১. পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বন দপ্তরের উদ্যোগে ২০১৬ সালে চালু হওয়া কোন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি নবজাতক শিশুর জন্মের সাথে সাথে তার পরিবারকে একটি মূল্যবান উদ্ভিদের চারাগাছ দেওয়া হয়?
সঠিক উত্তর: B) সবুজশ্রী প্রকল্প (Sabujsree Prakalpa)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ২০১৬ সালে চালু হওয়া সবুজশ্রী প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো—প্রতিটি নবজাতকের জন্মের পর হাসপাতাল থেকে ছাড়ার সময় পরিবারকে একটি উচ্চ বাণিজ্যিক গুণসম্পন্ন গাছের চারা (যেমন মেহগনি, শাল, তিল) দেওয়া। এটি একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা করে, তেমনই শিশুর ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হলে গাছটি বিক্রির মাধ্যমে তার উচ্চশিক্ষার আর্থিক সংস্থান তৈরি করে।
২. ‘উইকলি আয়রন অ্যান্ড ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্টেশন’ (WIFS) কর্মসূচির মূল সুবিধাভোগী দল (Target Group) কারা?
সঠিক উত্তর: B) সরকারি ও সরকার সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের ৬ষ্ঠ থেকে১২শ শ্রেণীর সমস্ত ছাত্রছাত্রী এবং ১৫-১৯ বছর বয়সী সমস্ত স্কুলছুট কিশোরী
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: WIFS হলো একটি দেশব্যাপী ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম। এর লক্ষ্য হলো কৈশোরকালীন রক্তাল্পতার চক্র ভেঙে ফেলা। এতে স্কুলে অধ্যয়নরত কিশোর-কিশোরী এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মাধ্যমে রেজিস্ট্রিকৃত স্কুলছুট কিশোরী বালিকাদের প্রতি সপ্তাহে আয়রন-ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট দেওয়া হয়।
৩. ‘জাতীয় পুষ্টি মিশন’ বা পোষণ অভিযানের (POSHAN Abhiyaan) নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রতি বছর শিশুদের খর্বতা বা স্টান্টিং (Stunting) শতকরা কত শতাংশ করে কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে?
সঠিক উত্তর: B) ২% প্রতি বছর (2% per annum)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: পোষণ অভিযানের মূল পুষ্টিগত লক্ষ্যগুলি হলো—শিশুদের স্টান্টিং (খর্বতা) ২% করে কমানো, অপপুষ্টি ২% কমানো এবং শিশুদের ও কিশোরীদের রক্তাল্পতা (Anemia) ৩% করে প্রতি বছর হ্রাস করা।
৪. ‘প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ মাতৃত্ব অভিযান’ (PMSMA)-এর আওতায় ডাক্তারবাবু যখন কোনো গর্ভবতী মায়ের রিপোর্টে লাল রঙের স্টিকার (Red Sticker/Card) ব্যবহার করেন, তখন তার অর্থ কী?
সঠিক উত্তর: B) এটি একটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা (High-Risk Pregnancy)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: PMSMA-তে গর্ভাবস্থার ঝুঁকি অনুযায়ী কালার কোড বা স্টিকার দেওয়া হয়। লাল স্টিকার বা কার্ড থাকার অর্থ হলো গর্ভাবস্থায় কোনো বড় জটিলতা (যেমন তীব্র উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা গুরুতর অ্যানিমিয়া) রয়েছে এবং বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। সবুজ স্টিকার থাকার অর্থ গর্ভাবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
৫. ‘মিশন বাৎসল্য’ বা শিশু সুরক্ষা যোজনার অধীনে যেকোনো নিগৃহীত বা বিপদে পড়া অনাথ শিশুর দ্রুত উদ্ধারের জন্য ২৪ ঘণ্টার কোন জরুরি জাতীয় টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বরটি কাজ করে?
সঠিক উত্তর: C) ১০৯৮ (1098 – Childline)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১০৯৮ (১০-৯-৮) হলো ভারতের প্রথম ২৪ ঘণ্টার টোল-ফ্রি জরুরি ফোন পরিষেবা, যা বিপদে পড়া শিশুদের পাশে দাঁড়ায়। যেকোনো শিশু বা তার হয়ে অন্য কেউ এই নম্বরে ফোন করলে চাইল্ডলাইন টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনি ও সামাজিক সাহায্য প্রদান করে।
৬. ডায়ানা বাউমরিন্ড (Diana Baumrind)-এর অভিভাবকত্ব শৈলী (Parenting Styles) অনুযায়ী, কোন শৈলীতে বাবা-মায়েরা সন্তানদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল হন অথচ সুনির্দিষ্ট নিয়মানুবর্তিতা ও দাবি বজায় রাখেন?
সঠিক উত্তর: B) গণতান্ত্রিক বা কর্তৃত্বপূর্ণ অভিভাবকত্ব (Authoritative Parenting)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: অথরিটেটিভ বা গণতান্ত্রিক অভিভাবকত্বকে শিশুর শ্রেষ্ঠ বিকাশের ভিত্তি বলা হয়। এখানে মা-বাবা শিশুর মতামত শোনেন, স্নেহ দেন, কিন্তু সাথে সাথে সঠিক নৈতিক কাজের জন্য নিয়ম ও অনুশাসন বজায় রাখেন। এই পরিবেশে বড় হওয়া শিশুরা আত্মবিশ্বাসী ও সফল হয়।
৭. কোন অভিভাবকত্ব শৈলীতে বাপের আদেশ বা মায়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত আইন এবং সেখানে শিশুর কোনো প্রকার স্বাধীনতা বা নিজস্ব মতামতের তোয়াক্কা করা হয় না?
সঠিক উত্তর: B) স্বৈরাচারী বা কর্তৃত্ববাদী অভিভাবকত্ব (Authoritarian Parenting)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: অথরিটেরিয়ান বা স্বৈরাচারী অভিভাবকত্বে মা-বাবা অত্যন্ত কঠোর হন, কোনো আলোচনা ছাড়াই নিয়ম চাপিয়ে দেন এবং নিয়ম ভঙ্গে কঠোর শাস্তি প্রদান করেন। এই পরিবেশে বড় হওয়া শিশুরা সাধারণত অতিরিক্ত ভীতু, অন্তর্মুখী বা আক্রমণাত্মক মেজাজের হয়ে গড়ে ওঠে।
৮. মার্গারেট মাহলার (Margaret Mahler)-এর মনঃসামাজিক তত্ত্ব অনুযায়ী, ১ থেকে ৫ মাস বয়সী শিশুরা যখন মনে করে যে তারা এবং তাদের মা একই অভিন্ন অস্তিত্ব (তারা আলাদা কেউ নয়)—এই পর্যায়কে কী বলে?
সঠিক উত্তর: B) সহজীবী বা মিথোজীবী পর্যায় (Symbiotic Phase)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সিম্বায়োটিক ফেস বা সহজীবী পর্যায়ে শিশু নিজের স্বাধীন অস্তিত্ব বা আমিত্ব টের পায় না। সে মাকে নিজেরই একটি অঙ্গ বা প্রসারিত অংশ বলে মনে করে। মাহলারের মতে, এটি মনস্তাত্ত্বিক আত্মপরিচয় (Psychological birth) গড়ে ওঠার পূর্ববর্তী পর্যায়।
৯. জঁ পিঁয়াজের মতে, প্রাক-সক্রিয়তার স্তরের (২-৭ বছর) শিশুরা যখন কোনো বৈজ্ঞানিক কার্যকারণ ছাড়া একটি ঘটনার সাথে সম্পর্কহীন অন্য ঘটনা মেলায় (যেমন: “বিকেলে আমি ঘুমাইনি, তাই এখন বিকেল নয়”), তাকে কী যুক্তি বলে?
সঠিক উত্তর: B) বিশেষ থেকে বিশেষে যুক্তিপ্রয়োগ বা ট্রান্সডাক্টিভ রিজনিং (Transductive Reasoning)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ট্রান্সডাক্টিভ রিজনিং হলো এই বয়সের শিশুর চিন্তার অন্যতম সীমাবদ্ধতা। তারা সাধারণ থেকে বিশেষে (Deductive) বা বিশেষ থেকে সাধারণে (Inductive) না গিয়ে, দুটি সম্পর্কহীন বিশেষ ঘটনার মধ্যে ভুল বৈজ্ঞানিক যোগসূত্র তৈরি করে নিজেদের মতো অদ্ভুত যুক্তি সাজায়।
১০. পিঁয়াজের তত্ত্বে যখন কোনো শিশু একই জ্ঞানমূলক স্তরে থাকা সত্ত্বেও কোনো বিশেষ ধারণা অন্য ধারণার আগে শেখে (যেমন: ভর বা ওজনের নিত্যতা বোঝার আগে আয়তনের নিত্যতা শেখা)—চিন্তার এই অসমতাকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: B) অনুভূমিক বা ধাপভিত্তিক অসমতা (Horizontal Decalage)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: পিঁয়াজ দেখিয়েছেন যে শিশু একই সক্রিয়তার স্তরে (যেমন মূর্ত সক্রিয়তার স্তর) থাকলেও, সমগোত্রীয় সমস্যাগুলি সব একই সাথে সমাধান করতে পারে না। যেমন সে ৭-৮ বছরে সংখ্যার নিত্যতা বোঝে, কিন্তু তরলের আয়তন বা ওজনের নিত্যতা বুঝতে আরও ২-৩ বছর সময় নেয়। এই ধাপভিত্তিক কালগত অসমতাকে হরিজন্টাল ডেকোলেজ বলা হয়।
১১. ভাইগটস্কির তত্ত্বে যখন শিক্ষক ও ছাত্ররা যৌথ সহযোগিতায় পাঠের বিভিন্ন অংশ নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা, প্রশ্ন ও উত্তর খোঁজার মাধ্যমে শিক্ষা সম্পূর্ণ করে—সেই কৌশলকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: B) পারস্পরিক শিক্ষণ (Reciprocal Teaching)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: পারস্পরিক শিক্ষণ (Reciprocal Teaching) হলো ভাইগটস্কির তত্ত্বের একটি চমৎকার প্রয়োগ। এখানে শিক্ষক ও ছাত্র বা একাধিক ছাত্র মিলে ছোট দলে ভাগ হয়ে কোনো কঠিন বিষয় পড়ার পর তার সারসংক্ষেপ তৈরি করে, প্রশ্ন করে এবং একে অপরকে বোঝানোর মাধ্যমে পাঠ আয়ত্ত করে।
১২. লরেন্স কোহলবার্গের নৈতিক বিকাশ তত্ত্বের ষষ্ঠ বা চূড়ান্ত পর্যায় কোনটি—যেখানে মানুষের নৈতিক সিদ্ধান্ত কোনো আইন বা সামাজিক নিয়মের উর্ধ্বে উঠে নিজের বিবেক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়?
সঠিক উত্তর: B) সার্বজনীন নৈতিক নীতি নির্দেশিত নৈতিকতা (Universal Ethical Principles Orientation)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: কোহলবার্গের ষষ্ঠ পর্যায়টি নৈতিকতার সর্বোচ্চ রূপ। এই স্তরে মানুষ নিজস্ব বিচারবুদ্ধি ও সার্বজনীন ন্যায়বিচারের নীতি (যেমন সত্য, অহিংসা ও মানবাধিকার) দ্বারা পরিচালিত হয়। দেশের আইন যদি মানবতার পরিপন্থী হয়, তবে তারা সেই আইন ভাঙতেও দ্বিধা করে না (যেমন মহাত্মা গান্ধী বা নেলসন ম্যান্ডেলার নৈতিকতা)।
১৩. এরিক এরিকসনের মনঃসামাজিক তত্ত্ব অনুযায়ী, মধ্য প্রাপ্তবয়স্ক কালে (৪০ থেকে ৬৫ বছর) মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বটি মূলত কোন বিষয়ের ওপর কেন্দ্র করে তৈরি হয়?
সঠিক উত্তর: B) সৃজনশীলতা বনাম স্থবিরতা (Generativity vs Stagnation)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: মধ্য বয়সে মানুষের তাগিদ হলো পরবর্তী প্রজন্মের মঙ্গলের জন্য কাজ করা, সন্তান মানুষ করা বা সৃজনশীল কাজ করে যাওয়া (Generativity)। এই সময়ে মানুষ যদি পরিবার বা সমাজের উপকারে না আসে, তবে তার মনে তীব্র হতাশা ও জীবনের নিষ্ক্রিয়তা বা স্থবিরতা (Stagnation) দানা বাঁধে।
১৪. সিগমুন্ড ফ্রয়েডের মনঃযৌন বিকাশ তত্ত্ব অনুযায়ী, বয়ঃসন্ধিকালীন কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক ও প্রাক্ষোভিক শক্তির চূড়ান্ত পর্যায় কোনটি?
সঠিক উত্তর: B) জেনেইটাল বা যৌনাঙ্গ পর্যায় (Genital Stage)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: এটি ফ্রয়েডের তত্ত্বে ব্যক্তিত্ব বিকাশের শেষ পর্যায় (১২ বছরের পর থেকে আজীবন)। এই স্তরে বয়ঃসন্ধিকালীন হরমোনের পরিবর্তনের কারণে সুপ্ত যৌন ইচ্ছা পুনরায় তীব্রভাবে জাগ্রত হয় এবং তা বাবা-মায়ের আসক্তি ছাড়িয়ে সমবয়সী বন্ধুবৃত্ত বা পার্টনারের দিকে পরিচালিত হয়।
১৫. জন বোলবি (John Bowlby)-র আসক্তি তত্ত্বের কোন পর্যায়ে শিশুর মধ্যে মা বা তার মূল অভিভাবকের জন্য ‘বিচ্ছিন্নতা ভীতি’ (Separation Anxiety) চরম শিখরে পৌঁছায়?
সঠিক উত্তর: B) সুনির্দিষ্ট আসক্তি পর্যায় (Clear-cut Attachment)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: এই পর্যায়টি সাধারণত ৬-৮ মাস বয়স থেকে শুরু হয়ে ১৮-২৪ মাস পর্যন্ত থাকে। এই সময়ে শিশু মাকে তার প্রধান অবলম্বন বা সুরক্ষিত দুর্গ (Secure base) হিসেবে চিনে নেয় এবং মাকে সামান্য সময়ের জন্য চোখের আড়াল করলেই তীব্র কান্না বা বিচ্ছেদ যন্ত্রণায় ভেঙে পড়ে।
১৬. এইনসওয়ার্থের পরীক্ষায় যে সমস্ত শিশু মায়ের চলে যাওয়াকে গ্রাহ্য করে না এবং মা ফিরে এলেও তাঁকে উপেক্ষা করে দূরে সরে থাকে—তাদের কোন ধরনের আসক্তি বলা হয়?
সঠিক উত্তর: B) অনিরাপদ-উপেক্ষা ও এড়িয়ে চলা আসক্তি (Insecure-Avoidant Attachment)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: এই এভয়েড্যান্ট আসক্তি মূলত অবহেলিত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। মা যখন তার কান্না বা আবেগে সাড়া দেন না, তখন শিশু আত্মরক্ষার্থে মায়ের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি নিয়ে নির্লিপ্ত থাকতে শেখে। এই শিশুরা বড় হয়ে অন্যদের সাথে বিশ্বাস বা ভালোবাসার সম্পর্ক গড়তে সমস্যার মুখোমুখি হয়।
১৭. প্রসবের পর অপরিষ্কার উপায়ে প্রসূতির পরিচর্যা করার কারণে জননতন্ত্রে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত হয়ে যে মারাত্মক জ্বর ও ইনফেকশন হয়—তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে কী বলা হয়?
সঠিক উত্তর: B) সূতিকা জ্বর বা প্যুরপেরাল সেপসিস (Puerperal Sepsis)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: প্রসবের পরবর্তী ৬ সপ্তাহের সময়কালকে প্যুরপেরিয়াম (Puerperium) বলে। এই সময়ে প্রসবের পর ক্ষতস্থানে বা জরায়ুর দেয়ালে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটলে প্রসূতির প্রচণ্ড কাঁপুনি দিয়ে হাই-ফিভার আসে, যাকে সূতিকা জ্বর বা চাইল্ডবেড ফিভার (Childbed Fever) বলা হয়। এটি মাতৃমৃত্যুর একটি প্রধান কারণ।
১৮. স্তন্যদানকারী মায়েদের স্তনবৃন্তে ক্ষতের কারণে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে যখন স্তনগ্রন্থির তীব্র বেদনাদায়ক ফোলা ও সংক্রমণজনিত প্রদাহ তৈরি করে, তখন তাকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: B) ম্যাসটাইটিস বা স্তনপ্রদাহ (Mastitis)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ম্যাসটাইটিস হলো স্তনগ্রন্থির ব্যাকটেরিয়াঘটিত ইনফেকশন। সাধারণত স্তনবৃন্ত ফেটে গেলে বা স্তনের নালীতে দীর্ঘক্ষণ দুধ জমে থাকলে স্ট্যাফিলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে এই ক্ষত সৃষ্টি করে। এর ফলে স্তন লাল হয়ে ফুলে ওঠে, প্রচণ্ড ব্যাথা ও মায়ের তীব্র জ্বর আসে।
১৯. প্রসবকালীন সময়ে মায়ের শরীরে অতিরিক্ত ও মারাত্মক রক্তক্ষরণ (PPH) হলে মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থির একাংশ মরে বা অবক্ষয় হয়ে আজীবন হরমোন ঘাটতি তৈরি করে, একে কী বলে?
সঠিক উত্তর: B) শীহানস সিন্ড্রোম (Sheehan’s Syndrome / Postpartum Pituitary Necrosis)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: গর্ভাবস্থায় পিটুইটারি গ্রন্থির আকার বড় হয়। প্রসবোত্তর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের (Postpartum Hemorrhage) ফলে যদি পিটুইটারিতে তীব্র রক্তাল্পতা ঘটে, তবে তার অগ্রভাগ অবক্ষয় বা নেক্রোসিস হয়ে যায়। এর ফলে প্রসবের পর মায়ের স্তনদুধ তৈরি হয় না এবং অন্যান্য হরমোনের চিরতরে অভাব ঘটে। একে শীহানস সিন্ড্রোম বলে।
২০. নবজাতকের জন্মগত থাইরয়েডের অভাব (Congenital Hypothyroidism) স্ক্রীন করার জন্য জন্মের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পায়ের গোড়ালি থেকে কয়েক ফোঁটা রক্ত নিয়ে কোন হরমোন পরীক্ষাটি করা বাধ্যতামূলক?
সঠিক উত্তর: B) টিএসএইচ টেস্ট (TSH – Thyroid Stimulating Hormone test)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: জন্মের সময় হরমোনের অসামঞ্জস্যের কারণে শিশুর মস্তিষ্ক ও শারীরিক বৃদ্ধি নষ্ট হতে পারে। জন্মের পরপরই পায়ের গোড়ালি ফুঁড়ে রক্তের ড্রপ নিয়ে করা স্ক্রীনিং টেস্টে যদি TSH-এর মাত্রা খুব বেশি আসে, তবে শিশুটি জন্মগত হাইপোথাইরয়েডিজমে ভুগছে বলে শনাক্ত করা যায় এবং দ্রুত ওষুধ দিয়ে তাকে আজীবনের মানসিক পঙ্গুত্ব বা বামনত্ব (Cretinism) থেকে বাঁচানো যায়।
২১. কোয়াশিওরকর এবং ম্যারাসমাস আক্রান্ত দুই শিশুর রক্ত পরীক্ষায় রক্তের কোলেস্টেরল (Serum Cholesterol) মাত্রার কোন প্রধান তফাতটি পাওয়া যায়?
সঠিক উত্তর: B) কোয়াশিওরেকরে যকৃতে চর্বি জমা হওয়ার কারণে রক্তে কোলেস্টেরল চরম কমে যায়, ম্যারাসমাসে তা স্বাভাবিক থাকে
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: কোয়াশিওরেকরে লাইপোপ্রোটিনের অভাবের কারণে যকৃৎ থেকে ফ্যাট বাইরে সঞ্চালিত হতে পারে না, ফলে কোলেস্টেরল সংশ্লেষণ ও পরিবহনে বিঘ্ন ঘটে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা মারাত্মক হ্রাস পায়। ম্যারাসমাসে তীব্র চর্বি ক্ষয় হলেও যকৃৎ কর্মক্ষম থাকে, তাই রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা প্রায় স্বাভাবিক বা মৃদু নিম্ন থাকে।
২২. বাড়ন্ত শিশুদের ভিটামিন D-এর অভাবে হাড় নরম থাকায় সোজা দাঁড়ানোর সময়ে পায়ের হাড় বাইরের দিকে ধনুকের মতো বেঁকে যায়, একে কী বলা হয়?
সঠিক উত্তর: B) জেনু ভেরাম বা বো-লেগস (Genu Varum / Bow-legs)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: রিকেট রোগের অন্যতম চাক্ষুষ লক্ষণ হলো বাঁকা পা। শিশুর দেহের ওজনে নরম ফিমার ও টিবিয়া হাড় বাইরের দিকে ধনুকের মতো বেঁকে যায়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে জেনু ভেরাম (Genu Varum) বা বো-লেগস বলা হয়। এর বিপরীতে দুই হাঁটু ভেতরের দিকে ঠেকে গেলে তাকে জেনু ভালগাম বা নক-নী বলে।
২৩. শিশুদের শরীরে ভিটামিন C-এর তীব্র অভাব থাকলে গায়ের লোমকূপের গোড়া থেকে বাঁকানো কর্কশ চুল বের হয়, এই বিশেষ চর্মরোগের লক্ষণকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: B) কর্কস্ক্রু হেয়ার (Corkscrew hair)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভিটামিন C-এর অভাবে কোলাজেন তৈরি না হওয়ায় হেয়ার ফলিকল বা লোমকূপের গোড়ায় কেরাটিন জমে যায় এবং রক্তক্ষরণ হয়। এর ফলে চুল বা শরীরের লোম সোজাসুজি না বেড়ে কর্ক-স্ক্রু বা স্ক্রু খোলার যন্ত্রের মতো গোল পেঁচিয়ে ত্বকের নিচে বা ওপরে খসখসে হয়ে বাড়ে। একে কর্কস্ক্রু হেয়ার বলা হয়।
২৪. মানুষের শরীরে বংশগত ত্রুটির কারণে অন্ত্রে ট্রিপটোফ্যান শোষণের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেলে নিয়াসিনের তীব্র অভাব ঘটে ও পেলাগ্রা দেখা দেয়—এই জন্মগত রোগটিকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: B) হার্টনাপ রোগ (Hartnup Disease)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: হার্টনাপ রোগ হলো একটি অটোজোমাল রিসেসিভ মেটাবলিক ব্যাধি। এর ফলে বৃক্ক বা কিডনির রেনাল টিউবিউলস এবং ক্ষুদ্রান্ত্রে ট্রিপটোফ্যান অ্যামিনো অ্যাসিডের শোষণ ও পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। ট্রিপটোফ্যান না থাকায় শরীর নিয়াসিন বা ভিটামিন B3 তৈরি করতে পারে না এবং শিশু পেলাগ্রার তীব্র লক্ষণ প্রকাশ করে।
২৫. স্তন্যদানকারী মায়েদের শরীরে থায়ামিনের অভাব থাকলে নবজাতক শিশুর হঠাৎ খিঁচুনি এবং তীব্র হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে মারা যাওয়ার বিপজ্জনক কার্ডিয়াক বেরিবেরিকে কী বলা হয়?
সঠিক উত্তর: B) শোশিন বেরিবেরি (Shoshin Beriberi)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ‘শোশিন’ শব্দটি জাপানি শব্দ (যার অর্থ হৃদযন্ত্রের তীব্র পতন)। এটি ইনফ্যান্টাইল বেরিবেরির একটি অত্যন্ত তীব্রতম রূপ। থায়ামিনের চরম অভাবে হৃদযন্ত্রের কো-এনজাইম বিপাক বন্ধ হয়ে তীব্র ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস ঘটে এবং মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নবজাতকের হৃদস্পন্দন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে আকস্মিক মৃত্যু ঘটে।
২৬. বাড়ন্ত শিশুদের ভিটামিন B2 বা রিবোফ্লাভিনের চোখের ওপর ক্ষতিকর প্রভাবের প্রাথমিক চাক্ষুষ লক্ষণ কোনটি?
সঠিক উত্তর: B) দিনের আলো সহ্য করতে না পারা ও অনবরত চোখ দিয়ে জল পড়া (Photophobia and Lacrimation)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: রিবোফ্লাভিন চোখের কর্নিয়ায় আলো প্রতিরোধী পর্দা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর অভাব হলে কর্নিয়া সংবেদনশীল হয়ে লাল হয়ে যায়, চোখের কর্নিয়ার চারপাশে সূক্ষ্ম রক্তজালক তৈরি হয় (Corneal Neovascularization) এবং শিশু দিনের আলোয় চোখ মেলতে পারে না (Photophobia) ও চোখ খচখচ করে জল পড়ে।
২৭. আমাদের শরীরে যকৃৎ বা লিভারে তৈরি হওয়া কোন বিশেষ বাহক প্রোটিনটি রাতকানা প্রতিরোধক ভিটামিন A বা রেটিনলকে অন্ত্র থেকে রক্তের মাধ্যমে বহন করে নিয়ে যায়?
সঠিক উত্তর: B) রেটিনল-বাইন্ডিং প্রোটিন (RBP – Retinol-Binding Protein)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভিটামিন A জলে অদ্রবণীয়। তাই লিভারে সঞ্চিত ভিটামিন এ-কে রক্তরসের মাধ্যমে চোখে বা অন্য কোষে পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি বাহক প্রোটিনের প্রয়োজন হয়, যাকে রেটিনল-বাইন্ডিং প্রোটিন (RBP) বলে। শরীরে চরম প্রোটিনের অভাব (PEM) ঘটলে RBP তৈরি হতে পারে না, ফলে ভিটামিন এ থাকা সত্ত্বেও রাতকানা রোগ হতে পারে।
২৮. উদ্ভিজ্জ তেলের ঈস্ট বা ছত্রাকে উপস্থিত কোন বিশেষ নিষ্ক্রিয় স্টেরল উপাদানটি সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির স্পর্শে ভিটামিন D2-তে রূপান্তরিত হয়?
সঠিক উত্তর: B) আরগোস্টেরল (Ergosterol)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: আরগোস্টেরল হলো উদ্ভিজ্জ কোষে থাকা একটি প্রো-ভিটামিন। যখন রোদের আলো বা আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি উদ্ভিজ্জ কোষে আপতিত হয়, তখন আরগোস্টেরল ভেঙে ক্যালসিফেরল বা ভিটামিন D2-তে পরিণত হয়, যা পুষ্টিকর পরিপূরক হিসেবে মানুষের খাদ্যে ব্যবহার করা হয়।
২৯. নবজাতকের যকৃৎ অপরিণত থাকায় এবং অন্ত্র সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত থাকার কারণে ভিটামিন K-এর চরম ঘাটতিতে যে মারাত্মক অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ রোগ হয়, তাকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: B) নবজাতকের রক্তক্ষরণজনিত রোগ (Hemorrhagic Disease of the Newborn / VKDB)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভিটামিন K বুকের দুধে খুব সামান্য পরিমাণে থাকে। জন্মের পর শিশুর অন্ত্রে কোনো ব্যাকটেরিয়া না থাকায় ভিটামিন কে সংশ্লেষিত হতে পারে না। এর ফলে জন্মের প্রথম সপ্তাহে নাভি বা অন্ত্র থেকে আচমকা রক্তপাত হতে পারে। একেই VKDB বা নবজাতকের রক্তক্ষরণ রোগ বলে। এটি প্রতিরোধ করতে জন্মের পরপরই শিশুদের ১ মিলিগ্রাম ভিটামিন K১ ইনজেকশন দেওয়া বাধ্যতামূলক।
৩০. সুষম খাদ্যের পরিপাক ধারা অনুযায়ী আমাদের গৃহীত খাদ্যে উপস্থিত প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ লোহা (Iron) প্রধানত পরিপাকতন্ত্রের কোন সুনির্দিষ্ট অংশে শোষিত হয়?
সঠিক উত্তর: B) ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশ বা ডুওডেনাম (Duodenum)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: লোহা শোষণের জন্য তীব্র আম্লিক বা অ্যাসিডিক পরিবেশের প্রয়োজন। পাকস্থলী থেকে বের হওয়া আম্লিক কাইমের সাথে লোহা ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশ ডুওডেনাম এবং জেজুনামের প্রথমভাগে পৌঁছালে সেখানকার এন্টারোসাইট কোষে থাকা বিশেষ মেটাল ট্রান্সপোর্টার (DMT1) লোহাকে সক্রিয়ভাবে শোষণ করে রক্তে পাঠায়।
৩১. মায়েদের মেনোপজের পর বা দীর্ঘকাল সুষম খাদ্যের অভাবে হাড়ের ক্যালসিয়াম খনিজ আশঙ্কাজনকভাবে কমতে শুরু করাকে (যা অস্টিওপোরোসিসের প্রাথমিক ধাপ) কী বলে?
সঠিক উত্তর: B) অস্টিওপেনিয়া (Osteopenia)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: অস্টিওপেনিয়া হলো হাড়ের খনিজ ঘনত্ব (Bone Mineral Density) স্বাভাবিকের চেয়ে হ্রাস পাওয়ার এমন এক অবস্থা—যা চূড়ান্ত ভঙ্গুর হাড়ের ব্যাধি অস্টিওপোরোসিস হওয়ার পূর্ববর্তী ধাপ। এই অবস্থায় সুষম ক্যালসিয়াম ও ব্যায়ামের মাধ্যমে হাড়ের ক্ষয় রোধ করা সম্ভব।
৩২. সুষম খাদ্যে জিংক বা দস্তার তীব্র অভাব ঘটলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রধান অংশ কোন অনাক্রম্য গ্রন্থির অবক্ষয় বা অ্যাট্রোফি (Thymic Atrophy) ঘটায়?
সঠিক উত্তর: B) থাইমাস গ্রন্থি (Thymic Atrophy)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: থাইমাস গ্রন্থি হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধী টি-লিম্ফোসাইট (T-cells) কোষের প্রধান নিয়ামক। জিংক থাইমিক হরমোন ‘থাইমুলিন’ নিঃসরণ সচল রাখে। জিংকের অভাব হলে থাইমাস গ্রন্থি আকারে শুকিয়ে যায় (Thymic atrophy), ফলে টি-কোষের উৎপাদন বন্ধ হয়ে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা চিরতরে হ্রাস পায় এবং সে বারবার নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়।
৩৩. প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী শিশুদের মানসিক জড়তা ও পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে কোন দিনটিকে ‘বিশ্ব আয়োডিন স্বল্পতা প্রতিরোধ দিবস’ (Global IDD Prevention Day) হিসেবে পালন করা হয়?
সঠিক উত্তর: B) ২১শে অক্টোবর (21st October)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে প্রতি বছর ২১শে অক্টোবর বিশ্বব্যাপী ‘গলগণ্ড ও আয়োডিন স্বল্পতাজনিত ব্যাধি প্রতিরোধ দিবস’ পালন করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো মানুষের বুদ্ধিমত্তা রক্ষা ও সুস্থ গর্ভস্থ ভ্রূণের বৃদ্ধির জন্য ঘরে ঘরে আয়োডিনযুক্ত নুনের ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া।
৩৪. সুক্ষ্ম খনিজ সেলেনিয়ামের (Selenium) তীব্র অভাব ঘটলে বাড়ন্ত শিশুদের হৃদযন্ত্রের পেশী অস্বাভাবিক বড় ও দুর্বল হয়ে যে রোগ সৃষ্টি করে, তাকে কী বলা হয়?
সঠিক উত্তর: B) কেশন রোগ (Keshan Disease)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: কেশন রোগ হলো সেলেনিয়ামের অভাবজনিত একটি কার্ডিওমায়োপ্যাথি (হৃদযন্ত্রের পেশীর ক্ষতি)। এটি প্রথম চীনের কেশন প্রদেশে দেখা গিয়েছিল বলে এর নাম কেশন রোগ। সেলেনিয়াম জারণ প্রতিরোধী গ্লুটাথিয়ন পারঅক্সিডেস এনজাইমের কো-ফ্যাক্টর, এর অভাবে হৃদযন্ত্রের পেশী দুর্বল হয়ে হার্ট ফেইলিওর ঘটে।
৩৫. পানীয় জলে মাত্রাতিরিক্ত ফ্লোরাইড থাকার কারণে দাঁতের বাইরের চকচকে এনামেল স্তর ক্ষয় হয়ে যে খসখসে সাদা-বাদামি ছোপের সৃষ্টি হয়, তাকে কী বলা হয়?
সঠিক উত্তর: B) মটলড এনামেল (Mottled Enamel / ডেন্টাল ফ্লোরোসিস)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: জলে ফ্লোরাইডের মাত্রা ১.৫ পিপিএম-এর বেশি হলে দাঁত গঠনে ব্যাঘাত ঘটে। এনামেল তৈরির কোষগুলি অতিরিক্ত ফ্লোরাইডের বিষক্রিয়ায় নষ্ট হয়ে খসখসে অমসৃণ হয়ে যায়। এর ফলে দাঁতে কুৎসিত সাদা ও তামাটে বাদামি ছোপ ছোপ দাগের সৃষ্টি হয়, যাকে মটলড এনামেল বা ডেন্টাল ফ্লোরোসিস বলে।
৩৬. তীব্র ডায়রিয়া ও ডিহাইড্রেশনের কারণে শরীর থেকে জল ও খনিজ সোডিয়াম অতিরিক্ত বের হয়ে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত কমে গেলে তাকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: B) Highপোন্যাট্রেমিয়া (Hyponatremia)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: রক্তে সোডিয়ামের স্বাভাবিক মাত্রা হলো ১৩৫-১৪৫ mEq/L। ডায়রিয়ায় অতিরিক্ত তরল ক্ষয়ের ফলে বা কেবল জল খাইয়ে স্যালাইন জল না দিলে রক্তে সোডিয়াম ১৩৫-এর নিচে নেমে যায়, একে হাইপোন্যাট্রেমিয়া বলে। এর ফলে শিশুর মস্তিষ্কে জল জমে এডিমা (Cerebral edema), ঝিমুনি ও খিঁচুনি হতে পারে।
৩৭. রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা ৩.৫ mEq/L-এর নিচে নেমে গেলে পেশীর তীব্র দুর্বলতা ও হৃদযন্ত্রের অলসতা দেখা দেয়, একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে কী বলা হয়?
সঠিক উত্তর: B) হাইপোক্যালেমিয়া (Hypokalemia)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: রক্তে পটাশিয়ামের স্বাভাবিক মাত্রা ৩.৫-৫.০ mEq/L। পটাশিয়াম আমাদের হৃদপেশীর সংকোচন ও স্নায়বিক স্পন্দন নিয়ন্ত্রণে মুখ্য ভূমিকা রাখে। তীব্র বমি বা ডায়রিয়ায় পটাশিয়াম কমে গেলে তাকে হাইপোক্যালেমিয়া বলে, যার প্রথম উপসর্গ হলো পা অবশ হওয়া, পেশী অসাড় হওয়া ও হৃদযন্ত্রের ইসিজিতে মারাত্মক পরিবর্তন আসা (যেমন U-wave)।
৩৮. আইসিডিএস কেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য সংবেদনশীল ভ্যাকসিনগুলি জেলা স্টোর থেকে বরফের তাপ-প্রতিরোধী যে বিশেষ বড় থার্মো-ইন্সুলেটেড বাক্সে করে পরিবহন করা হয়, তাকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: A) কোল্ড বক্স (Cold Box)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: কোল্ড বক্স হলো একটি বড় থার্মো-ইন্সুলেটেড বাক্স। জেলা বা রিজিওনাল স্টোর থেকে বড় পরিমাণে ভ্যাকসিন ২-৩ দিন পর্যন্ত সঠিক তাপমাত্রায় (২-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে) রেখে সাব-সেন্টার বা আইসিডিএস কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। ভ্যাকসিন ক্যারিয়ারের ধারণক্ষমতা এর চেয়ে অনেক ছোট ও কম সময়ের জন্য হয়।
৩৯. ভ্যাকসিন ভায়াল মনিটরের (VVM) ৩য় ধাপ বা স্টেজ ৩-এর ক্ষেত্রে স্টিকারের কোন পরিবর্তনটি দেখা যায়—যা দেখে বোঝা যায় ভ্যাকসিনটি সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে গেছে?
সঠিক উত্তর: B) ভেতরের চতুষ্কোণটির রঙ বাইরের বৃত্তের রঙের সমান বা কিছুটা গাঢ় হয়ে যায় (Inner square matches or darker than outer circle)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: VVM-এর ৩য় ও ৪র্থ স্তরে ভেতরের চতুষ্কোণের রঙ বাইরের গোল বৃত্তের রঙের সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায় বা তার চেয়ে গাঢ় বেগুনি বর্ণ ধারণ করে। এর অর্থ হলো অতিরিক্ত গরমে বা মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার ফলে ভ্যাকসিনটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে এবং অবিলম্বে তা ফেলে দিতে হবে।
৪০. শিশুদের ফুসফুসের মারাত্মক নিউমোনিয়া ও মস্তিষ্কের প্রদাহজনিত মেনিনজাইটিস সংক্রমণ প্রতিরোধে ডিপিটি টিকার পাশাপাশি কোন নতুন ভ্যাকসিন দেওয়া হয়?
সঠিক উত্তর: B) নিউমোকোক্কাল কনজুগেট ভ্যাকসিন (PCV – Pneumococcal Conjugate Vaccine)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: স্ট্র্যাপটোকোক্কাস নিউমোনি ব্যাকটেরিয়া শিশুদের নিউমোনিয়া ও কানের মারাত্মক ইনফেকশনের জন্য দায়ী। এটি প্রতিরোধ করতে জাতীয় টিকাকরণ কর্মসূচিতে ৬ সপ্তাহ ও ১৪ সপ্তাহে দুটি প্রাথমিক ডোজ এবং ৯ মাস বয়সে পিসিভি (PCV) টিকার ১টি বুস্টার ডোজ ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়।
৪১. বাড়ন্ত শিশুদের কৈশোরকালীন ধনুষ্টঙ্কার ও ডিপথেরিয়ার হাত থেকে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা দিতে কোন কোন বয়সে টিডি (Td) বুস্টার ইনজেকশন দেওয়া বাধ্যতামূলক?
সঠিক উত্তর: B) ১০ বছর এবং ১৬ বছর বয়সে (At 10 years and 16 years)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: শৈশবে পাওয়া পেন্টাভ্যালেন্ট ও ডিপিটি বুস্টারের প্রতিরোধ ক্ষমতা বয়স বাড়ার সাথে সাথে কমে যায়। তাই স্কুলে পড়া বা কৈশোরকালীন সময়ে ধনুষ্টঙ্কার ও ডিপথেরিয়ার সংক্রমণ রুখতে ১০ বছর এবং ১৬ বছর বয়সে বাহুর পেশীতে Td ভ্যাকসিনের দুটি বুস্টার ডোজ দেওয়া বাধ্যতামূলক।
৪২. শিশুদের বাম বাহুর ডেল্টয়েড পেশীতে দেওয়া যক্ষ্মারোধী বিসিজি (BCG) টিকার সফল প্রয়োগের পর সাধারণত কত সপ্তাহের মধ্যে সেখানে একটি স্থায়ী ক্ষতচিহ্ন বা স্কার (BCG Scar) তৈরি হয়?
সঠিক উত্তর: B) ৬ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে (Within 6 to 12 weeks)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বিসিজি ইনজেকশন দেওয়ার ২-৩ সপ্তাহ পর সেখানে একটি ছোট লালচে ফোলা দানার সৃষ্টি হয় যা পরে ক্ষতে রূপ নেয় ও পুঁজ বের হয়। অবশেষে ৬ থেকে ১২ সপ্তাহের দিকে ক্ষতটি শুকিয়ে গিয়ে স্থায়ী গোল চামড়ার বসে যাওয়া দাগ বা স্কার তৈরি করে। এই দাগটি দেখেই চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন যে শিশুটি যক্ষ্মার টিকা পেয়েছিল।
৪৩. সূক্ষ্ম মোটর দক্ষতার মাইলফলক অনুযায়ী, একটি শিশু সাধারণত কত বছর বয়সে পেনসিল দিয়ে বর্গক্ষেত্র (Square) আঁকতে বা নিখুঁতভাবে অনুকরণ করতে পারে?
সঠিক উত্তর: B) ৪ বছর বয়সে (At 4 years)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ৪ বছর বয়সে শিশুর আঙুলের পেশী ও চোখের দৃষ্টির উন্নত সমন্বয় ঘটে। সে খাড়া ও আড়াআড়ি সরলরেখা মেলাতে পারে, ফলে সে বর্গক্ষেত্র দেখে বা একা জ্যামিতিক চারকোনা আকৃতি খাতায় আঁকতে সমর্থ হয়। ৩ বছর বয়সে বৃত্ত এবং ৫ বছরে সে ত্রিভুজ আঁকতে পারে।
৪৪. বৃহৎ মোটর মাইলফলক অনুযায়ী, একটি শিশু সাধারণত কত বছর বয়সে নিজের কাঁধ ঘুরিয়ে মাথার ওপর দিয়ে লক্ষ্যবস্তুর দিকে বল ছুঁড়তে (Throwing a ball overhand) পারে?
সঠিক উত্তর: B) ৪ বছর বয়সে (At 4 years)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ২ বছর বয়সের শিশুরা বল কেবল নিচ দিয়ে ঠেলে দিতে পারে। কিন্তু ৪ বছর বয়সে শিশুর কাঁধ ও বাহুর পেশী ও হাড়ের উন্নত ভারসাম্য তৈরি হয়। সে চমৎকারভাবে হাত ঘুরিয়ে মাথার ওপর দিয়ে বল লক্ষ্যবস্তুর দিকে ছুঁড়তে পারে।
৪৫. শরীরের ভারসাম্য রক্ষার সূচক অনুযায়ী একটি স্বাভাবিক শিশু সাধারণত কোন বয়সের মধ্যে এক পায়ে ভর দিয়ে লাফাতে (Jumping / Hopping on one foot) সমর্থ হয়?
সঠিক উত্তর: B) ৪ বছর বয়সে (At 4 years)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ৪ বছর বয়সে শিশুর প্রমস্তিষ্ক বা সেরিবেলামের দ্রুত বিকাশ ঘটে যা শরীরের সোজা ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। সে এক পায়ে ৪-৬ বার বা তার বেশি লাফাতে পারে এবং এক পায়ে ২-৩ সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। ৫ বছর বয়সে সে এক পায়ে স্থায়ী ১০ সেকেন্ডের বেশি দাঁড়িয়ে থাকতে পারে।
৪৬. হাত ও পায়ের সমন্বয় অনুযায়ী ‘ক্রিপিং’ (Creeping) এবং ‘ক্রলিং’ (Crawling)-এর মধ্যে মূল শারীরবৃত্তীয় পার্থক্যটি কী?
সঠিক উত্তর: B) ক্রিপিং হলো বুক ও পেট মাটি থেকে ওপরে তুলে হাত ও হাঁটুতে ভর দিয়ে চলা, ক্রলিং হলো পেট মাটিতে ঘষে হাত ও পা টেনে টেনে চলা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সাধারণ মানুষ দুই শব্দকে এক মনে করলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানে এদের পার্থক্য সুস্পষ্ট। ৪-৬ মাসে শিশু পেট মাটিতে ঘষে কনুই দিয়ে নিজেকে টানে যাকে ক্রলিং (Crawling) বলে। কিন্তু ৮-৯ মাস বয়সে তার হাত, কোমর ও হাঁটুর শক্তি বাড়লে সে পেট মাটি থেকে তুলে চার পায়ে হামাগুড়ি দেয়, একে ক্রিপিং (Creeping) বলে। এটি হাঁটার পূর্ববর্তী চূড়ান্ত ধাপ।
৪৭. গর্ভাবস্থায় যদি হবু মা এবং গর্ভস্থ ভ্রূণের রক্তের আরএইচ (Rh) ফ্যাক্টরের অমিল থাকে (Rh- মা ও Rh+ ভ্রূণ), তবে শিশুর রক্তকণিকা ভেঙে জণ্ডিস হওয়ার মারাত্মক রোগটিকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: B) এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস (Erythroblastosis Fetalis / Hemolytic Disease of the Newborn)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: আরএইচ নেগেটিভ মায়ের শরীরে আরএইচ পজিটিভ ভ্রূণের রক্ত প্রবেশ করলে মায়ের রোগ প্রতিরোধ কোষ ভ্রূণের লোহিত রক্তকণিকাকে বাইরের শত্রু মনে করে তার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি (Anti-D) তৈরি করে। এই অ্যান্টিবডি প্লাসেন্টা ভেদ করে গর্ভস্থ শিশুর লোহিত রক্তকণিকাগুলিকে দ্রুত ভেঙে ধ্বংস করে দেয়, যা তীব্র রক্তাল্পতা, জণ্ডিস ও গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যু ঘটাতে পারে। এটি প্রথম গর্ভধারণের চেয়ে পরবর্তী গর্ভাবস্থায় অত্যন্ত মারাত্মক রূপ নেয়।
৪৮. পালংশাক ও টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকলেও আমাদের শরীর তা সহজে শোষণ করতে পারে না কেন?
সঠিক উত্তর: B) এগুলিতে উপস্থিত প্রচুর অক্সালিক অ্যাসিড (Oxalic Acid) ক্যালসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম অক্সালেট স্ফটিক গঠন করে
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: অক্সালিক অ্যাসিড হলো একটি অন্যতম এন্টিনিউট্রিয়েন্ট বা পুষ্টি প্রতিরোধী উপাদান। এটি পালংশাক ও টমেটোতে প্রচুর থাকে। এটি অন্ত্রে ক্যালসিয়ামের সাথে রাসায়নিক বন্ধন তৈরি করে অদ্রবণীয় স্ফটিক তৈরি করে, যা শরীর শোষণ করতে পারে না এবং মলমূত্রের সাথে বের করে দেয়। বেশি অক্সালেট খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
৪৯. কাসাভা (Cassava / শিমুল আলু) নামক কন্দ জাতীয় অ-পারম্পরিক খাদ্য কাঁচা বা অপুষ্ট অবস্থায় খেলে এর মধ্যে থাকা কোন ক্ষতিকর গ্লাইকোসাইড মানুষের শরীরে থাইরয়েড গ্রন্থি সচল হতে বাধা দিয়ে তীব্র গলগণ্ড সৃষ্টি করে?
সঠিক উত্তর: B) সায়ানোজেনিক গ্লাইকোসাইড (Cyanogenic Glycosides)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: কাসাভা বা অনেক পাহাড়ি কন্দ জাতীয় খাবারে সায়ানোজেনিক গ্লাইকোসাইড থাকে যা পরিপাকের পর সায়ানাইডে রূপান্তরিত হয়। আমাদের শরীর একে নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে থায়োসায়ানেট নামক যৌগ গঠন করে, যা থাইরয়েড গ্রন্থি কর্তৃক আয়োডিন শোষণে তীব্র বাধা দেয় ও গলগণ্ড বা হাইপোথাইরয়েডিজম ঘটায়। কাসাভা খুব ভালো করে সেদ্ধ বা শুকনো করে টক্সিন দূর করে খাওয়া উচিত।
৫০. পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নারী ও শিশু উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের সংশোধিত নিয়োগ বিধি অনুযায়ী, অঙ্গনওয়াড়ি সহায়িকা (AWH) পদের জন্য সরাসরি আবেদন করার ন্যূনতম বয়সসীমা কত নির্ধারণ করা হয়েছে?
সঠিক উত্তর: B) ১৮ বছর (18 Years)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নারী ও শিশু উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের সাম্প্রতিক সংশোধিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী (AWW) এবং সহায়িকা (AWH) পদে সরাসরি আবেদন করার বা পরীক্ষায় বসার ন্যূনতম বয়সসীমা কমিয়ে ১৮ বছর করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর রাখা হয়েছে। এর ফলে যোগ্য গ্রামীণ যুবতীরা পড়াশোনা শেষ করেই তৃণমূল স্তরে আইসিডিএস সমাজসেবায় অংশ নিতে পারছেন।