ICDS 2026 – Child Development & Nutrition MCQs (Set 10)
১. আইসিডিএস (ICDS) প্রকল্পের সুপারভাইজার, সিডিপিও এবং অন্যান্য কর্মীদের পুষ্টি ও শিশু মনস্তত্ত্বের উচ্চ প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারতের জাতীয় নোডাল প্রতিষ্ঠানটির নাম কী?
A) ICMR (ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ)
B) NIPCCD (National Institute of Public Cooperation and Child Development)
C) NIHFW (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার)
D) NCERT
সঠিক উত্তর: B) NIPCCD (National Institute of Public Cooperation and Child Development)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: দিল্লিতে অবস্থিত নিপসিড (NIPCCD) হলো ভারতের মহিলা ও শিশু বিকাশ মন্ত্রকের অধীনস্থ একটি শীর্ষ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এটি স্বেচ্ছাসেবী আন্দোলন ও সমাজকল্যাণে সরকারি নীতির সমন্বয় সাধন করে এবং সমগ্র দেশের আইসিডিএস কর্মীদের বুনিয়াদি ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের পাঠ্যক্রম নির্ধারণ ও পরিচালনা করে।
২. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর আধুনিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, তীব্র অতি-তীব্র অপুষ্টি বা স্যাম (SAM) রোগের ডায়াগনস্টিক ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণে বয়স অনুপাতে ওজনের ‘Z-score’ সূচকের মান কত হতে হবে?
A) Z-score মান -১ SD বা স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশনের কম
B) Z-score মান -৩ SD বা স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশনের কম (Weight-for-Height Z-score < -3 SD)
C) Z-score মান সর্বদা ধনাত্মক হতে হবে
D) Z-score মান ০ হতে হবে
সঠিক উত্তর: B) Z-score মান -৩ SD বা স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশনের কম (Weight-for-Height Z-score < -3 SD)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৃদ্ধির চার্ট অনুযায়ী, যদি কোনো শিশুর উচ্চতা অনুপাতে ওজনের মান স্ট্যান্ডার্ড গ্রাফের গড় মানের চেয়ে ৩ ধাপ বা ৩ স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশনের নিচে (-৩ SD) চলে যায়, তবে তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় অতি-তীব্র অপুষ্টি বা SAM বলা হয়।
৩. মাঝারি ধরণের তীব্র অপুষ্টি বা ম্যাম (MAM – Moderate Acute Malnutrition) রোগাক্রান্ত শিশুর উচ্চতা অনুযায়ী ওজনের Z-score মান কত সীমার মধ্যে থাকে?
A) Z-score মান -১ SD থেকে -২ SD এর মধ্যে
B) Z-score মান -২ SD থেকে -৩ SD এর মধ্যে (Weight-for-Height Z-score between -2 and -3 SD)
C) Z-score মান -৩ SD-এর নিচে
D) Z-score মান ৩ এর ওপরে
সঠিক উত্তর: B) Z-score মান -২ SD থেকে -৩ SD এর মধ্যে (Weight-for-Height Z-score between -2 and -3 SD)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: যদি কোনো শিশুর উচ্চতা অনুযায়ী ওজনের Z-score মান -২ SD এবং -৩ SD-এর মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকে, তবে সে ম্যাম (MAM) অপুষ্টির শিকার। এই অবস্থায় শিশুকে পুষ্টিকর ঘরোয়া সুষম আহার ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পরিপূরক পুষ্টির মাধ্যমে দ্রুত সুস্থ করা সম্ভব।
৪. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কোন ঐতিহাসিক বিশ্বব্যাপী বহু-কেন্দ্রিক বৃদ্ধির সমীক্ষা চালিয়ে তাদের বর্তমান বৈশ্বিক শিশু বৃদ্ধির চার্ট বা চাইল্ড গ্রোথ স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করেছিল—যাতে ভারতবর্ষও অন্যতম অংশীদার ছিল?
A) Global Infant Health Survey (GIHS)
B) WHO Multicentre Growth Reference Study (MGRS)
C) International Child Development Study
D) Asian Pediatric Assessment Program
সঠিক উত্তর: B) WHO Multicentre Growth Reference Study (MGRS)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ১৯৯৭ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে পরিচালিত MGRS সমীক্ষায় বিশ্বের ৬টি ভিন্ন দেশের (ভারত, ব্রাজিল, ঘানা, ওমান, নরওয়ে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ৮,৪৪০টি সুস্থ স্তন্যপায়ী শিশুর বৃদ্ধির গতিপ্রকৃতি পরীক্ষা করা হয়। এর ওপর ভিত্তি করেই ২০০৬ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের আধুনিক চাইল্ড গ্রোথ চার্ট প্রকাশ করে, যা প্রমাণ করে যে অনুকূল পরিবেশে পৃথিবীর সব শিশুর বৃদ্ধির হার প্রায় একই রকম।
৫. ডেমোগ্রাফিক সূচক অনুযায়ী, ‘শিশু মৃত্যুহার’ বা ইনফ্যান্ট মর্টালিটি রেট (IMR) বলতে কী বোঝানো হয়?
A) প্রতি ১০০ জন শিশুর মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা
B) প্রতি ১০০০ জন জীবিত জন্ম নেওয়া শিশুর মধ্যে ১ বছরের (৩৬৫ দিন) কম বয়সে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা
C) হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুর মৃত্যুর হার
D) প্রসবকালীন মৃত শিশুর শতকরা হার
সঠিক উত্তর: B) প্রতি ১০০০ জন জীবিত জন্ম নেওয়া শিশুর মধ্যে ১ বছরের (৩৬৫ দিন) কম বয়সে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: শিশু মৃত্যুহার (IMR) হলো কোনো নির্দিষ্ট বছরে প্রতি ১০০০ জন জীবিত জন্ম নেওয়া শিশুর মধ্যে ১ বছর পূর্ণ করার আগেই মারা যাওয়া শিশুর অনুপাত। এটি দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও নবজাতকের যত্ন ব্যবস্থার কার্যকারিতা ফুটিয়ে তোলে।
৬. জনস্বাস্থ্য বিজ্ঞানে ‘নবজাতক মৃত্যুহার’ বা নিওনেটাল মর্টালিটি রেট (NMR) পরিমাপের সঠিক সময়সীমা ও মানদণ্ড কোনটি?
A) প্রতি ১০০০ জন জীবিত জন্মের মধ্যে প্রথম ১ বছরের মধ্যে শিশুর মৃত্যু
B) প্রতি ১০০০ জন জীবিত জন্মের মধ্যে প্রথম ২৮ দিন বা চার সপ্তাহের মধ্যে নবজাতকের মৃত্যুর সংখ্যা
C) জন্মের প্রথম ৭ দিনের মধ্যে মৃত্যুর হার
D) গর্ভকালীন ভ্রূণের মৃত্যুর হার
সঠিক উত্তর: B) প্রতি ১০০০ জন জীবিত জন্মের মধ্যে প্রথম ২৮ দিন বা চার সপ্তাহের মধ্যে নবজাতকের মৃত্যুর সংখ্যা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: নিওনেটাল মর্টালিটি রেট (NMR) মাপা হয় জন্মের প্রথম ২৮ দিনের জীবনকালের ভিত্তিতে। এই ২৮ দিনের মধ্যে মৃত্যু মূলত জন্মগত জটিলতা, অকাল প্রসব বা জন্মের সময় শ্বাসরোধের কারণে ঘটে, যা প্রতিরোধে NSSK প্রকল্প বিশেষভাবে কাজ করে।
৭. জনস্বাস্থ্য পরিসংখ্যানের অন্যান্য হারের সাথে অমিল রেখে, ‘মাতৃমৃত্যুর অনুপাত’ বা মেটারনাল মর্টালিটি রেশিও (MMR) প্রতি কত জন জীবিত জন্মের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়ে থাকে?
A) প্রতি ১,০০০ জন জীবিত জন্মের মধ্যে
B) প্রতি ১,০০,০০০ (১ লক্ষ) জীবিত জন্মের মধ্যে (Per 1,00,000 live births)
C) প্রতি ১০,০০০ জন জীবিত জন্মের মধ্যে
D) প্রতি ১০০ জন গর্ভাবস্থার ভিত্তিতে
সঠিক উত্তর: B) প্রতি ১,০০,০০০ (১ লক্ষ) জীবিত জন্মের মধ্যে (Per 1,00,000 live births)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: মনে রাখা প্রয়োজন যে শিশু মৃত্যুহার (IMR) বা নবজাতক মৃত্যুহার (NMR) প্রতি ১,০০০ জন জীবিত জন্মের অনুপাতে মাপা হলেও, মাতৃমৃত্যুর অনুপাত বা MMR মাপা হয় প্রতি ১,০০,০০০ (১ লক্ষ) জীবিত জন্মের অনুপাতে। গর্ভাবস্থায় বা প্রসবের ৪২ দিনের মধ্যে প্রসবকালীন জটিলতায় মায়ের মৃত্যুকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
৮. ‘জাতীয় আয়রন প্লাস ইনিশিয়েটিভ’ কর্মসূচির আওতায় স্কুলগামী কিশোর-কিশোরীদের রক্তাল্পতা দূরীকরণে প্রতি সপ্তাহে দেওয়া আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড (IFA) বড়িটির রঙ কী?
A) লাল রঙের বড়ি
B) নীল রঙের বড়ি (Blue IFA tablet)
C) গোলাপি রঙের বড়ি
D) হলুদ রঙের বড়ি
সঠিক উত্তর: B) নীল রঙের বড়ি (Blue IFA tablet)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: স্কুলগামী কিশোর-কিশোরীদের (১১-১৯ বছর) রক্তাল্পতা রোধে দেওয়া আইএফএ (IFA) ট্যাবলেটটির রঙ হলো নীল। গর্ভবতী মায়েদের বড়ির সাথে এর তফাত করতে ও সহজে চেনার সুবিধার্থে এই কালার কোড বা নীল রঙ ব্যবহার করা হয়।
৯. ‘অ্যানিমিয়া মুক্ত ভারত’ যোজনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুদের রক্তাল্পতা নিয়ন্ত্রণে প্রতি সপ্তাহে দেওয়া IFA বড়িটির রঙ কী?
A) নীল রঙের বড়ি
B) গোলাপি রঙের বড়ি (Pink IFA tablet)
C) লাল রঙের বড়ি
D) সবুজ রঙের বড়ি
সঠিক উত্তর: B) গোলাপি রঙের বড়ি (Pink IFA tablet)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫-৯ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সপ্তাহে একটি করে গোলাপি রঙের আইএফএ (IFA) বড়ি দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৪৫ মিলিগ্রাম এলিমেন্টাল লোহা এবং ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড থাকে।
১০. গর্ভবতী এবং স্তন্যদাত্রী মায়েদের প্রতিদিনের রক্ত তৈরি ও পুষ্টি সচল রাখতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা সুপরিচিত আয়রন বড়িটির রঙ কী?
A) নীল রঙের বড়ি
B) লাল রঙের বড়ি (Red IFA tablet)
C) সাদা রঙের বড়ি
D) গোলাপি রঙের বড়ি
সঠিক উত্তর: B) লাল রঙের বড়ি (Red IFA tablet)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: গর্ভবতী ও স্তন্যদাত্রী মায়েদের রক্তাল্পতা দূর করতে গর্ভাবস্থার ৪র্থ মাস থেকে প্রসবের পর ১৮০ দিন পর্যন্ত প্রতিদিন একটি করে লাল রঙের আইএফএ (IFA) বড়ি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে ৬০ মিলিগ্রাম মৌলিক লোহা এবং ৫০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড মিশ্রিত থাকে।
১১. অনূর্ধ্ব ৫ বছর অর্থাৎ ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ছোট শিশুদের রক্তাল্পতা দূরীকরণে ‘অ্যানিমিয়া মুক্ত ভারত’ কর্মসূচির আওতায় বোতল থেকে অটো-ডিসপেনসারের সাহায্যে প্রতি সপ্তাহে ২ বার করে কত মাত্রার আইএফএ (IFA) সিরাপ খাওয়ানো হয়?
A) ৫ মিলি সিরাপে ৫০ মিলিগ্রাম লোহা
B) ১ মিলি সিরাপে ২০ মিলিগ্রাম মৌলিক লোহা ও ১০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড (1ml syrup containing 20mg Iron + 100mcg Folic Acid)
C) ১০ মিলি সিরাপে ১০০ মিলিগ্রাম লোহা
D) শিশুদের সিরাপ দেওয়া নিষিদ্ধ
সঠিক উত্তর: B) ১ মিলি সিরাপে ২০ মিলিগ্রাম মৌলিক লোহা ও ১০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড (1ml syrup containing 20mg Iron + 100mcg Folic Acid)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ছোট শিশুদের বড়ি চিবিয়ে খাওয়ার ক্ষমতা থাকে না বলে তাদের বোতলের মাধ্যমে মিষ্টি স্বাদের আইএফএ (IFA) সিরাপ দেওয়া হয়। অটো-ডিসপেনসারের ১টি পুশ বা ১ মিলি সিরাপে ২০ মিলিগ্রাম লোহা ও ১০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড থাকে, যা প্রতি বুধ ও শনিবার সপ্তাহে ২ বার করে খাওয়ানো হয়।
১২. ভিটামিন B12 বা সায়ানোকোবালামিনের রাসায়নিক অণুর কেন্দ্রস্থলে কোন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাতব আয়নটি (Central Metal Ion) অবস্থান করে?
A) লোহা (Iron)
B) কোবাল্ট আয়ন (Cobalt)
C) ম্যাগনেসিয়াম
D) দস্তা (Zinc)
সঠিক উত্তর: B) কোবাল্ট আয়ন (Cobalt)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভিটামিন B12 হলো মানবদেহের একমাত্র ভিটামিন যার রাসায়নিক গঠনের কেন্দ্রস্থলে একটি ধাতব আয়ন অবস্থান করে। এই ধাতুটি হলো কোবাল্ট (Cobalt)। এর নামানুসারেই ভিটামিন B12-এর বৈজ্ঞানিক নাম সায়ানোকোবালামিন বা হাইড্রোক্সোকোবালামিন রাখা হয়েছে।
১৩. ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে শোষিত হওয়ার পর রক্তনালীর মাধ্যমে ভিটামিন B12-কে আমাদের দেহে যকৃৎ ও অন্যান্য কোষে নিয়ে যাওয়ার প্রধান বাহক প্রোটিনটির নাম কী?
A) হিমোগ্লোবিন
B) ট্রান্সকোবালামিন-২ (Transcobalamin II)
C) অ্যালবুমিন
D) ল্যাকটোফেরিন
সঠিক উত্তর: B) ট্রান্সকোবালামিন-২ (Transcobalamin II)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ট্রান্সকোবালামিন-২ হলো রক্তে উপস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সপোর্ট প্রোটিন। এটি অন্ত্র থেকে সদ্য শোষিত ভিটামিন B12-এর সাথে যুক্ত হয়ে রক্ত সংবহনের মাধ্যমে তাকে অস্থিমজ্জা, যকৃৎ ও মস্তিষ্ক কোষে পৌঁছে দেয়। এই প্রোটিনের জন্মগত অভাব ঘটলে ভিটামিন B12 থাকা সত্ত্বেও কোষে এর শোষণ সম্পন্ন হয় না।
১৪. যক্ষ্মা বা টিবি রোগের দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসায় ব্যবহৃত কোন অ্যান্টি-টিউবারকুলার ওষুধটি শরীরে ভিটামিন B6-এর কাজে তীব্র বাধা সৃষ্টি করে স্নায়বিক পক্ষাঘাত ঘটায়?
A) পেনিসিলিন
B) আইসোনিয়াজিল (Isoniazid – INH)
C) প্যারাসিটামল
D) স্ট্রেপ্টোমাইসিন
সঠিক উত্তর: B) আইসোনিয়াজিল (Isoniazid – INH)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: আইসোনিয়াজিল (INH) যক্ষ্মার একটি অত্যন্ত প্রথম সারির ওষুধ। এটি শরীরে ভিটামিন B6 (পাইরিডক্সিন)-এর বিপাক ক্রিয়া বন্ধ করে দেয় এবং মূত্রের সাথে ভিটামিন বি৬ অতিরিক্ত বের করে দেয়। এর ফলে রোগীর হাত-পা অবশ ও অবর্ণনীয় যন্ত্রণা দেখা দেয় (Peripheral Neuropathy)। এটি প্রতিরোধ করতে যক্ষ্মারোগীদের ওষুধের সাথে দৈনিক ১০-৪০ মিলিগ্রাম ভিটামিন B6 দেওয়া আবশ্যক।
১৫. সুষম খাদ্যে ফোলেট এবং ভিটামিন B12-এর দীর্ঘস্থায়ী অভাব ঘটলে রক্তে কোন ক্ষতিকর অ্যামিনো অ্যাসিডের মাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে অল্প বয়সে হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়?
A) অ্যালানিন
B) হোমোসিস্টিন (Homocysteine)
C) গ্লুটামিক অ্যাসিড
D) প্রোলিন
সঠিক উত্তর: B) হোমোসিস্টিন (Homocysteine)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ফোলেট ও ভিটামিন B12 রক্তে হোমোসিস্টিন নামক সালফারযুক্ত ক্ষতিকর অ্যামিনো অ্যাসিডকে ভেঙে মিথিওনিনে রূপান্তর করতে সাহায্য করে। এই দুই ভিটামিন না থাকলে রক্তে হোমোসিস্টিন অস্বাভাবিক বেড়ে যায় (Hyperhomocysteinemia), যা রক্তনালীর ভেতরের আস্তরণ নষ্ট করে অকালে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
১৬. ভিটামিন C-এর অভাবজনিত স্কার্ভি রোগে মাড়ির রক্তক্ষরণ ছাড়াও হাড়ের সন্ধিস্থল বা গাঁটের ভেতরে গুরুতর রক্তক্ষরণ হয়ে তীব্র বেদনাদায়ক ফোলাভাব তৈরি হওয়াকে কী বলা হয়?
A) অস্টিওমেলাইটিস
B) হেমার্থ্রোসিস (Hemarthrosis)
C) আর্থ্রাইটিস মাইনর
D) সাইনোভাইটিস
সঠিক উত্তর: B) হেমার্থ্রোসিস (Hemarthrosis)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভিটামিন C-এর অভাবে রক্তজালকের প্রাচীর অত্যন্ত ভঙ্গুর হয়ে যায়। এর ফলে সামান্য চাপে বা হাঁটাচলার আঘাতে হাড়ের প্রধান সংযোগস্থলের (বিশেষ করে হাঁটু ও গোড়ালির) ভেতর রক্তক্ষরণ ঘটে জয়েন্ট ফুলে শক্ত হয়ে যায়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে হেমার্থ্রোসিস (Hemarthrosis) বলা হয়, যা স্কার্ভি আক্রান্ত শিশুদের তীব্র যন্ত্রণার কারণ।
১৭. হাড় ও দাঁতের ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ভিটামিন D-এর চূড়ান্ত সক্রিয় রূপটির (Active Form) বৈজ্ঞানিক নাম কী—যা মূলত আমাদের বৃক্ক বা কিডনিতে সংশ্লেষিত হয়?
A) কোলেক্যালসিফেরল (Cholecalciferol)
B) ক্যালসিট্রিওল বা ১,২৫-ডাইহাইড্রোক্সিভিটামিন ডি৩ [1,25-(OH)2D3 / Calcitriol]
C) আরগোক্যালসিফেরল
D) ২৫-হাইড্রক্সিভিটামিন ডি৩
সঠিক উত্তর: B) ক্যালসিট্রিওল বা ১,২৫-ডাইহাইড্রোক্সিভিটামিন ডি৩ [1,25-(OH)2D3 / Calcitriol]
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সূর্যালোকের সাহায্যে ত্বকে তৈরি হওয়া ভিটামিন D3 প্রথমে যকৃতে গিয়ে ২৫-হাইড্রক্সিভিটামিন ডি৩-তে পরিণত হয়। পরবর্তীতে কিডনি বা বৃক্কে এটি চূড়ান্ত সক্রিয় রূপ ক্যালসিট্রিওল বা ১,২৫-ডাইহাইড্রোক্সিভিটামিন ডি৩-তে রূপান্তরিত হয়, যা আমাদের অন্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ সম্পন্ন করে। কিডনি বিকল হলে এই হরমোন রূপান্তর ঘটে না বলে হাড়ের গুরুতর রোগ দেখা দেয়।
১৮. রক্তে মুক্ত অবস্থায় থাকা ক্ষতিকর ভিটামিন A (রেটিনল) যাতে কিডনির মাধ্যমে মূত্র দিয়ে বাইরে ফিল্টার বা রেচিত হয়ে না যায়, সেজন্য RBP প্রোটিনটি রক্তে কার সাথে যুক্ত হয়ে বড় অণু গঠন করে?
A) হিমোগ্লোবিন
B) ট্রান্সথাইরেটিন বা প্রিঅ্যালবুমিন (Transthyretin / Prealbumin)
C) ফাইব্রিনোজেন
D) গ্লোবুলিন
সঠিক উত্তর: B) ট্রান্সথাইরেটিন বা প্রিঅ্যালবুমিন (Transthyretin / Prealbumin)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: রেটিনল-বাইন্ডিং প্রোটিন (RBP) একটি অত্যন্ত ছোট প্রোটিন অণু। এটি মুক্ত অবস্থায় থাকলে কিডনির গ্লোমেরুলাস ফিল্ট্রেশনে ছেঁকে শরীর থেকে অকালে বের হয়ে যেত। তাই রক্ত সংবহনের সময় RBP নিজেকে ট্রান্সথাইরেটিন নামক বড় প্রোটিনের সাথে যুক্ত করে একটি বৃহৎ জটিল যৌগ গঠন করে, যা কিডনির পরিস্রাবণ এড়াতে সাহায্য করে।
১৯. সময়ের পূর্বে বা অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়া প্রিম্যাচিউর শিশুদের (Premature Infants) কোষে ভিটামিন E-এর তীব্র অভাব ঘটলে তাদের লোহিত রক্তকণিকা অকালে ভেঙে গিয়ে কোন রক্তাল্পতা দেখা দেয়?
A) মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া
B) হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া (Hemolytic Anemia)
C) সিকেল সেল অ্যানিমিয়া
D) আয়রন ডেফিসিয়েন্সি অ্যানিমিয়া
সঠিক উত্তর: B) হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া (Hemolytic Anemia)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভিটামিন E হলো লোহিত রক্তকণিকার (RBC) প্রধান জারক প্রতিরোধী বা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বর্ম। অপরিণত শিশুদের দেহে ভিটামিন ই-র সঞ্চয় কম থাকে। এর তীব্র অভাবে অক্সিজেন ফ্রি-র‌্যাডিক্যালের আঘাতে RBC-র লিপিড পর্দা অতি দ্রুত জারিত হয়ে ফেটে যায়, যা শিশুর তীব্র রক্তাল্পতা বা হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া ঘটায়।
২০. উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রাপ্ত কোন সবুজ শাকসবজি মানুষের পরিপাকতন্ত্রে শোষিত হওয়া প্রাকৃতিক ভিটামিন K১ (Phylloquinone)-এর সমৃদ্ধতম উৎস?
A) আলু ও গাজর
B) পালংশাক, বাঁধাকপি ও সবুজ ব্রকলি (Green leafy vegetables)
C) পাকা আম ও পেঁপে
D) নারকেল ও লেবু
সঠিক উত্তর: B) পালংশাক, বাঁধাকপি ও সবুজ ব্রকলি (Green leafy vegetables)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সবুজ উদ্ভিদের ক্লোরোপ্লাস্টে ভিটামিন K১ বা ফাইটোনাডিওন সংশ্লেষিত হয়। তাই পালংশাক, মেথি শাক, ব্রকলি, সর্ষে শাক এবং বাঁধাকপি হলো ভিটামিন কে-এর সর্বোচ্চ প্রাকৃতিক উৎস, যা আমাদের লিভারে গিয়ে রক্ত তঞ্চনকারী বা ক্লটিং ফ্যাক্টর তৈরিতে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।
২১. খাদ্যের প্রোটিনের গুণমান এবং তার হজমযোগ্যতা বিচার করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুমোদিত আধুনিকতম ও বৈজ্ঞানিক পরিমাপক সূচক কোনটি?
A) Biological Value (BV)
B) PDCAAS (Protein Digestibility-Corrected Amino Acid Score)
C) Net Protein Ratio (NPR)
D) Amino Acid Profile
সঠিক উত্তর: B) PDCAAS (Protein Digestibility-Corrected Amino Acid Score)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: PDCAAS হলো প্রোটিনের পুষ্টিগুণ মূল্যায়নের আধুনিকতম আন্তর্জাতিক পদ্ধতি (যা ১৯৯৩ সালে FAO/WHO দ্বারা গৃহীত হয়)। এটি কেবল খাদ্যের অ্যামিনো অ্যাসিডের স্কোরই মাপা না, বরং মানুষের অন্ত্রে সেই প্রোটিনটি শতকরা কত অংশ পরিপাক ও শোষিত হতে পারছে (Fecal digestibility), তাও নিখুঁতভাবে গণনা করে। এর সর্বোচ্চ মান হলো ১.০ (যেমন ডিমের সাদা অংশ ও দুধের কেসিন)।
২২. আমাদের দেশের অত্যন্ত পরিচিত সুষম খাদ্য ‘মুসুর বা মুগ ডাল’ (Pulses/Legumes)-এর প্রধান পুষ্টিগত সীমাবদ্ধ অ্যামিনো অ্যাসিড (Limiting Amino Acid) কোনটি?
A) লাইসিন
B) মিথিওনিন ও সিস্টিন (Methionine and Cysteine)
C) ট্রিপটোফ্যান
D) লিউসিন
সঠিক উত্তর: B) মিথিওনিন ও সিস্টিন (Methionine and Cysteine)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ডাল বা লেগুম জাতীয় খাদ্যে প্রচুর প্রোটিন থাকলেও, তাদের মধ্যে সালফারযুক্ত অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো অ্যাসিড মিথিওনিন ও সিস্টিনের পরিমাণ খুব কম থাকে। তাই একে ডাল প্রোটিনের ‘সীমাবদ্ধ অ্যামিনো অ্যাসিড’ বলা হয়।
২৩. আমাদের প্রধান খাদ্য উপাদান চাল ও গমের (Cereals like Rice/Wheat) প্রোটিনের প্রধান সীমাবদ্ধ অ্যামিনো অ্যাসিড (Limiting Amino Acid) কোনটি?
A) মিথিওনিন
B) লাইসিন (Lysine)
C) ভ্যালিন
D) প্রোলিন
সঠিক উত্তর: B) লাইসিন (Lysine)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: চাল, গম বা ভুট্টা জাতীয় শস্যদানার প্রোটিনে লাইসিন ও থ্রিওনিন নামক অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো অ্যাসিডের তীব্র ঘাটতি থাকে। তাই ডাল ও চাল একসাথে মিশিয়ে খিচুড়ি তৈরি করলে চালের অতিরিক্ত মিথিওনিন ডালের ঘাটতি মেটায় এবং ডালের অতিরিক্ত লাইসিন চালের ঘাটতি মিটিয়ে একটি সম্পূর্ণ উচ্চমানের প্রোটিনে (Mutual supplementation) পরিণত হয়, যা শিশুদের জন্য সর্বোত্তম পুষ্টি।
২৪. নবজাতকের স্নায়বিক সুস্থতা পরিমাপক ‘ব্যাডকিন রিফ্লেক্স’ (Babkin Reflex) বলতে কোন স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াটিকে বোঝানো হয়?
A) পায়ের পাতায় স্পর্শ করলে আঙুল ছড়িয়ে যাওয়া
B) নবজাতকের দুই হাতের তালুতে মৃদু চাপ দিলে সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুখ হাঁ করে, চোখ বন্ধ করে এবং মাথা সামান্য নিচু করে
C) পিঠে স্পর্শ করলে বেঁকে যাওয়া
D) জোরে আওয়াজ শুনে চমকে ওঠা
সঠিক উত্তর: B) নবজাতকের দুই হাতের তালুতে মৃদু চাপ দিলে সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুখ হাঁ করে, চোখ বন্ধ করে এবং মাথা সামান্য নিচু করে
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ব্যালকিন রিফ্লেক্স হলো শিশুদের একটি জন্মগত অবচেতন স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া। জন্মের পর প্রথম মাসেই এটি সবচেয়ে তীব্র থাকে এবং ৩-৪ মাসের মধ্যে ঘাড় ও মুখের ঐচ্ছিক পেশী সচল হওয়ার সাথে সাথে এটি স্বাভাবিকভাবেই হারিয়ে যায়।
২৫. নবজাতকের পায়ের পাতার স্পর্শ অনুভূতি বা ‘প্ল্যান্টার গ্রাস্প রিফ্লেক্স’ (Plantar Grasp Reflex) বলতে কোন স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়াকে বোঝায়?
A) পায়ের তলায় স্পর্শ করলে বুড়ো আঙুল ওপরের দিকে বেঁকে যাওয়া
B) পায়ের পাতার অগ্রভাগে আলতো আঙুল ছোঁয়ালে সবকটি আঙুল ভেতরের দিকে বেঁকে চিমটি কাটার মতো শক্ত করে জড়িয়ে ধরা
C) পা হাওয়ায় ছুঁড়তে থাকা
D) পা সোজা করে শক্ত রাখা
সঠিক উত্তর: B) পায়ের পাতার অগ্রভাগে আলতো আঙুল ছোঁয়ালে সবকটি আঙুল ভেতরের দিকে বেঁকে চিমটি কাটার মতো শক্ত করে জড়িয়ে ধরা
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: হাতের পামার গ্রাস্পের মতোই পায়ের পাতাতেও গ্রাস্প রিফ্লেক্স থাকে যা আদিম বানর পূর্বপুরুষদের মায়ের লোম আঁকড়ে ধরে ঝুলে থাকার প্রতিরক্ষামূলক বিবর্তনের ফল। এটি সাধারণত জন্মের পর থেকে সক্রিয় থাকে এবং ৯ থেকে ১২ মাস বয়সে শিশু নিজে দাঁড়াতে শেখার আগে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়।
২৬. নবজাতককে জলে উপুড় করে বুক স্পর্শ করে ধরে রাখলে সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাত ও পা ছড়াতে শুরু করে এবং জল কাটার মতো ছটফট করে—এই আদিম অবচেতন রিফ্লেক্সকে কী বলে?
A) ক্রলিং রিফ্লেক্স
B) সাঁতার বা সুইমিং রিফ্লেক্স (Swimming Reflex)
C) ডাইভিং রিফ্লেক্স
D) প্যারাশুট রিফ্লেক্স
সঠিক উত্তর: B) সাঁতার বা সুইমিং রিফ্লেক্স (Swimming Reflex)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সুইমিং রিফ্লেক্স জন্মের পর প্রথম ৪-৬ মাস পর্যন্ত অতি সক্রিয় থাকে। এই সময়ে শিশুকে জলে উপুড় করে ধরলে সে নিজে থেকেই হাত ও পা ছোঁড়ে এবং অবচেতনভাবে নিজের শ্বাসপ্রশ্বাস সাময়িক বন্ধ রাখে। ৬ মাস বয়সের পর মস্তিষ্কের সেরিবেলামের বিকাশ হলে এই রিফ্লেক্স হারিয়ে যায়। (অবশ্য সতর্কীকরণ হিসেবে এটি কখনোই বাড়িতে পরীক্ষা করা উচিত নয়)।
২৭. নবজাতক শিশুকে বিছানায় উপুড় বা পেটের ওপর শুইয়ে রাখলে সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাত ও হাঁটু ভাঁজ করে বুক মাটির সাথে ঘষে ক্রলিং করার চেষ্টা প্রকাশ করে—এই রিফ্লেক্সকে কী বলে?
A) ক্রিপিং রিফ্লেক্স
B) ক্রলিং রিফ্লেক্স (Crawling Reflex)
C) ল্যান্ডাউ রিফ্লেক্স
D) প্লাণ্টার রিফ্লেক্স
সঠিক উত্তর: B) ক্রলিং রিফ্লেক্স (Crawling Reflex)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ক্রলিং রিফ্লেক্স জন্মের পর প্রথম ৩-৪ মাস পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। শিশুকে পেটের ওপর শুইয়ে রাখলে সে তার হাত ও পা ভাঁজ করে অবচেতনভাবে মায়ের শরীরের ওপর বেয়ে স্তনবৃন্তের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। ৩-৪ মাস বয়সের পর স্বেচ্ছাধীন ক্রলিং বা নিজের শক্তিতে হামাগুড়ি দেওয়ার ক্ষমতা আসার আগে এই রিফ্লেক্সটি বিলুপ্ত হয়ে যায়।
২৮. এরিক এরিকসনের জীবনব্যাপী মনঃসামাজিক দ্বন্দ্বের তত্ত্বে অষ্টম বা একেবারে শেষ পর্যায় (৬৫ বছর থেকে আজীবন) কোনটি?
A) উৎপাদনশীলতা বনাম স্থবিরতা
B) অহং সততা বনাম হতাশা (Ego Integrity vs Despair)
C) ঘনিষ্ঠতা বনাম একাকীত্ব
D) সততা বনাম অপরাধবোধ
সঠিক উত্তর: B) অহং সততা বনাম হতাশা (Ego Integrity vs Despair)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: জীবনের শেষ লগ্নে বা বার্ধক্যে মানুষ তার ফেলে আসা অতীত জীবনের দিকে ফিরে তাকায়। যদি সে দেখে যে তার অতীত জীবন অর্থপূর্ণ, সৎ ও সফল ছিল—তবে তার মনে এক ধরণের অহং সততা বা তৃপ্তি (Ego integrity) আসে। কিন্তু অতীতে কেবল ভুল, ব্যর্থতা ও ক্ষোভ থাকলে বৃদ্ধ বয়সে তার মনে চরম শূন্যতা ও মৃত্যুর ভয়জনিত হতাশা (Despair) গ্রাস করে।
২৯. জঁ পিঁয়াজের জ্ঞানমূলক তত্ত্বের মূল ভিত্তি হলো ‘স্কিমা’ (Schema)। এই স্কিমা কথাটির প্রকৃত মনস্তাত্ত্বিক অর্থ কী?
A) শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির হার
B) কোনো মুহূর্তে অর্জিত তথ্যের সংগঠিত রূপ বা মানসিক কাঠামো (organized pattern of thought or behavior)
C) বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগ্রহ
D) খেলাধুলার সুনির্দিষ্ট নিয়ম
সঠিক উত্তর: B) কোনো মুহূর্তে অর্জিত তথ্যের সংগঠিত রূপ বা মানসিক কাঠামো (organized pattern of thought or behavior)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: স্কিমা হলো আমাদের মনের তথ্য বা জ্ঞানের পকেট বা ফাইল ক্যাবিনেট। পরিবেশ থেকে আমরা যে জ্ঞান অর্জন করি, তা সুনির্দিষ্টভাবে মনের ফাইলে জমা হয়। বয়স ও অভিজ্ঞতার সাথে সাথে এই স্কিমাগুলি সম্প্রসারিত, পরিবর্তিত ও পুনর্গঠিত হতে থাকে। ১৯৩২ সালে প্রথম সমাজবিজ্ঞানী বার্টলেট এই শব্দটি ব্যবহার করেন এবং পরবর্তীতে পিঁয়াজ তাঁর তত্ত্বে একে ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করেন।
৩০. পিঁয়াজের জ্ঞানমূলক তত্ত্বে ‘সক্রিয়তা’ বা অপারেশন (Operation) বলতে মূলত কী বোঝানো হয়েছে?
A) চিকিৎসকের অস্ত্রোপচার
B) মনের ভেতরে করা রিভার্সিবল বা উভমুখী মানসিক কাজ (Reversible mental actions)
C) শরীরচর্চা করা
D) অনুকরণ করার প্রক্রিয়া
সঠিক উত্তর: B) মনের ভেতরে করা রিভার্সিবল বা উভমুখী মানসিক কাজ (Reversible mental actions)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: পিঁয়াজের মতে, অপারেশন বা সক্রিয়তা হলো যৌক্তিকভাবে সাজানো এমন কিছু মানসিক কাজ যা মনে মনে উল্টো ধারায় বা বিপরীতমুখীভাবে পরিচালনা করা যায় (Reversible)। এই যৌক্তিক মানসিক কাজ করার ক্ষমতাই শিশুকে প্রাক-সক্রিয়তার স্তর থেকে মূর্ত সক্রিয়তার স্তরে নিয়ে যায়।
৩১. কোহলবার্গের নৈতিকতা তত্ত্বে ২য় স্তর বা ‘প্রথাগত নৈতিকতা’-র অন্তর্গত ৪র্থ পর্যায়টির নাম কী—যেখানে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সমাজ ও আইনের অনুশাসনকে অন্ধভাবে মেনে চলা?
A) ভালো ছেলে-ভালো মেয়ে নৈতিকতা
B) আইন ও শৃঙ্খলা নীতি নিয়ন্ত্রিত নৈতিকতা (Law and Order / Authority and Social-order maintaining orientation)
C) সামাজিক চুক্তি নৈতিকতা
D) শাস্তি এড়ানোর নীতি
সঠিক উত্তর: B) আইন ও শৃঙ্খলা নীতি নিয়ন্ত্রিত নৈতিকতা (Law and Order / Authority and Social-order maintaining orientation)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ৪র্থ পর্যায়ে এসে কিশোরেরা মনে করে যে সমাজকে সুশৃঙ্খল রাখতে হলে আইন ও কর্তব্য মেনে চলা বাধ্যতামূলক। ব্যক্তিগত ক্ষতি বা স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে দেশের প্রচলিত নিয়মনীতিকে বিনা তর্কে রক্ষা করাই হলো এই স্তরের নৈতিক বিচার।
৩২. লেভ ভাইগটস্কির শিক্ষণ তত্ত্বে যখন শিক্ষক ও ছাত্র বা ছাত্ররা নিজেদের মধ্যে ‘সহযোগিতামূলক কথোপকথন’ (Collaborative Dialogue)-এর মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে—তাকে কী বলা হয়?
A) আত্মমুখী সংলাপ
B) সহযোগিতামূলক সংলাপ (Collaborative Dialogue)
C) ব্যাকরণ অনুবাদ পদ্ধতি
D) একতরফা নির্দেশ
সঠিক উত্তর: B) সহযোগিতামূলক সংলাপ (Collaborative Dialogue)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভাইগটস্কির মতে, ভাষা হলো সামাজিক ভাব বিনিময়ের প্রধান সেতু। সহযোগিতামূলক সংলাপে শিশুরা যখন কোনো এমকেও (MKO) বা শিক্ষকের সাথে আলাপ আলোচনা করে, তখন তারা শিক্ষকের ধারণাগত কাঠামো ও শব্দভাণ্ডার নিজের চিন্তার সাথে সাজিয়ে নেয়, যা তাদের বৌদ্ধিক স্তরকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যায়।
৩৩. আইকিউ পরিমাপ অনুযায়ী, যদি কোনো চরম জন্মগত ত্রুটিযুক্ত শিশুর আইকিউ (IQ) স্কোর ২০-এরও কম হয়ে থাকে, তবে তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে কোন স্তরের বুদ্ধিবৈকল্য বলা হবে?
A) মৃদু বুদ্ধিবৈকল্য
B) অত্যন্ত তীব্র বা গভীর বুদ্ধিবৈকল্য (Profound Intellectual Disability)
C) মাঝারি বুদ্ধিবৈকল্য
D) তীব্র বুদ্ধিবৈকল্য
সঠিক উত্তর: B) অত্যন্ত তীব্র বা গভীর বুদ্ধিবৈকল্য (Profound Intellectual Disability)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: আইকিউ ২০-এর নিচে থাকা শিশুরা প্রোফাউন্ড বা অত্যন্ত গভীর বুদ্ধিবৈকল্যে আক্রান্ত। এরা সাধারণত কোনো শারীরিক ইশারা বা নিজের ন্যূনতম প্রয়োজন জানাতে পারে না, সবসময় শয্যাশায়ী থাকে এবং জীবন বাঁচানোর জন্য সর্বক্ষণ অন্যের চিকিৎসাগত যত্ন ও সুরক্ষার ওপর নির্ভরশীল থাকে।
৩৪. পার্টেনের সামাজিক খেলার শ্রেণীবিভাগ অনুযায়ী, ‘সহযোগী খেলা’ (Associative Play) এবং ‘দলগত সমবায় খেলা’ (Cooperative Play)-এর মধ্যে প্রধান মৌলিক অমিল কোনটি?
A) সহযোগী খেলায় শিশুরা কথা বলে না
B) সহযোগী খেলায় শিশুরা খেলনা বিনিময় করে এক সাথে খেললেও কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম বা দলগত লক্ষ্য থাকে না, কিন্তু সমবায় খেলায় একটি সাধারণ লক্ষ্য পূরণার্থে সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও ভূমিকা ভাগ করে খেলে
C) সমবায় খেলায় শিশুরা মারামারি করে
D) দুটির মধ্যে কোনো অমিল নেই
সঠিক উত্তর: B) সহযোগী খেলা ও সমবায় খেলার মধ্যে মৌলিক অমিল হলো নিয়মে ও দলগত লক্ষ্যে
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সহযোগী খেলায় (Associative play) শিশুরা কাছাকাছি খেলনা নিয়ে এক সাথে মেলামেশা করে ঠিকই, কিন্তু কে কী করবে তার কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা নিয়ম থাকে না। এর বিপরীতে ৪-৫ বছর বয়সের সমবায় খেলায় (Cooperative play) শিশুরা একটি দলনেতা নির্বাচন করে এবং সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কোনো খেলা বা প্রতিযোগিতা (যেমন ক্রিকেট বা কোনো ধাঁধা মেলানো) সম্পন্ন করে।
৩৫. মার্গারেট মাহলার-এর মনঃসামাজিক তত্ত্বে ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের ‘অনুশীলন উপ-পর্যায়’ (Practicing Sub-phase)-এর প্রধান আচরণগত বৈশিষ্ট্য কোনটি?
A) শিশু সবসময় মায়ের কোলেই থাকতে চায়
B) শিশু একা একা হামাগুড়ি দিয়ে বা হেঁটে ঘর জুড়ে খেলে কিন্তু মাঝেমধ্যেই মায়ের কাছে এসে স্পর্শ বা আদর খেয়ে যায় (Emotional Refueling)
C) শিশু অন্য সবাইকে মারতে চায়
D) শিশু কোনো খেলনা ধরে না
সঠিক উত্তর: B) শিশু একা একা হামাগুড়ি দিয়ে বা হেঁটে ঘর জুড়ে খেলে কিন্তু মাঝেমধ্যেই মায়ের কাছে এসে স্পর্শ বা আদর খেয়ে যায় (Emotional Refueling)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: প্র্যাকটিসিং বা অনুশীলন উপ-পর্যায়ে শিশুর মোটর ক্ষমতার অতি দ্রুত বিকাশ ঘটে। সে স্বাধীনভাবে ঘর জুড়ে ঘুরতে আনন্দ পায়, তবে কিছু সময় পর পরই মায়ের সাথে স্পর্শের বা চোখের ইশারার সংযোগ তৈরি করে নিজের আবেগীয় সুরক্ষা বা এনার্জি রিফুয়েলিং (Emotional refueling) করে নেয়, যা তাকে পুনরায় জগৎ অন্বেষণে স্বাবলম্বী করে।
৩৬. ১৯৫০-এর দশকে গর্ভাবস্থায় হবু মায়েদের মর্নিং সিকনেস বা বমি ভাব দূর করতে ‘থ্যালিডোমাইড’ (Thalidomide) নামক ঘুমের ওষুধ দেওয়ার ফলে গর্ভস্থ হাজার হাজার শিশুর হাত ও পা ডানা বা সিলের মতো ছোট হয়ে জন্মেছিল, এই মারাত্মক জন্মগত বিকৃতিকে কী বলে?
A) ডাউন সিন্ড্রোম
B) ফোকোমেলিয়া (Phocomelia)
C) স্পাইনা বাইফিডা
D) মাইক্রোসেফালি
সঠিক উত্তর: B) ফোকোমেলিয়া (Phocomelia)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: থ্যালিডোমাইড ড্রাগটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম কুখ্যাত টেরাটোজেন (Teratogen)। এর ফলে ভ্রূণের হাত ও পায়ের বড় হাড়গুলি গঠিত হতে পারে না, ফলে হাত ও পা অত্যন্ত ছোট পাখির ডানা বা সিল মাছের ফ্লিপারের মতো দেখায়। একেই ফোকোমেলিয়া বলা হয়। এই ট্র্যাজেডির পর ওষুধটি বিশ্বজুড়ে নিষিদ্ধ করা হয়।
৩৭. পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘সবুজ সাথী’ (Sabujsathi) প্রকল্পের আওতায় সাইকেল পাওয়ার জন্য ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোন মানদণ্ডটি আবশ্যক?
A) স্নাতক বা বিএ ক্লাসের ছাত্রী হতে হবে
B) সরকারি বা সরকার সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের ৯ম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর অধ্যয়নরত ছাত্র বা ছাত্রী হতে হবে
C) কেবল প্রথম স্থানাধিকারী হতে হবে
D) প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তে হবে
সঠিক উত্তর: B) সরকারি বা সরকার সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের ৯ম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর অধ্যয়নরত ছাত্র বা ছাত্রী হতে হবে
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সবুজ সাথী প্রকল্পের সুবিধা পেতে ছাত্র বা ছাত্রীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের সরকারি, সরকার স্পনসর্ড বা সরকার সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ের বা মাদ্রাসার নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর নিয়মিত পড়ুয়া হতে হবে। জাতি, ধর্ম বা পারিবারিক আয় নির্বিশেষে এই সাইকেল বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
৩৮. মিশন বাৎসল্য যোজনার অধীনে যে সমস্ত মায়েরা লোকলজ্জা বা চরম দারিদ্র্যের কারণে নবজাতককে ফেলে চলে যেতে বাধ্য হন, তাদের শিশুদের সুরক্ষিত ও আইনি উপায়ে গ্রহণ করার জন্য কোন বিশেষ কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে?
A) ডে-কেয়ার সেন্টার
B) ক্রেডল বেবি রিসেপশন সেন্টার (Cradle Baby Reception Centre)
C) ওয়ান স্টপ সেন্টার
D) অনাথ হোমস
সঠিক উত্তর: B) ক্রেডল বেবি রিসেপশন সেন্টার (Cradle Baby Reception Centre)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: মিশন বাৎসল্যের অধীনে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পরিত্যক্ত শিশুদের সুরক্ষিতভাবে গ্রহণ করার জন্য এই কেন্দ্রগুলি চালু করা হয়েছে। এখানে মায়েরা পরিচয় গোপন রেখেও শিশুকে দোলনায় রেখে যেতে পারেন, যাতে শিশুটি কোনো হিংস্র পশুর কবলে না পড়ে সরাসরি সরকারি আইনি সুরক্ষা ও দত্তক নেওয়ার ব্যবস্থার অধীনে সুরক্ষিত আশ্রয়ে পৌঁছাতে পারে।
৩৯. কেন্দ্র সরকার চালিত ‘জাতীয় ক্রেশ যোজনা’ বা পালনা (Palna) স্কিমটি সমতল রাজ্যগুলিতে রূপায়নের জন্য কেন্দ্র, রাজ্য এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (NGO) আর্থিক খরচের অনুপাত কত?
A) ৯০:১০:০
B) ৬০:৩০:১০ (60:30:10 – Centre:State:NGO ratio)
C) ৫০:৫০:০
D) ৮০:১০:১০
সঠিক উত্তর: B) ৬০:৩০:১০ (60:30:10 – Centre:State:NGO ratio)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: পালনা বা ক্রেশ স্কিমটি পরিচালনায় ত্রিপক্ষীয় আর্থিক দায়ভাগ থাকে। মোট খরচের ৬০% বহন করে কেন্দ্রীয় সরকার, ৩০% বহন করে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার এবং বাকি ১০% অর্থ পরিচালনাকারী এনজিও বা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে বহন করতে হয়।
৪০. অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা ‘পোষণ ট্র্যাকার’ অ্যাপের সাহায্যে অতি-তীব্র অপুষ্টি বা স্যাম (SAM) আক্রান্ত শিশুদের ওজন ও বৃদ্ধির মাত্রা কত দিন অন্তর অন্তর কঠোরভাবে ট্র্যাক করে থাকেন?
A) বছরে একবার
B) প্রতি সপ্তাহে (Weekly tracking for SAM children)
C) প্রতি ৩ মাস অন্তর
D) কেবল ভর্তির সময়ে
সঠিক উত্তর: B) প্রতি সপ্তাহে (Weekly tracking for SAM children)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: সাধারণ শিশুদের পুষ্টি ও বৃদ্ধির রেকর্ড প্রতি মাসে একবার পোষণ ট্র্যাকার অ্যাপে আপলোড করার নিয়ম থাকলেও, অতি-তীব্র অপুষ্টি বা স্যাম (SAM) আক্রান্ত অতি ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সাপ্তাহিক ওজনের ট্র্যাক (Weekly Monitoring) করা আবশ্যক, যাতে কোনো অবনতি ঘটলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া যায়।
৪১. বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনের অধীনে ব্লক স্তরে বাল্যবিবাহ রুখতে এবং নাবালিকাদের উদ্ধার করতে কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে?
A) বিডিও (BDO)
B) চাইল্ড ম্যারেজ প্রোহিবিশন অফিসার বা সিএমপিও (CMPO – Child Marriage Prohibition Officer / CDPO/Supervisors in WB)
C) জেলা পুলিশ সুপার
D) পঞ্চায়েত প্রধান
সঠিক উত্তর: B) চাইল্ড ম্যারেজ প্রোহিবিশন অফিসার বা সিএমপিও (CMPO – Child Marriage Prohibition Officer / CDPO/Supervisors in WB)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন ২০০৬-এর ধারা ১৬ অনুযায়ী প্রতিটি জেলায় বা ব্লকে CMPO নিয়োগ করার বিধান রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে আইসিডিএস-এর সিডিপিও (CDPO) এবং সুপারভাইজারদের এই CMPO-র আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা বাল্যবিবাহের খবর পেলেই তা রুখতে ও পুলিশি অভিযান পরিচালনা করতে পারেন।
৪২. আমাদের শরীরে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো অ্যাসিড ট্রিপটোফ্যান থেকে নিয়াসিন বা ভিটামিন B3 তৈরির জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়াটি সচল রাখতে কোন কোন পুষ্টি উপাদানের সহায়ক বা কো-ফ্যাক্টর হিসেবে উপস্থিতি বাঞ্ছনীয়?
A) কেবল ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন D
B) লোহা, রিবোফ্লাভিন (B2) এবং ভিটামিন B6 (Iron, Riboflavin, and Pyridoxine as cofactors)
C) সোডিয়াম ও পটাশিয়াম
D) কোনো উপাদানের প্রয়োজন নেই
সঠিক উত্তর: B) লোহা, রিবোফ্লাভিন (B2) এবং ভিটামিন B6 (Iron, Riboflavin, and Pyridoxine as cofactors)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: যকৃতে ট্রিপটোফ্যান থেকে নিয়াসিন তৈরির পথ অত্যন্ত জটিল এবং দীর্ঘ। এই মেটাবলিক পথের প্রতিটি ধাপে কো-ফ্যাক্টর হিসেবে আয়রন বা লোহা, রিবোফ্লাভিন (FAD রূপে) এবং পাইরিডক্সিন (PLP রূপে) উৎসেচককে সক্রিয় করতে সাহায্য করে। এই তিনটির কোনো একটির অভাব ঘটলে নিয়াসিন সংশ্লেষ বন্ধ হয়ে পেলাগ্রা দেখা দেয়।
৪৩. স্তন্যদাত্রী মায়ের থায়ামিনের অভাবজনিত ইনফ্যান্টাইল বেরিবেরির অতি তীব্র রূপটিতে আক্রান্ত নবজাতক কান্নার সময় কোনো আওয়াজ বা শব্দ করতে পারে না, একে কী বলে?
A) হাইপারফোনিয়া
B) শব্দহীন কান্না বা এফোনিয়া (Aphonia / Silent Cry)
C) ডিসলেক্সিয়া কান্না
D) স্বাভাবিক কান্না
সঠিক উত্তর: B) শব্দহীন কান্না বা এফোনিয়া (Aphonia / Silent Cry)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: থায়ামিনের অভাবে শিশুর ল্যারিঞ্জিয়াল স্নায়ু অবশ হয়ে যায়, যার ফলে তার ল্যারিঙ্কস বা স্বরযন্ত্র পক্ষাঘাতগ্রস্ত (Vocal cord paralysis) হয়ে পড়ে। এর ফলে শিশু তীব্র যন্ত্রণায় মুখব্যাদান করে কাঁদার চেষ্টা করলেও গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বা ক্রন্দনধ্বনি বের হয় না। একেই চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘এফোনিক ক্রাই’ বা শব্দহীন কান্না বলে, যা ইনফ্যান্টাইল বেরিবেরির ক্লাসিক্যাল উপসর্গ।
৪৪. তীব্র স্কার্ভি আক্রান্ত বাড়ন্ত হাড়ের এক্স-রে ছবিতে মেটাফাইসিসের প্রান্তে ক্যালসিফিকেশনের ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত সাদা রঞ্জন-ঘন রেখাকে কী বলা হয়?
A) উইমবার্জার রিং
B) ফ্রাঙ্কেলের সাদা রেখা (White line of Frankel)
C) পেলকান লাইন্স
D) র‍্যাচিটিক জোন
সঠিক উত্তর: B) ফ্রাঙ্কেলের সাদা রেখা (White line of Frankel)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: স্কার্ভিতে কোলাজেন না তৈরি হওয়ায় মেটাফাইসিসের তরুণাস্থিগুলি হাড়ের ক্যালসিয়াম শোষণ করে কেবল খনিজ স্তরে পরিণত হতে থাকে, কিন্তু নতুন হাড় গজাতে পারে না। এক্স-রে ছবিতে মেটাফাইসিসের সংযোগস্থলে এই ঘন খনিজ স্তরটি একটি উজ্জ্বল চওড়া সাদা রেখার মতো দেখায়। একে আলবার্ট ফ্রাঙ্কেলের নামানুসারে ‘হোয়াইট লাইন অফ ফ্রাঙ্কেল’ বলা হয়।
৪৫. মানুষের মস্তিষ্ক কোষের সুস্থতা ও হাড়ের লিপিড স্তর বজায় রাখতে আহারে ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের সুষম অনুপাত কত হওয়া আদর্শ?
A) ১:১০০
B) ১:৫ থেকে ১:১০ (Ideal ratio 1:5 to 1:10)
C) ১:১
D) ১০:১
সঠিক উত্তর: B) ১:৫ থেকে ১:১০ (Ideal ratio 1:5 to 1:10)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: আমাদের শরীরে ওমেগা-৩ (আলফা-লিনোলেনিক) এবং ওমেগা-৬ (লিনোলেইক) ফ্যাটি অ্যাসিডের পারস্পরিক জৈব বিপাকীয় ভারসাম্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম। পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, শিশুর মস্তিষ্ক গঠন ও স্নায়ুর সুরক্ষার জন্য খাদ্যতালিকায় বা ফর্মুলা দুধে ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬-এর অনুপাত ১:৫ থেকে ১:১০ রাখা আদর্শ। এর বেশি তারতম্য ঘটলে প্রো-ইনফ্ল্যামেটরি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৪৬. অনাহার বা তীব্র অপুষ্টির শিকার হলে মানুষের শরীরের মৌলিক বিপাকীয় হারের (BMR) ওপর কী প্রভাব পড়ে—যা বেঁচে থাকার একটি প্রাকৃতিক অভিযোজন?
A) BMR অত্যন্ত বেড়ে যায়
B) BMR অস্বাভাবিক হ্রাস পায় ও বিপাক মন্থর হয় (Decreases BMR to conserve energy)
C) BMR অপরিবর্তিত থাকে
D) কোনো প্রভাব পড়ে না
সঠিক উত্তর: B) BMR অস্বাভাবিক হ্রাস পায় ও বিপাক মন্থর হয় (Decreases BMR to conserve energy)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: দীর্ঘ অনাহারে বা তীব্র অপপুষ্টিতে শক্তির তীব্র ঘাটতি মেটাতে শরীর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার থাইরয়েড ক্ষরণ কমিয়ে দেয় এবং কোষের কর্মক্ষমতা ধীর করে BMR প্রায় ৩০-৪০% কমিয়ে দেয়। এর ফলে শরীর তার সঞ্চিত সামান্য শক্তি ধরে রেখে কম ক্যালোরিতেও দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার প্রাকৃতিক অভিযোজন সম্পন্ন করে।
৪৭. রিকেট এবং স্কার্ভি আক্রান্ত বাড়ন্ত শিশুর পাঁজরের অস্থির গিটের গঠনে এক্স-রে ও চাক্ষুষ পরীক্ষায় প্রধান কী অমিল পাওয়া যায়?
A) দুটিরই বিডিং বা ফোলা অংশ সমান মসৃণ ও গোল হয়
B) স্কার্ভির গিঁট বা বিডিং হয় অত্যন্ত কোণাকৃতির ও সুচালো (Scorbutic Rosary), কিন্তু রিকেটের বিডিং হয় মসৃণ ও গোল (Rachitic Rosary)
C) রিকেটে হাড় ফোলে না, কেবল স্কার্ভিতে পাঁজরের হাড় ফোলে
D) কোনো পার্থক্যই নেই
সঠিক উত্তর: B) স্কার্ভির গিঁট বা বিডিং হয় অত্যন্ত কোণাকৃতির ও সুচালো (Scorbutic Rosary), কিন্তু রিকেটের বিডিং হয় মসৃণ ও গোল (Rachitic Rosary)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: রিকেটের পাঁজরের হাড়ের ফোলা অংশটি মসৃণ ও পুতির মালার মতো গোল হয় (Rachitic Rosary)। অন্যদিকে স্কার্ভিতে কোলাজেনের অভাব ও হাড়ের ক্যালসিফিকেশনের ধসের কারণে পাঁজরের অস্থির সংযোগস্থলটি ভেতরের দিকে চেপে গিয়ে ধারালো সুচালো কোণাকৃতির বিডিং তৈরি করে, যাকে স্কোরবিউটিক রোজারি (Scorbutic Rosary) বলা হয় এবং এটি অত্যন্ত বেদনদায়ক।
৪৮. কোবালামিন বা ভিটামিন B12 পাচনক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ক্ষুদ্রান্ত্রের কোন সুনির্দিষ্ট অংশে বা টার্মিনালে শোষিত হয়ে রক্তে প্রবেশ করে?
A) ডুওডেনাম (Duodenum)
B) টার্মিনাল ইলিয়াম (Terminal Ileum)
C) জেজুনাম (Jejunum)
D) কোলন বা বৃহদন্ত্র
সঠিক উত্তর: B) টার্মিনাল ইলিয়াম (Terminal Ileum)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: পাকস্থলীতে ক্যালসিয়াম ও ইন্ট্রিনসিক ফ্যাক্টরের সাথে যুক্ত হওয়ার পর ভিটামিন B12 অন্ত্রের বাকি অংশ পেরিয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রের একেবারে শেষপ্রান্ত ‘টার্মিনাল ইলিয়াম’ অংশে এসে বিশেষ রিসেপ্টরের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে শোষিত হয়। ইলিয়ামে কোনো সংক্রমণ বা ইনফ্লেমেশন হলে শরীরে ভিটামিন B12-এর চরম ঘাটতি দেখা দেয়।
৪৯. আমরা জানি যে ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য ভিটামিন D আবশ্যক। কিন্তু ভিটামিন D নিজে ক্ষুদ্রান্ত্রের কোন অংশে পিত্তলবণের (Bile salts) সাহায্যে শোষিত হয়ে যকৃতে পৌঁছায়?
A) পাকস্থলীর প্রাচীরে
B) জেজুনাম ও ইলিয়াম অঞ্চল (Jejunum and Ileum)
C) কোলনের মিউকোসায়
D) ডুওডেনামের প্রথমভাগে
সঠিক উত্তর: B) জেজুনাম ও ইলিয়াম অঞ্চল (Jejunum and Ileum)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: ভিটামিন D একটি চর্বি-দ্রবণীয় ভিটামিন। ফ্যাট বা চর্বি হজমের মতোই পিত্তলবণ ভিটামিন ডি-কে ক্ষুদ্র কণিকায় (Micelles) পরিণত করে ক্ষুদ্রান্ত্রের জেজুনাম ও ইলিয়াম অঞ্চলে অতি সহজে শোষণ করে যকৃৎ বা লিভারে পাঠায়, যেখানে এটি ২৫-হাইড্রক্সিভিটামিন ডি-তে রূপান্তরিত হয়।
৫০. ভারতের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের অধীনে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে হবু মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওজন ও টিকাকরণের দৈনিক রেকর্ড ট্র্যাক করার জন্য দেওয়া দ্বি-পার্শ্বিক বা ডবল-সাইডেড কার্ডটির নাম কী?
A) আধার হেলথ কার্ড
B) মা ও শিশু সুরক্ষা কার্ড (MCP Card – Mother and Child Protection Card)
C) পিএম জন আরোগ্য কার্ড
D) শিশু সাথী কার্ড
সঠিক উত্তর: B) মা ও শিশু সুরক্ষা কার্ড (MCP Card – Mother and Child Protection Card)
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: এমসিপি (MCP) কার্ড হলো স্বাস্থ্য মন্ত্রক ও নারী ও শিশু বিকাশ মন্ত্রকের একটি যৌথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফিজিক্যাল টুল। এই কার্ডে গর্ভবতী মায়ের গর্ভকালীন পরীক্ষা ও পুষ্টির রেকর্ড এবং জন্মের পর শিশুর টিকাকরণ, বৃদ্ধি চার্ট ও মাইলফলক ট্র্যাকিংয়ের দৈনিক লিখিত রেকর্ড থাকে, যা মা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
Scroll to Top