SLST History Questions Ans সুলতানি শাসনের ভাঙন ও বাবরের আগমন

মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস – MCQ প্রশ্নাবলী

মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস

MCQ প্রশ্নাবলী (বিস্তারিত উত্তর সহ)

এখানে সুলতানি শাসনের ভাঙন থেকে শুরু করে আকবরের শাসনকাল পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর ভিত্তি করে প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্রশ্নের নিচে ‘Show Answer’ বাটনে ক্লিক করে সঠিক উত্তর ও তার ব্যাখ্যা দেখা যাবে।

প্রথম পর্ব: সুলতানি শাসনের ভাঙন ও বাবরের আগমন

1. পানিপথের প্রথম যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়েছিল?

  • (A) ১৫২৬ সালের ২১শে এপ্রিল
  • (B) ১৫২৭ সালের ১৭ই মার্চ
  • (C) ১৫৫৬ সালের ৫ই নভেম্বর
  • (D) ১১৯১ সালের ১৩ই এপ্রিল

সঠিক উত্তর: (A) ১৫২৬ সালের ২১শে এপ্রিল

ব্যাখ্যা: পানিপথের প্রথম যুদ্ধ দিল্লির সুলতান ইব্রাহিম লোদি এবং মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবরের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল। এই যুদ্ধে বাবরের উন্নত রণকৌশল, বিশেষ করে তুর্কিদের থেকে শেখা তুলঘুমা নীতি এবং গোলন্দাজ বাহিনীর ব্যবহারের কারণে তিনি বিশাল লোদি বাহিনীকে পরাজিত করেন এবং ভারতে মুঘল শাসনের সূচনা করেন।

2. ভারতে বাবরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন কে?

  • (A) ইব্রাহিম লোদির চাচা আলম খান লোদি এবং পাঞ্জাবের গভর্নর দৌলত খান লোদি
  • (B) মেবারের রানা সঙ্গ
  • (C) বাংলার শাসক নসরৎ শাহ
  • (D) গুজরাটের বাহাদুর শাহ

সঠিক উত্তর: (A) ইব্রাহিম লোদির চাচা আলম খান লোদি এবং পাঞ্জাবের গভর্নর দৌলত খান লোদি

ব্যাখ্যা: দিল্লির সুলতান ইব্রাহিম লোদির স্বৈরাচারী শাসনে অতিষ্ঠ হয়ে তাঁরই আত্মীয় আলম খান লোদি এবং পাঞ্জাবের গভর্নর দৌলত খান লোদি কাবুল থেকে বাবরকে ভারত আক্রমণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। তাঁরা ভেবেছিলেন বাবর শুধু লোদিকে পরাজিত করে দিল্লি তাদের হাতে তুলে দিয়ে ফিরে যাবেন।

3. খানুয়ার যুদ্ধ কাদের মধ্যে হয়েছিল?

  • (A) বাবর ও ইব্রাহিম লোদি
  • (B) বাবর ও রানা সঙ্গ
  • (C) হুমায়ুন ও শের শাহ
  • (D) আকবর ও হিমু

সঠিক উত্তর: (B) বাবর ও রানা সঙ্গ

ব্যাখ্যা: ১৫২৭ সালে আগ্রার কাছে খানুয়া নামক স্থানে বাবর এবং মেবারের রাজপুত শাসক রানা সঙ্গের মধ্যে এই যুদ্ধ হয়। পানিপথের যুদ্ধের পর এটি ছিল বাবরের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ। এই যুদ্ধে জয়লাভের ফলে উত্তর ভারতে বাবরের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

4. বাবরের আত্মজীবনীর নাম কী?

  • (A) শাহনামা
  • (B) বাবরনামা বা তুজুক-ই-বাবুরি
  • (C) আকবরনামা
  • (D) হুমায়ুননামা

সঠিক উত্তর: (B) বাবরনামা বা তুজুক-ই-বাবুরি

ব্যাখ্যা: ‘তুজুক-ই-বাবুরি’ হল বাবরের লেখা তাঁর আত্মজীবনী, যা তিনি তাঁর মাতৃভাষা চাগতাই তুর্কি ভাষায় লিখেছিলেন। পরবর্তীতে আকবরের সময় এটি ফারসি ভাষায় অনূদিত হয় এবং ‘বাবরনামা’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এটি মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আত্মজীবনী হিসেবে গণ্য হয়।

5. পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবর কোন রণকৌশল ব্যবহার করেছিলেন?

  • (A) গেরিলা যুদ্ধ
  • (B) তুলঘুমা ও রুমি কৌশল
  • (C) নৌ-যুদ্ধ
  • (D) সম্মুখ সমর

সঠিক উত্তর: (B) তুলঘুমা ও রুমি কৌশল

ব্যাখ্যা: বাবর পানিপথের প্রথম যুদ্ধে দুটি প্রধান কৌশল ব্যবহার করেন। ‘তুলঘুমা’ (Tulguhma) হল শত্রুবাহিনীকে দুই পাশ থেকে ঘিরে ফেলার কৌশল এবং ‘রুমি’ (Rumi) বা অটোমান কৌশল হল দুটি গরুর গাড়ির মাঝে কামান স্থাপন করে শত্রুর উপর গোলাবর্ষণ করা। এই কৌশল ইব্রাহিম লোদির বিশাল হস্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর হয়েছিল।

দ্বিতীয় পর্ব: মুঘল-আফগান প্রতিযোগিতা এবং শের শাহ শূর

6. চৌসার যুদ্ধ কবে এবং কাদের মধ্যে হয়েছিল?

  • (A) ১৫৩৯ সালে, হুমায়ুন ও শের খান (শের শাহ)
  • (B) ১৫৪০ সালে, হুমায়ুন ও বাহাদুর শাহ
  • (C) ১৫২৬ সালে, বাবর ও ইব্রাহিম লোদি
  • (D) ১৫৭৬ সালে, আকবর ও রানা প্রতাপ

সঠিক উত্তর: (A) ১৫৩৯ সালে, হুমায়ুন ও শের খান (শের শাহ)

ব্যাখ্যা: ১৫৩৯ সালে বিহারের বক্সারের কাছে চৌসা নামক স্থানে হুমায়ুন এবং আফগান নেতা শের খানের মধ্যে এই যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে হুমায়ুন চূড়ান্তভাবে পরাজিত হন এবং প্রাণ বাঁচাতে একজন ভিস্তির সাহায্যে গঙ্গা নদী পার হন। এই যুদ্ধের পরেই শের খান ‘শের শাহ’ উপাধি ধারণ করেন।

7. কোন যুদ্ধের পর হুমায়ুন ভারত থেকে বিতাড়িত হন?

  • (A) চৌসার যুদ্ধ
  • (B) কনৌজের যুদ্ধ বা বিলগ্রামের যুদ্ধ
  • (C) খানুয়ার যুদ্ধ
  • (D) পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ

সঠিক উত্তর: (B) কনৌজের যুদ্ধ বা বিলগ্রামের যুদ্ধ

ব্যাখ্যা: ১৫৪০ সালে কনৌজ বা বিলগ্রামের যুদ্ধে শের শাহের কাছে হুমায়ুন আবারও শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। এই পরাজয়ের পর তিনি আগ্রা ও দিল্লি ত্যাগ করে পারস্যে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এর ফলে ভারতে দ্বিতীয় আফগান সাম্রাজ্য বা শূর সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা হয়।

8. ‘গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড’ (সড়ক-ই-আজম) কে নির্মাণ বা সংস্কার করেন?

  • (A) বাবর
  • (B) হুমায়ুন
  • (C) শের শাহ শূর
  • (D) আকবর

সঠিক উত্তর: (C) শের শাহ শূর

ব্যাখ্যা: শের শাহ শূর তাঁর স্বল্পকালীন শাসনকালে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য পূর্বের একটি প্রাচীন সড়কপথকে সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে ‘সড়ক-ই-আজম’ নির্মাণ করেন, যা বাংলার সোনারগাঁও থেকে পেশোয়ার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ব্রিটিশ আমলে এটি ‘গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড’ নামে পরিচিতি পায়।

9. শের শাহের প্রবর্তিত মুদ্রা ব্যবস্থার নাম কী?

  • (A) টঙ্কা ও জিতল
  • (B) রুপিয়া (রৌপ্যমুদ্রা) ও দাম (তাম্রমুদ্রা)
  • (C) দিনার ও দিরহাম
  • (D) মোহর ও নিসার

সঠিক উত্তর: (B) রুপিয়া (রৌপ্যমুদ্রা) ও দাম (তাম্রমুদ্রা)

ব্যাখ্যা: শের শাহ মুদ্রা ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার করেন। তিনি খাঁটি রুপার মুদ্রা ‘রুপিয়া’ এবং তামার মুদ্রা ‘দাম’ চালু করেন। তাঁর এই মুদ্রা ব্যবস্থা এতটাই উন্নত ছিল যে মুঘলরা এবং পরবর্তীকালে ব্রিটিশরাও এর কাঠামো অনুসরণ করে।

10. শের শাহের ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থায় ‘পাট্টা’ ও ‘কবুলিয়ত’ কী ছিল?

  • (A) দুটি করের নাম
  • (B) কৃষকের অধিকার ও দায়িত্বের দলিল
  • (C) দুটি সামরিক পদের নাম
  • (D) দুটি প্রদেশের নাম

সঠিক উত্তর: (B) কৃষকের অধিকার ও দায়িত্বের দলিল

ব্যাখ্যা: শের শাহের রাজস্ব ব্যবস্থায়, ‘পাট্টা’ ছিল একটি দলিল যেখানে কৃষকের জমির পরিমাণ এবং তাকে কত রাজস্ব দিতে হবে তা লেখা থাকত। অন্যদিকে, ‘কবুলিয়ত’ ছিল কৃষকের পক্ষ থেকে একটি সম্মতিপত্র, যেখানে সে উল্লিখিত পরিমাণ রাজস্ব দিতে সম্মত বলে স্বীকার করত। এই ব্যবস্থা কৃষক ও রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ককে সুস্পষ্ট করেছিল।

তৃতীয় পর্ব: আকবরের সময়ে মুঘল সাম্রাজ্যের সংহতি ও বিস্তার

11. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ কাদের মধ্যে হয়েছিল?

  • (A) আকবর ও রানা প্রতাপ
  • (B) আকবরের সেনাপতি বৈরাম খাঁ ও হিমু
  • (C) বাবর ও ইব্রাহিম লোদি
  • (D) হুমায়ুন ও শের শাহ

সঠিক উত্তর: (B) আকবরের সেনাপতি বৈরাম খাঁ ও হিমু

ব্যাখ্যা: ১৫৫৬ সালের ৫ই নভেম্বর পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে কিশোর সম্রাট আকবরের অভিভাবক ও সেনাপতি বৈরাম খাঁ-র মুঘল বাহিনী এবং আদিল শাহ শূরের হিন্দু সেনাপতি হিমুর বাহিনীর মধ্যে লড়াই হয়। যুদ্ধে হিমু পরাজিত ও নিহত হলে ভারতে মুঘল শাসনের পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্পূর্ণ হয়।

12. হলদিঘাটির যুদ্ধ (১৫৭৬) কাদের মধ্যে হয়েছিল?

  • (A) আকবর ও গুজরাটের বাহাদুর শাহ
  • (B) আকবরের বাহিনী ও মেবারের রানা প্রতাপ
  • (C) আকবর ও চাঁদ বিবি
  • (D) আকবর ও দাউদ খান কররানী

সঠিক উত্তর: (B) আকবরের বাহিনী ও মেবারের রানা প্রতাপ

ব্যাখ্যা: ১৫৭৬ সালে মুঘল সেনাপতি মান সিংহের নেতৃত্বে আকবরের বাহিনী এবং মেবারের স্বাধীনচেতা রাজপুত শাসক মহারানা প্রতাপের মধ্যে হলদিঘাটির যুদ্ধ হয়। যদিও এই যুদ্ধে মুঘলরা জয়লাভ করে, কিন্তু রানা প্রতাপ বশ্যতা স্বীকার না করে আরাবল্লী পর্বতে আশ্রয় নিয়ে সংগ্রাম চালিয়ে যান।

13. আকবরের অভিভাবক কে ছিলেন?

  • (A) টোডরমল
  • (B) বৈরাম খাঁ
  • (C) আবুল ফজল
  • (D) মান সিংহ

সঠিক উত্তর: (B) বৈরাম খাঁ

ব্যাখ্যা: হুমায়ুনের মৃত্যুর পর মাত্র ১৩ বছর বয়সে আকবর সিংহাসনে বসেন। তখন তাঁর বিশ্বস্ত সেনাপতি ও হুমায়ুনের বন্ধু বৈরাম খাঁ আকবরের অভিভাবক বা ‘খান-ই-বাবা’ হিসেবে শাসনকার্য পরিচালনা করেন। ১৫৫৬ থেকে ১৫৬০ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন।

14. আকবর কোন দুর্গ জয়ের স্মারক হিসেবে ফতেপুর সিক্রিতে ‘বুলন্দ দরওয়াজা’ নির্মাণ করেন?

  • (A) চিতোর জয়
  • (B) বাংলা জয়
  • (C) গুজরাট জয়
  • (D) কাশ্মীর জয়

সঠিক উত্তর: (C) গুজরাট জয়

ব্যাখ্যা: ১৫৭৩ সালে গুজরাট জয়ের স্মারক হিসেবে আকবর তাঁর নতুন রাজধানী ফতেপুর সিক্রিতে ‘বুলন্দ দরওয়াজা’ বা ‘বিজয় তোরণ’ নির্মাণ করেন। এটি বিশ্বের অন্যতম উঁচু প্রবেশদ্বার এবং মুঘল স্থাপত্যের একটি उत्कृष्ट নিদর্শন।

15. আকবরের রাজসভার ঐতিহাসিক আবুল ফজল কোন গ্রন্থটি রচনা করেন?

  • (A) হুমায়ুননামা
  • (B) তারিখ-ই-ফিরোজশাহী
  • (C) আকবরনামা ও আইন-ই-আকবরী
  • (D) মুনতাখাব-উৎ-তাওয়ারিখ

সঠিক উত্তর: (C) আকবরনামা ও আইন-ই-আকবরী

ব্যাখ্যা: আবুল ফজল ছিলেন আকবরের ‘নবরত্ন’ সভার অন্যতম সদস্য এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি আকবরের নির্দেশে ‘আকবরনামা’ রচনা করেন, যা আকবরের রাজত্বকালের প্রামাণ্য ইতিহাস। এর তৃতীয় খণ্ডটি ‘আইন-ই-আকবরী’ নামে পরিচিত, যেখানে আকবরের সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক, পরিসংখ্যানগত এবং সামাজিক বিবরণ রয়েছে।

চতুর্থ পর্ব: আকবরের প্রশাসনিক ব্যবস্থা, ধর্মীয় নীতি ও মনসবদারি

16. আকবরের প্রবর্তিত ‘মনসবদারি’ প্রথা কী ছিল?

  • (A) একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়
  • (B) একটি ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা
  • (C) সামরিক ও বেসামরিক পদের একটি ক্রমবিন্যাস ব্যবস্থা
  • (D) একটি বিচার ব্যবস্থা

সঠিক উত্তর: (C) সামরিক ও বেসামরিক পদের একটি ক্রমবিন্যাস ব্যবস্থা

ব্যাখ্যা: ‘মনসব’ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ পদমর্যাদা বা Rank। আকবর মুঘল প্রশাসনের সকল সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের একটি নির্দিষ্ট পদমর্যাদা বা ‘মনসব’-এর অন্তর্ভুক্ত করেন। প্রতিটি মনসবদারের দুটি পদ থাকত – ‘জাট’ (ব্যক্তিগত পদমর্যাদা ও বেতন) এবং ‘সাওয়ার’ (তার অধীনে থাকা অশ্বারোহী সৈন্যের সংখ্যা)। এই প্রথা সাম্রাজ্যের সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোকে সুসংহত করেছিল।

17. আকবরের রাজস্ব মন্ত্রী কে ছিলেন, যিনি ‘দহশালা’ বা ‘জাবতি’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন?

  • (A) বৈরাম খাঁ
  • (B) বীরবল
  • (C) টোডরমল
  • (D) আবুল ফজল

সঠিক উত্তর: (C) টোডরমল

ব্যাখ্যা: রাজা টোডরমল ছিলেন আকবরের অত্যন্ত দক্ষ অর্থমন্ত্রী। তিনি প্রথমে শের শাহের অধীনে কাজ করেছিলেন। তিনি ‘জাবতি’ বা ‘দহশালা’ ব্যবস্থা চালু করেন, যেখানে গত দশ বছরের ফসলের উৎপাদনের গড় করে রাজস্ব নির্ধারণ করা হতো। এটি একটি অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত ও স্থায়ী রাজস্ব ব্যবস্থা ছিল।

18. আকবর ‘ইবাদত খানা’ (উপাসনা গৃহ) কেন নির্মাণ করেন?

  • (A) শুধুমাত্র মুসলিমদের নামাজের জন্য
  • (B) বিভিন্ন ধর্মের পণ্ডিতদের সাথে ধর্মীয় আলোচনার জন্য
  • (C) তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্রামের জন্য
  • (D) বিচারকার্য পরিচালনার জন্য

সঠিক উত্তর: (B) বিভিন্ন ধর্মের পণ্ডিতদের সাথে ধর্মীয় আলোচনার জন্য

ব্যাখ্যা: ১৫৭৫ সালে আকবর ফতেপুর সিক্রিতে ‘ইবাদত খানা’ নির্মাণ করেন। প্রথমে শুধু সুন্নি মুসলিম পণ্ডিতদের নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও পরে তিনি শিয়া, হিন্দু, জৈন, খ্রিস্টান, পার্সি প্রভৃতি বিভিন্ন ধর্মের পণ্ডিতদের আমন্ত্রণ জানান। এই আলোচনার মাধ্যমে তিনি সকল ধর্মের সারবস্তু বোঝার চেষ্টা করেন।

19. ‘দীন-ই-ইলাহি’ কী ছিল?

  • (A) একটি নতুন কর
  • (B) একটি নতুন ধর্ম
  • (C) একটি নৈতিক আচরণবিধি বা জীবনদর্শন
  • (D) একটি সামরিক আইন

সঠিক উত্তর: (C) একটি নৈতিক আচরণবিধি বা জীবনদর্শন

ব্যাখ্যা: বিভিন্ন ধর্মের সারবস্তু নিয়ে আকবর ‘তৌহিদ-ই-ইলাহি’ বা ‘দীন-ই-ইলাহি’ (ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস) নামক একটি নতুন মতাদর্শ চালু করেন। এটি কোনো নতুন ধর্ম ছিল না, বরং এটি ছিল একটি নৈতিক আচরণবিধি যা ঈশ্বরকে এক ও অদ্বিতীয় বলে মনে করত এবং সম্রাটকে তাঁর আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে মানত। এর মূল ভিত্তি ছিল ‘সুলহ-ই-কুল’ বা সকলের প্রতি সহনশীলতা।

20. আকবর কবে অমুসলিমদের উপর থেকে ‘জিজিয়া কর’ তুলে নেন?

  • (A) ১৫৬২ সালে
  • (B) ১৫৬৩ সালে
  • (C) ১৫৬৪ সালে
  • (D) ১৫৮২ সালে

সঠিক উত্তর: (C) ১৫৬৪ সালে

ব্যাখ্যা: আকবর তাঁর উদার ধর্মীয় নীতির অঙ্গ হিসেবে ১৫৬৪ সালে অমুসলিম প্রজাদের উপর থেকে ‘জিজিয়া কর’ সম্পূর্ণভাবে বিলোপ করেন। এর আগে ১৫৬৩ সালে তিনি হিন্দুদের তীর্থযাত্রার উপর থেকেও কর তুলে নিয়েছিলেন। এই পদক্ষেপগুলি তাঁকে হিন্দু প্রজাদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তোলে এবং সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় করে।

21. মনসবদারি প্রথায় ‘জাট’ ও ‘সাওয়ার’ পদের মধ্যে কোনটি একজন ಅಧಿಕಾರীর ব্যক্তিগত পদমর্যাদা নির্দেশ করত?

  • (A) সাওয়ার
  • (B) জাট
  • (C) উভয়ই
  • (D) কোনোটিই নয়

সঠিক উত্তর: (B) জাট

ব্যাখ্যা: ‘জাট’ (Zat) ছিল একজন মনসবদারের ব্যক্তিগত পদমর্যাদা (personal rank) এবং তার বেতনের নির্ধারক। জাট যত বেশি হতো, প্রশাসনে তার পদমর্যাদা তত উঁচুতে থাকত। অন্যদিকে, ‘সাওয়ার’ (Sawar) পদ দ্বারা তাকে কতজন অশ্বারোহী সৈন্য রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে, তা নির্ধারিত হতো।

22. ‘সুলহ-ই-কুল’ নীতির প্রবর্তক কে?

  • (A) শের শাহ
  • (B) বাবর
  • (C) আকবর
  • (D) ঔরঙ্গজেব

সঠিক উত্তর: (C) আকবর

ব্যাখ্যা: ‘সুলহ-ই-কুল’ কথার অর্থ হলো ‘সকলের প্রতি সহনশীলতা’ বা ‘পরম শান্তি’। এটি ছিল আকবরের ধর্মীয় ও প্রশাসনিক নীতির মূল ভিত্তি। এই নীতির মাধ্যমে তিনি সাম্রাজ্যের বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

23. শের শাহের আসল নাম কী ছিল?

  • (A) ফরিদ খান
  • (B) খুররম
  • (C) সেলিম
  • (D) হাসান খান

সঠিক উত্তর: (A) ফরিদ খান

ব্যাখ্যা: শের শাহ শূরের আসল বা বাল্যনাম ছিল ফরিদ খান। বিহারের শাসক বাহার খান লোহানি তাঁকে একাই একটি বাঘ শিকার করতে দেখে ‘শের খান’ উপাধি দেন। পরে সম্রাট হওয়ার পর তিনি ‘শের শাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন।

24. আকবরের ‘নবরত্ন’ সভার বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ কে ছিলেন?

  • (A) তানসেন
  • (B) বীরবল
  • (C) টোডরমল
  • (D) আবুল ফজল

সঠিক উত্তর: (A) তানসেন

ব্যাখ্যা: মিঞা তানসেন ছিলেন আকবরের রাজসভার শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ এবং ‘নবরত্ন’-এর অন্যতম সদস্য। তিনি হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একজন কিংবদন্তী শিল্পী ছিলেন এবং বহু নতুন রাগ রচনা করেছিলেন, যেমন ‘দরবারী কানাড়া’, ‘মিঞা কি তোড়ি’ ইত্যাদি।

25. কোন মুঘল সম্রাট প্রথম ‘গাজী’ উপাধি ধারণ করেন?

  • (A) আকবর
  • (B) হুমায়ুন
  • (C) বাবর
  • (D) জাহাঙ্গীর

সঠিক উত্তর: (C) বাবর

ব্যাখ্যা: ১৫২৭ সালে খানুয়ার যুদ্ধে রানা সঙ্গকে পরাজিত করার পর বাবর ‘গাজী’ (ধর্মযোদ্ধা) উপাধি গ্রহণ করেন। এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয় যা ভারতে মুঘল শাসনকে আরও শক্তিশালী করেছিল।

মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস (ধারাবাহিক)

26. শের শাহের সমাধি কোথায় অবস্থিত?

  • (A) দিল্লি
  • (B) আগ্রা
  • (C) সাসারাম (বিহার)
  • (D) কাবুল

সঠিক উত্তর: (C) সাসারাম (বিহার)

ব্যাখ্যা: শের শাহ শূর তাঁর নিজের সমাধি নিজেই নির্মাণ শুরু করেছিলেন, যা বিহারের সাসারামে একটি কৃত্রিম হ্রদের মাঝখানে অবস্থিত। এটি ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্যের একটি অনবদ্য নিদর্শন।

27. হুমায়ূনের জীবনী ‘হুমায়ূননামা’ কে রচনা করেন?

  • (A) আবুল ফজল
  • (B) হুমায়ূন নিজে
  • (C) তাঁর বোন গুলবদন বেগম
  • (D) বৈরাম খাঁ

সঠিক উত্তর: (C) তাঁর বোন গুলবদন বেগম

ব্যাখ্যা: আকবরের অনুরোধে হুমায়ূনের সৎ বোন গুলবদন বেগম ‘হুমায়ূননামা’ রচনা করেন। এই গ্রন্থে হুমায়ূনের জীবন এবং মুঘল হারেমের অন্দরমহলের অনেক তথ্য পাওয়া যায়।

28. আকবর কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

  • (A) আগ্রা
  • (B) অমরকোট (সিন্ধু)
  • (C) কাবুল
  • (D) দিল্লি

সঠিক উত্তর: (B) অমরকোট (সিন্ধু)

ব্যাখ্যা: শের শাহের কাছে পরাজিত হয়ে হুমায়ূন যখন পারস্যে পালিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন ১৫৪২ সালে সিন্ধুর অমরকোটের রানা বীরসালের প্রাসাদে আকবরের জন্ম হয়।

29. আকবরের কোন Rajput নীতিটি মুঘল সাম্রাজ্যকে শক্তিশালী করতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছিল?

  • (A) শুধুমাত্র যুদ্ধ করে Rajput রাজ্য দখল করা
  • (B) বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন এবং উচ্চ পদে নিয়োগ
  • (C) সকল Rajput দের ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা
  • (D) Rajput দের রাজ্য থেকে বিতাড়িত করা

সঠিক উত্তর: (B) বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন এবং উচ্চ পদে নিয়োগ

ব্যাখ্যা: আকবর বুঝতে পেরেছিলেন যে শুধুমাত্র শক্তি দিয়ে Rajput দের দমন করা সম্ভব নয়। তাই তিনি মিত্রতার নীতি গ্রহণ করেন। তিনি Rajput রাজকন্যাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং Rajput দের যোগ্যতা অনুযায়ী মনসবদারিসহ সাম্রাজ্যের উচ্চ পদে নিয়োগ করেন। এটি সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় করে।

30. ‘মহজরনামা’ (Infallibility Decree) জারির উদ্দেশ্য কী ছিল?

  • (A) নিজেকে নবী ঘোষণা করা
  • (B) ইসলাম ধর্ম বাতিল করা
  • (C) ধর্মীয় বিষয়ে উলেমাদের বিতর্কের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন
  • (D) একটি নতুন মুদ্রা চালু করা

সঠিক উত্তর: (C) ধর্মীয় বিষয়ে উলেমাদের বিতর্কের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন

ব্যাখ্যা: ১৫৭৯ সালে আকবর ‘মহজরনামা’ জারি করেন। এর মাধ্যমে তিনি ধর্মীয় আইন (শরিয়ত) ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বিভিন্ন মতবিরোধ দেখা দিলে, সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিজের হাতে নেন। এর ফলে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ধর্মীয় গোঁড়ামিকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয় এবং উলেমাদের ক্ষমতা খর্ব হয়।

31. শের শাহ প্রবর্তিত ‘দাগ’ ও ‘হুলিয়া’ (বা চেহারা) ব্যবস্থা কী ছিল?

  • (A) ডাক ব্যবস্থা
  • (B) বিচার ব্যবস্থা
  • (C) ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা
  • (D) সামরিক দুর্নীতি রোধের ব্যবস্থা

সঠিক উত্তর: (D) সামরিক দুর্নীতি রোধের ব্যবস্থা

ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন খলজির অনুকরণে শের শাহ সামরিক বাহিনীতে দুর্নীতি রোধ করার জন্য ‘দাগ’ (ঘোড়ার গায়ে ছাপ দেওয়া) এবং ‘হুলিয়া’ বা ‘চেহারা’ (সৈনিকদের দৈহিক বিবরণ নথিভুক্ত করা) প্রথা পুনরায় চালু করেন। এর ফলে একই ঘোড়া বা সৈন্যকে একাধিকবার দেখিয়ে বেতন নেওয়ার মতো দুর্নীতি বন্ধ হয়।

32. কোন দুর্গ অবরোধকালে বারুদের স্তূপে আগুন লেগে শের শাহের মৃত্যু হয়?

  • (A) চিতোর দুর্গ
  • (B) রণথম্ভোর দুর্গ
  • (C) কালঞ্জর দুর্গ
  • (D) গোয়ালিয়র দুর্গ

সঠিক উত্তর: (C) কালঞ্জর দুর্গ

ব্যাখ্যা: ১৫৪৫ সালে বুন্দেলখন্ডের শক্তিশালী কালঞ্জর দুর্গ অবরোধকালে একটি বিস্ফোরিত কামানের গোলা দুর্গের দেওয়ালে লেগে ফিরে এসে বারুদের স্তূপে পড়ে। সেই বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে শের শাহের মৃত্যু হয়।

33. বাবরের ভারত আক্রমণের সময় বাংলার শাসক কে ছিলেন?

  • (A) ইলিয়াস শাহ
  • (B) সিকান্দার শাহ
  • (C) নসরৎ শাহ
  • (D) দাউদ খান কররানী

সঠিক উত্তর: (C) নসরৎ শাহ

ব্যাখ্যা: বাবরের ভারত অভিযানের সময় হোসেন শাহি বংশের শাসক নসরৎ শাহ বাংলার সুলতান ছিলেন। তিনি ইব্রাহিম লোদির বিরুদ্ধে বাবরের অভিযানে নিরপেক্ষ থাকলেও পরে আফগানদের আশ্রয় দেন, যা বাবরের সাথে তাঁর বিরোধের কারণ হয়।

34. আকবরের কোন সেনাপতি হলদিঘাটির যুদ্ধে মুঘল বাহিনীকে নেতৃত্ব দেন?

  • (A) বৈরাম খাঁ
  • (B) টোডরমল
  • (C) রাজা মান সিংহ
  • (D) আবুল ফজল

সঠিক উত্তর: (C) রাজা মান সিংহ

ব্যাখ্যা: হলদিঘাটির যুদ্ধে (১৫৭৬) আকবরের পক্ষে মুঘল বাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন অম্বরের (জয়পুর) রাজা মান সিংহ। এটি আকবরের Rajput নীতির সাফল্যের একটি বড় উদাহরণ, যেখানে একজন Rajput সেনাপতি আরেকজন Rajput রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন।

35. ‘আইন-ই-আকবরী’ অনুসারে, আকবরের সাম্রাজ্য কয়টি ‘সুবা’ বা প্রদেশে বিভক্ত ছিল?

  • (A) ১০টি
  • (B) ১২টি
  • (C) ১৫টি
  • (D) ২০টি

সঠিক উত্তর: (B) ১২টি (পরে ১৫টি হয়)

ব্যাখ্যা: আবুল ফজলের ‘আইন-ই-আকবরী’ রচনার সময় আকবরের সাম্রাজ্য ১২টি সুবা বা প্রদেশে বিভক্ত ছিল। পরবর্তীকালে দাক্ষিণাত্যে বেরার, খান্দেশ ও আহমেদনগর জয়ের পর সুবার সংখ্যা ১৫-তে উন্নীত হয়।

36. পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবরের গোলন্দাজ বাহিনীর দায়িত্বে থাকা প্রধান দুই কারিগর কে ছিলেন?

  • (A) ওস্তাদ আলি ও মুস্তাফা রুমি
  • (B) বৈরাম খাঁ ও তারদি বেগ
  • (C) দৌলত খান ও আলম খান
  • (D) আসফ খান ও শায়েস্তা খান

সঠিক উত্তর: (A) ওস্তাদ আলি ও মুস্তাফা রুমি

ব্যাখ্যা: বাবরের সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল তাঁর শক্তিশালী গোলন্দাজ বাহিনী। এই বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন দুই অটোমান (তুর্কি) বিশেষজ্ঞ—ওস্তাদ আলি কুলি এবং মুস্তাফা রুমি। তাঁদের রণকৌশল ও কামান ব্যবহারে দক্ষতা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

37. ঘর্ঘরার যুদ্ধ (১৫২৯) কাদের মধ্যে হয়েছিল?

  • (A) বাবর ও রানা সঙ্গ
  • (B) বাবর এবং মাহমুদ লোদির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত আফগান বাহিনী
  • (C) হুমায়ূন ও শের শাহ
  • (D) আকবর ও হিমু

সঠিক উত্তর: (B) বাবর এবং মাহমুদ লোদির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত আফগান বাহিনী

ব্যাখ্যা: ঘর্ঘরার যুদ্ধ ছিল ভারতে বাবরের শেষ যুদ্ধ। এই যুদ্ধে তিনি ইব্রাহিম লোদির ভাই মাহমুদ লোদির নেতৃত্বে বিহার ও বাংলার সম্মিলিত আফগান বাহিনীকে পরাজিত করেন। এই যুদ্ধটি ভারতের ইতিহাসে প্রথম যুদ্ধ যেখানে স্থল ও জল—উভয় পথেই একসঙ্গে লড়াই হয়েছিল।

38. হুমায়ূন নির্মিত ‘দীনपनाহ’ নগরীটি বর্তমানে কোথায় অবস্থিত?

  • (A) আগ্রা
  • (B) ফতেপুর সিক্রি
  • (C) লাহোর
  • (D) দিল্লি (পুরাণা কিল্লা)

সঠিক উত্তর: (D) দিল্লি (পুরাণা কিল্লা)

ব্যাখ্যা: হুমায়ূন দিল্লিতে ‘দীনपनाহ’ (বিশ্বাসের আশ্রয়) নামে একটি নতুন নগরী নির্মাণ শুরু করেন। শের শাহ এটিকে দখল করে এর উপর নিজের স্থাপত্য নির্মাণ করেন। বর্তমানে এটি দিল্লির পুরাণা কিল্লা নামে পরিচিত। এই পুরাণা কিল্লার লাইব্রেরির সিঁড়ি থেকেই পড়ে গিয়ে হুমায়ূনের মৃত্যু হয়েছিল।

39. আকবরের ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা ‘জাবতি’ বা ‘দহশালা’ ব্যবস্থা মূলত কোন অঞ্চলের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল?

  • (A) বাংলা ও বিহার
  • (B) শের শাহের ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা
  • (C) দাক্ষিণাত্যের ব্যবস্থা
  • (D) রাজপুতানার স্থানীয় ব্যবস্থা

সঠিক উত্তর: (B) শের শাহের ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা

ব্যাখ্যা: আকবরের রাজস্ব মন্ত্রী টোডরমল শের শাহের অধীনে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছিলেন। শের শাহের প্রবর্তিত জমি জরিপ এবং পাট্টা-কবুলিয়ত ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করেই আকবরের ‘জাবতি’ বা ‘দহশালা’ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, যা ছিল আরও উন্নত ও বিজ্ঞানসম্মত।

40. ১৫৬০-৬২ সালের মুঘল শাসনকালকে ‘পর্দার শাসন’ বা ‘পেটিকোট সরকার’ বলা হয় কেন?

  • (A) আকবর পর্দার আড়ালে থাকতেন
  • (B) বৈরাম খাঁ-এর পতনের পর আকবরের ধাত্রী মাতা মাহম আনগা এবং হারেমের নারীদের প্রভাব বৃদ্ধি পায়
  • (C) রাজ্যে নারীদের ক্ষমতা বেশি ছিল
  • (D) আকবর নারীদের পোশাক পরতেন

সঠিক উত্তর: (B) বৈরাম খাঁ-এর পতনের পর আকবরের ধাত্রী মাতা মাহম আনগা এবং হারেমের নারীদের প্রভাব বৃদ্ধি পায়

ব্যাখ্যা: ১৫৬০ সালে বৈরাম খাঁ-এর অভিভাবকত্বের অবসানের পর তরুণ আকবরের উপর তাঁর ধাত্রী মাতা মাহম আনগা, তাঁর পুত্র আদম খান এবং হারেমের প্রভাবশালী মহিলাদের একটি গোষ্ঠীর প্রভাব বৃদ্ধি পায়। এই সময়কালে তাঁদের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে শাসনকার্য পরিচালিত হতো বলে ঐতিহাসিকরা এই সময়কে ‘পর্দার শাসন’ বলে অভিহিত করেন।

41. ফতেপুর সিক্রির কোন স্থাপত্যে বৌদ্ধ স্থাপত্যের প্রভাব দেখা যায়?

  • (A) বুলন্দ দরওয়াজা
  • (B) পঞ্চমহল
  • (C) জামি মসজিদ
  • (D) সেলিম চিশতীর সমাধি

সঠিক উত্তর: (B) পঞ্চমহল

ব্যাখ্যা: ফতেপুর সিক্রিতে অবস্থিত পাঁচতলা বিশিষ্ট ‘পঞ্চমহল’ একটি পিরামিড আকৃতির স্থাপত্য। এর নকশা নালন্দার বৌদ্ধ বিহারের স্থাপত্য দ্বারা প্রভাবিত বলে মনে করা হয়। এটি মূলত রাজপরিবারের মহিলাদের বায়ু সেবনের জন্য তৈরি হয়েছিল।

42. মনসবদারি ব্যবস্থায় মনসবদারদের বেতন কীভাবে দেওয়া হতো?

  • (A) শুধুমাত্র নগদ অর্থে (নকদি)
  • (B) শুধুমাত্র জায়গিরের মাধ্যমে
  • (C) নগদ (নকদি) অথবা জায়গির উভয় উপায়েই
  • (D) শুধুমাত্র স্বর্ণমুদ্রার মাধ্যমে

সঠিক উত্তর: (C) নগদ (নকদি) অথবা জায়গির উভয় উপায়েই

ব্যাখ্যা: মনসবদারদের বেতন দুটি প্রধান পদ্ধতিতে দেওয়া হতো। যাদের নগদে বেতন দেওয়া হতো তাদের ‘নকদি’ বলা হতো। যাদের বেতনের পরিবর্তে নির্দিষ্ট অঞ্চলের রাজস্ব আদায়ের অধিকার বা ‘জায়গির’ দেওয়া হতো, তাদের ‘জায়গিরদার’ বলা হতো।

43. বাবর কোন বংশের উত্তরাধিকারী ছিলেন?

  • (A) শুধুমাত্র তুর্কি
  • (B) শুধুমাত্র মোঙ্গল
  • (C) পিতার দিক থেকে তৈমুর লং এবং মাতার দিক থেকে চেঙ্গিজ খান
  • (D) শুধুমাত্র আফগান

সঠিক উত্তর: (C) পিতার দিক থেকে তৈমুর লং এবং মাতার দিক থেকে চেঙ্গিজ খান

ব্যাখ্যা: বাবর ছিলেন দুই মহান завоевателяর বংশধর। তাঁর পিতা উমর শেখ মির্জা ছিলেন তুর্কি বীর তৈমুর লং-এর পঞ্চম পুরুষ এবং তাঁর মাতা কুতলুগ নিগার খানম ছিলেন মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিজ খানের বংশধর। এই কারণে মুঘলরা নিজেদের নিয়ে গর্ববোধ করত।

44. কোন ঐতিহাসিক বলেছিলেন যে, “হুমায়ূন সারা জীবন হোঁচট খেয়ে চলেছেন এবং শেষ পর্যন্ত হোঁচট খেয়েই তাঁর জীবনাবসান হলো”?

  • (A) আবুল ফজল
  • (B) বদাউনী
  • (C) লেন-পুল (Lane-Poole)
  • (D) ভিনসেন্ট স্মিথ

সঠিক উত্তর: (C) লেন-পুল (Lane-Poole)

ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ ঐতিহাসিক স্ট্যানলি লেন-পুল হুমায়ূনের ভাগ্যবিড়ম্বিত জীবন সম্পর্কে এই বিখ্যাত উক্তিটি করেন। হুমায়ূন তাঁর সাম্রাজ্য হারিয়েছিলেন, আবার ফিরে পেয়েছিলেন, কিন্তু বেশিদিন ভোগ করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত লাইব্রেরির সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়েই তাঁর মৃত্যু হয়, যা তাঁর উত্থান-পতনের জীবনের প্রতীকী সমাপ্তি।

45. আকবরের আমলে প্রাদেশিক শাসনকর্তাকে কী বলা হতো?

  • (A) কোতোয়াল
  • (B) ফৌজদার
  • (C) সুবাদার বা সিপাহসালার
  • (D) ওয়াকিয়া-নবিশ

সঠিক উত্তর: (C) সুবাদার বা সিপাহসালার

ব্যাখ্যা: আকবরের সাম্রাজ্য কয়েকটি ‘সুবা’ বা প্রদেশে বিভক্ত ছিল। প্রতিটি সুবার প্রধান শাসনকর্তাকে ‘সুবাদার’ বা ‘সিপাহসালার’ বা ‘নাজিম’ বলা হতো। তাঁর দায়িত্ব ছিল প্রদেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করা।

46. আকবরের কোন ‘নবরত্ন’ সদস্যের আসল নাম ছিল মহেশ দাস?

  • (A) তানসেন
  • (B) টোডরমল
  • (C) বীরবল
  • (D) আবুল ফজল

সঠিক উত্তর: (C) বীরবল

ব্যাখ্যা: আকবরের প্রিয় সভাসদ এবং পরামর্শদাতা বীরবলের আসল নাম ছিল মহেশ দাস। তাঁর বুদ্ধি, রসবোধ এবং প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের জন্য তিনি বিখ্যাত ছিলেন। আকবর তাঁকে ‘রাজা’ এবং ‘কবি রায়’ উপাধি দেন।

47. শের শাহের মুদ্রা ব্যবস্থায় রূপা ও তামার মুদ্রার অনুপাত কত ছিল?

  • (A) ১:৩২
  • (B) ১:৪০
  • (C) ১:৬৪
  • (D) ১:১০০

সঠিক উত্তর: (C) ১:৬৪

ব্যাখ্যা: শের শাহের মুদ্রা ব্যবস্থায় একটি রুপার ‘রুপিয়া’র (১৮০ গ্রেন) মূল্য ছিল ৬৪টি তামার ‘দাম’-এর সমান। এই বিনিময় হার মুঘল আমল জুড়ে প্রায় অপরিবর্তিত ছিল এবং এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এনেছিল।

48. আকবরের আমলে মহাভারতের ফারসি অনুবাদের নাম কী?

  • (A) শাহনামা
  • (B) রজমনামা
  • (C) আনওয়ার-ই-সুহেলি
  • (D) তারিখ-ই-আলফি

সঠিক উত্তর: (B) রজমনামা

ব্যাখ্যা: আকবরের নির্দেশে তাঁর অনুবাদ বিভাগে মহাভারত ফারসি ভাষায় অনূদিত হয়। এই অনূদিত গ্রন্থটির নাম দেওয়া হয় ‘রজমনামা’, যার অর্থ ‘যুদ্ধের বই’। আবুল ফজল, বদাউনী, ফৈজি সহ একাধিক পণ্ডিত এই অনুবাদ কার্যে যুক্ত ছিলেন।

49. হুমায়ূনকে কোন পারস্য সম্রাট ভারতে তাঁর হারানো রাজ্য পুনরুদ্ধারে সাহায্য করেছিলেন?

  • (A) শাহ আব্বাস
  • (B) শাহ তাহমাস্প
  • (C) নাদির শাহ
  • (D) শাহ ইসমাইল

সঠিক উত্তর: (B) শাহ তাহমাস্প

ব্যাখ্যা: ভারত থেকে বিতাড়িত হয়ে হুমায়ূন পারস্যের সাফাভিদ বংশের সম্রাট শাহ তাহমাস্পের কাছে আশ্রয় নেন। শাহ তাহমাস্প হুমায়ূনকে সামরিক সাহায্য দেন, যার বিনিময়ে হুমায়ূন শিয়া মতবাদ গ্রহণ করতে এবং কান্দাহার দুর্গ পারস্যকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এই সাহায্যেই তিনি পুনরায় দিল্লি দখল করেন।

50. আকবরের দরবারে কোন জৈন পণ্ডিতকে ‘যুগপ্রধান’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল?

  • (A) ভদ্রবাহু
  • (B) হেমচন্দ্র
  • (C) হরিবিজয় সুরি
  • (D) জিনসেন

সঠিক উত্তর: (C) হরিবিজয় সুরি

ব্যাখ্যা: আকবর তাঁর ইবাদত খানায় বিভিন্ন ধর্মের পণ্ডিতদের আমন্ত্রণ জানাতেন। তিনি শ্বেতাম্বর জৈন আচার্য হরিবিজয় সুরির দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। তাঁর অহিংসা নীতির প্রতি সম্মান জানিয়ে আকবর তাঁকে ‘যুগপ্রধান’ উপাধি দেন এবং সাম্রাজ্যের কিছু নির্দিষ্ট দিনে পশুহত্যা নিষিদ্ধ করেন।

51. আকবরের রাজত্বকালে প্রাদেশিক দেওয়ানের প্রধান কাজ কী ছিল?

  • (A) সামরিক বাহিনী পরিচালনা করা
  • (B) বিচারকার্য পরিচালনা করা
  • (C) রাজস্ব সংগ্রহ ও হিসাবরক্ষণ করা
  • (D) গুপ্তচরবৃত্তি করা

সঠিক উত্তর: (C) রাজস্ব সংগ্রহ ও হিসাবরক্ষণ করা

ব্যাখ্যা: প্রাদেশিক স্তরে ‘দেওয়ান’ ছিলেন রাজস্ব বিভাগের প্রধান। তাঁর কাজ ছিল প্রদেশের রাজস্ব ব্যবস্থা তত্ত্বাবধান করা, কর সংগ্রহ নিশ্চিত করা এবং সমস্ত অর্থনৈতিক হিসাব কেন্দ্রীয় দেওয়ানের কাছে পাঠানো। তিনি সরাসরি কেন্দ্রীয় দেওয়ানের কাছে দায়বদ্ধ থাকতেন, সুবাদারের কাছে নয়।

52. চিতোরের তৃতীয় ‘সাকা’ বা জহরব্রত কোন মুঘল আক্রমণের সময় অনুষ্ঠিত হয়?

  • (A) আলাউদ্দিন খলজির আক্রমণ
  • (B) বাবরের আক্রমণ
  • (C) আকবরের আক্রমণ (১৫৬৮)
  • (D) ঔরঙ্গজেবের আক্রমণ

সঠিক উত্তর: (C) আকবরের আক্রমণ (১৫৬৮)

ব্যাখ্যা: ১৫৬৮ সালে আকবরের চিতোর দুর্গ অবরোধের সময় রাজপুত বীর জয়মল ও ফাত্তার নেতৃত্বে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। পরাজয় নিশ্চিত জেনে রাজপুত নারীরা রানী পদ্মিনীর নেতৃত্বে ‘জহরব্রত’ (সম্মান রক্ষার্থে আগুনে আত্মাহুতি) পালন করেন এবং পুরুষরা ‘সাকা’ (যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যুবরণ) করেন।

53. ‘দীন-ই-ইলাহি’ গ্রহণকারী একমাত্র হিন্দু কে ছিলেন?

  • (A) টোডরমল
  • (B) মান সিংহ
  • (C) বীরবল
  • (D) তানসেন

সঠিক উত্তর: (C) বীরবল

ব্যাখ্যা: আকবরের প্রবর্তিত নতুন মতাদর্শ ‘দীন-ই-ইলাহি’ খুব বেশি জনপ্রিয় হয়নি। আবুল ফজল সহ মাত্র ১৮-১৯ জন অভিজাত এটি গ্রহণ করেন। হিন্দুদের মধ্যে একমাত্র বীরবল (মহেশ দাস) এই মতাদর্শ গ্রহণ করেছিলেন।

54. শের শাহের আমলে গ্রামের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব কার উপর ছিল?

  • (A) মুকাদ্দম বা গ্রামের প্রধান
  • (B) শিকদার
  • (C) আমিন
  • (D) কানুনগো

সঠিক উত্তর: (A) মুকাদ্দম বা গ্রামের প্রধান

ব্যাখ্যা: শের শাহ স্থানীয় শাসনের উপর জোর দিয়েছিলেন। গ্রামে কোনো চুরি বা অপরাধ ঘটলে তার জন্য গ্রামের প্রধান বা মুকাদ্দমকে দায়ী করা হতো। তাকে হয় অপরাধীকে খুঁজে বের করতে হতো, নয়তো ক্ষতিপূরণ দিতে হতো। এই কঠোর নীতির ফলে অপরাধ প্রবণতা অনেক কমে গিয়েছিল।

55. আকবরের শেষ সামরিক অভিযান কোনটি ছিল?

  • (A) গুজরাট বিজয়
  • (B) হলদিঘাটির যুদ্ধ
  • (C) বাংলা বিজয়
  • (D) আসিরগড় দুর্গ জয়

সঠিক উত্তর: (D) আসিরগড় দুর্গ জয়

ব্যাখ্যা: ১৬০১ সালে দাক্ষিণাত্যের খান্দেশ প্রদেশের দুর্ভেদ্য আসিরগড় দুর্গ জয় ছিল সম্রাট আকবরের জীবনের শেষ সামরিক অভিযান। বলা হয়, এই দুর্গটি তিনি সামরিক শক্তির পরিবর্তে স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে জয় করেছিলেন।

56. ‘বাবর’ শব্দটির তুর্কি ভাষায় অর্থ কী?

  • (A) সিংহ
  • (B) বাঘ
  • (C) ঈগল
  • (D) বিজয়ী

সঠিক উত্তর: (B) বাঘ

ব্যাখ্যা: জহির-উদ-দিন মুহম্মদের সাহসিকতা ও বীরত্বের জন্য তাঁকে ‘বাবর’ নামে ডাকা হতো। চাগতাই তুর্কি ভাষায় ‘বাবর’ শব্দের অর্থ হলো বাঘ।

57. কোন যুদ্ধের পর হুমায়ূন প্রায় ১৫ বছর নির্বাসিত জীবন কাটাতে বাধ্য হন?

  • (A) চৌসার যুদ্ধ
  • (B) বিলগ্রাম বা কনৌজের যুদ্ধ
  • (C) পানিপথের যুদ্ধ
  • (D) সিরহিন্দের যুদ্ধ

সঠিক উত্তর: (B) বিলগ্রাম বা কনৌজের যুদ্ধ

ব্যাখ্যা: ১৫৪০ সালে বিলগ্রামের যুদ্ধে শের শাহের কাছে চূড়ান্তভাবে পরাজিত হওয়ার পর হুমায়ূন আগ্রা ও দিল্লি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এরপর প্রায় ১৫ বছর (১৫৪০-১৫৫৫) তিনি সিন্ধু, পারস্য এবং আফগানিস্তানে নির্বাসিত জীবন কাটান।

58. আকবরের আমলে গ্রামের রাজস্ব সংক্রান্ত দলিলপত্র কে রক্ষণাবেক্ষণ করতেন?

  • (A) মুকাদ্দম
  • (B) পাটোয়ারী
  • (C) কোতোয়াল
  • (D) কানুনগো

সঠিক উত্তর: (B) পাটোয়ারী

ব্যাখ্যা: পাটোয়ারী ছিলেন গ্রামের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মচারী। তাঁর কাজ ছিল গ্রামের জমির পরিমাণ, উৎপাদনের হার, এবং কৃষকদের দেওয়া রাজস্বের হিসাব রাখা। তিনি গ্রামের রাজস্ব সংক্রান্ত সমস্ত দলিলপত্র রক্ষণাবেক্ষণ করতেন।

59. কোন মুঘল সম্রাট প্রথমবার সমুদ্র দেখেছিলেন?

  • (A) বাবর
  • (B) হুমায়ূন
  • (C) আকবর
  • (D) জাহাঙ্গীর

সঠিক উত্তর: (C) আকবর

ব্যাখ্যা: ১৫৭২ সালে গুজরাট অভিযানের সময় আকবর প্রথমবার ক্যাম্বে (খাম্বাত) নামক স্থানে আরব সাগর দেখেন। এটি তাঁর জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা ছিল।

60. ‘বুলন্দ দরওয়াজা’ কোন স্থাপত্য রীতিতে নির্মিত?

  • (A) শুধুমাত্র ভারতীয়
  • (B) শুধুমাত্র পারসিক
  • (C) ইন্দো-পারসিক
  • (D) তুর্কি

সঠিক উত্তর: (C) ইন্দো-পারসিক

ব্যাখ্যা: বুলন্দ দরওয়াজা মুঘল স্থাপত্যের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এতে পারসিক স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য যেমন বিশাল খিলান এবং ভারতীয় স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য যেমন ছোট ছোট ছত্রি (Chhatris) বা চূড়ার সমন্বয় ঘটেছে। তাই এটিকে ইন্দো-পারসিক স্থাপত্য রীতির নিদর্শন বলা হয়।

61. সুলতানি যুগের পতনের জন্য লodi বংশের কোন নীতি অনেকাংশে দায়ী ছিল?

  • (A) ধর্মীয় উদারতা
  • (B) আফগান অভিজাতদের সাথে ক্ষমতার বিভাজন
  • (C) শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা
  • (D) হিন্দুদের প্রতি কঠোর নীতি

সঠিক উত্তর: (C) শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা

ব্যাখ্যা: বহলুল লোদির সময় আফগান আমিররা সুলতানকে ‘সমকক্ষদের মধ্যে প্রধান’ (Primus inter pares) বলে মনে করতেন। কিন্তু সিকান্দার লোদি এবং বিশেষ করে ইব্রাহিম লোদি এই প্রথা ভেঙে সুলতানের ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার চেষ্টা করেন। এটি অভিজাতদের অসন্তুষ্ট করে তোলে এবং তারা সুলতানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে, যা শেষ পর্যন্ত বাবরের আক্রমণের পথ প্রশস্ত করে।

62. সিরহিন্দের যুদ্ধ (১৫৫৫) কাদের মধ্যে হয়েছিল?

  • (A) হুমায়ূন ও শের শাহ
  • (B) আকবর ও হিমু
  • (C) হুমায়ূন ও সিকান্দার শাহ শূর
  • (D) বাবর ও ইব্রাহিম লোদি

সঠিক উত্তর: (C) হুমায়ূন ও সিকান্দার শাহ শূর

ব্যাখ্যা: ১৫৫৫ সালে হুমায়ূন তাঁর নির্বাসিত জীবন থেকে ফিরে এসে বৈরাম খাঁর নেতৃত্বে মুঘল বাহিনী নিয়ে শূর বংশের শাসক সিকান্দার শাহ শূরকে সিরহিন্দের যুদ্ধে পরাজিত করেন। এই জয়ের ফলেই তিনি দিল্লি ও আগ্রা পুনরুদ্ধার করেন এবং ভারতে মুঘল শাসনের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।

63. আকবরের ‘ইবাদত খানা’র আলোচনায় কোন খ্রিস্টান মিশনারিরা অংশগ্রহণ করেছিলেন?

  • (A) ফাদার রুডলফ অ্যাকোয়াভিভা ও অ্যান্টোনিও মনসেরেট
  • (B) ক্যাপ্টেন হকিন্স ও স্যার টমাস রো
  • (C) ফ্রান্সিসকো পেলসার্ট
  • (D) ভাস্কো দা গামা

সঠিক উত্তর: (A) ফাদার রুডলফ অ্যাকোয়াভিভা ও অ্যান্টোনিও মনসেরেট

ব্যাখ্যা: আকবর খ্রিস্টধর্ম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে গোয়া থেকে পর্তুগিজ জেসুইট পাদ্রিদের আমন্ত্রণ জানান। ১৫৮০ সালে প্রথম জেসুইট মিশন ফাদার রুডলফ অ্যাকোয়াভিভা এবং অ্যান্টোনিও মনসেরেটের নেতৃত্বে ফতেপুর সিক্রিতে আসে এবং ইবাদত খানার আলোচনায় অংশগ্রহণ করে।

64. মুঘল আমলে ‘পরগণা’র প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা কে ছিলেন?

  • (A) সুবাদার
  • (B) শিকদার
  • (C) কোতোয়াল
  • (D) মুকাদ্দম

সঠিক উত্তর: (B) শিকদার

ব্যাখ্যা: প্রশাসনিক সুবিধার জন্য প্রদেশ বা ‘সুবা’কে কয়েকটি ‘সরকার’-এ এবং প্রতিটি ‘সরকার’কে কয়েকটি ‘পরগণা’ বা ‘মহল’-এ ভাগ করা হতো। পরগণার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন ‘শিকদার’, যার দায়িত্ব ছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা।

65. মনসবদারি ব্যবস্থায় ‘দাগ’ প্রথা বলতে কী বোঝানো হতো?

  • (A) সৈন্যদের পোশাক চিহ্নিত করা
  • (B) ঘোড়ার গায়ে রাজকীয় ছাপ দেওয়া
  • (C) অপরাধীদের চিহ্নিত করা
  • (D) জমির সীমানা চিহ্নিত করা

সঠিক উত্তর: (B) ঘোড়ার গায়ে রাজকীয় ছাপ দেওয়া

ব্যাখ্যা: মনসবদারদের মধ্যে দুর্নীতি রোধ করার জন্য আকবর ‘দাগ’ প্রথা চালু করেন। এই প্রথা অনুযায়ী, প্রতিটি মনসবদারের ঘোড়াগুলোকে গণনা করার পর রাজকীয় চিহ্ন দিয়ে ছাপ দেওয়া হতো, যাতে একই ঘোড়া একাধিকবার দেখিয়ে বা নিম্নমানের ঘোড়া রেখে সরকারের সাথে প্রতারণা করা না যায়।

66. মুঘল-আফগান প্রতিযোগিতায় আফগানদের চূড়ান্ত পরাজয় ঘটে কোন যুদ্ধে?

  • (A) পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
  • (B) খানুয়ার যুদ্ধ
  • (C) পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ
  • (D) ঘর্ঘরার যুদ্ধ

সঠিক উত্তর: (C) পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ

ব্যাখ্যা: যদিও বাবর ও হুমায়ূন আফগানদের একাধিকবার পরাজিত করেছিলেন, কিন্তু আফগান শক্তি完全に নির্মূল হয়নি। ১৫৫৬ সালে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে আদিল শাহ শূরের সেনাপতি হিমুর পরাজয় ও মৃত্যুর পরেই ভারতে আফগানদের রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে पुनरुत्थानের সম্ভাবনা চিরতরে বিলুপ্ত হয় এবং মুঘল শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

67. আকবরের বাল্যকালে বৈরাম খাঁর পতনের পর কে তাঁর প্রধান পরামর্শদাতা হয়েছিলেন?

  • (A) আদম খান
  • (B) মাহম আনগা
  • (C) শমস্-উদ্দিন আতগা খান
  • (D) টোডরমল

সঠিক উত্তর: (C) শমস্-উদ্দিন আতগা খান

ব্যাখ্যা: বৈরাম খাঁর পতনের পর এবং ‘পর্দার শাসন’ চলাকালে আকবর শমস্-উদ্দিন আতগা খানকে তাঁর প্রধানমন্ত্রী বা ‘ওয়াকিল’ পদে নিয়োগ করেন। আতগা খান ছিলেন হুমায়ূনের একজন বিশ্বস্ত অনুচর এবং আকবরের প্রতি অনুগত। তাঁর নিয়োগ মাহম আনগা গোষ্ঠীর ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানায়।

68. ‘জাবতি’ ব্যবস্থায় জমির উর্বরতা অনুসারে জমিকে কয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছিল?

  • (A) দুইটি
  • (B) তিনটি
  • (C) চারটি
  • (D) পাঁচটি

সঠিক উত্তর: (C) চারটি

ব্যাখ্যা: টোডরমলের রাজস্ব ব্যবস্থায় জমির উর্বরতা এবং চাষের ধারাবাহিকতার উপর ভিত্তি করে জমিকে চারটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছিল: (১) পোলজ (প্রতি বছর চাষ হয়), (২) পরৌতি (এক-দুই বছর অন্তর চাষ হয়), (৩) চাচর (তিন-চার বছর ফেলে রাখা হয়), এবং (৪) বানজর (পাঁচ বা তার বেশি বছর পতিত থাকে)।

69. ফতেপুর সিক্রিকে কত সাল থেকে কত সাল পর্যন্ত মুঘলদের রাজধানী রাখা হয়েছিল?

  • (A) ১৫২৬-১৫৩০
  • (B) ১৫৫৬-১৫৭০
  • (C) ১৫৭১-১৫৮৫
  • (D) ১৬০৫-১৬২৭

সঠিক উত্তর: (C) ১৫৭১-১৫৮৫

ব্যাখ্যা: আকবর ১৫৭১ সালে আগ্রা থেকে রাজধানী স্থানান্তর করে ফতেপুর সিক্রিতে নিয়ে যান। কিন্তু ১৫৮৫ সালে উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে সমস্যার কারণে এবং পানীয় জলের অভাবের জন্য তিনি রাজধানী লাহোরে স্থানান্তর করতে বাধ্য হন। ফলে ফতেপুর সিক্রি কার্যত একটি পরিত্যক্ত নগরীতে পরিণত হয়।

70. রানা প্রতাপের বিখ্যাত ঘোড়াটির নাম কী ছিল?

  • (A) পবন
  • (B) বাদল
  • (C) চেতক
  • (D) লায়লা

সঠিক উত্তর: (C) চেতক

ব্যাখ্যা: মহারানা প্রতাপের অত্যন্ত অনুগত এবং সাহসী ঘোড়াটির নাম ছিল চেতক। হলদিঘাটির যুদ্ধে গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও চেতক রানাকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিরাপদে বের করে নিয়ে আসে এবং পরেই মারা যায়। তার বীরত্বের কাহিনী আজও লোকগাথায় প্রচলিত।

71. বাবরের ভারত আক্রমণের প্রাক্কালে দিল্লির সুলতান কে ছিলেন?

  • (A) সিকান্দার লোদি
  • (B) বহলুল লোদি
  • (C) ইব্রাহিম লোদি
  • (D) দৌলত খান লোদি

সঠিক উত্তর: (C) ইব্রাহিম লোদি

ব্যাখ্যা: ১৫২৬ সালে বাবরের আক্রমণের সময় লোদি বংশের শেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদি দিল্লির সিংহাসনে আসীন ছিলেন। তাঁর কঠোর নীতি এবং অভিজাতদের প্রতি অবিশ্বাস সুলতানি শাসনের ভিতকে দুর্বল করে দিয়েছিল, যা বাবরের জয়কে সহজতর করে।

72. আকবরের নবরত্নের মধ্যে কে কবি ও সেনাপতি উভয়ই ছিলেন?

  • (A) আবুল ফজল
  • (B) ফৈজি
  • (C) বীরবল
  • (D) আবদুর রহিম খান-ই-খানান

সঠিক উত্তর: (D) আবদুর রহিম খান-ই-খানান

ব্যাখ্যা: বৈরাম খাঁর পুত্র আবদুর রহিম খান-ই-খানান একাধারে একজন দক্ষ সেনাপতি, প্রশাসক এবং উচ্চমানের কবি ছিলেন। তিনি বাবরের আত্মজীবনী ‘তুজুক-ই-বাবুরি’ তুর্কি ভাষা থেকে ফারসি ভাষায় অনুবাদ করেন। তাঁর হিন্দি দোঁহা আজও জনপ্রিয়।

73. শের শাহের আমলে এক পরগণা থেকে অন্য পরগণায় বার্তা পাঠানোর জন্য কতজন ঘোড়সওয়ার মোতায়েন থাকত?

  • (A) একজন
  • (B) দুইজন
  • (C) পাঁচজন
  • (D) দশজন

সঠিক উত্তর: (B) দুইজন

ব্যাখ্যা: শের শাহ একটি অত্যন্ত দক্ষ ডাক ব্যবস্থা (ডাক চৌকি) গড়ে তুলেছিলেন। সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রতিটি চৌকিতে দুইজন দ্রুতগামী ঘোড়সওয়ার সর্বদা প্রস্তুত থাকত, যারা পর্যায়ক্রমে বার্তা বহন করত।

74. আকবরের সময়ে মালওয়া অঞ্চলের শাসক কে ছিলেন, যিনি সঙ্গীত ও কবিতার অনুরাগী ছিলেন?

  • (A) রানা প্রতাপ
  • (B) রাজা মান সিংহ
  • (C) বাজ বাহাদুর
  • (D) দাউদ খান কররানী

সঠিক উত্তর: (C) বাজ বাহাদুর

ব্যাখ্যা: মালওয়ার সুলতান বাজ বাহাদুর একজন দক্ষ সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন। তাঁর এবং রানী রূপমতীর প্রেমকাহিনী কিংবদন্তিতুল্য। ১৫৬১ সালে আকবরের সেনাপতি আদম খান মালওয়া আক্রমণ করলে বাজ বাহাদুর পরাজিত হন।

75. মুঘল সাম্রাজ্যের সরকারি ভাষা কী ছিল?

  • (A) তুর্কি
  • (B) আরবি
  • (C) ফারসি
  • (D) উর্দু

সঠিক উত্তর: (C) ফারসি

ব্যাখ্যা: যদিও মুঘলদের মাতৃভাষা ছিল চাগতাই তুর্কি, কিন্তু তাঁরা প্রশাসন, আদালত এবং সাহিত্যের ভাষা হিসেবে ফারসিকে গ্রহণ করেছিলেন। আকবরের সময় থেকে ফারসি ভাষার ব্যাপক প্রসার ঘটে এবং এটি সমগ্র সাম্রাজ্যের সরকারি ভাষার মর্যাদা লাভ করে।

76. কোন ঐতিহাসিক আকবরের ‘দীন-ই-ইলাহি’-কে ‘তাঁর জ্ঞানের স্মৃতিস্তম্ভ নয়, বরং বোকামির স্মৃতিস্তম্ভ’ বলে সমালোচনা করেছেন?

  • (A) আবুল ফজল
  • (B) বদাউনী
  • (C) ভিনসেন্ট এ. স্মিথ
  • (D) লেন-পুল

সঠিক উত্তর: (C) ভিনসেন্ট এ. স্মিথ

ব্যাখ্যা: ঐতিহাসিক ভিনসেন্ট স্মিথ আকবরের ধর্মীয় নীতির একজন কঠোর সমালোচক ছিলেন। তিনি ‘দীন-ই-ইলাহি’কে একটি ব্যর্থ এবং অর্থহীন প্রয়াস হিসেবে দেখেছিলেন এবং এটিকে আকবরের জ্ঞানের চেয়ে বোকামির পরিচয় বলে মন্তব্য করেছিলেন।

77. হুমায়ূনের ভাইদের মধ্যে কে তাঁর সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দী ছিলেন?

  • (A) কামরান
  • (B) আসকারি
  • (C) হিন্দাল
  • (D) সুলেমান মির্জা

সঠিক উত্তর: (A) কামরান

ব্যাখ্যা: হুমায়ূনের ভাইদের মধ্যে কামরান মির্জা ছিলেন সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী এবং হুমায়ূনের শাসনের পথে বড় বাধা। তিনি কাবুল ও কান্দাহারের শাসক ছিলেন এবং শের শাহের বিরুদ্ধে যুদ্ধের crucial মুহূর্তে হুমায়ূনকে সাহায্য করতে অস্বীকার করেন, যা হুমায়ূনের পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল।

78. আকবরের আমলে ‘সরকার’ নামক প্রশাসনিক ইউনিটের প্রধান কে ছিলেন?

  • (A) সুবাদার
  • (B) দেওয়ান
  • (C) ফৌজদার
  • (D) কোতোয়াল

সঠিক উত্তর: (C) ফৌজদার

ব্যাখ্যা: সুবা বা প্রদেশকে কয়েকটি ‘সরকার’-এ (আধুনিক জেলার মতো) বিভক্ত করা হতো। সরকারের প্রধান নির্বাহী ও সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন ফৌজদার। তাঁর প্রধান দায়িত্ব ছিল আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিদ্রোহী জমিদারদের দমন করা।

79. ‘তবকাত-ই-আকবরী’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?

  • (A) আবুল ফজল
  • (B) বদাউনী
  • (C) নিজামউদ্দিন আহমদ
  • (D) ফৈজি

সঠিক উত্তর: (C) নিজামউদ্দিন আহমদ

ব্যাখ্যা: ‘তবকাত-ই-আকবরী’ আকবরের রাজত্বকালের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক গ্রন্থ যা নিজামউদ্দিন আহমদ রচনা করেন। আবুল ফজলের ‘আকবরনামা’র মতো এটি সম্রাটের স্তুতিমূলক নয়, বরং একটি নির্মোহ এবং বস্তুনিষ্ঠ বিবরণ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

80. ১৫২৬ সালে পানিপথের যুদ্ধের আগে বাবর মোট কতবার ভারত আক্রমণ করেছিলেন?

  • (A) একবারও না
  • (B) দুইবার
  • (C) তিনবার
  • (D) চারবার

সঠিক উত্তর: (D) চারবার

ব্যাখ্যা: পানিপথের যুদ্ধ ছিল ভারতে বাবরের পঞ্চম অভিযান। এর আগে তিনি ১৫১৯ থেকে ১৫২৪ সালের মধ্যে আরও চারবার ভারতের সীমান্ত অঞ্চলে, বিশেষ করে পাঞ্জাবে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। এই অভিযানগুলি তাঁকে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভৌগোলিক অবস্থা বুঝতে সাহায্য করেছিল।

81. আকবরের সময়ে ‘মির বখশি’র দায়িত্ব কী ছিল?

  • (A) নৌবাহিনীর প্রধান
  • (B) বিচার বিভাগের প্রধান
  • (C) সামরিক বিভাগের প্রধান
  • (D) রাজকীয় পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক

সঠিক উত্তর: (C) সামরিক বিভাগের প্রধান

ব্যাখ্যা: ‘মির বখশি’ ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সামরিক বিভাগের প্রধান। তাঁর দায়িত্ব ছিল মনসবদারদের নিয়োগ, বেতন প্রদান, সামরিক বাহিনীর হিসাবরক্ষণ, দাগ ও হুলিয়া ব্যবস্থা তত্ত্বাবধান করা এবং যুদ্ধের সময় সৈন্যদের বিন্যাস করা।

82. শের শাহের আমলে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পণ্য পরিবহনের উপর শুল্ক বা কর কোথায় নেওয়া হতো?

  • (A) প্রতিটি শহরের প্রবেশপথে
  • (B) প্রতিটি গ্রামের সীমানায়
  • (C) শুধুমাত্র রাজ্যের প্রবেশপথে এবং বিক্রির স্থানে
  • (D) কোনো শুল্ক নেওয়া হতো না

সঠিক উত্তর: (C) শুধুমাত্র রাজ্যের প্রবেশপথে এবং বিক্রির স্থানে

ব্যাখ্যা: শের শাহ ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতির জন্য অভ্যন্তরীণ শুল্ক ব্যবস্থা সহজ করেন। তিনি অসংখ্য অভ্যন্তরীণ শুল্ক চৌকি তুলে দিয়ে শুধুমাত্র দুটি স্থানে শুল্ক আদায়ের নিয়ম করেন: একবার যখন পণ্য সাম্রাজ্যে প্রবেশ করত এবং দ্বিতীয়বার যখন সেটি বাজারে বিক্রি হতো।

83. আকবর কোন শিখ গুরুর সাথে দেখা করে তাঁকে জমি দান করেছিলেন, যেখানে পরে অমৃতসরের স্বর্ণ মন্দির নির্মিত হয়?

  • (A) গুরু নানক
  • (B) গুরু অঙ্গদ
  • (C) গুরু অমর দাস
  • (D) গুরু রাম দাস

সঠিক উত্তর: (D) গুরু রাম দাস

ব্যাখ্যা: আকবরের উদার ধর্মীয় নীতির অংশ হিসেবে তিনি চতুর্থ শিখ গুরু রাম দাসের সাথে দেখা করেন এবং তাঁকে একটি বড় ভূখণ্ড দান করেন। এই জমিতেই গুরু রাম দাস একটি পুকুর খনন করান যা ‘অমৃত সরোবর’ নামে পরিচিত হয় এবং পরবর্তীতে এখানেই হরমন্দির সাহিব বা স্বর্ণ মন্দির নির্মিত হয়।

84. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে হিমুর পরাজয়ের আকস্মিক কারণ কী ছিল?

  • (A) তার সেনাবাহিনীর পলায়ন
  • (B) বৈরাম খাঁর উন্নত রণকৌশল
  • (C) আকস্মিকভাবে চোখে তীর বিদ্ধ হওয়া
  • (D) তার হাতির বিগড়ে যাওয়া

সঠিক উত্তর: (C) আকস্মিকভাবে চোখে তীর বিদ্ধ হওয়া

ব্যাখ্যা: পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে হিমুর বাহিনী প্রায় জয়লাভ করতে চলেছিল। কিন্তু যুদ্ধের এক পর্যায়ে একটি বিপক্ষের তীর এসে হিমুর চোখে বিদ্ধ হয় এবং তিনি জ্ঞান হারান। নেতাকে পড়ে যেতে দেখে তাঁর সেনাবাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে, যা মুঘলদের জয়কে নিশ্চিত করে।

85. কোন শাসক ‘সিকান্দারি গজ’ নামক জমি পরিমাপের একটি নতুন একক চালু করেন?

  • (A) আলাউদ্দিন খলজি
  • (B) শের শাহ শূর
  • (C) সিকান্দার লোদি
  • (D) আকবর

সঠিক উত্তর: (C) সিকান্দার লোদি

ব্যাখ্যা: সুলতান সিকান্দার লোদি রাজস্ব ব্যবস্থার উন্নতির জন্য জমি পরিমাপের একটি নতুন মানদণ্ড ‘সিকান্দারি গজ’ (প্রায় ৩০ ইঞ্চি) চালু করেন। এই ব্যবস্থাটি শের শাহ এবং আকবরের সময়েও ব্যবহৃত হয়েছিল।

86. মুঘল চিত্রকলা কার রাজত্বকালে শুরু হয়েছিল?

  • (A) বাবর
  • (B) হুমায়ূন
  • (C) আকবর
  • (D) জাহাঙ্গীর

সঠিক উত্তর: (B) হুমায়ূন

ব্যাখ্যা: ভারতে মুঘল চিত্রকলার সূচনা হয় হুমায়ূনের হাত ধরে। পারস্যে নির্বাসিত থাকাকালীন তিনি দুই বিখ্যাত পারসিক চিত্রশিল্পী—মীর সৈয়দ আলি এবং আব্দুস সামাদের সান্নিধ্যে আসেন। ভারতে ফিরে আসার সময় তিনি তাঁদের সাথে নিয়ে আসেন এবং এভাবেই মুঘল চিত্রকলার ভিত্তি স্থাপিত হয়, যা আকবরের সময় বিকশিত হয়।

87. আকবরের দাক্ষিণাত্য নীতির মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?

  • (A) দাক্ষিণাত্যের সম্পদ লুণ্ঠন করা
  • (B) দাক্ষিণাত্যে ইসলাম প্রচার করা
  • (C) সমগ্র ভারতকে এক শাসনাধীনে এনে ‘সার্বভৌম’ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা
  • (D) পর্তুগিজদের দাক্ষিণাত্য থেকে বিতাড়িত করা

সঠিক উত্তর: (C) সমগ্র ভারতকে এক শাসনাধীনে এনে ‘সার্বভৌম’ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা

ব্যাখ্যা: উত্তর ভারত জয়ের পর আকবর দাক্ষিণাত্যের দিকে নজর দেন। তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল দাক্ষিণাত্যের শিয়া সুলতানি রাজ্যগুলিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে এনে একটি অখণ্ড ভারতীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা এবং নিজের সার্বভৌম ক্ষমতাকে প্রতিষ্ঠিত করা।

88. ‘রুপিয়া’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?

  • (A) আরবি
  • (B) তুর্কি
  • (C) সংস্কৃত
  • (D) ফারসি

সঠিক উত্তর: (C) সংস্কৃত

ব্যাখ্যা: শের শাহ প্রচলিত রৌপ্যমুদ্রার নাম দেন ‘রুপিয়া’। এই শব্দটি সংস্কৃত ‘রূপ্য’ বা ‘রূপ্যকম’ শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘রূপা’ বা ‘রূপার মুদ্রা’। এই নামটি আজও ভারত, পাকিস্তান, নেপাল সহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রার নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

89. গন্ডোয়ানার রানী দুর্গাবতী কার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বীরগতি প্রাপ্ত হন?

  • (A) শের শাহ শূর
  • (B) বাজ বাহাদুর
  • (C) আকবরের সেনাপতি আসফ খান
  • (D) বৈরাম খাঁ

সঠিক উত্তর: (C) আকবরের সেনাপতি আসফ খান

ব্যাখ্যা: ১৫৬৪ সালে আকবর তাঁর সেনাপতি আসফ খানকে মধ্য ভারতের সমৃদ্ধ রাজ্য গন্ডোয়ানা আক্রমণের নির্দেশ দেন। সেই রাজ্যের শাসক ছিলেন চান্দেল বংশের বীর রানী দুর্গাবতী। তিনি মুঘলদের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করেন কিন্তু পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পণের পরিবর্তে আত্মহত্যা করে বীরগতি প্রাপ্ত হন।

90. আকবরের সময়ে প্রধান বিচারপতিকে কী বলা হতো?

  • (A) প্রধান কাজী (কাজী-উল-কুজ্জত)
  • (B) মুফতি
  • (C) মির আদল
  • (D) সদর-উস-সুদুর

সঠিক উত্তর: (A) প্রধান কাজী (কাজী-উল-কুজ্জত)

ব্যাখ্যা: মুঘল সাম্রাজ্যের বিচার বিভাগের প্রধান ছিলেন ‘কাজী-উল-কুজ্জত’। তিনি ইসলামী আইন (শরিয়ত) অনুসারে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন এবং সাম্রাজ্যের অন্যান্য কাজীদের নিয়োগ করতেন। প্রায়শই ‘সদর-উস-সুদুর’ (ধর্মীয় امور ও অনুদান বিভাগের প্রধান) পদটি প্রধান কাজীর পদের সাথে যুক্ত থাকত।

91. কোন ঐতিহাসিক গ্রন্থ থেকে শের শাহের প্রশাসন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়?

  • (A) আকবরনামা
  • (B) তারিখ-ই-শেরশাহী
  • (C) বাবরনামা
  • (D) হুমায়ূননামা

সঠিক উত্তর: (B) তারিখ-ই-শেরশাহী

ব্যাখ্যা: ‘তারিখ-ই-শেরশাহী’ গ্রন্থটি আব্বাস খান সারওয়ানি আকবরের নির্দেশে রচনা করেন। যদিও এটি আকবরের রাজত্বকালে লেখা, এটি শের শাহ শূরের শাসনকাল এবং তাঁর প্রশাসনিক সংস্কারের উপর একটি প্রামাণ্য ও বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করে।

92. ‘মনসব’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ কী?

  • (A) বেতন
  • (B) জায়গির
  • (C) পদ বা পদমর্যাদা
  • (D) সৈন্য

সঠিক উত্তর: (C) পদ বা পদমর্যাদা

ব্যাখ্যা: ‘মনসব’ একটি আরবি শব্দ, যার আক্ষরিক অর্থ হলো পদ, পদমর্যাদা বা Rank। আকবরের মনসবদারি প্রথায় এটি দ্বারা একজন সরকারী কর্মকর্তার সামরিক ও বেসামরিক অবস্থান বোঝানো হতো।

93. খানুয়ার যুদ্ধের প্রধান কারণ কী ছিল?

  • (A) রানা সঙ্গের দিল্লি দখলের আকাঙ্ক্ষা
  • (B) বাবরের রাজপুতদের দমনের নীতি
  • (C) বাবর ভারতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় রানা সঙ্গের বিরোধিতা
  • (D) ধর্মীয় কারণ

সঠিক উত্তর: (C) বাবর ভারতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় রানা সঙ্গের বিরোধিতা

ব্যাখ্যা: রানা সঙ্গ ভেবেছিলেন বাবর তৈমুর লং-এর মতো দিল্লি লুণ্ঠন করে ফিরে যাবেন, যা তাঁকে দিল্লি দখলের সুযোগ করে দেবে। কিন্তু পানিপথের যুদ্ধের পর বাবর যখন ভারতে স্থায়ীভাবে শাসন করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন রানা সঙ্গ নিজের পথের কাঁটা দূর করতে বাবরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।

94. ফতেপুর সিক্রিতে আকবরের ব্যক্তিগত প্রার্থনার জন্য নির্মিত ভবনটির নাম কী?

  • (A) ইবাদত খানা
  • (B) দিওয়ান-ই-আম
  • (C) দিওয়ান-ই-খাস
  • (D) খাস মহল

সঠিক উত্তর: (D) খাস মহল

ব্যাখ্যা: যদিও ‘ইবাদত খানা’ ধর্মীয় আলোচনার জন্য নির্মিত হয়েছিল, আকবরের ব্যক্তিগত প্রার্থনা ও বিশ্রামের জন্য ফতেপুর সিক্রিতে একটি আলাদা ভবন ছিল, যা ‘খাস মহল’ বা ‘আরামগাহ’ নামে পরিচিত। ‘দিওয়ান-ই-খাস’ ছিল বিশেষ অতিথিদের সাথে সাক্ষাতের স্থান।

95. আকবরের রাজস্ব মন্ত্রী টোডরমল কোন ব্যবস্থার জন্য বিখ্যাত?

  • (A) জায়গিরদারি ব্যবস্থা
  • (B) ইকতা ব্যবস্থা
  • (C) জাবতি বা দহশালা ব্যবস্থা
  • (D) কানকুত ব্যবস্থা

সঠিক উত্তর: (C) জাবতি বা দহশালা ব্যবস্থা

ব্যাখ্যা: রাজা টোডরমল ‘জাবতি’ বা ‘দহশালা’ (দশ-বার্ষিক) ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। এই ব্যবস্থায়, গত দশ বছরের গড় উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশ রাজস্ব হিসেবে নির্ধারণ করা হতো। এটি একটি স্থায়ী এবং বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা ছিল যা কৃষক এবং রাষ্ট্র উভয়ের জন্যই সুবিধাজনক ছিল।

96. বাংলার কোন সুলতানকে পরাজিত করে শের শাহ ‘হজরত-ই-আলা’ উপাধি ধারণ করেন?

  • (A) নসরৎ শাহ
  • (B) গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  • (C) দাউদ খান কররানী
  • (D) সিকান্দার শাহ

সঠিক উত্তর: (B) গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ

ব্যাখ্যা: শের খান (পরবর্তীতে শের শাহ) বাংলার দুর্বল সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহকে একাধিকবার পরাজিত করেন। সূরযগড়ের যুদ্ধে (১৫৩৪) বাংলার সুলতানকে পরাজিত করে তিনি বিহারের একচ্ছত্র অধিপতি হন এবং ‘হজরত-ই-আলা’ উপাধি ধারণ করেন।

97. ‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থের লেখক কে?

  • (A) আকবর
  • (B) আবুল ফজল
  • (C) বদাউনী
  • (D) টোডরমল

সঠিক উত্তর: (B) আবুল ফজল

ব্যাখ্যা: ‘আইন-ই-আকবরী’ হল আবুল ফজল রচিত ‘আকবরনামা’র তৃতীয় খণ্ড। এটিকে আকবরের সাম্রাজ্যের একটি গেজেটিয়ার বলা হয়, যেখানে তাঁর প্রশাসন, মনসবদারি ব্যবস্থা, রাজস্ব ব্যবস্থা, ভূগোল এবং সমসাময়িক ভারতের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থার বিস্তারিত পরিসংখ্যানমূলক বিবরণ রয়েছে।

98. গুজরাট বিজয়ের পর আকবর কোন কবিকে ‘রাজ্য কবি’ (মালিক-উস-শুয়ারা) পদে নিযুক্ত করেন?

  • (A) আবুল ফজল
  • (B) বীরবল
  • (C) তানসেন
  • (D) ফৈজি

সঠিক উত্তর: (D) ফৈজি

ব্যাখ্যা: শেখ আবুল ফজল-এর বড় ভাই শেখ ফৈজি ছিলেন আকবরের রাজসভার একজন প্রতিভাবান কবি। তাঁর পাণ্ডিত্য ও কাব্য প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে আকবর তাঁকে ‘মালিক-উস-শুয়ারা’ বা ‘কবি সম্রাট’ উপাধি দেন।

99. শের শাহের সাম্রাজ্য কয়টি ‘সরকার’-এ বিভক্ত ছিল?

  • (A) ২৫
  • (B) ৩৭
  • (C) ৪৭
  • (D) ৬৭

সঠিক উত্তর: (C) ৪৭

ব্যাখ্যা: শের শাহ তাঁর বিশাল সাম্রাজ্যকে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য ৪৭টি ‘সরকার’ বা জেলায় বিভক্ত করেন। প্রতিটি সরকারকে আবার কয়েকটি পরগণায় ভাগ করা হয়। এই প্রশাসনিক কাঠামো মুঘলরাও অনেকাংশে অনুসরণ করেছিল।

100. আকবর দাসপ্রথা কবে রদ করেন?

  • (A) ১৫৬২ সালে
  • (B) ১৫৬৩ সালে
  • (C) ১৫৬৪ সালে
  • (D) ১৫৭৫ সালে

সঠিক উত্তর: (A) ১৫৬২ সালে

ব্যাখ্যা: আকবর তাঁর উদার নীতির অংশ হিসেবে বেশ কিছু সমাজ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ১৫৬২ সালে যুদ্ধবন্দীদের দাস বানানো এবং তাদের পরিবারকে ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি করার প্রথা নিষিদ্ধ করা। এটি ছিল একটি অত্যন্ত মানবিক পদক্ষেপ।

101. আকবরের রাজসভার বিখ্যাত চিত্রশিল্পী কারা ছিলেন?

  • (A) মীর সৈয়দ আলী ও আব্দুস সামাদ
  • (B) দশবন্ত ও बसाবন
  • (C) মনসুর ও বিষাণ দাস
  • (D) (A) এবং (B) উভয়ই

সঠিক উত্তর: (D) (A) এবং (B) উভয়ই

ব্যাখ্যা: মীর সৈয়দ আলী ও আব্দুস সামাদ হুমায়ূনের সাথে পারস্য থেকে এসেছিলেন এবং আকবরের চিত্রকলা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। পরে তাঁদের অধীনে দশবন্ত ও बसाবন-এর মতো ভারতীয় শিল্পীরা মুঘল চিত্রकलाকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। তাই এঁরা সকলেই আকবরের রাজসভার বিখ্যাত চিত্রশিল্পী।

102. লোদি বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?

  • (A) ইব্রাহিম লোদি
  • (B) সিকান্দার লোদি
  • (C) দৌলত খান লোদি
  • (D) বহলুল লোদি

সঠিক উত্তর: (D) বহলুল লোদি

ব্যাখ্যা: সৈয়দ বংশের পতনের পর ১৪৫১ সালে বহলুল লোদি দিল্লিতে লোদি বংশ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন প্রথম আফগান শাসক যিনি দিল্লির সিংহাসনে বসেন এবং সুলতানি যুগে একটি নতুন আফগান শাসনের সূচনা করেন।

103. ‘তৌহিদ-ই-ইলাহি’ কার প্রকৃত নাম ছিল?

  • (A) সুলহ-ই-কুল
  • (B) দীন-ই-ইলাহি
  • (C) জাবতি ব্যবস্থা
  • (D) মহজরনামা

সঠিক উত্তর: (B) দীন-ই-ইলাহি

ব্যাখ্যা: আকবর প্রবর্তিত নতুন মতাদর্শের প্রকৃত নাম ছিল ‘তৌহিদ-ই-ইলাহি’, যার অর্থ ‘ঐশ্বরিক একেশ্বরবাদ’। আবুল ফজল একে এই নামেই অভিহিত করেছেন। ‘দীন-ই-ইলাহি’ নামটি পরবর্তীকালে বদাউনী এবং অন্যান্য সমালোচকদের দ্বারা জনপ্রিয় হয়।

104. মুঘল যুগে শহরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রধান কর্মকর্তাকে কী বলা হতো?

  • (A) ফৌজদার
  • (B) শিকদার
  • (C) কোতোয়াল
  • (D) আমিন

সঠিক উত্তর: (C) কোতোয়াল

ব্যাখ্যা: মুঘল আমলে শহরের পুলিশ প্রধান এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ‘কোতোয়াল’ বলা হতো। তাঁর দায়িত্ব ছিল শহরে শান্তি বজায় রাখা, অপরাধ দমন করা, বাজারদর নিয়ন্ত্রণ করা এবং রাতে কারফিউ জারি করা।

105. আকবরের নির্দেশে পঞ্চতন্ত্রের ফারসি অনুবাদ কে করেন?

  • (A) বদাউনী
  • (B) ফৈজি
  • (C) আবুল ফজল
  • (D) নিজামউদ্দিন আহমদ

সঠিক উত্তর: (C) আবুল ফজল

ব্যাখ্যা: আকবরের নির্দেশে তাঁর সভাসদ আবুল ফজল পঞ্চতন্ত্রের ফারসি অনুবাদ করেন। এই অনুবাদটি ‘আনওয়ার-ই-সুহেলি’ নামে পরিচিত। এটি মুঘল যুগের একটি বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম।

106. মুঘল সাম্রাজ্য এবং উজবেকদের মধ্যে সীমানা নির্ধারণকারী পর্বতমালা কোনটি ছিল?

  • (A) হিমালয়
  • (B) আরাবল্লী
  • (C) হিন্দুকুশ
  • (D) বিন্ধ্য

সঠিক উত্তর: (C) হিন্দুকুশ

ব্যাখ্যা: আকবরের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত নীতির অন্যতম সাফল্য ছিল হিন্দুকুশ পর্বতমালাকে মুঘল সাম্রাজ্য এবং মধ্য এশিয়ার উজবেকদের মধ্যে একটি সুরক্ষিত বৈজ্ঞানিক সীমান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এটি বহিরাগত আক্রমণ থেকে সাম্রাজ্যকে রক্ষা করত।

107. মনসবদারি প্রথায় একই ‘জাট’ পদমর্যাদার দুজন মনসবদারের মধ্যে কার পদমর্যাদা বেশি বলে গণ্য হতো?

  • (A) যার বয়স বেশি
  • (B) যার ‘সাওয়ার’ সংখ্যা বেশি
  • (C) যার জায়গির বড়
  • (D) যার সাথে সম্রাটের সম্পর্ক ভালো

সঠিক উত্তর: (B) যার ‘সাওয়ার’ সংখ্যা বেশি

ব্যাখ্যা: যদি দুজন মনসবদারের ‘জাট’ বা ব্যক্তিগত পদমর্যাদা সমান হতো, তাহলে যার অধীনে থাকা অশ্বারোহী সৈন্য বা ‘সাওয়ার’ সংখ্যা বেশি, তাকেই উচ্চতর বলে গণ্য করা হতো। এটি তাদের সামরিক গুরুত্ব নির্দেশ করত।

108. আগ্রার দুর্গ কে নির্মাণ করেন?

  • (A) সিকান্দার লোদি
  • (B) শের শাহ শূর
  • (C) আকবর
  • (D) শাহজাহান

সঠিক উত্তর: (C) আকবর

ব্যাখ্যা: যদিও আগ্রায় আগে একটি পুরানো দুর্গ ছিল, বর্তমানের বিশাল লাল বেলেপাথরের আগ্রা দুর্গটি আকবর নির্মাণ করান। তিনি ১৫৬৫ সালে এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। শাহজাহান পরে এর অভ্যন্তরে সাদা মার্বেলের অনেক স্থাপত্য যোগ করেন।

109. রানা প্রতাপের রাজধানী কোথায় ছিল?

  • (A) চিতোর
  • (B) উদয়পুর
  • (C) কুম্ভলগড়
  • (D) আজমীর

সঠিক উত্তর: (C) কুম্ভলগড়

ব্যাখ্যা: চিতোর মুঘলদের হাতে চলে যাওয়ার পর মহারানা প্রতাপ দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত কুম্ভলগড় দুর্গকে তাঁর রাজধানী বানান। হলদিঘাটির যুদ্ধের সময় এটিই তাঁর প্রধান কেন্দ্র ছিল।

110. ‘রামচরিতমানস’ রচয়িতা তুলসীদাস কার সমসাময়িক ছিলেন?

  • (A) বাবর
  • (B) শের শাহ
  • (C) আকবর
  • (D) ঔরঙ্গজেব

সঠিক উত্তর: (C) আকবর

ব্যাখ্যা: ভক্তি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সন্ত-কবি গোস্বামী তুলসীদাস, যিনি অবধি ভাষায় ‘রামচরিতমানস’ রচনা করেন, তিনি সম্রাট আকবরের সমসাময়িক ছিলেন। যদিও তিনি মুঘল দরবারের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না।

111. বাবরের মৃত্যুর পর তাঁর সাম্রাজ্য ভাইদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার প্রথা কোন বংশ থেকে এসেছিল?

  • (A) ভারতীয় প্রথা
  • (B) তুর্কি-মোঙ্গল প্রথা
  • (C) আফগান প্রথা
  • (D) পারসিক প্রথা

সঠিক উত্তর: (B) তুর্কি-মোঙ্গল প্রথা

ব্যাখ্যা: তৈমুরের বংশধরদের মধ্যে এই প্রথা ছিল যে, শাসকের মৃত্যুর পর তাঁর সাম্রাজ্য পুত্রদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হতো। বাবর এই প্রথা অনুসরণ করার জন্য হুমায়ূনকে নির্দেশ দিয়ে যান। এই নীতি হুমায়ূনের জন্য পরবর্তীকালে অনেক সমস্যার সৃষ্টি করেছিল।

112. আকবর কাকে ‘কবি প্রিয়’ উপাধি দিয়েছিলেন?

  • (A) তানসেন
  • (B) বীরবল
  • (C) ফৈজি
  • (D) টোডরমল

সঠিক উত্তর: (B) বীরবল

ব্যাখ্যা: বীরবল (মহেশ দাস) কেবল একজন বুদ্ধিমান পরামর্শদাতা ছিলেন না, তিনি একজন ভালো কবিও ছিলেন। তাঁর কাব্য প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে আকবর তাঁকে ‘কবি প্রিয়’ বা ‘কবি রায়’ উপাধি দেন।

113. শের শাহের আমলে বিচার ব্যবস্থায় দেওয়ানি মামলার বিচার কে করতেন?

  • (A) কাজী
  • (B) শিকদার
  • (C) আমিন বা মুনসিফ
  • (D) কোতোয়াল

সঠিক উত্তর: (C) আমিন বা মুনসিফ

ব্যাখ্যা: শের শাহের বিচার ব্যবস্থায় ফৌজদারি মামলার বিচার করতেন শিকদার ও কাজী। কিন্তু জমি বা রাজস্ব সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলার বিচার করতেন ‘আমিন’ বা ‘মুনসিফ’ নামক কর্মকর্তারা।

114. আকবরকে ‘জাতীয় সম্রাট’ বলার কারণ কী?

  • (A) তিনি ভারতের বেশিরভাগ অংশ জয় করেছিলেন
  • (B) তিনি ধর্ম, বর্ণ, জাতি নির্বিশেষে সকলের প্রতি সমান আচরণের নীতি (সুলহ-ই-কুল) গ্রহণ করেছিলেন
  • (C) তিনি দীর্ঘকাল শাসন করেছিলেন
  • (D) তিনি মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা

সঠিক উত্তর: (B) তিনি ধর্ম, বর্ণ, জাতি নির্বিশেষে সকলের প্রতি সমান আচরণের নীতি (সুলহ-ই-কুল) গ্রহণ করেছিলেন

ব্যাখ্যা: আকবরকে শুধুমাত্র একজন завоеতাস হিসেবে দেখা হয় না, বরং একজন জাতীয় সম্রাট হিসেবে দেখা হয় কারণ তিনি ভারতের বহুধা বিভক্ত সমাজকে একটি সাধারণ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর অধীনে আনার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর সুলহ-ই-কুল নীতি, জিজিয়া কর বিলোপ, এবং Rajput নীতির মাধ্যমে তিনি হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন, যা এক ধরনের জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল।

115. মুঘল আমলে ‘ওয়াকিয়া-নবিশ’ কাদের বলা হতো?

  • (A) গুপ্তচর
  • (B) সংবাদ লেখক বা রিপোর্টার
  • (C) কর সংগ্রাহক
  • (D) বিচারক

সঠিক উত্তর: (B) সংবাদ লেখক বা রিপোর্টার

ব্যাখ্যা: মুঘল প্রশাসন অত্যন্ত সংগঠিত ছিল। ‘ওয়াকিয়া-নবিশ’ ছিলেন সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মোতায়েন থাকা সংবাদ লেখক। তাঁদের কাজ ছিল প্রদেশের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা লিপিবদ্ধ করে নিয়মিতভাবে কেন্দ্রে পাঠানো, যা সম্রাটকে সাম্রাজ্যের অবস্থা সম্পর্কে অবগত রাখত।

116. কোন দুর্গ জয়ের পর আকবর সেখানকার অধিবাসীদের উপর ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড চালান, যা তাঁর চরিত্রের উপর একটি কলঙ্ক হিসেবে বিবেচিত হয়?

  • (A) রণথম্ভোর
  • (B) চিতোর
  • (C) কালঞ্জর
  • (D) আসিরগড়

সঠিক উত্তর: (B) চিতোর

ব্যাখ্যা: ১৫৬৮ সালে রাজপুতদের কঠোর প্রতিরোধের পর চিতোর দুর্গ জয় করার পর আকবর ক্রোধের বশে দুর্গের প্রায় ৩০,০০০ সাধারণ অধিবাসীকে হত্যার নির্দেশ দেন। এই ঘটনাটি আকবরের জীবনের একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে ঐতিহাসিকরা চিহ্নিত করেন।

117. ‘দস্তর-উল-আমল’ কী ছিল?

  • (A) একটি ধর্মীয় গ্রন্থ
  • (B) একটি নিয়ম-কানুন ও পদ্ধতি সংক্রান্ত পুস্তিকা
  • (C) একটি কাব্যগ্রন্থ
  • (D) একটি কর

সঠিক উত্তর: (B) একটি নিয়ম-কানুন ও পদ্ধতি সংক্রান্ত পুস্তিকা

ব্যাখ্যা: ‘দস্তর-উল-আমল’ ছিল একটি নির্দেশিকা বা নিয়মাবলী যেখানে বিভিন্ন ফসলের উপর ধার্য রাজস্বের হার লেখা থাকত। টোডরমলের ‘দহশালা’ ব্যবস্থার অধীনে প্রতিটি রাজস্ব অঞ্চলের জন্য আলাদা আলাদা ‘দস্তর’ বা তালিকা তৈরি করা হতো।

118. প্রথম কোন রাজপুত রাজা আকবরের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন?

  • (A) মেবারের রানা উদয় সিংহ
  • (B) মারোয়াড়ের রাজা মালদেও
  • (C) অম্বরের (জয়পুর) রাজা ভারমল
  • (D) বিকানীরের রাজা কল্যাণমল

সঠিক উত্তর: (C) অম্বরের (জয়পুর) রাজা ভারমল

ব্যাখ্যা: ১৫৬২ সালে অম্বরের কাছওয়াহা রাজপুত রাজা ভারমল (বিহারীমল নামেও পরিচিত) প্রথম মুঘল সম্রাট আকবরের বশ্যতা স্বীকার করেন এবং নিজ কন্যা হারখা বাই (যিনি ইতিহাসে যোধা বাই নামে পরিচিত) এর সাথে আকবরের বিবাহ দেন। এটিই ছিল আকবরের বিখ্যাত রাজপুত নীতির সূচনা।

119. শের শাহের আমলে নির্মিত ‘সরাই’ বা পান্থশালাগুলির প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?

  • (A) শুধুমাত্র সৈন্যদের থাকার জন্য
  • (B) শুধুমাত্র রাজপরিবারের জন্য
  • (C) পথিক ও বণিকদের বিশ্রাম এবং ডাক ব্যবস্থার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করা
  • (D) শুধুমাত্র কর আদায়ের জন্য

সঠিক উত্তর: (C) পথিক ও বণিকদের বিশ্রাম এবং ডাক ব্যবস্থার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করা

ব্যাখ্যা: শের শাহ তাঁর নির্মিত সড়কগুলির ধারে ধারে প্রায় ১৭০০টি সরাইখানা নির্মাণ করেন। এগুলি ছিল সুরক্ষিত পান্থশালা যেখানে হিন্দু ও মুসলিম পথিক এবং বণিকরা নিরাপদে থাকতে পারতেন। এছাড়া এগুলি ডাক চৌকির কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করত, যা সাম্রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছিল।

120. খানুয়ার যুদ্ধে পরাজয়ের পর রানা সঙ্গের কী হয়েছিল?

  • (A) তিনি বাবরের বশ্যতা স্বীকার করেন
  • (B) তিনি যুদ্ধক্ষেত্রেই মারা যান
  • (C) তিনি পালিয়ে যান এবং পরে তাঁরই সভাসদরা তাঁকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করে
  • (D) তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন

সঠিক উত্তর: (C) তিনি পালিয়ে যান এবং পরে তাঁরই সভাসদরা তাঁকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করে

ব্যাখ্যা: খানুয়ার যুদ্ধে পরাজিত ও আহত হয়ে রানা সঙ্গ পালিয়ে যান। তিনি বাবরের বিরুদ্ধে পুনরায় যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন। কিন্তু তাঁর সভাসদরা আরেকটি विनाशकारी যুদ্ধ এড়াতে তাঁকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করে বলে মনে করা হয়।

121. ‘হামজানামা’ কী?

  • (A) হামিদের জীবনী
  • (B) আমির হামজার দুঃসাহসিক কার্যকলাপ নিয়ে অলংকৃত পাণ্ডুলিপি
  • (C) একটি সঙ্গীতের বই
  • (D) একটি প্রশাসনিক নির্দেশিকা

সঠিক উত্তর: (B) আমির হামজার দুঃসাহসিক কার্যকলাপ নিয়ে অলংকৃত পাণ্ডুলিপি

ব্যাখ্যা: ‘হামজানামা’ হলো হজরত মুহাম্মদের (সাঃ) চাচা আমির হামজার কাল্পনিক দুঃসাহসিক কাহিনী সম্বলিত একটি বিশাল চিত্রিত পাণ্ডুলিপি। আকবরের নির্দেশে এই বিশাল প্রকল্পটি শুরু হয় এবং এটি মুঘল চিত্রকলার বিকাশের প্রথম দিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

122. পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদির পরাজয়ের প্রধান কারণ কী ছিল?

  • (A) সৈন্য সংখ্যা কম থাকা
  • (B) বাবরের তুলনায় উন্নত রণকৌশল ও গোলন্দাজ বাহিনীর অভাব
  • (C) আফগান আমিরদের বিশ্বাসঘাতকতা
  • (D) (B) এবং (C) উভয়ই

সঠিক উত্তর: (D) (B) এবং (C) উভয়ই

ব্যাখ্যা: ইব্রাহিম লোদির সৈন্য সংখ্যা বাবরের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। কিন্তু তাঁর পরাজয়ের মূল কারণ ছিল বাবরের আধুনিক যুদ্ধ কৌশল (তুলঘুমা ও রুমি) এবং কামানের ব্যবহার, যা লোদির বাহিনীতে ছিল না। এর পাশাপাশি, লোদির স্বৈরাচারী আচরণের কারণে অনেক আফগান আমির তাঁর উপর অসন্তুষ্ট ছিলেন এবং যুদ্ধে পূর্ণ সহযোগিতা করেননি।

123. আকবর কোন সুফি সাধকের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ফতেপুর সিক্রি নির্মাণ করেন?

  • (A) নিজামুদ্দিন আউলিয়া
  • (B) মইনুদ্দিন চিশতি
  • (C) শেখ সেলিম চিশতি
  • (D) কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকী

সঠিক উত্তর: (C) শেখ সেলিম চিশতি

ব্যাখ্যা: আকবর পুত্র সন্তানের আশায় তৎকালীন সিক্রি গ্রামের সুফি সাধক শেখ সেলিম চিশতির কাছে আশীর্বাদ চাইতে যান। তাঁর আশীর্বাদেই পুত্র সেলিমের (পরবর্তীকালে জাহাঙ্গীর) জন্ম হয় বলে আকবর বিশ্বাস করতেন। এই সাধকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তিনি সিক্রিতে তাঁর নতুন রাজধানী ‘ফতেহপুর সিক্রি’ নির্মাণ করেন।

124. ‘পোলজ’ জমি বলতে কী বোঝানো হতো?

  • (A) যে জমিতে কখনও চাষ হয় না
  • (B) যে জমিতে প্রতি বছর নিয়মিত চাষ হয়
  • (C) যে জমিতে দুই বছর অন্তর চাষ হয়
  • (D) যে জমিতে পাঁচ বছরের বেশি সময় চাষ হয় না

সঠিক উত্তর: (B) যে জমিতে প্রতি বছর নিয়মিত চাষ হয়

ব্যাখ্যা: আকবরের রাজস্ব ব্যবস্থায় ‘পোলজ’ ছিল সবচেয়ে উর্বর এবং উৎকৃষ্ট শ্রেণীর জমি। এই জমিতে প্রতি বছরই ফসল ফলানো হতো এবং কখনও পতিত ফেলে রাখা হতো না। এই জমির উপর সর্বোচ্চ হারে রাজস্ব ধার্য করা হতো।

125. কোন যুদ্ধের মাধ্যমে ভারতে দ্বিতীয় আফগান সাম্রাজ্যের (শূর বংশ) পতন ঘটে?

  • (A) চৌসার যুদ্ধ
  • (B) বিলগ্রামের যুদ্ধ
  • (C) সিরহিন্দের যুদ্ধ
  • (D) পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ

সঠিক উত্তর: (C) সিরহিন্দের যুদ্ধ

ব্যাখ্যা: শের শাহের মৃত্যুর পর তাঁর বংশধররা দুর্বল ছিলেন। এই সুযোগে হুমায়ূন ১৫৫৫ সালে সিরহিন্দের যুদ্ধে শূর বংশের শাসক সিকান্দার শাহ শূরকে পরাজিত করেন। এই যুদ্ধের ফলেই শূর বংশের শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতে মুঘল শাসনের পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়।

126. আকবরের ধর্মীয় আলোচনা সভা ‘ইবাদত খানা’ কবে বন্ধ করে দেওয়া হয়?

  • (A) ১৫৭৮
  • (B) ১৫৮২
  • (C) ১৫৮৫
  • (D) ১৬০৫

সঠিক উত্তর: (B) ১৫৮২

ব্যাখ্যা: ইবাদত খানার আলোচনায় বিভিন্ন ধর্মের পণ্ডিতদের মধ্যে বিতর্ক প্রায়শই তিক্ততা ও পারস্পরিক নিন্দার পর্যায়ে চলে যেত। এতে বীতশ্রদ্ধ হয়ে আকবর ১৫৮২ সাল নাগাদ ইবাদত খানার বিতর্ক সভা বন্ধ করে দেন এবং ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন ধর্মের সারবস্তু খোঁজার দিকে মনোনিবেশ করেন, যার ফলশ্রুতি ছিল ‘দীন-ই-ইলাহি’।

127. ‘আমিল’ বা ‘আমলগুজার’ নামক কর্মচারীর প্রধান কাজ কী ছিল?

  • (A) বিচার করা
  • (B) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা
  • (C) রাজস্ব আদায় করা
  • (D) ধর্মীয় কাজ পরিচালনা করা

সঠিক উত্তর: (C) রাজস্ব আদায় করা

ব্যাখ্যা: আকবরের রাজস্ব ব্যবস্থায় ‘সরকার’ বা জেলার প্রধান রাজস্ব সংগ্রাহক ছিলেন ‘আমলগুজার’ বা ‘আমিল’। তাঁর দায়িত্ব ছিল নির্দিষ্ট হারে রাজস্ব আদায় করা, কৃষকদের সাহায্য করা এবং রাজস্ব সংক্রান্ত হিসাব রাখা।

128. বাংলা ও বিহারকে একত্রিত করে কে প্রথমবার মুঘল সাম্রাজ্যের একটি ‘সুবা’ হিসেবে গঠন করেন?

  • (A) হুমায়ূন
  • (B) শের শাহ
  • (C) আকবর
  • (D) জাহাঙ্গীর

সঠিক উত্তর: (C) আকবর

ব্যাখ্যা: বাংলার শেষ স্বাধীন আফগান সুলতান দাউদ খান কররানীকে পরাজিত করার পর আকবর বাংলা ও বিহারকে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি এই দুটি অঞ্চলকে একত্রিত করে একটি ‘সুবা’ গঠন করেন এবং মুনিম খানকে এর প্রথম সুবাদার নিযুক্ত করেন।

129. আকবরের সময়কার কোন ঐতিহাসিক তাঁর নীতির কঠোর সমালোচক ছিলেন এবং ‘মুনতাখাব-উৎ-তাওয়ারিখ’ গ্রন্থটি রচনা করেন?

  • (A) আবুল ফজল
  • (B) নিজামউদ্দিন আহমদ
  • (C) আব্দুল কাদির বদাউনী
  • (D) ফৈজি

সঠিক উত্তর: (C) আব্দুল কাদির বদাউনী

ব্যাখ্যা: বদাউনী আকবরের দরবারের একজন আলেম ও ঐতিহাসিক হওয়া সত্ত্বেও তিনি আকবরের উদার ধর্মীয় নীতি, বিশেষ করে ‘দীন-ই-ইলাহি’র তীব্র বিরোধী ছিলেন। তিনি গোপনে ‘মুনতাখাব-উৎ-তাওয়ারিখ’ গ্রন্থটি রচনা করেন, যেখানে আকবরের শাসনের একটি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যায়।

130. আকবরের ‘নবরত্ন’ সভার রসিক ও বিদূষক হিসেবে কে পরিচিত ছিলেন?

  • (A) তানসেন
  • (B) টোডরমল
  • (C) মান সিংহ
  • (D) বীরবল

সঠিক উত্তর: (D) বীরবল

ব্যাখ্যা: বীরবল তাঁর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, রসবোধ এবং প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের জন্য আকবরের অত্যন্ত প্রিয় পাত্র ছিলেন। আকবর-বীরবলের নানা মজাদার গল্প ও কাহিনী আজও লোকমুখে প্রচলিত, যা তাঁকে একজন কিংবদন্তী বিদূষক হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।

131. মনসবদারি ব্যবস্থায় ‘সাওয়ার’ পদের অর্থ কী ছিল?

  • (A) মনসবদারের ব্যক্তিগত পদমর্যাদা
  • (B) মনসবদারের অধীনে থাকা অশ্বারোহী সৈন্যের সংখ্যা
  • (C) মনসবদারের বেতন
  • (D) মনসবদারের অধীনে থাকা পদাতিক সৈন্যের সংখ্যা

সঠিক উত্তর: (B) মনসবদারের অধীনে থাকা অশ্বারোহী সৈন্যের সংখ্যা

ব্যাখ্যা: ‘সাওয়ার’ পদ দ্বারা একজন মনসবদারকে নির্দিষ্ট সংখ্যক ঘোড়া এবং অশ্বারোহী সৈন্য রক্ষণাবেক্ষণ করতে হতো। এই সংখ্যা তাঁর সামরিক দায়িত্ব ও ক্ষমতার পরিচায়ক ছিল।

132. হলদিঘাটির যুদ্ধকে ‘মেবারের থার্মোপলি’ বলে কে অভিহিত করেছেন?

  • (A) আবুল ফজল
  • (B) বদাউনী
  • (C) কর্নেল জেমস টড
  • (D) ভিনসেন্ট স্মিথ

সঠিক উত্তর: (C) কর্নেল জেমস টড

ব্যাখ্যা: বিখ্যাত ব্রিটিশ ঐতিহাসিক এবং ‘Annals and Antiquities of Rajasthan’-এর লেখক কর্নেল জেমস টড রাজপুতদের বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে হলদিঘাটির যুদ্ধকে প্রাচীন গ্রীসের থার্মোপলির যুদ্ধের সাথে তুলনা করেছেন, যেখানে স্বল্প সংখ্যক স্পার্টান সৈন্য বিশাল পারস্য বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।

133. কোন মুঘল সম্রাট প্রথম আগ্রা থেকে দিল্লিতে রাজধানী স্থানান্তর করেন?

  • (A) আকবর
  • (B) জাহাঙ্গীর
  • (C) শাহজাহান
  • (D) ঔরঙ্গজেব

সঠিক উত্তর: (C) শাহজাহান

ব্যাখ্যা: যদিও আকবর স্বল্প সময়ের জন্য ফতেপুর সিক্রি এবং লাহোরে রাজধানী রেখেছিলেন, মুঘলদের প্রধান রাজধানী ছিল আগ্রা। সম্রাট শাহজাহান আগ্রা থেকে রাজধানী স্থানান্তর করে দিল্লিতে যমুনার তীরে ‘শাহজাহানাবাদ’ নামে একটি নতুন শহর নির্মাণ করেন, যা আজকের পুরান দিল্লি।

134. আকবরের আমলে কে ‘সদর-উস-সুদুর’ পদে নিযুক্ত হতেন?

  • (A) সামরিক প্রধান
  • (B) প্রধান বিচারপতি
  • (C) ধর্মীয় امور ও দাতব্য বিভাগের প্রধান
  • (D) অর্থমন্ত্রী

সঠিক উত্তর: (C) ধর্মীয় امور ও দাতব্য বিভাগের প্রধান

ব্যাখ্যা: ‘সদর-উস-সুদুর’ ছিলেন মুঘল প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তাঁর দায়িত্ব ছিল ইসলামী আইন-কানুনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা, আলেম ও ধার্মিক ব্যক্তিদের জন্য জমি (মদদ-ই-মাশ) ও ভাতা বরাদ্দ করা এবং সাম্রাজ্যের দাতব্য কাজগুলি তত্ত্বাবধান করা।

135. ‘পুরানা কিল্লা’ কে নির্মাণ করেন?

  • (A) বাবর
  • (B) হুমায়ূন
  • (C) শের শাহ শূর
  • (D) আকবর

সঠিক উত্তর: (C) শের শাহ শূর

ব্যাখ্যা: দিল্লির ‘পুরানা কিল্লা’র নির্মাণকার্য শুরু করেছিলেন হুমায়ূন (দীনपनाহ হিসেবে), কিন্তু এটিকে বর্তমান রূপ দেন শের শাহ শূর। তিনি হুমায়ূনের কাঠামো ভেঙে তার উপর নতুন দুর্গ ও স্থাপত্য নির্মাণ করেন। এর মধ্যে ‘কিলা-ই-কুহনা’ মসজিদটি উল্লেখযোগ্য।

136. বাবরের কন্যা গুলবদন বেগম কার অনুরোধে ‘হুমায়ূননামা’ রচনা করেন?

  • (A) হুমায়ূনের
  • (B) বৈরাম খাঁর
  • (C) আকবরের
  • (D) জাহাঙ্গীরের

সঠিক উত্তর: (C) আকবরের

ব্যাখ্যা: সম্রাট আকবর তাঁর পূর্বপুরুষদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করার জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করেন। সেই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই তিনি তাঁর পিসি (ফুফু) গুলবদন বেগমকে তাঁর পিতা হুমায়ূনের জীবনী লেখার জন্য অনুরোধ করেন।

137. আকবরের সময়কার ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য কী ছিল?

  • (A) কৃষকদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ কর আদায়
  • (B) একটি স্থায়ী ও ন্যায্য রাজস্ব ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা যা কৃষক ও রাষ্ট্র উভয়ের জন্যই লাভজনক
  • (C) শুধুমাত্র মুসলিমদের কর ছাড় দেওয়া
  • (D) জমিদারদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা

সঠিক উত্তর: (B) একটি স্থায়ী ও ন্যায্য রাজস্ব ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা যা কৃষক ও রাষ্ট্র উভয়ের জন্যই লাভজনক

ব্যাখ্যা: আকবরের রাজস্ব ব্যবস্থার (বিশেষ করে দহশালা ব্যবস্থা) মূল লক্ষ্য ছিল একটি স্থিতিশীল আয় নিশ্চিত করা এবং একই সাথে কৃষকদের উপর করের বোঝা যাতে অতিরিক্ত না হয়, তা দেখা। জমি জরিপ, গড় উৎপাদন নির্ধারণ এবং নির্দিষ্ট করের হার—এই সবই একটি ন্যায্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।

138. দাক্ষিণাত্যের কোন রাজ্যের রানী চাঁদ বিবি আকবরের বাহিনীর বিরুদ্ধে আহমেদনগর দুর্গ রক্ষা করার জন্য বিখ্যাত?

  • (A) বিজাপুর
  • (B) গোলকোন্ডা
  • (C) আহমেদনগর
  • (D) বিদর

সঠিক উত্তর: (C) আহমেদনগর

ব্যাখ্যা: রানী চাঁদ বিবি ছিলেন আহমেদনগরের শাসক বাহাদুর শাহের অভিভাবিকা। ১৫৯৫-৯৬ সালে মুঘল বাহিনী যখন আহমেদনগর আক্রমণ করে, তখন তিনি অসাধারণ বীরত্বের সাথে দুর্গ রক্ষা করেন এবং মুঘলদের একটি সম্মানজনক চুক্তিতে আসতে বাধ্য করেন।

139. শের শাহের আমলে ‘কানুনগো’র কাজ কী ছিল?

  • (A) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা
  • (B) পরগণার রাজস্ব সংক্রান্ত কাগপত্র ও তথ্যের হিসাব রাখা
  • (C) বিচার করা
  • (D) জমি জরিপ করা

সঠিক উত্তর: (B) পরগণার রাজস্ব সংক্রান্ত কাগপত্র ও তথ্যের হিসাব রাখা

ব্যাখ্যা: ‘কানুনগো’ ছিলেন পরগণা স্তরের একজন বংশানুক্রমিক রাজস্ব কর্মকর্তা। তাঁর কাজ ছিল সেই অঞ্চলের জমির ধরন, রাজস্বের হার, স্থানীয় নিয়মকানুন ইত্যাদি সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যের হিসাব রাখা এবং প্রয়োজনমতো সরকারকে তথ্য সরবরাহ করা।

140. কোন ঐতিহাসিক ঘটনা মুঘল সাম্রাজ্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করে?

  • (A) শের শাহের মৃত্যু
  • (B) ইসলাম শাহ শূরের মৃত্যু
  • (C) আদিল শাহ শূরের অযোগ্যতা
  • (D) উপরের সবগুলি

সঠিক উত্তর: (D) উপরের সবগুলি

ব্যাখ্যা: শের শাহের মৃত্যুর (১৫৪৫) পর তাঁর পুত্র ইসলাম শাহ শূর কোনোমতে সাম্রাজ্য ধরে রাখলেও তাঁর মৃত্যুর পর শূর বংশের শাসকদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। আদিল শাহ শূরের মতো অযোগ্য শাসকরা সিংহাসনে বসেন। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই হুমায়ূন ১৫৫৫ সালে ভারত আক্রমণ করে পুনরায় মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।

141. আকবরের সময়ে ‘মির সামান’ পদের দায়িত্ব কী ছিল?

  • (A) প্রধান বিচারপতি
  • (B) নৌবাহিনীর প্রধান
  • (C) রাজকীয় কারখানা ও পরিবারের প্রধান
  • (D) গুপ্তচর বিভাগের প্রধান

সঠিক উত্তর: (C) রাজকীয় কারখানা ও পরিবারের প্রধান

ব্যাখ্যা: ‘মির সামান’ বা ‘খান-ই-সামান’ ছিলেন একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। তাঁর দায়িত্ব ছিল রাজপ্রাসাদ, হারেম এবং রাজকীয় কারখানা বা ‘কারখানাগুলির’ সমস্ত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ ও তদারকি করা।

142. বাবর তাঁর আত্মজীবনীতে কোন দুই হিন্দু রাজার কথা উল্লেখ করেছেন?

  • (A) মেবারের রানা সঙ্গ এবং বিজয়নগরের কৃষ্ণদেব রায়
  • (B) রানা প্রতাপ এবং রাজা মান সিংহ
  • (C) রাজা বিক্রমজিৎ এবং রাজা শিলভদ্র
  • (D) রানা উদয় সিংহ এবং রাজা জয়चंद

সঠিক উত্তর: (A) মেবারের রানা সঙ্গ এবং বিজয়নগরের কৃষ্ণদেব রায়

ব্যাখ্যা: বাবর তাঁর আত্মজীবনী ‘বাবরনামা’-তে তৎকালীন ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে পাঁচজন মুসলিম শাসক এবং দুইজন হিন্দু শাসকের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। এই দুজন হিন্দু শাসক ছিলেন মেবারের শক্তিশালী রানা সঙ্গ (সংগ্রাম সিংহ) এবং দক্ষিণ ভারতের বিজয়নগর সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ রাজা কৃষ্ণদেব রায়।

143. মনসবদারি প্রথা আকবর কোন দেশ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে চালু করেন?

  • (A) পারস্য
  • (B) তুরস্ক
  • (C) মধ্য এশিয়া (মোঙ্গল)
  • (D) আরব

সঠিক উত্তর: (C) মধ্য এশিয়া (মোঙ্গল)

ব্যাখ্যা: মনসবদারি প্রথার ধারণাটি মূলত মধ্য এশিয়ার মোঙ্গলদের দশমিক পদ্ধতির সৈন্য সংগঠনের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, যেখানে চেঙ্গিজ খান তাঁর সেনাবাহিনীকে দশ, একশ, হাজার ইত্যাদি দলে ভাগ করতেন। আকবর এই ধারণাকেই পরিমার্জিত করে তাঁর সাম্রাজ্যের সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।

144. ‘দহশালা’ ব্যবস্থার অধীনে রাজস্ব কীসের ভিত্তিতে নেওয়া হতো?

  • (A) শুধুমাত্র শস্যের মাধ্যমে
  • (B) শুধুমাত্র নগদ অর্থে
  • (C) শস্য বা নগদ অর্থ, কৃষকের ইচ্ছানুযায়ী
  • (D) শুধুমাত্র সোনার মাধ্যমে

সঠিক উত্তর: (B) শুধুমাত্র নগদ অর্থে

ব্যাখ্যা: দহশালা ব্যবস্থার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল যে, রাজস্ব সাধারণত নগদ অর্থে (‘জাবত’) আদায় করা হতো। সরকার গত দশ বছরের স্থানীয় বাজারদর অনুযায়ী একটি গড় মূল্য তালিকা (‘দস্তুর’) তৈরি করত এবং সেই অনুযায়ী ফসলের নির্ধারিত অংশকে নগদ অর্থে রূপান্তরিত করে আদায় করত।

145. আকবরের রাজত্বকালে বাংলার বারো ভূঁইয়াদের দমন করতে কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন?

  • (A) টোডরমল
  • (B) মুনিম খান
  • (C) ইসলাম খান চিশতি
  • (D) রাজা মান সিংহ

সঠিক উত্তর: (D) রাজা মান সিংহ

ব্যাখ্যা: আকবরের সময় বাংলার স্থানীয় জমিদাররা (বারো ভূঁইয়া নামে পরিচিত) মুঘল শাসন মেনে নিতে অস্বীকার করে বিদ্রোহ করেন। আকবর তখন তাঁর বিশ্বস্ত সেনাপতি রাজা মান সিংহকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন। মান সিংহ দক্ষতার সাথে ঈশা খান সহ অন্যান্য ভূঁইয়াদের দমন করে বাংলায় মুঘল শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করেন।

146. কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৈরাম খাঁ এবং আকবরের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়?

  • (A) পানিপথের যুদ্ধ
  • (B) বৈরাম খাঁর শিয়া ধর্মাবলম্বী হওয়া
  • (C) আকবরের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আতগা খানকে নিয়োগ
  • (D) বৈরাম খাঁর ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা এবং আকবরের প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে শাসনভার গ্রহণের ইচ্ছা

সঠিক উত্তর: (D) বৈরাম খাঁর ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা এবং আকবরের প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে শাসনভার গ্রহণের ইচ্ছা

ব্যাখ্যা: আকবর যখন বড় হচ্ছিলেন, তখন তিনি নিজের হাতে শাসনভার তুলে নিতে আগ্রহী হন। কিন্তু বৈরাম খাঁ তাঁর ক্ষমতা ছাড়তে রাজি ছিলেন না। বৈরাম খাঁর আধিপত্য, তাঁর আত্মীয়দের উচ্চপদে নিয়োগ এবং হারেমের ষড়যন্ত্র—এই সবকিছু মিলিয়ে আকবর ও বৈরাম খাঁর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত বৈরাম খাঁর পতনের কারণ হয়।

147. ‘কানকুত’ ব্যবস্থা কী?

  • (A) অনুমানের ভিত্তিতে রাজস্ব নির্ধারণ
  • (B) জমি জরিপ করে রাজস্ব নির্ধারণ
  • (C) ফসল ভাগাভাগির মাধ্যমে রাজস্ব নির্ধারণ
  • (D) নগদ অর্থে রাজস্ব নির্ধারণ

সঠিক উত্তর: (A) অনুমানের ভিত্তিতে রাজস্ব নির্ধারণ

ব্যাখ্যা: ‘কানকুত’ ছিল মুঘল আমলের একটি রাজস্ব নির্ধারণ পদ্ধতি। ‘কান’ শব্দের অর্থ শস্য এবং ‘কুত’ শব্দের অর্থ অনুমান। এই পদ্ধতিতে, সরকারি কর্মকর্তারা জমিতে দাঁড়িয়ে থাকা ফসল দেখে অনুমানের ভিত্তিতে মোট উৎপাদনের পরিমাণ এবং তার উপর ধার্য রাজস্ব নির্ধারণ করতেন।

148. হুমায়ূন কোন যুদ্ধে প্রথম কামান ও বন্দুক ব্যবহার করেন?

  • (A) চৌসার যুদ্ধ
  • (B) বিলগ্রামের যুদ্ধ
  • (C) সিরহিন্দের যুদ্ধ
  • (D) তিনি কখনো কামান ব্যবহার করেননি

সঠিক উত্তর: (B) বিলগ্রামের যুদ্ধ

ব্যাখ্যা: চৌসার যুদ্ধে বিপর্যয়ের পর হুমায়ূন বিলগ্রামের যুদ্ধে (১৫৪০) শের শাহের বিরুদ্ধে তাঁর পিতার মতো গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আকস্মিক বৃষ্টিতে তাঁর বারুদ ভিজে যাওয়ায় এবং শের শাহের গেরিলা আক্রমণে তাঁর কামানগুলি বিশেষ কার্যকর হয়নি।

149. আকবরের কোন পদক্ষেপ তাঁকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শাসকের মর্যাদা দিয়েছে?

  • (A) ইবাদত খানা প্রতিষ্ঠা
  • (B) জিজিয়া কর বিলোপ
  • (C) সুলহ-ই-কুল নীতি
  • (D) উপরের সবগুলি

সঠিক উত্তর: (D) উপরের সবগুলি

ব্যাখ্যা: আকবরের বিভিন্ন পদক্ষেপ তাঁকে একজন ধর্মনিরপেক্ষ শাসকের পরিচিতি দিয়েছে। ১৫৬৪ সালে জিজিয়া কর বিলোপ করে তিনি হিন্দু ও মুসলিম প্রজাদের মধ্যে আইনি সমতা আনেন। ইবাদত খানায় সকল ধর্মের আলোচনা এবং সুলহ-ই-কুল বা ‘সকলের প্রতি সহনশীলতা’ নীতি—এই সবই রাষ্ট্রকে ধর্মীয় গোঁড়ামি থেকে মুক্ত রাখার প্রয়াস ছিল।

150. শের শাহের আমলে ‘শিকদার-ই-শিকদারান’ এর কাজ কী ছিল?

  • (A) একটি পরগণার প্রধান
  • (B) একটি সরকারের (জেলার) প্রধান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষক
  • (C) গুপ্তচর বিভাগের প্রধান
  • (D) প্রধান বিচারপতি

সঠিক উত্তর: (B) একটি সরকারের (জেলার) প্রধান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষক

ব্যাখ্যা: শের শাহ ‘সরকার’ বা জেলা স্তরে দুজন প্রধান কর্মকর্তা নিয়োগ করতেন। ‘শিকদার-ই-শিকদারান’ ছিলেন প্রধান সামরিক কর্মকর্তা, যাঁর দায়িত্ব ছিল সরকারের অধীনস্থ শিকদারদের কাজ তত্ত্বাবধান করা এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। অন্যজন ছিলেন ‘মুনসিফ-ই-মুনসিফান’, যিনি রাজস্ব ও দেওয়ানি মামলার বিচার করতেন।

151. বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ূনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?

  • (A) খালি রাজকোষ ও অসংগঠিত সাম্রাজ্য
  • (B) ভাইদের বিরোধিতা ও আফগানদের শত্রুতা
  • (C) রাজপুতদের প্রতিরোধ
  • (D) উপরের (A) এবং (B) উভয়ই

সঠিক উত্তর: (D) উপরের (A) এবং (B) উভয়ই

ব্যাখ্যা: বাবর হুমায়ূনের জন্য একটি বিশাল কিন্তু অসংগঠিত সাম্রাজ্য রেখে যান। ক্রমাগত যুদ্ধের কারণে রাজকোষ ছিল প্রায় শূন্য। এর সাথে যুক্ত হয়েছিল তাঁর ভাইদের (কামরান, আসকারি, হিন্দাল) বিশ্বাসঘাতকতা এবং আফগানদের (বিশেষ করে শের শাহ) ক্রমবর্ধমান শক্তি, যা হুমায়ূনের শাসনকে শুরু থেকেই সঙ্কটময় করে তুলেছিল।

152. আকবরের কোন শিক্ষক তাঁকে উদারনৈতিক চিন্তাভাবনায় প্রভাবিত করেছিলেন?

  • (A) বৈরাম খাঁ
  • (B) আব্দুল লতিফ
  • (C) মীর আব্দুল্লাহ
  • (D) শেখ মুবারক

সঠিক উত্তর: (B) আব্দুল লতিফ

ব্যাখ্যা: আকবরের অন্যতম শিক্ষক ছিলেন পারস্য থেকে আগত পণ্ডিত আব্দুল লতিফ। তিনি আকবরকে ‘সুলহ-ই-কুল’ বা সকলের প্রতি সহনশীলতার নীতি শিক্ষা দেন। তাঁর উদারনৈতিক শিক্ষাই পরবর্তীকালে আকবরের ধর্মীয় নীতির ভিত্তি স্থাপন করেছিল বলে মনে করা হয়।

153. আকবর যে ‘জিজিয়া কর’ বিলোপ করেছিলেন, তা কী ধরনের কর ছিল?

  • (A) ভূমিকর
  • (B) বাণিজ্য শুল্ক
  • (C) মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিমদের উপর ধার্য নিরাপত্তামূলক কর
  • (D) তীর্থকর

সঠিক উত্তর: (C) মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিমদের উপর ধার্য নিরাপত্তামূলক কর

ব্যাখ্যা: ‘জিজিয়া’ ছিল একটি মাথাপিছু কর যা ইসলামী আইন অনুযায়ী মুসলিম শাসনাধীন রাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রাপ্তবয়স্ক, কর্মক্ষম অমুসলিম পুরুষদের (জিম্মি) নিরাপত্তার বিনিময়ে প্রদান করতে হতো। আকবর এই করকে বৈষম্যমূলক মনে করে ১৫৬৪ সালে তা বিলোপ করেন।

154. আকবর কাকে ‘জারিন কলম’ বা ‘স্বর্ণ কলম’ উপাধি দিয়েছিলেন?

  • (A) আবুল ফজল
  • (B) আব্দুস সামাদ
  • (C) দশবন্ত
  • (D) মুহাম্মদ হুসেন কাশ্মীরি

সঠিক উত্তর: (D) মুহাম্মদ হুসেন কাশ্মীরি

ব্যাখ্যা: আকবরের দরবারে অনেক দক্ষ লিপিকর বা ক্যালিগ্রাফার ছিলেন। তাঁদের মধ্যে মুহাম্মদ হুসেন কাশ্মীরি ছিলেন শ্রেষ্ঠ। তাঁর হাতের লেখার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে আকবর তাঁকে ‘জারিন কলম’ বা ‘সোনার কলম’ উপাধি দেন।

155. ‘বখশিস’ শব্দটি মুঘল আমলে কী অর্থে ব্যবহৃত হত?

  • (A) উপহার বা পুরস্কার
  • (B) এক ধরণের কর
  • (C) এক ধরণের জমি
  • (D) একটি সামরিক পদ

সঠিক উত্তর: (A) উপহার বা পুরস্কার

ব্যাখ্যা: ‘বখশিস’ একটি ফারসি শব্দ যার অর্থ উপহার, পুরস্কার বা অনুদান। মুঘল সম্রাটরা বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা খুশি হয়ে কবি, শিল্পী, বা অন্যান্যদের বখশিস প্রদান করতেন। ‘মির বখশি’ পদের ‘বখশি’ শব্দটি এই অর্থেই ব্যবহৃত হত, কারণ তিনি বেতন ও পুরস্কার বিতরণের দায়িত্বে ছিলেন।

156. ফতেপুর সিক্রির জামি মসজিদের দক্ষিণ দিকের প্রবেশদ্বার কোনটি?

  • (A) বাদশাহী দরওয়াজা
  • (B) বুলন্দ দরওয়াজা
  • (C) সেলিম চিশতীর সমাধি
  • (D) পঞ্চমহল

সঠিক উত্তর: (B) বুলন্দ দরওয়াজা

ব্যাখ্যা: গুজরাট জয়ের স্মারক হিসেবে নির্মিত বুলন্দ দরওয়াজা হলো ফতেপুর সিক্রির জামি মসজিদের বিশাল দক্ষিণ প্রবেশদ্বার। এটি মসজিদ চত্বরে প্রবেশের প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

157. শের শাহের আমলে বিচারকার্যে কোন নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হতো?

  • (A) শুধুমাত্র মুসলিমদের অগ্রাধিকার
  • (B) শুধুমাত্র হিন্দুদের অগ্রাধিকার
  • (C) আইন সকলের জন্য সমান এবং নিরপেক্ষ বিচার
  • (D) অভিজাতদের জন্য বিশেষ আইন

সঠিক উত্তর: (C) আইন সকলের জন্য সমান এবং নিরপেক্ষ বিচার

ব্যাখ্যা: শের শাহ তাঁর কঠোর এবং নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তিনি বলতেন, “বিচারই হলো সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ধর্মীয় কাজ”। তিনি আইনের চোখে ধনী-দরিদ্র, আত্মীয়-অনাত্মীয় ভেদাভেদ করতেন না এবং অপরাধীকে কঠোর শাস্তি দিতেন।

158. আকবরের রাজপুত নীতির মূল ভিত্তি কী ছিল?

  • (A) দমন ও পীড়ন
  • (B) মিত্রতা ও সহযোগিতা
  • (C) উপেক্ষা ও অবহেলা
  • (D) ধর্মান্তরিতকরণ

সঠিক উত্তর: (B) মিত্রতা ও সহযোগিতা

ব্যাখ্যা: আকবর বুঝতে পেরেছিলেন যে রাজপুতদের শত্রু বানিয়ে ভারতে স্থায়ী সাম্রাজ্য গড়া সম্ভব নয়। তাই তাঁর রাজপুত নীতির মূল ভিত্তি ছিল দমন-পীড়নের পরিবর্তে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং matrimonial alliance বা বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন। যারা বশ্যতা স্বীকার করত, তাদের সম্মান ও উচ্চপদ দেওয়া হতো।

159. ‘আকবরনামা’ কোন ভাষায় রচিত?

  • (A) তুর্কি
  • (B) আরবি
  • (C) ফারসি
  • (D) হিন্দি

সঠিক উত্তর: (C) ফারসি

ব্যাখ্যা: আকবরের নির্দেশে আবুল ফজল ‘আকবরনামা’ রচনা করেন। মুঘল সাম্রাজ্যের সরকারি ভাষা ফারসি হওয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক গ্রন্থটিও ফারসি ভাষায় লেখা হয়েছিল।

160. হুমায়ূনের পতনের জন্য তাঁর কোন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে দায়ী করা হয়?

  • (A) অতিরিক্ত দয়ালু এবং ক্ষমাশীল মনোভাব
  • (B) সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব এবং অলসতা
  • (C) ভাইদের প্রতি অন্ধ বিশ্বাস
  • (D) উপরের সবগুলি

সঠিক উত্তর: (D) উপরের সবগুলি

ব্যাখ্যা: হুমায়ূন একজন শিক্ষিত ও সাহসী ব্যক্তি হলেও তাঁর কিছু চারিত্রিক দুর্বলতা ছিল। তিনি শত্রুকে পরাজিত করার পর তাদের নির্মূল না করে ক্ষমা করে দিতেন, যা তাদের পুনরায় শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ দিত। তিনি প্রায়শই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করতেন এবং আমোদ-প্রমোদে মেতে থাকতেন। এছাড়া ভাইদের বারবার বিশ্বাসঘাতকতা সত্ত্বেও তিনি তাদের ক্ষমা করে দিতেন। এই সবই তাঁর পতনের কারণ হয়েছিল।

161. আকবরের সময়ে ‘কারোড়ি’ নামে এক নতুন ধরণের কর্মচারী নিয়োগ করা হয় কেন?

  • (A) বিচার ব্যবস্থার উন্নতির জন্য
  • (B) এক কোটি ‘দাম’ রাজস্ব আদায়ের জন্য
  • (C) গুপ্তচরবৃত্তি করার জন্য
  • (D) সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য

সঠিক উত্তর: (B) এক কোটি ‘দাম’ রাজস্ব আদায়ের জন্য

ব্যাখ্যা: ১৫৭৫ সালে আকবর রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘কারোড়ি’ নামক এক নতুন পদ সৃষ্টি করেন। প্রতিটি কারোড়িকে এমন একটি অঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়া হতো, যেখান থেকে বছরে এক কোটি ‘দাম’ (শের শাহের তাম্রমুদ্রা) রাজস্ব আদায় করা সম্ভব।

162. কোন মুঘল স্থাপত্যকে ‘ताजমহলের পূর্বসূরি’ বলা হয়?

  • (A) আগ্রা ফোর্ট
  • (B) হুমায়ূনের সমাধি
  • (C) বুলন্দ দরওয়াজা
  • (D) ফতেপুর সিক্রি

সঠিক উত্তর: (B) হুমায়ূনের সমাধি

ব্যাখ্যা: দিল্লিতে অবস্থিত হুমায়ূনের সমাধি স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটিই ভারতে প্রথম বিশাল বাগান-সমাধি (Charbagh style) এবং এতেই প্রথম ব্যাপকভাবে লাল বেলেপাথরের সাথে সাদা মার্বেলের গম্বুজ ব্যবহার করা হয়। এর স্থাপত্য পরিকল্পনা এবং শৈলী পরবর্তীকালে তাজমহল নির্মাণে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল, তাই একে ‘ताजমহলের পূর্বসূরি’ বলা হয়।

163. শের শাহের আমলে কোন ধাতুর মুদ্রা সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ছিল?

  • (A) সোনা (মোহর)
  • (B) রূপা (রুপিয়া)
  • (C) তামা (দাম)
  • (D) ব্রোঞ্জ (জিতল)

সঠিক উত্তর: (C) তামা (দাম)

ব্যাখ্যা: যদিও শের শাহের রূপার ‘রুপিয়া’ মুদ্রাটি খুবই মানসম্পন্ন ছিল, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেন এবং ছোটখাটো কেনাকাটার জন্য তামার ‘দাম’ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হতো। এটি ছিল সবচেয়ে প্রচলিত মুদ্রা।

164. ‘সতীদাহ প্রথা’ বন্ধ করার জন্য কোন মুঘল সম্রাট প্রথম আইনগত প্রচেষ্টা চালান?

  • (A) বাবর
  • (B) হুমায়ূন
  • (C) আকবর
  • (D) ঔরঙ্গজেব

সঠিক উত্তর: (C) আকবর

ব্যাখ্যা: আকবরই প্রথম মুঘল সম্রাট যিনি সতীদাহ প্রথার মতো সামাজিক কুপ্রথার বিরুদ্ধে সরব হন। তিনি আইন করে বলেন যে, কোনো বিধবাকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে সতী হতে বাধ্য করা যাবে না। তিনি শহরের কোতোয়ালদের এই বিষয়ে নজর রাখার নির্দেশ দেন।

165. দিল্লির লোদি গার্ডেনে কোন বংশের শাসকদের সমাধি রয়েছে?

  • (A) খলজি বংশ
  • (B) তুঘলক বংশ
  • (C) সৈয়দ ও লোদি বংশ
  • (D) মুঘল বংশ

সঠিক উত্তর: (C) সৈয়দ ও লোদি বংশ

ব্যাখ্যা: দিল্লির বিখ্যাত লোদি গার্ডেনে মূলত দিল্লি সুলতানির শেষ দুটি বংশ—সৈয়দ এবং লোদি বংশের শাসকদের সমাধি অবস্থিত। এখানে সিকান্দার লোদি, মুহাম্মদ শাহ (সৈয়দ) প্রমুখের সমাধি রয়েছে।

166. আকবরের কোন সেনাপতি উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে ইউসুফজাই উপজাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিহত হন?

  • (A) টোডরমল
  • (B) মান সিংহ
  • (C) বীরবল
  • (D) ভগবান দাস

সঠিক উত্তর: (C) বীরবল

ব্যাখ্যা: ১৫৮৬ সালে উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে বিদ্রোহী ইউসুফজাই উপজাতিকে দমন করার জন্য প্রেরিত একটি মুঘল বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন রাজা বীরবল। এই অভিযানে তিনি শত্রুর ফাঁদে পড়ে নিহত হন। বীরবলের মৃত্যু আকবরকে গভীরভাবে শোকাহত করেছিল।

167. “যদি ভাগ্য আমার সহায় থাকত এবং আমি বেঁচে থাকতাম, তাহলে আমি সহজেই মুঘলদের ভারত থেকে তাড়িয়ে দিতাম।” – এই উক্তিটি কার বলে মনে করা হয়?

  • (A) ইব্রাহিম লোদি
  • (B) রানা সঙ্গ
  • (C) শের শাহ শূর
  • (D) হিমু

সঠিক উত্তর: (C) শের শাহ শূর

ব্যাখ্যা: শের শাহ শূরের অসাধারণ প্রতিভা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা দেখে ঐতিহাসিকরা মনে করেন যে, তিনি যদি আরও বেশিদিন বাঁচতেন, তাহলে হয়তো ভারতে মুঘল শাসনের পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব হতো না। তাঁর এই উক্তিটি তাঁর আত্মবিশ্বাস এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষার পরিচায়ক।

168. মনসবদারদের অধীনে থাকা সৈন্যদের হাজিরা এবং ঘোড়ার ছাপ পরীক্ষা করার জন্য কোন কর্মকর্তা দায়িত্বে ছিলেন?

  • (A) সুবাদার
  • (B) কোতোয়াল
  • (C) বখশি
  • (D) দেওয়ান

সঠিক উত্তর: (C) বখশি

ব্যাখ্যা: ‘মির বখশি’ এবং তাঁর অধীনস্থ প্রাদেশিক ‘বখশি’দের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ছিল মনসবদারদের সামরিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা। তাঁরা নিয়মিতভাবে সৈন্যদের হাজিরা (চেহারা) এবং ঘোড়ার ছাপ (দাগ) পরীক্ষা করে দেখতেন যাতে মনসবদাররা নির্দিষ্ট সংখ্যক এবং উন্নত মানের সৈন্য ও ঘোড়া রক্ষণাবেক্ষণ করে।

169. আকবরের সময় রামায়ণের ফারসি অনুবাদ কে করেন?

  • (A) আবুল ফজল
  • (B) ফৈজি
  • (C) আব্দুল কাদির বদাউনী
  • (D) টোডরমল

সঠিক উত্তর: (C) আব্দুল কাদির বদাউনী

ব্যাখ্যা: আকবরের নির্দেশে তাঁর অনুবাদ বিভাগে রামায়ণ ফারসি ভাষায় অনূদিত হয়। এই কাজটি সম্পন্ন করেন আব্দুল কাদির বদাউনী। যদিও বদাউনী নিজে একজন কট্টরপন্থী মুসলিম ছিলেন, সম্রাটের নির্দেশে তাঁকে এই কাজটি করতে হয়েছিল।

170. ‘তঙ্কা’ ও ‘জিতল’ মুদ্রা কোন যুগে প্রচলিত ছিল?

  • (A) গুপ্ত যুগ
  • (B) দিল্লি সুলতানি যুগ
  • (C) মুঘল যুগ
  • (D) মৌর্য যুগ

সঠিক উত্তর: (B) দিল্লি সুলতানি যুগ

ব্যাখ্যা: সুলতান ইলতুৎমিশ প্রথম খাঁটি আরবি মুদ্রা ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। তিনি রূপার মুদ্রা ‘তঙ্কা’ এবং তামার মুদ্রা ‘জিতল’ চালু করেন। এই প্রশ্নটি সুলতানি যুগের পতনের প্রেক্ষাপট বোঝার জন্য প্রাসঙ্গিক।

171. আকবরের সাম্রাজ্যে ‘খালিসা’ জমি বলতে কী বোঝানো হতো?

  • (A) মনসবদারদের দেওয়া জমি
  • (B) ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দান করা জমি
  • (C) সরাসরি সম্রাটের নিয়ন্ত্রণে থাকা জমি, যার রাজস্ব রাজকোষে জমা হতো
  • (D) অনুর্বর জমি

সঠিক উত্তর: (C) সরাসরি সম্রাটের নিয়ন্ত্রণে থাকা জমি, যার রাজস্ব রাজকোষে জমা হতো

ব্যাখ্যা: মুঘল আমলে জমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হতো। যে জমি সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকত এবং যেখান থেকে সংগৃহীত রাজস্ব সরাসরি রাজকোষে জমা পড়ত, তাকে ‘খালিসা’ বা ‘খাস’ জমি বলা হতো।

172. চৌসার যুদ্ধের সময় হুমায়ূনকে গঙ্গা নদী পার হতে কে সাহায্য করেছিল?

  • (A) একজন কৃষক
  • (B) একজন ভিস্তি (জলবাহক)
  • (C) একজন সৈনিক
  • (D) একজন মাঝি

সঠিক উত্তর: (B) একজন ভিস্তি (জলবাহক)

ব্যাখ্যা: ১৫৩৯ সালে চৌসার যুদ্ধে শের খানের অতর্কিত আক্রমণে পরাজিত হয়ে হুমায়ূন যখন পালাচ্ছিলেন, তখন নিজাম নামক একজন ভিস্তি (মশকে করে জল বহনকারী) তার চামড়ার মশকের সাহায্যে হুমায়ূনকে গঙ্গা নদী পার হতে সাহায্য করে তাঁর প্রাণ বাঁচায়।

173. আকবরের শাসনকালে ‘দহশালা’ ব্যবস্থা কবে চালু হয়?

  • (A) ১৫৭০
  • (B) ১৫৭৫
  • (C) ১৫৮০
  • (D) ১৫৮২

সঠিক উত্তর: (C) ১৫৮০

ব্যাখ্যা: রাজা টোডরমলের নেতৃত্বে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আকবর ১৫৮০ সালে ‘আইন-ই-দহশালা’ বা দহশালা ব্যবস্থা চূড়ান্তভাবে প্রবর্তন করেন। এটি মুঘল ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার একটি মাইলফলক ছিল।

174. রানা সঙ্গ কোন বংশের রাজপুত শাসক ছিলেন?

  • (A) রাঠোর
  • (B) কাছওয়াহা
  • (C) শিশোদিয়া
  • (D) চৌহান

সঠিক উত্তর: (C) শিশোদিয়া

ব্যাখ্যা: মেবারের শাসকরা শিশোদিয়া বংশের রাজপুত ছিলেন। রানা সংগ্রাম সিংহ বা রানা সঙ্গ এই বংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং শক্তিশালী শাসক ছিলেন, যিনি বাবরের বিরুদ্ধে খানুয়ার যুদ্ধে রাজপুত বাহিনীর নেতৃত্ব দেন।

175. আকবর কাকে ‘খান-ই-আজম’ (সর্বশ্রেষ্ঠ খান) উপাধি দিয়েছিলেন?

  • (A) বৈরাম খাঁ
  • (B) মুনিম খান
  • (C) মির্জা আজিজ কোকা
  • (D) রাজা মান সিংহ

সঠিক উত্তর: (C) মির্জা আজিজ কোকা

ব্যাখ্যা: মির্জা আজিজ কোকা ছিলেন আকবরের ধাত্রী মাতা জিজি আনগার পুত্র এবং আকবরের বাল্যকালের বন্ধু। আকবর তাঁকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন এবং গুজরাটের সুবাদার সহ বিভিন্ন উচ্চ পদে নিয়োগ করেন। আকবর তাঁকে ‘খান-ই-আজম’ উপাধি দেন।

176. মুঘল আমলে ‘পরোয়ানা’ বলতে কী বোঝানো হতো?

  • (A) একটি যুদ্ধের ঘোষণা
  • (B) একটি বিচারকের রায়
  • (C) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দ্বারা জারি করা আদেশ বা নির্দেশ
  • (D) একটি কর ছাড়ের সনদ

সঠিক উত্তর: (C) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দ্বারা জারি করা আদেশ বা নির্দেশ

ব্যাখ্যা: মুঘল প্রশাসনে ‘পরোয়ানা’ ছিল একটি সরকারি নথি, যার মাধ্যমে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা (সম্রাট ছাড়া) তাঁদের অধীনস্থদের প্রতি কোনো আদেশ বা নির্দেশ জারি করতেন।

177. শের শাহের মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরাধিকারী কে হন?

  • (A) আদিল খান
  • (B) ইসলাম শাহ
  • (C) সিকান্দার শাহ
  • (D) ফিরোজ শাহ

সঠিক উত্তর: (B) ইসলাম শাহ

ব্যাখ্যা: শের শাহের মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র আদিল খানকে উপেক্ষা করে অভিজাতরা তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র জালাল খানকে সিংহাসনে বসান। তিনি ‘ইসলাম শাহ শূর’ উপাধি নিয়ে শাসনভার গ্রহণ করেন। তিনি প্রায় আট বছর সফলভাবে শাসন করেন।

178. ‘আকবরের যুগকে মুঘল সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগ বলা হয়’ – এই উক্তির সবচেয়ে বড় সমর্থক কে?

  • (A) রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সাম্রাজ্য বিস্তার
  • (B) অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
  • (C) ধর্মীয় সহনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক সমন্বয়
  • (D) উপরের সবগুলি

সঠিক উত্তর: (D) উপরের সবগুলি

ব্যাখ্যা: আকবরের রাজত্বকালকে (১৫৫৬-১৬০৫) বিভিন্ন কারণে মুঘল সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগ বলা হয়। এই সময়ে সাম্রাজ্য রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল হয় এবং বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। তাঁর ভূমি রাজস্ব নীতির ফলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসে। সর্বোপরি, তাঁর সুলহ-ই-কুল নীতি এবং শিল্প-সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতার ফলে একটি সমন্বিত সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে।

179. কোন ঐতিহাসিক বিবরণে পাওয়া যায় যে, হুমায়ূন আফিমের প্রতি আসক্ত ছিলেন?

  • (A) বাবরনামা
  • (B) আকবরনামা
  • (C) হুমায়ূননামা
  • (D) আইন-ই-আকবরী

সঠিক উত্তর: (C) হুমায়ূননামা

ব্যাখ্যা: গুলবদন বেগম তাঁর রচিত ‘হুমায়ূননামা’-তে হুমায়ূনের ব্যক্তিগত জীবনের অনেক খুঁটিনাটি তুলে ধরেছেন। সেখানেই তিনি উল্লেখ করেছেন যে হুমায়ূন এবং তাঁর ভাই হিন্দাল উভয়েই আফিমের প্রতি বেশ আসক্ত ছিলেন, যা অনেক সময় তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করত।

180. মুঘল চিত্রকলায় ‘সфуমাто’ (Sfumato) বা ছবিতে ছায়া-আলোর খেলা দেখানোর কৌশল কোন দেশ থেকে আসে?

  • (A) পারস্য
  • (B) চীন
  • (C) ইউরোপ
  • (D) ভারত

সঠিক উত্তর: (C) ইউরোপ

ব্যাখ্যা: আকবরের দরবারে জেসুইট পাদ্রিদের আগমনের ফলে ইউরোপীয় চিত্রকলার সাথে মুঘল শিল্পীদের পরিচয় ঘটে। ইউরোপীয় রেনেসাঁস চিত্রকলার বৈশিষ্ট্য যেমন পরিপ্রেক্ষিত (perspective) এবং ছায়া-আলোর খেলা দেখানোর কৌশল (ইতালীয় ভাষায় sfumato) মুঘল চিত্রकलाকে প্রভাবিত করে এবং একটি নতুন মাত্রা দেয়।

181. আকবরের রাজত্বকালে ‘বিটিকচি’ নামক কর্মকর্তার কাজ কী ছিল?

  • (A) জমি জরিপ করা
  • (B) রাজস্ব আদায়ের হিসাব প্রস্তুত করা
  • (C) গুপ্তচরবৃত্তি
  • (D) বিচার করা

সঠিক উত্তর: (B) রাজস্ব আদায়ের হিসাব প্রস্তুত করা

ব্যাখ্যা: ‘বিটিকচি’ ছিলেন আমলগুজার বা রাজস্ব সংগ্রাহকের সহকারী। তাঁর প্রধান কাজ ছিল জমি জরিপ ও রাজস্ব নির্ধারণের সমস্ত তথ্য ও পরিসংখ্যানের রেকর্ড প্রস্তুত করা এবং সেগুলি সংরক্ষণ করা। তিনি রাজস্ব সংক্রান্ত দলিলপত্র তৈরির দায়িত্বে ছিলেন।

182. ‘মুঘল’ শব্দটি কোন শব্দ থেকে উদ্ভূত হয়েছে?

  • (A) তুর্কি
  • (B) মোঙ্গল
  • (C) ফারসি
  • (D) আরবি

সঠিক উত্তর: (B) মোঙ্গল

ব্যাখ্যা: ‘মুঘল’ শব্দটি ‘মোঙ্গল’ শব্দেরই একটি ফারসি রূপ। যেহেতু বাবর তাঁর মাতার দিক থেকে মোঙ্গল বীর চেঙ্গিজ খানের বংশধর ছিলেন, তাই তাঁদের বংশকে ‘মুঘল’ বলা হয়। যদিও তাঁরা নিজেরা পিতার দিক থেকে তৈমুরের বংশধর হওয়ায় নিজেদের ‘তৈমুরি’ বা ‘তিমুরিদ’ বলতে বেশি পছন্দ করতেন।

183. আগ্রার কাছে সিকান্দ্রায় কার সমাধি রয়েছে?

  • (A) বাবর
  • (B) হুমায়ূন
  • (C) আকবর
  • (D) জাহাঙ্গীর

সঠিক উত্তর: (C) আকবর

ব্যাখ্যা: আগ্রার উপকণ্ঠে সিকান্দ্রা নামক স্থানে সম্রাট আকবরের বিশাল সমাধি সৌধ অবস্থিত। আকবর নিজেই এর পরিকল্পনা ও নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন, যা তাঁর পুত্র জাহাঙ্গীর ১৬১৩ সালে সম্পন্ন করেন। এই স্থাপত্যে হিন্দু, বৌদ্ধ, ও ইসলামিক রীতির সমন্বয় দেখা যায়।

184. শের শাহের সড়ক ব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?

  • (A) দ্রুত সৈন্য চলাচল ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ
  • (B) ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি
  • (C) ডাক ব্যবস্থার উন্নতি
  • (D) উপরের সবগুলি

সঠিক উত্তর: (D) উপরের সবগুলি

ব্যাখ্যা: শের শাহের সড়ক ব্যবস্থা বা ‘সড়ক-ই-আজম’ একটি বহুমুখী উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছিল। এই সড়কগুলি একদিকে যেমন সাম্রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দ্রুত সৈন্য চলাচলে সাহায্য করত, তেমনই বণিকদের যাতায়াত সহজ করে বাণিজ্যকে উৎসাহিত করত। এছাড়া এই সড়ক বরাবর ডাক চৌকি স্থাপন করে যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও দ্রুতগামী করা হয়েছিল।

185. আকবর যখন সিংহাসনে বসেন, তখন তাঁর বয়স কত ছিল?

  • (A) প্রায় ১০ বছর
  • (B) প্রায় ১৩ বছর
  • (C) প্রায় ১৬ বছর
  • (D) প্রায় ১৮ বছর

সঠিক উত্তর: (B) প্রায় ১৩ বছর

ব্যাখ্যা: ১৫৫৬ সালে হুমায়ূনের মৃত্যুর খবর পেয়ে পাঞ্জাবের কালানৌরে মাত্র ১৩ বছর ৪ মাস বয়সে আকবরের রাজ্যাভিষেক হয়। তাঁর নাবালক অবস্থায় বৈরাম খাঁ অভিভাবক হিসেবে শাসনকার্য পরিচালনা করেন।

186. ‘জাহাঙ্গিরি মহল’ কোথায় অবস্থিত?

  • (A) দিল্লি ফোর্ট
  • (B) লাহোর ফোর্ট
  • (C) আগ্রা ফোর্ট
  • (D) ফতেপুর সিক্রি

সঠিক উত্তর: (C) আগ্রা ফোর্ট

ব্যাখ্যা: ‘জাহাঙ্গিরি মহল’ আগ্রা ফোর্টের অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি সুন্দর প্রাসাদ। এটি আকবর তাঁর পুত্র সেলিমের (জাহাঙ্গীর) জন্য নির্মাণ করিয়েছিলেন বলে মনে করা হয়। এটি হিন্দু ও মধ্য এশীয় স্থাপত্য রীতির এক চমৎকার সংমিশ্রণ।

187. ‘বাট্টাই’ বা ‘গাল্লাবক্সি’ ব্যবস্থাটি কী ছিল?

  • (A) নগদ অর্থে রাজস্ব প্রদান
  • (B) উৎপাদিত ফসলের ভাগাভাগির মাধ্যমে রাজস্ব প্রদান
  • (C) অনুমানের ভিত্তিতে রাজস্ব নির্ধারণ
  • (D) একটি নতুন কর

সঠিক উত্তর: (B) উৎপাদিত ফসলের ভাগাভাগির মাধ্যমে রাজস্ব প্রদান

ব্যাখ্যা: ‘বাট্টাই’ বা ‘গাল্লাবক্সি’ ছিল একটি রাজস্ব আদায় পদ্ধতি যেখানে ফসল কাটার পর তা কৃষক ও সরকারের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অনুপাতে ভাগ করে নেওয়া হতো। যেখানে নগদ অর্থে কর দেওয়া সম্ভব হতো না, সেখানে এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হতো।

188. ‘তারিখ-ই-আলফি’ কী?

  • (A) শের শাহের জীবনী
  • (B) ইসলামের প্রথম হাজার বছরের ইতিহাস
  • (C) আকবরের জীবনী
  • (D) বাবরের জীবনী

সঠিক উত্তর: (B) ইসলামের প্রথম হাজার বছরের ইতিহাস

ব্যাখ্যা: আকবর ইসলামের প্রথম সহস্রাব্দ পূর্তি উপলক্ষে ‘তারিখ-ই-আলফি’ (সহস্রাব্দের ইতিহাস) নামক একটি বিশাল ইতিহাস গ্রন্থ সংকলনের নির্দেশ দেন। বদাউনী সহ একাধিক ঐতিহাসিক এই প্রকল্পের সাথে যুক্ত ছিলেন।

189. হুমায়ূনের সমাধি কে নির্মাণ করান?

  • (A) আকবর
  • (B) হুমায়ূনের বিধবা পত্নী হাজী বেগম (বেগা বেগম)
  • (C) গুলবদন বেগম
  • (D) জাহাঙ্গীর

সঠিক উত্তর: (B) হুমায়ূনের বিধবা পত্নী হাজী বেগম (বেগা বেগম)

ব্যাখ্যা: হুমায়ূনের মৃত্যুর পর তাঁর প্রধান মহিষী হাজী বেগম (বেগা বেগম নামেও পরিচিত) স্বামীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই অসাধারণ সমাধি সৌধটি নির্মাণ করান। যদিও এটি আকবরের রাজত্বকালে নির্মিত হয়েছিল এবং তিনি এর পৃষ্ঠপোষকতা করেন, কিন্তু মূল উদ্যোগ ছিল হাজী বেগমের।

190. মুঘল আমলে ‘জায়গির’ এবং ‘খালিসা’ জমির মধ্যে মূল পার্থক্য কী ছিল?

  • (A) উর্বরতা
  • (B) রাজস্বের ব্যবহার
  • (C) অবস্থান
  • (D) আকার

সঠিক উত্তর: (B) রাজস্বের ব্যবহার

ব্যাখ্যা: মূল পার্থক্য ছিল রাজস্বের ব্যবহারে। ‘খালিসা’ জমির রাজস্ব সরাসরি কেন্দ্রীয় রাজকোষে যেত। অন্যদিকে, ‘জায়গির’ জমি মনসবদারদের বেতনের পরিবর্তে দেওয়া হতো; সেই জমির রাজস্ব জায়গিরদার নিজে সংগ্রহ ও ভোগ করতেন।

191. পানিপথের প্রথম যুদ্ধ জয়ের পর বাবর কোথায় নিজেকে ‘বাদশাহ’ ঘোষণা করেন?

  • (A) কাবুল
  • (B) পানিপথ
  • (C) দিল্লি
  • (D) আগ্রা

সঠিক উত্তর: (C) দিল্লি

ব্যাখ্যা: পানিপথের যুদ্ধে জয়লাভের পর বাবর দিল্লি প্রবেশ করেন এবং সেখানকার জামি মসজিদে নিজের নামে ‘খুৎবা’ (রাজকীয় ভাষণ) পাঠ করান। এর মাধ্যমে তিনি নিজেকে হিন্দুস্তানের ‘বাদশাহ’ বা সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করেন এবং মুঘল শাসনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।

192. আকবরের কোন নীতিটি পরোক্ষভাবে মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের কারণ হয়েছিল বলে কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন?

  • (A) সুলহ-ই-কুল
  • (B) দীন-ই-ইলাহি
  • (C) রাজপুত নীতি
  • (D) জায়গিরদারি ব্যবস্থা

সঠিক উত্তর: (D) জায়গিরদারি ব্যবস্থা

ব্যাখ্যা: যদিও আকবরের সময় মনসবদারি ও জায়গিরদারি ব্যবস্থা সফল ছিল, পরবর্তী মুঘল সম্রাটদের আমলে এটি সমস্যা তৈরি করে। মনসবদারের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বেতনের জন্য দেওয়ার মতো ভালো জায়গিরের অভাব দেখা দেয় (‘জায়গিরদারি সংকট’)। এটি অভিজাতদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করে এবং সাম্রাজ্যকে দুর্বল করে দেয়, যা পতনের অন্যতম কারণ হয়।

193. ফতেপুর সিক্রির কোন ভবনটি ‘পাথরে রচিত রোমান্স’ (A romance in stone) নামে পরিচিত?

  • (A) বুলন্দ দরওয়াজা
  • (B) দিওয়ান-ই-খাস
  • (C) জামি মসজিদ
  • (D) ফতেপুর সিক্রি শহরটি নিজেই

সঠিক উত্তর: (D) ফতেপুর সিক্রি শহরটি নিজেই

ব্যাখ্যা: ঐতিহাসিক এবং শিল্প সমালোচকরা ফতেপুর সিক্রির অসাধারণ স্থাপত্যশৈলী, বিভিন্ন ভবনের সমন্বয় এবং তার নান্দনিক সৌন্দর্যের কারণে সমগ্র শহরটিকেই ‘পাথরে রচিত রোমান্স’ বা ‘A frozen moment of history’ বলে অভিহিত করেছেন।

194. শের শাহ শূর কোন বংশের আফগান ছিলেন?

  • (A) লোদি
  • (B) শূর
  • (C) সারওয়ানি
  • (D) খলজি

সঠিক উত্তর: (B) শূর

ব্যাখ্যা: ফরিদ খান (শের শাহ) ছিলেন আফগানিস্তানের শূর বংশোদ্ভূত। তাঁর পিতা হাসান খান শূর বিহারে একজন ছোট জায়গিরদার ছিলেন। শের শাহ নিজের যোগ্যতায় শূর বংশকে ভারতের শাসক বংশে পরিণত করেন।

195. আকবরের সময়ে প্রাদেশিক ‘বখশি’র প্রধান কাজ কী ছিল?

  • (A) রাজস্ব আদায়
  • (B) বিচার করা
  • (C) প্রদেশের সামরিক বিষয়াবলী তত্ত্বাবধান করা
  • (D) ধর্মীয় বিষয় দেখাশোনা করা

সঠিক উত্তর: (C) প্রদেশের সামরিক বিষয়াবলী তত্ত্বাবধান করা

ব্যাখ্যা: প্রাদেশিক স্তরে ‘বখশি’ ছিলেন সামরিক বিভাগের প্রধান। তিনি কেন্দ্রীয় ‘মির বখশি’র প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর দায়িত্ব ছিল প্রদেশের সৈন্যদের বেতন প্রদান, হাজিরা নেওয়া (দাগ ও চেহারা) এবং সামরিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করা।

196. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে হিমু কোন উপাধি নিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন?

  • (A) মহারাজ
  • (B) সম্রাট
  • (C) রাজা বিক্রমাদিত্য
  • (D) সেনাপতি

সঠিক উত্তর: (C) রাজা বিক্রমাদিত্য

ব্যাখ্যা: আদিল শাহ শূরের হিন্দু সেনাপতি হিমু বা হেমচন্দ্র অত্যন্ত প্রতিভাবান ছিলেন। তিনি দিল্লি দখল করার পর নিজেকে একজন স্বাধীন শাসক হিসেবে ঘোষণা করেন এবং প্রাচীন ভারতের কিংবদন্তী রাজা বিক্রমাদিত্যের অনুকরণে ‘রাজা বিক্রমাদিত্য’ উপাধি ধারণ করেন।

197. ‘নাসাক’ ব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়?

  • (A) জমি জরিপের একটি পদ্ধতি
  • (B) একটি করের নাম
  • (C) মোটামুটি অনুমানের ভিত্তিতে রাজস্ব নির্ধারণের একটি পদ্ধতি
  • (D) একটি সামরিক কৌশল

সঠিক উত্তর: (C) মোটামুটি অনুমানের ভিত্তিতে রাজস্ব নির্ধারণের একটি পদ্ধতি

ব্যাখ্যা: ‘নাসাক’ ছিল একটি সরলীকৃত রাজস্ব নির্ধারণ পদ্ধতি। এতে প্রতি বছর জমি জরিপ না করে পূর্ববর্তী বছরের আদায়কৃত রাজস্ব বা গ্রামের মোট অনুমিত উৎপাদনের উপর ভিত্তি করে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব ধার্য করা হতো। এটি ‘জাবতি’ ব্যবস্থার চেয়ে সহজ ছিল এবং বাংলা ও গুজরাটের মতো অঞ্চলে ব্যবহৃত হতো।

198. আকবরকে ‘নিরক্ষর’ বলা হলেও তাঁর জ্ঞান ও শিক্ষার প্রধান উৎস কী ছিল?

  • (A) শুধুমাত্র যুদ্ধবিদ্যা
  • (B) তিনি নিরক্ষর ছিলেন না
  • (C) বিভিন্ন পণ্ডিত ও গুণী ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা ও বিতর্ক শোনা
  • (D) শুধুমাত্র তাঁর মন্ত্রীরা

সঠিক উত্তর: (C) বিভিন্ন পণ্ডিত ও গুণী ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা ও বিতর্ক শোনা

ব্যাখ্যা: আকবর ডিসলেক্সিয়ার কারণে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পড়তে বা লিখতে শিখতে পারেননি, তাই তাঁকে ‘নিরক্ষর’ বলা হয়। কিন্তু তাঁর জ্ঞানার্জনের আগ্রহ ছিল প্রবল। তিনি প্রতিদিন বিভিন্ন বিষয়ে বই পড়িয়ে শুনতেন এবং ইবাদত খানার মতো আলোচনা সভায় বিভিন্ন ধর্মের পণ্ডিত, শিল্পী ও গুণী ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা ও বিতর্ক শুনেই তাঁর বিশাল জ্ঞান ভান্ডার গড়ে তুলেছিলেন।

199. সুলতানি শাসনের পতনের জন্য ইব্রাহিম লোদির কোন পদক্ষেপটি সবচেয়ে বেশি দায়ী ছিল?

  • (A) অতিরিক্ত কর আরোপ
  • (B) হিন্দুদের প্রতি কঠোর নীতি
  • (C) আফগান আমিরদের ক্ষমতা খর্ব করে রাজকীয় ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার চেষ্টা
  • (D) বাবরের সাথে বন্ধুত্ব করতে অস্বীকার করা

সঠিক উত্তর: (C) আফগান আমিরদের ক্ষমতা খর্ব করে রাজকীয় ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার চেষ্টা

ব্যাখ্যা: আফগান শাসনব্যবস্থা অনেকটা গোষ্ঠীতান্ত্রিক ছিল, যেখানে আমিররা সুলতানকে সমকক্ষ মনে করতেন। ইব্রাহিম লোদি এই প্রথা ভেঙে অভিজাতদের কঠোরভাবে দমন করে সুলতানের ক্ষমতাকে সর্বোচ্চ করতে চেয়েছিলেন। এর ফলেই দৌলত খান লোদির মতো শক্তিশালী আমিররা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে বাবরকে আমন্ত্রণ জানান, যা সুলতানি শাসনের পতন ডেকে আনে।

200. আকবরের শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি কী ছিল?

  • (A) শুধুমাত্র সামরিক শক্তি
  • (B) শুধুমাত্র ধর্মীয় উদারতা
  • (C) একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় প্রশাসন এবং মনসবদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে সামরিক ও বেসামরিক কাঠামোর সমন্বয়
  • (D) শুধুমাত্র রাজপুতদের সাথে মৈত্রী

সঠিক উত্তর: (C) একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় প্রশাসন এবং মনসবদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে সামরিক ও বেসামরিক কাঠামোর সমন্বয়

ব্যাখ্যা: আকবরের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল তাঁর সুসংগঠিত শাসন ব্যবস্থা। তিনি একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করেন এবং ‘মনসবদারি’ প্রথার মাধ্যমে সাম্রাজ্যের সকল সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাকে একটি একক ক্রমবিন্যাসের অধীনে আনেন। এটি সাম্রাজ্যকে অভূতপূর্ব স্থিতিশীলতা ও সংহতি প্রদান করেছিল, যা তাঁর অন্যান্য নীতি (যেমন- ধর্মীয় ও রাজপুত নীতি) বাস্তবায়নকে সহজ করে তোলে।

Scroll to Top