একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি – বাংলা ভাষা ও শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির ইতিহাস
প্রশ্ন ১: বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে কোন ভাষা থেকে?
ক) পালি
খ) সংস্কৃত
গ) প্রাকৃত
ঘ) অপভ্রংশ
উত্তর: ঘ) অপভ্রংশ
ব্যাখ্যা: ভারতীয় আর্য ভাষার বিবর্তনের ধারায় অপভ্রংশ থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে।
প্রশ্ন ২: ‘মাগধী প্রাকৃত’ থেকে কোন ভাষার জন্ম হয়েছে?
ক) হিন্দি
খ) মারাঠি
গ) বাংলা
ঘ) গুজরাটি
উত্তর: গ) বাংলা
ব্যাখ্যা: গবেষকদের মতে, মাগধী প্রাকৃতের পূর্বী অপভ্রংশ থেকে বাংলা ভাষার উদ্ভব।
প্রশ্ন ৩: সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা ভাষার আদি পর্বের সময়কাল কোনটি?
ক) ৯০০-১১০০ খ্রিস্টাব্দ
খ) ১০০০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
গ) ১২০০-১৪০০ খ্রিস্টাব্দ
ঘ) ১৪০০-১৬০০ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর: খ) ১০০০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা: সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা ভাষার উদ্ভবকালকে তিনটি পর্বে ভাগ করেছেন – আদি পর্ব (১০০০-১২০০), মধ্য পর্ব (১২০০-১৮০০) এবং আধুনিক পর্ব (১৮০০-বর্তমান)।
প্রশ্ন ৪: বাংলা ভাষার উপভাষা কয়টি?
ক) দুটি
খ) তিনটি
গ) চারটি
ঘ) পাঁচটি
উত্তর: গ) চারটি
ব্যাখ্যা: বাংলা ভাষার প্রধান উপভাষাগুলি হলো – রাঢ়ি, বঙ্গালি, বরেন্দ্রী ও ঝাড়খণ্ডী। এর বাইরেও আরও কিছু আঞ্চলিক উপভাষা আছে। (উল্লেখ্য, অনেক ভাষাবিদ পাঁচটি প্রধান উপভাষা (রাঢ়ী, বঙ্গালী, বরেন্দ্রী, ঝাড়খণ্ডী, কামরূপী) উল্লেখ করেন। প্রদত্ত উত্তরে ৪টি প্রধান উপভাষা ধরা হয়েছে, যা একটি প্রচলিত মত)।
প্রশ্ন ৫: চলিত গদ্যের মূল ভিত্তি কোন উপভাষা?
ক) রাঢ়ি
খ) বঙ্গালি
গ) বরেন্দ্রী
ঘ) কামরূপী
উত্তর: ক) রাঢ়ি
ব্যাখ্যা: কলকাতা ও তার আশেপাশের অঞ্চলের রাঢ়ি উপভাষার ওপর ভিত্তি করে আধুনিক চলিত গদ্য বিকশিত হয়েছে।
প্রশ্ন ৬: বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন কোনটি?
ক) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
খ) চর্যাপদ
গ) মঙ্গলকাব্য
ঘ) বৈষ্ণব পদাবলী
উত্তর: খ) চর্যাপদ
ব্যাখ্যা: ১৯০৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন, যা বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম লিখিত নিদর্শন।
প্রশ্ন ৭: চর্যাপদের ভাষা কী নামে পরিচিত?
ক) সন্ধ্যা ভাষা
খ) প্রাচীন বাংলা
গ) অবহট্ঠ
ঘ) পালি
উত্তর: ক) সন্ধ্যা ভাষা
ব্যাখ্যা: চর্যাপদের ভাষা দ্ব্যর্থক, যার এক অর্থ লোকসাধারণের বোধগম্য এবং অন্য অর্থ সাধনতত্ত্বের নিগূঢ় অর্থযুক্ত। তাই এটি সন্ধ্যা ভাষা নামে পরিচিত।
প্রশ্ন ৮: ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যটি কে রচনা করেন?
ক) চণ্ডীদাস
খ) জয়দেব
গ) বিদ্যাপতি
ঘ) জ্ঞানদাস
উত্তর: ক) চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা: বড়ু চণ্ডীদাস ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্য রচনা করেন। বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ ১৯০৯ সালে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রামের এক গোয়ালঘর থেকে এই কাব্যটি আবিষ্কার করেন। (প্রশ্নে বঙ্কিমচন্দ্র উল্লিখিত ছিল, যা সঠিক নয়)।
প্রশ্ন ৯: মঙ্গলকাব্য প্রধানত কোন দেবদেবীর মাহাত্ম্য প্রচার করে?
ক) শিব ও দুর্গা
খ) বিষ্ণু ও লক্ষ্মী
গ) লৌকিক দেবদেবী
ঘ) রাম ও সীতা
উত্তর: গ) লৌকিক দেবদেবী
ব্যাখ্যা: মঙ্গলকাব্যগুলি প্রধানত মনসা, চণ্ডী, ধর্মঠাকুর ইত্যাদির মতো লৌকিক দেবদেবীর মাহাত্ম্য বর্ণনা করে রচিত।
প্রশ্ন ১০: ‘চৈতন্যভাগবত’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
ক) কৃষ্ণদাস কবিরাজ
খ) বৃন্দাবন দাস
গ) লোচন দাস
ঘ) নরহরি সরকার
উত্তর: খ) বৃন্দাবন দাস
ব্যাখ্যা: বৃন্দাবন দাসকে ‘চৈতন্যলীলার ব্যাস’ বলা হয়। তিনি ‘চৈতন্যভাগবত’ রচনা করেন।
প্রশ্ন ১১: আধুনিক বাংলা উপন্যাসের জনক কে?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ঘ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘দুর্গেশনন্দিনী’ উপন্যাসের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে উপন্যাসের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন।
প্রশ্ন ১২: বাংলা নাটকের প্রথম সার্থক রূপকার কে?
ক) মধুসূদন দত্ত
খ) দীনবন্ধু মিত্র
গ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর: ক) মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা: মাইকেল মধুসূদন দত্ত ‘শর্মিষ্ঠা’ (১৮৫৯) নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাটকের সার্থক সূত্রপাত ঘটান।
প্রশ্ন ১৩: ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: বঙ্কিমচন্দ্রের বিখ্যাত রোমান্টিক উপন্যাসগুলির মধ্যে এটি অন্যতম।
প্রশ্ন ১৪: ‘নীলদর্পণ’ নাটকটি কার লেখা?
ক) মধুসূদন দত্ত
খ) দীনবন্ধু মিত্র
গ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ঘ) জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর: খ) দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা: দীনবন্ধু মিত্রের এই নাটকটি নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবাদী রচনা।
প্রশ্ন ১৫: বাংলা সাহিত্যে ‘কাব্যগুরু’ নামে কে পরিচিত?
ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
ঘ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর: খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা: তাঁর বিপুল কাব্য সম্ভারের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কাব্যগুরু বলা হয়।
প্রশ্ন ১৬: পটশিল্প বাংলার কোন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শিল্প?
ক) রাঢ় অঞ্চল
খ) সুন্দরবন অঞ্চল
গ) মেদিনীপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল
ঘ) উত্তরবঙ্গ
উত্তর: গ) মেদিনীপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল
ব্যাখ্যা: পটশিল্প মূলত মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বীরভূম প্রভৃতি অঞ্চলের এক প্রাচীন লোকশিল্প।
প্রশ্ন ১৭: ‘যামিনী রায়’ কোন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত?
ক) সঙ্গীত
খ) চিত্রকলা
গ) নৃত্য
ঘ) ভাস্কর্য
উত্তর: খ) চিত্রকলা
ব্যাখ্যা: যামিনী রায় ছিলেন একজন বিখ্যাত ভারতীয় চিত্রশিল্পী, যিনি লোকশিল্পের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নিজস্ব একটি শৈলী গড়ে তুলেছিলেন।
প্রশ্ন ১৮: বাংলার কোন লোকনৃত্যটি মুখোশ পরে পরিবেশিত হয়?
ক) ছৌ নাচ
খ) গম্ভীরা
গ) রায়বেঁশে
ঘ) টুসু
উত্তর: ক) ছৌ নাচ
ব্যাখ্যা: ছৌ নাচ মূলত পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর প্রভৃতি অঞ্চলে প্রচলিত এক পুরুষপ্রধান নৃত্যশৈলী, যেখানে নৃত্যশিল্পীরা মুখোশ পরিধান করে।
প্রশ্ন ১৯: বাংলা চলচ্চিত্রের জনক কে?
ক) সত্যজিৎ রায়
খ) ঋত্বিক ঘটক
গ) হীরালাল সেন
ঘ) বিমল রায়
উত্তর: গ) হীরালাল সেন
ব্যাখ্যা: হীরালাল সেনকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম পথিকৃৎ এবং বাংলা চলচ্চিত্রের জনক বলা হয়।
প্রশ্ন ২০: ‘পথের পাঁচালী’ চলচ্চিত্রটির পরিচালক কে?
ক) মৃণাল সেন
খ) ঋত্বিক ঘটক
গ) সত্যজিৎ রায়
ঘ) তপন সিংহ
উত্তর: গ) সত্যজিৎ রায়
ব্যাখ্যা: সত্যজিৎ রায়ের এই চলচ্চিত্রটি বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত প্রশংসিত এবং বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক মাইলফলক।
প্রশ্ন ২১: বাংলা সাহিত্যের ‘মধ্যযুগের’ সময়কাল কোনটি?
ক) ১০০০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
খ) ১২০০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ
গ) ১৮০০-বর্তমান
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: খ) ১২০০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয় – প্রাচীন যুগ (৯৫০/১০০০-১২০০), মধ্যযুগ (১২০০-১৮০০) এবং আধুনিক যুগ (১৮০০-বর্তমান)।
প্রশ্ন ২২: ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের রচয়িতা কে?
ক) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
খ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
গ) বিজয়গুপ্ত
ঘ) কৃত্তিবাস ওঝা
উত্তর: ক) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা: ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কবিদের মধ্যে অন্যতম, তাঁর এই কাব্যটি ছিল রাজ পৃষ্ঠপোষকতায় রচিত।
প্রশ্ন ২৩: বাংলা গদ্যের বিকাশে কার ভূমিকা অনস্বীকার্য?
ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
খ) রামমোহন রায়
গ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর: ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর সহজ, সরল ও সুবিন্যস্ত গদ্যশৈলীর মাধ্যমে বাংলা গদ্যকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করান।
প্রশ্ন ২৪: বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য কোনটি?
ক) মেঘনাদবধ কাব্য
খ) বীরাঙ্গনা কাব্য
গ) ব্রজাঙ্গনা কাব্য
ঘ) তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
উত্তর: ক) মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ (১৮৬১) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য।
প্রশ্ন ২৫: ‘চোখের বালি’ উপন্যাসটি কার লেখা?
ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ঘ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাসগুলির মধ্যে এটি একটি, যা বাংলা উপন্যাসের ধারায় এক নতুন মাত্রা যোগ করে।
প্রশ্ন ২৬: ‘সবুজপত্র’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) প্রমথ চৌধুরী
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর: খ) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা: ‘সবুজপত্র’ পত্রিকাটি বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষার প্রচলনে এবং নতুন চিন্তাধারার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রশ্ন ২৭: ‘ধূমকেতু’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর: খ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা: কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর এই পত্রিকার মাধ্যমে বিদ্রোহ ও সাম্যের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন ২৮: বাংলা ভাষার প্রথম মহিলা কবি কে?
ক) চন্দ্রাবতী
খ) মীরাবাঈ
গ) সুলতানা রাজিয়া
ঘ) লীলা মজুমদার
উত্তর: ক) চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা: চন্দ্রাবতী ছিলেন মধ্যযুগের একজন গুরুত্বপূর্ণ মহিলা কবি, যিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি হিসেবে পরিচিত।
প্রশ্ন ২৯: ‘কথাসাহিত্যিক’ হিসেবে কে বিশেষভাবে পরিচিত?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ঘ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর সামাজিক উপন্যাস ও ছোটগল্পের জন্য ‘কথাসাহিত্যিক’ হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
প্রশ্ন ৩০: ‘বাংলা নবজাগরণ’-এর অন্যতম পথিকৃৎ কে ছিলেন?
ক) রামমোহন রায়
খ) বিদ্যাসাগর
গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঘ) স্বামী বিবেকানন্দ
উত্তর: ক) রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা: রাজা রামমোহন রায়কে ‘বাংলা নবজাগরণের জনক’ বলা হয়, কারণ তিনি সমাজ সংস্কার, শিক্ষা ও সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।
প্রশ্ন ৩১: ভারতীয় আর্য ভাষার প্রাচীনতম রূপ কোনটি?
ক) পালি
খ) প্রাকৃত
গ) বৈদিক সংস্কৃত
ঘ) অপভ্রংশ
উত্তর: গ) বৈদিক সংস্কৃত
ব্যাখ্যা: ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের ভারতীয় আর্য শাখার প্রাচীনতম লিখিত রূপ হলো বৈদিক সংস্কৃত, যা বেদে ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রশ্ন ৩২: বাংলা লিপির উৎস কোন লিপি?
ক) দেবনাগরী লিপি
খ) খরোষ্ঠী লিপি
গ) ব্রাহ্মী লিপি
ঘ) ফরাসি লিপি
উত্তর: গ) ব্রাহ্মী লিপি
ব্যাখ্যা: বাংলা লিপি প্রাচীন ব্রাহ্মী লিপির পূর্বী শাখার বিবর্তিত রূপ।
প্রশ্ন ৩৩: বাংলা স্বরবর্ণের সংখ্যা কয়টি?
ক) ৯টি
খ) ১০টি
গ) ১১টি
ঘ) ১২টি
উত্তর: গ) ১১টি
ব্যাখ্যা: বাংলা বর্ণমালায় মোট ১১টি স্বরবর্ণ আছে (অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ)।
প্রশ্ন ৩৪: বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা কয়টি?
ক) ৩৫টি
খ) ৩৯টি
গ) ৪০টি
ঘ) ৪২টি
উত্তর: খ) ৩৯টি
ব্যাখ্যা: বাংলা বর্ণমালায় মোট ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ আছে (ক থেকে হ পর্যন্ত, ড়, ঢ়, য়, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
প্রশ্ন ৩৫: বাংলা ভাষার সাধু রীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
ক) তৎসম শব্দের বাহুল্য
খ) তদ্ভব শব্দের ব্যবহার
গ) আঞ্চলিক শব্দের ব্যবহার
ঘ) বিদেশি শব্দের ব্যবহার
উত্তর: ক) তৎসম শব্দের বাহুল্য
ব্যাখ্যা: সাধু রীতিতে সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের ব্যবহার বেশি এবং ক্রিয়াপদের পূর্ণাঙ্গ রূপ ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন ৩৬: ‘শূন্যপুরাণ’ গ্রন্থটি কার লেখা?
ক) রামাই পণ্ডিত
খ) ময়ূরভট্ট
গ) কাহ্নপা
ঘ) লুইপা
উত্তর: ক) রামাই পণ্ডিত
ব্যাখ্যা: ‘শূন্যপুরাণ’ হলো ধর্মমঙ্গল কাব্যের একটি অংশ বিশেষ, যা ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য বর্ণনা করে।
প্রশ্ন ৩৭: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ‘অন্ধকার যুগ’ বলতে কোন সময়কালকে বোঝানো হয়?
ক) ৯০০-১১০০ খ্রিস্টাব্দ
খ) ১২০০-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ
গ) ১৩৫০-১৫০০ খ্রিস্টাব্দ
ঘ) ১৫০০-১৬৫০ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর: খ) ১২০০-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা: তুর্কি আক্রমণের ফলে বাংলা সাহিত্যের এই সময়ে উল্লেখযোগ্য কোনো নিদর্শন পাওয়া যায় না, তাই এই সময়কে অন্ধকার যুগ বলা হয়।
প্রশ্ন ৩৮: ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যের আদি কবি কে ছিলেন?
ক) কানাহরি দত্ত
খ) বিজয়গুপ্ত
গ) নারায়ণদেব
ঘ) কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ
উত্তর: ক) কানাহরি দত্ত
ব্যাখ্যা: মনসামঙ্গল কাব্যের প্রাচীনতম কবি হিসেবে কানাহরি দত্তের নাম পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ৩৯: ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি কে?
ক) দ্বিজ মাধব
খ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
গ) ঘনরাম চক্রবর্তী
ঘ) শ্রীধর কবিরাজ
উত্তর: খ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা: মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যটি ‘অভয়ামঙ্গল’ বা ‘চণ্ডিকামঙ্গল’ নামেও পরিচিত।
প্রশ্ন ৪০: ‘চৈতন্যচরিতামৃত’ গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
ক) বৃন্দাবন দাস
খ) কৃষ্ণদাস কবিরাজ
গ) লোচন দাস
ঘ) জয়ানন্দ
উত্তর: খ) কৃষ্ণদাস কবিরাজ
ব্যাখ্যা: কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী রচিত এই গ্রন্থটি চৈতন্যদেবের জীবন ও দর্শনের প্রামাণ্য গ্রন্থ।
প্রশ্ন ৪১: শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনভিত্তিক প্রথম কাব্য কোনটি?
ক) চৈতন্যভাগবত
খ) চৈতন্যমঙ্গল
গ) চৈতন্যচরিতামৃত
ঘ) চৈতন্যচন্দ্রোদয়
উত্তর: খ) চৈতন্যমঙ্গল
ব্যাখ্যা: জয়ানন্দ ও লোচনদাস উভয়ই ‘চৈতন্যমঙ্গল’ নামে কাব্য রচনা করেছেন, যা চৈতন্যদেবের জীবনভিত্তিক প্রথম দিকের কাব্যগুলির অন্যতম।
প্রশ্ন ৪২: আধুনিক বাংলা কাব্যের সূচনা হয়েছিল কার হাত ধরে?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর: খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা: মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ এবং সনেট রচনার মাধ্যমে আধুনিক বাংলা কাব্যের পথ প্রশস্ত হয়।
প্রশ্ন ৪৩: বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট রচয়িতা কে?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর: খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা: মধুসূদন দত্তই প্রথম বাংলায় সনেট রচনা করেন এবং সনেটের প্রবর্তন করেন।
প্রশ্ন ৪৪: ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবে নোবেল পুরস্কার পান?
ক) ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে
খ) ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে
গ) ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে
ঘ) ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: ঘ) ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা: ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ ‘Song Offerings’-এর জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
প্রশ্ন ৪৫: বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক কে?
ক) স্বর্ণকুমারী দেবী
খ) সরলা দেবী চৌধুরানী
গ) আশাপূর্ণা দেবী
ঘ) মহাশ্বেতা দেবী
উত্তর: ক) স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দিদি স্বর্ণকুমারী দেবী ‘দীপনির্বাণ’ (১৮৭৬) উপন্যাসের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
প্রশ্ন ৪৬: বাংলার ‘টেরাকোটা’ শিল্পের মূল উপজীব্য কী?
ক) কাঠ
খ) পাথর
গ) পোড়ামাটি
ঘ) ধাতু
উত্তর: গ) পোড়ামাটি
ব্যাখ্যা: টেরাকোটা হলো পোড়ামাটির শিল্প, যা বাংলার মন্দির অলঙ্করণে এবং লোকশিল্পে বহুল ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রশ্ন ৪৭: বাংলার বিখ্যাত ‘পটুয়া’ শিল্পীরা কোন শিল্পকলার সঙ্গে যুক্ত?
ক) কাঁথা শিল্প
খ) পটচিত্র
গ) শাঁখের কাজ
ঘ) ডোকরা শিল্প
উত্তর: খ) পটচিত্র
ব্যাখ্যা: পটুয়ারা হলেন সেই শিল্পীরা যারা পটচিত্র অঙ্কন করে এবং গান গেয়ে তা পরিবেশন করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
প্রশ্ন ৪৮: ‘আলপনা’ কোন অঞ্চলের লোকশিল্প?
ক) গ্রামবাংলা ও শহরে
খ) শুধুমাত্র গ্রামে
গ) শুধুমাত্র মন্দিরে
ঘ) শুধুমাত্র শহরে
উত্তর: ক) গ্রামবাংলা ও শহরে
ব্যাখ্যা: আলপনা বাংলার এক ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প, যা উৎসব-পার্বণে ঘর সাজানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি গ্রাম ও শহর উভয় স্থানেই প্রচলিত।
ব্যাখ্যা: ১৯০৬ সালে গঠিত ‘জাতীয় শিক্ষা পরিষদ’-এর উদ্যোগে ‘বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট’ স্থাপিত হয়, যা পরবর্তীকালে ‘কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, বেঙ্গল’ নামে পরিচিত হয় এবং অবশেষে ১৯৫৫ সালে ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা লাভ করে। (প্রশ্নে প্রদত্ত অপশনগুলি মূল প্রতিষ্ঠান স্থাপনের সময়ের কাছাকাছি, তবে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পূর্ণাঙ্গ রূপ ১৯৫৫ সালে)।
প্রশ্ন ৫০: বাংলার লোকসংগীতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা কোনটি?
ক) ধ্রুপদ
খ) খেয়াল
গ) বাউল গান
ঘ) ঠুমরি
উত্তর: গ) বাউল গান
ব্যাখ্যা: বাউল গান বাংলার লোকসংগীতের একটি স্বতন্ত্র ধারা, যা আধ্যাত্মিক ও দেহতত্ত্বমূলক ভাবনার উপর ভিত্তি করে রচিত।
প্রশ্ন ৫১: বাংলা চলচ্চিত্র জগতের ‘দাদা সাহেব ফালকে’ পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথম বাঙালি কে?
ক) সত্যজিৎ রায়
খ) ঋত্বিক ঘটক
গ) তপন সিংহ
ঘ) বীরেন্দ্রনাথ সরকার
উত্তর: ঘ) বীরেন্দ্রনাথ সরকার
ব্যাখ্যা: নিউ থিয়েটার্সের প্রতিষ্ঠাতা বীরেন্দ্রনাথ সরকার ১৯৭০ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পান। সত্যজিৎ রায় পান ১৯৮৪ সালে।
প্রশ্ন ৫২: ‘বাইশে শ্রাবণ’ চলচ্চিত্রটির পরিচালক কে?
ক) মৃণাল সেন
খ) ঋত্বিক ঘটক
গ) সত্যজিৎ রায়
ঘ) গৌতম ঘোষ
উত্তর: ক) মৃণাল সেন
ব্যাখ্যা: মৃণাল সেনের এই চলচ্চিত্রটি (১৯৬০) বাংলা চলচ্চিত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
প্রশ্ন ৫৩: বাংলা থিয়েটারের ইতিহাসে ‘নবনাট্য আন্দোলন’ কবে শুরু হয়েছিল?
ক) ১৯২০-এর দশকে
খ) ১৯৩০-এর দশকে
গ) ১৯৪০-এর দশকে
ঘ) ১৯৫০-এর দশকে
উত্তর: গ) ১৯৪০-এর দশকে
ব্যাখ্যা: মূলত আই.পি.টি.এ (Indian People’s Theatre Association)-এর হাত ধরে ১৯৪০-এর দশকে বাংলায় নবনাট্য আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।
প্রশ্ন ৫৪: ‘লিটল ম্যাগাজিন’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব কে?
ক) প্রেমেন্দ্র মিত্র
খ) বুদ্ধদেব বসু
গ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
ঘ) সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
উত্তর: খ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা: বুদ্ধদেব বসুর ‘কবিতা’ পত্রিকা লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
প্রশ্ন ৫৫: বাংলা সাহিত্যের ‘কল্লোল যুগ’ বলতে কোন সময়কালকে বোঝানো হয়?
ক) ১৯২০-এর দশক
খ) ১৯৩০-এর দশক
গ) ১৯৪০-এর দশক
ঘ) ১৯৫০-এর দশক
উত্তর: ক) ১৯২০-এর দশক
ব্যাখ্যা: ‘কল্লোল’ পত্রিকা (১৯২৩) ঘিরে যে সাহিত্যগোষ্ঠী গড়ে ওঠে, তাদের হাত ধরে বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার এক নতুন জোয়ার আসে, যা ‘কল্লোল যুগ’ নামে পরিচিত।
প্রশ্ন ৫৬: ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ কার রচনা?
ক) কালীপ্রসন্ন সিংহ
খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
গ) মধুসূদন দত্ত
ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর: ক) কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা: কালীপ্রসন্ন সিংহের এই ব্যঙ্গাত্মক রচনাটি উনিশ শতকের কলকাতার সমাজজীবনের একটি চিত্র তুলে ধরে।
প্রশ্ন ৫৭: ‘কেরি সাহেব’ নামে পরিচিত শ্রীরামপুর মিশনের সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তি কে?
ক) উইলিয়াম কেরি
খ) জশুয়া মার্শম্যান
গ) উইলিয়াম ওয়ার্ড
ঘ) আলেকজান্ডার ডাফ
উত্তর: ক) উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা: উইলিয়াম কেরি শ্রীরামপুর মিশনের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যিনি বাংলা গদ্য ও মুদ্রণশিল্পের বিকাশে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
প্রশ্ন ৫৮: ‘বন্দেমাতরম’ সঙ্গীতটি কার রচনা?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর: খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে এই গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
প্রশ্ন ৫৯: বাংলা সাহিত্যে ‘গণনাট্য সংঘ’ কোন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত?
ক) স্বদেশী আন্দোলন
খ) কৃষক আন্দোলন
গ) শ্রমিক আন্দোলন
ঘ) প্রগতিশীল নাট্য আন্দোলন
উত্তর: ঘ) প্রগতিশীল নাট্য আন্দোলন
ব্যাখ্যা: ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় গণনাট্য সংঘ (IPTA) প্রগতিশীল সামাজিক ও রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে নাটক পরিবেশন করত।
প্রশ্ন ৬০: ‘ঠাকুরবাড়ির গান’ কোন পরিবারের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ?
ক) শান্তিনিকেতন
খ) জোড়াসাঁকো
গ) বিরাহিমপুর
ঘ) বেলগাছিয়া
উত্তর: খ) জোড়াসাঁকো
ব্যাখ্যা: জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবার বাংলা সাহিত্য, সঙ্গীত ও সংস্কৃতিতে এক বিশাল অবদান রেখেছে, যার মধ্যে ‘ঠাকুরবাড়ির গান’ অন্যতম।
প্রশ্ন ৬১: বাংলা ভাষার কোন রূপটি সাধারণত কথ্য ভাষায় ব্যবহৃত হয়?
ক) সাধু রীতি
খ) চলিত রীতি
গ) আঞ্চলিক রীতি
ঘ) উপভাষা
উত্তর: খ) চলিত রীতি
ব্যাখ্যা: চলিত রীতি হলো বাংলা ভাষার আধুনিক ও গতিশীল রূপ, যা দৈনন্দিন কথোপকথন এবং আধুনিক সাহিত্যে ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন ৬২: অসমীয়া এবং ওড়িয়া ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার সম্পর্ক কী?
ক) দুটিই বাংলা থেকে উৎপন্ন
খ) একই মূল থেকে উৎপন্ন
গ) কোনো সম্পর্ক নেই
ঘ) বাংলা অসমীয়া থেকে উৎপন্ন
উত্তর: খ) একই মূল থেকে উৎপন্ন
ব্যাখ্যা: বাংলা, অসমীয়া এবং ওড়িয়া – তিনটি ভাষারই উদ্ভব হয়েছে মাগধী অপভ্রংশ থেকে, তাই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
প্রশ্ন ৬৩: বাংলা ভাষার কোন উপভাষাটি ‘বিক্রমপুরী’ নামেও পরিচিত?
ক) রাঢ়ি
খ) বঙ্গালি
গ) বরেন্দ্রী
ঘ) ঝাড়খণ্ডী
উত্তর: খ) বঙ্গালি
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা প্রভৃতি অঞ্চলের উপভাষা বঙ্গালি নামে পরিচিত। এর মধ্যে বিক্রমপুরী বঙ্গালিরই একটি রূপ।
প্রশ্ন ৬৪: বাংলা ভাষার উচ্চারণগত পরিবর্তনের একটি উদাহরণ দাও:
ক) ‘আকাশ’ থেকে ‘আকাশ’ (উচ্চারণ একই)
খ) ‘চক্র’ থেকে ‘চাক্কা’
গ) ‘বই’ থেকে ‘পুস্তক’
ঘ) ‘জল’ থেকে ‘পানি’
উত্তর: খ) ‘চক্র’ থেকে ‘চাক্কা’
ব্যাখ্যা: এটি সমাক্ষরলোপ বা স্বরভক্তির একটি উদাহরণ, যেখানে শব্দমধ্যস্থ সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিকে ভেঙে স্বরধ্বনি আনা হয়েছে অথবা পরিবর্তিত হয়েছে। ‘চক্র’ > ‘চক্কর’ > ‘চাক্কা’ (স্বরভক্তি ও ব্যঞ্জনদ্বিত্ব)।
প্রশ্ন ৬৫: বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারের একটি প্রধান অংশ হলো ‘তদ্ভব’ শব্দ। ‘তদ্ভব’ শব্দের অর্থ কী?
ক) সরাসরি সংস্কৃত থেকে আগত শব্দ
খ) সংস্কৃত থেকে পরিবর্তিত হয়ে আগত শব্দ
গ) বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দ
ঘ) আঞ্চলিক শব্দ
উত্তর: খ) সংস্কৃত থেকে পরিবর্তিত হয়ে আগত শব্দ
ব্যাখ্যা: তদ্ভব শব্দগুলি সংস্কৃত থেকে প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় এসেছে (যেমন – হস্ত > হুত্থ > হাত)।
প্রশ্ন ৬৬: ‘দোহাকোষ’ কোন সাহিত্যের অংশ?
ক) মঙ্গলকাব্য
খ) বৈষ্ণব পদাবলী
গ) চর্যাপদ
ঘ) নাথ সাহিত্য
উত্তর: গ) চর্যাপদ
ব্যাখ্যা: চর্যাপদের পদগুলি মূলত দোহা বা শ্লোকের আকারে রচিত, তাই এগুলিকে সামগ্রিকভাবে দোহাকোষ বা চর্যাগীতিকোষও বলা হয়।
প্রশ্ন ৬৭: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো:
ক) ব্যক্তিগত গীতিকবিতার প্রাধান্য
খ) দেব-দেবীর মাহাত্ম্য প্রচার
গ) নাটক রচনার প্রাচুর্য
ঘ) উপন্যাসের বিকাশ
উত্তর: খ) দেব-দেবীর মাহাত্ম্য প্রচার
ব্যাখ্যা: মধ্যযুগের সাহিত্য মূলত দেব-দেবীর কাহিনি ও মাহাত্ম্য প্রচারের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, যেমন – মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলী।
প্রশ্ন ৬৮: ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্যটি কে রচনা করেন?
ক) চণ্ডীদাস
খ) জয়দেব
গ) বিদ্যাপতি
ঘ) জ্ঞানদাস
উত্তর: খ) জয়দেব
ব্যাখ্যা: দ্বাদশ শতকের কবি জয়দেব সংস্কৃত ভাষায় ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্য রচনা করেন, যা পরবর্তীকালে বৈষ্ণব পদাবলীকে প্রভাবিত করে।
প্রশ্ন ৬৯: ‘ধর্মমঙ্গল’ কাব্যের একজন প্রধান কবি কে?
ক) কানাহরি দত্ত
খ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
গ) ঘনরাম চক্রবর্তী
ঘ) বিজয়গুপ্ত
উত্তর: গ) ঘনরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা: ঘনরাম চক্রবর্তী ছিলেন ‘ধর্মমঙ্গল’ কাব্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
প্রশ্ন ৭০: ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ কে সংগ্রহ করেন?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) দীনেশচন্দ্র সেন
গ) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
ঘ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
উত্তর: খ) দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা: দীনেশচন্দ্র সেন পূর্ববঙ্গের লোককথা ও গাথা সংগ্রহ করে ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ নামে প্রকাশ করেন। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন প্রধান সংগ্রাহক।
প্রশ্ন ৭১: আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কোন দিকটি ‘রেনেসাঁস’ দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত?
ক) বৈষ্ণব সাহিত্য
খ) মঙ্গলকাব্য
গ) গদ্য সাহিত্য
ঘ) চর্যাপদ
উত্তর: গ) গদ্য সাহিত্য
ব্যাখ্যা: উনিশ শতকে ইউরোপীয় রেনেসাঁসের প্রভাবে বাংলা গদ্য সাহিত্য, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদির বিকাশ ঘটে।
প্রশ্ন ৭২: ‘নবীন তপস্বিনী’ নাটকটি কে রচনা করেন?
ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
খ) দীনবন্ধু মিত্র
গ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ঘ) জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর: খ) দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা: দীনবন্ধু মিত্রের ‘নবীন তপস্বিনী’ (১৮৬৩) তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় নাটক।
প্রশ্ন ৭৩: ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ কোন ধরনের রচনা?
ক) মহাকাব্য
খ) গীতিকাব্য
গ) পত্রকাব্য
ঘ) সনেট
উত্তর: গ) পত্রকাব্য
ব্যাখ্যা: মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ (১৮৬২) হলো এক ধরনের পত্রকাব্য, যেখানে বিভিন্ন পৌরাণিক নারী চরিত্র তাদের প্রিয়জনদের কাছে চিঠি লিখছে।
প্রশ্ন ৭৪: ‘গোরা’ উপন্যাসটি কার লেখা?
ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এটি একটি বৃহদাকার উপন্যাস, যা জাতীয়তা ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে মানবপ্রেমের কথা বলে।
প্রশ্ন ৭৫: ‘শেষ প্রশ্ন’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
গ) সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
ঘ) প্রমথ চৌধুরী
উত্তর: খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই উপন্যাসটি সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন ৭৬: বাংলার কোন লোকনৃত্যটি মূলত নারীপ্রধান এবং ব্রত উপলক্ষে পরিবেশিত হয়?
ক) ছৌ নাচ
খ) গম্ভীরা
গ) টুসু নাচ
ঘ) রায়বেঁশে
উত্তর: গ) টুসু নাচ
ব্যাখ্যা: টুসু মূলত একটি লোকউৎসব, যা পৌষ সংক্রান্তির সময় ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পালিত হয়। এই উপলক্ষে টুসু গান ও নাচ হয়, যা মূলত কুমারী মেয়েদের দ্বারা পরিবেশিত হয়।
প্রশ্ন ৭৭: ‘ডোকরা’ শিল্পকলা কোন ধাতুর তৈরি?
ক) লোহা
খ) পিতল ও কাঁসা
গ) তামা
ঘ) রূপা
উত্তর: খ) পিতল ও কাঁসা
ব্যাখ্যা: ডোকরা হলো এক প্রাচীন ঢালাই শিল্প, যেখানে পিতল, কাঁসা বা ব্রোঞ্জ ধাতু গলিয়ে ‘লস্ট ওয়াক্স’ পদ্ধতিতে মূর্তি বা অন্য শিল্পকর্ম তৈরি করা হয়।
প্রশ্ন ৭৮: ‘লক্ষ্মীর সরা’ বাংলার কোন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প?
ক) ঢাকা
খ) ফরিদপুর
গ) মেদিনীপুর
ঘ) বীরভূম
উত্তর: খ) ফরিদপুর
ব্যাখ্যা: ‘লক্ষ্মীর সরা’ হলো ফরিদপুর (বর্তমান বাংলাদেশ) অঞ্চলের এক বিশেষ ধরনের চিত্রিত মাটির সরা, যা লক্ষ্মীপূজার সময় ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন ৭৯: ‘রবীন্দ্র নৃত্যনাট্য’ বলতে কী বোঝায়?
ক) রবীন্দ্রনাথের লেখা নাটক
খ) রবীন্দ্রনাথের রচিত নৃত্যভিত্তিক নাটক
গ) রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তৈরি নাটক
ঘ) রবীন্দ্রনাথের গানে নাচ
উত্তর: খ) রবীন্দ্রনাথের রচিত নৃত্যভিত্তিক নাটক
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নৃত্যনাট্যগুলিতে গান, নৃত্য ও অভিনয় একত্রিত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পরূপ ধারণ করে, যেমন ‘চিত্রাঙ্গদা’, ‘চণ্ডালিকা’ ইত্যাদি।
প্রশ্ন ৮০: বাংলার লোকসংগীতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা ‘ভাটিয়ালি’ কোন অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত?
ক) রাঢ় অঞ্চল
খ) নদীমাতৃক পূর্ববঙ্গ
গ) উত্তরবঙ্গ
ঘ) ঝাড়খণ্ড
উত্তর: খ) নদীমাতৃক পূর্ববঙ্গ
ব্যাখ্যা: ভাটিয়ালি গান মূলত বাংলাদেশের নদীমাতৃক (বিশেষত পূর্ববঙ্গ) অঞ্চলের মাঝিমাল্লাদের গান, যা নদীতে ভেসে চলার সময় গাওয়া হয়।
প্রশ্ন ৮১: বাংলা থিয়েটারের ইতিহাসে ‘স্টার থিয়েটার’ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক) ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে
খ) ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে
গ) ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে
ঘ) ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: খ) ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা: স্টার থিয়েটার ছিল উনিশ শতকের বাংলার এক জনপ্রিয় পেশাদারী রঙ্গমঞ্চ, যা ১৮৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বাংলা নাটকের বিকাশে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
প্রশ্ন ৮২: বাংলার ‘নকশিকাঁথা’ শিল্পের মূল উপাদান কী?
ক) পশম
খ) রেশম
গ) পুরনো কাপড় ও সুতো
ঘ) পাট
উত্তর: গ) পুরনো কাপড় ও সুতো
ব্যাখ্যা: নকশিকাঁথা হলো পুরনো শাড়ি, ধুতি বা অন্যান্য কাপড়কে স্তরে স্তরে সেলাই করে তার ওপর বিভিন্ন নকশা ফুটিয়ে তোলা একটি ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প।
প্রশ্ন ৮৩: ‘ধ্রুপদ’ কোন ধরনের সঙ্গীত?
ক) লোকসংগীত
খ) শাস্ত্রীয় সঙ্গীত
গ) আধুনিক গান
ঘ) রবীন্দ্রসংগীত
উত্তর: খ) শাস্ত্রীয় সঙ্গীত
ব্যাখ্যা: ধ্রুপদ হলো ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একটি প্রাচীন ও গম্ভীর ধারা।
প্রশ্ন ৮৪: বাংলা চলচ্চিত্রের কোন পরিচালক ‘আর্ট ফিল্ম’-এর জন্য পরিচিত?
ক) সত্যজিৎ রায়
খ) ঋত্বিক ঘটক
গ) মৃণাল সেন
ঘ) উপরের সবগুলি
উত্তর: ঘ) উপরের সবগুলি
ব্যাখ্যা: সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক এবং মৃণাল সেন, এই ত্রয়ী বাংলা চলচ্চিত্রে ‘আর্ট ফিল্ম’ বা সমান্তরাল ধারার পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত।
প্রশ্ন ৮৫: বাংলা সাহিত্যের ‘পর্যায়ক্রমিক ধারা’ হিসেবে বিবেচিত হয় কোনটি?
ক) বৈষ্ণব পদাবলী
খ) মঙ্গলকাব্য
গ) ছোটগল্প
ঘ) চম্পুকাব্য
উত্তর: গ) ছোটগল্প
ব্যাখ্যা: আধুনিক বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্প একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় ধারা হিসেবে বিকশিত হয়েছে, যা সমাজের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। ‘পর্যায়ক্রমিক ধারা’ শব্দটি এখানে সম্ভবত একটি স্বতন্ত্র ও বিকাশমান সাহিত্যিক রূপ অর্থে ব্যবহৃত।
প্রশ্ন ৮৬: ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসটি কোন আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত?
ক) নীল বিদ্রোহ
খ) সিপাহী বিদ্রোহ
গ) সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
ঘ) ফরাজি আন্দোলন
উত্তর: গ) সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই উপন্যাসটি অষ্টাদশ শতকের সন্ন্যাসী বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
প্রশ্ন ৮৭: ‘কমলাকান্তের দপ্তর’ কোন ধরনের রচনা?
ক) উপন্যাস
খ) নাটক
গ) প্রবন্ধ
ঘ) কাব্য
উত্তর: গ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কমলাকান্তের দপ্তর’ হলো ব্যঙ্গাত্মক ও দার্শনিক প্রবন্ধের সংকলন।
প্রশ্ন ৮৮: ‘ভারতবর্ষীয় ব্রহ্মসমাজ’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
ক) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) কেশবচন্দ্র সেন
গ) রামমোহন রায়
ঘ) অক্ষয়কুমার দত্ত
উত্তর: খ) কেশবচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা: ১৮৬৬ সালে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে মতবিরোধের পর কেশবচন্দ্র সেন ‘ভারতবর্ষীয় ব্রহ্মসমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রশ্ন ৮৯: ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকাটির সম্পাদক কে ছিলেন?
ক) কাঙাল হরিনাথ মজুমদার
খ) দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ
গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ঘ) অক্ষয়কুমার দত্ত
উত্তর: ক) কাঙাল হরিনাথ মজুমদার
ব্যাখ্যা: ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ ছিল উনিশ শতকের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সংবাদপত্র, যা কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় প্রকাশিত হত।
প্রশ্ন ৯০: ‘রূপচাঁদ পক্ষী’ ছদ্মনামে কে পরিচিত ছিলেন?
ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
খ) অক্ষয়কুমার দত্ত
গ) দীনবন্ধু মিত্র
ঘ) মধুসূদন দত্ত
উত্তর: ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা: ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের কবিতা ও লেখায় ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের আধিক্য ছিল, এবং তিনি বিভিন্ন ছদ্মনামে লিখতেন, তার মধ্যে ‘রূপচাঁদ পক্ষী’ না থাকলেও, তিনি ব্যঙ্গাত্মক রচনার জন্য খ্যাত ছিলেন। (উল্লেখ্য, ‘রূপচাঁদ পক্ষী’ ছদ্মনামটি বিশেষভাবে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সাথে সম্পর্কিত নাও হতে পারে, তবে তিনি ব্যঙ্গাত্মক রচনার জন্য খ্যাত)। অধিকতর সঠিক তথ্যের জন্য পাঠ্যপুস্তক দেখা যেতে পারে। ‘ভ্রমর’ তাঁর একটি পরিচিত ছদ্মনাম।
প্রশ্ন ৯১: ‘সন্দেশ’ পত্রিকাটি কে প্রকাশ করেন?
ক) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
খ) সুকুমার রায়
গ) সত্যজিৎ রায়
ঘ) লীলা মজুমদার
উত্তর: ক) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
ব্যাখ্যা: ‘সন্দেশ’ ছিল শিশুদের জন্য একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় মাসিক পত্রিকা, যা ১৯১৩ সালে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রশ্ন ৯২: বাংলা গদ্য সাহিত্যের বিকাশে ‘ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ’-এর ভূমিকা কী ছিল?
ক) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও অভিধান রচনা
খ) ইংরেজি সাহিত্যের অনুবাদ
গ) দেশীয় ভাষায় পাঠ্যপুস্তক রচনায় উৎসাহ দান
ঘ) উপরের সবগুলি
উত্তর: ঘ) উপরের সবগুলি
ব্যাখ্যা: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অধ্যাপক ও পণ্ডিতরা, যেমন উইলিয়াম কেরি, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, রামরাম বসু প্রমুখ, বাংলা গদ্যের ভিত্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন – পাঠ্যপুস্তক রচনা, অনুবাদ, ব্যাকরণ ও অভিধান প্রণয়নের মাধ্যমে।
প্রশ্ন ৯৩: ‘চর্যাগীতি’ কোন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সাধন সঙ্গীত?
ক) বৈষ্ণব
খ) শাক্ত
গ) বৌদ্ধ সহজিয়া
ঘ) নাথযোগী
উত্তর: গ) বৌদ্ধ সহজিয়া
ব্যাখ্যা: চর্যাপদগুলি ছিল বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের সাধনসঙ্গীত, যা তাদের গুহ্য সাধনার পদ্ধতি ও দার্শনিক তত্ত্ব প্রকাশ করত।
প্রশ্ন ৯৪: বাংলার কোন উৎসবে ‘আলপনা’ অঙ্কন একটি বিশেষ অঙ্গ?
ক) দুর্গাপূজা
খ) লক্ষ্মীপূজা
গ) দীপাবলি
ঘ) উপরের সবগুলি
উত্তর: ঘ) উপরের সবগুলি
ব্যাখ্যা: বাংলার বিভিন্ন উৎসব, বিশেষত দুর্গাপূজা, লক্ষ্মীপূজা, কালীপূজা, ভাইফোঁটা ইত্যাদিতে আলপনা আঁকা হয়।
প্রশ্ন ৯৫: ‘আর্ট স্কুল’ বা ‘গভর্নমেন্ট কলেজ অফ আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট’ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক) ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দে
খ) ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে
গ) ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে
ঘ) ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: খ) ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা: ১৮৫৪ সালে কলকাতায় ‘স্কুল অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল আর্টস’ নামে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরে ‘গভর্নমেন্ট কলেজ অফ আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট’ নামে পরিচিত হয়।
প্রশ্ন ৯৬: বাংলা উপন্যাসের ‘ত্রয়ী’ বলতে কাদের বোঝানো হয়?
ক) রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ
খ) বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র
গ) বিভূতিভূষণ, তারাশঙ্কর, মানিক
ঘ) সুকান্ত, সুভাষ, সমরেশ
উত্তর: গ) বিভূতিভূষণ, তারাশঙ্কর, মানিক
ব্যাখ্যা: বাংলা উপন্যাসের বিকাশে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় – এই তিনজনকে একত্রে ‘বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রয়ী’ বা উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ ত্রয়ী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্রও বাংলা উপন্যাসের দিকপাল, তবে ‘ত্রয়ী’ বলতে প্রায়শই বিভূতি-তারাশঙ্কর-মানিককে বোঝানো হয়।
প্রশ্ন ৯৭: ‘নীলকুঠির গান’ কোন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত?
ক) স্বদেশী আন্দোলন
খ) নীল বিদ্রোহ
গ) তেভাগা আন্দোলন
ঘ) ভারত ছাড়ো আন্দোলন
উত্তর: খ) নীল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা: নীল বিদ্রোহের সময় নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে যে গানগুলি রচিত হয়েছিল, সেগুলি ‘নীল বিদ্রোহের গান’ বা পরোক্ষভাবে ‘নীলকুঠির গান’ নামে পরিচিত হতে পারে।
প্রশ্ন ৯৮: বাংলা লোকনৃত্য ‘গম্ভীরা’ কোন অঞ্চলের লোকনৃত্য?
ক) মালদা
খ) পুরুলিয়া
গ) বাঁকুড়া
ঘ) বীরভূম
উত্তর: ক) মালদা
ব্যাখ্যা: গম্ভীরা মালদা জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য ও লোক উৎসব, যা শিবের উপাসনা কেন্দ্রিক এবং সামাজিক বিষয় নিয়ে ব্যঙ্গ পরিবেশিত হয়।
প্রশ্ন ৯৯: বাংলা চলচ্চিত্র জগতে ‘ঋত্বিক ঘটক’ কোন ধরনের চলচ্চিত্রের জন্য বিখ্যাত?
ক) বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র
খ) প্রতিবাদী ও সামাজিক চলচ্চিত্র
গ) শিশুতোষ চলচ্চিত্র
ঘ) কমেডি চলচ্চিত্র
উত্তর: খ) প্রতিবাদী ও সামাজিক চলচ্চিত্র
ব্যাখ্যা: ঋত্বিক ঘটক তাঁর চলচ্চিত্রে সমাজের অসঙ্গতি, দেশভাগ এবং মানুষের যন্ত্রণা তুলে ধরেছেন।
প্রশ্ন ১০০: ‘প্রতীকী নাটক’-এর পথিকৃৎ হিসেবে বাংলা সাহিত্যে কে পরিচিত?
ক) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঘ) দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর: গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ডাকঘর’, ‘রাজা’, ‘অচলায়তন’ প্রভৃতি নাটকের মাধ্যমে প্রতীকী নাটকের এক নতুন ধারা সৃষ্টি করেন।
প্রশ্ন ১০১: ভারতীয় আর্য ভাষার কোন স্তরে ‘প্রাকৃত’ ভাষার জন্ম হয়?
ক) প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা
খ) মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষা
গ) নব্য ভারতীয় আর্য ভাষা
ঘ) আধুনিক ভারতীয় আর্য ভাষা
উত্তর: খ) মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষা
ব্যাখ্যা: ভারতীয় আর্য ভাষার বিবর্তনের দ্বিতীয় স্তরে (প্রায় ৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১০০০ খ্রিস্টাব্দ) বিভিন্ন প্রাকৃত ভাষার উদ্ভব হয়।
প্রশ্ন ১০২: বাংলা ভাষার ‘যৌগিক স্বরধ্বনি’ কয়টি?
ক) ২টি
খ) ৪টি
গ) ৬টি
ঘ) ৮টি
উত্তর: ক) ২টি
ব্যাখ্যা: বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনি বা যুগ্ম স্বরধ্বনি দুটি: ‘ঐ’ (অ+ই বা ও+ই) এবং ‘ঔ’ (অ+উ বা ও+উ)।
প্রশ্ন ১০৩: বাংলা ব্যাকরণে ‘সন্ধি’ বলতে কী বোঝায়?
ক) দুটি পদের মিলন
খ) দুটি ধ্বনির মিলন
গ) দুটি বাক্যের মিলন
ঘ) দুটি অক্ষরের মিলন
উত্তর: খ) দুটি ধ্বনির মিলন
ব্যাখ্যা: সন্ধি হলো পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ধ্বনির মিলন বা পরিবর্তন।
প্রশ্ন ১০৪: বাংলা ভাষার কোন উপভাষাটি পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলায় প্রচলিত?
ক) রাঢ়ি
খ) বঙ্গালি
গ) কামরূপী
ঘ) রাজবংশী
উত্তর: ঘ) রাজবংশী
ব্যাখ্যা: রাজবংশী উপভাষা মূলত পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং (তরাই অঞ্চল), এবং বাংলাদেশের রংপুর, দিনাজপুর অঞ্চলে প্রচলিত। কামরূপী উপভাষার একটি অংশ হিসেবেও এটি বিবেচিত হয়।
প্রশ্ন ১০৫: বাংলা ভাষার ‘নেতিবাচক’ শব্দের উদাহরণ দাও:
ক) সুন্দর
খ) বাড়ি
গ) না
ঘ) যাওয়া
উত্তর: গ) না
ব্যাখ্যা: ‘না’ একটি নেতিবাচক অব্যয় পদ, যা কোনো কিছুকে অস্বীকার বা নিষেধ করতে ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন ১০৬: ‘পদাবলী সাহিত্য’ কোন দেবদেবীর লীলা বিষয়ক?
ক) শিব-দুর্গা
খ) রাম-সীতা
গ) রাধা-কৃষ্ণ
ঘ) লক্ষ্মী-নারায়ণ
উত্তর: গ) রাধা-কৃষ্ণ
ব্যাখ্যা: বৈষ্ণব পদাবলী মূলত রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমলীলা এবং তাদের ভক্তি ও বিরহের উপর ভিত্তি করে রচিত কাব্য।
প্রশ্ন ১০৭: মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ‘কাব্য’ হিসেবে কোন ধারাটি জনপ্রিয় ছিল?
ক) উপন্যাস
খ) নাটক
গ) মঙ্গলকাব্য
ঘ) ছোটগল্প
উত্তর: গ) মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা: মধ্যযুগে মঙ্গলকাব্যগুলি যেমন মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, ধর্মমঙ্গল ইত্যাদি দেবদেবীর মাহাত্ম্য প্রচারে বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল।
প্রশ্ন ১০৮: ‘রামায়ণ’ কাব্যের প্রথম বাঙালি অনুবাদক কে?
ক) কাশীরাম দাস
খ) কৃত্তিবাস ওঝা
গ) মালাধর বসু
ঘ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
উত্তর: খ) কৃত্তিবাস ওঝা
ব্যাখ্যা: কৃত্তিবাস ওঝা পঞ্চদশ শতকে সংস্কৃত রামায়ণকে বাংলায় অনুবাদ করেন, যা ‘শ্রীরামপাঁচালী’ বা ‘কৃত্তিবাসী রামায়ণ’ নামে পরিচিত।
প্রশ্ন ১০৯: ‘মহাভারত’ কাব্যের বিখ্যাত বাঙালি অনুবাদক কে?
ক) কাশীরাম দাস
খ) কৃত্তিবাস ওঝা
গ) মালাধর বসু
ঘ) বিজয়গুপ্ত
উত্তর: ক) কাশীরাম দাস
ব্যাখ্যা: সপ্তদশ শতকের কবি কাশীরাম দাস সংস্কৃত মহাভারতকে বাংলায় অনুবাদ করেন, যা ‘কাশীদাসী মহাভারত’ নামে পরিচিত।
প্রশ্ন ১১০: ‘নাথ সাহিত্য’ কোন ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত?
ক) বৈষ্ণব ধর্ম
খ) বৌদ্ধ ধর্ম
গ) শৈব ধর্ম (যোগী সম্প্রদায়ের)
ঘ) শাক্ত ধর্ম
উত্তর: গ) শৈব ধর্ম (যোগী সম্প্রদায়ের)
ব্যাখ্যা: নাথ সাহিত্য মূলত নাথযোগী সম্প্রদায়ের সাধনতত্ত্ব ও অলৌকিক ক্ষমতার বর্ণনা নিয়ে গঠিত, যেখানে শিব বা নাথগুরুদের মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়।
প্রশ্ন ১১১: আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কোন শাখায় ‘গদ্য’ প্রধান বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
ক) কাব্য
খ) পদাবলী
গ) উপন্যাস ও ছোটগল্প
ঘ) মঙ্গলকাব্য
উত্তর: গ) উপন্যাস ও ছোটগল্প
ব্যাখ্যা: আধুনিক যুগে উপন্যাস ও ছোটগল্পের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে গদ্যের প্রাধান্য বাড়ে।
প্রশ্ন ১১২: বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাসের নাম কী?
ক) দুর্গেশনন্দিনী
খ) কপালকুণ্ডলা
গ) বিষবৃক্ষ
ঘ) কৃষ্ণকান্তের উইল
উত্তর: ক) দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা: ১৮৬৫ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘দুর্গেশনন্দিনী’কে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস হিসেবে গণ্য করা হয়।
প্রশ্ন ১১৩: ‘নীলদর্পণ’ নাটকটি প্রথম কবে প্রকাশিত হয়?
ক) ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দে
খ) ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে
গ) ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে
ঘ) ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: খ) ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা: দীনবন্ধু মিত্রের এই বিখ্যাত নাটকটি ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়, যা নীলচাষীদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে লেখা হয়েছিল।
প্রশ্ন ১১৪: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
ক) সন্ধ্যাসংগীত
খ) বনফুল
গ) ছবি ও গান
ঘ) মানসী
উত্তর: খ) বনফুল
ব্যাখ্যা: ১৮৭৮ বা ১৮৮০ সালে প্রকাশিত ‘বনফুল’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। (প্রকাশকাল নিয়ে মতভেদ আছে)।
প্রশ্ন ১১৫: ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে কে পরিচিত?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
গ) জীবনানন্দ দাশ
ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর: খ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা: কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর বিদ্রোহাত্মক কবিতা ও রচনার জন্য ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে পরিচিত।
প্রশ্ন ১১৬: বাংলার লোকশিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘ছাপা শাড়ি’। এর সঙ্গে কোন প্রযুক্তি জড়িত?
ক) হাতে সেলাই
খ) ব্লক প্রিন্ট
গ) এমব্রয়ডারি
ঘ) হাতে বোনা
উত্তর: খ) ব্লক প্রিন্ট
ব্যাখ্যা: ব্লক প্রিন্ট হলো কাঠের ব্লকের মাধ্যমে কাপড়ের উপর নকশা ছাপানোর একটি ঐতিহ্যবাহী কৌশল।
প্রশ্ন ১১৭: ‘কুমোরটুলি’ কোন শিল্পকর্মের জন্য বিখ্যাত?
ক) কাঁথা শিল্প
খ) প্রতিমা নির্মাণ
গ) পটচিত্র
ঘ) ডোকরা শিল্প
উত্তর: খ) প্রতিমা নির্মাণ
ব্যাখ্যা: কুমোরটুলি কলকাতার এক বিখ্যাত কুমোরপাড়া, যা মূলত দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন পূজার প্রতিমা তৈরির জন্য বিখ্যাত।
প্রশ্ন ১১৮: বাংলার লোকনৃত্য ‘লাঠি খেলা’ মূলত কোন অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত?
ক) উত্তরবঙ্গ
খ) রাঢ় অঞ্চল ও সমগ্র বাংলা
গ) সুন্দরবন
ঘ) নদীয়া
উত্তর: খ) রাঢ় অঞ্চল ও সমগ্র বাংলা
ব্যাখ্যা: লাঠি খেলা একটি ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য এবং আত্মরক্ষার কৌশল, যা মূলত বাংলার গ্রামীণ অঞ্চলে, বিশেষত রাঢ় অঞ্চলে প্রচলিত, তবে এর ব্যাপ্তি প্রায় সমগ্র বাংলা জুড়েই দেখা যায়।
প্রশ্ন ১১৯: ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র কোনটি?
ক) রাজা হরিশচন্দ্র
খ) আলম আরা
গ) পথের পাঁচালী
ঘ) বাইশে শ্রাবণ
উত্তর: খ) আলম আরা
ব্যাখ্যা: ১৯৩১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আলম আরা’ ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র।
প্রশ্ন ১২০: ‘অমলিন দত্ত’ কোন শিল্পকলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
ক) সঙ্গীত
খ) চিত্রকলা
গ) ভাস্কর্য
ঘ) নৃত্য
উত্তর: গ) ভাস্কর্য
ব্যাখ্যা: অমলিন দত্ত (সঠিক নাম সম্ভবত দেবীপ্রসাদ রায়চৌধুরী বা সমসাময়িক অন্য কোনো ভাস্কর হবেন, অমলিন দত্ত নামটি নির্দিষ্টভাবে কোনো বিখ্যাত ভাস্করের সাথে যুক্ত নয়। যদি ‘অমলকান্ত দত্ত’ বোঝানো হয়ে থাকে, তিনি অর্থনীতিবিদ ছিলেন। প্রশ্নে নামের বানান বা ব্যক্তি নির্দিষ্টকরণে ত্রুটি থাকতে পারে। প্রদত্ত অপশন অনুযায়ী ভাস্কর্য কাছাকাছি উত্তর হতে পারে যদি কোনো ভাস্করকে উদ্দেশ্য করা হয়ে থাকে)। আরও নিশ্চিত তথ্যের জন্য পাঠ্যপুস্তক দেখুন।
প্রশ্ন ১২১: বাংলার ‘যাত্রা’ পালার একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:
ক) মঞ্চসজ্জার বাহুল্য
খ) সরাসরি দর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ
গ) আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার
ঘ) শুধু পুরুষ চরিত্র
উত্তর: খ) সরাসরি দর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ
ব্যাখ্যা: যাত্রা হলো একটি ঐতিহ্যবাহী লোকনাট্য, যেখানে শিল্পীরা খোলা মঞ্চে বা উঠোনে অভিনয় করে এবং সরাসরি দর্শকদের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে।
প্রশ্ন ১২২: ‘ছৌ নাচ’ কোন দেবীর উপাসনার সঙ্গে যুক্ত?
ক) লক্ষ্মী
খ) সরস্বতী
গ) দুর্গা/শিব/গণেশ
ঘ) মনসা
উত্তর: গ) দুর্গা/শিব/গণেশ
ব্যাখ্যা: ছৌ নাচ মূলত পৌরাণিক কাহিনি, বিশেষত মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গাদেবীর মহিমা, শিবের তাণ্ডব, গণেশের কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে পরিবেশিত হয়।
প্রশ্ন ১২৩: ‘বাংলার সঙ্গীত’ বলতে সাধারণত কোন ধারাটিকে বোঝানো হয়?
ক) শাস্ত্রীয় সঙ্গীত
খ) আধুনিক বাংলা গান
গ) লোকসংগীত
ঘ) রবীন্দ্রসংগীত
উত্তর: গ) লোকসংগীত
ব্যাখ্যা: বাংলার সঙ্গীত বলতে বিস্তৃত অর্থে শাস্ত্রীয়, লোক, আধুনিক, রবীন্দ্র, নজরুল সঙ্গীত সবই বোঝায়। তবে নির্দিষ্টভাবে ‘বাংলার সঙ্গীত’ ঐতিহ্যগতভাবে লোকসংগীতের ধারাকে (যেমন বাউল, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, টুসু, ঝুমুর ইত্যাদি) গুরুত্ব দেয়।
প্রশ্ন ১২৪: ‘আর্ট গ্যালারি’ ‘বিড়লা অ্যাকাডেমি অফ আর্ট অ্যান্ড কালচার’ কোথায় অবস্থিত?
ক) শান্তিনিকেতন
খ) কলকাতা
গ) দিল্লি
ঘ) মুম্বাই
উত্তর: খ) কলকাতা
ব্যাখ্যা: বিড়লা অ্যাকাডেমি অফ আর্ট অ্যান্ড কালচার কলকাতার একটি প্রসিদ্ধ শিল্প ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
প্রশ্ন ১২৫: ‘নবান্ন’ নাটকের রচয়িতা কে?
ক) বিজন ভট্টাচার্য
খ) শম্ভু মিত্র
গ) উৎপল দত্ত
ঘ) অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: ক) বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা: ১৯৪৩ সালের মন্বন্তরের পটভূমিকায় বিজন ভট্টাচার্য রচিত ‘নবান্ন’ নাটকটি গণনাট্য আন্দোলনের একটি মাইলফলক।
প্রশ্ন ১২৬: ‘শ্রীরামপুর ত্রয়ী’ নামে কারা পরিচিত ছিলেন?
ক) রামমোহন রায়, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, কেশবচন্দ্র সেন
খ) উইলিয়াম কেরি, জশুয়া মার্শম্যান, উইলিয়াম ওয়ার্ড
উত্তর: খ) উইলিয়াম কেরি, জশুয়া মার্শম্যান, উইলিয়াম ওয়ার্ড
ব্যাখ্যা: শ্রীরামপুর মিশনের এই তিনজন ব্যক্তিত্ব বাংলা গদ্য ও মুদ্রণশিল্পের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
প্রশ্ন ১২৭: ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ কোন ধরনের রচনা?
ক) উপন্যাস
খ) হাস্যরসাত্মক সামাজিক ব্যঙ্গ
গ) ঐতিহাসিক নাটক
ঘ) কাব্য
উত্তর: খ) হাস্যরসাত্মক সামাজিক ব্যঙ্গ
ব্যাখ্যা: কালীপ্রসন্ন সিংহের এই রচনাটি উনিশ শতকের কলকাতার বাবুসমাজ ও তার অসঙ্গতিকে তীব্র ব্যঙ্গের মাধ্যমে তুলে ধরে।
প্রশ্ন ১২৮: ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
গ) প্রমথ চৌধুরী
ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর: খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠা করেন, যা বাংলা সাহিত্যে নতুন চিন্তাধারা ও সাহিত্য সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রশ্ন ১২৯: ‘আত্মজীবনী’মূলক রচনার জন্য পরিচিত একজন বাঙালি সাহিত্যিক কে?
ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঘ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তর: গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জীবনস্মৃতি’ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আত্মজীবনীমূলক রচনা।
প্রশ্ন ১৩০: বাংলা নাটকের ইতিহাসে মধুসূদন দত্তের প্রধান অবদান কী?
ক) লোকনাট্যের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি
খ) সার্থক ট্র্যাজেডি ও কমেডি রচনার প্রবর্তন
গ) যাত্রা পালার প্রচলন
ঘ) ধর্মীয় নাটকের সৃষ্টি
উত্তর: খ) সার্থক ট্র্যাজেডি ও কমেডি রচনার প্রবর্তন
ব্যাখ্যা: মাইকেল মধুসূদন দত্ত ‘শর্মিষ্ঠা’ (প্রথম সার্থক নাটক), ‘কৃষ্ণকুমারী’ (প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি) এবং ‘একেই কি বলে সভ্যতা?’ ও ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ (সার্থক প্রহসন)-এর মাধ্যমে বাংলা নাটকে আধুনিকতার সূচনা করেন।
প্রশ্ন ১৩১: ‘গ্রামীণ পটভূমি’তে লেখা উপন্যাসের জন্য কোন বাঙালি ঔপন্যাসিক বিখ্যাত?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ঘ) বুদ্ধদেব বসু
উত্তর: গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস যেমন ‘পথের পাঁচালী’, ‘আরণ্যক’ গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতির নিবিড় ছবি ফুটিয়ে তোলে। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ও গ্রামীণ পটভূমিতে অনেক উপন্যাস লিখেছেন।
প্রশ্ন ১৩২: ‘নবনাট্য আন্দোলন’ কোন বিষয়ের উপর জোর দিয়েছিল?
ক) বিনোদন
খ) সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা
গ) ঐতিহাসিক কাহিনি
ঘ) পৌরাণিক বিষয়
উত্তর: খ) সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা
ব্যাখ্যা: নবনাট্য আন্দোলন সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি, শোষণ, দুর্ভিক্ষ ইত্যাদি বিষয়গুলিকে নাটকের মাধ্যমে তুলে ধরে জনসচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করেছিল।
প্রশ্ন ১৩৩: ‘কবিতা’ পত্রিকাটি কে সম্পাদনা করতেন?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) প্রমথ চৌধুরী
গ) বুদ্ধদেব বসু
ঘ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর: গ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা: বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকাটি বাংলা আধুনিক কবিতার বিকাশে এবং লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রশ্ন ১৩৪: ‘প্রাচীন বাংলা গান’ বলতে সাধারণত কোন ধারাকে বোঝানো হয়?
ক) আধুনিক গান
খ) রবীন্দ্রসংগীত
গ) টপ্পা, ঠুমরি, কীর্তন
ঘ) পপ গান
উত্তর: গ) টপ্পা, ঠুমরি, কীর্তন
ব্যাখ্যা: টপ্পা, ঠুমরি, কীর্তন ইত্যাদি প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা গানের উল্লেখযোগ্য ধারা। চর্যাপদও প্রাচীনতম গানের নিদর্শন।
প্রশ্ন ১৩৫: ‘বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন’-এর সঙ্গে যুক্ত একজন কবি কে?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
গ) জীবনানন্দ দাশ
ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর: ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং ‘আমার সোনার বাংলা’র মতো দেশাত্মবোধক গান রচনা করেন। এছাড়াও রজনীকান্ত সেন, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় প্রমুখ কবিগণও এই আন্দোলনের সমর্থনে গান রচনা করেন।
প্রশ্ন ১৩৬: বাংলা ভাষার কোন রূপটি মূলত লেখ্য ভাষায় ব্যবহৃত হয়?
ক) চলিত রীতি
খ) সাধু রীতি
গ) আঞ্চলিক রীতি
ঘ) উপভাষা
উত্তর: খ) সাধু রীতি
ব্যাখ্যা: সাধু রীতি হলো বাংলা ভাষার ঐতিহ্যবাহী লিখিত রূপ, যা উনিশ শতকে বিশেষভাবে প্রচলিত ছিল এবং এতে ক্রিয়াপদ ও সর্বনামের পূর্ণাঙ্গ রূপ ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে এর ব্যবহার সীমিত।
প্রশ্ন ১৩৭: ‘নব্য ভারতীয় আর্য ভাষা’ স্তরের সময়কাল কোনটি?
ক) ৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ – ১০০০ খ্রিস্টাব্দ
খ) ১০০০ খ্রিস্টাব্দ – বর্তমান
গ) ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ – ৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
ঘ) ৫০০ খ্রিস্টাব্দ – ১০০০ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর: খ) ১০০০ খ্রিস্টাব্দ – বর্তমান
ব্যাখ্যা: ভারতীয় আর্য ভাষার তৃতীয় ও সর্বশেষ স্তর হলো নব্য ভারতীয় আর্য ভাষা, যা প্রায় ১০০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে শুরু হয়ে বর্তমান পর্যন্ত বিস্তৃত। বাংলা এই স্তরের একটি ভাষা।
প্রশ্ন ১৩৮: বাংলা ব্যাকরণে ‘বিভক্তি’ কাকে বলে?
ক) শব্দের অর্থ পরিবর্তনকারী ধ্বনি
খ) ধাতুর পরে যুক্ত হয়ে ক্রিয়া পদ গঠনকারী ধ্বনি
গ) শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে পদ গঠনকারী বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি
ঘ) বর্ণকে পৃথককারী চিহ্ন
উত্তর: গ) শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে পদ গঠনকারী বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি
ব্যাখ্যা: বিভক্তি শব্দের বা ধাতুর পরে যুক্ত হয়ে তাদের পদে পরিণত করে এবং কারক নির্ণয়ে সাহায্য করে।
প্রশ্ন ১৩৯: বাংলা ভাষার কোন উপভাষাটি ‘ভাওয়াইয়া’ গানের জন্য বিখ্যাত?
ক) রাঢ়ি
খ) বঙ্গালি
গ) বরেন্দ্রী
ঘ) কামরূপী/রাজবংশী
উত্তর: ঘ) কামরূপী/রাজবংশী
ব্যাখ্যা: ভাওয়াইয়া গান মূলত উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, রংপুর প্রভৃতি অঞ্চলে প্রচলিত, যেখানে কামরূপী বা রাজবংশী উপভাষা ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন ১৪০: বাংলা ভাষায় ‘তৎসম’ শব্দের একটি উদাহরণ দাও:
ক) হাত
খ) চাঁদ
গ) সূর্য
ঘ) ভাত
উত্তর: গ) সূর্য
ব্যাখ্যা: তৎসম শব্দগুলি সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে এবং তাদের রূপ অপরিবর্তিত রয়েছে।
প্রশ্ন ১৪১: ‘চর্যাগীতি’র আবিষ্কারক কে?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
গ) দীনেশচন্দ্র সেন
ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর: খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা: ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজকীয় গ্রন্থাগার থেকে চর্যাগীতি আবিষ্কার করেন।
প্রশ্ন ১৪২: বাংলা সাহিত্যের ‘যুগসন্ধিক্ষণের কবি’ কাকে বলা হয়?
ক) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর: খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা: ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের কাব্যে মধ্যযুগীয় ধারার সঙ্গে আধুনিকতার বীজ দেখা যায়, তাই তাঁকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।
প্রশ্ন ১৪৩: ‘চৈতন্যমঙ্গল’ কাব্যের রচয়িতা জয়ানন্দ কোন শতকের কবি?
ক) পঞ্চদশ শতক
খ) ষোড়শ শতক
গ) সপ্তদশ শতক
ঘ) অষ্টাদশ শতক
উত্তর: খ) ষোড়শ শতক
ব্যাখ্যা: জয়ানন্দ ষোড়শ শতকের একজন কবি ছিলেন, যিনি চৈতন্যদেবের জীবনভিত্তিক কাব্য ‘চৈতন্যমঙ্গল’ রচনা করেন।
প্রশ্ন ১৪৪: ‘রায়গুণাকর’ উপাধিটি কার ছিল?
ক) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
খ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
গ) বিজয়গুপ্ত
ঘ) কৃত্তিবাস ওঝা
উত্তর: ক) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা: ভারতচন্দ্র রায় ছিলেন অষ্টাদশ শতকের একজন বিখ্যাত কবি, যিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন এবং ‘রায়গুণাকর’ উপাধি পেয়েছিলেন।
প্রশ্ন ১৪৫: ‘চন্দ্রাবতী’ কাব্যটির রচয়িতা কে?
ক) চণ্ডীদাস
খ) নয়নচাঁদ ঘোষ (দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা চন্দ্রাবতীর নামে প্রচলিত পালা)
গ) মীরাবাঈ
ঘ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
উত্তর: খ) নয়নচাঁদ ঘোষ (দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা চন্দ্রাবতীর নামে প্রচলিত পালা)
ব্যাখ্যা: ‘চন্দ্রাবতী’ বা ‘দস্যু কেনারামের পালা’ মৈমনসিংহ গীতিকার একটি উল্লেখযোগ্য পালা। এটি রচনা করেন নয়নচাঁদ ঘোষ। তবে এর কাহিনির নায়িকা চন্দ্রাবতী, যিনি কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি হিসেবেও পরিচিত। তিনি নিজেও ‘রামায়ণ’সহ অন্যান্য কাব্য রচনা করেছিলেন। প্রশ্নে ‘চন্দ্রাবতী কাব্য’ বলতে সম্ভবত এই পালাটিকেই বোঝানো হয়েছে।
প্রশ্ন ১৪৬: বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক কমেডি নাটক (প্রহসন) কোনটি?
ক) সধবার একাদশী
খ) বিয়ে পাগলা বুড়ো
গ) একেই কি বলে সভ্যতা?
ঘ) নীলদর্পণ
উত্তর: গ) একেই কি বলে সভ্যতা?
ব্যাখ্যা: মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘একেই কি বলে সভ্যতা?’ (১৮৬০) এবং ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ (১৮৬০) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক প্রহসন বা কমেডি নাটক।
প্রশ্ন ১৪৭: ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের পটভূমি কোনটি?
ক) শহর কলকাতা
খ) সুন্দরবনের জঙ্গল
গ) মরুভূমি
ঘ) সমুদ্র উপকূল (মেদিনীপুরের দৌলতপুর ও সংলগ্ন অঞ্চল)
উত্তর: ঘ) সমুদ্র উপকূল (মেদিনীপুরের দৌলতপুর ও সংলগ্ন অঞ্চল)
ব্যাখ্যা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের কাহিনি মূলত মেদিনীপুরের দৌলতপুর ও সংলগ্ন সমুদ্র উপকূলবর্তী জীবনের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
প্রশ্ন ১৪৮: ‘গীতবিতান’ কার রচনা?
ক) কাজী নজরুল ইসলাম
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
উত্তর: খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা: ‘গীতবিতান’ হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সকল গানের সংকলন।
প্রশ্ন ১৪৯: ‘ধূমকেতু’ পত্রিকাটি কোন ধরনের পত্রিকা ছিল?
ক) সাহিত্য পত্রিকা
খ) রাজনৈতিক ও সামাজিক পত্রিকা
গ) বিজ্ঞান পত্রিকা
ঘ) শিশুতোষ পত্রিকা
উত্তর: খ) রাজনৈতিক ও সামাজিক পত্রিকা
ব্যাখ্যা: কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত ‘ধূমকেতু’ (১৯২২) ছিল একটি অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা, যা ব্রিটিশ বিরোধী ও সমাজ সংস্কারমূলক চিন্তাভাবনা প্রচার করত।
প্রশ্ন ১৫০: বাংলা সাহিত্যের প্রথম আধুনিক মহাকাব্য কোনটি?
ক) মেঘনাদবধ কাব্য
খ) বৃত্রসংহার কাব্য
গ) রৈবতক কাব্য
ঘ) মহাশ্মশান কাব্য
উত্তর: ক) মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা: মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ (১৮৬১) হলো বাংলা সাহিত্যের প্রথম আধুনিক ও সার্থক মহাকাব্য।
প্রশ্ন ১৫১: ‘পটচিত্র’ মূলত কোন ধরনের শিল্পের অন্তর্গত?
ক) ভাস্কর্য
খ) চিত্রকলা
গ) সঙ্গীত
ঘ) নৃত্য
উত্তর: খ) চিত্রকলা
ব্যাখ্যা: পটচিত্র হলো এক ধরনের লোকচিত্রকলা, যা কাপড়ের উপর বা কাগজের পটের উপর আঁকা হয়।
প্রশ্ন ১৫২: বাংলার লোকনৃত্য ‘গম্ভীরার’ মূল বিষয়বস্তু কী?
ক) প্রেম ও বিরহ
খ) ধর্ম ও সমাজ (শিবের স্তুতি ও সামাজিক ব্যঙ্গ)
গ) যুদ্ধ ও বীরত্ব
ঘ) প্রকৃতি ও উৎসব
উত্তর: খ) ধর্ম ও সমাজ (শিবের স্তুতি ও সামাজিক ব্যঙ্গ)
ব্যাখ্যা: গম্ভীরা নৃত্য ও গান মূলত শিবের স্তুতি এবং সমসাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যঙ্গ নিয়ে পরিবেশিত হয়।
প্রশ্ন ১৫৩: ‘নকশি কাঁথা’ শিল্প কোন অঞ্চলের গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত?
ক) উত্তরবঙ্গ
খ) পূর্ববঙ্গ (বাংলাদেশ) ও পশ্চিমবঙ্গ
গ) পশ্চিম মেদিনীপুর
ঘ) কলকাতা
উত্তর: খ) পূর্ববঙ্গ (বাংলাদেশ) ও পশ্চিমবঙ্গ
ব্যাখ্যা: নকশি কাঁথা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পগুলির মধ্যে অন্যতম এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও এর প্রচলন আছে। এটি উভয় বাংলারই গ্রামীণ জীবনের সাথে যুক্ত।
প্রশ্ন ১৫৪: বাংলার ‘ছৌ মুখোশ’ মূলত কোন জেলায় তৈরি হয়?
ক) বাঁকুড়া
খ) পুরুলিয়া
গ) বীরভূম
ঘ) পশ্চিম মেদিনীপুর
উত্তর: খ) পুরুলিয়া
ব্যাখ্যা: পুরুলিয়ার ছৌ নাচ এবং তার ঐতিহ্যবাহী মুখোশ (বিশেষত চড়িদা গ্রামের মুখোশ) বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত।
প্রশ্ন ১৫৫: ‘বাউল ফকির’দের গান কোন ধারার সঙ্গীত?
ক) শাস্ত্রীয় সঙ্গীত
খ) লোকসংগীত
গ) আধুনিক গান
ঘ) রবীন্দ্রসংগীত
উত্তর: খ) লোকসংগীত
ব্যাখ্যা: বাউল গান বাংলার লোকসংগীতের একটি স্বতন্ত্র ও সমৃদ্ধ ধারা, যা আধ্যাত্মিক সাধনা এবং মানবধর্মের কথা বলে।
প্রশ্ন ১৫৬: বাংলা চলচ্চিত্রের ‘স্বর্ণযুগ’ বলতে কোন সময়কালকে বোঝানো হয়?
ক) ১৯৪০-৫০ এর দশক
খ) ১৯৫০-৭০ এর দশক
গ) ১৯৭০-৮০ এর দশক
ঘ) ১৯৯০ এর দশক
উত্তর: খ) ১৯৫০-৭০ এর দশক
ব্যাখ্যা: এই সময়ে সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেন প্রমুখের হাত ধরে বাংলা চলচ্চিত্র বিশ্ব দরবারে পরিচিতি লাভ করে এবং শৈল্পিক উৎকর্ষের শিখরে পৌঁছায়।
প্রশ্ন ১৫৭: বাংলার ‘সাঁওতালি নাচ’ কোন নৃত্যের একটি অংশ?
ক) শাস্ত্রীয় নৃত্য
খ) উপজাতি নৃত্য / লোকনৃত্য
গ) আধুনিক নৃত্য
ঘ) উপরের কোনোটিই নয়
উত্তর: খ) উপজাতি নৃত্য / লোকনৃত্য
ব্যাখ্যা: সাঁওতালি নাচ হলো সাঁওতাল উপজাতির ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য, যা তাদের উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়। এটি উপজাতীয় নৃত্যের একটি বিশিষ্ট উদাহরণ।
প্রশ্ন ১৫৮: বাংলার কোন সঙ্গীত ধারাটি মূলত নৌকা বাইচ বা দীর্ঘযাত্রার সময় গাওয়া হয়?
ক) ভাওয়াইয়া
খ) ভাটিয়ালি / সারি গান
গ) ঝুমুর
ঘ) কীর্তন
উত্তর: খ) ভাটিয়ালি / সারি গান
ব্যাখ্যা: ভাটিয়ালি গান মূলত বাংলাদেশের নদীমাতৃক অঞ্চলের মাঝিমাল্লাদের দ্বারা গাওয়া হয়, যা নদীর নিরিবিলি পরিবেশে ভেসে যাওয়ার সময় একাকীত্ব ও বিরহের সুর বহন করে। সারি গান নৌকা বাইচের সময় দলবদ্ধভাবে গাওয়া হয়।
প্রশ্ন ১৫৯: ‘অবন ঠাকুর’ নামে কে পরিচিত ছিলেন?
ক) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঘ) জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর: ক) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা: অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন একজন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী এবং ঠাকুর পরিবারের অন্যতম সদস্য, যিনি ‘বেঙ্গল স্কুল অফ আর্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ‘অবন ঠাকুর’ নামেও পরিচিত ছিলেন।
প্রশ্ন ১৬০: ‘নন্দন’ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি কোথায় অবস্থিত?
ক) শান্তিনিকেতন
খ) কলকাতা
গ) হাওড়া
ঘ) দিল্লী
উত্তর: খ) কলকাতা
ব্যাখ্যা: ‘নন্দন’ কলকাতার একটি বিখ্যাত প্রেক্ষাগৃহ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, যা মূলত চলচ্চিত্র প্রদর্শন এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন ১৬১: ‘নবজাগরণ’ শব্দটি বাংলার কোন শতকের প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়?
ক) অষ্টাদশ শতক
খ) উনিশ শতক
গ) বিংশ শতক
ঘ) একবিংশ শতক
উত্তর: খ) উনিশ শতক
ব্যাখ্যা: উনিশ শতকে বাংলায় যে জ্ঞানচর্চা, সমাজ সংস্কার এবং শিল্প-সাহিত্যের বিকাশ ঘটে, তাকে ‘বাংলা নবজাগরণ’ বলা হয়।
প্রশ্ন ১৬২: ‘তত্ত্ববোধিনী সভা’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
ক) রামমোহন রায়
খ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ঘ) অক্ষয়কুমার দত্ত
উত্তর: খ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা: ১৮৩৯ সালে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘তত্ত্ববোধিনী সভা’ প্রতিষ্ঠা করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল ব্রহ্মধর্মের প্রচার ও জ্ঞানচর্চা।
প্রশ্ন ১৬৩: ‘গ্রামীণ জীবন’ ও ‘প্রকৃতি’র নিবিড় বর্ণনার জন্য কোন ঔপন্যাসিক বিখ্যাত?
ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর উপন্যাস ও ছোটগল্পে গ্রামবাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাধারণ মানুষের জীবনকে অসাধারণ নিপুণতায় তুলে ধরেছেন। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী।
প্রশ্ন ১৬৪: বাংলা সাহিত্যের ‘কল্লোল আন্দোলন’ কোন পত্রিকার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল?
ক) সবুজপত্র
খ) কল্লোল
গ) বঙ্গদর্শন
ঘ) শনিবারের চিঠি
উত্তর: খ) কল্লোল
ব্যাখ্যা: ‘কল্লোল’ (১৯২৩) পত্রিকা এবং তাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সাহিত্যিক গোষ্ঠী রবীন্দ্রনাথের প্রভাব বলয় থেকে বেরিয়ে এসে নতুন রচনারীতি ও ভাবনার উন্মোচন করে, যা ‘কল্লোল যুগ’ বা ‘কল্লোল আন্দোলন’ নামে পরিচিত। (প্রশ্নে ‘ফরাসি আন্দোলন’ উল্লেখ ছিল, যা সম্ভবত ‘কল্লোল আন্দোলন’ হবে)।
প্রশ্ন ১৬৫: ‘গণদেবতা’ উপন্যাসটি কার রচনা?
ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ঘ) সতীনাথ ভাদুড়ী
উত্তর: খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই উপন্যাসটি গ্রামবাংলার আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের এক বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরে।
প্রশ্ন ১৬৬: ‘যুক্তিবাগীশ’ নামে কে পরিচিত ছিলেন?
ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
খ) অক্ষয়কুমার দত্ত
গ) রামমোহন রায়
ঘ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর: খ) অক্ষয়কুমার দত্ত
ব্যাখ্যা: অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন একজন যুক্তিবাদী চিন্তাবিদ এবং ‘তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা’র সম্পাদক, যিনি বিজ্ঞান ও যুক্তির আলোকে সমাজকে দেখতে চেয়েছিলেন। তাঁকে ‘যুক্তিবাগীশ’ বলা হতো।
প্রশ্ন ১৬৭: বাংলা সাহিত্যের ‘হাস্যরস’ ও ‘ব্যঙ্গ’ রচনার জন্য পরিচিত একজন সাহিত্যিক কে?
ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গ) সুকুমার রায়
ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর: গ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা: সুকুমার রায় তাঁর ‘আবোল তাবোল’, ‘হ-য-ব-র-ল’ ইত্যাদি রচনার মাধ্যমে বাংলা শিশুসাহিত্যে হাস্যরস ও ননসেন্স সাহিত্যের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। এছাড়াও পরশুরাম (রাজশেখর বসু) ব্যঙ্গ রচনার জন্য খ্যাত।
প্রশ্ন ১৬৮: ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ রচনার জন্য কোন গবেষক বিখ্যাত?
ক) সুকুমার সেন
খ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ঘ) দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর: ক) সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা: ড. সুকুমার সেনের ‘বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস’ (৫ খণ্ডে) বাংলা সাহিত্যের একটি প্রামাণ্য গ্রন্থ। দীনেশচন্দ্র সেনও ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’ নামে গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস গ্রন্থ রচনা করেন।
প্রশ্ন ১৬৯: ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ’ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক) ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে
খ) ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে
গ) ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে
ঘ) ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: গ) ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা: বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা ও উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ১৮৯৩ সালে ‘দ্য বেঙ্গল আকাদেমি অফ লিটারেচার’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরের বছর ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ’ নামে পরিবর্তিত হয়।
প্রশ্ন ১৭০: বাংলার ‘লোকসংস্কৃতির জাদুঘর’ হিসেবে পরিচিত একটি স্থান কোনটি?
ক) ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম, কলকাতা
খ) আশুতোষ মিউজিয়াম অফ ইন্ডিয়ান আর্ট, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
গ) গুরুসদয় মিউজিয়াম, ঠাকুরপুকুর
ঘ) ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল
উত্তর: গ) গুরুসদয় মিউজিয়াম, ঠাকুরপুকুর
ব্যাখ্যা: গুরুসদয় দত্ত কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরটিতে বাংলার লোকশিল্প ও সংস্কৃতির বিভিন্ন নিদর্শন (যেমন – কাঁথা, পটচিত্র, ব্রতপার্বণের জিনিস) সংগৃহীত আছে।
প্রশ্ন ১৭১: বাংলা ভাষার ‘ব্যঞ্জনসন্ধি’র একটি উদাহরণ দাও:
ক) বিদ্যালয় (বিদ্যা+আলয়)
খ) হিমালয় (হিম+আলয়)
গ) সজ্জন (সৎ+জন)
ঘ) যথেষ্ট (যথা+ইষ্ট)
উত্তর: গ) সজ্জন (সৎ+জন)
ব্যাখ্যা: দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি পাশাপাশি এসে যে পরিবর্তন ঘটায়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। এখানে ‘ৎ’ এবং ‘জ’ মিলে ‘জ্জ’ হয়েছে।
প্রশ্ন ১৭২: বাংলা ভাষার ‘দ্বিরুক্তি’ বলতে কী বোঝায়?
ক) দুটি ভিন্ন শব্দ
খ) একই শব্দ দু’বার ব্যবহার
গ) একটি শব্দের বিপরীত শব্দ
ঘ) দুটি সমার্থক শব্দ
উত্তর: খ) একই শব্দ দু’বার ব্যবহার
ব্যাখ্যা: দ্বিরুক্তি হলো একই শব্দ বা পদ পরপর দু’বার ব্যবহৃত হয়ে একটি বিশেষ অর্থ প্রকাশ করা, যেমন ‘জল জল’ (আরও বেশি জল), ‘ধীরে ধীরে’।
প্রশ্ন ১৭৩: বাংলা ব্যাকরণে ‘ধাতু’ বলতে কী বোঝায়?
ক) শব্দের মূল অংশ
খ) ক্রিয়াপদের মূল অংশ
গ) বিশেষ্য পদের মূল অংশ
ঘ) সর্বনামের মূল অংশ
উত্তর: খ) ক্রিয়াপদের মূল অংশ
ব্যাখ্যা: ধাতু হলো ক্রিয়াপদের সেই অবিভাজ্য অংশ যা থেকে ক্রিয়া পদ গঠিত হয়, যেমন ‘কর’, ‘যা’, ‘খা’ ইত্যাদি।
প্রশ্ন ১৭৪: বাংলা ভাষার ‘অসমাপিকা ক্রিয়া’র একটি উদাহরণ দাও:
ক) করছে
খ) করেছে
গ) করতে
ঘ) করবে
উত্তর: গ) করতে
ব্যাখ্যা: অসমাপিকা ক্রিয়া হলো যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না এবং বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য অন্য একটি সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। যেমন – ‘সে ভাত খেয়ে স্কুলে গেল’ (খেয়ে)। ‘করতে’, ‘গেলে’, ‘শুনলে’ ইত্যাদি অসমাপিকা ক্রিয়ার রূপ।
প্রশ্ন ১৭৫: বাংলা ভাষার ‘ধ্বনি পরিবর্তন’-এর একটি উদাহরণ কোনটি?
ক) বর্ণলোপ
খ) বর্ণাগম
গ) স্বরসংগতি
ঘ) উপরের সবগুলি
উত্তর: ঘ) উপরের সবগুলি
ব্যাখ্যা: ধ্বনি পরিবর্তন বিভিন্ন উপায়ে হতে পারে, যেমন – বর্ণলোপ (যেমন – অপিনিহিতি, স্বরলোপ), বর্ণাগম (যেমন – আদি স্বরাগম, মধ্য স্বরাগম), এবং স্বরসংগতি (পারস্পরিক স্বরধ্বনির প্রভাবে পরিবর্তন)।
প্রশ্ন ১৭৬: ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যটি কোন যুগের রচনা?
ক) আদি যুগ
খ) মধ্য যুগের প্রাক্-চৈতন্য পর্ব
গ) মধ্য যুগের চৈতন্য পরবর্তী পর্ব
ঘ) আধুনিক যুগ
উত্তর: খ) মধ্য যুগের প্রাক্-চৈতন্য পর্ব
ব্যাখ্যা: ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যটি চতুর্দশ শতকের শেষ ভাগ বা পঞ্চদশ শতকের প্রথম দিকের রচনা বলে অনুমান করা হয়, যা চৈতন্যদেবের জন্মের পূর্ববর্তী।
প্রশ্ন ১৭৭: ‘চৈতন্যভাগবত’ গ্রন্থটি মূলত কী ধরনের রচনা?
ক) কাব্য
খ) নাটক
গ) জীবনীগ্রন্থ
ঘ) উপন্যাস
উত্তর: গ) জীবনীগ্রন্থ
ব্যাখ্যা: বৃন্দাবন দাস রচিত ‘চৈতন্যভাগবত’ হলো চৈতন্যদেবের জীবন ও অলৌকিক লীলার উপর ভিত্তি করে রচিত একটি প্রামাণ্য জীবনীগ্রন্থ।
প্রশ্ন ১৭৮: ‘বিজয়গুপ্ত’ কোন মঙ্গলকাব্যের কবি?
ক) মনসামঙ্গল
খ) চণ্ডীমঙ্গল
গ) ধর্মমঙ্গল
ঘ) অন্নদামঙ্গল
উত্তর: ক) মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা: বিজয়গুপ্ত ছিলেন মনসামঙ্গল কাব্যের একজন বিখ্যাত কবি, তাঁর কাব্য ‘পদ্মপুরাণ’ নামেও পরিচিত।
প্রশ্ন ১৭৯: ‘বৈষ্ণব পদাবলী’র একজন গুরুত্বপূর্ণ পদকর্তা কে ছিলেন, যিনি মৈথিল কোকিল নামেও পরিচিত?
ক) চণ্ডীদাস
খ) জয়দেব
গ) বিদ্যাপতি
ঘ) জ্ঞানদাস
উত্তর: গ) বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা: মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় রাধা-কৃষ্ণ লীলা নিয়ে পদ রচনা করে খ্যাতি লাভ করেন এবং ‘মৈথিল কোকিল’ উপাধি লাভ করেন।
প্রশ্ন ১৮০: ‘ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর’-এর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
ক) বেতালপঞ্চবিংশতি
খ) শকুন্তলা
গ) সীতার বনবাস
ঘ) প্রভাবতী সম্ভাষণ
উত্তর: ক) বেতালপঞ্চবিংশতি
ব্যাখ্যা: ১৮৪৭ সালে প্রকাশিত ‘বেতালপঞ্চবিংশতি’ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম উল্লেখযোগ্য মৌলিক গ্রন্থ না হলেও, এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থগুলির মধ্যে অন্যতম (হিন্দি ‘বৈতাল পচীসী’ অবলম্বনে রচিত)। তাঁর প্রথম মৌলিক রচনা ‘প্রভাবতী সম্ভাষণ’ (মৌলিক শোককাব্য)।
প্রশ্ন ১৮১: ‘নবীনচন্দ্র সেন’-এর বিখ্যাত মহাকাব্য কোনটি?
ক) মেঘনাদবধ কাব্য
খ) রৈবতক (ত্রয়ী কাব্যের প্রথম খণ্ড)
গ) বৃত্রসংহার কাব্য
ঘ) মহাভারত
উত্তর: খ) রৈবতক (ত্রয়ী কাব্যের প্রথম খণ্ড)
ব্যাখ্যা: নবীনচন্দ্র সেনের ‘রৈবতক’, ‘কুরুক্ষেত্র’, ‘প্রভাস’ – এই তিন খণ্ড মহাকাব্য একত্রে ‘ত্রয়ী মহাকাব্য’ নামে পরিচিত। ‘রৈবতক’ এর প্রথম খণ্ড।
প্রশ্ন ১৮২: বাংলা সাহিত্যে ‘বঙ্কিমী স্টাইল’ বলতে কী বোঝায়?
ক) সহজ সরল গদ্যরীতি
খ) সাধু ভাষার ব্যবহার
গ) নাটকীয়তা, ওজস্বিতা, গভীর বিশ্লেষণ ও বর্ণনা সমৃদ্ধ গুরুগম্ভীর গদ্য
ঘ) কবিতার মতো ছন্দোবদ্ধ গদ্য
উত্তর: গ) নাটকীয়তা, ওজস্বিতা, গভীর বিশ্লেষণ ও বর্ণনা সমৃদ্ধ গুরুগম্ভীর গদ্য
ব্যাখ্যা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর উপন্যাসে ও প্রবন্ধে যে স্বতন্ত্র গদ্যশৈলী তৈরি করেন, তাতে নাটকীয়তা, চরিত্রচিত্রণে দক্ষতা, ভাষার ওজস্বিতা এবং গভীর বিশ্লেষণধর্মিতা পরিলক্ষিত হয়। এটি ‘বঙ্কিমী স্টাইল’ নামে পরিচিত।
প্রশ্ন ১৮৩: ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ কোন ছন্দে রচিত?
ক) অমিত্রাক্ষর ছন্দ
খ) পয়ার ছন্দ
গ) ত্রিপদী ছন্দ
ঘ) স্বরবৃত্ত ছন্দ
উত্তর: ক) অমিত্রাক্ষর ছন্দ
ব্যাখ্যা: মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ এবং ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ উভয়ই অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচনা করেন, যা বাংলা কাব্যে এক নতুন দিক উন্মোচন করে।
প্রশ্ন ১৮৪: ‘ঘরে বাইরে’ উপন্যাসটি কার লেখা?
ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ঘ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ঘরে বাইরে’ (১৯১৬) উপন্যাসটি স্বদেশী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
প্রশ্ন ১৮৫: ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
ঘ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ একটি রাজনৈতিক উপন্যাস, যা ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়েছিল।
প্রশ্ন ১৮৬: বাংলার লোকশিল্প ‘শাঁখের কাজ’ মূলত কোন উৎসবের সঙ্গে যুক্ত?
ক) দুর্গাপূজা
খ) বিবাহ
গ) অন্নপ্রাশন
ঘ) উপরের সবগুলি
উত্তর: ঘ) উপরের সবগুলি
ব্যাখ্যা: শাঁখের কাজ বা শাঁখার কাজ হলো শাঁখ কেটে বা শাঁখের উপর বিভিন্ন নকশা করে অলঙ্কার (যেমন শাঁখা, পলা) তৈরির শিল্প, যা বিবাহ, পূজাসহ বিভিন্ন শুভ অনুষ্ঠানে বাঙালি হিন্দু রমণীদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন ১৮৭: বাংলার ‘গণেশ জননী’ চিত্রকর্মটি কে এঁকেছিলেন?
ক) যামিনী রায়
খ) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গ) নন্দলাল বসু
ঘ) গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর: খ) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা: অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘গণেশ জননী’ এবং ‘ভারত মাতা’ চিত্রকর্মের জন্য বিখ্যাত।
প্রশ্ন ১৮৮: বাংলার লোকনৃত্য ‘রায়বেঁশে’ মূলত কোন ধরনের নৃত্য?
ক) নারীপ্রধান নৃত্য
খ) যুদ্ধভিত্তিক পুরুষপ্রধান নৃত্য
গ) ধর্মীয় নৃত্য
ঘ) ঋতুভিত্তিক নৃত্য
উত্তর: খ) যুদ্ধভিত্তিক পুরুষপ্রধান নৃত্য
ব্যাখ্যা: রায়বেঁশে ছিল প্রাচীনকালের রায়বেঁশে সৈনিকদের যুদ্ধনৃত্য, যা বর্তমানে বাংলার লোকনৃত্য হিসেবে পরিচিত এবং এটি একটি পুরুষপ্রধান বীরত্বব্যঞ্জক নৃত্য।
প্রশ্ন ১৮৯: বাংলা চলচ্চিত্রের ‘পথের পাঁচালী’ কবে মুক্তি পায়?
ক) ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে
খ) ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে
গ) ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে
ঘ) ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: খ) ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা: সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘পথের পাঁচালী’ ১৯৫৫ সালে মুক্তি পায় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা লাভ করে।
প্রশ্ন ১৯০: ‘কীর্তন’ কোন ধরনের সঙ্গীত?
ক) লোকসংগীত
খ) শাস্ত্রীয় সঙ্গীত
গ) ভক্তিমূলক সঙ্গীত
ঘ) আধুনিক গান
উত্তর: গ) ভক্তিমূলক সঙ্গীত
ব্যাখ্যা: কীর্তন হলো রাধা-কৃষ্ণের লীলা বা অন্যান্য দেবদেবীর মহিমা অবলম্বনে রচিত এক ধরনের ভক্তিমূলক সঙ্গীত, যা শ্রীচৈতন্যদেবের হাত ধরে বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করে।
প্রশ্ন ১৯১: বাংলার ‘টেরাকোটা মন্দির’গুলির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য কী?
ক) পাথর দিয়ে তৈরি
খ) কাঁচ দিয়ে সজ্জিত
গ) পোড়ামাটির ফলকে অলঙ্কৃত
ঘ) শুধু কাঠ দিয়ে তৈরি
উত্তর: গ) পোড়ামাটির ফলকে অলঙ্কৃত
ব্যাখ্যা: বাংলার বহু প্রাচীন মন্দির, বিশেষত বিষ্ণুপুর, কালনা, গুপ্তিপাড়ার মন্দিরগুলিতে পোড়ামাটির ফলকে পৌরাণিক ও সামাজিক জীবনের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
প্রশ্ন ১৯২: বাংলার লোকনৃত্য ‘গাজনের গান’ কোন উৎসবের সঙ্গে যুক্ত?
ক) দুর্গাপূজা
খ) চৈত্রসংক্রান্তি (শিবের গাজন)
গ) পৌষ সংক্রান্তি
ঘ) নবান্ন
উত্তর: খ) চৈত্রসংক্রান্তি (শিবের গাজন)
ব্যাখ্যা: চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে শিবের গাজন উৎসবে ‘গাজনের গান’ ও সংশ্লিষ্ট নৃত্য পরিবেশিত হয়।
প্রশ্ন ১৯৩: ‘মণিপুরী নৃত্য’ বাংলায় কোন অঞ্চলে বিশেষভাবে চর্চিত হয়?
ক) পুরুলিয়া
খ) শান্তিনিকেতন
গ) হাওড়া
ঘ) ঢাকা
উত্তর: খ) শান্তিনিকেতন
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে বিভিন্ন ভারতীয় নৃত্যশৈলী, যেমন মণিপুরী, কথাকলি ইত্যাদি প্রবর্তন করেন এবং এর চর্চার ক্ষেত্র তৈরি করেন। এছাড়াও বৃহত্তর সিলেটেও মণিপুরী নৃত্যের প্রচলন আছে।
প্রশ্ন ১৯৪: বাংলা নাটকের ‘অন্ধকারে আলো’ নামে পরিচিত একজন অভিনেত্রী কে?
ক) বিনোদিনী দাসী
খ) তারাসুন্দরী
গ) রাণী রাসমণি
ঘ) কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তর: ক) বিনোদিনী দাসী
ব্যাখ্যা: বিনোদিনী দাসী (নটী বিনোদিনী) ছিলেন উনিশ শতকের বাংলা থিয়েটারের এক কিংবদন্তী অভিনেত্রী, যিনি তাঁর অভিনয় প্রতিভা দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন এবং বাংলা থিয়েটারের অন্ধকার যুগে আলোর দিশা দেখিয়েছিলেন।
প্রশ্ন ১৯৫: ‘উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত’-এর একটি ধারা ‘ঠুমরি’ কোন অঞ্চলের সঙ্গীত?
ক) পাঞ্জাব
খ) উত্তরপ্রদেশ
গ) বাংলা
ঘ) রাজস্থান
উত্তর: খ) উত্তরপ্রদেশ
ব্যাখ্যা: ঠুমরি ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের একটি প্রেমমূলক লঘু শাস্ত্রীয় ধারা, যা মূলত উত্তরপ্রদেশের লখনউ ও বেনারস অঞ্চলে বিকশিত হয়েছিল। বাংলাতেও এর চর্চা হয়।
প্রশ্ন ১৯৬: ‘নীলদর্পণ’ নাটকটি কোন আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল?
ক) বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন
খ) নীল বিদ্রোহ
গ) সিপাহী বিদ্রোহ
ঘ) অসহযোগ আন্দোলন
উত্তর: খ) নীল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা: দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটকটি (১৮৬০) ব্রিটিশ নীলকরদের বিরুদ্ধে নীলচাষীদের বিদ্রোহের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছিল এবং এই আন্দোলনকে সমর্থন জুগিয়েছিল।
প্রশ্ন ১৯৭: ‘ইয়ং বেঙ্গল’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি কে?
ক) রামমোহন রায়
খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
গ) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ঘ) কেশবচন্দ্র সেন
উত্তর: গ) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা: হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ছিলেন উনিশ শতকের একজন শিক্ষক ও চিন্তাবিদ, যিনি তাঁর ছাত্রছাত্রীদের (ইয়ং বেঙ্গল) মধ্যে স্বাধীন চিন্তাভাবনা ও যুক্তিবাদী চেতনা জাগিয়ে তুলেছিলেন।
প্রশ্ন ১৯৮: ‘কেরি সাহেবের মুন্সি’ নামে কে পরিচিত ছিলেন?
ক) রামরাম বসু
খ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
গ) গোলকনাথ শর্মা
ঘ) উইলিয়াম কেরি
উত্তর: ক) রামরাম বসু
ব্যাখ্যা: রামরাম বসু ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের একজন পণ্ডিত এবং উইলিয়াম কেরির সহকারী (মুন্সি), যিনি বাংলা গদ্যের বিকাশে ভূমিকা রেখেছিলেন (‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা)।
প্রশ্ন ১৯৯: ‘সমাচার দর্পণ’ পত্রিকাটি কারা প্রকাশ করতেন?
ক) রামমোহন রায়
খ) শ্রীরামপুর মিশন (মার্শম্যান প্রমুখ)
গ) ডেভিড হেয়ার
ঘ) অক্ষয়কুমার দত্ত
উত্তর: খ) শ্রীরামপুর মিশন (মার্শম্যান প্রমুখ)
ব্যাখ্যা: শ্রীরামপুর ব্যাপ্টিস্ট মিশন থেকে ১৮১৮ সালে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় ‘সমাচার দর্পণ’ নামে বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। এটি প্রথম বাংলা সংবাদপত্র। (প্রশ্নে ‘সমাজদর্পণ’ ছিল, সঠিক নাম ‘সমাচার দর্পণ’)।
প্রশ্ন ২০০: বাংলা সাহিত্যের ‘হাস্যরসের রাজা’ নামে কে পরিচিত?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
গ) সুকুমার রায়
ঘ) পরশুরাম (রাজশেখর বসু)
উত্তর: গ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা: সুকুমার রায় তাঁর অসাধারণ ননসেন্স রাইম ও হাস্যরসাত্মক লেখার জন্য বাংলা শিশুসাহিত্যে এক অমর স্থান লাভ করেছেন এবং প্রায়শই ‘হাস্যরসের রাজা’ বা এই জাতীয় বিশেষণে অভিহিত হন। পরশুরামও (রাজশেখর বসু) প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ব্যঙ্গ ও হাস্যরসাত্মক রচনার জন্য খ্যাত।
প্রশ্ন ২০১: ‘আরণ্যক’ উপন্যাসটি কোন ধরনের উপন্যাস?
ক) ঐতিহাসিক
খ) সামাজিক
গ) প্রকৃতি ও অরণ্যকেন্দ্রিক
ঘ) গোয়েন্দা
উত্তর: গ) প্রকৃতি ও অরণ্যকেন্দ্রিক
ব্যাখ্যা: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘আরণ্যক’ (১৯৩৯) বিহারের লবটুলিয়া ও নাঢ়া বইহারের দুর্গম অরণ্য ও তার আদিবাসী মানুষের জীবনকে কেন্দ্র করে লেখা এক অনন্য উপন্যাস।
প্রশ্ন ২০২: ‘কল্লোল’ পত্রিকা কোন সাল থেকে প্রকাশিত হয়?
ক) ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে
খ) ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে
গ) ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে
ঘ) ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: ঘ) ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা: ১৯২৩ সালে গোকুলচন্দ্র নাগ ও দীনেশরঞ্জন দাশের সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘কল্লোল’ পত্রিকাটিকে ঘিরে বাংলা সাহিত্যের আধুনিকতাবাদী আন্দোলন ‘কল্লোল যুগ’ শুরু হয়।
প্রশ্ন ২০৩: ‘গণনাট্য সংঘ’ের একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কে ছিলেন?
ক) বিজন ভট্টাচার্য
খ) শম্ভু মিত্র
গ) উৎপল দত্ত
ঘ) বিনয় ঘোষ
উত্তর: ক) বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা: বিজন ভট্টাচার্য ভারতীয় গণনাট্য সংঘ (IPTA)-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন এবং এই সংঘের জন্য বহু নাটক (যেমন ‘নবান্ন’) রচনা ও পরিচালনা করেছেন। শম্ভু মিত্র, উৎপল দত্তও পরবর্তীকালে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন।
প্রশ্ন ২০৪: ‘ব্রহ্মসঙ্গীত’ কোন ধর্মীয় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত?
ক) আর্য সমাজ
খ) প্রার্থনা সমাজ
গ) ব্রাহ্ম সমাজ
ঘ) রামকৃষ্ণ মিশন
উত্তর: গ) ব্রাহ্ম সমাজ
ব্যাখ্যা: ব্রহ্মসঙ্গীত হলো ব্রাহ্ম সমাজের উপাসনার জন্য রচিত ভক্তিমূলক গান, যা রামমোহন রায়, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখের দ্বারা সমৃদ্ধ হয়েছে।
প্রশ্ন ২০৫: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন ছদ্মনামে ‘কমলাকান্তের দপ্তর’ রচনা করেন?
ক) কমলাকান্ত চক্রবর্তী
খ) হুতোম প্যাঁচা
গ) পরশুরাম
ঘ) শ্রীভীমদেব
উত্তর: ক) কমলাকান্ত চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘কমলাকান্তের দপ্তর’ গ্রন্থে ‘কমলাকান্ত চক্রবর্তী’ নামক এক আফিমখোর ব্রাহ্মণের জবানিতে বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক ও দার্শনিক প্রবন্ধ রচনা করেন। তাই এটি কমলাকান্তের ছদ্মনামে পরিচিত।