ভারতীয় রাজনীতি ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস For SLST
বিভাগ ১: ভারতীয় রাজনীতিতে চরমপন্থার উত্থান
১. ‘লোকমান্য’ নামে কে পরিচিত ছিলেন?
(A) লালা লাজপত রায়
(B) বাল গঙ্গাধর তিলক
(C) বিপিন চন্দ্র পাল
(D) অরবিন্দ ঘোষ
সঠিক উত্তর: (B) বাল গঙ্গাধর তিলক
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বাল গঙ্গাধর তিলক ছিলেন ভারতীয় জাতীয়তাবাদী, শিক্ষক এবং স্বাধীনতা কর্মী। তিনি ‘লোকমান্য’ নামে পরিচিত ছিলেন, যার অর্থ “জনগণ দ্বারা সম্মানিত নেতা”। তিনিই প্রথম ‘স্বরাজ’ বা স্বশাসনের দাবি তোলেন এবং তাঁর বিখ্যাত উক্তি ছিল “স্বরাজ আমার জন্মগত অধিকার এবং আমি তা অর্জন করবই।”
২. ‘লাল-বাল-পাল’ ত্রয়ীর মধ্যে ‘পাল’ কে ছিলেন?
(A) সুরেন্দ্রনাথ পাল
(B) কৃষ্ণদাস পাল
(C) বিপিন চন্দ্র পাল
(D) অরবিন্দ পাল
সঠিক উত্তর: (C) বিপিন চন্দ্র পাল
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ‘লাল-বাল-পাল’ ছিলেন চরমপন্থী গোষ্ঠীর তিন প্রধান নেতা। ‘লাল’ হলেন লালা লাজপত রায় (পাঞ্জাব), ‘বাল’ হলেন বাল গঙ্গাধর তিলক (মহারাষ্ট্র) এবং ‘পাল’ হলেন বিপিন চন্দ্র পাল (বাংলা)। তাঁরা স্বদেশী আন্দোলন এবং ব্রিটিশ পণ্য বয়কটের প্রধান প্রবক্তা ছিলেন।
৩. কোন ঘটনাটি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের মধ্যে বিভাজন ঘটায়?
(A) বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫)
(B) সুরাট অধিবেশন (১৯০৭)
(C) লখনউ চুক্তি (১৯১৬)
(D) অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০)
সঠিক উত্তর: (B) সুরাট অধিবেশন (১৯০৭)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯০৭ সালের সুরাট অধিবেশনে কংগ্রেসের সভাপতিত্ব কে করবেন এবং স্বদেশী আন্দোলনের প্রস্তাবনা নিয়ে নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। এর ফলে কংগ্রেস দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, যা ‘সুরাট বিভাজন’ নামে পরিচিত।
৪. ‘কেশরী’ এবং ‘মারহাট্টা’ পত্রিকা দুটি কে প্রকাশ করতেন?
(A) মহাত্মা গান্ধী
(B) জওহরলাল নেহেরু
(C) বাল গঙ্গাধর তিলক
(D) লালা লাজপত রায়
সঠিক উত্তর: (C) বাল গঙ্গাধর তিলক
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বাল গঙ্গাধর তিলক মারাঠি ভাষায় ‘কেশরী’ এবং ইংরেজি ভাষায় ‘মারহাট্টা’ নামে দুটি সংবাদপত্র প্রকাশ করতেন। এই পত্রিকাগুলির মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা করতেন এবং জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগিয়ে তুলতেন।
৫. কে ‘Father of Indian Unrest’ বা ‘ভারতীয় অস্থিরতার জনক’ হিসেবে পরিচিত?
(A) অরবিন্দ ঘোষ
(B) বাল গঙ্গাধর তিলক
(C) সুভাষচন্দ্র বসু
(D) ভগত সিং
সঠিক উত্তর: (B) বাল গঙ্গাধর তিলক
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ সাংবাদিক ভ্যালেন্টাইন চিরোল তাঁর ‘Indian Unrest’ বইতে বাল গঙ্গাধর তিলককে ‘ভারতীয় অস্থিরতার জনক’ বলে অভিহিত করেন। কারণ তিলকের লেখনী এবং কার্যকলাপ ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি করেছিল।
৬. চরমপন্থী মতবাদের মূল ভিত্তি কী ছিল?
(A) ব্রিটিশদের কাছে আবেদন-নিবেদন
(B) আত্মশক্তি, আত্মত্যাগ ও আত্মনির্ভরতা
(C) সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে ক্ষমতা লাভ
(D) ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে স্বায়ত্তশাসন
সঠিক উত্তর: (B) আত্মশক্তি, আত্মত্যাগ ও আত্মনির্ভরতা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: চরমপন্থীরা নরমপন্থীদের ‘রাজনৈতিক ভিক্ষাবৃত্তি’ নীতির বিরোধী ছিলেন। তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে শুধুমাত্র আত্মশক্তি, আত্মত্যাগ এবং আত্মনির্ভরতার মাধ্যমেই পূর্ণ স্বরাজ অর্জন সম্ভব। তাঁরা বয়কট, স্বদেশী এবং জাতীয় শিক্ষার উপর জোর দিয়েছিলেন।
৭. গণপতি ও শিবাজী উৎসব কে পুনরায় চালু করেন?
(A) বিপিন চন্দ্র পাল
(B) অরবিন্দ ঘোষ
(C) বাল গঙ্গাধর তিলক
(D) লালা লাজপত রায়
সঠিক উত্তর: (C) বাল গঙ্গাধর তিলক
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বাল গঙ্গাধর তিলক মহারাষ্ট্রে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবকে রাজনৈতিক প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি গণপতি উৎসব (১৮৯৩) এবং শিবাজী উৎসব (১৮৯৫) চালু করে জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা ও ব্রিটিশ-বিরোধী মনোভাব জাগিয়ে তোলেন।
৮. ‘পাঞ্জাব কেশরী’ নামে কে পরিচিত ছিলেন?
(A) ভগত সিং
(B) বাল গঙ্গাধর তিলক
(C) বিপিন চন্দ্র পাল
(D) লালা লাজপত রায়
সঠিক উত্তর: (D) লালা লাজপত রায়
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: লালা লাজপত রায় পাঞ্জাবের একজন ప్రముఖ চরমপন্থী নেতা ছিলেন এবং ‘পাঞ্জাব কেশরী’ বা ‘পাঞ্জাবের সিংহ’ নামে পরিচিত ছিলেন। সাইমন কমিশন বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় তিনি পুলিশের লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান।
৯. চরমপন্থী পর্বের সময়কাল কোনটি?
(A) ১৮৮৫-১৯০৫
(B) ১৯০৫-১৯১৯
(C) ১৯১৯-১৯৩৪
(D) ১৯৩৪-১৯৪৭
সঠিক উত্তর: (B) ১৯০৫-১৯১৯
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে সাধারণত ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯১৯ সালে গান্ধীজির জাতীয় রাজনীতিতে পূর্ণাঙ্গ প্রবেশের আগে পর্যন্ত সময়কালকে চরমপন্থী পর্ব হিসেবে ধরা হয়। এই সময়ে কংগ্রেসের মধ্যে চরমপন্থীদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি ছিল।
১০. সুরাট বিভাজনের সময় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি কে ছিলেন?
(A) বাল গঙ্গাধর তিলক
(B) দাদাভাই নওরোজি
(C) রাসবিহারী ঘোষ
(D) ফিরোজ শাহ মেহতা
সঠিক উত্তর: (C) রাসবিহারী ঘোষ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯০৭ সালের সুরাট অধিবেশনে চরমপন্থীরা লালা লাজপত রায়কে সভাপতি করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু নরমপন্থীরা রাসবিহারী ঘোষকে সভাপতি নির্বাচিত করেন। এই নিয়েই গণ্ডগোলের সূত্রপাত হয় এবং কংগ্রেস বিভক্ত হয়ে যায়।
১১. অরবিন্দ ঘোষ কোন মামলায় অভিযুক্ত হয়েছিলেন?
(A) কানপুর ষড়যন্ত্র মামলা
(B) মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা
(C) আলিপুর বোমা মামলা
(D) লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা
সঠিক উত্তর: (C) আলিপুর বোমা মামলা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯০৮ সালের আলিপুর বোমা মামলায় অরবিন্দ ঘোষ, বারীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং আরও অনেকে অভিযুক্ত হন। চিত্তরঞ্জন দাশের অসাধারণ সওয়ালে অরবিন্দ ঘোষ মুক্তি পান, কিন্তু এই ঘটনার পর তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে পন্ডিচেরিতে আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন।
১২. চরমপন্থীরা কংগ্রেসের কোন নীতিকে ‘রাজনৈতিক ভিক্ষাবৃত্তি’ বলে অভিহিত করতেন?
(A) বয়কট নীতি
(B) স্বদেশী নীতি
(C) আবেদন-নিবেদন নীতি
(D) জাতীয় শিক্ষা নীতি
সঠিক উত্তর: (C) আবেদন-নিবেদন নীতি
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: নরমপন্থীরা ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন, স্মারকলিপি এবং প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে সাংবিধানিক সংস্কারের চেষ্টা করতেন। চরমপন্থীরা এই পদ্ধতিকে দুর্বল এবং অকার্যকর মনে করতেন এবং একে ‘Political Mendicancy’ বা ‘রাজনৈতিক ভিক্ষাবৃত্তি’ বলে উপহাস করতেন।
১৩. ‘বন্দেমাতরম’ পত্রিকাটি কে সম্পাদনা করতেন?
(A) বিপিন চন্দ্র পাল
(B) অরবিন্দ ঘোষ
(C) বাল গঙ্গাধর তিলক
(D) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: (B) অরবিন্দ ঘোষ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ‘বন্দেমাতরম’ ছিল একটি ইংরেজি ভাষার দৈনিক পত্রিকা, যা চরমপন্থী মতবাদ প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। অরবিন্দ ঘোষ এই পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ছিলেন এবং এর মাধ্যমে তিনি নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ (Passive Resistance) এবং পূর্ণ স্বাধীনতার ধারণা প্রচার করেন।
১৪. চরমপন্থীদের প্রধান লক্ষ্য কী ছিল?
(A) ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস
(B) পূর্ণ স্বরাজ
(C) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
(D) আইনসভায় বেশি প্রতিনিধিত্ব
সঠিক উত্তর: (B) পূর্ণ স্বরাজ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: নরমপন্থীরা যেখানে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে স্বায়ত্তশাসন বা ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস চাইতেন, সেখানে চরমপন্থীদের চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল পূর্ণ স্বরাজ বা সম্পূর্ণ স্বাধীনতা। তিলকের “স্বরাজ আমার জন্মগত অধিকার” উক্তিটি এই লক্ষ্যেরই প্রতিফলন।
১৫. নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের পুনর্মিলন কোন অধিবেশনে হয়?
(A) সুরাট, ১৯০৭
(B) কলকাতা, ১৯১১
(C) লখনউ, ১৯১৬
(D) নাগপুর, ১৯২০
সঠিক উত্তর: (C) লখনউ, ১৯১৬
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯১৬ সালের লখনউ অধিবেশনে অ্যানি বেসান্ত এবং বাল গঙ্গাধর তিলকের প্রচেষ্টায় নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের মধ্যে পুনর্মিলন ঘটে। এই অধিবেশনেই কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে বিখ্যাত ‘লখনউ চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়।
১৬. চরমপন্থী আন্দোলনের একটি দুর্বলতা কী ছিল?
(A) গণআন্দোলনের উপর নির্ভরতা
(B) ব্রিটিশদের প্রতি আপসহীন মনোভাব
(C) হিন্দু ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার, যা মুসলিমদের দূরে সরিয়ে দেয়
(D) জাতীয় শিক্ষার প্রসার
সঠিক উত্তর: (C) হিন্দু ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার, যা মুসলিমদের দূরে সরিয়ে দেয়
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: চরমপন্থী নেতারা, বিশেষ করে তিলক, জাতীয়তাবাদ জাগরণের জন্য গণপতি উৎসব, শিবাজী উৎসব এবং গীতার মতো হিন্দু ধর্মীয় প্রতীক ও ঐতিহ্য ব্যবহার করেন। এটি হিন্দুদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেলেও অনেক মুসলিমকে জাতীয় আন্দোলন থেকে মানসিকভাবে দূরে সরিয়ে দেয়, যা ব্রিটিশদের ‘বিভাজন ও শাসন’ নীতিকে সাহায্য করে।
১৭. “বিপ্লবের জননী” কাকে বলা হয়?
(A) অ্যানি বেসান্ত
(B) সরোজিনী নাইডু
(C) মাদাম কামা (ভিকাজী রুস্তম কামা)
(D) ভগিনী নিবেদিতা
সঠিক উত্তর: (C) মাদাম কামা (ভিকাজী রুস্তম কামা)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: মাদাম কামা ছিলেন একজন ভারতীয় বিপ্লবী যিনি বিদেশে ভারতের স্বাধীনতার জন্য প্রচার চালান। ১৯০৭ সালে জার্মানির স্টুটগার্টে আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক কংগ্রেসে তিনি প্রথম ভারতের ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা উত্তোলন করেন। তাঁর বিপ্লবী কার্যকলাপের জন্য তিনি “বিপ্লবের জননী” (Mother of Indian Revolution) নামে পরিচিত।
১৮. কোন আইনটি চরমপন্থী কার্যকলাপ দমনের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: (C) নিউজপেপার (ইনসাইটমেন্ট টু অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯০৮
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: স্বদেশী ও চরমপন্থী আন্দোলনের সময় জাতীয়তাবাদী সংবাদপত্রগুলির প্রভাব কমাতে ব্রিটিশ সরকার ১৯০৮ সালে এই আইনটি পাস করে। এই আইনের মাধ্যমে হিংসাত্মক কার্যকলাপকে উস্কানি দেয় এমন কোনো লেখা প্রকাশের জন্য পত্রিকার ছাপাখানা এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়।
১৯. ‘New Lamps for Old’ প্রবন্ধটি কে লেখেন?
(A) বাল গঙ্গাধর তিলক
(B) বিপিন চন্দ্র পাল
(C) অরবিন্দ ঘোষ
(D) লালা লাজপত রায়
সঠিক উত্তর: (C) অরবিন্দ ঘোষ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: অরবিন্দ ঘোষ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রথম দিকে ‘ইন্দু প্রকাশ’ পত্রিকায় ‘New Lamps for Old’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ সিরিজ লেখেন। এই প্রবন্ধগুলিতে তিনি কংগ্রেসের নরমপন্থী নীতির তীব্র সমালোচনা করেন এবং একটি নতুন, আরও আক্রমণাত্মক জাতীয়তাবাদী পথের আহ্বান জানান।
২০. চরমপন্থার উত্থানের প্রধান কারণ কী ছিল?
(A) নরমপন্থীদের সাফল্যের অভাব
(B) লর্ড কার্জনের প্রতিক্রিয়াশীল নীতি
(C) আন্তর্জাতিক ঘটনাবলীর প্রভাব (যেমন, জাপানের কাছে রাশিয়ার পরাজয়)
(D) উপরের সবগুলি
সঠিক উত্তর: (D) উপরের সবগুলি
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: চরমপন্থার উত্থানের পিছনে একাধিক কারণ ছিল। নরমপন্থীদের আবেদন-নিবেদন নীতির ব্যর্থতা তরুণ প্রজন্মকে হতাশ করেছিল। লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গের মতো পদক্ষেপ তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। এছাড়া, ১৯০৫ সালে একটি ছোট এশীয় দেশ জাপানের কাছে বিশাল ইউরোপীয় শক্তি রাশিয়ার পরাজয় ভারতীয়দের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে যে ব্রিটিশদেরও পরাজিত করা সম্ভব।
২১. মিত্র মেলা (Mitra Mela) নামক বিপ্লবী সংগঠনটি কে প্রতিষ্ঠা করেন?
(A) অরবিন্দ ঘোষ
(B) বারীন্দ্র কুমার ঘোষ
(C) বিনায়ক দামোদর সাভারকার
(D) পুলিনবিহারী দাস
সঠিক উত্তর: (C) বিনায়ক দামোদর সাভারকার
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৮৯৯ সালে বিনায়ক দামোদর সাভারকার এবং তাঁর ভাই গণেশ দামোদর সাভারকার মহারাষ্ট্রের নাসিকে ‘মিত্র মেলা’ নামে একটি গুপ্ত সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনটিই পরে ১৯০৪ সালে ‘অভিনব ভারত’ নামে পরিচিত হয় এবং সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে।
২২. চরমপন্থী নেতা বিপিন চন্দ্র পাল কোন পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
(A) কেশরী
(B) যুগান্তর
(C) নিউ ইন্ডিয়া
(D) বন্দেমাতরম
সঠিক উত্তর: (C) নিউ ইন্ডিয়া
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বিপিন চন্দ্র পাল ১৯০১ সালে ‘নিউ ইন্ডিয়া’ নামে একটি ইংরেজি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এই পত্রিকার মাধ্যমে তিনি তাঁর চরমপন্থী জাতীয়তাবাদী ধারণা, স্বদেশী এবং বয়কটের প্রয়োজনীয়তা প্রচার করতেন।
২৩. ‘निष्क्रिय प्रतिरोध’ বা Passive Resistance-এর ধারণা কে দিয়েছিলেন?
(A) মহাত্মা গান্ধী
(B) বাল গঙ্গাধর তিলক
(C) অরবিন্দ ঘোষ
(D) বিপিন চন্দ্র পাল
সঠিক উত্তর: (C) অরবিন্দ ঘোষ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: গান্ধীজির সত্যাগ্রহ ধারণার আগে, অরবিন্দ ঘোষ ‘বন্দেমাতরম’ পত্রিকায় তাঁর লেখা একটি প্রবন্ধে ‘Passive Resistance’ বা নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধের একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা দেন। এর মধ্যে ছিল ব্রিটিশ পণ্য, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বয়কট করা এবং কর প্রদান বন্ধ করে দেওয়া, যাতে ব্রিটিশ প্রশাসন অচল হয়ে পড়ে।
২৪. তিলকের বিরুদ্ধে রাজদ্রোহের মামলায় তাঁর আইনজীবী কে ছিলেন?
(A) মতিলাল নেহেরু
(B) চিত্তরঞ্জন দাশ
(C) মহম্মদ আলি জিন্না
(D) জওহরলাল নেহেরু
সঠিক উত্তর: (C) মহম্মদ আলি জিন্না
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯০৮ সালে ‘কেশরী’ পত্রিকায় ব্রিটিশ-বিরোধী লেখার জন্য বাল গঙ্গাধর তিলকের বিরুদ্ধে রাজদ্রোহের মামলা করা হয়। এই মামলায় তরুণ আইনজীবী মহম্মদ আলি জিন্না তিলকের পক্ষে সওয়াল করেন। যদিও তিলকের ৬ বছরের কারাদণ্ড হয়, জিন্না তাঁর অসাধারণ আইনি যুক্তির জন্য প্রশংসিত হন।
২৫. ১৯০৬ সালের কলকাতা কংগ্রেস অধিবেশনে ‘স্বরাজ’ শব্দটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?
(A) বাল গঙ্গাধর তিলক
(B) দাদাভাই নওরোজি
(C) গোপাল কৃষ্ণ গোখলে
(D) অরবিন্দ ঘোষ
সঠিক উত্তর: (B) দাদাভাই নওরোজি
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: চরমপন্থীদের চাপে, ১৯০৬ সালের কলকাতা কংগ্রেসের সভাপতি দাদাভাই নওরোজি তাঁর সভাপতির ভাষণে প্রথমবার কংগ্রেসের মঞ্চ থেকে ‘স্বরাজ’ বা স্বশাসনের দাবি ঘোষণা করেন। এটি ছিল চরমপন্থীদের একটি বড় নৈতিক জয়।
বিভাগ ২: বঙ্গভঙ্গ ও স্বদেশী আন্দোলন
২৬. কোন ভাইসরয় বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা করেন?
(A) লর্ড কার্জন
(B) লর্ড ডাফরিন
(C) লর্ড মিন্টো
(D) লর্ড হার্ডিঞ্জ
সঠিক উত্তর: (A) লর্ড কার্জন
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৯শে জুলাই বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা করেন। তিনি প্রশাসনিক সুবিধার অজুহাত দিলেও এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্রমবর্ধমান বাঙালি জাতীয়তাবাদকে দুর্বল করা এবং হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা।
২৭. বঙ্গভঙ্গ কবে কার্যকর হয়?
(A) ১৯শে জুলাই, ১৯০৫
(B) ৭ই আগস্ট, ১৯০৫
(C) ১৬ই অক্টোবর, ১৯০৫
(D) ১২ই ডিসেম্বর, ১৯১১
সঠিক উত্তর: (C) ১৬ই অক্টোবর, ১৯০৫
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। এই দিনটিকে বাঙালিরা ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে পালন করে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আহ্বানে এই দিনে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ‘রাখিবন্ধন উৎসব’ পালিত হয়।
২৮. স্বদেশী আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক কী ছিল?
(A) শুধুমাত্র ব্রিটিশ পণ্য বয়কট
(B) ব্রিটিশ পণ্য বয়কট এবং দেশীয় পণ্যের ব্যবহার
(C) শুধুমাত্র সশস্ত্র সংগ্রাম
(D) শুধুমাত্র আবেদন-নিবেদন নীতি
সঠিক উত্তর: (B) ব্রিটিশ পণ্য বয়কট এবং দেশীয় পণ্যের ব্যবহার
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: স্বদেশী আন্দোলনের দুটি প্রধান দিক ছিল – ‘বয়কট’ এবং ‘স্বদেশী’। বয়কট মানে বিদেশি, বিশেষ করে ব্রিটিশ পণ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিচারব্যবস্থা বর্জন করা। স্বদেশী মানে দেশীয় শিল্প, বস্ত্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহ দেওয়া। এর লক্ষ্য ছিল আত্মনির্ভরতা অর্জন করা।
২৯. বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করা হয় কোন সালে?
(A) ১৯০৭
(B) ১৯০৯
(C) ১৯১১
(D) ১৯১৬
সঠিক উত্তর: (C) ১৯১১
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: তীব্র স্বদেশী আন্দোলন এবং বিপ্লবী কার্যকলাপের চাপে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়। ১৯১১ সালের ১২ই ডিসেম্বর দিল্লির দরবারে সম্রাট পঞ্চম জর্জ বঙ্গভঙ্গ রদের কথা ঘোষণা করেন। একই সাথে ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
৩০. ‘অনুশীলন সমিতি’ কোন আন্দোলনের সময় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
(A) অসহযোগ আন্দোলন
(B) স্বদেশী আন্দোলন
(C) আইন অমান্য আন্দোলন
(D) ভারত ছাড়ো আন্দোলন
সঠিক উত্তর: (B) স্বদেশী আন্দোলন
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: অনুশীলন সমিতি ছিল বাংলার একটি সশস্ত্র বিপ্লবী সংগঠন। বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষাপটে স্বদেশী আন্দোলনের সময় এর কার্যকলাপ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রমথনাথ মিত্র, অরবিন্দ ঘোষ, বারীন্দ্রকুমার ঘোষ প্রমুখ এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে ভারতকে স্বাধীন করা।
৩১. বঙ্গভঙ্গের সময় ‘রাখিবন্ধন উৎসব’-এর ডাক কে দিয়েছিলেন?
(A) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
(B) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(C) কৃষ্ণকুমার মিত্র
(D) অরবিন্দ ঘোষ
সঠিক উত্তর: (B) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে ব্রিটিশদের বিভেদ নীতির প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রতীক হিসেবে রাখিবন্ধন উৎসবের ডাক দেন। ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর, যেদিন বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়, বাঙালিরা একে অপরের হাতে রাখি বেঁধে অখণ্ড বাংলার বার্তা দেয়।
৩২. বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নতুন প্রদেশটির নাম কী ছিল?
(A) বাংলা ও আসাম
(B) পূর্ববঙ্গ ও আসাম
(C) পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার
(D) বাংলা ও ওড়িশা
সঠিক উত্তর: (B) পূর্ববঙ্গ ও আসাম
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বঙ্গভঙ্গের ফলে বাংলা প্রদেশকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। একটি হলো ‘বাংলা’ (পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ওড়িশা নিয়ে) এবং অন্যটি নতুন প্রদেশ ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’, যার রাজধানী ছিল ঢাকা। এই নতুন প্রদেশটি ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ।
৩৩. ‘সঞ্জীবনী’ পত্রিকায় প্রথম বয়কটের ডাক কে দেন?
(A) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
(B) বিপিন চন্দ্র পাল
(C) কৃষ্ণকুমার মিত্র
(D) ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: (C) কৃষ্ণকুমার মিত্র
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯০৫ সালের ১৩ই জুলাই সাংবাদিক ও জাতীয়তাবাদী নেতা কৃষ্ণকুমার মিত্র তাঁর সম্পাদিত ‘সঞ্জীবনী’ পত্রিকায় সর্বপ্রথম ব্রিটিশ পণ্য বয়কটের আহ্বান জানান। এটিই স্বদেশী আন্দোলনের বয়কট কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে গণ্য হয়।
৩৪. ‘Bengal National College’-এর প্রথম অধ্যক্ষ কে ছিলেন?
(A) রাসবিহারী ঘোষ
(B) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(C) অরবিন্দ ঘোষ
(D) সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর: (C) অরবিন্দ ঘোষ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: স্বদেশী আন্দোলনের সময় ব্রিটিশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বয়কট করে জাতীয় শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে ‘National Council of Education’ (জাতীয় শিক্ষা পরিষদ) গঠিত হয়। এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত ‘Bengal National College’-এর প্রথম অধ্যক্ষ হিসেবে অরবিন্দ ঘোষ নিযুক্ত হন।
৩৫. ‘যুগান্তর’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কে ছিলেন?
(A) বারীন্দ্রকুমার ঘোষ
(B) ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত
(C) অরবিন্দ ঘোষ
(D) উপরের দুজনই (A এবং B)
সঠিক উত্তর: (D) উপরের দুজনই (A এবং B)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ‘যুগান্তর’ ছিল বাংলার একটি প্রভাবশালী বিপ্লবী সাপ্তাহিক পত্রিকা, যা ১৯০৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি প্রতিষ্ঠা করেন বারীন্দ্রকুমার ঘোষ, অবিনাশ ভট্টাচার্য এবং ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত (স্বামী বিবেকানন্দের ভাই)। ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন এর প্রথম সম্পাদক। পত্রিকাটি সশস্ত্র বিপ্লবের কথা বলত।
৩৬. বঙ্গভঙ্গ রদের সময় ভারতের ভাইসরয় কে ছিলেন?
(A) লর্ড কার্জন
(B) লর্ড মিন্টো (দ্বিতীয়)
(C) লর্ড হার্ডিঞ্জ (দ্বিতীয়)
(D) লর্ড চেমসফোর্ড
সঠিক উত্তর: (C) লর্ড হার্ডিঞ্জ (দ্বিতীয়)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯১১ সালে যখন বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয় এবং ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়, তখন ভারতের ভাইসরয় ছিলেন লর্ড হার্ডিঞ্জ (দ্বিতীয়)।
৩৭. ‘Anti-Circular Society’-র প্রতিষ্ঠাতা কে?
(A) পুলিনবিহারী দাস
(B) শচীন্দ্রপ্রসাদ বসু
(C) কৃষ্ণকুমার মিত্র
(D) অশ্বিনীকুমার দত্ত
সঠিক উত্তর: (B) শচীন্দ্রপ্রসাদ বসু
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: স্বদেশী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রদের স্কুল-কলেজ থেকে বিতাড়িত করার জন্য ব্রিটিশ সরকার কার্লাইল সার্কুলার জারি করে। এর প্রতিবাদে ছাত্রনেতা শচীন্দ্রপ্রসাদ বসু ‘Anti-Circular Society’ প্রতিষ্ঠা করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল বিতাড়িত ছাত্রদের জন্য বিকল্প শিক্ষার ব্যবস্থা করা।
৩৮. স্বদেশী আন্দোলনে বরিশালের নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?
(A) বিপিন চন্দ্র পাল
(B) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
(C) অশ্বিনীকুমার দত্ত
(D) আনন্দমোহন বসু
সঠিক উত্তর: (C) অশ্বিনীকুমার দত্ত
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: অশ্বিনীকুমার দত্ত ছিলেন বরিশালের একজন জনপ্রিয় নেতা, শিক্ষক ও সমাজসেবী। তিনি ‘স্বদেশ বান্ধব সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করে বরিশাল অঞ্চলে স্বদেশী আন্দোলনকে অত্যন্ত সফলভাবে সংগঠিত করেন। তাঁর নেতৃত্বে বরিশাল আন্দোলন একটি গণআন্দোলনের রূপ নেয়।
৩৯. ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি কে রচনা করেন, যা পরে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হয়?
(A) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
(B) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(C) কাজী নজরুল ইসলাম
(D) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর: (D) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষাপটে বাঙালির ঐক্য ও চেতনাকে অনুপ্রাণিত করার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি রচনা করেন। এই গানটি স্বদেশী আন্দোলনের সময় অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয়।
৪০. বঙ্গভঙ্গের পিছনে লর্ড কার্জনের ঘোষিত উদ্দেশ্য কী ছিল?
(A) হিন্দু-মুসলিম ঐক্য বৃদ্ধি করা
(B) প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা
(C) بنگالی জাতীয়তাবাদকে দুর্বল করা
(D) অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটানো
সঠিক উত্তর: (B) প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: লর্ড কার্জন জনসমক্ষে বঙ্গভঙ্গের কারণ হিসেবে বলেছিলেন যে বাংলা প্রদেশটি আয়তনে অনেক বড় হওয়ায় শাসনকার্যের সুবিধার জন্য একে ভাগ করা প্রয়োজন। যদিও এটি ছিল ঘোষিত উদ্দেশ্য, এর আসল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের কেন্দ্রকে ভেঙে দেওয়া এবং হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে বিভেদ তৈরি করা।
৪১. কোন ব্রিটিশ কর্মকর্তা বলেছিলেন, “Bengal united is a power. Bengal divided will pull in several different ways”?
(A) লর্ড কার্জন
(B) এইচ. এইচ. রিসলে
(C) লর্ড মিন্টো
(D) অ্যান্ড্রু ফ্রেজার
সঠিক উত্তর: (B) এইচ. এইচ. রিসলে
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: এইচ. এইচ. রিসলে, যিনি তৎকালীন স্বরাষ্ট্র সচিব ছিলেন, বঙ্গভঙ্গের মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে এই বিখ্যাত উক্তিটি করেছিলেন। এর অর্থ হলো, “অখণ্ড বাংলা একটি শক্তি। বিভক্ত বাংলা বিভিন্ন দিকে চালিত হবে।” এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে বঙ্গভঙ্গের উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক, প্রশাসনিক নয়।
৪২. ‘বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
(A) জগদীশচন্দ্র বসু
(B) প্রফুল্লচন্দ্র রায়
(C) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(D) নীলরতন সরকার
সঠিক উত্তর: (B) প্রফুল্লচন্দ্র রায়
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: স্বদেশী আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ১৯০১ সালে ‘বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস’ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল ভারতের প্রথম ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি এবং স্বদেশী শিল্পের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
৪৩. কিংসফোর্ডকে হত্যার চেষ্টার সাথে কোন দুই বিপ্লবী যুক্ত ছিলেন?
(A) বারীন্দ্র ঘোষ ও অরবিন্দ ঘোষ
(B) প্রফুল্ল চাকী ও ক্ষুদিরাম বসু
(C) বাঘা যতীন ও রাসবিহারী বসু
(D) বিনয় ও বাদল
সঠিক উত্তর: (B) প্রফুল্ল চাকী ও ক্ষুদিরাম বসু
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: অত্যাচারী ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যার জন্য যুগান্তর দল প্রফুল্ল চাকী এবং ক্ষুদিরাম বসুকে পাঠায়। ১৯০৮ সালের ৩০শে এপ্রিল মুজাফফরপুরে তাঁরা ভুল করে অন্য একটি গাড়িতে বোমা নিক্ষেপ করেন, যাতে দুজন ব্রিটিশ মহিলা নিহত হন। প্রফুল্ল চাকী ধরা পড়ার আগে আত্মহত্যা করেন এবং ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসি হয়।
৪৪. ‘ডন সোসাইটি’ (Dawn Society) কে প্রতিষ্ঠা করেন?
(A) অরবিন্দ ঘোষ
(B) ভগিনী নিবেদিতা
(C) সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়
(D) অশ্বিনীকুমার দত্ত
সঠিক উত্তর: (C) সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯০২ সালে সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় কলকাতায় ‘ডন সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল ছাত্রদের মধ্যে ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়া এবং তাদের জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা। স্বদেশী আন্দোলনের সময় জাতীয় শিক্ষা প্রসারে এই সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৪৫. স্বদেশী আন্দোলনের সময় জাতীয়তাবাদী শিল্পীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়ান সোসাইটি অফ ওরিয়েন্টাল আর্ট’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক কে ছিলেন?
(A) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(B) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(C) নন্দলাল বসু
(D) লর্ড কার্জন
সঠিক উত্তর: (B) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: স্বদেশী আন্দোলনের সময় ভারতীয় শিল্পকলাকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নেতৃত্বে ‘ইন্ডিয়ান সোসাইটি অফ ওরিয়েন্টাল আর্ট’ (১৯০৭) প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি এবং তাঁর ছাত্ররা (যেমন নন্দলাল বসু) পাশ্চাত্য শিল্পের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী চিত্রকলা রীতির চর্চা শুরু করেন, যা ‘বেঙ্গল স্কুল অফ আর্ট’ নামে পরিচিত।
৪৬. স্বদেশী আন্দোলনে কোন শ্রেণী সবচেয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিল?
(A) কৃষক শ্রেণী
(B) শ্রমিক শ্রেণী
(C) মধ্যবিত্ত ও ছাত্র সমাজ
(D) জমিদার শ্রেণী
সঠিক উত্তর: (C) মধ্যবিত্ত ও ছাত্র সমাজ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: স্বদেশী আন্দোলন মূলত শহর-কেন্দ্রিক ছিল এবং এর প্রধান শক্তি ছিল শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী, আইনজীবী, শিক্ষক এবং ছাত্র সমাজ। যদিও কিছু কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল, কিন্তু এর ব্যাপকতা মূলত মধ্যবিত্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
৪৭. ‘The Moderate and the Extremist’ নামক প্রবন্ধে স্বদেশী আন্দোলনের বিশ্লেষণ কে করেছেন?
(A) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(B) অরবিন্দ ঘোষ
(C) গোপাল কৃষ্ণ গোখলে
(D) বাল গঙ্গাধর তিলক
সঠিক উত্তর: (A) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর বিভিন্ন প্রবন্ধে স্বদেশী আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। ‘The Moderate and the Extremist’ (মূল বাংলায় ‘সমস্যা’) প্রবন্ধে তিনি নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের মধ্যে বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে গঠনমূলক স্বদেশী কাজের উপর জোর দিয়েছিলেন।
৪৮. ঢাকা অনুশীলন সমিতির প্রধান সংগঠক কে ছিলেন?
(A) বারীন্দ্রকুমার ঘোষ
(B) বাঘা যতীন
(C) পুলিনবিহারী দাস
(D) প্রমথনাথ মিত্র
সঠিক উত্তর: (C) পুলিনবিহারী দাস
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯০৫ সালে প্রমথনাথ মিত্রের নির্দেশে পুলিনবিহারী দাস ঢাকায় অনুশীলন সমিতির একটি শাখা খোলেন। তাঁর অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতায় ঢাকা অনুশীলন সমিতি পূর্ববঙ্গের সবচেয়ে শক্তিশালী বিপ্লবী সংগঠনে পরিণত হয়, যার প্রায় ৫০০টি শাখা ছিল।
৪৯. কোন আইন দ্বারা ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করে?
(A) ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট, ১৯০৯
(B) গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া অ্যাক্ট, ১৯১৯
(C) দিল্লি দরবারের ঘোষণা, ১৯১১
(D) ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যাক্ট, ১৯৪৭
সঠিক উত্তর: (C) দিল্লি দরবারের ঘোষণা, ১৯১১
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বঙ্গভঙ্গ রদ কোনো নির্দিষ্ট আইন দ্বারা হয়নি। এটি ছিল সম্রাট পঞ্চম জর্জের একটি রাজকীয় ঘোষণা, যা ১৯১১ সালের ১২ই ডিসেম্বর দিল্লির দরবারে করা হয়েছিল। এই ঘোষণার মাধ্যমে বঙ্গভঙ্গ বাতিল করা হয় এবং ভাষাগত ভিত্তিতে বাংলা প্রদেশকে পুনর্গঠিত করা হয়।
৫০. স্বদেশী আন্দোলনের সময় প্রতিষ্ঠিত একটি বিখ্যাত কাপড়ের কলের নাম কী?
(A) টাটা আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানি
(B) মোহিনী মিলস
(C) বেঙ্গল কেমিক্যালস
(D) ক্যালকাটা পটারি
সঠিক উত্তর: (B) মোহিনী মিলস
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: স্বদেশী আন্দোলনের সময় দেশীয় বস্ত্রশিল্পকে উৎসাহিত করার জন্য বেশ কিছু কাপড়ের কল প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়ায় প্রতিষ্ঠিত মোহিনী মিলস ছিল অন্যতম বিখ্যাত। এটি স্বদেশী উদ্যোগে বস্ত্র উৎপাদনে একটি সফল প্রচেষ্টা ছিল।
৫১. স্বদেশী আন্দোলনকে ‘কৃষক বিমুখ’ বলে কে সমালোচনা করেছেন?
(A) জওহরলাল নেহেরু
(B) সুভাষচন্দ্র বসু
(C) ঐতিহাসিক সুমিত সরকার
(D) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর: (C) ঐতিহাসিক সুমিত সরকার
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ঐতিহাসিক সুমিত সরকার তাঁর ‘The Swadeshi Movement in Bengal, 1903-1908’ বইতে দেখিয়েছেন যে স্বদেশী আন্দোলন মূলত উচ্চবর্ণের হিন্দু জমিদার ও মধ্যবিত্তদের দ্বারা পরিচালিত ছিল। অনেক ক্ষেত্রে দরিদ্র মুসলিম কৃষকদের উপর জোর করে বিদেশি পণ্য বয়কট চাপিয়ে দেওয়া হয়, ফলে তারা এই আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
৫২. ‘বঙ্গমাতা’ চিত্রটি কে এঁকেছিলেন, যা পরে ‘ভারতমাতা’ নামে পরিচিত হয়?
(A) নন্দলাল বসু
(B) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(C) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(D) যামিনী রায়
সঠিক উত্তর: (C) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯০৫ সালে স্বদেশী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘বঙ্গমাতা’ চিত্রটি আঁকেন। ছবিতে একজন গেরুয়া বসনা তপস্বিনীকে দেখানো হয়েছে, যিনি শিক্ষা, বস্ত্র, অন্ন ও দীক্ষা দান করছেন। ভগিনী নিবেদিতা এই ছবিটির নাম দেন ‘ভারতমাতা’ এবং এটি জাতীয়তাবাদের প্রতীকে পরিণত হয়।
৫৩. ৭ই আগস্ট, ১৯০৫ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
(A) বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়
(B) কলকাতা টাউন হলে স্বদেশী আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়
(C) বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা করা হয়
(D) অনুশীলন সমিতি গঠিত হয়
সঠিক উত্তর: (B) কলকাতা টাউন হলে স্বদেশী আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯০৫ সালের ৭ই আগস্ট কলকাতার টাউন হলে একটি বিশাল জনসভায় বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে স্বদেশী আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই সভাতেই বয়কট প্রস্তাব পাস করা হয়।
৫৪. আলিপুর বোমা মামলায় সরকারি সাক্ষী কে হয়েছিলেন?
(A) কানাইলাল দত্ত
(B) সত্যেন্দ্রনাথ বসু
(C) নরেন গোঁসাই
(D) উল্লাসকর দত্ত
সঠিক উত্তর: (C) নরেন গোঁসাই
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: আলিপুর বোমা মামলায় বিপ্লবী নরেন গোঁসাই পুলিশের চাপে রাজসাক্ষী বা সরকারি সাক্ষী হতে রাজি হন। বিশ্বাসঘাতকতার জন্য জেলের ভিতরেই কানাইলাল দত্ত এবং সত্যেন্দ্রনাথ বসু তাকে হত্যা করেন।
৫৫. স্বদেশী আন্দোলনের সময় পূর্ববঙ্গের মুসলিম কৃষকদের ব্রিটিশদের পক্ষে সংগঠিত করতে কোন নেতা সক্রিয় ছিলেন?
(A) মহম্মদ আলি জিন্না
(B) আগা খান
(C) নবাব সলিমুল্লাহ
(D) ফজলুল হক
সঠিক উত্তর: (C) নবাব সলিমুল্লাহ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ বঙ্গভঙ্গের সমর্থক ছিলেন। তিনি মনে করতেন, নতুন ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ প্রদেশে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়বে। তিনি স্বদেশী আন্দোলনের বিরোধিতা করেন এবং মুসলিমদের এই আন্দোলন থেকে দূরে রাখতে সচেষ্ট হন, যা সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে আরও গভীর করে তোলে।
বিভাগ ৩: পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী এবং ব্রিটিশদের ডিভাইড এবং রুল নীতি
৫৬. কোন আইনের মাধ্যমে ভারতে প্রথম পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী (Separate Electorate) চালু করা হয়?
(A) ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট, ১৮৯২
(B) মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন, ১৯০৯
(C) মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার আইন, ১৯১৯
(D) ভারত শাসন আইন, ১৯৩৫
সঠিক উত্তর: (B) মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন, ১৯০৯
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯০৯ সালের মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার মুসলিমদের জন্য পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর ব্যবস্থা করে। এর অর্থ হলো, মুসলিম ভোটাররা শুধুমাত্র মুসলিম প্রার্থীকেই ভোট দিতে পারবেন। এটি ছিল ব্রিটিশদের ‘Divide and Rule’ (বিভাজন ও শাসন) নীতির একটি বড় পদক্ষেপ, যা হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভেদ তৈরি করে।
৫৭. মুসলিম লীগের কোন অধিবেশনে পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর দাবি তোলা হয়?
(A) ঢাকা, ১৯০৬
(B) অমৃতসর, ১৯০৮
(C) করাচি, ১৯০৭
(D) লখনউ, ১৯১৬
সঠিক উত্তর: (B) অমৃতসর, ১৯০৮
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯০৬ সালে আগা খানের নেতৃত্বে একটি মুসলিম প্রতিনিধি দল ভাইসরয় লর্ড মিন্টোর সাথে সিমলায় দেখা করে মুসলিমদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দাবি করে। এরপর ১৯০৮ সালে মুসলিম লীগের অমৃতসর অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর দাবি তোলা হয়, যা ব্রিটিশরা ১৯০৯ সালের আইনে মেনে নেয়।
৫৮. ১৯০৬ সালে সিমলা ডেপুটেশন-এর নেতৃত্ব কে দেন?
(A) নবাব সলিমুল্লাহ
(B) মহম্মদ আলি জিন্না
(C) আগা খান
(D) সৈয়দ আমির আলি
সঠিক উত্তর: (C) আগা খান
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯০৬ সালের ১লা অক্টোবর আগা খানের নেতৃত্বে ৩৫ জন ধনী ও অভিজাত মুসলিম নেতার একটি প্রতিনিধি দল ভাইসরয় লর্ড মিন্টোর সাথে সিমলায় দেখা করে। এই ‘সিমলা ডেপুটেশন’ মুসলিমদের জন্য আইনসভায় পৃথক নির্বাচন এবং সরকারি চাকরিতে বিশেষ সংরক্ষণের দাবি জানায়।
৫৯. মর্লে-মিন্টো সংস্কারের সময় ভারতের ভাইসরয় কে ছিলেন?
(A) লর্ড মর্লে
(B) লর্ড মিন্টো
(C) লর্ড কার্জন
(D) লর্ড হার্ডিঞ্জ
সঠিক উত্তর: (B) লর্ড মিন্টো
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯০৯ সালের সংস্কার আইনের সময় লর্ড মিন্টো (দ্বিতীয়) ছিলেন ভারতের ভাইসরয় এবং জন মর্লে ছিলেন ভারত সচিব (Secretary of State for India)। তাই এই আইনটি ‘মর্লে-মিন্টো সংস্কার’ নামে পরিচিত। লর্ড মিন্টোকে ভারতে সাম্প্রদায়িক নির্বাচনের জনক বলা হয়।
৬০. লখনউ চুক্তি (১৯১৬) কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?
(A) কংগ্রেস ও ব্রিটিশ সরকার
(B) মুসলিম লীগ ও ব্রিটিশ সরকার
(C) কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ
(D) নরমপন্থী ও চরমপন্থী
সঠিক উত্তর: (C) কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯১৬ সালের লখনউ-এ কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশন একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। এই অধিবেশনে উভয় দলের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ‘লখনউ চুক্তি’ নামে পরিচিত। এই চুক্তির মাধ্যমে কংগ্রেস মুসলিমদের জন্য পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর দাবিকে স্বীকৃতি দেয় এবং উভয় দল ব্রিটিশদের কাছে একযোগে সাংবিধানিক সংস্কারের দাবি জানায়।
৬১. কোন আইন দ্বারা শিখ, ভারতীয় খ্রিস্টান এবং অ্যাংলো-ইন্ডিয়ানদের জন্য পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী প্রসারিত করা হয়?
(A) মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন, ১৯০৯
(B) মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার আইন, ১৯১৯
(C) ভারত শাসন আইন, ১৯৩৫
(D) সাইমন কমিশন রিপোর্ট, ১৯৩০
সঠিক উত্তর: (B) মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার আইন, ১৯১৯
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯১৯ সালের মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার আইন (ভারত শাসন আইন, ১৯১৯) সাম্প্রদায়িক নির্বাচকমণ্ডলীর নীতিকে আরও প্রসারিত করে। মুসলিমদের পাশাপাশি শিখ, ভারতীয় খ্রিস্টান, অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান এবং ইউরোপীয়দের জন্যও পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়। এটি ব্রিটিশদের ‘বিভাজন ও শাসন’ নীতির আরও একটি ধাপ ছিল।
৬২. ‘সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা’ (Communal Award) কে ঘোষণা করেন?
(A) লর্ড আরউইন
(B) উইনস্টন চার্চিল
(C) র্যামসে ম্যাকডোনাল্ড
(D) ক্লিমেন্ট অ্যাটলি
সঠিক উত্তর: (C) র্যামসে ম্যাকডোনাল্ড
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৩২ সালের আগস্ট মাসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র্যামসে ম্যাকডোনাল্ড ‘সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা’ ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টানদের পাশাপাশি অনুন্নত শ্রেণী বা দলিতদের জন্যও পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর ব্যবস্থা করা হয়। গান্ধীজি হিন্দু সমাজকে বিভক্ত করার এই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করেন।
৬৩. সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারার প্রতিবাদে গান্ধীজি কোথায় আমরণ অনশন শুরু করেন?
(A) সবরমতী আশ্রম, আমেদাবাদ
(B) ইয়েরওয়াড়া জেল, পুনে
(C) আগা খান প্যালেস, পুনে
(D) সেলুলার জেল, আন্দামান
সঠিক উত্তর: (B) ইয়েরওয়াড়া জেল, পুনে
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: দলিতদের জন্য পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর মাধ্যমে হিন্দু সমাজকে বিভক্ত করার ব্রিটিশ চক্রান্তের বিরুদ্ধে গান্ধীজি ১৯৩২ সালের ২০শে সেপ্টেম্বর পুনের ইয়েরওয়াড়া জেলে বন্দি অবস্থায় আমরণ অনশন শুরু করেন।
৬৪. পুনা চুক্তি (Poona Pact) কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?
(A) গান্ধীজি ও জিন্না
(B) গান্ধীজি ও লর্ড আরউইন
(C) গান্ধীজি ও বি. আর. আম্বেদকর
(D) নেহেরু ও জিন্না
সঠিক উত্তর: (C) গান্ধীজি ও বি. আর. আম্বেদকর
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: গান্ধীজির অনশনের ফলে সৃষ্ট চাপের কারণে দলিত নেতা ডঃ বি. আর. আম্বেদকর তাঁর সাথে আলোচনায় বসেন। ১৯৩২ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর গান্ধীজি (হিন্দু নেতাদের পক্ষে) এবং আম্বেদকরের (দলিতদের পক্ষে) মধ্যে পুনা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে দলিতদের জন্য পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর দাবি প্রত্যাহার করা হয় এবং তার পরিবর্তে প্রাদেশিক আইনসভায় তাদের জন্য আসন সংরক্ষণ (১৪৮টি আসন) করা হয়।
৬৫. ব্রিটিশদের ‘Divide and Rule’ নীতির আনুষ্ঠানিক সূচনা কোন ঘটনাকে ধরা হয়?
(A) সিপাহী বিদ্রোহ দমন
(B) বঙ্গভঙ্গ
(C) কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা
(D) ভারত শাসন আইন, ১৮৫৮
সঠিক উত্তর: (B) বঙ্গভঙ্গ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: যদিও ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর থেকেই ব্রিটিশরা ভারতীয়দের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছিল, কিন্তু ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ছিল এই নীতির প্রথম সুস্পষ্ট এবং বৃহৎ আকারের প্রয়োগ। এর মাধ্যমে ধর্মীয় লাইনে বাংলা ভাগ করে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা করা হয়।
৬৬. ভারত শাসন আইন, ১৯৩৫-এ পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী কাদের জন্য প্রসারিত করা হয়েছিল?
(A) শুধুমাত্র মুসলিমদের জন্য
(B) মুসলিম ও শিখদের জন্য
(C) নারী, শ্রমিক ও অনুন্নত শ্রেণীর জন্য
(D) শুধুমাত্র ভারতীয় খ্রিস্টানদের জন্য
সঠিক উত্তর: (C) নারী, শ্রমিক ও অনুন্নত শ্রেণীর জন্য
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ‘বিভাজন ও শাসন’ নীতিকে আরও গভীরে নিয়ে যায়। এই আইনে মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টানদের পাশাপাশি নারী, শ্রমিক এবং অনুন্নত শ্রেণীর (Scheduled Castes) জন্যও পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর ব্যবস্থা করা হয়, যার ফলে ভারতীয় সমাজ আরও খণ্ডিত হয়ে পড়ে।
৬৭. কে বলেছিলেন যে মর্লে-মিন্টো সংস্কার “আমাদেরকে ড্রাগনের দাঁত উপহার দিয়েছে এবং এর ফসল হবে তিক্ত”?
(A) জওহরলাল নেহেরু
(B) লর্ড মর্লে
(C) একজন কংগ্রেস নেতা
(D) ভাইসরয় মিন্টোর কাছে লেখা একটি চিঠিতে ভারত সচিব মর্লে
সঠিক উত্তর: (D) ভাইসরয় মিন্টোর কাছে লেখা একটি চিঠিতে ভারত সচিব মর্লে
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: যদিও জন মর্লে এই সংস্কারের অন্যতম প্রণেতা ছিলেন, তিনি এর দীর্ঘমেয়াদী বিপদ সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। তিনি ভাইসরয় মিন্টোকে লেখা একটি ব্যক্তিগত চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন যে পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী চালু করে তাঁরা এমন বীজ বপন করছেন যার ফল হবে তিক্ত এবং যা ভারতের ঐক্যকে চিরতরে নষ্ট করে দেবে।
৬৮. লখনউ চুক্তির প্রধান স্থপতি (architect) হিসেবে কাদের গণ্য করা হয়?
(A) গান্ধীজি ও নেহেরু
(B) বাল গঙ্গাধর তিলক ও মহম্মদ আলি জিন্না
(C) আগা খান ও ফিরোজ শাহ মেহতা
(D) অ্যানি বেসান্ত ও মতিলাল নেহেরু
সঠিক উত্তর: (B) বাল গঙ্গাধর তিলক ও মহম্মদ আলি জিন্না
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯১৬ সালের ঐতিহাসিক লখনউ চুক্তি সম্পাদনের পিছনে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বাল গঙ্গাধর তিলক এবং মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে মহম্মদ আলি জিন্না প্রধান ভূমিকা পালন করেন। এই সময় জিন্নাকে ‘হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের দূত’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়েছিল।
৬৯. ব্রিটিশদের বিভাজন নীতির মূল লক্ষ্য কী ছিল?
(A) ভারতের প্রশাসনিক উন্নতি
(B) ভারতীয়দের মধ্যে গণতন্ত্রের প্রসার
(C) ক্রমবর্ধমান জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দুর্বল করা
(D) সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করা
সঠিক উত্তর: (C) ক্রমবর্ধমান জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দুর্বল করা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয় জাতীয়তাবাদ যখন ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছিল, তখন ব্রিটিশরা এটিকে দুর্বল করার জন্য ‘বিভাজন ও শাসন’ নীতি গ্রহণ করে। হিন্দু-মুসলিম, উচ্চবর্ণ-নিম্নবর্ণ, বিভিন্ন প্রদেশের মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে তারা ঐক্যবদ্ধ স্বাধীনতা আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছিল।
৭০. কোন কংগ্রেস নেতা লখনউ চুক্তিতে পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী মেনে নেওয়ার সমালোচনা করেছিলেন?
(A) জওহরলাল নেহেরু
(B) সুভাষচন্দ্র বসু
(C) মদন মোহন মালব্য
(D) সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল
সঠিক উত্তর: (C) মদন মোহন মালব্য
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: যদিও কংগ্রেসের বেশিরভাগ নেতা হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের স্বার্থে লখনউ চুক্তিকে সমর্থন করেছিলেন, মদন মোহন মালব্যের মতো কিছু হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতা এর তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁরা মনে করতেন যে পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী মেনে নেওয়া দেশের ঐক্যের জন্য আত্মঘাতী হবে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদকে উৎসাহিত করবে।
৭১. ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর ব্রিটিশরা কোন নীতির পরিবর্তন করে?
(A) তারা ভারতীয়দের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ বন্ধ করে দেয়
(B) তারা ‘বিভক্ত করো ও শাসন করো’ নীতি থেকে সরে আসে
(C) তারা মুসলিমদের তোষণ এবং হিন্দুদের বিরুদ্ধে নীতি নেয়
(D) তারা ‘মার্শাল’ ও ‘নন-মার্শাল’ জাতির ধারণা তৈরি করে সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করে
সঠিক উত্তর: (D) তারা ‘মার্শাল’ ও ‘নন-মার্শাল’ জাতির ধারণা তৈরি করে সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করে
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহে বিভিন্ন প্রদেশের সিপাহীরা ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় ব্রিটিশরা আতঙ্কিত হয়। এরপর তারা সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করে। যে সমস্ত জাতি (যেমন গুর্খা, শিখ, পাঠান) বিদ্রোহে অংশ নেয়নি বা ব্রিটিশদের সাহায্য করেছিল, তাদের ‘মার্শাল রেস’ বা যোদ্ধা জাতি হিসেবে চিহ্নিত করে সেনাবাহিনীতে বেশি সংখ্যায় নিয়োগ করা হয়। অন্যদিকে, যারা বিদ্রোহ করেছিল (যেমন অযোধ্যার সিপাহী), তাদের ‘নন-মার্শাল’ আখ্যা দিয়ে নিয়োগ কমিয়ে দেওয়া হয়। এটিও বিভাজন নীতির একটি অংশ ছিল।
৭২. “হিন্দু ও মুসলমান হল ভারতের দুটি চোখ” – এই ধারণা প্রচারের মাধ্যমে কে ঐক্যের চেষ্টা করেছিলেন, যদিও পরে তাঁর চিন্তাধারার পরিবর্তন হয়?
(A) মহম্মদ আলি জিন্না
(B) নবাব সলিমুল্লাহ
(C) স্যার সৈয়দ আহমেদ খান
(D) বদরুদ্দিন তৈয়বজি
সঠিক উত্তর: (C) স্যার সৈয়দ আহমেদ খান
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: প্রথম জীবনে স্যার সৈয়দ আহমেদ খান হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রবক্তা ছিলেন এবং বলতেন, “হিন্দু ও মুসলমান হল ভারতের সুন্দর বধূটির দুটি চোখ।” কিন্তু পরবর্তীকালে, বিশেষ করে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর, তিনি ব্রিটিশদের প্রভাবে মুসলিমদের জন্য পৃথক রাজনৈতিক পথের কথা বলতে শুরু করেন, যা বিভাজন নীতিকে সহায়তা করে।
৭৩. পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর চূড়ান্ত পরিণতি কী ছিল?
(A) ভারতের স্বাধীনতা লাভ
(B) ভারত বিভাগ
(C) হিন্দু-মুসলিম ঐক্য
(D) ব্রিটিশ শাসনের অবসান
সঠিক উত্তর: (B) ভারত বিভাগ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯০৯ সালে শুরু হওয়া পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী ব্যবস্থা হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক প্রাচীর তৈরি করে। এই ব্যবস্থা মুসলিমদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনীতির জন্ম দেয়, যা ‘দ্বি-জাতি তত্ত্ব’-এর মাধ্যমে বিকশিত হয় এবং এর চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগ।
৭৪. কোন গোলটেবিল বৈঠকে কংগ্রেস অংশগ্রহণ করেনি?
(A) প্রথম ও দ্বিতীয়
(B) দ্বিতীয় ও তৃতীয়
(C) প্রথম ও তৃতীয়
(D) শুধুমাত্র তৃতীয়
সঠিক উত্তর: (C) প্রথম ও তৃতীয়
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে আলোচনার জন্য তিনটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। আইন অমান্য আন্দোলনের কারণে কংগ্রেস প্রথম বৈঠকে (১৯৩০) যোগ দেয়নি। গান্ধী-আরউইন চুক্তির পর শুধুমাত্র দ্বিতীয় বৈঠকে (১৯৩১) গান্ধীজি কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। কিন্তু আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় কংগ্রেস তৃতীয় বৈঠকে (১৯৩২) অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে।
৭৫. দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী নিয়ে কাদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক হয়?
(A) গান্ধীজি ও জিন্না
(B) গান্ধীজি ও আম্বেদকর
(C) জিন্না ও তেজ বাহাদুর সপ্রু
(D) নেহেরু ও জিন্না
সঠিক উত্তর: (B) গান্ধীজি ও আম্বেদকর
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে ডঃ বি. আর. আম্বেদকর অনুন্নত শ্রেণী বা দলিতদের জন্য পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর দাবি তোলেন। গান্ধীজি তীব্রভাবে এর বিরোধিতা করেন, কারণ তিনি মনে করতেন এটি হিন্দু সমাজকে চিরতরে বিভক্ত করে দেবে। এই বিতর্ক অমীমাংসিত থাকায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র্যামসে ম্যাকডোনাল্ড পরে ‘সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা’ ঘোষণা করেন।
বিভাগ ৪: গান্ধি ও ভারতীয় জাতীয়তাবাদ
৭৬. মহাত্মা গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে ফেরেন কোন সালে?
(A) ১৯০৫
(B) ১৯১১
(C) ১৯১৫
(D) ১৯১৯
সঠিক উত্তর: (C) ১৯১৫
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: প্রায় ২১ বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে সফল সত্যাগ্রহ আন্দোলন চালানোর পর মহাত্মা গান্ধী ১৯১৫ সালের ৯ই জানুয়ারি ভারতে ফিরে আসেন। এই দিনটি বর্তমানে ‘প্রবাসী ভারতীয় দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।
৭৭. ভারতে গান্ধীজির প্রথম সত্যাগ্রহ কোনটি ছিল?
(A) খেদা সত্যাগ্রহ
(B) চম্পারণ সত্যাগ্রহ
(C) আমেদাবাদ মিল ধর্মঘট
(D) রাওলাট সত্যাগ্রহ
সঠিক উত্তর: (B) চম্পারণ সত্যাগ্রহ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯১৭ সালে বিহারের চম্পারণে নীল চাষীদের উপর ব্রিটিশদের ‘তিনকাঠিয়া’ ব্যবস্থার (জমির ৩/২০ অংশে নীল চাষ বাধ্যতামূলক) বিরুদ্ধে গান্ধীজি ভারতে তাঁর প্রথম সফল সত্যাগ্রহ আন্দোলন করেন। এই আন্দোলনের ফলে তিনকাঠিয়া প্রথা রদ হয়।
৭৮. গান্ধীজির রাজনৈতিক গুরু কে ছিলেন?
(A) বাল গঙ্গাধর তিলক
(B) দাদাভাই নওরোজি
(C) গোপাল কৃষ্ণ গোখলে
(D) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর: (C) গোপাল কৃষ্ণ গোখলে
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: নরমপন্থী নেতা গোপাল কৃষ্ণ গোখলের পরামর্শেই গান্ধীজি ভারতে ফিরে এসে এক বছর ধরে দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেননি। গান্ধীজি গোখলেকে তাঁর রাজনৈতিক গুরু বা পরামর্শদাতা হিসেবে মানতেন।
৭৯. গান্ধীজিকে ‘মহাত্মা’ উপাধি কে দেন?
(A) জওহরলাল নেহেরু
(B) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(C) সুভাষচন্দ্র বসু
(D) মতিলাল নেহেরু
সঠিক উত্তর: (B) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: চম্পারণ সত্যাগ্রহের সাফল্যের পর, ১৯১৭ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গান্ধীজিকে একটি চিঠিতে ‘মহাত্মা’ (মহান আত্মা) বলে সম্বোধন করেন। এরপর থেকেই এই উপাধিটি তাঁর নামের সাথে যুক্ত হয়ে যায়।
৮০. আমেদাবাদ মিল ধর্মঘট (১৯১৮) কীসের জন্য হয়েছিল?
(A) কাজের সময় কমানোর জন্য
(B) প্লেগ বোনাস নিয়ে মালিক-শ্রমিক বিরোধ
(C) মিল বন্ধের বিরুদ্ধে
(D) শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে
সঠিক উত্তর: (B) প্লেগ বোনাস নিয়ে মালিক-শ্রমিক বিরোধ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: আমেদাবাদের কাপড়ের কলের মালিকরা প্লেগ মহামারীর সময় দেওয়া বোনাস প্রত্যাহার করতে চাইলে শ্রমিকরা ৩৫% মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ধর্মঘট করে। গান্ধীজি এই আন্দোলনে হস্তক্ষেপ করেন এবং প্রথমবার ভারতে ‘অনশন’কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন। অবশেষে মালিকরা দাবি মেনে নেয়।
৮১. রাওলাট আইন (১৯১৯) এর মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
(A) সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করা
(B) বিপ্লবী কার্যকলাপ দমনের জন্য বিনা বিচারে আটক করার ক্ষমতা
(C) ভারতীয়দের ভোটাধিকার দেওয়া
(D) বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ
সঠিক উত্তর: (B) বিপ্লবী কার্যকলাপ দমনের জন্য বিনা বিচারে আটক করার ক্ষমতা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিপ্লবী কার্যকলাপ দমনের উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সরকার বিচারপতি সিডনি রাওলাটের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে। এই কমিটির সুপারিশে রাওলাট আইন পাস হয়, যার মাধ্যমে সরকারকে যেকোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বিনা বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক রাখার অবাধ ক্ষমতা দেওয়া হয়। এই আইন ‘কালা কানুন’ নামে পরিচিত ছিল।
৮২. জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড কবে ঘটেছিল?
(A) ৬ এপ্রিল, ১৯১৯
(B) ১০ এপ্রিল, ১৯১৯
(C) ১৩ এপ্রিল, ১৯১৯
(D) ১৬ মে, ১৯১৯
সঠিক উত্তর: (C) ১৩ এপ্রিল, ১৯১৯
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯১৯ সালের ১৩ই এপ্রিল, পাঞ্জাবের অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে রাওলাট আইনের প্রতিবাদে এবং স্থানীয় নেতা ডঃ সত্যপাল ও সইফুদ্দিন কিচলুর গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সভা চলছিল। জেনারেল রেজিনাল্ড ডায়ারের নির্দেশে ব্রিটিশ সৈন্যরা নিরস্ত্র জনতার উপর নির্বিচারে গুলি চালায়, যার ফলে শত শত মানুষ নিহত ও আহত হন।
৮৩. জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কে ‘নাইট’ উপাধি ত্যাগ করেন?
(A) মহাত্মা গান্ধী
(B) মতিলাল নেহেরু
(C) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(D) দাদাভাই নওরোজি
সঠিক উত্তর: (C) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: জালিয়ানওয়ালাবাগের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া ‘নাইটহুড’ বা ‘স্যার’ উপাধি ত্যাগ করেন। তিনি ভাইসরয়কে লেখা একটি চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
৮৪. গান্ধীজির ‘সত্যাগ্রহ’ ধারণার মূল ভিত্তি কী?
(A) হিংসা ও প্রতিশোধ
(B) সত্য ও অহিংসা
(C) বয়কট ও পিকেটিং
(D) আবেদন ও নিবেদন
সঠিক উত্তর: (B) সত্য ও অহিংসা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ‘সত্যাগ্রহ’ শব্দের অর্থ ‘সত্যের প্রতি আগ্রহ বা आग्रह’। গান্ধীজির মতে, এটি একটি নৈতিক শক্তি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে, কিন্তু প্রতিপক্ষের প্রতি কোনো ঘৃণা বা হিংসা না রেখে, অহিংস পদ্ধতিতে। আত্মনিগ্রহের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের হৃদয় পরিবর্তন করাই এর লক্ষ্য।
৮৫. ‘হিন্দ স্বরাজ’ বইটি কে লিখেছেন?
(A) জওহরলাল নেহেরু
(B) মহাত্মা গান্ধী
(C) সর্দার প্যাটেল
(D) বাল গঙ্গাধর তিলক
সঠিক উত্তর: (B) মহাত্মা গান্ধী
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: মহাত্মা গান্ধী ১৯০৯ সালে ইংল্যান্ড থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা ফেরার পথে জাহাজে ‘হিন্দ স্বরাজ’ বইটি রচনা করেন। এই বইতে তিনি আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতা, শিল্পায়ন এবং যন্ত্রনির্ভরতার সমালোচনা করেন এবং ভারতের জন্য গ্রাম-কেন্দ্রিক, স্বনির্ভর এক নতুন সমাজ ব্যবস্থার রূপরেখা দেন।
৮৬. খিলাফৎ আন্দোলনের প্রধান দাবি কী ছিল?
(A) ভারতে মুসলিমদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র
(B) তুরস্কের সুলতানের (খলিফা) ক্ষমতা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা
(C) মুসলিমদের জন্য সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ
(D) মসজিদে লাউডস্পিকার ব্যবহারের অধিকার
সঠিক উত্তর: (B) তুরস্কের সুলতানের (খলিফা) ক্ষমতা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্ক জার্মানির পক্ষে পরাজিত হলে, বিজয়ী ব্রিটিশরা তুরস্কের সুলতানের ক্ষমতা খর্ব করার সিদ্ধান্ত নেয়। তুরস্কের সুলতান ছিলেন সারা বিশ্বের মুসলিমদের ধর্মগুরু বা খলিফা। তাঁর সম্মান রক্ষার জন্য ভারতের মুসলিমরা যে আন্দোলন শুরু করে, তাই খিলাফৎ আন্দোলন নামে পরিচিত।
৮৭. সর্বভারতীয় খিলাফৎ কমিটির সভাপতি কে নির্বাচিত হয়েছিলেন?
(A) মহম্মদ আলি জিন্না
(B) শওকত আলি
(C) মৌলানা আবুল কালাম আজাদ
(D) মহাত্মা গান্ধী
সঠিক উত্তর: (D) মহাত্মা গান্ধী
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: গান্ধীজি খিলাফৎ সমস্যাকে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের একটি সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন। তাঁর এই মনোভাবের কারণে ১৯১৯ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় খিলাফৎ কমিটির অধিবেশনে তাঁকে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
৮৮. চম্পারণে গান্ধীজিকে কে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন?
(A) ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ
(B) জে. বি. কৃপালনী
(C) রাজকুমার শুক্লা
(D) ব্রজকিশোর প্রসাদ
সঠিক উত্তর: (C) রাজকুমার শুক্লা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: রাজকুমার শুক্লা ছিলেন চম্পারণের একজন সাধারণ নীল চাষী। তিনি নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের কথা শুনে গান্ধীজির সাথে দেখা করেন এবং তাঁকে চম্পারণে এসে চাষীদের অবস্থা সরেজমিনে দেখার জন্য ও তাদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান।
৮৯. গান্ধীজি কোন পত্রিকা সম্পাদনা করতেন না?
(A) ইয়ং ইন্ডিয়া (Young India)
(B) হরিজন (Harijan)
(C) নবজীবন (Navjivan)
(D) বন্দেমাতরম (Vande Mataram)
সঠিক উত্তর: (D) বন্দেমাতরম (Vande Mataram)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ‘ইয়ং ইন্ডিয়া’ (ইংরেজি), ‘হরিজন’ (ইংরেজি) এবং ‘নবজীবন’ (গুজরাটি ও হিন্দি) পত্রিকাগুলি গান্ধীজি সম্পাদনা করতেন। ‘বন্দেমাতরম’ পত্রিকাটি চরমপন্থী নেতা অরবিন্দ ঘোষ সম্পাদনা করতেন।
৯০. খেদা সত্যাগ্রহ (১৯১৮) কীসের জন্য হয়েছিল?
(A) নীল চাষের বিরুদ্ধে
(B) মজুরি বৃদ্ধির জন্য
(C) ফসল নষ্ট হওয়া সত্ত্বেও খাজনা মকুব না করার বিরুদ্ধে
(D) বন আইন ভঙ্গের জন্য
সঠিক উত্তর: (C) ফসল নষ্ট হওয়া সত্ত্বেও খাজনা মকুব না করার বিরুদ্ধে
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯১৮ সালে গুজরাটের খেদা জেলায় অতিবৃষ্টির কারণে ফসল নষ্ট হয়ে যায়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ফসল উৎপাদন স্বাভাবিকের এক-চতুর্থাংশের কম হলে খাজনা মকুব হওয়ার কথা। কিন্তু সরকার খাজনা মকুব করতে রাজি না হওয়ায় গান্ধীজি ও সর্দার প্যাটেলের নেতৃত্বে কৃষকরা খাজনা না দেওয়ার আন্দোলন শুরু করে, যা খেদা সত্যাগ্রহ নামে পরিচিত।
৯১. জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য ব্রিটিশ সরকার কোন কমিশন গঠন করে?
(A) সাইমন কমিশন
(B) হান্টার কমিশন
(C) বাটলার কমিশন
(D) স্যাডলার কমিশন
সঠিক উত্তর: (B) হান্টার কমিশন
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভারতীয়দের চাপে এবং বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে ব্রিটিশ সরকার ১৯১৯ সালের অক্টোবর মাসে লর্ড হান্টারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, যা হান্টার কমিশন নামে পরিচিত। তবে এই কমিশন জেনারেল ডায়ারকে সামান্য তিরস্কার করে ছেড়ে দেয়, যা ভারতীয়দের আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে।
৯২. গান্ধীজি দক্ষিণ আফ্রিকায় কোন ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
(A) সবরমতী আশ্রম
(B) সেবাগ্রাম
(C) ফিনিক্স ফার্ম ও টলস্টয় ফার্ম
(D) আনন্দবন
সঠিক উত্তর: (C) ফিনিক্স ফার্ম ও টলস্টয় ফার্ম
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকাকালীন গান্ধীজি তাঁর সত্যাগ্রহের আদর্শ অনুযায়ী জীবনযাপনের জন্য দুটি আশ্রম বা কমিউনিটি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমটি হলো ডারবানের কাছে ফিনিক্স ফার্ম (১৯০৪) এবং দ্বিতীয়টি জোহানেসবার্গের কাছে টলস্টয় ফার্ম (১৯১০)।
৯৩. গান্ধীজির আত্মজীবনীর নাম কী?
(A) হিন্দ স্বরাজ
(B) ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া
(C) দ্য স্টোরি অফ মাই এক্সপেরিমেন্টস উইথ ট্রুথ
(D) ইন্ডিয়া উইনস ফ্রিডম
সঠিক উত্তর: (C) দ্য স্টোরি অফ মাই এক্সপেরিমেন্টস উইথ ট্রুথ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: গান্ধীজির আত্মজীবনীর নাম হলো ‘The Story of my Experiments with Truth’ (সত্যের সঙ্গে আমার সন্ধানের কাহিনী)। এটি তিনি মূলত গুজরাটি ভাষায় লিখেছিলেন এবং পরে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।
৯৪. গান্ধীজিকে ‘জাতির জনক’ (Father of the Nation) বলে কে প্রথম সম্বোধন করেন?
(A) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(B) জওহরলাল নেহেরু
(C) সর্দার প্যাটেল
(D) সুভাষচন্দ্র বসু
সঠিক উত্তর: (D) সুভাষচন্দ্র বসু
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৪৪ সালের ৬ই জুলাই সিঙ্গাপুর থেকে আজাদ হিন্দ রেডিও-তে একটি ভাষণ দেওয়ার সময় সুভাষচন্দ্র বসু মহাত্মা গান্ধীকে ‘জাতির জনক’ বলে সম্বোধন করেন এবং ভারতের মুক্তির জন্য তাঁর আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।
৯৫. গান্ধীজির ‘সর্বোদয়’ ধারণার অর্থ কী?
(A) সকলের শাসন
(B) সকলের উন্নতি
(C) সকলের জন্য শিক্ষা
(D) সকলের জন্য সমান অধিকার
সঠিক উত্তর: (B) সকলের উন্নতি
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: গান্ধীজি জন রাসকিনের ‘Unto This Last’ বইটি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ‘সর্বোদয়’ ধারণাটি গ্রহণ করেন। এর অর্থ হলো ‘সকলের উন্নতি’ বা ‘সকলের কল্যাণ’। এই ধারণায় সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষটির উন্নতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
৯৬. রাওলাট সত্যাগ্রহের সময় গান্ধীজি কোন সংগঠনের প্রতিষ্ঠা করেন?
(A) খিলাফৎ কমিটি
(B) স্বরাজ পার্টি
(C) সত্যাগ্রহ সভা
(D) হরিজন সেবক সংঘ
সঠিক উত্তর: (C) সত্যাগ্রহ সভা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অহিংস আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য গান্ধীজি বোম্বাইতে ‘সত্যাগ্রহ সভা’ প্রতিষ্ঠা করেন। এই সভার সদস্যরা আইন অমান্য করে এবং গ্রেপ্তার বরণ করার শপথ নেন।
৯৭. গান্ধীজির মতে ‘রামরাজ্য’ কী?
(A) একটি হিন্দু রাষ্ট্র
(B) ঈশ্বরের রাজ্য বা আদর্শ রাষ্ট্র
(C) রাজতন্ত্র
(D) স্বৈরতন্ত্র
সঠিক উত্তর: (B) ঈশ্বরের রাজ্য বা আদর্শ রাষ্ট্র
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: গান্ধীজির ‘রামরাজ্য’ কোনো ধর্মীয় রাষ্ট্র ছিল না। এটি ছিল একটি আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণা, যেখানে সত্য, অহিংসা, সাম্য এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে। এটি এমন একটি রাষ্ট্র যেখানে দরিদ্রতম ব্যক্তিও অনুভব করবে যে এটি তার দেশ।
৯৮. ভারতে গান্ধীজির প্রথম গণ-আন্দোলন কোনটি?
(A) চম্পারণ সত্যাগ্রহ
(B) অসহযোগ আন্দোলন
(C) আইন অমান্য আন্দোলন
(D) ভারত ছাড়ো আন্দোলন
সঠিক উত্তর: (B) অসহযোগ আন্দোলন
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: চম্পারণ, খেদা এবং আমেদাবাদ ছিল আঞ্চলিক আন্দোলন। ১৯২০ সালে শুরু হওয়া অসহযোগ আন্দোলনই ছিল গান্ধীজির নেতৃত্বে প্রথম সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলন, যেখানে ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, নারী নির্বিশেষে সমাজের সকল স্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করে।
৯৯. জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী জেনারেল ডায়ারকে কে লন্ডনে হত্যা করেন?
(A) ভগত সিং
(B) চন্দ্রশেখর আজাদ
(C) উধম সিং
(D) রাসবিহারী বসু
সঠিক উত্তর: (C) উধম সিং
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: পাঞ্জাবের বিপ্লবী উধম সিং জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নেন। ঘটনার ২১ বছর পর, ১৯৪০ সালে তিনি লন্ডনের ক্যাক্সটন হলে পাঞ্জাবের তৎকালীন লেফটেন্যান্ট-গভর্নর মাইকেল ও’ডায়ারকে (যিনি জেনারেল ডায়ারের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছিলেন) গুলি করে হত্যা করেন। এর জন্য উধম সিং-এর ফাঁসি হয়।
১০০. গান্ধীজির ‘অছি ব্যবস্থা’ বা Trusteeship ধারণার মূল বক্তব্য কী?
(A) সমস্ত সম্পত্তি রাষ্ট্রের অধীনে থাকবে
(B) ধনী ব্যক্তিরা তাদের অতিরিক্ত সম্পত্তি সমাজের কল্যাণের জন্য ‘অছি’ হিসেবে ব্যবহার করবে
(C) সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা হবে
(D) ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিলোপ সাধন
সঠিক উত্তর: (B) ধনী ব্যক্তিরা তাদের অতিরিক্ত সম্পত্তি সমাজের কল্যাণের জন্য ‘অছি’ হিসেবে ব্যবহার করবে
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: গান্ধীজির অছি বা ট্রাস্টিশিপ ধারণাটি ছিল শ্রেণী-সংঘাত এড়ানোর একটি উপায়। এই মতবাদ অনুসারে, ধনী ব্যক্তিরা তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি না ভেবে সমাজের আমানত হিসেবে দেখবেন। তারা হবেন সেই সম্পদের ‘অছি’ বা ট্রাস্টি এবং সমাজের কল্যাণের জন্য তা ব্যবহার করবেন।
বিভাগ ৫: অসহযোগ, আইন অমান্য, ভারতছাড়ো আন্দোলন
১০১. কোন ঘটনার প্রতিবাদে গান্ধীজি অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন?
(A) বঙ্গভঙ্গ
(B) সাইমন কমিশন
(C) জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড ও খিলাফৎ সমস্যা
(D) ক্রিপস মিশন
সঠিক উত্তর: (C) জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড ও খিলাফৎ সমস্যা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯১৯ সালের রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতার প্রতিকার না পাওয়া, এবং তুরস্কের খলিফার সম্মান রক্ষার্থে খিলাফৎ আন্দোলনের সমর্থনে গান্ধীজি ১৯২০ সালে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন।
১০২. অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তাব কংগ্রেসের কোন অধিবেশনে গৃহীত হয়?
(A) কলকাতা বিশেষ অধিবেশন, ১৯২০
(B) নাগপুর অধিবেশন, ১৯২০
(C) আমেদাবাদ অধিবেশন, ১৯২১
(D) গয়া অধিবেশন, ১৯২২
সঠিক উত্তর: (B) নাগপুর অধিবেশন, ১৯২০
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: যদিও ১৯২০ সালের সেপ্টেম্বরে কলকাতার বিশেষ অধিবেশনে অসহযোগের প্রস্তাব পাস হয়েছিল, কিন্তু সি. আর. দাশের মতো অনেক নেতা এর বিরোধিতা করেন। পরে, ১৯২০ সালের ডিসেম্বরে নাগপুর অধিবেশনে সি. আর. দাশ নিজেই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন এবং এটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এই অধিবেশনেই কংগ্রেসের লক্ষ্য ‘স্বরাজ’ অর্জন ধার্য করা হয়।
১০৩. কোন ঘটনার কারণে গান্ধীজি অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন?
(A) জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড
(B) চৌরি-চৌরার ঘটনা
(C) লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা
(D) গান্ধী-আরউইন চুক্তি
সঠিক উত্তর: (B) চৌরি-চৌরার ঘটনা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯২২ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর জেলার চৌরি-চৌরা নামক স্থানে উত্তেজিত জনতা একটি পুলিশ থানায় আগুন লাগিয়ে দেয়, যার ফলে ২২ জন পুলিশ কর্মী নিহত হন। এই হিংসাত্মক ঘটনায় ব্যথিত হয়ে গান্ধীজি, যিনি অহিংসার পূজারী ছিলেন, আন্দোলনটি প্রত্যাহার করে নেন।
১০৪. স্বরাজ্য দল (Swaraj Party) কারা প্রতিষ্ঠা করেন?
(A) মহাত্মা গান্ধী ও জওহরলাল নেহেরু
(B) সর্দার প্যাটেল ও রাজেন্দ্র প্রসাদ
(C) চিত্তরঞ্জন দাশ ও মতিলাল নেহেরু
(D) সুভাষচন্দ্র বসু ও শরৎচন্দ্র বসু
সঠিক উত্তর: (C) চিত্তরঞ্জন দাশ ও মতিলাল নেহেরু
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহারের পর কংগ্রেসের মধ্যে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। চিত্তরঞ্জন দাশ, মতিলাল নেহেরু প্রমুখ নেতারা আইনসভায় প্রবেশ করে সরকারের কাজে বাধা দেওয়ার পক্ষে ছিলেন। এই গোষ্ঠীর নাম ছিল ‘পরিবর্তনপন্থী’ (Pro-changers)। তাঁরা ১৯২৩ সালে ‘কংগ্রেস-খিলাফৎ স্বরাজ্য দল’ প্রতিষ্ঠা করেন। চিত্তরঞ্জন দাশ ছিলেন সভাপতি এবং মতিলাল নেহেরু সম্পাদক।
১০৫. সাইমন কমিশন কেন বয়কট করা হয়েছিল?
(A) এটি খুব দেরিতে পাঠানো হয়েছিল
(B) এতে কোনো ভারতীয় সদস্য ছিলেন না
(C) এটি ভারতের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল
(D) এটি মুসলিম লীগকে সমর্থন করেছিল
সঠিক উত্তর: (B) এতে কোনো ভারতীয় সদস্য ছিলেন না
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯১৯ সালের আইনের কার্যকারিতা পর্যালোচনার জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৯২৭ সালে স্যার জন সাইমনের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করে। কিন্তু সাত সদস্যের এই কমিশনে কোনো ভারতীয় সদস্য না থাকায় এটিকে ভারতীয়রা জাতীয় অপমান হিসেবে দেখে। তাই কংগ্রেস, মুসলিম লীগ সহ প্রায় সমস্ত দল ‘সাইমন গো ব্যাক’ স্লোগান দিয়ে এই কমিশন বয়কট করে।
১০৬. কংগ্রেসের কোন অধিবেশনে ‘পূর্ণ স্বরাজ’-এর প্রস্তাব গৃহীত হয়?
(A) কলকাতা, ১৯২৮
(B) লাহোর, ১৯২৯
(C) করাচি, ১৯৩১
(D) লখনউ, ১৯৩৬
সঠিক উত্তর: (B) লাহোর, ১৯২৯
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯২৯ সালে জওহরলাল নেহেরুর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত কংগ্রেস অধিবেশনে ‘পূর্ণ স্বরাজ’ বা সম্পূর্ণ স্বাধীনতার প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই অধিবেশনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ১৯৩০ সালের ২৬শে জানুয়ারি দিনটিকে ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে।
১০৭. ডান্ডি অভিযান কোন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত?
(A) অসহযোগ আন্দোলন
(B) আইন অমান্য আন্দোলন
(C) ভারত ছাড়ো আন্দোলন
(D) স্বদেশী আন্দোলন
সঠিক উত্তর: (B) আইন অমান্য আন্দোলন
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৩০ সালে ব্রিটিশদের লবণ আইনের প্রতিবাদে গান্ধীজি সবরমতী আশ্রম থেকে ডান্ডি সমুদ্রতট পর্যন্ত ঐতিহাসিক পদযাত্রা করেন, যা ‘ডান্ডি অভিযান’ বা ‘লবণ সত্যাগ্রহ’ নামে পরিচিত। এই যাত্রার মাধ্যমে তিনি লবণ তৈরি করে আইন ভঙ্গ করেন এবং দেশব্যাপী আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা করেন।
১০৮. ডান্ডি যাত্রা কবে শুরু হয়?
(A) ২৬ জানুয়ারি, ১৯৩০
(B) ১২ মার্চ, ১৯৩০
(C) ৬ এপ্রিল, ১৯৩০
(D) ৫ মার্চ, ১৯৩১
সঠিক উত্তর: (B) ১২ মার্চ, ১৯৩০
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: গান্ধীজি তাঁর ৭৮ জন অনুগামীকে নিয়ে ১৯৩০ সালের ১২ই মার্চ সবরমতী আশ্রম থেকে ২৪ দিন ধরে প্রায় ২৪০ মাইল হেঁটে ৬ই এপ্রিল ডান্ডি পৌঁছান। সেখানে তিনি সমুদ্রের জল থেকে লবণ তৈরি করে লবণ আইন ভঙ্গ করেন।
১০৯. সীমান্ত গান্ধী (Frontier Gandhi) নামে কে পরিচিত ছিলেন?
(A) মহম্মদ আলি জিন্না
(B) খান আব্দুল গফফর খান
(C) মৌলানা আজাদ
(D) শওকত আলি
সঠিক উত্তর: (B) খান আব্দুল গফফর খান
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: খান আব্দুল গফফর খান ছিলেন উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের একজন পাঠান নেতা এবং গান্ধীজির একনিষ্ঠ অনুগামী। তিনি আইন অমান্য আন্দোলনের সময় ‘খোদাই খিদমতগার’ (ঈশ্বরের সেবক) নামে একটি অহিংস সংগঠন গড়ে তোলেন। তাঁর অনুগামীরা লাল পোশাক পরত বলে এই সংগঠন ‘লাল কোর্তা বাহিনী’ নামেও পরিচিত। তাঁকে ‘সীমান্ত গান্ধী’ বা ‘বাদশা খান’ বলা হয়।
১১০. গান্ধী-আরউইন চুক্তি কবে স্বাক্ষরিত হয়?
(A) ১৯৩০
(B) ১৯৩১
(C) ১৯৩২
(D) ১৯৩৩
সঠিক উত্তর: (B) ১৯৩১
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৩১ সালের ৫ই মার্চ মহাত্মা গান্ধী এবং ভারতের ভাইসরয় লর্ড আরউইনের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা গান্ধী-আরউইন চুক্তি নামে পরিচিত। এই চুক্তির মাধ্যমে কংগ্রেস আইন অমান্য আন্দোলন স্থগিত রাখতে এবং দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দিতে সম্মত হয়। সরকারও রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দিতে রাজি হয়।
১১১. করাচি অধিবেশনে (১৯৩১) কংগ্রেসের মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত প্রস্তাবের খসড়া কে তৈরি করেন?
(A) মহাত্মা গান্ধী
(B) সর্দার প্যাটেল
(C) জওহরলাল নেহেরু
(D) বি. আর. আম্বেদকর
সঠিক উত্তর: (C) জওহরলাল নেহেরু
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৩১ সালের করাচি অধিবেশনে (সভাপতি: সর্দার প্যাটেল) দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয় – একটি গান্ধী-আরউইন চুক্তিকে সমর্থন করে এবং অন্যটি মৌলিক অধিকার ও জাতীয় অর্থনৈতিক কর্মসূচি সংক্রান্ত। এই ঐতিহাসিক মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত প্রস্তাবটির খসড়া তৈরি করেছিলেন জওহরলাল নেহেরু।
১১২. “করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে” (Do or Die) স্লোগানটি কোন আন্দোলনের সময় দেওয়া হয়েছিল?
(A) খিলাফৎ আন্দোলন
(B) আইন অমান্য আন্দোলন
(C) ব্যক্তিগত সত্যাগ্রহ
(D) ভারত ছাড়ো আন্দোলন
সঠিক উত্তর: (D) ভারত ছাড়ো আন্দোলন
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৪২ সালের ৮ই আগস্ট বোম্বাই-এর গোয়ালিয়া ট্যাঙ্ক ময়দানে কংগ্রেসের অধিবেশনে গান্ধীজি ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ডাক দেন। এই সময় তিনি জাতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন “করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে”, যার অর্থ হয় আমরা স্বাধীনতা অর্জন করব অথবা সেই চেষ্টায় মৃত্যুবরণ করব।
১১৩. ভারত ছাড়ো আন্দোলনের প্রস্তাব কে উত্থাপন করেন?
(A) মহাত্মা গান্ধী
(B) জওহরলাল নেহেরু
(C) সর্দার প্যাটেল
(D) মৌলানা আবুল কালাম আজাদ
সঠিক উত্তর: (B) জওহরলাল নেহেরু
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৪২ সালের ৮ই আগস্ট বোম্বাই অধিবেশনে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন জওহরলাল নেহেরু। প্রস্তাবটি সমর্থন করেছিলেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল।
১১৪. ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় কে প্রথম সমান্তরাল সরকার (parallel government) প্রতিষ্ঠা করেন?
(A) নানা পাটিল
(B) চিত্তু পান্ডে
(C) জয়প্রকাশ নারায়ণ
(D) রাম মনোহর লোহিয়া
সঠিক উত্তর: (B) চিত্তু পান্ডে
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্রিটিশ শাসন অচল করে দিয়ে সমান্তরাল জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর মধ্যে প্রথমটি ছিল উত্তরপ্রদেশের বালিয়াতে, যা চিত্তু পান্ডের নেতৃত্বে গঠিত হয়।
১১৫. ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় কংগ্রেস রেডিও কে পরিচালনা করতেন?
(A) অরুণা আসফ আলি
(B) উষা মেহতা
(C) সরোজিনী নাইডু
(D) সুচেতা কৃপালনী
সঠিক উত্তর: (B) উষা মেহতা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় যখন সমস্ত বড় নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়, তখন উষা মেহতা এবং তাঁর সহযোগীরা বোম্বাইতে একটি গোপন রেডিও স্টেশন স্থাপন করেন। এই ‘কংগ্রেস রেডিও’-র মাধ্যমে তাঁরা আন্দোলনের খবর, গান্ধীজির বার্তা এবং অন্যান্য তথ্য প্রচার করে আন্দোলনকে জিইয়ে রাখতে সাহায্য করেন।
১১৬. ক্রিপস মিশন কবে ভারতে আসে?
(A) ১৯৪০
(B) ১৯৪১
(C) ১৯৪২
(D) ১৯৪৩
সঠিক উত্তর: (C) ১৯৪২
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের অগ্রগতির ফলে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের সমর্থন লাভের জন্য স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপসের নেতৃত্বে ১৯৪২ সালের মার্চ মাসে একটি মিশন ভারতে পাঠায়। এই মিশন যুদ্ধের পর ভারতকে ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস এবং সংবিধান রচনার অধিকার দেওয়ার প্রস্তাব দেয়।
১১৭. কে ক্রিপস মিশনের প্রস্তাবকে ‘a post-dated cheque on a crashing bank’ (একটি ফেল করা ব্যাঙ্কের উপর ভবিষ্যতের তারিখ দেওয়া চেক) বলে অভিহিত করেন?
(A) জওহরলাল নেহেরু
(B) সর্দার প্যাটেল
(C) মহাত্মা গান্ধী
(D) সুভাষচন্দ্র বসু
সঠিক উত্তর: (C) মহাত্মা গান্ধী
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ক্রিপস মিশনের প্রস্তাবে অবিলম্বে পূর্ণ স্বাধীনতা না দিয়ে যুদ্ধের পরে ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাসের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, যা কংগ্রেসের কাছে অগ্রহণযোগ্য ছিল। গান্ধীজি এই প্রস্তাবকে একটি ‘পোস্ট-ডেটেড চেক’ বলে অভিহিত করেন। জওহরলাল নেহেরু এর সাথে ‘on a crashing bank’ (একটি ডুবন্ত ব্যাঙ্কের উপর) কথাটি যোগ করেন বলে মনে করা হয়।
১১৮. আইন অমান্য আন্দোলনের সময় তামিলনাড়ুতে লবণ সত্যাগ্রহের নেতৃত্ব কে দেন?
(A) কে. কামরাজ
(B) সি. রাজাগোপালাচারী
(C) টি. প্রকাশম
(D) কে. কেলাপ্পান
সঠিক উত্তর: (B) সি. রাজাগোপালাচারী
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: গান্ধীজির ডান্ডি যাত্রার অনুপ্রেরণায়, সি. রাজাগোপালাচারী (রাজাজি) তামিলনাড়ুতে ত্রিচিনোপল্লী থেকে ভেদারান্নিয়াম পর্যন্ত একটি লবণ পদযাত্রার আয়োজন করেন এবং আইন অমান্য আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।
১১৯. সাইমন কমিশন বিরোধী আন্দোলনের সময় লাঠির আঘাতে কোন নেতার মৃত্যু হয়?
(A) বাল গঙ্গাধর তিলক
(B) বিপিন চন্দ্র পাল
(C) লালা লাজপত রায়
(D) চিত্তরঞ্জন দাশ
সঠিক উত্তর: (C) লালা লাজপত রায়
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯২৮ সালে লাহোরে সাইমন কমিশনের বিরুদ্ধে একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় পুলিশ সুপার স্যান্ডার্সের নির্দেশে লালা লাজপত রায়ের উপর নির্মমভাবে লাঠিচার্জ করা হয়। এই আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং কয়েক সপ্তাহ পরে মারা যান।
১২০. ‘নেহেরু রিপোর্ট’-এর প্রধান সুপারিশ কী ছিল?
(A) পূর্ণ স্বরাজ
(B) ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস
(C) পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী
(D) ভারতকে কয়েকটি প্রদেশে ভাগ করা
সঠিক উত্তর: (B) ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সাইমন কমিশনের জবাবে ভারতীয়রা নিজেদের সংবিধান তৈরি করতে সক্ষম কি না, সেই চ্যালেঞ্জের উত্তরে মতিলাল নেহেরুর সভাপতিত্বে একটি কমিটি গঠিত হয়। ১৯২৮ সালে এই কমিটি যে রিপোর্ট পেশ করে (নেহেরু রিপোর্ট), তাতে ভারতের জন্য ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস বা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে স্বায়ত্তশাসনের দাবি করা হয়। এটি পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর পরিবর্তে যুক্ত নির্বাচনের প্রস্তাব দেয়।
১২১. আইন অমান্য আন্দোলনের সময় ধারাসানা লবণ ক্ষেত্রে সত্যাগ্রহীদের নেতৃত্ব কে দেন?
(A) মহাত্মা গান্ধী
(B) জওহরলাল নেহেরু
(C) সরোজিনী নাইডু
(D) সর্দার প্যাটেল
সঠিক উত্তর: (C) সরোজিনী নাইডু
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: গান্ধীজিকে গ্রেপ্তার করার পর ধারাসানায় সরকারি লবণ ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ অভিযান চালানোর দায়িত্ব নেন আব্বাস তৈয়বজি। তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হলে সরোজিনী নাইডু, ইমাম সাহেব এবং মণিলাল গান্ধী এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন। পুলিশ সত্যাগ্রহীদের উপর নির্মম অত্যাচার চালায়, যা আমেরিকান সাংবাদিক ওয়েব মিলার তাঁর রিপোর্টে তুলে ধরেন এবং বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
১২২. ভারত ছাড়ো আন্দোলনকে ‘August Kranti’ বা ‘আগস্ট বিপ্লব’ বলা হয় কেন?
(A) এটি আগস্ট মাসে শুরু হয়েছিল
(B) এটি আগস্ট মাসে শেষ হয়েছিল
(C) আগস্ট মাসে নেতারা মুক্তি পেয়েছিলেন
(D) এটি একটি রক্তাক্ত বিপ্লব ছিল
সঠিক উত্তর: (A) এটি আগস্ট মাসে শুরু হয়েছিল
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৪২ সালের ৮ই আগস্ট ভারত ছাড়ো আন্দোলনের প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং ৯ই আগস্ট থেকে আন্দোলন শুরু হওয়ার কথা ছিল। যেহেতু এটি আগস্ট মাসে শুরু হয়েছিল, তাই একে ‘আগস্ট ক্রান্তি’ বা ‘আগস্ট বিপ্লব’ বলা হয়।
১২৩. ব্যক্তিগত সত্যাগ্রহ (Individual Satyagraha) আন্দোলনের প্রথম সত্যাগ্রহী কে ছিলেন?
(A) মহাত্মা গান্ধী
(B) জওহরলাল নেহেরু
(C) বিনোবা ভাবে
(D) সর্দার প্যাটেল
সঠিক উত্তর: (C) বিনোবা ভাবে
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ভারতকে জোর করে জড়ানোর প্রতিবাদে গান্ধীজি ১৯৪০ সালে ব্যক্তিগত সত্যাগ্রহ শুরু করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল সীমিত আকারে যুদ্ধবিরোধী প্রচার চালানো। গান্ধীজি কর্তৃক নির্বাচিত প্রথম সত্যাগ্রহী ছিলেন আচার্য বিনোবা ভাবে। দ্বিতীয় সত্যাগ্রহী ছিলেন জওহরলাল নেহেরু।
১২৪. ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় বিহারে আন্দোলনের নেতৃত্ব কে দেন এবং পরে নেপালে পালিয়ে গিয়ে ‘আজাদ দস্তা’ গঠন করেন?
(A) রাজেন্দ্র প্রসাদ
(B) রাম মনোহর লোহিয়া
(C) জয়প্রকাশ নারায়ণ
(D) অচ্যুত পটবর্ধন
সঠিক উত্তর: (C) জয়প্রকাশ নারায়ণ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় সমাজতন্ত্রী নেতা জয়প্রকাশ নারায়ণ (জেপি) হাজারিবাগ জেল থেকে পালিয়ে যান। তিনি নেপালের তরাই অঞ্চলে আত্মগোপন করেন এবং ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধের জন্য ‘আজাদ দস্তা’ নামে একটি বাহিনী গঠন করেন।
১২৫. অসহযোগ আন্দোলনের সময় কোন বিখ্যাত আইনজীবী তাঁর আইন ব্যবসা ত্যাগ করেননি?
(A) মতিলাল নেহেরু
(B) চিত্তরঞ্জন দাশ
(C) মহম্মদ আলি জিন্না
(D) সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল
সঠিক উত্তর: (C) মহম্মদ আলি জিন্না
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: মতিলাল নেহেরু, সি. আর. দাশ, সর্দার প্যাটেল, রাজেন্দ্র প্রসাদ প্রমুখ বহু খ্যাতনামা আইনজীবী গান্ধীজির ডাকে সাড়া দিয়ে তাঁদের lucrative আইন ব্যবসা ত্যাগ করেন। কিন্তু মহম্মদ আলি জিন্না গান্ধীজির অসহযোগ ও খিলাফৎ নীতির সঙ্গে একমত ছিলেন না এবং তিনি কংগ্রেসে থেকেও এই আন্দোলনে যোগ দেননি। পরে তিনি কংগ্রেস ত্যাগ করেন।
১২৬. আইন অমান্য আন্দোলনের সময় মণিপুরে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব কে দেন?
(A) রানি গাইডিনলু
(B) কনকলতা বড়ুয়া
(C) মাতঙ্গিনী হাজরা
(D) সরোজিনী নাইডু
সঠিক উত্তর: (A) রানি গাইডিনলু
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: নাগাল্যান্ড ও মণিপুরের নাগা উপজাতির কিশোরী নেত্রী রানি গাইডিনলু মাত্র ১৩ বছর বয়সে আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দেন। তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনা করেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জওহরলাল নেহেরু তাঁকে ‘রানি’ উপাধি দেন।
১২৭. কোন আইনকে ভিত্তি করে সাইমন কমিশন গঠিত হয়েছিল?
(A) মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন, ১৯০৯
(B) ভারত শাসন আইন, ১৯১৯
(C) রাওলাট আইন, ১৯১৯
(D) ভারত শাসন আইন, ১৯৩৫
সঠিক উত্তর: (B) ভারত শাসন আইন, ১৯১৯
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভারত শাসন আইন, ১৯১৯ (মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার)-এ বলা হয়েছিল যে, আইনটি কার্যকর হওয়ার ১০ বছর পর এর কার্যকারিতা পর্যালোচনার জন্য একটি বিধিবদ্ধ কমিশন (Statutory Commission) গঠন করা হবে। সেই অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই ১৯২৭ সালে সাইমন কমিশন গঠন করা হয়।
১২৮. ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় বাংলার মেদিনীপুর জেলার তমলুকে গঠিত সমান্তরাল সরকারের নাম কী ছিল?
(A) তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার
(B) ভারত সরকার
(C) আজাদ হিন্দ সরকার
(D) স্বদেশী সরকার
সঠিক উত্তর: (A) তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সমান্তরাল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাংলার মেদিনীপুর জেলার তমলুকে। এটি ‘তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার’ নামে পরিচিত ছিল এবং এর সর্বাধিনায়ক ছিলেন সতীশচন্দ্র সামন্ত। এই সরকার প্রায় দুই বছর (১৯৪২-১৯৪৪) টিকেছিল।
১২৯. অসহযোগ আন্দোলনের সময় গঠিত ‘তিলক স্বরাজ ফান্ড’-এর লক্ষ্যমাত্রা কত ছিল?
(A) ৫০ লক্ষ টাকা
(B) ১ কোটি টাকা
(C) ৫ কোটি টাকা
(D) ১০ কোটি টাকা
সঠিক উত্তর: (B) ১ কোটি টাকা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: অসহযোগ আন্দোলনের আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য বাল গঙ্গাধর তিলকের স্মরণে ‘তিলক স্বরাজ ফান্ড’ গঠন করা হয়। এর লক্ষ্য ছিল ১ কোটি টাকা সংগ্রহ করা। ভারতীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে যায়।
১৩০. চৌরি-চৌরার ঘটনার সময় গান্ধীজি কোথায় ছিলেন?
(A) চৌরি-চৌরা
(B) দিল্লি
(C) সবরমতী
(D) বারদোলি
সঠিক উত্তর: (D) বারদোলি
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: চৌরি-চৌরার হিংসাত্মক ঘটনার খবর যখন গান্ধীজির কাছে পৌঁছায়, তখন তিনি গুজরাটের বারদোলিতে ছিলেন। তিনি সেখান থেকেই একটি বড় আকারের আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই ঘটনার পর তিনি কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটিকে ডেকে অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।
১৩১. ‘অপারেশন জিরো আওয়ার’ কীসের সাথে সম্পর্কিত?
(A) আইন অমান্য আন্দোলন
(B) ভারত ছাড়ো আন্দোলন
(C) নৌ-বিদ্রোহ
(D) ভারত বিভাগ
সঠিক উত্তর: (B) ভারত ছাড়ো আন্দোলন
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ৮ই আগস্ট, ১৯৪২-এ ভারত ছাড়ো প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর ব্রিটিশ সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। ৯ই আগস্ট ভোরের আগেই ‘অপারেশন জিরো আওয়ার’ চালিয়ে গান্ধীজি সহ কংগ্রেসের সমস্ত শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাতে আন্দোলন শুরুতেই নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ে।
১৩২. কোন আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি ছিল?
(A) স্বদেশী আন্দোলন
(B) অসহযোগ আন্দোলন
(C) আইন অমান্য আন্দোলন
(D) উপরের সবগুলিতেই সমান
সঠিক উত্তর: (C) আইন অমান্য আন্দোলন
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: যদিও সমস্ত জাতীয় আন্দোলনেই নারীরা অংশগ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু আইন অমান্য আন্দোলনে তাঁদের অংশগ্রহণ ছিল अभूतपूर्व। গান্ধীজির আহ্বানে হাজার হাজার নারী ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসে লবণ সত্যাগ্রহে যোগ দেন, বিদেশি মদের দোকানের সামনে পিকেটিং করেন এবং কারাবরণ করেন। সরোজিনী নাইডু, কমলাদেবী চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ নেত্রীরা এই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৩৩. কোন আন্দোলনের সময় ‘No-changers’ এবং ‘Pro-changers’-এর মধ্যে বিভাজন দেখা দেয়?
(A) স্বদেশী আন্দোলন
(B) অসহযোগ আন্দোলন
(C) আইন অমান্য আন্দোলন
(D) ভারত ছাড়ো আন্দোলন
সঠিক উত্তর: (B) অসহযোগ আন্দোলন
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহারের পর কংগ্রেসের মধ্যে দুটি গোষ্ঠীর সৃষ্টি হয়। যারা আইনসভায় প্রবেশ করে ব্রিটিশদের বিরোধিতা করতে চেয়েছিলেন, তাঁরা ‘Pro-changers’ বা পরিবর্তনপন্থী (যেমন সি. আর. দাশ, মতিলাল নেহেরু) নামে পরিচিত। আর যারা গান্ধীজির গঠনমূলক কর্মসূচিতে মনোনিবেশ করতে চেয়েছিলেন এবং আইনসভা বর্জনের পক্ষে ছিলেন, তাঁরা ‘No-changers’ বা অপরিবর্তনপন্থী (যেমন রাজেন্দ্র প্রসাদ, সর্দার প্যাটেল, সি. রাজাগোপালাচারী) নামে পরিচিত।
১৩৪. ‘For the first time in my life, I have seen a great man.’ – ডান্ডি যাত্রা সম্পর্কে এই উক্তিটি কার?
(A) লুই ফিশার
(B) ওয়েব মিলার
(C) জওহরলাল নেহেরু
(D) লর্ড আরউইন
সঠিক উত্তর: (B) ওয়েব মিলার
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: আমেরিকান সাংবাদিক ওয়েব মিলার আইন অমান্য আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে ভারতে এসেছিলেন। তিনি ধারাসানা লবণ ক্ষেত্রে সত্যাগ্রহীদের উপর পুলিশের বর্বর অত্যাচার প্রত্যক্ষ করেন এবং তাঁর রিপোর্টে গান্ধীজির অহিংস প্রতিরোধের শক্তির প্রশংসা করে এই মন্তব্য করেন।
১৩৫. ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় গান্ধীজিকে কোথায় বন্দী করে রাখা হয়েছিল?
(A) ইয়েরওয়াড়া জেল, পুনে
(B) আমেদনগর ফোর্ট
(C) আগা খান প্যালেস, পুনে
(D) সেলুলার জেল, আন্দামান
সঠিক উত্তর: (C) আগা খান প্যালেস, পুনে
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভারত ছাড়ো আন্দোলন শুরু হওয়ার পরেই গান্ধীজি, তাঁর স্ত্রী কস্তুরবা গান্ধী এবং সচিব মহাদেব দেশাইকে পুনের আগা খান প্যালেসে বন্দী করে রাখা হয়। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির অন্যান্য সদস্যদের আমেদনগর ফোর্টের জেলে রাখা হয়েছিল।
১৩৬. পেশোয়ারে গাড়োয়ালি সৈন্যদের আইন অমান্যকারী জনতার উপর গুলি চালাতে অস্বীকার করার ঘটনা কোন আন্দোলনের সময় ঘটে?
(A) অসহযোগ আন্দোলন
(B) আইন অমান্য আন্দোলন
(C) ভারত ছাড়ো আন্দোলন
(D) রাওলাট সত্যাগ্রহ
সঠিক উত্তর: (B) আইন অমান্য আন্দোলন
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনের সময় পেশোয়ারে খান আব্দুল গফফর খানের নেতৃত্বে অহিংস সত্যাগ্রহ চলছিল। ব্রিটিশ অফিসাররা গাড়োয়াল রাইফেলসের হিন্দু সৈন্যদের নিরস্ত্র মুসলিম জনতার উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিলে চন্দ্র সিং গাড়োয়ালির নেতৃত্বে সৈন্যরা তা করতে অস্বীকার করে। এটি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
১৩৭. ‘The parting of the ways’ উক্তিটি কোন ঘটনার পর মহম্মদ আলি জিন্না কংগ্রেস সম্পর্কে বলেছিলেন?
(A) নেহেরু রিপোর্ট প্রত্যাখ্যানের পর
(B) ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের এককভাবে সরকার গঠনের পর
(C) ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময়
(D) অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহারের পর
সঠিক উত্তর: (B) ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের এককভাবে সরকার গঠনের পর
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে কংগ্রেস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। মুসলিম লীগ আশা করেছিল যে তারা কংগ্রেসের সাথে জোট সরকার গঠন করবে। কিন্তু কংগ্রেস এককভাবে সরকার গঠন করলে জিন্না অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন এবং বলেন যে কংগ্রেস শুধুমাত্র হিন্দুদের দল। এই ঘটনার পর তিনি কংগ্রেসের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলেন এবং এই উক্তিটি করেন।
১৩৮. আইন অমান্য আন্দোলনের সময় সূর্য সেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন কবে হয়েছিল?
(A) ১৯২৯
(B) ১৯৩০
(C) ১৯৩১
(D) ১৯৩২
সঠিক উত্তর: (B) ১৯৩০
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: আইন অমান্য আন্দোলনের আবহে, ১৯৩০ সালের ১৮ই এপ্রিল মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মির বিপ্লবীরা চট্টগ্রামের পুলিশ অস্ত্রাগার এবং সহায়ক বাহিনীর অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করেন। এটি ছিল ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অন্যতম বড় সশস্ত্র অভিযান।
১৩৯. “When the world sleeps, India will awake to life and freedom” – এই বিখ্যাত উক্তিটি কে করেছিলেন?
(A) মহাত্মা গান্ধী
(B) সুভাষচন্দ্র বসু
(C) জওহরলাল নেহেরু
(D) সর্দার প্যাটেল
সঠিক উত্তর: (C) জওহরলাল নেহেরু
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট মধ্যরাত্রে ভারতের স্বাধীনতা লাভের মুহূর্তে গণপরিষদে জওহরলাল নেহেরু এই বিখ্যাত ভাষণটি দেন, যা ‘Tryst with Destiny’ (নিয়তির সাথে সাক্ষাৎকার) নামে পরিচিত। এই ভাষণেরই একটি অংশ হলো এই উক্তিটি।
১৪০. ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় কোন নেত্রী গোয়ালিয়া ট্যাঙ্ক ময়দানে ভারতের পতাকা উত্তোলন করেন?
(A) সরোজিনী নাইডু
(B) উষা মেহতা
(C) সুচেতা কৃপালনী
(D) অরুণা আসফ আলি
সঠিক উত্তর: (D) অরুণা আসফ আলি
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৪২ সালের ৯ই আগস্ট, যখন সমস্ত শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তখন অরুণা আসফ আলি সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে বোম্বাইয়ের গোয়ালিয়া ট্যাঙ্ক ময়দানে (বর্তমানে আগস্ট ক্রান্তি ময়দান) কংগ্রেসের পতাকা উত্তোলন করে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সূচনা করেন। তাঁকে ‘Heroine of 1942’ বলা হয়।
১৪১. অসহযোগ আন্দোলনের সময় কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি গড়ে উঠেছিল?
(A) কাশী বিদ্যাপীঠ
(B) গুজরাট বিদ্যাপীঠ
(C) জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া
(D) উপরের সবগুলি
সঠিক উত্তর: (D) উপরের সবগুলি
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: অসহযোগ আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল সরকারি স্কুল-কলেজ বর্জন করে জাতীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। এই সময়ে কাশী বিদ্যাপীঠ, গুজরাট বিদ্যাপীঠ, বিহার বিদ্যাপীঠ এবং জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া (আলিগড়ে শুরু, পরে দিল্লিতে স্থানান্তরিত) মতো অনেক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৪২. কোন ভারতীয় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী অসহযোগ আন্দোলনকে সমর্থন করলেও আইন অমান্য আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে?
(A) টাটা গোষ্ঠী
(B) বিড়লা ও ঠাকুরদাস গোষ্ঠী
(C) গোয়েঙ্কা গোষ্ঠী
(D) ডালমিয়া গোষ্ঠী
সঠিক উত্তর: (B) বিড়লা ও ঠাকুরদাস গোষ্ঠী
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: অসহযোগ আন্দোলনের সময় ভারতীয় ব্যবসায়ী শ্রেণী মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। কিন্তু আইন অমান্য আন্দোলনের সময় ঘনশ্যামদাস বিড়লা, পুরুষোত্তমদাস ঠাকুরদাসের মতো পুঁজিপতিরা ব্রিটিশদের অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে কংগ্রেসকে এবং আন্দোলনকে সক্রিয়ভাবে আর্থিক ও নৈতিক সমর্থন জানান।
১৪৩. ভারত ছাড়ো আন্দোলনকে ‘নেতৃত্বহীন আন্দোলন’ বলা হয় কেন?
(A) গান্ধীজি নেতৃত্ব দিতে অস্বীকার করেন
(B) আন্দোলন শুরু হওয়ার আগেই সমস্ত শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়
(C) নেতারা নিজেদের মধ্যে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন
(D) জনগণ নেতাদের নির্দেশ অমান্য করে
সঠিক উত্তর: (B) আন্দোলন শুরু হওয়ার আগেই সমস্ত শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ সরকার ‘অপারেশন জিরো আওয়ার’-এর মাধ্যমে ৯ই আগস্ট ভোরের মধ্যেই গান্ধীজি সহ কংগ্রেসের প্রথম সারির সমস্ত নেতাকে গ্রেপ্তার করে। ফলে আন্দোলনটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ ও দ্বিতীয় সারির নেতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
১৪৪. ‘Indian struggle’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
(A) জওহরলাল নেহেরু
(B) মহাত্মা গান্ধী
(C) সুভাষচন্দ্র বসু
(D) মৌলানা আজাদ
সঠিক উত্তর: (C) সুভাষচন্দ্র বসু
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ‘The Indian Struggle, 1920–1942’ বইটি সুভাষচন্দ্র বসু রচনা করেন। এই বইতে তিনি ১৯২০ থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, বিশেষ করে গান্ধীজির আন্দোলন এবং কংগ্রেসের বিভিন্ন কার্যকলাপের একটি সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ করেছেন।
১৪৫. আইন অমান্য আন্দোলনের প্রতীক কী ছিল?
(A) চরকা
(B) লবণ
(C) খাদি
(D) তেরঙ্গা পতাকা
সঠিক উত্তর: (A) চরকা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: যদিও লবণ আইন ভঙ্গ করে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, কিন্তু আইন অমান্য আন্দোলনের মূল প্রতীক ছিল চরকা। চরকা ছিল আত্মনির্ভরতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং ব্রিটিশ পণ্য বয়কটের প্রতীক। গান্ধীজি চরকাকে সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নের হাতিয়ার হিসেবে দেখতেন। (তবে কিছু ক্ষেত্রে লবণকেও প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়, কিন্তু চরকা ছিল ব্যাপক প্রতীক)।
১৪৬. অসহযোগ আন্দোলনের সময় সংঘটিত ‘মোঁপলা বিদ্রোহ’ কোথায় হয়েছিল?
(A) বাংলা
(B) পাঞ্জাব
(C) মালাবার (কেরালা)
(D) অন্ধ্রপ্রদেশ
সঠিক উত্তর: (C) মালাবার (কেরালা)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯২১ সালে অসহযোগ ও খিলাফৎ আন্দোলনের আবহে কেরালার মালাবার অঞ্চলে মোঁপলা (মুসলিম কৃষক) বিদ্রোহ শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে এটি ছিল হিন্দু জমিদার ও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে একটি কৃষক বিদ্রোহ, কিন্তু পরে এটি সাম্প্রদায়িক হিংসার রূপ নেয়, যা আন্দোলনকে দুর্বল করে দেয়।
১৪৭. ‘My powerful imaginative mind has not been able to conceive of such a thing’ – গান্ধীজি কোন প্রস্তাব সম্পর্কে এই মন্তব্য করেন?
(A) ক্রিপস মিশন
(B) সাইমন কমিশন
(C) ক্যাবিনেট মিশন
(D) পাকিস্তানের দাবি
সঠিক উত্তর: (D) পাকিস্তানের দাবি
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: গান্ধীজি ভারত ভাগের তীব্র বিরোধী ছিলেন। যখন মুসলিম লীগ পৃথক পাকিস্তানের দাবি তোলে, তখন তিনি এর বিরোধিতা করে বলেন যে, তাঁর শক্তিশালী কল্পনাশক্তিও এই ধরনের একটি বিষয় (দেশভাগ) কল্পনা করতে পারছে না। তিনি দেশভাগকে ‘পাপ’ বলে মনে করতেন।
১৪৮. দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে গান্ধীজির সাথে কারা গিয়েছিলেন?
(A) জওহরলাল নেহেরু ও সর্দার প্যাটেল
(B) সরোজিনী নাইডু ও মদন মোহন মালব্য
(C) সুভাষচন্দ্র বসু ও জিন্না
(D) শুধুমাত্র গান্ধীজি একাই গিয়েছিলেন
সঠিক উত্তর: (B) সরোজিনী নাইডু ও মদন মোহন মালব্য
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: যদিও গান্ধীজি কংগ্রেসের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেন, কিন্তু তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে সরোজিনী নাইডু (ভারতীয় নারীদের প্রতিনিধি হিসেবে) এবং মদন মোহন মালব্য (ব্যক্তিগতভাবে) লন্ডনে গিয়েছিলেন।
১৪৯. কোন আন্দোলনকে ‘Spontaneous Revolution’ বা স্বতঃস্ফূর্ত বিপ্লব বলা হয়?
(A) অসহযোগ আন্দোলন
(B) আইন অমান্য আন্দোলন
(C) ভারত ছাড়ো আন্দোলন
(D) স্বদেশী আন্দোলন
সঠিক উত্তর: (C) ভারত ছাড়ো আন্দোলন
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভারত ছাড়ো আন্দোলন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সমস্ত বড় নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফলে কোনো কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছাড়াই সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা নিজেরাই কর্মসূচি ঠিক করে এবং বিভিন্ন স্থানে ব্রিটিশ শাসন অচল করে দেয়। এই কারণে একে ‘স্বতঃস্ফূর্ত বিপ্লব’ বলা হয়।
১৫০. “Liberty will not be granted, it has to be taken.” – এই উক্তিটি কার?
(A) মহাত্মা গান্ধী
(B) জওহরলাল নেহেরু
(C) ভগত সিং
(D) সুভাষচন্দ্র বসু
সঠিক উত্তর: (D) সুভাষচন্দ্র বসু
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সুভাষচন্দ্র বসু গান্ধীজির অহিংস নীতির উপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখতে পারেননি। তিনি বিশ্বাস করতেন যে স্বাধীনতা চেয়ে পাওয়া যায় না, অর্জন করে নিতে হয়। তাঁর এই উক্তিটি (“স্বাধীনতা দেওয়া হবে না, ছিনিয়ে নিতে হবে”) তাঁর আপসহীন সংগ্রামের মানসিকতারই প্রতিফলন।
বিভাগ ৬: মুসলিম লীগ এবং পাকিস্তানের দাবি
১৫১. মুসলিম লীগ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
(A) ১৯০৫, কলকাতা
(B) ১৯০৬, ঢাকা
(C) ১৯০৭, করাচি
(D) ১৯০৯, অমৃতসর
সঠিক উত্তর: (B) ১৯০৬, ঢাকা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯০৬ সালের ৩০শে ডিসেম্বর ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে ভারতের মুসলিমদের রাজনৈতিক ও অন্যান্য অধিকার রক্ষা করা।
১৫২. কে প্রথম ‘পাকিস্তান’ শব্দটি ব্যবহার করেন?
(A) মহম্মদ আলি জিন্না
(B) আগা খান
(C) চৌধুরী রহমত আলি
(D) মহম্মদ ইকবাল
সঠিক উত্তর: (C) চৌধুরী রহমত আলি
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৩৩ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র চৌধুরী রহমত আলি ‘Now or Never’ নামক একটি প্রচারপত্রে প্রথম ‘পাকিস্তান’ (Pakistan) শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনি পাঞ্জাব (P), আফগান প্রদেশ (A), কাশ্মীর (K), সিন্ধু (S) এবং বালুচিস্তান (TAN) নিয়ে একটি পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব দেন।
১৫৩. মুসলিম লীগের কোন অধিবেশনে ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ বা ‘লাহোর প্রস্তাব’ গৃহীত হয়?
(A) ১৯৩০, এলাহাবাদ
(B) ১৯৩৩, কেমব্রিজ
(C) ১৯৪০, লাহোর
(D) ১৯৪৬, দিল্লি
সঠিক উত্তর: (C) ১৯৪০, লাহোর
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে মহম্মদ আলি জিন্নার সভাপতিত্বে ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ গৃহীত হয়। এই প্রস্তাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলি নিয়ে “স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ” (Independent States) গঠনের দাবি করা হয়। এটিই পরবর্তীকালে ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: যদিও দ্বি-জাতি তত্ত্বের ধারণা স্যার সৈয়দ আহমেদ খানের লেখা থেকে শুরু হয়েছিল, কিন্তু মহম্মদ আলি জিন্না এই তত্ত্বকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর মতে, হিন্দু ও মুসলমান দুটি পৃথক জাতি, যাদের সংস্কৃতি, ধর্ম, ঐতিহ্য সবকিছুই আলাদা, তাই তারা একটি রাষ্ট্রে একসাথে বসবাস করতে পারে না। এই তত্ত্বই ছিল পাকিস্তান দাবির মূল ভিত্তি।
১৫৫. ‘সারা ভারত মুসলিম লিগ’-এর প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?
(A) নবাব সলিমুল্লাহ
(B) আগা খান
(C) ওয়াকার-উল-মুলক
(D) মহম্মদ আলি জিন্না
সঠিক উত্তর: (B) আগা খান
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হলে, নবাব ওয়াকার-উল-মুলক ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি (founding president), কিন্তু এর প্রথম স্থায়ী সভাপতি (first permanent president) হিসেবে নির্বাচিত হন আগা খান (তৃতীয়)।
১৫৬. মুসলিম লীগ ‘মুক্তি দিবস’ (Day of Deliverance) কবে পালন করে?
(A) ১৬ আগস্ট, ১৯৪৬
(B) ২৩ মার্চ, ১৯৪৩
(C) ২২ ডিসেম্বর, ১৯৩৯
(D) ১৪ আগস্ট, ১৯৪৭
সঠিক উত্তর: (C) ২২ ডিসেম্বর, ১৯৩৯
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ভারতকে জড়ানোর প্রতিবাদে ১৯৩৯ সালে কংগ্রেস শাসিত প্রদেশগুলির মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করে। এই ঘটনায় উল্লাস প্রকাশ করে মহম্মদ আলি জিন্না মুসলিমদের ‘মুক্তি দিবস’ পালনের ডাক দেন, কারণ তাঁর মতে কংগ্রেসের শাসনের অবসান মুসলিমদের জন্য একটি মুক্তির দিন।
১৫৭. লাহোর প্রস্তাবের খসড়া কে তৈরি করেন?
(A) মহম্মদ আলি জিন্না
(B) ফজলুল হক
(C) সিকান্দার হায়াত খান
(D) খালিকুজ্জামান
সঠিক উত্তর: (C) সিকান্দার হায়াত খান
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৪০ সালের বিখ্যাত লাহোর প্রস্তাবের মূল খসড়াটি তৈরি করেছিলেন পাঞ্জাবের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী স্যার সিকান্দার হায়াত খান। যদিও লাহোর অধিবেশনে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ. কে. ফজলুল হক।
১৫৮. কোন মুসলিম নেতা প্রথম মুসলিমদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্রের ধারণা দেন?
(A) মহম্মদ আলি জিন্না
(B) স্যার মহম্মদ ইকবাল
(C) চৌধুরী রহমত আলি
(D) আগা খান
সঠিক উত্তর: (B) স্যার মহম্মদ ইকবাল
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বিখ্যাত উর্দু কবি এবং দার্শনিক স্যার মহম্মদ ইকবাল ১৯৩০ সালে মুসলিম লীগের এলাহাবাদ অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে প্রথমবার ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে (পাঞ্জাব, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, সিন্ধু ও বালুচিস্তান) একটি স্বায়ত্তশাসিত মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের কথা বলেন। যদিও তিনি একটি পৃথক সার্বভৌম রাষ্ট্রের কথা বলেননি, কিন্তু তাঁর এই ভাষণই পাকিস্তান ধারণার বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি স্থাপন করে।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর এবং কংগ্রেস অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে সম্মত হলে, মুসলিম লীগ পাকিস্তান আদায়ের জন্য প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ডাক দেয়। ১৯৪৬ সালের ১৬ই আগস্ট ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। এই দিনে কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়, যা ‘The Great Calcutta Killings’ নামে পরিচিত।
১৬০. মহম্মদ আলি জিন্না কবে কংগ্রেসে যোগ দেন এবং কবে ত্যাগ করেন?
(A) ১৯০৬ সালে যোগ দেন, ১৯২০ সালে ত্যাগ করেন
(B) ১৯১৩ সালে যোগ দেন, ১৯৩০ সালে ত্যাগ করেন
(C) ১৯০৪ সালে যোগ দেন, ১৯১৬ সালে ত্যাগ করেন
(D) ১৯১০ সালে যোগ দেন, ১৯২৫ সালে ত্যাগ করেন
সঠিক উত্তর: (A) ১৯০৬ সালে যোগ দেন, ১৯২০ সালে ত্যাগ করেন
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: মহম্মদ আলি জিন্না ১৯০৬ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন। তিনি ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগেও যোগ দেন এবং কিছুদিন উভয় দলের সদস্য ছিলেন। কিন্তু গান্ধীজির অসহযোগ ও খিলাফৎ আন্দোলনের নীতির সাথে একমত হতে না পেরে তিনি ১৯২০ সালের নাগপুর কংগ্রেস অধিবেশনের পর কংগ্রেস ত্যাগ করেন।
১৬১. ‘Divide and Quit’ স্লোগানটি কে দিয়েছিলেন?
(A) কংগ্রেস
(B) মুসলিম লীগ
(C) ব্রিটিশ সরকার
(D) হিন্দু মহাসভা
সঠিক উত্তর: (B) মুসলিম লীগ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৪২ সালে যখন কংগ্রেস ‘ভারত ছাড়ো’ (Quit India) আন্দোলনের ডাক দেয়, তখন তার প্রতিক্রিয়ায় মুসলিম লীগ এবং জিন্না ‘ভাগ করো এবং ছাড়ো’ (Divide and Quit) স্লোগান তোলেন। এর অর্থ ছিল, ব্রিটিশরা ভারত ছাড়ার আগে যেন দেশভাগ করে দিয়ে যায়।
১৬২. জিন্নার ১৪ দফা দাবি কবে পেশ করা হয়?
(A) ১৯২৮
(B) ১৯২৯
(C) ১৯৩০
(D) ১৯৩১
সঠিক উত্তর: (B) ১৯২৯
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: নেহেরু রিপোর্টের (১৯২৮) প্রতিক্রিয়ায় মহম্মদ আলি জিন্না ১৯২৯ সালের মার্চ মাসে মুসলিমদের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার জন্য তাঁর বিখ্যাত ১৪ দফা দাবি পেশ করেন। এর মধ্যে ছিল পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী বজায় রাখা, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলির সীমানা পরিবর্তন না করা এবং কেন্দ্রীয় সরকারে মুসলিমদের এক-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্ব।
১৬৩. পাকিস্তান দিবসের ডাক প্রথম কবে দেওয়া হয়?
(A) ২৩ মার্চ, ১৯৪০
(B) ২৩ মার্চ, ১৯৪১
(C) ২৩ মার্চ, ১৯৪২
(D) ২৩ মার্চ, ১৯৪৩
সঠিক উত্তর: (D) ২৩ মার্চ, ১৯৪৩
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে মুসলিম লীগ ১৯৪৩ সালের ২৩শে মার্চ প্রথম ‘পাকিস্তান দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং দেশব্যাপী সভা ও মিছিলের আয়োজন করে।
১৬৪. মুসলিম লীগের লন্ডন শাখার প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
(A) মহম্মদ আলি জিন্না
(B) আগা খান
(C) সৈয়দ আমির আলি
(D) চৌধুরী রহমত আলি
সঠিক উত্তর: (C) সৈয়দ আমির আলি
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বিচারপতি সৈয়দ আমির আলি ১৯০৮ সালে লন্ডনে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের একটি শাখা প্রতিষ্ঠা করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সরকার এবং জনগণের কাছে ভারতীয় মুসলিমদের দাবি-দাওয়া ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা।
১৬৫. কোন পরিকল্পনায় পাকিস্তান গঠনের দাবিকে পরোক্ষভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল?
(A) সাইমন কমিশন
(B) নেহেরু রিপোর্ট
(C) ক্রিপস মিশন
(D) ওয়াভেল পরিকল্পনা
সঠিক উত্তর: (C) ক্রিপস মিশন
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ক্রিপস মিশনের (১৯৪২) প্রস্তাবে বলা হয়েছিল যে, যুদ্ধের পর গঠিত ভারতীয় ইউনিয়নে কোনো প্রদেশ যোগ দিতে না চাইলে তারা নিজস্ব সংবিধান তৈরি করে পৃথক থাকতে পারবে। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে মুসলিম লীগের পাকিস্তান গঠনের দাবিকে পরোক্ষভাবে মেনে নেওয়া হয়েছিল, যা কংগ্রেসের কাছে অগ্রহণযোগ্য ছিল।
১৬৬. কে মুসলিম লীগকে একটি ‘সাম্প্রদায়িক এবং প্রতিক্রিয়াশীল’ সংগঠন বলে মনে করতেন?
(A) মহাত্মা গান্ধী
(B) জওহরলাল নেহেরু
(C) সর্দার প্যাটেল
(D) উপরের সকলেই
সঠিক উত্তর: (D) উপরের সকলেই
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: কংগ্রেসের নেতারা, বিশেষ করে জওহরলাল নেহেরু, মুসলিম লীগকে একটি সাম্প্রদায়িক সংগঠন হিসেবে দেখতেন, যা ব্রিটিশদের ‘বিভাজন ও শাসন’ নীতিকে সমর্থন করে এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে দুর্বল করছে। তারা মনে করতেন যে লীগ সাধারণ মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব করে না, বরং অভিজাত ও জমিদার শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা করে।
১৬৭. ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ কয়টি প্রদেশে সরকার গঠন করতে পেরেছিল?
(A) সবগুলি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশে
(B) বাংলা ও পাঞ্জাবে
(C) সিন্ধু ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে
(D) একটিও না
সঠিক উত্তর: (D) একটিও না
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগ অত্যন্ত খারাপ ফল করে। তারা মুসলিমদের জন্য সংরক্ষিত আসনের একটি ক্ষুদ্র অংশই জিততে পারে এবং কোনো একটি প্রদেশেও এককভাবে বা জোট সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হয়। এই ব্যর্থতাই জিন্নাকে আরও আগ্রাসী এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতে বাধ্য করে।
১৬৮. ‘কায়েদ-ই-আজম’ (মহান নেতা) উপাধিটি মহম্মদ আলি জিন্নাকে কে দেন?
(A) মুসলিম লীগ
(B) মহাত্মা গান্ধী
(C) লিয়াকত আলি খান
(D) আল্লামা ইকবাল
সঠিক উত্তর: (B) মহাত্মা গান্ধী
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৪৪ সালে জিন্না-গান্ধী আলোচনার সময়, মহাত্মা গান্ধী সাম্প্রদায়িক সমস্যার সমাধানের চেষ্টায় জিন্নাকে বেশ কয়েকবার চিঠিতে ‘কায়েদ-ই-আজম’ বলে সম্বোধন করেন। যদিও এই উপাধিটি তার আগেই কেউ কেউ ব্যবহার করেছিলেন, গান্ধীজির ব্যবহারের পর এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
১৬৯. কোন কংগ্রেস নেতা ভারত ভাগের প্রস্তাবের (AICC মিটিং-এ) বিরোধিতা করেছিলেন?
(A) সর্দার প্যাটেল
(B) জওহরলাল নেহেরু
(C) পুরুষোত্তম দাস ট্যান্ডন এবং খান আব্দুল গফফর খান
(D) মৌলানা আবুল কালাম আজাদ
সঠিক উত্তর: (C) পুরুষোত্তম দাস ট্যান্ডন এবং খান আব্দুল গফফর খান
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৪৭ সালের জুনে AICC (All India Congress Committee) মিটিং-এ যখন ভারত ভাগের প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হয়, তখন পুরুষোত্তম দাস ট্যান্ডন, খান আব্দুল গফফর খান (সীমান্ত গান্ধী) এবং কিছু সমাজতন্ত্রী নেতা এর তীব্র বিরোধিতা করেন। যদিও গান্ধীজি, নেহেরু ও প্যাটেলের সমর্থনে প্রস্তাবটি পাস হয়ে যায়।
১৭০. মুসলিম লীগের প্রাথমিক উদ্দেশ্য কী ছিল?
(A) ভারতের স্বাধীনতা অর্জন
(B) ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আনুগত্য এবং মুসলিমদের অধিকার রক্ষা
(C) কংগ্রেসের বিরোধিতা করা
(D) একটি পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র গঠন
সঠিক উত্তর: (B) ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আনুগত্য এবং মুসলিমদের অধিকার রক্ষা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠার সময় মুসলিম লীগের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক ও অন্যান্য স্বার্থ রক্ষা করা। তারা কংগ্রেসকে হিন্দুদের সংগঠন মনে করত এবং মুসলিমদের জন্য সরকারের কাছে বিশেষ সুযোগ-সুবিধার দাবি করত। পৃথক রাষ্ট্র গঠনের ধারণা তখন ছিল না।
১৭১. ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনায় মুসলিম লীগের প্রধান আপত্তি কী ছিল?
(A) এটি ভারতকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করেছিল
(B) এটি একটি দুর্বল কেন্দ্র প্রস্তাব করেছিল
(C) এটি পৃথক সার্বভৌম পাকিস্তান রাষ্ট্রকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিল
(D) এটি গণপরিষদের প্রস্তাব দিয়েছিল
সঠিক উত্তর: (C) এটি পৃথক সার্বভৌম পাকিস্তান রাষ্ট্রকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিল
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ক্যাবিনেট মিশন (১৯৪৬) একটি অখণ্ড ভারতের মধ্যে একটি ত্রি-স্তরীয় যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো প্রস্তাব করে, যেখানে প্রদেশগুলিকে হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ, মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং বাংলা-আসাম গ্রুপে ভাগ করা হয়। কিন্তু এটি মুসলিম লীগের সার্বভৌম পাকিস্তান গঠনের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে, যা জিন্নার কাছে অগ্রহণযোগ্য ছিল। যদিও প্রাথমিকভাবে লীগ এটি মেনে নিলেও পরে প্রত্যাখ্যান করে।
১৭২. ‘We have to fight on two fronts, one against the British and the other against the Congress’ – এই উক্তিটি কার?
(A) সুভাষচন্দ্র বসু
(B) বি. আর. আম্বেদকর
(C) মহম্মদ আলি জিন্না
(D) ভি. ডি. সাভারকার
সঠিক উত্তর: (C) মহম্মদ আলি জিন্না
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: মহম্মদ আলি জিন্না প্রায়শই বলতেন যে মুসলিমদের দুটি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়তে হবে – ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ এবং কংগ্রেসের ‘হিন্দু আধিপত্যবাদ’। এই উক্তিটি মুসলিম লীগের রাজনৈতিক কৌশলকে প্রতিফলিত করে।
১৭৩. শেরে বাংলা (Lion of Bengal) নামে কে পরিচিত ছিলেন?
(A) চিত্তরঞ্জন দাশ
(B) সুভাষচন্দ্র বসু
(C) এ. কে. ফজলুল হক
(D) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
সঠিক উত্তর: (C) এ. কে. ফজলুল হক
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: আবুল কাশেম ফজলুল হক ছিলেন বাংলার একজন জনপ্রিয় নেতা এবং অখণ্ড বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী। তিনি কৃষক প্রজা পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন এবং কৃষকদের অধিকার নিয়ে কাজ করার জন্য ‘শেরে বাংলা’ বা ‘বাংলার বাঘ’ নামে পরিচিত হন। তিনিই ১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন।
১৭৪. মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় কার বাসভবনে?
(A) আগা খান
(B) নবাব ওয়াকার-উল-মুলক
(C) নবাব সলিমুল্লাহ
(D) সৈয়দ আমির আলি
সঠিক উত্তর: (C) নবাব সলিমুল্লাহ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯০৬ সালের ডিসেম্বরে সারা ভারত থেকে মুসলিম নেতারা ঢাকায় ‘All India Muhammadan Educational Conference’-এ যোগ দেন। এই সম্মেলনের শেষে ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহর বাসভবন ‘আহসান মঞ্জিল’ বা তাঁর শাহবাগের বাগানবাড়িতে একটি রাজনৈতিক দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা মুসলিম লীগ নামে পরিচিত।
১৭৫. জিন্নার পাকিস্তান দাবির পেছনে প্রধান যুক্তি কী ছিল?
(A) মুসলিমরা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে ছিল
(B) কংগ্রেস মুসলিমদের স্বার্থ দেখছিল না
(C) হিন্দু ও মুসলিম দুটি পৃথক জাতি এবং তারা একসাথে থাকতে পারে না
(D) ব্রিটিশরা মুসলিমদের পৃথক রাষ্ট্র দিতে চেয়েছিল
সঠিক উত্তর: (C) হিন্দু ও মুসলিম দুটি পৃথক জাতি এবং তারা একসাথে থাকতে পারে না
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: জিন্নার পাকিস্তান দাবির মূল ভিত্তি ছিল তাঁর ‘দ্বি-জাতি তত্ত্ব’। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে হিন্দু ও মুসলিম শুধুমাত্র দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায় নয়, বরং দুটি স্বতন্ত্র জাতি। তাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, আইন, খাদ্যাভ্যাস সবকিছুই ভিন্ন। তাই অখণ্ড ভারতে গণতন্ত্র মানে হবে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন, যা মুসলিমদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। এই যুক্তি দিয়েই তিনি পৃথক রাষ্ট্র পাকিস্তানের দাবিকে ন্যায্য প্রমাণ করার চেষ্টা করেন।
বিভাগ ৭: ভারত বিভাগ ও স্বাধীনতা
১৭৬. কোন পরিকল্পনার ভিত্তিতে ভারত বিভক্ত হয়?
(A) ওয়াভেল পরিকল্পনা
(B) ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা
(C) মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা
(D) ক্রিপস মিশন
সঠিক উত্তর: (C) মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের ৩রা জুন একটি পরিকল্পনা পেশ করেন, যা ‘মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা’ বা ‘৩রা জুন পরিকল্পনা’ নামে পরিচিত। এই পরিকল্পনায় ভারতকে বিভক্ত করে দুটি পৃথক রাষ্ট্র – ভারত ও পাকিস্তান – গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ উভয়ই মেনে নেয়।
১৭৭. ভারতীয় স্বাধীনতা আইন (Indian Independence Act) কবে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস হয়?
(A) ৩ জুন, ১৯৪৭
(B) ১৮ জুলাই, ১৯৪৭
(C) ১৪ আগস্ট, ১৯৪৭
(D) ১৫ আগস্ট, ১৯৪৭
সঠিক উত্তর: (B) ১৮ জুলাই, ১৯৪৭
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার উপর ভিত্তি করে ব্রিটিশ সরকার ‘ভারতীয় স্বাধীনতা বিল’ তৈরি করে যা ১৯৪৭ সালের ১৮ই জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস হয় এবং রাজকীয় সম্মতি লাভ করে। এই আইন অনুসারে, ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন ডোমিনিয়নের জন্ম হয়।
১৭৮. ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা নির্ধারণের জন্য গঠিত কমিশনের প্রধান কে ছিলেন?
(A) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
(B) স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস
(C) স্যার সিরিল র্যাডক্লিফ
(D) ক্লিমেন্ট অ্যাটলি
সঠিক উত্তর: (C) স্যার সিরিল র্যাডক্লিফ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে, বিশেষ করে বাংলা ও পাঞ্জাব প্রদেশের সীমানা নির্ধারণের জন্য দুটি বাউন্ডারি কমিশন গঠন করা হয়। ব্রিটিশ আইনজীবী স্যার সিরিল র্যাডক্লিফ এই দুটি কমিশনেরই চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর নামে এই বিভাজন রেখাকে ‘র্যাডক্লিফ লাইন’ বলা হয়।
১৭৯. ভারতের স্বাধীনতার সময় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
(A) উইনস্টন চার্চিল
(B) ক্লিমেন্ট অ্যাটলি
(C) নেভিল চেম্বারলেইন
(D) হ্যারল্ড ম্যাকমিলান
সঠিক উত্তর: (B) ক্লিমেন্ট অ্যাটলি
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৪৭ সালে যখন ভারত স্বাধীনতা লাভ করে, তখন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন লেবার পার্টির নেতা ক্লিমেন্ট অ্যাটলি। তাঁর সরকারই ভারতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
১৮০. স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর-জেনারেল কে ছিলেন?
(A) চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী
(B) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
(C) ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ
(D) জওহরলাল নেহেরু
সঠিক উত্তর: (B) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ভারত স্বাধীন হওয়ার পর, লর্ড মাউন্টব্যাটেন ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় পদ থেকে অবসর নেন এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর-জেনারেল হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৪৮ সালের জুন পর্যন্ত এই পদে ছিলেন।
১৮১. স্বাধীন ভারতের প্রথম ভারতীয় গভর্নর-জেনারেল কে ছিলেন?
(A) চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী
(B) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
(C) ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ
(D) সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল
সঠিক উত্তর: (A) চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: লর্ড মাউন্টব্যাটেনের পর, চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী (রাজাজি) ১৯৪৮ সালে স্বাধীন ভারতের দ্বিতীয় এবং প্রথম ভারতীয় গভর্নর-জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ভারতের শেষ গভর্নর-জেনারেলও ছিলেন, কারণ ১৯৫০ সালে সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর এই পদটি বিলুপ্ত হয় এবং রাষ্ট্রপতি পদ তৈরি হয়।
১৮২. ক্যাবিনেট মিশন কবে ভারতে আসে?
(A) ১৯৪৫
(B) ১৯৪৬
(C) ১৯৪৭
(D) ১৯৪২
সঠিক উত্তর: (B) ১৯৪৬
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট অ্যাটলি ভারতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য ১৯৪৬ সালের মার্চ মাসে তিনজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী – প্যাথিক লরেন্স (ভারত সচিব), স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস এবং এ. ভি. আলেকজান্ডারকে নিয়ে একটি উচ্চ-পর্যায়ের মিশন পাঠান। এটিই ক্যাবিনেট মিশন নামে পরিচিত।
১৮৩. দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কে প্রধান ভূমিকা পালন করেন?
(A) জওহরলাল নেহেরু
(B) মহাত্মা গান্ধী
(C) সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল
(D) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
সঠিক উত্তর: (C) সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভারতের স্বাধীনতার সময় প্রায় ৫৬৫টি দেশীয় রাজ্য ছিল। এই রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত করার বিশাল ও জটিল কাজটি সম্পন্ন করেন ভারতের প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল। তাঁর কূটনৈতিক দক্ষতা এবং দৃঢ় মনোভাবের জন্য তাঁকে ‘ভারতের লৌহ মানব’ (Iron Man of India) বলা হয়।
১৮৪. কোন তিনটি দেশীয় রাজ্য ভারতে যোগ দিতে অস্বীকার করেছিল?
(A) হায়দ্রাবাদ, কাশ্মীর, ত্রিবাঙ্কুর
(B) জুনাগড়, কাশ্মীর, ভূপাল
(C) হায়দ্রাবাদ, জুনাগড়, কাশ্মীর
(D) কাশ্মীর, গোয়ালিয়র, মহীশূর
সঠিক উত্তর: (C) হায়দ্রাবাদ, জুনাগড়, কাশ্মীর
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: স্বাধীনতার সময় বেশিরভাগ দেশীয় রাজ্য ভারতে যোগ দিলেও, জুনাগড় (শাসক মুসলিম, প্রজা হিন্দু), হায়দ্রাবাদ (শাসক মুসলিম, প্রজা হিন্দু) এবং কাশ্মীর (শাসক হিন্দু, প্রজা মুসলিম) ভারতে যোগ দিতে অস্বীকার করে। পরে জুনাগড় গণভোটের মাধ্যমে, হায়দ্রাবাদ পুলিশি অভিযানের (অপারেশন পোলো) মাধ্যমে এবং কাশ্মীর অন্তর্ভুক্তির চুক্তির মাধ্যমে ভারতে যোগ দেয়।
১৮৫. ভারত ভাগের সময় বাংলার প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
(A) এ. কে. ফজলুল হক
(B) খাজা নাজিমুদ্দিন
(C) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
(D) বিধানচন্দ্র রায়
সঠিক উত্তর: (C) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সময় অখণ্ড বাংলার প্রধানমন্ত্রী (Premier) ছিলেন মুসলিম লীগের নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’-এর সময় কলকাতায় দাঙ্গার জন্য তাঁকে ব্যাপকভাবে দায়ী করা হয়।
১৮৬. ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যাটলি কবে ঘোষণা করেন যে ব্রিটিশরা ১৯৪৮ সালের জুনের মধ্যে ভারত ছেড়ে দেবে?
(A) ২০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৭
(B) ৩ জুন, ১৯৪৭
(C) ১৮ জুলাই, ১৯৪৭
(D) ৩০ জানুয়ারি, ১৯৪৮
সঠিক উত্তর: (A) ২০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৭
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৪৭ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট অ্যাটলি হাউস অফ কমন্সে একটি ঐতিহাসিক ঘোষণায় বলেন যে, ব্রিটিশ সরকার ১৯৪৮ সালের জুনের মধ্যে দায়িত্বশীল ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ভারত ছেড়ে চলে যাবে।
১৮৭. পাকিস্তান কবে স্বাধীনতা লাভ করে?
(A) ১৩ আগস্ট, ১৯৪৭
(B) ১৪ আগস্ট, ১৯৪৭
(C) ১৫ আগস্ট, ১৯৪৭
(D) ১৬ আগস্ট, ১৯৪৭
সঠিক উত্তর: (B) ১৪ আগস্ট, ১৯৪৭
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভারতীয় স্বাধীনতা আইন অনুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই ১৫ই আগস্ট স্বাধীন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে দুটি দেশের অনুষ্ঠানেই উপস্থিত থাকতে হবে বলে, পাকিস্তানের ক্ষমতা হস্তান্তর অনুষ্ঠানটি ১৪ই আগস্ট করাচিতে আয়োজন করা হয়। তাই পাকিস্তান ১৪ই আগস্টকে তাদের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করে।
১৮৮. ‘India Wins Freedom’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
(A) জওহরলাল নেহেরু
(B) মহাত্মা গান্ধী
(C) মৌলানা আবুল কালাম আজাদ
(D) ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ
সঠিক উত্তর: (C) মৌলানা আবুল কালাম আজাদ
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ‘India Wins Freedom’ হলো মৌলানা আবুল কালাম আজাদের আত্মজীবনী। তিনি ছিলেন কংগ্রেসের একজন বিশিষ্ট নেতা এবং ভারত ভাগের তীব্র বিরোধী। এই বইতে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষ পর্বের ঘটনাবলী এবং দেশভাগের পেছনের কারণগুলো নিয়ে তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।
১৮৯. অন্তর্বর্তীকালীন সরকার (Interim Government) কবে গঠিত হয়?
(A) ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫
(B) ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৬
(C) ২ অক্টোবর, ১৯৪৬
(D) ২ অক্টোবর, ১৯৪৭
সঠিক উত্তর: (B) ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৬
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, ক্ষমতা হস্তান্তরের অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে ১৯৪৬ সালের ২রা সেপ্টেম্বর জওহরলাল নেহেরুর নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। মুসলিম লীগ প্রথমে এতে যোগ না দিলেও পরে যোগ দেয়।
১৯০. মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনাকে ‘ডিকি বার্ড প্ল্যান’ (Dickie Bird Plan) ও বলা হয় কেন?
(A) এটি পাখিদের মতো প্রদেশগুলিকে স্বাধীনতা দিয়েছিল
(B) এটি মাউন্টব্যাটেনের ডাকনামের সাথে যুক্ত ছিল
(C) এটি একটি গোপন পরিকল্পনা ছিল
(D) এটি দ্রুততার সাথে তৈরি করা হয়েছিল
সঠিক উত্তর: (B) এটি মাউন্টব্যাটেনের ডাকনামের সাথে যুক্ত ছিল
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: মাউন্টব্যাটেনের ৩রা জুনের পরিকল্পনার আগে একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা তৈরি হয়েছিল, যা ‘বলকান প্ল্যান’ বা ‘ডিকি বার্ড প্ল্যান’ নামে পরিচিত। এই পরিকল্পনায় প্রদেশগুলিকে ক্ষমতা হস্তান্তর করে তাদের ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দেওয়ার বা স্বাধীন থাকার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। লর্ড মাউন্টব্যাটেনের ডাকনাম ছিল ‘ডিকি’, তাই এই নামকরণ। নেহেরু এই পরিকল্পনাকে দেশ খণ্ড-বিখণ্ড করার ষড়যন্ত্র বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
১৯১. পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর-জেনারেল কে হন?
(A) লিয়াকত আলি খান
(B) মহম্মদ আলি জিন্না
(C) আগা খান
(D) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
সঠিক উত্তর: (B) মহম্মদ আলি জিন্না
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর, মহম্মদ আলি জিন্না পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর-জেনারেল হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। লিয়াকত আলি খান হন প্রথম প্রধানমন্ত্রী।
১৯২. কোন কংগ্রেস নেতাকে ভারত ভাগের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হয় (মৌলানা আজাদের মতে)?
(A) মহাত্মা গান্ধী
(B) জওহরলাল নেহেরু
(C) সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল
(D) সি. রাজাগোপালাচারী
সঠিক উত্তর: (C) সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: মৌলানা আজাদ তাঁর ‘India Wins Freedom’ বইতে লিখেছেন যে, সর্দার প্যাটেলই প্রথম কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে দেশভাগ মেনে নিতে রাজি হন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে মুসলিম লীগের সাথে কাজ করার তিক্ত অভিজ্ঞতার পর তিনি এই সিদ্ধান্তে আসেন যে, লীগের সাথে একসাথে দেশ শাসন করা অসম্ভব।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: যদিও ভারত ও পাকিস্তান ১৪/১৫ আগস্ট স্বাধীন হয়ে যায়, কিন্তু সীমানা নির্ধারণকারী র্যাডক্লিফ লাইনের চূড়ান্ত রিপোর্টটি মাউন্টব্যাটেন ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ করেননি। তিনি ভয় পেয়েছিলেন যে, এটি স্বাধীনতা দিবসের আনন্দকে ম্লান করে দেবে এবং দাঙ্গার জন্য ব্রিটিশদের দায়ী করা হবে। রিপোর্টটি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৭ই আগস্ট, ১৯৪৭-এ প্রকাশ করা হয়।
১৯৪. ভারত ভাগের সময় গান্ধীজি কোথায় ছিলেন?
(A) দিল্লিতে স্বাধীনতা উৎসবে
(B) বোম্বাইতে
(C) সবরমতী আশ্রমে
(D) কলকাতায় দাঙ্গা থামাতে
সঠিক উত্তর: (D) কলকাতায় দাঙ্গা থামাতে
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট যখন দিল্লি জুড়ে স্বাধীনতার উৎসব চলছিল, তখন মহাত্মা গান্ধী সেই উৎসবে যোগ না দিয়ে কলকাতায় ছিলেন। তিনি সেখানে দেশভাগের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থামানোর জন্য অনশন ও পদযাত্রা করছিলেন।
১৯৫. হায়দ্রাবাদকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পরিচালিত সামরিক অভিযানের নাম কী ছিল?
(A) অপারেশন বিজয়
(B) অপারেশন পোলো
(C) অপারেশন ব্লু স্টার
(D) অপারেশন মেঘদূত
সঠিক উত্তর: (B) অপারেশন পোলো
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: হায়দ্রাবাদের নিজাম ভারতে যোগ দিতে অস্বীকার করলে এবং তাঁর বাহিনী (রাজাকার) অত্যাচার শুরু করলে, ভারত সরকার ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বরে একটি পুলিশি অভিযান চালায়। এই অভিযানের সাংকেতিক নাম ছিল ‘অপারেশন পোলো’। এর ফলে নিজাম আত্মসমর্পণ করেন এবং হায়দ্রাবাদ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়।
১৯৬. গণপরিষদের (Constituent Assembly) প্রথম সভা কবে অনুষ্ঠিত হয়?
(A) ১৫ আগস্ট, ১৯৪৭
(B) ২৬ জানুয়ারি, ১৯৫০
(C) ৯ ডিসেম্বর, ১৯৪৬
(D) ৩ জুন, ১৯৪৭
সঠিক উত্তর: (C) ৯ ডিসেম্বর, ১৯৪৬
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, ভারতের সংবিধান রচনার জন্য একটি গণপরিষদ গঠিত হয়। এই গণপরিষদের প্রথম সভা ১৯৪৬ সালের ৯ই ডিসেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়। মুসলিম লীগ এই সভা বয়কট করে।
১৯৭. গণপরিষদের প্রথম অস্থায়ী সভাপতি কে ছিলেন?
(A) ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ
(B) ডঃ বি. আর. আম্বেদকর
(C) ডঃ সচ্চিদানন্দ সিনহা
(D) জওহরলাল নেহেরু
সঠিক উত্তর: (C) ডঃ সচ্চিদানন্দ সিনহা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ফরাসি প্রথা অনুসরণ করে, গণপরিষদের সবচেয়ে প্রবীণ সদস্য ডঃ সচ্চিদানন্দ সিনহাকে প্রথম সভার জন্য অস্থায়ী সভাপতি (Temporary Chairman) হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছিল। পরে, ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ স্থায়ী সভাপতি নির্বাচিত হন।
১৯৮. ভারতের স্বাধীনতার বিলটি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে কে উত্থাপন করেন?
(A) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
(B) উইনস্টন চার্চিল
(C) ক্লিমেন্ট অ্যাটলি
(D) লর্ড প্যাথিক লরেন্স
সঠিক উত্তর: (C) ক্লিমেন্ট অ্যাটলি
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট অ্যাটলি ১৯৪৭ সালের ৪ঠা জুলাই ব্রিটিশ হাউস অফ কমন্সে ‘Indian Independence Bill’ উত্থাপন করেন। বিলটি মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে পাস হয়ে যায় এবং ১৮ই জুলাই রাজকীয় সম্মতি লাভ করে।
১৯৯. মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগ কেন মেনে নিয়েছিল?
(A) কারণ এটি তাদের সমস্ত দাবি পূরণ করেছিল
(B) কারণ এর কোনো বিকল্প ছিল না এবং গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা ছিল
(C) কারণ ব্রিটিশরা তাদের বাধ্য করেছিল
(D) কারণ এটি একটি অখণ্ড ভারতের প্রস্তাব দিয়েছিল
সঠিক উত্তর: (B) কারণ এর কোনো বিকল্প ছিল না এবং গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা ছিল
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা কোনো দলের জন্যই আদর্শ সমাধান ছিল না। কিন্তু ততদিনে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল এবং দেশব্যাপী গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। কংগ্রেস নেতারা একটি দুর্বল কেন্দ্র সহ অখণ্ড ভারতের চেয়ে একটি শক্তিশালী কেন্দ্র সহ বিভক্ত ভারতকেই শ্রেয় মনে করেন। অন্যদিকে, মুসলিম লীগ তাদের কাঙ্ক্ষিত পাকিস্তান পাচ্ছিল। তাই উভয় পক্ষই অনিচ্ছা সত্ত্বেও এটি মেনে নেয়।
২০০. “At the stroke of the midnight hour, when the world sleeps, India will awake to life and freedom.” – এই বিখ্যাত ভাষণটি কী নামে পরিচিত?
(A) Quit India Speech
(B) Tryst with Destiny
(C) Gettysburg Address
(D) The Light has gone out
সঠিক উত্তর: (B) Tryst with Destiny
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট মধ্যরাত্রে ভারতের গণপরিষদে জওহরলাল নেহেরু যে ভাষণটি দেন, তা ‘Tryst with Destiny’ বা ‘নিয়তির সাথে সাক্ষাৎকার’ নামে বিখ্যাত। এটি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে গণ্য হয় এবং এই উক্তিটি সেই ভাষণেরই সূচনাংশ।