Subject Knowledge Set 1

WB Primary TET Interview – Subject Knowledge Questions

বাংলা

১. আপনি প্রথম শ্রেণির শিশুদের স্বরবর্ণ এবং ব্যঞ্জনবর্ণের ধারণা কীভাবে দেবেন?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: মুখস্থ করানোর পরিবর্তে খেলা এবং পরিচিত জিনিসের মাধ্যমে শেখানোর উপর জোর দিন।

নমুনা উত্তর: “আমি সরাসরি সংজ্ঞায় যাব না। আমি প্রথমে বর্ণমালা চার্টের মাধ্যমে তাদের বর্ণগুলির সাথে পরিচয় করাব। এরপর আমি শেখাব যে, কিছু বর্ণ (স্বরবর্ণ) একা একাই উচ্চারিত হতে পারে, যেমন – অ, আ, ই। আমি তাদের মুখ হাঁ করে ‘আ’ বলতে বলব। এরপর আমি শেখাব যে, কিছু বর্ণ (ব্যঞ্জনবর্ণ) একা উচ্চারিত হতে পারে না, তাদের সাথে ‘অ’-এর মতো স্বরবর্ণের সাহায্য লাগে, যেমন – ক্+অ = ক। আমি খেলার ছলে বিভিন্ন শব্দ বলব (যেমন – আম, ইট, কলম, বই) এবং তাদের বলতে বলব কোন শব্দের প্রথম ধ্বনি একা উচ্চারিত হচ্ছে আর কোনটির সাথে ‘অ’ জুড়ে আছে। ছবির কার্ড (Picture Cards) ব্যবহার করে ‘অ’-তে অজগর, ‘ক’-তে কাক—এভাবে শেখালে তারা আনন্দের সাথে শিখবে।”

২. ‘ধ্বনিসচেতনতা’ (Phonological Awareness) কী? শিশুদের সাবলীলভাবে পড়তে শেখার জন্য এটি কেন জরুরি?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: সহজ ভাষায় সংজ্ঞা দিন এবং এর প্রায়োগিক গুরুত্ব তুলে ধরুন।

নমুনা উত্তর: “ধ্বনিসচেতনতা হলো কোনো শব্দের মধ্যেকার আলাদা আলাদা ধ্বনিগুলিকে চেনার, পৃথক করার এবং ব্যবহার করার ক্ষমতা। যেমন, ‘কলম’ শব্দটি যে ‘ক’, ‘ল’ এবং ‘ম’—এই তিনটি আলাদা ধ্বনির সমন্বয়ে তৈরি, তা বুঝতে পারাই হলো ধ্বনিসচেতনতা।

এটি শিশুদের পড়তে শেখার জন্য অত্যন্ত জরুরি কারণ, শিশুরা যখন প্রতিটি বর্ণের ধ্বনি চিনতে পারে, তখনই তারা বর্ণগুলিকে জুড়ে জুড়ে নতুন শব্দ পড়তে শেখে (Decoding)। ধ্বনিসচেতনতা ছাড়া তারা শুধু বর্ণ চিনবে, কিন্তু শব্দ পড়তে পারবে না। ছড়া, গান এবং শব্দ নিয়ে খেলার মাধ্যমে এটি বাড়ানো যায়।”

৩. একটি কবিতাকে আপনি ছাত্রছাত্রীদের কাছে কীভাবে আকর্ষণীয় করে তুলবেন?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: শুধু পড়ে শোনানোর বাইরে গিয়ে অভিনয়, গান এবং কার্যকলাপের উপর জোর দিন।

নমুনা উত্তর: “আমি প্রথমে সঠিক উচ্চারণ, স্বরক্ষেপণ এবং আবহের সাথে কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনাব। এরপর কবিতার বিষয়বস্তুকে একটি গল্পের মতো করে তাদের সামনে তুলে ধরব। আমি কবিতার সাথে সম্পর্কিত ছবি দেখাব বা বোর্ডে আঁকব। ছাত্রছাত্রীদের সাথে নিয়ে অভিনয় বা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে কবিতার প্রতিটি লাইনকে জীবন্ত করে তোলার চেষ্টা করব। আমরা সবাই মিলে কবিতাটিকে একটি গানের সুরে গাইতেও পারি। এতে কবিতাটি তাদের কাছে আর কঠিন বা নিরস মনে হবে না।”

৪. যুক্তাক্ষরের ধারণা শিশুদের কাছে কঠিন মনে হয়। আপনি এটি কীভাবে সহজ করে শেখাবেন?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: যুক্তাক্ষরকে ‘বর্ণের বন্ধুত্ব’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিন এবং ভেঙে ভেঙে শেখান।

নমুনা উত্তর: “আমি যুক্তাক্ষরকে ‘দুটি বর্ণের বন্ধুত্ব’ হিসেবে পরিচয় করাব। আমি বলব, ‘দেখো, ক আর ত বন্ধু হয়ে কেমন একসাথে জুড়ে গেছে (ক্ত)’। আমি প্রথমে পরিচিত শব্দ দিয়ে শুরু করব, যেমন – ‘ডাক্তার’। আমি শব্দটি বোর্ডে লিখে ‘ক্ত’ অংশটি গোল করে দেব এবং দেখাব এটি ‘ক্’ আর ‘ত’ দিয়ে তৈরি। আমি বর্ণ কার্ড ব্যবহার করে দুটি বর্ণকে পাশাপাশি রেখে এবং তারপর জুড়ে দিয়ে দেখাব কীভাবে যুক্তাক্ষর তৈরি হয়। ভেঙে ভেঙে উচ্চারণ অনুশীলন করাব, যেমন – रक्-ত। খেলার মাধ্যমে, যেমন – যুক্তাক্ষর দিয়ে শব্দ তৈরির প্রতিযোগিতা করে, বিষয়টি সহজ করে তোলা যায়।”

৫. ‘আমার বই’ (প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণি) পাঠ্যপুস্তকটির প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: সমন্বিত শিক্ষাদান (Integrated Learning) এবং কার্যকলাপ-ভিত্তিক শিক্ষার উপর জোর দিন।

নমুনা উত্তর: “‘আমার বই’ পাঠ্যপুস্তকটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি একটি সমন্বিত বা সংহত (Integrated) পাঠ্যপুস্তক। এখানে বাংলা, ইংরেজি এবং গণিত—এই তিনটি বিষয়কে একটি বইয়ের মধ্যেই বিভিন্ন পাঠের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে শিশুরা আলাদা আলাদা বিষয়ের বোঝা অনুভব করে না, বরং একটি বিষয়ের সাথে অন্য বিষয়ের সংযোগ খুঁজে পায়। এছাড়া, এই বইটি সম্পূর্ণভাবে কার্যকলাপ-ভিত্তিক (Activity-based)। এখানে শিশুদের হাতে-কলমে কাজ করতে, ছবি আঁকতে, ভাবতে এবং বলতে উৎসাহিত করা হয়েছে, যা তাদের শেখাকে আনন্দদায়ক ও দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে।”

English

৬. How would you introduce the concept of Nouns to Class II students?

Answer Strategy: Focus on playful activities rather than definitions.

Sample Answer: “I would not start with the definition ‘A noun is a naming word’. Instead, I would start with a game. I would say, ‘Let’s play a naming game! Look around the classroom and tell me the names of things you can see’. Students would say ‘board’, ‘fan’, ‘duster’, ‘book’. Then, I would ask them to name some persons they know, like ‘Ram’, ‘Sita’, or ‘mother’. Similarly, I’d ask for names of animals and places. After collecting many such ‘naming words’, I would tell them that all these naming words are called Nouns. This activity-based approach makes learning concrete and enjoyable.”

৭. What is the importance of Phonics in teaching English at the primary level?

Answer Strategy: Explain that it helps in reading and pronunciation.

Sample Answer: “Phonics is very important because it teaches the relationship between letters and their sounds. For example, the letter ‘C’ makes a ‘kuh’ sound in ‘cat’ but an ‘suh’ sound in ‘cell’. By learning phonics, children can decode or sound out new words on their own, which makes them independent readers. It also helps in improving their pronunciation and spelling skills. Teaching English through phonics rather than rote memorization builds a strong foundation for the language.”

৮. How can you encourage students who are hesitant to speak in English?

Answer Strategy: Focus on creating a fear-free, encouraging environment.

Sample Answer: “First, I will create a safe and non-judgmental classroom environment where mistakes are treated as learning opportunities. I will not punish or laugh at them for making errors. I will start with very simple activities like singing rhymes and action songs in English. I’ll use simple greetings like ‘Good morning’ or short commands like ‘Sit down’. I will encourage pair work where they can talk to a friend in simple sentences. Praising their small efforts will boost their confidence and gradually reduce their hesitation.”

গণিত

৯. ‘স্থানীয় মান’ (Place Value)-এর ধারণা শিশুদের কাছে একটি কঠিন বিষয়। আপনি কী ধরনের TLM (Teaching Learning Material) ব্যবহার করে এটি শেখাবেন?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: মূর্ত বস্তু (Concrete objects) থেকে বিমূর্ত ধারণায় (Abstract concept) যাওয়ার কথা বলুন।

নমুনা উত্তর: “স্থানীয় মানের ধারণা দেওয়ার জন্য আমি মূর্ত বস্তু ব্যবহার করব।

  1. কাঠি বা দেশলাই কাঠি: আমি কিছু কাঠি দিয়ে দেখাব যে, ৯টি কাঠির পর আরেকটি কাঠি এলে ১০টি কাঠির একটি বান্ডিল তৈরি হয়, যা হলো ‘এক দশক’। এভাবে দশকের ধারণা দেব।
  2. অ্যাবাকাস (Abacus): অ্যাবাকাসের মাধ্যমে একক, দশক, শতকের ঘরে পুঁতি বসিয়ে আমি খুব সহজে স্থানীয় মানের ধারণা স্পষ্ট করতে পারব। যেমন – ২৩ সংখ্যাটি বোঝাতে দশকের ঘরে দুটি এবং এককের ঘরে তিনটি পুঁতি বসাব।
  3. প্লেস ভ্যালু কার্ড: আমি রঙিন কাগজ দিয়ে একক, দশক, শতকের ঘর বানিয়ে সংখ্যা বসিয়ে দেখাব।

এইসব মূর্ত উপকরণের মাধ্যমে খেলার ছলে শেখালে তাদের কাছে বিষয়টি আর কঠিন মনে হবে না।”

১০. আপনি কীভাবে প্রথম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের ‘যোগ’ এবং ‘বিয়োগ’-এর ধারণা দেবেন?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: বাস্তব জীবনের উদাহরণ এবং মূর্ত বস্তু ব্যবহারের উপর জোর দিন।

নমুনা উত্তর: “আমি সরাসরি চিহ্ন (+, -) ব্যবহার না করে, গল্পের মাধ্যমে শুরু করব।

যোগের জন্য: ‘ধরো, তোমার কাছে ৩টি লজেন্স ছিল। আমি তোমাকে আরও ২টি লজেন্স দিলাম। এখন তোমার কাছে মোট ক’টি হলো?’—এই বলে আমি তাদের হাতে বাস্তব লজেন্স বা পাথরের টুকরো দিয়ে গুনতে বলব। ‘একসাথে করা’ বা ‘আরও পাওয়া’ মানেই যে যোগ, এই ধারণাটা তৈরি করব।

বিয়োগের জন্য: ‘তোমার কাছে ৫টি ফুল ছিল। তার থেকে ২টি ফুল তোমার বন্ধুকে দিয়ে দিলে। এখন তোমার কাছে ক’টি রইল?’—এইভাবে ‘চলে যাওয়া’ বা ‘বাদ দেওয়া’ মানেই যে বিয়োগ, তা বোঝাব। আঙুল গুনে বা ছবি এঁকেও বিষয়টি শেখানো যেতে পারে।”

১১. ‘শূন্য’ (Zero)-এর ধারণা শিশুদের কাছে বেশ বিমূর্ত। আপনি এটি কীভাবে শেখাবেন?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: ‘কিছুই না’ (Nothingness) এই ধারণাকে মূর্ত উদাহরণের মাধ্যমে তুলে ধরুন।

নমুনা উত্তর: “আমি কিছু মূর্ত উদাহরণ ব্যবহার করব। যেমন –

  • আমি একটি প্লেটে ৫টি চক রাখব এবং ছাত্রছাত্রীদের গুনতে বলব। তারপর এক এক করে চকগুলি সরিয়ে নিয়ে আবার গুনতে বলব। যখন প্লেটে কিছুই থাকবে না, তখন আমি বলব, ‘এখন প্লেটে শূন্যটি চক আছে’।
  • আমি আমার হাতের মুঠি বন্ধ করে জিজ্ঞাসা করব, ‘আমার হাতে ক’টি পাখি আছে?’। তারপর হাত খুলে দেখিয়ে বলব, ‘কিছুই নেই, অর্থাৎ শূন্যটি পাখি আছে’।
  • গাছের ডালে বসে থাকা পাখির উড়ে যাওয়ার গল্পের মাধ্যমেও এই ধারণা দেওয়া যায়।

এইভাবে ‘কিছুই না’ এই অবস্থাকেই যে ‘শূন্য’ দিয়ে বোঝানো হয়, তা তারা সহজে বুঝতে পারবে।”

১২. জ্যামিতিক আকার (যেমন – গোল, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ) চেনানোর জন্য আপনি কী পদ্ধতি ব্যবহার করবেন?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: শ্রেণিকক্ষ এবং পারিপার্শ্বিক বস্তু থেকে উদাহরণ দেওয়ার কথা বলুন।

নমুনা উত্তর: “আমি প্রথমে শ্রেণিকক্ষের মধ্যেই থাকা বিভিন্ন বস্তু দিয়ে আকার চেনাব। যেমন – ঘড়ি বা পয়সা দেখিয়ে ‘গোল’, ব্ল্যাকবোর্ড বা বই দেখিয়ে ‘চতুর্ভুজ’, এবং স্যান্ডউইচ বা পতাকার ছবি দেখিয়ে ‘ত্রিভুজ’-এর ধারণা দেব। এরপর আমি তাদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকে এই আকারগুলির উদাহরণ খুঁজে বের করতে বলব, যেমন – গাড়ির চাকা গোল, বাড়ির চাল ত্রিভুজ। আমি তাদের কাগজ ভাঁজ করে বা কাঠি দিয়ে বিভিন্ন আকার তৈরি করতে বলতে পারি। এতে তারা খেলার ছলে শিখবে।”

১৩. গণিতের প্রতি শিশুদের ভয় বা ‘Math Phobia’ দূর করার জন্য একজন শিক্ষক হিসেবে আপনি কী করবেন?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: গণিতকে আনন্দদায়ক এবং বাস্তব জীবনের সাথে যুক্ত করার কথা বলুন।

নমুনা উত্তর: “গণিতের ভয় দূর করতে আমি কয়েকটি পদক্ষেপ নেব:

  1. ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি: আমি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করব যেখানে ভুল করাটা অপরাধ নয়, বরং শেখার একটি ধাপ। আমি কোনো ছাত্রকে ভুলের জন্য বকাবকি করব না।
  2. গণিতকে খেলার সাথে যুক্ত করা: আমি লুডো, সাপশিডি বা বিভিন্ন পাজলের মাধ্যমে যোগ-বিয়োগ শেখাব।
  3. বাস্তব জীবনের সাথে সংযোগ: আমি দোকান-বাজারের কেনাবেচা, ক্রিকেট খেলার রান গণনা বা সময় দেখার মতো বাস্তব উদাহরণ দিয়ে গণিতকে প্রাসঙ্গিক করে তুলব।
  4. ধৈর্যশীল হওয়া: আমি পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত সময় দেব এবং তাদের ছোট ছোট সাফল্যে প্রশংসা করে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াব।

আমার লক্ষ্য হবে, গণিতকে একটি ভয়ের বিষয় থেকে একটি মজার খেলায় পরিণত করা।”

পরিবেশ বিজ্ঞান (EVS)

১৪. ‘আমাদের পরিবেশ’ বিষয়টি পড়ানোর মূল উদ্দেশ্য কী? এটি কি শুধুমাত্র বিজ্ঞান পড়া?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: এর সমন্বিত (Integrated) প্রকৃতির উপর জোর দিন।

নমুনা উত্তর: “না, ‘আমাদের পরিবেশ’ শুধুমাত্র বিজ্ঞান পড়া নয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, শিশুর তার পারিপার্শ্বিক প্রাকৃতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশের সাথে পরিচিতি ঘটানো। এটি একটি সমন্বিত বিষয়, যেখানে বিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান (ইতিহাস, ভূগোল) এবং পরিবেশ সচেতনতার ধারণাগুলিকে একত্রিত করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে গিয়ে শিশুদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, প্রশ্ন করার ক্ষমতা এবং পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীলতা ও দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলা।”

১৫. আপনি ছাত্রছাত্রীদের ‘জল দূষণ’ (Water Pollution) সম্পর্কে কীভাবে সচেতন করবেন?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: হাতে-কলমে কাজ (Hands-on activity) এবং পর্যবেক্ষণের উপর জোর দিন।

নমুনা উত্তর: “আমি শুধু বই পড়িয়ে বা বক্তৃতা দিয়ে শেখাব না। আমি তাদের বিদ্যালয়ের কাছাকাছি কোনো পুকুর বা জলাশয়ে নিয়ে যাব (যদি নিরাপদ হয়) এবং সেখানে ভাসমান প্লাস্টিক বা আবর্জনা দেখাব। আমি দুটি কাঁচের গ্লাসে জল নেব; একটিতে পরিষ্কার জল এবং অন্যটিতে কিছুটা নোংরা মিশিয়ে তাদের পার্থক্য করতে বলব। আমরা ক্লাসে একটি পোস্টার তৈরি করতে পারি যেখানে জল দূষণের কারণ এবং তার ফল ছবি এঁকে দেখানো থাকবে। আমার লক্ষ্য হবে, তারা যেন সমস্যাটি নিজের চোখে দেখে এবং এর ভয়াবহতা অনুভব করতে পারে।”

১৬. পরিবেশ বিজ্ঞানের ক্লাসে ‘পর্যবেক্ষণ’ (Observation) এবং ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা’ (Experimentation)-এর গুরুত্ব কী?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: শিশুদের সক্রিয় শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলুন।

নমুনা উত্তর: “পরিবেশ বিজ্ঞানে এই দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘পর্যবেক্ষণের’ মাধ্যমে শিশুরা তাদের চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সরাসরি জ্ঞান অর্জন করে, যেমন – একটি গাছের পাতা বা ফুলের গঠন দেখা। এটি তাদের মধ্যে কৌতূহল এবং অনুসন্ধিৎসা জাগিয়ে তোলে। আর ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষার’ (যেমন – একটি বীজ থেকে চারাগাছ জন্মানো) মাধ্যমে তারা হাতে-কলমে কাজ করে এবং ‘করার মাধ্যমে শেখে’ (Learning by doing)। এই পদ্ধতিগুলি শিশুদের নিষ্ক্রিয় শ্রোতা না বানিয়ে, সক্রিয় শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে তোলে এবং তাদের অর্জিত জ্ঞান দীর্ঘস্থায়ী হয়।”

১৭. ‘খাদ্য শৃঙ্খল’ (Food Chain) বিষয়টি আপনি কীভাবে সহজ করে বোঝাবেন?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: ছবি, অভিনয় বা খেলার মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরুন।

নমুনা উত্তর: “আমি প্রথমে ছবি বা ফ্লাশ কার্ড ব্যবহার করব। যেমন – ঘাসের ছবি, তারপর ঘাসফড়িং-এর ছবি, তারপর ব্যাঙের ছবি এবং শেষে সাপের ছবি। আমি কার্ডগুলি সাজিয়ে দেখাব যে ঘাসকে ঘাসফড়িং খাচ্ছে, ঘাসফড়িংকে ব্যাঙ খাচ্ছে এবং ব্যাঙকে সাপ খাচ্ছে। আমি ছাত্রছাত্রীদের নিয়েও একটি খেলা খেলতে পারি, যেখানে কয়েকজন ঘাস, কয়েকজন ঘাসফড়িং, কয়েকজন ব্যাঙ সেজে অভিনয় করবে এবং কে কাকে খায় তা দেখাবে। এই দৃশ্যমান এবং কার্যকলাপ-ভিত্তিক পদ্ধতিতেই তারা সহজে খাদ্য শৃঙ্খলের ধারণাটি বুঝতে পারবে।”

১৮. পরিবেশ বিজ্ঞানের একটি পাঠকে আপনি কীভাবে গণিত বা বাংলা বিষয়ের সাথে সমন্বয় করবেন? একটি উদাহরণ দিন।

উত্তর দেওয়ার কৌশল: আন্তঃবিষয়ক সংযোগ (Cross-curricular connection) স্থাপনের ক্ষমতা দেখান।

নমুনা উত্তর: “ধরুন, পরিবেশ বিজ্ঞানে আমি ‘গাছ’ নিয়ে পড়াচ্ছি।

  • গণিতের সাথে সমন্বয়: আমি ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়ের বাগানে নিয়ে গিয়ে পাতা গুনতে বলতে পারি। তারা বিভিন্ন গাছের উচ্চতা বা পাতার সংখ্যার তুলনা করতে পারে, যা তাদের ছোট-বড় বা কম-বেশির ধারণা দেবে।
  • বাংলার সাথে সমন্বয়: আমি তাদের ‘গাছ’ নিয়ে একটি ছড়া বা কবিতা শেখাতে পারি। তারা তাদের প্রিয় গাছ সম্পর্কে কয়েকটি লাইন লিখতে বা বলতে পারে। ‘গাছ আমাদের বন্ধু’—এই বিষয়ে একটি ছবি এঁকে তার বর্ণনাও দিতে পারে।

এইভাবে একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে অন্যান্য বিষয়ের চর্চাও করানো সম্ভব।”

সাধারণ বিষয়

১৯. TLM বা শিক্ষণ-শিখন প্রদীপন কী? একটি ভালো TLM-এর দুটি বৈশিষ্ট্য বলুন।

উত্তর দেওয়ার কৌশল: সংজ্ঞা দিন এবং এর কার্যকারিতার উপর জোর দিন।

নমুনা উত্তর: “TLM বা শিক্ষণ-শিখন প্রদীপন হলো সেই সমস্ত উপকরণ যা শিক্ষক পাঠদানকে সহজ, আকর্ষণীয় এবং কার্যকরী করার জন্য ব্যবহার করেন। যেমন – চার্ট, মডেল, ছবি, অ্যাবাকাস ইত্যাদি।

একটি ভালো TLM-এর দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:

  1. কম খরচে বা বিনা খরচে তৈরি: এটি এমন হওয়া উচিত যা স্থানীয়ভাবে উপলব্ধ জিনিসপত্র দিয়ে সহজে তৈরি করা যায় এবং যা ব্যয়বহুল নয়।
  2. বিষয়-সম্পর্কিত ও শিশুবান্ধব: এটি অবশ্যই পাঠ্য বিষয়ের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত হতে হবে এবং শিশুদের বয়স ও মানসিক বিকাশের উপযোগী হতে হবে। এটি যেন রঙিন এবং আকর্ষণীয় হয়।

২০. CCE বা নিরবচ্ছিন্ন ও সার্বিক মূল্যায়ন বলতে কী বোঝেন?

উত্তর দেওয়ার কৌশল: এর দুটি অংশ—’নিরবচ্ছিন্ন’ এবং ‘সার্বিক’—আলাদাভাবে ব্যাখ্যা করুন।

নমুনা উত্তর: “CCE বা নিরবচ্ছিন্ন ও সার্বিক মূল্যায়ন হলো এমন একটি মূল্যায়ন ব্যবস্থা যেখানে শুধুমাত্র বছরের শেষে পরীক্ষা নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের বিচার করা হয় না।

  • নিরবচ্ছিন্ন (Continuous): এর অর্থ হলো সারা বছর ধরে নিয়মিতভাবে ছাত্রছাত্রীদের অগ্রগতি লক্ষ্য করা। এটি হতে পারে ক্লাস টেস্ট, প্রশ্ন-উত্তর বা তাদের দৈনন্দিন কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে।
  • সার্বিক (Comprehensive): এর অর্থ হলো শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যার (Scholastic) মূল্যায়ন নয়, ছাত্রছাত্রীদের সার্বিক বিকাশের (Co-scholastic) মূল্যায়ন করা। এর মধ্যে পড়ে তাদের আচরণ, খেলাধুলা, আঁকা, গান, সামাজিক গুণাবলী এবং মানসিক বিকাশ।

এর মূল উদ্দেশ্য হলো, পরীক্ষার ভীতি দূর করা এবং প্রতিটি শিশুর শেখার ঘাটতি চিহ্নিত করে সময়মতো তা পূরণের ব্যবস্থা করা।”

Scroll to Top