বাগধারা ও প্রবাদ-প্রবচন
১. ‘অকাল কুষ্মাণ্ড’ বাগধারাটির অর্থ কী?
উত্তর: (খ) অপদার্থ
ব্যাখ্যা: যার দ্বারা কোনো কাজ হয় না বা যে কোনো কাজের যোগ্য নয়, তাকে ‘অকাল কুষ্মাণ্ড’ বলা হয়।
ব্যাখ্যা: যার দ্বারা কোনো কাজ হয় না বা যে কোনো কাজের যোগ্য নয়, তাকে ‘অকাল কুষ্মাণ্ড’ বলা হয়।
২. ‘অমাবস্যার চাঁদ’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: (খ) দুর্লভ বস্তু
ব্যাখ্যা: অমাবস্যায় চাঁদ দেখা যায় না, তাই কোনো বস্তু বা ব্যক্তিকে যখন খুব কম দেখা যায়, তখন তাকে ‘অমাবস্যার চাঁদ’ বলা হয়।
ব্যাখ্যা: অমাবস্যায় চাঁদ দেখা যায় না, তাই কোনো বস্তু বা ব্যক্তিকে যখন খুব কম দেখা যায়, তখন তাকে ‘অমাবস্যার চাঁদ’ বলা হয়।
৩. ‘ইঁদুর কপালে’ বাগধারাটির অর্থ কী?
উত্তর: (ক) মন্দ ভাগ্য
ব্যাখ্যা: যার ভাগ্য খারাপ বা যে দুর্ভাগা, তাকে ‘ইঁদুর কপালে’ বলা হয়। এর বিপরীত হলো ‘একাদশে বৃহস্পতি’।
ব্যাখ্যা: যার ভাগ্য খারাপ বা যে দুর্ভাগা, তাকে ‘ইঁদুর কপালে’ বলা হয়। এর বিপরীত হলো ‘একাদশে বৃহস্পতি’।
৪. ‘গড্ডলিকা প্রবাহ’ কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: (খ) অন্ধ অনুকরণ
ব্যাখ্যা: বিচার-বুদ্ধি না খাটিয়ে অন্যের পেছনে অন্ধভাবে চলাকে ‘গড্ডলিকা প্রবাহ’ বলে।
ব্যাখ্যা: বিচার-বুদ্ধি না খাটিয়ে অন্যের পেছনে অন্ধভাবে চলাকে ‘গড্ডলিকা প্রবাহ’ বলে।
৫. ‘তামার বিষ’ বাগধারাটির অর্থ কী?
উত্তর: (খ) অর্থের কুপ্রভাব
ব্যাখ্যা: টাকা-পয়সার প্রভাবে যখন মানুষের স্বভাব বা চরিত্র খারাপ হয়ে যায়, তখন তাকে ‘তামার বিষ’ বলা হয়।
ব্যাখ্যা: টাকা-পয়সার প্রভাবে যখন মানুষের স্বভাব বা চরিত্র খারাপ হয়ে যায়, তখন তাকে ‘তামার বিষ’ বলা হয়।
৬. ‘বক ধার্মিক’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: (খ) ভণ্ড সাধু। যারা বাইরে সাধু সাজে কিন্তু অন্তরে কুটিল।
৭. ‘রাবণের চিতা’ বাগধারাটির অর্থ কী?
উত্তর: (খ) চির অশান্তি। যে অশান্তি কোনোদিন শেষ হয় না।
৮. ‘সোনায় সোহাগা’ বাগধারাটির অর্থ কী?
উত্তর: (খ) মণিকাঞ্চন যোগ। অর্থাৎ উপযুক্ত মিলন বা খুব ভালো জিনিসের সাথে আরও ভালো হওয়া।
৯. ‘হাতের পাঁচ’ বাগধারাটির অর্থ কী?
উত্তর: (খ) শেষ সম্বল। যা শেষ সম্বল হিসেবে রাখা হয়েছে।
১০. ‘মগের মুল্লুক’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: (খ) অরাজক দেশ। যেখানে আইন-কানুন নেই, শুধু বিশৃঙ্খলা।
১১. ‘কাঁঠালের আমসত্ত্ব’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: (খ) অসম্ভব বস্তু। আম দিয়ে আমসত্ত্ব হয়, কাঁঠাল দিয়ে নয়। তাই এটি অসম্ভব।
১২. ‘দশচক্রে ভগবান ভূত’ – এই প্রবাদটির অর্থ কী?
উত্তর: (খ) বহুজনের ষড়যন্ত্রে সাধুও অসাধু হয়। অর্থাৎ দশজন মিলে চক্রান্ত করলে সত্যও মিথ্যা হয়ে যায়।
১৩. ‘অর্ধচন্দ্র দেওয়া’ অর্থ কী?
উত্তর: (ক) গলাধাক্কা দেওয়া।
১৪. ‘কুপমণ্ডূক’ বাগধারাটির অর্থ কী?
উত্তর: (খ) সীমাবদ্ধ জ্ঞান সম্পন্ন। যে বাইরের পৃথিবী সম্পর্কে কিছু জানে না।
১৫. ‘গভীর জলের মাছ’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: (খ) অতি চালাক ব্যক্তি। যার অন্তরের মতলব বোঝা কঠিন।
১৬. ‘চাঁদের হাট’ বাগধারাটির অর্থ কী?
উত্তর: (ঘ) গুণীজনের সমাবেশ বা আত্মীয় সমাগম।
১৭. ‘চিনির পুতুল’ বাগধারাটির অর্থ কী?
উত্তর: (খ) পরিশ্রমকাতর। যে ব্যক্তি সামান্য পরিশ্রমে কাবু হয়ে যায়।
১৮. ‘ভিজে বেড়াল’ বাগধারাটির অর্থ কী?
উত্তর: (খ) কপটচারী বা ভণ্ড। যে বাইরে শান্ত কিন্তু ভেতরে ধূর্ত।
১৯. ‘হাড় হভাতে’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: (খ) চির হতভাগ্য। যার ভাগ্যে কখনও সুখ জোটে না।
২০. ‘উনপাঁজুরে’ বাগধারাটির অর্থ কী?
উত্তর: (খ) হতভাগ্য।
২১. ‘অকালবোধন’ অর্থ কী? (অসময়ে জাগরণ/দুর্গাপূজা)
উত্তর: অসময়ে জাগরণ।
২২. ‘উলুবনে মুক্তো ছড়ানো’ অর্থ কী?
উত্তর: অপাত্রে মূল্যবান বস্তু দান।
২৩. ‘পুকুর চুরি’ বাগধারাটির অর্থ?
উত্তর: বড় রকমের জালিয়াতি বা চুরি।
২৪. ‘আকাশকুসুম’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: অসম্ভব কল্পনা।
২৫. ‘শকুনি মামা’ বলতে কাকে বোঝায়?
উত্তর: কুটিল আত্মীয় বা কুচক্রী লোক।
২৬. ‘একাই একশ’ অর্থ কী?
উত্তর: অসাধারণ দক্ষ বা অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
২৭. ‘চোখের বালি’ অর্থ কী?
উত্তর: চক্ষুশূল বা অপছন্দের ব্যক্তি।
২৮. ‘টাকার গরম’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ধনের অহংকার।
২৯. ‘ভিটেয় ঘুঘু চড়ানো’ অর্থ কী?
উত্তর: সর্বস্বান্ত করা।
৩০. ‘বিনা মেঘে বজ্রপাত’ অর্থ কী?
উত্তর: আকস্মিক বিপদ।
৩১. ‘মাছের মায়ের পুত্রশোক’ অর্থ কী?
উত্তর: কপট দুঃখ প্রকাশ।
৩২. ‘ধর্মের ষাঁড়’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: অকর্মণ্য বা স্বেচ্ছাচারী ব্যক্তি।
৩৩. ‘জিলিপির প্যাঁচ’ অর্থ কী?
উত্তর: কুটিলতা।
৩৪. ‘বিড়াল তপস্বী’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ভণ্ড সাধু।
৩৫. ‘হাটে হাঁড়ি ভাঙা’ অর্থ কী?
উত্তর: গোপন কথা প্রকাশ করে দেওয়া।
৩৬. ‘শরতের শিশির’ অর্থ কী?
উত্তর: ক্ষণস্থায়ী বস্তু।
৩৭. ‘হাতটান’ অর্থ কী?
উত্তর: চুরির অভ্যাস।
৩৮. ‘গায়ে ফুঁ দিয়ে বেড়ানো’ অর্থ কী?
উত্তর: দায়িত্বহীনভাবে ঘুরে বেড়ানো।
৩৯. ‘সায়েস্তা খাঁ-র আমল’ অর্থ কী?
উত্তর: সুলভ বা সস্তা সময়।
৪০. ‘গোকুলের ষাঁড়’ অর্থ কী?
উত্তর: যথেচ্ছাচারী বা ভবঘুরে লোক।