ভারতীয় ইতিহাসের নির্বাচিত বিষয়ের উপর MCQ প্রশ্নাবলী
সিন্ধু সভ্যতা: বৈশিষ্ট্য ও পতন
1. সিন্ধু সভ্যতার কোন কেন্দ্রটিতে বৃহৎ শস্যাগার (Great Granary) পাওয়া গেছে?
- A) হরপ্পা
- B) মহেঞ্জোদারো
- C) লোথাল
- D) কালিবঙ্গান
সঠিক উত্তর: A) হরপ্পা
ব্যাখ্যা: হরপ্পা এবং মহেঞ্জোদারো উভয় স্থানেই শস্যাগার পাওয়া গেলেও, হরপ্পার শস্যাগারটি আকারে অনেক বড় এবং প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটি দুটি সারিতে নির্মিত ছয়টি করে মোট বারোটি কক্ষ নিয়ে গঠিত ছিল।
2. সিন্ধু সভ্যতার কোন প্রত্নক্ষেত্রটি বর্তমানে ভারতে অবস্থিত নয়?
- A) লোথাল
- B) ধোলাভিরা
- C) মহেঞ্জোদারো
- D) রাখিগড়ি
সঠিক উত্তর: C) মহেঞ্জোদারো
ব্যাখ্যা: মহেঞ্জোদারো বর্তমানে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে অবস্থিত। লোথাল ও ধোলাভিরা গুজরাটে এবং রাখিগড়ি হরিয়ানায় অবস্থিত, যা ভারতের অংশ।
3. সিন্ধু সভ্যতার মানুষের প্রধান জীবিকা কী ছিল?
- A) পশুপালন
- B) কৃষি
- C) শিকার
- D) ব্যবসা-বাণিজ্য
সঠিক উত্তর: B) কৃষি
ব্যাখ্যা: সিন্ধু সভ্যতার অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষিভিত্তিক। তারা গম, যব, তুলা ইত্যাদি চাষ করত। যদিও ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পশুপালনও গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তবে ভিত্তি ছিল কৃষি।
4. বিশ্বের প্রথম বন্দর (Dockyard) কোন সিন্ধু কেন্দ্রে পাওয়া গেছে?
- A) সুরকোটডা
- B) লোথাল
- C) হরপ্পা
- D) চানহুদারো
সঠিক উত্তর: B) লোথাল
ব্যাখ্যা: গুজরাটের লোথালে একটি কৃত্রিম পোতাশ্রয় বা ডকইয়ার্ডের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা বিশ্বের প্রাচীনতম বন্দর হিসেবে পরিচিত। এটি সিন্ধু সভ্যতার সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রমাণ দেয়।
5. সিন্ধু সভ্যতার কোন বৈশিষ্ট্যটি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য?
- A) উন্নত নগর পরিকল্পনা
- B) বিশাল মন্দির
- C) লোহার ব্যবহার
- D) অশ্বকেন্দ্রিক সমাজ
সঠিক উত্তর: A) উন্নত নগর পরিকল্পনা
ব্যাখ্যা: সিন্ধু সভ্যতার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য ছিল এর পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থা। রাস্তাঘাট গ্রিড প্যাটার্নে তৈরি, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, এবং ইটের তৈরি বাড়িঘর এক উন্নত নাগরিক চেতনার পরিচায়ক।
6. সিন্ধু লিপির প্রকৃতি কী ছিল?
- A) বর্ণমালা ভিত্তিক (Alphabetical)
- B) চিত্রলিপি (Pictographic)
- C) শব্দলিপি (Syllabic)
- D) এখনও পাঠোদ্ধার হয়নি
সঠিক উত্তর: D) এখনও পাঠোদ্ধার হয়নি
ব্যাখ্যা: সিন্ধু লিপি মূলত চিত্রভিত্তিক বা চিত্রপ্রতীকধর্মী (Pictographic) হলেও এর পাঠোদ্ধার আজও সম্ভব হয়নি। তাই এর সঠিক প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না।
7. পশুপতি মহাদেবের সিলমোহরটি কোথা থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে?
- A) হরপ্পা
- B) লোথাল
- C) মহেঞ্জোদারো
- D) কালিবঙ্গান
সঠিক উত্তর: C) মহেঞ্জোদারো
ব্যাখ্যা: মহেঞ্জোদারো থেকে প্রাপ্ত একটি বিখ্যাত সিলমোহরে যোগী মুদ্রায় বসে থাকা এক ত্রিশৃঙ্গ দেবতাকে দেখা যায়, যাকে হাতি, বাঘ, গণ্ডার এবং মহিষ ঘিরে রেখেছে। একে ঐতিহাসিকরা আদি-শিব বা পশুপতি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
8. সিন্ধু সভ্যতার কোন কেন্দ্রে লাঙল দিয়ে চাষ করা জমির নিদর্শন পাওয়া গেছে?
- A) ধোলাভিরা
- B) কালিবঙ্গান
- C) লোথাল
- D) বনওয়ালি
সঠিক উত্তর: B) কালিবঙ্গান
ব্যাখ্যা: রাজস্থানের কালিবঙ্গানে প্রাক-হরপ্পা যুগের কর্ষিত কৃষিক্ষেত্রের নিদর্শন পাওয়া গেছে, যা সিন্ধু সভ্যতায় লাঙলের ব্যবহারের প্রাচীনতম প্রমাণ।
9. সিন্ধু সভ্যতার পতনের জন্য কোন কারণটিকে অনেক ঐতিহাসিক দায়ী করেন?
- A) আর্য আক্রমণ
- B) জলবায়ু পরিবর্তন ও বন্যা
- C) ভূমিকম্প
- D) উপরের সবকটি
সঠিক উত্তর: D) উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা: সিন্ধু সভ্যতার পতনের কোনো একটি নির্দিষ্ট কারণ নেই। ঐতিহাসিকরা একাধিক সম্ভাব্য কারণ উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে আর্যদের আগমন (বিতর্কিত তত্ত্ব), জলবায়ু পরিবর্তন, সিন্ধু নদের গতিপথ পরিবর্তন, বারবার বন্যা এবং ভূমিকম্প অন্যতম।
10. ‘মহেঞ্জোদারো’ কথাটির অর্থ কী?
- A) জীবিতের স্তূপ
- B) মৃতের স্তূপ
- C) মহান নগরী
- D) পবিত্র স্থান
সঠিক উত্তর: B) মৃতের স্তূপ
ব্যাখ্যা: সিন্ধি ভাষায় ‘মহেঞ্জোদারো’ শব্দের অর্থ হলো ‘মৃতের স্তূপ’ (Mound of the Dead)।
11. সিন্ধু সভ্যতায় কোন ধাতুর ব্যবহার অজানা ছিল?
- A) তামা
- B) ব্রোঞ্জ
- C) সোনা
- D) লোহা
সঠিক উত্তর: D) লোহা
ব্যাখ্যা: সিন্ধু সভ্যতা ছিল একটি ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা। এখানকার মানুষ তামা, ব্রোঞ্জ, সোনা, রুপা ব্যবহার করত, কিন্তু লোহার ব্যবহার তাদের অজানা ছিল। ভারতে লোহার ব্যবহার শুরু হয় পরবর্তী বৈদিক যুগে।
12. কোন সিন্ধু কেন্দ্রে একটি স্টেডিয়ামের মতো কাঠামোর সন্ধান পাওয়া গেছে?
- A) রাখিগড়ি
- B) হরপ্পা
- C) ধোলাভিরা
- D) মহেঞ্জোদারো
সঠিক উত্তর: C) ধোলাভিরা
ব্যাখ্যা: গুজরাটের ধোলাভিরায় একটি বিশাল খোলা জায়গা পাওয়া গেছে, যাকে কিছু প্রত্নতত্ত্ববিদ একটি স্টেডিয়াম বা জনসমাবেশের স্থান বলে মনে করেন। এটি এর অনন্য নগর পরিকল্পনার একটি অংশ।
13. সিন্ধু সভ্যতার বাণিজ্য সম্পর্ক ছিল কোন সভ্যতার সঙ্গে?
- A) মিশরীয় সভ্যতা
- B) রোমান সভ্যতা
- C) মেসোপটেমীয় সভ্যতা
- D) চীনা সভ্যতা
সঠিক উত্তর: C) মেসোপটেমীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা: মেসোপটেমীয় সভ্যতার বিভিন্ন প্রত্নক্ষেত্রে সিন্ধু সভ্যতার সিলমোহর পাওয়া গেছে, যা দুটি সভ্যতার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। মেসোপটেমীয় লেখাগুলিতে ‘মেলুহা’ নামক একটি স্থানের উল্লেখ পাওয়া যায়, যা সিন্ধু অঞ্চলকেই বোঝায় বলে মনে করা হয়।
14. বৃহৎ স্নানাগার (Great Bath) কোথায় পাওয়া গেছে?
- A) হরপ্পা
- B) মহেঞ্জোদারো
- C) লোথাল
- D) কালিবঙ্গান
সঠিক উত্তর: B) মহেঞ্জোদারো
ব্যাখ্যা: মহেঞ্জোদারোর সবচেয়ে বিখ্যাত স্থাপনা হলো বৃহৎ স্নানাগার। এটি একটি বিশাল জলাধার, যা সম্ভবত ধর্মীয় স্নান বা আনুষ্ঠানিক শুদ্ধিকরণের জন্য ব্যবহৃত হতো। এর নির্মাণশৈলী অত্যন্ত উন্নত ছিল।
15. সিন্ধু সভ্যতার বাড়িঘর মূলত কী দিয়ে তৈরি ছিল?
- A) পাথর
- B) কাঠ
- C) পোড়া ইট
- D) কাঁচা মাটি
সঠিক উত্তর: C) পোড়া ইট
ব্যাখ্যা: সিন্ধু সভ্যতার নগর পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল পোড়া ইটের ব্যাপক ব্যবহার। বাড়িঘর, রাস্তা, নর্দমা ইত্যাদি নির্মাণে একই আকারের পোড়া ইট ব্যবহার করা হতো, যা তাদের উন্নত নির্মাণ জ্ঞানের পরিচায়ক।
16. নৃত্যরতা বালিকার (Dancing Girl) ব্রোঞ্জ মূর্তিটি কোথা থেকে পাওয়া গেছে?
- A) হরপ্পা
- B) লোথাল
- C) মহেঞ্জোদারো
- D) চানহুদারো
সঠিক উত্তর: C) মহেঞ্জোদারো
ব্যাখ্যা: মহেঞ্জোদারো থেকে প্রাপ্ত প্রায় ১১ সেন্টিমিটার উঁচু ব্রোঞ্জের ‘নৃত্যরতা বালিকা’ মূর্তিটি সিন্ধু সভ্যতার ধাতুশিল্পের এক उत्कृष्ट নিদর্শন।
17. সিন্ধু সভ্যতার কোন কেন্দ্রে উন্নত জল সংরক্ষণ ব্যবস্থার নিদর্শন পাওয়া গেছে?
- A) মহেঞ্জোদারো
- B) ধোলাভিরা
- C) কালিবঙ্গান
- D) রাখিগড়ি
সঠিক উত্তর: B) ধোলাভিরা
ব্যাখ্যা: গুজরাটের কচ্ছ অঞ্চলের ধোলাভিরায় একটি অত্যন্ত উন্নত ও জটিল জল সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা প্রণালীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এখানে একাধিক জলাধার, বাঁধ ও পয়ঃনিষ্কাশন প্রণালী ছিল, যা শুষ্ক অঞ্চলে জল ব্যবস্থাপনার उत्कृष्ट উদাহরণ।
18. হরপ্পা সভ্যতার আবিষ্কারক কে?
- A) জন মার্শাল
- B) দয়ারাম সাহানি
- C) রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
- D) আর. ডি. ব্যানার্জি
সঠিক উত্তর: B) দয়ারাম সাহানি
ব্যাখ্যা: ১৯২১ সালে দয়ারাম সাহানি হরপ্পা প্রত্নক্ষেত্রটি আবিষ্কার করেন। রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯২২ সালে মহেঞ্জোদারো আবিষ্কার করেন। জন মার্শাল তখন ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণের ডিরেক্টর-জেনারেল ছিলেন এবং তাঁর নেতৃত্বেই এই খননকার্য চলেছিল।
19. সিন্ধু সভ্যতায় কোন পশুর অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি?
- A) ষাঁড়
- B) হাতি
- C) ঘোড়া
- D) গণ্ডার
সঠিক উত্তর: C) ঘোড়া
ব্যাখ্যা: সিন্ধু সভ্যতার সিলমোহর বা প্রত্নবস্তুতে ঘোড়ার সুস্পষ্ট এবং ব্যাপক কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদিও সুরকোটডার মতো কিছু জায়গায় ঘোড়ার হাড় পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়, তবে তা বিতর্কিত। ঘোড়া মূলত আর্যদের সঙ্গে ভারতে প্রবেশ করে।
20. সিন্ধু সভ্যতার সমাজ ব্যবস্থা কেমন ছিল বলে মনে করা হয়?
- A) पितৃতান্ত্রিক
- B) मातृান্ত্রিক
- C) রাজতান্ত্রিক
- D) গণতান্ত্রিক
সঠিক উত্তর: B) मातृান্ত্রিক
ব্যাখ্যা: প্রচুর পরিমাণে নারীমূর্তি বা মাতৃকামূর্তি পাওয়ায় অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন যে সিন্ধু সভ্যতার সমাজ ছিল মাতৃকেন্দ্রিক বা মাতৃান্ত্রিক। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হয়নি।
বৈদিক সভ্যতা
21. ‘বেদ’ শব্দটির অর্থ কী?
- A) পবিত্র
- B) ধর্ম
- C) জ্ঞান
- D) স্তোত্র
সঠিক উত্তর: C) জ্ঞান
ব্যাখ্যা: ‘বেদ’ শব্দটি সংস্কৃত ‘বিদ্’ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো ‘জানা’ বা ‘জ্ঞান’। তাই আক্ষরিক অর্থে বেদ হলো জ্ঞান।
22. প্রাচীনতম বেদ কোনটি?
- A) সামবেদ
- B) যজুর্বেদ
- C) অথর্ববেদ
- D) ঋগ্বেদ
সঠিক উত্তর: D) ঋগ্বেদ
ব্যাখ্যা: ঋগ্বেদ হলো চারটি বেদের মধ্যে প্রাচীনতম এবং এটি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্যতম প্রাচীন গ্রন্থ। এতে দেবতাদের উদ্দেশ্যে রচিত স্তোত্র সংকলিত রয়েছে।
23. ঋগ্বেদের প্রধান দেবতা কে ছিলেন?
- A) অগ্নি
- B) ইন্দ্র
- C) বরুণ
- D) সোম
সঠিক উত্তর: B) ইন্দ্র
ব্যাখ্যা: ঋগ্বেদে ইন্দ্রের উদ্দেশ্যে সর্বাধিক সংখ্যক (প্রায় ২৫০টি) স্তোত্র রচিত হয়েছে। তাঁকে যুদ্ধ, বজ্র এবং বৃষ্টির দেবতা হিসেবে পূজা করা হতো। তাঁকে ‘পুরন্দর’ বা দুর্গ ধ্বংসকারীও বলা হত।
24. গায়ত্রী মন্ত্র কোন বেদে পাওয়া যায়?
- A) ঋগ্বেদ
- B) সামবেদ
- C) যজুর্বেদ
- D) অথর্ববেদ
সঠিক উত্তর: A) ঋগ্বেদ
ব্যাখ্যা: বিখ্যাত গায়ত্রী মন্ত্র ঋগ্বেদের তৃতীয় মণ্ডলে পাওয়া যায়। এটি সূর্যদেবতা সবিতৃর উদ্দেশ্যে রচিত।
25. ‘সত্যমেব জয়তে’ কথাটি কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে?
- A) ঋগ্বেদ
- B) ভগবদ্গীতা
- C) মুণ্ডক উপনিষদ
- D) মনুসংহিতা
সঠিক উত্তর: C) মুণ্ডক উপনিষদ
ব্যাখ্যা: ‘সত্যমেব জয়তে’ (সত্যের সর্বদা জয় হয়) ভারতের জাতীয় নীতিবাক্য, যা মুণ্ডক উপনিষদ থেকে নেওয়া হয়েছে।
26. বৈদিক যুগের শাসন ব্যবস্থার ক্ষুদ্রতম একক কী ছিল?
- A) গ্রাম
- B) বিশ
- C) জন
- D) কুল বা পরিবার
সঠিক উত্তর: D) কুল বা পরিবার
ব্যাখ্যা: বৈদিক যুগের শাসন ব্যবস্থার এককগুলি ছিল: কুল (পরিবার) > গ্রাম > বিশ > জন। কুলের প্রধানকে ‘কুলপতি’ বলা হতো।
27. পরবর্তী বৈদিক যুগে কোন ধাতুর ব্যবহার শুরু হয় যা অর্থনীতি ও সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন আনে?
- A) তামা
- B) ব্রোঞ্জ
- C) লোহা
- D) রুপা
সঠিক উত্তর: C) লোহা
ব্যাখ্যা: পরবর্তী বৈদিক যুগে (আনুমানিক ১০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) লোহার আবিষ্কার ও ব্যবহার শুরু হয়। লোহার তৈরি লাঙলের ফলা কৃষি উৎপাদন বাড়ায় এবং লোহার অস্ত্রশস্ত্র রাজ্য বিস্তারে সাহায্য করে, যা সমাজে বড় পরিবর্তন আনে।
28. দশরাজার যুদ্ধ (Battle of Ten Kings) কোন নদীর তীরে হয়েছিল?
- A) সিন্ধু
- B) সরস্বতী
- C) বিতস্তা
- D) পরুষ্ণী (রাভি)
সঠিক উত্তর: D) পরুষ্ণী (রাভি)
ব্যাখ্যা: ঋগ্বেদের সপ্তম মণ্ডলে উল্লিখিত দশরাজার যুদ্ধ ভরত বংশের রাজা সুদাস এবং দশজন রাজার জোটের মধ্যে পরুষ্ণী (বর্তমান রাভি) নদীর তীরে হয়েছিল। এই যুদ্ধে সুদাসের জয় হয়।
29. ঋগ্বেদিক সমাজে ‘সভা’ ও ‘সমিতি’ কী ছিল?
- A) দুটি উপজাতি
- B) দুটি রাজনৈতিক পরিষদ
- C) দুটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান
- D) দুটি নদী
সঠিক উত্তর: B) দুটি রাজনৈতিক পরিষদ
ব্যাখ্যা: ‘সভা’ ছিল বয়স্ক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের একটি পরিষদ এবং ‘সমিতি’ ছিল সাধারণ মানুষের একটি সভা। এই দুটি পরিষদ রাজার ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করত।
30. ভারতীয় সঙ্গীতের উৎস কোন বেদে পাওয়া যায়?
- A) ঋগ্বেদ
- B) সামবেদ
- C) যজুর্বেদ
- D) অথর্ববেদ
সঠিক উত্তর: B) সামবেদ
ব্যাখ্যা: সামবেদকে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের উৎস বলে মনে করা হয়। এর স্তোত্রগুলি যজ্ঞের সময় সুর করে গাওয়া হতো।
31. ঋগ্বেদিক আর্যদের প্রধান জীবিকা কী ছিল?
- A) কৃষি
- B) পশুপালন
- C) বাণিজ্য
- D) শিকার
সঠিক উত্তর: B) পশুপালন
ব্যাখ্যা: প্রাথমিক বৈদিক বা ঋগ্বেদিক যুগে আর্যদের অর্থনীতি ছিল মূলত পশুপালন-ভিত্তিক এবং যাযাবর প্রকৃতির। গবাদি পশু ছিল সম্পদের প্রধান মাপকাঠি। পরবর্তী বৈদিক যুগে কৃষি প্রধান জীবিকা হয়ে ওঠে।
32. চতুর্বর্ণ প্রথার প্রথম উল্লেখ কোথায় পাওয়া যায়?
- A) ঋগ্বেদের পুরুষসূক্তে
- B) ছান্দোগ্য উপনিষদে
- C) মনুসংহিতায়
- D) অথর্ববেদে
সঠিক উত্তর: A) ঋগ্বেদের পুরুষসূক্তে
ব্যাখ্যা: ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের পুরুষসূক্তে প্রথমবার চতুর্বর্ণের (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র) উল্লেখ পাওয়া যায়। এখানে বলা হয়েছে যে বিরাট পুরুষের মুখ থেকে ব্রাহ্মণ, বাহু থেকে ক্ষত্রিয়, উরু থেকে বৈশ্য এবং পা থেকে শূদ্রের উৎপত্তি হয়েছে।
33. কোন বেদে জাদুবিদ্যা, তন্ত্রমন্ত্র ও রোগ নিরাময়ের কথা আছে?
- A) ঋগ্বেদ
- B) সামবেদ
- C) যজুর্বেদ
- D) অথর্ববেদ
সঠিক উত্তর: D) অথর্ববেদ
ব্যাখ্যা: অথর্ববেদে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন দিক, যেমন— জাদুবিদ্যা, বশীকরণ, রোগ নিরাময়ের জন্য মন্ত্র, ভেষজ চিকিৎসা ইত্যাদির উল্লেখ আছে।
34. বৈদিক যুগের একটি মুদ্রার নাম কী?
- A) নিষ্ক
- B) কার্ষাপণ
- C) দিনার
- D) পণ
সঠিক উত্তর: A) নিষ্ক
ব্যাখ্যা: ঋগ্বেদিক যুগে ‘নিষ্ক’ ছিল মূলত একটি সোনার অলঙ্কার (গলার হার), যা পরবর্তীকালে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। তবে বৈদিক যুগে মূলত পণ্য বিনিময় প্রথাই প্রচলিত ছিল।
35. ‘বেদান্ত’ নামে কী পরিচিত?
- A) বেদ
- B) ব্রাহ্মণ
- C) আরণ্যক
- D) উপনিষদ
সঠিক উত্তর: D) উপনিষদ
ব্যাখ্যা: উপনিষদগুলি বৈদিক সাহিত্যের শেষাংশে অবস্থিত এবং বেদের চূড়ান্ত দার্শনিক ব্যাখ্যা প্রদান করে। তাই এদের ‘বেদান্ত’ (বেদের অন্ত বা শেষ) বলা হয়।
ষোড়শ মহাজনপদ
36. খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে উত্তর ভারতে মোট কটি মহাজনপদ ছিল?
- A) ১০
- B) ১৪
- C) ১৬
- D) ২০
সঠিক উত্তর: C) ১৬
ব্যাখ্যা: বৌদ্ধ গ্রন্থ ‘অঙ্গুত্তর নিকায়’ এবং জৈন গ্রন্থ ‘ভগবতী সূত্র’ থেকে জানা যায় যে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে ভারতে মোট ১৬টি মহাজনপদ বা বৃহৎ রাজ্যের অস্তিত্ব ছিল।
37. মগধের প্রথম রাজধানী কী ছিল?
- A) পাটলিপুত্র
- B) বৈশালী
- C) রাজগৃহ (গিরিব্রজ)
- D) চম্পা
সঠিক উত্তর: C) রাজগৃহ (গিরিব্রজ)
ব্যাখ্যা: মগধের প্রথম রাজধানী ছিল গিরিব্রজ, যা পরবর্তীকালে রাজগৃহ নামে পরিচিত হয়। এটি পাঁচটি পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত একটি সুরক্ষিত শহর ছিল। পরে উদয়িন পাটলিপুত্রে রাজধানী স্থানান্তর করেন।
38. ষোড়শ মহাজনপদের মধ্যে কোনটি দক্ষিণ ভারতে অবস্থিত ছিল?
- A) অবন্তী
- B) অশ্মক
- C) চেদি
- D) মৎস্য
সঠিক উত্তর: B) অশ্মক
ব্যাখ্যা: অশ্মক বা অস্সক ছিল একমাত্র মহাজনপদ যা বিন্ধ্য পর্বতমালার দক্ষিণে, গোদাবরী নদীর তীরে অবস্থিত ছিল। এর রাজধানী ছিল পোতন বা পোটালি।
39. কোন মগধ শাসক ‘শ্রেণিক’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন?
- A) অজাতশত্রু
- B) বিম্বিসার
- C) মহাপদ্ম নন্দ
- D) উদয়িন
সঠিক উত্তর: B) বিম্বিসার
ব্যাখ্যা: হর্যঙ্ক বংশের প্রতিষ্ঠাতা বিম্বিসার ‘শ্রেণিক’ বা ‘সৈন্যবাহিনীর অধিকারী’ উপাধি নিয়েছিলেন। তিনি বৈবাহিক সম্পর্ক এবং যুদ্ধজয়ের মাধ্যমে মগধের শক্তি বৃদ্ধি করেন।
40. কোশল রাজ্যের রাজধানী কী ছিল?
- A) শ্রাবস্তী
- B) কৌশাম্বী
- C) বারাণসী
- D) মথুরা
সঠিক উত্তর: A) শ্রাবস্তী
ব্যাখ্যা: কোশল মহাজনপদের দুটি অংশ ছিল। উত্তর কোশলের রাজধানী ছিল শ্রাবস্তী এবং দক্ষিণ কোশলের রাজধানী ছিল কুশাবতী।
41. বিশ্বের প্রথম প্রজাতন্ত্র কোনটি বলে মনে করা হয়?
- A) মগধ
- B) কোশল
- C) অবন্তী
- D) বৃজি (বৈশালী)
সঠিক উত্তর: D) বৃজি (বৈশালী)
ব্যাখ্যা: বৃজি ছিল আটটি গোষ্ঠীর একটি সম্মিলিত রাজ্য বা গণসংঘ, যার রাজধানী ছিল বৈশালী। এটি বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রগুলির মধ্যে অন্যতম হিসেবে পরিচিত।
42. অজাতশত্রু কোন বংশের রাজা ছিলেন?
- A) হর্যঙ্ক বংশ
- B) শিশুনাগ বংশ
- C) নন্দ বংশ
- D) মৌর্য বংশ
সঠিক উত্তর: A) হর্যঙ্ক বংশ
ব্যাখ্যা: অজাতশত্রু ছিলেন হর্যঙ্ক বংশের রাজা বিম্বিসারের পুত্র। তিনি পিতাকে হত্যা করে সিংহাসনে বসেন এবং ‘কূণিক’ উপাধি ধারণ করেন। তাঁর আমলেই প্রথম বৌদ্ধ সংগীতি অনুষ্ঠিত হয়।
43. মৎস্য মহাজনপদের রাজধানী কী ছিল?
- A) ইন্দ্রপ্রস্থ
- B) বিরাটনগর
- C) মথুরা
- D) তক্ষশিলা
সঠিক উত্তর: B) বিরাটনগর
ব্যাখ্যা: মৎস্য মহাজনপদ বর্তমান রাজস্থানের জয়পুর-আলওয়ার অঞ্চলে অবস্থিত ছিল। এর রাজধানী ছিল বিরাটনগর।
44. নন্দ বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
- A) ধননন্দ
- B) মহাপদ্ম নন্দ
- C) শিশুনাগ
- D) কালাশোক
সঠিক উত্তর: B) মহাপদ্ম নন্দ
ব্যাখ্যা: মহাপদ্ম নন্দ শিশুনাগ বংশের পতন ঘটিয়ে মগধে নন্দ বংশ প্রতিষ্ঠা করেন। পুরাণ অনুযায়ী, তিনি ছিলেন প্রথম ‘অ-ক্ষত্রিয়’ শাসক এবং তাঁকে ‘সর্বক্ষত্রান্তক’ (সকল ক্ষত্রিয়ের বিনাশকারী) ও ‘একরাট’ উপাধি দেওয়া হয়।
45. আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণের সময় মগধের রাজা কে ছিলেন?
- A) মহাপদ্ম নন্দ
- B) অজাতশত্রু
- C) ধননন্দ
- D) চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
সঠিক উত্তর: C) ধননন্দ
ব্যাখ্যা: ৩২৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ম্যাসিডনের শাসক আলেকজান্ডার যখন ভারত আক্রমণ করেন, তখন মগধের সিংহাসনে ছিলেন নন্দ বংশের শেষ রাজা ধননন্দ। তাঁর বিশাল সৈন্যবাহিনীর কথা শুনেই আলেকজান্ডারের সৈন্যরা বিপাশা নদী পার হতে অস্বীকার করে।
বৌদ্ধ ধর্ম এবং জৈন ধর্ম
46. গৌতম বুদ্ধ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
- A) বোধগয়া
- B) সারনাথ
- C) লুম্বিনী
- D) কুশীনগর
সঠিক উত্তর: C) লুম্বিনী
ব্যাখ্যা: গৌতম বুদ্ধ বর্তমান নেপালের তরাই অঞ্চলের লুম্বিনী নামক স্থানে শাক্য বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
47. গৌতম বুদ্ধ কোথায় তাঁর প্রথম ধর্মোপদেশ দেন?
- A) লুম্বিনী
- B) বোধগয়া
- C) সারনাথ
- D) কুশীনগর
সঠিক উত্তর: C) সারনাথ
ব্যাখ্যা: বোধগয়ায় জ্ঞানলাভের পর গৌতম বুদ্ধ বারাণসীর কাছে সারনাথের মৃগদাব উদ্যানে তাঁর পাঁচজন শিষ্যের কাছে প্রথম ধর্মোপদেশ দেন। এই ঘটনাটি ‘ধর্মচক্র প্রবর্তন’ নামে পরিচিত।
48. বৌদ্ধদের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম কী?
- A) ত্রিপিটক
- B) দ্বাদশ অঙ্গ
- C) জেন্দ আবেস্তা
- D) উপনিষদ
সঠিক উত্তর: A) ত্রিপিটক
ব্যাখ্যা: বৌদ্ধদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ হলো ত্রিপিটক, যা পালি ভাষায় রচিত। এর তিনটি ভাগ হলো: বিনয় পিটক (সন্ন্যাসীদের নিয়ম), সুত্ত পিটক (বুদ্ধের উপদেশ) এবং অভিধর্ম পিটক (দার্শনিক ব্যাখ্যা)।
49. প্রথম বৌদ্ধ সংগীতি কার পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হয়?
- A) কালাশোক
- B) অজাতশত্রু
- C) অশোক
- D) কনিষ্ক
সঠিক উত্তর: B) অজাতশত্রু
ব্যাখ্যা: বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের পর ৪৮৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রাজগৃহে হর্যঙ্ক বংশের রাজা অজাতশত্রুর পৃষ্ঠপোষকতায় প্রথম বৌদ্ধ সংগীতি অনুষ্ঠিত হয়। এর সভাপতি ছিলেন মহাকাশ্যপ।
50. জৈন ধর্মের ২৩তম তীর্থংকর কে ছিলেন?
- A) ঋষভনাথ
- B) মহাবীর
- C) পার্শ্বনাথ
- D) নেমিনাথ
সঠিক উত্তর: C) পার্শ্বনাথ
ব্যাখ্যা: জৈন ধর্মমতে মোট ২৪ জন তীর্থংকর ছিলেন। প্রথম তীর্থংকর ছিলেন ঋষভনাথ এবং ২৩তম ছিলেন পার্শ্বনাথ। মহাবীর ছিলেন ২৪তম ও শেষ তীর্থংকর।
51. মহাবীর কোথায় নির্বাণ (মোক্ষ) লাভ করেন?
- A) কুন্দগ্রাম
- B) বৈশালী
- C) পাবাপুরী
- D) শ্রাবণবেলগোলা
সঠিক উত্তর: C) পাবাপুরী
ব্যাখ্যা: মহাবীর ৭২ বছর বয়সে বিহারের পাবাপুরীতে অনশনের মাধ্যমে দেহত্যাগ করেন, যা জৈনধর্মে নির্বাণ বা মোক্ষলাভ নামে পরিচিত।
52. বৌদ্ধধর্মের ‘অষ্টাঙ্গিক মার্গ’-এর ধারণা কে দেন?
- A) মহাবীর
- B) গৌতম বুদ্ধ
- C) পার্শ্বনাথ
- D) নাগার্জুন
সঠিক উত্তর: B) গৌতম বুদ্ধ
ব্যাখ্যা: গৌতম বুদ্ধ দুঃখ নিবারণের জন্য ‘অষ্টাঙ্গিক মার্গ’ বা আটটি পথের কথা বলেছেন। এগুলি হলো— সৎ বাক্য, সৎ কর্ম, সৎ জীবন, সৎ চেষ্টা, সৎ দৃষ্টি, সৎ সংকল্প, সৎ স্মৃতি এবং সৎ সমাধি।
53. জৈনদের দুটি প্রধান সম্প্রদায় কী কী?
- A) হীনযান ও মহাযান
- B) শ্বেতাম্বর ও দিগম্বর
- C) আর্য ও অনার্য
- D) থেরবাদ ও বজ্রযান
সঠিক উত্তর: B) শ্বেতাম্বর ও দিগম্বর
ব্যাখ্যা: মহাবীরের মৃত্যুর পর জৈনধর্ম দুটি প্রধান সম্প্রদায়ে বিভক্ত হয়ে যায়— শ্বেতাম্বর (যারা শ্বেতবস্ত্র পরিধান করেন) এবং দিগম্বর (যারা কোনো বস্ত্র পরিধান করেন না, অর্থাৎ ‘দিকই যাদের অম্বর বা বস্ত্র’)।
54. চতুর্থ বৌদ্ধ সংগীতি কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
- A) পাটলিপুত্র
- B) বৈশালী
- C) রাজগৃহ
- D) কাশ্মীর (কুন্দলবন)
সঠিক উত্তর: D) কাশ্মীর (কুন্দলবন)
ব্যাখ্যা: চতুর্থ বৌদ্ধ সংগীতি কুষাণ সম্রাট কনিষ্কের পৃষ্ঠপোষকতায় কাশ্মীরের কুন্দলবনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই সংগীতিতে বৌদ্ধধর্ম হীনযান ও মহাযান এই দুটি সম্প্রদায়ে বিভক্ত হয়ে যায়। এর সভাপতি ছিলেন বসুমিত্র।
55. ‘ত্রিরত্ন’ কোন ধর্মের সঙ্গে যুক্ত?
- A) বৌদ্ধধর্ম
- B) জৈনধর্ম
- C) উভয়
- D) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: C) উভয়
ব্যাখ্যা: বৌদ্ধধর্মের ত্রিরত্ন হলো— বুদ্ধ, ধর্ম এবং সংঘ। জৈনধর্মের ত্রিরত্ন হলো— সৎ জ্ঞান, সৎ বিশ্বাস এবং সৎ আচরণ। তাই ‘ত্রিরত্ন’ ধারণাটি উভয় ধর্মের সাথেই যুক্ত।
56. গৌতম বুদ্ধের গৃহত্যাগের ঘটনাটি কী নামে পরিচিত?
- A) মহাপরিনির্বাণ
- B) ধর্মচক্র প্রবর্তন
- C) মহাভিনিষ্ক্রমণ
- D) সম্বোধি
সঠিক উত্তর: C) মহাভিনিষ্ক্রমণ
ব্যাখ্যা: ২৯ বছর বয়সে सिद्धार्थ গৌতমের সত্যের সন্ধানে গৃহত্যাগের ঘটনাকে ‘মহাভিনিষ্ক্রমণ’ বলা হয়। মহাপরিনির্বাণ হলো তাঁর দেহত্যাগ, ধর্মচক্র প্রবর্তন হলো প্রথম ধর্মোপদেশ এবং সম্বোধি হলো জ্ঞানলাভ।
57. প্রথম জৈন সংগীতি কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
- A) বৈশালী
- B) বল্লভী
- C) পাটলিপুত্র
- D) রাজগৃহ
সঠিক উত্তর: C) পাটলিপুত্র
ব্যাখ্যা: প্রথম জৈন সংগীতি খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে স্থূলভদ্রের সভাপতিত্বে পাটলিপুত্রে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই সংগীতিতে জৈনদের ধর্মগ্রন্থ ‘দ্বাদশ অঙ্গ’ সংকলিত হয়।
মৌর্য সাম্রাজ্য: উত্থান ও পতন, অশোকের ধম্ম
58. মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
- A) বিন্দুসার
- B) অশোক
- C) চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
- D) বৃহদ্রথ
সঠিক উত্তর: C) চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
ব্যাখ্যা: চাণক্য (কৌটিল্য)-এর সাহায্যে নন্দ বংশের শেষ রাজা ধননন্দকে পরাজিত করে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য খ্রিস্টপূর্ব ৩২২ অব্দে মগধে মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
59. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজসভায় আগত গ্রিক দূতের নাম কী?
- A) সেলুকাস
- B) মেগাস্থিনিস
- C) টলেমি
- D) হেরোডোটাস
সঠিক উত্তর: B) মেগাস্থিনিস
ব্যাখ্যা: গ্রিক শাসক সেলুকাস নিকাটরের দূত হিসেবে মেগাস্থিনিস চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজসভায় আসেন। তাঁর লেখা ‘ইন্ডিকা’ গ্রন্থ থেকে মৌর্য শাসনব্যবস্থা ও সমাজ সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া যায়।
60. ‘অর্থশাস্ত্র’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
- A) মেগাস্থিনিস
- B) কৌটিল্য (চাণক্য)
- C) বিশাখদত্ত
- D) বাণভট্ট
সঠিক উত্তর: B) কৌটিল্য (চাণক্য)
ব্যাখ্যা: কৌটিল্য বা চাণক্য বা বিষ্ণুগুপ্ত ‘অর্থশাস্ত্র’ রচনা করেন। এটি রাষ্ট্রশাসন, অর্থনীতি ও সামরিক কৌশল বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কৃত গ্রন্থ।
61. কোন যুদ্ধের পর অশোক বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন?
- A) হিদাস্পিসের যুদ্ধ
- B) কলিঙ্গ যুদ্ধ
- C) তরাইনের যুদ্ধ
- D) দশরাজার যুদ্ধ
সঠিক উত্তর: B) কলিঙ্গ যুদ্ধ
ব্যাখ্যা: খ্রিস্টপূর্ব ২৬১ অব্দে সংঘটিত কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহ রক্তপাত দেখে সম্রাট অশোকের মন পরিবর্তিত হয়। তিনি দিগ্বিজয়ের নীতি ত্যাগ করে ‘ধর্মবিজয়’-এর নীতি গ্রহণ করেন এবং বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত হন।
62. অশোকের শিলালিপি কোন লিপিতে লেখা?
- A) ব্রাহ্মী
- B) খরোষ্ঠী
- C) গ্রিক ও আরামাইক
- D) উপরের সবকটি
সঠিক উত্তর: D) উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা: অশোকের শিলালিপিগুলি সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে সেখানকার প্রচলিত লিপিতে লেখা হয়েছিল। ভারতের অধিকাংশ শিলালিপি ব্রাহ্মী লিপিতে, উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের শিলালিপি খরোষ্ঠী লিপিতে এবং আফগানিস্তানের শিলালিপি গ্রিক ও আরামাইক লিপিতে লেখা।
63. অশোকের শিলালিপির পাঠোদ্ধার প্রথম কে করেন?
- A) জন মার্শাল
- B) আলেকজান্ডার কানিংহাম
- C) জেমস প্রিন্সেপ
- D) উইলিয়াম জোন্স
সঠিক উত্তর: C) জেমস প্রিন্সেপ
ব্যাখ্যা: ১৮৩৭ সালে এশিয়াটিক সোসাইটির আধিকারিক জেমস প্রিন্সেপ প্রথম অশোকের ব্রাহ্মী লিপিতে লেখা শিলালিপিগুলির পাঠোদ্ধার করেন, যা ভারতীয় ইতিহাসের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
64. ‘দেবানাং প্রিয় পিয়দস্সি’ (দেবতাদের প্রিয়, প্রিয়দর্শী রাজা) উপাধি কে গ্রহণ করেন?
- A) চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
- B) অশোক
- C) কনিষ্ক
- D) হর্ষবর্ধন
সঠিক উত্তর: B) অশোক
ব্যাখ্যা: সম্রাট অশোক তাঁর শিলালিপিগুলিতে নিজেকে ‘দেবানাং প্রিয় পিয়দস্সি’ নামে অভিহিত করেছেন।
65. অশোকের ‘ধম্ম’ কী ছিল?
- A) একটি নতুন ধর্ম
- B) বৌদ্ধধর্মের প্রচার
- C) একটি সামাজিক ও নৈতিক আচরণবিধি
- D) রাজ্যজয়ের নীতি
সঠিক উত্তর: C) একটি সামাজিক ও নৈতিক আচরণবিধি
ব্যাখ্যা: অশোকের ধম্ম কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম ছিল না, বরং এটি ছিল একটি নৈতিক ও সামাজিক আচরণবিধি। এর মূল ভিত্তি ছিল অহিংসা, গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা, সহনশীলতা এবং সকল জীবের প্রতি দয়া।
66. তৃতীয় বৌদ্ধ সংগীতি কার আমলে অনুষ্ঠিত হয়?
- A) অজাতশত্রু
- B) কালাশোক
- C) অশোক
- D) কনিষ্ক
সঠিক উত্তর: C) অশোক
ব্যাখ্যা: সম্রাট অশোকের পৃষ্ঠপোষকতায় পাটলিপুত্রে তৃতীয় বৌদ্ধ সংগীতি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর সভাপতি ছিলেন মোগ্গলিপুত্ত তিস্স।
67. মৌর্য বংশের শেষ সম্রাট কে ছিলেন?
- A) অশোক
- B) দশরথ
- C) বৃহদ্রথ
- D) বিন্দুসার
সঠিক উত্তর: C) বৃহদ্রথ
ব্যাখ্যা: মৌর্য বংশের শেষ সম্রাট ছিলেন বৃহদ্রথ। তাঁর সেনাপতি পুষ্যমিত্র শুঙ্গ তাঁকে হত্যা করে শুঙ্গ বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
68. সারনাথের অশোক স্তম্ভের শীর্ষে কটি সিংহমূর্তি রয়েছে?
- A) ১টি
- B) ২টি
- C) ৩টি
- D) ৪টি
সঠিক উত্তর: D) ৪টি
ব্যাখ্যা: সারনাথের অশোক স্তম্ভের শীর্ষে চারটি সিংহ একে অপরের দিকে পিঠ করে বসে আছে, যা ভারতের জাতীয় প্রতীক হিসেবে গৃহীত হয়েছে। যদিও সামনে থেকে তিনটি সিংহ দেখা যায়।
69. ‘মুদ্রারাক্ষস’ নাটক থেকে কোন বংশের ইতিহাস জানা যায়?
- A) গুপ্ত বংশ
- B) কুষাণ বংশ
- C) মৌর্য বংশ
- D) নন্দ বংশ
সঠিক উত্তর: C) মৌর্য বংশ
ব্যাখ্যা: বিশাখদত্ত রচিত ‘মুদ্রারাক্ষস’ নাটক থেকে চাণক্যের সাহায্যে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের নন্দবংশ উচ্ছেদ করে ক্ষমতা দখলের কাহিনী জানা যায়।
70. বিন্দুসারের উপাধি কী ছিল?
- A) শ্রেণিক
- B) কূণিক
- C) অমিত্রাঘাত
- D) দেবানামপ্রিয়
সঠিক উত্তর: C) অমিত্রাঘাত
ব্যাখ্যা: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পুত্র এবং অশোকের পিতা বিন্দুসারকে গ্রিক লেখকরা ‘অমিত্রোখেটিস’ বা ‘অমিত্রাঘাত’ (শত্রু বিনাশকারী) বলে উল্লেখ করেছেন।
সাম্রাজ্যবাদী গুপ্ত শাসকগণ
71. গুপ্ত বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
- A) চন্দ্রগুপ্ত I
- B) শ্রীগুপ্ত
- C) সমুদ্রগুপ্ত
- D) ঘটোৎকচ
সঠিক উত্তর: B) শ্রীগুপ্ত
ব্যাখ্যা: গুপ্ত বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন শ্রীগুপ্ত। তবে এই বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বা প্রথম সার্বভৌম রাজা হিসেবে প্রথম চন্দ্রগুপ্তকে গণ্য করা হয়।
72. ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধি গ্রহণকারী প্রথম গুপ্ত শাসক কে?
- A) শ্রীগুপ্ত
- B) প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
- C) সমুদ্রগুপ্ত
- D) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
সঠিক উত্তর: B) প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা: প্রথম চন্দ্রগুপ্ত লিচ্ছবি রাজকন্যা কুমারদেবীকে বিবাহ করে নিজের ক্ষমতা বৃদ্ধি করেন এবং ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধি ধারণ করেন, যা তাঁর সার্বভৌম ক্ষমতার পরিচায়ক।
73. কাকে ‘ভারতের নেপোলিয়ন’ বলা হয়?
- A) অশোক
- B) হর্ষবর্ধন
- C) সমুদ্রগুপ্ত
- D) প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
সঠিক উত্তর: C) সমুদ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা: ঐতিহাসিক ভিনসেন্ট স্মিথ (V. A. Smith) সমুদ্রগুপ্তের সামরিক প্রতিভা ও রাজ্যজয়ের কারণে তাঁকে ‘ভারতের নেপোলিয়ন’ বলে অভিহিত করেছেন।
74. এলাহাবাদ প্রশস্তি বা প্রয়াগ প্রশস্তি কে রচনা করেন?
- A) কালিদাস
- B) হরিসেন
- C) বাণভট্ট
- D) রবির্কীতি
সঠিক উত্তর: B) হরিসেন
ব্যাখ্যা: সমুদ্রগুপ্তের সভাকবি হরিসেন এলাহাবাদ স্তম্ভগাত্রে ‘প্রয়াগ প্রশস্তি’ রচনা করেন। এই প্রশস্তিতে সমুদ্রগুপ্তের রাজ্যজয় ও কৃতিত্বের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।
75. কোন গুপ্ত সম্রাটের রাজত্বকালে চীনা পর্যটক ফা-হিয়েন ভারতে আসেন?
- A) সমুদ্রগুপ্ত
- B) প্রথম কুমারগুপ্ত
- C) স্কন্দগুপ্ত
- D) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত (বিক্রমাদিত্য)
সঠিক উত্তর: D) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত (বিক্রমাদিত্য)
ব্যাখ্যা: বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে চীনা পর্যটক ফা-হিয়েন দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বিক্রমাদিত্যের রাজত্বকালে ভারতে আসেন। তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্ত ‘ফো-কুও-কি’ থেকে তৎকালীন ভারতের সামাজিক ও ধর্মীয় অবস্থা সম্পর্কে জানা যায়।
76. ‘শকারি’ উপাধি কে গ্রহণ করেন?
- A) সমুদ্রগুপ্ত
- B) প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
- C) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
- D) স্কন্দগুপ্ত
সঠিক উত্তর: C) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা: দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত পশ্চিম ভারত থেকে শক শাসকদের উচ্ছেদ করে ‘শকারি’ (শকদের অরি বা শত্রু) উপাধি ধারণ করেন। এই সাফল্যের পর তিনি ‘বিক্রমাদিত্য’ উপাধিও গ্রহণ করেন।
77. গুপ্ত যুগের ‘নবরত্ন’ কোন সম্রাটের সভা অলংকৃত করতেন?
- A) সমুদ্রগুপ্ত
- B) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
- C) কুমারগুপ্ত
- D) হর্ষবর্ধন
সঠিক উত্তর: B) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা: দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বিক্রমাদিত্যের রাজসভা ‘নবরত্ন’ নামে পরিচিত নয়জন জ্ঞানীগুণী ব্যক্তি দ্বারা অলংকৃত ছিল। এঁদের মধ্যে কালিদাস, বরাহমিহির, অমরসিংহ, ধন্বন্তরি প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
78. নালন্দা মহাবিহার কে প্রতিষ্ঠা করেন?
- A) সমুদ্রগুপ্ত
- B) অশোক
- C) প্রথম কুমারগুপ্ত
- D) ধর্মপাল
সঠিক উত্তর: C) প্রথম কুমারগুপ্ত
ব্যাখ্যা: গুপ্ত সম্রাট প্রথম কুমারগুপ্ত বিখ্যাত নালন্দা মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীকালে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল।
79. হুণ আক্রমণ প্রতিহতকারী গুপ্ত সম্রাট কে ছিলেন?
- A) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
- B) প্রথম কুমারগুপ্ত
- C) স্কন্দগুপ্ত
- D) বুধগুপ্ত
সঠিক উত্তর: C) স্কন্দগুপ্ত
ব্যাখ্যা: স্কন্দগুপ্তের রাজত্বকালে দুর্ধর্ষ হুণরা ভারত আক্রমণ করে। স্কন্দগুপ্ত সফলভাবে তাদের আক্রমণ প্রতিহত করে গুপ্ত সাম্রাজ্যকে রক্ষা করেন। তাঁর ভিটারি স্তম্ভলিপিতে এই সাফল্যের কথা লেখা আছে।
80. গুপ্ত যুগকে ‘সুবর্ণ যুগ’ বলা হয় কেন?
- A) সোনার ব্যাপক ব্যবহারের জন্য
- B) সাহিত্য, বিজ্ঞান ও শিল্পকলার চরম উন্নতির জন্য
- C) দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য
- D) শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর জন্য
সঠিক উত্তর: B) সাহিত্য, বিজ্ঞান ও শিল্পকলার চরম উন্নতির জন্য
ব্যাখ্যা: গুপ্ত যুগে কালিদাসের মতো সাহিত্যিক, আর্যভট্ট ও বরাহমিহিরের মতো বিজ্ঞানী এবং অজন্তা গুহাচিত্রের মতো শিল্পকলার অসাধারণ বিকাশ ঘটেছিল। এই সার্বিক সাংস্কৃতিক উন্নতির জন্যই এই যুগকে ‘ভারতের সুবর্ণ যুগ’ বলা হয়।
বাংলার পাল ও সেন রাজারা
81. বাংলায় পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
- A) ধর্মপাল
- B) দেবপাল
- C) গোপাল
- D) মহীপাল
সঠিক উত্তর: C) গোপাল
ব্যাখ্যা: বাংলায় ‘মাৎস্যন্যায়’ (অরাজকতা)-এর অবসান ঘটিয়ে ৭৫0 খ্রিস্টাব্দে বাংলার প্রকৃতিপুঞ্জ বা জনগণ গোপালকে রাজা হিসেবে নির্বাচিত করে। এভাবেই পাল বংশের সূচনা হয়।
82. বিক্রমশীলা মহাবিহার কে প্রতিষ্ঠা করেন?
- A) গোপাল
- B) দেবপাল
- C) ধর্মপাল
- D) রামপাল
সঠিক উত্তর: C) ধর্মপাল
ব্যাখ্যা: পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ধর্মপাল বিহারের ভাগলপুরে বিখ্যাত বিক্রমশীলা মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন, যা তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্ম চর্চার একটি বড় কেন্দ্র ছিল।
83. কনৌজ দখলের জন্য ত্রিশক্তি সংগ্রামে কোন কোন শক্তি যুক্ত ছিল?
- A) পাল, প্রতিহার ও চোল
- B) পাল, প্রতিহার ও রাষ্ট্রকূট
- C) পাল, সেন ও প্রতিহার
- D) গুপ্ত, রাষ্ট্রকূট ও পাল
সঠিক উত্তর: B) পাল, প্রতিহার ও রাষ্ট্রকূট
ব্যাখ্যা: উত্তর ভারতের আধিপত্যের কেন্দ্র কনৌজ দখলের জন্য বাংলার পাল, পশ্চিম ভারতের গুর্জর-প্রতিহার এবং দাক্ষিণাত্যের রাষ্ট্রকূট— এই তিন শক্তির মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে যে সংগ্রাম চলেছিল, তা ‘ত্রিশক্তি সংগ্রাম’ নামে পরিচিত।
84. কৈবর্ত বিদ্রোহ কার আমলে হয়েছিল?
- A) প্রথম মহীপাল
- B) দ্বিতীয় মহীপাল
- C) রামপাল
- D) দেবপাল
সঠিক উত্তর: B) দ্বিতীয় মহীপাল
ব্যাখ্যা: পাল শাসক দ্বিতীয় মহীপালের দুর্বল শাসনের সময় উত্তরবঙ্গে কৈবর্ত নেতা দিব্য বা দিব্বোকের নেতৃত্বে এক শক্তিশালী কৃষক বিদ্রোহ সংঘটিত হয়, যা কৈবর্ত বিদ্রোহ নামে পরিচিত।
85. ‘রামচরিত’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
- A) তুলসীদাস
- B) সন্ধ্যাকর নন্দী
- C) বাণভট্ট
- D) ধোয়ী
সঠিক উত্তর: B) সন্ধ্যাকর নন্দী
ব্যাখ্যা: পাল রাজা রামপালের সভাকবি সন্ধ্যাকর নন্দী ‘রামচরিত’ কাব্য রচনা করেন। এই গ্রন্থে শ্লেষের মাধ্যমে একদিকে রামায়ণের রাম এবং অন্যদিকে রাজা রামপালের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে।
86. সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
- A) বিজয় সেন
- B) বল্লাল সেন
- C) হেমন্ত সেন
- D) লক্ষণ সেন
সঠিক উত্তর: C) হেমন্ত সেন
ব্যাখ্যা: সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হেমন্ত সেন। তবে এই বংশের প্রথম সার্বভৌম ও উল্লেখযোগ্য রাজা ছিলেন তাঁর পুত্র বিজয় সেন।
87. ‘দানসাগর’ ও ‘অদ্ভুতসাগর’ গ্রন্থ দুটি কে রচনা করেন?
- A) বিজয় সেন
- B) লক্ষণ সেন
- C) হেমন্ত সেন
- D) বল্লাল সেন
সঠিক উত্তর: D) বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা: সেন রাজা বল্লাল সেন একজন সুপণ্ডিত ও বিদ্যোৎসাহী শাসক ছিলেন। তিনি ‘দানসাগর’ এবং ‘অদ্ভুতসাগর’ নামে দুটি স্মৃতিশাস্ত্র বিষয়ক গ্রন্থ রচনা করেন। অদ্ভুতসাগর গ্রন্থটি তিনি সমাপ্ত করতে পারেননি।
88. বাংলায় কৌলীন্য প্রথা কে প্রবর্তন করেন?
- A) বিজয় সেন
- B) লক্ষণ সেন
- C) বল্লাল সেন
- D) ধর্মপাল
সঠিক উত্তর: C) বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা: সেন রাজা বল্লাল সেন ব্রাহ্মণ ও কায়স্থদের মধ্যে সামাজিক মর্যাদাভিত্তিক কৌলীন্য প্রথার প্রবর্তন করেন।
89. ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্যের রচয়িতা জয়দেব কোন রাজার সভাকবি ছিলেন?
- A) বল্লাল সেন
- B) লক্ষণ সেন
- C) ধর্মপাল
- D) দেবপাল
সঠিক উত্তর: B) লক্ষণ সেন
ব্যাখ্যা: জয়দেব, ধোয়ী, উমাপতি ধর, গোবর্ধন আচার্য এবং শরণ— এই ‘পঞ্চরত্ন’ সেন বংশের শেষ উল্লেখযোগ্য রাজা লক্ষণ সেনের সভা অলংকৃত করতেন। জয়দেবের বিখ্যাত কাব্য হলো ‘গীতগোবিন্দ’।
90. কার আক্রমণে বাংলায় সেন শাসনের অবসান ঘটে?
- A) মহম্মদ ঘোরি
- B) কুতুবউদ্দিন আইবক
- C) ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি
- D) ইলতুৎমিশ
সঠিক উত্তর: C) ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি
ব্যাখ্যা: ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি অতর্কিতে সেন রাজধানী নদিয়া (নবদ্বীপ) আক্রমণ করেন। বৃদ্ধ রাজা লক্ষণ সেন প্রতিরোধ না করে পূর্ববঙ্গে পালিয়ে যান এবং এর মধ্য দিয়ে বাংলায় সেন শাসনের (এবং হিন্দু শাসনের) অবসান ঘটে।
91. সিন্ধু সভ্যতার শহরগুলি কোন প্যাটার্নে নির্মিত ছিল?
- A) রেডিয়াল প্যাটার্ন
- B) সার্কুলার প্যাটার্ন
- C) গ্রিড প্যাটার্ন
- D) কোনো নির্দিষ্ট প্যাটার্ন ছিল না
সঠিক উত্তর: C) গ্রিড প্যাটার্ন
ব্যাখ্যা: হরপ্পা সভ্যতার নগরগুলির রাস্তাঘাট একে অপরকে সমকোণে ছেদ করত, যা একটি দাবা বোর্ডের মতো বা গ্রিড প্যাটার্ন তৈরি করত। এটি তাদের উন্নত নগর পরিকল্পনার পরিচায়ক।
92. হরপ্পা সভ্যতায় কোন শস্যের চাষ সবচেয়ে বেশি হত?
- A) ধান ও ভুট্টা
- B) গম ও যব
- C) জোয়ার ও বাজরা
- D) ডাল ও সরিষা
সঠিক উত্তর: B) গম ও যব
ব্যাখ্যা: হরপ্পা সভ্যতার মানুষের প্রধান খাদ্যশস্য ছিল গম এবং যব। এই দুটি শস্যের প্রচুর প্রমাণ বিভিন্ন প্রত্নক্ষেত্র থেকে পাওয়া গেছে।
93. ‘বেদাঙ্গ’ কয়টি?
- A) ৪টি
- B) ৬টি
- C) ৮টি
- D) ১০টি
সঠিক উত্তর: B) ৬টি
ব্যাখ্যা: বেদকে সঠিকভাবে বোঝা ও ব্যাখ্যা করার জন্য ছয়টি বেদাঙ্গ রচিত হয়েছিল। সেগুলি হলো— শিক্ষা (উচ্চারণ), কল্প (আচার-অনুষ্ঠান), ব্যাকরণ, নিরুক্ত (শব্দের ব্যুৎপত্তি), ছন্দ এবং জ্যোতিষ।
94. ঋগ্বেদিক যুগে ‘গবিষ্টি’ শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হত?
- A) গাভীর পূজা
- B) গাভীর জন্য যুদ্ধ
- C) গাভীর ব্যবসা
- D) গ্রামের প্রধান
সঠিক উত্তর: B) গাভীর জন্য যুদ্ধ
ব্যাখ্যা: ঋগ্বেদিক সমাজে গবাদি পশু, বিশেষ করে গাভী, ছিল সম্পদের প্রতীক। তাই বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায়শই গাভী দখলের জন্য যুদ্ধ বা সংঘর্ষ হত, যা ‘গবিষ্টি’ নামে পরিচিত ছিল।
95. অবন্তী মহাজনপদের রাজধানী কী ছিল?
- A) মথুরা
- B) কৌশাম্বী
- C) উজ্জয়িনী ও মহিষ্মতী
- D) তক্ষশিলা
সঠিক উত্তর: C) উজ্জয়িনী ও মহিষ্মতী
ব্যাখ্যা: অবন্তী মহাজনপদটি দুটি অংশে বিভক্ত ছিল। উত্তর অবন্তীর রাজধানী ছিল উজ্জয়িনী এবং দক্ষিণ অবন্তীর রাজধানী ছিল মহিষ্মতী।
96. কোন শাসক পাটলিপুত্র নগরীর প্রতিষ্ঠা করেন?
- A) বিম্বিসার
- B) অজাতশত্রু
- C) উদয়িন
- D) কালাশোক
সঠিক উত্তর: C) উদয়িন
ব্যাখ্যা: হর্যঙ্ক বংশের রাজা অজাতশত্রুর পুত্র উদয়িন গঙ্গা ও শোন নদীর সঙ্গমস্থলে পাটলিপুত্র দুর্গ নির্মাণ করেন এবং রাজগৃহ থেকে এখানে রাজধানী স্থানান্তর করেন।
97. বুদ্ধের দর্শনের মূল ভিত্তি কী?
- A) ঈশ্বরের অস্তিত্ব
- B) আত্মার অমরত্ব
- C) চতুরার্য সত্য
- D) বর্ণপ্রথা
সঠিক উত্তর: C) চতুরার্য সত্য
ব্যাখ্যা: বুদ্ধের দর্শনের মূল ভিত্তি হলো চতুরার্য সত্য। এগুলি হলো: (১) জগৎ দুঃখময়, (২) দুঃখের কারণ আছে (তৃষ্ণা), (৩) দুঃখ নিবৃত্তি সম্ভব, এবং (৪) দুঃখ নিবৃত্তির পথ আছে (অষ্টাঙ্গিক মার্গ)।
98. জৈনদের প্রথম তীর্থংকর কে ছিলেন?
- A) পার্শ্বনাথ
- B) মহাবীর
- C) ঋষভনাথ
- D) অজিতনাথ
সঠিক উত্তর: C) ঋষভনাথ
ব্যাখ্যা: জৈন ঐতিহ্য অনুসারে, প্রথম তীর্থংকর ছিলেন ঋষভনাথ বা আদিনাথ। ঋগ্বেদেও তাঁর উল্লেখ পাওয়া যায়।
99. অশোক কাকে ধর্ম প্রচারের জন্য শ্রীলঙ্কায় (সিংহলে) পাঠিয়েছিলেন?
- A) তাঁর পুত্র মহেন্দ্র ও কন্যা সংঘমিত্রাকে
- B) উপগুপ্তকে
- C) বসুমিত্রকে
- D) তাঁর ভাইকে
সঠিক উত্তর: A) তাঁর পুত্র মহেন্দ্র ও কন্যা সংঘমিত্রাকে
ব্যাখ্যা: সম্রাট অশোক বৌদ্ধধর্ম প্রচারের জন্য তাঁর পুত্র মহেন্দ্র এবং কন্যা সংঘমিত্রাকে একটি বোধিবৃক্ষের চারা সহ সিংহল বা আজকের শ্রীলঙ্কায় পাঠিয়েছিলেন।
100. মৌর্য যুগের সরকারি মুদ্রার নাম কী ছিল?
- A) নিষ্ক
- B) দিনার
- C) পণ
- D) দ্রাখমা
সঠিক উত্তর: C) পণ
ব্যাখ্যা: মৌর্য যুগে রুপার তৈরি মুদ্রাকে ‘পণ’ বলা হত। এটি ছিল তাদের আদর্শ মুদ্রা এবং বিনিময় ও বেতন প্রদানের প্রধান মাধ্যম।
101. সিন্ধু সভ্যতার কোন কেন্দ্রে উটের হাড়ের সন্ধান পাওয়া গেছে?
- A) হরপ্পা
- B) লোথাল
- C) কালিবঙ্গান
- D) সুরকোটডা
সঠিক উত্তর: C) কালিবঙ্গান
ব্যাখ্যা: রাজস্থানের কালিবঙ্গান ছিল একটি মরুপ্রায় অঞ্চলের কেন্দ্র। এখান থেকে উটের হাড়ের অবশেষ পাওয়া গেছে, যা এই অঞ্চলে উটের ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়।
102. স্বস্তিকা চিহ্ন কোন সভ্যতার অবদান বলে মনে করা হয়?
- A) মিশরীয় সভ্যতা
- B) মেসোপটেমীয় সভ্যতা
- C) সিন্ধু সভ্যতা
- D) বৈদিক সভ্যতা
সঠিক উত্তর: C) সিন্ধু সভ্যতা
ব্যাখ্যা: সিন্ধু সভ্যতার বিভিন্ন সিলমোহর ও মৃৎপাত্রে স্বস্তিকা চিহ্নের ব্যবহার দেখা যায়। এটি সম্ভবত কোনো ধর্মীয় বা মঙ্গলিক প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হত।
103. ‘উপনিষদ’ এর মূল বিষয়বস্তু কী?
- A) আইন
- B) দর্শন
- C) যোগাভ্যাস
- D) যুদ্ধ কৌশল
সঠিক উত্তর: B) দর্শন
ব্যাখ্যা: উপনিষদগুলি মূলত দার্শনিক আলোচনায় পূর্ণ। ব্রহ্ম, আত্মা, জগৎ, মোক্ষ ইত্যাদি গভীর আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক বিষয়ই এর মূল উপজীব্য।
104. পরবর্তী বৈদিক যুগে ‘রাজসূয়’ যজ্ঞ কেন করা হত?
- A) সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য
- B) রাজার অভিষেক ও দৈবক্ষমতা প্রাপ্তির জন্য
- C) পুত্র সন্তান লাভের জন্য
- D) দেবতাদের সন্তুষ্ট করার জন্য
সঠিক উত্তর: B) রাজার অভিষেক ও দৈবক্ষমতা প্রাপ্তির জন্য
ব্যাখ্যা: পরবর্তী বৈদিক যুগে রাজসূয় যজ্ঞ রাজার রাজ্যাভিষেকের সময় অনুষ্ঠিত হত। এই যজ্ঞের মাধ্যমে মনে করা হত যে রাজা দৈব ক্ষমতা লাভ করেন এবং তাঁর শাসন বৈধতা পায়।
105. গান্ধার মহাজনপদের রাজধানী কী ছিল?
- A) মথুরা
- B) বিরাটনগর
- C) তক্ষশিলা
- D) ইন্দ্রপ্রস্থ
সঠিক উত্তর: C) তক্ষশিলা
ব্যাখ্যা: গান্ধার মহাজনপদটি বর্তমান পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল। এর রাজধানী তক্ষশিলা ছিল প্রাচীন ভারতের একটি বিখ্যাত জ্ঞানচর্চা ও বাণিজ্য কেন্দ্র।
106. হর্যঙ্ক বংশের শেষ রাজা কে ছিলেন?
- A) উদয়িন
- B) নাগ দশক
- C) অজাতশত্রু
- D) বিম্বিসার
সঠিক উত্তর: B) নাগ দশক
ব্যাখ্যা: হর্যঙ্ক বংশের শেষ শাসক ছিলেন নাগ দশক। তাঁকে তাঁর অমাত্য শিশুনাগ ক্ষমতাচ্যুত করে মগধে শিশুনাগ বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
107. বৌদ্ধ ধর্মে ‘মহাযান’ শাখার মূল বৈশিষ্ট্য কী?
- A) বুদ্ধকে একজন মহাপুরুষ হিসেবে মানা
- B) বুদ্ধের মূর্তিপূজা করা
- C) কঠোর তপস্যার মাধ্যমে নির্বাণ লাভ
- D) পালি ভাষায় ধর্মগ্রন্থ রচনা
সঠিক উত্তর: B) বুদ্ধের মূর্তিপূজা করা
ব্যাখ্যা: মহাযান শাখায় বুদ্ধকে শুধুমাত্র একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে না দেখে ঈশ্বর রূপে পূজা করা হয় এবং মূর্তিপূজার প্রচলন হয়। এঁরা বোধিসত্ত্ব ধারণায় বিশ্বাসী, যাঁরা নিজেরা নির্বাণ লাভ করলেও অন্যকে সাহায্য করার জন্য পৃথিবীতে থেকে যান।
108. জৈনধর্মের ‘অনেকান্তবাদ’ বা ‘স্যাদ্বাদ’ তত্ত্বটি কীসের উপর জোর দেয়?
- A) চরম সত্যের ধারণা
- B) সত্যের বহু আঙ্গিক প্রকৃতি
- C) অহিংসা
- D) ঈশ্বরের অস্তিত্ব
সঠিক উত্তর: B) সত্যের বহু আঙ্গিক প্রকৃতি
ব্যাখ্যা: অনেকান্তবাদ বা স্যাদ্বাদ হলো জৈন দর্শনের একটি মূল তত্ত্ব। এই তত্ত্ব অনুসারে, যেকোনো বস্তু বা ধারণার বিভিন্ন দিক থাকতে পারে এবং কোনো একটি দৃষ্টিভঙ্গিই চূড়ান্ত সত্য নয়। চরম সত্য আপেক্ষিক এবং বহু দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার্য।
109. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য জীবনের শেষভাগে কোন ধর্ম গ্রহণ করেন?
- A) বৌদ্ধ ধর্ম
- B) আজীবিক ধর্ম
- C) জৈন ধর্ম
- D) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: C) জৈন ধর্ম
ব্যাখ্যা: প্রচলিত ঐতিহ্য অনুসারে, চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য তাঁর জীবনের শেষদিকে সিংহাসন ত্যাগ করে জৈন সন্ন্যাসী ভদ্রবাহুর সঙ্গে দাক্ষিণাত্যের শ্রাবণবেলগোলায় যান। সেখানে তিনি জৈন ধর্ম গ্রহণ করেন এবং সল্লেখনা (অনশন ব্রত) পালনের মাধ্যমে দেহত্যাগ করেন।
110. মৌর্য প্রশাসনে ‘সমাহর্তা’-র কাজ কী ছিল?
- A) বিচার বিভাগের প্রধান
- B) কোষাগারের প্রধান
- C) রাজস্ব সংগ্রহকারী প্রধান কর্মকর্তা
- D) সেনাবাহিনীর প্রধান
সঠিক উত্তর: C) রাজস্ব সংগ্রহকারী প্রধান কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা: মৌর্য প্রশাসনে সমাহর্তা ছিলেন রাজস্ব বিভাগের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা। তাঁর প্রধান কাজ ছিল সমগ্র সাম্রাজ্য থেকে কর বা রাজস্ব আদায় করা এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা।
111. গুপ্ত যুগে রৌপ্য মুদ্রাকে কী বলা হত?
- A) দিনার
- B) রূপ্যক
- C) পণ
- D) কার্ষাপণ
সঠিক উত্তর: B) রূপ্যক
ব্যাখ্যা: গুপ্ত যুগে স্বর্ণমুদ্রাকে ‘দিনার’ এবং রৌপ্য মুদ্রাকে ‘রূপ্যক’ বলা হত। দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত প্রথম শক রাজাদের অনুকরণে রৌপ্য মুদ্রা চালু করেন।
112. গুপ্ত যুগের বিখ্যাত চিকিৎসক কে ছিলেন?
- A) চরক
- B) সুশ্রুত
- C) ধন্বন্তরি
- D) জীবক
সঠিক উত্তর: C) ধন্বন্তরি
ব্যাখ্যা: ধন্বন্তরি ছিলেন দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের নবরত্নের অন্যতম একজন এবং আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের একজন বিখ্যাত চিকিৎসক। যদিও চরক ও সুশ্রুতও মহান চিকিৎসক ছিলেন, কিন্তু তাঁদের সময়কাল গুপ্ত যুগের আগে।
113. পাল রাজারা কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন?
- A) শৈব ধর্ম
- B) বৈষ্ণব ধর্ম
- C) বৌদ্ধ ধর্ম
- D) জৈন ধর্ম
সঠিক উত্তর: C) বৌদ্ধ ধর্ম
ব্যাখ্যা: পাল রাজারা ছিলেন মহাযান ও তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মের বড় পৃষ্ঠপোষক। ধর্মপাল, দেবপাল প্রমুখ রাজার আমলে বাংলায় বৌদ্ধধর্মের ব্যাপক প্রসার ঘটে এবং অনেক বৌদ্ধবিহার নির্মিত হয়।
114. সেন রাজাদের আদি বাসস্থান কোথায় ছিল?
- A) বাংলা
- B) বিহার
- C) কর্ণাটক
- D) ওড়িশা
সঠিক উত্তর: C) কর্ণাটক
ব্যাখ্যা: সেনরা মূলত দাক্ষিণাত্যের কর্ণাটক অঞ্চলের ‘ব্রহ্মক্ষত্রিয়’ ছিলেন। তাঁরা পালদের অধীনে সেনাপতি হিসেবে বাংলায় আসেন এবং পরে পালদের দুর্বলতার সুযোগে ক্ষমতা দখল করেন।
115. ‘পবনদূত’ কাব্যের রচয়িতা ধোয়ী কোন রাজার সভাকবি ছিলেন?
- A) বল্লাল সেন
- B) বিজয় সেন
- C) লক্ষণ সেন
- D) ধর্মপাল
সঠিক উত্তর: C) লক্ষণ সেন
ব্যাখ্যা: কবি ধোয়ী ছিলেন সেন রাজা লক্ষণ সেনের পঞ্চরত্নের অন্যতম। তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো ‘পবনদূত’।
116. হরপ্পা সভ্যতার সমসাময়িক একটি বিদেশি সভ্যতা হল –
- A) ইনকা সভ্যতা
- B) রোমান সভ্যতা
- C) সুমেরীয় সভ্যতা
- D) মায়া সভ্যতা
সঠিক উত্তর: C) সুমেরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা: হরপ্পা সভ্যতা (আনুমানিক ২৫০০-১৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) ছিল ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা। মেসোপটেমিয়ার সুমেরীয় সভ্যতাও ছিল এর সমসাময়িক এবং উভয়ের মধ্যে বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান ছিল।
117. বৈদিক সাহিত্যে ‘ব্রীহি’ শব্দটি কোন শস্যকে বোঝাতে ব্যবহৃত হত?
- A) গম
- B) যব
- C) ধান
- D) ভুট্টা
সঠিক উত্তর: C) ধান
ব্যাখ্যা: বৈদিক সাহিত্যে, বিশেষ করে পরবর্তী বৈদিক সাহিত্যে, ‘ব্রীহি’ শব্দটি ধান বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। ‘যব’ শব্দটি সাধারণভাবে খাদ্যশস্য বা বিশেষভাবে বার্লি বোঝাতে ব্যবহৃত হত।
118. শিশুনাগ বংশের রাজধানী কোথায় ছিল?
- A) রাজগৃহ
- B) পাটলিপুত্র
- C) বৈশালী
- D) চম্পা
সঠিক উত্তর: C) বৈশালী
ব্যাখ্যা: শিশুনাগ মগধের রাজধানী পাটলিপুত্র থেকে বৈশালীতে স্থানান্তর করেন। তবে তাঁর পুত্র কালাশোক বা কাকবর্ণ পুনরায় পাটলিপুত্রে রাজধানী ফিরিয়ে আনেন।
119. বুদ্ধের জীবনের কোন ঘটনাটি পূর্ণিমা তিথিতে ঘটেনি?
- A) জন্ম
- B) গৃহত্যাগ
- C) জ্ঞানলাভ (বোধি)
- D) মহাপরিনির্বাণ (মৃত্যু)
সঠিক উত্তর: B) গৃহত্যাগ
ব্যাখ্যা: বৌদ্ধ ঐতিহ্য অনুসারে, বুদ্ধের জন্ম (বৈশাখী পূর্ণিমা), জ্ঞানলাভ (বৈশাখী পূর্ণিমা) এবং মহাপরিনির্বাণ (বৈশাখী পূর্ণিমা)—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাই পূর্ণিমা তিথিতে ঘটেছিল। তাঁর গৃহত্যাগের ঘটনাটি পূর্ণিমায় ঘটেনি।
120. অশোকের কোন শিলালিপি থেকে কলিঙ্গ যুদ্ধের বর্ণনা পাওয়া যায়?
- A) প্রথম মুখ্য শিলালিপি
- B) সপ্তম স্তম্ভলিপি
- C) ত্রয়োদশ (১৩তম) মুখ্য শিলালিপি
- D) মাস্কি শিলালিপি
সঠিক উত্তর: C) ত্রয়োদশ (১৩তম) মুখ্য শিলালিপি
ব্যাখ্যা: অশোকের ত্রয়োদশ বা ১৩তম মুখ্য শিলালিপিতে কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতা, তাঁর অনুশোচনা এবং ধর্মবিজয়ের নীতি গ্রহণের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।
121. ‘কবিরাজ’ উপাধি কে গ্রহণ করেছিলেন?
- A) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
- B) সমুদ্রগুপ্ত
- C) কুমারগুপ্ত
- D) হর্ষবর্ধন
সঠিক উত্তর: B) সমুদ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা: সমুদ্রগুপ্ত কেবল একজন মহান যোদ্ধা ছিলেন না, তিনি একজন কবি ও সঙ্গীতজ্ঞও ছিলেন। তাঁর মুদ্রায় তাঁকে বীণা বাজাতে দেখা যায়। তাঁর কাব্যপ্রতিভার জন্য তিনি ‘কবিরাজ’ উপাধি লাভ করেন।
122. পাল যুগের একজন বিখ্যাত ভাস্কর্য শিল্পী হলেন-
- A) সন্ধ্যাকর নন্দী
- B) ধীমান
- C) জয়দেব
- D) হরিসেন
সঠিক উত্তর: B) ধীমান
ব্যাখ্যা: পাল যুগে ভাস্কর্য ও চিত্রকলায় এক নতুন শৈলীর উদ্ভব হয়, যা ‘পাল শিল্পরীতি’ নামে পরিচিত। ধীমান এবং তাঁর পুত্র বীতপাল ছিলেন এই যুগের দুই শ্রেষ্ঠ ভাস্কর ও চিত্রশিল্পী।
123. সেন বংশের শেষ সার্বভৌম রাজা কে ছিলেন?
- A) বল্লাল সেন
- B) হেমন্ত সেন
- C) বিজয় সেন
- D) লক্ষণ সেন
সঠিক উত্তর: D) লক্ষণ সেন
ব্যাখ্যা: যদিও লক্ষণ সেনের পরেও তাঁর পুত্ররা (বিশ্বরূপ সেন, কেশব সেন) পূর্ববঙ্গের কিছু অংশে রাজত্ব করেছিলেন, কিন্তু লক্ষণ সেনকেই সেন বংশের শেষ সার্বভৌম ও শক্তিশালী রাজা হিসেবে গণ্য করা হয়।
124. সিন্ধু সভ্যতার সিলমোহরগুলি মূলত কী দিয়ে তৈরি ছিল?
- A) পোড়ামাটি (Terracotta)
- B) স্টিয়াটাইট (Steatite)
- C) তামা
- D) ব্রোঞ্জ
সঠিক উত্তর: B) স্টিয়াটাইট (Steatite)
ব্যাখ্যা: সিন্ধু সভ্যতার বেশিরভাগ সিলমোহর নরম পাথর স্টিয়াটাইট বা সেলখড়ি দিয়ে তৈরি হত। এগুলির উপর বিভিন্ন পশুর ছবি ও লিপি খোদাই করা থাকত।
125. ঋগ্বেদে ‘অঘ্ন্যা’ (যাকে হত্যা করা উচিত নয়) শব্দটি কার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে?
- A) ব্রাহ্মণ
- B) নারী
- C) গাভী
- D) রাজা
সঠিক উত্তর: C) গাভী
ব্যাখ্যা: ঋগ্বেদিক অর্থনীতিতে গাভীর অপরিসীম গুরুত্ব ছিল। তাই গাভীকে ‘অঘ্ন্যা’ বা অবধ্য বলা হত। এটি তাদের অর্থনৈতিক ও সম্ভবত ধর্মীয় গুরুত্বের পরিচায়ক।
126. দ্বিতীয় বৌদ্ধ সংগীতি কার পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হয়?
- A) অজাতশত্রু
- B) কালাশোক
- C) অশোক
- D) কনিষ্ক
সঠিক উত্তর: B) কালাশোক
ব্যাখ্যা: বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের প্রায় ১০০ বছর পর, ৩৮৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে শিশুনাগ বংশের রাজা কালাশোকের পৃষ্ঠপোষকতায় বৈশালীতে দ্বিতীয় বৌদ্ধ সংগীতি অনুষ্ঠিত হয়। এই সংগীতিতেই বৌদ্ধ সংঘ ‘স্থবিরবাদী’ ও ‘মহাসাংঘিক’—এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।
127. দ্বিতীয় জৈন সংগীতি কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
- A) পাটলিপুত্র
- B) মথুরা
- C) বৈশালী
- D) বল্লভী
সঠিক উত্তর: D) বল্লভী
ব্যাখ্যা: দ্বিতীয় তথা শেষ জৈন সংগীতি খ্রিস্টীয় পঞ্চম বা ষষ্ঠ শতকে গুজরাটের বল্লভীতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর সভাপতি ছিলেন দেবার্ধিগণি ক্ষমাসমণ। এই সংগীতিতে জৈন ধর্মগ্রন্থগুলি চূড়ান্তভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়।
128. বিশাখদত্তের ‘দেবীচন্দ্রগুপ্তম’ নাটক থেকে কোন গুপ্ত রাজার কথা জানা যায়?
- A) সমুদ্রগুপ্ত
- B) রামগুপ্ত
- C) স্কন্দগুপ্ত
- D) প্রথম কুমারগুপ্ত
সঠিক উত্তর: B) রামগুপ্ত
ব্যাখ্যা: ‘দেবীচন্দ্রগুপ্তম’ নাটক থেকে জানা যায় যে সমুদ্রগুপ্তের পর তাঁর দুর্বল পুত্র রামগুপ্ত সিংহাসনে বসেন। তিনি এক শক রাজার কাছে পরাজিত হয়ে নিজের স্ত্রী ধ্রুবদেবীকে তুলে দিতে রাজি হন। কিন্তু তাঁর ভাই দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত শক রাজাকে হত্যা করে এবং পরে রামগুপ্তকে হত্যা করে সিংহাসনে বসেন ও ধ্রুবদেবীকে বিবাহ করেন।
129. পাল বংশের কোন রাজাকে ‘বাংলার দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাতা’ বলা হয়?
- A) দেবপাল
- B) ধর্মপাল
- C) প্রথম মহীপাল
- D) রামপাল
সঠিক উত্তর: C) প্রথম মহীপাল
ব্যাখ্যা: প্রথম মহীপালের আমলে পাল সাম্রাজ্য প্রায় ধ্বংসের মুখে চলে গিয়েছিল। তিনি সেই হারানো গৌরব ও সাম্রাজ্যের অনেকটাই পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন। এই কারণে তাঁকে পাল বংশের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
130. সেন রাজা লক্ষণ সেনের রাজধানী কোথায় ছিল?
- A) কর্ণসুবর্ণ
- B) গৌড়
- C) বিক্রমপুর ও নদিয়া
- D) তাম্রলিপ্ত
সঠিক উত্তর: C) বিক্রমপুর ও নদিয়া
ব্যাখ্যা: সেনদের প্রথম দিকের রাজধানী ছিল পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুরে। লক্ষণ সেন গৌড়েও একটি রাজধানী স্থাপন করেন, যা লক্ষণাবতী নামে পরিচিত হয়। তাঁর রাজত্বের শেষের দিকে নদিয়া বা নবদ্বীপ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল।
131. হরপ্পার কোন কেন্দ্রে সমাধিক্ষেত্র R-37 এর নিদর্শন পাওয়া গেছে?
- A) মহেঞ্জোদারো
- B) হরপ্পা
- C) লোথাল
- D) কালিবঙ্গান
সঠিক উত্তর: B) হরপ্পা
ব্যাখ্যা: হরপ্পা প্রত্নক্ষেত্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধিক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো R-37, যা হরপ্পা সংস্কৃতির মূল পর্বের সমাধিক্ষেত্র। অন্যটি হলো Cemetery H, যা পরবর্তী হরপ্পা যুগের।
132. বৈদিক যুগে কর আদায়কারী কর্মচারীকে কী বলা হত?
- A) সেনানী
- B) ভাগদূঘ
- C) পুরোহিত
- D) গ্রামণী
সঠিক উত্তর: B) ভাগদূঘ
ব্যাখ্যা: পরবর্তী বৈদিক যুগে রাজার ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে কর ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। ‘ভাগদূঘ’ নামক কর্মচারী জনগণের কাছ থেকে ‘ভাগ’ বা কর (উৎপাদিত ফসলের অংশ) আদায় করত।
133. মগধের উত্থানের জন্য কোন কারণটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
- A) উর্বর কৃষি জমি এবং লোহার খনি
- B) শক্তিশালী নৌ-বাহিনী
- C) বিদেশি শক্তির সাহায্য
- D) গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা
সঠিক উত্তর: A) উর্বর কৃষি জমি এবং লোহার খনি
ব্যাখ্যা: মগধের উত্থানের পেছনে একাধিক কারণ ছিল। এর মধ্যে অন্যতম হলো গঙ্গা অববাহিকার উর্বর জমি থেকে প্রাপ্ত বিপুল কৃষি উদ্বৃত্ত এবং ছোটনাগপুর মালভূমির কাছাকাছি হওয়ায় লোহার সহজলভ্যতা। লোহা দিয়ে উন্নত অস্ত্র ও কৃষি সরঞ্জাম তৈরি করা সম্ভব হয়েছিল।
134. গৌতম বুদ্ধ কোন ভাষায় তাঁর ধর্ম প্রচার করতেন?
- A) সংস্কৃত
- B) পালি
- C) প্রাকৃত
- D) অর্ধমাগধী
সঠিক উত্তর: B) পালি
ব্যাখ্যা: গৌতম বুদ্ধ সাধারণ মানুষের বোধগম্য ভাষায় ধর্ম প্রচার করতেন। সেই সময়কার উত্তর ভারতের সাধারণ মানুষের কথ্য ভাষা ছিল পালি। তাই তিনি পালি ভাষাকেই বেছে নেন।
135. অশোকের কোন লিপিতে তাঁর নাম ‘অশোক’ হিসেবে সরাসরি উল্লিখিত আছে?
- A) সারনাথ স্তম্ভলিপি
- B) ত্রয়োদশ শিলালিপি
- C) মাস্কি ও গুর্জরা লিপি
- D) রুম্মিনদেই স্তম্ভলিপি
সঠিক উত্তর: C) মাস্কি ও গুর্জরা লিপি
ব্যাখ্যা: অশোকের বেশিরভাগ লিপিতে ‘দেবানাং প্রিয় পিয়দস্সি’ উপাধি ব্যবহৃত হয়েছে। শুধুমাত্র মাস্কি, গুর্জরা, নেত্তুর এবং উদেগোলান—এই চারটি ছোট শিলালিপিতে তাঁর আসল নাম ‘অশোক’ পাওয়া যায়।
136. আর্যভট্ট ও বরাহমিহির কোন যুগের বিজ্ঞানী ছিলেন?
- A) মৌর্য যুগ
- B) কুষাণ যুগ
- C) গুপ্ত যুগ
- D) পাল যুগ
সঠিক উত্তর: C) গুপ্ত যুগ
ব্যাখ্যা: বিখ্যাত গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী আর্যভট্ট (যিনি শূন্যের ধারণা এবং পাই (π) এর মান নির্ণয় করেন) এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানী বরাহমিহির গুপ্ত যুগের মানুষ ছিলেন। তাঁদের জ্ঞানচর্চা গুপ্ত যুগকে ‘সুবর্ণ যুগ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেছে।
137. ‘অষ্টাধ্যায়ী’ নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
- A) কৌটিল্য
- B) পতঞ্জলি
- C) পাণিনি
- D) কালিদাস
সঠিক উত্তর: C) পাণিনি
ব্যাখ্যা: পাণিনি (আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতক) সংস্কৃত ভাষার শ্রেষ্ঠ ব্যাকরণ ‘অষ্টাধ্যায়ী’ রচনা করেন। এটি বিশ্বের প্রাচীনতম ভাষাতাত্ত্বিক গ্রন্থগুলির মধ্যে অন্যতম।
138. সোমপুরী মহাবিহার কে প্রতিষ্ঠা করেন?
- A) গোপাল
- B) ধর্মপাল
- C) দেবপাল
- D) রামপাল
সঠিক উত্তর: B) ধর্মপাল
ব্যাখ্যা: পাল সম্রাট ধর্মপাল বর্তমান বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে বিখ্যাত সোমপুরী মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম বৌদ্ধবিহার এবং বর্তমানে একটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।
139. বিজয় সেন কোন দুটি রাজবংশকে পরাজিত করে বাংলায় সেন শাসন প্রতিষ্ঠা করেন?
- A) পাল ও বর্মণ
- B) পাল ও খড়গ
- C) বর্মণ ও কম্বোজ
- D) পাল ও চন্দ্র
সঠিক উত্তর: A) পাল ও বর্মণ
ব্যাখ্যা: বিজয় সেন পালদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে উত্তর ও পশ্চিম বাংলা দখল করেন এবং পূর্ববঙ্গের বর্মণ রাজবংশকে পরাজিত করে সমগ্র বাংলায় সেন আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন।
140. কোন গুপ্ত সম্রাটকে তাঁর মুদ্রায় বীণা বাজানো অবস্থায় দেখা যায়?
- A) প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
- B) সমুদ্রগুপ্ত
- C) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
- D) কুমারগুপ্ত
সঠিক উত্তর: B) সমুদ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা: সমুদ্রগুপ্তের কিছু স্বর্ণমুদ্রায় তাঁকে একটি পালঙ্কে বসে বীণা বাজাতে দেখা যায়। এটি তাঁর সঙ্গীতানুরাগ ও শৈল্পিক সত্তার পরিচায়ক এবং এর জন্যই তিনি ‘কবিরাজ’ উপাধি পেয়েছিলেন।
141. ‘জীবক’ নামক বিখ্যাত চিকিৎসক কার রাজসভায় ছিলেন?
- A) অজাতশত্রু
- B) বিম্বিসার
- C) চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
- D) অশোক
সঠিক উত্তর: B) বিম্বিসার
ব্যাখ্যা: জীবক ছিলেন হর্যঙ্ক বংশের রাজা বিম্বিসারের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে অত্যন্ত পারদর্শী। তিনি গৌতম বুদ্ধেরও চিকিৎসা করেছিলেন।
142. অশোকের ধম্ম প্রচারের জন্য নিযুক্ত কর্মচারীরা কী নামে পরিচিত ছিল?
- A) সমাহর্তা
- B) অমাত্য
- C) ধম্ম মহামাত্র
- D) রাজুক
সঠিক উত্তর: C) ধম্ম মহামাত্র
ব্যাখ্যা: সম্রাট অশোক তাঁর ‘ধম্ম’ বা নৈতিক আচরণবিধির প্রচার এবং মানুষের নৈতিক মান উন্নয়নের জন্য ‘ধম্ম মহামাত্র’ নামে এক নতুন শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ করেন।
143. মহাবীরের প্রথম শিষ্য কে ছিলেন?
- A) গৌতম
- B) স্থূলভদ্র
- C) ভদ্রবাহু
- D) জামালি
সঠিক উত্তর: D) জামালি
ব্যাখ্যা: জামালি ছিলেন মহাবীরের কন্যা প্রিয়দর্শনার স্বামী, অর্থাৎ মহাবীরের জামাতা। তিনিই মহাবীরের প্রথম শিষ্য হন, যদিও পরে মতপার্থক্যের কারণে তিনি সংঘ ত্যাগ করেন।
144. বৈদিক যুগের কোন বিদুষী নারী বেদের কিছু স্তোত্র রচনা করেছিলেন বলে মনে করা হয়?
- A) গার্গী
- B) মৈত্রেয়ী
- C) লোপামুদ্রা
- D) উপরের সবকটি
সঠিক উত্তর: D) উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা: বৈদিক যুগে নারীদের উচ্চ মর্যাদা ছিল এবং তাঁরা জ্ঞানচর্চায় অংশ নিতেন। লোপামুদ্রা, ঘোষা, অপালা, বিশ্ববারা প্রমুখ বিদুষী নারী ঋগ্বেদের কিছু স্তোত্র রচনা করেছিলেন। গার্গী ও মৈত্রেয়ী ছিলেন পরবর্তী বৈদিক যুগের বিখ্যাত দার্শনিক।
145. সিন্ধু সভ্যতার কোন কেন্দ্রে যজ্ঞের বেদি বা ‘ফায়ার অল্টার’-এর নিদর্শন পাওয়া গেছে?
- A) মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা
- B) লোথাল ও কালিবঙ্গান
- C) ধোলাভিরা ও সুরকোটডা
- D) চানহুদারো ও বনওয়ালি
সঠিক উত্তর: B) লোথাল ও কালিবঙ্গান
ব্যাখ্যা: যদিও সিন্ধু সভ্যতায় বড় কোনো মন্দিরের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি, তবে কালিবঙ্গান এবং লোথালের মতো কেন্দ্রগুলিতে সারিবদ্ধ যজ্ঞবেদির কাঠামো পাওয়া গেছে, যা সম্ভবত কোনো ধর্মীয় বা আনুষ্ঠানিক অগ্নি উপাসনার ইঙ্গিত দেয়।
146. ‘হর্ষচরিত’ কে রচনা করেন?
- A) হর্ষবর্ধন
- B) বাণভট্ট
- C) কালিদাস
- D) বিশাখদত্ত
সঠিক উত্তর: B) বাণভট্ট
ব্যাখ্যা: বাণভট্ট ছিলেন পুষ্যভূতি বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা হর্ষবর্ধনের সভাকবি। তিনি তাঁর পৃষ্ঠপোষক রাজার জীবনচরিত ‘হর্ষচরিত’ রচনা করেন। তাঁর অপর বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘কাদম্বরী’। (এই প্রশ্নটি সরাসরি আপনার তালিকার বাইরে, তবে গুপ্ত-পরবর্তী যুগের গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন)।
147. বল্লাল সেন রচিত অসমাপ্ত গ্রন্থ ‘অদ্ভুতসাগর’ কে সমাপ্ত করেন?
- A) বিজয় সেন
- B) হেমন্ত সেন
- C) লক্ষণ সেন
- D) জয়দেব
সঠিক উত্তর: C) লক্ষণ সেন
ব্যাখ্যা: সেন রাজা বল্লাল সেন জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক গ্রন্থ ‘অদ্ভুতসাগর’ রচনা শুরু করেন, কিন্তু সমাপ্ত করতে পারেননি। তাঁর পুত্র ও উত্তরাধিকারী লক্ষণ সেন এই গ্রন্থটি সমাপ্ত করেন।
148. গুপ্ত সাম্রাজ্যের সরকারি ভাষা কী ছিল?
- A) পালি
- B) প্রাকৃত
- C) সংস্কৃত
- D) অর্ধমাগধী
সঠিক উত্তর: C) সংস্কৃত
ব্যাখ্যা: গুপ্ত রাজারা ছিলেন ব্রাহ্মণ্য ধর্মের পৃষ্ঠপোষক এবং তাঁরা সংস্কৃত ভাষাকে রাজকার্যের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করতেন। এই যুগে কালিদাস সহ বহু কবির হাতে সংস্কৃত সাহিত্যের চরম বিকাশ ঘটে।
149. মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের একটি অন্যতম কারণ কী ছিল?
- A) অশোকের অহিংস নীতি
- B) দুর্বল উত্তরাধিকারী
- C) অর্থনৈতিক সংকট
- D) উপরের সবকটি
সঠিক উত্তর: D) উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা: মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের জন্য একাধিক কারণ দায়ী ছিল। অশোকের পর দুর্বল উত্তরাধিকারীরা বিশাল সাম্রাজ্যকে ধরে রাখতে পারেননি। অশোকের অহিংস নীতি সামরিক শক্তিকে দুর্বল করেছিল বলে মনে করা হয়। এছাড়াও, বিশাল সেনাবাহিনী ও প্রশাসন রক্ষণাবেক্ষণের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপও পতনের একটি বড় কারণ ছিল।
150. মহাবীর কোন ভাষায় ধর্ম প্রচার করতেন?
- A) সংস্কৃত
- B) পালি
- C) অর্ধমাগধী প্রাকৃত
- D) শৌরসেনী
সঠিক উত্তর: C) অর্ধমাগধী প্রাকৃত
ব্যাখ্যা: মহাবীরও সাধারণ মানুষের ভাষায় তাঁর দর্শন প্রচার করতেন। তিনি তৎকালীন মগধ অঞ্চলের কথ্য ভাষা অর্ধমাগধী প্রাকৃত ব্যবহার করতেন, যাতে জনগণ সহজেই তাঁর উপদেশ বুঝতে পারে।
151. সিন্ধু সভ্যতার কোন কেন্দ্রে তুলা চাষের প্রাচীনতম প্রমাণ পাওয়া যায়?
- A) মেহেরগড়
- B) হরপ্পা
- C) মহেঞ্জোদারো
- D) লোথাল
সঠিক উত্তর: A) মেহেরগড়
ব্যাখ্যা: নবোপলীয় কেন্দ্র মেহেরগড়ে (যা হরপ্পা সভ্যতার পূর্বসূরি) প্রায় ৭০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের তুলা চাষের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা বিশ্বের প্রাচীনতম। সিন্ধু উপত্যকা থেকে গ্রিকরা তুলাকে ‘সিনডন’ (Sindon) বলত, যা ‘সিন্ধু’ শব্দ থেকে উদ্ভূত।
152. ‘যজুর্বেদ’ প্রধানত কী বিষয়ক?
- A) দেবতাদের স্তুতি
- B) সঙ্গীতের নিয়ম
- C) যজ্ঞের নিয়মকানুন ও মন্ত্র
- D) জাদু ও ভেষজ
সঠিক উত্তর: C) যজ্ঞের নিয়মকানুন ও মন্ত্র
ব্যাখ্যা: যজুর্বেদ হলো যজ্ঞানুষ্ঠানের বেদ। এতে যজ্ঞ করার সময় পাঠযোগ্য মন্ত্র এবং বিভিন্ন আচারের নিয়মাবলী গদ্য ও পদ্য উভয় வடிতে সংকলিত আছে।
153. ‘একরাট’ উপাধি কে ধারণ করেছিলেন?
- A) বিম্বিসার
- B) অজাতশত্রু
- C) মহাপদ্ম নন্দ
- D) চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
সঠিক উত্তর: C) মহাপদ্ম নন্দ
ব্যাখ্যা: নন্দ বংশের প্রতিষ্ঠাতা মহাপদ্ম নন্দ উত্তর ভারতের এক বিশাল অংশ জয় করে এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। এই বিশাল সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি হিসেবে তিনি ‘একরাট’ উপাধি ধারণ করেন।
154. ‘জাতক’ এর গল্পগুলি কীসের সঙ্গে সম্পর্কিত?
- A) মহাবীরের পূর্বজন্মের কাহিনী
- B) বুদ্ধের পূর্বজন্মের কাহিনী
- C) অশোকের জীবনী
- D) কৃষ্ণ ও রাধার প্রেম
সঠিক উত্তর: B) বুদ্ধের পূর্বজন্মের কাহিনী
ব্যাখ্যা: ‘জাতক’ হলো বৌদ্ধ সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে গৌতম বুদ্ধের পূর্ববর্তী জন্মগুলির প্রায় ৫৪৭টি কাহিনী সংকলিত আছে। এই গল্পগুলির মাধ্যমে নৈতিক উপদেশ দেওয়া হয়েছে।
155. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের ‘স্যান্ড্রোকোটাস’ নামটি কে শনাক্ত করেন?
- A) জেমস প্রিন্সেপ
- B) আলেকজান্ডার কানিংহাম
- C) জন মার্শাল
- D) উইলিয়াম জোন্স
সঠিক উত্তর: D) উইলিয়াম জোন্স
ব্যাখ্যা: গ্রিক লেখকরা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যকে ‘স্যান্ড্রোকোটাস’ (Sandrocottus) বা ‘অ্যান্ড্রোকোটাস’ নামে উল্লেখ করেছেন। ১৭৯৩ সালে এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা স্যার উইলিয়াম জোন্স প্রথম এই নামটি ভারতীয় শাসক চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের সঙ্গে শনাক্ত করেন।
156. অজন্তা গুহাচিত্র কোন রাজবংশের শ্রেষ্ঠ কীর্তি?
- A) মৌর্য
- B) কুষাণ
- C) গুপ্ত ও বাকাটক
- D) রাষ্ট্রকূট
সঠিক উত্তর: C) গুপ্ত ও বাকাটক
ব্যাখ্যা: মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদে অবস্থিত অজন্তা গুহার দেয়ালচিত্রগুলি মূলত গুপ্ত এবং তাঁদের সমসাময়িক দাক্ষিণাত্যের বাকাটক রাজবংশের সময় (খ্রিস্টীয় ২য় থেকে ৬ষ্ঠ শতক) আঁকা হয়েছিল। এই চিত্রগুলির মূল বিষয়বস্তু জাতকের গল্প ও বুদ্ধের জীবন।
157. আরব পর্যটক সুলেইমান কোন পাল রাজার রাজত্বকালে বাংলায় আসেন?
- A) ধর্মপাল
- B) দেবপাল
- C) প্রথম মহীপাল
- D) রামপাল
সঠিক উত্তর: B) দেবপাল
ব্যাখ্যা: আরব ব্যবসায়ী ও পর্যটক সুলেইমান পাল সম্রাট দেবপালের রাজত্বকালে ভারতে আসেন। তিনি পাল রাজ্যকে প্রতিহার ও রাষ্ট্রকূট রাজ্যের চেয়েও শক্তিশালী বলে বর্ণনা করেছেন।
158. সেন বংশের কোন রাজা গৌড়েশ্বর উপাধি ধারণ করেন?
- A) হেমন্ত সেন
- B) বিজয় সেন
- C) বল্লাল সেন
- D) লক্ষণ সেন
সঠিক উত্তর: D) লক্ষণ সেন
ব্যাখ্যা: লক্ষণ সেন উত্তরবঙ্গ বা গৌড় অঞ্চল নিজের অধিকারে এনে ‘গৌড়েশ্বর’ উপাধি ধারণ করেন।
159. ঋগ্বেদের কোন মণ্ডলে বর্ণ ব্যবস্থার উল্লেখ আছে?
- A) প্রথম মণ্ডল
- B) তৃতীয় মণ্ডল
- C) সপ্তম মণ্ডল
- D) দশম মণ্ডল
সঠিক উত্তর: D) দশম মণ্ডল
ব্যাখ্যা: ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের ‘পুরুষসূক্ত’-এ প্রথম চতুর্বর্ণ প্রথার উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানে বলা হয়েছে যে বিরাট পুরুষের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে চার বর্ণের উৎপত্তি। এই মণ্ডলটি ঋগ্বেদের অপেক্ষাকৃত পরবর্তী সংযোজন বলে মনে করা হয়।
160. কাকে ‘দ্বিতীয় অশোক’ বলা হয়?
- A) হর্ষবর্ধন
- B) সমুদ্রগুপ্ত
- C) কনিষ্ক
- D) মেনান্ডার
সঠিক উত্তর: C) কনিষ্ক
ব্যাখ্যা: কুষাণ সম্রাট কনিষ্ক বৌদ্ধধর্মের একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তিনি অশোকের মতোই বৌদ্ধধর্মের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং তাঁর উদ্যোগেই চতুর্থ বৌদ্ধ সংগীতি আয়োজিত হয়। এই কারণে তাঁকে ‘দ্বিতীয় অশোক’ বলা হয়। (এই প্রশ্নটি মৌর্য-গুপ্তের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল থেকে)
161. সিন্ধু সভ্যতায় কোন প্রাণীর চিত্র সিলমোহরে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়?
- A) ষাঁড়
- B) একশৃঙ্গী পৌরাণিক প্রাণী (Unicorn)
- C) হাতি
- D) বাঘ
সঠিক উত্তর: B) একশৃঙ্গী পৌরাণিক প্রাণী (Unicorn)
ব্যাখ্যা: সিন্ধু সভ্যতার সিলমোহরগুলিতে সবচেয়ে বেশি যে প্রাণীটির চিত্র খোদিত হয়েছে, তা হলো একটি একশৃঙ্গী পৌরাণিক প্রাণী, যাকে ইউনিকর্ন বলা হয়। এটি সম্ভবত তাদের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতীক ছিল।
162. পরবর্তী বৈদিক যুগের প্রধান দেবতা কারা ছিলেন?
- A) ইন্দ্র, অগ্নি, বরুণ
- B) প্রজাপতি (ব্রহ্মা), বিষ্ণু, রুদ্র (শিব)
- C) সূর্য, সোম, যম
- D) ঊষা, অদিতি, সাবিত্রী
সঠিক উত্তর: B) প্রজাপতি (ব্রহ্মা), বিষ্ণু, রুদ্র (শিব)
ব্যাখ্যা: পরবর্তী বৈদিক যুগে ঋগ্বেদিক দেবতা ইন্দ্র ও অগ্নির গুরুত্ব কমে আসে। তার পরিবর্তে সৃষ্টিকর্তা প্রজাপতি (পরবর্তীকালে ব্রহ্মা), পালনকর্তা বিষ্ণু এবং সংহারকর্তা রুদ্র (পরবর্তীকালে শিব) প্রধান দেবতা হিসেবে পূজিত হতে শুরু করেন।
163. সুরসেন মহাজনপদের রাজধানী কী ছিল?
- A) ইন্দ্রপ্রস্থ
- B) শ্রাবস্তী
- C) মথুরা
- D) কৌশাম্বী
সঠিক উত্তর: C) মথুরা
ব্যাখ্যা: যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত সুরসেন মহাজনপদের রাজধানী ছিল মথুরা। এটি পরবর্তীকালে কৃষ্ণ উপাসনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়।
164. বৌদ্ধ সংঘে যোগ দেওয়ার অনুষ্ঠানকে কী বলা হত?
- A) উপসম্পদা
- B) প্রব্রজ্যা
- C) কৈবল্য
- D) নির্বাণ
সঠিক উত্তর: A) উপসম্পদা
ব্যাখ্যা: বৌদ্ধ সংঘে প্রাথমিক প্রবেশকে বলা হত ‘প্রব্রজ্যা’ (সাধারণত অল্প বয়সে)। এরপর পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করার অনুষ্ঠানকে ‘উপসম্পদা’ বলা হত, যা সাধারণত ২০ বছর বয়সের পর দেওয়া হতো।
165. সাঁচি স্তূপ কে নির্মাণ করেন?
- A) চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
- B) বিন্দুসার
- C) অশোক
- D) কনিষ্ক
সঠিক উত্তর: C) অশোক
ব্যাখ্যা: মধ্যপ্রদেশের সাঁচিতে অবস্থিত বিখ্যাত বৌদ্ধ স্তূপটি মূলত সম্রাট অশোক নির্মাণ করেছিলেন। যদিও পরবর্তীকালে শুঙ্গ ও সাতবাহন রাজারা এর তোরণ ও বেষ্টনী নির্মাণ করে একে আরও সুসজ্জিত করেন।
166. গুপ্তযুগের কোন সাহিত্যিক ‘মৃচ্ছকটিকম’ নাটকটি রচনা করেন?
- A) কালিদাস
- B) বিশাখদত্ত
- C) শূদ্রক
- D) ভাস
সঠিক উত্তর: C) শূদ্রক
ব্যাখ্যা: ‘মৃচ্ছকটিকম’ (মাটির তৈরি ছোট গাড়ি) একটি বিখ্যাত সংস্কৃত নাটক, যার রচয়িতা শূদ্রক। এই নাটকে দরিদ্র ব্রাহ্মণ চারুদত্ত এবং গণিকা বসন্তসেনার প্রেমকাহিনী এবং তৎকালীন সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
167. পাল যুগের ‘খালিমপুর তাম্রশাসন’ থেকে কোন রাজার কথা জানা যায়?
- A) গোপাল
- B) ধর্মপাল
- C) দেবপাল
- D) প্রথম মহীপাল
সঠিক উত্তর: B) ধর্মপাল
ব্যাখ্যা: খালিমপুর তাম্রশাসনটি পাল রাজা ধর্মপালের। এই লিপি থেকে জানা যায় যে কীভাবে ‘মাৎস্যন্যায়ের’ পর বাংলার ‘প্রকৃতিপুঞ্জ’ বা জনগণ গোপালকে রাজা নির্বাচিত করেছিল, যা পাল বংশের গণতান্ত্রিক সূচনার প্রমাণ।
168. ‘আর্যসত্য’ ধারণাটি কোন ধর্মের সাথে যুক্ত?
- A) জৈনধর্ম
- B) বৌদ্ধধর্ম
- C) আজীবিক ধর্ম
- D) বৈদিক ধর্ম
সঠিক উত্তর: B) বৌদ্ধধর্ম
ব্যাখ্যা: ‘চতুরার্য সত্য’ বা চারটি আর্যসত্য হলো বৌদ্ধধর্মের মূল ভিত্তি। এটি বুদ্ধের প্রথম ধর্মোপদেশের (ধর্মচক্র প্রবর্তন) মূল বিষয় ছিল।
169. কোন গুপ্ত শাসক হুণদের পরাজিত করে ‘বিক্রমাদিত্য’ উপাধি নেন?
- A) সমুদ্রগুপ্ত
- B) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
- C) স্কন্দগুপ্ত
- D) কুমারগুপ্ত
সঠিক উত্তর: C) স্কন্দগুপ্ত
ব্যাখ্যা: স্কন্দগুপ্ত সফলভাবে দুর্ধর্ষ হুণ আক্রমণ প্রতিহত করে গুপ্ত সাম্রাজ্যকে রক্ষা করেন। এই বিরাট সাফল্যের জন্য তিনি ‘বিক্রমাদিত্য’ উপাধি গ্রহণ করেন, যা তাঁর ভিটারি স্তম্ভলিপিতে উল্লেখ আছে। (দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তও বিক্রমাদিত্য উপাধি নেন, কিন্তু তা ছিল শক বিজয়ের পর)।
170. ভারতের ইতিহাসে প্রথম স্বর্ণমুদ্রা কারা চালু করে?
- A) মৌর্যরা
- B) ইন্দো-গ্রিকরা
- C) কুষাণরা
- D) গুপ্তরা
সঠিক উত্তর: B) ইন্দো-গ্রিকরা
ব্যাখ্যা: ভারতে প্রথম পরিকল্পিত ও ব্যাপকভাবে স্বর্ণমুদ্রা চালু করার কৃতিত্ব ইন্দো-গ্রিক (ব্যাকট্রিয় গ্রিক) শাসকদের। কুষাণরা ব্যাপক পরিমাণে স্বর্ণমুদ্রা চালু করে এবং গুপ্ত যুগে স্বর্ণমুদ্রার শিল্প उत्कृष्टता শীর্ষে পৌঁছায়।
171. মহাবীরের প্রতীক কী ছিল?
- A) ষাঁড়
- B) সাপ
- C) সিংহ
- D) হাতি
সঠিক উত্তর: C) সিংহ
ব্যাখ্যা: জৈনধর্মে প্রত্যেক তীর্থংকরের একটি নির্দিষ্ট প্রতীক বা চিহ্ন আছে। ২৪তম তীর্থংকর মহাবীরের প্রতীক হলো সিংহ। প্রথম তীর্থংকর ঋষভনাথের প্রতীক ছিল ষাঁড় এবং ২৩তম তীর্থংকর পার্শ্বনাথের প্রতীক ছিল সাপ।
172. পাটলিপুত্র কোন দুটি নদীর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত?
- A) গঙ্গা ও যমুনা
- B) গঙ্গা ও শোন
- C) সিন্ধু ও বিতস্তা
- D) গঙ্গা ও গণ্ডক
সঠিক উত্তর: B) গঙ্গা ও শোন
ব্যাখ্যা: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাটলিপুত্র নগরীটি গঙ্গা, শোন এবং গণ্ডক নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে অবস্থিত ছিল। তবে মূলত গঙ্গা ও শোনের সঙ্গমস্থলকেই এর অবস্থান হিসেবে ধরা হয়। এই ভৌগোলিক অবস্থান একে একটি ‘জলদুর্গ’-এর সুরক্ষা প্রদান করেছিল।
173. বৈদিক আর্যদের দ্বারা ব্যবহৃত প্রাচীনতম মুদ্রা কোনটি?
- A) পণ
- B) কার্ষাপণ
- C) নিষ্ক ও মনা
- D) দিনার
সঠিক উত্তর: C) নিষ্ক ও মনা
ব্যাখ্যা: ঋগ্বেদিক যুগে ‘নিষ্ক’ ছিল সোনার হার, যা পরে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হত। ‘মনা’ও ছিল আরেকটি বিনিময় মাধ্যম। তবে এই যুগে মূলত পণ্য বিনিময় প্রথাই বেশি প্রচলিত ছিল।
174. ভারতের বৃহত্তম হরপ্পান প্রত্নক্ষেত্র কোনটি?
- A) মহেঞ্জোদারো
- B) হরপ্পা
- C) ধোলাভিরা
- D) রাখিগড়ি
সঠিক উত্তর: D) রাখিগড়ি
ব্যাখ্যা: বর্তমানে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে অবস্থিত রাখিগড়ি হলো সিন্ধু সভ্যতার বৃহত্তম প্রত্নক্ষেত্র। এর আয়তন মহেঞ্জোদারোর চেয়েও বেশি। এটি সিন্ধু-ঘর্ঘরা-হকরা নদী অববাহিকায় অবস্থিত।
175. কৈবর্ত বিদ্রোহের নেতা কে ছিলেন?
- A) দিব্য
- B) রুদ্রোক
- C) ভীম
- D) উপরের সবকটি
সঠিক উত্তর: D) উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা: কৈবর্ত বিদ্রোহের সূচনা করেন দিব্য বা দিব্বোক। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ভাই রুদ্রোক এবং তারপর রুদ্রোকের পুত্র ভীম এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। অবশেষে পাল রাজা রামপাল এই বিদ্রোহ দমন করেন।
176. কোন রাজাকে পরাস্ত করে বিজয় সেন বাংলায় সেন বংশের ভিত্তি স্থাপন করেন?
- A) মদন পাল
- B) রামপাল
- C) দ্বিতীয় মহীপাল
- D) গোপাল
সঠিক উত্তর: A) মদন পাল
ব্যাখ্যা: সেন বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বিজয় সেন পাল বংশের শেষ দিকের দুর্বল শাসক মদন পালকে পরাজিত করে উত্তর ও পশ্চিম বাংলায় নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেন শাসনের ভিত্তি স্থাপন করেন।
177. ‘দশকুমারচরিত’ কে রচনা করেন?
- A) কালিদাস
- B) বাণভট্ট
- C) দণ্ডী
- D) ভারবি
সঠিক উত্তর: C) দণ্ডী
ব্যাখ্যা: দণ্ডী ছিলেন গুপ্ত-পরবর্তী যুগের একজন বিখ্যাত সংস্কৃত গদ্যকার ও কবি। তাঁর রচিত ‘দশকুমারচরিত’ গ্রন্থে দশজন রাজকুমারের রোমাঞ্চকর অভিযানের কাহিনী বর্ণিত আছে।
178. মৌর্য প্রশাসনে জেলার প্রধানকে কী বলা হত?
- A) গ্রামিক
- B) রাজুক
- C) প্রদেশিকা
- D) সমাহর্তা
সঠিক উত্তর: C) প্রদেশিকা
ব্যাখ্যা: মৌর্য প্রশাসনে প্রদেশ বা রাজ্যকে জেলা বা ‘আহার’-এ ভাগ করা হত। জেলার প্রধানকে প্রদেশিকা বা রাজুক বলা হত। রাজুকদের হাতে রাজস্ব ও বিচার উভয় ক্ষমতা ছিল।
179. বুদ্ধের সারথির নাম কী ছিল?
- A) কন্থক
- B) চন্ন বা ছন্দক
- C) দেবদত্ত
- D) আনন্দ
সঠিক উত্তর: B) চন্ন বা ছন্দক
ব্যাখ্যা: সিদ্ধার্থের গৃহত্যাগের সময় তাঁর বিশ্বস্ত সারথি ছিলেন চন্ন বা ছন্দক এবং তাঁর প্রিয় ঘোড়াটির নাম ছিল কন্থক। আনন্দ ছিলেন বুদ্ধের প্রিয় শিষ্য।
180. কোন মহাজনপদটি তার লৌহ আকরিকের জন্য বিখ্যাত ছিল?
- A) মগধ
- B) কাশী
- C) অবন্তী
- D) কোশল
সঠিক উত্তর: C) অবন্তী
ব্যাখ্যা: অবন্তী মহাজনপদটি উন্নত মানের লৌহ আকরিকের জন্য বিখ্যাত ছিল। এই লোহা ব্যবহার করে তারা উন্নত অস্ত্রশস্ত্র তৈরি করত, যা তাদের সামরিক শক্তিতে পরিণত করেছিল। মগধেরও লোহার খনি ছিল, যা তার উত্থানে সাহায্য করেছিল।
181. ‘সপ্তাঙ্গ’ তত্ত্বের ধারণা কে দেন?
- A) মেগাস্থিনিস
- B) কৌটিল্য
- C) অশোক
- D) মনু
সঠিক উত্তর: B) কৌটিল্য
ব্যাখ্যা: কৌটিল্য তাঁর ‘অর্থশাস্ত্র’ গ্রন্থে রাষ্ট্রের সাতটি অপরিহার্য অঙ্গের কথা বলেছেন, যা ‘সপ্তাঙ্গ’ তত্ত্ব নামে পরিচিত। এই সাতটি অঙ্গ হলো— স্বামী (রাজা), অমাত্য (মন্ত্রী), জনপদ (ভূখণ্ড ও জনগণ), দুর্গ (কেল্লা), কোশ (কোষাগার), দণ্ড (সেনাবাহিনী) এবং মিত্র (বন্ধুরাষ্ট্র)।
182. এলাহাবাদ প্রশস্তিতে সমুদ্রগুপ্তের কটি রাজ্যজয়ের নীতির কথা বলা হয়েছে?
- A) দুটি
- B) তিনটি
- C) চারটি
- D) পাঁচটি
সঠিক উত্তর: C) চারটি
ব্যাখ্যা: হরিসেন রচিত এলাহাবাদ প্রশস্তিতে সমুদ্রগুপ্তের চারটি প্রধান রাজ্যজয় নীতির উল্লেখ আছে: (১) আর্যাবর্তের রাজাদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ নীতি, (২) দাক্ষিণাত্যের রাজাদের বিরুদ্ধে গ্রহণ-মোক্ষ-অনুগ্রহ নীতি, (৩) সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির জন্য করদান ও আনুগত্যের নীতি, এবং (৪) বিদেশি শাসকদের জন্য আত্মসমর্পণ ও কন্যাদানের নীতি।
183. অদন্তপুরী বিশ্ববিদ্যালয় কে প্রতিষ্ঠা করেন?
- A) ধর্মপাল
- B) দেবপাল
- C) গোপাল
- D) রামপাল
সঠিক উত্তর: C) গোপাল
ব্যাখ্যা: পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল বিহারে অদন্তপুরী মহাবিহার বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
184. ‘লক্ষণাব্দ’ বা লক্ষণ সংবৎ কে চালু করেন?
- A) বল্লাল সেন
- B) বিজয় সেন
- C) লক্ষণ সেন
- D) হেমন্ত সেন
সঠিক উত্তর: C) লক্ষণ সেন
ব্যাখ্যা: সেন রাজা লক্ষণ সেন তাঁর রাজ্যাভিষেকের বছর (আনুমানিক ১১৭৮-৭৯ খ্রিস্টাব্দ) থেকে ‘লক্ষণাব্দ’ নামে একটি নতুন অব্দ বা ক্যালেন্ডার চালু করেন, যা বাংলা ও বিহারের কিছু অংশে ব্যবহৃত হত।
185. সিন্ধু সভ্যতার অর্থনীতির মূল ভিত্তি কী ছিল?
- A) শিকার ও সংগ্রহ
- B) পশুপালন
- C) উদ্বৃত্ত কৃষি ও বাণিজ্য
- D) হস্তশিল্প
সঠিক উত্তর: C) উদ্বৃত্ত কৃষি ও বাণিজ্য
ব্যাখ্যা: সিন্ধু নদের উর্বর উপত্যকায় উন্নত কৃষি ব্যবস্থার ফলে প্রচুর উদ্বৃত্ত ফসল উৎপাদিত হত। এই উদ্বৃত্ত ফসলই তাদের বিশাল নগর জীবন এবং মেসোপটেমিয়ার মতো দূরবর্তী অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যের মূল ভিত্তি ছিল।
186. ঋগ্বেদে ‘পুরন্দর’ নামে কোন দেবতাকে অভিহিত করা হয়েছে?
- A) অগ্নি
- B) বরুণ
- C) ইন্দ্র
- D) সোম
সঠিক উত্তর: C) ইন্দ্র
ব্যাখ্যা: ঋগ্বেদে আর্যদের প্রধান দেবতা ইন্দ্রকে ‘পুরন্দর’ বলা হয়েছে, যার আক্ষরিক অর্থ ‘দুর্গ ধ্বংসকারী’। এটি অনার্যদের (যেমন দাস বা দস্যু) বসতি বা দুর্গ ধ্বংস করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার পরিচায়ক।
187. হর্ষবর্ধনের রাজধানী কী ছিল?
- A) পাটলিপুত্র
- B) থানেশ্বর
- C) কনৌজ
- D) প্রয়াগ
সঠিক উত্তর: C) কনৌজ
ব্যাখ্যা: হর্ষবর্ধনের প্রাথমিক রাজধানী ছিল থানেশ্বর। কিন্তু তাঁর ভগ্নী রাজ্যশ্রীর রাজ্য কনৌজ অরক্ষিত হয়ে পড়লে তিনি থানেশ্বর থেকে কনৌজে রাজধানী স্থানান্তর করেন। কনৌজ তৎকালীন উত্তর ভারতের রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
188. ‘মহাযান’ কথার অর্থ কী?
- A) শ্রেষ্ঠ পথ
- B) ক্ষুদ্র পথ
- C) মধ্যমপন্থা
- D) মুক্তির পথ
সঠিক উত্তর: A) শ্রেষ্ঠ পথ
ব্যাখ্যা: ‘মহাযান’ একটি সংস্কৃত শব্দ, যার অর্থ ‘মহা’ বা শ্রেষ্ঠ এবং ‘যান’ বা পথ/গাড়ি। এই শাখার অনুগামীরা মনে করতেন যে তাঁদের পথটি সকলের মুক্তির জন্য, তাই এটি শ্রেষ্ঠ। এর বিপরীতে ‘হীনযান’ কথার অর্থ ‘ক্ষুদ্র পথ’, যা মূলত ব্যক্তিগত মুক্তির উপর জোর দেয়।
189. অশোক কার কাছে বৌদ্ধধর্মে দীক্ষা নেন?
- A) মহাকাশ্যপ
- B) বসুমিত্র
- C) নাগার্জুন
- D) উপগুপ্ত
সঠিক উত্তর: D) উপগুপ্ত
ব্যাখ্যা: বৌদ্ধ গ্রন্থ ‘দিব্যাবদান’ এবং অন্যান্য ঐতিহ্য অনুসারে, কলিঙ্গ যুদ্ধের পর অনুতপ্ত অশোক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী উপগুপ্তের কাছে বৌদ্ধধর্মে দীক্ষা গ্রহণ করেন।
190. ভারতের ‘পাখির মানুষ’ (Birdman of India) নামে পরিচিত সেলিম আলির মতো, গুপ্তযুগের বিখ্যাত পক্ষীবিজ্ঞানী কে ছিলেন?
- A) কালিদাস
- B) বরাহমিহির
- C) আর্যভট্ট
- D) এই বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই, তবে কালিদাসের রচনায় পাখির বিশদ বর্ণনা আছে
সঠিক উত্তর: D) এই বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই, তবে কালিদাসের রচনায় পাখির বিশদ বর্ণনা আছে
ব্যাখ্যা: গুপ্তযুগে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষীবিজ্ঞানী ছিলেন বলে জানা যায় না। তবে মহাকবি কালিদাসের বিভিন্ন রচনায়, বিশেষ করে ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম’ ও ‘মেঘদূতম’-এ, বিভিন্ন প্রজাতির পাখির অত্যন্ত সুন্দর ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা পাওয়া যায়, যা তাঁর প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ ও জ্ঞানের পরিচায়ক।
191. পাল সাম্রাজ্যের নৌ-বাহিনীর গুরুত্ব কোন রাজার আমলে সবচেয়ে বেশি ছিল?
- A) গোপাল
- B) ধর্মপাল
- C) দেবপাল
- D) রামপাল
সঠিক উত্তর: C) দেবপাল
ব্যাখ্যা: পাল সাম্রাজ্য নদীমাতৃক বাংলায় অবস্থিত হওয়ায় নৌ-বাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দেবপালের আমলে পাল সাম্রাজ্যের বিস্তার সর্বাধিক হয় এবং তাঁর শক্তিশালী নৌ-বাহিনী বঙ্গোপসাগরে আধিপত্য বজায় রাখতে ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে সাহায্য করেছিল।
192. ভারতের শেষ মহান হিন্দু সম্রাট কাকে বলা হয়?
- A) সমুদ্রগুপ্ত
- B) হর্ষবর্ধন
- C) লক্ষণ সেন
- D) পৃথ্বীরাজ চৌহান
সঠিক উত্তর: B) হর্ষবর্ধন
ব্যাখ্যা: পুষ্যভূতি বংশের রাজা হর্ষবর্ধনকে প্রায় সমগ্র উত্তর ভারতের অধিপতি হিসেবে প্রাচীন ভারতের শেষ মহান হিন্দু সম্রাট হিসেবে গণ্য করা হয়। তাঁর মৃত্যুর পর উত্তর ভারতে রাজনৈতিক ঐক্য ভেঙে পড়ে।
193. সিন্ধু সভ্যতায় ওজন ও পরিমাপের জন্য কোন সংখ্যার গুণিতক ব্যবহৃত হত?
- A) ১০
- B) ১২
- C) ১৬
- D) ২০
সঠিক উত্তর: C) ১৬
ব্যাখ্যা: সিন্ধু সভ্যতায় একটি সুনির্দিষ্ট ওজন ও পরিমাপ ব্যবস্থা ছিল। তাদের বাটখারাগুলি মূলত ১৬ এবং তার গুণিতক (যেমন: ১৬, ৩২, ৬৪, ১৬০, ৩২০) অনুসারে তৈরি হত।
194. জৈনধর্মের ‘পঞ্চমহাব্রত’-এর সর্বশেষ সংযোজন কোনটি?
- A) অহিংসা
- B) সত্য
- C) অস্তেয় (চুরি না করা)
- D) ব্রহ্মচর্য
সঠিক উত্তর: D) ব্রহ্মচর্য
ব্যাখ্যা: জৈনদের প্রথম ২৩ জন তীর্থংকর ‘চতুর্যাম’ ব্রতের (অহিংসা, সত্য, অস্তেয়, অপরিগ্রহ) কথা বলেছিলেন। ২৪তম তীর্থংকর মহাবীর এর সঙ্গে পঞ্চম ব্রত হিসেবে ‘ব্রহ্মচর্য’ (সংযম) যোগ করেন। এই পাঁচটি ব্রত একত্রে ‘পঞ্চমহাব্রত’ নামে পরিচিত।
195. আলেকজান্ডারের সঙ্গে যুদ্ধকারী পুরু বা পোরাস কোন অঞ্চলের রাজা ছিলেন?
- A) তক্ষশিলা
- B) ঝিলাম ও চেনাব নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল
- C) মগধ
- D) গান্ধার
সঠিক উত্তর: B) ঝিলাম ও চেনাব নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল
ব্যাখ্যা: ৩২৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে হিদাস্পিসের (ঝিলাম নদী) তীরে আলেকজান্ডার ও রাজা পুরুর মধ্যে বিখ্যাত যুদ্ধ হয়েছিল। পুরুর রাজ্য ঝিলাম (হিদাস্পিস) এবং চেনাব (চন্দ্রভাগা) নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত ছিল।
196. ‘আইহোল প্রশস্তি’ কে রচনা করেন?
- A) হরিসেন
- B) রবির্কীতি
- C) বাণভট্ট
- D) সন্ধ্যাকর নন্দী
সঠিক উত্তর: B) রবির্কীতি
ব্যাখ্যা: চালুক্যরাজ দ্বিতীয় পুলকেশীর সভাকবি রবির্কীতি ‘আইহোল প্রশস্তি’ রচনা করেন। এই প্রশস্তিতে হর্ষবর্ধনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় পুলকেশীর বিজয়ের কথা উল্লেখ আছে। (এটিও গুপ্ত-পরবর্তী যুগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন)।
197. প্রথম কোন গুপ্ত শাসক রৌপ্য মুদ্রা প্রচলন করেন?
- A) প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
- B) সমুদ্রগুপ্ত
- C) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
- D) কুমারগুপ্ত
সঠিক উত্তর: C) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা: দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তই প্রথম গুপ্ত শাসক যিনি পশ্চিম ভারতের শক শাসকদের পরাজিত করার পর তাঁদের অনুকরণে রৌপ্য মুদ্রা (রূপ্যক) প্রচলন করেন। এটি পশ্চিম ভারতে গুপ্ত আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রতীক ছিল।
198. অশোকের কোন স্তম্ভলিপিটি তাঁর অর্থনৈতিক নীতির সাথে সম্পর্কিত?
- A) সারনাথ স্তম্ভলিপি
- B) রুম্মিনদেই স্তম্ভলিপি
- C) প্রয়াগ স্তম্ভলিপি
- D) দিল্লি-টোপরা স্তম্ভলিপি
সঠিক উত্তর: B) রুম্মিনদেই স্তম্ভলিপি
ব্যাখ্যা: রুম্মিনদেই (লুম্বিনী) স্তম্ভলিপিতে অশোক ঘোষণা করেন যে, বুদ্ধের জন্মস্থান হওয়ায় তিনি এই গ্রামের ভূমি-রাজস্ব ১/৬ অংশ থেকে কমিয়ে ১/৮ অংশ করে দিচ্ছেন। এটি তাঁর অর্থনৈতিক নীতি ও বুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধার প্রমাণ।
199. পাল যুগের কোন কবি ‘কবীন্দ্রবচনসমুচ্চয়’ সংকলনটি তৈরি করেন?
- A) সন্ধ্যাকর নন্দী
- B) জয়দেব
- C) কোনো একজন বৌদ্ধ পণ্ডিত
- D) উমাপতি ধর
সঠিক উত্তর: C) কোনো একজন বৌদ্ধ পণ্ডিত
ব্যাখ্যা: ‘কবীন্দ্রবচনসমুচ্চয়’ হলো সংস্কৃত শ্লোকের একটি প্রাচীন সংকলন, যা পাল যুগে (আনুমানিক ১১শ-১২শ শতক) কোনো এক বা একাধিক বৌদ্ধ পণ্ডিত দ্বারা সংকলিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। এর সংকলকের নাম নির্দিষ্টভাবে জানা যায় না।
200. সিন্ধু সভ্যতার পতনের জন্য পরিবেশগত কোন কারণটিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়?
- A) আর্য আক্রমণ
- B) ভূমিকম্প
- C) জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্রমবর্ধমান শুষ্কতা
- D) মহামারী
সঠিক উত্তর: C) জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্রমবর্ধমান শুষ্কতা
ব্যাখ্যা: আধুনিক গবেষণা অনুসারে, সিন্ধু সভ্যতার পতনের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে একটি প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হয়। মৌসুমী বায়ুর পরিবর্তন, ঘর্ঘরা-হকরা নদীর শুকিয়ে যাওয়া এবং ক্রমবর্ধমান শুষ্কতার ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়, যা নগরজীবনের ভিত্তিকেই ধ্বংস করে দেয়।