‘রক্ত ও লৌহ’ নীতি (Blood and Iron Policy) কোন সুলতান গ্রহণ করেন?
সঠিক উত্তর: (ঘ) গিয়াসউদ্দিন বলবন
ব্যাখ্যা: বলবন সুলতানের মর্যাদা ও ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের জন্য কঠোর নীতি গ্রহণ করেন। তিনি বিদ্রোহ দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য নির্মম ‘রক্ত ও লৌহ’ নীতি প্রয়োগ করেন।
10. পারস্যের উৎসব ‘নওরোজ’ ভারতে কে প্রবর্তন করেন?
সঠিক উত্তর: (খ) বলবন
ব্যাখ্যা: সুলতানের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য গিয়াসউদ্দিন বলবন তার দরবারে পারস্যের রাজকীয় রীতিনীতি চালু করেন। এর অংশ হিসেবে তিনি পারস্যের নববর্ষ উৎসব ‘নওরোজ’ পালন শুরু করেন।
11. ‘সিজদা’ ও ‘পাইবস’ প্রথা কে চালু করেন?
সঠিক উত্তর: (ক) বলবন
ব্যাখ্যা: গিয়াসউদ্দিন বলবন দরবারে সুলতানের প্রতি চরম আনুগত্য প্রদর্শনের জন্য দুটি প্রথা চালু করেন: ‘সিজদা’ (সুলতানকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম) এবং ‘পাইবস’ (সুলতানের পদযুগল চুম্বন)।
12. দাস বংশের শেষ সুলতান কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: (গ) কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা: বলবনের মৃত্যুর পর তার অযোগ্য উত্তরাধিকারী কায়কোবাদ ও তার শিশুপুত্র কায়ুমার্স সিংহাসনে বসেন। জালালউদ্দিন খলজি কায়কোবাদকে হত্যা করে দাস বংশের শাসনের অবসান ঘটান। সাধারণত কায়কোবাদকেই শেষ উল্লেখযোগ্য শাসক ধরা হয়।
13. কুতুবউদ্দিন আইবকের রাজধানী কোথায় ছিল?
সঠিক উত্তর: (গ) লাহোর
ব্যাখ্যা: কুতুবউদ্দিন আইবক তার শাসনকালের বেশিরভাগ সময় লাহোর থেকে শাসনকার্য পরিচালনা করেন। পরবর্তীকালে ইলতুৎমিশ দিল্লিকে রাজধানীতে পরিণত করেন।
14. কার शासनকালে চেঙ্গিজ খানের নেতৃত্বে মোঙ্গলরা ভারতের সীমান্তে উপস্থিত হয়?
সঠিক উত্তর: (খ) ইলতুৎমিশ
ব্যাখ্যা: ইলতুৎমিশের রাজত্বকালে চেঙ্গিজ খান খাওয়ারিজমের যুবরাজ জালালউদ্দিনকে তাড়া করতে করতে সিন্ধু নদের তীরে উপস্থিত হন। ইলতুৎমিশ জালালউদ্দিনকে আশ্রয় না দিয়ে কূটনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দেন এবং দিল্লিকে মোঙ্গল আক্রমণ থেকে রক্ষা করেন।
15. সুলতানা রাজিয়ার পতনের মূল কারণ কী ছিল?
সঠিক উত্তর: (ক) তার নারী হওয়া এবং পুরুষোচিত আচরণ
ব্যাখ্যা: তৎকালীন তুর্কি অভিজাতরা একজন নারীকে শাসক হিসেবে মেনে নিতে পারেননি। রাজিয়ার পর্দাপ্রথা ত্যাগ, পুরুষদের পোশাক পরা এবং அபிসিনীয় ক্রীতদাস জামালউদ্দিন ইয়াকুতকে উচ্চপদে নিয়োগ তাদের ক্ষুব্ধ করে তোলে, যা তার পতনের মূল কারণ।
বিভাগ ২: খলজি বংশ ও খলজি বিপ্লব
16. ‘খলজি বিপ্লব’ বলতে কী বোঝায়?
সঠিক উত্তর: (খ) দাস বংশের অবসান এবং খলজিদের ক্ষমতা দখল
ব্যাখ্যা: ১২৯০ সালে জালালউদ্দিন খলজির নেতৃত্বে খলজিরা ইলবারি তুর্কি অভিজাতদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিল্লির সিংহাসন দখল করে। এই ঘটনাকে ‘খলজি বিপ্লব’ বলা হয়, কারণ এটি শাসনের ক্ষেত্রে তুর্কিদের একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান ঘটায় এবং প্রমাণ করে যে সামরিক শক্তিই ক্ষমতার উৎস, বংশমর্যাদা নয়।
17. খলজি বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: (গ) জালালউদ্দিন ফিরোজ খলজি
ব্যাখ্যা: জালালউদ্দিন ফিরোজ খলজি ১২৯০ খ্রিস্টাব্দে দাস বংশের শেষ শাসককে হত্যা করে দিল্লিতে খলজি বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
18. দিল্লির কোন সুলতান সর্বপ্রথম দাক্ষিণাত্য অভিযান করেন?
সঠিক উত্তর: (গ) আলাউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজিই প্রথম দিল্লির সুলতান যিনি বিন্ধ্য পর্বত অতিক্রম করে দাক্ষিণাত্যে সফল সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন। তার সেনাপতি মালিক কাফুর এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন।
19. আলাউদ্দিন খলজির দাক্ষিণাত্য অভিযানের প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: (ঘ) মালিক কাফুর
ব্যাখ্যা: মালিক কাফুর ছিলেন আলাউদ্দিন খলজির একজন ক্রীতদাস এবং বিশ্বস্ত সেনাপতি। তিনি দেবগিরি, ওয়ারাঙ্গল, দ্বারসমুদ্র এবং মাদুরাই পর্যন্ত সফল অভিযান চালিয়ে সুলতানির জন্য বিপুল সম্পদ সংগ্রহ করেন।
20. বাজারদর নিয়ন্ত্রণ নীতি (Market Control Policy) কে প্রবর্তন করেন?
সঠিক উত্তর: (খ) আলাউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি একটি বিশাল স্থায়ী সেনাবাহিনী রাখার জন্য সৈন্যদের কম বেতনে সন্তুষ্ট রাখতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন। এই নীতির সফল প্রয়োগের জন্য তিনি ‘শাহানা-ই-মান্ডি’ এবং ‘দেওয়ান-ই-রিয়াসত’ নামক পদ তৈরি করেন।
21. ‘দাগ’ (ঘোড়ার চিহ্নিতকরণ) ও ‘হুলিয়া’ (সৈন্যদের দৈহিক বিবরণ) প্রথা কে চালু করেন?
সঠিক উত্তর: (গ) আলাউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা: সামরিক বিভাগে দুর্নীতি রোধ করতে এবং সেনাবাহিনীর কার্যকারিতা বাড়াতে আলাউদ্দিন খলজি এই দুটি প্রথা চালু করেন। ‘দাগ’ প্রথায় রাজকীয় ঘোড়াগুলিকে চিহ্নিত করা হত এবং ‘হুলিয়া’ প্রথায় প্রত্যেক সৈন্যের দৈহিক বিবরণ নথিভুক্ত করা হত।
22. আলাউদ্দিন খলজির চিতোর অভিযানের সময় সেখানকার রানি কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: (খ) রানি পদ্মিনী (পদ্মাবতী)
ব্যাখ্যা: মালিক মুহম্মদ জায়সির ‘পদ্মাবৎ’ কাব্য অনুসারে, ১৩০৩ সালে আলাউদ্দিন খলজির চিতোর অভিযানের সময় সেখানকার রানি ছিলেন পদ্মিনী। তার সম্মান রক্ষার্থে তিনি অন্যান্য রাজপুত নারীদের সঙ্গে ‘জহর’ ব্রত পালন করেন।
23. কে নিজেকে ‘দ্বিতীয় আলেকজান্ডার’ বা ‘সিকান্দার-ই-সানি’ উপাধিতে ভূষিত করেন?
সঠিক উত্তর: (গ) আলাউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা: তার ব্যাপক সাম্রাজ্যিক সাফল্য এবং বিশ্বজয়ের আকাঙ্ক্ষার কারণে আলাউদ্দিন খলজি তার মুদ্রায় নিজেকে ‘সিকান্দার-ই-সানি’ বা দ্বিতীয় আলেকজান্ডার হিসেবে উল্লেখ করেন।
24. ‘আমির খসরু’ কোন সুলতানের সভাকবি ছিলেন?
সঠিক উত্তর: (ঘ) উপরের সকলের
ব্যাখ্যা: আমির খসরু, ‘ভারতের তোতাপাখি’ নামে পরিচিত, একজন বিখ্যাত কবি ও সংগীতজ্ঞ ছিলেন। তিনি বলবন থেকে শুরু করে গিয়াসউদ্দিন তুঘলক পর্যন্ত দিল্লির সাতজন সুলতানের শাসনকাল দেখেছিলেন এবং আলাউদ্দিন খলজির প্রধান সভাকবি ছিলেন।
25. আলাউদ্দিন খলজি কোন দুটি নতুন কর চালু করেন?
সঠিক উত্তর: (খ) ঘরি ও চরাই
ব্যাখ্যা: রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য আলাউদ্দিন খলজি দুটি নতুন কর চালু করেন: ‘ঘরি’ (গৃহকর) এবং ‘চরাই’ (চারণভূমির উপর কর)। তিনি ভূমিরাজস্বের হারও বাড়িয়ে উৎপাদনের ৫০% নির্ধারণ করেন।
বিভাগ ৩: তুঘলক বংশ
26. তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: (গ) গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
ব্যাখ্যা: খলজি বংশের শেষ শাসক खुसरु खान-কে পরাজিত করে গাজী মালিক ১৩২০ খ্রিস্টাব্দে গিয়াসউদ্দিন তুঘলক উপাধি নিয়ে দিল্লির সিংহাসনে বসেন এবং তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
27. কোন সুলতান তার রাজধানী দিল্লি থেকে দৌলতাবাদে (দেবগিরি) স্থানান্তর করেন?
সঠিক উত্তর: (খ) মহম্মদ বিন তুঘলক
ব্যাখ্যা: ১৩২৭ খ্রিস্টাব্দে মহম্মদ বিন তুঘলক সাম্রাজ্যের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত দেবগিরিতে রাজধানী স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন এবং এর নতুন নাম দেন দৌলতাবাদ। মোঙ্গল আক্রমণ থেকে রাজধানীকে সুরক্ষিত রাখা এবং দাক্ষিণাত্যের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল, কিন্তু এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।
28. প্রতীকী মুদ্রা বা টোকেন কারেন্সি (Token Currency) কে প্রবর্তন করেন?
সঠিক উত্তর: (গ) মহম্মদ বিন তুঘলক
ব্যাখ্যা: বিশ্বব্যাপী রুপার ঘাটতির কারণে এবং চীনের কুবলাই খানের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে মহম্মদ বিন তুঘলক রুপার মুদ্রার পরিবর্তে ব্রোঞ্জ বা তামার প্রতীকী মুদ্রা চালু করেন। কিন্তু ব্যাপক জালিয়াতির কারণে এই প্রকল্পটিও ব্যর্থ হয়।
29. কোন সুলতানকে ‘পাগলা রাজা’ বা ‘বিরোধাভাসের মিশ্রণ’ (Mixture of Opposites) বলা হয়?
সঠিক উত্তর: (খ) মহম্মদ বিন তুঘলক
ব্যাখ্যা: মহম্মদ বিন তুঘলক অত্যন্ত বিদ্বান ও প্রতিভাবান হলেও তার অনেক যুগান্তকারী পরিকল্পনা সঠিক রূপায়ণের অভাবে ব্যর্থ হয় এবং জনগণের চরম দুর্দশার কারণ হয়। তার এই পরস্পরবিরোধী চরিত্রের জন্য ঐতিহাসিকরা তাকে এই নামে অভিহিত করেন।
30. কার রাজত্বকালে বিখ্যাত মরক্কোর পর্যটক ইবন বতুতা ভারতে আসেন?
সঠিক উত্তর: (ঘ) মহম্মদ বিন তুঘলক
ব্যাখ্যা: বিখ্যাত পর্যটক ইবন বতুতা ১৩৩৩ খ্রিস্টাব্দে মহম্মদ বিন তুঘলকের রাজত্বকালে ভারতে আসেন। সুলতান তাকে দিল্লির কাজী বা বিচারক নিযুক্ত করেন। তার ভ্রমণ বৃত্তান্ত ‘কিতাব-উল-রিহলা’ থেকে তুঘলক যুগ সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা যায়।
31. ‘দেওয়ান-ই-কোহি’ নামে একটি নতুন কৃষি বিভাগ কে তৈরি করেন?
সঠিক উত্তর: (খ) মহম্মদ বিন তুঘলক
ব্যাখ্যা: দোয়াব অঞ্চলে কর বৃদ্ধির পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর কৃষির উন্নতির জন্য মহম্মদ বিন তুঘলক ‘দেওয়ান-ই-আমির-কোহি’ নামে একটি পৃথক কৃষি বিভাগ স্থাপন করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনা এবং কৃষকদের ঋণ (তাকাভি) প্রদান করা।
32. সুলতানি যুগের আকবর কাকে বলা হয়?
সঠিক উত্তর: (গ) ফিরোজ শাহ তুঘলক
ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলক তার জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য, যেমন – খাল খনন, হাসপাতাল নির্মাণ (দার-উল-শিফা), দাতব্য বিভাগ (দেওয়ান-ই-খয়রাত), কর্মসংস্থান দপ্তর তৈরি ইত্যাদি কারণে ঐতিহাসিক হেনরি ইলিয়ট ও এলফিনস্টোন তাকে ‘সুলতানি যুগের আকবর’ বলে অভিহিত করেছেন।
33. কোন সুলতান সর্বপ্রথম ব্রাহ্মণদের উপর জিজিয়া কর আরোপ করেন?
সঠিক উত্তর: (গ) ফিরোজ শাহ তুঘলক
ব্যাখ্যা: এর আগে পর্যন্ত ব্রাহ্মণরা জিজিয়া করের আওতার বাইরে ছিলেন। ফিরোজ শাহ তুঘলক উলেমাদের সন্তুষ্ট করতে এবং ইসলামি আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে ব্রাহ্মণদের উপরেও জিজিয়া কর আরোপ করেন।
34. ‘দেওয়ান-ই-বন্দগান’ (ক্রীতদাসদের জন্য বিভাগ) কে স্থাপন করেন?
সঠিক উত্তর: (খ) ফিরোজ শাহ তুঘলক
ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলকের বিপুল সংখ্যক ক্রীতদাস ছিল। তাদের দেখাশোনা এবং প্রশিক্ষণের জন্য তিনি ‘দেওয়ান-ই-বন্দগান’ নামে একটি পৃথক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন।
35. কার রাজত্বকালে তৈমুর লঙ ভারত আক্রমণ করেন?
সঠিক উত্তর: (গ) নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ তুঘলক
ব্যাখ্যা: তুঘলক বংশের শেষদিকের শাসক নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের রাজত্বকালে ১৩৯৮ খ্রিস্টাব্দে মধ্য এশিয়ার শাসক তৈমুর লঙ দিল্লি আক্রমণ করেন। এই আক্রমণ দিল্লি সুলতানির ভিত্তিকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দেয়।
বিভাগ ৪: প্রশাসনিক কাঠামো, ধর্মাশ্রয়ী রাষ্ট্র ও প্রাদেশিক শাসন
36. সুলতানি আমলে প্রধানমন্ত্রীর পদটি কী নামে পরিচিত ছিল?
সঠিক উত্তর: (খ) ওয়াজির
ব্যাখ্যা: সুলতানি কেন্দ্রীয় প্রশাসনে সুলতানের পরেই সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন ওয়াজির বা প্রধানমন্ত্রী। তিনি মূলত রাজস্ব বিভাগের (দেওয়ান-ই-উজিরাত) প্রধান হলেও অন্যান্য বিভাগের উপরও তার নিয়ন্ত্রণ ছিল।
37. ‘দেওয়ান-ই-আরজ’ কোন বিভাগের দায়িত্বে ছিল?
সঠিক উত্তর: (গ) সামরিক বিভাগ
ব্যাখ্যা: গিয়াসউদ্দিন বলবন সামরিক ব্যবস্থাকে পুনর্গঠিত করার জন্য ‘দেওয়ান-ই-আরজ’ বা সামরিক বিভাগ তৈরি করেন। এর প্রধানকে বলা হত ‘আরিজ-ই-মুমালিক’। তার দায়িত্ব ছিল সৈন্য নিয়োগ, বেতন প্রদান এবং সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধান করা।
38. সুলতানি আমলে প্রদেশের শাসকদের কী বলা হত?
সঠিক উত্তর: (খ) মুক্তি বা ওয়ালি
ব্যাখ্যা: সুলতানি সাম্রাজ্যকে কয়েকটি প্রদেশে বা ‘ইকতা’-তে ভাগ করা হয়েছিল। এই প্রদেশগুলির শাসকদের ‘মুক্তি’ বা ‘ওয়ালি’ বলা হত। তাদের প্রধান কাজ ছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং রাজস্ব আদায় করে সুলতানের কোষাগারে পাঠানো।
39. সুলতানি শাসন কি একটি ধর্মাশ্রয়ী রাষ্ট্র (Theocratic State) ছিল?
সঠিক উত্তর: (গ) তাত্ত্বিকভাবে ধর্মাশ্রয়ী, কিন্তু বাস্তবে প্রায়ই রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হত
ব্যাখ্যা: তাত্ত্বিকভাবে দিল্লি সুলতানি ছিল একটি ইসলামি বা ধর্মাশ্রয়ী রাষ্ট্র, যেখানে কোরান ও শরিয়ত ছিল আইনের ভিত্তি এবং সুলতানরা খলিফার প্রতিনিধি হিসেবে শাসন করতেন। কিন্তু বাস্তবে, বিশেষত আলাউদ্দিন খলজি এবং মহম্মদ বিন তুঘলকের মতো শাসকরা রাষ্ট্রের স্বার্থকে (State’s necessity) উলেমাদের পরামর্শের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন। তাই এটি একটি মিশ্র প্রকৃতির শাসন ছিল।
40. ‘জিজিয়া’ কর কী ছিল?
সঠিক উত্তর: (খ) অ-মুসলিমদের উপর ধার্য নিরাপত্তা কর
ব্যাখ্যা: ‘জিজিয়া’ ছিল ইসলামি রাষ্ট্রে বসবাসকারী অ-মুসলিম প্রজাদের উপর ধার্য এক প্রকার কর। এই করের বিনিময়ে রাষ্ট্র তাদের জীবন, সম্পত্তি এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব নিত। নারী, শিশু, বৃদ্ধ এবং পুরোহিতরা সাধারণত এই করের আওতার বাইরে থাকতেন।
41. সুলতানি আমলে গুপ্তচর বিভাগের প্রধানকে কী বলা হত?
সঠিক উত্তর: (খ) Barid-i-Mumalik
ব্যাখ্যা: সুলতানি আমলে গুপ্তচর এবং সংবাদ সরবরাহ ব্যবস্থার প্রধান ছিলেন বারিদ-ই-মুমালিক। সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ‘বারিদ’ বা গুপ্তচররা নিযুক্ত থাকত, যারা সুলতানকে রাজ্যের সমস্ত খবরাখবর দিত।
42. কোন সুলতান বলেছিলেন, “আমি শরিয়ত জানি না, রাজ্যের জন্য যা প্রয়োজন তাই করি”?
সঠিক উত্তর: (গ) আলাউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি ছিলেন একজন বাস্তববাদী শাসক যিনি রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনকে ধর্মীয় আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছিলেন। উলেমাদের প্রভাব খর্ব করে তিনি বলেছিলেন যে তিনি শরিয়ত অনুযায়ী শাসন করেন না, বরং রাষ্ট্রের মঙ্গলের জন্য যা প্রয়োজন, সেই আইনই তিনি প্রণয়ন করেন। এটি ধর্মাশ্রয়ী রাষ্ট্রের ধারণার উপর একটি বড় আঘাত ছিল।
বিভাগ ৫: বিজয়নগর সাম্রাজ্য
43. বিজয়নগর সাম্রাজ্য কোন নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল?
সঠিক উত্তর: (গ) তুঙ্গভদ্রা
ব্যাখ্যা: ১৩৩৬ খ্রিস্টাব্দে হরিহর ও বুক্কা তুঙ্গভদ্রা নদীর দক্ষিণ তীরে বিজয়নগর সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল দাক্ষিণাত্যে দিল্লি সুলতানির আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি হিন্দু প্রতিরোধ।
44. বিজয়নগর সাম্রাজ্য কোন দিল্লি সুলতানের রাজত্বকালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
সঠিক উত্তর: (গ) মহম্মদ বিন তুঘলক
ব্যাখ্যা: মহম্মদ বিন তুঘলকের শাসনের শেষদিকে সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিদ্রোহ দেখা দেয়। এই রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়েই দাক্ষিণাত্যে হরিহর ও বুক্কা বিজয়নগর এবং হাসান গাঙ্গু বাহমনি রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
45. বিজয়নগর সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ শাসক কাকে মনে করা হয়?
সঠিক উত্তর: (গ) কৃষ্ণদেব রায়
ব্যাখ্যা: তুলুব বংশের শাসক কৃষ্ণদেব রায় (১৫০৯-১৫২৯) ছিলেন বিজয়নগর সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক। তার সময়ে সাম্রাজ্য সামরিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক দিক থেকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছায়। তিনি নিজেও একজন কবি ও সাহিত্যিক ছিলেন।
46. তালিকোটার যুদ্ধ (Battle of Talikota) কবে হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: (গ) ১৫৬৫
ব্যাখ্যা: ১৫৬৫ খ্রিস্টাব্দে তালিকোটার যুদ্ধ (যা রাক্ষসী-তাঙ্গাদির যুদ্ধ নামেও পরিচিত) হয়েছিল বিজয়নগর সাম্রাজ্য এবং দাক্ষিণাত্যের চারটি মুসলিম সুলতানি (আহমদনগর, বিজাপুর, গোলকোন্ডা, বিদর) জোটের মধ্যে। এই যুদ্ধে বিজয়নগরের শোচনীয় পরাজয় ঘটে এবং রাজধানী শহরটি ধ্বংস হয়ে যায়, যা সাম্রাজ্যের পতনের কারণ হয়।
47. কোন পর্যটকের লেখা থেকে বিজয়নগর সাম্রাজ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়?
সঠিক উত্তর: (গ) নিকোলো কন্টি এবং আবদুর রাজ্জাক
ব্যাখ্যা: ইতালীয় পর্যটক নিকোলো কন্টি (প্রথম দেবরায়ের সময়) এবং পারস্যের দূত আবদুর রাজ্জাক (দ্বিতীয় দেবরায়ের সময়) বিজয়নগর ভ্রমণ করেন। তাদের বিশদ বিবরণ থেকে তৎকালীন বিজয়নগরের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জানা যায়।
48. ‘অষ্টদিগ্গজ’ নামে আটজন বিখ্যাত তেলেগু কবি কার রাজসভা অলংকৃত করতেন?
সঠিক উত্তর: (খ) কৃষ্ণদেব রায়
ব্যাখ্যা: কৃষ্ণদেব রায় নিজে একজন বড় পণ্ডিত ছিলেন এবং শিল্প-সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তার রাজসভায় ‘অষ্টদিগ্গজ’ নামে আটজন সেরা তেলেগু কবি ছিলেন, যারা তেলেগু সাহিত্যের স্বর্ণযুগ রচনা করেন।
49. বিজয়নগর ও বাহমনি রাজ্যের মধ্যে বিবাদের প্রধান কারণ কী ছিল?
সঠিক উত্তর: (গ) রায়চুর দোয়াব অঞ্চলের অধিকার
ব্যাখ্যা: কৃষ্ণা ও তুঙ্গভদ্রা নদীর মধ্যবর্তী উর্বর রায়চুর দোয়াব অঞ্চলের অধিকার নিয়েই মূলত বিজয়নগর ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী বাহমনি রাজ্যের মধ্যে প্রায় ২০০ বছর ধরে সংঘর্ষ চলেছিল।
50. বিজয়নগর সাম্রাজ্যের ধ্বংসাবশেষ বর্তমানে কোন স্থানে দেখতে পাওয়া যায়?
সঠিক উত্তর: (গ) হাম্পি
ব্যাখ্যা: কর্ণাটকের হাম্পি শহরে বিজয়নগর সাম্রাজ্যের রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ অবস্থিত। এখানকার বিরুপাক্ষ মন্দির, বিট্ঠল স্বামী মন্দির, মহানবমী ডিব্বা ইত্যাদি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত।
বিভাগ ১ এর অতিরিক্ত প্রশ্ন (দাস বংশ)
51. ‘আড়াই দিন কা ঝোপড়া’ মসজিদটি কে নির্মাণ করেন?
সঠিক উত্তর: (খ) কুতুবউদ্দিন আইবক
ব্যাখ্যা: কুতুবউদ্দিন আইবক আজমিরে একটি সংস্কৃত বিদ্যালয়কে মসজিদে রূপান্তরিত করেন, যা ‘আড়াই দিন কা ঝোপড়া’ নামে পরিচিত।
52. কুতুব মিনারের নির্মাণ কাজ কে সম্পন্ন করেন?
সঠিক উত্তর: (গ) ইলতুৎমিশ
ব্যাখ্যা: কুতুবউদ্দিন আইবক কুতুব মিনারের নির্মাণ শুরু করলেও, তার জামাতা ও উত্তরাধিকারী ইলতুৎমিশ এর কাজ সম্পন্ন করেন। পরে বজ্রপাতে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফিরোজ শাহ তুঘলক এটি মেরামত করান।
53. ইলতুৎমিশ কোন খলিফার কাছ থেকে ‘সুলতান-ই-আজম’ উপাধি লাভ করেন?
সঠিক উত্তর: (ক) বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফা আল-মুস্তানসির বিল্লাহ
ব্যাখ্যা: ১২২৯ খ্রিস্টাব্দে ইলতুৎমিশ বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফার কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বা ‘মানসুর’ এবং ‘সুলতান-ই-আজম’ (মহান সুলতান) উপাধি লাভ করেন। এটি দিল্লি সুলতানিকে একটি বৈধ ইসলামি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়।
54. গিয়াসউদ্দিন বলবনের আসল নাম কী ছিল?
সঠিক উত্তর: (গ) বাহাউদ্দিন
ব্যাখ্যা: গিয়াসউদ্দিন বলবনের আসল নাম ছিল বাহাউদ্দিন। তিনি চল্লিশ চক্রের একজন প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন এবং সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদের সময়কালে ‘উলুগ খান’ উপাধি নিয়ে नायब বা ডেপুটি সুলতান হিসেবে প্রকৃত ক্ষমতা ভোগ করতেন।
বিভাগ ২ এর অতিরিক্ত প্রশ্ন (খলজি বংশ)
55. আলাউদ্দিন খলজির কোন সেনাপতি মোঙ্গলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হন?
সঠিক উত্তর: (গ) জাফর খান
ব্যাখ্যা: জাফর খান ছিলেন আলাউদ্দিন খলজির অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি। তিনি মোঙ্গলদের বিরুদ্ধে অসাধারণ বীরত্বের পরিচয় দেন এবং ১২৯৯ সালে একটি যুদ্ধে মোঙ্গলদের পরাজিত করতে গিয়ে নিহত হন। তার বীরত্ব মোঙ্গলদের মধ্যেও ভয়ের সঞ্চার করেছিল।
56. ‘আলাই দরওয়াজা’ কে নির্মাণ করেন?
সঠিক উত্তর: (ক) আলাউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা: আলাই দরওয়াজা হলো দিল্লির কুতুব মিনার কমপ্লেক্সের একটি প্রবেশদ্বার। এটি ১৩১১ সালে সুলতান আলাউদ্দিন খলজি নির্মাণ করেন এবং এটি ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্যের একটি उत्कृष्ट নিদর্শন।
বিভাগ ৩ এর অতিরিক্ত প্রশ্ন (তুঘলক বংশ)
57. মহম্মদ বিন তুঘলকের খোরাসান ও কারাচিল অভিযানের পরিণতি কী হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: (গ) দুটি অভিযানই পরিত্যক্ত হয় এবং রাজকোষের বিপুল ক্ষতি হয়
ব্যাখ্যা: মধ্য এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের কারণে খোরাসান (পারস্য) অভিযানের জন্য গঠিত বিশাল সেনাবাহিনী ভেঙে দিতে হয়। অন্যদিকে, হিমালয় অঞ্চলের কারাচিল অভিযান প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিপর্যয়ে পরিণত হয়। এই দুটি ব্যর্থতা সুলতানির অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেয়।
58. ফিরোজ শাহ তুঘলক কোন কোন নতুন শহর নির্মাণ করেন?
সঠিক উত্তর: (গ) ফিরোজাবাদ, ফতেহাবাদ, হিসার, জৌনপুর
ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলক নগর নির্মাণে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তিনি যমুনার তীরে ফিরোজাবাদ (যা ফিরোজ শাহ কোটলা নামে পরিচিত), হিসার, ফতেহাবাদ এবং তার ভাই জৌনা খানের (মহম্মদ বিন তুঘলক) স্মরণে জৌনপুর শহর প্রতিষ্ঠা করেন।
বিভাগ ৪ এর অতিরিক্ত প্রশ্ন (প্রশাসন ও অর্থনীতি)
59. সুলতানি আমলে ‘খামস’ কী ছিল?
সঠিক উত্তর: (খ) যুদ্ধে লুণ্ঠিত দ্রব্যের উপর কর
ব্যাখ্যা: ইসলামি আইন অনুযায়ী, যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদের (গণিমত) এক-পঞ্চমাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা পড়ত, যা ‘খামস’ নামে পরিচিত ছিল। বাকি চার-পঞ্চমাংশ সৈন্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হত। আলাউদ্দিন খলজি এই নিয়ম পরিবর্তন করে চার-পঞ্চমাংশ রাষ্ট্রকে এবং এক-পঞ্চমাংশ সৈন্যদের দেওয়ার নিয়ম করেন।
বিভাগ ৫ এর অতিরিক্ত প্রশ্ন (বিজয়নগর)
60. বিজয়নগরের প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থাকে কী বলা হত?
সঠিক উত্তর: (খ) নায়ঙ্কর ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা: বিজয়নগরে সাম্রাজ্যকে বিভিন্ন প্রদেশে (রাজ্য বা মণ্ডলম) ভাগ করা হয়েছিল। এই প্রদেশগুলির শাসকরা ছিলেন ‘নায়ক’ বা ‘অমরনায়ক’। তারা সুলতানি ইকতা ব্যবস্থার মতো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের বিনিময়ে সৈন্য পোষণ করতেন এবং রাজাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব দিতেন। এই ব্যবস্থাকে নায়ঙ্কর ব্যবস্থা বলা হয়।
(প্রশ্ন ৬১ থেকে ২০০ পর্যন্ত একই কাঠামো অনুসরণ করে তৈরি করা হবে, যা প্রতিটি উল্লিখিত বিষয়ের আরও গভীরে যাবে। নিচে আরও কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো।)
61. জালালউদ্দিন খলজির শাসনকালের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা কোনটি?
সঠিক উত্তর: (খ) সিদি মাওলার বিদ্রোহ ও তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া
ব্যাখ্যা: জালালউদ্দিন খলজি সাধারণত একজন দয়ালু শাসক হিসেবে পরিচিত ছিলেন, কিন্তু দরবেশ সিদি মাওলার নেতৃত্বে একটি ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তিনি কঠোর হন এবং সিদি মাওলাকে হাতির পায়ের তলায় পিষে মারার নির্দেশ দেন, যা তার চরিত্রের একটি ব্যতিক্রমী দিক তুলে ধরে।
62. ‘তারিখ-ই-ফিরোজশাহী’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
সঠিক উত্তর: (গ) জিয়াউদ্দিন বারানি
ব্যাখ্যা: জিয়াউদ্দিন বারানি ছিলেন একজন বিখ্যাত ঐতিহাসিক। তার লেখা ‘তারিখ-ই-ফিরোজশাহী’ গ্রন্থে গিয়াসউদ্দিন বলবনের শাসনকাল থেকে ফিরোজ শাহ তুঘলকের রাজত্বের প্রথম ছয় বছর পর্যন্ত দিল্লি সুলতানির একটি বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়।
63. সুলতানি আমলে বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পদাধিকারী কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: (ক) সুলতান
ব্যাখ্যা: সুলতান ছিলেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বিচারক এবং সর্বোচ্চ আপিল আদালত। তার পরেই ছিলেন প্রধান বিচারপতি বা ‘কাজি-উল-কাজাত’, যিনি বিচার বিভাগ পরিচালনা করতেন।
64. ‘কিতাব-উল-হিন্দ’ এর রচয়িতা কে?
সঠিক উত্তর: (ক) আল-বেরুনি
ব্যাখ্যা: যদিও আল-বেরুনি সুলতানি প্রতিষ্ঠার আগে গজনির সুলতান মাহমুদের সাথে ভারতে এসেছিলেন, তার লেখা ‘কিতাব-উল-হিন্দ’ বা ‘তহকিক-ই-হিন্দ’ একাদশ শতকের ভারতের সমাজ, ধর্ম, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সম্পর্কে একটি অমূল্য উৎস, যা পরবর্তী সুলতানি যুগের প্রেক্ষাপট বুঝতে সাহায্য করে।
65. ‘হক-ই-শর্ব’ বা সেচ কর (Irrigation Tax) কে চালু করেন?
সঠিক উত্তর: (গ) ফিরোজ শাহ তুঘলক
ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলক কৃষির উন্নতির জন্য অনেক খাল খনন করেছিলেন। যে সমস্ত কৃষক এই খালের জল সেচের জন্য ব্যবহার করত, তাদের থেকে উলেমাদের পরামর্শে তিনি উৎপাদনের ১/১০ অংশ ‘হক-ই-শর্ব’ বা সেচ কর হিসেবে আদায় করতেন।
66. বিজয়নগর সাম্রাজ্যের মুদ্রা কী নামে পরিচিত ছিল?
সঠিক উত্তর: (গ) প্যাগোডা বা বরাহ
ব্যাখ্যা: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের প্রধান স্বর্ণমুদ্রা ‘বরাহ’ নামে পরিচিত ছিল, যা ইউরোপীয় পর্যটকদের কাছে ‘প্যাগোডা’ নামে পরিচিত হয়। এই মুদ্রাগুলিতে প্রায়শই হিন্দু দেব-দেবীর ছবি খোদাই করা থাকত।
67. গিয়াসউদ্দিন বলবন তার ক্ষমতার ভিত্তি হিসেবে কোন ঐশ্বরিক মতবাদ প্রচার করেন?
সঠিক উত্তর: (ক) জিল-ই-ইলাহি (ঈশ্বরের ছায়া)
ব্যাখ্যা: বলবন সুলতানের পদমর্যাদাকে এক অতিমানবীয় স্তরে উন্নীত করতে চেয়েছিলেন। তিনি নিজেকে ‘নিয়াবত-ই-খুদাই’ (ঈশ্বরের প্রতিনিধি) এবং ‘জিল-ই-ইলাহি’ (ঈশ্বরের ছায়া) বলে ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে সুলতান পৃথিবীতে ঈশ্বরের প্রতিনিধি এবং তার ক্ষমতা সাধারণ মানুষের ঊর্ধ্বে।
68. সুলতানি আমলে ‘শিক’ (Shiq) নামক প্রশাসনিক ইউনিটের প্রধান কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: (গ) শিকদার
ব্যাখ্যা: প্রদেশ বা ইকতাকে ‘শিক’ নামক জেলাস্তরের ইউনিটে ভাগ করা হত। শিক-এর প্রধান সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ‘শিকদার’ বলা হত। তার দায়িত্ব ছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা।
69. কৃষ্ণদেব রায়ের লেখা বিখ্যাত তেলেগু কাব্যগ্রন্থটির নাম কী?
সঠিক উত্তর: (খ) অমুক্তমাল্যদা
ব্যাখ্যা: বিজয়নগরের শ্রেষ্ঠ শাসক কৃষ্ণদেব রায় কেবল একজন যোদ্ধা ও প্রশাসকই ছিলেন না, তিনি একজন উচ্চমানের কবিও ছিলেন। ‘অমুক্তমাল্যদা’ তার লেখা একটি বিখ্যাত তেলেগু মহাকাব্য, যেখানে তিনি বিষ্ণুভক্তা আন্দালের কাহিনী বর্ণনা করেছেন।
70. কোন সুলতান বেকারদের জন্য একটি কর্মসংস্থান দপ্তর (Employment Bureau) খোলেন?
সঠিক উত্তর: (গ) ফিরোজ শাহ তুঘলক
ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলক তার জনকল্যাণমূলক কাজের অংশ হিসেবে দিল্লিতে একটি কর্মসংস্থান দপ্তর খোলেন। এখানে বেকারদের নাম নথিভুক্ত করা হত এবং তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হত।
71. খলজি বিপ্লবের তাৎপর্য কী ছিল?
সঠিক উত্তর: (খ) এটি প্রমাণ করে যে ক্ষমতা বংশ কৌলীন্যের উপর নির্ভরশীল নয়, শক্তির উপর নির্ভরশীল
ব্যাখ্যা: খলজি বিপ্লব এই ধারণাটিকে ভেঙে দেয় যে শুধুমাত্র উচ্চবংশীয় ইলবারি তুর্কিরাই শাসন করতে পারে। খলজিরা, যাদেরকে নিম্নবংশীয় বলে মনে করা হত, তারা সামরিক শক্তির জোরে ক্ষমতা দখল করে। এটি সুলতানি রাজনীতিতে যোগ্যতাকে বংশের ঊর্ধ্বে স্থান দেয়।
72. বিজয়নগরের ‘আয়গার ব্যবস্থা’ (Ayagar System) কীসের সঙ্গে যুক্ত ছিল?
সঠিক উত্তর: (গ) গ্রাম প্রশাসন
ব্যাখ্যা: ‘আয়গার ব্যবস্থা’ ছিল বিজয়নগর সাম্রাজ্যের গ্রামীণ স্বায়ত্তশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি গ্রাম পরিচালনার জন্য ১২ জন সরকারি কর্মকর্তার একটি দলকে নিয়োগ করা হত, যারা সম্মিলিতভাবে ‘আয়গার’ নামে পরিচিত ছিলেন। তারা গ্রামের জমি ও বিবাদের निपटारा করতেন।
73. কোন সুফি সাধকের স্মরণে কুতুব মিনার নির্মিত হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: (গ) খাজা কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকি
ব্যাখ্যা: কুতুবউদ্দিন আইবক চিশতি তরিকার বিখ্যাত সুফি সাধক খাজা কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকির প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তার স্মৃতির উদ্দেশ্যেই তিনি দিল্লিতে কুতুব মিনার নির্মাণ শুরু করেন।
74. আলাউদ্দিন খলজির ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
সঠিক উত্তর: (খ) তিনি জমি জরিপের মাধ্যমে রাজস্ব নির্ধারণ করেন এবং উৎপাদনের ৫০% ধার্য করেন
ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি রাজস্ব ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনেন। তিনি অনুমানের বদলে ‘মাসাহাত’ অর্থাৎ জমি জরিপের ভিত্তিতে রাজস্ব নির্ধারণ করেন। তিনি রাজস্বের হার বাড়িয়ে উৎপাদনের ৫০ শতাংশ বা অর্ধেক ধার্য করেন এবং মধ্যস্বত্বভোগী খুৎ, মুকাদ্দম ও চৌধুরীদের ক্ষমতা খর্ব করেন।
75. ‘ফুতুহাত-ই-ফিরোজশাহী’ গ্রন্থটি কার লেখা?
সঠিক উত্তর: (গ) ফিরোজ শাহ তুঘলক
ব্যাখ্যা: ‘ফুতুহাত-ই-ফিরোজশাহী’ হল সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের নিজের লেখা একটি সংক্ষিপ্ত আত্মজীবনী। এতে তিনি তার শাসনকালের বিভিন্ন নীতি ও জনকল্যাণমূলক কাজের বর্ণনা দিয়েছেন।
76. তালিকোটার যুদ্ধে বিজয়নগরের সেনাবাহিনীকে কে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন?
সঠিক উত্তর: (ঘ) আলিয়া রাম রায়
ব্যাখ্যা: তালিকোটার যুদ্ধের সময় বিজয়নগরের নামমাত্র শাসক ছিলেন সদাশিব রায়, কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতা ছিল তার মন্ত্রী এবং জামাতা আলিয়া রাম রায়ের হাতে। তিনিই বিজয়নগরের বিশাল সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার অহংকার এবং কূটনৈতিক ব্যর্থতাকে এই যুদ্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়।
77. কোন সুলতান দরবারে কঠোর নীরবতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতেন এবং হাস্যকৌতুক নিষিদ্ধ করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: (খ) বলবন
ব্যাখ্যা: গিয়াসউদ্দিন বলবন সুলতানের মর্যাদা ও গাম্ভীর্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য দরবারে এক কঠোর পরিবেশ তৈরি করেন। তিনি পারস্যের অনুকরণে রাজকীয় আদবকায়দা চালু করেন এবং দরবারে হাসি-ঠাট্টা, মদ্যপান ইত্যাদি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেন।
78. বাহমনি রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: (ক) হাসান গাঙ্গু (আলাউদ্দিন বাহমন শাহ)
ব্যাখ্যা: ১৩৪৭ খ্রিস্টাব্দে, মহম্মদ বিন তুঘলকের রাজত্বকালে, দাক্ষিণাত্যের আমিররা বিদ্রোহ করে এবং হাসান গাঙ্গুর নেতৃত্বে একটি স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। হাসান গাঙ্গু ‘আলাউদ্দিন বাহমন শাহ’ উপাধি নিয়ে সিংহাসনে বসেন। এই রাজ্যই বাহমনি রাজ্য নামে পরিচিত, যা বিজয়নগরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল।
79. ‘দেওয়ান-ই-রিয়াসত’ নামক দপ্তরটির কাজ কী ছিল?
সঠিক উত্তর: (গ) বাজার ও ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করা
ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি তার বাজারদর নিয়ন্ত্রণ নীতি সফলভাবে প্রয়োগ করার জন্য ‘দেওয়ান-ই-রিয়াসত’ নামে একটি নতুন বিভাগ তৈরি করেন। এর প্রধানের কাজ ছিল সমস্ত বাজার নিয়ন্ত্রণ করা, ব্যবসায়ীদের নিবন্ধন করা এবং মূল্যতালিকা কার্যকর করা।
80. কোন দিল্লি সুলতান নিজেকে খলিফার ‘নায়েব’ বা প্রতিনিধি বলে ঘোষণা করলেও খলিফার নাম মুদ্রায় ব্যবহার করেননি?
সঠিক উত্তর: (গ) আলাউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি নিজেকে ‘ইয়ামিন-উল-খিলাফত নাসির-ই-আমির-উল-মুমিনিন’ (খলিফার ডান হাত) বললেও তিনি ইলতুৎমিশের মতো খলিফার কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি। তিনি সুলতানের সার্বভৌম ক্ষমতার উপর জোর দিয়েছিলেন এবং বাস্তবে খলিফার কর্তৃত্বকে উপেক্ষা করেছিলেন।
81. বিজয়নগর সাম্রাজ্যে কয়টি রাজবংশ শাসন করেছিল?
সঠিক উত্তর: (গ) ৪টি (সঙ্গম, সালুব, তুলুব ও আরাবিডু)
ব্যাখ্যা: বিজয়নগর সাম্রাজ্য মোট চারটি রাজবংশ দ্বারা শাসিত হয়েছিল। সেগুলো হলো: সঙ্গম বংশ (১৩৩৬-১৪৮৫), সালুব বংশ (১৪৮৫-১৫০৫), তুলুব বংশ (১৫০৫-১৫৭০) এবং আরাবিডু বংশ (১৫৭০-১৬৪৬)।
82. সুলতানি শাসনকে ‘ধর্মাশ্রয়ী রাষ্ট্র’ বলার সমস্যা কোথায়?
সঠিক উত্তর: (খ) কারণ অনেক সুলতান রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে (Zawabit) শরিয়তি আইনকে উপেক্ষা করতেন
ব্যাখ্যা: যদিও তাত্ত্বিকভাবে সুলতানি একটি ইসলামি রাষ্ট্র ছিল, কিন্তু বাস্তবে অনেক শক্তিশালী সুলতান (যেমন আলাউদ্দিন খলজি) রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নিজস্ব আইনকানুন বা ‘জাওয়াবিত’ তৈরি করতেন, যা অনেক সময় শরিয়তের পরিপন্থী ছিল। তারা উলেমাদের পরামর্শের চেয়ে রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিতেন, যা একটি নিখুঁত ধর্মাশ্রয়ী রাষ্ট্রের ধারণার সাথে মেলে না।
83. কোন সুলতানের মৃত্যুর পর ঐতিহাসিক বাদাউনি লেখেন, “সুলতান তার প্রজা থেকে এবং প্রজারা তাদের সুলতান থেকে মুক্তি পেল”?
সঠিক উত্তর: (গ) মহম্মদ বিন তুঘলক
ব্যাখ্যা: মহম্মদ বিন তুঘলকের বিভিন্ন উচ্চাভিলাষী কিন্তু ব্যর্থ পরিকল্পনার কারণে প্রজাদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ হয়েছিল এবং সুলতান নিজেও হতাশ ও বিরক্ত হয়েছিলেন। তাই তার মৃত্যুর পর ঐতিহাসিক আবদুল কাদির বাদাউনি এই বিখ্যাত উক্তিটি করেন।
84. হাম্পিতে অবস্থিত বিখ্যাত ‘বিঠঠল মন্দির’ কোন শাসকের আমলে নির্মিত হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: (গ) কৃষ্ণদেব রায়
ব্যাখ্যা: হাম্পির বিঠঠল মন্দিরটি দ্রাবিড়ীয় স্থাপত্যের এক অসাধারণ নিদর্শন। যদিও এর নির্মাণ কাজ আগেই শুরু হয়েছিল, তবে কৃষ্ণদেব রায়ের আমলে এটি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত ও অলংকৃত হয়। এর সঙ্গীতময় স্তম্ভগুলো (Musical Pillars) বিশেষভাবে বিখ্যাত।
85. ‘সদর-উস-সুদুর’ পদের দায়িত্ব কী ছিল?
সঠিক উত্তর: (গ) ধর্মীয় বিষয়ক ও দাতব্য কাজের প্রধান
ব্যাখ্যা: ‘সদর-উস-সুদুর’ ছিলেন সুলতানি প্রশাসনের ধর্ম বিভাগের প্রধান। তার দায়িত্ব ছিল ইসলামি আইন কার্যকর করা, মসজিদ ও মাদ্রাসার জন্য অনুদান (ওয়াকফ) বন্টন করা এবং উলেমাদের তত্ত্বাবধান করা। প্রায়শই এই পদটি প্রধান কাজির পদের সাথে যুক্ত থাকত।
86. মালিক কাফুরকে কোথা থেকে ক্রয় করা হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: (খ) গুজরাট অভিযানের সময় খাম্বাত বন্দর থেকে
ব্যাখ্যা: ১২৯৯ খ্রিস্টাব্দে আলাউদ্দিন খলজির সেনাপতি নসরৎ খান গুজরাট অভিযানের সময় খাম্বাত (কাম্বে) বন্দর থেকে মালিক কাফুরকে এক হাজার দিনার দিয়ে ক্রয় করেন। এই কারণে মালিক কাফুরকে ‘হাজার দিনারি’ও বলা হয়।
87. তুঘলকাবাদ শহর এবং দুর্গ কে নির্মাণ করেন?
সঠিক উত্তর: (গ) গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
ব্যাখ্যা: তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠাতা গিয়াসউদ্দিন তুঘলক মোঙ্গল আক্রমণের হাত থেকে রাজধানীকে রক্ষা করার জন্য দিল্লির কাছে তুঘলকাবাদ নামে একটি সুরক্ষিত শহর ও দুর্গ নির্মাণ করেন।
88. কোন সুলতান ইকতা প্রথাকে বংশানুক্রমিক করে দিয়েছিলেন?
সঠিক উত্তর: (ঘ) ফিরোজ শাহ তুঘলক
ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলক অভিজাত ও সৈন্যদের সন্তুষ্ট করার জন্য ইকতা ব্যবস্থা এবং সামরিক পদগুলিকে বংশানুক্রমিক করে দেন। এর ফলে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সুলতানির সামরিক শক্তি হ্রাস পায়, যা পরবর্তীতে সাম্রাজ্যের পতনের একটি অন্যতম কারণ হয়।
89. পর্তুগিজ পর্যটক ডোমিঙ্গো পেজ (Domingo Paes) কোন বিজয়নগর শাসকের রাজত্বকালে এসেছিলেন?
সঠিক উত্তর: (খ) কৃষ্ণদেব রায়
ব্যাখ্যা: বিখ্যাত পর্তুগিজ পর্যটক ডোমিঙ্গো পেজ এবং দুয়ার্তে বারবোসা উভয়েই কৃষ্ণদেব রায়ের রাজত্বকালে বিজয়নগর ভ্রমণ করেন। পেজ তার লেখায় বিজয়নগর শহরের বিশালত্ব, সম্পদ এবং কৃষ্ণদেব রায়ের ব্যক্তিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
90. দিল্লির কোন সুলতানের দরবারে বিখ্যাত সুফি সাধক নিজামুদ্দিন আউলিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল না?
সঠিক উত্তর: (গ) গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
ব্যাখ্যা: গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের সঙ্গে শেখ নিজামুদ্দিন আউলিয়ার সম্পর্ক তিক্ত ছিল। কথিত আছে, বাংলা অভিযান থেকে ফেরার সময় সুলতান আউলিয়াকে দিল্লি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। উত্তরে আউলিয়া বলেন, “হুনুজ দিল্লি দুর অস্ত” (দিল্লি এখনও অনেক দূর), এবং কাকতালীয়ভাবে সুলতান দিল্লিতে পৌঁছানোর আগেই এক দুর্ঘটনায় মারা যান।
91. সুলতানি আমলে রৌপ্য মুদ্রা ‘টঙ্কা’ এবং তাম্র মুদ্রা ‘জিতল’ কে প্রথম চালু করেন?
সঠিক উত্তর: (গ) ইলতুৎমিশ
ব্যাখ্যা: ইলতুৎমিশই প্রথম সুলতান যিনি দিল্লি সুলতানিতে একটি নির্দিষ্ট মানের মুদ্রা ব্যবস্থা চালু করেন। তিনি আরবি মুদ্রার অনুকরণে خالص রৌপ্য মুদ্রা ‘টঙ্কা’ (Tanka) এবং তাম্র মুদ্রা ‘জিতল’ (Jital) প্রবর্তন করেন, যা সুলতানি অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
92. বকেয়া রাজস্ব আদায়ের জন্য আলাউদ্দিন খলজি কোন নতুন বিভাগ তৈরি করেন?
সঠিক উত্তর: (গ) দেওয়ান-ই-মুস্তাখারাজ
ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি তার কঠোর রাজস্ব নীতি কার্যকর করতে এবং রাজস্ব সংগ্রাহকদের কাছ থেকে সমস্ত বকেয়া আদায় নিশ্চিত করতে ‘দেওয়ান-ই-মুস্তাখারাজ’ নামে একটি বিশেষ বিভাগ স্থাপন করেন।
93. বিজয়নগরের স্থাপত্য ‘মহানবমী ডিব্বা’-র ব্যবহার কী ছিল?
সঠিক উত্তর: (গ) রাজা মহানবমী উৎসবের সময় এখান থেকে কুচকাওয়াজ ও অনুষ্ঠান দেখতেন
ব্যাখ্যা: ‘মহানবমী ডিব্বা’ ছিল হাম্পিতে অবস্থিত একটি বিশাল উঁচু মঞ্চ। রাজা এবং রাজপরিবারের সদস্যরা দশেরা বা মহানবমী উৎসবের সময় এই মঞ্চের উপর বসে সৈন্যবাহিনীর কুচকাওয়াজ, কুস্তি, নাচ-গান এবং অন্যান্য রাজকীয় অনুষ্ঠান উপভোগ করতেন।
94. আমির খসরুর লেখা ‘খাজাইন-উল-ফুতুহ’ গ্রন্থে কোন শাসকের বিজয় অভিযানের বর্ণনা রয়েছে?
সঠিক উত্তর: (গ) আলাউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা: ‘খাজাইন-উল-ফুতুহ’ (অর্থ: বিজয়ের ভান্ডার) গ্রন্থটি আমির খসরু রচনা করেন। এটি আলাউদ্দিন খলজির রাজত্বের প্রথম ১৫ বছরের ইতিহাস, বিশেষ করে তার দাক্ষিণাত্য বিজয় এবং অন্যান্য সামরিক অভিযানের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস।
95. গিয়াসউদ্দিন বলবন দিল্লির আশেপাশে কোন দস্যু গোষ্ঠীকে নির্মমভাবে দমন করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: (ঘ) মেওয়াটি
ব্যাখ্যা: বলবনের সিংহাসন লাভের সময় দিল্লির আশেপাশে মেওয়াটি দস্যুদের উপদ্রব চরমে উঠেছিল, যা রাজধানীর নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছিল। বলবন তার ‘রক্ত ও লৌহ’ নীতি প্রয়োগ করে এই দস্যুদের কঠোর হাতে দমন করেন, জঙ্গল পরিষ্কার করেন এবং সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেন।
96. মহম্মদ বিন তুঘলকের আমলে দাক্ষিণাত্যে প্রথম কোন স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের উদ্ভব হয়?
সঠিক উত্তর: (খ) মাদুরাই সালতানাত
ব্যাখ্যা: মহম্মদ বিন তুঘলকের শাসনের শেষের দিকে সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিদ্রোহ দেখা দেয়। এর মধ্যে প্রথম উল্লেখযোগ্য বিচ্ছিন্নতা ছিল ১৩৩৫ খ্রিস্টাব্দে মাদুরার গভর্নর জালালউদ্দিন আহসান শাহের স্বাধীনতা ঘোষণা, যা মাদুরাই সালতানাতের জন্ম দেয়।
97. বিজয়নগর সাম্রাজ্য তাদের সেনাবাহিনীর জন্য উন্নত জাতের ঘোড়া কোথা থেকে আমদানি করত?
সঠিক উত্তর: (খ) আরব ও পারস্য
ব্যাখ্যা: বিজয়নগর সাম্রাজ্য তাদের অশ্বারোহী বাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য আরব, পারস্য এবং পর্তুগিজ বণিকদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে উন্নত মানের যুদ্ধের ঘোড়া আমদানি করত। এই ঘোড়ার বাণিজ্য রাজ্যের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
98. সুলতানি আমলে কয়েকটি গ্রাম নিয়ে গঠিত প্রশাসনিক ইউনিট ‘পরগনা’-র প্রধানকে কী বলা হত?
সঠিক উত্তর: (গ) আমিল বা মুন্সেফ
ব্যাখ্যা: প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থায় ‘শিক’-এর অধীনে ছিল ‘পরগনা’। পরগনার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ছিলেন ‘আমিল’ এবং দেওয়ানি বিচারক ছিলেন ‘মুন্সেফ’।
99. তৈমুরের আক্রমণের সবচেয়ে বিধ্বংসী ফলাফল কী ছিল?
সঠিক উত্তর: (ঘ) উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা: ১৩৯৮ সালের তৈমুরের আক্রমণ দিল্লি সুলতানির উপর একটি চরম আঘাত ছিল। এই আক্রমণে দিল্লি শহরকে লুণ্ঠন ও ধ্বংস করা হয়, হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়, যার ফলে অর্থনীতি ভেঙে পড়ে। কেন্দ্রীয় শাসন দুর্বল হয়ে পড়লে জৌনপুর, গুজরাট, মালবের মতো অনেক প্রদেশ স্বাধীন হয়ে যায় এবং তুঘলক বংশের পতন নিশ্চিত হয়।
100. সুলতানা রাজিয়ার প্রতি অনুগত না হওয়ার জন্য তুর্কি অভিজাতদের (‘চাহালগানি’) প্রধান অজুহাত কী ছিল?
সঠিক উত্তর: (খ) রাজিয়ার নারী হওয়া এবং அபிসিনীয় ক্রীতদাস ইয়াকুতকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া
ব্যাখ্যা: তৎকালীন রক্ষণশীল তুর্কি অভিজাতরা একজন নারীর অধীনে কাজ করতে অপমানিত বোধ করত। এর সাথে যুক্ত হয়েছিল রাজিয়ার দ্বারা অ-তুর্কি, அபிসিনীয় ক্রীতদাস জামালউদ্দিন ইয়াকুতকে ‘আমির-ই-আখুর’ (অশ্বশালার প্রধান) পদে নিয়োগ। এই ঘটনাটি তাদের বিদ্রোহ করতে প্ররোচিত করে।
101. আলাউদ্দিন খলজির দাক্ষিণাত্য নীতির মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
সঠিক উত্তর: (খ) দাক্ষিণাত্য থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পদ সংগ্রহ করা এবং রাজ্যগুলিকে করদ রাজ্যে পরিণত করা
ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি একজন বাস্তববাদী শাসক ছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে দিল্লি থেকে সরাসরি দাক্ষিণাত্য শাসন করা কঠিন। তাই তার মূল উদ্দেশ্য ছিল সেখানকার রাজাদের পরাজিত করে তাদের কাছ থেকে বিপুল সম্পদ আদায় করা এবং তাদের বার্ষিক কর প্রদানে বাধ্য করে নিজের বশ্যতা স্বীকার করানো।
102. ফিরোজ শাহ তুঘলকের কোন কাজটি তার ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার পরিচায়ক?
সঠিক উত্তর: (ঘ) উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা: যদিও ফিরোজ শাহ তুঘলক অনেক জনকল্যাণমূলক কাজ করেছেন, তার ধর্মীয় নীতি ছিল অত্যন্ত কঠোর ও অসহিষ্ণু। তিনি ইসলামি আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে গিয়ে ব্রাহ্মণদের উপর জিজিয়া কর বসান, হিন্দুদের অনেক পবিত্র মন্দির ধ্বংস করেন এবং ধর্মীয় বিষয়ে কঠোর শাস্তি প্রদান করতেন। এই সমস্ত কাজই তার ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার প্রমাণ দেয়।
103. বিজয়নগরের মন্দির স্থাপত্যে ‘কল্যাণমণ্ডপম’ কীসের জন্য ব্যবহৃত হত?
সঠিক উত্তর: (খ) দেবতাদের বার্ষিক বিবাহ উৎসব উদযাপনের জন্য নির্মিত মণ্ডপ
ব্যাখ্যা: বিজয়নগর আমলের মন্দিরগুলিতে ‘কল্যাণমণ্ডপম’ নামে একটি অলংকৃত, স্তম্ভযুক্ত মণ্ডপ দেখা যায়। এটি মন্দিরের প্রধান দেবতার বার্ষিক বিবাহ উৎসব (celestial wedding) আড়ম্বরের সাথে পালন করার জন্য নির্মিত হয়েছিল।
104. ‘নব মুসলমান’ (New Muslims) নামে কারা পরিচিত ছিল?
সঠিক উত্তর: (খ) জালালউদ্দিন খলজির সময় ইসলাম গ্রহণকারী মোঙ্গলরা
ব্যাখ্যা: জালালউদ্দিন খলজির রাজত্বকালে চেঙ্গিজ খানের নাতি উলুগ খানের নেতৃত্বে একদল মোঙ্গল ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এবং দিল্লিতে বসবাস করার অনুমতি পায়। এরাই ‘নব মুসলমান’ নামে পরিচিত হয়। পরবর্তীকালে আলাউদ্দিন খলজির সময় তারা বিদ্রোহ করলে তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
105. মহম্মদ বিন তুঘলক কৃষকদের যে কৃষিঋণ দিতেন, তা কী নামে পরিচিত ছিল?
সঠিক উত্তর: (গ) তাকাভি বা সোন্ধার
ব্যাখ্যা: ‘দেওয়ান-ই-কোহি’ বিভাগের মাধ্যমে মহম্মদ বিন তুঘলক কৃষকদের চাষাবাদের উন্নতির জন্য, বিশেষ করে অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনার জন্য যে অগ্রিম ঋণ দিতেন, তা ‘তাকাভি’ বা ‘সোন্ধার’ নামে পরিচিত ছিল।
106. ‘তারিখ-ই-মুবারক শাহী’ গ্রন্থটি কোন রাজবংশের ইতিহাস জানার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উৎস?
সঠিক উত্তর: (গ) সৈয়দ বংশ
ব্যাখ্যা: ইয়াহিয়া বিন আহমদ সিরহিন্দি রচিত ‘তারিখ-ই-মুবারক শাহী’ হলো সৈয়দ বংশের ইতিহাস জানার একমাত্র সমসাময়িক এবং নির্ভরযোগ্য উৎস। এটি সৈয়দ সুলতান মুবারক শাহের পৃষ্ঠপোষকতায় লেখা হয়েছিল।
110. আমির খসরু কোন বাদ্যযন্ত্রের আবিষ্কার বা জনপ্রিয় করার জন্য পরিচিত?
সঠিক উত্তর: (খ) সেতার ও তবলা
ব্যাখ্যা: আমির খসরু কেবল একজন কবি ও ঐতিহাসিকই ছিলেন না, তিনি একজন মহান সংগীতজ্ঞও ছিলেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, তিনি ভারতীয় বীণা এবং ফার্সি তানবুরার সমন্বয়ে সেতার নামক নতুন বাদ্যযন্ত্র তৈরি করেন। এছাড়াও কাওয়ালি সংগীত শৈলী এবং তবলা জনপ্রিয় করার কৃতিত্বও তাকে দেওয়া হয়।
111. তালিকোটার যুদ্ধের অপর নাম কী?
সঠিক উত্তর: (খ) রাক্ষসী-তাঙ্গাড়ির যুদ্ধ
ব্যাখ্যা: ১৫৬৫ সালের তালিকোটার যুদ্ধটি মূলত রাক্ষসী এবং তাঙ্গাড়ি নামক দুটি গ্রামের নিকটবর্তী স্থানে সংঘটিত হয়েছিল। এই কারণে ঐতিহাসিকরা এই যুদ্ধকে ‘রাক্ষসী-তাঙ্গাড়ির যুদ্ধ’ নামেও অভিহিত করেন।
112. কে সুলতানি সাম্রাজ্যের রাজধানী লাহোর থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করেন?
সঠিক উত্তর: (গ) ইলতুৎমিশ
ব্যাখ্যা: কুতুবউদ্দিন আইবক লাহোর থেকে শাসনকার্য চালাতেন। ইলতুৎমিশ সিংহাসনে বসে সাম্রাজ্যের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত দিল্লিকে তার রাজধানীতে পরিণত করেন। এই পদক্ষেপ দিল্লিকে পরবর্তী কয়েক শতাব্দী ধরে উত্তর ভারতের রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রে পরিণত করে।
113. খলজি বিপ্লবের পর কোন গোষ্ঠীর রাজনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়?
সঠিক উত্তর: (খ) ভারতীয় মুসলমান, আফগান এবং অ-তুর্কি অভিজাতদের
ব্যাখ্যা: খলজি বিপ্লব শাসনের ক্ষেত্রে ইলবারি তুর্কিদের একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান ঘটায়। খলজিরা যোগ্যতার ভিত্তিতে ভারতীয় মুসলমান এবং অন্যান্য অ-তুর্কি গোষ্ঠীর লোকদের উচ্চ পদে নিয়োগ করে, যা সুলতানির সামাজিক ভিত্তি প্রসারিত করেছিল।
114. দোয়াব অঞ্চলে মহম্মদ বিন তুঘলকের কর বৃদ্ধির পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ কী?
সঠিক উত্তর: (গ) একই সময়ে ওই অঞ্চলে ভয়াবহ খরা ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল
ব্যাখ্যা: দোয়াব অঞ্চলের উর্বরতার কারণে কর বৃদ্ধির পরিকল্পনাটি তাত্ত্বিকভাবে সঠিক ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, কর আরোপ করার পরেই সেখানে شدید খরা ও দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। ফলে কৃষকরা বর্ধিত কর দিতে না পেরে বিদ্রোহ করে এবং ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়, যা এই পরিকল্পনাকে এক বিপর্যয়ে পরিণত করে।
115. তালিকোটার যুদ্ধের পর বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কী হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: (খ) সাম্রাজ্য টিকে ছিল কিন্তু রাজধানী পেনুকোন্ডা এবং পরে চন্দ্রগিরিতে স্থানান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা: তালিকোটার যুদ্ধ বিজয়নগরের জন্য একটি মারাত্মক আঘাত ছিল এবং রাজধানী হাম্পি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সাম্রাজ্য পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। আরাবিডু বংশের শাসকরা পেনুকোন্ডা এবং পরে চন্দ্রগিরিকে রাজধানী করে আরও প্রায় এক শতাব্দী ধরে একটি দুর্বল ও সীমিত আকারে শাসন চালিয়ে গিয়েছিল।
116. গিয়াসউদ্দিন বলবনের গুপ্তচর ব্যবস্থাকে কী বলা হত?
সঠিক উত্তর: (খ) বারিদ
ব্যাখ্যা: বলবন একটি অত্যন্ত দক্ষ গুপ্তচর ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। তার গুপ্তচররা ‘বারিদ’ নামে পরিচিত ছিল এবং তারা সরাসরি সুলতানের কাছে রিপোর্ট করত। এই ব্যবস্থা আমির-ওমরাহদের ষড়যন্ত্র এবং রাজ্যের কার্যকলাপের উপর নজর রাখতে সুলতানকে সাহায্য করত।
117. আলাউদ্দিন খলজির মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় শস্যের বাজার কী নামে পরিচিত ছিল?
সঠিক উত্তর: (খ) শাহানা-ই-মান্ডি
ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি দিল্লিতে তিনটি প্রধান বাজার স্থাপন করেন: (১) শস্যের বাজার বা ‘মান্ডি’, (২) উৎপাদিত পণ্য, কাপড়, চিনির বাজার বা ‘সরাই-ই-আদল’, এবং (৩) ঘোড়া, ক্রীতদাস ও পশুর বাজার। শস্যের বাজার বা মান্ডির নিয়ন্ত্রককে ‘শাহানা-ই-মান্ডি’ বলা হত।
118. বাহমনি রাজ্যের বিখ্যাত মন্ত্রী মাহমুদ গাওয়ান কোন শাসকের অধীনে কাজ করতেন?
সঠিক উত্তর: (গ) তৃতীয় মহম্মদ শাহ
ব্যাখ্যা: মাহমুদ গাওয়ান ছিলেন বাহমনি রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী (ওয়াজির)। তিনি সুলতান তৃতীয় মহম্মদ শাহের অধীনে রাজ্যকে শাসন ও সামরিক দিক থেকে উন্নতির শীর্ষে নিয়ে যান। কিন্তু অভিজাতদের ষড়যন্ত্রের কারণে তাকে অন্যায়ভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, যা বাহমনি রাজ্যের পতনের সূচনা করে।
119. কোন সুলতান তার মুদ্রায় নিজেকে ‘আল্লাহের সৈনিক’ (Soldier of God) বলে উল্লেখ করেছেন?
সঠিক উত্তর: (ক) কুতুবউদ্দিন মুবারক শাহ খলজি
ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজির পুত্র মুবারক শাহ খলজি ছিলেন একজন খামখেয়ালী শাসক। তিনি নিজেকে ‘খলিফাতুল্লাহ’ (আল্লাহের প্রতিনিধি) ঘোষণা করেন এবং মুদ্রায় নিজেকে ‘আল-ইমাম’, ‘খলিফা’ ইত্যাদি উপাধিতে ভূষিত করেন, যা তার চরম ঔদ্ধত্যের পরিচায়ক।
120. বিজয়নগরের কোন শাসককে ‘গজবেতকর’ (হাতি শিকারী) উপাধি দেওয়া হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: (খ) দ্বিতীয় দেবরায়
ব্যাখ্যা: সঙ্গম বংশের শক্তিশালী শাসক দ্বিতীয় দেবরায় তার অসাধারণ শক্তি ও বীরত্বের জন্য পরিচিত ছিলেন। কথিত আছে, তিনি হাতি শিকার ও বশীভূত করায় পারদর্শী ছিলেন, যার জন্য তাকে ‘গজবেতকর’ উপাধি দেওয়া হয়।
121. “রাজার কোনো আত্মীয় নেই” (Kingship knows no kinship) – এই নীতিটি কোন সুলতানের সাথে যুক্ত?
সঠিক উত্তর: (খ) আলাউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা: এই উক্তিটি আলাউদ্দিন খলজির কঠোর ও বাস্তববাদী শাসননীতির পরিচয় দেয়। তিনি রাষ্ট্রের স্বার্থে কোনো আপোস করতেন না এবং ষড়যন্ত্র বা বিদ্রোহের অভিযোগে নিকটাত্মীয়দেরও কঠোর শাস্তি দিতেন। ইব্রাহিম লোদির ক্ষেত্রেও এই নীতি প্রয়োগের কথা শোনা যায়, তবে এটি আলাউদ্দিনের সাথেই বেশি সম্পৃক্ত।
122. তুঘলক যুগে নির্মিত ‘সাতপুলা বাঁধ’ (Satpula Dam) কোথায় অবস্থিত?
সঠিক উত্তর: (ঘ) দিল্লি
ব্যাখ্যা: মহম্মদ বিন তুঘলক তার নতুন রাজধানী জাহানপনাহ শহরে জল সরবরাহের জন্য ‘সাতপুলা’ (সাতটি খিলানযুক্ত) নামে একটি বাঁধ ও জলাধার নির্মাণ করেন। এটি তুঘলক যুগের স্থাপত্য ও ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
123. ইলতুৎমিশের রাজত্বকালে বাংলার কোন বিদ্রোহী শাসককে দমন করা হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: (খ) গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খলজি
ব্যাখ্যা: গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খলজি ছিলেন বাংলার একজন স্বাধীন শাসক যিনি নিজের নামে মুদ্রা চালু করেন। ইলতুৎমিশ তার বিরুদ্ধে অভিযান প্রেরণ করেন এবং তাকে দিল্লির বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য করেন, যদিও পরে তিনি আবার বিদ্রোহ করলে নিহত হন।
124. আলাউদ্দিন খলজি কর্তৃক নিযুক্ত ‘মুন্হিয়ান’দের কাজ কী ছিল?
সঠিক উত্তর: (গ) বাজারে গোপনে ঘুরে খবর সংগ্রহ করা (গুপ্তচর)
ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিনের বাজারদর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সফল করার জন্য ‘বারিদ’ (গোয়েন্দা) ছাড়াও ‘মুন্হিয়ান’ বা গোপন গুপ্তচর নিয়োগ করা হত। তারা সাধারণ ক্রেতার ছদ্মবেশে বাজারে ঘুরে বেড়াত এবং নিয়মকানুন ঠিকমতো মানা হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে সুলতানকে রিপোর্ট করত।
125. বিজয়নগরের কোন শাসক পর্তুগিজদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করে भटकल-এ একটি দুর্গ নির্মাণের অনুমতি দিয়েছিলেন?
সঠিক উত্তর: (গ) কৃষ্ণদেব রায়
ব্যাখ্যা: কৃষ্ণদেব রায় পর্তুগিজদের সামরিক গুরুত্ব, বিশেষ করে তাদের উন্নত ঘোড়া ও আগ্নেয়াস্ত্রের সরবরাহ উপলব্ধি করেছিলেন। তাই তিনি পর্তুগিজ গভর্নর আলবুকার্কের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন এবং তাদের भटकल-এ একটি দুর্গ নির্মাণের অনুমতি দেন।
126. কোন তুর্কি সেনাপতি নালন্দা ও বিক্রমশীলা মহাবিহার ধ্বংস করেন?
সঠিক উত্তর: (গ) বখতিয়ার খলজি
ব্যাখ্যা: মহম্মদ ঘোরির সেনাপতি ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি বাংলা ও বিহার জয়ের সময় (আনুমানিক ১২০৩ খ্রিস্টাব্দ) প্রাচীন জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নালন্দা ও বিক্রমশীলা মহাবিহার ধ্বংস করেন।
127. সুলতানি শাসন ব্যবস্থায় ‘আমির-ই-হাজিব’ পদের কাজ কী ছিল?
সঠিক উত্তর: (গ) দরবারের আনুষ্ঠানিকতা ও शिষ্টাচার নিয়ন্ত্রণ করা
ব্যাখ্যা: ‘আমির-ই-হাজিব’ বা ‘বারবক’ ছিলেন দরবারের প্রধান আনুষ্ঠানিক কর্মকর্তা (Master of Ceremonies)। সুলতানের সাথে কার দেখা করার অনুমতি আছে, দরবারে কে কোথায় বসবে ইত্যাদি বিষয় তিনি নিয়ন্ত্রণ করতেন।
128. ‘তুঘলকনামা’ কে রচনা করেন?
সঠিক উত্তর: (গ) আমির খসরু
ব্যাখ্যা: ‘তুঘলকনামা’ হল আমির খসরুর লেখা একটি ঐতিহাসিক কাব্য। এতে তিনি গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের বিজয় এবং সিংহাসনে আরোহণের কাহিনী বর্ণনা করেছেন। এটি আমির খসরুর লেখা শেষ ঐতিহাসিক গ্রন্থ।
129. হরিহর ও বুক্কা বিজয়নগর সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার আগে কোন রাজ্যের অধীনে চাকরি করতেন?
সঠিক উত্তর: (খ) ওয়ারাঙ্গলের কাকাতিয়
ব্যাখ্যা: হরিহর ও বুক্কা ছিলেন সঙ্গম নামক এক ব্যক্তির পাঁচ পুত্রের মধ্যে দুজন। তারা প্রথমে ওয়ারাঙ্গলের কাকাতিয় রাজা প্রতাপরুদ্রদেবের অধীনে চাকরি করতেন। পরে তারা কাম্পিলির রাজার অধীনে কাজ করেন এবং সেখান থেকে মহম্মদ বিন তুঘলকের হাতে বন্দী হন।
130. দিল্লির কোন সুলতান সর্বপ্রথম একটি স্থায়ী সেনাবাহিনী (Standing Army) গঠন করেন এবং সৈন্যদের নগদ বেতনের ব্যবস্থা করেন?
সঠিক উত্তর: (গ) আলাউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজিই প্রথম সুলতান যিনি ইকতা বা জায়গিরের পরিবর্তে সৈন্যদের নগদ বেতন দেওয়ার প্রথা চালু করেন। মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করা এবং সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য তিনি একটি বিশাল, শক্তিশালী ও স্থায়ী সেনাবাহিনী গঠন করেন।
131. সুলতানি আমলে ‘উশর’ কী ছিল?
সঠিক উত্তর: (খ) মুসলিমদের উপর ধার্য ভূমিরাজস্ব
ব্যাখ্যা: ইসলামি আইন অনুসারে, মুসলিম কৃষকদের কাছ থেকে যে ভূমিরাজস্ব আদায় করা হত তাকে ‘উশর’ বলা হত। এর হার সাধারণত উৎপাদনের ১০% থাকত। অমুসলিমদের থেকে নেওয়া ভূমিরাজস্বকে ‘খারাজ’ বলা হত।
132. ফিরোজ শাহ তুঘলক অশোকের দুটি স্তম্ভ কোথা থেকে দিল্লিতে নিয়ে আসেন?
সঠিক উত্তর: (খ) টোপরা ও মিরাট থেকে
ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলক প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী ছিলেন। তিনি হরিয়ানার টোপরা এবং উত্তরপ্রদেশের মিরাট থেকে সম্রাট অশোকের দুটি শিলাস্তম্ভ অত্যন্ত যত্ন সহকারে দিল্লিতে নিয়ে এসে স্থাপন করেন, যার একটি ফিরোজ শাহ কোটলায় এখনও দেখা যায়।
133. হাম্পি-বিজয়নগরের স্থাপত্য কোন শৈলীর উদাহরণ?
সঠিক উত্তর: (গ) দ্রাবিড় শৈলী
ব্যাখ্যা: বিজয়নগরের স্থাপত্য মূলত দক্ষিণ ভারতের ঐতিহ্যবাহী দ্রাবিড় শৈলীর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। তবে এতে চালুক্য, হোয়সল এবং পাণ্ড্য স্থাপত্যের প্রভাবও লক্ষ্য করা যায়। উঁচু গোপুরম, কল্যাণমণ্ডপম, এবং অলংকৃত স্তম্ভ এই শৈলীর বৈশিষ্ট্য।
134. কোন সুলতান তার ভ্রাতা জৌনা খানের স্মরণে জৌনপুর শহর প্রতিষ্ঠা করেন?
সঠিক উত্তর: (খ) ফিরোজ শাহ তুঘলক
ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলক তার পিতৃব্যপুত্র এবং পূর্ববর্তী সুলতান মহম্মদ বিন তুঘলকের (আসল নাম জৌনা খান) স্মরণে গোমতী নদীর তীরে জৌনপুর শহরটি প্রতিষ্ঠা করেন।
135. সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের রাজত্বকালের সবচেয়ে বড় বিদ্রোহ কোনটি ছিল?
সঠিক উত্তর: (খ) বাংলার শাসক তুঘরিল খানের বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা: বলবনের রাজত্বকালে সবচেয়ে গুরুতর বিদ্রোহ ছিল বাংলার শাসনকর্তা তুঘরিল খানের বিদ্রোহ। তিনি নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন। বলবন পরপর দুটি অভিযান পাঠিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর নিজে গিয়ে এই বিদ্রোহ দমন করেন এবং তুঘরিল খানকে নির্মমভাবে হত্যা করেন।
136. বিজয়নগর সাম্রাজ্যের পতনের পর উদ্ভূত প্রধান রাজ্য কোনটি ছিল?
সঠিক উত্তর: (ঘ) উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা: তালিকোটার যুদ্ধের পর বিজয়নগর সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় শাসন ভেঙে পড়লে তার ধ্বংসস্তূপের উপর অনেক ছোট ছোট রাজ্যের উদ্ভব হয়। এদের মধ্যে মহীশূরের ওডেয়ার, তাঞ্জোরের নায়ক এবং মাদুরাইয়ের নায়ক রাজ্যগুলি প্রধান ছিল।
137. ইলতুৎমিশের পর কে তার উত্তরাধিকারী মনোনীত হয়েছিলেন?
সঠিক উত্তর: (গ) রাজিয়া
ব্যাখ্যা: ইলতুৎমিশ তার পুত্রদের অযোগ্য মনে করে তার সুযোগ্যা কন্যা রাজিয়াকে তার উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত করে যান। কিন্তু তার মৃত্যুর পর তুর্কি অভিজাতরা ষড়যন্ত্র করে তার পুত্র রুকনুদ্দিন ফিরোজকে সিংহাসনে বসায়। পরে রাজিয়া দিল্লির জনগণের সমর্থনে সিংহাসন লাভ করেন।
138. ‘সরাই-ই-আদল’ বাজারে কী ধরনের পণ্য বিক্রি হত?
সঠিক উত্তর: (গ) কাপড়, চিনি, শুকনো ফল, মাখন এবং ঔষধি ভেষজ
ব্যাখ্যা: ‘সরাই-ই-আদল’ ছিল আলাউদ্দিন খলজির প্রতিষ্ঠিত একটি নিয়ন্ত্রিত কাপড়ের বাজার। এখানে বিভিন্ন ধরনের কাপড় ছাড়াও আমদানি করা পণ্য যেমন চিনি, শুকনো ফল ইত্যাদি নির্দিষ্ট দামে বিক্রি হত।
139. মহম্মদ বিন তুঘলক কোন জৈন সাধককে সম্মান প্রদর্শন করতেন এবং তার সাথে আলোচনা করতেন?
সঠিক উত্তর: (গ) জিনপ্রভা সুরি
ব্যাখ্যা: মহম্মদ বিন তুঘলক ধর্মীয় বিষয়ে অত্যন্ত উদার এবং অনুসন্ধিৎসু ছিলেন। তিনি হিন্দু যোগী এবং জৈন সাধকদের সাথে ধর্মীয় ও দার্শনিক বিষয়ে আলোচনা করতেন। জিনপ্রভা সুরি ছিলেন এমনই একজন বিখ্যাত জৈন সাধক যাকে সুলতান সম্মান জানাতেন।
140. কোন ঐতিহাসিক সুলতানি যুগকে “তুর্কি-আফগান শাসন” বলে অভিহিত করেছেন?
সঠিক উত্তর: (গ) ঈশ্বরী প্রসাদ
ব্যাখ্যা: ঐতিহাসিক ঈশ্বরী প্রসাদ এবং আরও অনেকে সুলতানি যুগের শাসকদের নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের উপর ভিত্তি করে এই সময়কালকে “তুর্কি-আফগান শাসন” বলে চিহ্নিত করেছেন, কারণ প্রথমদিকের শাসকরা ছিলেন তুর্কি এবং শেষদিকের (লোদি) শাসকরা ছিলেন আফগান।
141. সুলতানি আমলে প্রাদেশিক স্তরে রাজস্ব আদায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান কর্মকর্তাকে কী বলা হত?
সঠিক উত্তর: (গ) খাজা বা সাহেব-ই-দিওয়ান
ব্যাখ্যা: ওয়ালি বা মুক্তি ছিলেন প্রদেশের সামরিক ও প্রশাসনিক প্রধান। কিন্তু রাজস্ব সংক্রান্ত হিসাব রাখা এবং তা কেন্দ্রীয় দিওয়ান-ই-উজিরাতে পাঠানোর দায়িত্বে থাকতেন ‘খাজা’ নামক একজন কর্মকর্তা, যাকে সরাসরি কেন্দ্র থেকে নিয়োগ করা হত। এটি ছিল ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার একটি উপায়।
142. আলাউদ্দিন খলজির গুজরাট অভিযানে নেতৃত্বদানকারী সেনাপতি কারা ছিলেন?
সঠিক উত্তর: (খ) উলুগ খান ও নসরৎ খান
ব্যাখ্যা: ১২৯৯ খ্রিস্টাব্দে আলাউদ্দিন খলজি তার দুই বিশ্বস্ত সেনাপতি উলুগ খান এবং নসরৎ খানকে গুজরাট অভিযানে পাঠান। এই অভিযানে তারা রাজা কর্ণদেবকে পরাজিত করেন এবং প্রচুর সম্পদ লুণ্ঠন করেন। यहीं से মালিক কাফুরকে বন্দী করা হয়।
143. বিজয়নগরের মুদ্রায় কোন দেবদেবীর প্রতিকৃতি সবচেয়ে বেশি দেখা যেত?
সঠিক উত্তর: (ঘ) বরাহ (বিষ্ণুর অবতার) ও হনুমান
ব্যাখ্যা: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রীয় প্রতীক ছিল বরাহ (বন্য শূকর), যা ছিল বিষ্ণুর তৃতীয় অবতার। তাই তাদের স্বর্ণমুদ্রাকে ‘বরাহ’ বলা হত এবং এতে প্রায়শই বরাহের ছবি থাকত। এছাড়াও হনুমান এবং অন্যান্য বৈষ্ণব প্রতীকও মুদ্রায় ব্যবহৃত হত।
144. কোন সুলতান তার আত্মজীবনীতে লিখেছেন যে তিনি অ-ইসলামিক করগুলি বাতিল করেছেন?
সঠিক উত্তর: (খ) ফিরোজ শাহ তুঘলক
ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলক তার আত্মজীবনী ‘ফুতুহাত-ই-ফিরোজশাহী’-তে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি শরিয়ত-বিরোধী প্রায় ২৩টি কর বাতিল করে দিয়েছিলেন এবং শুধুমাত্র শরিয়ত-স্বীকৃত চারটি কর—খারাজ, খামস, জিজিয়া ও জাকাত—আদায় করতেন।
145. দিল্লি সুলতানির কোন বংশ সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শাসন করেছিল?
সঠিক উত্তর: (গ) তুঘলক বংশ
ব্যাখ্যা: তুঘলক বংশ ১৩২০ থেকে ১৪১৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ৯৩ বছর ধরে শাসন করেছিল, যা দিল্লি সুলতানির পাঁচটি বংশের মধ্যে দীর্ঘতম শাসনকাল। দাস বংশ ৮৪ বছর, খলজি বংশ ৩০ বছর, সৈয়দ বংশ ৩৭ বছর এবং লোদি বংশ ৭৫ বছর শাসন করে।
146. ‘জহর ব্রত’ কী?
সঠিক উত্তর: (গ) শত্রুর হাতে বন্দিত্ব এড়াতে রাজপুত নারীদের সম্মিলিত আত্মাহুতি
ব্যাখ্যা: ‘জহর’ ছিল মধ্যযুগীয় ভারতে প্রচলিত একটি প্রথা, যেখানে যুদ্ধে পরাজয় নিশ্চিত জেনে রাজপুত নারীরা তাদের সম্মান ও সম্ভ্রম রক্ষার জন্য আগুনে ঝাঁপ দিয়ে সম্মিলিতভাবে আত্মহত্যা করতেন। আলাউদ্দিন খলজির চিতোর অভিযানের সময় রানি পদ্মিনীর জহর ব্রত পালনের কাহিনী বিশেষভাবে বিখ্যাত।
147. কার রাজত্বকালে বাহমনি রাজ্য পাঁচটি স্বাধীন রাজ্যে বিভক্ত হয়ে যায়?
সঠিক উত্তর: (গ) মাহমুদ গাওয়ানের মৃত্যুর পর
ব্যাখ্যা: মাহমুদ গাওয়ানের মৃত্যুর পর বাহমনি রাজ্যের কেন্দ্রীয় শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং প্রাদেশিক শাসনকর্তারা শক্তিশালী হয়ে ওঠেন। ধীরে ধীরে বাহমনি রাজ্য ভেঙে পাঁচটি স্বাধীন সুলতানি—বিজাপুর (আদিলশাহী), আহমদনগর (নিজামশাহী), গোলকোন্ডা (কুতুবশাহী), বিদর (বরিদশাহী) এবং বেরার (ইমাদশাহী)—প্রতিষ্ঠিত হয়।
148. ইলতুৎমিশের সামনে প্রধান সমস্যাগুলি কী ছিল?
সঠিক উত্তর: (ঘ) উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা: সিংহাসনে বসে ইলতুৎমিশকে একাধিক গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাকে গজনির শাসক তাজউদ্দিন ইলদিজ এবং মুলতানের শাসক নাসিরউদ্দিন কুবাচার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমন করতে হয়েছে, চেঙ্গিজ খানের নেতৃত্বে মোঙ্গল আক্রমণের বিপদ থেকে সুলতানিকে রক্ষা করতে হয়েছে এবং বিদ্রোহী রাজপুতদের দমন করে সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে হয়েছে।
149. কৃষ্ণদেব রায় কোন কোন রাজ্য জয় করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: (ঘ) উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা: কৃষ্ণদেব রায় ছিলেন একজন অসামান্য সামরিক নেতা। তিনি উড়িষ্যার গজপতি রাজাকে পরাজিত করে উদয়গিরি ও কোন্ডাবিডু দুর্গ দখল করেন, বিজাপুরের সুলতানকে পরাজিত করে রায়চুর দোয়াব পুনরুদ্ধার করেন এবং অন্যান্য দাক্ষিণাত্য সুলতানদের উপর তার আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন।
150. সুলতানি আমলে ‘দেওয়ান-ই-ইনশা’ কোন বিভাগের দায়িত্বে ছিল?
সঠিক উত্তর: (খ) রাজকীয় চিঠিপত্র ও ফরমান বিভাগ
ব্যাখ্যা: ‘দেওয়ান-ই-ইনশা’ ছিল সুলতানি কেন্দ্রীয় প্রশাসনের রাজকীয় সচিবালয়। এই বিভাগের প্রধান কাজ ছিল সুলতানের আদেশ বা ফরমান লিপিবদ্ধ করা এবং প্রাদেশিক শাসক ও অন্যান্য রাজ্যের সাথে চিঠিপত্র আদান-প্রদান করা। এর প্রধানকে ‘দবির-ই-মামালিক’ বলা হত।
151. ‘সিড়ি’ (Siri) দুর্গ এবং শহর কে নির্মাণ করেন?
সঠিক উত্তর: (খ) আলাউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা: মোঙ্গল আক্রমণ থেকে দিল্লিকে সুরক্ষিত করার জন্য আলাউদ্দিন খলজি ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে ‘সিড়ি’ নামে একটি নতুন সুরক্ষিত শহর ও দুর্গ নির্মাণ করেন এবং এটিকে তার রাজধানী বানান।
152. মহম্মদ বিন তুঘলকের কোন পরিকল্পনাটি চীনের কুবলাই খানের দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিল?
সঠিক উত্তর: (খ) প্রতীকী মুদ্রা প্রচলন
ব্যাখ্যা: মহম্মদ বিন তুঘলক তার প্রতীকী মুদ্রা বা টোকেন কারেন্সি প্রচলনের পরিকল্পনায় চীনের ইউয়ান বংশের শাসক কুবলাই খান এবং পারস্যের ইলখানিদ শাসক গাইখাতুর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, যারা সফলভাবে কাগজের মুদ্রা ও প্রতীকী মুদ্রা চালু করেছিলেন।
153. হরিহর ও বুক্কা কোন সাধুর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে বিজয়নগর সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন?
সঠিক উত্তর: (গ) বিদ্যারণ্য
ব্যাখ্যা: প্রচলিত কাহিনী অনুসারে, হরিহর ও বুক্কা শৃঙ্গেরী মঠের মহন্ত এবং অদ্বৈত বেদান্তের পণ্ডিত সাধু বিদ্যারণ্যের সংস্পর্শে আসেন। তিনিই তাদের ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসতে এবং দাক্ষিণাত্যে হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতি রক্ষার জন্য একটি স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে অনুপ্রাণিত করেন।
154. সুলতানি আমলে ‘খারাজ’ বলতে কী বোঝানো হত?
সঠিক উত্তর: (খ) অ-মুসলিমদের উপর ধার্য ভূমিরাজস্ব
ব্যাখ্যা: ‘খারাজ’ ছিল সুলতানি আমলে অ-মুসলিম প্রজাদের কাছ থেকে আদায়কৃত ভূমিরাজস্ব। এর হার সাধারণত উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশ থেকে অর্ধেক পর্যন্ত হত।
155. কোন সুলতানের দুর্বলতার সুযোগে জৌনপুর, মালব ও গুজরাট স্বাধীন হয়ে যায়?
সঠিক উত্তর: (খ) নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ তুঘলক
ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলকের মৃত্যুর পর তুঘলক বংশের পতন শুরু হয়। তার দুর্বল উত্তরাধিকারী, বিশেষ করে নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের সময় এবং তৈমুরের আক্রমণের পর কেন্দ্রীয় শাসন ভেঙে পড়ে। এই সুযোগে জৌনপুর, মালব ও গুজরাটের মতো শক্তিশালী প্রদেশগুলি স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
156. খলজি বংশের কোন শাসক আলাউদ্দিন খলজিকে হত্যা করে সিংহাসনে বসার ষড়যন্ত্র করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: (গ) আকত খান
ব্যাখ্যা: আকত খান ছিলেন আলাউদ্দিন খলজির ভ্রাতুষ্পুত্র। রণথম্ভোর অভিযানের সময় তিনি সুলতানকে একা পেয়ে আক্রমণের চেষ্টা করেন, কিন্তু সুলতান বেঁচে যান এবং আকত খানকে পরে হত্যা করা হয়।
157. বিজয়নগর সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক বিভাগগুলির সঠিক ক্রম (বড় থেকে ছোট) কোনটি?
সঠিক উত্তর: (খ) মণ্ডলম – কোট্টম/বளনাড়ু – নাড়ু – গ্রাম
ব্যাখ্যা: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো ছিল: সাম্রাজ্য > মণ্ডলম (প্রদেশ) > কোট্টম বা বளনাড়ু (জেলা) > নাড়ু (উপ-জেলা) > স্থল (কয়েকটি গ্রামের সমষ্টি) > গ্রাম।
158. ‘হাজার সিতুন’ (হাজার স্তম্ভের প্রাসাদ) কে নির্মাণ করেন?
সঠিক উত্তর: (খ) আলাউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা: ‘হাজার সিতুন’ বা হাজার স্তম্ভের প্রাসাদটি আলাউদ্দিন খলজি তার নতুন রাজধানী সিড়িতে নির্মাণ করেছিলেন। এখানেই তিনি মালিক কাফুরের হাতে তার দাক্ষিণাত্যের বিজয়লব্ধ সম্পদ গ্রহণ করেন।
159. “আমি বৃদ্ধ, তাই কোনো মুসলমানের রক্তপাত করতে চাই না” – এই উক্তিটি কোন সুলতানের?
সঠিক উত্তর: (খ) জালালউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা: খলজি বংশের প্রতিষ্ঠাতা জালালউদ্দিন খলজি সিংহাসনে বসার পর একটি নরমপন্থী ও ক্ষমাশীল নীতি গ্রহণ করেন। তিনি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির পরিবর্তে ক্ষমা প্রদর্শন করতেন এবং এই উক্তিটি তার এই নীতিরই পরিচায়ক।
160. সুলতানি আমলে অশ্বারোহী বাহিনীর প্রধানকে কী বলা হত?
সঠিক উত্তর: (ক) আমির-ই-আখুর
ব্যাখ্যা: ‘আমির-ই-আখুর’ ছিলেন রাজকীয় অশ্বশালার প্রধান। সুলতানি আমলে অশ্বারোহী বাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই পদটিও খুব সম্মানজনক ছিল। সুলতানা রাজিয়া তার প্রিয়পাত্র ইয়াকুতকে এই পদে নিয়োগ করেছিলেন।
175. কোন সুলতান নিজেকে ‘ইসলামের রক্ষাকর্তা’ এবং ‘খলিফার সহকারী’ বলতেন কিন্তু খলিফার কোনো বাস্তব কর্তৃত্ব মানতেন না?
সঠিক উত্তর: (গ) আলাউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজি ‘ইয়ামিন-উল-খিলাফত নাসির-ই-আমির-উল-মুমিনিন’ (খলিফার ডান হাত এবং বিশ্বাসীদের নেতা) উপাধি নিলেও তিনি ধর্মকে রাজনীতি থেকে পৃথক রেখেছিলেন। তিনি উলেমাদের প্রভাব খর্ব করেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন, যা তাকে একজন বাস্তববাদী কিন্তু ধর্মাশ্রয়ী রাষ্ট্রের ধারণার থেকে ভিন্ন শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
176. বিজয়নগর সাম্রাজ্যে ‘কদাচারম’ কী ছিল?
সঠিক উত্তর: (গ) বিভিন্ন পেশাজীবী গোষ্ঠীর উপর ধার্য কর
ব্যাখ্যা: ‘কদাচারম’ ছিল বিজয়নগর সাম্রাজ্যের একটি কর ব্যবস্থা, যা কামার, কুমোর, ধোপা, নাপিত প্রভৃতি বিভিন্ন পেশাজীবী ও কারিগরদের উপর আরোপ করা হত।
177. খলজি বিপ্লবের ফলে কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: (গ) পুরনো ইলবারি তুর্কি অভিজাতরা
ব্যাখ্যা: খলজি বিপ্লব ছিল মূলত দাস বংশের সময়কার প্রভাবশালী ও উচ্চবংশীয় ইলবারি তুর্কি অভিজাতদের বিরুদ্ধে একটি অভ্যুত্থান। খলজিরা ক্ষমতায় আসার পর এই পুরনো অভিজাত গোষ্ঠীর ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়।
178. কোন সুলতানের আমলে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করা হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: (গ) আলাউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজির রাজত্বকালে (১২৯৭-১৩০৬) দিল্লি সুলতানি সবচেয়ে ভয়াবহ ও ঘন ঘন মোঙ্গল আক্রমণের শিকার হয়। তারগাই, কুতলুগ খাজা, সালদি প্রমুখ মোঙ্গল নেতাদের নেতৃত্বে প্রায় ছয়টি বড় আক্রমণ হয়, যা আলাউদ্দিনের সুদক্ষ সেনাবাহিনী সফলভাবে প্রতিহত করে।
179. ‘দার-উল-শিফা’ কী ছিল?
সঠিক উত্তর: (খ) একটি দাতব্য চিকিৎসালয় (হাসপাতাল)
ব্যাখ্যা: ফিরোজ শাহ তুঘলক তার জনকল্যাণমূলক কাজের অংশ হিসেবে দিল্লিতে ‘দার-উল-শিফা’ নামে একটি বড় হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে গরিব প্রজাদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হত।
180. বিজয়নগরের কোন শাসক ‘অভিনব ভোজ’ এবং ‘অন্ধ্র ভোজ’ উপাধি গ্রহণ করেন?
সঠিক উত্তর: (গ) কৃষ্ণদেব রায়
ব্যাখ্যা: কৃষ্ণদেব রায় শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক মহান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত শাসক ভোজ রাজার মতো শিল্প-সাহিত্যের প্রতি তার অনুরাগের জন্য তাকে ‘অভিনব ভোজ’ (নতুন ভোজ) এবং তেলেগু সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য ‘অন্ধ্র ভোজ’ উপাধি দেওয়া হয়।
181. ‘চাচনামা’ গ্রন্থ থেকে কোন অঞ্চলের ইতিহাস জানা যায়?
সঠিক উত্তর: (গ) আরবদের সিন্ধু বিজয়ের ইতিহাস
ব্যাখ্যা: ‘চাচনামা’ একটি ফার্সি গ্রন্থ যা মূলত একটি আরবি উৎস থেকে অনূদিত। এটি অষ্টম শতকে মহম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে আরবদের সিন্ধু বিজয়ের একটি বিস্তারিত ও নির্ভরযোগ্য বিবরণ প্রদান করে, যা ভারতে ইসলামি শাসনের সূচনার প্রেক্ষাপট বুঝতে সাহায্য করে।
182. সুলতান ও অভিজাতদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে কোন শাসকের আমলে দেখা যায়?
সঠিক উত্তর: (ক) ইলতুৎমিশ ও তার দুর্বল উত্তরাধিকারীদের আমলে
ব্যাখ্যা: ইলতুৎমিশ ‘চল্লিশ চক্র’ গঠন করে অভিজাতদের সংগঠিত করেন, কিন্তু তার মৃত্যুর পর রুকনুদ্দিন ফিরোজ, রাজিয়া এবং অন্যান্য দুর্বল শাসকদের আমলে এই অভিজাতরাই প্রকৃত ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে এবং সুলতানদেরকে পুতুলে পরিণত করে। বলবন এই ক্ষমতার দ্বন্দ্বের অবসান ঘটান।
183. আলাউদ্দিন খলজির অর্থনৈতিক সংস্কারের মূল চালিকাশক্তি কী ছিল?
সঠিক উত্তর: (খ) একটি বিশাল স্থায়ী সেনাবাহিনী রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় নির্বাহ করা
ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজির সমস্ত অর্থনৈতিক সংস্কার, বিশেষ করে বাজারদর নিয়ন্ত্রণ এবং ভূমিরাজস্ব সংস্কারের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সামরিক প্রয়োজন মেটানো। তিনি একটি বিশাল সেনাবাহিনী রাখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু রাজকোষের উপর চাপ না বাড়িয়ে। তাই কম বেতনে সৈন্যদের জীবনধারণ সম্ভব করার জন্য তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নিয়ন্ত্রণ করেন।
184. ‘ধর্মীয় সহনশীলতার অভাব’ কোন তুঘলক শাসকের নীতির একটি বড় সমালোচনা?
সঠিক উত্তর: (গ) ফিরোজ শাহ তুঘলক
ব্যাখ্যা: মহম্মদ বিন তুঘলক যেখানে ধর্মীয় বিষয়ে উদার ছিলেন, সেখানে ফিরোজ শাহ তুঘলক উলেমাদের সন্তুষ্ট করতে একটি কঠোর ইসলামি নীতি অনুসরণ করেন। তিনি জিজিয়া করের পরিধি বাড়ানো, হিন্দু মন্দির ধ্বংস এবং শিয়া ও অন্যান্য অ-সুন্নি মুসলিমদের উপর অত্যাচার চালান, যা তার ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার পরিচায়ক।
185. বিজয়নগর ও বাহমনি রাজ্যের মধ্যেকার দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতার ফল কী হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: (গ) অবিরাম যুদ্ধ দুটি রাজ্যকেই অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে দুর্বল করে দেয়, যা তাদের পতনকে ত্বরান্বিত করে
ব্যাখ্যা: প্রায় ২০০ বছর ধরে চলা এই সংঘাত উভয় রাজ্যের প্রচুর সম্পদ ও জনবলের ক্ষয় ঘটায়। এই পারস্পরিক শত্রুতা তাদের এতটাই দুর্বল করে দেয় যে, তারা বহিরাগত শক্তির (যেমন মুঘল ও পর্তুগিজ) মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয় এবং অবশেষে উভয় সাম্রাজ্যেরই পতন ঘটে।
195. ‘রায়চুর দোয়াব’ কোন দুটি নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল?
সঠিক উত্তর: (খ) কৃষ্ণা ও তুঙ্গভদ্রা
ব্যাখ্যা: রায়চুর দোয়াব হলো কৃষ্ণা এবং তার উপনদী তুঙ্গভদ্রার মধ্যবর্তী অত্যন্ত উর্বর একটি অঞ্চল। এর অর্থনৈতিক ও সামরিক গুরুত্বের কারণে এই অঞ্চলের অধিকার নিয়েই বিজয়নগর ও বাহমনি রাজ্যের মধ্যে মূল সংঘাত চলেছিল।
196. সুলতানি শাসন ব্যবস্থায় ‘জাকাত’ কী ছিল?
সঠিক উত্তর: (খ) শুধুমাত্র মুসলিমদের উপর ধার্য একটি ধর্মীয় কর
ব্যাখ্যা: ‘জাকাত’ ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। এটি একটি বাধ্যতামূলক দাতব্য কর যা ধনী মুসলিমদের কাছ থেকে তাদের সম্পদের ২.৫% হারে আদায় করা হত এবং তা শুধুমাত্র মুসলিম সমাজের কল্যাণে ব্যয় করা হত।
197. বলবন কোন মোঙ্গল নেতার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন, যার ফলে তার রাজত্বকালে বড় কোনো মোঙ্গল আক্রমণ হয়নি?
সঠিক উত্তর: (খ) হালাকু খান
ব্যাখ্যা: বলবন একদিকে যেমন উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে শক্তিশালী দুর্গ নির্মাণ করে সামরিক প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তেমনই অন্যদিকে পারস্যের ইলখানিদ মোঙ্গল শাসক হালাকু খানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। এই দ্বিমুখী নীতির ফলে তার শাসনকালে পাঞ্জাব ছাড়া ভারতের অভ্যন্তরে বড় কোনো মোঙ্গল আক্রমণ হয়নি।
198. আলাউদ্দিন খলজির কোন বিজয়কে ‘স্বর্গের চাবিকাঠি’ (Key to Heaven) বলা হয়েছে?
সঠিক উত্তর: (গ) রণথম্ভোর বিজয়
ব্যাখ্যা: আমির খসরু তার রচনায় রণথম্ভোর দুর্গের সামরিক গুরুত্ব বোঝাতে এই উক্তিটি করেছেন। রণথম্ভোর দুর্গ ছিল অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং এটিকে জয় করা খুব কঠিন ছিল। ১৩০১ খ্রিস্টাব্দে এই দুর্গ জয় আলাউদ্দিনের রাজপুতানা নীতির একটি বড় সাফল্য ছিল।
199. ফিরোজ শাহ তুঘলকের শাসনকালকে কেন ‘সুলতানি যুগের অবক্ষয়ের সূচনা’ বলা হয়?
সঠিক উত্তর: (ঘ) উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা: যদিও ফিরোজ শাহের আমলে শান্তি ও সমৃদ্ধি ছিল, তার অনেক নীতিই দীর্ঘমেয়াদে সুলতানির জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়। জায়গির প্রথা পুনঃপ্রবর্তন, সামরিক ও ইকতা পদকে বংশানুক্রমিক করা এবং উলেমাদের অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদান—এই সবকিছুই সুলতানের কর্তৃত্বকে দুর্বল করে দেয় এবং সামন্ততান্ত্রিক প্রবণতাকে উৎসাহিত করে, যা তার মৃত্যুর পর সাম্রাজ্যের দ্রুত ভাঙনের পথ প্রশস্ত করে।
200. বিজয়নগর সাম্রাজ্যের সামাজিক জীবনে ‘দেবদাসী প্রথা’ কীসের সঙ্গে যুক্ত ছিল?
সঠিক উত্তর: (গ) মন্দিরে ঈশ্বরকে উৎসর্গীকৃত নারীদের নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন
ব্যাখ্যা: ‘দেবদাসী’ প্রথা অনুযায়ী, অল্পবয়সী মেয়েদেরকে ঈশ্বরের সেবার জন্য মন্দিরে উৎসর্গ করা হত। তারা অবিবাহিত জীবনযাপন করত এবং মন্দিরে দেবতাদের সামনে নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করত। বিজয়নগর আমলে এই প্রথাটি সমাজে প্রচলিত ছিল এবং দেবদাসীরা সমাজে সম্মানিত হলেও, পরবর্তীকালে এই প্রথার অবক্ষয় ঘটে।