বিস্তারিত: চর্যাপদ হলো বাংলা ভাষার প্রাচীনতম সাহিত্য নিদর্শন, যা বৌদ্ধ সহজিয়াদের সাধনতত্ত্বের গান। এটি দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
প্রশ্ন ২: চর্যাপদের পুঁথি কে আবিষ্কার করেন?
ক. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
খ. দীনেশচন্দ্র সেন
গ. সুকুমার সেন
ঘ. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর: ক. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
বিস্তারিত: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেন।
প্রশ্ন ৩: ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যটি কে আবিষ্কার করেন?
ক. বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ
খ. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
গ. দীনেশচন্দ্র সেন
ঘ. সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর: ক. বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ
বিস্তারিত: ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়ার কাকিলা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যটি আবিষ্কার করেন।
প্রশ্ন ৪: ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের রচয়িতা কে?
ক. চণ্ডীদাস
খ. বড়ু চণ্ডীদাস
গ. জ্ঞানদাস
ঘ. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর: খ. বড়ু চণ্ডীদাস
বিস্তারিত: ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের রচয়িতা হলেন বড়ু চণ্ডীদাস। এটি রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা বিষয়ক কাব্য।
প্রশ্ন ৫: কোন কবি ‘বিরহী চণ্ডীদাস’ নামে পরিচিত?
ক. বড়ু চণ্ডীদাস
খ. দ্বিজ চণ্ডীদাস
গ. দীন চণ্ডীদাস
ঘ. চণ্ডীদাস (পদকর্তা)
সঠিক উত্তর: ঘ. চণ্ডীদাস (পদকর্তা)
বিস্তারিত: পদকর্তা চণ্ডীদাস তাঁর বিরহী পদাবলির জন্য ‘বিরহী চণ্ডীদাস’ নামে পরিচিত। তাঁর বিখ্যাত উক্তি – “শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।”
প্রশ্ন ৬: বিদ্যাপতি কোন ভাষার কবি ছিলেন?
ক. বাংলা
খ. মৈথিলী
গ. ব্রজবুলি
ঘ. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর: খ. মৈথিলী
বিস্তারিত: বিদ্যাপতি মূলত মৈথিলী ভাষার কবি ছিলেন, তবে তাঁর রচিত ব্রজবুলি ভাষার পদগুলি বাংলা বৈষ্ণব পদাবলিকে সমৃদ্ধ করেছে।
প্রশ্ন ৭: ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’ – উক্তিটি কার?
ক. বিদ্যাপতি
খ. জ্ঞানদাস
গ. চণ্ডীদাস
ঘ. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর: গ. চণ্ডীদাস
বিস্তারিত: এটি পদকর্তা চণ্ডীদাসের বিখ্যাত উক্তি, যা মানবতাবাদের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
প্রশ্ন ৮: কোন কবিকে ‘মাইকেল মধুসূদন দত্ত’ এর সমসাময়িক ধরা হয়?
ক. ভারতচন্দ্র রায়
খ. মুকুন্দ চক্রবর্তী
গ. রামপ্রসাদ সেন
ঘ. আলাওল
সঠিক উত্তর: ক. ভারতচন্দ্র রায়
বিস্তারিত: ভারতচন্দ্র রায় অষ্টাদশ শতাব্দীর কবি, যিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর কাব্যরীতির সাথে আধুনিকতার আভাস মেলে। (প্রশ্নটির গঠন অনুযায়ী উত্তর এটি, যদিও ভারতচন্দ্র মধুসূদনের সরাসরি সমসাময়িক নন, বরং পূর্ববর্তী আধুনিক ধারার সূচনা পর্বের কবি।)
প্রশ্ন ৯: ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি কে?
ক. বিজয় গুপ্ত
খ. কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ
গ. মুকুন্দ চক্রবর্তী
ঘ. ঘনরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর: গ. মুকুন্দ চক্রবর্তী
বিস্তারিত: মুকুন্দ চক্রবর্তী তাঁর ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের জন্য বিখ্যাত, যা ‘অভয়ামঙ্গল’ নামেও পরিচিত। তিনি এই কাব্যে সামাজিক জীবন ও দেবীর মাহাত্ম্যকে দক্ষতার সাথে তুলে ধরেছেন।
প্রশ্ন ১০: ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যের একজন প্রধান কবি কে?
ক. ভারতচন্দ্র রায়
খ. বিজয় গুপ্ত
গ. ঘনরাম চক্রবর্তী
ঘ. কৃত্তিবাস ওঝা
সঠিক উত্তর: খ. বিজয় গুপ্ত
বিস্তারিত: বিজয় গুপ্ত ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যের একজন প্রধান কবি। তাঁর ‘পদ্মপুরাণ’ কাব্যটি মনসাদেবীর মাহাত্ম্য প্রচার করে।
প্রশ্ন ১১: ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যের অপর একজন উল্লেখযোগ্য কবি কে?
ক. মুকুন্দ চক্রবর্তী
খ. কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ
গ. ভারতচন্দ্র রায়
ঘ. রামপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর: খ. কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ
বিস্তারিত: কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ তাঁর ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যের জন্য পরিচিত, যা ‘ক্ষেমানন্দী মনসামঙ্গল’ নামে পরিচিত।
প্রশ্ন ১২: ‘ধর্মমঙ্গল’ কাব্যের একজন উল্লেখযোগ্য কবি কে?
ক. বিজয় গুপ্ত
খ. ঘনরাম চক্রবর্তী
গ. ভারতচন্দ্র রায়
ঘ. কৃত্তিবাস ওঝা
সঠিক উত্তর: খ. ঘনরাম চক্রবর্তী
বিস্তারিত: ঘনরাম চক্রবর্তী ‘ধর্মমঙ্গল’ কাব্যের একজন প্রধান কবি। তাঁর ‘ধর্মমঙ্গল’ কাব্যটি ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য বর্ণনা করে।
প্রশ্ন ১৩: বাংলা সাহিত্যের প্রথম রামায়ণ অনুবাদক কে?
ক. কাশীরাম দাস
খ. কৃত্তিবাস ওঝা
গ. মালাধর বসু
ঘ. বৃন্দাবন দাস
সঠিক উত্তর: খ. কৃত্তিবাস ওঝা
বিস্তারিত: কৃত্তিবাস ওঝা পঞ্চদশ শতাব্দীতে বাল্মীকির রামায়ণ অবলম্বনে ‘শ্রীরাম পাঁচালী’ রচনা করেন, যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম রামায়ণ অনুবাদ।
প্রশ্ন ১৪: ‘শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা’ অবলম্বনে ‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’ কাব্য কে রচনা করেন?
ক. কৃত্তিবাস ওঝা
খ. মালাধর বসু
গ. কাশীরাম দাস
ঘ. বৃন্দাবন দাস
সঠিক উত্তর: খ. মালাধর বসু
বিস্তারিত: মালাধর বসু পঞ্চদশ শতাব্দীতে ‘শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা’ ও ভাগবত পুরাণ অবলম্বনে ‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’ কাব্য রচনা করেন। এটি ভাগবতের দশম ও একাদশ স্কন্ধের অনুবাদ।
প্রশ্ন ১৫: বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাভারত অনুবাদক কে?
ক. কৃত্তিবাস ওঝা
খ. মালাধর বসু
গ. কাশীরাম দাস
ঘ. বৃন্দাবন দাস
সঠিক উত্তর: গ. কাশীরাম দাস
বিস্তারিত: কাশীরাম দাস সপ্তদশ শতাব্দীতে মহাভারত অনুবাদ করেন, যা ‘কাশীদাসী মহাভারত’ নামে পরিচিত। (তবে কবীন্দ্র পরমেশ্বরকে প্রথম অনুবাদক ধরা হয়, কাশীরাম দাসের অনুবাদ সর্বাধিক জনপ্রিয়)।
প্রশ্ন ১৬: চৈতন্য জীবনী কাব্যের আদি গ্রন্থ কোনটি?
ক. চৈতন্যমঙ্গল
খ. চৈতন্যভাগবত
গ. চৈতন্যচরিতামৃত
ঘ. চৈতন্যলীলা
সঠিক উত্তর: খ. চৈতন্যভাগবত
বিস্তারিত: বৃন্দাবন দাস রচিত ‘চৈতন্যভাগবত’ (পূর্বনাম ‘চৈতন্যমঙ্গল’) হলো বাংলা সাহিত্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ চৈতন্য জীবনী কাব্য।
প্রশ্ন ১৭: চৈতন্য জীবনী কাব্যের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ কোনটি?
ক. চৈতন্যমঙ্গল
খ. চৈতন্যভাগবত
গ. চৈতন্যচরিতামৃত
ঘ. চৈতন্যলীলা
সঠিক উত্তর: গ. চৈতন্যচরিতামৃত
বিস্তারিত: কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত ‘চৈতন্যচরিতামৃত’ চৈতন্য জীবনী কাব্যের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ, যা গভীর তত্ত্ব ও কাব্যময়তার জন্য বিখ্যাত।
প্রশ্ন ১৮: আরাকান রাজসভার অন্যতম কবি কে ছিলেন?
ক. ভারতচন্দ্র রায়
খ. আলাওল
গ. দৌলত কাজী
ঘ. রামপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর: খ. আলাওল
বিস্তারিত: আলাওল সপ্তদশ শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত কবি, যিনি আরাকান রাজসভায় আশ্রয় পেয়েছিলেন। তাঁর বিখ্যাত কাব্য ‘পদ্মাবতী’। (দৌলত কাজীও আরাকান রাজসভার কবি ছিলেন)।
প্রশ্ন ১৯: ‘সতী ময়না ও লোর-চন্দ্রানী’ কাব্যের রচয়িতা কে?
ক. আলাওল
খ. দৌলত কাজী
গ. ভারতচন্দ্র রায়
ঘ. মুকুন্দ চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর: খ. দৌলত কাজী
বিস্তারিত: দৌলত কাজী সপ্তদশ শতাব্দীর একজন রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান কাব্য ধারার কবি। তাঁর ‘সতী ময়না ও লোর-চন্দ্রানী’ কাব্যটি অসমাপ্ত ছিল এবং পরে আলাওল এটি সমাপ্ত করেন।
প্রশ্ন ২০: শাক্ত পদাবলির অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি কে?
ক. রামপ্রসাদ সেন
খ. কমলাকান্ত
গ. চণ্ডীদাস
ঘ. বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর: ক. রামপ্রসাদ সেন
বিস্তারিত: রামপ্রসাদ সেন অষ্টাদশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত শাক্ত কবি, যিনি শ্যামাসংগীত রচনার জন্য পরিচিত। তাঁর গানগুলিতে ভক্তিমূলক আবেগ গভীর ও আন্তরিক।
প্রশ্ন ২১: রামপ্রসাদ সেনের সমসাময়িক একজন শাক্ত পদকর্তা কে ছিলেন?
ক. কমলাকান্ত
খ. জ্ঞানদাস
গ. গোবিন্দদাস
ঘ. মুকুন্দ চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর: ক. কমলাকান্ত
বিস্তারিত: কমলাকান্ত ভট্টাচার্য রামপ্রসাদ সেনের সমসাময়িক একজন শক্তিশালী শাক্ত পদকর্তা ছিলেন। তাঁর রচিত শ্যামাসংগীতও ভক্তদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
প্রশ্ন ২২: কোন কবিকে ‘গুণরাজ খান’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল?
ক. কৃত্তিবাস ওঝা
খ. মালাধর বসু
গ. কাশীরাম দাস
ঘ. বৃন্দাবন দাস
সঠিক উত্তর: খ. মালাধর বসু
বিস্তারিত: সুলতান রুকনুদ্দিন বারবক শাহ মালাধর বসুকে তাঁর ‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’ কাব্যের জন্য ‘গুণরাজ খান’ উপাধি দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন ২৩: বাংলা সাহিত্যে ‘বুলবুল’ নামে কে পরিচিত ছিলেন?
ক. জ্ঞানদাস
খ. গোবিন্দদাস
গ. ভারতচন্দ্র রায়
ঘ. আলাওল
সঠিক উত্তর: ঘ. আলাওল
বিস্তারিত: আলাওল তাঁর কাব্যচর্চার জন্য ‘বুলবুল’ উপাধি লাভ করেছিলেন। (এই তথ্যটি বহুল প্রচলিত নয়, কিছু সূত্রে পাওয়া যায়।)
প্রশ্ন ২৪: ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের রচয়িতা কে?
ক. মুকুন্দ চক্রবর্তী
খ. ভারতচন্দ্র রায়
গ. রামপ্রসাদ সেন
ঘ. বিজয় গুপ্ত
সঠিক উত্তর: খ. ভারতচন্দ্র রায়
বিস্তারিত: ভারতচন্দ্র রায় অষ্টাদশ শতাব্দীর একজন সভাকবি ছিলেন। তাঁর ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যটি বিদ্যাসুন্দর উপাখ্যানের জন্য বিখ্যাত।
প্রশ্ন ২৫: জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাস কোন ধারার কবি ছিলেন?
ক. মঙ্গলকাব্য
খ. চৈতন্য জীবনী কাব্য
গ. বৈষ্ণব পদাবলি
ঘ. শাক্ত পদাবলি
সঠিক উত্তর: গ. বৈষ্ণব পদাবলি
বিস্তারিত: জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাস উভয়ই ষোড়শ শতাব্দীর বিখ্যাত বৈষ্ণব পদকর্তা ছিলেন। তাঁরা তাঁদের পদগুলিতে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলাকে দক্ষতার সাথে তুলে ধরেছেন।
প্রশ্ন ২৬: ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যটি কোন ছন্দে রচিত?
ক. পয়ার
খ. ত্রিপদী
গ. লাচারী
ঘ. মাত্রাবৃত্ত
সঠিক উত্তর: গ. লাচারী
বিস্তারিত: ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যটি মূলত লাচারী ছন্দে রচিত, যা মধ্যযুগের বাংলা কাব্যে প্রচলিত একটি ছন্দ। এছাড়াও পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দও ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রশ্ন ২৭: ‘চর্যাপদ’ এর মোট পদ সংখ্যা কতটি?
ক. ৪৬টি
খ. ৫১টি
গ. ৫০টি
ঘ. ৪৬.৫টি (সাড়ে ছেচল্লিশটি)
সঠিক উত্তর: ঘ. ৪৬.৫টি (সাড়ে ছেচল্লিশটি)
বিস্তারিত: চর্যাপদের মোট পদ সংখ্যা ৫১টি হলেও, প্রাপ্ত পুঁথিতে সাড়ে ছেচল্লিশটি (৪৬টি পূর্ণাঙ্গ ও একটি খণ্ডিত) পদ পাওয়া গেছে।
প্রশ্ন ২৮: কোন কবিকে ‘কবিশেখর’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল?
ক. চণ্ডীদাস
খ. বিদ্যাপতি
গ. জ্ঞানদাস
ঘ. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর: খ. বিদ্যাপতি
বিস্তারিত: বিদ্যাপতিকে ‘কবিশেখর’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল তাঁর কাব্যপ্রতিভার জন্য। এছাড়াও তাঁকে ‘নব কবিশেখর’, ‘কবিকণ্ঠহার’ প্রভৃতি উপাধিতেও ভূষিত করা হয়।
প্রশ্ন ২৯: মধ্যযুগের কোন কবিকে ‘চণ্ডীমঙ্গলের কবি’ বলা হয়?
ক. মুকুন্দ চক্রবর্তী
খ. ভারতচন্দ্র রায়
গ. বিজয় গুপ্ত
ঘ. কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ
সঠিক উত্তর: ক. মুকুন্দ চক্রবর্তী
বিস্তারিত: মুকুন্দ চক্রবর্তী ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা হওয়ায় তাঁকে ‘চণ্ডীমঙ্গলের কবি’ বা ‘কবিকঙ্কন’ বলা হয়।
প্রশ্ন ৩০: ‘শ্যামাসংগীত’ কোন ধারার সঙ্গীত?
ক. বৈষ্ণব পদাবলি
খ. শাক্ত পদাবলি
গ. মঙ্গলকাব্য
ঘ. নাথসাহিত্য
সঠিক উত্তর: খ. শাক্ত পদাবলি
বিস্তারিত: শ্যামাসংগীত হল শাক্ত পদাবলির একটি বিশেষ ধারা, যেখানে দেবী কালীর (শ্যামা) প্রতি ভক্তি ও আরাধনা প্রকাশ করা হয়। রামপ্রসাদ সেন ও কমলাকান্ত এই ধারার প্রধান কবি।
প্রশ্ন ৩১: নাথসাহিত্য কোন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সাধনতত্ত্বের ফসল?
ক. বৌদ্ধ সহজিয়া
খ. শৈব
গ. বৈষ্ণব
ঘ. নাথ যোগী
সঠিক উত্তর: ঘ. নাথ যোগী
বিস্তারিত: নাথসাহিত্য হলো নাথ যোগীদের সাধনতত্ত্ব ও অলৌকিক ক্ষমতার কাহিনি নিয়ে রচিত কাব্য। মীননাথ, গোরক্ষনাথ প্রমুখ নাথ গুরুদের জীবন ও কর্মকে কেন্দ্র করে এই সাহিত্য গড়ে উঠেছে।
প্রশ্ন ৩২: ‘ময়নামতির গান’ বা ‘গোরক্ষবিজয়’ কাব্যের রচয়িতা কে?
ক. শেখ ফয়জুল্লাহ
খ. কানাহরি দত্ত
গ. ভবানীদাস
ঘ. সুকুর মাহমুদ
সঠিক উত্তর: ক. শেখ ফয়জুল্লাহ
বিস্তারিত: শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত ‘গোরক্ষবিজয়’ বা ‘ময়নামতির গান’ নাথসাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এতে ময়নামতির পুত্র গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস গ্রহণের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। (অন্যান্য কবি যেমন ভীমসেন রায়, শ্যামাদাস সেনও ‘গোরক্ষবিজয়’ রচনা করেছেন।)
প্রশ্ন ৩৩: ‘শূন্যপুরাণ’ কাব্যের রচয়িতা কে?
ক. রামাই পণ্ডিত
খ. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
গ. বৃন্দাবন দাস
ঘ. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
সঠিক উত্তর: ক. রামাই পণ্ডিত
বিস্তারিত: রামাই পণ্ডিত রচিত ‘শূন্যপুরাণ’ হলো ধর্মপূজার পদ্ধতি ও ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য বর্ণনা করে রচিত একটি প্রাচীন গ্রন্থ। এটি বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ ও হিন্দুদের ধর্মঠাকুরের মিশ্রণ दर्शाता।
প্রশ্ন ৩৪: ‘ইউসুফ-জোলেখা’ কাব্যের রচয়িতা কে?
ক. দৌলত কাজী
খ. আলাওল
গ. শাহ মুহম্মদ সগীর
ঘ. সৈয়দ সুলতান
সঠিক উত্তর: গ. শাহ মুহম্মদ সগীর
বিস্তারিত: শাহ মুহম্মদ সগীর চতুর্দশ শতাব্দীর শেষ ভাগ বা পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগের একজন মুসলিম কবি। তাঁর ‘ইউসুফ-জোলেখা’ কাব্যটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম প্রণয়োপাখ্যান।
প্রশ্ন ৩৫: ‘লাইলী-মজনু’ কাব্যের রচয়িতা কে?
ক. শাহ মুহম্মদ সগীর
খ. দৌলত কাজী
গ. আলাওল
ঘ. সৈয়দ সুলতান
সঠিক উত্তর: গ. আলাওল
বিস্তারিত: আলাওল তাঁর ‘লাইলী-মজনু’ কাব্যের জন্য পরিচিত, যা ফারসি কবি নিজামীর ‘লাইলী-মজনু’ অবলম্বনে রচিত। (এছাড়াও দৌলত উজির বাহরাম খান এই নামে কাব্য রচনা করেন।)
প্রশ্ন ৩৬: বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি কে?
ক. চন্দ্রাবতী
খ. পদ্মাবতী
গ. রত্নাবতী
ঘ. লীলাবতী
সঠিক উত্তর: ক. চন্দ্রাবতী
বিস্তারিত: চন্দ্রাবতী ষোড়শ শতাব্দীর একজন কবি। তিনি মনসামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা ছিলেন এবং তাঁর রচিত ‘রামায়ণ’ নারীভাবনার দিক থেকে স্বতন্ত্র।
প্রশ্ন ৩৭: ‘পদ্মিনী উপাখ্যান’ বা ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের রচয়িতা কে?
ক. দৌলত কাজী
খ. আলাওল
গ. সৈয়দ সুলতান
ঘ. শাহ মুহম্মদ সগীর
সঠিক উত্তর: খ. আলাওল
বিস্তারিত: আলাওল রচিত ‘পদ্মাবতী’ কাব্যটি মালিক মুহম্মদ জায়সীর হিন্দি ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ। এটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রণয়োপাখ্যান।
প্রশ্ন ৩৮: ‘নবদ্বীপ বিলাস’ কাব্যের রচয়িতা কে?
ক. জয়ানন্দ
খ. লোচন দাস
গ. বৃন্দাবন দাস
ঘ. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
সঠিক উত্তর: খ. লোচন দাস
বিস্তারিত: লোচন দাস ষোড়শ শতাব্দীর একজন বৈষ্ণব কবি। তাঁর ‘চৈতন্যমঙ্গল’ (কেউ কেউ লোচন দাসের চৈতন্যমঙ্গলকে ‘নবদ্বীপ বিলাস’ নামেও অভিহিত করেন) চৈতন্যদেবের জীবনকে কেন্দ্র করে রচিত।
প্রশ্ন ৩৯: ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের আদি কবি কে?
ক. মুকুন্দ চক্রবর্তী
খ. দ্বিজ মাধব
গ. মানিক দত্ত
ঘ. রামচন্দ্র খান
সঠিক উত্তর: গ. মানিক দত্ত
বিস্তারিত: মানিক দত্তকে ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের আদি কবি হিসেবে ধরা হয়। তাঁর কাব্যটি প্রাচীনত্বের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন ৪০: মঙ্গলকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
ক. দেব-দেবীর মাহাত্ম্য প্রচার
খ. প্রণয়োপাখ্যান বর্ণনা
গ. ঐতিহাসিক ঘটনা বর্ণনা
ঘ. সামাজিক সমালোচনা
সঠিক উত্তর: ক. দেব-দেবীর মাহাত্ম্য প্রচার
বিস্তারিত: মঙ্গলকাব্যগুলি ছিল লৌকিক দেব-দেবী যেমন মনসা, চণ্ডী, ধর্মঠাকুর ইত্যাদির মাহাত্ম্য প্রচারের জন্য রচিত পাঁচালি কাব্য।
প্রশ্ন ৪১: কোন শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যে মঙ্গলকাব্যের স্বর্ণযুগ বলা হয়?
ক. পঞ্চদশ
খ. ষোড়শ
গ. সপ্তদশ
ঘ. অষ্টাদশ
সঠিক উত্তর: খ. ষোড়শ
বিস্তারিত: ষোড়শ শতাব্দীকে মঙ্গলকাব্যের স্বর্ণযুগ বলা হয়, কারণ এই সময়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মঙ্গলকাব্য রচিত হয়েছিল এবং মুকুন্দ চক্রবর্তী, বিজয় গুপ্তের মতো কবিরা এই ধারায় অবদান রেখেছিলেন।
প্রশ্ন ৪২: ‘চৈতন্যমঙ্গল’ নামে একাধিক কাব্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কবির নাম কোনটি?
ক. জয়ানন্দ ও লোচন দাস
খ. বৃন্দাবন দাস ও কৃষ্ণদাস কবিরাজ
গ. কৃত্তিবাস ওঝা ও কাশীরাম দাস
ঘ. রামপ্রসাদ সেন ও কমলাকান্ত
সঠিক উত্তর: ক. জয়ানন্দ ও লোচন দাস
বিস্তারিত: জয়ানন্দ ও লোচন দাস উভয়েই ‘চৈতন্যমঙ্গল’ নামে কাব্য রচনা করেছেন। বৃন্দাবন দাসের চৈতন্য জীবনী কাব্যের পূর্বনামও ‘চৈতন্যমঙ্গল’ ছিল, যা পরে ‘চৈতন্যভাগবত’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
প্রশ্ন ৪৩: ব্রজবুলি ভাষা কোন দুই ভাষার মিশ্রণে গঠিত?
ক. বাংলা ও হিন্দি
খ. বাংলা ও মৈথিলী
গ. বাংলা ও অসমীয়া
ঘ. বাংলা ও ওড়িয়া
সঠিক উত্তর: খ. বাংলা ও মৈথিলী
বিস্তারিত: ব্রজবুলি ভাষা মৈথিলী ও বাংলা ভাষার সংমিশ্রণে গঠিত একটি কৃত্রিম কাব্যভাষা, যা বৈষ্ণব পদাবলিতে ব্যবহৃত হয়েছে। বিদ্যাপতি এই ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি।
প্রশ্ন ৪৪: চৈতন্য-পরবর্তী যুগের বৈষ্ণব পদকর্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কে?
ক. চণ্ডীদাস
খ. বিদ্যাপতি
গ. জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাস
ঘ. রামপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর: গ. জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাস
বিস্তারিত: জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাস ষোড়শ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের বৈষ্ণব পদকর্তা এবং চৈতন্যদেবের পরবর্তীকালে বৈষ্ণব পদাবলিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।
প্রশ্ন ৪৫: দৌলত কাজী কোন রাজসভার কবি ছিলেন?
ক. গৌড় রাজসভা
খ. আরাকান রাজসভা
গ. ত্রিপুরা রাজসভা
ঘ. কোচবিহার রাজসভা
সঠিক উত্তর: খ. আরাকান রাজসভা
বিস্তারিত: দৌলত কাজী সপ্তদশ শতাব্দীর একজন কবি, যিনি আরাকান রাজসভার পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছিলেন।
প্রশ্ন ৪৬: ‘গোরক্ষবিজয়’ কাব্যটি কোন সম্প্রদায়ের কাহিনিভিত্তিক?
ক. শাক্ত
খ. বৈষ্ণব
গ. নাথ
ঘ. সহজিয়া
সঠিক উত্তর: গ. নাথ
বিস্তারিত: ‘গোরক্ষবিজয়’ নাথ যোগীদের সাধনতত্ত্ব, অলৌকিক ক্ষমতা এবং ময়নামতি ও গোপীচন্দ্রের কাহিনি নিয়ে রচিত।
প্রশ্ন ৪৭: ‘কৃষ্ণমঙ্গল’ কাব্যের রচয়িতা কে?
ক. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
খ. বৃন্দাবন দাস
গ. রঘুনাথ ভাগবতাচার্য
ঘ. পরশুরাম
সঠিক উত্তর: গ. রঘুনাথ ভাগবতাচার্য
বিস্তারিত: রঘুনাথ ভাগবতাচার্য পঞ্চদশ শতাব্দীর একজন কবি, যিনি ভাগবতের দশম স্কন্ধ অবলম্বনে ‘কৃষ্ণমঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন। (এছাড়াও মাধবাচার্য, পরশুরাম প্রমুখ কৃষ্ণমঙ্গল রচনা করেছেন।)
প্রশ্ন ৪৮: ‘অদ্বৈত প্রকাশ’ কাব্যের রচয়িতা কে?
ক. ঈশ্বরদাস
খ. লোচন দাস
গ. জয়ানন্দ
ঘ. হরিচরণ দাস
সঠিক উত্তর: ঘ. হরিচরণ দাস
বিস্তারিত: হরিচরণ দাস রচিত ‘অদ্বৈত প্রকাশ’ হলো অদ্বৈতাচার্যের জীবনীমূলক কাব্য। (এছাড়াও ঈশান নাগর ‘অদ্বৈতপ্রকাশ’ নামে গ্রন্থ রচনা করেন।)
প্রশ্ন ৪৯: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধান প্রবণতা কী ছিল?
ক. মানবতাবাদ
খ. দেব-দেবীর মাহাত্ম্য প্রচার
গ. প্রকৃতি বর্ণনা
ঘ. সামাজিক বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর: খ. দেব-দেবীর মাহাত্ম্য প্রচার
বিস্তারিত: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অধিকাংশ কাব্যের মূল বিষয় ছিল ধর্মীয় কাহিনি, বিশেষত দেব-দেবীর মাহাত্ম্য প্রচার এবং ভক্তিভাব।
প্রশ্ন ৫০: ‘কবিকঙ্কন’ কার উপাধি ছিল?
ক. মুকুন্দ চক্রবর্তী
খ. ভারতচন্দ্র রায়
গ. বিজয় গুপ্ত
ঘ. ঘনরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর: ক. মুকুন্দ চক্রবর্তী
বিস্তারিত: মুকুন্দ চক্রবর্তী তাঁর কাব্যপ্রতিভার জন্য ‘কবিকঙ্কন’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন।
প্রশ্ন ৫১: চৈতন্যদেবের তিরোভাবের পর রচিত চৈতন্য জীবনী কাব্য কোনটি?
ক. চৈতন্যভাগবত
খ. চৈতন্যমঙ্গল (লোচন দাস)
গ. চৈতন্যচরিতামৃত
ঘ. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর: গ. চৈতন্যচরিতামৃত
বিস্তারিত: কৃষ্ণদাস কবিরাজ চৈতন্যদেবের তিরোভাবের পর তাঁর জীবনের শেষ ভাগে ‘চৈতন্যচরিতামৃত’ রচনা করেন। এটি চৈতন্যদেবের গভীর দার্শনিক দিক তুলে ধরে।
বিস্তারিত: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে জন্মখণ্ড, তাম্বুলখণ্ড, দানখণ্ড, নৌকাখণ্ড, ভারখণ্ড, ছত্রখণ্ড, বৃন্দাবনখণ্ড, কালিয়দমন খণ্ড (বসন্তরঞ্জন রায়ের মতে, এটি যমুনা খণ্ডের অংশ), যমুনাখণ্ড, হারখণ্ড, বাণখণ্ড, বংশীখণ্ড ও রাধাবিরহ – এই ১৩টি খণ্ড রয়েছে।
প্রশ্ন ৫৩: চর্যাপদের ভাষা কী নামে পরিচিত?
ক. প্রাচীন বাংলা
খ. সন্ধ্যা ভাষা
গ. আদি বাংলা
ঘ. প্রাকৃত
সঠিক উত্তর: খ. সন্ধ্যা ভাষা
বিস্তারিত: চর্যাপদের ভাষা ‘সন্ধ্যা ভাষা’ বা ‘আলো-আঁধারি ভাষা’ নামে পরিচিত, যা দ্ব্যর্থবোধক। এর বাইরের অর্থের আড়ালে গভীর সাধনতাত্ত্বিক অর্থ নিহিত।
প্রশ্ন ৫৪: কোন রাজবংশের সময়ে চর্যাপদ রচিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়?
ক. পাল রাজবংশ
খ. সেন রাজবংশ
গ. গুপ্ত রাজবংশ
ঘ. মৌর্য রাজবংশ
সঠিক উত্তর: ক. পাল রাজবংশ
বিস্তারিত: পাল রাজবংশের সময়ে (আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দী) বৌদ্ধধর্মের প্রসার ঘটেছিল এবং চর্যাপদের রচয়িতারা অধিকাংশই ছিলেন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, তাই পাল যুগেই এর রচনার সম্ভাবনা বেশি।
বিস্তারিত: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান তিনটি চরিত্র হলো রাধা, কৃষ্ণ এবং এই দুজনের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী দূতী বড়াই।
প্রশ্ন ৫৬: ‘পয়ার’ ছন্দের বৈশিষ্ট্য কী?
ক. প্রতি পংক্তিতে ৮টি মাত্রা
খ. প্রতি পংক্তিতে ১০টি মাত্রা
গ. প্রতি পংক্তিতে ১৪টি মাত্রা
ঘ. প্রতি পংক্তিতে ১৬টি মাত্রা
সঠিক উত্তর: গ. প্রতি পংক্তিতে ১৪টি মাত্রা
বিস্তারিত: পয়ার হলো বাংলা কাব্যের একটি ঐতিহ্যবাহী অক্ষরবৃত্ত ছন্দ, যেখানে প্রতি পংক্তিতে ১৪টি অক্ষর (বা মাত্রা) থাকে (৮+৬ মাত্রার দুটি পর্বে বিভক্ত) এবং দুই পংক্তির শেষে মিল থাকে।
প্রশ্ন ৫৭: বাংলা সাহিত্যের কোন যুগে মুসলমান কবিদের অবদান বিশেষভাবে লক্ষণীয়?
ক. প্রাচীন যুগ
খ. মধ্যযুগ
গ. আধুনিক যুগ
ঘ. রেনেসাঁস যুগ
সঠিক উত্তর: খ. মধ্যযুগ
বিস্তারিত: মধ্যযুগে শাহ মুহম্মদ সগীর, দৌলত কাজী, আলাওল, সৈয়দ সুলতান প্রমুখ মুসলিম কবি বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান, মর্সিয়া সাহিত্য এবং অন্যান্য ধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
প্রশ্ন ৫৮: চৈতন্যদেবের আবির্ভাব বাংলা সাহিত্যের কোন ধারায় নতুন জোয়ার এনেছিল?
ক. মঙ্গলকাব্য
খ. নাথসাহিত্য
গ. বৈষ্ণব পদাবলি ও জীবনী কাব্য
ঘ. শাক্ত পদাবলি
সঠিক উত্তর: গ. বৈষ্ণব পদাবলি ও জীবনী কাব্য
বিস্তারিত: চৈতন্যদেবের ভক্তি আন্দোলন বৈষ্ণব পদাবলি এবং তাঁর জীবনকে কেন্দ্র করে অসংখ্য জীবনী কাব্য রচনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন প্রাণসঞ্চার করে।
প্রশ্ন ৫৯: মঙ্গলকাব্যের উপজীব্য বিষয় মূলত কী ছিল?
ক. ঐতিহাসিক যুদ্ধবিগ্রহ
খ. পৌরাণিক কাহিনি
গ. মানব প্রেমের উপাখ্যান
ঘ. লৌকিক দেব-দেবী এবং তাদের মহিমা
সঠিক উত্তর: ঘ. লৌকিক দেব-দেবী এবং তাদের মহিমা
বিস্তারিত: মঙ্গলকাব্যগুলি ছিল লৌকিক সমাজে প্রচলিত দেব-দেবী যেমন মনসা, চণ্ডী, শীতলা, ধর্মঠাকুর ইত্যাদির পূজা প্রচার ও তাদের মাহাত্ম্য বর্ণনার জন্য রচিত।
প্রশ্ন ৬০: কোন কবিকে ‘ভারতচন্দ্র রায়’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল?
ক. ভারতচন্দ্র রায়
খ. মুকুন্দ চক্রবর্তী
গ. রামপ্রসাদ সেন
ঘ. আলাওল
সঠিক উত্তর: ক. ভারতচন্দ্র রায়
বিস্তারিত: ভারতচন্দ্র রায়ের প্রকৃত নাম ভারতচন্দ্র রায়। কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দিয়েছিলেন। প্রশ্নটি সম্ভবত ‘রায়গুণাকর’ উপাধির কথা বলতে চেয়েছে।
প্রশ্ন ৬১: শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মস্থান কোনটি?
ক. নবদ্বীপ
খ. শান্তিপুর
গ. মায়াপুর
ঘ. অম্বিকা কালনা
সঠিক উত্তর: ক. নবদ্বীপ
বিস্তারিত: শ্রীচৈতন্যদেব ১৪৮৬ সালে নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মস্থান বর্তমানে (প্রাচীন নবদ্বীপের অংশ) মায়াপুর নামে পরিচিত।
প্রশ্ন ৬২: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান কাব্য কোনটি?
ক. পদ্মাবতী
খ. ইউসুফ-জোলেখা
গ. সতী ময়না ও লোর-চন্দ্রানী
ঘ. লাইলী-মজনু
সঠিক উত্তর: খ. ইউসুফ-জোলেখা
বিস্তারিত: শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত ‘ইউসুফ-জোলেখা’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম প্রণয়োপাখ্যান কাব্য।
প্রশ্ন ৬৩: ‘চর্যাপদ’ কোন ধর্মীয় সাহিত্যের নিদর্শন?
ক. বৈষ্ণব
খ. শাক্ত
গ. বৌদ্ধ সহজিয়া
ঘ. জৈন
সঠিক উত্তর: গ. বৌদ্ধ সহজিয়া
বিস্তারিত: চর্যাপদের কবিরা ছিলেন বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্য। এই পদগুলি তাঁদের সাধনতত্ত্বের নিগূঢ় রহস্য বহন করে।
প্রশ্ন ৬৪: বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ হিসেবে কোন সময়কালকে ধরা হয়?
ক. দ্বাদশ থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দী
খ. ত্রয়োদশ থেকে চতুর্দশ শতাব্দী
গ. চতুর্দশ থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী
ঘ. পঞ্চদশ থেকে ষোড়শ শতাব্দী
সঠিক উত্তর: খ. ত্রয়োদশ থেকে চতুর্দশ শতাব্দী
বিস্তারিত: তুর্কি আক্রমণের (১২০৪ খ্রি.) পর থেকে চতুর্দশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত প্রায় দেড়শ থেকে দুইশ বছর বাংলা সাহিত্যের অগ্রগতি প্রায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল, তাই এই সময়কালকে ‘অন্ধকার যুগ’ বা ‘ক্রান্তিকাল’ বলা হয়।
প্রশ্ন ৬৫: ‘বিদ্যাসুন্দর’ কাব্যটি কোন মঙ্গলকাব্যের অংশ?
ক. মনসামঙ্গল
খ. চণ্ডীমঙ্গল
গ. অন্নদামঙ্গল
ঘ. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর: গ. অন্নদামঙ্গল
বিস্তারিত: ভারতচন্দ্র রায় রচিত ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের একটি উপাখ্যান হলো ‘বিদ্যাসুন্দর’, যা বিদ্যা ও সুন্দরের প্রেমকাহিনি বর্ণনা করে।
প্রশ্ন ৬৬: ‘দোভাষী পুঁথি’ বলতে কী বোঝায়?
ক. দুটি ভিন্ন ভাষায় রচিত কাব্য
খ. আরবি-ফারসি মিশ্রিত বাংলা ভাষায় রচিত কাব্য
গ. আঞ্চলিক ভাষায় রচিত কাব্য
ঘ. সংস্কৃত ও বাংলা মিশ্রিত কাব্য
সঠিক উত্তর: খ. আরবি-ফারসি মিশ্রিত বাংলা ভাষায় রচিত কাব্য
বিস্তারিত: মধ্যযুগে, বিশেষত মুসলমান কবিদের মধ্যে, বাংলা ভাষার সঙ্গে প্রচুর আরবি-ফারসি শব্দ মিশিয়ে যে সাহিত্য রচিত হতো, তাকে ‘দোভাষী পুঁথি’ বলা হতো। এটি মূলত অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতকে জনপ্রিয় ছিল।
প্রশ্ন ৬৭: ‘বৃন্দাবনের ষড়গোস্বামী’ বলতে কাদের বোঝানো হয়?
ক. শ্রীচৈতন্যদেবের ছয়জন প্রধান শিষ্য
খ. বৃন্দাবনের ছয়জন বিখ্যাত মন্দির নির্মাতা
গ. বৃন্দাবনের ছয়জন বৈষ্ণব পণ্ডিত ও দার্শনিক
ঘ. ছয়জন বিশিষ্ট বৈষ্ণব পদকর্তা
সঠিক উত্তর: গ. বৃন্দাবনের ছয়জন বৈষ্ণব পণ্ডিত ও দার্শনিক
বিস্তারিত: বৃন্দাবনের ষড়গোস্বামীরা ছিলেন চৈতন্যদেবের সাক্ষাৎ শিষ্য ও বৈষ্ণব ধর্মের অন্যতম প্রধান রূপকার, যাঁরা বৃন্দাবনে বৈষ্ণব ধর্মতত্ত্ব ও দর্শনকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এঁরা হলেন রূপ গোস্বামী, সনাতন গোস্বামী, রঘুনাথ ভট্ট গোস্বামী, রঘুনাথ দাস গোস্বামী, গোপাল ভট্ট গোস্বামী ও জীব গোস্বামী।
প্রশ্ন ৬৮: ‘কীর্তন’ শব্দের অর্থ কী?
ক. প্রশংসা করা
খ. গান করা
গ. নৃত্য করা
ঘ. আলোচনা করা
সঠিক উত্তর: খ. গান করা
বিস্তারিত: ‘কীর্তন’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো গুণগান করা বা উচ্চস্বরে গান করা। বৈষ্ণব পদাবলিতে এটি রাধা-কৃষ্ণের লীলাগান অর্থে ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন ৬৯: বৈষ্ণব পদাবলির আদি পর্বের কবি কে?
ক. বিদ্যাপতি
খ. চণ্ডীদাস
গ. জ্ঞানদাস
ঘ. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর: ক. বিদ্যাপতি
বিস্তারিত: যদিও বিদ্যাপতি মৈথিলী কবি, তাঁর ব্রজবুলি পদগুলি বাংলা বৈষ্ণব পদাবলির আদি পর্বের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। চণ্ডীদাসও (বড়ু চণ্ডীদাস ও পদকর্তা চণ্ডীদাস) আদি পর্বের গুরুত্বপূর্ণ কবি।
প্রশ্ন ৭০: ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যের জনপ্রিয়তার কারণ কী?
ক. সামাজিক বিদ্রোহ
খ. মানবপ্রেমের জয়গান
গ. লোকায়ত দেবীর মাহাত্ম্য ও সর্পভীতি
ঘ. ঐতিহাসিক ঘটনা বর্ণনা
সঠিক উত্তর: গ. লোকায়ত দেবীর মাহাত্ম্য ও সর্পভীতি
বিস্তারিত: মনসামঙ্গল কাব্য মনসাদেবীর পূজা প্রচলন এবং সর্পদংশন থেকে মুক্তি লাভের আকাঙ্ক্ষা, যা বাঙালির লোকজীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। চাঁদ সওদাগরের বিদ্রোহ ও বেহুলার আত্মত্যাগ এই কাব্যকে জনপ্রিয় করে তোলে।
প্রশ্ন ৭১: বাংলা সাহিত্যে মুসলিম কবিদের আগমন কোন শতাব্দী থেকে শুরু হয়?
ক. দ্বাদশ শতাব্দী
খ. ত্রয়োদশ শতাব্দী
গ. চতুর্দশ শতাব্দী
ঘ. পঞ্চদশ শতাব্দী
সঠিক উত্তর: গ. চতুর্দশ শতাব্দী
বিস্তারিত: চতুর্দশ শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে মুসলিম কবিদের সাহিত্যচর্চা শুরু হয়, যার প্রথম নিদর্শন শাহ মুহম্মদ সগীরের ‘ইউসুফ-জোলেখা’।
প্রশ্ন ৭২: ‘মধ্যযুগ’ বাংলা সাহিত্যের কোন সময়কাল পর্যন্ত বিস্তৃত?
ক. ১২০০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ
খ. ১২০০-১৫০০ খ্রিস্টাব্দ
গ. ১৫০০-১৭০০ খ্রিস্টাব্দ
ঘ. ১২০০-১৯০০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর: ক. ১২০০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ
বিস্তারিত: বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগকে সাধারণত ১২০১ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত ধরা হয়।
প্রশ্ন ৭৩: ‘চণ্ডীদাস সমস্যা’ বলতে কী বোঝায়?
ক. চণ্ডীদাস নামের একাধিক কবির অস্তিত্ব
খ. চণ্ডীদাসের কাব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে বিতর্ক
গ. চণ্ডীদাসের পদাবলির দুর্বোধ্যতা
ঘ. চণ্ডীদাসের রচনা কাল নির্ণয়ের জটিলতা
সঠিক উত্তর: ক. চণ্ডীদাস নামের একাধিক কবির অস্তিত্ব
বিস্তারিত: বাংলা সাহিত্যে ‘চণ্ডীদাস’ নামে একাধিক কবির (যেমন – বড়ু চণ্ডীদাস, দীন চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস, পদকর্তা চণ্ডীদাস) অস্তিত্ব নিয়ে যে বিতর্ক ও গবেষণা, তাকে ‘চণ্ডীদাস সমস্যা’ বলা হয়।
প্রশ্ন ৭৪: মধ্যযুগের কোন কাব্যধারায় নারী চরিত্রগুলি অধিক শক্তিশালী রূপে চিত্রিত হয়েছে?
ক. রামায়ণ
খ. মহাভারত
গ. মঙ্গলকাব্য
ঘ. বৈষ্ণব পদাবলি
সঠিক উত্তর: গ. মঙ্গলকাব্য
বিস্তারিত: মঙ্গলকাব্যে মনসা, চণ্ডী, বেহুলা, খুল্লনা, লহনা ইত্যাদি নারী চরিত্রগুলি প্রতিবাদী ও শক্তিশালী রূপে চিত্রিত হয়েছে।
প্রশ্ন ৭৫: ‘মহাজনী পদ’ বলতে কী বোঝানো হয়?
ক. ব্যবসায়ীদের দ্বারা রচিত পদ
খ. বৈষ্ণব পদাবলির প্রাচীন বা মূল পদ
গ. সাধক কবিদের রচিত তত্ত্বমূলক পদ
ঘ. আধুনিক কবিদের রচিত বৈষ্ণব পদ
সঠিক উত্তর: খ. বৈষ্ণব পদাবলির প্রাচীন বা মূল পদ
বিস্তারিত: ‘মহাজনী পদ’ বলতে মূলত বৈষ্ণব পদাবলির সেইসব পদকে বোঝানো হয়, যা বৈষ্ণব সাধক ও পদকর্তারা মূলত রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা ও ভক্তিভাব নিয়ে রচনা করেছেন এবং যা পরবর্তী পদকর্তাদের জন্য আদর্শস্বরূপ।
প্রশ্ন ৭৬: ‘নাথসাহিত্য’ এর প্রধান বিষয়বস্তু কী?
ক. প্রেমের উপাখ্যান
খ. ধর্মীয় সংস্কার ও যোগসাধনা
গ. দেব-দেবীর মাহাত্ম্য
ঘ. যুদ্ধ ও বীরত্ব
সঠিক উত্তর: খ. ধর্মীয় সংস্কার ও যোগসাধনা
বিস্তারিত: নাথসাহিত্য মূলত নাথ গুরুদের অলৌকিক ক্ষমতা, যোগসাধনা, দেহাত্মবাদ এবং পুনর্জন্মের ধারণাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
প্রশ্ন ৭৭: ‘রামায়ণ’ ও ‘মহাভারত’ অনুবাদের প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
ক. জনপ্রিয়তা অর্জন
খ. সাহিত্যচর্চা
গ. ধর্মীয় আদর্শ প্রচার ও পৌরাণিক কাহিনি সহজবোধ্য করা
ঘ. সংস্কৃত ভাষার চর্চা
সঠিক উত্তর: গ. ধর্মীয় আদর্শ প্রচার ও পৌরাণিক কাহিনি সহজবোধ্য করা
বিস্তারিত: সংস্কৃত ভাষায় রচিত এই মহাকাব্যগুলিকে সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য করার জন্য বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছিল, যাতে ধর্মীয় আদর্শ ও কাহিনিগুলি প্রসারিত হতে পারে।
প্রশ্ন ৭৮: কোন সুলতানের পৃষ্ঠপোষকতায় কৃত্তিবাস ওঝা রামায়ণ অনুবাদ করেন?
ক. গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ
খ. রুকনউদ্দীন বারবক শাহ
গ. আলাউদ্দীন হুসেন শাহ
ঘ. ইলিয়াস শাহ
সঠিক উত্তর: ক. গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ
বিস্তারিত: মনে করা হয়, গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০) অনুপ্রেরণা বা পৃষ্ঠপোষকতায় কৃত্তিবাস ওঝা ‘শ্রীরাম পাঁচালী’ রচনা করেন। (এই বিষয়ে বিভিন্ন মত প্রচলিত আছে, রুকনউদ্দীন বারবক শাহের নামও উল্লেখ করা হয়।)
প্রশ্ন ৭৯: ‘পীর সাহিত্য’ কোন ধারার অন্তর্ভুক্ত?
ক. মঙ্গলকাব্য
খ. নাথসাহিত্য
গ. মুসলিম ভক্তি সাহিত্য
ঘ. শাক্ত সাহিত্য
সঠিক উত্তর: গ. মুসলিম ভক্তি সাহিত্য
বিস্তারিত: পীর সাহিত্য হলো পীর-দরবেশদের অলৌকিক ক্ষমতা, মাহাত্ম্য এবং তাঁদের প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে রচিত কাব্য। এটি মধ্যযুগের মুসলিম ভক্তি সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা।
প্রশ্ন ৮০: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
ক. আত্মজীবনীমূলক রচনার প্রাধান্য
খ. ধর্মকেন্দ্রিকতা ও দেবমাহাত্ম্য
গ. উপন্যাস ও ছোটগল্পের বিকাশ
ঘ. বাস্তববাদী বর্ণনা
সঠিক উত্তর: খ. ধর্মকেন্দ্রিকতা ও দেবমাহাত্ম্য
বিস্তারিত: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য ছিল মূলত ধর্মকেন্দ্রিক। মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব সাহিত্য, শাক্ত সাহিত্য, পীর সাহিত্য – সবই কোনো না কোনো ধর্মীয় বিশ্বাস বা দেব-দেবীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
প্রশ্ন ৮১: ‘কৃষ্ণমঙ্গল’ কাব্য কোন দেবতাকে নিয়ে রচিত?
ক. শিব
খ. কৃষ্ণ
গ. চণ্ডী
ঘ. মনসা
সঠিক উত্তর: খ. কৃষ্ণ
বিস্তারিত: ‘কৃষ্ণমঙ্গল’ কাব্যগুলি মূলত শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও লীলা বর্ণনা করে রচিত।
প্রশ্ন ৮২: ‘মধ্যযুগের শেষ কবি’ হিসেবে কাকে ধরা হয়?
ক. আলাওল
খ. দৌলত কাজী
গ. ভারতচন্দ্র রায়
ঘ. রামপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর: গ. ভারতচন্দ্র রায়
বিস্তারিত: ভারতচন্দ্র রায় (১৮শ শতক) তাঁর কাব্যশৈলী, নাগরিক রুচি এবং আধুনিকতার আভাস থাকায় তাঁকে মধ্যযুগের শেষ এবং আধুনিক যুগের প্রবেশদ্বারের কবি হিসেবে গণ্য করা হয়।
প্রশ্ন ৮৩: চর্যাপদে মোট কয়জন কবির পদ পাওয়া যায়?
ক. ২২ জন
খ. ২৩ জন
গ. ২৪ জন
ঘ. ২৫ জন
সঠিক উত্তর: গ. ২৪ জন
বিস্তারিত: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক আবিষ্কৃত চর্যাপদের পুঁথিতে মোট ২৪ জন কবির (মতান্তরে ২৩ বা ২৫) পদ পাওয়া যায়। সর্বাধিক স্বীকৃত মত হল ২৪ জন।
প্রশ্ন ৮৪: বৈষ্ণব পদাবলিতে ‘অভিসার’ বলতে কী বোঝায়?
ক. বিরহ বেদনা
খ. রাধা-কৃষ্ণের গোপনে সাক্ষাতের জন্য যাত্রা
গ. প্রেমের গান
ঘ. ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি
সঠিক উত্তর: খ. রাধা-কৃষ্ণের গোপনে সাক্ষাতের জন্য যাত্রা
বিস্তারিত: বৈষ্ণব পদাবলিতে ‘অভিসার’ হলো রাধা বা কৃষ্ণের প্রেমের টানে সকল বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে গোপনে প্রিয়জনের সঙ্গে দেখা করার জন্য যাত্রা।
প্রশ্ন ৮৫: ‘গোরক্ষবিজয়’ কাব্যটি কোন সম্প্রদায়ের যোগসাধনার সঙ্গে সম্পর্কিত?
ক. তান্ত্রিক বৌদ্ধ
খ. সহজিয়া বৈষ্ণব
গ. নাথযোগী
ঘ. বাউল
সঠিক উত্তর: গ. নাথযোগী
বিস্তারিত: ‘গোরক্ষবিজয়’ নাথগুরু গোরক্ষনাথ এবং তাঁর যোগসাধনার মাহাত্ম্য বর্ণনা করে। এটি নাথযোগী সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।
প্রশ্ন ৮৬: ‘কবিগান’ কোন সময়ের জনপ্রিয় লোকসাহিত্য ধারা?
ক. প্রাচীন যুগ
খ. মধ্যযুগ (শেষ ভাগ) ও আধুনিক যুগের প্রথম ভাগ
গ. আধুনিক যুগ (বিশ শতক)
ঘ. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর: খ. মধ্যযুগ (শেষ ভাগ) ও আধুনিক যুগের প্রথম ভাগ
বিস্তারিত: কবিগান মধ্যযুগের শেষ ভাগে (অষ্টাদশ শতাব্দী) এবং আধুনিক যুগের সূচনা লগ্নে (ঊনবিংশ শতাব্দী) জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল, যা মূলত মুখে মুখে রচিত ও পরিবেশিত হতো।
প্রশ্ন ৮৭: ‘সপ্তম শতকে’ বাংলা সাহিত্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি কেন?
ক. তখন বাংলা ভাষার জন্ম হয়নি
খ. তখন সাহিত্য চর্চা নিষিদ্ধ ছিল
গ. প্রাপ্ত নিদর্শনগুলি হারিয়ে গেছে
ঘ. উপরের কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক. তখন বাংলা ভাষার জন্ম হয়নি
বিস্তারিত: ডঃ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা ভাষার জন্ম মাগধী প্রাকৃতের অপভ্রংশ থেকে দশম শতাব্দীর আশেপাশে, তাই সপ্তম শতকে বাংলা সাহিত্যের নিদর্শন পাওয়ার প্রশ্নই আসে না। তখন ছিল অপভ্রংশ স্তর।
প্রশ্ন ৮৮: ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্যের রচয়িতা কে?
ক. জয়দেব
খ. বিদ্যাপতি
গ. চণ্ডীদাস
ঘ. জ্ঞানদাস
সঠিক উত্তর: ক. জয়দেব
বিস্তারিত: দ্বাদশ শতাব্দীর কবি জয়দেব কর্তৃক রচিত ‘গীতগোবিন্দ’ সংস্কৃত ভাষায় রচিত হলেও এর প্রভাব বাংলা বৈষ্ণব পদাবলিতে সুদূরপ্রসারী।
প্রশ্ন ৮৯: শাক্ত পদাবলিতে কোন দেবীর প্রাধান্য দেখা যায়?
ক. লক্ষ্মী
খ. সরস্বতী
গ. দুর্গা/কালী
ঘ. মনসা
সঠিক উত্তর: গ. দুর্গা/কালী
বিস্তারিত: শাক্ত পদাবলি মূলত দেবী কালী বা দুর্গার প্রতি ভক্তিমূলক গান, যেখানে শক্তি রূপে দেবীর আরাধনা করা হয়।
প্রশ্ন ৯০: মধ্যযুগের পুঁথি সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য কী?
ক. ছাপাখানার ব্যবহার
খ. হাতে লেখা ও পদ্যাকারে রচিত
গ. নাটক ও উপন্যাসের প্রাধান্য
ঘ. গদ্য ভাষার ব্যবহার
সঠিক উত্তর: খ. হাতে লেখা ও پद्यাকারে রচিত
বিস্তারিত: মধ্যযুগে ছাপাখানা না থাকায় সাহিত্যকর্মগুলি হাতে লেখা পুঁথি আকারে পাওয়া যেত এবং অধিকাংশই পদ্যাকারে রচিত হতো।
প্রশ্ন ৯১: চর্যাপদ কোন ছন্দে রচিত?
ক. পয়ার
খ. ত্রিপদী
গ. মাত্রাবৃত্ত
ঘ. স্বরবৃত্ত
সঠিক উত্তর: গ. মাত্রাবৃত্ত
বিস্তারিত: চর্যাপদের পদগুলো মূলত মাত্রাবৃত্ত ছন্দে (পাদাকুলক) রচিত, যা এর গীতিময়তার প্রধান কারণ।
প্রশ্ন ৯২: ‘বৈষ্ণব পদাবলি’র মূল বিষয়বস্তু কী?
ক. দেশপ্রেম
খ. মানবপ্রেম
গ. রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা ও ভক্তি
ঘ. যুদ্ধ ও বীরত্ব
সঠিক উত্তর: গ. রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা ও ভক্তি
বিস্তারিত: বৈষ্ণব পদাবলি হলো রাধা ও কৃষ্ণের অলৌকিক প্রেমলীলা এবং ঈশ্বর-জীবের ভক্তি সম্পর্ককে কেন্দ্র করে রচিত গান।
প্রশ্ন ৯৩: ‘মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধান পৃষ্ঠপোষক’ কে ছিলেন?
ক. সাধারণ জনগণ
খ. জমিদারগণ
গ. রাজারা ও বিত্তশালী ব্যক্তিগণ
ঘ. বিদেশী বণিকগণ
সঠিক উত্তর: গ. রাজারা ও বিত্তশালী ব্যক্তিগণ
বিস্তারিত: মধ্যযুগে সুলতান, রাজা, এবং ধনী জমিদার ও বণিকরা সাহিত্যচর্চার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাঁদের আনুকূল্যে অনেক কাব্য রচিত হয়েছে।
প্রশ্ন ৯৪: ‘কবিশেখর’ উপাধিটি কার ছিল?
ক. চণ্ডীদাস
খ. বিদ্যাপতি
গ. জ্ঞানদাস
ঘ. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর: খ. বিদ্যাপতি
বিস্তারিত: বিদ্যাপতিকে তাঁর অসামান্য কাব্যপ্রতিভার জন্য ‘কবিশেখর’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল।
প্রশ্ন ৯৫: ‘ভারতচন্দ্র রায়’ কোন রাজসভার কবি ছিলেন?
ক. নবদ্বীপ রাজসভা
খ. কৃষ্ণনগর রাজসভা
গ. মুর্শিদাবাদ রাজসভা
ঘ. ঢাকা রাজসভা
সঠিক উত্তর: খ. কৃষ্ণনগর রাজসভা
বিস্তারিত: ভারতচন্দ্র রায় ছিলেন কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সভাকবি। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রই তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি প্রদান করেন।
প্রশ্ন ৯৬: ‘চৈতন্যচরিতামৃত’ কাব্যটি কোন ভাষায় রচিত?
ক. সংস্কৃত
খ. ব্রজবুলি
গ. বাংলা
ঘ. মৈথিলী
সঠিক উত্তর: গ. বাংলা
বিস্তারিত: কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত ‘চৈতন্যচরিতামৃত’ বাংলা ভাষার একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। এটি বাংলার পাশাপাশি সংস্কৃত শ্লোক ও তত্ত্বের মিশ্রণও রয়েছে।
প্রশ্ন ৯৭: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একটি প্রধান ত্রুটি কী ছিল?
ক. মৌলিকতার অভাব ও অনুবাদ নির্ভরতা
খ. বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্যহীনতা
গ. ছন্দ ও অলঙ্কারের দুর্বলতা
ঘ. ভাষাগত জড়তা
সঠিক উত্তর: ক. মৌলিকতার অভাব ও অনুবাদ নির্ভরতা
বিস্তারিত: মধ্যযুগের অনেক কাব্যই সংস্কৃত, ফারসি বা অন্যান্য ভাষার কাহিনি অবলম্বনে রচিত হয়েছিল। মৌলিক রচনার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। (তবে এটি একটি সরলীকৃত ধারণা, অনেক মৌলিক সৃষ্টিও হয়েছে।)
প্রশ্ন ৯৮: ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যধারার একটি উপধারা কী?
ক. পদ্মাপুরাণ
খ. কৃষ্ণলীলা
গ. শ্যামাসংগীত
ঘ. গোরক্ষবিজয়
সঠিক উত্তর: ক. পদ্মাপুরাণ
বিস্তারিত: ‘পদ্মপুরাণ’ হলো মনসামঙ্গল কাব্যেরই অপর নাম। বিজয় গুপ্তের মতো কবিরা এই নামে মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।
প্রশ্ন ৯৯: ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যটি কোন শতকে রচিত বলে ধারণা করা হয়?
ক. দ্বাদশ শতক
খ. ত্রয়োদশ শতক
গ. চতুর্দশ শতক
ঘ. পঞ্চদশ শতক
সঠিক উত্তর: গ. চতুর্দশ শতক
বিস্তারিত: ভাষাতাত্ত্বিকগণ ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যটিকে চতুর্দশ শতকের রচনা বলে মনে করেন।
প্রশ্ন ১০০: ‘পদাবলী’ বলতে কী বোঝায়?
ক. পদ্যাকারে রচিত গান
খ. গল্প
গ. নাটক
ঘ. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর: ক. পদ্যাকারে রচিত গান
বিস্তারিত: ‘পদাবলী’ মূলত পদ্যাকারে রচিত গানকে বোঝায়, যা বৈষ্ণব সাহিত্যে রাধা-কৃষ্ণের লীলাবিষয়ক গানের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন ১০১: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে ‘প্রণয়োপাখ্যান’ ধারার সূচনা করেন কে?
ক. আলাওল
খ. দৌলত কাজী
গ. শাহ মুহম্মদ সগীর
ঘ. সৈয়দ সুলতান
সঠিক উত্তর: গ. শাহ মুহম্মদ সগীর
বিস্তারিত: শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর ‘ইউসুফ-জোলেখা’ কাব্য রচনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে প্রণয়োপাখ্যান ধারার সূচনা করেন।
প্রশ্ন ১০২: ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের মূল উৎস কী?
ক. কোনো লোককথা
খ. মালিক মুহম্মদ জায়সীর হিন্দি ‘পদুমাবৎ’
গ. ফারসি লোকগাথা
ঘ. সংস্কৃত পুরাণ
সঠিক উত্তর: খ. মালিক মুহম্মদ জায়সীর হিন্দি ‘পদুমাবৎ’
বিস্তারিত: আলাওল রচিত ‘পদ্মাবতী’ মালিক মুহম্মদ জায়সীর বিখ্যাত হিন্দি কাব্য ‘পদুমাবৎ’ অবলম্বনে রচিত।
প্রশ্ন ১০৩: ‘জীবনী সাহিত্য’ কোন ধর্মীয় আন্দোলনের ফলশ্রুতি?
ক. শাক্ত আন্দোলন
খ. নাথ আন্দোলন
গ. চৈতন্য আন্দোলন
ঘ. সুফি আন্দোলন
সঠিক উত্তর: গ. চৈতন্য আন্দোলন
বিস্তারিত: চৈতন্যদেবের আবির্ভাবের পর তাঁর জীবন ও অলৌকিক লীলা বর্ণনা করে প্রচুর জীবনী সাহিত্য রচিত হয়েছিল, যা ‘চৈতন্য জীবনী কাব্য’ নামে পরিচিত।
বিস্তারিত: বৃন্দাবন দাস প্রথমে তাঁর চৈতন্য জীবনী কাব্যের নাম দিয়েছিলেন ‘চৈতন্যমঙ্গল’, যা পরে ‘চৈতন্যভাগবত’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
প্রশ্ন ১০৫: ‘মধ্যযুগের শেষ প্রধান কবি’ হিসেবে কাকে ধরা হয়?
ক. ভারতচন্দ্র রায়
খ. রামপ্রসাদ সেন
গ. আলাওল
ঘ. মুকুন্দ চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর: ক. ভারতচন্দ্র রায়
বিস্তারিত: ভারতচন্দ্র রায়কে মধ্যযুগের শেষ প্রধান কবি বলা হয়, কারণ তাঁর রচনারীতিতে আধুনিকতার একটি ছাপ দেখা যায় এবং তিনি ১৮শ শতাব্দীর শেষে বাংলা সাহিত্যের গতিপথকে প্রভাবিত করেন।
প্রশ্ন ১০৬: ‘শাক্ত পদাবলি’তে মূলত কার স্তুতি করা হয়?
ক. শ্রীকৃষ্ণ
খ. শ্রীরাম
গ. দেবী দুর্গা/কালী
ঘ. শিব
সঠিক উত্তর: গ. দেবী দুর্গা/কালী
বিস্তারিত: শাক্ত পদাবলি হলো দেবী দুর্গা বা কালীর মহিমা ও শক্তিকে কেন্দ্র করে রচিত ভক্তিমূলক গান।
প্রশ্ন ১০৭: ‘কবিওয়ালা’ কাদের বলা হতো?
ক. বৈষ্ণব পদকর্তা
খ. মঙ্গলকাব্যের রচয়িতা
গ. মুখে মুখে গান রচনা ও পরিবেশনকারী
ঘ. রামায়ণ অনুবাদক
সঠিক উত্তর: গ. মুখে মুখে গান রচনা ও পরিবেশনকারী
বিস্তারিত: অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে মুখে মুখে গান রচনা করে বিভিন্ন আসরে পরিবেশন করতেন যাঁরা, তাঁদের ‘কবিওয়ালা’ বলা হতো।
প্রশ্ন ১০৮: ‘মধুমালতী’ কাব্যের রচয়িতা কে?
ক. সৈয়দ সুলতান
খ. দৌলত কাজী
গ. মুহম্মদ কবির
ঘ. আলাওল
সঠিক উত্তর: গ. মুহম্মদ কবির
বিস্তারিত: মুহম্মদ কবির রচিত ‘মধুমালতী’ একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান কাব্য।
প্রশ্ন ১০৯: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের কোন ধারায় ‘যুদ্ধ বিগ্রহ’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল?
ক. বৈষ্ণব পদাবলি
খ. শাক্ত পদাবলি
গ. মঙ্গলকাব্য (কোনো কোনো ক্ষেত্রে)
ঘ. পীর সাহিত্য (জঙ্গনামা)
সঠিক উত্তর: গ. মঙ্গলকাব্য (কোনো কোনো ক্ষেত্রে)
বিস্তারিত: মঙ্গলকাব্যে দেব-দেবীর মাহাত্ম্য প্রচারের পাশাপাশি বিভিন্ন চরিত্রের মধ্যে সংঘাত ও যুদ্ধের বর্ণনাও পাওয়া যায় (যেমন, চাঁদ সওদাগরের যুদ্ধ)। জঙ্গনামা জাতীয় পীর সাহিত্যেও যুদ্ধের বর্ণনা থাকে।
প্রশ্ন ১১০: ‘হরিবংশ’ কাব্যের রচয়িতা কে?
ক. মালাধর বসু
খ. সঞ্জয়
গ. দ্বিজ মাধব
ঘ. কৃত্তিবাস ওঝা
সঠিক উত্তর: খ. সঞ্জয়
বিস্তারিত: সঞ্জয় ছিলেন পঞ্চদশ শতাব্দীর একজন কবি, যিনি মহাভারতের ‘হরিবংশ’ অংশটি বাংলায় অনুবাদ করেন। (ভবানীদাসও হরিবংশ রচনা করেন।)
প্রশ্ন ১১১: ‘বৃন্দাবন দাস’ কোন শতকের কবি?
ক. পঞ্চদশ শতক
খ. ষোড়শ শতক
গ. সপ্তদশ শতক
ঘ. অষ্টাদশ শতক
সঠিক উত্তর: খ. ষোড়শ শতক
বিস্তারিত: বৃন্দাবন দাস ষোড়শ শতাব্দীর একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি, যিনি ‘চৈতন্যভাগবত’ রচনা করেন।
প্রশ্ন ১১২: ‘আলাওল’ কোন মুসলিম রাজবংশের অধীনে কাব্যচর্চা করেন?
ক. সুলতানি আমল
খ. মোগল আমল
গ. আরাকান রাজবংশ
ঘ. হোসেন শাহী বংশ
সঠিক উত্তর: গ. আরাকান রাজবংশ
বিস্তারিত: আলাওল আরাকানের বৌদ্ধ রাজা থিরি থুধাম্মার অমাত্য মাগন ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় কাব্যচর্চা করেন।
প্রশ্ন ১১৩: ‘নাথসাহিত্য’ এর মূল উপাদান কী?
ক. সামাজিক রীতিনীতি
খ. যোগ, সিদ্ধি ও অলৌকিক ক্ষমতা
গ. ঐতিহাসিক ঘটনা
ঘ. রোমান্টিক প্রেম
সঠিক উত্তর: খ. যোগ, সিদ্ধি ও অলৌকিক ক্ষমতা
বিস্তারিত: নাথগুরুদের যোগসাধনা, অলৌকিক শক্তি অর্জন এবং মৃত্যুর উপর জয়লাভের কাহিনিই নাথসাহিত্যের প্রধান উপাদান।
প্রশ্ন ১১৪: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ‘স্বর্ণযুগ’ কোন সময়কে বলা হয়?
ক. পঞ্চদশ শতক
খ. ষোড়শ শতক
গ. সপ্তদশ শতক
ঘ. অষ্টাদশ শতক
সঠিক উত্তর: খ. ষোড়শ শতক
বিস্তারিত: ষোড়শ শতাব্দীকে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ‘স্বর্ণযুগ’ বলা হয়, কারণ এই সময়ে বৈষ্ণব পদাবলি, চৈতন্য জীবনী কাব্য এবং মঙ্গলকাব্যের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন হয়েছিল।
প্রশ্ন ১১৫: ‘পদকর্তা’ বলতে মূলত কাদের বোঝানো হয়?
ক. নাট্যকার
খ. প্রবন্ধকার
গ. গীতিকার/কবিতা রচয়িতা
ঘ. মহাকাব্য রচয়িতা
সঠিক উত্তর: গ. গীতিকার/কবিতা রচয়িতা
বিস্তারিত: ‘পদকর্তা’ বলতে বোঝায় যাঁরা বিশেষত বৈষ্ণব পদাবলির মতো গীতধর্মী কবিতা বা পদ রচনা করতেন।
প্রশ্ন ১১৬: ‘চৈতন্যদেব’কে নিয়ে রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ কাব্য কোনটি?
ক. চৈতন্যচরিতামৃত
খ. চৈতন্যভাগবত
গ. চৈতন্যমঙ্গল (জয়ানন্দ)
ঘ. চৈতন্যমঙ্গল (লোচন দাস)
সঠিক উত্তর: খ. চৈতন্যভাগবত
বিস্তারিত: বৃন্দাবন দাস রচিত ‘চৈতন্যভাগবত’ই চৈতন্যদেবের জীবনকে কেন্দ্র করে রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনী কাব্য।
প্রশ্ন ১১৭: ‘কৃত্তিবাস ওঝা’ কোন কাব্যের জন্য বিখ্যাত?
ক. মহাভারত
খ. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
গ. রামায়ণ
ঘ. চণ্ডীমঙ্গল
সঠিক উত্তর: গ. রামায়ণ
বিস্তারিত: কৃত্তিবাস ওঝা বাল্মীকির রামায়ণ অবলম্বনে ‘শ্রীরাম পাঁচালী’ বা ‘কৃত্তিবাসী রামায়ণ’ রচনার জন্য বিখ্যাত।
প্রশ্ন ১১৮: ‘কাশীরাম দাস’ কোন কাব্যের জন্য বিখ্যাত?
ক. রামায়ণ
খ. মহাভারত
গ. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ঘ. মঙ্গলকাব্য
সঠিক উত্তর: খ. মহাভারত
বিস্তারিত: কাশীরাম দাস অষ্টাদশ শতাব্দীর একজন কবি, যিনি মহাভারতের বাংলা অনুবাদের জন্য খ্যাতি লাভ করেন।
প্রশ্ন ১১৯: ‘বৃন্দাবন দাস’ কোন ধারার কবি?
ক. মঙ্গলকাব্য
খ. শাক্ত পদাবলি
গ. চৈতন্য জীবনী কাব্য
ঘ. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
সঠিক উত্তর: গ. চৈতন্য জীবনী কাব্য
বিস্তারিত: বৃন্দাবন দাস চৈতন্যদেবের অন্যতম শিষ্য এবং তাঁর রচিত ‘চৈতন্যভাগবত’ হলো চৈতন্য জীবনী কাব্যের এক মাইলফলক।
প্রশ্ন ১২০: ‘আলাওল’ রচিত ‘পদ্মাবতী’ কোন ভাষার কাব্য থেকে অনূদিত?
প্রশ্ন ১২১: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ‘মঙ্গলকাব্য’ ধারার প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
ক. যুদ্ধের বীরত্বগাথা প্রচার
খ. দেব-দেবীর পূজা ও মাহাত্ম্য প্রচার
গ. মানবপ্রেমের উপাখ্যান বর্ণনা
ঘ. সামাজিক বিদ্রোহের কাহিনি
সঠিক উত্তর: খ. দেব-দেবীর পূজা ও মাহাত্ম্য প্রচার
বিস্তারিত: মঙ্গলকাব্যগুলি ছিল মূলত লৌকিক দেব-দেবী যেমন মনসা, চণ্ডী, ধর্মঠাকুর ইত্যাদির পূজা প্রচলন এবং তাদের মহিমা কীর্তনের উদ্দেশ্যে রচিত।
প্রশ্ন ১২২: ‘হরিবংশ’ কাব্যটি কোন মহাকাব্যের অংশবিশেষ?
ক. রামায়ণ
খ. মহাভারত
গ. শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা
ঘ. পুরাণ
সঠিক উত্তর: খ. মহাভারত
বিস্তারিত: মহাভারতের অংশবিশেষ ‘হরিবংশ’ হলো শ্রীকৃষ্ণের বংশপরিচয় ও লীলাবিষয়ক বর্ণনা। সঞ্জয় এবং অন্যান্য কবিরা এটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন।
প্রশ্ন ১২৩: ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যে কয়টি প্রধান আখ্যানভাগ থাকে?
ক. একটি
খ. দুইটি
গ. তিনটি
ঘ. চারটি
সঠিক উত্তর: খ. দুইটি
বিস্তারিত: ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের প্রধানত দুটি আখ্যানভাগ থাকে: কালকেতু-ফুল্লরার কাহিনি (আখেটিক খণ্ড) এবং ধনপতি-শ্রীমন্তের কাহিনি (বণিক খণ্ড)।
প্রশ্ন ১২৪: ‘আলাওল’ রচিত ‘তোহফা’ কাব্যটি কোন বিষয়ের ওপর লেখা?
ক. প্রেমকাহিনি
খ. নীতিশাস্ত্র
গ. যুদ্ধবিগ্রহ
ঘ. ধর্মীয় কাহিনি
সঠিক উত্তর: খ. নীতিশাস্ত্র
বিস্তারিত: আলাওল রচিত ‘তোহফা’ একটি নীতিশাস্ত্র বিষয়ক কাব্য, যা মানবজীবন ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করে। এটি ইউসুফ গদা নামক কবির ফারসি কাব্যের অনুবাদ।
প্রশ্ন ১২৫: ‘পীর সাহিত্য’ কোন ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত?
ক. হিন্দুধর্ম
খ. বৌদ্ধধর্ম
গ. সুফিবাদ
ঘ. জৈনধর্ম
সঠিক উত্তর: গ. সুফিবাদ
বিস্তারিত: পীর সাহিত্য মূলত সুফি পীর-দরবেশদের অলৌকিক ক্ষমতা, আধ্যাত্মিক প্রভাব এবং তাঁদের প্রতি ভক্তদের শ্রদ্ধাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
প্রশ্ন ১২৬: ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্যের প্রভাব বাংলা সাহিত্যের কোন ধারায় সবচেয়ে বেশি?
ক. মঙ্গলকাব্য
খ. নাথসাহিত্য
গ. বৈষ্ণব পদাবলি
ঘ. শাক্ত পদাবলি
সঠিক উত্তর: গ. বৈষ্ণব পদাবলি
বিস্তারিত: জয়দেব রচিত সংস্কৃত ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্যের রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা বাংলা বৈষ্ণব পদাবলির বিষয়বস্তু ও কাব্যশৈলীকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
প্রশ্ন ১২৭: ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যটি কোন দেবতার কাহিনি নিয়ে রচিত?
ক. শ্রীকৃষ্ণ
খ. শিব
গ. রাম
ঘ. দুর্গা
সঠিক উত্তর: ক. শ্রীকৃষ্ণ
বিস্তারিত: ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যে শ্রীকৃষ্ণ এবং রাধার প্রেমলীলা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
প্রশ্ন ১২৮: বাংলা সাহিত্যের ‘মধ্যযুগ’কে কয়টি ভাগে ভাগ করা হয়?
ক. দুইটি
খ. তিনটি
গ. চারটি
ঘ. পাঁচটি
সঠিক উত্তর: খ. তিনটি
বিস্তারিত: মধ্যযুগকে সাধারণত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়: আদি মধ্যযুগ (প্রাক-চৈতন্য যুগ), মধ্য মধ্যযুগ (চৈতন্য যুগ) এবং অন্ত্য মধ্যযুগ (চৈতন্য পরবর্তী যুগ বা অষ্টাদশ শতাব্দী)।
প্রশ্ন ১২৯: ‘দীন চণ্ডীদাস’ নামে কে পরিচিত?
ক. বড়ু চণ্ডীদাস
খ. পদকর্তা চণ্ডীদাস
গ. দ্বিজ চণ্ডীদাস
ঘ. উপরের কেউ নন
সঠিক উত্তর: খ. পদকর্তা চণ্ডীদাস
বিস্তারিত: ‘চণ্ডীদাস সমস্যা’র একটি অংশ হলো ‘দীন চণ্ডীদাস’ নামে পরিচিত পদকর্তা চণ্ডীদাস, যার পদাবলিতে আত্মনিবেদন ও প্রেম বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে। (একাধিক চণ্ডীদাসের মধ্যে ইনি একজন।)
প্রশ্ন ১৩০: ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যের প্রধান খল চরিত্র কোনটি?
ক. কালকেতু
খ. চাঁদ সওদাগর
গ. ধনপতি
ঘ. শ্রীমন্ত
সঠিক উত্তর: খ. চাঁদ সওদাগর
বিস্তারিত: চাঁদ সওদাগর মনসাদেবীর পূজা অস্বীকার করে তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন, যা এই কাব্যের প্রধান দ্বন্দ্ব। তবে তাঁকে ঠিক ‘খল’ না বলে দৃঢ়চেতা ও বিদ্রোহী চরিত্র বলা শ্রেয়।
প্রশ্ন ১৩১: ‘ধর্মমঙ্গল’ কাব্যের মূল বিষয়বস্তু কী?
ক. বিষ্ণুর অবতার কাহিনি
খ. শিবের মহিমা
গ. ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য ও লৌকিক বিশ্বাস
ঘ. মানব জীবনের দুঃখ-কষ্ট
সঠিক উত্তর: গ. ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য ও লৌকিক বিশ্বাস
বিস্তারিত: ‘ধর্মমঙ্গল’ কাব্য ধর্মঠাকুরের পূজা প্রচলন ও অলৌকিক ক্ষমতা বর্ণনা করে, যা নিম্নবর্গের মানুষের মধ্যে প্রচলিত ছিল।
প্রশ্ন ১৩২: ‘সৈয়দ সুলতান’ কোন শতাব্দীর কবি?
ক. পঞ্চদশ
খ. ষোড়শ
গ. সপ্তদশ
ঘ. অষ্টাদশ
সঠিক উত্তর: খ. ষোড়শ
বিস্তারিত: সৈয়দ সুলতান ষোড়শ শতাব্দীর একজন গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম কবি, যিনি ‘নবীবংশ’ ও ‘রসুলবিজয়’ কাব্য রচনা করেন।
প্রশ্ন ১৩৩: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের কোন ধারায় ‘পালাগান’ এর ঐতিহ্য দেখা যায়?
ক. বৈষ্ণব পদাবলি
খ. মঙ্গলকাব্য
গ. শাক্ত পদাবলি
ঘ. নাথসাহিত্য
সঠিক উত্তর: খ. মঙ্গলকাব্য
বিস্তারিত: মঙ্গলকাব্যগুলি মূলত গীতিনির্ভর ছিল এবং বিভিন্ন পালার মাধ্যমে পরিবেশিত হতো, যা ‘পালাগান’ এর ঐতিহ্যের অংশ।
প্রশ্ন ১৩৪: ‘কৃষ্ণদাস কবিরাজ’ রচিত ‘চৈতন্যচরিতামৃত’ কয়টি খণ্ডে বিভক্ত?
ক. দুইটি
খ. তিনটি
গ. চারটি
ঘ. পাঁচটি
সঠিক উত্তর: খ. তিনটি
বিস্তারিত: ‘চৈতন্যচরিতামৃত’ কাব্যটি আদি, মধ্য ও অন্ত্য – এই তিনটি লীলা বা খণ্ডে বিভক্ত।
প্রশ্ন ১৩৫: ‘বৃন্দাবনের ষড়গোস্বামী’দের মধ্যে অন্যতম কে ছিলেন?
ক. রূপ গোস্বামী
খ. সনাতন গোস্বামী
গ. জীব গোস্বামী
ঘ. উপরের সবাই
সঠিক উত্তর: ঘ. উপরের সবাই
বিস্তারিত: রূপ গোস্বামী, সনাতন গোস্বামী এবং জীব গোস্বামী বৃন্দাবনের ষড়গোস্বামীদের মধ্যে অন্যতম প্রধান ছিলেন, যাঁরা বৈষ্ণব ধর্মতত্ত্বের প্রবর্তন ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
প্রশ্ন ১৩৬: ‘ভারতচন্দ্র রায়’কে কে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন?
ক. নবাব আলীবর্দি খান
খ. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়
গ. মহারাজা নবকৃষ্ণ দেব
ঘ. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
সঠিক উত্তর: খ. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়
বিস্তারিত: কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় ভারতচন্দ্রকে তাঁর কাব্যপ্রতিভার জন্য ‘রায়গুণাকর’ উপাধি প্রদান করেন।
প্রশ্ন ১৩৭: ‘শ্যামাসংগীত’ মূলত কোন দেবীর আরাধনার জন্য রচিত?
ক. দুর্গা
খ. কালী
গ. লক্ষ্মী
ঘ. সরস্বতী
সঠিক উত্তর: খ. কালী
বিস্তারিত: শ্যামাসংগীত প্রধানত দেবী কালীর মহিমা ও ভক্তিমূলক আরাধনার জন্য রচিত হয়। রামপ্রসাদ সেন এবং কমলাকান্ত ভট্টাচার্য এর প্রধান রচয়িতা।
প্রশ্ন ১৩৮: ‘চৈতন্যমঙ্গল’ কাব্যের রচয়িতা জয়ানন্দ কোন শতকের কবি?
ক. পঞ্চদশ
খ. ষোড়শ
গ. সপ্তদশ
ঘ. অষ্টাদশ
সঠিক উত্তর: খ. ষোড়শ
বিস্তারিত: জয়ানন্দ ষোড়শ শতাব্দীর একজন বৈষ্ণব কবি, যিনি ‘চৈতন্যমঙ্গল’ নামে চৈতন্যদেবের জীবনী কাব্য রচনা করেন।
প্রশ্ন ১৩৯: ‘আরাকান রাজসভা’য় আশ্রয় পেয়েছিলেন এমন একজন বাঙালি কবি কে?
ক. শাহ মুহম্মদ সগীর
খ. বিজয় গুপ্ত
গ. আলাওল
ঘ. কৃত্তিবাস ওঝা
সঠিক উত্তর: গ. আলাওল
বিস্তারিত: আলাওল এবং দৌলত কাজীর মতো মুসলিম কবিরা আরাকান রাজসভায় আশ্রয় পেয়ে বাংলা সাহিত্যের সেবা করেন।
প্রশ্ন ১৪০: ‘চৈতন্যদেবের পূর্বে’ রচিত বৈষ্ণব পদকর্তা কে?
ক. জ্ঞানদাস
খ. গোবিন্দদাস
গ. চণ্ডীদাস (বড়ু চণ্ডীদাস)
ঘ. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
সঠিক উত্তর: গ. চণ্ডীদাস (বড়ু চণ্ডীদাস)
বিস্তারিত: বড়ু চণ্ডীদাস ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্য রচনা করেন, যা চৈতন্যদেবের জন্মের অনেক আগে রচিত হয়েছিল। বিদ্যাপতিও প্রাক-চৈতন্য যুগের কবি।
প্রশ্ন ১৪১: ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যে ‘ফুল্লরা’ চরিত্রটি কার স্ত্রী ছিলেন?
ক. শ্রীমন্ত
খ. ধনপতি
গ. কালকেতু
ঘ. ব্যাধ
সঠিক উত্তর: গ. কালকেতু
বিস্তারিত: ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের আখেটিক খণ্ডে শিকারি কালকেতু এবং তার স্ত্রী ফুল্লরার জীবন বর্ণনা করা হয়েছে।
প্রশ্ন ১৪২: ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যে ‘বেহুলা’ চরিত্রটি কার স্ত্রী ছিলেন?
ক. চাঁদ সওদাগর
খ. লখিন্দর
গ. শ্রীমন্ত
ঘ. কালকেতু
সঠিক উত্তর: খ. লখিন্দর
বিস্তারিত: বেহুলা তাঁর স্বামী লখিন্দরকে সাপের বিষ থেকে বাঁচানোর জন্য দেব-দেবীর কাছে সংগ্রাম করেন, যা মনসামঙ্গল কাব্যের একটি প্রধান অংশ।
প্রশ্ন ১৪৩: ‘প্রেমভক্তি’র ধারণা কোন সাহিত্যে প্রধান?
ক. শাক্ত সাহিত্য
খ. বৈষ্ণব সাহিত্য
গ. নাথ সাহিত্য
ঘ. মঙ্গলকাব্য
সঠিক উত্তর: খ. বৈষ্ণব সাহিত্য
বিস্তারিত: বৈষ্ণব সাহিত্য, বিশেষত বৈষ্ণব পদাবলি, রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলার মাধ্যমে ঈশ্বর ও জীবের মধ্যে প্রেমময় ভক্তি সম্পর্ককে তুলে ধরে।
প্রশ্ন ১৪৪: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ‘অন্ধকার যুগ’ বলতে কোন সময়ের সাহিত্যিক শূন্যতাকে বোঝানো হয়?
ক. ১৪শ-১৫শ শতক
খ. ১২শ-১৩শ শতক
গ. ১৩শ-১৪শ শতক
ঘ. ১৫শ-১৬শ শতক
সঠিক উত্তর: গ. ১৩শ-১৪শ শতক
বিস্তারিত: ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে তুর্কি আক্রমণের পর প্রায় দেড়শ থেকে দুইশ বছর বাংলা সাহিত্যের তেমন কোনো নিদর্শন পাওয়া যায় না, তাই এই সময়কে অন্ধকার যুগ বলা হয়।
প্রশ্ন ১৪৫: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ‘পাঁচালি’ বলতে কী বোঝায়?
ক. ছোটগল্প
খ. গান গেয়ে পরিবেশনযোগ্য আখ্যানকাব্য
গ. নাটক
ঘ. লোককথা
সঠিক উত্তর: খ. গান গেয়ে পরিবেশনযোগ্য আখ্যানকাব্য
বিস্তারিত: মধ্যযুগে মঙ্গলকাব্যগুলি মূলত পাঁচালীর ঢঙে গান গেয়ে পরিবেশিত হতো, যেখানে পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দ ব্যবহৃত হতো।
প্রশ্ন ১৪৬: ‘বৈষ্ণব পদাবলি’তে ‘পরকীয়া প্রেম’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক. অবৈধ সম্পর্ক
খ. পার্থিব প্রেম
গ. সামাজিক রীতিনীতির বাইরে ঈশ্বরকে একান্তভাবে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা
ঘ. অন্য পুরুষের প্রতি নারীর প্রেম
সঠিক উত্তর: গ. সামাজিক রীতিনীতির বাইরে ঈশ্বরকে একান্তভাবে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা
বিস্তারিত: বৈষ্ণব পদাবলিতে ‘পরকীয়া প্রেম’ একটি আধ্যাত্মিক অর্থ বহন করে, যেখানে রাধার কৃষ্ণের প্রতি প্রেম কোনো সামাজিক বন্ধন মানে না, যা ভক্তের ঈশ্বরকে একান্তভাবে পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষাকে প্রতীকায়িত করে।
প্রশ্ন ১৪৭: ‘আলাওল’ রচিত ‘সপ্তপয়কর’ কাব্যটি কোন ফারসি কাব্য থেকে অনূদিত?
ক. শাহনামা
খ. ইউসুফ-জোলেখা
গ. Haft Paykar (নিজামী)
ঘ. লাইলী-মজনু
সঠিক উত্তর: গ. Haft Paykar (নিজামী)
বিস্তারিত: আলাওল ফারসি কবি নিজামী গঞ্জভীর ‘হফত পয়কর’ (সাত প্রতিমা) অবলম্বনে ‘সপ্তপয়কর’ কাব্যটি রচনা করেন।
প্রশ্ন ১৪৮: ‘রামপ্রসাদ সেন’ কোন শতকের কবি?
ক. পঞ্চদশ
খ. ষোড়শ
গ. সপ্তদশ
ঘ. অষ্টাদশ
সঠিক উত্তর: ঘ. অষ্টাদশ
বিস্তারিত: রামপ্রসাদ সেন অষ্টাদশ শতাব্দীর একজন প্রধান শাক্ত পদকর্তা, যিনি তাঁর শ্যামাসংগীতের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়।
প্রশ্ন ১৪৯: ‘মধ্যযুগের শেষ উল্লেখযোগ্য মুসলিম কবি’ কে?
ক. দৌলত কাজী
খ. আলাওল
গ. সৈয়দ সুলতান
ঘ. শেখ ফয়জুল্লাহ
সঠিক উত্তর: খ. আলাওল
বিস্তারিত: আলাওল সপ্তদশ শতাব্দীর কবি হলেও, তাঁর রচনার বিশালতা ও গুণগত মানের জন্য তাঁকে মধ্যযুগের শেষ উল্লেখযোগ্য মুসলিম কবি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রশ্ন ১৫০: ‘চর্যাপদ’ রচনার উদ্দেশ্য কী ছিল?
ক. সাধারণ মানুষের মনোরঞ্জন
খ. বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনতত্ত্ব প্রচার
গ. ঐতিহাসিক ঘটনা লিপিবদ্ধ করা
ঘ. প্রেমের গান রচনা
সঠিক উত্তর: খ. বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনতত্ত্ব প্রচার
বিস্তারিত: চর্যাপদের পদগুলি বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের নিগূঢ় সাধনতত্ত্ব এবং আধ্যাত্মিক উপলব্ধিকে রূপকের মাধ্যমে প্রকাশ করত।
প্রশ্ন ১৫১: ‘চর্যাপদ’ কে আবিষ্কার করেন?
ক. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
খ. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
গ. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ঘ. দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর: গ. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
বিস্তারিত: ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেন।
প্রশ্ন ১৫২: ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যটি কোথা থেকে আবিষ্কৃত হয়?
ক. কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটির গ্রন্থাগার
খ. নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার
গ. বাঁকুড়ার এক গোয়ালঘর থেকে
ঘ. বৃন্দাবনের একটি মঠ থেকে
সঠিক উত্তর: গ. বাঁকুড়ার এক গোয়ালঘর থেকে
বিস্তারিত: ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়ার কাকিলা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যটি আবিষ্কার করেন।
প্রশ্ন ১৫৩: বাংলা সাহিত্যের ‘অন্ধকার যুগ’ বলতে কোন সময়কালকে বোঝানো হয়?
ক. ১০ম-১১শ শতাব্দী
খ. ১২শ-১৩শ শতাব্দী
গ. ১৩শ-১৪শ শতাব্দী
ঘ. ১৪শ-১৫শ শতাব্দী
সঠিক উত্তর: গ. ১৩শ-১৪শ শতাব্দী
বিস্তারিত: ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে তুর্কি আক্রমণের পর প্রায় দেড়শ থেকে দুইশ বছর (১৩শ-১৪শ শতাব্দী) বাংলা সাহিত্যের তেমন কোনো নিদর্শন পাওয়া যায় না, তাই এই সময়কে ‘অন্ধকার যুগ’ বলা হয়।
প্রশ্ন ১৫৪: ‘চণ্ডীদাস সমস্যা’ বলতে কী বোঝানো হয়?
ক. চণ্ডীদাসের কাব্যগুলির অসম্পূর্ণতা
খ. চণ্ডীদাসের নামাঙ্কিত একাধিক কবির অস্তিত্ব
গ. চণ্ডীদাসের জীবন নিয়ে বিতর্ক
ঘ. চণ্ডীদাসের ভাষা নিয়ে বিভ্রান্তি
সঠিক উত্তর: খ. চণ্ডীদাসের নামাঙ্কিত একাধিক কবির অস্তিত্ব
বিস্তারিত: বাংলা সাহিত্যে ‘চণ্ডীদাস’ নামে একাধিক কবির (যেমন – বড়ু চণ্ডীদাস, দীন চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস) অস্তিত্ব নিয়ে যে বিতর্ক ও গবেষণা, তাকে ‘চণ্ডীদাস সমস্যা’ বলা হয়।
প্রশ্ন ১৫৫: ‘বিদ্যাপতি’ মূলত কোন ভাষার কবি ছিলেন?
ক. বাংলা
খ. মৈথিলী
গ. ব্রজবুলি
ঘ. হিন্দি
সঠিক উত্তর: খ. মৈথিলী
বিস্তারিত: বিদ্যাপতি ছিলেন মৈথিলী ভাষার কবি, তবে তাঁর রচিত ব্রজবুলি ভাষার পদগুলি বাংলা বৈষ্ণব পদাবলিকে দারুণভাবে সমৃদ্ধ করেছে।
প্রশ্ন ১৫৬: ‘মুকুন্দ চক্রবর্তী’ কোন কাব্যের জন্য ‘কবিকঙ্কন’ উপাধি পেয়েছিলেন?
ক. মনসামঙ্গল
খ. ধর্মমঙ্গল
গ. চণ্ডীমঙ্গল
ঘ. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর: গ. চণ্ডীমঙ্গল
বিস্তারিত: মুকুন্দ চক্রবর্তী তাঁর অসামান্য ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের জন্য ‘কবিকঙ্কন’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন।
প্রশ্ন ১৫৭: ‘ভারতচন্দ্র রায়’ কোন শতকের কবি?
ক. ষোড়শ শতক
খ. সপ্তদশ শতক
গ. অষ্টাদশ শতক
ঘ. ঊনবিংশ শতক
সঠিক উত্তর: গ. অষ্টাদশ শতক
বিস্তারিত: ভারতচন্দ্র রায় অষ্টাদশ শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত কবি, যিনি মধ্যযুগের শেষ দিকের প্রতিনিধি।
প্রশ্ন ১৫৮: ‘আলাওল’ কোন মুসলিম রাজবংশের সভাকবি ছিলেন?
ক. দিল্লি সুলতানি
খ. মুঘল
গ. আরাকান
ঘ. বাংলার নবাব
সঠিক উত্তর: গ. আরাকান
বিস্তারিত: আলাওল সপ্তদশ শতাব্দীতে আরাকানের রাজসভায় আশ্রয় পেয়ে কাব্যচর্চা করেন।
প্রশ্ন ১৫৯: ‘বৃন্দাবন দাস’ রচিত ‘চৈতন্যভাগবত’ এর পূর্বনাম কী ছিল?
ক. চৈতন্যলীলামৃত
খ. চৈতন্যমঙ্গল
গ. চৈতন্যচরিতামৃত
ঘ. চৈতন্যবিলাস
সঠিক উত্তর: খ. চৈতন্যমঙ্গল
বিস্তারিত: বৃন্দাবন দাস তাঁর এই জীবনী কাব্যের নাম প্রথমে ‘চৈতন্যমঙ্গল’ রেখেছিলেন, যা পরে ‘চৈতন্যভাগবত’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
প্রশ্ন ১৬০: ‘কৃষ্ণদাস কবিরাজ’ কোন কাব্যের রচয়িতা?
ক. চৈতন্যভাগবত
খ. চৈতন্যমঙ্গল
গ. চৈতন্যচরিতামৃত
ঘ. কৃষ্ণলীলা
সঠিক উত্তর: গ. চৈতন্যচরিতামৃত
বিস্তারিত: কৃষ্ণদাস কবিরাজ ষোড়শ শতাব্দীর একজন প্রধান বৈষ্ণব কবি। তাঁর রচিত ‘চৈতন্যচরিতামৃত’ চৈতন্য জীবনী কাব্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
প্রশ্ন ১৬১: ‘রামপ্রসাদ সেন’ কোন ধারার গানের জন্য বিখ্যাত?
ক. বৈষ্ণব পদাবলি
খ. শাক্ত পদাবলি (শ্যামাসংগীত)
গ. মঙ্গলগীতি
ঘ. নাথগীতি
সঠিক উত্তর: খ. শাক্ত পদাবলি (শ্যামাসংগীত)
বিস্তারিত: রামপ্রসাদ সেন অষ্টাদশ শতাব্দীর একজন শ্রেষ্ঠ শাক্ত পদকর্তা, যিনি তাঁর গভীর ভক্তিমূলক শ্যামাসংগীতের জন্য অমর হয়ে আছেন।
প্রশ্ন ১৬২: ‘কমলাকান্ত ভট্টাচার্য’ কোন ধারার কবি?
ক. বৈষ্ণব
খ. শাক্ত
গ. সুফি
ঘ. নাথ
সঠিক উত্তর: খ. শাক্ত
বিস্তারিত: কমলাকান্ত ভট্টাচার্য রামপ্রসাদ সেনের সমসাময়িক একজন শক্তিশালী শাক্ত পদকর্তা ছিলেন।
প্রশ্ন ১৬৩: ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যের একজন মহিলা কবির নাম কী?
ক. চন্দ্রাবতী
খ. লীলাবতী
গ. শশীকলা
ঘ. রত্নাবতী
সঠিক উত্তর: ক. চন্দ্রাবতী
বিস্তারিত: ষোড়শ শতাব্দীর কবি চন্দ্রাবতী মনসামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা ছিলেন এবং নিজেও মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।
প্রশ্ন ১৬৪: বাংলা সাহিত্যের প্রথম রামায়ণ অনুবাদক কে?
ক. কাশীরাম দাস
খ. কৃত্তিবাস ওঝা
গ. মালাধর বসু
ঘ. সঞ্জয়
সঠিক উত্তর: খ. কৃত্তিবাস ওঝা
বিস্তারিত: পঞ্চদশ শতাব্দীতে কৃত্তিবাস ওঝা বাল্মীকির রামায়ণ অবলম্বনে ‘শ্রীরাম পাঁচালী’ রচনা করেন, যা কৃত্তিবাসী রামায়ণ নামে পরিচিত।
প্রশ্ন ১৬৫: বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাভারত অনুবাদক কে?
ক. কৃত্তিবাস ওঝা
খ. মালাধর বসু
গ. কাশীরাম দাস
ঘ. সঞ্জয়
সঠিক উত্তর: গ. কাশীরাম দাস
বিস্তারিত: সপ্তদশ শতাব্দীতে কাশীরাম দাস মহাভারত অনুবাদ করেন, যা ‘কাশীদাসী মহাভারত’ নামে সুপরিচিত। (তবে সম্পূর্ণ মহাভারতের প্রথম অনুবাদক হিসেবে কবীন্দ্র পরমেশ্বরের নামও পাওয়া যায়, কাশীরামের অনুবাদ সর্বাধিক জনপ্রিয়।)
প্রশ্ন ১৬৬: ‘পদ্মাপুরাণ’ কোন কাব্যের অপর নাম?
ক. চণ্ডীমঙ্গল
খ. মনসামঙ্গল
গ. ধর্মমঙ্গল
ঘ. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর: খ. মনসামঙ্গল
বিস্তারিত: বিজয় গুপ্তের মতো মনসামঙ্গলের অনেক কবি তাঁদের কাব্যকে ‘পদ্মপুরাণ’ নামে অভিহিত করেছেন।
প্রশ্ন ১৬৭: ‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’ কাব্যের রচয়িতা কে?
ক. কৃত্তিবাস ওঝা
খ. মালাধর বসু
গ. কাশীরাম দাস
ঘ. বৃন্দাবন দাস
সঠিক উত্তর: খ. মালাধর বসু
বিস্তারিত: মালাধর বসু পঞ্চদশ শতাব্দীতে ভাগবতের দশম ও একাদশ স্কন্ধ অবলম্বনে ‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’ কাব্য রচনা করেন। সুলতান রুকনুদ্দিন বারবক শাহ তাঁকে ‘গুণরাজ খান’ উপাধি প্রদান করেন।
প্রশ্ন ১৬৮: ‘ইউসুফ-জোলেখা’ কাব্যের রচয়িতা কে?
ক. দৌলত কাজী
খ. আলাওল
গ. শাহ মুহম্মদ সগীর
ঘ. সৈয়দ সুলতান
সঠিক উত্তর: গ. শাহ মুহম্মদ সগীর
বিস্তারিত: শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম প্রণয়োপাখ্যান ‘ইউসুফ-জোলেখা’র রচয়িতা।
প্রশ্ন ১৬৯: ‘শূন্যপুরাণ’ কোন ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত?
ক. বৈষ্ণব ধর্ম
খ. শাক্ত ধর্ম
গ. ধর্মপূজা ও বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ
ঘ. জৈন ধর্ম
সঠিক উত্তর: গ. ধর্মপূজা ও বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ
বিস্তারিত: রামাই পণ্ডিত রচিত ‘শূন্যপুরাণ’ মূলত ধর্মপূজার পদ্ধতি এবং বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদের প্রভাবযুক্ত একটি মিশ্র ধর্মীয় গ্রন্থ।
প্রশ্ন ১৭০: ‘নাথসাহিত্য’ এর প্রধান কবি কে ছিলেন?
ক. শেখ ফয়জুল্লাহ
খ. কানাহরি দত্ত
গ. ভবানীদাস
ঘ. উপরের সবাই
সঠিক উত্তর: ক. শেখ ফয়জুল্লাহ
বিস্তারিত: শেখ ফয়জুল্লাহ তাঁর ‘গোরক্ষবিজয়’ বা ‘ময়নামতির গান’ কাব্যের জন্য নাথসাহিত্যের একজন প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
প্রশ্ন ১৭১: ‘চৈতন্যদেবের তিরোধানের পর’ রচিত শ্রেষ্ঠ চৈতন্য জীবনী কাব্য কোনটি?
ক. চৈতন্যভাগবত
খ. চৈতন্যচরিতামৃত
গ. চৈতন্যমঙ্গল (জয়ানন্দ)
ঘ. চৈতন্যলীলা
সঠিক উত্তর: খ. চৈতন্যচরিতামৃত
বিস্তারিত: চৈতন্যদেবের তিরোধানের বহু বছর পর কৃষ্ণদাস কবিরাজ ‘চৈতন্যচরিতামৃত’ রচনা করেন, যা চৈতন্য-তত্ত্বের গভীরতা ও কাব্যসৌন্দর্যের জন্য শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত।
প্রশ্ন ১৭২: ‘ব্রজবুলি’ ভাষা বাংলা সাহিত্যে কোন ধারায় ব্যবহৃত হয়েছে?
ক. মঙ্গলকাব্য
খ. নাথসাহিত্য
গ. বৈষ্ণব পদাবলি
ঘ. শাক্ত পদাবলি
সঠিক উত্তর: গ. বৈষ্ণব পদাবলি
বিস্তারিত: ব্রজবুলি ভাষা মৈথিলী ও বাংলা ভাষার সংমিশ্রণে গঠিত একটি কৃত্রিম কাব্যভাষা, যা বৈষ্ণব पदাবলিতে, বিশেষত বিদ্যাপতি ও গোবিন্দদাসের পদে, ব্যাপক ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রশ্ন ১৭৩: ‘মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য’ কী?
ক. মানবতাবাদের জয়গান
খ. ধর্মীয় বিষয়বস্তুর প্রাধান্য
গ. প্রকৃতি বন্দনা
ঘ. ঐতিহাসিক ঘটনা বর্ণনা
সঠিক উত্তর: খ. ধর্মীয় বিষয়বস্তুর প্রাধান্য
বিস্তারিত: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব ধারাই (মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলি, শাক্ত পদাবলি, জীবনী কাব্য) ধর্মীয় বিষয়বস্তু ও দেব-দেবীর মাহাত্ম্যকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
প্রশ্ন ১৭৪: ‘কবিওয়ালা’ কাদের বলা হতো?
ক. হাতে লেখা পুঁথির লেখক
খ. মুখে মুখে গান রচনা ও পরিবেশনকারী
গ. সংস্কৃত কবি
ঘ. পুঁথি ব্যবসায়ী
সঠিক উত্তর: খ. মুখে মুখে গান রচনা ও পরিবেশনকারী
বিস্তারিত: অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে যারা মুখে মুখে গান রচনা করে বিভিন্ন আসরে দ্বন্দ্বে অবতীর্ণ হতেন, তাদের ‘কবিওয়ালা’ বলা হতো।
প্রশ্ন ১৭৫: ‘দোভাষী পুঁথি’ কোন দুই ভাষার মিশ্রণে গঠিত হয়েছিল?
ক. বাংলা ও সংস্কৃত
খ. বাংলা ও পালি
গ. বাংলা ও আরবি-ফারসি
ঘ. বাংলা ও হিন্দি
সঠিক উত্তর: গ. বাংলা ও আরবি-ফারসি
বিস্তারিত: মুসলমান কবিদের দ্বারা রচিত কিছু কাব্যে প্রচুর আরবি ও ফারসি শব্দ মিশিয়ে যে ভাষা ব্যবহৃত হতো, তাকে ‘দোভাষী পুঁথি’র ভাষা বলা হতো।
প্রশ্ন ১৭৬: ‘নবীবংশ’ কাব্যের রচয়িতা কে?
ক. শাহ মুহম্মদ সগীর
খ. দৌলত কাজী
গ. সৈয়দ সুলতান
ঘ. আলাওল
সঠিক উত্তর: গ. সৈয়দ সুলতান
বিস্তারিত: সৈয়দ সুলতান ষোড়শ শতাব্দীর একজন গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম কবি, যিনি ‘নবীবংশ’ কাব্য রচনা করেন।
প্রশ্ন ১৭৭: ‘চৈতন্যদেবের সমসাময়িক’ একজন বৈষ্ণব পদকর্তা কে ছিলেন?
ক. চণ্ডীদাস (পদকর্তা)
খ. বিদ্যাপতি
গ. জ্ঞানদাস
ঘ. বৃন্দাবন দাস
সঠিক উত্তর: গ. জ্ঞানদাস
বিস্তারিত: জ্ঞানদাস ষোড়শ শতাব্দীর একজন পদকর্তা এবং চৈতন্যদেবের সমসাময়িক বা পরবর্তীকালের কবি। তাঁর পদাবলিতে চৈতন্য-প্রভাব স্পষ্ট। (চৈতন্যদেবের সরাসরি সমসাময়িক হিসেবে মুরারি গুপ্ত, নরহরি সরকার প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।)
প্রশ্ন ১৭৮: ‘মধ্যযুগের শেষ কবি’ হিসেবে কাকে ধরা হয়?
ক. আলাওল
খ. দৌলত কাজী
গ. ভারতচন্দ্র রায়
ঘ. রামপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর: গ. ভারতচন্দ্র রায়
বিস্তারিত: ভারতচন্দ্র রায়কে তাঁর রচনারীতি, নাগরিক রুচি এবং আধুনিকতার আভাস থাকায় মধ্যযুগের শেষ কবি হিসেবে গণ্য করা হয়।
প্রশ্ন ১৭৯: ‘প্রেমভক্তি’র ধারণা কোন সাহিত্যে প্রধান?
ক. শাক্ত সাহিত্য
খ. বৈষ্ণব সাহিত্য
গ. নাথ সাহিত্য
ঘ. মঙ্গলকাব্য
সঠিক উত্তর: খ. বৈষ্ণব সাহিত্য
বিস্তারিত: বৈষ্ণব সাহিত্য, বিশেষত বৈষ্ণব পদাবলি, রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলার মাধ্যমে ঈশ্বর ও জীবের মধ্যে প্রেমময় ভক্তি সম্পর্ককে তুলে ধরে।
প্রশ্ন ১৮০: ‘পীর সাহিত্য’ এর প্রধান বিষয়বস্তু কী?
ক. আঞ্চলিক ইতিহাস
খ. পীর-দরবেশদের অলৌকিক কাহিনি ও মাহাত্ম্য
গ. সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা
ঘ. যুদ্ধের বিবরণ
সঠিক উত্তর: খ. পীর-দরবেশদের অলৌকিক কাহিনি ও মাহাত্ম্য
বিস্তারিত: পীর সাহিত্য মূলত পীর-দরবেশদের কারামত (অলৌকিক ক্ষমতা) এবং তাঁদের প্রতি জনগণের বিশ্বাস ও ভক্তিকে কেন্দ্র করে রচিত।
প্রশ্ন ১৮১: কোন কবিকে ‘বাংলার বিদ্যাপতি’ বলা হয়?
ক. জ্ঞানদাস
খ. গোবিন্দদাস
গ. চণ্ডীদাস
ঘ. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
সঠিক উত্তর: খ. গোবিন্দদাস
বিস্তারিত: গোবিন্দদাস ছিলেন একজন স্বনামধন্য বৈষ্ণব পদকর্তা। তাঁর পদাবলিতে বিদ্যাপতির কাব্যশৈলীর প্রভাব সুস্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়, তাই তাঁকে ‘বাংলার বিদ্যাপতি’ বলা হয়।
প্রশ্ন ১৮২: ‘গোরক্ষবিজয়’ কাব্যের প্রধান চরিত্র কে?
ক. ময়নামতি
খ. গোপীচন্দ্র
গ. গোরক্ষনাথ
ঘ. সিদ্ধাচার্য
সঠিক উত্তর: গ. গোরক্ষনাথ
বিস্তারিত: ‘গোরক্ষবিজয়’ নাথ সাহিত্যের একটি অন্যতম গ্রন্থ, যেখানে নাথগুরু গোরক্ষনাথের অলৌকিক ক্ষমতা ও যোগসাধনার বর্ণনা রয়েছে।
প্রশ্ন ১৮৩: ‘ধর্মমঙ্গল’ কাব্যের জনপ্রিয়তার মূল কারণ কী?
ক. রোমান্টিক প্রেমকাহিনি
খ. সামাজিক বিদ্রোহের কাহিনি
গ. লৌকিক ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য ও মানবজীবনের দুঃখ-সুখের প্রতিচ্ছবি
ঘ. ঐতিহাসিক যুদ্ধবিগ্রহের বর্ণনা
সঠিক উত্তর: গ. লৌকিক ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য ও মানবজীবনের দুঃখ-সুখের প্রতিচ্ছবি
বিস্তারিত: ধর্মমঙ্গল কাব্যে ধর্মঠাকুরের অলৌকিকতা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, বিশেষত লাউসেনের কাহিনিতে, দুঃখ-সুখ ও সংগ্রামের চিত্রায়ণ এটিকে জনপ্রিয় করেছিল।
প্রশ্ন ১৮৪: ‘পদ্মাপুরাণ’ কোন মঙ্গলকাব্যের অপর নাম?
ক. চণ্ডীমঙ্গল
খ. মনসামঙ্গল
গ. ধর্মমঙ্গল
ঘ. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর: খ. মনসামঙ্গল
বিস্তারিত: মনসামঙ্গল কাব্যকে অনেক সময় ‘পদ্মপুরাণ’ নামেও অভিহিত করা হয়, কারণ এই কাব্যের কেন্দ্রীয় দেবী মনসা বা পদ্মা।
প্রশ্ন ১৮৫: ‘কবিকঙ্কন’ কার উপাধি ছিল?
ক. বিজয় গুপ্ত
খ. মুকুন্দ চক্রবর্তী
গ. ঘনরাম চক্রবর্তী
ঘ. কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ
সঠিক উত্তর: খ. মুকুন্দ চক্রবর্তী
বিস্তারিত: মুকুন্দ চক্রবর্তী তাঁর অসামান্য কাব্যপ্রতিভার জন্য ‘কবিকঙ্কন’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন।
প্রশ্ন ১৮৬: ‘চৈতন্যদেব’ কত খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
ক. ১৪৮৬ খ্রিস্টাব্দ
খ. ১৫৩৪ খ্রিস্টাব্দ
গ. ১৪৫৬ খ্রিস্টাব্দ
ঘ. ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর: ক. ১৪৮৬ খ্রিস্টাব্দ
বিস্তারিত: শ্রীচৈতন্যদেব ১৪৮৬ খ্রিস্টাব্দে নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রশ্ন ১৮৭: ‘আদি মধ্যযুগের’ সময়কাল কোনটি?
ক. ১২০১-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ
খ. ১৩৫১-১৫০০ খ্রিস্টাব্দ
গ. ১৫০১-১৬০০ খ্রিস্টাব্দ
ঘ. ১৬০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর: ক. ১২০১-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ
বিস্তারিত: বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম পর্যায়কে ‘আদি মধ্যযুগ’ বা প্রাক-চৈতন্য যুগ বলা হয়, যা সাধারণত ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত।
প্রশ্ন ১৮৮: ‘চৈতন্য যুগ’ বা ‘মধ্য-মধ্যযুগ’ কোন সময়কালকে বোঝায়?
ক. ১৪০০-১৫০০ খ্রিস্টাব্দ
খ. ১৫০১-১৭০০ খ্রিস্টাব্দ
গ. ১৬০০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ
ঘ. ১৪৮৬-১৫৩৩ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর: খ. ১৫০১-১৭০০ খ্রিস্টাব্দ
বিস্তারিত: শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাবের (১৪৮৬) পর থেকে তাঁর প্রভাব দ্বারা পুষ্ট সাহিত্যকে কেন্দ্র করে ১৫০১ থেকে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে ‘চৈতন্য যুগ’ বা ‘মধ্য-মধ্যযুগ’ বলা হয়।
প্রশ্ন ১৮৯: ‘অন্ত্য মধ্যযুগ’ বাংলা সাহিত্যের কোন সময়কাল পর্যন্ত বিস্তৃত?
ক. ১৬০০-১৭০০ খ্রিস্টাব্দ
খ. ১৭০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ
গ. ১৫০০-১৬০০ খ্রিস্টাব্দ
ঘ. ১৪০০-১৫০০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর: খ. ১৭০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ
বিস্তারিত: অষ্টাদশ শতাব্দী অর্থাৎ ১৭০১ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে ‘অন্ত্য মধ্যযুগ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
প্রশ্ন ১৯০: ‘সপ্তপয়কর’ কাব্যের রচয়িতা কে?
ক. দৌলত কাজী
খ. আলাওল
গ. সৈয়দ সুলতান
ঘ. মুহম্মদ কবির
সঠিক উত্তর: খ. আলাওল
বিস্তারিত: আলাওল ফারসি কবি নিজামীর ‘হফত পয়কর’ অবলম্বনে ‘সপ্তপয়কর’ কাব্যটি রচনা করেন।
প্রশ্ন ১৯১: ‘লাইলী-মজনু’ কাব্যের রচয়িতা কে?
ক. শাহ মুহম্মদ সগীর
খ. আলাওল
গ. দৌলত কাজী
ঘ. শেখ ফয়জুল্লাহ
সঠিক উত্তর: খ. আলাওল
বিস্তারিত: আলাওল তাঁর ‘লাইলী-মজনু’ কাব্যের জন্য পরিচিত, যা ফারসি কবি নিজামীর ‘লাইলী-মজনু’ অবলম্বনে রচিত। (এছাড়াও দৌলত উজির বাহরাম খান এই নামে কাব্য রচনা করেন, যা আলাওলের কাব্যের চেয়ে অধিক জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়।)
প্রশ্ন ১৯২: ‘সতী ময়না ও লোর-চন্দ্রানী’ কাব্যের রচয়িতা কে?
ক. আলাওল
খ. দৌলত কাজী
গ. শেখ ফয়জুল্লাহ
ঘ. সৈয়দ সুলতান
সঠিক উত্তর: খ. দৌলত কাজী
বিস্তারিত: দৌলত কাজী সপ্তদশ শতাব্দীর একজন রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান কাব্য ধারার কবি। তাঁর ‘সতী ময়না ও লোর-চন্দ্রানী’ কাব্যটি অসমাপ্ত ছিল এবং পরে আলাওল এটি সমাপ্ত করেন।
প্রশ্ন ১৯৩: ‘ধর্মমঙ্গল’ কাব্যের একজন উল্লেখযোগ্য কবি কে?
ক. বিজয় গুপ্ত
খ. কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ
গ. ঘনরাম চক্রবর্তী
ঘ. ভারতচন্দ্র রায়
সঠিক উত্তর: গ. ঘনরাম চক্রবর্তী
বিস্তারিত: ঘনরাম চক্রবর্তী তাঁর ‘ধর্মমঙ্গল’ কাব্যের জন্য বিখ্যাত, যা ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য বর্ণনা করে।
প্রশ্ন ১৯৪: ‘শ্যামাসংগীত’ মূলত কোন ধারার গান?
ক. বৈষ্ণব পদাবলি
খ. শাক্ত পদাবলি
গ. মঙ্গলকাব্য
ঘ. নাথসাহিত্য
সঠিক উত্তর: খ. শাক্ত পদাবলি
বিস্তারিত: শ্যামাসংগীত হলো দেবী কালীর প্রতি ভক্তিমূলক গান, যা শাক্ত পদাবলির প্রধান অংশ।
প্রশ্ন ১৯৫: ‘বৃন্দাবনের ষড়গোস্বামী’গণ কোন ধর্মতত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন?
ক. শৈব ধর্মতত্ত্ব
খ. শাক্ত ধর্মতত্ত্ব
গ. বৈষ্ণব ধর্মতত্ত্ব
ঘ. বৌদ্ধ ধর্মতত্ত্ব
সঠিক উত্তর: গ. বৈষ্ণব ধর্মতত্ত্ব
বিস্তারিত: বৃন্দাবনের ষড়গোস্বামীরা ছিলেন চৈতন্যদেবের সাক্ষাৎ শিষ্য এবং বৈষ্ণব ধর্মতত্ত্ব ও দর্শনের প্রধান রূপকার।
প্রশ্ন ১৯৬: ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের রচয়িতা কে?
ক. মুকুন্দ চক্রবর্তী
খ. ভারতচন্দ্র রায়
গ. রামপ্রসাদ সেন
ঘ. বিজয় গুপ্ত
সঠিক উত্তর: খ. ভারতচন্দ্র রায়
বিস্তারিত: ভারতচন্দ্র রায় রচিত ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যটি বিদ্যাসুন্দর উপাখ্যানের জন্য বিখ্যাত।
প্রশ্ন ১৯৭: ‘চৈতন্য জীবনী কাব্য’ কোন ধর্মীয় আন্দোলনের ফলশ্রুতি?
ক. শাক্ত আন্দোলন
খ. নাথ আন্দোলন
গ. চৈতন্য আন্দোলন
ঘ. সুফি আন্দোলন
সঠিক উত্তর: গ. চৈতন্য আন্দোলন
বিস্তারিত: চৈতন্যদেবের ভক্তি আন্দোলন তাঁর জীবন ও অলৌকিক লীলা বর্ণনা করে অসংখ্য জীবনী কাব্য রচনার অনুপ্রেরণা যোগায়।
প্রশ্ন ১৯৮: ‘কবিগান’ কোন সময়ের জনপ্রিয় লোকসাহিত্য ধারা?
ক. প্রাচীন যুগ
খ. মধ্যযুগের শেষ ভাগ ও আধুনিক যুগের সূচনা
গ. আধুনিক যুগ
ঘ. শুধু প্রাচীন যুগ
সঠিক উত্তর: খ. মধ্যযুগের শেষ ভাগ ও আধুনিক যুগের সূচনা
বিস্তারিত: কবিগান অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে অর্থাৎ মধ্যযুগের শেষ ভাগ থেকে আধুনিক যুগের শুরুতে বেশ জনপ্রিয় ছিল।
প্রশ্ন ১৯৯: ‘পুঁথি সাহিত্য’ বলতে কী বোঝায়?
ক. ছাপাখানার মাধ্যমে প্রকাশিত সাহিত্য
খ. হাতে লেখা কাব্য ও আখ্যান
গ. নাটক ও উপন্যাস
ঘ. লোককথা ও রূপকথা
সঠিক উত্তর: খ. হাতে লেখা কাব্য ও আখ্যান
বিস্তারিত: মধ্যযুগে ছাপাখানার অভাবে সাহিত্যকর্মগুলি হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি আকারে প্রচারিত হতো, যা ‘পুঁথি সাহিত্য’ নামে পরিচিত।
প্রশ্ন ২০০: ‘ব্রজবুলি’ ভাষার একজন শ্রেষ্ঠ কবির নাম কী?
ক. চণ্ডীদাস
খ. জ্ঞানদাস
গ. বিদ্যাপতি
ঘ. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর: গ. বিদ্যাপতি
বিস্তারিত: বিদ্যাপতি ছিলেন ব্রজবুলি ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর পদগুলি এই ভাষার মাধুর্য ও কাব্যগুণকে পরিপূর্ণতা দিয়েছে।
প্রশ্ন ২০১: ‘নাগরিক রুচি’ এবং ‘আধুনিকতার ইঙ্গিত’ কোন কবির রচনায় দেখা যায়?
ক. মুকুন্দ চক্রবর্তী
খ. ভারতচন্দ্র রায়
গ. রামপ্রসাদ সেন
ঘ. আলাওল
সঠিক উত্তর: খ. ভারতচন্দ্র রায়
বিস্তারিত: ভারতচন্দ্র রায়ের কাব্যে নাগরিক জীবন, বিদগ্ধতা এবং নতুন এক রীতির আভাস পাওয়া যায়, যা তাঁকে মধ্যযুগের শেষ প্রান্তে আধুনিকতার দিশারী করে তোলে।
প্রশ্ন ২০২: বাংলা সাহিত্যে ‘অন্ধকার যুগ’ কত সাল থেকে কত সাল পর্যন্ত বিস্তৃত?
ক. ১২০০-১৩০০ সাল
খ. ১২০১-১৩৫০ সাল
গ. ১৪০০-১৫০০ সাল
ঘ. ১৫০০-১৬০০ সাল
সঠিক উত্তর: খ. ১২০১-১৩৫০ সাল
বিস্তারিত: ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজীর বাংলা বিজয়ের পর থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় দেড়শ বছরের সাহিত্যিক শূন্যতাকে ‘অন্ধকার যুগ’ বা ‘ক্রান্তিকাল’ বলা হয়।
প্রশ্ন ২০৩: ‘নাথ গুরু’দের প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
ক. রাজ্য বিস্তার
খ. আধ্যাত্মিক সাধনা ও অমরত্ব লাভ
গ. দেব-দেবীর পূজা প্রচার
ঘ. সামাজিক সংস্কার
সঠিক উত্তর: খ. আধ্যাত্মিক সাধনা ও অমরত্ব লাভ
বিস্তারিত: নাথগুরুরা যোগসাধনার মাধ্যমে দেহকে সুদৃঢ় করে অলৌকিক ক্ষমতা অর্জন এবং অমরত্ব লাভের চেষ্টা করতেন।
প্রশ্ন ২০৪: ‘চণ্ডীদাস’ কোন পদাবলির জন্য বিখ্যাত?
ক. শাক্ত পদাবলি
খ. বৈষ্ণব পদাবলি
গ. মঙ্গলকাব্য
ঘ. নাথসাহিত্য
সঠিক উত্তর: খ. বৈষ্ণব পদাবলি
বিস্তারিত: চণ্ডীদাস ছিলেন একজন বিখ্যাত বৈষ্ণব পদকর্তা, যাঁর পদাবলিতে রাধা-কৃষ্ণের প্রেম এবং মানবপ্রেমের গভীরতা ফুটে উঠেছে।
প্রশ্ন ২০৫: ‘দোভাষী পুঁথি’ রচনার উদ্দেশ্য কী ছিল?
ক. শিক্ষিত সমাজের জন্য সাহিত্য সৃষ্টি
খ. ফারসি ভাষার প্রচলন
গ. মুসলমান সমাজের মধ্যে ধর্মীয় ও লৌকিক কাহিনি প্রচার
ঘ. বিদেশি সাহিত্যের অনুবাদ
সঠিক উত্তর: গ. মুসলমান সমাজের মধ্যে ধর্মীয় ও লৌকিক কাহিনি প্রচার
বিস্তারিত: দোভাষী পুঁথিগুলি সহজবোধ্য ভাষায় (আরবি-ফারসি মিশ্রিত বাংলা) রচিত হওয়ায় মুসলিম সমাজের মধ্যে ধর্মীয় ও লৌকিক আখ্যানগুলি প্রচার করা সহজ হয়েছিল।
প্রশ্ন ২০৬: ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের প্রধান চরিত্র কয়টি?
ক. দুইটি
খ. তিনটি
গ. চারটি
ঘ. পাঁচটি
সঠিক উত্তর: খ. তিনটি
বিস্তারিত: ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি: রাধা, কৃষ্ণ এবং বড়াই।
প্রশ্ন ২০৭: ‘ধর্মমঙ্গল’ কাব্যের অন্যতম জনপ্রিয় আখ্যান কোনটি?
ক. বেহুলা-লখিন্দর
খ. কালকেতু-ফুল্লরা
গ. লাউসেনের কাহিনি
ঘ. বিদ্যাসুন্দর
সঠিক উত্তর: গ. লাউসেনের কাহিনি
বিস্তারিত: ‘ধর্মমঙ্গল’ কাব্যের কেন্দ্রীয় চরিত্র লাউসেন, যিনি ধর্মঠাকুরের কৃপা লাভ করে নানা অলৌকিক কর্ম সাধন করেন।
প্রশ্ন ২০৮: ‘চৈতন্য জীবনী কাব্য’ কোন ধারার অন্তর্ভুক্ত?
ক. মহাকাব্য
খ. আখ্যান কাব্য
গ. জীবনী সাহিত্য
ঘ. লোকসাহিত্য
সঠিক উত্তর: গ. জীবনী সাহিত্য
বিস্তারিত: চৈতন্যদেবের জীবনকে কেন্দ্র করে রচিত কাব্যগুলি বাংলা সাহিত্যের ‘জীবনী সাহিত্য’ ধারার জন্ম দিয়েছে।
প্রশ্ন ২০৯: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একটি প্রধান উৎস কী ছিল?
ক. ইউরোপীয় সাহিত্য
খ. ভারতীয় পুরাণ ও মহাকাব্য
গ. সুফি সাহিত্য
ঘ. গ্রিক সাহিত্য
সঠিক উত্তর: খ. ভারতীয় পুরাণ ও মহাকাব্য
বিস্তারিত: মধ্যযুগের অনেক কাব্যই রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ এবং অন্যান্য ভারতীয় শাস্ত্র থেকে বিষয়বস্তু গ্রহণ করেছিল।
প্রশ্ন ২১০: ‘শাক্ত পদাবলি’তে কার প্রতি ভক্তি প্রকাশ করা হয়?
ক. শিব
খ. কৃষ্ণ
গ. দেবী (কালী/দুর্গা)
ঘ. রাম
সঠিক উত্তর: গ. দেবী (কালী/দুর্গা)
বিস্তারিত: শাক্ত পদাবলি মূলত শক্তি স্বরূপিনী দেবী কালী বা দুর্গার প্রতি ভক্তিমূলক আরাধনা।
প্রশ্ন ২১১: ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের বিষয়বস্তু কী?
ক. দেব-দেবীর মাহাত্ম্য
খ. ঐতিহাসিক যুদ্ধ
গ. রূপকথার মতো প্রেমকাহিনি
ঘ. সামাজিক বিদ্রুপ
সঠিক উত্তর: গ. রূপকথার মতো প্রেমকাহিনি
বিস্তারিত: আলাওল রচিত ‘পদ্মাবতী’ রাজা রত্নসেন ও সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীর প্রেমকাহিনি নিয়ে রচিত একটি রোমান্টিক আখ্যান।
প্রশ্ন ২১২: ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্যের রচয়িতা জয়দেব কোন ভাষায় লিখতেন?
ক. বাংলা
খ. সংস্কৃত
গ. মৈথিলী
ঘ. পালি
সঠিক উত্তর: খ. সংস্কৃত
বিস্তারিত: জয়দেব দ্বাদশ শতাব্দীর একজন সংস্কৃত কবি। তাঁর ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্য রাধা-কৃষ্ণের লীলা বর্ণনার জন্য বিখ্যাত।
প্রশ্ন ২১৩: ‘মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শেষ প্রান্তে’ কোন ধারার বিকাশ ঘটে?
ক. চর্যাপদ
খ. মঙ্গলকাব্য
গ. জীবনী কাব্য
ঘ. কবিগান ও শাক্ত পদাবলি
সঠিক উত্তর: ঘ. কবিগান ও শাক্ত পদাবলি
বিস্তারিত: মধ্যযুগের শেষ দিকে (অষ্টাদশ শতাব্দী) কবিগান এবং রামপ্রসাদ সেন, কমলাকান্ত ভট্টাচার্যের মতো কবিদের হাত ধরে শাক্ত পদাবলি বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করে।
প্রশ্ন ২১৪: ‘বিজয় গুপ্ত’ কোন মঙ্গলকাব্যের কবি?
ক. চণ্ডীমঙ্গল
খ. মনসামঙ্গল
গ. ধর্মমঙ্গল
ঘ. শিবমঙ্গল
সঠিক উত্তর: খ. মনসামঙ্গল
বিস্তারিত: বিজয় গুপ্ত মনসামঙ্গল কাব্যের একজন প্রধান কবি। তাঁর ‘পদ্মপুরাণ’ মনসাদেবীর মাহাত্ম্য বর্ণনা করে।
প্রশ্ন ২১৫: ‘কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ’ কোন মঙ্গলকাব্যের কবি?
ক. চণ্ডীমঙ্গল
খ. মনসামঙ্গল
গ. ধর্মমঙ্গল
ঘ. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর: খ. মনসামঙ্গল
বিস্তারিত: কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ তাঁর ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যের জন্য পরিচিত, যা ‘ক্ষেমানন্দী মনসামঙ্গল’ নামেও পরিচিত।
প্রশ্ন ২১৬: ‘জ্ঞানদাস’ ও ‘গোবিন্দদাস’ কোন ধারার কবি?
ক. শাক্ত পদাবলি
খ. বৈষ্ণব পদাবলি
গ. মঙ্গলকাব্য
ঘ. নাথসাহিত্য
সঠিক উত্তর: খ. বৈষ্ণব পদাবলি
বিস্তারিত: জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাস উভয়ই চৈতন্য-পরবর্তী যুগের বিখ্যাত বৈষ্ণব পদকর্তা।
প্রশ্ন ২১৭: ‘বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন’ কোনটি?
ক. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
খ. চর্যাপদ
গ. শূন্যপুরাণ
ঘ. ইউসুফ-জোলেখা
সঠিক উত্তর: খ. চর্যাপদ
বিস্তারিত: চর্যাপদ হলো বাংলা ভাষার প্রাচীনতম সাহিত্য নিদর্শন, যা দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
প্রশ্ন ২১৮: ‘বড়ু চণ্ডীদাস’ কোন কাব্যের রচয়িতা?
ক. বৈষ্ণব পদাবলি
খ. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
গ. চণ্ডীমঙ্গল
ঘ. রামায়ণ
সঠিক উত্তর: খ. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
বিস্তারিত: বড়ু চণ্ডীদাস চতুর্দশ শতাব্দীর একজন কবি এবং ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের রচয়িতা।
প্রশ্ন ২১৯: ‘বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ’ কত বছর স্থায়ী হয়েছিল?
ক. প্রায় ৫০ বছর
খ. প্রায় ১০০ বছর
গ. প্রায় ১৫০-২০০ বছর
ঘ. প্রায় ২৫০ বছর
সঠিক উত্তর: গ. প্রায় ১৫০-২০০ বছর
বিস্তারিত: ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময় বাংলা সাহিত্যের তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য নিদর্শন পাওয়া যায় না, তাই এটি প্রায় ১৫০-২০০ বছর স্থায়ী ছিল।
প্রশ্ন ২২০: ‘কৃত্তিবাস ওঝা’ কোন শতকের কবি?
ক. চতুর্দশ শতক
খ. পঞ্চদশ শতক
গ. ষোড়শ শতক
ঘ. সপ্তদশ শতক
সঠিক উত্তর: খ. পঞ্চদশ শতক
বিস্তারিত: কৃত্তিবাস ওঝা পঞ্চদশ শতাব্দীর একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি, যিনি কৃত্তিবাসী রামায়ণ রচনা করেন।
প্রশ্ন ২২১: ‘মালাধর বসু’ কোন উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন?
ক. গুণরাজ খান
খ. কবিকঙ্কন
গ. রায়গুণাকর
ঘ. কবিশেখর
সঠিক উত্তর: ক. গুণরাজ খান
বিস্তারিত: সুলতান রুকনুদ্দিন বারবক শাহ মালাধর বসুকে তাঁর ‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’ কাব্যের জন্য ‘গুণরাজ খান’ উপাধি দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন ২২২: ‘শূন্যপুরাণ’ কাব্যের রচয়িতা ‘রামাই পণ্ডিত’ কোন দেবতাকে নিয়ে লিখেছিলেন?
ক. শিব
খ. কৃষ্ণ
গ. ধর্মঠাকুর
ঘ. মনসা
সঠিক উত্তর: গ. ধর্মঠাকুর
বিস্তারিত: রামাই পণ্ডিত রচিত ‘শূন্যপুরাণ’ ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য বর্ণনা করে।
প্রশ্ন ২২৩: ‘আরাকান রাজসভা’র একজন প্রধান বাঙালি কবি কে ছিলেন?
ক. ভারতচন্দ্র রায়
খ. রামপ্রসাদ সেন
গ. আলাওল
ঘ. কৃত্তিবাস ওঝা
সঠিক উত্তর: গ. আলাওল
বিস্তারিত: আলাওল এবং দৌলত কাজী আরাকান রাজসভার দুজন উল্লেখযোগ্য বাঙালি কবি ছিলেন।
প্রশ্ন ২২৪: ‘মধুমালতী’ কাব্যের রচয়িতা কে?
ক. দৌলত কাজী
খ. আলাওল
গ. মুহম্মদ কবির
ঘ. সৈয়দ সুলতান
সঠিক উত্তর: গ. মুহম্মদ কবির
বিস্তারিত: মুহম্মদ কবির রচিত ‘মধুমালতী’ একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান কাব্য।
প্রশ্ন ২২৫: ‘চৈতন্যদেবের জীবন ও দর্শন’ নিয়ে রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্য কোনটি?
ক. চৈতন্যভাগবত
খ. চৈতন্যমঙ্গল
গ. চৈতন্যচরিতামৃত
ঘ. চৈতন্যলীলা
সঠিক উত্তর: গ. চৈতন্যচরিতামৃত
বিস্তারিত: কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত ‘চৈতন্যচরিতামৃত’ চৈতন্যদেবের জীবনীর পাশাপাশি তাঁর গভীর দার্শনিক তত্ত্বকেও তুলে ধরে।
প্রশ্ন ২২৬: ‘শাক্ত পদাবলি’তে কার প্রতি ভক্তি ও আরাধনা প্রকাশ করা হয়?
ক. বিষ্ণু
খ. শিব
গ. দেবী কালী/দুর্গা
ঘ. রাধা-কৃষ্ণ
সঠিক উত্তর: গ. দেবী কালী/দুর্গা
বিস্তারিত: শাক্ত পদাবলি মূলত হিন্দু দেবীর শক্তি রূপ, বিশেষত কালী ও দুর্গার প্রতি নিবেদিত গান।
প্রশ্ন ২২৭: ‘মধ্যযুগের শেষ কবি’ হিসেবে কাকে ধরা হয়?
ক. রামপ্রসাদ সেন
খ. ভারতচন্দ্র রায়
গ. আলাওল
ঘ. মুকুন্দ চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর: খ. ভারতচন্দ্র রায়
বিস্তারিত: ভারতচন্দ্র রায় অষ্টাদশ শতাব্দীর কবি। তাঁর কাব্যে আধুনিকতার ছাপ থাকায় তাঁকে মধ্যযুগের শেষ কবি হিসেবে গণ্য করা হয়।
প্রশ্ন ২২৮: ‘পদাবলী সাহিত্য’ কোন যুগে চরম উৎকর্ষ লাভ করে?
ক. প্রাচীন যুগ
খ. চৈতন্য যুগ
গ. মধ্যযুগের শেষ ভাগ
ঘ. আধুনিক যুগ
সঠিক উত্তর: খ. চৈতন্য যুগ
বিস্তারিত: চৈতন্যদেবের আবির্ভাবের পর তাঁর ভক্তি আন্দোলনের প্রভাবে বৈষ্ণব পদাবলী সাহিত্য চরম উৎকর্ষ লাভ করে।
প্রশ্ন ২২৯: ‘নবদ্বীপ’ কোন ধর্মীয় আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল?
ক. শৈব আন্দোলন
খ. শাক্ত আন্দোলন
গ. বৈষ্ণব আন্দোলন (চৈতন্যদেবের)
ঘ. নাথ আন্দোলন
সঠিক উত্তর: গ. বৈষ্ণব আন্দোলন (চৈতন্যদেবের)
বিস্তারিত: নবদ্বীপ ছিল শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মস্থান এবং তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বৈষ্ণব ভক্তি আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র।
প্রশ্ন ২৩০: ‘কবিকঙ্কন’ উপাধিটি কার ছিল?
ক. বিজয় গুপ্ত
খ. মুকুন্দ চক্রবর্তী
গ. ঘনরাম চক্রবর্তী
ঘ. ভারতচন্দ্র রায়
সঠিক উত্তর: খ. মুকুন্দ চক্রবর্তী
বিস্তারিত: মুকুন্দ চক্রবর্তী তাঁর কাব্যপ্রতিভার জন্য ‘কবিকঙ্কন’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন।
wb slst bengali mock test
আপনি কি WB SSC SLSTএর পরিক্ষার্থী ssc slst bengali syllabus দেখেছেন তাহলে slst bengali practice set দেখুন এবং slst bengali question paper গুলো কেমন হবে ভাবুন তাই slst bengali notes তৈরি করুন এবূং slst bengali mock test দিন slst bengali question গুলো ভালো ভাবে Details এ পড়ুন wb slst bengali mock test Practice করুন