বিভাগ ১: জাহাঙ্গীর ও শাহজাহানের শাসনকাল
১. মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের আসল নাম কী ছিল?
সঠিক উত্তর: B) সেলিম
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: আকবরের পুত্র জাহাঙ্গীরের আসল নাম ছিল সুলতান মুহম্মদ সেলিম। সিংহাসনে আরোহণের পর তিনি ‘নূর-উদ্দিন মুহম্মদ জাহাঙ্গীর’ উপাধি ধারণ করেন।
২. ‘জঞ্জির-ই-আদল’ (Chain of Justice) কোন মুঘল সম্রাট স্থাপন করেন?
সঠিক উত্তর: C) জাহাঙ্গীর
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সম্রাট জাহাঙ্গীর আগ্রার किल्ल्याর শাহ বুরুজ থেকে যমুনা নদীর তীর পর্যন্ত একটি সোনার শিকল ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন, যা ‘জঞ্জির-ই-আদল’ নামে পরিচিত।
৩. কোন ইংরেজ দূত জাহাঙ্গীরের রাজসভায় এসেছিলেন?
সঠিক উত্তর: C) উভয়ই
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ক্যাপ্টেন উইলিয়াম হকিন্স (১৬০৮) এবং স্যার টমাস রো (১৬১৫) দুজনেই ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম জেমসের দূত হিসেবে জাহাঙ্গীরের দরবারে এসেছিলেন।
৪. শাহজাহানের শাসনকালকে ‘মুঘল যুগের সুবর্ণ যুগ’ বলা হয় কেন?
সঠিক উত্তর: C) স্থাপত্য ও শিল্পের চরম উৎকর্ষের জন্য
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: শাহজাহানের আমলে নির্মিত তাজমহল, দিল্লির লালকেল্লা, জামা মসজিদ ইত্যাদি স্থাপত্যকলার অসাধারণ নিদর্শন। এই সময়ে মুঘল স্থাপত্য ও শিল্পকলা তার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছিল।
৫. ময়ূর সিংহাসন (তখত-ই-তাউস) কে নির্মাণ করেন?
সঠিক উত্তর: B) শাহজাহান
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: শাহজাহান তাঁর রাজদরবারের জন্য কোহিনূর হীরা সহ বহু মূল্যবান পাথর দিয়ে এই বিখ্যাত সিংহাসনটি নির্মাণ করিয়েছিলেন।
৬. জাহাঙ্গীরের আত্মজীবনীর নাম কী?
সঠিক উত্তর: C) তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরী
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ‘তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরী’ হল সম্রাট জাহাঙ্গীরের লেখা আত্মজীবনী। এটি ফারসি ভাষায় লেখা এবং তাঁর শাসনকালের মূল্যবান ঐতিহাসিক দলিল।
৭. নূরজাহানের আসল নাম কী ছিল?
সঠিক উত্তর: B) মেহের-উন-নিসা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: নূরজাহানের আসল নাম ছিল মেহের-উন-নিসা। জাহাঙ্গীরের সাথে বিবাহের পর তিনি প্রথমে ‘নূর মহল’ (প্রাসাদের আলো) এবং পরে ‘নূর জাহান’ (জগতের আলো) উপাধি পান।
৮. শাহজাহানের আসল নাম কী ছিল?
সঠিক উত্তর: B) খুররম
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সম্রাট শাহজাহানের আসল নাম ছিল শাহজাদা খুররম। সিংহাসনে আরোহণের পর তিনি ‘আবুল মুজাফফর শাহাবউদ্দিন মুহম্মদ শাহজাহান’ উপাধি গ্রহণ করেন।
৯. তাজমহলের প্রধান স্থপতি কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: C) ওস্তাদ আহমেদ লাহোরি
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: যদিও তাজমহল নির্মাণে অনেকের অবদান ছিল, তবে শাহজাহানের দরবারের নথি অনুযায়ী ওস্তাদ আহমেদ লাহোরি ছিলেন এই প্রকল্পের প্রধান স্থপতি।
১০. জাহাঙ্গীর কোন শিখ গুরুকে প্রাণদণ্ড দেন?
সঠিক উত্তর: C) গুরু অর্জুন দেব
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: জাহাঙ্গীরের বিদ্রোহী পুত্র খসরুকে সাহায্য করার অভিযোগে পঞ্চম শিখ গুরু, গুরু অর্জুন দেবকে ১৬০৬ সালে প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়।
১১. শাহজাহানের পত্নী মমতাজ মহলের আসল নাম কী ছিল?
সঠিক উত্তর: C) আর্জুমান্দ বানু বেগম
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: মমতাজ মহলের আসল নাম ছিল আর্জুমান্দ বানু বেগম। তিনি ছিলেন নূরজাহানের ভাই আসফ খানের কন্যা।
১২. কোন মুঘল রাজকুমার উপনিষদের ফারসি অনুবাদ করেন?
সঠিক উত্তর: D) দারা शिकোহ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: শাহজাহানের জ্যেষ্ঠ পুত্র দারা शिकোহ ছিলেন একজন বিদ্বান ও সুফি ভাবধারার মানুষ। তিনি ‘সির-ই-আকবর’ (The Great Secret) নামে উপনিষদের ফারসি অনুবাদ করেন।
১৩. ‘নূরজাহান চক্র’ বা ‘জান্তা’ কাদের নিয়ে গঠিত ছিল?
সঠিক উত্তর: B) নূরজাহান, তার পিতা ইতিমাদ-উদ-দৌলা, ভাই আসফ খান ও শাহজাদা খুররম
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: জাহাঙ্গীরের শাসনকালের একটি পর্যায়ে সম্রাজ্ঞী নূরজাহান, তার পিতা, ভাই এবং শাহজাদা খুররম (পরবর্তীতে শাহজাহান) মিলে একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী তৈরি করেন যা রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ করত।
১৪. শাহজাহানের রাজত্বকালে কোন ফরাসি পর্যটক ভারতে এসেছিলেন?
সঠিক উত্তর: A) বার্নিয়ের ও ট্যাভার্নিয়ার
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ফরাসি চিকিৎসক ও পর্যটক ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ের এবং জহুরি ও পর্যটক জ্যাঁ-বাপতিস্ত ট্যাভার্নিয়ার শাহজাহানের রাজত্বকালে এবং ঔরঙ্গজেবের शुरुआती সময়ে ভারতে ভ্রমণ করেন।
১৫. শাহজাহানের उत्तराधिकार যুদ্ধগুলির মধ্যে সবচেয়ে નિર્ણায়ক যুদ্ধ কোনটি ছিল?
সঠিক উত্তর: C) সামুগড়ের যুদ্ধ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৬৫৮ সালের ২৯শে মে আগ্রার কাছে সামুগড়ের যুদ্ধে ঔরঙ্গজেব এবং মুরাদ বখশের সম্মিলিত বাহিনী দারা शिकোহের প্রধান বাহিনীকে পরাজিত করে। এই জয় ঔরঙ্গজেবের সিংহাসন দখলের পথ প্রশস্ত করে দেয়।
১৬. ইতিমাদ-উদ-দৌলার সমাধি কে নির্মাণ করান?
সঠিক উত্তর: C) নূরজাহান
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: আগ্রায় অবস্থিত ইতিমাদ-উদ-দৌলার সমাধিটি নূরজাহান তার পিতা মির্জা গিয়াস বেগের স্মরণে নির্মাণ করান। এটি ভারতে প্রথম স্থাপত্য যেখানে ব্যাপকভাবে ‘পিয়েট্রা ডিউরা’ (পাথরের উপর রত্ন খচিত নকশা) ব্যবহার করা হয়।
১৭. কোন মুঘল সম্রাট কান্দাহার চূড়ান্তভাবে পারস্যের কাছে হারান?
সঠিক উত্তর: B) শাহজাহান
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: যদিও কান্দাহার নিয়ে মুঘল ও পারস্যের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে সংঘাত চলেছিল, শাহজাহানের শাসনকালে ১৬৪৯ সালে এটি চূড়ান্তভাবে পারস্যের সাফাভি রাজবংশের দখলে চলে যায় এবং মুঘলরা আর পুনরুদ্ধার করতে পারেনি।
১৮. দিল্লির লালকেল্লা কোন মুঘল সম্রাটের কীর্তি?
সঠিক উত্তর: C) শাহজাহান
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: শাহজাহান তার রাজধানী আগ্রা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেন এবং সেখানে ‘শাহজাহানাবাদ’ নামে নতুন শহর তৈরি করেন। এই শহরের কেন্দ্রবিন্দু ছিল লালকেল্লা (কিলা-ই-মুবারক)।
১৯. জাহাঙ্গীরের দরবারের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী কারা ছিলেন?
সঠিক উত্তর: C) ওস্তাদ মনসুর ও আবুল হাসান
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: জাহাঙ্গীর চিত্রকলার বড় সমঝদার ছিলেন। ওস্তাদ মনসুর ছিলেন পশুপাখি ও ফুলের ছবি আঁকার জন্য বিখ্যাত, এবং আবুল হাসান প্রতিকৃতি আঁকায় পারদর্শী ছিলেন। জাহাঙ্গীর আবুল হাসানকে ‘নাদির-উজ-জামান’ উপাধি দেন।
২০. শাহজাহানকে আগ্রার দুর্গে কে বন্দী করে রাখেন?
সঠিক উত্তর: D) ঔরঙ্গজেব
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: उत्तराधिकार যুদ্ধে জয়লাভের পর ঔরঙ্গজেব তার পিতা শাহজাহানকে ক্ষমতাচ্যুত করে আগ্রার দুর্গে বন্দী করে রাখেন। শাহজাহান তার জীবনের শেষ আট বছর (১৬৫৮-১৬৬৬) সেখানেই বন্দী অবস্থায় কাটান।
বিভাগ ২: শিবাজি – মারাঠা স্বরাজ্যের বৈশিষ্ট্য
২১. ছত্রপতি শিবাজি কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
সঠিক উত্তর: C) শিবনেরি দুর্গ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: শিবাজি ১৬৩০ খ্রিস্টাব্দে পুনের নিকটবর্তী শিবনেরি দুর্গে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল শাহজি ভোঁসলে এবং মাতার নাম জিজাবাঈ।
২২. শিবাজির প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ‘অষ্টপ্রধান’ কী ছিল?
সঠিক উত্তর: B) আটজন মন্ত্রীর একটি পরিষদ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ‘অষ্টপ্রধান’ ছিল শিবাজির শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তি। এটি ছিল আটজন প্রধান মন্ত্রীকে নিয়ে গঠিত একটি পরামর্শদাতা পরিষদ। এর প্রধান ছিলেন ‘পেশোয়া’ বা প্রধানমন্ত্রী।
২৩. ‘চৌথ’ ও ‘সরদেশমুখী’ কী ছিল?
সঠিক উত্তর: C) দুটি করের নাম
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ‘চৌথ’ ছিল মোট রাজস্বের এক-চতুর্থাংশ (১/৪) যা মারাঠা আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলি দিত। ‘সরদেশমুখী’ ছিল মোট রাজস্বের অতিরিক্ত এক-দশমাংশ (১/১০)।
২৪. পুরন্দরের চুক্তি (১৬৬৫) কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: D) শিবাজি ও রাজা জয়সিংহ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের সেনাপতি রাজা জয়সিংহের কাছে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে শিবাজি ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে পুরন্দরের চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন।
২৫. শিবাজি কোন বিজাপুরী সেনাপতিকে হত্যা করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: B) আফজল খান
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৬৫৯ সালে প্রতাপগড় দুর্গের নীচে একটি বৈঠকে বিজাপুরের সেনাপতি আফজল খান শিবাজিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। কিন্তু শিবাজি সতর্ক ছিলেন এবং বাঘনখ (Tiger’s claw) দিয়ে আফজল খানকে হত্যা করেন।
২৬. শিবাজির রাজ্যাভিষেক কবে এবং কোথায় হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: A) ১৬৭৪, রায়গড় দুর্গে
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৬৭৪ সালে রায়গড় দুর্গে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিবাজির রাজ্যাভিষেক সম্পন্ন হয়। তিনি ‘ছত্রপতি’ উপাধি ধারণ করেন।
২৭. শিবাজির মায়ের নাম কি ছিল?
সঠিক উত্তর: C) জিজাবাঈ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: জিজাবাঈ ছিলেন শিবাজির মা এবং তাঁর জীবনের প্রধান অনুপ্রেরণা। তিনি শিবাজিকে শৈশব থেকে হিন্দু ধর্ম, সংস্কৃতি এবং বীরত্বের গল্প শুনিয়ে বড় করে তোলেন।
২৮. শিবাজির অশ্বারোহী বাহিনীকে কী বলা হত?
সঠিক উত্তর: B) বরগীর ও সিলেদার
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: মারাঠা অশ্বারোহী বাহিনী দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। ‘বরগীর’ হল সেইসব সৈন্য যাদের ঘোড়া ও অস্ত্রশস্ত্র রাষ্ট্র সরবরাহ করত। ‘সিলেদার’ হল সেইসব সৈন্য যারা নিজেদের ঘোড়া ও অস্ত্র নিয়ে বাহিনীতে যোগ দিত।
২৯. ‘অষ্টপ্রধান’-এর প্রধান কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: B) পেশোয়া
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ‘অষ্টপ্রধান’ পরিষদের প্রধান ছিলেন পেশোয়া বা প্রধানমন্ত্রী। তিনি রাজা অনুপস্থিত থাকলে রাষ্ট্রের সমস্ত কার্যভার সামলাতেন।
৩০. শিবাজি কোন মুঘল বন্দর শহর দুবার লুণ্ঠন করেন?
সঠিক উত্তর: C) সুরাট
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: শিবাজি মুঘলদের অন্যতম ধনী বন্দর শহর সুরাট দুইবার লুণ্ঠন করেন। প্রথমবার ১৬৬৪ সালে এবং দ্বিতীয়বার ১৬৭০ সালে। এই লুণ্ঠন মুঘলদের সম্মান ও অর্থনীতিতে বড় আঘাত হানে।
বিভাগ ৩: ঔরঙ্গজেব এবং মুঘল সাম্রাজ্যের ভাঙন
৬১. ঔরঙ্গজেব কোন শিখ গুরুকে হত্যা করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: C) গুরু তেগ বাহাদুর
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে অস্বীকার করায় ঔরঙ্গজেব ১৬৭৫ সালে নবম শিখ গুরু, গুরু তেগ বাহাদুরকে দিল্লিতে হত্যা করার নির্দেশ দেন। এই ঘটনা মুঘল-শিখ সম্পর্ককে চরম তিক্ত করে তোলে।
৬২. ঔরঙ্গজেব পুনরায় ‘জিজিয়া’ কর কবে চালু করেন?
সঠিক উত্তর: C) ১৬৭৯ সালে
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সম্রাট আকবর অমুসলিমদের উপর থেকে ‘জিজিয়া’ কর তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু कट्टरপন্থী সুন্নি মুসলিম ঔরঙ্গজেব তার ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে ১৬৭৯ সালে পুনরায় এই কর আরোপ করেন।
৬৩. ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতির মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
সঠিক উত্তর: D) উপরের সবগুলি
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতির একাধিক উদ্দেশ্য ছিল। তিনি ক্রমবর্ধমান মারাঠা শক্তিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন, পাশাপাশি দাক্ষিণাত্যের শিয়া সুলতানি রাজ্য বিজাপুর (১৬৮৬) ও গোলকোন্ডা (১৬৮৭) দখল করতে চেয়েছিলেন।
৬৪. কোন মুঘল সম্রাটকে ‘জিন্দা পীর’ (জীবন্ত সাধু) বলা হত?
সঠিক উত্তর: D) ঔরঙ্গজেব
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ঔরঙ্গজেব ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত সরল ও ধর্মপ্রাণ জীবনযাপন করতেন। তিনি কুরআন নকল করে এবং টুপি সেলাই করে নিজের খরচ চালাতেন। এই কারণে তাকে ‘জিন্দা পীর’ বলা হত।
৬৫. ঔরঙ্গজেব কবে বিজাপুর ও গোলকোন্ডা দখল করেন?
সঠিক উত্তর: C) ১৬৮৬ ও ১৬৮৭
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ঔরঙ্গজেব তার দাক্ষিণাত্য অভিযানের সময় ১৬৮৬ সালে বিজাপুর এবং ১৬৮৭ সালে গোলকোন্ডা রাজ্যদুটি দখল করে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।
৬৬. শিবাজির পুত্র শম্ভাজিকে কে হত্যা করেন?
সঠিক উত্তর: C) ঔরঙ্গজেব
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৬৮৯ সালে মুঘল সেনাপতি মুকাররব খান শম্ভাজিকে সঙ্গমেশ্বরে বন্দী করেন। ঔরঙ্গজেবের নির্দেশে তাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে অসম্মত হওয়ায় নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
৬৭. ঔরঙ্গজেবের কোন নীতি মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী ছিল?
সঠিক উত্তর: C) দাক্ষিণাত্য নীতি
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: যদিও সব নীতিই পতনে ভূমিকা রেখেছিল, ঐতিহাসিক যদুনাথ সরকার ঔরঙ্গজেবের দীর্ঘ ২৫ বছরের দাক্ষিণাত্য যুদ্ধকে ‘Deccan Ulcer’ বা দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলে অভিহিত করেছেন। এই যুদ্ধ মুঘল সাম্রাজ্যের অর্থ, সৈন্য এবং সম্রাটের সময় নষ্ট করে পতনকে ত্বরান্বিত করে।
বিভাগ ৪: আঞ্চলিক শক্তির উত্থান ও মুঘল সাম্রাজ্যের সংকট
১২১. অষ্টাদশ শতকে বাংলায় স্বাধীন নবাবী শাসনের প্রতিষ্ঠাতা কে?
সঠিক উত্তর: B) মুর্শিদকুলি খান
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: মুর্শিদকুলি খান ঔরঙ্গজেবের সময়ে বাংলার দেওয়ান নিযুক্ত হন। পরবর্তীকালে কেন্দ্রীয় মুঘল শক্তি দুর্বল হয়ে পড়লে তিনি কার্যত বাংলায় একটি স্বাধীন বংশানুক্রমিক শাসনের সূচনা করেন।
১২২. হায়দ্রাবাদে স্বাধীন রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: B) চিন কিলিচ খান (নিজাম-উল-মুলক)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: চিন কিলিচ খান, যিনি ‘নিজাম-উল-মুলক’ এবং ‘আসাফ জাহ’ উপাধি পেয়েছিলেন, ১৭২৪ সালে দাক্ষিণাত্যের সুবেদার হিসেবে হায়দ্রাবাদে স্বাধীন আসাফ জাহি বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
১২৩. অযোধ্যা রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: D) সাদাত খান (বুরহান-উল-মুলক)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সাদাত খান, যিনি ‘বুরহান-উল-মুলক’ নামেও পরিচিত, ১৭২২ সালে অযোধ্যার সুবেদার নিযুক্ত হন এবং পরবর্তীকালে মুঘলদের দুর্বলতার সুযোগে সেখানে একটি স্বাধীন ও বংশানুক্রমিক শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
১২৪. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) কাদের মধ্যে হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: C) মারাঠা ও আহমদ শাহ আবদালি
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ মারাঠা সাম্রাজ্য এবং আফগান শাসক আহমদ শাহ আবদালির মধ্যে সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে মারাঠাদের শোচনীয় পরাজয় ঘটে।
১২৫. পারস্যের শাসক নাদির শাহ কবে ভারত আক্রমণ করেন?
সঠিক উত্তর: B) ১৭৩৯ সালে
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: পারস্যের শাসক নাদির শাহ ১৭৩৯ সালে ভারত আক্রমণ করেন। তিনি কার্নালের যুদ্ধে মুঘল বাহিনীকে পরাজিত করে দিল্লি লুণ্ঠন করেন এবং ময়ূর সিংহাসন ও কোহিনূর হীরা নিয়ে যান।
১২৬. নাদির শাহের আক্রমণের সময় মুঘল সম্রাট কে ছিলেন?
সঠিক উত্তর: C) মুহাম্মদ শাহ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: নাদির শাহের আক্রমণের সময় মুঘল সম্রাট ছিলেন মুহাম্মদ শাহ। তাঁর বিলাসপ্রিয়তার জন্য তিনি ‘রঙ্গিলা’ নামে পরিচিত ছিলেন।
১২৭. ‘কিং মেকার’ বা ‘রাজা-নির্মাতা’ নামে কারা পরিচিত ছিলেন?
সঠিক উত্তর: C) সৈয়দ ভ্রাতৃদ্বয় (আব্দুল্লাহ খান ও হুসেন আলী খান)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: পরবর্তী মুঘল যুগে সৈয়দ ভাইয়েরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। তারা ১৭১৩ থেকে ১৭২০ সাল পর্যন্ত একাধিক মুঘল সম্রাটকে সিংহাসনে বসান ও ক্ষমতাচ্যুত করেন, তাই তাদের ‘কিং মেকার’ বলা হয়।
১২৮. বাংলায় ‘বর্গী’ হানা কাদের বোঝানো হত?
সঠিক উত্তর: B) মারাঠা লুণ্ঠনকারীদের
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: নবাব আলীবর্দী খানের সময় (১৭৪০-৫৬) নাগপুরের মারাঠা শাসকের সৈন্যরা বারবার বাংলা আক্রমণ করে চৌথ আদায়ের চেষ্টা করত এবং ব্যাপক লুণ্ঠন চালাত। এই মারাঠা অশ্বারোহী লুণ্ঠনকারীরা বাংলায় ‘বর্গী’ নামে পরিচিত ছিল।
১২৯. পেশোয়া পদের প্রতিষ্ঠাতা কাকে বলা হয়?
সঠিক উত্তর: A) বালাজি বিশ্বনাথ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: যদিও পেশোয়া পদটি শিবাজির সময় থেকেই ছিল, বালাজি বিশ্বনাথ এই পদটিকে বংশানুক্রমিক এবং মারাঠা সাম্রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী পদে পরিণত করেন। তাই তাকে পেশোয়া শাসনের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
১৩০. কোন পেশোয়া ‘হিন্দু-পদ-পাতশাহী’র আদর্শ প্রচার করেন?
সঠিক উত্তর: B) প্রথম বাজিরাও
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: প্রথম বাজিরাও (১৭২০-১৭৪০) ছিলেন একজন অসাধারণ সেনাপতি। তিনি মুঘল সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে সমগ্র ভারতে একটি হিন্দু সাম্রাজ্য বা ‘হিন্দু-পদ-পাতশাহী’ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন এবং সেই লক্ষ্যে মারাঠা সাম্রাজ্যের ব্যাপক বিস্তার ঘটান।