History SLST ইউরোপের ইতিহাস (১৯শ ও ২০শ শতক)

অধ্যায়: ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদ

1. উনিশ শতকের শেষে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের প্রধান অর্থনৈতিক কারণ কী ছিল?

সঠিক উত্তর: (খ) শিল্প বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট উদ্বৃত্ত পুঁজি এবং কাঁচামালের চাহিদা।
বিস্তারিত: উনিশ শতকে ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের ফলে কারখানাগুলিতে প্রচুর পরিমাণে পণ্য উৎপাদিত হতে থাকে। এই পণ্য বিক্রির জন্য নতুন বাজার, কারখানা চালানোর জন্য সস্তায় কাঁচামাল সংগ্রহ এবং শিল্পপতিদের উদ্বৃত্ত পুঁজি বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ক্ষেত্রের প্রয়োজন হয়। এই অর্থনৈতিক চাহিদাগুলোই ইউরোপীয় দেশগুলিকে এশিয়া ও আফ্রিকার দিকে সাম্রাজ্য বিস্তারে উৎসাহিত করে।

2. ‘শ্বেতাঙ্গদের বোঝা’ (White Man’s Burden) ধারণাটির প্রবক্তা কে?

সঠিক উত্তর: (গ) রুডইয়ার্ড কিপলিং।
বিস্তারিত: ব্রিটিশ কবি রুডইয়ার্ড কিপলিং তাঁর ‘The White Man’s Burden’ কবিতায় এই ধারণাটি তুলে ধরেন। এর মূল কথা ছিল, এশিয়া ও আফ্রিকার ‘অসভ্য’ জাতিদের সভ্য করে তোলা শ্বেতাঙ্গ বা ইউরোপীয়দের নৈতিক দায়িত্ব। এই ধারণাটি সাম্রাজ্যবাদকে একটি মহৎ কাজ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে এবং উপনিবেশ স্থাপনকে বৈধতা দেয়।

3. ‘আফ্রিকা দখলের লড়াই’ (Scramble for Africa) কোন সময়কালে সংঘটিত হয়েছিল?

সঠিক উত্তর: (ক) ১৮৮১-১৯১৪।
বিস্তারিত: এই সময়কালে ইউরোপের প্রধান শক্তিগুলো (ব্রিটেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, জার্মানি, ইতালি, পর্তুগাল) আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল দখল করার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। মাত্র কয়েক দশকের মধ্যে আফ্রিকার প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকাই ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

4. ১৮৮৪-৮৫ সালের বার্লিন সম্মেলন কে আহ্বান করেন?

সঠিক উত্তর: (খ) অটো ফন বিসমার্ক।
বিস্তারিত: জার্মানির চ্যান্সেলর অটো ফন বিসমার্ক ইউরোপীয় শক্তিগুলির মধ্যে আফ্রিকার উপনিবেশ নিয়ে সংঘাত এড়ানোর জন্য এবং আফ্রিকাকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার নিয়মকানুন ঠিক করার জন্য এই সম্মেলন আহ্বান করেছিলেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল কঙ্গো নদীর অববাহিকায় বাণিজ্য ও নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

5. কঙ্গো ফ্রি স্টেট কোন ইউরোপীয় শাসকের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল?

সঠিক উত্তর: (ঘ) বেলজিয়ামের রাজা দ্বিতীয় লিওপোল্ড।
বিস্তারিত: বার্লিন সম্মেলনের মাধ্যমে কঙ্গো ফ্রি স্টেট বেলজিয়ামের উপনিবেশ হিসেবে নয়, বরং রাজা দ্বিতীয় লিওপোল্ডের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। তিনি সেখানে রাবার ও হাতির দাঁতের ব্যবসার জন্য স্থানীয় জনগণের উপর অবর্ণনীয় অত্যাচার চালিয়েছিলেন।

6. লেনিনের মতে, সাম্রাজ্যবাদ হল—

সঠিক উত্তর: (ক) পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ স্তর।
বিস্তারিত: ভ্লাদিমির লেনিন তাঁর “Imperialism, the Highest Stage of Capitalism” গ্রন্থে যুক্তি দেন যে, পুঁজিবাদের অভ্যন্তরীণ সংকট এবং উদ্বৃত্ত পুঁজি বিনিয়োগের তাগিদেই দেশগুলো সাম্রাজ্যবাদে লিপ্ত হয়।

7. ফাশোদা সংকট (১৮৯৮) কোন দুটি দেশের মধ্যে হয়েছিল?

সঠিক উত্তর: (গ) ব্রিটেন ও ফ্রান্স।
বিস্তারিত: সুদানের ফাশোদা নামক স্থানে আফ্রিকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে এই সংকট তৈরি হয়েছিল। ব্রিটেন উত্তর-দক্ষিণ বরাবর এবং ফ্রান্স পূর্ব-পশ্চিম বরাবর সাম্রাজ্য বিস্তারের চেষ্টা করলে এই সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা প্রায় যুদ্ধের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল।

8. বোয়ার যুদ্ধ (Boer Wars) কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?

সঠিক উত্তর: (খ) দক্ষিণ আফ্রিকা।
বিস্তারিত: দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসকারী ডাচ বংশোদ্ভূত কৃষক (বোয়ার) এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মধ্যে এই যুদ্ধ হয়। সোনা ও হীরার খনির নিয়ন্ত্রণ এবং ব্রিটিশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এই যুদ্ধের মূল কারণ ছিল।

9. নয়া সাম্রাজ্যবাদের (New Imperialism) একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য কী?

সঠিক উত্তর: (ঘ) সমগ্র অঞ্চল দখল করে সরাসরি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।
বিস্তারিত: পুরনো সাম্রাজ্যবাদ মূলত বাণিজ্য কুঠি ও উপকূলীয় অঞ্চলের উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু উনিশ শতকের নয়া সাম্রাজ্যবাদে ইউরোপীয় শক্তিগুলো এশিয়া ও আফ্রিকার অভ্যন্তরীণ অঞ্চলগুলোও দখল করে সেখানে নিজেদের শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেয়।

10. “সামাজিক ডারউইনবাদ” (Social Darwinism) কীভাবে সাম্রাজ্যবাদকে সমর্থন করেছিল?

সঠিক উত্তর: (ক) ‘যোগ্যতমের উদ্বর্তন’ নীতি প্রয়োগ করে শক্তিশালী জাতির দুর্বল জাতিকে শাসন করাকে স্বাভাবিক বলে মনে করে।
বিস্তারিত: সামাজিক ডারউইনবাদীরা চার্লস ডারউইনের ‘প্রাকৃতিক নির্বাচন’ তত্ত্বকে মানব সমাজে প্রয়োগ করে। তারা যুক্তি দেখাত যে, শ্বেতাঙ্গ বা ইউরোপীয় জাতি যেহেতু প্রযুক্তি ও সামরিক শক্তিতে উন্নত, তাই তাদের ‘দুর্বল’ জাতিদের উপর শাসন করার অধিকার স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক।

অধ্যায়: জার্মানির বিশ্ব-রাজনীতি, মৈত্রী ও আঁতাত

11. জার্মানির ‘ওয়েল্ট পলিটিক’ (Weltpolitik) বা বিশ্ব-রাজনীতি নীতির প্রবর্তক কে?

সঠিক উত্তর: (ক) কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম।
বিস্তারিত: বিসমার্কের পতনের পর জার্মানির সম্রাট কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম এই আক্রমণাত্মক বিশ্ব-রাজনীতি গ্রহণ করেন। এর মূল লক্ষ্য ছিল জার্মানিকে একটি বিশ্বশক্তিতে পরিণত করা, যার জন্য শক্তিশালী নৌবাহিনী গঠন এবং বিদেশে উপনিবেশ স্থাপন অপরিহার্য ছিল। এই নীতি ব্রিটেনের সাথে জার্মানির সম্পর্কের অবনতি ঘটায়।

12. ত্রিশক্তি মৈত্রী (Triple Alliance) কোন সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?

সঠিক উত্তর: (খ) ১৮৮২।
বিস্তারিত: ১৮৮২ সালে জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি এবং ইতালি এই সামরিক জোটে আবদ্ধ হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ফ্রান্সকে একঘরে করে রাখা এবং ইউরোপে শক্তির ভারসাম্য জার্মানির পক্ষে রাখা।

13. ত্রিশক্তি আঁতাত (Triple Entente) কোন তিনটি দেশের মধ্যে গড়ে উঠেছিল?

সঠিক উত্তর: (গ) ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া।
বিস্তারিত: ত্রিশক্তি মৈত্রীর প্রতিক্রিয়ায় এবং জার্মানির ক্রমবর্ধমান শক্তিকে প্রতিহত করার জন্য এই জোটটি গড়ে ওঠে। এটি প্রথমে ফ্রান্স ও রাশিয়ার মধ্যে (১৮৯৪), তারপর ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে ‘Entente Cordiale’ (১৯০৪) এবং শেষে ব্রিটেন ও রাশিয়ার মধ্যে চুক্তির (১৯০৭) মাধ্যমে পূর্ণতা পায়।

14. ‘ওয়েল্ট পলিটিক’ নীতির অংশ হিসেবে জার্মানি কোন দেশের সাথে নৌ-প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছিল?

সঠিক উত্তর: (ঘ) ব্রিটেন।
বিস্তারিত: কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম জার্মানিকে বিশ্বের প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন এবং এর জন্য তিনি ব্রিটেনের সমকক্ষ একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। এই অ্যাংলো-জার্মান নৌ-প্রতিযোগিতা দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস ও শত্রুতা বাড়িয়ে তোলে, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম কারণ ছিল।

15. ‘Entente Cordiale’ (১৯০৪) কোন দুটি দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি मैत्री চুক্তি ছিল?

সঠিক উত্তর: (ক) ব্রিটেন ও ফ্রান্স।
বিস্তারিত: ‘Entente Cordiale’ বা ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ বোঝাপড়া’ ছিল ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে একটি চুক্তি, যার মাধ্যমে তারা মিশর ও মরক্কোসহ বিভিন্ন ঔপনিবেশিক বিবাদের নিষ্পত্তি করে। এটি একটি আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট না হলেও, এটি ত্রিশক্তি আঁতাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল।

অধ্যায়: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের উদ্ভব

16. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ কী ছিল?

সঠিক উত্তর: (ঘ) সেরাজেভো হত্যাকাণ্ড: অস্ট্রিয়ার আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দের হত্যা।
বিস্তারিত: ১৯১৪ সালের ২৮শে জুন বসনিয়ার রাজধানী সেরাজেভোতে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির যুবরাজ আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দ এবং তাঁর স্ত্রী সোফি এক সার্ব জাতীয়তাবাদী, গ্যাভরিলো প্রিন্সিপের গুলিতে নিহত হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্ট্রিয়া সার্বিয়ার বিরুদ্ধে চরমপত্র দেয় এবং পরবর্তীতে যুদ্ধ ঘোষণা করে, যা দ্রুত সমগ্র ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে।

17. জার্মানি কোন দেশের উপর দিয়ে ফ্রান্স আক্রমণের জন্য শ্লিফেন পরিকল্পনা (Schlieffen Plan) তৈরি করেছিল?

সঠিক উত্তর: (ক) বেলজিয়াম।
বিস্তারিত: শ্লিফেন পরিকল্পনা ছিল জার্মানির একটি যুদ্ধ পরিকল্পনা, যার লক্ষ্য ছিল দুই ফ্রন্টে (ফ্রান্স ও রাশিয়া) যুদ্ধ এড়ানো। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জার্মানি প্রথমে নিরপেক্ষ বেলজিয়াম আক্রমণ করে দ্রুত ফ্রান্সকে পরাজিত করবে এবং তারপর সমস্ত শক্তি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিয়োগ করবে। বেলজিয়ামের নিরপেক্ষতা লঙ্ঘন করায় ব্রিটেন জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

18. ‘ইউরোপের রুগ্ন পুরুষ’ (Sick man of Europe) কোন সাম্রাজ্যকে বলা হত?

সঠিক উত্তর: (খ) অটোমান বা তুরস্ক সাম্রাজ্য।
বিস্তারিত: উনিশ শতকে অটোমান সাম্রাজ্য সামরিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। বলকান অঞ্চলে তার নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ শিথিল হচ্ছিল, যা ইউরোপীয় শক্তিগুলোর মধ্যে ওই অঞ্চল নিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে তোলে। এই দুর্বলতার কারণেই তাকে ‘ইউরোপের রুগ্ন পুরুষ’ বলা হতো।

19. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রথম কোন দেশ ত্রিশক্তি মৈত্রী ত্যাগ করে মিত্রপক্ষে যোগ দেয়?

সঠিক উত্তর: (গ) ইতালি।
বিস্তারিত: যদিও ইতালি ত্রিশক্তি মৈত্রীর সদস্য ছিল, যুদ্ধ শুরু হলে দেশটি নিরপেক্ষ থাকে। পরে ১৯১৫ সালে লন্ডনের গোপন চুক্তির মাধ্যমে মিত্রশক্তির কাছ থেকে বেশ কিছু অঞ্চল পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়ে ইতালি অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং মিত্রপক্ষে যোগ দেয়।

20. “ব্ল্যাক হ্যান্ড” (Black Hand) কী ছিল?

সঠিক উত্তর: (ঘ) একটি উগ্র সার্ব জাতীয়তাবাদী গুপ্ত সংগঠন।
বিস্তারিত: “ব্ল্যাক হ্যান্ড”-এর আনুষ্ঠানিক নাম ছিল ‘ঐক্য অথবা মৃত্যু’ (Union or Death)। এই সংগঠনটি সমস্ত স্লাভ জাতিকে একত্রিত করে একটি বৃহত্তর সার্ব রাষ্ট্র (Yugoslavia) গঠনের জন্য কাজ করত। সেরাজেভো হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার সাথে এই সংগঠনটি জড়িত ছিল।

অধ্যায়: ১৯১৯-এর শান্তি সম্মেলন ও রুশ বিপ্লব

21. ১৯১৯ সালের প্যারিস শান্তি সম্মেলনে ‘বিগ ফোর’ (Big Four) কাদের বলা হত?

সঠিক উত্তর: (গ) আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি।
বিস্তারিত: প্যারিস শান্তি সম্মেলনের মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী চার প্রধান নেতা ছিলেন – মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড লয়েড জর্জ, ফরাসি প্রধানমন্ত্রী জর্জেস ক্লেমঁসো এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী ভিটোরিও অরল্যান্ডো। তাদেরকেই ‘বিগ ফোর’ বলা হয়।

22. ভার্সাই চুক্তির কোন ধারাটিকে ‘যুদ্ধাপরাধের ধারা’ (War Guilt Clause) বলা হয়?

সঠিক উত্তর: (ঘ) ধারা ২৩১।
বিস্তারিত: ভার্সাই চুক্তির ২৩১ নং ধারায় জার্মানি এবং তার মিত্রদের প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু করার জন্য এককভাবে দায়ী করা হয়েছিল। এই ধারাটি জার্মানদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং এটি তাদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক ছিল, যা পরবর্তীতে হিটলারের উত্থানে সহায়তা করে।

23. উড্রো উইলসনের ‘চোদ্দ দফা নীতি’র (Fourteen Points) ওপর ভিত্তি করে কোন আন্তর্জাতিক সংগঠনটি তৈরি হয়েছিল?

সঠিক উত্তর: (খ) জাতিপুঞ্জ (League of Nations)।
বিস্তারিত: মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের চোদ্দ দফা নীতির শেষ দফায় ভবিষ্যৎ যুদ্ধ এড়ানোর জন্য রাষ্ট্রসমূহের একটি সাধারণ সমিতি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই ১৯২০ সালে জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠিত হয়।

24. ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের সময় রাশিয়ার শাসক কে ছিলেন?

সঠিক উত্তর: (ক) জার দ্বিতীয় নিকোলাস।
বিস্তারিত: রুশ বিপ্লবের সময় রোমানভ বংশের শেষ জার ছিলেন দ্বিতীয় নিকোলাস। তাঁর স্বৈরাচারী শাসন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়ার বিপুল ক্ষয়ক্ষতি এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়, যা বিপ্লবের পথ প্রশস্ত করে।

25. বলশেভিক বিপ্লবের (অক্টোবর বিপ্লব) নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?

সঠিক উত্তর: (ঘ) ভ্লাদিমির লেনিন।
বিস্তারিত: ১৯১৭ সালের অক্টোবর মাসে (নতুন ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নভেম্বর) ভ্লাদিমির লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক পার্টি রাশিয়ার অস্থায়ী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। এই বিপ্লবকে অক্টোবর বিপ্লবও বলা হয়।

26. লেনিনের বিখ্যাত স্লোগান কী ছিল যা তাকে জনপ্রিয় করে তোলে?

সঠিক উত্তর: (গ) “রুটি, শান্তি ও জমি” (Peace, Land, and Bread)।
বিস্তারিত: লেনিন তাঁর ‘এপ্রিল থিসিস’-এ এই স্লোগানটি সামনে আনেন। ‘রুটি’ দিয়ে খাদ্য সংকট দূর করা, ‘শান্তি’ দিয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে রাশিয়ার সরে আসা এবং ‘জমি’ দিয়ে কৃষকদের মধ্যে জমি বণ্টনের প্রতিশ্রুতি দেন। এই সহজবোধ্য প্রতিশ্রুতিগুলো যুদ্ধ-বিধ্বস্ত রাশিয়ার সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ছিল।

27. ব্রেস্ট-লিটোভস্ক চুক্তি (Treaty of Brest-Litovsk) কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?

সঠিক উত্তর: (ক) সোভিয়েত রাশিয়া ও কেন্দ্রীয় শক্তি (জার্মানি)।
বিস্তারিত: ১৯১৮ সালের মার্চ মাসে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে সোভিয়েত রাশিয়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়। এটি ছিল লেনিনের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। এই চুক্তির শর্ত রাশিয়ার জন্য অত্যন্ত অপমানজনক ছিল এবং এর ফলে রাশিয়া বিশাল ভূখণ্ড হারায়।

28. রাশিয়ার গৃহযুদ্ধে (১৯১৮-১৯২১) ‘রেড আর্মি’ কার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল?

সঠিক উত্তর: (খ) ‘হোয়াইট আর্মি’ বা শ্বেত বাহিনীর বিরুদ্ধে।
বিস্তারিত: ‘রেড আর্মি’ ছিল বলশেভিকদের সেনাবাহিনী, যার নেতৃত্বে ছিলেন লিও ট্রটস্কি। ‘হোয়াইট আর্মি’ ছিল বলশেভিক-বিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠীর একটি জোট, যার মধ্যে ছিল জার-পন্থী, উদারপন্থী, সমাজতন্ত্রী এবং বিদেশি শক্তি (ব্রিটেন, ফ্রান্স, আমেরিকা, জাপান)।

29. জাতিপুঞ্জের প্রধান দুর্বলতা কী ছিল?

সঠিক উত্তর: (ঘ) এর নিজস্ব কোনো সামরিক বাহিনী ছিল না এবং আমেরিকার মতো শক্তিশালী দেশ এর সদস্য ছিল না।
বিস্তারিত: জাতিপুঞ্জ আগ্রাসী দেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারলেও, তা কার্যকর করার জন্য তার কোনো নিজস্ব সেনাবাহিনী ছিল না। এছাড়া, এর প্রতিষ্ঠাতা দেশ আমেরিকা সিনেটের অনুমোদন না পাওয়ায় নিজেই সদস্য হয়নি, যা সংগঠনটিকে শুরু থেকেই দুর্বল করে দেয়।

30. ‘Bloody Sunday’ (রক্তাক্ত রবিবার) ঘটনাটি কোন বিপ্লবের সাথে সম্পর্কিত?

সঠিক উত্তর: (গ) ১৯০৫ সালের রুশ বিপ্লব।
বিস্তারিত: ১৯০৫ সালের ২২শে জানুয়ারি, ফাদার গ্যাপনের নেতৃত্বে সেন্ট পিটার্সবার্গের শ্রমিকরা একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল করে জারের কাছে আবেদন জানাতে উইন্টার প্যালেসের দিকে যাচ্ছিল। জারের নির্দেশে রক্ষীরা নিরস্ত্র মিছিলের উপর গুলি চালালে শত শত মানুষ নিহত হয়। এই ঘটনাটি ‘রক্তাক্ত রবিবার’ নামে পরিচিত এবং এটি ১৯০৫ সালের বিপ্লবের সূচনা করে।

অধ্যায়: জার্মানিতে নাৎসিবাদ ও ইতালিতে ফ্যাসিবাদ

31. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রটির নাম কী?

সঠিক উত্তর: (খ) ওয়েমার প্রজাতন্ত্র।
বিস্তারিত: ১৯১৯ সালে জার্মানির ওয়েমার শহরে নতুন সংবিধান গৃহীত হয় এবং এর মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ওয়েমার প্রজাতন্ত্র নামে পরিচিত। এই প্রজাতন্ত্র ভার্সাই চুক্তির অপমান এবং ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটসহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল, যা হিটলারের উত্থানের পথ তৈরি করে।

32. অ্যাডলফ হিটলারের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থটির নাম কী?

সঠিক উত্তর: (গ) মাইন কাম্ফ (Mein Kampf)।
বিস্তারিত: ‘মাইন কাম্ফ’ এর অর্থ ‘আমার সংগ্রাম’। হিটলার জেলে থাকাকালীন এই বইটি লেখেন। এতে তিনি তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শ, ইহুদি-বিদ্বেষ, আর্য জাতির শ্রেষ্ঠত্ব এবং জার্মানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা (যেমন লেবেনস্রম বা Lebensraum) তুলে ধরেন। এটি নাৎসিবাদের বাইবেল হিসেবে পরিচিতি পায়।

33. ইতালিতে ফ্যাসিবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা এবং নেতা কে ছিলেন?

সঠিক উত্তর: (ক) বেনিতো মুসোলিনি।
বিস্তারিত: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালিতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে বেনিতো মুসোলিনি ফ্যাসিবাদী দল গঠন করেন। তিনি উগ্র জাতীয়তাবাদ, সাম্রাজ্যবাদ এবং একদলীয় স্বৈরাচারী শাসনের প্রচার করেন। ১৯২২ সালে ‘মার্চ অন রোম’-এর মাধ্যমে তিনি ইতালির ক্ষমতা দখল করেন।

34. নাৎসি জার্মানির গোপন পুলিশ বাহিনীর নাম কী ছিল?

সঠিক উত্তর: (ঘ) গেস্টাপো (Gestapo)।
বিস্তারিত: গেস্টাপো (Geheime Staatspolizei) ছিল নাৎসি জার্মানির কুখ্যাত রাষ্ট্রীয় গোপন পুলিশ বাহিনী। এর প্রধান কাজ ছিল রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করা, গুপ্তচরবৃত্তি করা এবং নাৎসি শাসনের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের প্রতিরোধকে নির্মমভাবে নির্মূল করা।

35. ‘লেবেনস্রম’ (Lebensraum) বা ‘জীবনধারণের স্থান’ নীতির প্রবক্তা কে?

সঠিক উত্তর: (ক) অ্যাডলফ হিটলার।
বিস্তারিত: হিটলারের মতে, জার্মান আর্য জাতির জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য আরও ‘জীবনধারণের স্থান’ বা Lebensraum প্রয়োজন। এই স্থান 확보 করার জন্য তিনি পূর্ব ইউরোপের (বিশেষ করে পোল্যান্ড ও রাশিয়ার) স্লাভ অধ্যুষিত অঞ্চলগুলো দখল করার পরিকল্পনা করেছিলেন। এই নীতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।

36. মুসোলিনি কোন ঘটনার মাধ্যমে ইতালির ক্ষমতা দখল করেন?

সঠিক উত্তর: (গ) ‘মার্চ অন রোম’ (রোম অভিযান)।
বিস্তারিত: ১৯২২ সালের অক্টোবরে মুসোলিনি হাজার হাজার ফ্যাসিবাদী ‘ব্ল্যাকশার্ট’ বাহিনীকে নিয়ে রোমের দিকে যাত্রা করার হুমকি দেন। রক্তপাত এড়াতে ইতালির রাজা তৃতীয় ভিক্টর ইমানুয়েল মুসোলিনিকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানান। এই ঘটনাটি ‘মার্চ অন রোম’ নামে পরিচিত।

37. হিটলার কবে জার্মানির চ্যান্সেলর নিযুক্ত হন?

সঠিক উত্তর: (খ) ১৯৩৩ সালের ৩০শে জানুয়ারি।
বিস্তারিত: ১৯৩২ সালের নির্বাচনে নাৎসি পার্টি জার্মানির বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে এবং রক্ষণশীলদের সমর্থনে প্রেসিডেন্ট হিনডেনবার্গ অনিচ্ছাসত্ত্বেও অ্যাডলফ হিটলারকে জার্মানির চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ করতে বাধ্য হন।

38. ‘নাইট অফ দ্য লং নাইভস’ (Night of the Long Knives) ঘটনায় হিটলার কাদেরকে হত্যা করেছিলেন?

সঠিক উত্তর: (ঘ) নিজের দলের এস. এ. (SA) বাহিনীর নেতা এবং অন্যান্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের।
বিস্তারিত: ১৯৩৪ সালের ৩০শে জুন হিটলার তার ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার জন্য একটি শুদ্ধি অভিযান চালান। এই ঘটনায় তিনি তার নিজের দলের প্যারামিলিটারি শাখা এস. এ.-এর প্রধান আর্নস্ট রোমসহ শত শত সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীকে হত্যা করেন। এর ফলে জার্মান সেনাবাহিনী হিটলারের প্রতি অনুগত হয়।

39. ইতালির ফ্যাসিবাদী শাসনে প্রচারিত মতবাদ কোনটি?

সঠিক উত্তর: (ক) রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে কিছু নেই, রাষ্ট্রের জন্যই সবকিছু।
বিস্তারিত: ফ্যাসিবাদ ছিল একটি সর্বাত্মকবাদী (Totalitarian) মতাদর্শ। মুসোলিনির বিখ্যাত উক্তি ছিল, “Everything in the State, nothing outside the State, nothing against the State”। এখানে ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের অধীনস্থ একটি অংশ হিসেবে দেখা হতো এবং রাষ্ট্রের গৌরবই ছিল সর্বোচ্চ লক্ষ্য।

40. ওয়েমার প্রজাতন্ত্রের পতনের প্রধান অর্থনৈতিক কারণ কী ছিল?

সঠিক উত্তর: (খ) ১৯২৯ সালের মহামন্দা।
বিস্তারিত: ১৯২৯ সালে আমেরিকায় শুরু হওয়া মহামন্দা জার্মানির অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেয়। লক্ষ লক্ষ মানুষ বেকার হয়ে পড়ে, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়। এই ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট ওয়েমার প্রজাতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করে দেয় এবং হিটলারের মতো চরমপন্থী নেতাদের উত্থানের পথ প্রশস্ত করে।

অধ্যায়: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উদ্ভব

41. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয় কোন ঘটনাটির মাধ্যমে?

সঠিক উত্তর: (গ) জার্মানির পোল্যান্ড আক্রমণ।
বিস্তারিত: ১৯৩৯ সালের ১লা সেপ্টেম্বর জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ৩রা সেপ্টেম্বর ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

42. ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নেভিল চেম্বারলেন হিটলারের প্রতি যে ‘তোষণ নীতি’ (Policy of Appeasement) গ্রহণ করেছিলেন, তার চরম নিদর্শন কোনটি?

সঠিক উত্তর: (খ) মিউনিখ চুক্তি (১৯৩৮)।
বিস্তারিত: ১৯৩৮ সালের মিউনিখ চুক্তিতে ব্রিটেন ও ফ্রান্স, জার্মানিকে চেকোস্লোভাকিয়ার জার্মান-অধ্যুষিত সুদেতেনল্যান্ড অঞ্চলটি দখল করার অনুমতি দেয়। তাদের আশা ছিল, এই ছাড় দিলে হিটলার সন্তুষ্ট হবেন এবং আর কোনও রাজ্য দখল করবেন না। কিন্তু এই তোষণ নীতি হিটলারকে আরও আগ্রাসী হতে উৎসাহিত করে।

43. অক্ষশক্তি (Axis Powers) বলতে প্রধানত কোন তিনটি দেশকে বোঝানো হতো?

সঠিক উত্তর: (ক) জার্মানি, ইতালি, জাপান।
বিস্তারিত: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রধান আগ্রাসী শক্তি ছিল এই তিনটি দেশ। ১৯৩৬ সালে রোম-বার্লিন অক্ষ চুক্তি এবং অ্যান্টি-কমিন্টার্ন চুক্তির মাধ্যমে তাদের মধ্যে জোটবদ্ধতা শুরু হয় এবং ১৯৪০ সালের ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে তা পূর্ণতা পায়।

44. ১৯৩৯ সালে স্বাক্ষরিত ‘অনাগ্রাসন চুক্তি’ (Non-aggression Pact) কোন দুটি দেশের মধ্যে হয়েছিল?

সঠিক উত্তর: (ঘ) জার্মানি ও সোভিয়েত ইউনিয়ন।
বিস্তারিত: এই চুক্তিটি মলোটভ-রিবেনট্রপ চুক্তি নামেও পরিচিত। এই চুক্তির মাধ্যমে হিটলার এবং স্তালিন পরস্পরকে আক্রমণ না করার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং একটি গোপন প্রটোকলের মাধ্যমে পোল্যান্ড ও পূর্ব ইউরোপকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা করে। এই চুক্তি হিটলারকে পোল্যান্ড আক্রমণের জন্য निश्चিন্ত করে।

45. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রশক্তির (Allied Powers) প্রধান দেশগুলো কারা ছিল?

সঠিক উত্তর: (খ) ব্রিটেন, ফ্রান্স, সোভিয়েত ইউনিয়ন, আমেরিকা।
বিস্তারিত: যদিও যুদ্ধ শুরুর সময় ফ্রান্স ও ব্রিটেন প্রধান মিত্রশক্তি ছিল, পরবর্তীতে জার্মানি সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করলে (১৯৪১) এবং জাপান পার্ল হারবার আক্রমণ করলে (১৯৪১) সোভিয়েত ইউনিয়ন ও আমেরিকা এই জোটে যোগদান করে। এই চার শক্তিকে ‘বিগ ফোর’ বলা হতো।

46. ‘আনschluss’ (Anschluss) বলতে কী বোঝায়?

সঠিক উত্তর: (গ) জার্মানির সাথে অস্ট্রিয়ার সংযুক্তি।
বিস্তারিত: হিটলারের অন্যতম লক্ষ্য ছিল সকল জার্মান-ভাষী மக்களை এক রাষ্ট্রের অধীনে আনা। ১৯৩৮ সালের মার্চ মাসে তিনি অস্ট্রিয়াকে জার্মানির সাথে সংযুক্ত করেন। ভার্সাই চুক্তিতে এই সংযুক্তি নিষিদ্ধ ছিল, কিন্তু ব্রিটেন ও ফ্রান্স এর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, যা তোষণ নীতির আরেকটি উদাহরণ।

47. স্পেনের গৃহযুদ্ধে (১৯৩৬-১৯৩৯) জেনারেল ফ্রাঙ্কোকে কোন দুটি দেশ সক্রিয়ভাবে সমর্থন করেছিল?

সঠিক উত্তর: (ক) জার্মানি ও ইতালি।
বিস্তারিত: স্পেনের গৃহযুদ্ধকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি ‘ড্রেস রিহার্সাল’ বলা হয়। এই যুদ্ধে জাতীয়তাবাদী নেতা জেনারেল ফ্রাঙ্কোকে হিটলারের জার্মানি এবং মুসোলিনির ইতালি সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে সাহায্য করেছিল। এটি ছিল ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলোর মধ্যে সহযোগিতার একটি স্পষ্ট নিদর্শন।

48. ‘অ্যান্টি-কমিন্টার্ন প্যাক্ট’ (Anti-Comintern Pact) প্রাথমিকভাবে কোন দুটি দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?

সঠিক উত্তর: (ঘ) জার্মানি ও জাপান।
বিস্তারিত: ১৯৩৬ সালে জার্মানি ও জাপান এই চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক কমিউনিজমের (কমিন্টার্ন) বিরুদ্ধে একসাথে কাজ করা। পরবর্তীতে ইতালিও এই চুক্তিতে যোগ দেয়, যা অক্ষশক্তির ভিত্তি আরও মজবুত করে।

49. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে হিটলারের পোল্যান্ড আক্রমণের অজুহাত কী ছিল?

সঠিক উত্তর: (খ) ডানজিগ বন্দর ও পোলিশ করিডোরের দাবি।
বিস্তারিত: ভার্সাই চুক্তি অনুযায়ী, ডানজিগকে একটি মুক্ত শহর করা হয় এবং জার্মানির মূল ভূখণ্ড থেকে পূর্ব প্রুশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করে পোল্যান্ডকে সমুদ্র পর্যন্ত একটি ‘করিডোর’ দেওয়া হয়। হিটলার ডানজিগকে জার্মানির সাথে যুক্ত করতে এবং করিডোরের উপর দিয়ে জার্মানির রাস্তা তৈরির অধিকার দাবি করেন। পোল্যান্ড এই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে হিটলার এটিকে আক্রমণের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেন।

50. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির閃电战 (Blitzkrieg) বা ‘বিদ্যুৎ গতির যুদ্ধ’ নীতির মূল লক্ষ্য কী ছিল?

সঠিক উত্তর: (ঘ) দ্রুত আক্রমণ করে শত্রুকে অপ্রস্তুত অবস্থায় পরাজিত করা।
বিস্তারিত: ব্লিটজক্রিগ ছিল একটি যুদ্ধ কৌশল যেখানে বিমানবাহিনী (Luftwaffe) এবং দ্রুতগতির সাঁজোয়া যান (Panzer) ব্যবহার করে অতর্কিতে এবং অত্যন্ত দ্রুত গতিতে আক্রমণ চালানো হত। এর উদ্দেশ্য ছিল শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে তাদের অপ্রস্তুত অবস্থায় দ্রুত পরাজিত করা এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এড়ানো। পোল্যান্ড ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে জার্মানি এই নীতি প্রয়োগ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল।

বিবিধ অতিরিক্ত প্রশ্ন (51-200)

51. ‘ইম্পিরিয়ালিজম, দ্য হাইয়েস্ট স্টেজ অফ ক্যাপিটালিজম’ গ্রন্থটির লেখক কে?

সঠিক উত্তর: (গ) ভ্লাদিমির লেনিন।
বিস্তারিত: এই গ্রন্থে লেনিন যুক্তি দেন যে একচেটিয়া পুঁজিবাদের বিকাশের ফলেই সাম্রাজ্যবাদের জন্ম হয়, কারণ পুঁজিপতিরা উদ্বৃত্ত পুঁজি বিনিয়োগের জন্য নতুন ক্ষেত্র খোঁজে।

52. সেরাজেভো হত্যাকাণ্ড কবে সংঘটিত হয়?

সঠিক উত্তর: (ক) ২৮ জুন, ১৯১৪।
বিস্তারিত: এই দিন বসনিয়ার রাজধানী সেরাজেভোতে অস্ট্রিয়ার যুবরাজ ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দ নিহত হন, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

53. লেনিনের NEP-এর পূর্ণরূপ কী?

সঠিক উত্তর: (ঘ) New Economic Policy (নতুন অর্থনৈতিক নীতি)।
বিস্তারিত: ১৯২১ সালে লেনিন রাশিয়ার বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এই নীতি চালু করেন, যেখানে সীমিত আকারে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও বাণিজ্যের অনুমতি দেওয়া হয়।

54. ‘বিয়ার হল পুশ’ (Beer Hall Putsch) এর মাধ্যমে হিটলার কবে ক্ষমতা দখলের ব্যর্থ চেষ্টা করেন?

সঠিক উত্তর: (খ) ১৯২৩।
বিস্তারিত: ১৯২৩ সালে হিটলার মিউনিখের একটি বিয়ার হল থেকে ওয়েমার সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন এবং কারারুদ্ধ হন।

55. মুসোলিনির উপাধি কী ছিল?

সঠিক উত্তর: (ক) ইল দুচে (Il Duce)।
বিস্তারিত: ইতালীয় ভাষায় ‘ইল দুচে’ শব্দের অর্থ ‘নেতা’। মুসোলিনি এই উপাধি গ্রহণ করে ইতালিতে তার একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। ‘ফ্যুয়েরার’ ছিল হিটলারের উপাধি।

56. ‘বলকানকে’ কী হিসেবে অভিহিত করা হতো?

সঠিক উত্তর: (গ) ইউরোপের বারুদখানা (Powder Keg of Europe)।
বিস্তারিত: অটোমান সাম্রাজ্যের দুর্বলতা এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র জাতীয়তাবাদী সংঘাতের কারণে বলকান অঞ্চলটি অত্যন্ত বিস্ফোরক অবস্থায় ছিল, যা যেকোনো সময় একটি বড় যুদ্ধের জন্ম দিতে পারত।

57. ভার্সাই চুক্তির পর জার্মানির রাইনল্যান্ড অঞ্চলটিকে…?

সঠিক উত্তর: (ঘ) সামরিকভাবে বিযুক্ত (demilitarized) করা হয়।
বিস্তারিত: ফ্রান্সের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভার্সাই চুক্তি অনুযায়ী জার্মানির রাইনল্যান্ড অঞ্চলে কোনো সৈন্য বা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন নিষিদ্ধ করা হয়। ১৯৩৬ সালে হিটলার এই শর্ত লঙ্ঘন করেন।

58. রাশিয়ার ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের (১৯১৭) প্রধান ফল কী ছিল?

সঠিক উত্তর: (খ) জারের শাসনের অবসান এবং অস্থায়ী সরকার গঠন।
বিস্তারিত: ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারি (পুরনো ক্যালেন্ডার) বা মার্চ (নতুন ক্যালেন্ডার) বিপ্লবের ফলে জার দ্বিতীয় নিকোলাস পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং একটি অস্থায়ী গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়।

59. ফ্যাসিবাদের জন্ম কোন দেশে হয়েছিল?

সঠিক উত্তর: (গ) ইতালি।
বিস্তারিত: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালিতে বেনিতো মুসোলিনির নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদী মতাদর্শ ও আন্দোলনের জন্ম হয়।

60. হিটলারের প্রচারমন্ত্রী কে ছিলেন?

সঠিক উত্তর: (ক) জোসেফ গোয়েবেলস।
বিস্তারিত: গোয়েবেলস ছিলেন নাৎসি প্রচারযন্ত্রের প্রধান। তিনি মিথ্যাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কুখ্যাত ছিলেন এবং তার বিখ্যাত উক্তি ছিল, “একটি মিথ্যাকে বারবার বললে তা সত্যে পরিণত হয়।”

61. অ্যাংলো-রাশিয়ান আঁতাত কবে স্বাক্ষরিত হয়?

সঠিক উত্তর: (খ) ১৯০৭।
বিস্তারিত: এই চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেন ও রাশিয়া পারস্য, আফগানিস্তান ও তিব্বত নিয়ে তাদের বিবাদের নিষ্পত্তি করে। এটি ত্রিশক্তি আঁতাত (Triple Entente) গঠন সম্পূর্ণ করে।

62. মরক্কো সংকটকে কেন্দ্র করে কোন দুটি দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল?

সঠিক উত্তর: (ঘ) জার্মানি ও ফ্রান্স।
বিস্তারিত: জার্মানি মরক্কোতে ফ্রান্সের প্রভাব বিস্তারের বিরোধিতা করে দুবার (১৯০৫ ও ১৯১১) সংকট তৈরি করে। এর উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটেন ও ফ্রান্সের আঁতাতকে ভেঙে দেওয়া, কিন্তু ফল হয়েছিল উল্টো।

63. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত ‘ট্যাঙ্ক’ প্রথম কোন দেশ ব্যবহার করে?

সঠিক উত্তর: (ক) ব্রিটেন।
বিস্তারিত: ১৯১৬ সালে সোমের যুদ্ধে (Battle of the Somme) ব্রিটিশরা প্রথম ট্রেঞ্চ যুদ্ধ অচলবস্থা ভাঙার জন্য ট্যাঙ্ক ব্যবহার করে।

64. ‘ডিক্টেটেড পিস’ (Dictated Peace) কোন চুক্তিকে বলা হয়?

সঠিক উত্তর: (গ) ভার্সাই চুক্তি।
বিস্তারিত: জার্মানিকে এই চুক্তির আলোচনায় কোনো সুযোগ না দিয়ে বিজয়ী মিত্রশক্তি একতরফাভাবে শর্তগুলো চাপিয়ে দিয়েছিল বলে জার্মানরা একে ‘ডিক্টেটেড পিস’ বা ‘জবরদস্তিমূলক শান্তি’ বলে অভিহিত করে।

65. রাশিয়ার ডুমা (Duma) কী?

সঠিক উত্তর: (খ) রাশিয়ার আইনসভা বা সংসদ।
বিস্তারিত: ১৯০৫ সালের বিপ্লবের পর জার দ্বিতীয় নিকোলাস একটি নির্বাচিত আইনসভা বা ডুমা গঠনে সম্মত হয়েছিলেন, যদিও এর ক্ষমতা ছিল অত্যন্ত সীমিত।

66. হিটলারের নাৎসি দলের প্রতীক কী ছিল?

সঠিক উত্তর: (ঘ) স্বস্তিকা।
বিস্তারিত: হিটলার প্রাচীন আর্য প্রতীক স্বস্তিকাকে তার দলের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেন। এটি আর্য জাতির শ্রেষ্ঠত্ব এবং ইহুদি-বিদ্বেষের প্রতীকে পরিণত হয়।

67. মুসোলিনির ব্ল্যাকশার্টস (Blackshirts) বাহিনীর কাজ কী ছিল?

সঠিক উত্তর: (ক) রাজনৈতিক বিরোধীদের (বিশেষ করে সমাজতন্ত্রী ও কমিউনিস্ট) আক্রমণ ও দমন করা।
বিস্তারিত: ‘স্কোয়াড্রিস্তি’ নামেও পরিচিত এই আধা-সামরিক বাহিনীটি ফ্যাসিবাদী দলের ক্ষমতা দখলের জন্য সন্ত্রাস ও সহিংসতার আশ্রয় নিত।

68. ‘রাইখস্ট্যাগ ফায়ার ডিক্রি’ (Reichstag Fire Decree) হিটলারকে কী ক্ষমতা দিয়েছিল?

সঠিক উত্তর: (গ) নাগরিকদের মৌলিক অধিকার খর্ব করার।
বিস্তারিত: ১৯৩৩ সালে জার্মান পার্লামেন্ট ভবন রাইখস্ট্যাগে আগুন লাগার পর হিটলার এই ডিক্রি জারি করেন। এর মাধ্যমে তিনি ওয়েমার সংবিধানের প্রদত্ত বাকস্বাধীনতা, সভা-সমাবেশের অধিকারসহ বিভিন্ন নাগরিক অধিকার স্থগিত করে দেন এবং কমিউনিস্টদের উপর ব্যাপক দমন-পীড়ন শুরু করেন।

69. ‘প্যাক্ট অফ স্টিল’ (Pact of Steel) কোন দুটি দেশের মধ্যে সামরিক জোট ছিল?

সঠিক উত্তর: (খ) জার্মানি ও ইতালি।
বিস্তারিত: ১৯৩৯ সালের মে মাসে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি ছিল হিটলারের জার্মানি এবং মুসোলিনির ইতালির মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট।

70. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন?

সঠিক উত্তর: (ঘ) ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট।
বিস্তারিত: ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট (FDR) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রায় পুরো সময় ধরেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার মৃত্যুর পর হ্যারি ট্রুম্যান প্রেসিডেন্ট হন।

71. ওপিয়াম যুদ্ধ (Opium Wars) কাদের মধ্যে হয়েছিল?

সঠিক উত্তর: (ক) ব্রিটেন ও চীন।
বিস্তারিত: উনিশ শতকে চীনে আফিম ব্যবসা নিয়ে ব্রিটেন ও চীনের মধ্যে এই যুদ্ধ হয়, যা চীনে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের অনুপ্রবেশের পথ খুলে দেয়।

72. জার্মানির কোন চ্যান্সেলর ‘রক্ত ও লৌহ’ (Blood and Iron) নীতির জন্য পরিচিত?

সঠিক উত্তর: (গ) অটো ফন বিসমার্ক।
বিস্তারিত: বিসমার্ক বিশ্বাস করতেন যে জার্মানির একত্রীকরণ বক্তৃতা বা ভোটের মাধ্যমে নয়, বরং যুদ্ধ ও সামরিক শক্তির (রক্ত ও লৌহ) মাধ্যমেই সম্ভব।

73. ‘জার্মানির শূন্যগর্ভ আস্ফালন’ (Hollow posturing of Germany) কথাটি কোন ঘটনার সাথে যুক্ত?

সঠিক উত্তর: (খ) মরক্কো সংকট।
বিস্তারিত: কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম মরক্কোতে ফ্রান্সের আধিপত্যের বিরুদ্ধে বড় বড় বক্তৃতা দিলেও, বাস্তবে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হন। এই ঘটনায় জার্মানির সম্মানহানি হয় এবং একে ‘শূন্যগর্ভ আস্ফালন’ বলা হয়।

74. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ট্রেঞ্চ ওয়ারফেয়ার (Trench Warfare) মূলত কোন ফ্রন্টে দেখা গিয়েছিল?

সঠিক উত্তর: (ক) পশ্চিম ফ্রন্ট (Western Front)।
বিস্তারিত: ফ্রান্স ও বেলজিয়ামে বিস্তৃত পশ্চিম ফ্রন্টে উভয় পক্ষই ট্রেঞ্চ বা পরিখা খুঁড়ে года পর বছর ধরে যুদ্ধ চালায়, যা ভয়াবহ অচলাবস্থার সৃষ্টি করে।

75. স্তালিন রাশিয়ায় কোন অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করেন?

সঠিক উত্তর: (গ) পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (Five-Year Plans)।
বিস্তারিত: ১৯২৮ সাল থেকে স্তালিন NEP বাতিল করে দ্রুত শিল্পায়ন এবং কৃষির যৌথীকরণের জন্য পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন, যা সোভিয়েত ইউনিয়নকে একটি শিল্পশক্তিতে পরিণত করে কিন্তু ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটায়।

76. ওয়েমার প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন?

সঠিক উত্তর: (ঘ) ফ্রিডরিখ এবার্ট।
বিস্তারিত: সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা ফ্রিডরিখ এবার্ট ছিলেন ওয়েমার প্রজাতন্ত্রের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট।

77. ইতালির আবিসিনিয়া (ইথিওপিয়া) আক্রমণ কবে হয়?

সঠিক উত্তর: (ক) ১৯৩৫।
বিস্তারিত: মুসোলিনির ইতালি ১৯৩৫ সালে আবিসিনিয়া আক্রমণ করে দখল করে নেয়। জাতিপুঞ্জ এর বিরুদ্ধে দুর্বল নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও তা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়, যা ফ্যাসিবাদের আগ্রাসনকে উৎসাহিত করে।

78. লুসিটানিয়া (Lusitania) কী ছিল?

সঠিক উত্তর: (গ) একটি ব্রিটিশ যাত্রীবাহী জাহাজ যা জার্মান সাবমেরিন ডুবিয়ে দেয়।
বিস্তারিত: ১৯১৫ সালে জার্মান ইউ-বোটের আক্রমণে ব্রিটিশ জাহাজ লুসিটানিয়া ডুবে যায় এবং অনেক আমেরিকান যাত্রীসহ ১২০০-র বেশি মানুষ মারা যায়। এই ঘটনা আমেরিকায় জার্মান-বিরোধী মনোভাব তীব্র করে তোলে।

79. ‘ফ্যুয়েরার’ (Führer) শব্দের অর্থ কী?

সঠিক উত্তর: (খ) নেতা বা পথপ্রদর্শক।
বিস্তারিত: প্রেসিডেন্ট হিনডেনবার্গের মৃত্যুর পর হিটলার চ্যান্সেলর ও প্রেসিডেন্টের পদ একত্রিত করে ‘ফ্যুয়েরার’ উপাধি গ্রহণ করেন এবং জার্মানির একচ্ছত্র অধিপতি হন।

80. তোষণ নীতির প্রধান প্রবক্তা কে ছিলেন?

সঠিক উত্তর: (ঘ) নেভিল চেম্বারলেন।
বিস্তারিত: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নেভিল চেম্বারলেন বিশ্বাস করতেন যে হিটলারকে কিছু ছাড় দিলে যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব। এই নীতিই তোষণ নীতি (Policy of Appeasement) নামে পরিচিত, যার চরম প্রকাশ ঘটে মিউনিখ চুক্তিতে।

81. ১৯১৯ সালের শান্তি সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রতিনিধি কে ছিলেন?

সঠিক উত্তর: (ক) জর্জেস ক্লেমঁসো।
বিস্তারিত: ফরাসি প্রধানমন্ত্রী জর্জেস ক্লেমঁসো, যিনি ‘দ্য টাইগার’ নামে পরিচিত ছিলেন, প্যারিস শান্তি সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রতিনিধিত্ব করেন। তার প্রধান লক্ষ্য ছিল জার্মানিকে স্থায়ীভাবে দুর্বল করে দেওয়া।

82. লেনিনের পর সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্ষমতা কে দখল করেন?

সঠিক উত্তর: (খ) জোসেফ স্তালিন।
বিস্তারিত: ১৯২৪ সালে লেনিনের মৃত্যুর পর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে লিও ট্রটস্কিকে পরাজিত করে জোসেফ স্তালিন কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নের নিরঙ্কুশ নেতা হয়ে ওঠেন।

83. নাৎসিদের ইহুদি নিধনযজ্ঞ কী নামে পরিচিত?

সঠিক উত্তর: (গ) হলোকস্ট (The Holocaust)।
বিস্তারিত: হলোকস্ট হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানি কর্তৃক প্রায় ৬০ লক্ষ ইহুদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার ঘটনা।

84. ‘উন্মুক্ত দ্বার নীতি’ (Open Door Policy) কোন দেশের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছিল?

সঠিক উত্তর: (ক) চীন।
বিস্তারিত: আমেরিকার উদ্যোগে এই নীতি গ্রহণ করা হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল চীনে সকল বিদেশি শক্তির সমান বাণিজ্যিক সুযোগ নিশ্চিত করা এবং চীনকে ভাগ-বাটোয়ারার হাত থেকে রক্ষা করা।

85. ভার্সাই চুক্তি অনুযায়ী আলসেস-লোরেন অঞ্চলটি কোন দেশকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়?

সঠিক উত্তর: (ঘ) ফ্রান্স।
বিস্তারিত: ১৮৭১ সালের ফ্রাঙ্কো-প্রুশিয়ান যুদ্ধের পর জার্মানি এই অঞ্চলটি দখল করেছিল। ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে এটি আবার ফ্রান্সকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

… আরও ১১৫টি প্রশ্ন নিচে যোগ করা হল …

86. ১৯২৯ সালের মহামন্দা কোন দেশ থেকে শুরু হয়েছিল?

সঠিক উত্তর: (ক) আমেরিকা।
বিস্তারিত: ১৯২৯ সালের অক্টোবরে নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের পতনের (Wall Street Crash) মাধ্যমে এই বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয়।

87. সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করেন কে?

সঠিক উত্তর: (খ) গামাল আবদেল নাসের।
বিস্তারিত: ১৯৫৬ সালে মিশরের প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসের সুয়েজ খালকে জাতীয়করণ করেন, যা পূর্বে ব্রিটিশ ও ফরাসি নিয়ন্ত্রণে ছিল। এটি সুয়েজ সংকটের জন্ম দেয়।

88. ‘করপোরেট স্টেট’ বা নিগমবদ্ধ রাষ্ট্র ধারণাটি কার?

সঠিক উত্তর: (গ) বেনিতো মুসোলিনি।
বিস্তারিত: মুসোলিনি ইতালির অর্থনীতিকে বিভিন্ন নিগম বা কর্পোরেশনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন, যেখানে মালিক ও শ্রমিক উভয়ই রাষ্ট্রের নির্দেশ মেনে চলবে।

89. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্যের কী পরিণতি হয়েছিল?

সঠিক উত্তর: (ঘ) এটি ভেঙে গিয়ে অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, চেকোস্লোভাকিয়া ইত্যাদি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
বিস্তারিত: জাতিসমূহের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নীতির ভিত্তিতে সেন্ট জার্মেইন ও ট্রিয়ানন চুক্তির মাধ্যমে এই বিশাল সাম্রাজ্যকে ভেঙে দেওয়া হয়।

90. জিমারম্যান টেলিগ্রাম (Zimmermann Telegram) কোন দুটি দেশের মধ্যে গোপন যোগাযোগের চেষ্টা ছিল?

সঠিক উত্তর: (খ) জার্মানি ও মেক্সিকো।
বিস্তারিত: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি মেক্সিকোকে প্রস্তাব দেয় যে, আমেরিকা যদি যুদ্ধে যোগ দেয় তবে মেক্সিকো যেন আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এর বিনিময়ে জার্মানি মেক্সিকোকে তার হারানো অঞ্চল (টেক্সাস, অ্যারিজোনা) পুনরুদ্ধারে সাহায্য করবে। ব্রিটিশ গোয়েন্দারা এই টেলিগ্রামটি উদ্ধার করে আমেরিকার হাতে তুলে দেয়, যা আমেরিকাকে যুদ্ধে যোগ দিতে উৎসাহিত করে।

91. ক্রিস্টালনাখট (Kristallnacht) বা ‘ভাঙ্গা কাঁচের রাত্রি’ ঘটনাটি কী?

সঠিক উত্তর: (ঘ) জার্মানিতে ইহুদিদের উপর একটি পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় আক্রমণ।
বিস্তারিত: ১৯৩৮ সালের ৯-১০ নভেম্বর রাতে নাৎসিরা জার্মানি জুড়ে ইহুদিদের সিনাগগ, দোকানপাট ও বাড়িতে আক্রমণ চালায় এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ করে। রাস্তায় ভাঙ্গা কাঁচ ছড়িয়ে থাকায় একে ‘ভাঙ্গা কাঁচের রাত্রি’ বলা হয়। এটি হলোকস্টের একটি ভয়াবহ সূচনা ছিল।

92. স্পেনের গৃহযুদ্ধে পাবলো পিকাসোর বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘গুয়ের্নিকা’ (Guernica) কোন ঘটনার প্রতিবাদে আঁকা হয়েছিল?

সঠিক উত্তর: (ক) জার্মান বিমান দ্বারা গুয়ের্নিকা শহরে বোমাবর্ষণ।
বিস্তারিত: স্পেনের গৃহযুদ্ধের সময় ১৯৩৭ সালে হিটলারের ‘কন্ডর লিজিওন’ বিমানবাহিনী বাস্ক শহর গুয়ের্নিকায় নির্মম বোমাবর্ষণ করে। এই নারকীয় হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে পিকাসো তার বিখ্যাত যুদ্ধবিরোধী চিত্রকর্ম ‘গুয়ের্নিকা’ আঁকেন।

93. “Anschluss” এর মাধ্যমে হিটলার কোন দেশ দখল করেন?

সঠিক উত্তর: (গ) অস্ট্রিয়া।
বিস্তারিত: ১৯৩৮ সালের মার্চ মাসে হিটলার ভার্সাই চুক্তি লঙ্ঘন করে জার্মানির সাথে অস্ট্রিয়ার রাজনৈতিক সংযুক্তি ঘটান, যা ‘আনschluss’ নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে তিনি ‘এক জাতি, এক রাষ্ট্র’ নীতির বাস্তবায়ন শুরু করেন।

94. ‘ফনি ওয়ার’ (Phoney War) বা ‘নকল যুদ্ধ’ বলতে কোন সময়কালকে বোঝানো হয়?

সঠিক উত্তর: (খ) পোল্যান্ড আক্রমণের পর থেকে ফ্রান্স আক্রমণ পর্যন্ত সময়।
বিস্তারিত: ১৯৩৯ সালের সেপ্টেম্বরে পোল্যান্ড দখলের পর থেকে ১৯৪০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত পশ্চিম ফ্রন্টে ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেও কোনো বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায়নি। এই নিষ্ক্রিয় পর্যায়টি ‘ফনি ওয়ার’ নামে পরিচিত।

95. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অটোমান সাম্রাজ্যের কী হয়েছিল?

সঠিক উত্তর: (ঘ) সেভ্রেস চুক্তির মাধ্যমে এটি ভেঙে যায় এবং তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের জন্ম হয়।
বিস্তারিত: সেভ্রেস চুক্তির (১৯২০) মাধ্যমে অটোমান সাম্রাজ্যের আরব অঞ্চলগুলো ব্রিটেন ও ফ্রান্সের ম্যান্ডেটে পরিণত হয়। পরবর্তীতে মুস্তফা কামাল আতাতুর্কের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ফলে আধুনিক তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের জন্ম হয়।

96. লেটারান চুক্তি (Lateran Treaty) ১৯২৯ সালে কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?

সঠিক উত্তর: (ক) মুসোলিনির ইতালি ও ভ্যাটিকান সিটি।
বিস্তারিত: এই চুক্তির মাধ্যমে ইতালীয় রাষ্ট্র এবং ক্যাথলিক চার্চের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটে। ভ্যাটিকান সিটিকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং এর বিনিময়ে পোপ ইতালির ফ্যাসিবাদী সরকারকে স্বীকৃতি দেন, যা মুসোলিনির ক্ষমতাকে আরও মজবুত করে।

97. স্তালিনের ‘গ্রেট পার্জ’ (Great Purge) বা ‘মহা শুদ্ধি অভিযান’ এর লক্ষ্য কী ছিল?

সঠিক উত্তর: (গ) কমিউনিস্ট পার্টি এবং সেনাবাহিনী থেকে সমস্ত সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীকে নির্মূল করা।
বিস্তারিত: ১৯৩০-এর দশকে স্তালিন তার ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করতে এই ভয়াবহ শুদ্ধি অভিযান চালান। লক্ষ লক্ষ দলীয় সদস্য, সেনা কর্মকর্তা, বুদ্ধিজীবী এবং সাধারণ নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় বা গুলাগে (শ্রম শিবির) পাঠানো হয়।

98. জার্মানির হাইপারইনফ্লেশন (Hyperinflation) বা ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি কোন সালে চরম পর্যায়ে পৌঁছায়?

সঠিক উত্তর: (খ) ১৯২৩।
বিস্তারিত: ফ্রান্স কর্তৃক রুঢ় (Ruhr) শিল্পাঞ্চল দখলের প্রতিক্রিয়ায় জার্মান সরকার প্রচুর পরিমাণে টাকা ছাপানো শুরু করে। এর ফলে জার্মান মুদ্রা মার্কের মূল্য ভয়াবহভাবে কমে যায়। এই অর্থনৈতিক বিপর্যয় ওয়েমার প্রজাতন্ত্রকে দুর্বল করে দেয়।

99. ‘আফ্রিকা মহাদেশের অন্ধকারতম স্থান’ (Darkest Africa) এই ধারণাটি কারা প্রচার করেছিল?

সঠিক উত্তর: (ঘ) ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীরা।
বিস্তারিত: ইউরোপীয়রা আফ্রিকাকে একটি ‘অসভ্য’, ‘অনুন্নত’ এবং ‘অজানা’ মহাদেশ হিসেবে চিত্রিত করত। এই ধারণাটি তাদের সাম্রাজ্যবাদী অভিযান এবং ‘সভ্য করার দায়িত্ব’কে ন্যায্য প্রমাণ করতে সাহায্য করেছিল।

100. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় উসমানীয় তুর্কিরা কোন সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর উপর গণহত্যা চালিয়েছিল?

সঠিক উত্তর: (ক) আর্মেনীয়।
বিস্তারিত: ১৯১৫ সালে উসমানীয় সাম্রাজ্য তার পূর্ব অঞ্চলে বসবাসকারী আর্মেনীয় জনগোষ্ঠীর উপর পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালায়। এই ঘটনাটি আর্মেনীয় গণহত্যা (Armenian Genocide) নামে পরিচিত।

101. ভার্দুনের যুদ্ধ (Battle of Verdun) কাদের মধ্যে হয়েছিল?

সঠিক উত্তর: (গ) ফ্রান্স ও জার্মানি।
বিস্তারিত: ১৯১৬ সালে সংঘটিত এই যুদ্ধটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম দীর্ঘতম এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ছিল। জার্মানদের লক্ষ্য ছিল ফরাসিদের মনোবল ভেঙে দেওয়া, কিন্তু ফরাসিদের বীরত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষার কারণে তারা ব্যর্থ হয়।

102. রাশিয়ার অস্থায়ী সরকারের প্রধান কে ছিলেন, যাকে বলশেভিকরা ক্ষমতাচ্যুত করে?

সঠিক উত্তর: (খ) আলেকজান্ডার কেরেনস্কি।
বিস্তারিত: ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের পর গঠিত অস্থায়ী সরকারের দ্বিতীয় এবং শেষ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন আলেকজান্ডার কেরেনস্কি। যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে তিনি জনপ্রিয়তা হারান এবং অক্টোবর বিপ্লবে লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিকরা তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে।

103. ‘Enabling Act’ (১৯৩৩) এর মাধ্যমে হিটলার কী ক্ষমতা লাভ করেন?

সঠিক উত্তর: (ঘ) রাইখস্ট্যাগের (পার্লামেন্ট) অনুমোদন ছাড়াই আইন প্রণয়ন করার।
বিস্তারিত: এই আইন পাসের মাধ্যমে জার্মানির গণতন্ত্রের সম্পূর্ণ অবসান ঘটে। হিটলার চার বছরের জন্য ডিক্রি জারি করে দেশ শাসনের একচ্ছত্র ক্ষমতা লাভ করেন, যা তাকে একনায়কে পরিণত করে।

104. ‘রোম-বার্লিন অক্ষ’ (Rome-Berlin Axis) কবে ঘোষিত হয়?

সঠিক উত্তর: (ক) ১৯৩৬।
বিস্তারিত: ১৯৩৬ সালের অক্টোবরে জার্মানি ও ইতালি একটি মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা ‘রোম-বার্লিন অক্ষ’ নামে পরিচিত। এটি ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অক্ষশক্তির ভিত্তি।

105. ‘কেপ টু কায়রো’ রেললাইন নির্মাণের স্বপ্ন কে দেখতেন?

সঠিক উত্তর: (গ) সেসিল রোডস।
বিস্তারিত: ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী সেসিল রোডসের স্বপ্ন ছিল আফ্রিকার উত্তরে মিশরের কায়রো থেকে দক্ষিণে কেপটাউন পর্যন্ত একটি অবিচ্ছিন্ন ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ও রেললাইন প্রতিষ্ঠা করা। এটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতীক।

106. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির необмеয় সাবমেরিন যুদ্ধ (Unrestricted Submarine Warfare) নীতির মূল কারণ কী ছিল?

সঠিক উত্তর: (খ) ব্রিটেনের নৌ-অবরোধ ভেঙে তাকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা।
বিস্তারিত: ব্রিটিশ নৌবাহিনী জার্মানির উপর কঠোর অবরোধ আরোপ করেছিল। এর জবাবে জার্মানি তার ইউ-বোট বা সাবমেরিন ব্যবহার করে ব্রিটেনগামী যেকোনো জাহাজ (সামরিক বা বেসামরিক) ডুবিয়ে দেওয়ার নীতি গ্রহণ করে, যা আমেরিকাকে যুদ্ধে টেনে আনে।

107. বলশেভিক ও মেনশেভিক— এই দুটি দল কোন দেশের রাজনৈতিক দল ছিল?

সঠিক উত্তর: (ঘ) রাশিয়া।
বিস্তারিত: রাশিয়ান সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক লেবার পার্টি ১৯০৩ সালে এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়। বলশেভিকদের (সংখ্যাগুরু) নেতৃত্বে ছিলেন লেনিন, যারা সশস্ত্র বিপ্লবে বিশ্বাসী ছিলেন। মেনশেভিকরা (সংখ্যালঘু) গণতান্ত্রিক পন্থায় সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

108. হেইনরিখ হিমলার কোন কুখ্যাত সংগঠনের প্রধান ছিলেন?

সঠিক উত্তর: (ক) এস.এস. (SS) এবং গেস্টাপো।
বিস্তারিত: হেইনরিখ হিমলার ছিলেন নাৎসি জার্মানির অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তি। তিনি এস.এস. (হিটলারের ব্যক্তিগত রক্ষীবাহিনী, যা পরে বিশাল সংগঠনে পরিণত হয়) এবং গেস্টাপো (গোপন পুলিশ) উভয়েরই প্রধান ছিলেন এবং হলোকস্টের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন।

109. জাপান কবে মাঞ্চুরিয়া আক্রমণ করে?

সঠিক উত্তর: (খ) ১৯৩১।
বিস্তারিত: প্রাকৃতিক সম্পদের লোভে এবং সাম্রাজ্য বিস্তারের লক্ষ্যে জাপান চীনের মাঞ্চুরিয়া প্রদেশ আক্রমণ করে এবং সেখানে একটি পুতুল রাষ্ট্র ‘মানচুকুও’ প্রতিষ্ঠা করে। জাতিপুঞ্জ এর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি, যা আগ্রাসী শক্তিগুলোকে উৎসাহিত করে।

110. ‘এপ্রিল থিসিস’ কে ঘোষণা করেন?

সঠিক উত্তর: (গ) ভ্লাদিমির লেনিন।
বিস্তারিত: ১৯১৭ সালের এপ্রিলে নির্বাসন থেকে ফিরে এসে লেনিন এই থিসিস ঘোষণা করেন। এতে তিনি অস্থায়ী সরকারের বিরোধিতা, ‘সমস্ত ক্ষমতা সোভিয়েতের হাতে’ এবং ‘রুটি, শান্তি ও জমি’র মতো বিপ্লবী দাবিগুলো তুলে ধরেন, যা বলশেভিকদের অক্টোবর বিপ্লবের পথ দেখায়।

111. উইনস্টন চার্চিল কোন নীতির কঠোর সমালোচক ছিলেন?

সঠিক উত্তর: (ক) তোষণ নীতি (Appeasement Policy)।
বিস্তারিত: নেভিল চেম্বারলেন যখন হিটলারকে ছাড় দিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন, তখন উইনস্টন চার্চিল বারবার সতর্ক করে বলেছিলেন যে এই নীতি হিটলারকে আরও আগ্রাসী করে তুলবে এবং একটি বড় যুদ্ধের কারণ হবে। তার ভবিষ্যদ্বাণী সত্য প্রমাণিত হয়েছিল।

112. ত্রিশক্তি মৈত্রীর মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?

সঠিক উত্তর: (ঘ) ফ্রান্সকে একঘরে করে রাখা।
বিস্তারিত: জার্মানির চ্যান্সেলর বিসমার্কের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্রান্সকে কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখা, যাতে ফ্রান্স ১৮৭১ সালের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে না পারে। এই লক্ষ্যেই তিনি অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও ইতালির সাথে এই জোট গঠন করেন।

113. ‘ডুম’ (Duma) প্রতিষ্ঠা কোন বিপ্লবের ফল?

সঠিক উত্তর: (খ) ১৯০৫ সালের বিপ্লব।
বিস্তারিত: ‘রক্তাক্ত রবিবার’ এবং তৎপরবর্তী গণ-আন্দোলনের চাপে জার দ্বিতীয় নিকোলাস একটি নির্বাচিত সংসদ বা ডুমা প্রতিষ্ঠা করতে এবং নাগরিকদের কিছু অধিকার দিতে বাধ্য হন, যা ‘অক্টোবর ম্যানিফেস্টো’ নামে পরিচিত।

114. ফ্যাসিবাদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?

সঠিক উত্তর: (গ) উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সামরিকতাবাদ।
বিস্তারিত: ফ্যাসিবাদ বিশ্বাস করে যে জাতি বা রাষ্ট্রই সর্বোচ্চ এবং তার গৌরব অর্জনের জন্য যুদ্ধ ও সাম্রাজ্য বিস্তার একটি অপরিহার্য ও মহৎ কাজ। এটি গণতন্ত্র, উদারনীতি ও সমাজতন্ত্রের ঘোর বিরোধী।

115. হিটলারের পোল্যান্ড আক্রমণের গোপন পরিকল্পনার সাংকেতিক নাম কী ছিল?

সঠিক উত্তর: (ক) অপারেশন হিমলার (Operation Himmler)।
বিস্তারিত: এটি ছিল একটি ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, পোলিশ সেনার পোশাক পরা এস.এস. সেনারা জার্মানির একটি রেডিও স্টেশনে আক্রমণ চালায়, যাতে পোল্যান্ডকে আগ্রাসী হিসেবে দেখিয়ে জার্মানির আক্রমণকে ন্যায্য প্রমাণ করা যায়।

199. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসানের পর জার্মানির সম্রাট দ্বিতীয় উইলিয়াম কোথায় আশ্রয় নেন?

সঠিক উত্তর: (গ) নেদারল্যান্ডস।
বিস্তারিত: ১৯১৮ সালের নভেম্বরে জার্মানিতে বিপ্লব শুরু হলে কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম সিংহাসন ত্যাগ করে নিরপেক্ষ দেশ নেদারল্যান্ডসে পালিয়ে যান এবং সেখানেই তার বাকি জীবন কাটান।

200. পার্ল হারবার আক্রমণ কবে হয়েছিল?

সঠিক উত্তর: (ঘ) ৭ ডিসেম্বর, ১৯৪১।
বিস্তারিত: এই দিন জাপান হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হারবারে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিতে অতর্কিতে আক্রমণ চালায়। এর ফলেই আমেরিকা সরাসরি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগদান করে।

Scroll to Top